ch
Feedback
আল-আকসা ♥️

আল-আকসা ♥️

前往频道在 Telegram

♥️ ও. এম. প্রকাশনী (সাহিত্যের মাধ্যমে_তারুণ্যের সৃজনশীলতা বিকাশে দৃঢ় প্রতিজ্ঞাবদ্ধ ) 🍀 O.M. MEDIA YouTube channel 👇 https://youtube.com/channel/UCDH_pJHz6kOSzsNymvRGfJA

显示更多
932
订阅者
无数据24 小时
无数据7
-1430

数据加载中...

标签云
无数据
有任何问题?请刷新页面或联系我们的客服
进出提及
---
---
---
---
---
---
吸引订阅者
七月 '26
七月 '26
+5
在0个频道中
六月 '26
+8
在0个频道中
Get PRO
五月 '26
+11
在0个频道中
Get PRO
四月 '26
+12
在0个频道中
Get PRO
三月 '26
+6
在0个频道中
Get PRO
二月 '26
+65
在0个频道中
Get PRO
一月 '26
+14
在0个频道中
Get PRO
十二月 '25
+6
在0个频道中
Get PRO
十一月 '25
+8
在0个频道中
Get PRO
十月 '25
+11
在0个频道中
Get PRO
九月 '25
+11
在0个频道中
Get PRO
八月 '25
+15
在0个频道中
Get PRO
七月 '25
+10
在0个频道中
Get PRO
六月 '25
+36
在2个频道中
Get PRO
五月 '25
+28
在2个频道中
Get PRO
四月 '25
+46
在0个频道中
Get PRO
三月 '25
+50
在0个频道中
Get PRO
二月 '25
+15
在0个频道中
Get PRO
一月 '25
+50
在2个频道中
Get PRO
十二月 '24
+96
在2个频道中
Get PRO
十一月 '24
+78
在2个频道中
Get PRO
十月 '24
+144
在0个频道中
Get PRO
九月 '24
+37
在2个频道中
Get PRO
八月 '24
+165
在5个频道中
Get PRO
七月 '24
+515
在4个频道中
日期
订阅者增长
提及
频道
13 七月0
12 七月0
11 七月0
10 七月+2
09 七月0
08 七月+2
07 七月0
06 七月0
05 七月+1
04 七月0
03 七月0
02 七月0
01 七月0
频道帖子
🌑 আব্দুল্লাহ্ ইবন আমর ইবনুল আস (রাযিঃ) রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) হইতে রিওয়ায়েত করেন যে, তিনি ফরমাইয়াছেনঃ আল্লাহর নিকট সেই সাথীই উত্তম-যে তাহার নিজ সাথীদের নিকট উত্তম এবং আল্লাহর নিকট সেই প্রতিবেশীই উত্তম যে তাহার নিজ প্রতিবেশীদের নিকট উত্তম। —আল-আদাবুল মুফরাদ, হাদীস নং ১১৫ 🌼 শুভ সকাল

2
আমাদের মা-বাবা বলতে গেলে জীবনের পুরোটা সময় আমাদের জন্য ত্যাগ ত্যাগ করে। দিনরাত পেরেশানি করে, পরিশ্রম করে আমাদের ভালো রাখার জন্য। চেষ্টা করে। কিন্তু আমরা যখন বড় হই, কিছুতে কিছু হলেই চিৎকার করে আমরা বাবা-মাকে বলতে দ্বিধাবোধ করি না যে, তুমি আমার জন্য কি করেছো? আমাদের কি দিয়েছে ? ভাবুন তো বাবা-মা তখন মনে কত কষ্ট পায়? ওনাদের মন ভেঙে যায়। এরকমটা আমরা কখনো না করি।
29
3
没有文字...
32
4
প্রতিবাদের ভাষায় অশ্লীলতা : সামাজিক অবক্ষয়ের এক নতুন সংকট শায়েখ আবুল বাশার সাইফুল ইসলাম সাহেব হাফিজাহুল্লাহ অন্যায় ও শোষণের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর এক শক্তিশালী মাধ্যম হলো প্রতিবাদ করা। যে-কোনও ইতিবাচক পরিবর্তনের পেছনে এর রয়েছে বিশাল ভূমিকা। কিন্তু সম্প্রতিককালে লক্ষ্য করা যাচ্ছে প্রতিবাদের ভাষা ও ধরনে এক চরম অবক্ষয় নেমে এসেছে। দাবী আদায় বা ক্ষোভ প্রকাশের নামে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম থেকে শুরু করে রাজনীতির মঞ্চ ও রাজপথের মিছিলে দেদারসে ব্যবহৃত হচ্ছে অশালীন, অশ্লীল ও কুরুচিপূর্ণ শব্দ। প্রতিবাদের এ কদর্য রূপ ব্যক্তি ও সমাজ জীবনের উপর যে দীর্ঘমেয়াদী ও অশুভ প্রভাব ফেলতে পারে তা অত্যন্ত উদ্বেগের বিষয়। বরং ইতোমধ্যে সে প্রভাব পরিলক্ষিতও হচ্ছে। অশ্লীল শব্দের অবাধ ব্যবহার তরুণদের সুকুমারবৃত্তি ধ্বংস করছে। তাদের আদব লেহাজ শেষ করে দিচ্ছে। তাদেরকে উগ্র ও উদ্ধত করে তুলছে। বলাবাহুল্য ভাষা মানুষের রুচি ও ব্যক্তিত্বের আয়না। কুরুচিপূর্ণ শব্দের অবাধ ব্যবহার জানান দিচ্ছে আজকের তরুণরা কতটা অসহিষ্ণু হয়ে উঠেছে। তাদের নীতি নৈতিকতা কতটা নিচে নেমে গেছে। এর দ্বারা কিশোর বালকেরা বিভ্রান্ত হচ্ছে। এসব দেখে শুনে তারা হয়ত ভাবছে কাউকে গালি দেওয়া, অশ্লীল ভাষা ব্যবহার করতে পারা, কারও ব্যক্তিত্বের উপর আঘাত করা বা কাউকে অপমান করা খুব বীরত্বের কাজ। এভাবে এর চর্চার মাধ্যমে উত্তরোত্তর তাদের মূল্যবোধ ধ্বংস হচ্ছে। এভাবে চলতে থাকলে একদিন পরিবার ও সমাজ চরম বিপর্যয়ের মুখে পড়বে। আদব লেহাজ ভদ্রতা সভ্যতা ও সম্ভ্রমবোধ নি:শেষ হয়ে যাবে। সর্বত্র ঘৃণা, বিভেদ, বেআদবি ও অসভ্যতা জেঁকে বসবে, যা কোন মনুষ্য সমাজের চরিত্র হতে পারে না। অন্যায় অনাচারের প্রতিবাদ অব্যাহত রাখা অবশ্যই জরুরি। কিন্তু সে প্রতিবাদের ভাষা নিজেই যদি অন্যায়ের রূপ নিয়ে নেয়, তবে সে প্রতিবাদ সমাজের জন্য কেবল অকল্যাণই বয়ে আনবে। সুতরাং এর রোখথাম করতে হবে এখনই। এর জন্য সচেতনমহলকে এখনই কার্যকর ভূমিকা রাখতে হবে।
83
5
没有文字...
67
6
میرے جنازے پہ اؤ تو تھوڑا جلدی انا، کیونکہ میری طرح دفنانے والے تمہارے لیے انتظار نہیں کریں گے۔
66
7
শ্রদ্ধা এবং প্রশংসা__ এটা চেয়ে নিতে হয় না, অর্জন করতে হয়।
67
8
করটিয়া জমিদার বাড়ি করটিয়া জমিদার বাড়ি (Karatia Jomidar Bari) টাঙ্গাইল শহর থেকে মাত্র ১০ কিলোমিটার দূরে পুটিয়ার নদীর তীরে অবস্থিত। জমিদার ওয়াজেদ আলী খান পন্নী মোগল ও চৈনিক স্থাপত্য কৌশলে বাড়িটি নির্মাণ করেন। প্রায় ১ কিলোমিটার দৈর্ঘ্য এবং ০.৫ কিলোমিটার প্রস্থের করটিয়া জমিদার বাড়ি চারপাশে প্রাচীর দিয়ে ঘেরা। জমিদার বাড়িতে রয়েছে লোহার ঘর, রাণীর পুকুরঘাট, রোকেয়া মহল, ছোট তরফ দাউদ মহল এবং মোগল স্থাপত্যে নির্মিত একটি ঐতিহাসিক মসজিদ। মসজিদটিতে মোট আটটি গম্বুজ ও ১৫ ফুট উঁচু একটি মিনার রয়েছে। করটিয়া জমিদার বাড়ি করটিয়া রাজবাড়ী (Karatia Rajbari) নামেও পরিচিত। করটিয়া জমিদার বাড়ি কিভাবে যাবেন ঢাকা হতে সড়কপথে টাঙ্গাইলের দূরত্ব প্রায় ৮৪ কিলোমিটার। টঙ্গী হয়ে টাঙ্গাইল যেতে প্রায় ২ থেকে আড়াই ঘন্টা সময় লাগে। ঢাকার মহাখালী বাস টার্মিনাল থেকে নিরালা, বিনিময়, ঝটিকা, ধলেশ্বরী ইত্যাদি বাস টাঙ্গাইলের উদ্দেশ্যে নিয়মিতভাবে ছেড়ে যায়। এই সমস্ত বাসে টাঙ্গাইল যেতে ভাড়া লাগে ২০০ থেকে ২৫০ টাকা। এই সব বাসে চড়ে করটিয়া বাইপাসের কাছে বাস থেকে নেমে রিকশা যোগে করটিয়া জমিদার বাড়ি যেতে ২০ থেকে ২৫ টাকা ভাড়া লাগবে। Maps এছাড়া ট্রেনে করে যেতে চাইলে একটু খোঁজ খবর নিয়ে দেখতে পারেন ঢাকা থেকে উত্তরবঙ্গগামী কোন কোন ট্রেন টাঙ্গাইল রেলওয়ে স্টেশনে থামে। তাহলে ট্রেনে করে সহজে টাঙ্গাইল যেতে পারবেন। কোথায় থাকবেন টাঙ্গাইলে থাকার জন্য পল্লী বিদ্যুৎ ও এলজিইডির সরকারি রেস্ট হাউজ আছে। সেগুলিতে যোগাযোগ করে থাকতে পারবেন। আর যদি হোটেলে রাত্রিযাপন করতে চান তবে টাঙ্গাইল শহরের নিরালা মোড়ের দিকে বেশ কিছু বিভিন্ন মানের হোটেলে রাতে থাকতে পারবেন। টাঙ্গাইলের কিছু উল্লেখযোগ্য হোটেলের নাম নিচে দেয়া হল: আল ফয়সাল হোটেল রেসিডেনসিয়াল, সুগন্ধা হোটেল, হোটেল ড্রিম টাচ, নিরালা হোটেল, পিয়াসি হোটেল, হোটেল আদিত্য, শালবন রেসিডেনসিয়াল হোটেল, ইসলামিয়া গেস্ট হাউজ, হোটেল কিছুক্ষন, ভাই ভাই গেস্ট হাউজ ইত্যাদি। রিসোর্টের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো যমুনা রিসোর্ট লিমিটেড ও এলেঙ্গা রিসোর্ট। খাবার সুবিধা টাঙ্গাইল খাওয়ার জন্য বিভিন্ন মানের হোটেল ও রেস্টুরেন্ট রয়েছে। এর মধ্যে শহরের নিরালা মোড়ে অবস্থিত হোটেল নিরালা বিশেষভাবে প্রসিদ্ধ। নিরালা মোড়ের কাছাকাছি দূরত্বে কয়েকটি খাবার হোটেল রয়েছে। এছাড়া টাঙ্গাইলের বিখ্যাত পোড়াবাড়িরি চমচম খেতে ভুলে যাবেন না। করটিয়া জমিদার বাড়ি ভ্রমণ পরামর্শ বর্তমানে করটিয়া জমিদার বাড়ির ভেতরে কাউকে ঢুকতে দেয়া হয় না, মূল ফটক তালাবন্ধ অবস্থায় থাকে। তাই ঝামেলা এড়াতে জমিদার বাড়িতে যাওয়ার আগে ভিতরে ঢুকতে পারবেন এমন নিশ্চিয়তা থাকলে আপনার ভ্রমণটি স্বার্থক হয়ে উঠবে। স্থানীয়দের দেয়া তথ্যমতে, বৈশাখ মাসের ১ ও ১২ তারিখ এবং দুই ঈদের দিন করটিয়া জমিদার বাড়ি জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত থাকে। History আশেপাশের দর্শনীয় স্থান জমিদার বাড়ী ছাড়াও কাছাকাছি দূরত্বে দেখতে যেতে পারেন ঐতিহ্যবাহী আতিয়া মসজিদ, দেলদুয়ার জমিদার বাড়ী, মওলানা ভাসানীর সমাধি ও জাদুঘর এবং মওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়। O.M. Photography
86
9
没有文字...
57
10
মহেরা জমিদার বাড়ি বাংলাদেশের টাঙ্গাইল জেলার মির্জাপুরে অবস্থিত একটি ঐতিহাসিক পুরাকীর্তি। ১৮৯০ সালের দিকে কালিচরণ সাহা ও আনন্
মহেরা জমিদার বাড়ি বাংলাদেশের টাঙ্গাইল জেলার মির্জাপুরে অবস্থিত একটি ঐতিহাসিক পুরাকীর্তি। ১৮৯০ সালের দিকে কালিচরণ সাহা ও আনন্দ সাহা নামে দুই ব্যবসায়ী ভাই প্রায় ৮ একর জমির ওপর এই নান্দনিক প্রাসাদটি নির্মাণ করেন। রোমান ও মোঘল স্থাপত্যশৈলীর মিশ্রণে তৈরি এটি বাংলাদেশের অন্যতম সুসংরক্ষিত জমিদার বাড়ি। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের পর জমিদার পরিবারটি দেশত্যাগ করে। বর্তমানে এটি পুলিশ ট্রেনিং সেন্টার (PTC) হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে এবং অন্যতম জনপ্রিয় একটি পর্যটন কেন্দ্র। 📸 O.M. Photography
66
11
'সম্পদের' সীমাহীন 'চাহিদা' মানুষকে ভুল পথে নিয়ে যায়'।
53
12
সম্পূর্ণ নীরব উপায়ে বাংলাদেশ থেকে পাচার হয়ে যাচ্ছে ট্রিলিয়ন ট্রিলিয়ন টাকার সম্পদ-প্রাকৃতিক গ্যাস। আর এই বৈজ্ঞানিক চুরির গোপন নকশা এত বছর পর ফাঁস করে দিলো এশিয়ার পরাশক্তি চীন। ইতোমধ্যে বিষয়টি সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে। বিগত ১৭ বছর ধরে শেখ হাসিনা সরকারের প্রকাশ্যে এবং গোপন প্রশ্রয়ে যে সম্পদ প্রতিবেশী ভারত নিজের ঘরের দিকে টেনে নিয়ে গেছে, এতে করে বাংলাদেশে যে গ্যাস চুরি হচ্ছে, সেই তথ্যই এবার সামনে এনেছে বেইজিং। বিজ্ঞান ও পদার্থ বিদ্যায় তরল ও গ্যাসীয় পদার্থ সবসময় উচ্চ চাপ থেকে নিম্ন চাপের দিকে ধাবিত হয়। এই সূত্রকে কাজে লাগিয়ে ভারত ও বাংলাদেশের সীমানার কাছে বিশেষ কৌশল ব্যবহার করা হয়েছে। ভারত তার সীমানায় বিশেষ কৌশলে মাটি না খুঁড়ে সোজা স্লান রিলিং বা বাঁকা পদ্ধতিতে কোনাকুনিভাবে বাংলাদেশের গ্যাস ভাণ্ডারে পাইপ ঢুকিয়ে এই কাজ করেছে। সেখান থেকে সজোরে গ্যাস বের করায় বাংলাদেশের মাটির নিচে চাপ সৃষ্টি হচ্ছে। এতে করে প্রাকৃতিক নিয়মেই বাংলাদেশের অন্য প্রান্তের প্রাকৃতিক গ্যাস ও ফাইবের দিকে ধাবিত হচ্ছে। অতিমূল্যবান প্রকৃতিক সম্পদ বাংলাদেশের হলেও চৌকশ যন্ত্রের মাধ্যমে এর পুরোটাই নিয়ে নিচ্ছে ভারত।
67
13
আমেরিকা নিজ হাতে Kh—উন করল আয়াতুল্লাহ খোমেনিকে। তার জানাযায় শ্রদ্ধা জানাতে শরিক হলো বাংলাদেশের উচ্চ পর্যায়ের সরকারি এবং বিরোধি দলের লোকজন। আবার, একই সময়ে, বাংলাদেশের সর্বোচ্চ জায়গা সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় খুব আড়ম্বরের সাথে পালন হচ্ছে আমেরিকার স্বাধীনতা দিবস। সেখানেও উপস্থিত আছেন দেশের সর্বোচ্চ পর্যায়ের সরকারি আর বিরোধি দলের লোকজন। রাজনীতিই আসলে এমন৷ ধর্মেও থাকা লাগে, জিরাফেও থাকা লাগে।
59
14
মনে হচ্ছে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর ভগ্নিপতি যেন, ভোলা জেলা সমাজকল্যাণ কর্মকর্তা হিসেবে 'প্রাইজ পোস্টিং' পেয়েছেন! সম্প্রতি কম্পিউটার বেসিক ট্রেনিংয়ের অংশগ্রহণকারীদের যে তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে, সেখানে দেখা যাচ্ছে প্রায় ৯০% নামই সনাতন ধর্মাবলম্বীদের। অভিযোগ উঠেছে, বেছে বেছে অনেক মুসলিম আবেদনকারীকে বাদ দেওয়া হয়েছে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সংশ্লিষ্ট জেলা সমাজকল্যাণ কর্মকর্তার নাম রজত শুভ্র সরকার, যিনি নিজেও সনাতন ধর্মাবলম্বী। যদি নিয়োগ বা নির্বাচন প্রক্রিয়ায় ধর্মীয় পরিচয় বিবেচনায় এনে বৈষম্য করা হয়ে থাকে, তাহলে সেটি অত্যন্ত উদ্বেগজনক এবং এর সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া উচিত। সরকারি সুযোগ-সুবিধা বণ্টনে ধর্ম নয়, যোগ্যতাই একমাত্র বিবেচ্য হওয়া উচিত।
89
15
没有文字...
74
16
‘আমার কাছে ইসলাম ধর্ম অনেক ভালো লাগে’, অথবা ‘আমি ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করতে চাই’- এ জাতীয় কথাগুলি হলো মূলত মুসলিম মেয়েদের সতীত্ব হরণের মরণফাঁদ। একজন সচেতন মুসলিম মেয়ের কাউন্সেলিং সেশনে উঠে আসা বাস্তব ঘটনাটি পড়ে দেখতে পারেন। (যেটি ভিক্টিমের অনুমতিসাপেক্ষে আমরা শেয়ার করছি।) আপনাদের বুঝতে সমস্যা হলেও এটাই সত্যি যে, এই দেশে মুসলিম নারীদের সতীত্ব হরণে ব্যতিব্যস্ত একশ্রেনির নন-মুসলিম চক্র! এরা ট্রাপের মাধ্যমে ব্যাপকহারে কাজ করছে এবং সফলও হচ্ছে..! আমাদের কাছে এমন অসংখ্য প্রমাণাদি রয়েছে যে, একটি নির্দিষ্ট চক্রের সদস্যরা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ভিত্তিক প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের দিয়েই কাজ করায়। প্রথমে তারা মুসলিম মেয়েদের ইনডিভিজুয়ালি টার্গেট করে। টার্গেটকৃত মেয়ের দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য সহজ-সরল, সুবোধ ইত্যাদি ভান ধরে। পরে সুযোগমতো একদিন সেই টার্গেটেড মেয়েটিকে বলে ফেলে “ইসলাম ধর্মের প্রতি তার আকর্ষণের কথা।” অতি সরল মেয়েদেরকেই তারা টার্গেট করার চেষ্টা করে। আর একটু সচেতন মেয়ে হলেও ধীরে ধীরে তাদের পাঁতানো ফাঁদে কীভাবে পা দেয় সেটার কিঞ্চিৎ ধারণা নিতে একজনের কাউন্সেলিং সেশনের তিন নম্বর সেশনে উঠে আসা আসল সত্যি ঘটনাটি পড়ুন- প্রথম আলাপ- হিন্দু ছেলে: আমার কাছে আপনাদের ধর্মের অনেক কিছুই ভালো লাগে। সচেতন মুসলিম মেয়ে: তো দাদা, সেটা কোনো এক মুসলিম আলেম ছেলেকে বলুন এবং আমাদের ধর্ম সম্পর্কে জানুন। হিন্দু ছেলে: আসলে ছেলে হয়ে ছেলেদেরকে আমার ধর্মের বিরোধী কনসেপ্ট বলাটা আমি নিরাপদ মনে করছি না। সচেতন মুসলিম মেয়ে: কেন দাদা? হিন্দু ছেলে: কারণ হলো, আমার যে কয়েকজন মুসলিম ছেলে বন্ধু আছে তাদের সবার সাথে কোনোনা-কোনো হিন্দু ছেলের সাথে সম্পর্ক ভালো। কোনো একদিন যদি বলে দেয়, তাহলে আমার সর্বনাশ হবে। সচেতন মুসলিম মেয়ে: ওহ, তাই? হিন্দু ছেলে: তাহলে আপনি আমাকে একজন ভালো জ্ঞানী ছেলে বন্ধুর সন্ধান দিন যার কাছ থেকে আমি আপনাদের ধর্মের বিষয়ে জানতে পারবো। সচেতন মুসলিম মেয়ে: আহমেদ আব্দুল্লাহ রহমান। (ছদ্মনাম) হিন্দু ছেলে: আপনার প্রতি অনেক অনেক কৃতজ্ঞ। সচেতন মুসলিম মেয়ে: থ্যাংকস। কিছুদিন পর.................... হিন্দু ছেলে: আপা, আপনি আমাকে ধর্ম সম্পর্কে জানতে যে ছেলেকে ঠিক করে দিয়েছেন। উনি আসলে বিরক্ত হচ্ছেন আর আমাকে অনেক কিছু ক্লিয়ার করছেন না। সচেতন মুসলিম মেয়ে: আপনি আমাকে বলুন তো, (এরপর কিছু বিষয় নিয়ে আলাপ হলো আর সনাতনী ছেলেটি অত্যধিক কৌতুহলি হয়ে সেসব গিলতে লাগলো।) বস্তুত এসব ছিলো তার পরিপক্ব ও কৌশলী অভিনব চক্রান্ত যা মুসলিম মেয়েটি ঘুণাক্ষরেও টের পায়নি সচেতন মেয়ে হওয়া সত্ত্বেও। এবার মেয়েটির মস্তিষ্ক নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব নিয়ে নিলো স্বয়ং শয়তান। শয়তান এবার মেয়েটিকে ইসলাহি বয়ান ডুকিয়ে দিতে লাগলো- “একজন অমুসলিম লোক তোমার ধর্মে আসার জন্য পাগলপ্রায় হয়ে গেছে আর তুমি সেটিকে ভ্রুক্ষেপ করছো না? মুসলমান হিসেবে কী তোমার এখানে কোনো দায়িত্ব নেই। সে একজন ছেলে হলেও তুমি তো একজন প্রাক্টিসিং মুসলিমা। তোমার কাজ করতে হবে গোপনে, তাকে বুঝাতে হবে গোপনে......!” ব্যাস! শয়তানের মগজ ধোলাই শেষ। শয়তান সফল হলো। এরপর শুরু হলো তাদের মধ্যে বন্ধুত্ব্ব। প্রথমে পবিত্র সম্পর্ক দূরত্ব বজায় রেখে, তারপর একটু পারসোনাল আলাপন, ধর্মীয় আলাপের পরিমাণ কমে গেলো, সুখ-দুঃখের আলাপসালাপ বেড়ে গেলো। সর্বশেষ, হোটেল পর্যন্ত পবিত্র সম্পর্ক গড়িয়ে গেলো। এভাবে চলতে লাগলো দিনের পর দিন। হিন্দু ছেলেটির ভোগের চাহিদা বৃদ্ধি পেলো আর মুসলিম মেয়েটি সতিত্ত্ব বিকিয়ে দিতে লাগলো............! আফসোস...! এই ফিজিক্যাল রিলেশন অনেক বছর ধরে চলার পর সম্পর্ক অপবিত্রতায় রুপ নিলো। মেয়েটি বুঝতে পারলো ধর্মীয় সম্পর্কে তারা আর নাই, তারা এখন অবৈধ শারীরিক সম্পর্কে চলে গিয়েছে। মেয়ে নিজের সর্বনাশ বুঝতে পেরে যখন তার কাছ থেকে পালানোর জন্য লাফ দিতে মনস্থির করলো তখনই সে দেখলো- তাকে ব্লাকমেইল করার জন্য ছেলে ঐ গোপন সম্পর্কের বিভিন্ন ভিডিয়ো, ছবি ইত্যাদি নিয়ে পথরোধ করলো। পাঠক, এটি একজন অত্যন্ত সুচতুর ও সচেতন মুসলমান মেয়ের কাউন্সেলিং সেশনে উঠে আসা জবানবন্দির সারসংক্ষেপ। (নাম-ঠিকানা অনুল্লেখপূর্বক মানুষকে সচেতন করার পূর্বানুমতি নিয়েই লিখেছি। মনে রাখবেন- এভাবে হাজার হাজার মুসলিম বোনেরা তাদের অজান্তেই ওদের ফাঁদে পা দিচ্ছে। তারা টার্গেট করে একটু সহজসরল মেয়েদের, তারা খুব সহজে ও অল্পসময়ে তাদের পাঁতানো ফাঁদে পা ফেলে। সচেতন মেয়ে হলেও পা দেয়, একটু দেরীতে হলেও...!! ℞ পৃথিবী অক্ষের বিপরিতে আসা ধ্বংসাত্মক ইলেকট্রন!
92
17
লক্ষ্মীপুরে মা-মেয়েসহ চারজনকে হ [ত্যা] কারী অন্তর মজুমদারকে নিয়ে এক চাঞ্চল্য তথ্য বের হয়েছে একাত্তর টেলিভিশনের একটা প্রতিবেদনে। অন্তর মজুমদার নিজেকে অন্তর মিয়াজী (মুসলিম) পরিচয় দিয়ে একটা মেয়ের (স্ত্রী দাবীকৃত) সাথে দীর্ঘদিন যাবৎ বাসা ভাড়া থাকতো। ঘটনার বেশ কয়েকমাস আগে একই বিল্ডিংয়ের আরেক ইউনিটের একজন মহিলার অন্তরের ধর্ম-পরিচয়ের বিষয়ে সন্দেহ হলে বাড়িওয়ালাকে তার সন্দেহের বিষয়টা জানায়। ফলে বাড়িওয়ালা খোঁজ-খবর নিয়ে সত্যতা পেয়ে অন্তর মজুমদারকে বাসা থেকে বের করে দেয়। মূলত এই ক্ষোভ থেকেই অন্তর পরবর্তীতে সেই মহিলা এবং তাঁর তিন মেয়েকে হ [ত্যা] করে। নিজেকে মুসলিম পরিচয় দেয়ার কারণ যে মেয়েকে স্ত্রী হিসেবে পরিচয় দিয়েছিলো, সেই মেয়েটাও মুসলিম ছিলো। অর্থাৎ এই অন্তর মজুমদার একজন ভাগওয়া সন্ত্র|সী এই বিষয়টা দিনের আলোর মতো স্পষ্ট। মেয়েটাকে খুঁজে বের করে জিজ্ঞাসাবাদ করলে দেখা যাবে মেয়েটার সাথেও হয়তো সে মুসলিম পরিচয়েই সম্পর্ক গড়ে তুলেছিলো। এতবড় ঘটনা ঘটে যাওয়ার পর অন্তত "ভাগওয়া লাভ ট্র্যাপ" অর্থাৎ মুসলিম মেয়েদের সম্ভ্রম কেড়ে নেয়ার উদ্দেশ্যে চলমান এই ষড়য'ন্ত্রে'র বিষয়টা সর্বমহল থেকে একনলেজ করা জরুরি। এই সংকট মোকাবিলায় সরকার এবং দায়িত্বশীলদের ভূমিকার পাশাপাশি প্রত্যেক অভিভাবকের সচেতনতা বৃদ্ধি জরুরি, প্রতিরোধে প্রত্যেকের ভূমিকা থাকা আবশ্যক। এই সংকট আরো আগে দেখা দিলেও বর্তমানে তা ভয়াবহ পর্যায়ে পৌঁছেছে। আমাদের মেয়েদের সম্ভ্রম রক্ষার্থে এই ব্যাপারে ব্যাপক সচেতনতা তৈরির লক্ষ্যে কাজ করা প্রত্যেকের ফরজ হয়ে গেছে।
63
18
ভারতের প্রখ্যাত ইসলামি স্কলার ও হাদিস বিশারদ মাওলানা সৈয়দ সালমান হুসাইনি নদভী আজ, সোমবার (২৯ জুন, ২০২৬) লক্ষ্ণৌর একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইন্তেকাল করেছেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৭২ বছর। সাহাবায়ে কেরামদের (রা.) নিয়ে তার বিতর্কিত মন্তব্যের কারণে তিনি দীর্ঘ সময় ধরে আলেম সমাজ এবং সাধারণ মুসলিমদের মাঝে তীব্র সমালোচিত ও আলোচিত ছিলেন। আল্লাহ তাআলা উনার কাজের প্রেক্ষিতে উনার প্রাপ্য যেন বুঝিয়ে দেন। ১. মাওলানা সালমান নদভী বিভিন্ন সময়ে তার বক্তব্যে এবং লেখনীতে ইসলামের দ্বিতীয় খলিফা হজরত ওমর (রা.), হজরত উসমান (রা.) এবং বিশেষ করে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর অন্যতম ওহী লেখক ও বিশিষ্ট সাহাবী হজরত মুয়াবিয়া (রা.)-এর রাষ্ট্রীয় ও রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নিয়ে কঠোর সমালোচনা করেন। সুন্নি আলেমদের একটি বড় অংশের মতে, তার এই সমালোচনাগুলো সাহাবায়ে কেরামের প্রতি চরম অসম্মানজনক ও আপত্তিকর ছিল। ২. সাহাবাদের শানে বেয়াদবি এবং সুন্নি আকীদা-বিরোধী ও বিভ্রান্তিকর বক্তব্যের অভিযোগে তাকে ভারতের ঐতিহাসিক ইসলামি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান দারুল উলুম নদওয়াতুল উলামা-এর 'ডিন' পদ এবং শিক্ষকতা থেকে চূড়ান্তভাবে বহিষ্কার করা হয়। উপমহাদেশের শীর্ষ দেওবন্দী আলেমগণও তার এই সমস্ত বক্তব্যের তীব্র নিন্দা জানান এবং মুসলিম সমাজকে তার এই ধরনের মতামত থেকে দূরে থাকার আহ্বান করেন। ৩. তিনি নিজেকে শিয়া-সুন্নি ঐক্যের প্রবক্তা হিসেবে দাবি করতেন, যা অনেক সময় তাকে সুন্নি মূলধারা থেকে দূরে সরিয়ে দেয়। এছাড়া বিভিন্ন আন্তর্জাতিক বিষয়ে (যেমন: আইএসআইএস বা দায়েশ-কে অভিনন্দন জানিয়ে চিঠি লেখা, যা তিনি পরে প্রত্যাহার করেন) এবং ভারতের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে (বাবরি মসজিদ ও রাম মন্দির ইস্যুতে সমঝোতার প্রস্তাব) জড়িয়ে তিনি চরম বিতর্কিত হয়ে পড়েন। ৪. তাঁর সংক্ষিপ্ত পরিচিতি বংশীয় পরিচয়: তিনি বিশ্বখ্যাত আলেম হযরত মাওলানা আবুল হাসান আলী নদভী (রহ.)-এর নাতি (ভাগ্নে) এবং বংশসূত্রে ইমাম হোসাইন (রা.)-এর বংশধর ছিলেন। পাণ্ডিত্য: আরবি ভাষা, ইতিহাস এবং হাদিস শাস্ত্রে তাঁর গভীর পাণ্ডিত্য ছিল এবং এই বিষয়ে তাঁর বহু মূল্যবান গ্রন্থ রয়েছে। ইসলামের মূলধারার সুন্নি আকিদা অনুযায়ী সমস্ত সাহাবায়ে কেরামের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করা ঈমানের অংশ। মাওলানা সালমান নদভীর এই রাজনৈতিক ও ঐতিহাসিক সমালোচনামূলক বক্তব্যগুলোকে সাধারণ আলেম সমাজ ইসলামের শরিয়াহ ও আদবের পরিপন্থী বলেই গণ্য করেন। Pc- Jubair Jalalabadi
78
19
আমি কয়েক মুহূর্ত দরজার সামনে স্থির হয়ে দাঁড়িয়ে রইলাম। হাত খালি ছিল, তবু মনে হচ্ছিল ভেতরে যেন খুব ভারী কিছু ভেঙে পড়েছে। আন্টি ভেতর থেকে একটা ছোট খাম এনে আমার হাতে দিলেন। বললেন— “এটা তোমার জন্য রেখে গিয়েছেন।” কাঁপা হাতে খামটা খুললাম। ভেতরে ছিল সেই ৫০০ টাকার নোট। আর একটা ছোট্ট চিরকুট। তাতে লেখা ছিল— “বাবা, যদি তুমি এই চিঠিটা পড়ো, তবে আমি আর নেই। সেদিন আমার সঙ্গে বসে খাওয়ার জন্য তোমাকে ধন্যবাদ। তুমি আমাকে শুধু খাবার দাওনি— সম্মান দিয়েছিলে। আর হ্যাঁ… মাকে নিয়মিত ফোন করবে। — আম্মা” আজও সেই ৫০০ টাকা আমার ব্যাগের ভেতরের পকেটে রাখা আছে। আমি কখনও খরচ করিনি। কারণ সেদিন আমি প্রথমবার বুঝেছিলাম— প্রতিটা দরজার ওপাশে শুধু একজন কাস্টমার থাকে না। কখনও সেখানে একজন মা অপেক্ষা করেন। কখনও অপেক্ষা করে থাকে নিঃসঙ্গতা। কখনও সেটা হয় জীবনের শেষ কথোপকথন। আমরা সবাই কোনো না কোনো ক্ষুধা নিয়ে বেঁচে আছি। কারও দরকার খাবার, কারও দরকার ওষুধ, আর কারও দরকার শুধু দু’মিনিটের সঙ্গ। মানুষ সবসময় টাকার ডেলিভারি চায় না— কখনও কখনও তারা শুধু চায় একটু উপস্থিতি, একটু মানবিকতা, একটু সময়। গল্পটা এখানেই শেষ। কিন্তু সত্যি বলতে— গল্প শেষ হয়ে গেলেও বুকের ভেতরের ভার অনেকদিন থেকে গিয়েছিল। একাকীত্ব আর বার্ধক্য— এই দুটো একসাথে যখন জীবনে আসে, তখন তা সত্যিই ভয়ংকর হয়ে ওঠে। আর যদি তার সঙ্গে অভাব-অনটনও যোগ হয়, তবে সেটাই হয়ে দাঁড়ায় জীবনের সবচেয়ে নির্মম ট্র্যাজেডি। কালেক্টেড।
72
20
আমি একজন ডেলিভারি বয়। বেশিরভাগ সময়ই আমার ডিউটি থাকে সন্ধ্যার শিফটে। সেদিন রাত প্রায় ৯টার সময় আমি শেষ অর্ডারটা হাতে পাই। রেস্টুরেন্ট থেকে প্যাকেটটা নেওয়ার সময় খেয়াল করলাম—অর্ডারটা খুবই ছোট। সাধারণ খিচুড়ি, একটু দই, আর দুটো কলা। ঠিকানাটা ছিল শহরের পুরনো অংশে। একটা জরাজীর্ণ পুরনো বাড়ি। তৃতীয় তলা পর্যন্ত সিঁড়ি ভেঙে উঠতে হলো। আমি দরজার বেল টিপলাম। একজন বৃদ্ধা দরজা খুললেন। সাদা চুল, কাঁপা কাঁপা হাত, চোখে মোটা চশমা। মুখে ক্লান্তির ছাপ ছিল, কিন্তু কণ্ঠে ছিল অদ্ভুত এক মমতা। তিনি মৃদু হেসে বললেন— “বাবা, খাবারটা ভেতরে টেবিলের ওপর রেখে দাও তো… হাত দুটো খুব কাঁপে।” আমি খাবারটা টেবিলে রেখে বেরিয়ে আসতে যাচ্ছিলাম, ঠিক তখনই তিনি আবার বললেন— “দু’মিনিট বসবে বাবা? একা একা খেতে আর ভালো লাগে না…” আমি ঘড়ির দিকে তাকালাম। আমার শিফট শেষ হয়ে গিয়েছিল। শরীরও বেশ ক্লান্ত ছিল। তবু কেন জানি না, আমি বসে পড়লাম। ঘরটা একদম নিস্তব্ধ ছিল। দেওয়ালে ঝোলানো পুরনো ঘড়ির টিকটিক শব্দ ভেসে আসছিল। এক কোণে ছোট্ট করে ঈশ্বরের ছবি। আর সামনের দেয়ালজুড়ে অসংখ্য পুরনো ফ্রেমবন্দী ছবি। বৃদ্ধা ধীরে ধীরে খাবারের প্লেট খুললেন। খুব আস্তে আস্তে খিচুড়ি খেতে শুরু করলেন। প্রতি দু’কামড় পরপর আমার দিকে তাকিয়ে একটু হাসছিলেন। হঠাৎ তিনি বললেন— “জানো বাবা, আমি রোজ বাইরে থেকে খাবার অর্ডার করি না। আজ শুধু মনে হলো… একটা মানুষের গলার শব্দ শুনতে ইচ্ছে করছে।” আমি চুপ করে রইলাম। তিনি দেয়ালের একটা ছবির দিকে আঙুল তুলে বললেন— “এই যে, উনি আমার স্বামী। রেলে চাকরি করতেন। পাঁচ বছর আগে চলে গেছেন।” তারপর আরেকটা ছবির দিকে তাকালেন। “এটা আমার ছেলে। কানাডায় থাকে। খুব ভালো আছে… প্রতি মাসে টাকা পাঠায়।” এরপর কিছুক্ষণ চুপ করে রইলেন। মুখে হাসি ছিল, কিন্তু চোখ ভিজে উঠেছিল। তিনি ধীরে বললেন— “শুধু… কথা পাঠানোর সময়টা আর হয় না।” হঠাৎ যেন ঘরের ঘড়ির টিকটিক শব্দটা আরও জোরে শোনা যেতে লাগল। তিনি আবার একটু খিচুড়ি খেলেন। “এটা আমার মেয়ে। বেঙ্গালুরুতে থাকে। নিজের সংসারে খুব সুখে আছে। থাকুক… সন্তানরা যদি উড়তেই না শেখে, তাহলে এত কষ্ট করে মানুষ করলাম কেন?” কথাগুলো বলতে বলতে তাঁর গলা কেঁপে উঠছিল। তবু মুখে কোনো অভিযোগ ছিল না। ছিল শুধু এক গভীর শূন্যতা। হঠাৎ তিনি আমাকে জিজ্ঞেস করলেন— “তোমার মা আছেন বাবা?” আমি বললাম— “হ্যাঁ, আছেন।” তিনি আবার জিজ্ঞেস করলেন— “প্রতিদিন ফোন করো?” আমি চুপ করে গেলাম। সত্যি বলতে, আমিও অনেকদিন বাড়িতে ফোন করতাম না। কাজের চাপ, ক্লান্তি, ব্যস্ততা— প্রতিবার ভাবতাম, ‘কাল ফোন করব।’ বৃদ্ধা আমার নীরবতা বুঝে ফেলেছিলেন। খুব শান্ত গলায় বললেন— “মা-বাবারা টাকা গোনেন না বাবা… ওরা অপেক্ষা করে সন্তানের কণ্ঠস্বরের জন্য।” কথাটা শুনে বুকের ভেতরটা কেমন ভেঙে গেল। খাওয়া শেষ হলো। তিনি একটু জল খেলেন। তারপর পার্স থেকে ৫০০ টাকার একটা নোট বের করে আমার দিকে বাড়িয়ে দিলেন। বললেন— “এটা টিপস নয় বাবা। এই আধঘণ্টা তুমি আমাকে একা খেতে দাওনি— এটা তার দাম।” আমি তাড়াতাড়ি বললাম— “না না, আম্মা, এটা আমি নিতে পারব না।” তিনি মৃদু হেসে বললেন— “নাও বাবা। আজ তুমি শুধু খাবার পৌঁছে দাওনি… তুমি সঙ্গ পৌঁছে দিয়েছ।” শেষ পর্যন্ত আমি টাকাটা নিলাম। কিন্তু পকেটে রাখতে পারলাম না। হাতেই ধরে রইলাম। আমি বেরিয়ে আসছিলাম, তখন তিনি আবার ডাকলেন— “আর শোনো— আজ বাড়ি গিয়ে মাকে অবশ্যই ফোন করবে।” সেদিন রাতে বিল্ডিংয়ের নিচে নেমে আমি বাইক স্টার্ট দিইনি। প্রথমেই মাকে ফোন করেছিলাম। ওপাশ থেকে মায়ের কণ্ঠ ভেসে এলো— “হঠাৎ আজ ফোন করলি? সব ঠিক আছে তো বাবা?” শুধু সেই গলাটা শুনেই আমার গলা ধরে এলো। আমি ধীরে বললাম— “হ্যাঁ মা… শুধু তোমার গলাটা শুনতে ইচ্ছে করছিল।” ওপাশে কয়েক সেকেন্ড নীরবতা। তারপর মা বললেন— “খেয়েছিস তো?” রাস্তার ধারে দাঁড়িয়েই আমি কান্নায় ভেঙে পড়লাম। সেই রাতের পর থেকে আমি প্রতিদিন মাকে ফোন করতে শুরু করি। আর শুধু মাকেই নয়— প্রতিটা ডেলিভারিও আমার কাছে আর শুধুমাত্র একটা অর্ডার রইল না। কোনো বাড়িতে ওষুধের দরকার হয়। কোনো বাড়িতে একাকীত্বের একটু উপশম দরকার হয়। কোনো বাড়িতে কারও ফেরার অপেক্ষা শেষ হওয়ার প্রয়োজন হয়। আবার কোনো বাড়িতে শুধু দরকার হয়— একটা মানুষের কণ্ঠস্বর। এখন দরজা খুললেই আমি আর তাড়াহুড়ো করি না। আমি মুখের দিকে তাকাই। কথার ভেতরের ক্লান্তি শুনতে চেষ্টা করি। মাঝে মাঝে জিজ্ঞেস করি— “সব ঠিক আছে তো?” বেশিরভাগ মানুষ শুধু বলে—“হ্যাঁ।” কেউ একটু হাসে। আবার কিছু মুখ বলে দেয়— সারাদিন তারা কারও সঙ্গে কথা বলেনি। দু’মাস পরে আবার সেই একই ঠিকানা থেকে একটা অর্ডার এলো। আমি তাড়াতাড়ি সেখানে গেলাম। কিন্তু দরজা খুললেন অন্য একজন। পাশের ফ্ল্যাটের এক আন্টি। তিনি ধীরে বললেন— “আম্মা গত সপ্তাহে মারা গেছেন।”
64