ar
Feedback
Hope

Hope

الذهاب إلى القناة على Telegram

আল্লাহ আপনার দুনিয়ার কষ্ট দূর করে দিক, আখিরাত সহজ করে দিক, আমীন। প্রয়োজনে: @HopeDM আমাদের সব চ্যানেলঃ https://t.me/Hope24hours/1215 এনোনিমাস মেসেজ পাঠাতে: https://chithi.me/Hope24hours উত্তর: https://t.me/a_teardrop

إظهار المزيد

📈 نظرة تحليلية على قناة تيليجرام Hope

تُعد قناة Hope (@hope24hours) في القطاع اللغوي البنغالي لاعباً نشطاً. يضم المجتمع حالياً 17 825 مشتركاً، محتلاً المرتبة 4 679 في فئة الدين والقيم الروحية والمرتبة 1 238 في منطقة بنغلاديش.

📊 مؤشرات الجمهور والحراك

منذ تأسيسه في невідомо، حقق المشروع نمواً سريعاً وجمع 17 825 مشتركاً.

بحسب آخر البيانات بتاريخ 11 يونيو, 2026، تحافظ القناة على نشاط مستقر. خلال آخر 30 يوماً تغيّر عدد الأعضاء بمقدار -74، وفي آخر 24 ساعة بمقدار 0، مع بقاء الوصول العام مرتفعاً.

  • حالة التحقق: غير موثّقة
  • معدل التفاعل (ER): يبلغ متوسط تفاعل الجمهور 9.89‎%. وخلال أول 24 ساعة من النشر يحصد المحتوى عادةً 3.44‎% من ردود الفعل نسبةً إلى إجمالي المشتركين.
  • وصول المنشورات: يحصل كل منشور على متوسط 1 763 مشاهدة. وخلال اليوم الأول يجمع عادةً 614 مشاهدة.
  • التفاعلات والاستجابة: يتفاعل الجمهور بانتظام؛ متوسط التفاعلات لكل منشور يبلغ 30.

📝 الوصف وسياسة المحتوى

يصف المؤلف القناة بأنها مساحة للتعبير عن الآراء الذاتية:
আল্লাহ আপনার দুনিয়ার কষ্ট দূর করে দিক, আখিরাত সহজ করে দিক, আমীন। প্রয়োজনে: @HopeDM আমাদের সব চ্যানেলঃ https://t.me/Hope24hours/1215 এনোনিমাস মেসেজ পাঠাতে: https://chithi.me/Hope24hours উত্তর: https://t.me/a_teardrop

بفضل وتيرة التحديث المرتفعة (أحدث البيانات بتاريخ 12 يونيو, 2026) تحافظ القناة على حداثتها ومستوى وصول مرتفع. وتُظهر التحليلات تفاعلاً نشطاً من الجمهور، ما يجعلها نقطة تأثير مهمة ضمن فئة الدين والقيم الروحية.

17 825
المشتركون
لا توجد بيانات24 ساعات
-207 أيام
-7430 أيام
أرشيف المشاركات
Hope
17 828
দুআ...

Hope
17 828
দুরুদ...

Hope
17 828
"আমি কি তোমাকে এমন কিছু কথা শিখিয়ে দেব না যা তুমি দুঃখ-কষ্টে পড়লে বলবে? সেগুলো হচ্ছে- أَللَّهُ أَللَّهُ رَبِّي لَا أُشْرِكُ بِهِ شَيْئًا . 'আল্লাহ, আল্লাহ আমার রব। আমি তাঁর সাথে কোনো কিছুই শরীক করিনা"। [১] . শাইখ আব্দুর রাযযাক বিন আব্দিল মুহসিন আল বাদার [হাফি.] লিখেছেন, . "এর সামগ্রিক অর্থ হলো, 'তিনিই আমার সেই ইলাহ যাঁর আমি ইবাদত করি এবং ভয়, আশা, বিনয়, আনুগত্য, অন্তরের আকুতি ও আত্মনিবেদনসহ যাবতীয় ইবাদতকে কেবল যাঁর জন্যই সুনির্দিষ্ট করি। . তিনিই আমার সেই 'রব', যিনি আমাকে তাঁর নেয়ামত দিয়ে লালন-পালন করেছেন, শূন্য থেকে আমাকে অস্তিত্ব দান করেছেন এবং নানা প্রকারের দান ও অনুগ্রহ দিয়ে আমাকে ধন্য করেছেন'। . আর তাঁর ﷺ বাণী لَا أُشْرِكُ بِهِ شَيْئاً -আমি তাঁর সাথে কোনো কিছুই শরীক করিনা, এর অর্থ হলো, আমি ইবাদতের ক্ষেত্রে আল্লাহর সাথে অন্য কাউকেই অংশীদার বানাব না, সে যে-ই হোক না কেন। কারণ, বাক্যটিতে ব্যবহৃত شَيْئاً শব্দটি না-বোধক বাক্যের প্রেক্ষাপটে আসার কারণে তা ব্যাপকতা প্রকাশ করে (অর্থাৎ ছোট-বড়, দৃশ্য-অদৃশ্য কোনো শরীকই এর বাইরে নয়)। . যাহোক, এই মহান বাক্যটি তাওহীদের মূল দুটি রুকন বা স্তম্ভকে নিখুঁতভাবে ফুটিয়ে তুলেছে, তা হলো—'নাফি' (অস্বীকৃতি) এবং 'ইসবাত' (স্বীকৃতি)। অর্থাৎ আল্লাহ ছাড়া অন্য সকলের কাছ থেকে উপাস্য হওয়ার যোগ্যতা অস্বীকার করা এবং তা একমাত্র আল্লাহর জন্যই সাব্যস্ত করা। আর এই হাদিসটি একথার সুস্পষ্ট দলিল যে, যাবতীয় বিপদ-আপদ ও কঠিন সংকটে তাওহীদই হলো একমাত্র আশ্রয়স্থল, এবং মানুষের মনের দুশ্চিন্তা ও দুঃখ-কষ্ট দূর হওয়ার সবচেয়ে বড় মাধ্যম।"[২] . [১) ইমাম আবু দাউদ (রাহ.), আস সুনান, হা: ১৫২৫, শাইখ আলবানীর (রাহ.) মতে সহীহ; ২) শাইখ আব্দুর রাযযাক বিন আব্দিল মুহসিন আল বাদার (হাফি.), ফিক্বহুল আদঈয়্যাহ ওয়াল আযকার: ৩/১৮২] - উস্তাদ মানজুরুল করিম

Hope
17 828
ইবনুল জাওযি রহিমাহুল্লাহ বলেন, যদি জান্নাতে গিয়ে আমাকে দেখতে না পাও তবে আমার খোঁজ করো আর আমাদের রবকে বলো, ও আল্লাহ! তোমার অমুক বান্দা দুনিয়াতে আমাদেরকে তোমার পথে দাওয়াত দিত, তোমার কথা স্মরণ করিয়ে দিত। কথাগুলো বলতে বলতে তিনি কেঁদে ফেললেন। রহিমাহুল্লাহ। উত্তম সাথী কে? যাকে দেখে জান্নাতের কথা মনে পড়ে। যার সাথে কিছুক্ষণ থাকলে খুব ভালো হয়ে যেতে ইচ্ছে করে। যার আমল দেখলে খুব ঈর্ষা হয়। তার মতো আমল করতে ইচ্ছে হয়। যার সাথে জান্নাতে একসাথে থাকতে ইচ্ছে হয়। যার উদাহরণ আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম দিয়েছেন আতর বিক্রেতার সাথে। সে আশেপাশে থাকলেও লাভ, অন্তত সুগন্ধ পাওয়া যায়। আবু মূসা আশআরি রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত হাদিসে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, “সৎ ও অসৎ বন্ধুর উদাহরণ আতর বিক্রেতা ও কামারের ন্যায়। আতর বিক্রেতা হয়তো তোমাকে একটু আতর লাগিয়ে দেবে, অথবা তুমি তার কাছ থেকে আতর ক্রয় করবে, অথবা তুমি তার কাছে আতরের ঘ্রাণ পাবে। আর কামার হয়তো তোমার কাপড় পুড়িয়ে দেবে নয়তো তার কাছ থেকে খারাপ গন্ধ পাবে।”[বুখারি : ২১০১ ] শুধু তাই নয়, কিয়ামতের কঠিন দিনে আল্লাহ সুবহানু ওয়া তায়ালা সাত শ্রেণির ব্যক্তিকে তার আরশের ছায়া দেবেন। এর এক শ্রেণি হলো যারা দুনিয়াতে একে অন্যের সাথে আল্লাহর জন্যই সম্পর্ক গড়েছে আর আল্লাহর জন্যই কারও সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করেছে। যেদিন অনিন্দ্য সুন্দর জান্নাতের বাজারে আল্লাহর মনোনীত বান্দারা এক হবে, যেদিন শীতল পানির ঝর্না পাড়ে কিংবা নয়ানাভিরাম বাগানে আল্লাহর মুত্তাকিরা একত্রিত হবে, সত্যিকারের বন্ধুত্বের হ্যাপি এন্ডিং তো সেদিন। আল্লাহ যেন দুনিয়াতে আমাদের এমন বন্ধুদের সাথে রাখেন যারা জান্নাতে গিয়েও আমাদেরকে মিস করবে। মৃত্যুর পরও যাদের সিনা আমাদের সিনার সাথে লেগে থাকবে। যারা ইয়াউমাল কিয়ামাহর কঠিন দিনে আমাদেরকে আল্লাহর আরশের ছায়ায় নিয়ে যাবে। আল্লাহ আমাদেরকে তাওফিক দান করুন। আমীন। - সাজিদ ইসলাম

Hope
17 828
ল্যাপটপ কাজ করছিল না। প্রথমে ভাবলাম ব্যাটারির সমস্যা, নতুন ব্যাটারি কিনলাম কিন্তু সমস্যার সমাধান হলো না। আবার গেলাম ঐ দোকানে, সমস্যা নাকি চার্জারে, নতুন একটা চার্জারও কিনলাম। সঙ্গে এক ছোট ভাই ছিল। আপাতদৃষ্টিতে ছোট একটা সমস্যায় একসাথে এতগুলো টাকা চলে গেল বলে তাকে আফসোস করেই বললাম—হুদাই টাকাগুলো গচ্চা গেল। ছোটভাই জবাব দিল, ভাই এভাবেই তো আল্লাহ একজনকে দিয়ে আরেকজনের রিযিকের ব্যবস্থা করেন! সময়ের এক্সিসে মাপলে কথাটা বলতে কয়েক সেকেন্ড লেগেছে কিন্তু মুহূর্তেই চিন্তার জগতটা ১৮০ ডিগ্রি কোণে ঘুরে গেল। আরে তাই তো? এভাবেই তো এই দোকানির রিযিকের ব্যবস্থা হয়, ঠিক সেভাবে আমাদের সবার রিযিকের পেছনেও আল্লাহ কাউকে না কাউকে উছিলা বানিয়ে দেন। হঠাৎ আরও একটা উপলব্ধি হলো—উত্তম সোহবত! আল্লাহ কুরআনে বলেন, يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّـهَ وَكُونُوا مَعَ الصَّادِقِينَ “তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং সত্যবাদীদের সাথে থাকো” (সূরাহ আত তাওবা, ৯:১১৯) وَمَن يَتَوَلَّ اللَّـهَ وَرَسُولَهُ وَالَّذِينَ آمَنُوا فَإِنَّ حِزْبَ اللَّـهِ هُمُ الْغَالِبُونَ “আর যারা আল্লাহ তাঁর রসূল এবং বিশ্বাসীদেরকে বন্ধুরূপে গ্রহণ করে, তারাই আল্লাহর দল এবং তারাই বিজয়ী।” (সূরাহ মায়েদা, ৫:৫৬) هَلْ يَنظُرُونَ إِلَّا السَّاعَةَ أَن تَأْتِيَهُم بَغْتَةً وَهُمْ لَا يَشْعُرُونَ ﴿٦٦﴾ الْأَخِلَّاءُ يَوْمَئِذٍ بَعْضُهُمْ لِبَعْضٍ عَدُوٌّ إِلَّا الْمُتَّقِينَ “তারা কেবল কিয়ামতেরই অপেক্ষা করছে যে, আকস্মিকভাবে তাদের কাছে এসে যাবে এবং তারা খবরও রাখবে না। বন্ধুবর্গ সেদিন একে অপরের শত্রু হবে, তবে খোদাভীরুরা নয়।” (সূরাহ আয যুখরুফ, ৪৩:৬৬-৬৭) কেমন সঙ্গী আপনি বেছে নিচ্ছেন কিংবা কাদের সোহবতে সময় কাটাচ্ছেন এটাই মূলত আপনার জীবনের পরিণতি নির্ধারণ করে দেবে। এমনকি মৃত্যুশয্যায়ও এই বন্ধু নির্বাচনের ব্যাপারটা ভূমিকা রাখবে। মুজাহিদ রহিমাহুল্লাহ বলেন, মানুষ মৃতপ্রায় অবস্থায় পৌঁছে গেলে তার সামনে পেশ করা হয় বন্ধুবান্ধবদের। মরাণাপন্ন ব্যক্তি আড্ডাবাজ ও বিলাসপ্রিয় হলে তার সাথীগুলো হয় বদকার। আর সে ভালো মানুষ হলে সঙ্গীগুলো হয় নেককার। মুফতি শফি রহিমাহুল্লাহ বলেন, এজন্যই মানুষের উচিত উদাস ও আমুদে লোকদের সঙ্গ থেকে দূরে অবস্থান করা। অথচ আজ আমাদের ভালো বন্ধু কারা? যারা খুব লোক হাসাতে পারে, যারা কথায় কথায় কৌতুক করতে পারে, যারা ফেসবুকে খুব মজা করতে পারে, যারা সারাদিন আমাদেরকে অর্থহীন কাজে ব্যস্ত রাখতে পারে। এরাই আমাদের পছন্দের ব্যক্তি, আর আল্লাহও এদের সাথেই আমাদের হাশরের ব্যবস্থা করে দেবেন। আবু মূসা আশআরি রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-কে জিজ্ঞেস করা হলো, কোনো ব্যক্তি যদি এক সম্প্রদায়কে ভালোবাসে তাহলে সে তাদের সাথে কেন অবস্থান করবে না? উত্তরে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন: “ব্যক্তি তার সাথে থাকবে যাকে সে ভালবাসে।”[মুসলিম: ২৬৪১ ] অন্য এক বর্ণনায় আছে, বান্দা দুনিয়াতে যাকে ভালোবাসে তার হাশরও তার সাথেই হবে। শাইখ আব্দুর রহমান আরিফী হাফিযাহুল্লাহ একবার ওনার এক লেকচারে একটা ঘটনা বলেছিলেন, “হাসান আল বাসরি রহিমাহুল্লাহ বলেছেন, তোমরা পৃথিবীতে ভালো মানুষদের সাথে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রাখতে তৎপর হও, কারণ এই সম্পর্কের কারণে হয়তো তোমরা আখিরাতে উপকৃত হতে পারবে। তাঁকে জিজ্ঞেস করা হলো কীভাবে? তিনি বললেন, যখন জান্নাতিরা জান্নাতে অধিষ্ঠিত হয়ে যাবে তখন তারা পৃথিবীর ঘটনা স্মরণ করবে এবং তাদের পৃথিবীর বন্ধুদের কথা মনে পড়ে যাবে। তারা বলবে, আমি তো আমার সেই বন্ধুকে জান্নাতে দেখছি না, কী করেছিল সে? তখন বলা হবে, সে তো জাহান্নামে। তখন সেই মুমিন ব্যক্তি আল্লাহর কাছে বলবেন, হে আল্লাহ, আমার বন্ধুকে ছাড়া আমার কাছে জান্নাতের আনন্দ পরিপূর্ণ হচ্ছে না। অতঃপর আল্লাহ তাআলা আদেশ করবেন অমুক ব্যাক্তিকে জাহান্নাম থেকে বের করে জান্নাতে প্রবেশ করাতে। (অন্তরে সরিষা দানা পরিমাণ ঈমানও আছে এমন ব্যক্তিদের) তার বন্ধু জাহান্নাম থেকে রক্ষা পেল এই কারণে নয় যে সে তাহাজ্জুদ পড়ত, বা কুরআন পড়ত বা সাদাকা করত বা রোযা রাখত, বরং সে মুক্তি পেল কেবলই এই কারণে যে তার বন্ধু তার কথা স্মরণ করেছে। তার জান্নাতি বন্ধুর সম্মানের খাতিরে তাকে জাহান্নাম থেকে মুক্তি দেয়া হলো। জাহান্নামিরা তখন অত্যন্ত অবাক হয়ে জানতে চাইবে কী কারণে তাকে জাহান্নাম থেকে মুক্তি দেয়া হলো, তার বাবা কি শহিদ? তার ভাই কি শহিদ? তার জন্য কি কোনো ফেরেশতা বা নবি শাফায়াত করেছেন? বলা হবে না, বরং তার বন্ধু জান্নাতে তার জন্য আল্লাহর কাছে অনুরোধ করেছে। এই কথা শুনে জাহান্নামিরা আফসোস করে বলবে, হায় আজ আমাদের জন্য কোনো শাফায়াতকারি নেই এবং আমাদের কোনো সত্যিকারের বন্ধু নেই। যার উল্লেখ আছে এই আয়াতগুলোতে, “অতএব আমাদের কোনো সুপারিশকারী নেই। এবং কোনো সহৃদয় বন্ধু ও নেই।” (সূরাহ আশা-শুআরা, ২৬: ১০০-১০১)”

Hope
17 828
আল কুরআন: আল-বাকারাহ্ ২:২৯ Surah Baqarah ২:২৫ وَبَشِّرِ ٱلَّذِينَ ءَامَنُواْ وَعَمِلُواْ ٱلصَّٰلِحَٰتِ أَنَّ لَهُمۡ جَنَّٰتٖ تَجۡرِي مِن تَحۡتِهَا ٱلۡأَنۡهَٰرُۖ كُلَّمَا رُزِقُواْ مِنۡهَا مِن ثَمَرَةٖ رِّزۡقٗا قَالُواْ هَٰذَا ٱلَّذِي رُزِقۡنَا مِن قَبۡلُۖ وَأُتُواْ بِهِۦ مُتَشَٰبِهٗاۖ وَلَهُمۡ فِيهَآ أَزۡوَٰجٞ مُّطَهَّرَةٞۖ وَهُمۡ فِيهَا خَٰلِدُونَ অর্থ : আর যারা ঈমান এনেছে এবং সৎ কাজ করেছে তাদেরকে শুভ সংবাদ দিন যে, তাদের জন্য রয়েছে জান্নাত, যার তলদেশে নদী প্রবাহিত [১]। যখনই তাদেরকে ফলমুল খেতে দেয়া হবে তখনই তারা বলবে, ‘আমাদেরকে পূর্বে জীবিকা হিসেবে যা দেয়া হত এতো তাই’। আর তাদেরকে তা দেয়া হবে সাদৃশ্যপূর্ণ করেই [২] এবং সেখনে তাদের জন্য রয়েছে পবিত্র সঈিনী [৩]। আর তারা সেখানে স্থায়ী হবে [৪]। [১] 'জান্নাতের তলদেশে নদী প্রবাহিত' বলে এটাই বোঝানো হয়েছে যে, এর গাছের নীচ দিয়ে ও এর কামরাসমূহের নীচ দিয়ে নদীসমূহ প্রবাহিত। ইবন মাস‘উদ রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, জান্নাতের নদী-নালাসমূহ মিশকের পাহাড় থেকে নির্গত। [সহীহ ইবন হিব্বান ৭৪০৮] আনাস ও ইবন আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত যে, 'জান্নাতের নহরসমূহ খাদ হয়ে প্রবাহিত হবে না। [সহীহুত তারগীব] অন্য বর্ণনায় এসেছে, হাউজে কাউসারের দুই তীর লালা-মোতির গড়া বিরাট গম্বুজ বিশিষ্ট হবে। [বুখারী ৬৫৮১] আর তার মাটি হবে মিশকের সুগন্ধে ভরপুর। তার পথে বিছানো কাঁকরগুলো হলো লাল-জহরত, পান্না-চুন্নি সদৃশ। [ইবন কাসীর] [২] জান্নাতবাসীদেরকে একই আকৃতি বিশিষ্ট বিভিন্ন ফলমূল পরিবেশনের উদ্দেশ্য হবে পরিতৃপ্তি ও আনন্দ সঞ্চার। কোনো কোনো তাফসীরকারের মতে ফলমূল পরস্পর সাদৃশ্যপূর্ণ হওয়ার অর্থ জান্নাতের ফল-ফলাদি আকৃতিগতভাবে ইহজগতে প্রাপ্ত ফলের অনুরূপই হবে। সেগুলো যখন জান্নাতীগণের মধ্যে পরিবেশন করা হবে, তখন তারা বলে উঠবে, অনুরূপ ফল তো আমরা দুনিয়াতেও পেতাম। কিন্তু স্বাদ ও গন্ধ হবে সম্পূর্ণ ভিন্ন ধরণের। অপর কোনো কোনো তাফসীরকারকের মতে, ফলমূল পরস্পর সাদৃশ্যপূর্ণ হওয়ার অর্থ, জান্নাতে পরিবেশিত ফল-মূলাদি দেখে জান্নাতিগণ বলবে যে, এটা তো গতকালও আমাদের দেয়া হয়েছে, তখন জান্নাতের খাদেমগণ তাদের বলবে যে, দেখতে একই রকম হলেও এর স্বাদ ভিন্ন। ইবন আব্বাস বলেন, দুনিয়ার ফলের সংগে আখেরাতের ফল-মূলের কোনো তুলনাই চলবে না, শুধু নামের মিল থাকবে। [ইবন কাসীর] [৩] মূল আরবী বাক্যে ‘আযওয়াজ’ শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে। এটি বহুবচন। এর এক বচন হচ্ছে ‘যওজ’, অর্থ হচ্ছে জোড়া। এ শব্দটি স্বামী বা স্ত্রী অর্থে ব্যবহার করা হয়। স্বামীর জন্য স্ত্রী হচ্ছে ‘যওজ’ ! আবার স্ত্রীর জন্য স্বামী হচ্ছে ‘যওজ’। তবে আখেরাতে আযওয়াজ অর্থাৎ জোড়া হবে পবিত্রতার গুণাবলী সহকারে। জান্নাতে পবিত্র ও পরিচ্ছন্ন স্ত্রী লাভের অর্থ, তারা হবে পার্থিব যাবতীয় বাহ্যিক ও গঠনগত ক্রটি-বিচ্যুতি ও চরিত্রগত কলুষতা থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত এবং প্রস্রাব-পায়খানা, রক্তস্রাব, প্রসবোত্তর স্রাব প্রভৃতি যাবতীয় ঘৃণ্য বিষয়ের উর্ধ্বে। অনুরূপভাবে নীতিভ্রষ্টতা, চরিত্রহীনতা, অবাধ্যতা প্রভৃতি আভ্যন্তরীণ ক্রটি ও কদৰ্যতার লেশমাত্রও তাদের মধ্যে পাওয়া যাবে না। তাদের গুণাগুণ সম্পর্কে বিভিন্ন আয়াতে এসেছে যে, “তাদের সংগে থাকবে আয়তনয়না, ডাগর চোখ বিশিষ্টাগুণ।" [সূরা আস-সাফফাত: ৪৮] আরও বলা হয়েছে, “তারা যেন পদ্মরাগ ও প্রবাল।" [সূরা আর-রহমান: ৫৮] আরও এসেছে, “আর তাদের জন্য থাকবে ডাগর চক্ষুবিশিষ্টা হুর, যেন তারা সুরক্ষিত মুক্তা।" [সূরা আল-ওয়াকি'আ: ২২-২৩) অনুরূপভাবে এসেছে, “আর সমবয়স্কা উদভিন্ন যৌবনা তরুণী।" [সূরা আন-নাবা: ৩৩] যদি দুনিয়ার কোনো সৎকর্মশীল পুরুষের স্ত্রী সৎকর্মশীলা না হয় তাহলে আখেরাতে তাদের সম্পর্ক ছিন্ন হয়ে যাবে। সে ক্ষেত্রে ঐ সৎকর্মশীল পুরুষটিকে অন্য কোনো সৎকর্মশীলা স্ত্রী দান করা হবে। আর যদি দুনিয়ায় কোনো স্ত্রী হয় সৎকর্মশীলা এবং তার স্বামী হয় অসৎ, তাহলে আখেরাতে ঐ অসৎ স্বামী থেকে তাকে বিচ্ছিন্ন করে কোনো সৎ পুরুষকে তার স্বামী হিসেবে দেয়া হবে। তবে যদি দুনিয়ায় কোনো স্বামী-স্ত্রী দুজনই সৎকর্মশীল হয়, তাহলে আখেরাতে তাদের এই সম্পর্কটি চিরন্তন ও চিরস্থায়ী সম্পর্কে পরিণত হবে। [৪] বলা হয়েছে যে, জান্নাতের সুখ-স্বাচ্ছন্দ্য ও ভোগ-বিলাসের উপকরণসমূহকে যেন দুনিয়ার পতনশীল ও ক্ষীয়মান উপকরণসমূহের ন্যায় মনে না করা হয় যাতে যেকোনো মূহুর্তে ধ্বংস ও বিলুপ্তির আশংকা থাকে। বরং জান্নাতবাসীগণ অনন্তকাল সুখস্বাচ্ছন্দ্যের এই অফুরন্ত উপকরণসমূহ ভোগ করে বিমল আনন্দ-স্ফূর্তি ও চরম তৃপ্তি লাভ করতে থাকবেন। [ইবন কাসীর]  -Tafsir Abu Bakr Zakaria সব গুলো পর্ব সিরিয়ালে @ayatannur এ পাবেন।

Hope
17 828
আমি মাঝেমধ্যেই একটা বিষয় সম্পর্কে সতর্ক করি, সেটা হচ্ছে উইয়ার্ড জিনিস থেকে দূরে থাকেন। দুনিয়ায় একের পর এক এমন সব জিনিস আসতেই থাকবে, তাই বলে কি স্রোতে গা ভাসিয়ে দিতে হবে? একটা বিষয় সামনে আসলে নিজেকে প্রশ্ন করুন, যদি তাকওয়া অন্তরে থাকে তাহলে খটকা লাগবেই। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, «وَالْإِثْمُ مَا حَاكَ فِي نَفْسِكَ» . "পাপ হচ্ছে তা যা তোমার মনে খটকা সৃষ্টি করে"। [১] . তবে এজন্য মনটাও তেমন মন হওয়া লাগবে। নয়তো যে নফস পাপের অন্ধকারে কলূষিত সে মনে কোনো খটকা লাগবে না। সে মন বরং পাপের জিনিস দেখলে আরও ঝাপিয়ে পড়বে। বিভিন্ন ভাবে একে হালালাইজ করার প্রয়াস নেবে। . দুই দিন ফেবুতে কোনো এক হালালা সেন্টার নিয়ে লেখা দেখলাম। আজকে দেখলাম সেটার আবেদনকারীদের নাম প্রকাশ হয়েছে। এই যে আবেদনকারী লোকগুলো, এসব পাঁঠা হতে চাওয়াদের সিংহভাগকে দেখা যাচ্ছে যে বিভিন্ন দ্বীনি প্রতিষ্ঠানে পড়া। এরপরও এই অবস্থা কেন ? . আসলে অনেকেই সুযোগের অভাবে ভালো থাকে। কিন্তু সুযোগ পাওয়ামাত্রই পাপে জড়িয়ে যায়। এজন্য যেসব প্রতিষ্ঠানে মানুষ দিনরাত আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কথা বলছে, পড়ছে, শিখছে, সেখানে আজকাল বিভিন্ন নিকৃষ্ট পাপের কথা শোনা যাচ্ছে। . মূল সমস্যা হচ্ছে তাকওয়া, অন্তরে তাকওয়া পয়দা না হলে আপনি অনলাইনে থাকেন আর অফলাইনে, মাদ্রাসায় পড়েন আর আধুনিক শিক্ষায় শিক্ষিত হন, পাপের টান আপনি ছাড়তে পারবেন না। ফলে সুযোগ পাওয়ামাত্র ঝাঁপিয়ে পড়বেন। আর আল্লাহ তাআলাও আপনাকে লাঞ্ছিত করবেন। . সফল হতে হলে জীবনে তাকওয়ার কোনো বিকল্প নেই। আল্লাহ তাআলা বলেন, وَٱتَّقُوا۟ ٱللَّهَ لَعَلَّكُمۡ تُفۡلِحُونَ . "আর তোমরা আল্লাহকে ভয় কর, যেন তোমরা সফল হতে পার"। [২] . [১) ইমাম মুসলিম (রাহ.), আস সহীহ, হা: ২৫৫৩; ২) সূরা আলে ইমরান: ১৩০] - মানজুরুল করিম

Hope
17 828
আলী রাযি. থেকে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন أَلَا أُخْبِرُكُمْ بِأَرْجَى آيَةٍ فِي الْقُرْآنِ؟ আমি কি তোমাদেরকে কুরআনের সবচেয়ে আশাব্যঞ্জক আয়াতটি জানাব না? লোকেরা বলল, হ্যাঁ, অবশ্যই। তখন তিনি তাদের সামনে এই আয়াতটি তিলাওয়াত করলেন وَمَا أَصَابَكُمْ مِنْ مُصِيبَةٍ فَبِمَا كَسَبَتْ أَيْدِيكُمْ وَيَعْفُو عَنْ كَثِيرٍ তোমাদের ওপর যে বিপদ-মুসিবত আসে, তা তোমাদের কৃতকর্মের ফল; আর আল্লাহ অনেক কিছুই ক্ষমা করে দেন। [সূরা আশ-শূরা : ৩০] এরপর তিনি বলেন وَإِذَا كَانَ ‌يُكَفِّرُ ‌عَنِّي ‌بِالْمَصَائِبِ وَيَعْفُو عَنْ كَثِيرٍ، فَمَا يَبْقَى بَعْدَ كَفَّارَتِهِ وَعَفْوِهِ؟! যদি আল্লাহ দুনিয়ার বিপদ-মুসিবতের মাধ্যমে আমার গুনাহের কাফফারা করে দেন এবং অনেক গুনাহ এমনিতেই মাফ করে দেন—তাহলে এরপর আর কী-ই বা অবশিষ্ট থাকে!  [আল-হিদায়াহ ইলা বুলূগিন নিহায়াহ : ১০/৬৫৯৭] Umayer Kobbadi

Hope
17 828
Repost from N/a
আল কুরআন: আল-বাকারাহ্ ২:২৮ Surah Baqarah ২:২৪ فَإِن لَّمۡ تَفۡعَلُواْ وَلَن تَفۡعَلُواْ فَٱتَّقُواْ ٱلنَّارَ ٱلَّتِي وَقُودُهَا ٱلنَّاسُ وَٱلۡحِجَارَةُۖ أُعِدَّتۡ لِلۡكَٰفِرِينَ অর্থ : অতএব, যদি তোমরা তা করতে না পারো আর কখনই তা করতে পারবে না [১], তাহলে তোমরা সে আগুন থেকে বাঁচার ব্যবস্থা করো, যার ইন্ধন হবে মানুষ ও পাথর [২], যা প্রস্তুত করে রাখা হয়েছে [৩] কাফেরদের জন্য। [১] এটা কুরআনের বিশেষ মু'জিযা। একমাত্র কুরআনই নিঃসংকোচে সৰ্বকালের জন্য নিজ স্বীকৃত সত্তার এভাবে ঘোষণা দিতে পারে। যেভাবে রাসূলের যুগে কেউ এ কুরআনের মত আনতে পারে নি। তেমনি কুরআন এ ঘোষণাও নিঃশঙ্ক ও নিঃসংকোচে দিতে পেরেছে যে, যুগের পর যুগের জন্য, কালের পর কালের জন্য এই চ্যলেঞ্জ ছুড়ে দেয়া হচ্ছে যে, এ কুরআনের মত কোনো কিতাব কেউ কোনো দিন আনতে পারবে না। অনুরূপই ঘটেছে এবং ঘটে চলেছে। রাসূলের যুগ থেকে আজ পর্যন্ত কেউ এ কুরআনের মত কিছু আনার দুঃসাহস দেখাতে পারে নি। আর কোনোদিন পারবেও না। গোটা বিশ্বের যিনি সৃষ্টিকর্তা তাঁর কথার সমকক্ষ কোনো কথা কি কোন সৃষ্টির পক্ষে আনা সম্ভব? [২] ইবন কাসীর বলেন, এখানে ‘পাথর’ দ্বারা কালো গন্ধক পাথর বোঝানো হয়েছে। গন্ধক দিয়ে আগুন জ্বালালে তার তাপ ভীষণ ও স্থায়ী হয়। আসমান যমীন সৃষ্টির সময়ই আল্লাহ্ তা'আলা কাফিরদের জন্য তা সৃষ্টি করে প্রথম আসমানে রেখে দিয়েছেন। কোনো কোনো মুফাসসির বলেন, এখানে ঐ সমস্ত পাথর উদ্দেশ্য, যেগুলোর ইবাদাত করা হয়েছে। [ইবন কাসীর] আর জাহান্নামের আগুন সম্পর্কে হাদীসে এসেছে, “তোমাদের এ আগুন জাহান্নামের আগুনের সত্তর ভাগের এক ভাগ। সাহাবায়ে কিরাম বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! এ এক ভাগ দিয়ে শাস্তি দিলেই তো যথেষ্ট হতো। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, জাহান্নামের আগুন তোমাদের আগুনের তুলনায় উনসত্তর গুণ বেশী উত্তপ্ত।" [বুখারী ৩২৬৫, মুসলিম ২৪৮৩] [৩] এ আয়াতাংশের ব্যাখ্যা হচ্ছে, জাহান্নাম কাফেরদের জন্য প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এখানে (اعِدَّ) এর সর্বনামটির ইঙ্গিত সুস্পষ্টতই মানুষ ও পাথর দ্বারা প্রজ্জ্বলিত জাহান্নামের দিকে। অবশ্য এ সর্বনামটি পাথরের ক্ষেত্রেও হতে পারে। তখন অর্থ দাঁড়ায়, পাথরগুলো কাফিরদের শাস্তি প্রদানের জন্য তৈরী করে রাখা হয়েছে। ইবন মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে অনুরূপ তাফসীর বর্ণিত হয়েছে। প্রকৃতপক্ষে উভয় অর্থের মধ্যে বড় ধরনের কোনো তফাৎ নেই। একটি অপরটির পরিপূরক ও পরস্পর অঙ্গাঙ্গীভাবে জড়িত। আগুন বিহীন যেমন পাথর জ্বলে না, তেমনি পাথর বিহীন আগুনের দাহ্য ক্ষমতাও বাড়ে না। সুতরাং উভয় উপাদানই কাফেরদের কঠোর শাস্তি দেয়ার জন্যে প্রস্তুত রাখা হয়েছে। আয়াতের এ অংশ দ্বারা আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআতের ইমামগণ দলীল নেন যে, জাহান্নাম বর্তমানে তৈরী করা অবস্থায় আছে। জাহান্নাম যে বাস্তবিকই বর্তমানে রয়েছে তার প্রমাণ অনেক হাদীস দ্বারা পাওয়া যায়। যেমন, জাহান্নাম ও জান্নাতের বিবাদের বর্ণনা সংক্রান্ত হাদীস। [বুখারী ৪৮৪৯, মুসলিম: ২৮৪৬] জাহান্নামের প্রার্থনা মোতাবেক তাকে বছরে শীত ও গ্রীষ্মে দুই বার শ্বাস-প্রশ্বাস গ্রহণের অনুমতি প্রদানের বর্ণনা [বুখারী ৫৩৭, মুসলিম ৬৩৭] ইবন মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে এক হাদীসে আছে, “আমরা একটি বিকট শব্দ শুনে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে তার কারণ জানতে চাওয়ায় তিনি বললেন, এটা সত্তর বছর পূর্বে জাহান্নামের উদ্দেশ্যে নিক্ষিপ্ত পাথর জাহান্নামে পতিত হওয়ার আওয়ায।" [মুসলিম ২৮৪৪, মুসনাদে আহমাদ ২/৪৭১] তাছাড়া সূর্যগ্রহণের সালাত এবং মিরাজের রাত্রির ঘটনাবলীও প্রমাণ করে যে, জান্নাত ও জাহান্নাম উভয়টিই তৈরী করে রাখা হয়েছে। [ইবন কাসীর]  -Tafsir Abu Bakr Zakaria সব গুলো পর্ব সিরিয়ালে @ayatannur এ পাবেন।

Hope
17 828
আলী রাযি. থেকে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন أَلَا أُخْبِرُكُمْ بِأَرْجَى آيَةٍ فِي الْقُرْآنِ؟ আমি কি তোমাদেরকে কুরআনের সবচেয়ে আশাব্যঞ্জক আয়াতটি জানাব না? লোকেরা বলল, হ্যাঁ, অবশ্যই। তখন তিনি তাদের সামনে এই আয়াতটি তিলাওয়াত করলেন وَمَا أَصَابَكُمْ مِنْ مُصِيبَةٍ فَبِمَا كَسَبَتْ أَيْدِيكُمْ وَيَعْفُو عَنْ كَثِيرٍ তোমাদের ওপর যে বিপদ-মুসিবত আসে, তা তোমাদের কৃতকর্মের ফল; আর আল্লাহ অনেক কিছুই ক্ষমা করে দেন। [সূরা আশ-শূরা : ৩০] এরপর তিনি বলেন وَإِذَا كَانَ ‌يُكَفِّرُ ‌عَنِّي ‌بِالْمَصَائِبِ وَيَعْفُو عَنْ كَثِيرٍ، فَمَا يَبْقَى بَعْدَ كَفَّارَتِهِ وَعَفْوِهِ؟! যদি আল্লাহ দুনিয়ার বিপদ-মুসিবতের মাধ্যমে আমার গুনাহের কাফফারা করে দেন এবং অনেক গুনাহ এমনিতেই মাফ করে দেন—তাহলে এরপর আর কী-ই বা অবশিষ্ট থাকে! [আল-হিদায়াহ ইলা বুলূগিন নিহায়াহ : ১০/৬৫৯৭] Umayer Kobbadi

Hope
17 828
হঠাৎ ভূমিকম্প হয়ে গেলো! কেউ টের পেয়েছেন? ___ ছয়তলায় (টপ ফ্লোরে) থাকার কারণে ভূমিকম্পের কাঁপুনি এবার অনেক বেশি অনুভূত হলো। অজান্তেই মুখে আল্লাহর তাসবীহ উচ্চারিত হতে থাকলো। মৃত্যুভয় যেন বুকের ভেতর হঠাৎ ছায়া ফেলে দিল—সব কিছু থমকে গেল, আর মনে হলো এই জীবন সত্যিই কত নাজুক, কত ক্ষণস্থায়ী। আস্তাগফিরুল্লাহ রাব্বি মিন কুল্লি যান্বিন ওয়া আতূবু ইলাইহি ওয়ালা হাওলা ওয়ালা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহিল আলিয়্যিল আজিম..

Hope
17 828
মনে করুন আপনি একটা কক্ষে বন্দী। মুক্তির একমাত্র উপায় জানালা ভেঙ্গে বের হওয়া, কিন্তু আপনার সম্বল শুধুমাত্র ছোট কিছু পাথরের টুকরো। আপনি জানালায় একটা ছোট পাথর ছুড়লেন। তাতে জানাল ভাঙ্গলো না, কিন্তু খুব সুক্ষ্ম একটা ফাটল ধরলো। আপনি আরেকটা পাথর ছুড়লেন। আরেকটা ছোট ফাটল। আপনি আবার একটা পাথর ছুড়ে দিলেন, তারপর আরেকটি। তারপর আরেকটি। যতক্ষণ না পর্যন্ত পুরো জানালা অসংখ্য সুক্ষ্ম ফাটলে ভরে গেছে। শেষবারের মতো আপনি একটা পাথর ছুড়ে দিলেন এবং জানালার কাঁচ ভেঙ্গে গেলো। এবং আপনি বন্দিত্ব থেকে মুক্তি পেলেন। দু’আও এভাবেই কাজ করে। আপনি প্রতিটি দু’আর মাধ্যমে আংশিক জবাব পেতে থাকেন এবং আপনি ধৈর্য ও অবিচলতার সাথে একই দু’আ বারবার করার মাধ্যমে ক্রমান্বয়ে শেষ পর্যন্ত দু’আর পরিপূর্ণ জবাব পাবেন। এজন্যই গুহায় আটকে পড়া তিনজন ব্যক্তিকে নিয়ে যে অতি পরিচিত হাদীসটি আছে, সেখানে আমরা দেখতে পাই যে, প্রথম ব্যক্তির দু’আর ফলে গুহামুখের পাথরটি সামান্যই সরেছিলো। দ্বিতীয় ব্যক্তির দু’আর পর পাথরটি আর একটু সরলো। এবং তৃতীয় ব্যক্তির দু’আর পরই তাঁরা তিনজন তাঁদের কাঙ্ক্ষিত ফল পেলেন – পাথরটি ওই পরিমাণে সরলো যার ফলে তাঁরা গুহা থেকে মুক্তি পেলেন। মনে রাখবেন প্রথম পাথরটি শুধু একটি ফাটলই ধরাবে। কিন্তু যদি আপনি পাথর ছুড়তে থাকেন তাহলে এক সময় জানাল ভেঙ্গে যাবে এবং আপনি মুক্ত হবেন। এর জন্য সময়ের প্রয়োজন। এই জন্যই হাদিসটিতে আমাদের বলা হচ্ছে – “…যতক্ষণ পর্যন্ত সে অধৈর্য না হচ্ছে” আপনি যখন কোন চারাগাছে পানি দেন, তখন নিশ্চয় আপনি একসাথে ত্রিশ গ্যালন পানি ঢেলে দিয়ে, কেন মাটি থেকে বিশাল মহীরুহ বের হচ্ছে না,সেটা নিয়ে চিন্তা করে বসেন না। বরং আপনি ধৈর্য সহকারে প্রতিদিন একটু একটু করে পানি দিতে থাকেন এটা জেনে যে, যত সময়ই লাগুক না কেন,শেষ পর্যন্ত কাঙ্ক্ষিত ফুলটি পাবেন। একইভাবে আপনি জানেন, আল্লাহ্ আপনার প্রতি তাঁর অঙ্গীকার পূর্ণ করবেন এবং আপনার দু’আর জবাব দেবেন – এটা সত্য। কিন্তু মুহূর্তের মধ্যে অলৌকিকভাবে দু’আর উত্তর পাওয়া নিয়মের ব্যাতিক্রম, নিয়ম না। নিয়ম হলো আল্লাহর কাছে কোন কিছু চাওয়া এবং তাঁর কাছ থেকে এর উত্তর পাওয়ার প্রক্রিয়া সময় ও ধৈর্যের উপর নির্ভরশীল। যেমনটি ইবনে আল জাওযী, সায়দ আল খাতির – এ বলেছেনঃ “কষ্ট-দুঃখ-দুর্দশা শেষ হবার একটি নির্ধারিত সময় আছে যা শুধু আল্লাহ্ জানেন। তাই যে ব্যক্তি দুঃখ-দুর্দশার মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে তাকে ধৈর্যশীল হতে হবে। আল্লাহ্র নির্ধারিত সময় আসার আগে ধৈর্য হারিয়ে ফেলা, কোন কাজে লাগবে না। ধৈর্য আবশ্যক কিন্তু দু’আ ছাড়া ধৈর্য অর্থহীন। যেই ব্যক্তি আল্লাহর কাছে দু’আ কছে তাঁর কাছে সাহায্য চাইছে তাঁর উচিত না অধৈর্য হওয়া। বরং তাঁর উচিত, ধৈর্য, সালাহ এবং দু’আর মাধ্যমে সর্বজ্ঞানী আল্লাহর ইবাদাতে নিয়োজিত হওয়া। অধৈর্য ব্যক্তি তাঁর ধৈর্য হারানোর মাধ্যমে আল্লাহ্র পরিকল্পনা লঙ্ঘন করার চেষ্টা করছে এবং এটা আল্লাহ্র সামনে একজন গোলাম ও বান্দার উপযুক্ত আচরণ কিংবা অবস্থান নয়। আল্লাহর বান্দা হিসেবে আমাদের জন্য শ্রেষ্ঠ অবস্থান হলো, আল্লাহর কাছ থেকে আসা তাকদীরকে মেনে নেওয়া। এবং এজন্য প্রয়োজন ধৈর্য। এবং এর সর্বোৎকৃষ্ট পন্থা হলো সালাহর মাধ্যমে ক্রমাগত আল্লাহ্-র কাছে ভিক্ষা চাওয়া। আল্লাহর কাছ থেকে আসা তাকদীরের বিরোধিতা করা হারাম এবং এটা আল্লাহর পরিকল্পনা লঙ্ঘনের চেষ্টার মধ্যে পরে। তাই এই বিষয়গুলো অনুধাবন করো এবং তোমার জন্য তোমার দুঃখ-কষ্ট-দুর্দশা সহ্য করা অনেক সহজ হবে।” courtesy: পর্নোগ্রাফিঃ মানবতার জন্য হুমকি

Hope
17 828
দুরুদ...

Hope
17 828
কত তাহাজ্জুদগুজার বান্দাকে আল্লাহর রাস্তা থেকে হারিয়ে যেতে দেখেছি, জেগে থেকেও ফরজে পর্যন্ত অবহেলা করার দুঃসাহস করতে দেখেছি! ভয় লাগে। রাস্তা ভুলে হারিয়ে যাওয়াটা পলকের ব্যাপার মাত্র। . ওইদিকে এই আধুনিক সময়েও, কত বান্দাকে দেখেছি আগে খেয়ে নিয়ে ইশার সলাতের পরই ঘুমিয়ে যেতে, যেন সুন্নাতের খিলাফ না হয়, তাহাজ্জুদ না ছুটে যায়। ফরজ যেন থাকে অটুট আর সুন্দর। . প্রায়োরিটি। আর কিছু না। আপনি আসলে হারিয়ে গেছেন। নিজেকে এই-সেই বুঝ দিয়ে দুনিয়ায় মেতে থাকতে থাকতে নিজের রাব্বকে ভুলেছেন, ছেড়েছেন, সরেছেন। . ভেবে দেখুন, আপনার আজকের এই অবস্থান, দুনিয়া নিয়ে ব্যস্ততা, আল্লাহ থেকে দূরে সরে যাওয়া, পুরোটাই ছিলো আপনার চয়েস, আপনারই সিদ্ধান্ত। তাই আপনাকেও আপনার যাবতীয় ভনিতা আর অজুহাতের উপরে সোপর্দ করা হয়েছে। এর উপরেই থাকবেন কিনা, এভাবেই চালিয়ে যাবেন কিনা, সেটাও আপনার ব্যাপার। কোন জোরাজুরি করবে না কেউ। . যে আল্লাহকে সত্যিই চায়, আল্লাহকে প্রায়োরিটি দেয়, তাকে আল্লাহ আরো বেশি বেশি করে আল্লাহর সান্নিধ্যে রাখেন, সহজ করে দেন, অন্তরকে প্রাচুর্য দিয়ে ভরিয়ে দেন, আর আরো বেশি আল্লাহর ইবাদাত করার তৌফিক দিয়ে দেন। কারণ, আল্লাহও যে তাকে ভালবাসেন। . আর যে আল্লাহকে চেনার পরেও, আল্লাহর দিক থেকে একবারের জন্যেও অন্যদিকে তাকানোর দুঃসাহস করে... . শুকরিয়া এটাই যে, ফেরার রাস্তা খোলা। এই লেখাটা পড়ার তৌফিক হয়েছে মানেই এখনো সুযোগ আছে। কতজন গোপনে গোপনে এগিয়ে যাচ্ছে তাদের রাব্বের দিকে। কোনদিকে, কারও দিকে না তাকিয়ে এক মনে... নিজের কবর, হাশর, পুলসিরাত আর জাহান্নামের কথা ভেবে ভেবে সেই মানুষগুলো চোখ লাল করে, গাল ভিজিয়ে প্রস্তুতি নিতে নিতে দিনরাত হয়রান হয়ে যাচ্ছে! . কেউ তাদেরকে চিনে না৷ দরকারও নেই। তারাও চায়, তাদেরকে শুধু তাদের রাব্ব চিনুক। তারাও চায়, কেবলই তাদের রাব্বকে চিনতে, ভালবাসতে। সেই দয়াময় রাব্বের সাথে সময় কাটাতে। আপনিও আজ থেকে তাদের একজন হয়ে যেতে পারেন। আলহামদুলিল্লাহ, সিদ্ধান্ত নিয়ে ফিরবার সুযোগ এখনো আছে। - ওহী পেজ থেকে...

Hope
17 828
গুরুত্বপূর্ণ তাদাব্বুর। সাইয়েদ আবুল হাসান আলী নদবী রহিমাহুল্লাহর একটি প্রবন্ধ থেকে... - সাদিক শাহরিয়ার
গুরুত্বপূর্ণ তাদাব্বুর। সাইয়েদ আবুল হাসান আলী নদবী রহিমাহুল্লাহর একটি প্রবন্ধ থেকে... - সাদিক শাহরিয়ার

Hope
17 828
Repost from N/a
আল কুরআন: আল-বাকারাহ্ ২:২৯ Surah Baqarah ২:২৫ وَبَشِّرِ ٱلَّذِينَ ءَامَنُواْ وَعَمِلُواْ ٱلصَّٰلِحَٰتِ أَنَّ لَهُمۡ جَنَّٰتٖ تَجۡرِي مِن تَحۡتِهَا ٱلۡأَنۡهَٰرُۖ كُلَّمَا رُزِقُواْ مِنۡهَا مِن ثَمَرَةٖ رِّزۡقٗا قَالُواْ هَٰذَا ٱلَّذِي رُزِقۡنَا مِن قَبۡلُۖ وَأُتُواْ بِهِۦ مُتَشَٰبِهٗاۖ وَلَهُمۡ فِيهَآ أَزۡوَٰجٞ مُّطَهَّرَةٞۖ وَهُمۡ فِيهَا خَٰلِدُونَ অর্থ : আর যারা ঈমান এনেছে এবং সৎ কাজ করেছে তাদেরকে শুভ সংবাদ দিন যে, তাদের জন্য রয়েছে জান্নাত, যার তলদেশে নদী প্রবাহিত [১]। যখনই তাদেরকে ফলমুল খেতে দেয়া হবে তখনই তারা বলবে, ‘আমাদেরকে পূর্বে জীবিকা হিসেবে যা দেয়া হত এতো তাই’। আর তাদেরকে তা দেয়া হবে সাদৃশ্যপূর্ণ করেই [২] এবং সেখনে তাদের জন্য রয়েছে পবিত্র সঈিনী [৩]। আর তারা সেখানে স্থায়ী হবে [৪]। [১] 'জান্নাতের তলদেশে নদী প্রবাহিত' বলে এটাই বোঝানো হয়েছে যে, এর গাছের নীচ দিয়ে ও এর কামরাসমূহের নীচ দিয়ে নদীসমূহ প্রবাহিত। ইবন মাস‘উদ রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, জান্নাতের নদী-নালাসমূহ মিশকের পাহাড় থেকে নির্গত। [সহীহ ইবন হিব্বান ৭৪০৮] আনাস ও ইবন আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত যে, 'জান্নাতের নহরসমূহ খাদ হয়ে প্রবাহিত হবে না। [সহীহুত তারগীব] অন্য বর্ণনায় এসেছে, হাউজে কাউসারের দুই তীর লালা-মোতির গড়া বিরাট গম্বুজ বিশিষ্ট হবে। [বুখারী ৬৫৮১] আর তার মাটি হবে মিশকের সুগন্ধে ভরপুর। তার পথে বিছানো কাঁকরগুলো হলো লাল-জহরত, পান্না-চুন্নি সদৃশ। [ইবন কাসীর] [২] জান্নাতবাসীদেরকে একই আকৃতি বিশিষ্ট বিভিন্ন ফলমূল পরিবেশনের উদ্দেশ্য হবে পরিতৃপ্তি ও আনন্দ সঞ্চার। কোনো কোনো তাফসীরকারের মতে ফলমূল পরস্পর সাদৃশ্যপূর্ণ হওয়ার অর্থ জান্নাতের ফল-ফলাদি আকৃতিগতভাবে ইহজগতে প্রাপ্ত ফলের অনুরূপই হবে। সেগুলো যখন জান্নাতীগণের মধ্যে পরিবেশন করা হবে, তখন তারা বলে উঠবে, অনুরূপ ফল তো আমরা দুনিয়াতেও পেতাম। কিন্তু স্বাদ ও গন্ধ হবে সম্পূর্ণ ভিন্ন ধরণের। অপর কোনো কোনো তাফসীরকারকের মতে, ফলমূল পরস্পর সাদৃশ্যপূর্ণ হওয়ার অর্থ, জান্নাতে পরিবেশিত ফল-মূলাদি দেখে জান্নাতিগণ বলবে যে, এটা তো গতকালও আমাদের দেয়া হয়েছে, তখন জান্নাতের খাদেমগণ তাদের বলবে যে, দেখতে একই রকম হলেও এর স্বাদ ভিন্ন। ইবন আব্বাস বলেন, দুনিয়ার ফলের সংগে আখেরাতের ফল-মূলের কোনো তুলনাই চলবে না, শুধু নামের মিল থাকবে। [ইবন কাসীর] [৩] মূল আরবী বাক্যে ‘আযওয়াজ’ শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে। এটি বহুবচন। এর এক বচন হচ্ছে ‘যওজ’, অর্থ হচ্ছে জোড়া। এ শব্দটি স্বামী বা স্ত্রী অর্থে ব্যবহার করা হয়। স্বামীর জন্য স্ত্রী হচ্ছে ‘যওজ’ ! আবার স্ত্রীর জন্য স্বামী হচ্ছে ‘যওজ’। তবে আখেরাতে আযওয়াজ অর্থাৎ জোড়া হবে পবিত্রতার গুণাবলী সহকারে। জান্নাতে পবিত্র ও পরিচ্ছন্ন স্ত্রী লাভের অর্থ, তারা হবে পার্থিব যাবতীয় বাহ্যিক ও গঠনগত ক্রটি-বিচ্যুতি ও চরিত্রগত কলুষতা থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত এবং প্রস্রাব-পায়খানা, রক্তস্রাব, প্রসবোত্তর স্রাব প্রভৃতি যাবতীয় ঘৃণ্য বিষয়ের উর্ধ্বে। অনুরূপভাবে নীতিভ্রষ্টতা, চরিত্রহীনতা, অবাধ্যতা প্রভৃতি আভ্যন্তরীণ ক্রটি ও কদৰ্যতার লেশমাত্রও তাদের মধ্যে পাওয়া যাবে না। তাদের গুণাগুণ সম্পর্কে বিভিন্ন আয়াতে এসেছে যে, “তাদের সংগে থাকবে আয়তনয়না, ডাগর চোখ বিশিষ্টাগুণ।" [সূরা আস-সাফফাত: ৪৮] আরও বলা হয়েছে, “তারা যেন পদ্মরাগ ও প্রবাল।" [সূরা আর-রহমান: ৫৮] আরও এসেছে, “আর তাদের জন্য থাকবে ডাগর চক্ষুবিশিষ্টা হুর, যেন তারা সুরক্ষিত মুক্তা।" [সূরা আল-ওয়াকি'আ: ২২-২৩) অনুরূপভাবে এসেছে, “আর সমবয়স্কা উদভিন্ন যৌবনা তরুণী।" [সূরা আন-নাবা: ৩৩] যদি দুনিয়ার কোনো সৎকর্মশীল পুরুষের স্ত্রী সৎকর্মশীলা না হয় তাহলে আখেরাতে তাদের সম্পর্ক ছিন্ন হয়ে যাবে। সে ক্ষেত্রে ঐ সৎকর্মশীল পুরুষটিকে অন্য কোনো সৎকর্মশীলা স্ত্রী দান করা হবে। আর যদি দুনিয়ায় কোনো স্ত্রী হয় সৎকর্মশীলা এবং তার স্বামী হয় অসৎ, তাহলে আখেরাতে ঐ অসৎ স্বামী থেকে তাকে বিচ্ছিন্ন করে কোনো সৎ পুরুষকে তার স্বামী হিসেবে দেয়া হবে। তবে যদি দুনিয়ায় কোনো স্বামী-স্ত্রী দুজনই সৎকর্মশীল হয়, তাহলে আখেরাতে তাদের এই সম্পর্কটি চিরন্তন ও চিরস্থায়ী সম্পর্কে পরিণত হবে। [৪] বলা হয়েছে যে, জান্নাতের সুখ-স্বাচ্ছন্দ্য ও ভোগ-বিলাসের উপকরণসমূহকে যেন দুনিয়ার পতনশীল ও ক্ষীয়মান উপকরণসমূহের ন্যায় মনে না করা হয় যাতে যেকোনো মূহুর্তে ধ্বংস ও বিলুপ্তির আশংকা থাকে। বরং জান্নাতবাসীগণ অনন্তকাল সুখস্বাচ্ছন্দ্যের এই অফুরন্ত উপকরণসমূহ ভোগ করে বিমল আনন্দ-স্ফূর্তি ও চরম তৃপ্তি লাভ করতে থাকবেন। [ইবন কাসীর]  -Tafsir Abu Bakr Zakaria সব গুলো পর্ব সিরিয়ালে @ayatannur এ পাবেন।

Hope
17 828
ঈমাম আনোয়ার আল আওলাকির রাহিমাহুল্লার একটা লেকচারে ইমাম আহমেদ ইবনে হাম্বলের রাহিমাহুল্লার একটা  ঘটনা শুনলাম। একবার উনার পুত্র উনাকে  জিজ্ঞেস করলেন, বাবা!  আমাদের জীবনে সুখ কখন আসবে? কবে আমরা স্বস্তি পাবো ? তিনি বললেন, 'জান্নাতে প্রথম পদযুগল  রাখার পর, যেদিন  জান্নাতে আমরা প্রথম কদম দিব তখনই। ' সুবাহান’আল্লাহ!  এটাই ছিল আমাদের সালাফদের চিন্তা ভাবনা । আমাদের পূর্বসূরিদের দুনিয়া নিয়ে দর্শন।  একজন মুমিনের জীবনের আল্টিমেট গোলই তো জান্নাত । রাসুল (সঃ) বলেছেন , দুনিয়া হচ্ছে মুমিনের জন্য কারাগার। ' কাজেই হে আমার প্রিয় ভাই/বোন  কারাগারে থেকে আপনি কি আশা করতে পারেন?  কত সুখ শান্তির নিশ্চয়তা পেতে  পারেন? 'আমাদের কত ভাই তো আজ তাগুতের কারাগারে অন্ধকার প্রকোষ্ঠে বন্দি। তারা কি ইচ্ছা করলেই সব করতে পারে? মুক্ত আকাশের নিচে কি তারা প্রানভরে নিঃশ্বাস  নিতে পারে? আর মুমিনদের জন্য তো দুনিয়াই কারাগার । তো এই কারাগারে কিছু নাই বা পেলাম কিন্তু এই কারগার থেকে যখন আমরা বিজয়ী বেশে জান্নাতে প্রথম কদম রাখব সেই দৃশ্যের কথা কল্পনা করুন।' সেদিনের জন্য বাঁচুন।  সে দিনের প্রত্যাশায় থাকুন। যদিন আপনার রব আপনার উপর সন্তুষ্ট হয়ে যাবে। একবার এক  সাহাবী উমার রাযি.আনহুর সামনে মাংস খেতে দেখে উনি রেগে বলে উঠেছিলেন,' তোমার সব চাওয়া পাওয়া ইচ্ছা কি দুনিয়ায়তেই পূরন করে ফেলবে নাকি!' এটাই জীবন!  এটাই জীবনের দর্শন। এখানে কি পেলাম আর না পেলাম এত হিসেব কষে কি হবে?   এ  দুনিয়ার সামান্য না পাওয়া যদি পরকালে আমাকে অনেক বেশি কিছু  পেতে সাহায্য  করে তাহলে কি আমি সেদিনের প্রত্যাশায় থাকবোনা? এর জন্য একটু  সবর করে যেতে পারবোনা? আমরা কেন বুঝিনা পার্থিব জগতের প্রতিটা জিনিস আমাদের  জন্য পরীক্ষা। যাকে সুন্দর চেহারা, তুখোড়  মেধা দেওয়া হয়েছে এগুলো তার জন্য বিশাল ফিত্মা হতে পারে যদি এসবের যথাযথ  ব্যবহার না করে! এগুলোর জন্য গরিমা  করে, আত্মতৃপ্তিতে ভোগে, আল্লাহর  অকৃতজ্ঞতা,নাফরমানি  করে।  আবার যাকে দুনিয়াতে ভালো চেহারা দেওয়া হয়নি, অতো মেধা দেওয়া  হয়নি,প্রচুর ধন সম্পদ ও দেওয়া হয়নি।  সে যদি সবর করে যেতে পারে আল্লাহ তায়ালা তাকে এ সবরের বিনিময়ে যথাযথ  বিনিময় প্রদান করবেন!  সবচেয়ে বড় কথা যে নিয়ামত  আপনি পান নাই, আপনাকে দেওয়া হয়নি তার  কোন হিসেব দিতে হবেনা। আর যাদের প্রচুর নাম,যশ,খ্যাতি, অর্থ,বিত্ত আছে  তাদের প্রতিটি জিনিসের ব্যাপারে হিসেব দিতে হবে। বড় কঠিন সে হিসেব!  এ জন্যই হাদিসে এসেছে,' ধনীদের পাঁচশত বছর  পূর্বে দরিদ্ররা জান্নাতে যাবে।' দুনিয়াতে কি পেলাম আর না পেলাম এর জন্য এত আফসোস, চূড়ান্ত  হিসেব কেন করতে হবে!  এখানে পেলে পেলাম আর না পেলে তার চেয়ে ভালো কোন জগত আছে যেখানে  আল্লাহ মুমিনদের জন্য এমন সব জিনিস প্রস্তুত রেখেছেন যা কোন চোখ কোন দিন দেখেনি,কোন কান  কোনদিন শুনেনি।  কোন মন এমন কল্পনা স্বপ্নে ও করতে পারেনি। এটা বিশ্বাস রাখুন এখানে যা পেলাম তার জন্য শোকরিয়া আর যা পায়নি তার জন্য সবর করে যেতে পারলে আল্লাহ এর চাইতে  লক্ষ গুন বেশি কিছু দিয়ে একদিন  আমাদের অন্তর প্রশান্ত করবেন ইনশাআল্লাহ। - কপিড

Hope
17 828
ঘুমানোর আগে মাসনূন দুআ, ইস্তিগফার ও দুরুদ পড়ে ঘুমাব ইন শা আল্লাহ। অযু করে নিলে আরো ভালো হয়...

Hope
17 828
কুরবানীর পশু আল্লাহর জন্যই কুরবানী করা হয়। নবীজি ﷺ এর উম্মত হিসেবে আমাদের স্পেশাল প্রিভিলিজ হলো - এই পশুর গোশত খাওয়া আমাদের জন্য হালাল করা হয়েছে। আমরা চাইলে খেতে পারি অথবা কাউকে হাদিয়া/দান করতে পারি। . কিন্তু এর কোন অংশ বিক্রি করে এর বিক্রয়মূল্য ভোগ করা বৈধ না। তাই "কুরবানীর গরুর চর্বি, হাড় ইত্যাদি বিক্রি করা জায়েজ নেই"। . কেউ বিক্রি করে ফেললে এর পূর্ণ মূল্য সাদাকা করে দিতে হবে। পশুর চামড়া বিক্রিরও একই হুকুম। আমরা ব্যবহার করতে না পারলে মূলত চামড়াটা দান করে দেই। সরাসরি চামড়া দানের ব্যবস্থা না করতে পারলে, তা বিক্রি করে মূল্য সাদাকা করার নিয়ম। কোন অবস্থাতেই তা বিক্রি করে এর মূল্য নেয়ার সুযোগ নেই। . ইদানিং এলাকায় এলাকায় চর্বি কেনার জন্য লোকজন যাচ্ছে। তাই বিষয়টা সবাই খেয়াল রাখবো ইন শা আল্লাহ। - কপিড

Hope
17 828
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, «أَنَّ لِلهِ مَا أَخَذَ وَلَهُ مَا أَعْطَى» . "আল্লাহ যা নিয়ে যান এবং যা দেন তা সব আল্লাহরই"। [১] . শাইখ মুহাম্মাদ বিন সালিহ আল উসাইমিন [রাহ.] এর ব্যাখ্যায় বলেছেন, "এটা এক মহান বাক্য। যদি সব কিছুই আল্লাহর হয়, তাহলে আল্লাহ তাআলা আপনার কাছ থেকে যা নিয়ে নিচ্ছেন তা আল্লাহরই, আর তিনি আপনাকে যা দিচ্ছেন তাও আল্লাহরই। কাজেই তিনি আপনাকে যা দিয়েছেন তা যদি নিয়েও নেন তাতে আপনি তাহলে কিভাবে অসন্তুষ্ট হচ্ছেন?"[২] . [১) ইমাম বুখারী (রাহ.), আস সহীহ, হা: ৭৩৭৭; ইমাম মুসলিম (রাহ.), আস সহীহ, হা: ৯২৩; ২) শাইখ মুহাম্মাদ বিন সালিহ আল উসাইমিন (রাহ.), শারহু রিয়াদ্বিল স্বলিহীন: ১/২০৭] - কপিড

Hope - إحصائيات وتحليلات قناة تيليجرام @hope24hours