Manzur's posts
Kanalga Telegram’da o‘tish
Here, posts and lectures of Ustaz Manzurul Karim will be shared in sha Allah.
Ko'proq ko'rsatish7 116
Obunachilar
+124 soatlar
+187 kun
+6130 kun
Postlar arxiv
7 116
"আল্লাহর তাওফিকপ্রাপ্ত আকল দেখে যে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যা কিছু নিয়ে এসেছেন তা হক এবং তা বোধ ও প্রজ্ঞার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
অন্যদিকে যেসকল আকল তাওফিক থেকে বঞ্চিত তারা দেখে যে আকল ও নকল (অর্থাৎ কুরআন-সুন্নাহ) এবং প্রজ্ঞা ও শরীআতের মাঝে বিরোধ রয়েছে"।
.
~ ইমাম ইবনুল কাইয়্যিম [রাহ.]
.
[ আল ফাওয়াইদ, পৃ: ১৫৭]
7 116
আল্লাহ তাআলা বলেন,
إِنَّ الَّذِينَ كَفَرُوا وَمَاتُوا وَهُمْ كُفَّارٌ فَلَنْ يُقْبَلَ مِنْ أَحَدِهِمْ مِلْءُ الْأَرْضِ ذَهَبًا وَلَوِ افْتَدَى بِهِ أُولَئِكَ لَهُمْ عَذَابٌ أَلِيمٌ وَمَا لَهُمْ مِنْ نَاصِرِينَ
.
"নিশ্চয় যারা কুফরী করেছে এবং কাফের অবস্থায় মারা গেছে, তাদের কারো কাছ থেকে যমীন ভরা স্বর্ণ বিনিময়স্বরূপ প্রদান করলেও গ্রহণ করা হবে না, তাদের জন্যই রয়েছে বেদনাদায়ক আযাব, আর তাদের জন্য কোন সাহায্যকারী নেই"। [১]
.
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন,
يُجَاءُ بِالْكَافِرِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ فَيُقَالُ لَهُ: أَرَأَيْتَ لَوْ كَانَ لَكَ مِلْءُ الْأَرْضِ ذَهَبًا أَكُنْتَ تَفْتَدِي بِهِ؟ فَيَقُولُ: نَعَمْ، فَيُقَالُ لَهُ: قَدْ كُنْتَ سُئِلْتَ مَا هُوَ أَيْسَرُ مِنْ ذَلِكَ
.
"কিয়ামতের দিন কাফির ব্যক্তিকে আনা হবে, অতঃপর তাকে জিজ্ঞেস করা হবে, তুমি কি মনে কর যে যদি তোমার কাছে যমীন ভরা স্বর্ণ থাকতো তাহলে কি তুমি সেটা এখন মুক্তিপণ হিসেবে দিতে?
সে বলবে, হ্যাঁ।
তাকে বলা হবে, তোমাকে তো এর চেয়েও সহজ কাজ করতে বলা হয়েছিল! (অথচ তুমি তা করনি)"। [২]
.
[১) সূরা আলে ইমরান: ৯১;
২) ইমাম বুখারী (রাহ.), আস সহীহ, হা: ৬৫৩৮]
7 116
জীবন আসলে বেশ ছোট। এই ছোট্ট জীবনে চাইলেও দুনিয়ার সব বই তো পড়া সম্ভব না, এজন্য পড়তে চাইলে একটু বাছবিচার করেই পড়তে হবে। তবে এরপরও পড়তে হবে অনেক।
অর্থাৎ কাজ দুটা:
১) বেছে পড়া,
২) তবে অনেক পড়া।
.
ইলমের বৈশিষ্ট্যই এটা, যত অর্জন করবেন তৃষ্ণা তত বাড়বে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন,
"منهومان لا يشبعان منهوم في العلم لا يشبع منه، ومنهوم في الدنيا لا يشبع منها
.
"দুই লোভী তৃপ্ত হয় না: জ্ঞানলোভী কখনো জ্ঞানার্জন করে তৃপ্ত হয় না আর দুনিয়ালোভী কখনো দুনিয়া পেয়ে তৃপ্ত হয় না"। [১]
.
যদি দেখা যায় যে জ্ঞান তৃষ্ণা আরও বাড়ছে না, তাহলে তো বিষয়টা প্রবলেমেটিক। অবশ্য কখনো কখনো রিডারস ব্লক লাগে। তখন কাটানোর চেষ্টাও করতে হয়।
.
একবার এমন ব্লকে ছিলাম, তখন শাইখ আলবানীর [রাহ.] এর রেকর্ড থেকে শুনেছিলাম যে তিনি ১০ হাজার বই পড়েছেন, যেগুলোতে শতাধিক খণ্ডের বইও আছে। অর্থাৎ এই শতাধিক খণ্ডের বইকে তিনি এক বই ধরে কাউন্ট করেছেন! এভাবে ১০ হাজার বই, সুবহানআল্লাহ।
এতে কিন্তু তাঁর ইলম পিপাসা কমে যায় নি।
আলহামদুলিল্লাহ এটা শুনে আমার নিজের ব্লক ছুটে গিয়েছিল।
.
কাজেই নিজেকে উদ্দীপ্ত করুন ও চাঙ্গা রাখুন, পড়তে ও জানতে থাকুন। অনেক বেশি না পারলেও অন্তত অল্প করে নিয়মিত পড়ুন, এতে পড়ার অভ্যাস জারি থাকবে ইন শা আল্লাহ।
.
[১) ইমাম বাইহাক্বী (রাহ.), শুআবুল ঈমান, হা: ৯৭৯৮, শাইখ আলবানীর (রাহ.) মতে হাদিসটি সহীহ, হিদায়াতুর রুওয়াত: ১/১৬৯]
7 116
আমার ছোট ভাইদের আমি পরামর্শ দেব যে ছাত্রজীবন থেকেই দয়া করে পাঠাভ্যাস গড়ে তুলুন। অনেকে ভাবেন যে একসময় চাকরি বা ব্যবসা করব, তখন হাতে ফ্রি টাইম থাকবে, সেসময় আমি বিভিন্ন দ্বীনি বিষয়ে জ্ঞানার্জন করব ইন শা আল্লাহ।
এটা চিন্তা হিসেবে সুন্দর তবে প্রায়োগিক না। বয়সের সাথে সাথে ঘাড় যেমন ভারি হয়ে যাবে, ফলে আগের মত মুখ গুজে বইয়ের মাঝে পড়ে থাকতে পারবেন না, তেমনি বিভিন্ন দায়িত্ব-কর্তব্যের ভিড়ে পড়ার সময় করে ওঠা অনেক কঠিন হবে।
যার অল্প বয়সে পড়ার অভ্যাস গড়ে ওঠে না, সে আসলে পরে আর সেভাবে গড়ে তুলতেও পারেনা।
.
কাজেই করণীয় হচ্ছে ছাত্র জীবনকে মূল্যায়ন করা। অবশ্যই নিজের একাডেমিক পড়াশোনাকে প্রায়োরিটি দিতে হবে। তবে এর পাশাপাশি সময় বের করে সিলেবাস বানিয়ে বা সিরিয়াল ধরে একের পর এক বই পড়ে যেতে হবে।
যদি এটা করতে পারেন তাহলে ইন শা আল্লাহ পরবর্তী জীবনেও আপনি জ্ঞান অন্বেষণ সর্বদা জারি রাখতে পারবেন।
কেননা আপনি কিছু অসাধারণ স্কিল ছাত্র জীবনেই শিখে ফেলেছেন যা আপনাকে পরেও এগিয়ে যেতে সাহায্য করবে। যেমন:
১) কাজের ফাঁকে সময় বের করা,
২) অধিক পঠন,
৩) প্রায়োরিটি সেট আপ,
৪) নিজের জন্য সিলেবাস বানানো ও টার্গেট নির্ধারণ,
৫) পড়াকে নিজের পাসটাইম বানানো ইত্যাদি।
7 116
"যে আমাদের বড়দের সম্মান করেনা, ছোটদের প্রতি দয়া করেনা আর আমাদের আলিমদের (হক, মর্যাদা) স্বীকার করেনা, সে আমার উম্মতের কেউ নয়"
.
لَيْسَ مِنْ أُمَّتِي مَنْ لَمْ يُجِلَّ كَبِيرَنَا، وَيَرْحَمْ صَغِيرَنَا، وَيَعْرِفْ لِعَالِمِنَا
.
~ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম
.
[ ইমাম আহমাদ (রাহ.), আল মুসনাদ, হা: ২২৭৫৫, ইমাম হাইসামীর (রাহ.) মতে সনদ হাসান- মাজমাউয যাওয়াইদ, হা: ৫৩২]
7 116
জুমআর দিনের একটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত হচ্ছে আসরের পর থেকে মাগরিবের আগ পর্যন্ত সময়টা। এই সময়টা দুআ কবুলের সময়। বিশেষ করে মাগরিবের ওয়াক্ত হবার ঠিক আগের সময়টা। সালাফের অনেকের থেকেই বর্ণনা পাওয়া যায় যে তাঁরা এই সময়টা মসজিদেই কাটাতেন, যেন এই সুযোগ মিস হয়ে না যায়।
অথচ আমরা এই সময়ের ব্যাপারে কতই না উদাসীন!
7 116
সেক্যুলার শিক্ষা, জীবন, সমাজ ও রাষ্ট্রব্যবস্থার অত্যন্ত ক্ষতিকর একটি দিক হচ্ছে এর মাঝে যারা মিশে যায় তাদের তাওহিদের প্রতি কমিটমেন্ট দুর্বল হয়ে যায়, শির্কের প্রতি সফটনেস চলে আসে, নৈতিক ও আখলাকী অবক্ষয় হয়।
7 116
"মানুষকে দুটি জিনিস রাসূলের (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) অনুসরণ করা থেকে বিরত রাখে:
১) অজ্ঞতা অথবা
২) নিয়তের খারাবী"।
.
~ শাইখুল ইসলাম ইমাম ইবনু তাইমিয়াহ [রাহ.]
.
[ মাজমুঊল ফাতাওয়া: ১৫/৯৩]
7 116
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন,
مَنْ لَقِيَ اللَّهَ لَا يُشْرِكُ بِهِ شَيْئًا، وَيُصَلِّي الْخَمْسَ، وَيَصُومُ رَمَضَانَ - غُفِرَ لَهُ
"যে এমতাবস্থায় আল্লাহর সাথে মিলিত হবে যে সে কোনো কিছুকে আল্লাহর সাথে শরীক করেনি, ৫ ওয়াক্ত সালাত আদায় করেছে এবং রমাদ্বানে সিয়াম পালন করেছে, সে ক্ষমাপ্রাপ্ত হবে"।
.
উপস্থিত সাহাবী মুআয [রা.] বললেন, "ইয়া রাসূলাল্লাহ, আমি কি লোকেদেরকে এই সুসংবাদ দিয়ে দেব না?
.
তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন,
" دَعْهُمْ يَعْمَلُوا
"তাদেরকে (তাদের হালতে) ছেড়ে দাও, তারা আমল করতে থাকুক"।[১]
.
অর্থাৎ তারা অধিক পরিমাণে সুন্নাহ ও নফল আমল করার প্রয়াস করতে থাকুক আর শাহাদাৎ ও ফরয আমল আদায়ের ওপর ভরসা করে বসে না যাক। [২]
.
[১) ইমাম আহমাদ (রাহ.), আল মুসনাদ, হা: ২২০২৮, শাইখ আলবানীর (রাহ.) মতে এর সনদ সহীহ, সিলসিলাতুল আহাদিসিস সহীহাহ, হা: ১৩১৫;
২) আল্লামা উবাইদুল্লাহ আল মুবারাকপুরী (রাহ.), মিরআতুল মাফাতীহ: ১/১১৯]
7 116
আমর বিন আবাসাহ [রা.] জিজ্ঞেস করলেন,
ইয়া রাসূলাল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, ইসলাম কী?
তিনি বললেন,
طِيبُ الْكَلَامِ، وَإِطْعَامُ الطَّعَامِ
"উত্তম কথা এবং মানুষকে খাবার খাওয়ানো"।
.
আমর [রা.] জিজ্ঞেস করলেন, ঈমান কী?
তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন,
الصَّبْرُ وَالسَّمَاحَةُ
"সবর ও মুহানুভবতা"।
.
আমর [রা.] জিজ্ঞেস করলেন, সর্বোত্তম ইসলাম কী (অর্থাৎ সর্বোত্তম মুসলিম কে?)?
তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন,
مَنْ سَلِمَ الْمُسْلِمُونَ مِنْ لِسَانِهِ وَيَدِهِ
"যা জবান ও হাত থেকে মুসলিমরা নিরাপদ থাকে"।
.
আমর [রা.] এবার জিজ্ঞেস করলেন, তাহলে সর্বোত্তম ঈমান (অর্থাৎ ঈমানের সর্বোত্তম শাখা) কী?
তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন,
خُلُقٌ حَسَنٌ
"উত্তম আখলাক"।
.
আমর [রা.] জিজ্ঞেস করলেন, সর্বোত্তম সালাত কোনটি (অর্থাৎ কোন ধরণের সালাতে সাওয়াব বেশি)?
তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন,
: طُولُ الْقُنُوتِ
"দীর্ঘ কিয়াম বা কিরাআত বা খুশু সমৃদ্ধ সালাত"।
.
আমর [রা.] জিজ্ঞেস করলেন, কোন হিজরত সর্বোত্তম?
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন,
أَنْ تَهْجُرَ مَا كَرِهَ رَبُّكُ
"(সেটা হচ্ছে) তোমার রব যা অপছন্দ করেন তুমি তা বর্জন করবে/তা থেকে হিজরত করবে"।
.
আমর [রা.] জিজ্ঞেস করলেন, কোন জিহাদ সর্বোত্তম?
তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন,
مَنْ عُقِرَ جَوَادُهُ، وَأُهْرِيقَ دَمُهُ
"যার ঘোড়ার হাত-পা কর্তিত হয় এবং নিজের রক্তও প্রবাহিত হয় (তার জিহাদ সর্বোত্তম"।
.
আমর [রা.] জিজ্ঞেস করলেন, "(ইবাদাতের জন্য) কোন সময় সর্বোত্তম?
তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন,
جَوْفُ اللَّيْلِ الْآخِرِ
"রাতের শেষ অর্ধাংশ"।
.
[ ইমাম আহমাদ (রাহ.), আল মুসনাদ, হা: ১৯৪৩৫, শাইখ হুসাইন আসাদের (রাহ.) মতে সনদ হাসান- মাজমাউয যাওয়াইদ: ১/৩৫১, এর তাহক্বীক]
7 116
"নিশ্চয় প্রতি বৃহস্পতিবার জুমআ রাতে আদম সন্তানের আমল (আল্লাহর সামনে) পেশ করা হয়। তবে (তখন) আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্নকারীর আমল কবুল করা হয় না"।
.
"إِنَّ أَعْمَالَ بَنِي آدَمَ تُعْرَضُ كُلَّ خَمِيسٍ لَيْلَةَ الْجُمُعَةِ، فَلَا يُقْبَلُ عَمَلُ قَاطِعِ رَحِمٍ
.
~ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম
.
[ ইমাম আহমাদ (রাহ.), আল মুসনাদ, হা: ১০২৭২, আল্লামা শুআইব আরনাউত্বের (রাহ.) মতে সনদ হাসান]
7 116
"সকল প্রশংসা আল্লাহ তাআলার যে এই উম্মতের মধ্যে সর্বদা এমন লোক বিদ্যমান রয়েছেন, যাঁরা বাতিলপন্থীদের কথাবার্তায় নিহিত বাতিলকে শনাক্ত করতে পারেন এবং তা খণ্ডন করেন"।
.
~ শাইখুল ইসলাম ইমাম ইবনু তাইমিয়াহ [রাহ.]
.
[ মাজমুঊল ফাতাওয়া: ৯/২৩৩]
7 116
"মুসলিমের জন্য শির্কের স্থানে ও আল্লাহ তাআলা ছাড়া অন্যের ইবাদত করা হয় এমন স্থানে, যেমন গির্জা, মাজার ইত্যাদিতে কাজ করা জায়েয নয়। কেননা, এর মাধ্যমে সে বাতিলকে স্বীকৃতি দেয় এবং বাতিলপন্থীদের সে বিষয়ে সহযোগিতা করে। তার এ কাজ হারাম। অতএব, তার জন্য এ ধরনের কাজে নিয়োজিত হওয়া বৈধ নয়"।
.
~ শাইখ সালিহ বিন ফাওযান [হাফি.]
.
[ মাজমুঊ ফাতাওয়া: ২/৭২০]
7 116
"বিবাহে মাহর অতিরিক্ত বাড়িয়ে দেওয়া মাকরূহ। আর তা বিবাহের বরকত কম হওয়া এবং বিবাহকে কঠিন করে তোলার অন্যতম কারণ"।
.
~ ইমাম ইবনুল কাইয়্যিম [রাহ.]
.
[যাদুল মাআদ: ৫/২৪৮]
