Hope
আল্লাহ আপনার দুনিয়ার কষ্ট দূর করে দিক, আখিরাত সহজ করে দিক, আমীন। প্রয়োজনে: @HopeDM আমাদের সব চ্যানেলঃ https://t.me/Hope24hours/1215 এনোনিমাস মেসেজ পাঠাতে: https://chithi.me/Hope24hours উত্তর: https://t.me/a_teardrop
إظهار المزيد📈 نظرة تحليلية على قناة تيليجرام Hope
تُعد قناة Hope (@hope24hours) في القطاع اللغوي البنغالي لاعباً نشطاً. يضم المجتمع حالياً 18 328 مشتركاً، محتلاً المرتبة 4 362 في فئة الدين والقيم الروحية والمرتبة 1 239 في منطقة بنغلاديش.
📊 مؤشرات الجمهور والحراك
منذ تأسيسه في невідомо، حقق المشروع نمواً سريعاً وجمع 18 328 مشتركاً.
بحسب آخر البيانات بتاريخ 03 سبتمبر, 2026، تحافظ القناة على نشاط مستقر. خلال آخر 30 يوماً تغيّر عدد الأعضاء بمقدار 590، وفي آخر 24 ساعة بمقدار 105، مع بقاء الوصول العام مرتفعاً.
- حالة التحقق: غير موثّقة
- معدل التفاعل (ER): يبلغ متوسط تفاعل الجمهور 7.54%. وخلال أول 24 ساعة من النشر يحصد المحتوى عادةً 3.00% من ردود الفعل نسبةً إلى إجمالي المشتركين.
- وصول المنشورات: يحصل كل منشور على متوسط 1 380 مشاهدة. وخلال اليوم الأول يجمع عادةً 549 مشاهدة.
- التفاعلات والاستجابة: يتفاعل الجمهور بانتظام؛ متوسط التفاعلات لكل منشور يبلغ 18.
📝 الوصف وسياسة المحتوى
يصف المؤلف القناة بأنها مساحة للتعبير عن الآراء الذاتية:
“আল্লাহ আপনার দুনিয়ার কষ্ট দূর করে দিক, আখিরাত সহজ করে দিক, আমীন।
প্রয়োজনে: @HopeDM
আমাদের সব চ্যানেলঃ https://t.me/Hope24hours/1215
এনোনিমাস মেসেজ পাঠাতে: https://chithi.me/Hope24hours
উত্তর:
https://t.me/a_teardrop”
بفضل وتيرة التحديث المرتفعة (أحدث البيانات بتاريخ 04 سبتمبر, 2026) تحافظ القناة على حداثتها ومستوى وصول مرتفع. وتُظهر التحليلات تفاعلاً نشطاً من الجمهور، ما يجعلها نقطة تأثير مهمة ضمن فئة الدين والقيم الروحية.
جاري تحميل البيانات...
| التاريخ | نمو المشتركين | الإشارات | القنوات | |
| 04 سبتمبر | +34 | |||
| 03 سبتمبر | +105 | |||
| 02 سبتمبر | +543 | |||
| 01 سبتمبر | +2 |
| 2 | দুআ কবুলের উত্তম সময় চলছে...
জাবের ইবনে আবদুল্লাহ (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে রাসুল (সা.) বলেন, জুমার দিনে এমন একটা সময়ে রয়েছে, যাতে আল্লাহর বান্দা আল্লাহর কাছে যা চায় আল্লাহ তাই দেন। অতএব তোমরা আছরের শেষ সময়ে তা তালাস করো। (আবু দাউদ, হাদিস : ১০৪৮, নাসাঈ, হাদিস : ১৩৮৯)
আবু হুরায়রা (রা.) বলেন, রাসুল (সা.) বলেছেন—
জুমার দিনে এমন একটি সময় আছে, সেই সময়টায় যদি কোনো মুসলিম নামাজ আদায়রত অবস্থায় থাকে এবং আল্লাহর কাছে কিছু চায়, আল্লাহ অবশ্যই তার সে চাহিদা বা দোয়া কবুল করবেন এবং এরপর রাসুল (সা.) তার হাত দিয়ে ইশারা করে সময়টির সংক্ষিপ্ততার ইঙ্গিত দেন।
(বুখারি, হাদিস : ৬৪০০)
আবদুল্লাহ ইবনে সালাম (রা.) বর্ণনা করেন, শুক্রবারে আছরের পর থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত দোয়া কবুল হয়। বিখ্যাত সিরাতগ্রন্থ যাদুল মাআ’দ-এ বর্ণিত আছে, জুমার দিন আছরের নামাজ আদায়ের পর দোয়া কবুল হয়। (যাদুল মাআ’দ : ২/৩৯৪)
ইমাম আহমদ (রহ.)-ও একই কথা বলেছেন। (তিরমিজির ২য় খণ্ডের ৩৬০ নং পৃষ্ঠায় কথাটি উল্লেখ আছে) | 337 |
| 3 | 🌸সিরিজ: রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম....
🍁পর্ব: ৩.৮ (সাহাবীদের আনুগত্য... )
সাহাবী আবু যর গিফারী রা. একদিন একটি ডোরাকাটা সুন্দর চাদর গায়ে জড়িয়ে ‘রাবায়া’ নামক স্থানে বসেছিলেন। পাশে ঠিক একই মানের ও একই রংয়ের চাদর গায়ে তার গোলামও বসেছিল। এটা দেখে গোত্রের লোকেরা বলল, ওই চাদরটি যদি আপনি লুঙ্গি হিসেবে পরিধান করতেন তবে সুন্দর লাগত। তাকে অন্য একটি কাপড় দিলেও তো চলত। আবু যর রা. বললেন, আমার একজন গোলাম ছিল, যাকে অনারব বলে একদিন কটুক্তি করেছিলাম। সে গিয়ে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম—এর কাছে অভিযোগ করল। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে ডেকে বললেন, ‘ হে আবু যর! তোমার মাঝে এখনও জাহেলিয়াতের রেশ রয়ে গেছে। যাদেরকে আল্লাহ তোমাদের অধীন করেছেন, তারা তোমাদেরই ভাই। অতএব তোমরা যা খাবে তাদেরও তাই খাওয়াবে, তোমরা যা পরবে তাদেরকেও তাই পরতে দিবে। সাধ্যাতীত কোনো কাজ তাদের উপর চাপাবে না। পছন্দ না হলে বিক্রি করে দাও তবুও আল্লাহর মাখলুককে কষ্ট দিও না। সহীহ বুখারী, হাদীস : ৩০; সুনানে আবু দাউদ, হাদীস : ৫১৫৮
হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রা. মসজিদে নববীতে ইতেকাফরত ছিলেন। এক আগন্তুক এসে সালাম দিয়ে তার সামনে বসল। আগন্তুকের চোখে—মুখে দুশ্চিন্তার ছাপ, কপালে পেরেশানির ভাজ। ইবনে আব্বাস রা. বললেন, তোমাকে এত বিমর্ষ দেখাচ্ছে কেন? আগন্তুক বলল, হে রাসূলুল্লাহর চাচাতো ভাই! অমুকের কাছে আমার কিছু ঋণ আছে। আর এই কবরে শায়িত মহামানবের ইজ্জতের কসম, তা আদায়ের সামর্থ্য আমার নেই। ইবনে আব্বাস রা. বললেন, আমি কি ঋণদাতার সঙ্গে তোমার ব্যাপারে কথা বলব? আগন্তুক সম্মতি দিলে তিনি জুতা পরে মসজিদ থেকে বের হতে উদ্যত হলেন। আগন্তুক বিস্ময়ভরা কণ্ঠে প্রশ্ন করল, জনাব! ইতেকাফের কথা কি ভুলে গেলেন? তিনি উত্তর দিলেন, না, ভুলিনি। এরপর অশ্রম্নসজল চোখে নবীজীর কবরের দিকে ইশারা করে বললেন, বেশি দিনের কথা নয়, আমি কবরে শায়িত মহামানবকে বলতে শুনেছি- যে তার ভাইয়ের কোনো প্রয়োজনে বের হয়ে তা পূরণ করল, তার এ আমল দশ বছরের ইতেকাফের চেয়েও উত্তম। তবারানী, আওসাত, হাদীস : ৭৩২২; শুআবুল ঈমান, হাদীস : ৩৯৬৫
হযরত আমর ইবনে হুবাইস রা. এবং হযরত হাসান—এর মধ্যে কিছুটা মনোমালিন্য ছিল। তারপরও হযরত হাসান অসুস্থ হলে তিনি তাকে দেখতে যান। এটা দেখে হযরত আলী রা. বললেন, তুমি হাসানের ইয়াদাত করতে এলে? আমর রা. বললেন, আপনি তো আমার প্রভু নন যে, আমার মনকে যেদিকে ইচ্ছা সেদিকে ঘুরিয়ে দিবেন? হযরত আলী রা. বললেন, তাই বলে আমি আমার উপদেশ পৌঁছাতে কার্পণ্য করব না। আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি, যে মুসলমান তার অসুস্থ ভাইকে দেখতে যায়, সত্তর হাজার ফেরেশতা তার জন্য সকাল হতে সন্ধ্যা অথবা সন্ধ্যা হতে সকাল পর্যন্ত রহমতের দুআ করতে থাকে। মুসনাদে আহমাদ ১/৯৭; মাজমাউয যাওয়াইদ ৩/১৩৪ | 468 |
| 4 | বেশী বেশী দুরুদ পড়ার সহজ পদ্ধতি! বৃহস্পতিবার মাগরিব থেকে শুক্রবার আসর পর্যন্ত মোট নামাজ পাঁচ ওয়াক্ত। প্রতি ফরজ নামাজ শেষে ১০০ বার করে দুরুদ শরিফ পড়লে হয় ৫০০ বার। আর মধ্যখানে সুযোগ পেলে ইচ্ছামত বেশী বেশী পড়ুন। এতে একহাজার বার অনায়াসে হয়ে যায়। অন্যান্য দিন দুরুদ পড়া ও জুমার দিনে দুরুদ পড়ার মাঝে একটু পার্থক্য আছে। জুমার দিন দুরুদ শরিফ পড়তে আদেশ দিয়েছেন স্বয়ং রাসুল ﷺ। আসুন, শুরু করি। অন্যকে স্মরণ করিয়ে দেই।সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম! আল্লাহুম্মা সাল্লি ওয়া সাল্লিম আলা মুহাম্মাদ! - Abdullah Al Monsur (Hafizahullah)
@hopedesigncloud | 621 |
| 5 | দোয়ার আশ্চর্য শক্তি দেখুন। রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন
لَا يَرُدُّ الْقَضَاءَ إِلَّا الدُّعَاءُ
দোয়া ছাড়া কিছুই তাকদীর বদলাতে পারে না।
ভাবুন! দোয়ার মাধ্যমে আল্লাহ তাআলা তাকদীর পর্যন্ত বদলে দেন। দোয়ার শক্তি এখানেই। এটাই দোয়ার মর্যাদা।
অন্যান্য ইবাদতের দিকে তাকান—নামাযে দুনিয়ার উদ্দেশ্য ঢুকলে সওয়াব নষ্ট, রোজায় লোক দেখানো ঢুকলে সব শেষ, হজে শো-অফ ঢুকলে আমল বরবাদ।
কিন্তু দোয়া ব্যতিক্রম! আপনি বললেন, 'হে আল্লাহ! আমাকে তাকওয়া দিন, জান্নাত দিন।' এটা ইবাদত।
আবার বললেন, 'হে আল্লাহ! আমাকে চাকরি দিন, বাড়ি দিন, গাড়ি দিন, টাকা দিন।' এটাও ইবাদত।
চাওয়া যাই হোক—দোয়া তো দোয়াই!
আল্লাহ নিজেই কুরআনে শিখিয়েছেন—
ربَّنَا آتِنَا فِي الدُّنْيَا حَسَنَةً....
'হে আমাদের রব! দুনিয়াতে কল্যাণ দিন, আখিরাতেও কল্যাণ দিন, জাহান্নামের আজাব থেকে বাঁচান।'
এরপর আল্লাহ বলেন, 'ওরাই তাদের আমলের পূর্ণ প্রতিদান পাবে।'
তাহলে বলুন, দুনিয়ার জন্য দোয়া করা কীভাবে খারাপ হয়?
দোয়া তো দোয়া! আল্লাহর দরবারে হাত তোলাই সবচেয়ে বড় সৌভাগ্য। দোয়ার বিউটি এখানেই।
#খুতুবাত | 889 |
| 6 | 🌸সিরিজ: রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম....
🍁পর্ব: ৩.৭ (সাহাবীদের আনুগত্য... )
🌸আজ সীরাতের জ্ঞান লাভ করা অনেক সহজ। হাতের কাছেই রয়েছে। সহীহ হাদীসের নির্ভরযোগ্য সংকলন। যাতে নবী আ.—এর শিক্ষা ও আদর্শ পূর্ণরূপে সংরক্ষিত রয়েছে। আরও আছে নবী আ.—এর জীবন বৃত্তান্তমূলক নির্ভরযোগ্য সীরাত—গ্রন্থ। কিন্তু আমরা সীরাতের জ্ঞান চর্চায় কতটুকু সময় ব্যয় করে থাকি? পক্ষান্তরে নবী—প্রেমিক সাহাবায়ে কেরামের অবস্থা দেখুন, তারা একটি হাদীসের সন্ধানে মাসের পর মাস সফর করতে থাকতেন। হযরত জাবের ইবনে আবদুল্লাহ রা. বলেন, এক ব্যক্তির ব্যাপারে আমি জানতে পারলাম যে, তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে কিসাস সম্পর্কিত একটি হাদীস শুনেছেন। হাদীসটি জানার জন্য একটি উট খরিদ করে বের হয়ে পড়লাম। এক মাসের দীর্ঘ সফর শেষে আমি সিরিয়ায় এসে পৌঁছাই। খোঁজ নিয়ে জানলাম, তিনি আবদুল্লাহ ইবনে উনাইস রা.। তার বাড়ির দরজায় গিয়ে দারোয়ানকে বললাম, তাঁকে গিয়ে বল জাবের দরজায় দাঁড়িয়ে আছে। শুনে ভিতর থেকে তিনি জিজ্ঞাসা করলেন, ইবনে আবদুল্লাহ? আমি বললাম, হ্যাঁ।
এ কথা শুনেই তিনি ঘর থেকে বের হয়ে এলেন। মুআনাকা ও সৌজন্য বিনিময় শেষে আমি বললাম, কিসাস সম্পর্কিত একখানা হাদীস নাকি আপনি নবীজী থেকে সরাসরি শুনেছিলেন। হাদীসটি শোনার আগেই আমি বা আপনি দুনিয়া থেকে বিদায় নেই কি না- এ কথা ভেবে আপনার কাছে এসেছি। তিনি তখন আমাকে হাদীসটি শুনিয়ে দিলেন। মুসতাদরাকে হাকেম ৫/৭৯৩—৭৯৪, হাদীস : ৮৭৫৪
হযরত আবু আইউব আনসারী রা. দীর্ঘ সফর করে মিসরে হযরত উক্ববা ইবনে আমের রা.—এর কাছে এলেন। এসেই বললেন, আমি ও আপনি বাদে ওই সময় নবীজীর দরবারে উপস্থিত ছিলেন এমন কেউই আজ জীবিত নেই। অতএব বলুন তো মুসলমান ভাইয়ের দোষত্রুটি অপরের কাছে প্রচার না করার ব্যাপারে আপনি কী শুনেছিলেন? তিনি বললেন, আমি নবীজীকে বলতে শুনেছি, যে ব্যক্তি দুনিয়াতে কারও ভুল—ত্রুটি ঢেকে রাখল, কিয়ামতের দিন আল্লাহও তার দোষ—ত্রুটি লুকিয়ে রাখবেন।’ হাদীসটি শোনার পর হযরত আবু আইউব রা. আর এক মুহূর্তও দাঁড়াননি। ঘোড়ার মুখ ঘুরিয়ে ফের রওনা হলেন মদীনার পথে।মুসনাদে আহমাদ ৪/১৫
খলীফাতুল মুসলিমীন হযরত ওমর রা. কোনো সমস্যার সম্মুখীন হলে জনসম্মুখে দাঁড়িয়ে ঘোষণা দিতেন, এ ব্যাপারে নবীজীর কোনো নির্দেশনা কারও জানা আছে কি না?আররিসালাহ, ইমাম শাফেয়ী ৪২৭
এগুলো হল সাহাবায়ে কেরামের সীরাত—চর্চার সামান্য কটি দৃষ্টান্ত।
🌸সাহাবায়ে কেরাম সীরাতের জ্ঞান লাভের জন্য যেমন কোনো ধরনের ত্যাগ স্বীকারে কুণ্ঠিত হননি তেমনি অর্জিত ইলম মানুষের নিকট পৌঁছাতেও কার্পণ্য করেননি। হযরত ওয়াবিসা রা. প্রতি ঈদুল আযহা ও ঈদুল ফিতরের দিনে ‘রাক্কা’ শহরের বড় মসজিদে দাঁড়িয়ে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম—এর বিদায় হজ্বের ভাষণের পুনরাবৃত্তি করে বলতেন, এসো। নবীজী যেমন আমাদের কাছে দ্বীন পৌঁছিয়েছেন তেমনি আমরা তোমাদের কাছে দ্বীনের বাণী পৌঁছে দেই। বাযযার কাশফুল আসতার, হাদীস : ১৪৫; মাজমাউয যাওয়াইদ ১/৩৫৭
সাহাবায়ে কেরামের অন্তরে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম—এর শিক্ষার অপরিসীম মর্যাদা ও গুরুত্ব থাকার কারণে তারা এই গুণের অধিকারীদেরকেও সম্মান করতেন। বিশেষত যার নিকট থেকে তারা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম—এর শিক্ষা গ্রহণ করতেন।
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম—এর ইন্তেকালের পর আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রা. একজন আনসারীকে ডেকে বললেন, আজ অনেক সাহাবী আমাদের মাঝে রয়েছেন। চল, তাদের কাছ থেকে ইলম অর্জন করি। আনসারী বলল, বড় বড় সাহাবীগণ জীবিত আছেন, তাদের ছেড়ে কে আমাদের কাছে হাদীস জানতে আসবে? ইবনে আব্বাস রা. বলেন, আমি তার কথায় কান দিলাম না এবং সাহাবায়ে কেরামের ঘরে ঘরে গিয়ে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম—এর হাদীস অন্বেষণ করতে লাগলাম। যার কাছেই কোনো হাদীস আছে বলে শুনতাম, তার বাড়িতেই যেতাম। কারও বাড়িতে এসে হয়তো দেখলাম, তিনি ঘুমিয়ে আছেন। আমি তখন চাদর বিছিয়ে দরজার সামনেই বসে পড়তাম। ধুলোবালি পড়ে আমার শরীর মলিন হয়ে যেত। সাহাবী ঘুম থেকে উঠে আমাকে দেখে চমকে উঠতেন এবং বলতেন, হে রাসূলের চাচাতো ভাই! আপনি কেন এসেছেন? খবর দিলেই তো আমি আপনার কাছে হাজির হতাম। আমি তখন বলতাম, জ্বী না। আমারই আপনার কাছে আসা উচিত। এভাবে তার কাছ থেকে হাদীসটি শিখে নিতাম। কিছুকাল পর ইলমে নববীর অন্বেষণে আমার চারপাশে অসংখ্য মানুষের ভিড় দেখে ওই আনসারী বলল, এই যুবক বড়ই বুদ্ধিমান। মুসতাদরাকে হাকেম ৩/৭৩
হযরত যায়েদ ইবনে সাবিত রা. যখন সফরের জন্য বাহনে পা রাখতেন তখন ইবনে আব্বাস রা. বাহনের রেকাব টেনে ধরতেন। হযরত যায়েত বলতেন, ছেড়ে দাও হে রাসূলের চাচাতো ভাই। কিন্তু ইবনে আব্বাস রা. বলতেন-আমরা আলেমদের সাথে এভাবেই সম্মান প্রদর্শনে আদিষ্ট হয়েছি। মাদখালে সুনানে কুবরা, বায়হাকী ১৩৭১৭ | 871 |
| 7 | ৮. আমি খেয়াল করে দেখলাম, প্রতিটি মানুষই কারও না কারও প্রতি আস্থা ও ভরসা রেখে চলে। বিপদে-আপদে, সুখে-দুঃখে যে কোনো অবস্থায় সে তার আস্থা ও ভরসার পাত্রের নিকট ছুটে যায়। সে মনে করে, আমার যে কোনো সমস্যা হলে অমুক আছে। তিনি সব সামলে নিবেন, সাহায্যের হাত বাড়িয়ে আমাকে উদ্ধার করবেন। অথচ আল্লাহ তাআলা বলেন,
আর যে ব্যক্তি আল্লাহর উপর ভরসা করে তার জন্যে তিনিই যথেষ্ট । আল্লাহ তাঁর কাজ পূর্ণ করবেন। আল্লাহ সবকিছুর জন্যে একটি পরিমাণ স্থির করে রেখেছেন। (সূরা ত্বলাক ০৩)
অতএব, আমি আল্লাহ তাআলার প্রতি আস্থা ও ভরসা রাখলাম। তিনিই আমার জন্য যথেষ্ট এবং তিনিই আমার উত্তম অভিভাবক।
শাকীক বলখী রহ. এতক্ষণ তম্ময় হয়ে শিষ্যের কথা শুনছিলেন। হাতিম আসাম রহ. থামতেই তিনি উঠে এসে শিষ্যকে জড়িয়ে ধরে বললেন,
- বারাকাল্লাহ বেটা, আল্লাহ তোমাকে এই পথে চলার তাওফীক দান করেন। সত্যি বলতে এই জীবনে আমি তাওরাত, ইনজিল, যাবূর আর কুরআনের যত ইলম হাসিল করেছি; তার আলোকে বলছি, দুনিয়াতে যত ভালো ও সাওয়াবের কাজ আছে তার সবই এই ৮ টি বিষয়ের মধ্যে রয়েছে। হলফ করে বলতে পারি, কেউ যদি এই ৮টি বিষয়ের ওপর আমল করে সে যেন সমস্ত আসমানী কিতাব অনুযায়ী আমল করলো।
[ইমাম গাযালী; ইহইয়াউ উলূমিদ্দীন, ১/৬৫,৬৬] | 878 |
| 8 | শাকীক বলখি রহ.। হিজরি ২য় শতকের খ্যাতনামা বুযুর্গ। যুহদ, তাকওয়া এবং ইবাদতে যিনি সময়ের সেরাদের একজন। দূর দূরান্ত থেকে লোকজন এসে শায়খের সান্নিধ্যে পড়ে থাকেন। এ যেন আসহাবুস সুফফার অনুসারী দল। এ দলেরই একজন হাতিম আসাম রহ.। উপনাম আবু আব্দির রহমান। ইমাম যাহাবির মতে হাতিম আসাম রহ.-কে বলা হয় এই উম্মাতের লুকমান হাকীম।
৩৩ বছর যাবত তিনি শায়খ শাকীক বলখির সান্নিধ্যে আছেন। প্রতিনিয়ত শিখছেন, নিজেকে ভেঙে নতুন করে গড়ছেন। একদিন শায়খের পক্ষ থেকে ডাক পড়লো হাতিম আসামের।
- আবু আব্দির রহমান! তোমার সাথে আমার এই পথ চলা কতদিনে গড়ালো?
- ৩৩ বছর।
- বলো কি! ৩৩ বছর?
- জ্বি, শায়খ!
- এই ৩৩ বছরে কী কী শিখলে?
- ৮ টি বিষয় শিখেছি, শায়খ!
- কয়টি ?
- ৮ টি।
- ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রজিউন! জীবনটা তো প্রায় তোমার সাথেই কেটে গেলো। আর তুমি কিনা মাত্র ৮ টি বিষয় শিখেছো? আফসোস!
- আসলে শায়খ আমি এই ৮ টি বিষয়-ই শিখেছি। এখন মিথ্যা বলা তো আর সম্ভব না।
- আচ্ছা, বলো দেখি কী সেই ৮ টি বিষয়, যা তুমি এতদিনে শিখলে।
- জ্বি, বলছি …
১. আমি লক্ষ্য করে দেখলাম প্রত্যেকেই কোনো না কোনো ব্যক্তি বা বস্তুকে ভালোবাসে। এর সাথে অন্তর জুড়ে দেয় কিন্তু মৃত্যু এসে তার আর তার প্রিয়তমের মধ্যে বিভাজন এঁকে দেয়, দু'জনকে আলাদা করে দেয়। কবরে সে তার প্রিয়কে পাশে পায় না। আমি তাই ভেবে চিন্তে নেক আমলকে ভালোবাসতে লাগলাম। এতে আমি যখন কবরে যাব, আমার ভালোবাসাও আমার সাথে যাবে। বিচ্ছেদের কোনো সুযোগ নেই।
২. আমি দেখলাম, কুরআনে আল্লাহ তাআলা বলেন,
আর যে ব্যক্তি তার পালনকর্তার সামনে দন্ডায়মান হওয়াকে ভয় করেছে এবং খেয়াল-খুশী থেকে নিজেকে নিবৃত্ত রেখেছে, তার ঠিকানা হবে জান্নাত। (সূরা নাযিয়া ৪০,৪১)
এই আয়াত পড়ার পর নিজ অন্তরকে প্রবৃত্তির আনুগত্য ছেড়ে আমি আল্লাহর অনুগত হতে বাধ্য করেছি।
৩. আমি দেখলাম, দুনিয়াতে প্রতিটি মানুষই পার্থিব প্রাচুর্য্যের পিছে ছুটছে। সম্পদ অর্জন, বৃদ্ধি আর সংরক্ষণ নিয়ে সবাই ব্যতিব্যস্ত। অথচ এদিকে আল্লাহ তাআলা বলেন,
তোমাদের কাছে যা আছে তা নিঃশেষ হয়ে যাবে এবং আল্লাহর কাছে যা আছে, তা বাকী (স্থায়ীভাবে) থাকবে। (সূরা নাহল ৯৬)
তাই আমার যাবতীয় অর্জন দুনিয়াতে না রেখে আল্লাহর (রাস্তায় তাঁর) কাছে জমা করে দিয়েছি যাতে আল্লাহর খাযানায় আমার বিশাল ধনভাণ্ডার সঞ্চিত থাকে।
৪. আমি লক্ষ্য করে দেখলাম, নশ্বর এই দুনিয়ায় প্রত্যকেরই গর্ব-দম্ভের কিছু না কিছু আছে। কেউ সম্পদ নিয়ে গর্ব করে তো কেউ বংশ মর্যাদা নিয়ে দম্ভ প্রকাশ করে। কেউ শক্তি সামর্থ্য নিয়ে গর্ব করে তো কেউ নেতৃত্ব কর্তৃত্ব নিয়ে দম্ভ করে বেড়ায়। অথচ আল্লাহ তাআলা বলেন,
নিশ্চয়ই তোমাদের মধ্যে যে অধিক তাকওয়াবান (আল্লাহভীরু), সেই আল্লাহর নিকট অধিক মর্যাদাবান। (সূরা হুজরাত ১৩)
অতএব আল্লাহ তাআলার নিকট মর্যাদাবান হওয়ার লক্ষ্যে আমি তাকওয়াকে বেছে নিলাম।
৫. আমি গভীর উদ্বেগ নিয়ে লক্ষ্য করলাম, মানুষ একে অপরের নিন্দা করে বেড়ায়। অন্যের অর্জনের প্রতি ঈর্ষা আর প্রতিহিংসাপরায়ন হয়ে ওঠে। এর মূল কারণ হলো সম্পদ, প্রাচুর্য্য ও বিদ্যার তারতম্য। অথচ আল্লাহ তাআলা বলে দিয়েছেন,
আমি পার্থিব জীবনে তাদের মধ্যে তাদের জীবিকা বন্টন করে দিয়েছি এবং একের মর্যাদাকে অপরের উপর উন্নীত করেছি। (সূরা যুখরুফ ৩২)
এই আয়াত আমাকে বুঝিয়ে দিয়েছে যে, পার্থিব জীবনের সবকিছু আল্লাহ তাআলা কর্তৃক নির্ধারিত। তাই আমি অন্যের প্রতি হিংসা, বিদ্বেষ, আক্ষেপ ও ঈর্ষা বাদ দিয়ে তাকদীরের ফায়সালার প্রতি সন্তুষ্ট থাকার চেষ্টায় আছি।
৬. আমি দেখলাম, দুনিয়াতে প্রায় প্রতিটি মানুষেরই কারও না কারও সাথে শত্রুতা আছে। প্রত্যেকেই নিজ নিজ শত্রুর ব্যাপারে খুব সতর্ক। শত্রুকে ঘায়েল করার ফন্দিতে ব্যস্ত। অথচ আল্লাহ তাআলা বলেন,
নিশ্চয়ই শয়তান তোমাদের শত্রু, অতএব তোমরা তাকে শত্রু রূপেই গ্রহণ কর। (সূরা ফাতির ০৬)
তাই সমস্ত সৃষ্টির সাথে শত্রুতা ত্যাগ করে একমাত্র শয়তানের বিরুদ্ধে শত্রুতা শুরু করেছি। তাকে পরাস্ত করাই এখন আমার ধ্যান জ্ঞান।
৭. আমি দেখলাম মানুষ রুটি রুজির জন্য চেষ্টার কোনো অন্ত রাখছে না। নিজের মান সম্মান ধূলোয় লুটিয়ে দিয়ে রুটি রুজির পিছে ছুটছে। ছুটতে ছুটতে হালাল হারামের পার্থক্য জ্ঞানটুকুও খুইয়ে বসে আছে। এদিকে আল্লাহ তাআলা ঘোষণা দিয়ে রেখেছেন,
আর পৃথিবীতে এমন কোন বিচরণশীল প্রাণী নেই, যার জীবিকার দায়িত্ব আল্লাহ নেন নি অর্থাৎ সকলের রিযিকের দায়িত্ব আল্লাহর। (সূরা হূদ ০৬)
এই আয়াত পড়ে আমি জেনে গেলাম যে, আমার রিযিকের দায়িত্ব আল্লাহর। তিনি নিজেই এই দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। অতএব আমি যাবতীয় লোভ লালসা আর দুশ্চিন্তা বাদ দিয়ে নিশ্চিন্ত মনে তাঁর ইবাদাতে মনোনিবেশ করলাম। | 875 |
| 9 | ওয়ালাইকুমুস সালাম।
১. বিয়ে সারাজীবনের সিদ্ধান্ত। অনেক ভালো আপনার জন্য ভালো নাও হতে পারে। অনেক খারাপ আপনার জন্য খারাপ নাও হতে পারে। কওমি মাদ্রাসায় পড়ুয়া ও আলিম পরিবারের স্বাভাবিকত্ব আপনার দ্বীনের বুঝ পাওয়া জীবনের কঠোরতার কাছে অস্বাভাবিক লাগতে পারে। তাই আপনার যদি সবকিছুর সাথে মানিয়ে নেয়া ও ভালোমতো কোপ আপ করার আত্মবিশ্বাস ও ধারণা থাকে তাহলে পারবেন।
২. ব্যক্তিগতভাবে আমাকে জিজ্ঞেস করলে আমি নিষেধই করব। কারণ আমার বুঝ ও দেখা অনুযায়ী আমার অভিজ্ঞতা বলে সম্পূর্ণ আলিম উলামা বিবর্জিত পরিবারের মেয়ে সহজে সম্পূর্ণ আলিম উলামা বেষ্টিত পরিবারে এসে ট্র্যাডিশনালি ফিট হতে পারে না।
আপনার জন্য আপনারই মত দ্বীনের বুঝ পাওয়া ও দ্বীনের উপর চলা কেউই উত্তম হবে। | 922 |
| 10 | لا يوجد نص... | 941 |
| 11 | sticker.webp | 1 265 |
| 12 | সূরা মূলক? | 1 380 |
| 13 | 🌸সিরিজ: রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম....
🍁পর্ব: ৩.৬ (সাহাবীদের আনুগত্য... )
🌸রোম সম্রাটের হাতে বন্দী সাহাবী আবদুল্লাহ ইবনে হুযাফা রা.। একান্তে ডেকে সম্রাট এ প্রলোভন দিল যে, ‘খৃস্টান হয়ে যাও। প্রতিদানে আমার এ বিশাল ভূখণ্ডের অর্ধেক তুমি পাবে।’ ইবনে হুযাফার মনে সামান্য চাঞ্চল্যও সৃষ্টি হল না। তিনি স্পষ্ট ভাষায় উত্তর দিলেন-
অর্ধেক রাজত্ব নয়, তোমার পুরো রাজত্ব এবং তার সাথে বিশাল আরব সাম্রাজ্যও যদি আমার হাতের মুঠোয় ভরে দেওয়া হয় তবুও এক পলকের জন্য মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম—এর আনীত দ্বীন হতে বিচ্যুত হব না।
অতঃপর একটি বিশাল পাত্রে প্রচণ্ডভাবে পানি ফুটানো হল। ইবনে হুযাফার চোখের সামনে একে একে দুজন মুসলিম কয়েদীকে নির্মমভাবে পানিতে নিক্ষেপ করে শহীদ করা হল। তাদের পরিণতি দেখিয়ে পুনরায় তাকে খৃস্টধর্ম কবুলের ফুরসত দেওয়া হল। আগের মতোই তা প্রত্যাখ্যান করলেন।
এবার তাকে ফুটন্ত পানিতে নিক্ষেপ করার আদেশ দেওয়া হল। ডেগচির সামনে নিয়ে যাওয়ার সময় তিনি মৃদু কাঁদলেন। সম্রাট ভাবল, সে হয়তো দুর্বল হয়েছে। কাছে ডেকে আবারও খৃস্টধর্ম পেশ করা হল। কিন্তু এবারও তিনি প্রত্যাখ্যান করলেন। সম্রাট প্রশ্ন করল, তাহলে তুমি কাঁদলে কেন? ইবনে হুযাফা রা. বললেন, ডেগের কাছাকাছি যাওয়ার পর আমি ভাবলাম, হায়! কিছুক্ষণ পরই আমার প্রাণপাখি উড়ে যাবে। হায়! আমার শরীরে যতগুলো লোম আছে সে পরিমাণ প্রাণ যদি আমার থাকত তবে একে একে সবগুলোই আমি আল্লাহর রাস্তায় উৎসর্গ করতাম। এ ভাবনা আসতেই আমার দু চোখ ভিজে উঠেছিল। ইসাবা ৪/৫৯; সিয়ারু আলামিন নুবালা ২/১৪
🌸এক সাহাবী নবীজির দরবারে এসে বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আপনাকে আমি নিজের চেয়ে এবং নিজ সন্তানের চেয়েও বেশি ভালবাসি। বাড়িতে গেলে আপনার কথা মনে পড়লে সহ্য করতে পারি না। বেচাইন হয়ে পড়ি। এসে আপনাকে এক পলক দেখে যাই। কিন্তু মৃত্যুর কথা মনে হলে আমার মন ভারাক্রান্ত হয়ে উঠে। আমি ভাবি, জান্নাতের অত্যুচ্চ মাকামে নবীদের সাথে আপনি থাকবেন। তখন কি আপনাকে এভাবে এক পলক দেখে যাওয়ার সুযোগ পাব? শুনে নবীজী চুপ করে রইলেন। ইতিমধ্যে আসমানী বার্তা নিয়ে জিবরাঈল আমীন উপস্থিত হলেন-যে আল্লাহ ও রাসূলের আনুগত্য করবে সে নবী, সিদ্দীক, শহীদ এবং সৎকর্ম পরায়ণদের সঙ্গে থাকবে। সহীহ বুখারী, হাদীস : ৩৬৮৮
🌸এক আগন্তুক এসে জিজ্ঞাসা করল, কিয়ামত কখন সংঘটিত হবে? নবীজী বললেন, তুমি তার জন্য কী প্রস্তুতি নিয়েছ? আগন্তুক বলল, কোনো প্রস্তুতি নিতে পারিনি তবে আমি আল্লাহ ও তার রাসূলকে ভালবাসি। নবীজী বললেন-
তুমি তোমার প্রেমাষ্পদের সাথেই থাকবে।
হযরত আনাস রা. বলেন, এ কথা শুনে আমরা এত বেশি আনন্দিত হয়েছি, যা ইতিপূর্বে আর কোনোদিন হইনি। সহীহ বুখারী, হাদীস : ৩৬৮৮ | 1 516 |
| 14 | নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম একদিন একটি চতুর্ভুজ আঁকলেন। চতুর্ভুজের মাঝখানে একটি রেখা টানলেন, যা চতুর্ভুজ অতিক্রম করে উপরের দিকে উঠে গেল।
এরপর মাঝখানের রেখার দু পাশ থেকে ছোট ছোট কয়েকটি রেখা টানলেন, যার কিছু কিছু মাঝের রেখাকে স্পর্শ করল।
এরপর নবীজি (সা.) বললেন, চতুর্ভুজের মাঝের রেখাটি মানুষ। আর চতুর্ভুজটি হলো তার আয়ু, যা তাকে ঘিরে রেখেছে। আর বাইরের দিকে অতিক্রম করে যাওয়া রেখাটি তার আশা-আকাঙ্ক্ষা।
আর ছোট ছোট রেখাগুলো তার বিপদাপদ। যদি সে এগুলোর একটি এড়িয়ে যায়, তবে অন্যটি তাকে আক্রমণ করে। আর অন্যটি এড়াতে পারলে আরেকটি এসে আক্রমণ করে।
সত্যি তাই, আমরা সুনির্দিষ্ট এক আয়ুর বৃত্তে বন্দি হয়ে আছি। আর এই বৃত্তবন্দি অবস্থায় আমরা এমন সব অলীক স্বপ্ন দেখি, যেখানে পৌঁছাতে হলে আয়ুর রেখাকে অতিক্রম করতে হয়।
অলীক সেই স্বপ্নের বন্দরে আমাদের জীবনতরী নোঙর করা হয় না, তার আগেই মৃত্যু এসে আমাদের পথ রোধ করে দাঁড়ায়।
বোখারি বর্ণিত হাদিসটি যতবার পড়ি, নবীজির প্রজ্ঞা ও পাঠদান পদ্ধতি দেখে হতবাক হয়ে যাই। আমাদের এই ক্ষণস্থায়ী জীবন, জীবনের চাওয়া-পাওয়া এবং নিত্য স্পর্শ করা এর বিপদ-আপদ বোঝাতে তিনি কী চমৎকার এক চিত্রকল্পের আশ্রয় নিয়েছেন!
এই ক্ষণস্থায়ী জীবনের নিগূঢ় রহস্য এর থেকে ভালো করে, ছবি এঁকে, চোখে আঙুল দিয়ে তুলে ধরা বুঝি আর সম্ভব নয়।
আজ থেকে প্রায় পনেরোশ বছর আগে, মরুভূমির রুক্ষ মাটির বুকে, যে সকল মরুচারীর সামনে এই চতুর্ভুজটি তিনি এঁকেছিলেন, সেই মধুর সময়ের স্মৃতি ও শিক্ষাটুকু নিশ্চয়ই তারা সুগন্ধি ফুলের মতোই বুকের কোণে আগলে রেখেছিলেন আজীবন।
আমাদের নবীজি (সা.) প্রকৃত অর্থেই সর্বকালের সেরা শিক্ষক ছিলেন। শ্রোতাদের মনস্তত্ত্ব তার মতো করে আর কেউ অনুভব করতে পারত না।
আমাদের হাদিস পাঠের অভিজ্ঞতায় আলোচ্য বর্ণনাটি নবীজির অসামান্য প্রজ্ঞার এক উৎকৃষ্ট উদাহরণ হয়ে থাকবে সব সময়। - শায়খ আহমাদুল্লাহ | 1 173 |
| 15 | لا يوجد نص... | 853 |
| 16 | নি|উ|ইয়র্ক শহরে বসবাসরত ই|হু|দি হাসেদি সম্প্রদায়ের বিবাহিত নারীকে চুল কেটে ফেলতে হয় তাই বাহিরে বের হলে তারা মাথা ঢেকে রাখে।এমনকি বাড়িতে স্বামীর সামনেও চুল ঢেকে রাখতে হয়।তারা একাধিক সন্তান( ১০-১৫) নেয়।নারীদের সন্তান নেওয়ার বিরতি নেওয়ার আগে একজন রা|বাই এর থেকে পরামর্শ নিতে হয়।
শালীনতা টহল টিম নামে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন থেকে বাহিরে নারীদের নজরদারি করা হয় তারা সঠিক পোশাক পড়েছে কিনা।
নিউইয়র্ক শহরে বসবাসরত ই|হু|দি হাসেদি সম্প্রদায়ের ভিন্ন জীবনযাপনের দৃশ্য তুলে ধরেছে রুহি সিনেট।এভাবেই তারা আ*মে*রিকার মূল শহরের মতো জায়গায় থেকেও প|শ্চিমা নীতির বাহিরেই নিজেদের রীতিনীতিতে নি|উ|ই|য়র্কে বসবাস করছ।
তাহলে প্রশ্ন হলো আ|ফগা|নিস্তানে নারী স্বাধীনতা ক্ষুন্ন হওয়ার কথা বলে আমারিকার বিভিন্ন সময় হস্তক্ষেপ দেখা যায়, মিডিয়ার মিথ্যাচার দেখা যায়। তারা কেন নিজেদের দেশের গুরুত্বপূর্ণ শহরে ই|হু|দি নারীদের ওপর আরোপকৃত এসব কঠোর বিধানের বিষয়ে নিরব?এমনকি এই ই|হু|দি সম্প্রদায়ের সেখানে
আলাদা বিচারকার্য পরিচালনা করার জন্য ধর্মীয় আদালত রয়েছে, পুলিশের মতো টহল বাহিনী রয়েছে। তারা চাইলে তাদের বিচারিক ক্ষমতাবলে কাউকে আটকে রাখতেও পারে।নিরাপত্তা বিবেচনায় তাদের এসব বিষয়ে অনুমতিও দেয়া হচ্ছে।
বাংলাদেশী হলুদ মিডিয়া কি ই|হু|দি নারীদের ওপর নি|র্যা|তনের বিষয়ে নিউজ করে তাদের রক্ষায় এগিয়ে আসবেনা?ই|হু|দি|দের এসব পশ্চাৎপদ জীবনযাপন নিয়ে উদ্বিগ্ন হবেনা তাদের পশ্চিমা আলোয় ফিরিয়ে আনতে?নাকি আ|ফ|গা|নিস্তান নিয়ে মি|থ্যাচার করলে তাদের বিদেশি প্রভুদের নজর পাওয়া যায় কিন্তু ই°হু°দিদের নিয়ে নিউজ করলে তারা অসন্তুষ্ট হবে!দেখা যাক তাদের কি ভূমিকা দৃশ্যমান হয়।
এই ভিডিওতে রুহি সিনেটকে জাঝাকাল্লাহ ফি|লি|স্তি|নের অসহায় শিশুদের কথা তুলে ধরার জন্য।
এই ভিডিওটি কতদিন রাখতে পারবে সেটা বিষ্ময়ের।যেকোন সময় এটি সরিয়ে দিতে পারে!
link- https://t.me/HopeStudy24hours/124 | 1 043 |
| 17 | [আগের অংশ]
৩) অথবা, বিনিময় আদায়ের মাধ্যমে কেউ কেউ শাস্তি থেকে মুক্তি পেতে চায়। সে বিনিময় দু'ধরনের হতে পারে, ক) অন্যের কাছ থেকে কিছু সওয়াব লাভ করে তার বিনিময়ে মুক্তির ব্যবস্থা করা। খ) টাকা-পয়সা ইত্যাদির বিনিময়ে মুক্তির ব্যবস্থা করা। আল্লাহ্ তা'আলা “কারো কাছ থেকে বিনিময় গৃহীত হবে না", এ কথা বলে এমন সম্ভাবনাও নাকচ করে দিয়েছেন।
৪) অথবা, শাস্তির হুকুমের বিপরীতে অপরাধীকে সাহায্যকারী দল থাকে, যারা তাকে তা না মানতে বা তার শাস্তি লাঘব করতে সাহায্য করে থাকে আল্লাহ্ তা'আলা “আর তারা কোনো প্রকার সাহায্যপ্রাপ্তও হবে না” এ কথা দ্বারা এমন সম্ভাবনা উড়িয়ে দিয়েছেন। এর কারণ হচ্ছে, তারা ঈমান আনেনি। কিন্তু যদি তাদের ঈমান থাকত তবে শর্তসাপেক্ষে এ চারটির কোনো কোনোটি কাজে আসত। মোটকথা, দুনিয়াতে সাহায্য করার যত পদ্ধতি আছে ঈমান ব্যতীত আখেরাতে সেগুলোর কোনোটাই কার্যকর হবে না।
-Tafsir Abu Bakr Zakaria
সকল পর্ব | 1 005 |
| 18 | আল কুরআন:আল-বাকারাহ্ ২:৫২
Surah Baqarah ২:৪৮
وَٱتَّقُواْ يَوۡمٗا لَّا تَجۡزِي نَفۡسٌ عَن نَّفۡسٖ شَيۡـٔٗا وَلَا يُقۡبَلُ مِنۡهَا شَفَٰعَةٞ وَلَا يُؤۡخَذُ مِنۡهَا عَدۡلٞ وَلَا هُمۡ يُنصَرُونَ
অর্থ : আর তোমরা সে দিনের তাকওয়া অবলম্বন করো যেদিন কেউ কার কোনো কাজে আসবে না [১]। আর কারও সুপারিশ গ্রহণ করা হবে না [২] এবং কারো কাছ থেকে বিনিময় গৃহীত হবে না। আর তারা সাহায্যও প্রাপ্ত হবে না [৩]।
[১] অর্থাৎ কেউ অপর কারও পক্ষ থেকে কোনো কিছু আদায় করবে না। [তাবারী] যেমন মহান আল্লাহ্ অন্য আয়াতে বলেছেন, “হে মানুষ! তোমরা তোমাদের রবের তাক্ওয়া অবলম্বন কর এবং ভয় কর সে দিনকে, যখন কোনো পিতা তার সন্তানের পক্ষ থেকে কিছু আদায় করবে না, অনুরূপ কোনো সন্তান সেও তার পিতার পক্ষ থেকে আদায়কারী হবে না।" [সূরা লুকমান: ৩৩]
তাছাড়া হাদীসেও এসেছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “আল্লাহ্ ঐ বান্দাকে রহমত করুন, যার কাছে তার কোনো ভাইয়ের কোনো ইযযত আবরুর উপর হামলা জনিত যুলুম, অথবা তার সম্পদ ও সম্মানের উপর আঘাত ছিল, তারপর সে সেটা থেকে নিজেকে বিমুক্ত করতে পেরেছে, ঐ দিনের পূর্বেই যে দিন কোনো দীনার বা দিরহাম থাকবে না। বরং যদি তার কোনো নেকী থাকে তবে তা থেকে তা নিয়ে যাওয়া হবে। আর যদি নেকী না থাকে তবে তার উপর মাযমুমের পাপসমূহ চাপিয়ে দেয়া হবে।" [বুখারী ৬৫৩৪]
[২] আয়াত থেকে বাহ্যতঃ বোঝা যাচ্ছে যে, আখেরাতে শাফা’আত বা সুপারিশ কোনো কাজে আসবে না। মূলতঃ ব্যাপারটি এরকম নয়। এ আয়াতের উদ্দেশ্য শুধু কাফির, মুশরিক, আহলে কিতাব ও মুনাফিকদের জন্য কোনো শাফা’আত বা সুপারিশ কাজে আসবে না। যেমন পবিত্র কুরআনের অন্যত্র বলা হয়েছে, “আর আল্লাহ্ যার উপর সন্তুষ্ট নয় তার জন্য তারা সুপারিশ করবে না।" [সূরা আল-আম্বিয়া: ২৮] আল্লাহ্ কাদের উপর সন্তুষ্ট নয় তা আল্লাহ্ নিজেই ঘোষণা করে বলেছেন, “আর আল্লাহ্ তাঁর বান্দাদের কুফরীতে সন্তুষ্ট নন।” [সূরা আয-যুমার:৭]
সুতরাং কাফিরদের জন্য কোনো সুপারিশ নয়। আর কাফিররাও হাশরের দিন স্বীকৃতি দিবে যে, তাদের জন্য কোনো সুপারিশকারী নেই, তারা বলবে “আমাদের তো কোনো সুপারিশকারী নেই।” [সূরা আশ-শু'আরা: ১০০] তাদের সম্পর্কে আল্লাহ্ নিজেও বলেছেন, “সুতরাং কোনো সুপারিশকারীর সুপারিশ তাদের কোনো উপকার দিবে না।” [সূরা আল-মুদ্দাসসির:৪৮]
এতে স্পষ্ট হয়ে গেল যে, যারা কুফরী, শিরকি , নিফাকী অবস্থায় মারা যাবে তাদের জন্য কোনো শাফা’আত বা সুপারিশ নেই।
পক্ষান্তরে মুমিনদের জন্য শাফা’আত বা সুপারিশ অবশ্যই হবে যা কুরআন, সুন্নাহ ও উম্মতের ইজমা‘ দ্বারা প্রমাণিত। কিন্তু তাদের জন্য সুপারিশের ব্যাপারেও শর্ত হচ্ছে, তন্মধ্যে প্রথম শর্ত হচ্ছে, তাদের মধ্যে ঈমান অবশিষ্ট থাকতে হবে। মূলতঃ এ ঈমানের কারণেই শাফা’আত তথা সুপারিশের হকদার হয়েছে। যার সামান্যতম ঈমান আছে তার উপর আল্লাহ্র সামান্যতম সন্তুষ্টি অবশিষ্ট আছে। সুতরাং যার জন্য সুপারিশ করা হবে, তার জন্য আল্লাহ্র সামান্যতম সন্তুষ্টি হলেও থাকতে হবে। যদিও অন্য অপরাধের কারণে সে জাহান্নাম থেকে মুক্তি পেতে পারে নি। দ্বিতীয় শর্ত হচ্ছে, শাফা’আত বা সুপারিশ করার জন্য আল্লাহ্র কাছ থেকে অনুমতি থাকতে হবে। আল্লাহ্ বলেন, “এমন কে আছে যে, তাঁর অনুমতি ব্যতীত তাঁর কাছে সুপারিশ করে?” [সূরা আল-বাকারাহ:২৫৫]
তৃতীয় শর্ত হচ্ছে, যিনি সুপারিশ করবেন তার উপরও আল্লাহ্ তা'আলার সন্তুষ্টি থাকতে হবে। আল্লাহ্ বলেন, “আর আসমানসমূহে বহু ফিরিশতা রয়েছে; তাদের সুপারিশ কিছুমাত্র ফলপ্রসূ হবে না, তবে আল্লাহ্র অনুমতির পর; যার জন্য তিনি ইচ্ছে করেন ও যার প্রতি তিনি সন্তুষ্ট।" [সূরা আন-নাজম: ২৬]
অর্থাৎ যিনি সুপারিশ করবেন তার কথা-বার্তা ও সুপারিশ আল্লাহ্র মনঃপুত হতে হবে। মহান আল্লাহ্ বলেন, “দয়াময় যাকে অনুমতি দেবেন ও যার কথা তিনি পছন্দ করবেন সে ছাড়া কারো সুপারিশ সেদিন কোনো কাজে আসবে না।" [সূরা ত্বা-হা: ১০৯]
এ তিনটি শর্ত পাওয়া যাওয়া সাপেক্ষে নবী-রাসূলগণ, শহীদগণ ও নেককার মুমিনগণ শাফা'আত বা সুপারিশ করবেন যা বহু হাদীস দ্বারাও প্রমাণিত।
[৩] আলোচ্য আয়াতে যেদিনের কথা বলা হয়েছে, সেটি হলো কেয়ামতের দিন। সাধারণতঃ মানুষের কোনো শাস্তির হুকুম হলে তা থেকে বাচার জন্য মানুষ নিম্নলিখিত চারটি উপায় অবলম্বন করে:
১) একজনের পরিবর্তে অন্যজন স্বতঃস্ফূর্তভাবে শাস্তি ভোগ করে। আল্লাহ্ তাআলা এখানে "কেউ কারো পক্ষ থেকে আদায় করে না” বলে কেয়ামতের দিন এমন কিছু ঘটার সম্ভাবনা নাকচ করে দেন।
২) অথবা, একজনের জন্য অপরজন সুপারিশ করে শাস্তি থেকে মুক্তির ব্যবস্থা করে। আল্লাহ্ তা'আলা এ সম্ভাবনাও নাকচ করে বলেন, “কারো সুপারিশ গ্রহণ করা হবে না।”
[পরের অংশ] | 965 |
| 19 | 🌸সিরিজ: রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম....
🍁পর্ব: ৩.৫ (সাহাবীদের আনুগত্য... )
🌸নবীজীর প্রতি পূর্ণ সমর্পণ
নবীজীর প্রতি সাহাবীদের কী পরমাণ আস্থা ছিল এবং তারা নবীজীর জন্য কী পরিমাণ সমর্পিত ছিলেন তা একটি ঘটনা দ্বারাই বুঝা যাবে। বিয়ে সবার জীবনেই খুব গুরুত্বপূর্ণ। একটি সুখী সংসার, একজন মনের মত জীবনসঙ্গী বা সঙ্গিনী সবারই হৃদয়ের স্বপ্ন। তবে নারীদের জীবনে এ স্বপ্নের মাত্রা অবশ্যই বেশি। জীবনের এমন স্পর্শকাতর সিদ্ধান্তও নবীজীর হাতে পূর্ণ ন্যস্ত করার উজ্জ্বল ঘটনা আলো করে আছে আমাদের ইতিহাসের পাতা।
হযরত ফাতিমা বিনতে কায়েস রা. ছিলেন হিজরতকারী নারীদের অন্যতম। হযরত আবদুর রহমান ইবনে আওফ রা. তাকে বিয়ের প্রস্তাব দিয়েছিলেন। তিনি ছিলেন অঢেল ধন-সম্পদের অধিকারী। অন্যদিকে নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উসামা ইবনে যায়েদের সাথে বিয়ের ব্যাপারে ফাতিমা বিনতে কায়েস রা.-এর সাথে কথা বলেছিলেন। হযরত ফাতেমা রা. বলেন, আমি নবীজীর এ বাণী শুনেছিলাম- যে আমাকে ভালোবাসে সে যেন উসামাকেও ভালোবাসে।
তাই নবীজী যখন উসামা রা.-এর সাথে বিয়ের ব্যাপারে আমার সাথে কথা বললেন, আমি তখন বললাম-
আমার বিষয় আপনার হাতে সোপর্দ করলাম, আপনি যার সাথে ইচ্ছে আমাকে বিয়ে দিন। -সুনানে নাসায়ী, হাদীস ৩২৩৭
হযরত জুলাইবিব রা.। নবীজীর কাছের একজন সাহাবী। একদিন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে জিজ্ঞাসা করলেন, জুলাইবিব! তুমি বিবাহ করবে না? জুলাইবিব রা. তখন বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমার অর্থসম্পদ ও বংশীয় আভিজাত্য বলতে কিছুই নেই। কে আমার কাছে তার মেয়ে বিবাহ দেবে? রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তখন এক আনসারীকে তার মেয়ের জন্য জুলাইবিবের পক্ষ থেকে বিয়ের প্রস্তাব দিলেন। আনসারী তার স্ত্রীর সাথে পরামর্শ করে সিদ্ধান্ত জানানোর কথা বললেন। স্ত্রীর সাথে কথা বললে তিনি কোনোভাবেই এ বিয়ের জন্য রাজী হচ্ছিলেন না। তবে তার কন্যা নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পয়গাম শুনেছিল। একীন ও বিশ্বাসের সুদৃঢ় পাহাড় তার হৃদয়ে প্রোথিত ছিল। তাতে প্রবাহিত ছিল নবীপ্রেমের স্বচ্ছ ঝর্ণাধারা। তাই বাবাকে বললেন, আপনারা রাসূলুল্লাহর পয়গামকে ফিরিয়ে দিচ্ছেন? না, এটা কখনই হতে পারে না। আমি জুলাইবিবকে বিয়ে করব। অবশেষে বিবাহ হল এবং ঘর আলোকিত করে একটি সন্তান জন্ম নিল। -মুসনাদে আহমাদ, হাদীস ১২৩৯৩
🌸নবীজীর আদেশ পালন
নবীজী একবার মসজিদ থেকে বের হচ্ছিলেন। দেখলেন নারী-পুরুষ পাশাপাশি পথ চলছে। তখন (নারীদের লক্ষ্য করে নবীজী বললেন) তোমরা পুরুষদের পেছনে থাক। এবং পথের মাঝখানে না হেঁটে একপাশ দিয়ে হাঁট। এরপর নারীদের এমন অবস্থা হয়েছিল যে, তারা রাস্তার পাশ দিয়ে এভাবে হাঁটতেন যে, তাদের কাপড় রাস্তার পাশের দেয়ালের সাথে লেগে যেত। -সুনানে আবু দাউদ, হাদীস ৫২৭২
একবার হযরত যয়নব বিনতে জাহাশ রা.-এর ভাই ইনতেকাল করল। মৃত্যুর পর চতুর্থ দিন তিনি সুগন্ধি ব্যবহার করে বললেন, সুগন্ধি ব্যবহারের কোনো প্রয়োজন আমার ছিল না। তবে আমি নবীজীর কাছে শুনেছি, কোনো নারীর জন্য স্বামী ছাড়া অন্যের মৃত্যুতে তিন দিনের বেশি শোক প্রকাশ করা বৈধ নয়। শুধু এ হুকুম পালনের জন্যই আমি এমন করেছি। -সুনানে আবু দাউদ, হাদীস ২২৯৯ | 853 |
| 20 | একজন হার্ট সার্জনকে খাবারের টেবিলে বসানো হলো। সামনে রসালো মাংস, চর্বিযুক্ত নানা সুস্বাদু খাবার সাজানো। কিন্তু তিনি সেগুলোর দিকে হাতই বাড়ালেন না।
তাকে জিজ্ঞেস করা হলো, ডাক্তার সাহেব, এত ভালো খাবার! আপনি খাচ্ছেন না কেন?
তিনি শান্তভাবে বললেন, আমি প্রতিদিন অপারেশন থিয়েটারে মানুষের হৃদয়ের ভেতর জমে থাকা চর্বির ভয়াবহ পরিণতি দেখি। তাই এই খাবারের স্বাদ আমার কাছে আর আগের মতো লাগে না।
তিনি খাবারের বাহ্যিক মজার চেয়ে এর ভেতরে লুকিয়ে থাকা ক্ষতিটা দেখতে শিখেছেন। তাই যে খাবার অন্যের কাছে লোভনীয়, তা তাঁর কাছে আর আকর্ষণীয় নয়।
ঠিক তেমনি, যে ব্যক্তি ঈমানের আলোয় গুনাহের পরিণতি—আল্লাহর অসন্তুষ্টি, অন্তরের অশান্তি, কবরের আযাব ও আখিরাতের শাস্তি—উপলব্ধি করতে পারে, তার কাছে গুনাহের চাকচিক্য আর আকর্ষণীয় থাকে না। সে বুঝে যায়, গুনাহের তথাকথিত আনন্দ আসলে শাস্তিরই সূচনা।
আর নেক আমল? শুরুতে সেখানে কিছু কষ্ট থাকতে পারে—নফসের সঙ্গে লড়াই, সময় ব্যয়, ত্যাগ। কিন্তু সেই কষ্টের পরেই আসে ঈমানের মিষ্টতা, অন্তরের প্রশান্তি, আল্লাহর সন্তুষ্টি এবং জান্নাতের চিরস্থায়ী সুখ।
তাই গুনাহের মজা ক্ষণস্থায়ী, কিন্তু তার আফসোস দীর্ঘস্থায়ী। আর নেক আমলের কষ্ট সাময়িক, কিন্তু তার আনন্দ দুনিয়া ও আখিরাতব্যাপী।
#খুতুবাত | 927 |
