iTahmid
📈 تحلیل کانال تلگرام iTahmid
کانال iTahmid (@itahmidtg) در بخش زبانی بنگالی بازیگری فعال است. در حال حاضر جامعه شامل 11 465 مشترک است و جایگاه 4 585 را در دسته سیاست و رتبه 1 999 را در منطقه بنغلاديش دارد.
📊 شاخصهای مخاطب و پویایی
از زمان ایجاد در невідомо، پروژه رشد سریعی داشته و 11 465 مشترک جذب کرده است.
بر اساس آخرین دادهها در تاریخ 10 ژوئن, 2026، کانال فعالیت پایداری دارد. در ۳۰ روز گذشته تغییر اعضا برابر -104 و در ۲۴ ساعت گذشته برابر -3 بوده و همچنان دسترسی گستردهای حفظ شده است.
- وضعیت تأیید: تأیید نشده
- نرخ تعامل (ER): میانگین تعامل مخاطب 15.41% است و در ۲۴ ساعت نخست پس از انتشار، محتوا معمولاً 4.76% واکنش نسبت به کل مشترکان کسب میکند.
- دسترسی پستها: هر پست به طور میانگین 1 767 بازدید دریافت میکند. در اولین روز معمولاً 546 بازدید جمعآوری میشود.
- واکنشها و تعامل: مخاطبان بهطور فعال حمایت میکنند؛ میانگین واکنش به هر پست 38 است.
📝 توضیح و سیاست محتوایی
نویسنده این فضا را محل بیان دیدگاههای شخصی توصیف میکند:
“Tech, History, Geopolitics”
به لطف بهروزرسانیهای پرتکرار (آخرین داده در تاریخ 11 ژوئن, 2026)، کانال همواره بهروز و دارای دسترسی بالاست. تحلیلها نشان میدهد مخاطبان بهطور فعال با محتوا تعامل دارند و آن را به نقطه اثرگذاری مهم در دسته سیاست تبدیل کردهاند.
در حال بارگیری داده...
| تاریخ | رشد مشترکین | اشارات | کانالها | |
| 11 ژوئن | 0 | |||
| 10 ژوئن | 0 | |||
| 09 ژوئن | 0 | |||
| 08 ژوئن | 0 | |||
| 07 ژوئن | 0 | |||
| 06 ژوئن | 0 | |||
| 05 ژوئن | 0 | |||
| 04 ژوئن | 0 | |||
| 03 ژوئن | 0 | |||
| 02 ژوئن | +2 | |||
| 01 ژوئن | +1 |
| 2 | খুললাম খুল্লা সংসদে এভাবে বলে কি আগে কেউ ব্যাংক দখল করতে চেয়ছিল? | 573 |
| 3 | বাংলাদেশ ব্যাংক ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান নিয়োগ দিয়ে যত ঝামেলার শুরু।
এস আলম ঘনিষ্ঠ ডেপুটি গভর্ণর খুরশীদ আলম, যিনি জুলাই অভ্যুত্থানের পর চাকরি হারান, তাকে ব্যাংকের শেষ কর্মদিবসে ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান নিয়োগ দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক।
এরপর গত ৬ দিন গ্রাহকরা তুলে নেয়
৫ হাজার কোটি টাকা।
আজকে আবার বাংলাদেশ ব্যাংক ইসলামী ব্যাংকে নতুন করে পর্যবেক্ষক নিয়োগ দিছে। | 568 |
| 4 | Islami bank annual Report 2025 (1).pdf | 802 |
| 5 | আজ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দীন আহমদ সংসদে বলেছেন-
'ইসলামী ব্যাংকের আরডিএস প্রকল্পের মাধ্যমে ২২ হাজার কোটি টাকা বণ্টন করা হয়েছে। ৫ আগস্টের পর এগুলো বিতরণ করা হয়। আগে ঋণ দিয়েছে ১১ হাজার কোটি টাকা, নির্বাচনী বৈতরণি পার হওয়ার জন্য পরে আবার দিয়েছে ১১ হাজার কোটি টাকা। এর কোনো হদীস নাই।'
কিন্তু ইসলামী ব্যাংক ১৯৯৬ থেকে তার ৩০ বছরের ইতিহাসে আরডিএস প্রকল্পে মোট ঋণ দিয়েছে ৭ হাজার কোটি টাকারও কম।
তাও ৯৮% ফেরৎ দিয়েছেন গ্রহীতারা।
তাহলে ২২ হাজার কোটি টাকার কথা আসলো কোত্থেকে? | 804 |
| 6 | بدون متن... | 822 |
| 7 | আমরা সবাই জানি, রাষ্ট্রীয় সংস্থাকে ব্যবহার করে অস্ত্রের মুখে ইসলামী ব্যাংকের শেয়ার তার পূর্বের মালিকদের কাছ থেকে নিয়েছে এস আলম।
যেটাকে বলা যায়- দ্য গ্রেট ইসলামী ব্যাংক হাইজ্যাক, বাই এস আলম।
আজকে ইসলামী ব্যাংক নিয়ে এত আলোচনা, এত ঝামেলা, এত নাটকীয়তা- সব কিছুর মূল এই এস আলমের ব্যাংক হাইজ্যাক।
এস আলম যদি ইসলামী ব্যাংক দখল না করতো, এস আলম যদি অন্যান্য ব্যাংকগুলা দখল করে দেউলিয়া না করতো, এস আলম যদি ইসলামী ব্যাংক থেলে লক্ষকোটি টাকা নামে বেনামে লোন না নিত, এস আলম যদি ইসলামী ব্যাংক থেকে ৫৭ হাজার কোটি টাকা ঋণ খেলাফী না করতো- তাহলে আজকে আমাদের আলোচনার বিষয় ইসলামী ব্যাংক থাকতো না।
এস আলম সংশ্লিষ্ট কাউকে চেয়ারম্যান নিয়োগের কারণেও গ্রাহকরা প্যানিক হয়ে টাকা তুলে নিত না।
সব কিছুর মূল কারণ- দ্য গ্রেট হাইজ্যাক অব ইসলামী ব্যাংক বাই এস আলম।
ইসলামী ব্যাংক যদি মূল মালিকদের কাছে ফেরৎ যায়, তাহলে এস আলম দখল করার আগের মালিকদের কাছেই যেতে হবে।
এস আলমের বদলে সালমান এফ রহমানকে দিয়ে দিলে সেটা তো মূল মালিকদের কাছে ফেরৎ যাওয়া হলো না।
এস আলমের কাছে গেলে তো, একেবারেই না।
আজকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেছেন- ইসলামী ব্যাংক তার শেয়ার হোল্ডারদের কাছে ফেরৎ যাবে। কীভাবে শেয়ার খরিদ করেছে, সেটা ভিন্ন আলাপ।
না মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, এটা ভিন্ন আলাপ না। এটাই মূল আলাপ।
এটাই প্রাইমারী আলাপ। এটাই মেইন আলাপ।
বাকী সব ভিন্ন আলাপ।
শেয়ার হোল্ডারদের কাছে ফিরিয়ে দেয়ার নামে এস আলমের কাছে ব্যাংক ফিরিয়ে দেয়ার আলাপ আপনি করতে পারেন না।
এটা নৈতিক কথা না।
আচ্ছা, এস আলম কত টাকার শেয়ার কিনেছে?
সে ইসলামী ব্যাংক থেকে মেরে দিয়েছে কত টাকা?
তার শেয়ারের বিপরীতে এই টাকার রেশিও কত?
সে আর কত টাকা ফেরৎ পাবে বা পুরো শেয়ারের মূল্য বাদ দিলেও ইসলামী ব্যাংক আর কত টাকা তার কাছে পাবে?
আলাপটা তো এভাবেই হতে পারে।
শেয়ার হোল্ডার ইজ শেয়ার হোল্ডার, কীভাবে খরিদ করেছে সেটা ভিন্ন আলোচনা বলা কোনো রেসপন্সিবল মন্ত্রীর কথা হতে পারেনা। | 735 |
| 8 | ব্যাংক কীভাবে ফাংশন করে সেটা খুব সহজভাবে বলি।
ধরেন, গ্রাহকরা সবাই মিলে ১০০ টাকা রাখলো ব্যাংকে। এখন ব্যাংক তো সেই ১০০ টাকা পুরাটা ক্যাশ হিসেবে রেখে দেয় না।
সে কী করে, মোটামুটি ৯০ টাকা বিভিন্ন গ্রাহক/প্রতিষ্ঠানকে ঋণ হিসেবে দিয়ে দেয়।
সেই টাকা ব্যাংকে আছে, কিন্তু ব্যাংকের কাছে নাই। সেই টাকা মার্কেটে সার্কুলেশন করছে।
ব্যাংকের কাছে ক্যাশ আছে ১০ টাকার মত। কারণ সব গ্রাহক একসাথে সব টাকা তুলতে যায় না। একজন ২টাকা তুললে, অন্যদিকে ২ জন ৪টাকা জমা দেয়।
ফলে ব্যাংক থেকে গ্রাহক খালি হাতে ফিরে না।
কিন্তু ধরেন, সব গ্রাহক চিন্তা করলো- তারা তাদের সব টাকা তুলে নেবে।
সবাই মিলে গেল ১০০ টাকা তুলে ফেলতে।
এখন ব্যাংকের কাছে কিন্তু আপনার দেয়া টাকা ক্যাশ বা লিকুইড আকারে নাই। টাকা গুলা মার্কেটে, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কাছে ঋণ, নানা জায়গায় ইনভেস্টমেন্ট হিসেবে চলে গেছে।
আপনি সব টাকা তুলতে চাইলেও, ব্যাংকের পক্ষে সেটা সম্ভব না। কারণ ঋণ যাদেরকে দিয়েছে, সেটা কিন্তু আজকে চাইলেই সে নিতে পারবে না। ঋণ পরিশোধের জন্য লম্বা সময় আছে।
ফলে সব গ্রাহক একসাথে টাকা তুলতে চাইলে, ব্যাংকের পক্ষে দেয়া সম্ভব না। বিভিন্ন ব্যাংক থেকে ধার দেনা করে এনেও সে কাভার দিতে পারবে না।
এমনকি সব গ্রাহক না, ধরেন অর্ধেক গ্রাহক চিন্তা করলো, তারা ৫০ টাকা তুলে ফেলবে। সেটাও সম্ভব না। কারণ মূল ধণ ১০০ টাকা হলেও, ৫০ টাকা ক্যাশ তার কাছে নাই।
ফলে ব্যাংক কলাপ্স করবে। পৃথিবীর সবচেয়ে শক্তিশালী ব্যাংকটাও রাতারাতি ধ্বসে পড়বে।
সিলিকন ভ্যালী ব্যাংকের মত ব্যাংকও ২০২৩ সালে গ্রাহকদের আতংকের কারণে ধ্বসে পড়েছিল।
বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে গ্রাহকদের আতংকিত হওয়া অস্বাভাবিক কিছু নয়।
এস আলমের ব্যাংকগুলোর তারল্যসংকট এমন পর্যায়ে পৌঁছে যে, ফার্স্ট সিকিউরিটি ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক, গ্লোবাল ব্যাংকের মত প্রতিষ্ঠানে রাখা গ্রাহকদের আমানত তারা ফেরত দিতে পারছে না। গ্রাহকরা তাদের জমা রাখা টাকা তুলতে পারছে না।
এখনো এই ব্যাংকের গ্রাহকরা অত্যন্ত অর্থ কষ্টে আছে। একজনকে আমি চিনি, যার একাউন্টে ৮৫ লাখ টাকা ছিল। কিন্তু ডেইলী উইথড্র লিমিট ৫ হাজার টাকা।
অর্থাৎ একদম প্রতিদিন ৫ হাজার টাকা করে তুললে, এই পুরো টাকা ওনার তুলতে লাগবে ৫ বছর।
অনেক মানুষ এখনো ঘুরছে, টাকা তুলতে পারেনা।
ইসলামী ব্যাংকেও এস আলমের নামে বেনামে লোন লক্ষকোটি টাকার মত।
এর মধ্যে ৫৭ হাজার কোটি টাকার খেলাপী ঋণ।
এস আলমের লোকজনের হাতে ব্যাংকের টপ ম্যানেজমেন্ট তুলে দেয়ার খবরে গ্রাহকরা আতংকিত হবেন, এটাই স্বাভাবিক।
যতই গ্রাহকদেরকে বিভিন্ন দলের লোকজন বলে ট্যাগ দেয়ার চেষ্টা করেন, গ্রাহক কেন তার কষ্টে অর্জিত টাকার রিস্ক নেবে?
ব্যাংক দেউলিয়া হয়ে গেলে তো সে ২ লাখ টাকার বেশী পাবে না।
কে চাইবে, তার নিজের টাকাটা অনিরাপদ, অনিশ্চিত জায়গায় রাখতে?
এটা তো আপনিও চাইবেন না।
গ্রাহকরা অলরেডি এস আলম নিয়ন্ত্রিত অন্যান্য ইসলামী ব্যাংক গুলোর পরিণতি দেখেছে। ফলে তারা খুব সহজেই প্যানিক হয়ে যাচ্ছে।
হওয়াটাই স্বাভাবিক।
দেশের অর্থনীতির, বিশেষ করে রেমিট্যান্স এর সবচেয়ে বড় যোগানদাতা ব্যাংক ধ্বসে পড়লে, দেশের পুরো অর্থনীতি ধ্বসে পড়বে।
মানুষ ব্যাংকের উপর থেকে বিশ্বাস হারাবে। কেউ ব্যাংকে টাকা রাখতে চাইবে না।
গ্রাহক যে হারে টাকা তুলে নিচ্ছে- সেটা চলতে থাকলে এই ব্যাংক কলাপ্স করবে।
কেউ সেটা ঠেকাতে পারবে না।
সরকার টাকা ছাপিয়ে সেটা ঠেকানোর চেষ্টা করবে। কিন্তু গ্রাহকদের টাকা তুলে ফেলার হার কন্টিনিউ থাকলে, টাকা ছাপিয়েও ব্যাংকটাকে বাঁচানো যাবে না।
এটা বুঝার মত বুদ্ধি সরকারের নিশ্চয় আছে।
ব্যাংকটাকে রাজনীকরণ না করে, এস আলম দখল করার আগের ম্যানেজমেন্টকে ফিরিয়ে দিয়ে আগের অবস্থায় আনার চেষ্টা করা উচিৎ।
কারণ এস আলম দখল করার আগে ইসলামী ব্যাংক ছিল গ্রাহক সেবায় বাংলাদেশের শীর্ষ ব্যাংক।
গরীব মেহনতী মানুষের ব্যাংক। বিদেশে রক্তকে ঘাম করে দেশে টাকা পাঠানো প্রবাসীদের ব্যাংক।
যারা সারাজীবন খেটে ব্যাংকটাকে দেশের শীর্ষ ব্যাংক বানিয়েছিল, তাদের কাছ থেকে অস্ত্রের মুখে এক সকালে ব্যাংকটা কেড়ে নেয়া হয়েছিল।
দেশের স্বার্থে, অর্থনীতির স্বার্থে, মানুষের স্বার্থে- ব্যাংকটাকে নিয়ে টানাটানি না করে, যারা গড়েছিল তাদেরকে দিয়ে ব্যাংকটাকে ঠিক করা হোক।
এই ব্যাংক ধ্বংস হয়ে গেলে দেশের কী পরিস্থিতি হবে, সেটা এখনো হয়তো অনেকে টের পাচ্ছেন না।
ঝড় আসছে, যে ক্ষতি পোষানো যাবে না। | 876 |
| 9 | আওয়ামীলীগের পতনের পর চাকরী হারানো ডেপুটি গভর্ণর খুরশীদ আলমকে ইসলামী ব্যাংকের নতুন চেয়ারম্যান নিয়োগ দেয়ার পর ব্যাংকটি গ্রাহকেরা ৫ দিনে তুলে নিয়েছেন সাড়ে তিন হাজার কোটি টাকা। | 906 |
| 10 | জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের প্রেসিডেন্ট হয়েছেন ডা খলিলুর রহমান। | 1 574 |
| 11 | নেহেরুদের ধারণা ছিল, দূর্বল রাষ্ট্র পাকিস্তান ফাংশন করতে পারবে না। দুইদিন পর ভারত এই দেশ দখল করে নেবে। তখন পার্মানেন্ট গোলাম হয়েই থাকবে এরা।
জিন্নাহর মৃত্যুর ঠিক দুই দিন পর ওরা হায়দারাবাদ আক্রমণ করে দখল করে নিয়েছিল।
পাকিস্তান স্বাধীন হলো। জিন্নাহ যা চেয়েছিলেন, তার অর্ধেকও পান নাই। কিন্তু মুসলমানদের জন্য নিরাপদ একটা সীমানা নির্ধারণ করতে পেরেছিলেন।
জিন্নাহর বিরোধিতা করে ভারতে থেকে যাওয়া জমিদার মুসলমানরা তাদের জমিদারি হারিয়েছে। তাদের বংশধরেরা নামাজ পড়তে পারেনা, কুরবানী করতে পারেনা। তাদের ঘরবাড়ী বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেয়া হয়।
জিন্নাহ পাকিস্তান আদায় করে নিতে পেরেছিলেন। কিন্তু পাকিস্তানকে গড়ে যেতে পারেন নাই। এক বছরের মধ্যে ইন্তেকাল করেন।
জিন্নাহর পাকিস্তানের প্রথম আইন ও শ্রম মন্ত্রী হন একজন নিম্নবর্ণের হিন্দু। একজন তফশীলি হিন্দু, যোগেন মণ্ডল।
একজন দলিত হিন্দু মন্ত্রী হবে, এটা ভারতেও কল্পনা করা যায় না।
কিন্তু জিন্নাহর পাকিস্তানে সেটা সম্ভব হয়েছিল।
জিন্নাহ জানতেন তিনি বেশীদিন বাঁচবেন না। জিন্নাহ আশংকা করেছিলেন, তিনি বেশিদিন বাঁঁচবেন না এটা জানলে, বৃটিশদের বলে কংগ্রেস পার্টিশান প্ল্যান পিছিয়ে দেবে।
ফলে আর কখনো মুসলমানদের আলাদা দেশ পাওয়া হবে না।
জিন্নাহর আশংকা যে সত্য ছিল, সেটা লর্ড মাউন্টব্যাটেন নিজেই তার লেখাতে বলেছিলেন। জিন্নাহ বেশিদিন বাঁচবেন না জানলে তিনি দেশভাগ পিছিয়ে দিতেন। ফলে আর কখনো দেশভাগ হতো না।
কারণ জিন্নাহর মত এক রোখা এবং সবাইকে ঐক্যবদ্ধ রাখতে পারবে, এরকম আর কেউ ছিল না।
জিন্নাহ তড়িঘড়ি করে যা পেয়েছেন, সেটা নিয়েই পাকিস্তান গড়েন।
বোন ফাতেমা জিন্নাহকে নিয়ে জন্মভূমি ছেড়ে নতুন দেশ পাকিস্তানে চলে যান।
জিন্নাহ তার স্বপ্নের পাকিস্তান এনেছিলেন, কিন্তু গড়ে যেতে পারেননি।
জিন্নাহ মারা যাওয়ার পর পাকিস্তান তার মূল নীতি থেকে সরে আসে।
সেটার সবচেয়ে বড় প্রমাণ যোগেন মণ্ডল নিজে।
তিনি জিন্নাহ মারা যাওয়ার দুই বছর পরই পদত্যাগ পত্র জমা দিয়ে দেশত্যাগ করেন।
তার অভিযোগ ছিল, পাকিস্তান সরকার হিন্দু বিদ্বেষ এবং বাঙালী বিদ্বেষ লালন করে। তারা পাঞ্জাবী বাদে বাকীদের প্রতি বৈষম্য করে।
যোগেন মণ্ডল, পাকিস্তানের প্রতিষ্ঠাকালীন আইনমন্ত্রী, পদত্যাগ করে দেশ ছাড়েন। যিনি পাকিস্তানের মুখপাত্র ছিলেন, গণপরিষদের সভাপতি ছিলেন।
জিন্নাহর পাকিস্তান একটা ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত হয়।
কিন্তু জিন্নাহকে বিশ্বাস করে তার সাথে চলে আসা মুসলমানদের বংশধরেরা একটা নিরাপদ সীমানা পেয়েছে। যেখানে তারা এখনো আজান দিতে পারে, নামাজ পড়তে পারে, গরু কুরবানী দিতে পারে, চাকরী বাকরী পায়।
গরু খেতে খেতে জিন্নাহকে গালিও দিতে পারে।
এটাই জিন্নাহর সাফল্য।
লণ্ডন ফেরত এক উকিল ভবিষ্যৎ দেখেছিলেন, যা অন্যরা দেখেন নাই।
যারা দেখেন নাই, তাদের বংশধররা প্রতিনিয়ত তার প্রায়শ্চিত্ত করে যাচ্ছে, প্রাণ দিয়ে। | 2 107 |
| 12 | লণ্ডন থেকে আসা গুজরাটি জমিদারপুত্র ব্যারিস্টার জিন্নাহ যখন মুসলমানদের আলাদা দেশ পাকিস্তানের আইডিয়াতে সাবস্ক্রাইব করলেন, তখন জিন্নাহ নিজেও জানতেন না যে আসলে তিনি সফল হবেন।
তার পক্ষে আসলে তেমন কেউ ছিল না। ইন্ডিয়ান মুসলমানরাও চায় নাই যে পাকিস্তান নামে আলাদা কোনো দেশ হোক।
সেটা ছিল একটা অসম্ভব ব্যাপার। কারণ, ইন্ডিয়ান মুসলমানদের মধ্যে কোনো ঐক্য নাই। যা আছে, তা ভাষাভিত্তিক জাতীয়তাবাদ।
যাদের মধ্যে কোনো ঐক্য নাই, তারা কখনোই কিছু অর্জন করতে পারেনা।
জিন্নাহ অনেককে ঐক্যবদ্ধ করতে সক্ষম হয়েছিলেন।
জিন্নাহর পক্ষে প্রথম শ্রেণীর কোনো মুসলমান নেতারা ছিল না।
মওদুদী, দেওবন্দ থেকে শুরু করে মুসলমানদের নেতারা, বড় বড় আলেমরা জিন্নাহর পক্ষে ছিলেন না। পাকিস্তানের পক্ষেও ছিলেন না।
একজন মদখোর বেনামাজী বান্দার পক্ষে তারা থাকবেন না, এটাই হয়তো স্বাভাবিক ছিল।
কিন্তু জিন্নাহ রুট লেভেলের মুসলমানদের ঐক্যবদ্ধ করতে পেরেছিলেন।
গোপালগঞ্জের শেখ মুজিবও জিন্নাহর জন্য রাজনীতি শুরু করেছিলেন, জিন্নাহর পাকিস্তান আন্দোলনে যোগ দিয়েছিলেন।
জিন্নাহর সাথে শুধু মুসলমানরা যোগ দিয়েছিল, তা না।
নিম্নবর্ণের দলিত হিন্দুরা যাদেরকে তফশীলি হিন্দু বলা হতো, তারাও পাকিস্তান আন্দোলনের পক্ষে ছিল।
তফশীলি হিন্দুদের নেতা যোগেন নাথ মণ্ডল জিন্নাহর পাকিস্তান আন্দোলনে সরাসরি যোগই শুধু দেন নাই, বিরাট ভূমিকা রাখেন।
বরিশাল থেকে উঠে আসা নিম্নবর্ণেত হিন্দুদের নেতা যোগেন মন্ডল ছিলেন একজন উকিল। যোগেন মন্ডল মনে করতেন, ইন্ডিয়ার উচ্চবর্ণের হিন্দুদের গোলামী করার চেয়ে মুসলমানদের সাথে থাকাই নিরাপদ।
অন্তত চেয়ারে বসার জন্য পিটিয়ে মে রে ফেলবে না, পাত্র ছোঁয়ার জন্য অপবিত্র বলে শায়েস্তা করবে না।
যোগেন মণ্ডল জিন্নাহর পাকিস্তানের পক্ষে হিন্দুদের মধ্যে ব্যাপক জনমত গড়ে তোলেন।
যোগেন মণ্ডল দেখেছিলেন, জিন্নাহর পাকিস্তানের যে আইডিয়া সেটা বাস্তবায়ন হলে তারা ইন্ডিয়ার চেয়ে ভালো থাকবে।
জিন্নাহ মুসলমানদের জন্য আলাদা দেশ চেয়েছিলেন ঠিকই, কিন্তু সেটা শুধুমাত্র মুসলমানদের জন্য চান নাই।
জিন্নাহ চেয়েছিলেন হিন্দুত্ববাদের হাত থেকে মুক্ত একটা দেশ। যে দেশে হিন্দু, মুসলমান, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান সহ সকল ধর্মের মানুষরা সমমর্যাদায় বসবাস করবে।
যেখানে কারো উপরে ধর্মীয় কারণে কোনো আক্রমণ হবে না।
পাকিস্তানের গণপরিষদে ১১ আগস্ট ১৯৪৭ সালে জিন্নাহ বলেছিলেন:
"You are free; you are free to go to your temples. You are free to go to your mosques or to any other places of worship in this State of Pakistan. You may belong to any religion, caste or creed—that has nothing to do with the business of the state."
'তোমরা স্বাধীন; তোমরা তোমাদের মন্দিরে যাওয়ার জন্য স্বাধীন, তোমরা তোমাদের মসজিদে যাওয়ার জন্য স্বাধীন, পাকিস্তান রাষ্ট্রে যেকোনো সম্প্রদায়ের উপাসনালয়ে যাওয়ার জন্য স্বাধীন। তুমি যে ধর্ম, বর্ণ, গোত্র, জাতির হও না কেন, সেটা রাষ্ট্রের কোনো বিষয় না।'
১১ আগস্ট ১৯৪৭ সালের এই ভাষণে জিন্নাহ বলেছিলেন, নাগরিকদের ধর্ম রাষ্ট্রের বিষয় নয় এবং সকল নাগরিক সমান অধিকার ভোগ করবে। রাষ্ট্রের দায়িত্ব নাগরিকদের জীবন, সম্পদ ও ধর্মীয় স্বাধীনতা রক্ষা করা।
জিন্নাহ বারবার বলেছেন যে- হিন্দু, মুসলিম, শিখ, খ্রিস্টান বা অন্য যেকোনো ধর্মের মানুষ নিজেদের ধর্ম পালন করতে স্বাধীন থাকবে।
জিন্নাহ মুসলমানদের জন্য আলাদা দেশ চেয়েছিলেন, যে দেশে সকল ধর্মের নাগরিকদের সমান অধিকার থাকবে।
পাকিস্তানের পতাকায় যে সাদা অংশ, সেটা অমুসলিমদের পাকিস্তানের মালিকানার প্রতীক।
জিন্নাহ আলাদা বর্ডার চেয়েছিলেন, কারণ জিন্নাহর ধারণা ছিল:
নেহরু, বল্লবভাই প্যাটেলদের ইন্ডিয়ায় মুসলমানরা নামাজ পড়তে পারবে না, আজান দিতে পারবে না, কুরবানী করতে পারবে না, চাকরী পাবে না। আইনী অধিকার পাবে না।
জিন্নাহ যে সঠিক ছিলেন, তার প্রমাণ এত বছর পর এসে আমরা দেখতে পাই।
গরু তো দূরে থাক, মুসলমানরা এখন ছাগল কুরবানীও দিতে পারেনা। মসজিদ গুঁড়িয়ে দেয়া হয়। মসজিদ ভেঙে মন্দির করা হয়।
পশ্চিম বঙ্গে সরকার আজানের ব্যাপারে বলে- লম্বা পিলারের উপরের মাইক থেকে আর প্যাঁ প্যাঁ শব্দ আসবে না।
গরু খাওয়ার অপরাধে পি টি য়ে মে রে ফেলা হয়।
কংগ্রেসের মুসলমান নেতারা জিন্নাহর বিরুদ্ধে অখণ্ড ভারতের পক্ষে ছিলেন।
মুসলমানদের নেতারা ইন্ডিয়াতে থেকে যাওয়ার পক্ষে শক্ত অবস্থান নিয়েছিলেন।
এসব দেখে জিন্নাহ বলেছিলেন-
যে মুসলমানরা আজকে পাকিস্তানের বিরোধিতা করে ভারতে থেকে যাচ্ছে, তাদের জীবন চলে যাবে নিজেদেরকে ভারতের প্রতি লয়াল প্রমাণ করতে করতে।
নেহেরুরা পাকিস্তানের স্বাধীনতার জন্য রাজী হয়েছিল, যাতে মুসলমানদের স্বায়ত্তশাসন দিতে না হয়।
জিন্নাহ তো প্রথমে মুসলমানদের জন্য স্বায়ত্তশাসনই চেয়েছিলেন।
নেহেরুরা স্বায়ত্তশাসনও দিতে রাজী হয়নি। | 1 760 |
| 13 | বৃটিশরা দেশ ভারতবর্ষ ছাড়ার আগে ভারতকে নিয়ে কী করা হবে, সেটা নিয়ে নানাধরণের প্রস্তাবনা, খসড়া তৈরী হয়।
১৯৪৬ সালের ক্যাবিনেট মিশন প্ল্যানে ভারতকে অবিভক্ত রাখতে একটি খসড়া প্রস্তাব চূড়ান্ত করে বৃটিশরা।
সেখানে প্রস্তাব গুলো ছিল এরকম-
১. ভারত একটি দেশ হিসেবেই থাকবে। কিন্তু কেন্দ্র সরকারের ক্ষমতা হবে খুবই সীমিত। কেন্দ্র শুধু প্রতিরক্ষা, পররাষ্ট্র ও যোগাযোগের মতো বিষয়গুলো দেখবে।
২. প্রদেশগুলো ৩টি বড় গ্রুপে ভাগ হবে এবং মুসলিম অধ্যুষিত অঞ্চলগুলো ব্যাপক স্বায়ত্তশাসন পাবে। তারা নিজেদের আলাদা আইনসভা ও নির্বাহী কাঠামো গঠন করতে পারবে।
শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি, ইসলামিক ব্যক্তিগত আইনসহ অনেক অভ্যন্তরীণ বিষয়ে আলাদা নীতি বানাতে পারবে।
ভারত অবিভক্ত থাকবে। মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ অঞ্চলগুলো ব্যাপক স্বায়ত্তশাসন পাবে।
ফলে জিন্নাহ এই প্রস্তাবটি শুরুতে মেনে নেন।
কারণ এতে মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ অঞ্চলগুলো একসাথে থাকবে।
বাংলা ও পাঞ্জাব ভাঙতে হবে না, এগুলো মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ হিসেবে গ্রুপ B এবং C তে থাকবে।
কেন্দ্র দূর্বল থাকায় কংগ্রেস পুরো ভারত নিজেদের ইচ্ছেমতো নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে না।
এবং ভবিষ্যতে আলাদা রাষ্ট্র করার সম্ভবনা সবচেয়ে ভালো।
এটিকে 'Pakistan in substance' হিসেবেই দেখছিলেন।
ইতিহাসবিদগণ এটিকে 'Pakistan without partition' বলেও আখ্যা করেন।
কিন্তু জওহরলাল নেহেরু ঘোষণা দেন- কংগ্রেস ভবিষ্যতে এই পরিকল্পনা কাঠামো পরিবর্তন করতে পারবে এবং প্রদেশগুলো বাধ্যতামূলক গ্রুপিং মানতে বাধ্য নয়।
ফলে মুহাম্মদ আলী জিন্নাহ এই প্রস্তাবটি নিয়ে দ্বিধায় পড়ে যান।
দেশ ভাগ হলে জিন্নাহর পৈতৃক সুত্রে প্রাপ্ত সমস্ত সম্পত্তি ভারতে রেখে চলে যেতে হবে। কারণ জিন্নাহর বেশীরভাগ সম্পত্তি মুম্বাই এবং গুজরাটে।
ভাগ না হলে ভারত হবে পৃথিবীর সবচেয়ে বেশী মুসলমানদের দেশ।
নানা বিষয় নিয়ে জিন্নাহ চিন্তিত ছিলেন।
প্রচলিত আছে, একটা ঘটনা জিন্নাহকে নাড়িয়ে দেয়-
ঈদের দিন দুপুরে জিন্নাহ তার বারান্দায় দাঁড়িয়ে পেছনে দুই হাত রেখে হাঁটাহাঁটি করে চিন্তা করছিলেন।
সে সময় খবর এলো, ঈদগাহ ময়দানে মুসলমানদের ঈদের নামাজ চলাকালীন সময়, হিন্দুদের কয়েকটি গ্রুপ বিভিন্ন জায়গায় এক যোগে শুকর জবাই করে নামাজ রত মুসল্লীদের গায়ে ছুঁড়ে মারে।
ঈদের জামায়াত চলাকালীন কাটা শুকর রক্ত সহ মুসল্লীদের উপর মারা হয়।
খবর শোনার সাথে সাথেই জিন্নাহ বলেন, এভাবে কি একসাথে থাকা সম্ভব?
এই ঘটনার পরই জিন্নাহ সিদ্ধান্ত নেন- মুসলমানদের আলাদা দেশ লাগবে।
তারপর এই সিদ্ধান্ত থেকে জিন্নাহকে আর টলানো যায়নি।
এমনকি মহাত্মা গান্ধীর পক্ষ থেকে জিন্নাহকে অবিভক্ত ভারতের প্রধানমন্ত্রী করার কথাও বলা হয়।
কিন্তু কোনো কিছুই জিন্নাহকে মুসলমানদের জন্য আলাদা দেশ গঠনের সিদ্ধান্ত থেকে নড়াতে পারেনি। | 1 420 |
| 14 | আওয়ামীলীগের পতনের পর, অর্থাৎ জুলাই অভ্যুথানের পর ডেপুটি গভর্নরের পদ হারানো মো. খুরশীদ আলমকে ইসলামী ব্যাংকের নতুন চেয়ারম্যান নিয়োগ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। | 1 833 |
| 15 | পুলিশ যদি আপনাকে পছন্দ করে এবং আপনি যদি কোনো অপরাধ করেন, তাহলে পুলিশ দুইটা কাজ করবে।
পছন্দ করার কারণও হতে পারে দুইটা, যদি না আপনার সাথে তার ব্যক্তিগত সম্পর্ক থাকে।
১. হয় আপনি ক্ষমতাসীন দলীয় কেউ।
২. অথবা থানা আপনার পে রোলে আছে।
ধরেন আপনি অপরাধ করতে যাবেন।
পুলিশ আপনাকে বলবে- ঠিক আছে, করেন। আমরা আপনার নামে মামলা নেব না। মামলা করতে আসলেও নেব না।
এরপর ধরেন আপনি অপরাধ করে ফেললেন, মামলা নিতে পুলিশ গড়িমসি করা শুরু করবে। প্রথমে সরাসরি না করে দেবে। নানাভাবে প্রেশার ক্রিয়েট করলে সে শুরু করবে গড়িমসি।
কিন্তু আপনি যদি ব্যাপক প্রেশার ক্রিয়েট করে ফেলতে পারেন, পুলিশ যদি মামলা নিতে বাধ্য হয়, তখন পুলিশের হাতে আপনার জন্য আরেকটি ইন্স্যুরেন্স আছে।
আপনার বিরুদ্ধে করা ভিক্টিমের মামলা পুলিশ নেবে। সাথে সাথে আপনাকে পরামর্শ দেবে, ভিক্টিমের বিরুদ্ধে আপনি ভিক্টিম সেজে একটা মামলা করার জন্য।
তারপর পুলিশ আইনী উপায়েই ভিক্টিমকে হয়রানী করবে। আপনি থানার সামনের দোকানে বসে চা খেলেও পুলিশ আপনাকে দেখবে না।
কিন্তু ভিক্টিম কোথায় আছে, খুঁজে বের করে ফেলবে। সিভিল ড্রেসে হলেও ধরে নিয়ে আসবে।
এটা হলো থানা গুলোর চিরাচরিত প্লে বুক।
এটা সম্ভবত বৃটিশরাই শিখিয়ে দিয়ে গেছিল, যাতে বৃটিশদের পক্ষে থাকা কারো বিরুদ্ধে এখানকার কেউ আইনী সহায়তা নিতে না পারে।
এটা বাংলাদেশে আছে, ভারতেও আছে। পাকিস্তানেও থাকার কথা।
ঝিনাইদহে ঠিক এটাই ঘটেছে।
এনসিপির নাসিরুদ্দীন পাটোয়ারী আর তারেক রেজার উপর হামলার ঘটনায় পুলিশ কোনোভাবেই মামলা নিচ্ছিল না।
ন্যাশনাল প্রেশার ক্রিয়েট করে অবশেষে যখন মামলা নিল, সাথে সাথে ভিক্টিমদের বিরুদ্ধেও মামলা নিল।
আজকে অপরাধীরা মুক্তি পেলেও, অপরাধীদের করা মামলায় পুলিশ ধরে নিয়ে গেছে Tareq Rezaকে।
তারেক রেজা ঠিকমত হাঁটতে পারে না। ছাত্রলীগ তাকে মেরে পায়ে এমন ইঞ্জুরী করেছিল যে, সাপোর্ট নিয়ে হাঁটতে হতো তার। এরজন্য অপারেশনও করা হয়েছে।
জুলাইতে পুলিশের গু লি তে আবু সাঈদ শহীদ হওয়ার পর ঢাকায় ১৭ জুলাই গায়েবানা জানাযার আয়োজন করে তারেক রেজারা। তারেক রেজা সেই গায়েবানা জানাযার ঈমামতি করে।
আজকে ভিক্টিমের বিরুদ্ধে করা ভূয়া মামলায় তারেক রেজাকে সিভিলে অ্যারেস্য করে নিয়ে গেছে পুলিশ। হামলার ঘটনায় সংবাদ সম্মেলন করতে যাচ্ছিল সে।
সেখানে আগে থেকেই অপেক্ষা করে থাকা পুলিশ সে পৌঁছানোর সাথে সাথে ধরে নিয়ে যায়।
ক্ষমতায় আসার ১০০ দিন হওয়ার আগেই অত্যন্ত খারাপ একটা উদাহরণ সৃষ্টি করলো এই সরকার।
একেবারে আওয়ামী প্লেবুক অনুসরণ করলো।
অত্যন্ত গর্হিত কাজ হলো এটা।
তারেক রেজার মুক্তি চাই। ভূয়া মামলা প্রত্যাহার করে নিতে হবে। | 2 097 |
| 16 | দেশভাগ নিয়ে আমাদের প্রচুর জ্ঞান দেয়া হয়।
বাংলা ভাগ না হয়ে অবিভক্ত থাকার মর্তবা শুনানো হয়।
লেখা, ডকুমেন্টারি, সিনেমা, গল্পগুলো পড়লে মনে হয় যে, বাংলা ভাগ হওয়াতে আমাদের অনেক দোষ আছে। দেখলে মনে হয়, আমরাই মূল অপরাধী।
অথচ হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী, আবুল হাসিমরা যখন ইউনাইটেড বেঙ্গল এর আইডিয়া আনেন, তখন সবচেয়ে বেশী বিরোধিতা করেন শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জী।
বিপ্লবী সুভাষ চন্দ্র বসুর ভাই শরৎচন্দ্র বসু ইউনাইটেড বেঙ্গল আইডিয়ার সমর্থক হওয়া স্বত্তেও কিছু করতে পারেননি শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জী এবং তার অখিল ভারতীয় হিন্দু মহাসভার তীব্র বিরোধিতার কারণে।
বল্লবভাই প্যাটেল, জওহরলাল নেহেরু এবং শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জীরা অবিভক্ত বাংলার পরিকল্পনা ঠেকিয়ে দেন। তাদের আশংকা ছিল- অবিভক্ত বাংলা হলে হিন্দুরা মুসলমান শাসনে অধীনে চলে যাবে।
বল্লভভাই প্যাটেল শুধু অর্ধেক বাংলা ভারতে নিতেই সক্ষম হননি, তিনি স্বাধীনতার এক বছরের মধ্যে স্বাধীন হায়াদারাবাদ দখল করে ভারতের অন্তর্ভুক্ত করেছিলেন। কাশ্মীর দখলে নেয়ার পরিকল্পনাও তার।
স্বাধীনতার এক বছরের মধ্যে জুনাগড়ও দখল করে ভারতের অন্তর্ভুক্ত করেন তিনি।
বল্লবভাই প্যাটেল ভারতের সবচেয়ে সেলিব্রেটেড আইকন। ভারতের সবচেয়ে উঁচু স্ট্যাচু অব ইউনিটি তারই মূর্তি।
শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জীও ভারতে প্রচণ্ড সেলিব্রেটেড।
এরা মুসলমান শাসনের ভয়ে বাংলাকে ভাগ করে ফেলে। অর্ধেক যায় পাকিস্তানে, অর্ধেক যায় ভারতে।
এতে কংগ্রেস এবং মুসলিম লীগেরও সমর্থন ছিল। আধা আধা তো পাচ্ছে।
অবশ্য শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জীদের ধারণা ভুলও ছিল না।
আজকে পশ্চিমবঙ্গ আর পূর্ববঙ্গ মিলে একটা দেশ হলে, এর জনসংখ্যা হতো ২৭-২৮ কোটি।
এই দেশের জনসংখ্যার ৬৭-৬৮% হতো মুসলমান, ৩১-৩২% হতো হিন্দু।
ফলে এই অবিভক্ত বাংলা হতো একটা মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ।
শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জীর আশংকা সত্যই হতো।
কিন্তু দেখেন- বাংলা ভাগ করার জন্য আফসোস করে তারা, আর দোষ চাপানো হয় আমাদের ঘাড়ে।
অথচ আফসোস করার কথা আমাদের।
আপনারা আফসোস করেন, সমস্যা নাই।
কিন্তু বাংলা ভাগের দোষটা আমাদের ঘাড়ে চাপাবেন না।
আমরা শ্যামাপোকাদের সেলিব্রেট করিনা। | 2 738 |
| 17 | হাম আমাদের দেশে ২০২৬ এ ছড়িয়ে পড়লেও বিশ্বজুড়ে ২০২৫ এ অনেক দেশে ছড়িয়ে পড়ে। কানাডা ২০২৫ সালে 'হামমুক্ত' দেশের স্ট্যাটাস হারায়।
এই বছর হামের আউব্রেট বিশ্বজুড়ে নানা দেশে হয়েছে।
আমেরিকার সরকারী স্বাস্থ্য সংস্থা সিডিসি বিশ্বজুড়ে হাম ছড়িয়ে পড়া নিয়ে প্রতিবেদন করেছে।
এ নিয়ে হেলথ জার্নাল গুলোর অনেক প্রতিবেদন আছে।
যেমন একটার শিরোনাম হলো- বিশ্বজুড়ে বিলুপ্ত হাম কীভাবে আমেরিকা এবং সারাবিশ্বে ফিরে এলো?
অর্থাৎ হাম সারাবিশ্বেই ফিরে এসেছে। যে দেশগুলোতে হাম পুরোপুরি বিলুপ্ত ছিল, সেগুলোতেও ফিরে এসেছে।
এটা একটা গ্লোবাল আউটব্রেক।
এমনকি 'হামমুক্ত' দেশ জাপানেও হাম ফিরে এসেছে বলে প্রথম আলোরই একটা রিপোর্ট আছে।
করোনা আউটব্রেকের পর হামের টিকা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসে। এটা হাম ফিরে আসার অন্যতম কারণ বলে মনে করা হচ্ছে।
নিউ ইংল্যান্ড জার্নাল ম্যাগাজিন তাদের রিপোর্টে বলছে, ২০২৪ এবং ২০২৫ সালে সাড়ে চার লাখ ল্যাবরেটরি কনফার্মড হামের কেইস পাওয়া গেছে।
ইউনিসেফের প্রতিবেদন অনুযায়ী শুধু ২০২৪ সালে ইউরোপেই দেড় লাখ শিশু হামে আক্রান্ত হয়েছে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) তাদের ২০২৫ এর প্রতিবেদনে বলেছে, শুধু ২০২৪ সালে বিশ্বজুড়ে ৯৫ হাজার জনের মৃত্যু হয়েছে।
হাম একটি অত্যন্ত ছোঁয়াছে প্রাণঘাতী রোগ।
বিশ্বের নানা দেশে হাম ফিরে আসা এবং বিশ্বজুড়ে হামের প্রাদুর্ভাব নিয়ে আমাদের মিডিয়া কোনো নিউজ করতেই আগ্রহী না।
তাদের নিউজ দেখে মনে হচ্ছে, ইউনূসের কারণে শুধুমাত্র বাংলাদেশেই হাম ফিরে এসেছে। | 2 187 |
| 18 | বিজেপি ক্ষমতায় এসেছে, মুসলমানদের ঘরবাড়ী, দোকানপাট ভেঙে গুঁড়িয়ে দিচ্ছে। তাদের অনেকে ভয়ে বের হচ্ছে না।
এই ভয় দেখে হিন্দুত্ববাদীরা উল্লাস করছে। কমেন্টগুলা পড়েন। বলছে ইয়ে ডার আচ্ছা লাগা।
ওপার বাংলার মুসলমানদের জন্য একটা জেনোসাইড আসছে, একটু সুযোগ পেলেই পু ড়ি য়ে মেরে কাবাব করা হবে মুসলমানদের।
ইজ্রাইলের মত এমন ভয়ংকর একটা জেনোসাইডাল শক্তি আমাদের প্রতিবেশী।
আমাদের একই ভাষায় ওরা কথা বলে। | 2 103 |
| 19 | বাংলাদেশের কোনো নির্বাচিত এমপি তার সাক্ষাৎকার বা বক্তৃতায় আজ পর্যন্ত বলে নাই যে- আমাদেরকে কেবল মুসলমানরা ভোট দিছে, হিন্দুরা ভোট দেয় নাই। শুধুমাত্র মুসলমানদের ভোটে আমরা জিতেছি।
জামায়াতের কোনো এমপি বলে নাই। অন্য কোনো ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দলের এমপিও বলে নাই।
কিন্তু রাজ্যের প্রধানমন্ত্রী (যাকে মুখ্যমন্ত্রী বলা হয়) হতে পারে এমন একজন নির্বাচিত বিধায়ক প্রকাশ্যে বলছেন যে, আমরা কেবল হিন্দু ভোটে জিতেছি। কোনো মুসলমান আমাদের ভোট দেয় নাই।
বাংলাদেশে জামায়াতের কোনো নেতা নির্বাচিত হওয়ার পর বলে নাই যে, মন্দির গুঁড়িয়ে দাও, মন্দিরের জায়গায় আমরা মসজিদ বানাবো।
কিন্তু ভারতে বিজেপির কয়েক ডজন নির্বাচিত নেতা তো বটেই, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী নিজেই বহুবার বলেছেন- মন্দির ওয়াহি বানায়েঙ্গে।
এবং তারা মসজিদ ভেঙে মন্দির বানিয়েছে।
ইনফ্যাক্ট বিজেপি ক্ষমতায় এসেছে, বাবরী মসজিদ ভেঙে রাম মন্দির বানানোর প্রতিশ্রুতি দিয়ে।
ক্ষমতায় এসে তারা সেটা বাস্তবায়নও করেছে।
বিজেপি দলটির উত্থান হয়েছে প্রথমবার ক্ষমতায় এসে বাবরী মসজিদ ভেঙে।
বাংলাদেশে জামায়াত কিংবা কোনো রাজনৈতিক দল কি আজ পর্যন্ত ঘোষণা দিয়েছে, আমরা ক্ষমতায় এলে ঢাকেশ্বরী মন্দির ভেঙে মসজিদ বানাবো?
বিজেপি ভোটে জিতে একদিনেই তাদের পতাকা হাতে মিছিল করে, সরকারী বুলডোজার নিয়ে মুসলমানদের বাড়ীঘর গুঁড়িয়ে দিয়েছে।
কয়েক জায়গায় মসজিদে হামলা এবং ভাঙচুর চালিয়েছে।
তাদের নেতারা গর্বভরে এই হামলার নেতৃত্ব দিয়েছে। মুসলমানদের দোকানপাট বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দিয়েছে।
বিরোধী তৃণমূলের বাড়ীঘরেও হামলা হয়েছে।
কিন্তু মুসলমানদের ব্যাপারে স্পেসিফিকলি ঘোষণা দিয়ে হামলা চালানো হয়েছে, সরকারী বুলডোজার ব্যবহার করে।
২০০২ সালে নরেন্দ্র মোদী গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর প্রায় ২ হাজার মুসলমানকে সরকারী পেট্রোল খরচ করে পুড়িয়ে মেরেছে।
মোদীর নির্দেশে একটা করা হয়েছিল বলে রাজ্য পুলিশের একজন ডিসিপি কোর্টে সাক্ষ্য দিয়েছিলেন।
বাংলাদেশে জামায়াত রাষ্ট্রক্ষমতায় একাধিকবার ছিল। কখনো কি কোনো এমপি মন্ত্রী হিন্দুদেরকে নির্মুল করার নির্দেশ কিংবা মন্দির গুঁড়িয়ে মসজিদ করার ঘোষণা দিয়েছে? কোনো হিন্দু পল্লীতে বুলডোজার চালিয়েছে? মন্দিরে বুলডোজার চালিয়েছে?
কখনো প্রকাশ্যে ঘোষণা দিয়ে বলেছে- হিন্দুদের দেশ ছাড়া করতে হবে, ওদের বাড়ীঘর দখল করে নিতে হবে, ওদের মন্দিরগুলোকে মসজিদ বানাতে হবে?
বিজেপির নেতারা প্রায়ই সময় এসব কথা বলেন। প্রকাশ্যে মুসলমান নির্মুলের ঘোষণা দেন। প্রকাশ্যে মসজিদ গুঁড়িয়ে দেয়া, মুসলমানদের বাড়ীঘর গুঁড়িয়ে দেয়া এখন বিজেপি শাসিত অঞ্চলের একদম নিয়মিত ঘটনা।
কোনো হিন্দুকে কি শুয়োর খাস কেন বলে মারা হয়েছে?
ভারতের বিজেপি শাসিত এলাকায় গরু খাওয়ার অপরাধে হ ত্যা করা নিয়মিত ঘটনা।
মুসলমানদের উচ্ছেদ করা, মসজিদ ভেঙে মন্দির করা, মুসলমানদের বাড়ীঘর, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গুঁড়িয়ে দেয়া, ডিটেনশন সেন্টারে নিয়ে যাওয়া একদম নিয়মিত ঘটনা।
বাংলাদেশের অনেক সমস্যা আছে। প্রচুর মানুষের মধ্যে ধর্মীয় ও জাতিবিদ্বেষ আছে।
সুযোগ বুঝে হিন্দুদের উপর হামলার ঘটনাও ঘটে, এগুলো ইন্ডিভিজুয়ালী কেউ প্ল্যান করে তারপর ঘটায়।
কিন্তু রাজনৈতিক দলগুলো সরাসরি জাতিগত বিদ্বেষ উসকায় না। কেউ এসে বলে না, হিন্দুদেরকে উচ্ছেদ করতে হবে, মন্দির দখল করতে হবে।
জামায়াতের কোনো নেতাও বিজেপির মত বলে না- হিন্দু মুক্ত বাংলাদেশ গড়তে হবে।
বিজেপির অনেক এমপি, মন্ত্রী, এমএলএ প্রকাশ্যে প্রায়ই বলে- ভারত শুধু হিন্দুদের।
এখানে মুসলমানদের থাকার কোনো অধিকার নাই।
বাংলাদেশে জামায়াতের কোনো এমপি, মন্ত্রী কি কখনো বলে যে- বাংলাদেশ শুধু মুসলমানদের। এখানে হিন্দুদের থাকার কোনো অধিকার নাই?
বাংলাদেশে কোনো জামায়াত সমর্থক কি মন্দিরে গিয়ে পুজা বন্ধ করে পুরোহিতকে পিটিয়েছে? তারপর টিভিতে বলেছে, পূজা করতে হলে ইন্ডিয়া চলে যাক?
অথচ এগুলো সব ভারতে বিজেপির নিয়মিত ঘটনা।
তারপরও দেখেন- বাংলাদেশে অনেকে বিজেপির সাথে জামায়াতের তুলনা করে।
বলছে, বিজেপি আর জামায়াত তো একই।
কিন্তু আমাদের সোসাইটি, আমাদের যেকোনো পলিটিক্যাল পার্টি যে ভারতের চেয়ে বেটার, সেটা আমাদের স্বীকার করতেই হবে। | 1 818 |
| 20 | ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং কীভাবে করতে হয়, সেটা শিখতে হবে বিজেপির কাছ থেকে।
বিজেপি ভালো করেই জানতো যে- বাঙালী এবং মুসলিম অধ্যুষিত পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির জয় পাওয়া সম্ভব না।
এজন্য তারা জয় নিশ্চিত করতে সব করেছে, কোনো ধরণের রিস্কই নেয়নি।
সবচেয়ে বড় ইঞ্জিনিয়ারিংটাতে একটু পরেই আসছি।
বাংলাদেশে আমরা প্রায় দেখি না, বাংলাদেশী হিন্দুদের নিয়ে ভারতীয় মিডিয়া মিথ্যা প্রোপাগাণ্ডা চালাচ্ছে!
মাশরাফির বাড়ীর উপর হামলাকে সৌম্য সরকারের বাড়ী বলে প্রচার করা, সাতক্ষীরার রেস্টুরেন্টকে মন্দির বলে চালিয়ে দেয়া, দিব্যি দাড়িয়ে থাকা চট্টগ্রামের মন্দিরকে ভেঙে দিয়েছে বলে এআই ছবি দিয়ে নিউজ করা।
এসব আমরা যেমন জানি ফেইক নিউজ, ওরাও জানে ফেইক নিউজ।
আমরা অনেকে মনে করি যে, বাংলাদেশের হিন্দুদের উদ্দেশ্যেই মনেহয় ওরা এগুলো করছে।
আসলে বাংলাদেশের হিন্দুরা এর টার্গেট অডিয়েন্স না।
ওদে টার্গেট অডিয়েন্স হলো পশ্চিমবঙ্গ, আসাম ত্রিপুরার হিন্দুরা। যারা খবরের সত্য মিথ্যা বের করতে পারবে না।
রেইজবেইট ফেউক নিউজ গুলো দিয়ে মূলত তাদের মধ্যে হিন্দুত্ববাদকে উস্কে দেয়াই হলো উদ্দেশ্য।
ফলে বাংলাদেশ নিয়ে হওয়া প্রতিটা ফেইক নিউজকে বড় করে প্রচার করা হয়েছে। কিছু সত্যি ঘটনাকে টুইস্ট করে রঙ মেখে নিজেদের মত বানিয়ে প্রচারণা চালানো হয়েছে।
এগুলো এবারে পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির পক্ষে ভোট যাওয়ার জন্য বড় ধরণের প্রভাব ফেলেছে।
মুসলমান ভোটকে ভাগ করা হয়েছে।
তারপরও মুসলমানরা যাতে ভোট দিতে না পারে, সেটা নিশ্চিত করতে সব রকম চেষ্টা করেছে বিজেপি সরকার।
ভোট শুরু হওয়ার আগে আগে পশ্চিমবঙ্গ থেকে সব হজ্ব ফ্লাইট চালু করে দেয়া হয়েছে, যাতে হজ্বে চলে যাবে তারা আর ভোট দিতে না পারে।
খুবই ছোট ব্যাপার না?
কিন্তু তারা এটাও বাদ দেয়নি।
সবচেয়ে বড় ইঞ্জিনিয়ারিংটা করেছে SIR করে ভোটার তালিকা থেকে বাদ দিয়ে।
৯০ লাখের বেশী মানুষকে ভোটার তালিকা থেকে বাদ দিয়ে তাদেরকে এবারে ভোট দান থেকে বিরত রাখা হয়েছে।
৭ ভাগের ১ ভাগ মানুষকে বাদ দেয়া, সহজ কথা নয়।
এবং এরফলও এবার পেয়েছে বিজেপি।
মুসলমান আর তৃণমূলের ভোট ব্যাংক খ্যাত এলাকাগুলো থেকেই বেশীরভাগ মানুষ ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়েছে।
শুধুমাত্র মুর্শিদাবাদ থেকেই বাদ গেছে প্রায় ৫ লাখ মানুষ।
উত্তর ২৪ পরগনা জেলা থেকে সাড়ে ৩ লাখ মানুষকে বাদ দেয়া হয়েছে।
আগের ইলেকশনে মুর্শিদাবাদের ২২টি আসনের ২০টিই পেত তৃণমূল।
উত্তর ২৪ পরগনায় ৩৩টির মধ্যে প্রায় ৩০টিই পেত তারা।
এবার ৮-১০টা বাদে মোটামুটি সবগুলোতেই হেরেছে তারা।
ভোটার তালিকা থেকে বাদ যাওয়া এলাকা গুলোর বেশীরভাগ আসনেই জিতেছে বিজেপি।
পার্থক্যটাও অসাধারণ কিছু না।
যে সব আসনে ২৫ হাজার ভোটারকে ভোট দিতে দেয়নি, সেখানে বিজেপি জিতেছে ৭-১০ হাজার ভোটে।
যেখানে ১৫ হাজার ভোটার বাদ গেছে, সেখাবে জিতেছে ৬-৭ হাজার ভোটে।
তারপরও অনেক আসনে জিততে পারেনি বিজেপি।
২৫-৩০ হাজারের বেশী ভোটার বাদ পড়া ১৪৭টি আসনের ৯৫টিতে জিতে এসেছে বিজেপি।
২৫-৩০ হাজার মানুষ ভোট দিতে না পারায়, এসব আসনে ৭-১০ হাজার কোথাও ১২-১৬ হাজার ব্যবধানে জিতেছে।
২০-২৫ হাজার ভোটার বাদ গেছে এমন ৫০টি আসনের ৪০টিতেই জিতেছে বিজেপি।
৫ থেকে ১৫ হাজার করে ভোটারের নাম বাতিল হয়েছে, এমন ৬২টি আসনের মধ্যে ৫০টিতেই জিতেছে বিজেপি।
এবার চিন্তা করেন, এক কোটি ভোটারকে ভোটার তালিকা থেকে বাদ না দিলে, ফলাফল কী হতো! | 1 623 |
اکنون در دسترس! پژوهش تلگرام ۲۰۲۵ — مهمترین بینشهای سال 
