fa
Feedback
Hope

Hope

رفتن به کانال در Telegram

আল্লাহ আপনার দুনিয়ার কষ্ট দূর করে দিক, আখিরাত সহজ করে দিক, আমীন। প্রয়োজনে: @HopeDM আমাদের সব চ্যানেলঃ https://t.me/Hope24hours/1215 এনোনিমাস মেসেজ পাঠাতে: https://chithi.me/Hope24hours উত্তর: https://t.me/a_teardrop

نمایش بیشتر

📈 تحلیل کانال تلگرام Hope

کانال Hope (@hope24hours) در بخش زبانی بنگالی بازیگری فعال است. در حال حاضر جامعه شامل 17 782 مشترک است و جایگاه 4 667 را در دسته دین و مذهبی و رتبه 1 252 را در منطقه بنغلاديش دارد.

📊 شاخص‌های مخاطب و پویایی

از زمان ایجاد در невідомо، پروژه رشد سریعی داشته و 17 782 مشترک جذب کرده است.

بر اساس آخرین داده‌ها در تاریخ 03 ژوئیه, 2026، کانال فعالیت پایداری دارد. در ۳۰ روز گذشته تغییر اعضا برابر -61 و در ۲۴ ساعت گذشته برابر -6 بوده و همچنان دسترسی گسترده‌ای حفظ شده است.

  • وضعیت تأیید: تأیید نشده
  • نرخ تعامل (ER): میانگین تعامل مخاطب 8.13% است و در ۲۴ ساعت نخست پس از انتشار، محتوا معمولاً 3.05% واکنش نسبت به کل مشترکان کسب می‌کند.
  • دسترسی پست‌ها: هر پست به طور میانگین 1 445 بازدید دریافت می‌کند. در اولین روز معمولاً 543 بازدید جمع‌آوری می‌شود.
  • واکنش‌ها و تعامل: مخاطبان به‌طور فعال حمایت می‌کنند؛ میانگین واکنش به هر پست 24 است.

📝 توضیح و سیاست محتوایی

نویسنده این فضا را محل بیان دیدگاه‌های شخصی توصیف می‌کند:
আল্লাহ আপনার দুনিয়ার কষ্ট দূর করে দিক, আখিরাত সহজ করে দিক, আমীন। প্রয়োজনে: @HopeDM আমাদের সব চ্যানেলঃ https://t.me/Hope24hours/1215 এনোনিমাস মেসেজ পাঠাতে: https://chithi.me/Hope24hours উত্তর: https://t.me/a_teardrop

به لطف به‌روزرسانی‌های پرتکرار (آخرین داده در تاریخ 04 ژوئیه, 2026)، کانال همواره به‌روز و دارای دسترسی بالاست. تحلیل‌ها نشان می‌دهد مخاطبان به‌طور فعال با محتوا تعامل دارند و آن را به نقطه اثرگذاری مهم در دسته دین و مذهبی تبدیل کرده‌اند.

17 782
مشترکین
-624 ساعت
-217 روز
-6130 روز

در حال بارگیری داده...

ابر برچسب‌ها
هیچ داده‌ای
مشکلی وجود دارد؟ لطفاً صفحه را تازه کنید یا با مدیر پشتیبانی ما تماس بگیرید.
اشارات ورودی و خروجی
---
---
---
---
---
---
جذب مشترکین
ژوئیه '26
ژوئیه '26
+11
در 0 کانال‌ها
ژوئن '26
+54
در 2 کانال‌ها
Get PRO
مه '26
+57
در 1 کانال‌ها
Get PRO
آوریل '26
+55
در 2 کانال‌ها
Get PRO
مارس '26
+40
در 11 کانال‌ها
Get PRO
فوریه '26
+360
در 8 کانال‌ها
Get PRO
ژانویه '26
+83
در 3 کانال‌ها
Get PRO
دسامبر '25
+75
در 0 کانال‌ها
Get PRO
نوامبر '25
+117
در 3 کانال‌ها
Get PRO
اکتبر '25
+138
در 9 کانال‌ها
Get PRO
سپتامبر '25
+76
در 2 کانال‌ها
Get PRO
اوت '25
+125
در 5 کانال‌ها
Get PRO
ژوئیه '25
+101
در 12 کانال‌ها
Get PRO
ژوئن '25
+90
در 3 کانال‌ها
Get PRO
مه '25
+121
در 7 کانال‌ها
Get PRO
آوریل '25
+116
در 9 کانال‌ها
Get PRO
مارس '25
+476
در 15 کانال‌ها
Get PRO
فوریه '25
+173
در 11 کانال‌ها
Get PRO
ژانویه '25
+337
در 15 کانال‌ها
Get PRO
دسامبر '24
+611
در 8 کانال‌ها
Get PRO
نوامبر '24
+376
در 8 کانال‌ها
Get PRO
اکتبر '24
+712
در 14 کانال‌ها
Get PRO
سپتامبر '24
+769
در 11 کانال‌ها
Get PRO
اوت '24
+1 101
در 20 کانال‌ها
Get PRO
ژوئیه '24
+173
در 7 کانال‌ها
Get PRO
ژوئن '24
+265
در 7 کانال‌ها
Get PRO
مه '24
+268
در 7 کانال‌ها
Get PRO
آوریل '24
+270
در 13 کانال‌ها
Get PRO
مارس '24
+460
در 13 کانال‌ها
Get PRO
فوریه '24
+332
در 9 کانال‌ها
Get PRO
ژانویه '24
+460
در 12 کانال‌ها
Get PRO
دسامبر '23
+578
در 9 کانال‌ها
Get PRO
نوامبر '23
+759
در 17 کانال‌ها
Get PRO
اکتبر '23
+420
در 10 کانال‌ها
Get PRO
سپتامبر '23
+267
در 0 کانال‌ها
Get PRO
اوت '23
+445
در 0 کانال‌ها
Get PRO
ژوئیه '23
+357
در 0 کانال‌ها
Get PRO
ژوئن '23
+345
در 0 کانال‌ها
Get PRO
مه '23
+1 131
در 0 کانال‌ها
Get PRO
آوریل '23
+403
در 0 کانال‌ها
Get PRO
مارس '23
+395
در 0 کانال‌ها
Get PRO
فوریه '23
+490
در 0 کانال‌ها
Get PRO
ژانویه '23
+326
در 0 کانال‌ها
Get PRO
دسامبر '22
+473
در 0 کانال‌ها
Get PRO
نوامبر '22
+472
در 0 کانال‌ها
Get PRO
اکتبر '22
+450
در 0 کانال‌ها
Get PRO
سپتامبر '22
+543
در 0 کانال‌ها
Get PRO
اوت '22
+603
در 0 کانال‌ها
Get PRO
ژوئیه '22
+798
در 0 کانال‌ها
Get PRO
ژوئن '22
+347
در 0 کانال‌ها
Get PRO
مه '22
+461
در 0 کانال‌ها
Get PRO
آوریل '22
+566
در 0 کانال‌ها
Get PRO
مارس '22
+721
در 0 کانال‌ها
Get PRO
فوریه '22
+396
در 0 کانال‌ها
Get PRO
ژانویه '22
+405
در 0 کانال‌ها
Get PRO
دسامبر '21
+217
در 0 کانال‌ها
Get PRO
نوامبر '21
+390
در 0 کانال‌ها
Get PRO
اکتبر '21
+496
در 0 کانال‌ها
Get PRO
سپتامبر '21
+652
در 0 کانال‌ها
تاریخ
رشد مشترکین
اشارات
کانال‌ها
04 ژوئیه+3
03 ژوئیه0
02 ژوئیه+8
01 ژوئیه0
پست‌های کانال
সূরা আল-ইনশিকাক এর তাফসীর ইবনে কাসীর এর থেকে হাদীসটা তুলে ধরা... কি ভয়ংকর সর্তকতা, আল্লাহ আমাদের আখিরাত এর প্রতি উদাসীন হওয়া
সূরা আল-ইনশিকাক এর তাফসীর ইবনে কাসীর এর থেকে হাদীসটা তুলে ধরা... কি ভয়ংকর সর্তকতা, আল্লাহ আমাদের আখিরাত এর প্রতি উদাসীন হওয়া থেকে হিফাজত করুক আমীন। ভেবে দেখুন আমার ভাই বোন, আজ সারাদিনের কত কাজ কত কি হলো, কিন্তু আমরা আমাদের চূড়ান্ত গন্তব্য নিয়ে কি ভেবেছি? কিংবা কেনই বা আমাকে সৃষ্টি করা হয়েছে সে বিষয়ে....

2
এই লেখাটার সব কিছু সঠিক এমন নয়, তবে মোটাদাগে বিষয়গুলো গুরুত্বপূর্ণ...
401
3
পুরুষ মানুষ হয়ে জন্ম নিয়েছি। ইনকাম আমাকে করতেই হবে। তবে যদি জীবনের মাকসাদ হয় বাবাখোর হওয়া, তাহলে এ কথাগুলো আপনার জন্য না। . আমাদের সমাজ ও রাষ্ট্রের দোষ আর কত দেব? নিজেদের দোষটাই বেশি দেখা উচিত এখন। পড়াশোনা সময় পড়াশোনা করব না, কাজ শেখার সময় কাজ শিখব না, ঘুমানোর সময় ঘুমাব না, আর যখন কাজ শেখার বয়সটা শেষ হবে, বাপ-মা ইনভেস্ট করা বাদ দেবে, তখন আড্ডা দেব, রাত জাগব, ঘুরব, নেশা করব, প্রেম করে বেড়াব। গান শুনব, মুভি দেখব, আর রাত জেগে শরীর নষ্ট করব। . আর বয়স যখন ২৪-২৫ হবে, তখন খালি বলব : ভাই, আমার এখন ইনকাম করা খুব জরুরি! ভাই, আমি যদি পাশ না করি, আমার বাপ-মা তো আমাকে ঘর থেকে বের করে দেবে... ভাই, আমি যাকে ভালোবাসি, তাকে যদি এখন বিয়ে না করি, তাহলে আমি তাকে পাব না। ভাই, পুরো পরিবার আমার দিকে তাকিয়ে আছে! কথাগুলো কড়া হলেও সত্য কিন্তু সত্যই। . আল্লাহ তায়ালার বিশেষ নেয়ামত যে, আমরা বাংলাদেশে জন্ম নিয়েছি। ইউরোপে যদি আপনি হতেন, ১২ বছর পরই ইনকাম নিয়ে ভাবতে হতো। অথচ আমাকে-আপনাকে আল্লাহ তায়ালা প্রায় ১৫-১৮ বছর বয়স পর্যন্ত মা-বাবার অধীনে রাখছেন। অনেকে তো ৩০ পার করেও বাপের ঘাড়ে বসে খান। এতকিছু বলার অর্থ একটাই, জীবন নিয়ে সিরিয়াস হতে হবে। সময় নিয়ে সিরিয়াস হতে হবে। যৌবন নিয়ে সিরিয়াস হতে হবে। আশেপাশে থাকা পজিটিভ মানুষগুলোর জন্য সিরিয়াস হতে হবে। আমল-আখলাকে সিরিয়াস হতে হবে। দাওয়াতি মনোভাব জারি রাখতে হবে। ইনকাম নিয়ে প্ল্যান করতে হবে। . আল্লাহ তাআলা আমাদের ওপর রহম করুন। রাশেদ মুহাম্মাদ @RijalatTaqwa
387
4
আল কুরআন: আল-বাকারাহ্ ২:৪৩ Surah Baqarah ২:৩৯ وَٱلَّذِينَ كَفَرُواْ وَكَذَّبُواْ بِـَٔايَٰتِنَآ أُوْلَٰٓئِكَ أَصۡحَٰبُ ٱلنَّارِۖ هُمۡ فِيهَا خَٰلِدُونَ অর্থ : আর যারা কুফরী করেছে এবং আমাদের আয়াতসমূহে [১] মিথ্যারোপ করেছে তারাই আগুনের অধিবাসী, সেখানে তারা স্থায়ী হবে [২]। [১] আরবীতে “আয়াত” এর আসল মানে হচ্ছে নিশানী বা আলামত। এই নিশানী কোনো জিনিসের পক্ষ থেকে পথ নির্দেশ দেয়। কুরআনে এই শব্দটি চারটি ভিন্ন ভিন্ন অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে। কোথাও এর অর্থ হয়েছে নিছক আলামত বা নিশানী। কোথাও প্রাচীন ধ্বংসাবশেষের নিদর্শনসমূহকে বলা হয়েছে আল্লাহ্‌র আয়াত। কারণ এ বিশ্ব জাহানের অসীম ক্ষমতাধর আল্লাহ্‌র সৃষ্ট প্রতিটি বস্তুই তার বাহ্যিক কাঠামোর অভ্যন্তরে নিহিত সত্যের প্রতি ইঙ্গিত করছে। কোথাও নবী-রাসূলগণ যেসব মু'জিযা দেখিয়েছেন সেগুলোকে বলা হয়েছে আল্লাহ্‌র আয়াত। কারণ এ নবী-রাসূলগণ যে এ বিশ্ব জাহানের সার্বভৌম ক্ষমতাসম্পন্ন প্রভূর প্রতিনিধি এ মু'জিযাগুলো ছিল আসলে তারই প্রমাণ ও আলামত। কোথাও কুরআনের বাক্যগুলোকে আয়াত বলা হয়েছে। কারণ, এ বাক্যগুলো কেবল সত্যের দিকে পরিচালিত করেই ক্ষান্ত নয়, বরং প্রকৃতপক্ষে আল্লাহ্‌র পক্ষ থেকে যে কোনো কিতাবই এসেছে, তার কেবল বিষয়বস্তুই নয়, শব্দ, বর্ণনাভঙ্গি ও বাক্য গঠনরীতির মধ্যেও এ গ্রন্থের মহান মহিমান্বিত রচয়িতার অতুলনীয় বৈশিষ্ট্যের নিদর্শনসমূহ সুস্পষ্টভাবে অনুভূত হয়েছে। কোথায় ‘আয়াত’ শব্দটির কোন অর্থ গ্রহণ করতে হবে তা বাক্যের পূর্বাপর আলোচনা থেকে সর্বত্র সুস্পষ্টভাবে জানা যায়। [২] রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “আর যারা জাহান্নামবাসী হিসেবে সেখানকার অধিবাসী হবে, তারা সেখানে মরবেও না বাঁচবেও না।” [মুসলিম ১৮৫] অর্থাৎ কাফির, মুশরিক ও মুনাফিকরা সেখানে স্থায়ী হবে। সুতরাং তাদের জাহান্নামও স্থায়ী।  -Tafsir Abu Bakr Zakaria সকল পর্ব :  @ayatannur
495
5
সূরা আল-ইনশিকাক এর তাফসীর ইবনে কাসীর এর থেকে হাদীসটা তুলে ধরা... আমাদের জীবনের এক নিদারুণ বাস্তবতা এই যে আমরা দুনিয়া চলতে ফির
সূরা আল-ইনশিকাক এর তাফসীর ইবনে কাসীর এর থেকে হাদীসটা তুলে ধরা... আমাদের জীবনের এক নিদারুণ বাস্তবতা এই যে আমরা দুনিয়া চলতে ফিরতে কত কি ভালোবেসে ফেলি, অন্তরের গভীরে জায়গা দিই। কিন্তু আমাদের জীবনের চূড়ান্ত গন্তব্য আল্লাহর কাছে ফিরে যাওয়া। তাই, কেউ বা কিছু যাই ভালোবাসি না কেন, তা যেনো আল্লাহর জন্য হয়, এবং আল্লাহর সীমারেখার মাঝেই হয়....
514
6
কুরআন নাজেরা কোর্স (২য় ব্যাচ) নতুন ব্যাচে ভর্তি চলছে আপনি কি কুরআন শুদ্ধভাবে তিলাওয়াত করতে চান? তাহলে আপনার জন্যই An-Noor Lea
কুরআন নাজেরা কোর্স (২য় ব্যাচ) নতুন ব্যাচে ভর্তি চলছে আপনি কি কুরআন শুদ্ধভাবে তিলাওয়াত করতে চান? তাহলে আপনার জন্যই An-Noor Learning-এর কুরআন নাজেরা কোর্স। 🌿 কোর্সে যা থাকছে ✔️ শুদ্ধ কুরআন তিলাওয়াতের অনুশীলন ✔️ মাখরাজ ও তাজউইদের নিয়মের প্রয়োগ ✔️ ব্যক্তিগত ভুল সংশোধনের সুযোগ ✔️ নিয়মিত পাঠ ও অনুশীলন ✔️ কোর্স শেষে সার্টিফিকেট প্রদান 📅 ভর্তি চলবে: ৩০ জুন – ০৭ জুলাই 📚 ক্লাস শুরু: ০৯ জুলাই 🗓️ ক্লাসের দিন: রবিবার • মঙ্গলবার • বৃহস্পতিবার 👩 যাদের জন্য: ৮ বছর বা তদূর্ধ্ব সকল মহিলা 💰 মাসিক কোর্স ফি: ৫০০ টাকা 📝 ভর্তি প্রক্রিয়া: প্রথম মাসের কোর্স ফি (৫০০ টাকা) প্রদান করে ভর্তি নিশ্চিত করতে হবে। 📲 বিকাশ (Send Money): 01799-540225 📌 ভর্তির শর্ত: তাজউইদের প্রাথমিক ধারণা থাকতে হবে। ⚠️ সীমিত আসন। "তোমাদের মধ্যে সেই ব্যক্তি সর্বোত্তম, যে কুরআন শিক্ষা করে এবং অন্যকে শিক্ষা দেয়।" — সহিহ বুখারি আজই আপনার আসন নিশ্চিত করুন এবং শুদ্ধ তিলাওয়াতের পথে এক ধাপ এগিয়ে আসুন। টেলিগ্রাম:@annoor21 ফেইসবুক:https://www.facebook.com/share/18so61rxBd/ 🛑এটা আমাদের নিজস্ব হোপের কিছু নয়। অনুরোধ এ পোস্ট করা। খোজ নিয়ে পড়তে পারেন...
588
7
দুআ কবুলের উত্তম সময় চলছে...
দুআ কবুলের উত্তম সময় চলছে...
642
8
স্থান: গুলিস্তান জিরো পয়েন্টের পশ্চিম পার্শ্ব সময়: এশার নামাজ শেষ/ রাতের প্রথম প্রহর এক নিঃসঙ্গ এক নারী একাকী দাঁড়িয়ে রয়েছেন ফুটপাথে। পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন এক মাওলানা সাহেব। মহিলা ডাক দিলেন- "হুজুর, আমি একেবারে অসহায়। সব কিছু হারিয়েছি, পথে পড়ে গেছি। বাসায় ফেরার উপায় নেই। একটু সাহায্য করুন, আল্লাহ খুশি হবেন।" মানবিকতায় উদ্বুদ্ধ হয়ে মাওলানা সাহেব পকেট থেকে পঞ্চাশ বা একশ টাকার একটি নোট বের করে এগিয়ে দিলেন। মহিলা হাতে নিতেই যেন বিদ্যুৎচমক! চিৎকারে ফেটে পড়লেন তিনি, "এই হুজুর! আপনি আমাকে খারাপ প্রস্তাব দিছেন কেন? ধর্মের মানুষ হয়ে এত নীচ হতে পারেন? লজ্জা করে না?" যেন যাদুবলে চারপাশ থেকে ছুটে এল কয়েকজন পুরুষ—তাঁদের যেন অপেক্ষাই ছিল। ঘিরে ধরলেন মাওলানা সাহেবকে। "মহিলাকে হয়রানি? চলুন থানায়, এবার শাস্তি পাবেন!হুজুর হয়ে খারাপ প্রস্তাব দিছেন কেনো? " মুহূর্তেই বিশৃঙ্খলা। মাওলানা সাহেব হতভম্ব, নিজের সম্ভ্রম বাঁচাতে অস্থির। সেই ফাঁকে চক্রের সদস্যরা হাতিয়ে নেয় তাঁর মোবাইল, মানিব্যাগ, পকেটের নগদ টাকা চোখের পলকে। শেষমেশ এক জন কাছে এসে কানে কানে বলে, "হুজুর, কোনও প্রতিবাদ না করলেন বলে ধন্যবাদ।" অদৃশ্য হয়ে গেল তারা রাতের অন্ধকারে। ভাবছেন কি, এটা কাল্পনিক গল্প? না ভাই। রাজধানীর একাধিক স্থানে এমন প্রতারণার খবর বারবার উঠে এসেছে। কিন্তু ভুক্তভোগীরা সমাজে মুখ দেখাতে লজ্জায় থানায় যান না। তাই অসংখ্য ঘটনা রয়ে যায় অবহেলিত, অজানা। কাউকে সাহায্য করতে চাইলে জনাকীর্ণ জায়গা, পাশের লোকজন, কিংবা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সঙ্গে নিন। একা কোনো অপরিচিতের আবেগে ভেসে যাবেন না। - কপিড
689
9
দুরুদ, কাহাফ...
816
10
আল কুরআন: আল-বাকারাহ্ ২:৪২ Surah Baqarah ২:৩৮ قُلۡنَا ٱهۡبِطُواْ مِنۡهَا جَمِيعٗاۖ فَإِمَّا يَأۡتِيَنَّكُم مِّنِّي هُدٗى فَمَن تَبِعَ هُدَايَ فَلَا خَوۡفٌ عَلَيۡهِمۡ وَلَا هُمۡ يَحۡزَنُونَ অর্থ : আমরা বললাম, ‘তোমরা সকলে এখান থেকে নেমে যাও। অতঃপর যখন আমার পক্ষ থেকে তোমাদের নিকট কোনো হিদায়াত আসবে তখন যারা আমার হিদায়াত অনুসরণ করবে, তাদের কোনো ভয় নেই এবং তারা চিন্তিতও হবে না’ [১]। [১] (خَوْفٌ) এর অর্থ আগত দুঃখ-কষ্টজনিত আশংকার নাম। আর (حُزُنٌ) বলা হয়, কোনো উদ্দেশ্য সফল না হওয়ার কারণে সৃষ্ট গ্রানি ও দুশ্চিন্তাকে লক্ষ্য করলে বুঝা যাবে যে, এ দু'টি শব্দে যাবতীয় সুখ-স্বাচ্ছন্দ্যকে এমনভাবে কেন্দ্রিভূত করে দেয়া হয়েছে যে, স্বাচ্ছন্দ্যের একবিন্দুও এর বাইরে নেই। এ আয়াতে আসমানী হিদায়াতের অনুসারীগণের জন্য দু’ধরনের পুরস্কার ঘোষণা করা হয়েছে। প্রথমতঃ তাদের কোনো ভয় থাকবে না এবং দ্বিতীয়তঃ তারা চিন্তাগ্রস্ত হবে না।  -Tafsir Abu Bakr Zakaria সকল পর্ব :  @ayatannur
970
11
সূরা ফুরকানের ৭৪ নং আয়াত আমাকে বারবার অভিভূত করে। এই আয়াতে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআ’লা আমাদের জীবনসঙ্গী ও সন্তানের জন্য এক অপ
সূরা ফুরকানের ৭৪ নং আয়াত আমাকে বারবার অভিভূত করে। এই আয়াতে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআ’লা আমাদের জীবনসঙ্গী ও সন্তানের জন্য এক অপূর্ব দুআ শিখিয়েছেন। সেখানে তিনি একবারও বলেননি_সুন্দর, ফর্সা, লম্বা, খাটো, মোটা বা চিকন। বাহ্যিক কোনো নির্দিষ্ট গুণের কথা উল্লেখ করেননি। বরং তিনি এমন একটি শব্দ ব্যবহার করেছেন, যা বাহ্যিক ও অভ্যন্তরীণ—উভয় সৌন্দর্যকে একসাথে ধারণ করে। আর সেই শব্দটি হলো- ❝কুররাতু আইয়ুন❞ “কুররাতু আইয়ুন” অর্থ এমন কিছু, যা চোখকে শীতল করে, হৃদয়কে প্রশান্ত করে এবং মানুষকে গভীর তৃপ্তি দেয়। আমরা যখন চোখ দিয়ে এমন কিছু দেখি, যা আমাদের ভালো লাগে, তখন তা আমাদের মস্তিষ্কে ইতিবাচক প্রভাব ফেলে। আনন্দ, ভালোবাসা ও প্রশান্তির অনুভূতি তৈরি হয়, আর ধীরে ধীরে আমাদের পুরো নার্ভ সিস্টেম শান্ত হয়ে যায়। এই প্রশান্তি একেকজন মানুষের কাছে একেকভাবে ধরা দেয়।কেউ চায় তার স্ত্রীর হাসি তাকে শান্তি দিক, কেউ চায় তার স্বামীর আচরণে নিরাপত্তা খুঁজে পাক। কারো কাছে সন্তানের কুরআন তিলাওয়াত প্রশান্তির কারণ।আবার কারো কাছে তার সুশৃঙ্খল জীবনযাপনই চোখের শীতলতা। সুবহানআল্লাহ,রব্বুল আলামীন পুরো মানবজাতির জন্য একটিমাত্র দুআ দিয়েই প্রশান্তি চাওয়া শিখিয়েছেন। আমরা যখন আমাদের জীবনসঙ্গী ও সন্তানদের জন্য “কুররাতু আইয়ুন” হওয়ার দুআ করি, তখন মূলত আল্লাহর কাছে এমন একটি ভারসাম্যপূর্ণ জীবন চাই, যা আমাদের জন্য দুনিয়াতে প্রশান্তির কারণ হবে। তবে আল্লাহ এখানে থেমে থাকেননি। তিনি একই দুআর মধ্যেই আমাদের আরও উচ্চতর লক্ষ্য শিখিয়েছেন_“ওয়াজ‘আলনা লিলমুত্তাকীনা ইমামা”—অর্থাৎ, আমাদের মুত্তাকীদের জন্য আদর্শ বানিয়ে দিন। এমন পরিবারও আছে যাদের দুনিয়াবি দিক থেকে সুখী মনে হয়, কিন্তু আল্লাহর কাছে অপ্রিয়। দ্বীন পালনে সচেষ্ট নয়৷ আবার এমন পরিবারও আছে, যেখানে দ্বীনের চর্চা আছে। সেখানে প্রকৃত প্রশান্তি ও বরকত নেমে আসে। তাই আল্লাহ দুআর শেষ অংশে দুনিয়ার সাথে আখিরাতকেও জুড়ে দিলেন,যেন আমরা কেবল দুনিয়ার প্রশান্তি নিয়ে মেতে না থাকি। আখিরাতেরও ফিকির করি। আমি,আপনি হয়তো ভাবছি—আমি কি এমন কিছু করেছি, যার বিনিময়ে আল্লাহ আমাকে এতো সুন্দর একটি পরিবার দিবেন? আমি কি এই শান্তির যোগ্য? আমার কি আসলেই স্বামী বা স্ত্রীর ভালোবাসা পাওয়ার মতো কিছু আছে? এই প্রশ্নের উত্তর লুকিয়ে আছে দুআর শুরুতেই— “রব্বানা হাবলানা…” “হাবলানা” শব্দটি এসেছে আল্লাহর গুণবাচক নাম “আল-ওয়াহাব” থেকে, যার অর্থ _যিনি বিনিময় ছাড়া দান করেন, বারবার দান করেন।অর্থাৎ, আমরা যখন “হাবলানা” বলে দুআ করি, তখন আমরা আল্লাহর কাছে কোনো যোগ্যতা বা বিনিময়ের দাবি করি না, বরং তাঁর অনুগ্রহের ওপর ভরসা করে চাই। তাই যদি কখনো নিজেকে নিয়ে লো ফিল হয়, যদি পরিবারে শান্তির অভাব থাকে, যদি সন্তান অবাধ্য হয়, কিংবা মনে হয় আমি একটি সুন্দর সংসারের যোগ্য নই,তবে এই আয়াতটিকে নিজের জীবনের অংশ বানিয়ে নিন। আল্লাহ আপনাকে এমন জীবনসঙ্গী, সন্তান,পরিবার দিতে সক্ষম, যা আপনার চোখের শীতলতা হবে।তিনি আপনাকে মুত্তাকীদের অন্তর্ভুক্ত করতে পারেন, এমনকি আদর্শও বানিয়ে দিতে পারেন—কোনো বিনিময় ছাড়াই, শুধুই তাঁর অসীম রহমতে। -Tahia Islam #nurulquranacademy
947
12
আল কুরআন: আল-বাকারাহ্ ২:৪১ Surah Baqarah ২:৩৭ فَتَلَقَّىٰٓ ءَادَمُ مِن رَّبِّهِۦ كَلِمَٰتٖ فَتَابَ عَلَيۡهِۚ إِنَّهُۥ هُوَ ٱلتَّوَّابُ ٱلرَّحِيمُ অর্থ : তারপর আদম [১] তার রবের কাছ থেকে কিছু বাণী পেলেন [২]। অতঃপর আল্লাহ্‌ তার তাওবা কবুল করলেন [৩]। নিশ্চয় তিনিই তাওবা কবুলকারী, পরম দয়ালু। [১] আদম ‘আলাইহিস সালাম চরমভাবে বিচলিত হলেন। মহান আল্লাহ্‌ অন্তর্যামী এবং অত্যন্ত দয়ালু ও করুণাময়। এ করুণ অবস্থা দেখে আল্লাহ্ তা'আলা নিজেই ক্ষমা প্রার্থনারীতি সম্বলিত কয়েকটি বচন তাদেরকে শিখিয়ে দিলেন। তারই বর্ণনা এ আয়াতসমূহে দেয়া হয়েছে। বলা হয়েছে যে, আদম 'আলাইহিস সালাম স্বীয় প্রভুর কাছ থেকে কয়েকটি শব্দ লাভ করলেন। অতঃপর আল্লাহ্‌ তা'আলা তাদের প্রতি করুণা করলেন। অর্থাৎ তাদের তাওবা গ্রহণ করে নিলেন। নিঃসন্দেহে তিনি মহা ক্ষমাশীল এবং অতি মেহেরবান। কিন্তু যেহেতু পৃথিবীতে আগমনের মধ্যে আরও অনেক তাৎপর্য ও কল্যাণ নিহিত ছিল - যেমন, তাদের বংশধরদের মধ্য থেকে ফেরেশতা ও জ্বিন জাতির মাঝামাঝি এক নতুন জাতি – ‘মানব’ জাতির আবির্ভাব ঘটা, তাদেরকে এক ধরনের কর্ম স্বাধীনতা দিয়ে তাদের প্রতি শরীয় বিধান প্রয়োগের যোগ্য করে গড়ে তোলা এবং অপরাধীর শাস্তি বিধান, শরীআতী আইন ও নির্দেশাবলী প্রবর্তন। এই নতুন জাতি উন্নতি সাধন করে বিশেষ মর্যাদার অধিকারী হবে। [২] যেসব বাক্য আদম ‘আলাইহিস সালামকে তাওবার উদ্দেশ্যে বলে দেয়া হয়েছিল, তা কি ছিল? এ সম্পর্কে মুফাসসির সাহাবীগণের কয়েক ধরনের বর্ণনা রয়েছে। ইবন আব্বাসের অভিমতই এক্ষেত্রে সর্বাধিক প্রসিদ্ধ, যা কুরআনুল কারীমের অন্যত্র বর্ণনা করা হয়েছে (رَبَّنَا ظَلَمْنَآ اَنْفُسَنَاوَاِنْ لَّمْ تَغْفِرْ لَنَا وَتَرْحَمْنَا لَنَكُوْنَنَّ مِنَ الْخٰسِرِيْنَ) “হে আমাদের রব, আমরা আমাদের নিজেদের উপর অত্যাচার করেছি। যদি আপনি আমাদেরকে ক্ষমা না করেন এবং আমাদের প্রতি দয়া না করেন, তবে আমরা নিশ্চয়ই ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে পরিগণিত হয়ে যাব।" [সূরা আল-আরাফ: ২৩] আল্লাহ্ তা'আলার পক্ষ থেকে যখন তাদেরকে তাওবার এই বাক্যগুলো শিখিয়ে দেয়া হলো, তখন আদম ‘আলাইহিস সালাম যথোচিত মর্যাদা ও গুরুত্বের সাথে তা গ্রহণ করলেন। [৩] (তাওবা) এর প্রকৃত অর্থ, ফিরে আসা। যখন তাওবার সম্বন্ধ মানুষের সংগে হয়, তখন তার অর্থ হবে তিনটি বস্তুর সমষ্টি: এক. কৃত পাপকে পাপ মনে করে সেজন্য লজ্জিত ও অনুতপ্ত হওয়া। দুই. পাপ সম্পূর্ণভাবে পরিহার করা। তিন. ভবিষ্যতে আবার এরূপ না করার দৃঢ় সংকল্প গ্রহণ করা। আর যদি পাপ বান্দার হকের সাথে সম্পৃক্ত হয় তবে তা ফেরৎ দেয়া বা তার থেকে মাফ নিয়ে নেয়া। এ বিষয়গুলোর যেকোনো একটির অভাব থাকলে তাওবা হবে না। সুতরাং মৌখিকভাবে 'আল্লাহ্‌ তাওবা’ বা অনুরূপ শব্দ উচ্চারণ করা নাজাত লাভের জন্য যথেষ্ট নয়। আয়াতে বর্ণিত (فَتَابَ عَلَيْهِ) এর মধ্যে তাওবার সম্বন্ধ আল্লাহ্‌র সাথে। এর অর্থ তাওবা গ্রহণ করা। অর্থাৎ আল্লাহ্‌ তার তাওবা কবুল করলেন। এ আয়াতের দ্বারা প্রতীয়মান হয় যে, তাওবা গ্রহণের অধিকারী আল্লাহ্‌ তা'আলা ছাড়া অন্য কেউ নয়। ইয়াহুদী ও নাসারগণ এ ক্ষেত্রে মারাত্মক ভুলে পড়ে আছে। তারা পাদ্রী-পুরোহিতদের কাছে কিছু হাদিয়া উপঢৌকনের বিনিময়ে পাপ মোচন করিয়ে নেয় এবং মনে করে যে, তারা মাফ করে দিলেই আল্লাহ্‌র নিকটও মাফ হয়ে যায়। বর্তমানে বহু মুসলিমও এ ধরনের ভ্রান্ত বিশ্বাস পোষণ করে। তারা কোনো কোনো পীরের কাছে তাওবা করে এবং মনে করে যে, পীর মাধ্যম হয়ে আল্লাহ্‌র কাছ থেকে তার পাপ মোচন করিয়ে নেবেন। অথচ কোনো পীর বা আলেম কারো পাপ মোচন করিয়ে দিতে পারেন না।  -Tafsir Abu Bakr Zakaria সকল পর্ব :  @ayatannur
918
13
উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু বিলাল রাদিয়াল্লাহু আনহুকে একবার জিজ্ঞেস করেছিলেনঃ "ওরা যখন তোমাকে নির্যাতন করছিল, তখন তুমি শুধু 'আহাদ, আহাদ' কেন বলছিলে?" বিলাল রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন: "আমি যদি অন্য কিছু জানতাম, তাহলে সেটাই বলতাম।" -- বিলাল রাদিয়াল্লাহুর তখন তাওহীদের জ্ঞান ছিল ঐটুকুই, তিনি ঐটুকুর উপর যে দৃঢ়তা দেখিয়েছেন, তার কোটি ভাগের এক ভাগও আমাদের ডজন ডজন বই পড়ে, দারসে বসে আসে না। রাদিয়াল্লাহু আনহু। - সংগৃহীত
1 020
14
আবু আব্দুল্লাহ আস-সাবিহী রহ.। এই মনীষী ছিলেন চতুর্থ হিজরী শতাব্দীর একজন বিশিষ্ট আলেম, ফকীহ, মুহাদ্দিস ও আল্লাহওয়ালা বুযুর্গ। তাঁর জীবনের একটি দিক আমাদেরকে অবাক করে দেয়—তিনি দীর্ঘ ৩০ বছর নিজেকে আত্মশুদ্ধির জন্য নিবেদিত রেখেছিলেন। নিজের খানকায় অবস্থান করতেন—শুধুমাত্র জামাতে নামায আদায়ের জন্য মসজিদে যেতেন, আর প্রয়োজন ছাড়া বাইরে বের হতেন না। [আত-তাবাকাতুল কুবরা : ১/৮৮] এক ব্যক্তি এই মহান আলেমকে প্রশ্ন করলেন, দীন তো অসংখ্য বিষয়ের সমষ্টি—এর মধ্যে মৌলিক দিক আছে, আবার শাখাগত দিকও আছে। সবকিছু যদি তালিকাভুক্ত করা হয়, তা হবে অনেক দীর্ঘ। আপনি কি এটাকে সংক্ষেপে বুঝিয়ে দিতে পারেন? প্রশ্নটি ছিল গভীর—আর উত্তরটি ছিল আরও গভীর। আবু আব্দুল্লাহ আস-সাবিহী রহ. উত্তরে বললেন, দীনের মূল বিষয় দুইটি, আর শাখাগত বিষয় চারটি। এই ছয়টি বিষয়ের মধ্যেই পুরো দীনকে ধারণ করা যায়। তিনি বলেন, দীনের দুটি মৌলিক বিষয়ের প্রথমটি হলো— صِدْقُ الِافْتِقَارِ إِلَى اللَّهِ عَزَّ وَجَلَّ আল্লাহর প্রতি নিখাদ মুখাপেক্ষিতা। অর্থাৎ, বান্দা অন্তরের গভীর থেকে অনুভব করবে—সে সম্পূর্ণভাবে আল্লাহর ওপর নির্ভরশীল। তার কোনো শক্তি, সামর্থ্য বা উপায় নেই আল্লাহ ছাড়া। দ্বিতীয়টি হলো— حُسْنُ الِاقْتِدَاءِ بِرَسُولِ اللَّهِ ﷺ রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর উত্তম অনুসরণ। অর্থাৎ, জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে নবীজি ﷺ-এর আদর্শকে অনুসরণ করা—তার কথা, কাজ, চরিত্র ও জীবনপদ্ধতিকে নিজের জীবনে বাস্তবায়ন করা। তারপর বলেন, দীনের চারটি শাখাগত বিষয় হলো— ১. الْوَفَاءُ بِالْعُهُودِ অঙ্গীকার পূরণ করা। অর্থাৎ, আল্লাহর সাথে করা প্রতিশ্রুতিসমূহ রক্ষা করা। ২. حِفْظُ الْحُدُودِ সীমারেখা রক্ষা করা। অর্থাৎ, আল্লাহ তাআলা যে সীমা নির্ধারণ করে দিয়েছেন—হালাল-হারাম, ন্যায়-অন্যায়—সেগুলো মেনে চলা এবং তা অতিক্রম না করা। ৩. الرِّضَا بِالْمَوْجُودِ যা আছে তাতে সন্তুষ্ট থাকা। অর্থাৎ, আল্লাহ তাআলা যা দিয়েছেন, তাতে সন্তুষ্ট থাকা। অভিযোগ না করে কৃতজ্ঞ থাকা। ৪. الصَّبْرُ عَلَى الْمَفْقُودِ যা নেই তাতে ˆধর্য ধারণ করা। অর্থাৎ, যা হারিয়ে গেছে বা পাওয়া যায়নি—সেই অভাবেও ধৈর্য্য ধারণ করা, আল্লাহর ফয়সালায় আস্থা রাখা। সুতরাং এই ছয়টি বিষয় যদি কেউ নিজের জীবনে ধারণ করতে পারে, তবে তার দীন হবে পূর্ণাঙ্গ, সুন্দর ও ভারসাম্যপূর্ণ। [বাইহাকী, শুআবুল ঈমান : ৯৬৪০] - খুতুবাত
1 124
15
আল কুরআন: আল-বাকারাহ্ ২:৪০ Surah Baqarah ২:৩৬ فَأَزَلَّهُمَا ٱلشَّيۡطَٰنُ عَنۡهَا فَأَخۡرَجَهُمَا مِمَّا كَانَا فِيهِۖ وَقُلۡنَا ٱهۡبِطُواْ بَعۡضُكُمۡ لِبَعۡضٍ عَدُوّٞۖ وَلَكُمۡ فِي ٱلۡأَرۡضِ مُسۡتَقَرّٞ وَمَتَٰعٌ إِلَىٰ حِينٖ অর্থ : অতঃপর শয়তান সেখান থেকে তাদের পদস্খলন ঘটালো [১] এবং তারা যেখানে ছিলো সেখান থেকে তাদেরকে বের করলো [২]। আর আমরা বললাম, ‘তোমরা একে অন্যের শ্ত্রু রুপে নেমে যাও এবং কিছু দিনের জন্য তোমাদের বসবাস ও জীবিকা রইল যমীনে’। [১] (زَلَّةٌ) শব্দের অর্থ বিচ্যুতি বা পদস্খলন। অর্থাৎ শয়তান আদম ও হাওয়া ‘আলাইহিমাস সালামকে পদস্খলিত করেছিল বা তাদের বিচ্যুতি ঘটিয়েছিল। কুরআনের এসব শব্দে পরিস্কার এ কথা বোঝা যায় যে, আদম ও হাওয়া ‘আলাইহিস সালাম কর্তৃক আল্লাহ্ তা'আলার হুকুম লংঘন সাধারণ পাপীদের মত ছিল না, বরং শয়তানের প্রতারণায় প্রতারিত হয়েই তারা এ ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছিলেন। পরিণামে যে গাছের ফল নিষিদ্ধ ছিল, তা খেয়ে বসলেন। এ বর্ণনার দ্বারা বোঝা গেল যে, আদম 'আলাইহিস সালামকে বিশেষ গাছ বা তার ফল খেতে নিষেধ করা হয়েছিল এবং এ ব্যাপারেও সাবধান করে দেয়া হয়েছিল যে, শয়তান তোমাদের শক্র। কাজেই সে যেন তোমাদেরকে পাপে লিপ্ত করে না দেয়। এরপরও আদম 'আলাইহিস সালামের তা খাওয়া বাহ্যিকভাবে পাপ বলে গণ্য। অথচ নবীগণ পাপ থেকে বিমুক্ত ও পবিত্র। সঠিক তথ্য এই যে, এখানে কয়েকটি ব্যাপারে আলেমদের ‘ইজমা’ তথা ঐক্যমত সংঘটিত হয়েছে: ১) নবীগণ উম্মতের নিকট আল্লাহ্‌র নির্দেশ পৌছানোর ব্যাপারে যাবতীয় ভুল-ত্রুটি বা পাপ হতে মুক্ত। ২) অনুরূপভাবে মর্যাদাহানিকর নিম্নমানের কর্মকাণ্ড থেকেও মুক্ত। ৩) তাদের দ্বারা মর্যাদাহানিকর নয় এমন সগীরা গোনাহ হতে পারে। কিন্তু আল্লাহ্ তাআলা তাদেরকে কোনো প্রকার গোনাহ বা ভুলের উপর অবস্থান করতে দেননা। অর্থাৎ তাদের দ্বারা কোন ভুল-ত্রুটি হয়ে গেলে তাদেরকে সাবধান করা হয়, যাতে তারা তাওবা করে সংশোধন করে নেন। ফলে তাদের মর্যাদা পূর্বের চেয়ে আরও বেশী বৃদ্ধি পায়। [২] হাদীসে এসেছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “সূর্য যে দিনগুলোতে উদিত হয়েছে তন্মধ্যে সবচেয়ে উত্তম দিন হচ্ছে জুম'আর দিন। এতে আদমকে সৃষ্টি করা হয়েছে, এতেই জান্নাতে প্রবেশ করানো হয়েছে। আর এ দিনই তাকে জান্নাতে থেকে বের করা হয়েছে।" [মুসলিম ৮৫৪] এখানে এ বিতর্ক অনাবশ্যক যে, শয়তান জান্নাত থেকে বিতাড়িত হওয়ার পর আদম ‘আলাইহিস সালামকে প্রতারিত করার জন্য কীভাবে আবার সেখানে প্রবেশ করলো? কারণ, শয়তানের প্রবঞ্চনার জন্য জান্নাতে প্রবেশের কোনো প্রয়োজন নেই। কেননা আল্লাহ্ তা'আলা শয়তান ও জীন জাতিকে দূর থেকেও প্রবঞ্চনা ও প্রতারণা করার ক্ষমতা দিয়েছেন।  -Tafsir Abu Bakr Zakaria সকল পর্ব :  @ayatannur
1 187
16
মুহাররম মাসে আইয়ামে বীজের রোজা শুরু ২৯ জুন আইয়ামে বীজের রোজা শুরু সোমবার বাংলাদেশে চলতি মুহাররম মাসের আইয়ামে বীজের রোজাগুলো র
মুহাররম মাসে আইয়ামে বীজের রোজা শুরু ২৯ জুন আইয়ামে বীজের রোজা শুরু সোমবার বাংলাদেশে চলতি মুহাররম মাসের আইয়ামে বীজের রোজাগুলো রাখতে হবে যথাক্রমে ২৯ জুন, ৩০ জুন ও ১লা জুলাই, সোম-মঙ্গল ও বুধবার। রবিবার দিবাগত রাতে সাহরি খেয়ে সোমবার থেকে রোজা শুরু করতে হবে। যাদের পক্ষে সম্ভব, তারা আগে থেকেই প্রস্তুতি নিয়ে রাখি। আইয়ামে বীজ আরবি দুটি শব্দের সমন্বয়ে গঠিত। আইয়ামে অর্থ দিবসসমূহ, আর বীজ অর্থ শুভ্র, সাদা, শ্বেত, খাঁটি, নির্ভেজাল। প্রতি চান্দ্র মাসের ১৩, ১৪ ও ১৫ তারিখকে আইয়ামে বীজ বলা হয়। বেশ কয়েকটি সহীহ হাদীসে এ তিন দিনের রোজা রাখার জন্য উৎসাহিত করা হয়েছে। এ রোজাগুলো নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সারা জীবনের সুন্নত। প্রতি মাসে আইয়ামে বীজের ৩টি রোজা রাখা সারা বছর রোজা রাখার সমতুল্য। তাই চলুন, আমরা প্রত্যেকে সাধ্যমতো পরিবারের সকলকে নিয়ে নফল রোজাগুলো পালন করি। রোজা এমন একটা ইবাদত যার প্রতিদান আল্লাহ নিজে দিবেন। @hopedesigncloud
1 053
17
[ আগের অংশ] কিন্তু নাফরমানি করে যখন সে নিজেকে আল্লাহ্‌র শাস্তি লাভের অধিকারী করে তখন সে আসলে ব্যক্তি সত্তার উপর যুলুম করে। এসব কারণে কুরআনের বিভিন্ন স্থানে ‘গোনাহ শব্দটির জন্য যুলুম এবং ‘গোনাহগার’ শব্দের জন্য যালিম ব্যবহার করা হয়েছে।  -Tafsir Abu Bakr Zakaria সকল পর্ব :  @ayatannur
989
18
আল কুরআন: আল-বাকারাহ্ ২:৩৯ Surah Baqarah ২:৩৫ وَقُلۡنَا يَٰٓـَٔادَمُ ٱسۡكُنۡ أَنتَ وَزَوۡجُكَ ٱلۡجَنَّةَ وَكُلَا مِنۡهَا رَغَدًا حَيۡثُ شِئۡتُمَا وَلَا تَقۡرَبَا هَٰذِهِ ٱلشَّجَرَةَ فَتَكُونَا مِنَ ٱلظَّٰلِمِينَ অর্থ : আর আমারা বললাম, ‘ হে আদম ! আপনি ও আপনার স্ত্রী [১] জান্নাতে বসবাস করুন এবং যেখান থেকে ইচ্ছা স্বাচ্ছন্দ্যে আহার করুন, কিন্তু এই গাছটির কাছে যাবেন না [২] ; তাহলে আপনারা হবেন যালিমদের [৩] অন্তর্ভুক্ত’। [১] কুরআনের বাকরীতি দ্বারা বোঝা যায় যে, আদম ‘আলাইহিস সালামের জান্নাতে প্রবেশের আগেই হাওয়াকে সৃষ্টি করা হয়। মুহাম্মাদ ইবন ইসহাক বলেন, আল্লাহ্‌ তা'আলা ইবলীসকে অভিশপ্ত করার পর আদমের প্রতি মনোনিবেশ করলেন। আদম ‘আলাইহিস সালামকে তন্দ্রাচ্ছন্ন করা হল এবং তার বাম পাজর থেকে একখানা হাড় নেয়া হলো। আর সে স্থানে গোশত সংযোজন করা হলো। তখনও আদম ঘুমিয়ে ছিলেন। তখন হাড় থেকে তার স্ত্রী হাওয়াকে সৃষ্টি করা হল এবং তাকে যথাযথ রূপ দান করা হল যেন আদম তার সাহচর্যে পরিতৃপ্ত থাকেন। যখন তন্দ্রাচ্ছন্নতা কাটল এবং নিদ্রা থেকে জাগ্রত হলেন, তখন হাওয়াকে তার পাশে বসা দেখলেন। সাথে সাথে তিনি বললেন, আমার গোশত, আমার রক্ত ও আমার স্ত্রী। [ইবন কাসীর] অন্য বর্ণনায় ইবন মাসউদ, ইবন আব্বাস এবং অন্যান্য সাহাবী থেকে এসেছে, ইবলীসকে জান্নাত থেকে বের করা হল আর আদমকে জান্নাতে বসবাসের সুযোগ দেয়া হল। কিন্তু তিনি জান্নাতে একাকীত্ব অনুভব করতে থাকলেন। তারপর তার ঘুম আসল, সে ঘুম থেকে জাগ্রত হয়ে দেখতে পেলেন যে, তার মাথার পাশে একজন মহিলা বসে আছেন, যাকে তার পাঁজর থেকে সৃষ্টি করা হয়েছে। তিনি তাকে প্রশ্ন করলেন, তুমি কে? বললেন, মহিলা। আদম বললেন, তোমাকে কেন সৃষ্টি করা হয়েছে? বললেন, যাতে তুমি আমার কাছে প্রশান্তি লাভ কর। তখন ফেরেশতাগণ তাকে প্রশ্ন করলেন: হে আদম! এর নাম কী? আদম বললেন, হাওয়া। তারা বলল, তাকে হাওয়া কেন নাম দেয়া হল? তিনি বললেন, কেননা তাকে জীবিত বস্তু থেকে সৃষ্টি করা হয়েছে। [ইবন কাসীর] এর সমর্থনে আমরা একটি হাদীস পাই। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “তোমরা নারীদের ব্যাপারে আমার উপদেশ গ্রহণ কর। কেননা তাদেরকে পাঁজর থেকে সৃষ্টি করা হয়েছে। আর পাঁজরের সবচেয়ে বাঁকা অংশ হচ্ছে, উপরিভাগ। তুমি যদি তাকে সোজা করতে যাও তবে তাকে ভেঙ্গে ফেলবে। আর যদি ছেড়ে দাও, সব সময় বাঁকাই থেকে যাবে। সুতরাং নারীদের ব্যাপারে উপদেশ গ্রহণ কর। [বুখারী ৩৩৩১, মুসলিম ১৪৬৮] হাফেজ ইবন হাজার এ হাদীসের ব্যাখ্যায় ইবন ইসহাক থেকে উপরোক্ত বর্ণনা উল্লেখ করেন। [২] কোনো বিশেষ গাছের প্রতি ইংগিত করে বলা হয়েছিল যে, এর ধারে কাছেও যেও না। প্রকৃত উদ্দেশ্য ছিল, সে গাছের ফল না খাওয়া। কিন্তু তাকীদের জন্য বলা হয়েছে, কাছেও যেও না। সেটি কী গাছ ছিল, কুরআনুল কারীমে তা উল্লেখ করা হয়নি। কোনো নির্ভরযোগ্য ও বিশুদ্ধ হাদীস দ্বারাও তা নির্দিষ্ট করা হয়নি। এ নিষেধাজ্ঞার ফলে এ কথা সুস্পষ্ট বুঝা যায় যে, সে বৃক্ষের ফল না খাওয়া ছিল এ নিষেধাজ্ঞার প্রকৃত উদ্দেশ্য। কিন্তু সাবধানতা-সূচক নির্দেশ ছিল এই যে, সে গাছের কাছেও যেও না। এর দ্বারাই ফিকাহশাস্ত্রের কারণ-উপকরণের নিষিদ্ধতার মাসআলাটি প্রমাণিত হয়। অর্থাৎ কোনো বস্তু নিজস্বভাবে অবৈধ বা নিষিদ্ধ না হলেও যখন তাতে এমন আশংকা থাকে যে, ঐ বস্তু গ্রহণ করলে অন্য কোনো হারাম ও অবৈধ কাজে জড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা দেখা দিতে পারে, তখন ঐ বৈধ বস্তুও নিষিদ্ধ করে দেয়া হয়। যেমন, গাছের কাছে যাওয়া তার ফল-ফসল খাওয়ার কারণও হতে পারতো। সেজন্য তাও নিষিদ্ধ করে দেয়া হয়েছে। একে ফিকাহশাস্ত্রের পরিভাষায় উপকরণের নিষিদ্ধতা বলা হয়। [৩] যালিম শব্দটি গভীর অর্থবোধক। যুলুম' বলা হয় অধিকার হরণকে। যে ব্যক্তি কারো অধিকার হরণ করে সে যালিম। যে ব্যক্তি আল্লাহ্‌র হুকুম পালন করে না, তার নাফরমানি করে সে আসলে তিনটি বড় বড় মৌলিক অধিকার হরণ করে। প্রথমতঃ সে আল্লাহ্‌র অধিকার হরণ করে। কারণ আল্লাহ্‌র হুকুম পালন করতে হবে, এটা বান্দার প্রতি আল্লাহ্‌র অধিকার। দ্বিতীয়তঃ এ নাফরমানি করতে গিয়ে সে যে সমস্ত জিনিস ব্যবহার করে তাদের সবার অধিকার সে হরণ করে। তার দেহের অংগপ্রত্যংগ, স্নায়ুমণ্ডলী, তার সাথে বসবাসকারী সমাজের অন্যান্য লোক, তার ইচ্ছা ও সংকল্প পূর্ণ করার ব্যবস্থাপনায় নিয়োজিত ফেরেশতাগণ এবং যে জিনিসগুলো সে তার কাজে ব্যবহার করে-এদের সবার তার উপর অধিকার ছিল, এদেরকে কেবলমাত্র এদের মালিকের ইচ্ছানুযায়ী ব্যবহার করতে হবে। কিন্তু যখন তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে সে তাদের উপর নিজের কর্তৃত্ব ব্যবহার করে তখন সে আসলে তাদের উপর যুলুম করে। তৃতীয়তঃ তার নিজের অধিকার হরণ করে। কারণ তার উপর তার আপন সত্তাকে ধবংস থেকে বাচাবার অধিকার আছে। [পরের অংশ]
1 159
19
এক সাহাবির অদ্ভুত নবীপ্রেম . হযরত তালহা ইবন বারা রাযি.। তিনি ছিলেন অল্প বয়সের সাহাবি। জীবনের শুরুতেই ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন। একদিন তিনি ভীষণ অসুস্থ হয়ে পড়লেন। এমন অসুস্থতা—যা দেখে বোঝা যাচ্ছিল, এটাই হয়তো শেষ সময়। খবর পৌঁছাল রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর কাছে। প্রিয় নবী নিজে ছুটে এলেন তাঁর খোঁজ নিতে। ঘরে ঢুকেই বুঝে গেলেন—এই রোগ থেকে তাঁর আর ফেরা নেই। নবীজি ﷺ সেদিন উপস্থিত লোকদের বললেন, ‘তালহার যখন ইন্তেকাল হবে, আমাকে খবর দিও। আমি এসে জানাযার নামায পড়াব।’ ভাবুন একবার! যার জানাযা রাসূলুল্লাহ ﷺ পড়াবেন—তার মর্যাদা কতটা মহান! এটা কি ছোট সম্মান? এটা তো দুনিয়া-আখিরাতের সবচেয়ে বড় সৌভাগ্য! নবীজি কথা বলে চলে গেলেন। কিন্তু এখানেই দেখা গেল তালহার প্রকৃত নবীপ্রেম। তিনি উপস্থিত লোকদের ডেকে বললেন, ‘যদি রাতে আমার মৃত্যু হয়, দয়া করে রাসূলুল্লাহ ﷺ-কে খবর দিও না।’ সুবহানাল্লাহ! কেন এই নিষেধ? কারণ তিনি জানতেন—রাসূল ﷺ-এর বাড়ি থেকে তাঁর বাড়ি তিন-চার মাইল দূরে। পথে ইহুদিদের বসতি। রাতের অন্ধকারে চলাফেরা কষ্টকর।নিরাপত্তার ঝুঁকি আছে। তিনি ভাবলেন, আমার জানাযার জন্য নবীজি কেন কষ্ট করবেন? আমার কারণে কেন আমার প্রিয় নবীর কষ্ট হবে? যদিও নবীজি জানাযা পড়ালে তাঁর জন্য বিশাল ফজিলত ছিল, তবুও তিনি সেই সুযোগ নিজের হাতে ছেড়ে দিলেন। এটাই তো প্রেম! এটাই তো নিঃস্বার্থ ভালোবাসা! অবশেষে রাতে তাঁর ইন্তেকাল হয়ে গেল।পরিবার তাঁর ওসিয়ত অনুযায়ী রাসূল ﷺ-কে খবর দিল না। পরদিন সকালে নবীজি জানতে পারলেন। খুব আফসোস করলেন। সঙ্গে সঙ্গে তাঁর কবরের কাছে গেলেন। কবরের পাশে দাঁড়িয়ে এই দোয়া করলেন اللَّهُمَّ الْقَ طَلْحَةَ تَضْحَكُ إِلَيْهِ وَيَضْحَكُ إِلَيْكَ হে আল্লাহ! তালহার সাথে আপনি এমন অবস্থায় মিলিত হোন, যেন আপনি তাকে দেখে হাসছেন, আর সে আপনাকে দেখে হাসছে। [মাজমাউয যাওয়াইদ : ১৫৯৬৯] ভাবুন একবার—রাসূল ﷺ নিজে নাম ধরে দোয়া করছেন! যদি নবীজি জানাযায় আসতেন, তাহলে সাধারণ জানাযার দোয়া পড়তেন اللَّهُمَّ اغْفِرْ لِحَيِّنَا, وَمَيِّتِنَا হে আল্লাহ! আমাদের জীবিত ও মৃত সবাইকে ক্ষমা করে দিন...। এই দোয়ায় তালহার নাম আসত না। সাধারণ দোয়ার মধ্যে মিশে যেত। কিন্তু তালহা নিজের সুবিধা ত্যাগ করলেন, নবীর কষ্ট এড়াতে চাইলেন, নবীকে আরাম দিলেন। ফলাফল কী হলো? নবীর জবান দিয়ে তাঁর নাম ধরে দোয়া বের হয়ে এল! এটাকেই বলে—দোয়া বের করানো। অনেকে আছে—দোয়া চায়, আমার জন্য দোয়া করবেন। কিন্তু খুব কম মানুষ আছে—যারা এমন কাজ করে যার কারণে বড় মানুষের মুখ থেকেই আপনা-আপনি দোয়া বের হয়ে আসে।একটু খেদমত, একটু আদব, একটু ভালো ব্যবহার—কখনো কখনো দোয়ার দরজা খুলে দেয়। - খুতুবাত
998
20
আল কুরআন: আল-বাকারাহ্ ২:৩৮ Surah Baqarah ২:৩৪ وَإِذۡ قُلۡنَا لِلۡمَلَٰٓئِكَةِ ٱسۡجُدُواْ لِأٓدَمَ فَسَجَدُوٓاْ إِلَّآ إِبۡلِيسَ أَبَىٰ وَٱسۡتَكۡبَرَ وَكَانَ مِنَ ٱلۡكَٰفِرِينَ অর্থ : আর স্মরণ করুন, যখন আমরা ফেরেশতাদের বললাম, আমাকে সিজদা কর [১], তখন ইবলিশ [২] ছাড়া সকলেই সিজদা করল; সে অস্বীকার করল ও অহংকার করল [৩]। আর সে কাফিরদের অন্তর্ভুক্ত হল [৪]। [১] এ আয়াতে বাহ্যতঃ যে কথা বর্ণনা করা হয়েছে তা এই যে, আদম ‘আলাইহিস সালামকে সিজদা করার হুকুম ফেরেশতাদেরকে দেয়া হয়েছিল। কিন্তু পরে যখন এ কথা বলা হলো যে, ইবলীস ব্যতীত সব ফেরেশতাই সিজদা করলেন, তখন তাতে প্রমাণিত হলো যে, সিজদার নির্দেশ ইবলিসের প্রতিও ছিল। কিন্তু নির্দেশ প্রদান করতে গিয়ে শুধু ফেরেশতাগণের উল্লেখ এ জন্য করা হলো যে, তারাই ছিল সর্বোত্তম ও সর্বশ্রেষ্ঠ। যখন তাদেরকে আদম 'আলাইহিস সালামের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের নির্দেশ দেয়া হলো, তাতে ইবলিস অতি উত্তম রূপে এ নির্দেশের অন্তর্ভুক্ত বলে জানা গেল। অথবা সে যেহেতু ফেরেশতাদের দলের মধ্যেই অবস্থান করছিল তখন তাকে অবশ্যই নির্দেশ পালন করতে হত। সে নিজেকে নির্দেশের বাইরে মনে করার কোন যৌক্তিক কারণ নেই। শুধু তার গর্ব ও অহঙ্কারই তাকে তা করতে বাধা দিচ্ছিল। [ইবন কাসীর] এ আয়াতে আদম ‘আলাইহিস সালামকে সেজদা করতে ফেরেশতাদের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। সূরা ইউসুফ-এ ইউসুফ ‘আলাইহিস সালামের পিতা-মাতা ও ভাইগণ মিশর পৌছার পর ইউসুফকে সিজদা করেছিলেন বলে উল্লেখ রয়েছে। এটা সুস্পষ্ট যে, এ সিজদা ‘ইবাদাতের উদ্দেশ্যে হতে পারে না। কেননা, আল্লাহ্‌ ব্যতীত অপরের ‘ইবাদাত শির্ক ও কুফরী। কোনো কালে কোনো শরীআতে এরূপ কাজের বৈধতার কোনো সম্ভাবনাই থাকতে পারে না। সুতরাং এর অর্থ এছাড়া অন্য কোনো কিছুই হতে পারে না যে, প্রাচীনকালের সিজদা আমাদের কালের সালাম, মুসাফাহা, মু'আনাকা, হাতে চুমো খাওয়া এবং সম্মান প্রদর্শনার্থে দাঁড়িয়ে যাওয়ার সমার্থক ও সমতুল্য ছিল। ইমাম জাসসাস আহকামুল কুরআন গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন যে, পূর্ববতী নবীগণের শরীআতে বড়দের প্রতি সম্মানসূচক সিজদা করা বৈধ ছিল। শরীআতে মুহাম্মদীতে তা রহিত হয়ে গেছে। বড়দের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের পদ্ধতি হিসেবে এখন শুধু সালাম ও মুসাফাহার অনুমতি রয়েছে। রুকূ’-সিজদা এবং সালাতের মত করে হাত বেঁধে কারো সম্মানার্থে দাড়ানোকে অবৈধ বলে ঘোষণা করা হয়েছে। [আহকামুল কুরআন লিল জাসসাস] এখানে প্রশ্ন থেকে যায়, সিজদায়ে তা’জিমী বা সম্মানসূচক সিজদার বৈধতার প্রমাণ তো কুরআনুল কারীমের উল্লিখিত আয়াতসমূহে পাওয়া যায়, কিন্তু তা রহিত হওয়ার দলীল কী? উত্তর এই যে, রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের অনেক হাদীস দ্বারা সিজদায়ে তা’জিমী হারাম বলে প্রমাণিত হয়েছে। রাসূল সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “যদি আমি আল্লাহ্‌ তা'আলা ব্যতীত অন্য কারো প্রতি সিজদা করা জায়েয মনে করতাম, তবে স্বামীকে তাঁর বৃহৎ অধিকারের কারণে সিজদা করার জন্য স্ত্রীকে নির্দেশ দিতাম, কিন্তু এই শরীআতে সিজদায়ে- তা’জিমী সম্পূর্ণ হারাম বলে কাউকে সিজদা করা কারো পক্ষে জায়েয নয়।” [মুসনাদে আহমাদ ৩/১৫৮] [২] ‘ইবলিস’ শব্দের অর্থ হচ্ছে ‘চরম হতাশ’। আর পারিভাষিক অর্থে এমন একটি জিনকে ইবলিস বলা হয় যে আল্লাহ্‌র হুকুমের নাফরমানী করে আদম ও আদম-সন্তানদের অনুগত ও তাদের জন্য বিজিত হতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিল। মানব জাতিকে পথভ্রষ্ট করার ও কিয়ামত পর্যন্ত তাদেরকে ভুল পথে চলার প্রেরণা দান করার জন্য সে আল্লাহ্‌র কাছে সময় ও সুযোগ প্রার্থনা করেছিল। আসলে শয়তান ও ইবলিস মানুষের মত একটি কায়াসম্পন্ন প্রাণীসত্তা। তাছাড়া সে ফেরেশতাদের অন্তর্ভুক্ত ছিল, এ ভুল ধারণাও কারো না থাকা উচিত। কারণ পরবর্তী আলোচনাগুলোতে কুরআন নিজেই তার জিনদের অন্তর্ভুক্ত থাকার এবং ফেরেশতাদের থেকে আলাদা একটি স্বতন্ত্র শ্রেণীর সৃষ্টি হওয়ার ব্যাপারে সুস্পষ্ট বক্তব্য পরিবেশন করেছে। [৩] হাদীসে এসেছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “যার অন্তরে সরিষার দানা পরিমাণ অহঙ্কারও অবশিষ্ট থাকবে সে জান্নাতে প্রবেশ করবে না।” [আবুদাউদ ৪০৯১] আর ইবলীসের মন ছিল গর্ব ও অহঙ্কারে পরিপূর্ণ। সুতরাং আল্লাহ্‌র সমীপ থেকে দূরিভূত হওয়াই ছিল তার জন্য যুক্তিযুক্ত শাস্তি। [৪] সুদ্দী বলেন, সে ঐ সমস্ত কাফিরদের অন্তর্ভুক্ত হল যাদেরকে আল্লাহ্‌ তখনও সৃষ্টি করেননি। যারা তার পরে কাফের হবে সে তাদের অন্তর্ভুক্ত হল। মুহাম্মাদ ইবন কাব আল-কুরাযী বলেন, আল্লাহ্‌ ইবলীসকে কুফর ও পথভ্রষ্টতার উপরই সৃষ্টি করেছেন, তারপর সে ফেরেশতাদের আমল করলেও পরবর্তীতে যে কুফরির উপর তাকে সৃষ্টি করা হয়েছে সে তার দিকেই ফিরে গেল। [ইবন কাসীর]  -Tafsir Abu Bakr Zakaria সকল পর্ব :  @ayatannur
1 224