fa
Feedback
Hope

Hope

رفتن به کانال در Telegram

আল্লাহ আপনার দুনিয়ার কষ্ট দূর করে দিক, আখিরাত সহজ করে দিক, আমীন। প্রয়োজনে: @HopeDM আমাদের সব চ্যানেলঃ https://t.me/Hope24hours/1215 এনোনিমাস মেসেজ পাঠাতে: https://chithi.me/Hope24hours উত্তর: https://t.me/a_teardrop

نمایش بیشتر

📈 تحلیل کانال تلگرام Hope

کانال Hope (@hope24hours) در بخش زبانی بنگالی بازیگری فعال است. در حال حاضر جامعه شامل 17 666 مشترک است و جایگاه 4 626 را در دسته دین و مذهبی و رتبه 1 294 را در منطقه بنغلاديش دارد.

📊 شاخص‌های مخاطب و پویایی

از زمان ایجاد در невідомо، پروژه رشد سریعی داشته و 17 666 مشترک جذب کرده است.

بر اساس آخرین داده‌ها در تاریخ 25 اوت, 2026، کانال فعالیت پایداری دارد. در ۳۰ روز گذشته تغییر اعضا برابر -70 و در ۲۴ ساعت گذشته برابر 1 بوده و همچنان دسترسی گسترده‌ای حفظ شده است.

  • وضعیت تأیید: تأیید نشده
  • نرخ تعامل (ER): میانگین تعامل مخاطب 7.89% است و در ۲۴ ساعت نخست پس از انتشار، محتوا معمولاً 3.05% واکنش نسبت به کل مشترکان کسب می‌کند.
  • دسترسی پست‌ها: هر پست به طور میانگین 1 393 بازدید دریافت می‌کند. در اولین روز معمولاً 539 بازدید جمع‌آوری می‌شود.
  • واکنش‌ها و تعامل: مخاطبان به‌طور فعال حمایت می‌کنند؛ میانگین واکنش به هر پست 22 است.

📝 توضیح و سیاست محتوایی

نویسنده این فضا را محل بیان دیدگاه‌های شخصی توصیف می‌کند:
আল্লাহ আপনার দুনিয়ার কষ্ট দূর করে দিক, আখিরাত সহজ করে দিক, আমীন। প্রয়োজনে: @HopeDM আমাদের সব চ্যানেলঃ https://t.me/Hope24hours/1215 এনোনিমাস মেসেজ পাঠাতে: https://chithi.me/Hope24hours উত্তর: https://t.me/a_teardrop

به لطف به‌روزرسانی‌های پرتکرار (آخرین داده در تاریخ 26 اوت, 2026)، کانال همواره به‌روز و دارای دسترسی بالاست. تحلیل‌ها نشان می‌دهد مخاطبان به‌طور فعال با محتوا تعامل دارند و آن را به نقطه اثرگذاری مهم در دسته دین و مذهبی تبدیل کرده‌اند.

17 666
مشترکین
+124 ساعت
-217 روز
-7030 روز
آرشیو پست ها
Hope
17 665
🥀ভিডিওর বর্ণনা - ২ এরপর মুহাজিররা একত্রিত হয়ে পরামর্শ করতে লাগলেন। তারা বলল: “চলো, আমাদের আনসার ভাইদের কাছে যাই এবং এই বিষয়ে তাদেরও আমাদের সঙ্গে অন্তর্ভুক্ত করি।” আনসাররা বললেন: “আমাদের মধ্য থেকে একজন আমির এবং তোমাদের মধ্য থেকে একজন আমির।” তখন উমর ইবনুল খাত্তাব (রাঃ) বললেন: “এমন মর্যাদা আর কার আছে, যার মতো এই তিনজনের?” এরপর তিনি কুরআনের আয়াতের দিকে ইঙ্গিত করলেন: “যখন তারা দুজন গুহায় ছিল, তখন তিনি তাঁর সঙ্গীকে বলেছিলেন: দুঃখ করো না, নিশ্চয়ই আল্লাহ আমাদের সঙ্গে আছেন" তিনি বললেন: “এই দুজন কে?” এরপর আবু বকর (রাঃ) তাঁর হাত বাড়িয়ে দিলেন এবং তাঁর হাতে বাইআত করলেন। এরপর অন্য লোকেরাও তাঁর হাতে বাইআত করল। এটি ছিল সুন্দর ও উত্তম একটি বাইআত। ... যখন রাসূলুল্লাহ ﷺ মৃত্যুর কষ্টে অত্যন্ত কষ্ট পাচ্ছিলেন, তখন ফাতিমা (রাঃ) বললেন: “হায়, আমার পিতার কী কষ্ট!” তখন নবী ﷺ বললেন: “আজকের পর তোমার পিতার আর কোনো কষ্ট থাকবে না।” “তোমার পিতার কাছে এমন এক বিষয় এসে উপস্থিত হয়েছে, যা থেকে কিয়ামতের দিন সাক্ষাৎ পর্যন্ত কেউ রেহাই পাবে না।”

Hope
17 665
🥀ভিডিওর বর্ণনা - ১ “যেদিন রাসূলুল্লাহ ﷺ মদিনায় প্রবেশ করেছিলেন, সেদিন মদিনার সবকিছু যেন আলোকিত হয়ে গিয়েছিল। আর যেদিন তিনি ইন্তেকাল করলেন, সেদিন মদিনার সবকিছু যেন অন্ধকার হয়ে গেল।” “আমরা তাঁর ﷺ দাফন সম্পন্ন করে মাটি থেকে হাত ঝাড়ার আগেই আমাদের অন্তর যেন নিজেদের কাছে অপরিচিত হয়ে গেল।” .... "রাসূলুল্লাহ ﷺ সোমবার ইন্তেকাল করেন। এরপর তিনি সোমবারের দিন এবং মঙ্গলবারের রাত পর্যন্ত অবস্থান করেন। এরপর রাতের বেলায় তাঁকে দাফন করা হয়" "অন্য এক বর্ণনাকারী বলেছেন, রাতের শেষভাগে নারীদের কান্নার আওয়াজ শোনা যাচ্ছিল" "রাসূলুল্লাহ ﷺ সোমবার ইন্তেকাল করেন এবং মঙ্গলবার তাঁকে দাফন করা হয়।" ... “রাসূলুল্লাহ ﷺ তাঁর অসুস্থতার সময় একবার অচেতন হয়ে পড়লেন। তখন নামাজের সময় হলো। তাঁকে বলা হলো, ‘নামাজের সময় হয়েছে।’ তিনি বললেন, ‘বিলালকে নির্দেশ দাও, তিনি যেন আজান দেন এবং আবু বকরকে নির্দেশ দাও, তিনি যেন নামাজ পড়ান।’” এরপর তিনি আবার অচেতন হয়ে গেলেন। যখন জ্ঞান ফিরল, তিনি বললেন, “নামাজের সময় হয়েছে?” তারা বলল, “হ্যাঁ।” তিনি বললেন, “বিলালকে নির্দেশ দাও যেন আজান দেন এবং আবু বকরকে নির্দেশ দাও যেন লোকদের নামাজ পড়ান।” তখন আয়িশা (রাঃ) বললেন: “আমার পিতা খুব কোমল হৃদয়ের মানুষ। তিনি যখন ওই স্থানে দাঁড়াবেন, তখন কাঁদতে শুরু করবেন এবং মানুষের সামনে নামাজ পড়াতে পারবেন না। অন্য কাউকে নির্দেশ দিন।” এরপর তিনি আবার অচেতন হয়ে গেলেন। জ্ঞান ফিরে এলে তিনি বললেন: “বিলালকে আজানের নির্দেশ দাও এবং আবু বকরকে লোকদের নামাজ পড়ানোর নির্দেশ দাও।” এরপর তিনি বললেন: “তোমরা যেন ইউসুফের সঙ্গিনীদের মতো করছ।” তখন বিলাল আজান দিলেন এবং আবু বকর (রাঃ) লোকদের নামাজ পড়ালেন। এরপর রাসূলুল্লাহ ﷺ নিজের মধ্যে কিছুটা শক্তি অনুভব করলেন। তিনি বললেন: “দেখো, আমাকে দেখো, আমি কার ওপর ভর দিয়ে যেতে পারি?” তখন দুইজন ব্যক্তি এসে তাঁকে ধরে নিলেন এবং তিনি তাঁদের দুজনের ওপর ভর করে বের হলেন। আবু বকর (রাঃ) তাঁকে দেখে পিছিয়ে যেতে চাইলেন। কিন্তু রাসূলুল্লাহ ﷺ তাঁকে ইশারা করলেন যেন তিনি তাঁর স্থানেই থাকেন। অতঃপর আবু বকর (রাঃ) নামাজ শেষ করলেন। এরপর রাসূলুল্লাহ ﷺ ইন্তেকাল করলেন। .... তখন উমর (রাঃ) বললেন: “আল্লাহর কসম! আমি কাউকে বলতে শুনব না যে, রাসূলুল্লাহ ﷺ ইন্তেকাল করেছেন, আমি আমার এই তরবারি দিয়ে তাকে আঘাত করব।” লোকেরা তখন হতভম্ব হয়ে গেল। তাঁদের মধ্যে এমন কেউ ছিলেন না, যিনি এর আগে কোনো নবীর ইন্তেকাল প্রত্যক্ষ করেছিলেন। তখন লোকেরা বলল: “সালিম, রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর সাহাবির কাছে যাও এবং তাঁকে ডাকো।” আমি আবু বকর (রাঃ) এর কাছে গেলাম। তিনি তখন মসজিদে ছিলেন। আমি তাঁকে বললাম: “উমর বলছেন, আমি কাউকে বলতে শুনব না যে রাসূলুল্লাহ ﷺ ইন্তেকাল করেছেন, এ কথা বললে তিনি তাঁকে তাঁর তরবারি দিয়ে আঘাত করবেন।” তিনি আমাকে বললেন: "চলো" আমি তাঁর সঙ্গে গেলাম। তখন লোকেরা রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর কাছে প্রবেশ করছিল। আবু বকর (রাঃ) বললেন: “হে লোকেরা, আমাকে একটু জায়গা দাও।” তারা তাঁর জন্য জায়গা করে দিল। তিনি রাসূলুল্লাহ ﷺ এর কাছে গিয়ে তাঁর ওপর ঝুঁকলেন, তাঁকে স্পর্শ করলেন এবং বললেন: “নিশ্চয়ই আপনি মৃত্যুবরণ করবেন, আর তারাও মৃত্যুবরণ করবে।”[সুরা যুমার-৩০] এরপর তিনি বললেন: “হে আল্লাহর রাসূলের সাহাবিগণ, রাসূলুল্লাহ ﷺ কি ইন্তেকাল করেছেন?” তারা বলল: “হ্যাঁ।” তখন তারা বুঝতে পারল যে তিনি সত্য বলেছেন। তারা জিজ্ঞেস করল: “হে রাসূলুল্লাহ ﷺ এর সাহাবি, রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর জানাজা কি পড়া হবে?” তিনি বললেন: “হ্যাঁ।” তারা জিজ্ঞেস করল: “কীভাবে?” তিনি বললেন: “একদল লোক প্রবেশ করবে। তারা তাকবির বলবে, নামাজ পড়বে এবং দোয়া করবে। এরপর তারা বেরিয়ে যাবে। তারপর আরেকদল লোক প্রবেশ করবে; তারা তাকবির বলবে, নামাজ পড়বে এবং দোয়া করবে। এভাবে সবাই নামাজ পড়বে।” তারা জিজ্ঞেস করল: “হে রাসূলুল্লাহ ﷺ এর সাহাবি, রাসূলুল্লাহ ﷺ-কে কোথায় দাফন করা হবে?” তিনি বললেন: “হ্যাঁ, তাঁকে দাফন করা হবে।” তারা জিজ্ঞেস করল: “কোথায়?” তিনি বললেন: “সেই স্থানেই, যেখানে আল্লাহ তাঁর রূহ কবজ করেছেন। কারণ আল্লাহ তাঁর রূহ কোনো অপবিত্র স্থানে কবজ করেননি।” তখন তারা বুঝল যে তিনি সত্য বলেছেন। এরপর তিনি নির্দেশ দিলেন, তাঁর পরিবারের লোকেরা যেন তাঁকে গোসল দেন। ....

Hope
17 665

Hope
17 665
কেমন হতো সে সকাল, কেমন হতো সে দুপুর, কেমন হতো সে রাত, যদি আপনি শুনতে পেতেন নবীজি ﷺ আর পৃথিবীতে নেই! [ভিডিও : কালেক্টেড] @islamicvideo24hours

Hope
17 665
আপনারা কি কারুন কে চিনেন? সে কে এবং কি করেছে?

Hope
17 665
সূরা যুমার, আয়াত ৪৯-৫২ তাফসীর আল্লাহ তাআলা মানুষের অবস্থার বর্ণনা দিচ্ছেন যে, বিপদের সময় সে অনুনয়-বিনয় ও কাকুতি-মিনতির সাথে আল্লাহকে ডেকে থাকে এবং তারই প্রতি সম্পূর্ণরূপে আকৃষ্ট হয়ে পড়ে, কিন্তু যখনই বিপদ দূরীভূত হয় এবং সে শান্তি লাভ করে তখনই উদ্ধত, হঠকারী ও অহংকারী হয়ে পড়ে এবং বলতে শুরু করেঃ “আল্লাহর উপর আমার তো এটা হক ছিল। আল্লাহর নিকট আমি এর যোগ্যই ছিলাম। আমি আমার জ্ঞান-বুদ্ধি ও চেষ্টা-তদবীরের কারণেই এটা লাভ করেছি।” মহান আল্লাহ বলেনঃ আসলে তা নয়, বরং এটা আমার একটা পরীক্ষা। যদিও পূর্ব হতেই আমার এটা জানা ছিল, তথাপি আমি এটা প্রকাশ করতে চাই এবং দেখতে চাই যে, সে আমার এ দানের কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছে, অকৃতজ্ঞ হচ্ছে। কিন্তু তাদের অধিকাংশই এটা জানে না। মহান আল্লাহ বলেনঃ এরূপ দাবী ও এরূপ উক্তি তাদের পূর্ববর্তী লোকেরাও করেছিল। কিন্তু তাদের কথা সত্য প্রমাণিত হয়নি এবং তাদের কৃতকর্ম তাদের কোন কাজে আসেনি। মহামহিমান্বিত আল্লাহ বলেনঃ যেমন তাদের কর্মের মন্দ ফল তাদের উপর আপতিত হয়েছিল তেমনই এদের মধ্যে যারা যুলুম করেছে তাদের উপরও তাদের কর্মের মন্দ ফল আপতিত হবে এবং তারা আল্লাহকে অপারগ ও অক্ষম করতে পারবে না। যেমন আল্লাহ তাআলা কারূন সম্পর্কে সংবাদ দিচ্ছেন যে, তাকে তার সম্প্রদায় বলেছিলঃ “দম্ভ করো না, আল্লাহ দাম্ভিকদেরকে ভালবাসেন না। আল্লাহ যা তোমাকে দিয়েছেন তদ্দ্বারা আখিরাতের আবাস অনুসন্ধান কর। দুনিয়া হতে তোমার অংশ ভুলো না। পরোপকার কর যেমন আল্লাহ তোমার প্রতি অনুগ্রহ করেছেন এবং পৃথিবীতে বিপর্যয় সৃষ্টি করতে চেয়ো না। আল্লাহ বিপর্যয় সৃষ্টিকারীকে ভালবাসেন না।” সে তখন উত্তরে বলেছিলঃ “এই সম্পদ আমি আমার জ্ঞানবলে প্রাপ্ত হয়েছি।" মহান আল্লাহ তার এ কথার পরিপ্রেক্ষিতে বলেনঃ “সে কি জানতো না যে, আল্লাহ তার পূর্বে ধ্বংস করেছেন বহু মানব গোষ্ঠীকে যারা তার চেয়ে শক্তিতে ছিল প্রবল, সম্পদে ছিল প্রাচুর্যশীল? অপরাধীদেরকে তাদের অপরাধ সম্পর্কে প্রশ্ন করা হবে না (অর্থাৎ জানার জন্যে প্রশ্ন করার প্রয়োজন হবে না, কারণ আমলনামায় সব লিপিবদ্ধ থাকবে)। মোটকথা, ধন-মাল ও সন্তান-সন্ততির গর্বে গর্বিত হওয়া কাফিরদের নীতি। কাফিরদের উক্তি ছিল এই যে, তাদের মাল-ধন ও সন্তান-সন্ততির প্রাচুর্য রয়েছে। সুতরাং তাদের শাস্তি হতেই পারে না। মহান আল্লাহ তাদের এই উক্তির পরিপ্রেক্ষিতে বলেনঃ তারা কি জানে না যে, আল্লাহ যার জন্যে ইচ্ছা করেন তার রিযক বর্ধিত করেন অথবা হ্রাস করেন? এতে অবশ্যই মুমিন সম্প্রদায়ের জন্যে নিদর্শন রয়েছে। - ইবনে কাসীর

Hope
17 665
অতঃপর যখন কোন বিপদ-আপদ মানুষকে স্পর্শ করে, তখন সে আমাদেরকে ডাকে; তারপর যখন তাকে আমরা আমাদের কোন নিয়ামতের অধিকারী করি তখন সে
অতঃপর যখন কোন বিপদ-আপদ মানুষকে স্পর্শ করে, তখন সে আমাদেরকে ডাকে; তারপর যখন তাকে আমরা আমাদের কোন নিয়ামতের অধিকারী করি তখন সে বলে, আমাকে এটা দেয়া হয়েছে কেবল আমার জ্ঞানের কারণে। বরং এটা এক পরীক্ষা, কিন্তু তাদের বেশীর ভাগই তা জানে না। অবশ্যই তাদের পূর্ববর্তীরা এটা বলত, কিন্তু তারা যা অর্জন করেছে তা তাদের কোন কাজে আসেনি। সুতরাং তাদের কৃতকর্মের মন্দ ফল তাদের উপর আপতিত হয়েছে, তাদের মধ্যে যারা যুলুম করে তাদের উপরও শীঘ্রই আপতিত হবে তারা যা অর্জন করেছে তার মন্দ ফল এবং তারা অপারগ করতে পারবে না। তারা কি জানে না, আল্লাহ যার জন্য ইচ্ছে রিযিক প্রশস্ত করেন, আর সীমিত করেন? নিশ্চয় এতে নিদর্শনাবলী রয়েছে এমন সম্প্রদায়ের জন্য, যারা ঈমান আনে। সূরা যুমার, আয়াত ৪৯-৫২

Hope
17 665
🌸সিরিজ: রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম.... 🍁পর্ব: ৩.১ (সাহাবীদের আনুগত্য... ) আল্লাহ তাআলা যুগে যুগে অনেক নবী-রাসূল প্রেরণ করেছেন। বিশ্ববাসীকে সুখ-শান্তি, কল্যাণ ও সফলতার পথ প্রদর্শনের জন্য সর্বশেষ নবী প্রেরণ করেছেন মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে এবং বান্দাদের নির্দেশ দিয়েছেন, তারা যেন তাঁর আনুগত্য করে। তাঁর আদেশ-নিষেধ শিরোধার্য করে। তাঁর শিক্ষা-নির্দেশনা মেনে চলে। সর্বোপরি তাঁকে আদর্শরূপে ধারণ করে।   সাহাবায়ে কেরাম আল্লাহর নির্দেশমতো নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আনুগত্য করেছেন। এক্ষেত্রে গোটা উম্মতের ইতিহাসে তাঁদের রয়েছে অনন্য বৈশিষ্ট্য। নবীজীর আনুগত্যের যে দৃষ্টান্ত তাঁরা স্থাপন করেছেন এর নজির কেবল তাঁরাই। তাঁরা তাঁর আদেশ-নিষেধ, শিক্ষা-নির্দেশনা, বাণী, কর্ম সবকিছুর অনুসরণ করতেন। তাঁর চোখের ইশারা ও মনের ভাষা পর্যন্ত অনুধাবন করতেন। তাঁর আদেশ-নিষেধ মানার জন্য সর্বদা প্রস্তুত থাকতেন। তাঁর আদেশকে সবকিছুর উপর প্রাধান্য দিতেন। তাঁর পছন্দ নয় এমন কাজ পরিহার করতে বিন্দুমাত্রও দ্বিধা করতেন না। আকীদা-বিশ্বাস, ইবাদত-বন্দেগী, লেনদেন, চলাফেরা, স্বভাব-চরিত্র, আচার-ব্যবহার সর্বক্ষেত্রে তাঁকে আদর্শরূপে ধারণ করেছিলেন। তাঁদের জীবন ছিল নববী-আদর্শের জীবন্ত ছবি। নবীজীর পরিপূর্ণ ও একনিষ্ঠ আনুগত্যই গোটা উম্মতের মধ্যে তাঁদেরকে সর্বশ্রেষ্ঠ প্রজন্মে পরিণত করে।   নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রতি সাহাবায়ে কেরামের আনুগত্যের সব দিক, সব বৈশিষ্ট্য, সব দৃষ্টান্ত আলোচনা করা দুরূহ। এ তো অকূল সমুদ্র। এখানে  শিক্ষা গ্রহণের উদ্দেশ্যে কয়েকটিমাত্র ঘটনা উদ্ধৃত করব।   এক. খায়বারের যুদ্ধের ঘটনা। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাহাবীদের নিয়ে যুদ্ধে ছিলেন। একজন এসে জানাল, মানুষ গাধার গোশত খাচ্ছে। তিনি একজনকে এই ঘোষণা করতে বললেন, আল্লাহ ও তাঁর রাসূল তোমাদেরকে গৃহপালিত গাধার গোশত খেতে নিষেধ করেছেন। তোমরা তা খেয়ো না, ফেলে দাও। তা অপবিত্র। এ ঘোষণা শুনে ডেগচিগুলো উপুড় করে দেওয়া হল অথচ তাতে গোশত টগবগ করছিল। -সহীহ বুখারী, হাদীস ৪১৯৯, ৪২২১, ৫৫২৮ এখানে আমরা নবীজীর প্রতি  সাহাবীদের আনুগত্যের দুটি বৈশিষ্ট্য দেখলাম : ক. নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম গৃহপালিত গাধার গোশত নিষিদ্ধ ঘোষণা করেন। সাহাবীগণ যে মাত্র ঘোষণা শুনেছেন সঙ্গে সঙ্গে তা থেকে নিবৃত্ত হয়ে গেছেন। অথচ গোশত রান্না হয়ে গিয়েছিল এবং তাঁরা যুদ্ধের ময়দানে ছিলেন। তার পরও নবীজীর নির্দেশ মানতে কালবিলম্ব করেননি। এ চিন্তা করেননি যে, আচ্ছা! নিষেধাজ্ঞা যেহেতু মাত্র শুনেছি এবং তা শোনার আগেই আমরা রান্না করে ফেলেছি, তাছাড়া আমরা রণাঙ্গনে আছি, তাই আজকের মত খেয়ে নিই। সামনে থেকে আর খাব না। খ. তাঁরা নবীজীর নির্দেশ যথাযথভাবে পালন করেছেন। গৃহপালিত গাধার গোশত খাওয়া থেকেও নিবৃত্ত হয়েছেন এবং ডেগচিও উপুড় করে দিয়েছেন। দুই. একদিন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জাবির রা.-কে বললেন,  বাহরাইনের মাল এলে তোমাকে এত এত এত দেব। এ কথা বলে তিনি দুই হাত তিন বার প্রসারিত করেন। কিন্তু তাঁর ইন্তেকালের আগ পর্যন্ত বাহরাইনের মাল আসেনি। আবু বকর রা.-এর খেলাফত আমলে আসে। তখন আবু বকর রা. ঘোষণা করলেন- যদি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কাউকে কোনো প্রতিশ্রুতি দিয়ে থাকেন অথবা তাঁর কাছে কারো কোনো ঋণ থাকে তাহলে সে যেন আমার কাছে আসে। ঘোষণা শুনে জাবির রা. গেলেন এবং নবীজীর ওয়াদার কথা জানালেন। আবু বকর রা. তাঁকে দুই হাত ভরে দিলেন। জাবির রা. গণনা করে দেখেন- পাঁচ শ। এরপর আবু বকর রা. বললেন- এর দ্বিগুণ নিয়ে যান। -সহীহ বুখারী, হাদীস ২২৯৭ নবীজী যদিও জাবির রা.-কে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, কিন্তু তাঁর জীবদ্দশায় প্রতিশ্রুত মাল আসেনি। তাই তাঁর পক্ষে দেওয়া সম্ভব হয়নি। আবু বকর রা.-এর খেলাফত আমলে মাল এলে তিনি চিন্তা করেছেন, আজ নবীজী আমাদের মাঝে থাকলে নিশ্চয় নিজের প্রতিশ্রুতি পূরণ করতেন। কেননা নবীজী কখনো ওয়াদা ভঙ্গ করেননি। এই চিন্তা থেকেই আবু বকর রা. ঘোষণা করেছেন। ঘোষণা শুনে যখন জাবির রা. এলেন তখন তিনি তাঁকে দান করলেন এবং নবীজী যেমন দুই হাত ভরে তিন বার দেওয়ার ওয়াদা করেছিলেন তিনিও  সেভাবেই দিলেন। নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রতিশ্রুতি পূরণের ব্যাপারে যখন সাহাবী এমন যত্নবান তো তাঁর আদেশ পালনের ব্যাপারে কত আন্তরিক হবেন তা সহজেই অনুমেয়।

Hope
17 665
দুহা? দুহার সালাত আদায় কর হয় মাঝে মাঝে? নিয়মিত না হোক, কখনো কখনো চেষ্টা করব ইন শা আল্লাহ

Hope
17 665
সূরা মূলক পড়েছি? তাহাজ্জুদ এর আমল আমাদের অনেকেরই হয়নি। এটলিস্ট সূরা মূলক রাতের আমল হিসেবে হোক?

Hope
17 665
Repost from Al Afiyah
ইবনুল কাইয়্যিম (রহিমাহুল্লাহ) বলেন- "তোমার রবের সাথে (তাঁর আনুগত্য ও ইবাদতের মাধ্যমে) নির্জনতায় অভ্যস্ত হয়ে ওঠো; কারণ অচিরেই তুমি কবরে দীর্ঘ সময় তাঁর সঙ্গেই একাকী থাকবে।” (আল-ফাওয়ায়িদ)

Hope
17 665
🌸সিরিজ: রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম.... 🍁পর্ব: ২.১ (রাসূল ﷺ এর সত্যবাদিতা) বুখারীতে বর্ণিত হয়েছে, রাসূল ﷺমাত্র মদীনায় হিজরত করে এসেছেন, বদরের যুদ্ধের আগের উত্তপ্ত পরিস্থিতি। মদীনার নেতৃস্থানীয় সাহাবী হযরত সা‘দ ইবনে মুআয রা. উমরার উদ্দেশ্যে মক্কায় গেলেন। মক্কা-মদীনার মাঝে আগে থেকেই যোগাযোগ ছিল, আসা-যাওয়া ছিল, তাদের মাঝে পরিচয়ও ছিল। সা‘দ ইবনে মুআয রা. যখন মক্কায় যেতেন তখন মক্কার সরদার উমাইয়া ইবনে খালাফের বাড়িতে মেহমান হতেন। উমাইয়া ইবনে খালাফ যখন ব্যবসার উদ্দেশ্যে শামের দিকে যেত, তখন মদীনায় এলে সা‘দ ইবনে মুআয রা.-এর বাড়িতে মেহমান হত। জাহেলী যুগ থেকেই এটা ছিল। তো সা‘দ ইবনে মুআয রা. উমরার উদ্দেশ্যে মক্কায় গিয়েছেন, কা‘বা শরীফ তাওয়াফ করতে হবে। কিন্তু কা‘বা চত্বরে গিয়ে তাওয়াফ করবেন কীভাবে? তাঁরা মদীনার মুসলিম। মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও মুহাজির সাহাবায়ে কেরামকে আশ্রয় দিয়েছেন। মক্কার কাফির নেতাদের চোখে তো এরা বড় অপরাধী। উমাইয়া ইবনে খালাফ বলল, অপেক্ষা করুন, দুপুরবেলায় প্রখর রৌদ্রের কারণে লোকজন কা‘বার চত্বরে থাকে না, নিজ নিজ ঘরে থাকে। ঐ সময় কা‘বা চত্বর ফাঁকা থাকে, তখন আপনি গিয়ে তাওয়াফ করে আসবেন। সা‘দ ইবনে মুআয রা. সেভাবেই দুপুরবেলা তাওয়াফ করতে বের হলেন। গিয়েছেন নিরিবিলি তাওয়াফ করবার জন্য, তাওয়াফ করছেন, এমতাবস্থায় দেখা হয়ে গেল একেবারে আবু জেহেলের সাথে। আবু জেহেল সা‘দ ইবনে মুআয রা.-কে দেখে বলে উঠল- কে রে এখানে কা‘বার তাওয়াফ করে? সা‘দ ইবনে মুআয রা. বললেন- আমি সা‘দ। আবু জেহেল বলল, -উত্তেজিত হয়ে- বাহ! কী নিরাপদে কা‘বা শরীফের তাওয়াফ করছ! অথচ তোমরা মদীনার লোকেরা মুহাম্মাদ ﷺ ও তার সঙ্গীদের আশ্রয় দিয়েছ! এভাবে তর্ক-বিতর্ক শুরু হয়ে গেল। উমাইয়া ইবনে খালাফ সা‘দ ইবনে মু‘আয রা.-কে থামাতে চেষ্টা করে আর বলে-. সা‘দ! আবুল হাকামের আওয়াজের উপরে তোমার আওয়াজ উচুঁ করো না। তিনি এই মক্কা উপত্যকার সরদার! একটু আস্তে কথা বল। আস্তে কথা বল। কয়েকবার যখন উমাইয়া হযরত সা‘দ রা.-কে থামাবার চেষ্টা করল, সা‘দ রা. বিরক্ত হলেন। বিরক্ত হয়ে উমাইয়া ইবনে খালাফকে লক্ষ করে বললেন_ এখন আবুল হাকামের পক্ষ নিচ্ছ? কুফরের এই নেতার পক্ষে ওকালতি করছ? এই পথে তোমার পরিণাম কী হবে সেটা চিন্তা করেছ? আমি তো মুহাম্মাদ ﷺ কাছে শুনেছি যে, তিনি তোমাকে হত্যা করবেন। এই কথা শুনে উমাইয়া ইবনে খালাফ আতঙ্কিত হয়ে বলে উঠল- আমাকে? সা‘দ ইবনে মুআয রা. বললেন, হাঁ। তখন উমাইয়া ইবনে খালাফের আতঙ্কিত বাক্য- ওয়াল্লাহ! মুহাম্মাদ যখন কিছু বলেন তা মিথ্যা হয় না।’ উমাইয়া অস্থির হয়ে বাড়ি ফিরল। বাড়ি এসে বউকে বলল, শুনেছ, আমার ইয়াসরিবী ভাই কী বলেছে? বউ বলল, কী বলেছে? উমাইয়া বলল, সে নাকি মুহাম্মাদকে ﷺ শুনেছে যে, তিনি আমাকে হত্যা করবেন। একথা শুনে স্ত্রীও বলে উঠল- আল্লাহর কসম! মুহাম্মাদ কখনো মিথ্যা বলেন না। (দ্র. সহীহ বুখারী, হাদীস ৩৬৩২) আপনারা যদি বদরের যুদ্ধের ঘটনা পড়ে থাকেন তাহলে লক্ষ করেছেন যে, বদরের যুদ্ধের সময় মক্কার সর্দারেরা যখন মুসলমানদের শেষ করার জন্য প্রচণ্ড দর্পের সাথে মক্কা থেকে বের হচ্ছিল তখন উমাইয়া ইবনে খালাফের স্ত্রী স্বামীকে বলল, তুমি কি ভুলে গেছ, তোমার ইয়াসরিবী ভাই কী বলেছিল? স্ত্রীর এই কথা উমাইয়ার মনে এতই প্রভাব বিস্তার করল যে, সে নানা ফন্দি-ফিকির করতে লাগল, কোনোভাবে যদি বদরের ময়দানে না যাওয়া যায়, কোনোভাবে যদি এড়িয়ে যাওয়া যায়। অন্যরা বের হয়েছে, সে এই আসছি, এই বের হচ্ছি ইত্যাদি বলে ঘরে বসে আছে, সবাই যখন বের হয়ে গিয়েছে তখন আবু জেহেল দেখে, উমাইয়া ঘরে বসে আছে। সে এসে তাকে লজ্জা দিল, উত্তেজিত করল। নানা কথা বলার পরে উমাইয়া উত্তেজিত হয়ে মক্কা থেকে বের হল। কিন্তু বের হলেও সঙ্গে দুইটা সওয়ারি- একটাতে সে সওয়ার, আরেকটা সঙ্গে খালি। যেখানেই কাফেলা যাত্রাবিরতি করে, উমাইয়া পেছনে পেছনে থাকে এবং দ্বিতীয় সওয়ারিটা প্রস্তুত রাখে। কোনো বিপদ হলেই, যেন তাজাদম সওয়ারিতে লাফিয়ে চড়ে সোজা মক্কায় ফিরতে পারে। কিন্তু মানুষ যতই ব্যবস্থা নিক, আল্লাহর ফয়সালা রদ করতে পারে না। দেখুন উমাইয়াও ঘরে বসে থাকতে পারেনি। সে ভীত-সন্ত্রস্ত হয়েছে, মৃত্যুর আশঙ্কা করেছে, মৃত্যু থেকে পলায়নের ব্যবস্থাও নিয়েছে, কিন্তু এরপরও পায়ে পায়ে মৃত্যুর দিকেই এগিয়ে গেছে। বদরের ময়দানে অধিকাংশ কাফির নেতার ধ্বংস হওয়াই ছিল আল্লাহ ফয়সালা। কাজেই ধ্বংসের জন্য তাদের এখানে আসতেই হবে। আল্লাহ পরিস্থিতি তৈরি করে দিয়েছেন, ওরাও প্ররোচিত হয়ে নিজেদের ধ্বংসের দিকেই ছুটে গিয়েছে। চিন্তা করলে আল্লাহর নাফরমানদের জন্য কত বড় শিক্ষা আছে এখানে! রাসূল ﷺ সত্যবাদিতার ব্যাপারে, তাঁর যবানে মোবারক থেকে বের হওয়া প্রতিটি বাক্যের ব্যাপারে তাঁর দুশমনেরও বিশ্বাস কীরূপ ছিল! এই তাঁর সীরাত; তাঁর জীবনটি এভাবেই কেটেছে; তাঁর কথা ও কাজ এমন ছিল যে, তাঁর জাতি তাঁর সত্যবাদিতার ব্যাপারে সম্পূর্ণ নিঃসংশয় ছিল। মুসলিম উম্মাহ কর্তব্য, এই বৈশিষ্ট্য অর্জনের চেষ্টা করা।

Hope
17 665
আজকের সেমিনারে Mohammad Sorowar Hossain স্যার কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ অনেক কথা বলেছেন ক্যারিয়ার নিয়ে৷ তার একটা কথা আপনাদের সামনে তুলে ধরি৷ তিনি বলেছেন, 'বিবাহ ক্যারিয়ারের সাথে সম্পৃক্ত গুরুত্বপূর্ণ একটা বিষয়। যদি জীবনসঙ্গী সহযোগী মনোভাবের না হয়, তাহলে কারো পক্ষে কখনোই ভালো গবেষক হওয়া সম্ভব নয়। কারণ সাংসারিক ঝগড়াঝাঁটি আর মনোমালিন্য নিয়ে আর যাই হোক, গবেষণার কাজ হয় না। তিনি নিজের কথা তুলে ধরে বলেন, আমার সহধর্মিনী সহযোগী মনোভাবের বলেই আজ আমার পক্ষে নিশ্চিন্তে গবেষণার কাজ করা সম্ভব হচ্ছে। আমার বইপত্র আর রিসার্চের পেছনে তার অবদান অনস্বীকার্য।' কাছাকাছি ধরনের কথা মুফতি তকি উসমানী সাহেবের থেকেও বর্ণিত আছে। এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটা বিষয়। দেখবেন, যারাই গবেষণামূলক বা প্রোডাক্টিভ অনেক কিছু করছে, তাদের সংসার জীবনে অশান্তি নাই বা খুবই কম। সেজন্য বিয়ের আগে অনেক ভেবেচিন্তে খোঁজখবর নিয়ে সম্বন্ধ করা উচিত। যেন পরবর্তী জীবনে কোন হ্যাসেল পোহাতে না হয়। - আব্দুল্লাহ আল মাসদু 🌸ছবির নিউজের বিষয়- স্বামী ব্যবসায় লস আর ঋণের চাপে আত্নহত্যা করেছে। জানি না কার দোষ কি বা কার, তবে মত্যুর আগের কথায় বোঝা যায় পরিবার নিয়ে অনেক বেশি চিন্তিত ছিলো। ফেসবুকে কিছু গ্রুপের মডারেটর থাকার কারণে বোনদের সন্তান লালন পালনের কষ্ট নিয়ে পোস্ট দেখেছি, স্বামী বা কারো সার্পোট ছাড়া সদ্য নবজাতককে নিয়ে অসম্ভব রকম কষ্ট নিয়ে আর উপায় না চেয়ে পরামর্শ চাচ্ছেন। দেখুন, দিন শেষে স্বামী বা স্ত্রীর কষ্টের অন্যতম সুকুনের জায়গা তার জীবনসঙ্গী। ঋণের বোঝা হোক বা পারিবারিক ঝামেলা, একলা কখনোই সামলানো সম্ভব না। কষ্টের বিশাল একটা জীবনসঙ্গীর কাধে না নিলে দিন শেষে একটা দূর্ঘটনা ঘটবে। স্বামীর আয় নেই; বেচারা অমানুষিক যন্ত্রণা নিয়ে বাসায় ফেরার পর যদি স্ত্রীর কাছেও কটু কথার স্বীকার হয় তাহলে মানুষটা যাবে কোথায়। কিংবা সারাদিন বাচ্চাদের অমানুষিক যন্ত্রণা সহ্য করার স্বামী আসলে যদি একটু রেস্ট না পায় তাহলে সে সুকুন পাবে কোথায় কিংবা পারিবারিক ঝামেলায় সবার বাজে কথা শোনার পর যদি জীবনসঙ্গীর ও বাজে কথা শুনতে হয় তাহলে এই অশান্তির কোনো শেষ আছে? উপরের মাসুদ ভাইয়ের উদাহরণটার পাশে আরেকটা উদাহরণ দিই। রকমারির সোহাগ ভাই এর একটা আলোচনা সরাসরি ছিলাম, সেখানে উনি বলেছিলেন বাসায় গিয়ে উনি কখনোই ফোন ধরেন না। স্ত্রীর পুরোটা সময় পুরোটাই স্ত্রীর, ভিডিও লিংক দিয়ে দিচ্ছি, জানি না এই অংশটা ভিডিওতে আছে কিনা তবু দেখতে পারেন- https://t.me/islamicpodcastBN/2970 🌸যারা অবিবাহিত তারা বেশি বেশি দুআ করবেন। নিজের জন্য যেন ভালো জীবনসঙ্গী হতে পারেন, আবার জীবনসঙ্গীর জন্যও...বর্তমান পরিস্থিতি একজন নেককার জীবনসঙ্গী পাওয়ার জন্য দুআর বিকল্প নেই৷

Hope
17 665
photo content

Hope
17 665
নিশ্চয় যমীনের উপর যা কিছু আছে আমরা সেগুলোকে তার শোভা করেছি, মানুষকে এ পরীক্ষা করার জন্য যে, তাদের মধ্যে কাজে কে শ্ৰেষ্ঠ। তাফসীর;মহান আল্লাহ বলেনঃ “দুনিয়া ধ্বংসশীল। এর শোভা সৌন্দর্য নষ্ট হয়ে যাবে। আর আখেরাত বাকী থাকবে। এর নিয়ামত চিরস্থায়ী।” রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেছেনঃ “দুনিয়া হচ্ছে মিষ্ট, সবুজ রঙ বিশিষ্ট। আল্লাহ তাতে তোমাদেরকে প্রতিনিধি বানিয়ে দেখতে চান, তোমরা কেমন আমল কর। সুতরাং তোমরা দুনিয়া হতে ও স্ত্রীলোকদের হতে বেঁচে থাকো।" বান্ ইসরাঈলের সর্বপ্রথম ফিত্রা ছিল নারীদের ফিত্না। এই দুনিয়া শেষ হয়ে যাবে এবং নষ্ট হয়ে যাবে। দনিয়ার ধ্বংস অনিবার্য। যমীন পতিত পড়ে থাকবে। তাতে কোন প্রকারের উদ্ভিদ থাকবে না। যেমন অন্য আয়াতে রয়েছেঃ “মানুষ কি লক্ষ্য করে না যে, আমি অনাবাদী পতিত ভূমিতে পানি জমিয়ে থাকি? অতঃপর তা থেকে তারা ভূমিতে সেচন করে থাকে, তারা নিজেরা পান করে এবং তাদের পশুগুলিকে পান করিয়ে থাকে? তবুওকি তাদের চক্ষু খুলবে না?” যমীন ও যমীনে যা কিছু আছে সবই ধ্বংস হয়ে যাবে এবং সবকেই প্রকৃত মালিকের সামনে হাযির করা হবে। সুতরাং হে নবী (সঃ)! তুমি তাদের কাছে যা-ই শুননা কেন এবং তাদেরকে যে কোন অবস্থায় দেখো না কেন, মোটেই দুঃখ ও আফসোস করো না।

Hope
17 665
photo content

Hope
17 665
🌸সিরিজ: রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম.... 🍁পর্ব: ২ (রাসূল ﷺ এর সত্যবাদিতা) - মাওলানা মুহাম্মাদ যাকারিয়া আব্দুল্লাহ 🍀সহীহ বুখারীতে এক অসাধারণ ঘটনা আছে। আল্লাহ্র রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উপর যখন প্রথম ওহী নাযিল হল এবং তিনি ভীত-সন্ত্রস্ত হয়ে বাড়ি ফিরলেন ঐ সময় উম্মুল মুমিনীন হযরত খাদীজা রা. যে কথাগুলো বলে তাঁকে সান্ত¡না দিয়েছেন, তা তাঁর উন্নত কর্ম ও চরিত্রের এক অসাধারণ সনদ। আম্মাজানের কথাগুলো সহীহ সনদে, সহীহ বুখারীতে বর্ণিত হয়েছে। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উম্মুল মুমিনীন খাদীজা রা.-এর কাছে আশঙ্কা ব্যক্ত করে বলেছিলেন-আমি আজ যে অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হয়েছি, এতে আমার প্রাণের আশংকা হচ্ছে। উম্মুল মুমিনীন তাঁকে সান্ত¡না দিয়ে বললেন-না, এ হতেই পারে না। আপনি সুসংবাদ গ্রহণ করুন! আল্লাহ পাক কখনো আপনাকে অপদস্থ করবেন না, (আল্লাহ পাক তো আপনাকে সম্মানিত করবেন,) কারণ আপনি আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষা করেন, সত্য কথা বলেন, অন্যের ভার বহন করেন, মেহমানদারী করেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগে মানুষের পাশে দাঁড়ান- (এইসকল গুণের অধিকারী যিনি, তাকে আল্লাহ পাক সম্মানিত করবেন, তাকে তিনি কখনো অপদস্থ করবেন না।) -সহীহ বুখারী, হাদীস ৬৯৮২ এখানে হযরত খাদীজা রাযিআল্লাহু আনহা, যিনি এই মানুষটির সাথে ইতিমধ্যে পনের বছরের দাম্পত্য জীবন কাটিয়েছেন, তাঁর সনদ-আপনি সত্য কথা বলেন।’ 🍀আরেকটি দৃষ্টান্ত : দাওয়াতের প্রথম দিকের ঐ ঘটনা তো আমাদের সবারই জানা আছে। সাফা পাহাড়ের ঘটনা। সহীহ বুখারীতে হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রা.-এর সূত্রে বর্ণিত হয়েছে যে, (কুরআন মাজীদে নিকটাত্মীয়দের দাওয়াতের আদেশ নাযিল হওয়ার পর) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাফা পাহাড়ে উঠলেন এবং উচ্চস্বরে বললেন, ‘ইয়া সাবাহাহ্!’ অর্থাৎ বিপদ! বিপদ! কুরাইশের লোকেরা পাহাড়ের সামনে উপস্থিত হল। তিনি তাদের লক্ষ্য করে বললেন- আমি যদি তোমাদের বলি যে, একটি শত্রুদল এই পাহাড়ের ওপার থেকে তোমাদের উপর আক্রমণ করবে তোমরা কি আমার কথা বিশ্বাস করবে? সকলে বলল- আমরা আপনাকে কখনো মিথ্যা বলতে দেখিনি। তখন তিনি বললেন, আমি তোমাদের জন্য এক কঠিন আযাবের আগের সতর্ককারী। ...সহীহ বুখারী, হাদীস ৪৯৭১ এই ঘটনায় অনেকগুলো বিষয় রয়েছে। তবে এখানে প্রাসঙ্গিক বিষয়টি হচ্ছে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সম্পর্কে তার জাতির সাক্ষ্য- আমরা কখনো আপনাকে মিথ্যা বলতে দেখিনি। 🍀আরেক দৃষ্টান্ত ইমাম বুখারী রাহ. সহীহ বুখারীতে হিরাক্লিয়াসের সাথে আবু সুফিয়ানের সাক্ষাৎ ও কথোপকথনের বিখ্যাত ঘটনা বর্ণনা করেছেন, আবু সুফিয়ান তখনো ইসলাম কবুল করেননি। তিনি ব্যবসার উদ্দেশ্যে শামে গিয়েছিলেন। শাম ঐ সময় বাইজেন্টাইন সাম্রাজ্যের অধীনে ছিল, সম্রাট কোনো কারণে শামে অবস্থান করছিলেন। রাসূলে কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আগমনের সংবাদ তার নিকট পৌঁছেছিল। তিনি বিষয়টি সম্পর্কে আরো জানতে চাচ্ছিলেন। তো আদেশ দিলেন, এখানে যদি আরবের কেউ থাকে তাকে আমার কাছে নিয়ে আস, আমি আরবের নবী সম্পর্কে কিছু জানতে চাই। আবু সুফিয়ান শামে ছিলেন, তাকে হিরাক্লিয়াসের সামনে হাজির করা হল। হিরাক্লিয়াস অনেকগুলো প্রশ্ন করলেন। এর মধ্যে একটি প্রশ্ন ছিল- তিনি নবুওতের দাবি করার আগে তোমরা কি কখনো তাকে মিথ্যাকথনে অভিযুক্ত  করেছ? আবু সুফিয়ান বলেন, আমি উত্তরে বললাম, না, এমন অভিজ্ঞতা আমাদের কখনো হয়নি; আমরা তাকে মিথ্যাবাদিতার অভিযোগে অভিযুক্ত করতে পারিনি। হিরাক্লিয়াস যে বিষয়গুলো জানতে চেয়েছিলেন সে সম্পর্কে আবু সুফিয়ানের উত্তর শোনার পর তিনি নিজেই একে একে সেই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো বিশ্লেষণ করেছেন। সত্যবাদিতা সংক্রান্ত প্রশ্নের ব্যাপারে বললেন, আমি তোমাকে জিজ্ঞাসা করেছি, তোমরা কি তাকে নবুওত দাবির আগে মিথ্যাবাদিতার অভিযোগে অভিযুক্ত করতে পেরেছ? তুমি বলেছ, অভিযুক্ত করতে পারোনি। এ থেকে আমি বুঝতে পেরেছি, তিনি সত্য নবী। কারণ যে ব্যক্তি মানুষের ব্যাপারে মিথ্যা বলেন না, তিনি আল্লাহ্র ব্যাপারেও মিথ্যা বলতে পারেন না। পুরো কথোপকথনটি সহীহ বুখারীতে (হাদীস নং ৭) আছে। যে কেউ তা দেখে নিতে পারেন। এটি হচ্ছে তাঁর সম্পর্কে এমন এক ব্যক্তির সাক্ষ্য, যিনি ঐ সময় পর্যন্ত তাঁর প্রাণের দুশমন ছিলেন এবং তার মর্যাদাহানীর সুযোগ খুঁজছিলেন।

Hope
17 665
Wa alaikumus salam wr আন নূর (@ayatannur) নামের তাফসীর চ্যানেলটা আমাদের। এটার সব তাফসীর বিশেষ করে সূরা বাকারার সব তাফসীরে জাক
Wa alaikumus salam wr আন নূর (@ayatannur) নামের তাফসীর চ্যানেলটা আমাদের। এটার সব তাফসীর বিশেষ করে সূরা বাকারার সব তাফসীরে জাকারিয়া থেকে। আমাদের দুটো টিম ছিলো, একটা ভাইদের, আরেকটা বোনদের। ভাইদের টিমের সবাই ব্যস্ততায় আর নেই। বোনদের ও সম্ভবত কেউই নেই। তাফসীরটা সরাসরি উনারা দেখতেন, তবে মাহরাম অনুপস্থিত সহ সবার ব্যস্ততায় আর আগায়নি। ইবনে কাসীর থেকে খুব কম দেয়া হয়। ব্যাক্তিগত ভাবে আমি যা পড়ি তা হয়ত টুকটাক শেয়ার করি। আজকাল আমি একলা যা পারি তা শেয়ার করি। হয়ত অফিসে কাজের ফাকে একটু কোনো অডিও শুনছি, অডিও চ্যানেলে দিই। ভালো আর্টিকেল পড়ছি তা শেয়ার করি এইতো... সম্ভবত ব্যাক্তিগত গুনাহ বেড়ে গিয়েছ , তাই আল্লাহ নেক কাজের তাওফিক ছিনিয়ে নিয়েছেন। আল্লাহ মাফ করুক, দুআ করে দিন, আল্লাহ ব্যাক্তিগত সার্মথ্য বাড়িয়ে দিক অথবা ভালো টিমের ব্যবস্থা করে দিক, আমীন৷ @a_teardrop

Hope
17 665
🌸সিরিজ: রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম.... 🍁পর্ব: ১ (রাসূল ﷺ এর বিনয়) আমাদের নবীজী ছিলেন অনেক বিনয়ী। তাঁর সব কিছু ছিল সাধারণ। সাধাসিধে জীবন যাপন করতেন। অন্যদের থেকে আলাদা হয়ে থাকা পছন্দ করতেন না। যখন মসজিদে থাকতেন সাহাবায়ে কেরামের সাথে এমনভাবে বসতেন যে, অপরিচিত কেউ এলে জিজ্ঞেস করতে হত- তোমাদের মধ্যে মুহাম্মাদ কে? (সহীহ বুখারী, হাদীস ৬৩) বড় বড় সাহেবেরা ও ধনীরা নিজ পরিবারের সাথেও কেমন আচরণ করে; ঘরে এসেও ভাবটা এমন যে, আমি অমুক অফিসার, তমুক জমিদার। কিন্তু আমাদের নবীজী ঘরে এলেও সাধারণভাবে থাকতেন। নিজের কাজ নিজেই করতেন। কাপড়ে তালি লাগাতেন। বকরির দুধ দোহন করতেন। জুতা ছিঁড়ে গেলে নিজেই তা ঠিক করতেন। আম্মাজান আয়েশা রা.-কে একবার জিজ্ঞেস করা হল, নবীজী ঘরে কী করতেন? তিনি উত্তরে বললেন- তিনি পরিবারের কাজে সহযোগিতা করতেন। (সহীহ বুখারী, হাদীস ৬৭৬) দেখেছ, আমাদের নবীজী এত বড় হয়েও ঘরের কাজে সহযোগিতা করতেন! তোমরা কি আম্মুকে সহযোগিতা কর ঘরের কাজে? না করলে এসো, আজ থেকে প্রতিজ্ঞা করি, এখন থেকে সবসময় ঘরের কাজে আম্মুকে সহযোগিতা করব। পানি এগিয়ে দেব। ঘর ঝাড়– দেব। রান্নাঘরের কাজে সাহায্য করব। বাজার থেকে কিছু এনে দিতে বললে খুশি মনে এনে দেব এবং যথাসম্ভব নিজের কাজ নিজেই করার চেষ্টা করব। নবীজী যেমন আল্লাহর প্রেরিত নবী ছিলেন তেমনি ছিলেন শাসক। মদীনা রাষ্ট্রের শাসনকার্য পরিচালনা করতেন তিনি। মানুষের সমস্যার সমাধান করতেন। অপরাধীদের বিচার করতেন। অসহায়দের পাশে দাঁড়াতেন। তবে নবীজী এক্ষেত্রেও ছিলেন বিনয়ী শাসক। অন্যান্য শাসকদের মত তার ভয়ে সবাই কাঁপতে থাকুক- তিনি তা পছন্দ করতেন না। আবু মাসউদ রা. বলেন, এক লোক নবীজীর সাথে কথা বলতে এল। তখন ভয়ে সে কাঁপছিল। নবীজী বললেন, শান্ত হও। আমি কোনো রাজা-বাদশা নই। আমি একজন সাধারণ নারীর সন্তান। (সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদীস ৩৩১২) অনেক সময় কোনো কোনো বেদুঈন এসে নবীজীর সাথে অসৌজন্যমূলক আচরণ করে বসত। নবীজী সেগুলো হাসিমুখেই সহ্য করতেন। হযরত আনাস রা. বলেন, একদিন আমি নবীজীর সাথে হাঁটছিলাম। তাঁর গায়ে ছিল মোটা পাড়ের নাজরানী চাদর। হঠাৎ এক বেদুঈন এসে প্রচ- জোরে চাদর টান দিল। আমি দেখলাম, জোরে টান দেওয়ার কারণে নবীজীর কাঁধে চাদরের পাড়ের দাগ বসে গেছে। এরপর বেদুঈন লোকটি বলল, তোমার কাছে আল্লাহর যে সম্পদ রয়েছে তা থেকে আমায় দিতে বল। দেখেছ, নবীজীর কাছে সম্পদ চাইতে এল লোকটি। এক্ষেত্রে তো নরমভাবে বিনয়ের সাথে কথা বলা উচিত। আর সে কি না করে বসল এমন এক আচরণ। আমি তুমি হলে কী করতাম তখন? নিশ্চই জোরে একটা ধমক বা চড় দিতাম। কিংবা শাসন করে তাড়িয়ে দিতাম। শাসক বলে কথা! কিন্তু নবীজী এমন কিছুই করলেন না। তিনি তো আর অন্যান্য শাসকদের মত ছিলেন না। বেদুঈনের দিকে তাকিয়ে মুচকি হাসি দিলেন এবং বাইতুল মাল থেকে তাকে কিছু দিয়ে দিতে বললেন। (সহীহ বুখারী, হাদীস ৩১৪৯; সহীহ মুসলিম, হাদীস ১০৫৭) মনে কর তুমি রাস্তা দিয়ে হাঁটছ। হঠাৎ দেখা হল কোনো মানসিক বিকারগ্রস্ত লোকের সাথে। মাথায় সমস্যা। কেমন সব অদ্ভুত আচরণ করে। তোমাকে ডাক দিয়ে কোনো প্রয়োজনের কথা বলল। তখন কী করবে তুমি? নিশ্চয়ই ঝামেলা ভেবে এড়িয়ে যেতে চাইবে। ভাববে, ওর কথা শুনলেই কি আর না শুনলেই কি। আমার কিছু আসে-যায়! কিন্তু আমাদের নবীজী এমন লোকদের সাথেও অনেক সুন্দর ও বিনয়ের আচরণ করতেন। হযরত আনাস রা. বলেন, এক মহিলা মানসিকভাবে একটু বিকারগ্রস্ত ছিল। সে নবীজীকে বলল, হে আল্লাহর রাসূল! আপনার কাছে আমার কিছু প্রয়োজন ছিল। নবীজী তখন বললেন, হে অমুকের মা! বল, তোমার প্রয়োজন পূরণের জন্য কোথায় যেতে হবে? নবীজী তখন মহিলার প্রয়োজন পূরণ করে দেন। (সহীহ মুসলিম, হাদীস ২৩২৬) নবীজী এক্ষেত্রে অন্য কাউকে পাঠাতে পারতেন। কিন্তু এমন না করে নিজেই গেলেন তার সাথে। কেমন বিনয়ী-সুন্দর আচরণ! একজন মানসিক সমস্যাগ্রস্তের সাথে যদি এমন আচরণ হয় তাহলে ভেবে দেখ অন্যদের সাথে কেমন আচরণ হবে? হযরত আবু উমামা রা. বলেন- রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অসহায়-দুর্বলদের সাথে গিয়ে তাদের প্রয়োজন পূরণ করে দিতেও অস্বীকৃতি জানাতেন না (এবং একে নিজের জন্য অসম্মানের মনে করতেন না)। (আলমুজামুল কাবীর, তবারানী, হাদীস ৮১০৩) আমাদেরও হতে হবে এমন বিনয়ী। নিজের কোনো সাফল্য দেখে কিংবা পার্থিব প্রাচুর্য লাভ করে গর্ব-অহংকারে ফুলে ওঠা যাবে না। বরং মাটির মানুষকে সবসময় থাকতে হবে মাটির মত বিনয়ী। বিনয়ী হলে কিন্তু আমাদেরই লাভ। মানুষ আমাদের ভালোবাসবে। বুকে টেনে নেবে। বিনয়ী মানুষকে সবাই ভালোবাসে। আল্লাহ তাআলাও ভালোবাসেন। আর অহংকারীকে সবাই ঘৃণা করে। বিনয় হল মানুষের মাথার মুকুট। যা শোভা ও সৌন্দর্য বাড়িয়ে অন্যদের চোখে তাকে করে তোলে শ্রদ্ধাশীল ও মর্যাদাবান।

Hope
17 665
দুআ কবুলের উত্তম সময় চলছে...