uz
Feedback
জ্ঞান - Knowledge

জ্ঞান - Knowledge

Kanalga Telegram’da o‘tish

🙂🙂🙂

Ko'proq ko'rsatish
1 954
Obunachilar
Ma'lumot yo'q24 soatlar
-77 kun
-1830 kun
Postlar arxiv
আমার তিলাওয়াত শেষ হলে আহমদ লাফ দিয়ে উঠল। সে দৌড়ে এসে আমাকে জড়িয়ে ধরল। আমি তার হৃৎপিণ্ডের আওয়াজ শুনতে পাচ্ছিলাম। তার ভেতরে যেন প্রশান্তির উত্তাল তরঙ্গ প্রবাহিত হচ্ছিল। সে আমার কপালে চুম্বন করল। একবার কাঁদছিল আবার হাসছিল। আমাকে বলল, 'শাইখ! আমি সমস্ত কুরআন হিফজ করেছি কিন্তু আজকে মনে হচ্ছে, আমি এই আয়াত জীবনে প্রথমবার শুনলাম। কিভাবে আমি এই আয়াতটা দেখলাম না।' সেদিন মাগরিবের সময়ে মসজিদের ঈমাম উপস্থিত ছিল না। তারা আহমদকে সালাতের জন্য এগিয়ে দিল। আর সে সূরা ফাতিহার পর সূরা ফুরকানের সেই আয়াতগুলোই তিলাওয়াত করতে থাকল। কিন্তু যখন'ই إِلَّا مَن تَابَ পর্যন্ত পৌঁছালো, ক্রন্দনের কারণে পুরোটা শেষ করতে পারল না। এভাবে দ্বিতীয় রাকাতেও সূরা ফাতিহার পর একই সূরা পাঠ করে একই স্থানে এসে কাঁদতে থাকল। এই আয়াত সে কখনোই শেষ করতে পারত না। এরপর জীবন থেকে আরও কিছু মাস পেরিয়ে গেল। তখন রমজান চলছিল। হঠাৎ একদিন আমি আহমদের পিতার ফোন পেলাম। তিনি বললেন, 'দয়া করে দ্রুত বাসায় আসুন।' আমি তাড়াতাড়ি আহমদের বাসায় পৌঁছালাম।তার পিতা দেখা মাত্রই আমাকে জড়িয়ে ধরে পাগলের মত কাঁদতে লাগল। আমি তখনো বুঝতে পারছিলাম না কি হয়েছে। তিনি বললেন, 'আপনার প্রিয় বন্ধু আহমদ আপনাকে সালাম জানিয়েছে আর গতরাতে সে তার রবের কাছে ফিরে গিয়েছে।' আমি বুঝতে পারছিলাম না কার জন্য কাঁদবো। আহমদ নাকি তার পিতা! কিছুক্ষণ পর আমার সামনে আহমদের সাদা কাফনে মোড়ানো দেহ আনা হলো। তার মুখ ঢেকে রাখা ছিল। আমি মুখের উপর থেকে কাপড় সরিয়ে দেয়ার সাথে সাথেই তার চেহারার নুর আমাকে বিস্মিত করল। এটা যেন জান্নাতী মানুষের চেহারা, এটা যেন প্রশান্তিময় জীবনের সূচনার চিহ্ন, এটা যেন নুরানী পবিত্রতার উজ্জ্বলতা। আমি তার জন্য দোয়া করলাম আর তার কপালে চুম্বন করলাম। আল্লাহ তাকে জান্নাতবাসী করুক। আমিন। এরপর তার পিতাকে জিজ্ঞেস করলাম, 'ঘটনা কি বলুন তো?' তিনি বলেন, 'সে অনেকদিন ধরেই কোনো সমস্যার মধ্য দিয়ে যাচ্ছিল। কিন্তু আমাদের কাউকে তা জানায়নি। আজকে আমরা একত্রে আসর আদায় করেছি। আমি তাকে বললাম, বাবা! আজকে আমাদের সাথে ইফতার করবে চলো।' কিন্তু সে বললো, 'আমার আজকে মসজিদে আরো কিছুক্ষণ থাকতে ইচ্ছে করছে। আমি একটু অন্যরকম অনুভব করছি।' 'তাই আমি তাকে ছেড়ে আসলাম। ইফতারের সময় তাকে আসতে না দেখে আমার ছোট ছেলেকে দিয়ে ডাকতে পাঠালাম। সে কাঁদতে কাঁদতে ফিরে এসে বললো, 'বাবা! বাবা! আহমদ কথা বলছে না।' 'আমি দৌড়ে মসজিদে গেলাম আর তাকে মিম্বারের সিড়ির উপর পরে থাকতে দেখলাম। যেমনটা সে সবসময় করে। তখনো তার শ্বাস-প্রশ্বাস কিছুটা বাকি ছিল। আমি তার হাত থেকে কুরআন টা নিয়ে সরিয়ে রাখলাম।' 'সে আমাকে কিছু বলতে চাচ্ছিল বলে মনে হলো, তাই আমি তার দিকে এগিয়ে কান বাড়িয়ে দিলাম। সে ধীর আওয়াজে বললো, 'শাইখকে আমার সালাম দিও, শাইখকে আমার সালাম দিও।' এজন্য আমি আপনাকে এই আমানত পৌঁছাতে ফোন করেছি। কিন্তু শাইখ আরেকটা কথা। সে আমার কোলের উপর ছিল। আমরা এম্বুলেন্স ফোন করেছি। তার প্রশ্বাস ক্রমশই বন্ধ হয়ে আসছিল। কিন্তু এমন সময় হঠাৎ করেই তার কণ্ঠস্বর পুরোপুরি পরিবর্তন হয়ে গেল। একটা সুস্থ মানুষের মত করে স্পষ্টভাবে সুরলিত কন্ঠে সে কুরআন তিলাওয়াত করতে লাগল, وَٱلَّذِينَ لَا يَدْعُونَ مَعَ ٱللَّهِ إِلَٰهًا ءَاخَرَ وَلَا يَقْتُلُونَ ٱلنَّفْسَ ٱلَّتِى حَرَّمَ ٱللَّهُ إِلَّا بِٱلْحَقِّ وَلَا يَزْنُونَۚ وَمَن يَفْعَلْ ذَٰلِكَ يَلْقَ أَثَامًا، يُضَٰعَفْ لَهُ ٱلْعَذَابُ يَوْمَ ٱلْقِيَٰمَةِ وَيَخْلُدْ فِيهِۦ مُهَانًا ،إِلَّا مَن تَابَ وَءَامَنَ وَعَمِلَ عَمَلًا صَٰلِحًا فَأُو۟لَٰٓئِكَ يُبَدِّلُ ٱللَّهُ سَيِّـَٔاتِهِمْ حَسَنَٰتٍۗ وَكَانَ ٱللَّهُ غَفُورًا رَّحِيمًا 'সে এই আয়াতগুলো পুরোপুরি তিলাওয়াত করল। এমন মধুময় আওয়াজ আমি ইতিপূর্বে কখনো শুনিনি। আর এরপরেই তার আত্মা আখিরাতের দিকে ফিরে গেল।' আহমদের পিতা জিজ্ঞেস করল, 'শাইখ! আমার ছেলের কি হয়েছিল?' আমি আহমদকে কথা দিয়েছিলাম এটা প্রকাশ করব না। তাই বললাম, 'সে তার বন্ধুকে (ঈমান) হারিয়ে ফেলেছিল।' ~Porda

এইটুকু পবিত্রতা নিয়ে আরও কিছুসময় অতিবাহিত হলো। এতদিনে আহমদ কুরআনের হাফেজ হয়ে গেছে। সে এখন একদিন পরপর রোজা রাখে, পাঁচ ওয়াক্ত সালাতে মসজিদে উপস্থিত থাকে। বেশী বেশী দান সদকা করে। সারাক্ষণ যিকিরে মগ্ন থাকে। নিজের প্রত্যেকটা কাজকে হিসেব কষে কষে আল্লাহর ইচ্ছার মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখে। সে আর কখনোই এত বেশী খুশি হয়নি। কিছু বছর পর ~ একদিন মদিনা থেকে একজন বড় আলিম বক্তব্য দেয়ার জন্য আসলেন। তিনি তার বক্তব্যের একপর্যায়ে একটা ঘটনা বললেন। তিনি বলেন, রাবী ইবনু খুসাইম রহিমাহুল্লাহ নামক এক নেককার তাবেয়ী ছিলেন। তিনি আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ রাদিআল্লাহু এর প্রিয় ছাত্রদের একজন। তার পরিচ্ছন্ন ব্যক্তিত্ব, নিষ্কলুষ অন্তর আর ইবাদাতের একনিষ্ঠতা দেখে ইবনু মাসউদ (রা) আফসোস করতেন আর বলতেন : "হে আবু ইয়াযিদ! যদি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তোমাকে দেখতেন, তবে অবশ্যই তোমাকে ভালোবাসতেন। আমি তোমাকে যতবার দেখেছি, আমার কোরআনে বর্ণিত বিনয়ীদের কথা মনে পড়েছে।" [সিফাতুস সাফওয়া : ২/৩৪] একবার একদল লোক রাবী রহিমাহুল্লাহর পদস্খলনের জন্য চেষ্টা করল। তারা ১০০ দিনারের বিনিময়ে শহরের সবচাইতে সুন্দর নারীকে ভাড়া করল। আর তাকে বললো, 'তোমার রাবী ইবনু খুসাইমকে চু-ম্ব-ন করতে হবে।' সেই নারী বললো, 'একশ দিনারের বিনিময়ে সামান্য এইটুকু!' সে রাবী রহিমাহুল্লাহর জন্য পথের একপাশে অপেক্ষা করছিল। মাগরিবের সালাত আদায় করে তিনি যখন বাড়ি ফিরছিলেন সে চুম্বনের উদ্দেশ্যে তার সামনে দাঁড়িয়ে প্রথমে নিজের রূপ প্রদর্শন করল। রাবী রহিমাহুল্লাহ চিৎকার দিয়ে বললেন, 'হায়! যদি তুমি এক ঘন্টা পর মৃত্যুবরণ কর তাহলে কালকে তোমার এই রূপের কি অবস্থা হবে? তুমি আল্লাহকে কি জবাব দিবে? তিনি তোমাকে রূপ আর সৌন্দর্য দান করেছেন আর তুমি তা হারামের পথে ব্যবহার করছ।' নিজের মৃত্যুর কথা শুনে সেই নারী এমনভাবে প্রভাবিত হলো যে, সে কাঁদতে কাঁদতে ফিরে গেল। এরপর আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাইলো এবং আখিরাতে মনোযোগী হলো। আর রাবী রহিমাহুল্লাহর সেই নসীহতের বদৌলতে একটা সময়ে সে আবিদাতুল কুফা বা কুফার ইবদতগুজার নারীতে পরিণত হলো। এই ঘটনা শুনে লোকেদের মাঝ থেকে একজন যুবক চিৎকার করে কেঁদে উঠে বললো, 'রা'বীয়া ইবনু খুসাইম সেই নারীকে ফিরিয়ে দিয়েছে আর আমি তার সাথে যি-না-য় লিপ্ত হয়েছি।' 'আমরা বুঝতে পারলাম এটা আহমদ ছিল। কিন্তু আমি কিভাবে জানব সে এখানে আছে! পূর্বে জানলে শাইখকে এই গল্প বলতে বারণ করতাম।' 'সময়ের আরও কিছু অংশ চলে গেল। অনেকদিন আহমদকে দেখি না। একদিন আমি একজন বড় আলিমের সাক্ষাত লাভ করলাম। তিনি আগের সবার থেকে বেশী প্রজ্ঞাবান এবং অধিক ইলমের অধিকারী ছিলেন। আমি ভাবলাম এই শাইখকেও আহমদের ব্যাপারটা জানিয়ে দেখি। যদি এবার অন্তত সেই অসহায় যুবকের জন্য একটা সমাধান পাওয়া যায়।' সেই আলিম সমস্ত ঘটনা শুনে আমাকে বললেন, 'শাইখ! এর জন্য তো কুরআনে কত সুন্দর একটা আয়াত রয়েছে। আপনি তার কাছে যান আর তাকে বলুন।' 'কোন আয়াত টা?' 'আপনার কি সূরা ফুরকানের সেই আয়াতের কথা মনে নেই? যেখানে আল্লাহ বলেছেন, وَٱلَّذِينَ لَا يَدْعُونَ مَعَ ٱللَّهِ إِلَٰهًا ءَاخَرَ وَلَا يَقْتُلُونَ ٱلنَّفْسَ ٱلَّتِى حَرَّمَ ٱللَّهُ إِلَّا بِٱلْحَقِّ وَلَا يَزْنُونَۚ وَمَن يَفْعَلْ ذَٰلِكَ يَلْقَ أَثَامًا، يُضَٰعَفْ لَهُ ٱلْعَذَابُ يَوْمَ ٱلْقِيَٰمَةِ وَيَخْلُدْ فِيهِۦ مُهَانًا، إِلَّا مَن تَابَ وَءَامَنَ وَعَمِلَ عَمَلًا صَٰلِحًا فَأُو۟لَٰٓئِكَ يُبَدِّلُ ٱللَّهُ سَيِّـَٔاتِهِمْ حَسَنَٰتٍۗ وَكَانَ ٱللَّهُ غَفُورًا رَّحِيمًا، "আর যারা আল্লাহর সাথে অন্য ই-লাহকে ডাকে না এবং যারা আল্লাহ যে নাফসকে হ/ত্যা করা নিষেধ করেছেন যথার্থ কারণ ছাড়া তাকে হ/ত্যা করে না। আর যারা ব্যভিচার করে না। আর যে তা করবে সে আযাবপ্রাপ্ত হবে।" "কিয়ামতের দিন তার আযাব বর্ধিত করা হবে এবং সেখানে সে অপমানিত অবস্থায় স্থায়ী হবে।" "তবে যে তাওবা করে, ঈমান আনে এবং সৎকর্ম করে। পরিণামে আল্লাহ তাদের পাপগুলোকে পূণ্য দ্বারা পরিবর্তন করে দেবেন। আল্লাহ অতীব ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।" [সূরা ফুরকান, ২৫ : ৬৮-৭০] 'আমি এটা শুনে খুশিতে পাগলের মত হয়ে গেলাম।আমার আর তর সইছে না। কতক্ষণে আহমদকে এই বিষয়ে জানাবো। এটা এখন পর্যন্ত আমার শোনা শ্রেষ্ঠ সমাধান। কেন এতদিন এটা আমার মনে ছিল না!' 'আমি সাথে সাথেই মসজিদে গেলাম। আর দেখলাম, আহমদ প্রতিদিনের মত মিম্বারের সামনে নত মস্তকে প্রার্থনারত। তাকে দেখে আমি নিজেকে আর সামলে রাখতে পারলাম না। তাকে ডাকলাম, 'আহমদ, আহমদ' এর পর আর কিছু না বলেই নিজের হৃদয়ের সবটুকু ভালোবাসা আর আবেগ দিয়ে সূরের সর্বোত্র সুন্দর তরঙ্গে সেই আয়াতগুলো তিলাওয়াত করলাম।

قُلْ يَٰعِبَادِىَ ٱلَّذِينَ أَسْرَفُوا۟ عَلَىٰٓ أَنفُسِهِمْ لَا تَقْنَطُوا۟ مِن رَّحْمَةِ ٱللَّهِۚ إِنَّ ٱللَّهَ يَغْفِرُ ٱلذُّنُوبَ جَمِيعًاۚ إِنَّهُۥ هُوَ ٱلْغَفُورُ ٱلرَّحِيمُ বল, ‘হে আমার বান্দাগণ, যারা নিজেদের উপর বাড়াবাড়ি করেছ তোমরা আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হয়ো না। অবশ্যই আল্লাহ সকল পাপ ক্ষমা করে দেবেন। নিশ্চয় তিনি ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু’। [সূরা আয যুমার, ৩৯ : ৫৩] কিন্তু এটা শোনার পরেও আহমদের অনুশোচনা কমলো না। সে বললো, 'এটা সত্য যে আল্লাহ সকলকে ক্ষমা করেন। কিন্তু আমাকে ক্ষমা করবেন না। আমি ক্ষমার যোগ্য না। আমার চারপাশে আলিমদের অভাব ছিল না। আমি এমন স্থানে জন্মেছি যেটা ইসলামের মূল কেন্দ্র। যেখানে আল্লাহর ঘর আছে, যেখানে রাসুলুল্লাহ ﷺ শুয়ে আছেন। আমি বিবাহিত। আমার সন্তানও আছে। আমি জানি কোনটা হালাল আর কোনটা হারাম।তারপরেও আমি এটা করেছি। আমি ক্ষমার যোগ্য না।' শাইখ বলেন, 'এরপর আমার ফ্লাইটের সময় হয়ে গিয়েছিল। তাই আমি চলে আসি। আর আসার সময় তার নাম্বার নিয়ে এসেছিলাম। আমি ভেবেছিলাম, এরকম অনেককেই তো দেখেছি। দুই এক সপ্তাহ পর সে এমনিতেই ঠিক হয়ে যাবে।' কিন্তু প্রায় এক মাস পর আমি তার ফোন পেলাম। সে বললো, 'আমি আপনার সাথে মসজিদে দেখা করতে চাই।' 'আহমদ যখন আমার কাছে আসলো তার মধ্যে বেশ পরিবর্তন লক্ষ্য করলাম। আগের মত আর কান্নাকাটি করছিল না, চেহারায় কোনো বিষণ্ণতা ছিল না। কিন্তু তার মধ্যে একটা ভ-য়ং-কর ব্যাপার ছিল। আমি তার চেহারার দিকে তাকালাম। মনে হলো, সে পুরোপুরিভাবে শূন্য।' আমাকে আরও আশ্চর্য করে দিয়ে সে বললো, 'শাইখ আমি আপনাকে হ্যালো বলার জন্যে কল দেইনি। আমি আপনাকে বিদায় জানাতে এসেছি।' আমি বললাম, 'কেন? তুমি কোথায় যাচ্ছ?' সে বললো, 'আমি নিজেকে সৌদি সরকারের নিকট সোপর্দ করে দেবো। যাতে তারা আমার অপরাধের জন্য আমাকে পা/থ/র নিক্ষেপের শাস্তি দেয়।' 'তার কথা শুনে আমি চমকে উঠলাম। রীতিমতো ভ-য় পেয়ে গেলাম। তাকে আটকাতে চেষ্টা করলাম। তাকে বললাম, তুমি কি পাগল হয়ে গিয়েছ? তোমার সন্তান আছে, স্ত্রী, পরিবার আছে। আর আল্লাহ তায়ালা তো কাউকে স্বেচ্ছায় নিজেকে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিতে বলেন নি। আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাও। এর থেকে মুক্তির আরও অনেক পথ খোলা আছে। আল্লাহ অসীম ক্ষমাশীল।' আহমদ বললো, 'আমার স্ত্রী এবং সন্তান আমাকে আল্লাহর শাস্তি থেকে বাঁচাতে পারবে না। আমি শাস্তির যোগ্য। আমাকে যেতে দিন।। আমি শুধু আপনাকে ধন্যবান জানাতে এসেছি। জাঝাকাল্লাহ! আপনি আমাকে সাহায্য করতে যথেষ্ট চেষ্টা করেছেন।' 'আমি কি করব বুঝতে পারছিলাম না। এটা ওটা বলে বোঝাতে চেষ্টা করছিলাম। কিন্তু তারপরেও সে বুঝতে চাইছিল না। এরপর তার চলে যাবার মুহুর্তে আমি বললাম - আহমদ! শোনো, চলো আমরা এমন একজন আলিমের কাছে যাই যাকে তুমি এবং আমি দুজনেই সম্মান করি এবং যার উপর আমাদের আস্থা আছে। আমরা তাকে তোমার ঘটনা বলবো। তিনি যদি তোমাকে মৃ-ত্যু-র মুখে যাবার ব্যাপারে সম্মতি দেন, তাহলে আমি নিজেই তোমাকে নিয়ে যাবো। আমি তার কাছে এই ব্যাপারে অঙ্গীকার নিলাম। কেননা তার পালিয়ে যাবার সম্ভাবনা ছিল।' এরপর আমরা সেই বড় আলিমের কাছে গেলাম। আর তিনি আমাদেরকে বললেন, 'তার জন্য নিজেকে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেওয়া বৈধ নয়।' কিন্তু আহমদ এতে সন্তুষ্ট হয় নি। সে ফিরে আসার পর বারবার সেই আলিমকে ফোন দিয়ে বলতে লাগল, 'শাইখ! আপনি আমাকে যা বলেছেন তার ব্যাপারে আল্লাহকে ভয় করুন ওয়াল্লাহি! কেয়ামতের দিন আমি আল্লাহকে বলবো, আমি নিজেকে শা-স্তি-র জন্য সরকারের কাছে দিতে চেয়েছিলাম, কিন্তু এই আলিম আমাকে যেতে দেন নি।' শাইখ আশ্চর্য হয়ে বললেন, 'আমি তো ইলমের বাইরে কিছুই বলিনি।' এর কিছুদিন পর আহমদ আবার আমাকে ফোন দিল।সে বললো, 'আমি আপনার সাথে মসজিদে দেখা করতে চাই'। আমি বললাম, 'এবার কি হয়ছে?' সে বললো, 'আমি হজ্জে যেতে চাই।' আমি খুশি হয়ে বললাম, 'চলো তাহলে একসাথে যাই।' কিন্তু সে না করে দিয়ে বললো, 'না না! আমি একাই যাবো।' আমি ভাবলাম সে হয় নিজের কোনো পছন্দের গ্রুপের সাথে যাবে। আমরা দু'জনে আলাদা আলাদা হজ্জ্ব গেলাম। হঠাৎ শয়-তানকে পাথর নিক্ষেপের স্থানে দূর থেকে তাকে দেখতে পেলাম। দেখা মাত্রই আমি 'আহমদ, আহমদ' বলে ডাকলাম। কিন্তু সে আমাকে দেখা মাত্রই দৌড়ে পালাল। হজ্জ শেষে আমাদের দেখা হলে তাকে জিজ্ঞেস করলাম, 'আমাকে দেখে পালিয়ে গেলে কেন?' সে বলল, 'শাইখ! কেন আপনি আমার সাথে দেখা করবেন? আপনারা পবিত্র মানুষ। কেন আমার মত অপবিত্র মানুষকে সঙ্গী বানিয়ে নিজের হজ্জ নষ্ট করবেন। আমি তো তখন ইস্তেগফারে ব্যস্ত ছিলাম। আপনি এখনও কেন আমার সাথে দেখা করছেন? আমাকে একলা ছেড়ে দিন...!' সে আরেকটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে বললো, 'কিছুসময় আমি সকল হাজিদের দিকে তাকিয়ে ভাবি, তারা সকলেই কত পবিত্র। আর এই নুরানী কাফেলায় আমার মত নিকৃষ্ট সত্ত্বাও আছে। আমার জন্যেই হয়ত আজ কারও হজ্জ কবুল হবে না। কিন্তু আবার কখনো মনে হয়, যদি এই পবিত্র মানুষগুলোর সাথে থাকার কারণে আমিও ক্ষমা পেয়ে যাই।'

'তাদের সাথে পা-পে-র নতুন এক জগতে প্রবেশ করলাম। তারা নারীদের সাথে মেলামেশা করছিলো, ম-দ পান করছিল, গানের তালে নিজেকে ভাসিয়ে দিচ্ছিল। আমি শুধু বসে বসে দেখছিলাম। কিন্তু ধীরে ধীরে আমার ভেতরের উত্তেজনাও প্রবল হতে লাগল, কা-ম-না-রা সীমা ছাড়িয়ে যেতে লাগল। এর প্রভাবে যেটা এতদিন আমার কাছে বড় পাপ মনে হত, এখন তা ক্ষুদ্র মনে হতে লাগল। যা এতদিন নিকৃষ্ট মনে হত, এখন সেটা স্বাভাবিক হয়ে গেল। একটা সময়ে আমি পাপের প্রতি পুরোপুরি অনুভূতিশূন্য হয়ে পড়লাম। দিন-রাত আমাকে নিয়ে তার আপন গতিতে ছুটছিল। কিন্তু ওয়াল্লাহি! আমি তখনো মদ স্পর্শ করিনি। আমার চারপাশে জু-য়ার আসর বসেছিল, আমি জু-য়া খেলিনি।' 'এরপর আমাদের মাঝে কিছু না-রী-র আগমন ঘটল। আমার বন্ধুরা তাদের সাথে দুষ্টুমি শুরু করল। তারাও এতে সায় দিচ্ছিল। আমিও তাদের সাথে যোগ দিলাম। আমাকেও তারা প্রতিউত্তর করছিল। আমার বন্ধুরা সেই নারীদের সাথে রাত্রি যাপন করছিল। আর হাস্যোজ্জ্বল চেহারায় ফিরে আসছিল। আমি দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে তাদের এই অপ-কর্মের দৃশ্য দেখছিলাম।' 'একদিন আমার পাশে এক সুন্দরী নারী এসে বসলো। দেখার সাথেই তার চেহারার প্রতি আমি আকৃষ্ট হয়ে গেলাম। তার সাথে কথাবার্তা শুরু করলাম। কিন্তু একপর্যায়ে আমার নফস তার কা-ম-না-র পূর্ণতা চাইতে লাগল।' একটা বিষয় জানা দরকার। মানুষের মস্তিষ্কের ভালো-মন্দ নির্বাচনকারী অংশকে প্রি ফ্রন্টাল কর্টেক্স বলা হয়। কিন্তু কোনো কারণে যদি এটা ব্লক হয়ে যায় তাহলে মানুষ সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের সক্ষমতা হারিয়ে ফেলে। তখন সে নিজের আবেগ আর অনুভূতির মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নেয়। আর বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণিত যে, মানুষের কাম উত্তেজনা বৃদ্ধি পেলে তার প্রি ফ্রন্টাল কর্টেক্স ব্লক হয়ে যায়। আহমদ বললো, 'আমার প্রিফ্রন্টাল কর্টেক্স ব্লক হয়ে নফসের কামনাগুলো আমাকে নিয়ন্ত্রণ করতে লাগল। সেই মুহুর্তে আমার সাথে কি হচ্ছিল আমি কিছুই বুঝতে পারছিলাম না। একপর্যায়ে আমি আর সেই নারী একটা ঘরে প্রবেশ করলাম।' কিন্তু রাসুলুল্লাহ ﷺ যেমন বলেছেন, "কোনো পুরুষ একজন মহিলার সাথে নির্জনের মিলিত হলে তাদের তৃতীয় সঙ্গী হয় শয়-তান।" [সহিহ বুখারী : ৩০০৬] 'শয়-তান আমাদের দু'জনকে একলা পেয়ে উত্তেজিত করতে থাকল। এভাবে আমরা পরস্পরের প্রতি পুরোপুরি আসক্ত হয়ে আল্লাহর সীমারেখা ভেঙ্গে নিজের উপর জাহান্নাম অবধারিত করার মাধ্যমে নিজের বাসনার পূর্ণতা দিলাম।' 'কিন্তু কাম-নার সাময়িক সুখ শেষ হবার পর যখন উত্তেজনা প্রশমিত হলো আর ঈমান ফিরে আসলো, আমার ভেতরে অনুশোচনা আর অপরাধবোধ প্রবল যন্ত্রণা সৃষ্টি করল। পায়ের তলার মাটি সরে গিয়ে নিজেকে অসহায় অবস্থায় পেলাম। মনে হচ্ছিল, আমি মাটিতে পড়ে যাবো। নিজের প্রতি এত বেশী ঘৃ-ণা হচ্ছিল যে মনে হতে লাগল, 'আমি যদি কখনো দুনিয়াতেই না আসতাম'। নিজেই নিজেকে বলতে লাগলাম, 'এটা আমি কি করলাম? আমার পরিবারের কি হবে? আমার স্ত্রী-সন্তানের কি হবে? আমার আখিরাতের কি হবে? আল্লাহ সুবহানাহু ওয়াতাআ'লা আমাকে এর জন্য কখনোই ক্ষমা করবেন না। আমি কিভাবে এই পৃথিবীতে বেঁচে থাকব?' 'আমি চিৎকার করতে করতে ঘর থেকে বেরিয়ে আসলাম। সেই হোটেলের দরজায় এসে দেখলাম আমাদের একজন সঙ্গী। সে মূলত একজন অ-বৈ-ধ নারী ব্যবসায়ী। অর্থের নিনিময়ে সে নারী এনে দিত। আর তার এই ব্যবসার আমি একটা ক্রেতা ছিলাম। হায়! সে যদি শুধু আমার অর্থ নিয়ে নিত। সে যদি আমাকে জানাত যে আমার সাথে কি করতে চাচ্ছে। কিন্তু আমিতো যি-নার মত কবীরা গুনাহ করে ফেলেছি। এখন আমি কি করব?' সেই লোকটি আমার পাশে দাঁড়িয়ে ছিল। আমাকে দেখে বললো, 'কি সমস্যা?' আমি বললাম, 'আমি তো যি-না করে ফেলেছি। তুমি কি জানো এর পরিণতি কি?' আমার দিকে ম-দের বোতল বাড়িয়ে ধরে সে বললো, 'কোনো ব্যাপার নাহ। এটা একটু চেখে দেখো। তাহলেই সব সমস্যা দূর হয়ে যাবে।' আহমদ বললো, 'এতক্ষণ তো আমি জান্নাতের স্ত্রী পাওয়ার অযোগ্য হয়েছিলাম, এখন তুমি আমাকে জান্নাতের শরাব পান করা থেকেও বঞ্চিত করতে চাচ্ছ?' সে শয়-তানের সুরে তাকে বললো, 'আল্লাহ তো দয়ালু ক্ষমাশীল। চিন্তা কর না।' সে ভুলে গিয়েছিল আল্লাহ তায়ালা কঠিন শা-স্তিদাতা।সে ভুলে গিয়েছিল জাহান্নাম কতটা ভ-য়া-ব-হ। সত্তর হাজার ফেরেশতা দিয়ে যাকে সামলে রাখতে হয় তার ভেতরটা কত বেশী ভ-য়া-ন-ক। আহমদ বললো, 'এরপর আমি ধা-ক্কা দিয়ে তাকে দূরে ঠেলে দিয়ে হোটেল থেকে বেরিয়ে আসলাম। কিন্তু কোথায় যাবো তা জানা ছিল না। গৃহহারা ব্যক্তির মত রাস্তায় রাস্তায় ঘুরতে লাগলাম। তারপর থেকে আর কিছু খেতে পাচ্ছি না, ঘুমাতে পাচ্ছি না। শুধু কান্না আসছে। নিজেকে একটা আবর্জনার স্তুপ মনে হচ্ছে। আমি এই জগতে থাকার যোগ্যই না। আমি পৃথিবীর সবচাইতে নি-কৃ-ষ্ট মানুষে পরিণত হয়েছি। আমি আল্লাহর ক্ষমারও যোগ্য না।' শাইখ তার দিকে তাকালেন। তিনি বলেন, 'আমি বুঝতে পারছিলাম না তাকে এখন কি বলবো? আমি কেবল এইসময়ে ক্ষমার বিষয়ে শ্রেষ্ঠ আয়াতের কথা মনে করতে পারলাম। এরপর তা তিলাওয়াত করলাম,

এক আরব শাইখের জীবনের সত্য ঘটনা। সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে তার বাড়ি। একবার তিনি নিজ প্রয়োজনে সৌদির পাশের কোন এক দেশে গিয়েছিলেন। প-শ্চি-মা সংস্কৃতির অনুকরণে অবৈধ আমোদ ফূর্তির জন্য সেখানে স্বতন্ত্র ব্যবস্থা করা হয়েছিল। রাত্রিবেলায় শহরের হোটেলগুলোতে নারী-পুরুষের অবৈধ মেলামেশা, ম-দ্য-পান আর গানবাজনার মেলা বসত। শাইখ বলেন, 'আমি নিজের কাজ শেষে রাত্রিযাপনের জন্য একটা ঘর খুঁজছিলাম। না জেনেই এরকম অ-শ্লী-ল-তা-পূর্ণ একটা হোটেলে প্রবেশ করলাম।ওখানে যা দেখেছি, সেই নি-কৃ-ষ্ট চিত্র আমার জীবনে আর দেখিনি। আমাকে দেখেই এক ভদ্র মুসলমান কর্মচারী দৌড়ে আসল। সে বললো, 'শাইখ! এই যায়গা আপনার জন্য না। দয়া করে এখানে প্রবেশ করবেন না।' 'হোটেল থেকে বেরিয়ে রাস্তায় হাঁটতে শুরু করলাম।সারাদিনের ছোটাছুটিতে শরীর বেশ ক্লান্ত হয়ে পড়েছিল। কোথায় যাবো কিছু বুঝতে পারছিলাম না।কিছুদূর হেঁটে একটা পার্ক দেখতে পেলাম। সামনে চলার মতন শক্তি অবশিষ্ট ছিল না। তাই পার্কের বেঞ্চের উপরেই শুয়ে পড়লাম।' 'যোহরের পর আমার ফ্লাইট ছিল। তাই ফজরের সময় ঘুম থেকে উঠে একটা ট্যাক্সি নিয়ে সোজা এয়ারপোর্টে চলে আসলাম। ভেতরে একপাশে নামাজঘর দেখে সেখানে গিয়ে ফজর আদায় করলাম। এরপর ক্লান্তি কাটাতে আবারও সেখানে ঘুমিয়ে পড়ি। একঘন্টা পর একটা কান্নার আওয়াজে আমার ঘুম ভাঙল। চোখ খুলে দেখলাম, একটা ২৫-২৬ বছর বয়সী যুবক। নামাজে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে কাঁদছিল। এরকম কান্নাভরা আবেগী নামাজ আমি আগেও দেখেছি, তাই বেশি কিছু না ভেবে আবার চোখ বন্ধ করলাম। যোহর পর্যন্ত বিশ্রামের পর যখন চোখ খুললাম, দেখলাম সেই যুবক তখনো সালাতে দাঁড়িয়ে কেঁদেই যাচ্ছে। কিছুক্ষণ পর আমাকে উঠতে দেখে ছেলেটা আমার কাছে আসলো। দেখে মনে হচ্ছিল, সে অনেক বেশী ক্লান্ত, ক্ষুধার্ত আর দু'তিনদিন ধরে হয়ত ঘুমায় নি। আমাকে অবাক করে দিয়ে সে বললো, 'শাইখ! আপনি কি ঘুমোতে পারেন?' আমি বললাম, 'হ্যাঁ! পারি।' সে বললো, 'আমি ঘুমোতে পারছি না শাইখ! তিনরাত তিনদিন ধরে পাগলের মত এদিক ওদিক ছুটে বেড়াচ্ছি। কিছু খেতে পাচ্ছি না, ঘুমোতে পাচ্ছি না, জীবন উপভোগ করতে পাচ্ছি না। ঘরে আর ফিরতে চাই না।' এদিকে যোহরের সালাতের সময় হয়ে এসেছিল। তাকে বললাম, 'আমরা যোহরের পর কথা বলবো'। এরপর আমরা দুজনে যোহর আদায় করলাম। সেখানে আর কেউই ছিল না। এরপর তাকে জিজ্ঞেস করলাম, 'কি হয়েছে বলো?' সে বললো, 'আমি আহমদ (ছদ্মনাম)। আমি বিবাহিত।আমার সন্তানও আছে। আমি অনেক বিত্তশালী এবং দ্বীনদার পরিবারের সন্তান। আমরা সবাই উদ্যোক্তা। আমাদের কারও কাজ করার প্রয়োজন হয় না কেননা আমাদের ইনকাম যথেষ্ট। আমাদের কাছে সবকিছুই আছে। কর্মচারী, চাকর-বাকর, দামী গাড়ি, ভালো খাবার ,যা কিছু আপনি ভাবতে পারেন - তার সব আমাদের আছে।' 'কিন্তু একটা সময় আমি নিজের এই আয়েশের জীবন নিয়ে অতিষ্ঠ হয়ে পড়লাম। আমার মনে হলো, মানুষের জীবনে কি আর কিছুই নেই? আমার আরও কিছু ট্রাই করা উচিত। আমার সব আছে, কিন্তু আমি নতুন কিছু ট্রাই করতে চাই।' আমার ভাইয়েরা, এটা মূলত শয়-তানের একটা প্ররোচনা। সে এরকম অবস্থায় মানুষকে এসে বলতে থাকে, 'কেন তুমি নিজের স্বাভাবিক জীবন থেকে একটু বের হয়ে পৃথিবীটা দেখো না?' স্বাভাবিক জীবন থেকে বেরিয়ে আলাদা সময় অতিবাহিত করায় খারাপ কিছু নেই। কিন্তু এরপরেই শয়-তান এসে বলে, 'কেন তুমি এমন কিছু করছ না যেটা কখনোই কর নি? ইসলাম বলেছে, এটা হালাল ওটা হারাম। তুমি তো এতদিন হালালের সীমারেখার মাঝেই থেকেছ, তাই হয়ত জীবনটা তেতো হয়ে গিয়েছে। একটু হারাম ট্রাই করে দেখ না কেন?' 'বড় কিছু না হউক একটু ছোটখাটো পাপ করে দেখো কেমন লাগে। তোমার চারপাশে কত ছেলে-মেয়ে একসাথে সময় কাটাচ্ছে। ঘুরতে যাচ্ছে, জীবনকে নিজেদের মত করে উপভোগ করছে, তুমিও তাদের মত একটু করে দেখো না? অত বেশী গভীরে যাবার দরকার নেই, তবে সামান্য হাসি মজা তো করাই যায়। আর যা পাপ হবে তার জন্য ওমরাহ করে নেবে, তাহলেই সব মুছে যাবে।' আহমদ বলল, 'শয়-তানের এই প্রতারণার ফাঁদে আমি পা দিয়ে ফেললাম। আমার নতুন কিছু করার দৃঢ় ইচ্ছা জাগল। কিন্তু আমি তো পরিবারের সাথে থাকি। সবার সামনে নিজের ইচ্ছা পূরণের সুযোগ হবে না। তাই এমন কোনো স্থানে যাবার পরিকল্পনা করলাম, যেখানে আমাকে কেউ দেখবে না, কেউ বাধা দিবে না। এভাবে পরিকল্পনা অনুযায়ী ব্যবসার কথা বলে ঘর থেকে বের হলাম। আর এই দেশে আসলাম যেটা আমরা কথা বলছি।' 'শাইখ! আমি বড় কিছু করার কথা কখনো কল্পনাও করিনি। চেয়েছিলাম ছোটখাটো দু'একটা পাপ করে সাথে সাথেই আবার তাওবা করে নেব। কিভাবে শুরু করব তা বুঝে ওঠার আগেই একদল উ-ন্মা-দ-দের সাথে আমার সাক্ষাত হলো। এতদিন শুধু দূর থেকেই তাদের আনন্দ-উল্লাস দেখতাম। আজ সেই উল্লাস আরও কাছ থেকে দেখার ইচ্ছা জাগল। তাই তাদেরকেই নিজের সঙ্গী বানালাম।'

নেওয়া উচিৎ বলে মনে করি।স্কোপোলামিন ভিক্টিমের সংখ্যা দিনিদিন বেড়েই চলছে।তাই সময় থাকতেই সবাই সাবধান হই।বলা তো যায়না...নেক্সট ভিক্টিম হয়তো আপনিই! লিখা: আতিক ফয়সাল 29 Hatman House

𝘿𝙚𝙫𝙞𝙡'𝙨 𝘽𝙧𝙚𝙖𝙩𝙝: 𝙒𝙤𝙧𝙡𝙙’𝙨 𝙎𝙘𝙖𝙧𝙞𝙚𝙨𝙩 𝙏𝙝𝙞𝙣𝙜𝙨❓ আচ্ছা ধরেন আপনার কাছে একজন অপরিচিত মানুষ এসে একটা কাগজ দিয়ে বললো, এই জায়গাটা কোথায় একটু বলে দেন। আপনি কাগজটা খুব মনোযোগ দিয়ে পড়লেন। এরপর হলো কি, ওই অপরিচিত মানুষটা আপনার কাছে খুব স্বাভাবিকভাবে আপনার টাকা,মোবাইল,জুয়েলারি চাইলো আর আপনিও খুব স্বাভাবিক ভাবেই তার কথা মতো সবকিছু দিয়ে দিলেন..যেন সে আপনার খুব পরিচিত! ভাবছেন এও সম্ভব নাকি!?সত্যি বলতে খুব সম্ভব!এমনটাই হচ্ছে এখন আমাদের দেশে!এর পেছনের রহস্য কি?ব্ল্যাক ম্যাজিক?নাকি হিপনোটিজম?নাকি অন্যকিছু? এটাই আলোচনা করবো আজকে। দীর্ঘ লেখার জন্য শুরুতেই ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি। সম্প্রতি এক গ্রুপে একজন ব্যাখ্যা চেয়ে একটি ঘটনা শেয়ার করেন। যেটার সারমর্ম হলো বহদ্দারহাট নামক এক জায়গায় মা মেয়ে যে রিকশায় উঠেন সেই রিকশাওয়ালা তাদেরকে একটি ঔষধের নাম লেখা কাগজ পড়তে দেয়, তার কিছুক্ষণ পরেই রিকশাওলার কথামত তারা সবকিছু করতে থাকে।মা মেয়ে মিলে তাদের সব গয়না রিকশাওয়ালার হাতে দিয়ে দেয় খুব স্বাভাবিক ভঙ্গিতেই! যেন ওগুলো দিয়ে দেওয়াই উচিৎ! পরে যখন হঁশ ফিরে পেলেন তখন সব শেষ!তার চেয়েও ভয়ংকর ব্যাপার হচ্ছে সেই পোস্টের কমেন্টে অনেকেই সেইম অদ্ভুতুরে ঘটনার কথা শেয়ার করেন যেটার ভিক্টিম তাদের পরিবারের সদস্য অথবা আত্নীয়!তাহলে বুঝাই যাচ্ছে এই ভয়ংকর জিনিসটা ইতোমধ্যেই দেশের আনাচে কানাচে ছড়িয়ে পড়েছে! বিষয়টা নিয়ে ঘাটাঘাটি করতে গিয়ে যা কিছু জানতে পারলাম সেটাই আজকে আপনাদের সাথে শেয়ার করবো। 29 Hatman House রিকশাওয়ালা সেই কাগজে যেটা ব্যবহার করেছিলো সেটা এক ধরণের ড্রাগ।যাকে বলা হয় World's Scariest Drug! যার সিক্রেট নাম হলো Devil's Breath।যেটি কলম্বিয়ায় সবচেয়ে বেশি পাওয়া যায়।একে হায়োসিনও বলা হয়। জেনেরিক নেইম Scopolamine। ১গ্রাম Scopolamine দেখতে ১গ্রাম কোকেনের মতোই। পার্থক্য হলো এই ১গ্রাম Scopolamine ১৫জন মানুষকে হত্যা করার জন্য যথেষ্ঠ! প্রতিবছর সারাবিশ্বে ৫০ হাজারের মতো মানুষ Scopolamine ড্রাগের ভিক্টিম হয়ে থাকে। অন্যান্য সব ড্রাগের মত এটিরও চিকিৎসা ক্ষেত্রে স্বল্প পরিমাণ প্রয়োগ আছে। এটার ১ মিলিগ্রাম ডোজ মূলত সী সিকনেসের(sea sickness) জন্যে ব্যবহৃত হয়।এটা দেয়া হয় কানে, তারপর সেখান থেকে স্কিনে চলে যায়। এটি তৈরি হয় কলম্বিয়ার Borrachero নামক ফুলের বীজ থেকে।এই পাউডার ভিক্টিমের উপর কাগজ/ভিজিটিং কার্ড এর মাধ্যমে অথবা খাবারের মাধ্যমে, অথবা মুখের উপর ফু দিয়ে(যা বেশি করা হয়) অথবা হ্যান্ডশেকের সময় হাতে একটা পিন ফুটিয়ে প্রয়োগ করা হয়..এটি মূলত এর বেআইনী ব্যবহারের জন্যেই কুখ্যাত।কলম্বিয়ার একজন প্রফেশনাল Scopolamine এ্যাটাকার এর মতে এটা ৩ ধরণের কাজে তারা ব্যবহার করেঃ ১.ছিনতাই ২.রেইপ ৩.হত্যা যেকোনো ধরণের ছোট কাগজের মধ্যে ড্রাগ মিশিয়ে কারো হাতে দিলে সেটি নিমিষেই স্কিন এর ভেতর দিয়ে প্রবাহিত হয় এবং ভিকটিমের নিজ ইচ্ছায় কিছু করার ক্ষমতা নষ্ট করে দেয়। এটি ব্রেইনের Amygdala নামক অংশকে আক্রান্ত করে।যার ফলে তার চিন্তা করার ক্ষমতা চলে যায় এবং বাহির থেকে আক্রমণ আসলে তার প্রতি যে স্বভাবগত প্রতিক্রিয়া দেখানোর কথা সেটা আর পারে না..একইসাথে ইনিশিয়াল স্টেইজ অব মেমোরি ব্লক হয়ে যাওয়ার ফলে সে এ্যাটাকারকেও ভালভাবে চিনতে পারে না..সেই ভিক্টিমের আচরণ হয়ে যায় সাবমিসিভ বা বশীভূত!তখন তাকে যে কমান্ড দেয়া হয় সে তাই মানে!!তখন তার কাছে টাকা,গয়না, ক্রেডিট কার্ডের পাসওয়ার্ড যাই চাওয়া হোক না কেন সে তাই দিয়ে দিবে!মানে অনেকটা বোধশক্তিহীন জোম্বির মত আচরণ করবে সে! 29 Hatman House নাসা তাদের এ্যাস্ট্রোনাটদের উপর ০.৩৩ মিলিগ্রাম ইউজ করে তাদের মোশন সিকনেস কাটানোর জন্য...আর কোন সাধারণ মানুষের উপর যদি এর ৫-৭ মিলিগ্রাম ইউজ করা হয় তবে সে হয়ে যাবে কাইন্ড অফ হেল্পলেস জোম্বি!!..তাকে দিয়ে যা ইচ্ছা করানো যাবে!!আর যদি ১০ মিলিগ্রাম বা তার বেশি হয় তাহলে রেসপাইরেটরি ফেইলিউর হয়ে মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে! বাংলাদেশেও এই ড্রাগ চলে এসেছে যেটা বিভিন্ন ঘটনা থেকে স্পষ্টভাবে প্রমাণিত।অনেক সময় এটি ড্রিংক্স কিংবা খাবারের মধ্যেও মিশিয়ে দেওয়া হয়।তাই বাসার বাইরে খাওয়ার সময় কখনোই খাবার অরক্ষিত রেখে উঠে যাবেন না।অপরিচিত কারও কাছ থেকে কিছু খাওয়ার তো প্রশ্নই আসেনা!বলা তো যায়না, কে না কে আপনাকে টার্গেট করে রেখেছে খাদ্যে ড্রাগ মিশিয়ে দেয়ার জন্যে!শুনা যায় এদেশের গোয়েন্দা সংস্থা অনেক আগে থেকেই এই ড্রাগ ইউজ করে থাকে তথ্য আদায়ের জন্য।সে যাইহোক!এ ধরণের সেন্সিটিভ ড্রাগ কিভাবে অপরাধীদের হাতে পৌঁছে গেল সেটাই আসলে চিন্তার বিষয়! 29 Hatman House আর বিশেষ করে আমরা যারা মেডিকেল সেক্টরে আছি তাদেরকে আরও বেশি সচেতন থাকা উচিৎ বলে মনে করি।কারণ চলতে ফিরতে অনেক রুগীর স্বজন এসে আমাদেরকে প্রেসক্রিপশন দিয়ে ওষুধ কিংবা পরীক্ষার নামগুলো জানতে চান।আমি নিজেও এটা ফেস করেছি।এজন্য রাস্তাঘাটে একা চলাফেরার সময় কারও হাত থেকে প্রেসক্রিপশন না নিয়ে তার হাতে থাকা অবস্থাতেই পড়ে

রাতে বিছানায় শোয়ার পর 2 মিনিটে ঘুমিয়ে পড়ার কৌশল! প্রথমে নাক দিয়ে চার সেকেন্ড শ্বাস নিন। তারপর সাত সেকেন্ড শ্বাসক্রিয়া আটকে রাখুন। আর আগামী ৮ সেকেন্ড মুখ দিয়ে আস্তে করে নিঃশ্বাস ত্যাগ করুন। যতক্ষণ পর্যন্ত ঘুম না আসে এভাবেই শ্বাসক্রিয়া চালান। বেশিক্ষণ না,মিনিট খানেকের মধ্যেই ঘুমিয়ে পড়বেন। ©Science Secret

১২. হট ওয়াটার ব্যাগ কিভাবে ব্যবহার করবেন ? এই ব্যাগের মধ্যে গরম জল ঢেলে তলপেটে সেক দিতে হবে। কিভাবে সাহায্য করে ? সাধারণত পিরিয়ডের সময় হয়ে এলে ব্যথা শুরু হয়, কিন্তু যাদের অনিয়মিত মাসিক হয় তাদের ক্ষেত্রে অনেকসময় ব্যথা শুরু হয় কিন্তু মাসিক শুরু হয় না। তাই তখন তারা যদি এই হট ওয়াটার ব্যাগের সেক তলপেটে দিতে থাকে , তাহলে পিরিয়ড হওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যায়। অনিয়মিত পিরিয়ড থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য উপযোগী যোগাসন প্রাণায়ম এই আসন মন, শরীর, এবং আত্মাকে শান্ত করে । আপনার রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বা ইমিউনিটি সিস্টেম বৃদ্ধিতে সাহায্য করে । এছাড়া এই আসন জরায়ু সহিত শরীরের বিভিন্ন অঙ্গের কার্যকারিতার উন্নতি ঘটে এবং শ্বাসের উদ্বেগ কমাতেও সাহায্য করে। সূর্য নমস্কার সূর্য নমস্কার শরীরের সব অঙ্গের কার্যকারিতার উন্নতি করার পাশাপাশি মাসিক সঠিক ভাবে হতে সাহায্য করে। শ্বাস-প্রশ্বাসের উন্নতি করে। ধনুরাসন পলিসিস্টিক ওভারিয়ান সিনড্রোম বা অনিয়মিত পিরিয়ডের সমস্যা থাকলে ধনুরাসন সবচেয়ে উপকারী এক্ষেত্রে । পেটের চর্বি কমাতে ও পেটের অসুখের জন্য এই আসন উপযুক্ত । এটি প্রজনন অঙ্গগুলির কার্যকারিতার উন্নতি করতে সক্ষম । বজ্রাসন অনিয়মিত মাসিক, বদ হজমের সমস্যা কমাতে উপযোগী এই আসন খাবার খাওয়ার পরও করা সম্ভব । অনিয়মিত পিরিয়ডের থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য কিছু জরুরি টিপস প্রথমত নিজের ডায়েট ঠিক করুন। প্রচুর পরিমানে শাক সবজি খাওয়ার অভ্যেস করুন। স্যালাড খেতে শুরু করুন। প্রয়োজনে ডায়েটশিয়ানের সাহায্য নিন। নিয়িমিত যোগব্যায়াম করার চেষ্টা করুন। নিজেকে স্ট্রেস মুক্ত রাখুন। অবশ্যই ডাক্তারের সঙ্গে পরামর্শ করতে ভুলবেন না এ ব্যাপারে। এমন সব পরামর্শ অথবা ব্লগের জন্য জয়েন করুন - https://www.facebook.com/groups/149192167228573 #konna #কন্যা #moodswing #glutatabs #satinskinz #u #bbeau #jamumoden #jerawat #breastenlargement #satinskinzroseship #moods #mentalhealth #depressionawareness #pms #manicdepression

♻ অনিয়মিত মাসিক ♻ আজকাল অনেক মহিলারই অনিয়মিত মাসিক বা পিরিয়ডের সম্মুখীন হয়, কিন্তু এটি ঠিক কেন হয় বা কি এর চিকিৎসা বা প্রতিকার কি তার সম্পর্কে সঠিক ধারণা অনেকেরই নেই। মাসিক চক্র ২৫ থেকে ৩০ দিনের মধ্যে হয়ে থাকে । যদি আপনার মাসিক চক্র ২১ দিনের কম ও ৩৫ দিনের বেশি ব্যবধানে সম্পন্ন হচ্ছে, তাহলে এটিকে অনিয়মিত পিরিয়ড বলা হয়ে থাকে। ♻ অনিয়মিত মাসিকের কারণগুলি কি কি ? ✅ ওষুধের প্রভাবে – গর্ভনিরোধক পিল বেশি সংখ্যায় খেলে অনেক সময় অনিয়মিত পিরিয়ডের সমস্যা হতে পারে । ✅ পলিসিস্টিক ওভারিয়ান সিনড্রোম – শরীরে হরমোনের পরিমাণের পরিবর্তন হলে ওভারি বা জরায়ুতে সিস্ট তৈরী হয়। তার ফলে ওভুলেশনের সমস্যা দেখা দেয় এবং মাসিক অনিয়মিত হয়ে যায় । ✅ থাইরয়েড গ্রন্থির সমস্যা থাকলে – থাইরয়েড হরমোনের তারতম্য হলে অনিয়মিত পিরিয়ডের সমস্যা হতে শুরু করে ও কোনো পরিশ্রম না করেও আপনি ক্লান্ত ভাব অনুভব করতে পারেন। ✅ টেনশনের কারণে – চাপা মানসিক উদ্বেগ বা অতিরিক্ত টেনশন করলে অনিয়মিত পিরিয়ডের সমস্যা দেখা দিতে পারে। ✅ পরিশ্রম বেশি করলে – বেশি পরিমাণে ক্যালোরি ঝরে গেলে শরীর থেকে সঠিক মাত্রায় এনার্জি তৈরী হয় না, ফলে হরমোনও ঠিক পরিমাণে তৈরী হতে পারে না। তাই মাসিক অনিয়মিত হতে শুরু করে । ✅ মেনোপজের জন্য – মেনোপজের সময় কাছে এলে শরীরে ইস্ট্রোজেন হরমোন তৈরী হওয়া কমে যায়, অনিয়িমিত মাসিকের সম্ভাবনা দেখা দেয়। অনিয়মিত মাসিকের লক্ষণ কি কি ? ✅কোনো মাসে দুদিন আবার কোনো মাসে সাতদিন বা কোনো মাসে পিরিয়ড হলোই না বা কোনো সময় এক মাসের বেশি সময় ধরে চলতে থাকে। ✅মাসে একবারের বেশি ঋতুস্রাব হওয়া। ✅শরীর দুর্বল হয়ে পড়ে। ✅খাবারের প্রতি অনিচ্ছা তৈরী হয়। ✅রক্তাল্পতা দেখা দেয়। ✅ঘরোয়া উপায়ে অনিয়মিত মাসিকের প্রতিকার অনিয়মিত মাসিকের থেকে মুক্তি পেতে নিচে উল্লেখিত উপায়গুলি মেনে চলার চেষ্টা করুন। ১. মৌরি কিভাবে ব্যবহার করবেন ? জলের মধ্যে মৌরি দিয়ে ফুটিয়ে সেটি পান করতে পারেন। সবচেয়ে ভালো হয় যদি আপনি সারারাত মৌরি জলে ভিজিয়ে রেখে তারপর সকালে সেটি ছেঁকে নিয়ে ওই জলটি পান করেন । কিভাবে সাহায্য করে ? মৌরি ভেজানো জল নিয়মিত খেলে পলিসিস্টিক ওভারিয়ান সিনড্রোম ধীরে ধীরে কমে বলে জানা গেছে , ফলে অনিয়মিত পিরিয়ডের সম্ভাবনাও কমে। ২. পেঁপে কিভাবে ব্যবহার করবেন ? পাকা পেঁপে সপ্তাহে প্রত্যেকদিন বা ৪দিন ডায়েটে রাখুন। সঙ্গে সঙ্গে কেটে খাওয়ার চেষ্টা করুন। জুস বানিয়েও খেতে পারেন। কিভাবে সাহায্য করে ? পেঁপে নিয়মিত খেলে অনিয়িমিত পিরিয়ড সেরে যেতে পারে বলে জানা যায়। ৩. হলুদ কিভাবে ব্যবহার করবেন ? দুধে হলুদের গুঁড়ো মিশিয়ে পান করতে পারেন। কাঁচা হলুদ চিবিয়ে খেতে পারেন। কিভাবে সাহায্য করে ? স্ট্রেস বা টেনশন কমাতে সাহায্য করে, যার ফলে অনিয়মিত মাসিকের সম্ভাবনা কমতে পারে । ৪. আদা কিভাবে ব্যবহার করবেন ? আদার রস করে চায়ে মিশিয়ে বা শুধু বা মধু দিয়েও খেতে পারেন। কিভাবে সাহায্য করে ? আদায় থাকা এমেইনাগোগ উপাদানটি মাসিক চক্র স্বাভাবিক করতে পারে বলে জানা যায়। ৫. দারুচিনি কিভাবে ব্যবহার করবেন ? দারুচিনিকে জলে ফুটিয়ে সেই জল পান করতে পারেন। এছাড়া দারুচিনি অল্প অল্প করে মুখে নিয়েও চিবোতে পারেন। কিভাবে সাহায্য করে ? অনিয়মিত পিরিয়ড হওয়ার জন্য পেটে যে যন্ত্রনা হয় সেটি কম করতে সাহায্য করে । ৬. তিল কিভাবে ব্যবহার করবেন ? রান্নার সময় কোনো মানানসই খাবারে মিশিয়ে খেতে পারেন। এছাড়া এক টেবিল চামচ তিল নিয়ে একটু মধু মিশিয়ে খেতে পারেন। কিভাবে সাহায্য করে ? তিলে বায়োঅ্যাক্টিভ উপাদান থাকে বলে মাসিক চক্র নিয়মিত হতে সাহায্য করে . ৭. পার্সলে পাত। কিভাবে ব্যবহার করবেন ? জল যখন ফুটবে তখন কিছু পার্সলে পাতা ফেলে দিন। তারপর জল থেকে সেগুলি ছেঁকে তুলে নিন এবং শুকিয়ে নিন। দিনে তিনবার এই পাতা খাওয়ার চেষ্টা করুন। কিভাবে সাহায্য করে ? এতে বায়োঅ্যাক্টিভ উপাদানের মাত্রা অনেক বেশি পরিমাণে থাকে বলে দেহে ইস্ট্রোজেন হরমোনের পরিমাণ বাড়তে থাকে ও পিরিয়ড নিয়মিত হতে সাহায্য করে। ৮. আনারস কিভাবে ব্যবহার করবেন ? আনারস ছোট ছোট টুকরো করে কেটে খেতে পারেন। কিভাবে সাহায্য করে ? পিরিয়ডের সময় আসলে এটি খাওয়া উচিত। এটি খেলে জরায়ুর সংকোচন বেড়ে যায়, ফলে পিরিয়ড ঠিকভাবে হতে পারে বলে জানা যায় । ৯. কফি কিভাবে ব্যবহার করবেন ? পিরিয়ডের সময় এগিয়ে এলে দিনে দুবার কফি খেতে পারেন। কিভাবে সাহায্য করে ? কফির প্রধান উপাদান ক্যাফিন শরীরে ইস্ট্রোজেনিক ক্রিয়াকলাপকে উত্তেজিত করে ও অনিয়মিত মাসিকের থেকে মুক্তি থেকে মুক্তি দিতে পারে । ১০. আঙুরের জুস কিভাবে ব্যবহার করবেন ? আঙুর ফলের জুস বানিয়ে খেতে হবে। কিভাবে সাহায্য করে ? অনিয়মিত মাসিকের সমস্যা কমতে পারে কারণ এতে ভিটামিন সি উপস্থিত । ১১. ভিটামিন সি কিভাবে সাহায্য করে ? ভিটামিন সি আপনার শরীরে ইস্ট্রোজেন হরমোনের মাত্রা বাড়িয়ে দিয়ে মাসিক নিয়মিত হতে প্রভাবিত করে ।

ক্লাস টেনের মেয়েরা পাত্রী হিসেবে সর্বশ্রেষ্ঠ হয়! কারণ এই বয়সে মেয়েরা প্রথম পুরুষের ব্যাপারে কৌতূহলী হয় এবং প্রেম করার জন্য ছোঁক ছোঁক করে! বিয়ের পর হাতের কাছে স্বামীকে পায় বলে প্রথম প্রেমটা স্বামীর সঙ্গে হয়, আর এই প্রেম দীর্ঘস্থায়ী হয়। —হুমায়ূন আহমেদ হুজুররা অল্প বয়সে বিয়ের কথা বললেই যত দোষ!😕😒

"যেভাবে বাসায় বসে লিসেনিংয়ে ৮+ পাবেন" দক্ষতা বৃদ্ধির জন্যেঃ টিউশনিতে যাওয়ার সময় পডকাস্ট শুনতাম Google Podcast থেকে। বিশেষ করে দুইটা চ্যানেল থেকে Guardian এবং BBC। এছাড়া এনিমেশন মুভি দেখতে পারে Ice Age, Kung fu Panda. ইউটিউব থেকে BBC learning English এর ভিডিওগুলো দেখবেন সাবটাইটেল সহ। ব্রিটিশ দের উচ্চারণ বোঝার চেষ্টা করবেন। ওরা কোন শব্দ কিভাবে উচ্চারণ করে এটা বোঝা জরুরী। E2 IELTS এর 44 Sounds of ENGLISH WITH Jay + Understand IELTS listening in Just 50 mintues দেখবেন আগে। পরীক্ষাপ্রস্তুতিঃ ১. প্রশ্নে কি কি আসে ধারণা নিয়ে নেন। গুগল / ইউটিউব করলেই পাবেন। ২.ক্যামব্রিজ থেকে দৈনিক একটা টেস্ট দিবেন যেভাবে হোক । স্পিড বাড়ানোর কোনো দরকার নাই, ফাইনালে স্পিড সেইম থাকে। ৩. এরপর দেখবেন কোথায় কোথায় ভুল হয় সেই অনুযায়ী কাজ করবেন। ৪. আন্সার স্ক্রিপ্ট এনালাইসিস করবেন ( অডিও ছেড়ে স্ক্রিপ্ট পড়বেন)। ৫. মনোযোগ হারানো যাবেনা ভুলেও । এক্সাম হলে দুইবার খেই হারিয়ে ফেলছিলাম। দুইটা প্রশ্ন হারাইয়া গেছিল। ৬. সব প্রশ্নের উত্তর দিবেন। উত্তর না পাইলেও ঢিল মারবেন। ৭. সিংগুলার প্লুরাল খেয়াল করাটা জরুরি। বলছে projects, আপনি লিখলেন project ( নাম্বার কাটা), একইভাবে বানান ঠিক রাখতে হবে। ৮. অডিও শোনার আগেই কি ওয়ার্ড দাগানো এবং উত্তর অনুমান করার যোগ্যতা অর্জন করতে হবে৷ ৯. শুরুতে খেয়াল কইরেন No more one word নাকি two words... ১০. বিস্তারিত টিপস ট্রিকসের জন্যে রাশেদ ভাইয়ের Banglay IELTS চ্যানেল ফলো করবেন। প্লে লিস্ট লিংকে দেয়া আছে। সব কথা তো লেখা যায় না। আমার লিসেনিংয়ে ৮.৫ পাওয়ার ক্রেডিট সব রাশেদ ভাইর ❤️❤️ শুভ কামনা সবার জন্যে

শাইখ সালেহ আল-উসায়মিন রহিমাহুল্লাহ -কে প্রশ্ন করা হয়েছিল— বিবাহ কি ইলম অর্জনের পথে বাধা সৃষ্টি করে? উত্তরে তিনি যা বলেছিলেন তার সারমর্ম হলো : বিবাহ ইলম অর্জনে বাধা সৃষ্টি করে না, বরং ইলম অর্জনে সাহায্য করতে পারে। বিবাহের মাধ্যমে একজন পুরুষ এমন স্ত্রী পেতে পারে যে কিনা তাকে লেখা ও পড়ার মাধ্যমে ইলম অর্জনে সাহায্য করবে। যদি সে তা না পারে তাহলে অন্তত; তার মন থেকে বিবাহের দুশ্চিন্তা দূর করতে পারবে। তালেবে ইলমকে ঘরের কিছু কাজ করতে হয়, স্ত্রী সেগুলো করে দিয়ে স্বামীর জন্য কিছুটা সময় বাঁচিয়ে দেবে। এভাবে স্ত্রী স্বামীর জন্য ইলম অর্জনে প্রয়োজনীয় শান্তিপূর্ণ ও উপযোগী পরিবেশ তৈরি করতে সাহায্য করবে। সুতরাং যুবকদের প্রতি আমার উপদেশ হলো; তাদের উচিত বিবাহ করা, কারণ এতেই লুকিয়ে রয়েছে বহুবিধ কল্যাণ আর রাসূল ﷺ -এর আদেশ গ্রহণের দৃষ্টান্ত এবং তাঁর ও সাহাবীগণের সুন্নাহর অনুসরণ। ইসলামকিউএ.ইনফো থেকে অনূদিত। ডিপ্লোমা ইন ইসলামিক স্টাডিজ কোর্সে ভর্তির জন্য ভিজিট করুন : https://taibahacademy.com/

পড়া-লেখা আগে, নাকি বিয়ে আগে?? উস্তাজ শাইখ মামুনুর রাশিদ মাদানি (হাফি.) এক ক্লাসে বললেন, এক ব্যক্তি (আরব) এক শায়েখ কে জিজ্ঞাসা করল শায়েখ, পড়া-লেখা আগে নাকি বিয়ে আগে? শায়েখ বললেন, আল্লাহ তায়ালা বলেছেন هن لبس لكم وانتم لباس لهن অর্থাৎ, 'তারা (স্ত্রীরা) তোমাদের পোশাক, আর তোমরা (পুরুষরা) তাদের পোশাক '। এখন তুমি পোশাক বিহীন পড়ালেখা করতে চাও নাকি পোশাক সহ পড়া লেখা করতে চাও?🥲 چوپ كوري تيكوناح وتتور ديوو فيو؟؟😒

আপনার বিনয় ও সহনশীলতাকে অনেকে ‘দুর্বলতা’ মনে করলেও আপনি পাল্টে যাবেন না। কারণ এর মাধ্যমে আপনি আল্লাহর কাছে উঁচু মর্যাদার অধিকারী হবেন। . রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন— . وَمَا زَادَ اللَّهُ عَبْدًا بِعَفْوٍ إِلاَّ عِزًّا وَمَا تَوَاضَعَ أَحَدٌ لِلَّهِ إِلاَّ رَفَعَهُ اللَّهُ . ‘‘বান্দা ক্ষমা করলে, আল্লাহ্ তার সম্মান বাড়িয়ে দেন আর কেউ আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের জন্য বিনয়-নম্রতা দেখালে, আল্লাহ তাকে উঁচু মর্যাদা দেন।’’ [ইমাম মুসলিম, আস-সহিহ: ৬৪৮৬] . রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আশাজ আল ‘আসারি (রা.)-কে বলেছেন— . إِنَّ فِيكَ خَصْلَتَيْنِ يُحِبُّهُمَا اللَّهُ الْحِلْمَ وَالْأَنَاة . ‘‘নিশ্চয়ই তোমার মধ্যে এমন দুটি স্বভাব রয়েছে, যা আল্লাহ তা‘আলা পছন্দ করেন—সহনশীলতা এবং কল্যাণ চিন্তা করে ধীর-স্থিরতা অবলম্বন করা।’’ [ইমাম মুসলিম, আস-সহিহ: ২৫] . অন্য বর্ণনায় এসেছে— . إِنَّ فِيكَ خَصْلَتَيْنِ يُحِبُّهُمَا اللَّهُ الْحِلْمَ وَالْحَيَاءَ . ‘‘নিশ্চয়ই তোমার মধ্যে এমন দুটি উত্তম স্বভাব বিদ্যমান, যা আল্লাহ পছন্দ করেন— সহনশীলতা ও লজ্জাশীলতা।’’ [ইমাম ইবনু মাজাহ, আস-সুনান: ৪১৮৮; হাদিসটি সহিহ] . সুতরাং আল্লাহর জন্যই আমরা বিনীত থাকবো, ধৈর্যধারণ করবো এবং সহনশীলতা অবলম্বন করবো। বিনিময় আল্লাহর কাছেই পাবো, ইনশাআল্লাহ। সবসময় অন্যকে হারিয়ে নিজে ‘জিতে’ যাওয়ার চিন্তাটা মাথা থেকে সরিয়ে রাখবো। কখনও নিজে হেরে গিয়ে আল্লাহর আদালতে ‘জিতে’ যাওয়ার চেষ্টাটাও করবো। . Tasbeeh

নার্ভাসনেসের সময় চুইংগাম চিবাতে পারেন সাইকোলজিস্ট রায়ান এন্ডারসনের মতে,নার্ভাস থাকলে আমাদের মস্তিষ্ক ঠিকমতো কাজ করে না। তখন আপনি চুইংগাম চিবিয়ে মস্তিষ্ককে বোকা বানাতে পারেন। এতে ব্রেইন মনে করবে আপনি নার্ভাস নয় কারণ অলরেডি কাজ করছেন (চুইংগাম চিবানো)। এভাবে নার্ভাস অবস্থায় ও মস্তিষ্ককে বার্তা দিতে পারছেন যে আপনি শান্ত আছেন।

জ্ঞানীদের জ্ঞানের কথাঃ ১) জীবনে একধাপ পিছিয়ে গেলে হতাশ হবেন না। কেননা, তীরকে প্রচণ্ড বেগে নিক্ষেপ করার আগে তা টেনে পেছনে নিতে হয়। ২) কারো বর্তমান পরিস্থিতি দেখেই ভবিষ্যতবাণী করবেন না। কেননা, নবীগণ প্রথম জীবনে ছাগল চরিয়েছিলেন কিন্তু তারাই পরবর্তীতে জাতিকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। ৩) আপনি একাকী হলেও দু:খ করবেন না। কারণ, চাঁদ একাকী হয়েও পৃথিবীকে তার সৌন্দর্য ছাটায় প্লাবিত করে দেয়। আপনার সাথে সৃষ্টিকর্তা আছেন। ৪) কাঠ বলল পেরেককে, তুমি আমাকে কষ্ট দিচ্ছ.. আমাকে আহত করছ। পেরেক বলল, তুমি যদি আমার মাথায় হাতুড়ের আঘাত দেখতে তবে আমাকে ক্ষমা করতে। অতএব, আসুন, আমরা মানুষকে ক্ষমা করতে শিখি। কারণ, আমরা কেউই অন্যের সমস্যা ও পরিস্থিতি সম্পর্কে অবগত নই। (collected)