Redwan Rawaha
Открыть в Telegram
লেখালেখি কলমের যতো আয়োজন তা দিয়ে হই যেনো প্রভুর প্রিয়জন
Больше824
Подписчики
Нет данных24 часа
-47 дней
-130 дней
Загружаем данные
Похожие каналы
Облако тегов
Нет данных
Возникли проблемы? Пожалуйста, обновите страницу или обратитесь к нашему support-менеджеру .
Входящие и исходящие упоминания
---
---
---
---
---
---
Привлечение подписчиков
октябрь '26окт. '26
октябрь '26
+6
в 0 каналах
сентябрь '26
+11
в 0 каналах
Get PRO
август '26
+3
в 0 каналах
Get PRO
июль '26
+2
в 0 каналах
Get PRO
июнь '260
в 0 каналах
Get PRO
май '26
+5
в 0 каналах
Get PRO
апрель '26
+8
в 0 каналах
Get PRO
март '26
+8
в 0 каналах
Get PRO
февраль '26
+57
в 0 каналах
Get PRO
январь '26
+20
в 0 каналах
Get PRO
декабрь '25
+6
в 0 каналах
Get PRO
ноябрь '25
+10
в 0 каналах
Get PRO
октябрь '25
+15
в 0 каналах
Get PRO
сентябрь '25
+13
в 0 каналах
Get PRO
август '25
+5
в 0 каналах
Get PRO
июль '25
+3
в 0 каналах
Get PRO
июнь '25
+6
в 0 каналах
Get PRO
май '25
+13
в 0 каналах
Get PRO
апрель '25
+10
в 1 каналах
Get PRO
март '25
+6
в 0 каналах
Get PRO
февраль '25
+13
в 0 каналах
Get PRO
январь '25
+14
в 0 каналах
Get PRO
декабрь '24
+15
в 0 каналах
Get PRO
ноябрь '24
+26
в 1 каналах
Get PRO
октябрь '24
+10
в 0 каналах
Get PRO
сентябрь '24
+20
в 0 каналах
Get PRO
август '24
+59
в 0 каналах
Get PRO
июль '24
+29
в 1 каналах
Get PRO
июнь '24
+32
в 0 каналах
Get PRO
май '24
+42
в 0 каналах
Get PRO
апрель '24
+34
в 0 каналах
Get PRO
март '24
+34
в 0 каналах
Get PRO
февраль '24
+56
в 0 каналах
Get PRO
январь '24
+68
в 0 каналах
Get PRO
декабрь '23
+85
в 0 каналах
Get PRO
ноябрь '23
+55
в 1 каналах
Get PRO
октябрь '23
+109
в 1 каналах
Get PRO
сентябрь '23
+15
в 0 каналах
Get PRO
август '23
+20
в 0 каналах
Get PRO
июль '23
+14
в 0 каналах
Get PRO
июнь '23
+8
в 0 каналах
Get PRO
май '23
+20
в 0 каналах
Get PRO
апрель '23
+9
в 0 каналах
Get PRO
март '23
+25
в 0 каналах
Get PRO
февраль '23
+12
в 0 каналах
Get PRO
январь '23
+14
в 0 каналах
Get PRO
декабрь '22
+10
в 0 каналах
Get PRO
ноябрь '22
+4
в 0 каналах
Get PRO
октябрь '22
+15
в 0 каналах
Get PRO
сентябрь '22
+16
в 0 каналах
Get PRO
август '22
+42
в 0 каналах
Get PRO
июль '22
+52
в 0 каналах
Get PRO
июнь '22
+22
в 0 каналах
Get PRO
май '22
+22
в 0 каналах
Get PRO
апрель '22
+13
в 0 каналах
Get PRO
март '22
+51
в 0 каналах
Get PRO
февраль '22
+26
в 0 каналах
Get PRO
январь '22
+21
в 0 каналах
Get PRO
декабрь '21
+27
в 0 каналах
Get PRO
ноябрь '21
+14
в 0 каналах
Get PRO
октябрь '21
+35
в 0 каналах
Get PRO
сентябрь '21
+36
в 0 каналах
Get PRO
август '21
+254
в 0 каналах
| Дата | Привлечение подписчиков | Упоминания | Каналы | |
| 16 октября | 0 | |||
| 15 октября | 0 | |||
| 14 октября | 0 | |||
| 13 октября | 0 | |||
| 12 октября | 0 | |||
| 11 октября | 0 | |||
| 10 октября | +1 | |||
| 09 октября | +2 | |||
| 08 октября | 0 | |||
| 07 октября | +1 | |||
| 06 октября | +1 | |||
| 05 октября | 0 | |||
| 04 октября | +1 | |||
| 03 октября | 0 | |||
| 02 октября | 0 | |||
| 01 октября | 0 |
Посты канала
ইরাকের রাফেজীরা কীভাবে সুন্নিদের উপর নির্যাতন করেছে তার একটা উদাহরণ
ইরাকে ইরানি মিলিশিয়া বাহিনী الحشد الشعبي এর সদস্যরা সিভিল ড্রেসে যে কোন বাজারে গিয়ে অবস্থান নিত। তাদের মধ্য থেকে একজন হঠাৎ করে “ইয়া ওমর” বলে ডাক দিয়ে উঠত।
স্বাভাবিকভাবেই যার নাম ওমর সে আওয়াজ দিত বা “نعم " বলে পিছনে ঘুরে দেখত তাকে কে ডাকছে।
তখন সাথে সাথেই এই সিভিল ড্রেসের الحشد الشعبي এর সদস্যরা তাকে উঠিয়ে নিয়ে গুম করে ফেলত।
এভাবেই তারা শুধু মাত্র আবু বকর ওমর ওসমান আয়েশা নাম রাখার কারনে শত শত মানুষকে দুনিয়া থেকে বিদায় করে দিয়েছে।
আর আপনি এখানে বসে ইরানের গুণগান গান, সুলেমানীরে মোজাহিদ বলেন।
| 2 | ১০২° জ্বর নিয়ে কোনো নারীকে পরটা বানাতে বলা উচিতও না, যৌক্তিকও না। কথা সত্য। তবে, আরো সত্য হচ্ছে, কত কত শারীরিক অ-স্বস্তি নিয়ে কত বাবা প্রতিনিয়ত তাঁর সন্তানের জন্য, কত ভাই তাঁর বোনের জন্য, কত স্বামী তাঁর স্ত্রীর জন্য, কত সন্তান তাঁর মায়ের জন্য উপার্জন করছে নিজের সবটুকু শক্তি আর সামর্থ্য ঢেলে দিয়ে, সে হিসেব বা আলোচনা সমাজে গৌণ। জ্বর তো এখানে নস্যি!
নিজের সন্তান, মা, বোন, স্ত্রীসহ পরিবারকে ভালো রাখার জন্য সে কী নিরন্তর ছুটে চলা! দায়িত্বশীলতার মাত্রা কতটুকু হওয়া উচিত, কতটুকু পর্যন্ত নিজেকে উজাড় করে দিলে একজন বাবা, ভাই বা স্বামীর উপর সন্তুষ্ট হয়ে যাওয়া উচিত বা যৌক্তিক, সে আলোচনাটা যেন নিতান্তই অ-প্রাসঙ্গিক!
সামাজিক বাস্তবতা হলো- If you are a man, you are a money machine! A machine is just a thing that has no feelings. | 137 |
| 3 | বিবিসির সাবেক জনপ্রিয় সাংবাদিক আকবার হোসাইন ভাই শায়খ Ahmadullah—এর দীর্ঘ সাক্ষাৎকার নিলেন। ৪০ মিনিট ধরে কথা বলেছেন। নানান প্রসঙ্গ উঠে এসেছে এপিসোডে। চমৎকার কিছু পয়েন্ট আছে সেখানে। তন্মধ্যে তিনটি পয়েন্ট আমাকে অভিভূত করেছে।
১.
ইউনুস সরকারে যোগ দেওয়ার জন্য শায়খ আহমাদুল্লাহকে সব পক্ষ জোরাজুরি করেছিল। আবেগ, ভালোবাসা এবং সম্মানের সাথে চাপও প্রয়োগ করেছিল অনেক পক্ষ। তিনি চাপ নিলেন না। নিজেকে স্থির রেখে সবার আবেদন বিনয়ের সাথে নাকচ করে দিলেও তিনি মাওলানা খালিদ হোসেনের নাম সাজেশন করলেন। পরবর্তীতে সেই আ.ফ.ম খালিদ হোসেনই হলেন ধর্মমন্ত্রী।
২.
সরকারের গঠনের পরে যখন জাতীয় মসজিদের খতীব নিয়োগের আলোচনা চলছিল তখনও আলোচনার শীর্ষে ছিলেন শায়খ আহমাদুল্লাহ। ধর্মমন্ত্রী নিজে, সরকারের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিবর্গের মাধ্যমে এবং অন্যান্য ঘনিষ্ঠ আত্মীয়দের দ্বারা কনভিন্স করার যারপরনাই চেষ্টা করলেন। ব্যর্থ হলেন তারা। সাফ জানিয়ে দিলেন, তিনি খতীব পদ গ্রহণ করবেন না। এখানেও তিনি খতীব পদে নাম সাজেশন করেছিলেন। পরবর্তীতে তিনিই হলেন জাতীয় মসজিদের খতীব।
৩.
তিনি নিজ উদ্যোগে আধুনিক মসজিদ কমপ্লেক্স করছেন। প্রথম যেদিন এটা করার ঘোষণা দিয়েছিলেন, তখন সবার উদ্দেশে বলেছিলেন, এই মসজিদে প্রতি শুক্রবারের খুৎবা আমিই দিব ইনশাআল্লাহ। তাঁর এই আশ্বাসে আশ্বস্ত হয়েই বিপুল পরিমাণ দান আসতে থাকে শুভাকাঙ্ক্ষী সাইড থেকে। মাঝপথে যদি জাতীয় মসজিদের খতীবের পদ গ্রহণ করেন তাহলে তাঁর কথার মূল্য থাকবে না। সাধারণ মানুষের কাছে বিশ্বাসযোগ্যতা হারাবেন। এটা তিনি কোনোক্রমেই চান নি বলেই জাতীয় মসজিদের দায়িত্ব তিনি নেন নি। নেওয়ার কোনো আগ্রহই তৈরি হয় নি।
ভিন্ন আলাপ:
আমার ক্লোজ একজন ছাত্র তাইসীর জামাতে পড়ে। ঢাকাতেই। তাদের মাদ্রাসায় সাপ্তাহিক জলসা হয়। সেখানে উন্মুক্ত আলোচনা করার সুযোগ থাকে।
বিকালে এসে ছেলেটা শায়খ আহমাদুল্লাহকে নিয়ে কথা বলা শুরু করল। সে আমার কাছে খুব করে জানতে চাইল, শায়খ আহমাদুল্লাহ কওমী বিরোধী আহলে হাদীস কি না। আমি থমকে গেলাম। চিন্তিত হলাম। ভারাক্রান্ত মনে বললাম, "তোমার বয়স খুবই কম। এগুলো নিয়ে ভাববার সময় তোমার হয় নি। এছাড়া তোমার বাবা শিক্ষিত। কারোর ব্যাপারে সতর্ক করতে হলে তিনিই করবেন। তুমি জাস্ট সিলেবাসের বইগুলো ভালো করে পড়ার চেষ্টা করো।" | 155 |
| 4 | ০১.
প্রখ্যাত ওয়ায়েজ ও শিল্পী, মাওলানা তারেক মুনাওয়ারের একটা গান আছে—
“আমার যখন ফুরাবে দিন, আসবে গহীন রাতি,
থেকো প্রভু এই জীবনে, হয়ে চিরসাথী।
আমার আমার বলে যখন কাউকে পাব না,
সেদিন আমার শূন্য হিয়ায়, তুমি থেকো সান্ত্বনা।”
আমার সবচেয়ে প্রিয় যে কয়টি গান আছে, এটি তার অন্যতম।
শুনতে আমার কত যে ভালো লাগে, বলার মতো না। একটা সময় প্রায় প্রতি রাতেই হেডফোন গুঁজে দিয়ে গানটা শুনতাম। কী যে ভালো লাগত, তা ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়!
কত সহজ কিছু শব্দ, কত সাধারণ কিছু কথা—অথচ এর ভেতরেই যেন লুকিয়ে আছে আস্ত এক জীবনদর্শন। লুকিয়ে আছে জীবনের সবচেয়ে গভীর এক সত্য।
০২.
আমরা সারাজীবন কত মানুষকেই তো আপন করে নিই, কত সম্পর্ককে ঘিরেই তো কত সহস্র স্বপ্ন দেখি। কত মানুষকেই তো দেখে মনে মনে বলি— এরা বুঝি সত্যিই কোনোদিন আমাদের ছেড়ে যাবে না!
অথচ সময়ের সঙ্গে সঙ্গে প্রতিটি সম্পর্কই কীভাবে যেন বদলে যায়!
কেউ দূরে চলে যায়, কেউ হারিয়ে যায়, কেউ স্বেচ্ছায় নিজেকে আড়াল করে নেয়। কেউ চোখের সামনে থেকেও নিবিড় নীরবতার কোলাহলে ডুবে যায়। আবার কেউ থেকেও যেন নেই— জীবন্ত লাশের মতো পড়ে থাকে; থাকতে হয়, তাই থাকে!
এরকম ধাক্কা খেতে খেতেই একসময় মানুষ বুঝতে শেখে— এই দুনিয়ার কোনো সম্পর্কই চিরস্থায়ী নয়।
তবে এই ক্ষণস্থায়ী জীবনে আমাদের একজন চিরস্থায়ী সঙ্গী আছেন— তিনি আমাদের রব, মহান আল্লাহ।
মানুষ আমাদের মনের কথা না বুঝলেও তিনি বোঝেন। সবাই আমাদের ছেড়ে গেলেও তিনি ছেড়ে যান না।
আমরা মুখে কিছু না বললেও তিনি আমাদের চোখের পানি দেখেন। রাতের নির্জনতায় বুকের ভেতর জমে থাকা যে কষ্টগুলো কাউকে বলা যায় না, সেটিও তিনি দেখেন।
সত্যি বলতে জীবনের সবচেয়ে কঠিন সময়গুলো হয়তো এ কারণেই আসে— যাতে আমরা বুঝতে পারি, মানুষের ওপর নির্ভরতারও একটা সীমা আছে কিংবা রক্তে-মাংসে গড়া মানুষের ওপর আস্থা আর বিশ্বাসেরও একটা সীমা থাকা উচিত।
উঁহু, বলছিলাম গানটির কথা।
গানটি আমাকে শেখায়— যখন চারপাশের সব পথ বন্ধ হয়ে যায়, সবার দরজাই যখন আঁটকে যায়, তখনও কিন্তু একটি দরজা খোলা থাকে। সেটা হলো আল্লাহর দরজা।
জীবনের কোনো এক গভীর রাতে যখন মনে হবে, বলার মতো কেউ নেই, বোঝার মতো কেউ নেই, পাশে দাঁড়িয়ে স্রেফ কাধে হাত দেওয়ার মতোও কেউ নেই— তখন, সেই সময়ও কিন্তু বান্দার জন্য একটি আশ্রয় খোলা থাকে। সে আশ্রয় আল্লাহর।
মানুষের কাছে যে কান্না দুর্বলতা, কাপুরষতা, আল্লাহর কাছে সেই কান্নাই হতে পারে শক্তিমত্তার পরিচায়ক।
তাই চোখের পানি নিয়েই তার কাছে বলা যায়— “হে আল্লাহ, সবাই না থাকলেও আপনি তো আছেন।”
০৩.
আল্লাহর সঙ্গে সম্পর্কটা এমন এক সম্পর্ক, যেখানে অভিমান নিয়ে ফিরে আসা যায়, কান্না নিয়েও ফিরে আসা যায়, ফিরে আসা যায় পাপের ভার নিয়েও।
মানুষ হয়তো আমাদের অতীতের ভুল মনে রাখে, কিন্তু তিনি অতীতকে অনায়াসেই ভুল স্বীকারের মাধ্যমে ক্ষমা করে দিতে পারেন। আল্লাহর রহমতের দরজা ভুল স্বীকার করে তওবার মাধ্যমে আবারও খুলে যায়।
তাই জীবনে যতই ভাঙন আসুক, এখন আমি চাই, আমার হৃদয়ের ভেতর যেন এই বিশ্বাসই অটুট থাকে— আমার রব আমাকে ছেড়ে দেবেন না।
০৪.
একদিন সত্যিই আমাদের এই পৃথিবীর সব পরিচয় শেষ হয়ে যাবে। যাদের আমরা সবচেয়ে আপন ভাবি, তারাও একদিন আমাদের বিদায় দিয়ে ফিরে যাবে। সেই শেষ যাত্রায় কেউ আমাদের সঙ্গে যাবে না। থাকবে না কোনো বন্ধু, কোনো প্রভাব, কোনো সম্পদ, কোনো যশ কিংবা খ্যাতিও। থাকবে শুধুই আমাদের আমল এবং আল্লাহর রহমতের প্রত্যাশা।
তাই সম্ভবত বর্তমানে আমার জীবনের সবচেয়ে বড় প্রার্থনা এটাই—
হে আল্লাহ, দুনিয়ার সব আপনজন যদি একদিন দূরে সরে যায়, তবুও আপনি যেন আমার কাছ থেকে দূরে না যান। আমার হৃদয় যখন মানুষের শূন্যতায় ভারী হয়ে উঠবে, তখন আপনার স্মরণে যেন তা প্রশান্ত হয়।
আর জীবনের শেষ প্রহরে যখন সত্যিই কাউকে “আমার” বলে পাওয়ার থাকবে না, তখন যেন আপনি থাকেন— আমার রব হয়ে, আমার আশ্রয় হয়ে, আমার শূন্য হৃদয়ের একমাত্র সান্ত্বনা হয়ে।
#প্রার্থনা
~রেদওয়ান রাওয়াহা | 559 |
| 5 | একটা শ্রেণী আছে, যারা সুযোগ পেলেই ছোটখাটো একটা বিষয়কে সামনে এনে এমনভাবে দেশের মালিকানা নেওয়ার চেষ্টা করে, যেন দেশের সব সমস্যার সমাধান এই একটা বিষয়েই আটকে আছে। এর আগেও বহুবার দেখেছি, এবারও দেখা যাচ্ছে একদল নেংটা চলার স্বাধীনতা নিয়ে মাঠে নেমেছে!
মেট্রোরেল, রাস্তা কিংবা যেকোনো পাবলিক প্লেসে পোশাক কেমন হবে এটা নিয়ে সমাজ, রাষ্ট্র কিংবা যে যার মতো মত দিতে পারে। কিন্তু একজন মুসলিম নারী বা পুরুষের পোশাকের মূল সীমারেখা নির্ধারণ করবে কে? একজন মুসলমানের কাছে আল্লাহর দেওয়া বিধানই তো চূড়ান্ত।
মুসলিম পুরুষের জন্য সতরের যে সীমা শরিয়তে নির্ধারিত, তা অন্য পুরুষের সামনেও অকারণে প্রকাশ করা বৈধ নয়। জরুরি অবস্থা কিংবা চিকিৎসার প্রয়োজন আলাদা বিষয়। অথচ ফুটবল খেলতে গিয়ে, জিমে গিয়ে কিংবা পাবলিক প্লেসে হাফপ্যান্ট পরে চলাফেরা করছেন এমন অনেক ভাই হয়তো বিষয়টা জানেনই না। যারা জানেন না, তাদের জানানো দরকার। না জেনে ভুল করা এক বিষয়। কিন্তু জেনেশুনে আল্লাহর বিধানকে তুচ্ছজ্ঞান করে, নিজেকে কুল প্রমাণ করার জন্য কিংবা ‘আমার যা ইচ্ছা তাই করব’ মানসিকতায় ফরজের সীমা ভেঙে চলা নিঃসন্দেহে ভয়ংকর ব্যাপার। তাও নাকি সেটা আন্দোলনে রূপ নিয়েছে! আল্লাহর বিধান অমান্য করার আন্দোলন! হাজারেরও বেশি ছেলে সেখানে অংশগ্রহণ করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছে।
আর সবচেয়ে মজার বিষয় কী জানেন?
এই একই মানুষগুলোর অনেককে দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক অবস্থা, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, কর্মসংস্থান, নাগরিক অধিকার কিংবা মানুষের বাস্তব সংকটের প্রশ্নে খুব একটা মাঠে দেখা যায় না। তাদের ফেসবুক ওয়ালে ঢুকেও অনেক সময় দেশের মানুষের কষ্ট, অধিকার কিংবা ভবিষ্যৎ নিয়ে তেমন কোনো মাথাব্যথা খুঁজে পাওয়া যায় না।
কিন্তু পোশাকের নামে ‘স্বাধীনতা’ দেখানোর সুযোগ পেলেই যেন দেশের সবচেয়ে বড় সংকটটা এখানেই!
আর আমাদের প্রথম সারির কিছু গণমাধ্যম তো আছেই। একটা ছোট বিষয়কে এমনভাবে উপস্থাপন করবে, যেন এটাই বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় জাতীয় সংকট, সংস্কৃতি ধ্বংস হয়ে গেল, সভ্যতা শেষ হয়ে গেল!
ভাই, একটু থামেন।
এই দুনিয়ায় গায়ের জোর, টাকা-পয়সার গরম, মানুষের বাহবা কিংবা ‘কুল’ সাজা কোনোটাই চিরস্থায়ী না।
একদিন নিঃশ্বাসটা বন্ধ হয়ে যাবে। সেদিন এই শরীর থাকবে না, অহংকার থাকবে না, বাহাদুরি থাকবে না, ফেসবুকের লাইক-কমেন্টও থাকবে না।
থাকবে শুধু আমল। আর থাকবে আল্লাহর সামনে দাঁড়িয়ে জবাব দেওয়ার পালা।
তাই স্বাধীনতার কথা বলার আগে দায়িত্বের কথাটাও মনে রাখুন। নিজের পছন্দের কথা বলার আগে নিজের রবের হুকুমটাও একবার মনে করুন।
আল্লাহ আমাদের সবাইকে তাঁর বিধান বুঝে, মেনে এবং আমল করার তাওফিক দিন। আমিন। | 165 |
| 6 | জাহির নামে এক গ্রাম্য সাহাবি ছিল নবিজির। বড় দরিদ্র সাহাবি জাহির। রোগা কদাকার। তবু নবিজি বড় ভালোবাসতেন জাহির রাদিয়াল্লাহু আনহুকে।
জাহির প্রায়ই গ্রাম থেকে মদিনায় আসতেন। গ্রামে উৎপাদিত খাদ্যশস্য মদিনার বাজারে বিক্রি করতেন। জাহির মদিনায় এসেছেন আর নবিজির সঙ্গে দেখা করেননি, তা কখনো হয়নি।
তিনি যখনই নবিজির দরবারে আসতেন, গ্রামের সব্জি-ফল-ফসল হাদিয়া আনতেন। জাহির যখন ফিরে যেতেন, নবিজি বড় দরদ ভরা কণ্ঠে বলতেন, জাহির আমাদের গ্রাম আমরা জাহিরের শহর।
প্রিয় এই সাহাবি একদিন মদিনার বাজারে পণ্য বিক্রি করছিলেন। নবিজির কী খেয়াল হলো, তিনি চুপিচুপি জাহিরের পেছনে গিয়ে দাঁড়ালেন। তারপর পেছন থেকে চেপে ধরলেন জাহিরের চোখ।
ভরা বাজারে কেনাবেচার সময় এই রকম রসিকতা কারইবা ভালো লাগে! জাহির বিরক্ত হয়ে উঠলেন। চোখ ছাড়াবার জন্য তিনি জালে আটকা পড়া চিতার মতো মোচড়ামুচড়ি করতে লাগলেন— এই ছাড়ো ছাড়ো!
ঠিত তখনই জাহিরের তনুমনে কাঁপন ধরিয়ে বেজে উঠল নবিজির কণ্ঠ— কেউ কি আছ আমার এই গোলামটাকে ক্রয় করবে?
নবিজির কণ্ঠ শুনে বুকের ভেতর ধড়াশ করে উঠল জাহিরের। মুহূর্তে অবশ হয়ে গেল তার সর্বাঙ্গ। নিজের কানকে তিনি বিশ্বাস করতে পারলেন না। এই ব্যস্ত বাজারে তার মতো নাদান গ্রাম্য লোকের চোখ ধরেছেন নবিজি! কী অবিশ্বাস্য ঘটনা! এও কি হতে পারে!
এই মুহূর্তে ঠিক কী করা যায়? কী করবেন জাহির? ভ্যাবাচ্যাকা জাহির আবেগে কতক্ষণ স্তব্ধ হয়ে থাকলেন। হঠাৎ তার মস্তিষ্কে ঝিলিক দিয়ে উঠল এক অভিনব ভাবনা।
নবিজির পবিত্র বদনের সঙ্গে তার কুৎসিত শরীর ছোঁয়ানোর এই তো অপূর্ব সুযোগ! এমন সুযোগ আর তো কোনোদিন আসবে না। জাহির আর দেরি করলেন না। তার হ্যাংলা শরীর নবিজির দিকে ঠেলতে লাগলেন। নবিজি তখনো ধরে আছেন শিষ্যের চোখ। একইভাবে বলছেন— আমার এই গোলামটাকে কে ক্রয় করবে?
নবিজির এই ঘোষণার ভেতরই জাহিরের পিঠ স্পর্শ করল ভালোবাসায় ভরা নবিজির পবিত্র বুকের জমিন। বন্ধ চোখে নবিশরীর স্পর্শের আনন্দটুকু তারিয়ে তারিয়ে উপভোগ করতে লাগলেন তিনি।
এভাবে কেটে গেল কতক্ষণ। একটু পর যখন ঘোর ভাঙল জাহিরের, বললেন, ইয়া রসুলাল্লাহ, আমি দরিদ্র, দেখতে কুৎসিত, শরীর বলহীন; এই ত্রুটিযুক্ত গোলাম বেচে আপনি কতইবা মূল্য পাবেন!
নবিজি তখন বললেন, মানুষের কাছে তোমার দাম না থাকতে পারে, জাহির; আল্লাহর কাছে তোমার মূল্য অনেক অনেক বেশি।
নবিজি ছিলেন ওহিপ্রাপ্ত মহামানব, মদিনা নগরীর মুকুটহীন সম্রাট। কিন্তু তার আচরণে নবি ও সম্রাটসুলভ কোনো ভাব-ভণিতা ছিল না। তিনি ছিলেন সহজ মানব। সবার সঙ্গে যেমন সহজে মিশতেন, তেমনি মজাও করতেন প্রাণ খুলে।
চোখ বন্ধ করে জাহির রাদিয়াল্লাহু আনহুর সঙ্গে ঘটে যাওয়া মদিনা বাজারের ওই দৃশ্যটা কল্পনা করুন। আপনি অশ্রু সংবরণ করতে পারবেন না।
জাহির রাদিয়াল্লাহু আনহু কি সারা জীবনে ভুলতে পেরেছিলেন এই মধুর স্মৃতির রেনু? ভুলতে পারেননি। এই ভালোবাসা ভোলা যায় না। বরং যার সঙ্গেই তার দেখা হয়েছে, ধারণা করি, শিশুদের মতো খলবল করে তাকেই শুনিয়েছেন জীবনের সবচেয়ে মূল্যবান স্মৃতির সুবাসটুকু।
এই ভালোবাসা তিনি বুকে আগলে নিয়ে যাবেন পরজীবনেও। নবিজির সঙ্গে যখন তার দেখা হবে জান্নাতে, তিনি বাষ্পরুদ্ধ কণ্ঠে বলবেন, ইয়া রসুলাল্লাহ, আমার শরীরে এখনো আপনার আদর লেগে আছে।
[সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম]
— সংগৃহীত | 133 |
| 7 | শুধুমাত্র ছেলেরাই 'সিম্পিং' করে? শুধু ছেলেরাই মেয়ে দেখলে লুটিয়ে পড়ে?
উঁহু— না! ভুল ধারণা।
.
কোনো সেলিব্রিটি, ইয়াং, স্টাইলিশ ও পয়সাওয়ালা ছেলের কমেন্ট বক্স চেক কইরেন; দেখবেন মেয়েদের বিশাল একটা অংশ তাদের জন্য, তাদের কাছে এক কথায় অন্তর্বাস খুলে দেবে৷
.
তারাও ফ্লার্ট করে ও ফ্লার্ট এঞ্জয় করে। কিন্তু সবার সাথে না, ওয়েল এস্টাবলিশড, হ্যান্ডসাম অথবা ফেইমাস ও সম্পদশালী মানুষ দেখে৷
.
আপনার মতো ছ্যাবলা, অসুন্দর, আনস্মার্ট,গাইয়া ও গরিব ছেলেরা ' ফ্লার্ট' করলে সেটা হবে মলেস্টেশন৷
.
মোদ্দা কথা এ-যুগে 'সকল' মেয়েদের নিষ্পাপ ভাববেন না৷ তারাও ভিক্টিম কার্ড নিয়ে মাঠে নামে৷ অসুন্দর কেউ কথা বললেই উত্যক্তকারী হিসেবে পাব্লিকের কাছে মাইর খাওয়াবে৷
.
ভদ্র ঘরের ছেলে বা মেয়ে কেউই এসব নীচ কাজে নিজেকে জড়ায় না৷
যাই হোক, তবু্ও আগে জানতাম সেক্সুয়ালি ফ্রাস্ট্রেটেড ছেলেরাই মেয়েদের কমেন্ট সেকশনে এমন করে, এখন দেখি মেয়েরাও সেইম কাজগুলি করে! 😀
এগুলো নিয়ে কথা বলতেও ভয় পায়— পাছে আবার নারী বিদ্বেষী তকমা লেগে যায় কি না! | 211 |
| 8 | ফুডপান্ডায় কাজ করে চার হাজারের অধিক কাস্টমারের ডাটাবেইজ তৈরি করে সেটা এখন সেল করছেন। ৩৭টির অধিক রেস্টুরেন্টে এবং দুটো ফুড ডেলিভারি কোম্পানিতে উচ্চমূল্যে বিক্রি করেছেন।
কী বিক্রি করছেন?
মানুষের প্রাইভেসি। যে তথ্যগুলো নির্দিষ্ট সেবার জন্য বিশ্বাস করে দিয়েছিল ভোক্তারা, সেগুলোকেই কালপ্রিটরা পণ্যে রূপান্তরিত করে মার্কেটে সেল করছে। দু'হাতে টাকা কামাই করেছে।
সে ঘুষ, সুদ, জুয়া তেমন কিছুই করে নি। মানুষের গোপন ডাটাবেইজ তৈরি করে সেল করছে। এটা যে সুদ-ঘুষের চেয়ে কম নয়, এই বোধ কতজন মানুষের আছে? আজকাল মানুষ মাত্র সীমিত কয়েকটি জিনিসকে হারাম ভাবে। অথচ এদিকে হাজারো চোরাপথ আমাদেরকে গিলে ফেলছে।
কাজের প্রয়োজনে আপনি আপনার গ্রাহকদের তথ্য নিতে পারবেন, তবে নেওয়ার পর আপনার ওপর আলাদা দায়িত্ব চাপবে। অবশ্যই সেই তথ্যগুলো অন্যের আমানত হিসেবে সুনির্দিষ্ট কাজে ব্যবহার করতে হবে। তথ্যদাতার অনুমতি ছাড়া নিজের কাছে রেখে দেওয়া বা ডাটাবেইজ তৈরি করে তৃতীয় পক্ষের কাছে বিক্রি করা সম্পূর্ণ হারাম।
আপনি ওই পণ্যই বিক্রি করতে পারবেন যা আপনার মালিকানাধীন। যার ওপর আপনার অধিকার নেই, মালিকানা নেই, সেটা বিক্রি করে অর্থ উপার্জন করা টোটালি হারাম।
শুধু তা-ই নয়, গ্রাহকের অজান্তে তাদের ডাটা রেস্তোরাঁ বা অন্যান্য সংস্থাকে দেওয়ার ফলে সময়ে-অসময়ে যে স্প্যাম কল, মার্কেটিং মেসেজ বা নিরাপত্তা ঝুঁকির সম্ভাবনা সৃষ্টি হবে, সেটার দায়ও এই ধরনের প্রতারকের কাঁধে পড়বে।
প্রাইভেসি বান্দার হক। যারাই নষ্ট করবে বান্দা মাফ না করলে মাফ পাবে না।
এবার চিন্তা করুন, ব্যবসার মুখোশে কী পরিমাণ হারাম ঢুকছে। | 183 |
| 9 | Нет текста... | 132 |
| 10 | ইমাম মওদূদী (রহ.)-এর প্রায় অধিকাংশ বই এবং তাঁর সমালোচকদের আপত্তিসমূহের মনোযোগী পাঠের পর আমার অভিব্যক্তি হলো, মওদূদী (রহ.) তাঁর মানের উপযোগী পাঠক পাননি—যেভাবে শায়খুল ইসলাম ইমাম ইবনে তাইমিয়া (রহ.) তাঁর যুগে পাননি। বিষয়টি মাওলানা মওদূদী (রহ.)-এর দুর্ভাগ্য বলা চলে, আবার সৌভাগ্যও।
দুর্ভাগ্য এজন্য যে, মওদূদী (রহ.)-এর কপালে ভীষণ গালিগালাজ জুটেছে। তাঁকে বলা হয়েছে—রাসূল ও সাহাবি বিদ্বেষী, কুরআনের ভুল ব্যাখ্যাকার, নতুন ইসলামের প্রবর্তক, হাদিস অস্বীকারকারী ইত্যাদি ইত্যাদি। আর তাঁর বিরাট সৌভাগ্য হলো, তাঁর মানের উপযোগী পাঠক না পাওয়ার মাধ্যমে এটিই প্রমাণিত হয়েছে যে, সাঈয়িদ মওদূদীর চিন্তাধারা তাঁর যুগের চেয়েও অনেক বেশি অগ্রসর ছিল। তিনি কালোত্তীর্ণ দার্শনিক, আলিমেদ্বীন ও চিন্তানায়ক। তিনি গতানুগতিক কোনো আলিম ছিলেন না; গতানুগতিকরা তাদের যুগকে সন্তুষ্ট করতে পারে, ভবিষ্যৎকে নয়।
https://aamarangina.blogspot.com/2021/09/blog-post_21.html?m=1 | 151 |
| 11 | নেতৃত্বের সীমা
কিছু কিছু জায়গায় জামায়াত-শিবিরের ভাইদের মধ্যে একটি অদ্ভুত প্রবণতা চোখে পড়ে। বিশেষ করে সালাত, তিলাওয়াত আর ইমামতির ক্ষেত্রে।
যেমন, সংগঠনের বড় নেতা হলেই নামাজের সময় সামনে গিয়ে দাঁড়ানোটা যেন তাঁর স্বাভাবিক অধিকার!
অথচ সালাতের কাতারে সামনে দাঁড়ানো পদ-পদবির বিষয় নয়; এখানে যোগ্যতা, তিলাওয়াতের শুদ্ধতা এবং আমলের আমানতদারিতাই আগে বিবেচনার বিষয়।
এখানে সামনে দাঁড়ানোর আগে অন্তত এটুকু দেখা দরকার—আপনার চেয়ে ভালো কুরআন জানেন, শুদ্ধভাবে তিলাওয়াত করতে পারেন, এমন কেউ আপনার পেছনে দাঁড়িয়ে আছেন কি না!
আপনি হয়তো সংগঠন পরিচালনায় দক্ষ। ডিসিশন মেকিংয়ে যোগ্য। মানুষ সংগঠিত করতে পারেন, কর্মীদের পরিচালনা করতে পারেন, কঠিন পরিস্থিতিতে সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। নেতৃত্বের এসব গুণ অবশ্যই মূল্যবান।
কিন্তু ভাই, ফরজ সালাতের ইমামতি আর সংগঠন পরিচালনা তো এক জিনিস নয়। যদিও খুব বেশি জটিল বিষয়ও নয়। কিন্তু, এখানে যদি আপনার চেয়ে অধিকতর উত্তম কেউ থাকে, সেখানে কি তাকেই প্রাধান্য দেওয়া উচিত না?
দীর্ঘ ষোলো বছর রমাদানে তারাবিহর সালাতে খতমে কুরআন সম্পন্ন করার ইমামতি করার পরও ফরজ সালাতে সামনে যাওয়ার ব্যাপারে আমি সাধারণত খুব একটা স্বস্তি বোধ করি না। আগ্রহও হয় না। বরং চেষ্টা করি পেছনে মুক্তাদি হয়ে দাঁড়িয়ে থাকতে। ভাবি— আমার সামনে অবশ্য আমার চেয়ে মুত্তাকি, ভালো তিলাওয়াতের অধিকারী কেউ না কেউ আছেন।
কিন্তু পেছনে দাঁড়িয়ে যখন কারো কারো তিলাওয়াত শুনি, তখন সত্যিই মন খারাপ হয়ে যায়। খুবই খারাপ হয়ে যায়।
মন চায় নামাজ ছেড়ে দিয়ে চলে যাই। কিংবা জামাটা টেনে পেছনে নিয়ে আসি।
মদ ঠিক নেই। মাখরাজ ঠিক নেই। তিলাওয়াতের একেবারে বেসিক শুদ্ধতাটুকুও ঠিক নেই। অথচ হনহন করে সামনে দাঁড়িয়ে যান। কোনো সংকোচ নেই, কোনো দ্বিধা নেই।
কারণ তিনি নেতা। এটা যেন তাঁর অধিকার!
এমনকি মূল আন্দোলনের নেতাদের চেয়েও মাঝেমধ্যে পাতিনেতা কিংবা ছাত্রনেতাদের মধ্যে এই প্রবণতা আরও বেশি চোখে পড়ে।
এমন মানুষও দেখি— যিনি কোনো একসময় ছাত্র আন্দোলনের কোনো এক হোমরাচোমরা ছিলেন, সংগঠনের পুরোনো পদ-পদবির একটা ভার আছে। সেই ভার যেন নামাজের কাতারেও সঙ্গে চলে আসে। নিজের তিলাওয়াত নিয়ে ওভারকনফিডেন্সের কারণে একেবারে সামনে গিয়ে হাজির!
অথচ পেছনে হয়তো এক বা একাধিক হাফেজে কুরআন দাঁড়িয়ে আছেন। হয়তো হাদিস, ফিকহ কিংবা কুরআনের ইলমে অভিজ্ঞ কোনো একজন আলিম দাঁড়িয়ে আছেন।
অর্থাৎ এমন কেউ দাঁড়িয়ে আছেন, যিনি আপনার চেয়ে অনেক ভালো কুরআন পড়েন।
দাঁড়াতে গেলে চোখ-কান খোলা রেখেই সামনে দাঁড়ান। সামনে দাঁড়ানোর এত তাড়া কেন?
যার স্টেক, তারেই দেন না! সমস্যা কী?
যে কুরআন ভালো জানেন, তাঁকে ইমামতি করতে দিন। আপনি পেছনেই দাঁড়ান।
এতে তো আপনি ছোটো হয়ে যাবেন না। আপনার নেতৃত্ব ছোট হবে না। কর্তৃত্ব খর্ব হবে না। বরং আপনি যে সত্যিকারের নেতা— সেটাই প্রকাশিত হবে। আরও স্পষ্ট হবে।
ইসলামি আন্দোলন করবেন, সংগঠন করবেন, নেতৃত্ব দেবেন, এ সবে সময় দেবেন— অবশ্যই। কিন্তু নিজের তিলাওয়াতের বেসিকটুকু ঠিক করার জন্যও তোসময় বের করতে হবে।
তাই না?
মদ-মাখরাজ ঠিক করবেন। কুরআন শুদ্ধ করে পড়বেন। নিয়মিত পড়বেন।
কারণ ইসলামি আন্দোলনের কর্মী হয়ে কুরআনের তিলাওয়াতটাই যদি শুদ্ধ না হয়, বিষয়টা সত্যিই বেমানান লাগে।
আর একটা কথা— সব জায়গায় কিন্তু নেতা হতে হয় না।
সব জায়গায় এগিয়ে যেতে হয় না।
সব সময় নিজেকে জাহির করার আকাঙ্ক্ষাটাও কিন্তু ভালো নয়, খারাপ। ভীষণ খারাপ।
কখন সামনে দাঁড়াতে হবে, আর কখন যোগ্য কাউকে সামনে দাঁড় করিয়ে নিজে পেছনে থাকতে হবে— এই বোধটুকুও নেতৃত্বেরই অংশ।
বিশেষ করে নামাজের কাতারে এই বোধটুকু আরও শক্তিশালী হওয়া চাই।
আপনি এমন একজনের সামনে ইমামতি করবেন, যার কুরআন তিলাওয়াত আপনার চেয়ে কম শুদ্ধ। এমন একজনের সামনে দাঁড়াবেন, যিনি কুরআন-হাদিস-ফিকহের ইলমে আপনার চেয়ে কম জানেন।
এই জায়গাটুকু একটু খেয়াল করা দরকার।
কথাগুলো শুনতে হয়তো খারাপ লাগবে। কিন্তু এগুলো কাউকে ছোট করার কথা নয়। এগুলো বেসিক ম্যানারের অংশ। সালাতের আদব, ইলমের আদব এবং সামাজিক শিষ্টাচারের অংশ।
কোনো সদ্য নেতা কিংবা সাবেক কোনো হোমরাচোমরা ভাই—যাদের মধ্যে এই বদ অভ্যাস বা অতি-উৎসাহটা আছে— মেহেরবানি করে রাগ করবেন না প্লিজ!
এটা মন খারাপ করার বিষয় নয়। রাগ করারও বিষয় নয়। সচেতন হওয়ার বিষয়। শেখার বিষয়। আর শেষ পর্যন্ত—আমল করার বিষয়।
~রেদওয়ান রাওয়াহা | 147 |
| 12 | জামায়াতের বহিষ্কৃত এমপি গাজী নজরুল ইসলামের দ্বিতীয় বিয়ে নিয়ে আমরা তখন কিছু বলিনি। এটা জামায়াতের বিষয়, জামায়াতই সেটাকে হ্যান্ডেল করেছে।
কিন্তু তাঁর দ্বিতীয় স্ত্রীর মৃত্যুর ঘটনায় এখন বিবেকের তাড়নায় কিছু কথা বলা প্রয়োজন মনে করছি।
এই মেয়েটির মৃত্যুর পেছনে বিএনপির অ্যাক্টিভিস্ট এবং ইসলামবিদ্বেষী কিছু মিডিয়ার দায় রয়েছে।
গাজী নজরুল ইসলাম তাঁর নাতনির বয়সী একটি মেয়েকে বিয়ে করেছেন। এটা সামাজিকভাবে ভালোভাবে দেখা হয়নি। এ কারণেই জামায়াত তাঁকে বহিষ্কার করেছে। কিন্তু বিএনপির বর্বর কর্মীরা এবং কিছু মিডিয়া এটাকে নিয়ে যে ধরনের নোংরা প্রচারণা চালিয়েছে, তা অতীতের সকল নোংরামিকে হার মানিয়েছে।
শুধু তিনি জামায়াতের এমপি ছিলেন বলেই যদি তাঁর বিরুদ্ধে সংবাদ করতে হয়, তাহলে তাঁর নাম উল্লেখ করলেই তো হতো। একটি মেয়ের ব্যক্তিগত জীবন, ছবি, পরিচয় ও বায়োডাটা নিয়ে নোংরামি করার প্রয়োজনটা কোথায়? রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে আক্রমণ করতে গিয়ে একজন নারীকে সামাজিকভাবে হেয় করার এই সংস্কৃতি কেন?
একজন প্রাপ্তবয়স্কা নারী যদি কাউকে বিয়ে করে এবং তার পরিবারও এতে অভিযোগ না করে, তাহলে রাজনৈতিক কর্মী ও মিডিয়ার লোকজনের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে এমন নোংরা প্রচারণা চালানোর অধিকার কোথা থেকে আসে?
অথচ বিএনপির নেতাদের বিরুদ্ধে একের পর এক অশ্লীল ভিডিও, নারী কেলেঙ্কারি ও নারী নেত্রীদের বাচ্চা মেয়ে সাপ্লাই দেয়ার সংবাদ সামনে এলেও সেগুলো নিয়ে কোন ধরনের হৈচৈ দেখা যায় না। বরং অভিযোগ থাকা ব্যক্তিরাই কখনো কখনো গুরুত্বপূর্ণ পদ-পদবি পায়। তাহলে একজন ব্যক্তির দ্বিতীয় বিয়ে নিয়ে এত গাত্রদাহ কেন?
নিঃসন্দেহে, ওই মেয়েটা বিএনপি ও মিডিয়ার নোংরামি সহ্য করতে না পেরেই আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছে।
বিএনপি বাংলাদেশের জন্য এক অভিশাপ। তাদের নোংরা রাজনীতি থেকে কোনো মানুষই যেন রেহাই পাচ্ছে না। তারা মানুষকে সুস্থভাবে বাঁচতেও দেবে না!
এই মৃত্যুর দায় থেকে বিএনপি ও তাদের সহযোগী নোংরা মিডিয়া প্রচার কোনোভাবেই মুক্তি পেতে পারে না।
মোল্লা খালিদ সাইফুল্লাহ | 141 |
| 13 | গাজী নজরুল দ্বিতীয় বিয়ে করে কোনো ধরনের ধর্মীয় ও রাষ্ট্রীয় আইনের লঙ্ঘন করেননি। কোনো ধরনের অপরাধও করেননি। অথচ জামায়াতের প্রতি বিদ্বেষ থেকে তাকে তো হেনস্তা করা হয়েছেই—সেই সঙ্গে হেনস্তা করা হয়েছে এমন একজন অল্পবয়স্ক তরুণীকেও, যার জীবনটা এখন পর্যন্ত শুরুও করা হয়নি।
শুরুর আগেই তাকে ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে। একেবারে দুনিয়া থেকেই চিরবিদায় করে দেওয়া হয়েছে।
গাজী নজরুল তার রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে যদি কোনো অন্যায় করে থাকেন কিংবা করেছেন, সেটার শাস্তি পেয়েছেন। সামনে আরও পাবেন।
জামায়াতও দল হিসেবে এমন লাগামহীন মানুষকে দেশ ও দলের দায়িত্ব দেওয়ার আগে যথাযথভাবে খোঁজখবর না নেওয়ায় অন্যায় করেছে। জামায়াতও সেটার শাস্তি পেয়েছে কিংবা সামনে আরও পাবে।
কিন্তু দিন শেষে মেয়েটি তো কোনো অন্যায় করেনি। অভাবী ঘরের মেয়ে।
মেয়েটির জীবন এবং ইজ্জত— সবকিছুই ধুলোয় ধূসরিত করে দেওয়া হলো। আজকে এই পৃথিবী থেকে সে চিরতরে এই কালপ্রিটদের জন্য হারিয়ে গেল।
আসলে এ দেশের গাণ্ডুরা ইসলাম কিংবা রাজনৈতিক বিরোধিতা বলতে বুঝে মানুষের ব্যক্তিগত জীবনে ঢুকে তার ব্যক্তিগত পাপকে জনসম্মুখে প্রচার করার মধ্যে।
ইসলাম কিংবা রাজনৈতিক বিরোধিতা বলতে এ দেশের মুসলিম কিংবা রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী নামধারী কুকুররা বুঝে— বিভিন্ন হোটেল-রেস্তোরাঁয় গিয়ে মব করার মধ্যে।
ইসলাম কিংবা রাজনৈতিক বিরোধিতা বলতে এরা বুঝে— কার সঙ্গে কে চ্যাট করছে, কার সঙ্গে কে শুয়েছে, সেসব নিয়ে ঘাঁটাঘাঁটি করার মধ্যে।
এক কথায়, এসব অসভ্যের দল মানুষের ব্যক্তিগত জীবনের ভুল, পাপ এবং বিচ্যুতিগুলোকে জনপরিসরে ছড়িয়ে দেওয়াকেই ধর্ম কিংবা রাজনীতি হিসেবে বুঝে।
জীবনে পশ্চিম দিকে ফিরে আছাড় খায়নি, সারাদিন পর্নোগ্রাফি নিয়ে পড়ে থাকে, অসংখ্য মেয়ের পেছনে কুকুরের মতো পড়ে থাকে, মানুষের হক মেরে খায়, চুরি-ডাকাতি— সবকিছুই করে, কথায় কথায় মিথ্যা কথা বলে, বাবা-মায়ের সঙ্গে খারাপ আচরণ করে, গোপনে মাদক ব্যবসা করে, দেখা যাবে পতিতালয়ের ব্যবসাও করে— এমন নির্মম ইবনুল খিনজিররাও মানুষের ব্যক্তিগত পাপ সমাজ ও জনপরিসরে ছড়িয়ে দেওয়ার মধ্যে এক অদ্ভুত তৃপ্তি খুঁজে পায়।
কিন্তু কোনো মানুষের ব্যক্তিগত জীবনের ভুল, পাপ কিংবা বিচ্যুতি প্রকাশ্যে ছড়িয়ে দেওয়া আর তার প্রকাশ্য অন্যায় বা অপরাধের জবাবদিহি নিশ্চিত করা— এই দুটো কি এক বিষয়?
এক বিষয় না তো!
অন্যায় হলে তার বিচার হবে। অপরাধ হলে আইনের অধীনে শাস্তি হবে। রাজনৈতিক ক্ষমতার অপব্যবহার হলে তারও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে। কোনো ব্যক্তি বা সংগঠন ভুল করলে তার সমালোচনাও হতে পারে।
কিন্তু সেই জবাবদিহির নামে এমন একজন মানুষের ব্যক্তিগত জীবনকে জনসমক্ষে টেনে এনে, তাঁর সঙ্গে জড়িত এমন একজন মানুষের জীবন ও মর্যাদাকেও ধ্বংস করে দেওয়া— যার নিজের কোনো অপরাধ নেই— সেটা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যেতে পারে না।
ধর্ম, নৈতিকতা কিংবা রাজনৈতিক বিরোধিতার নামে মানুষের ব্যক্তিগত জীবনকে উন্মুক্ত করে দেওয়া— এটা না দ্বীন সমর্থন করে আর না রাজনীতির দর্শন সাপোর্ট করে! অথচ এদেশের মানুষ ধর্ম কিংবা রাজনৈতিক এক্টিভিটি বলতে এর বাইরে চিন্তাও করতে পারে না।
মানুষের ভুলের বিচার হোক, অপরাধের বিচার হোক, ক্ষমতার অপব্যবহারের বিচার হোক— কিন্তু নিরপরাধ মানুষের জীবন, মর্যাদা ও ভবিষ্যৎ কেন সেই বিচারের বলি হতে হয়?
যে সমস্ত অসভ্যের দল এই জঘন্য কাজটি দিনের পর দিন করে গেছে, তাদের বিচার কে করবে?
যদি গাজী নজরুলই মেয়েটিকে মেরে ফেলে থাকে, তবে গাজী নজরুলের বিচারের পাশাপাশি যারা মেয়েটির জীবনকে দুর্বিষহ করে তুলছে, তাদেরও বিচার হওয়া উচিৎ। এদের ছাড় দেওয়া মানে এই ধরনের অন্যায়গুলো প্রশ্রয় দেওয়া।
~রেদওয়ান রাওয়াহা | 106 |
| 14 | পাকিস্তান আমাদের মুখের ভাষা কাইড়া নিতে চেয়েছিল, জিন্নাহ উর্দু চাপিয়ে দিতে চেয়েছিল, জিন্নাহ বাঙালির সাথে জুলম করেছিল; এসব হলো উগ্র সেক্যুলার বাঙালিদের কয়েকটি টনটনে মিথ্যা কথা।
অথচ পাকিস্তান কিংবা জিন্নাহ, কারো মাতৃভাষাই কেড়ে নিতে চাননি।
আজকে যেগুলো নিয়ে বিতর্ক উঠছে, সেগুলো আমরা ঘনঘোর ফ্যাসিবাদী আমলেও লিখে এসেছি— ফেসবুকে, ব্লগে এবং বিভিন্ন ম্যাগাজিনে।
জিন্নাহ কিংবা পাকিস্তান কি আসলেই আমাদের মুখের ভাষা কেড়ে নিতে চেয়েছিল কি না, সে ব্যাপারে বিস্তারিত একটা আর্টিকেল লিখছিলাম।
ঢাকা মহানগর দক্ষিণ থেকে প্রকাশিত দ্বিমাসিক আলোর দ্বীপে সেটা প্রকাশিতও হয়েছিল।
লিংকটি দিলাম।
পবিত্র ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অপবিত্র ডিপার্ট্মেন্টের পবিত্র আদু ভাই আবু তৈয়ব হাবিলদারকে লিংকটি কেউ পাঠিয়ে দিয়েন।
https://aamarangina.blogspot.com/2023/02/blog-post_21.html?m=1 | 199 |
| 15 | হলিক্রস কলেজে অনিমেষ সাহা নামের এক শিক্ষক একাধিক ছাত্রীর সাথে অবৈধ ফিজিক্যাল রিলেশন করছে। এক ছাত্রী গর্ভবতী হওয়ার পর বিষয়টা ফাঁস হয়েছে।
মজার বিষয় হচ্ছে, উনি হিন্দু। যতগুলো মেয়ের সাথে ফিজিক্যালি ইনভলভ হয়েছেন, সবাই মুসলমান! এমনকি প্রেগন্যান্ট হয়ে যাওয়া মেয়েটাও মুসলমান। তিনি বিবাহিত, বউ আছে এবং ৩টা বাচ্চাও আছে। আবার বয়স ৫০+।
অথচ, এই ঘটনা নিয়ে মিডিয়ায় কোনো আলোচনাই নেই। সুশীল সমাজ মুখে কলা দিয়ে বসে আছে। রাতদিন মাদ্রাসা নিয়ে কনসার্ন শো করা শিক্ষিত পাপীটাও পর্যন্ত নেপালি বিগ সাইজ কলা মুখে নিয়ে অন্ধের ভান করে আছে।
এই ঘটনা যদি কোনো মাদ্রাসায় হতো, এতক্ষণে মিডিয়া, সুশীল সমাজ, শিক্ষিত এমসি সবাই মিলে হইচই শুরু করত। অথচ হলিক্রসও কিন্তু ধর্মীয় গোষ্ঠীই চালায়। এই ব্যাপারে চার্চের ধর্মীয় গুরুরাও আকাশসমান নীরবতা পালন করছে। অথচ তারা নিয়ম করেছে, কোনো মেয়ে হালালভাবে বিয়ে করা থাকলে সেখানে ভর্তি আবেদনই করতে পারবে না।
দেশের কোথাও মেয়েরা নিরাপদ না, মেয়েদের স্বাধীনতা নেই, বলা ওই সচেতন সমাজ, যারা মেয়েদের রাস্তায় নিয়ে নাচাতে চায়, তাদের ওই পাড়ায় কিন্তু এখন চুপচাপ! কারণ এখন মেয়েদের অধিকার আদায় হচ্ছে সুশীলভাবেই।
~তানজিদুর রহমান | 256 |
| 16 | আমাদের অঙ্গনে কিছু ভাইবোন আছেন, যারা শাইখ ইউসুফ আল-কারজাভিকে প্রায় নবীর পর্যায়ে নিয়ে গেছেন।
দুনিয়ার অধিকাংশ আলিম যদি একদিকে থাকেন, আর শাইখ কারজাভি যদি থাকেন অন্যদিকে— তাহলে এরা সম্ভবত কারজাভির মতটাই গ্রহণ করবেন। এমনকি সংখ্যাগরিষ্ঠ আলিমের মতের বিপক্ষে গিয়ে হলেও।
শুধু সম্ভাবনাই বা বলি কেন, বাস্তবেই এটি ঘটছে।
তবে একটু গভীরভাবে খেয়াল করলে বোঝা যায়, সমস্যাটা কেবল শাইখ কারজাভিকে ঘিরে নয়। আসল ব্যাপারটা আরও গভীরে।
তারা আসলে নিজের চাওয়া, কিংবা নিজের মনকেই শরিয়ত বানিয়ে ফেলতে চান। তাদের নফসের ঔদ্ধত্য চাহিদার জোগানদাতা হিসেবে ড. কারজাভি সেখানে স্রেফ এক অবলম্বন মাত্র!
মজার ব্যাপার হলো, কারজাভি যেই দুয়েকটা ব্যাপারে তুলনামূলক রক্ষনশীল, সেসব জায়গায় কিন্তু আবার তাদের দেখা পাওয়া যায় না। সেখানে তারা খুব একটা আগ্রহীও নন।
যেমন, সেক্যুলার ব্যবস্থা নিয়ে কারজাভি আমৃত্যু কঠোর ছিলেন। কিন্তু তারা সেক্যুলার ব্যবস্থার সাথে যেটুকু বাস্তবতার জন্য আপস করতে হয় বাধ্য হয়, তারচেয়েও বেশি আপসকামী হবার জন্য রেডি থাকেন।
আবার অন্যান্য ক্ষেত্রে কারজাভি যেটুকু শিথিলতা অবলম্বন করেছেন, তারা ওটার চেয়ে আরও বেশি শিথিলতা অবলম্বন করতে এক পায়ে খাড়া হয়ে থাকেন।
এক্ষেত্রে সাম্প্রতিক মিউজিক বিতর্ককে উদাহরণ হিসেবে সামনে রাখা যায়।
কারজাভি মিউজিক নিয়ে যা বলেছেন, যে শর্তাদি দিয়েছেন, তারা সেটুকুও মানছেন না ঠিক। বরং "মিউজিক জায়েজ"— কারজাভি বলেছেন, এটার জন্যই কেবল ওনার কথা সামনে আনেন।
তারা শরিয়ত অনুসরণ করার জন্যই যে কারজাভিকে হাজির করেন, অনেকের ক্ষেত্রে এটি পরিপূর্ণ সত্যি নয় বলেই মনে করি।
মোটের ওপর তাদের আগ্রহ অন্য জায়গায়— শরিয়তের বিভিন্ন বিষয়াদিতে কোথায় কিংবা কার কাছে একটু বেশিই ছাড় পাওয়া যায়, সেটা খুঁজে বের করা। যেখানে আর যার কাছে ছাড় একটু বেশি পাবেন, সেখানেই তারা হুড়মুড় করে চলে যাবেন, এমনটাই হয়ে থাকে তাদের অবস্থান।
আমি প্রায়শই একটা কথা বলি।
আজকের দুনিয়ায় আমরা মানুষ হিসেবে, কিংবা মুসলিম হিসেবে— ভুল করি না, এমন কেউ কি আছি এই দুনিয়ায়?
আমাদের মধ্যে পাপ কার হয় না? কে গুনাহ থেকে মুক্ত আছি? ইচ্ছায় কিংবা অনিচ্ছায়, শরিয়ত লঙ্ঘন করি না, এমন কেউ কি আছে আমাদের মধ্যে?
আমরা কেউই ফেরেশতা নই। সবারই পাপ হয়। ভুল হয়। অন্যায়ও হয়।
কিন্তু আমি শরিয়তের কোনো একটি বিধান মানতে পারি না— এই কারণে কি উম্মতের আলিমদের মধ্য থেকে এমন কাউকে খুঁজে বের করতে হবে, যিনি আমার মনের মতো করে সেই বিধানটা সাজিয়ে দেবেন?
কিংবা ইলমুল ফিকহ থেকে কি এমন বিধান ঘেটে ঘেটে বের করতে হবে, যে বিধান আমার ব্যক্তিগত চাওয়ার সাথে অথবা আমার দুর্বলতার সাথে মিলে যায়?
ভাই, আমরা ভুল কিংবা অন্যায় করছি অথবা করি, করেন না! কিন্তু ভুলের গায়ে শরিয়তের পোশাক পরাতে হবে কেন?
যদি অধিকাংশ ক্ষেত্রেই ব্যাপারটা এমন হয়, তাহলে আমি ডাবল গুনাহের অধিকারী হচ্ছি।
এমনটা চালিয়ে যেতে থাকলে একসময় দ্বীন-শরিয়ত বলে আর কিছুই থাকবে না। থাকবে শুধু আমাদের মন, আর সেই মনের অদ্ভুত সব আকাঙ্ক্ষা।
এরপর আমরা যার যেভাবে ইচ্ছা, সেভাবেই দ্বীনকে একটু একটু করে সাজিয়ে নেব। শেষ পর্যন্ত দেখা যাবে, ইসলাম আছে ঠিকই— কিন্তু তার মধ্যে আমাদের নিজেদের ইচ্ছাটাই সবচেয়ে বড় হয়ে বসে আছে, আল্লাহ এবং তার রাসূল (সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর ইচ্ছে নয়।
নিজের ভুলকে ভুল ভাবার মধ্যে, নিজের দুর্বলতাকে স্বীকার করে নেওয়ার ভেতর ভবিষ্যতে সংশোধন হওয়ার সুযোগ থাকে। ভুলকে ভুল মেনে ক্ষমা চাওয়ায় মুক্তি আছে, কিন্তু ফতোয়া দিয়ে সেই ভুলকে 'সঠিক' প্রমাণের চেষ্টার মধ্যে ঘোরতোর বিপদের গন্ধ ছাড়া আর কিছুই নেই।
একটা সময় এই বিপদের অবস্থা এমনই হতে পারে, তখন হয়তো ঈমানই থাকবে না।
মানে আমরা কী করছি, বুঝতে পারছি?
আমাদের এমন কাজের কারণে আল্টিমেটলি ঈমান হারানোরই ঝুঁকি আছে।
আমাদের মন ও আসমানি শরিয়ত
~রেদওয়ান রাওয়াহা | 247 |
| 17 | অল্প বয়সে নেতৃত্ব দিয়েছেন এমন সাহাবায়ে কেরাম
১. উসামা ইবনে যায়েদ রা.। রোমানদের বিরুদ্ধে সেনাপতি নিযুক্ত হন মাত্র ১৮ বছর বয়সে।
২. মু‘আয ইবনে জাবাল (রা.) ইয়েমেনে গভর্নর ও বিচারক নিযুক্ত হন ২০ বছর বয়সে৷
৩. মু‘আয ইবনে আমর (রা.) বদরের যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন ও নেতৃত্ব দেন ১৪–১৬ বছর বয়সে।
৪. মু‘আউইয ইবনে আমর (রা.) বদর যুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ভূমিকা পালন করেন ১৩–১৬ বছর বয়সে।
৫. আলী ইবনে আবি তালিব (রা.) বদর যুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন ২৪ বছর বয়সে।
৬. আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) সাহাবিদের মধ্যে অন্যতম প্রধান আলেম ও মুফাসসির হয়ে যান মাত্র ২০ বছর বয়সে।
৭. আবদুল্লাহ ইবনে উমর (রা.) ২০/২১ বছর বয়সেই হাদিস, ফিকহ ও ফতোয়ার ক্ষেত্রে নেতৃত্ব দেন।
৮. জায়েদ ইবনে সাবিত (রা.) ওহি লেখক; পরবর্তীতে কুরআন সংকলনের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন ১৬-১৮ বছর বয়সে।
৯. আরকাম ইবনে আবিল আরকাম (রা.) মক্কায় দাওয়াতের প্রাথমিক পর্যায়ে তাঁর ঘরকে কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহারের সুযোগ দেন। তার বয়স তখন ২০-এর কাছাকাছি।
১০ . আবু জার আল-গিফারি (রা.) প্রাথমিক পর্যায়ের সাহাবি; প্রকাশ্যে তাওহিদের দাওয়াত দেওয়ার সাহসী ভূমিকা পালন করেন ১৬-১৯ বছর বয়সে।
বয়স গুরুত্বপূর্ণ না, কাজ গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের উচিত নিজ নিজ ক্ষেত্রে কাজ করে যাওয়া। | 1 074 |
| 18 | বিয়ে মানে যদি ভাবেন শুধুই ভালোবাসা, সেক্স আর খুনশুটি তা হলে মারাত্মক ভুল করছেন।
সংসারে ঢোকার সাথে সাথে খরচ বাড়বে। কোনো কোনো রাতে ঘুম হবে না। ক্লান্ত যাবে পরের দিন।
স্বামী-স্ত্রীতে খিটিমিটি হবে। শ্বশুরবাড়ির ঝুটঝামেলাও পোহাতে হবে।
কোনো কোনো দিন তো এমন হবে, ওর চেহারাটা দেখলেও বিষ লাগবে।
কখনো কখনো কথাও বন্ধ থাকবে। রোমান্স সব দিন একরকম থাকবে না। কথা কাটাকাটি হবে।
শুধু আনন্দের দিনের স্বপ্ন দেখে বিয়ে করলে কষ্টের দিনগুলিতে একদম ভেঙে যাবেন।
যদি লিড করতে চান, সংসার গড়তে চান, তবেই বিয়ে করুন। সম্পর্কে একে অপরকে সহ্য করার মানসিকতা রাখুন। মাফ করতে রেডি থাকুন।
হানিমুন পিরিয়ড ছোটই হয়। সারা জীবন ওরকম থাকে না।
~মাসুদ শরিফ | 204 |
| 19 | 'নজর বলে কিছু নেই, এসব গ্রাম্য কথা।' এভাবে কথাটা আমরা এড়িয়ে গেলেও আধুনিক বিজ্ঞান এসে এ বিষয়ে যেসব আলাপ দিচ্ছে সেসব নিয়ে ইসলামে ১৪০০ বছর আগেই সতর্ক করা হয়েছিলো!
বিজ্ঞান বলে, মানুষের চোখ শুধু দেখার কাজ করেনা, এই চোখের সাথে জড়িত থাকে মস্তিষ্কের ইনটেনশনাল সিগন্যাল।
এর মানে কারও দিকে তাকানোর সময় যদি সেই চোখে হিংসা, ঈর্ষা, লোভ এবং ক্ষোভ থাকে তবে এই অনুভূতিগুলো ব্রেইনের Amygdala ও Hypothalamus থেকে শক্তিশালী সিগন্যাল তৈরি করে। এতে শরীরে কর্টিসল ও এড্রেনাইল বেড়ে যায় যাতে মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই নজর দেওয়া মানুষটি মাথাব্যথা, বুকে চাপ, অকারণ ভয় এবং ক্লান্তি এসব সমস্যায় আক্রান্ত হতে পারে।
এটা কল্পনা নয়, এটি হলো Measured Hormonal Response। এমন ঘটনাকে বিজ্ঞান বলে Social Evaluative Threat Response। মানে হলো কারো দৃষ্টি বা নজর যখন আপনার অস্তিত্বকে 'Threat' হিসেবে নেয় শরীর সেটাকে তখন আঘাত হিসেবে বিবেচনা করে।
কারো ওপর দীর্ঘ সময় Negative Attention পড়লে তার শরীরে স্ট্রেস হরমোন বেড়ে যায়। এতে তার ইমিউন সিস্টেম দুর্বল হয়, মন খারাপ হয় এটাকে বিজ্ঞান বলে 'Nocebo Effect'। শরীর এসময়ে 'Fight or Flight' মোডে চলে যায়। মানুষ বলে,'কেমন যেন লাগছে'। এটাই নজরের Biological Signature।
Nocebo Effect হচ্ছে নজরের বৈজ্ঞানিক নাম। বিজ্ঞানে Placebo কাজ করে বিশ্বাস অংশে এবং Nocebo কাজ করে নেতিবাচক কোন কিছু চাওয়ার জায়গা নিয়ে।
আমার রাসূল সা, বলেছেন,'আল আয়নু হাক্ক' এর মানে,'নজর সত্য।' তিনি আরও বলেছেন,'নজর মানুষকে কবর পর্যন্ত পৌঁছে দিতে পারে।'
পবিত্র কুরআনে মহান আল্লাহ বলেন,'হিংসুকের অনিষ্ট থেকে আশ্রয় চাই।' (সূরা ফালাক)
নজর মানে শুধু চোখ নয়, নজর মানে কখনো হিংসা রাগ এবং বাজে দৃষ্টি।
ইবনে আব্বাস (রা.) বলেন,'একবার এক সাহাবি শক্তিশালী, সুস্থ একজন মানুষের দিকে প্রশংসার দৃষ্টিতে তাকালেন। কিছুক্ষণ পর সে লোকটি হঠাৎ অজ্ঞান হয়ে পড়ে গেল।' তখন আমার রাসূল বললেন,'তোমরা কেন তোমাদের ভাইয়ের জন্য বরকত চাও না?'
এরপর তাকে দোয়া পড়তে বলা হলো। ইচ্ছাকৃত ক্ষতি নয়, অনেক সময়ে অতিরিক্ত প্রশংসাও নজর হতে পারে।
অনেক পশু আছে যারা শিকারকে আক্রমণ করার আগে স্থির দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকে। এই দৃষ্টিই শিকারের শরীরে প্যারালাইসিস-জাতীয় প্রতিক্রিয়া তৈরি করে। বিজ্ঞানে একে বলে Predatory Gaze Effect। এতে শিকারের নার্ভ সিস্টেম freeze হয়, Heart rate অনিয়ন্ত্রিত হয় এবং Muscle response কমে যায়। মানুষ সেই প্রাণীরই উন্নত সংস্করণ।
নজর মানে অলৌকিক গল্প নয়, এটা সত্য। তথ্য উপাত্ত, জীবনের নানান ঘটনা দেখে মনে হয় নজর, বদনজর এসবকে এড়িয়ে যাবার উপায় নেই। আপনার জীবনে নজর নিয়ে ঘটনা আছে?
নজর আসলেই আছে বলে মানেন?
লিখেছেন ~কিঙ্কর আহসান | 172 |
| 20 | ``আমাদের মেয়েরা, আমাদের ব্যর্থতা``
মেয়েটি দেখতেও দারুণ। মনে হচ্ছে, পরিবারও ভালো। কমবেশি স্বচ্ছলও। জন্মও মুসলিম পরিবারে।
মাত্র এসএসসি পরীক্ষা শেষ করেছে।
কিন্তু সে বাবা-মা, ঘরবাড়ি—সব ছেড়ে চলে এসেছে এমন এক ছেলের কাছে, যে দারিদ্র্যের কষাঘাতে জর্জরিত। যে বড় হয়েছে একেবারেই নিঃস্ব অবস্থায়। যার বেড়ে ওঠা চায়ের দোকানের বাস্তবতায়, যার জীবনে নিরাপত্তা বা স্বাচ্ছন্দ্যের চেয়ে সংকটঅ বেশি। শিক্ষার চেয়ে মূর্খতাই বেশি— ইনফ্যাক্ট, প্রাতিষ্ঠানিক কোনো শিক্ষাই নেই।
যার থাকার মতো একটি ঘর নেই, নিজস্ব নিরাপদ কোনো আশ্রয় নেই। থাকে মন্দিরে। চা বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করে।কালি-কলমের সঙ্গেও যার কোনো সম্পর্ক নেই।
সর্বোপরি, ছেলেটা অমুসলিম। টাটকা মুশরিক। আল্লাহর দ্বীনের সাথে শিরককারী।
এমন একটা ছেলের জন্যই কি না দেশের একপ্রান্ত আরেক প্রান্তে ছুটে এসেছে সে!
স্থানীয় জনতা যখন ওদের আটক করল, তখন ছেলেটি বারবার ইতস্তত করছিল, সাহস হারাচ্ছিল।
তখন অন্যপাশ থেকে মেয়েটি বারবার তার হাত ধরে, চোখের চাহনিতে তাকে সাহস জোগাচ্ছিল, শক্তি দিচ্ছিল।
মানুষ ছেলেটিকে জিজ্ঞেস করল, “তুমি কীভাবে তাকে বিয়ে করবে? তুমি এক ধর্মের, সে অন্য ধর্মের।”
আরও জিজ্ঞেস করল, “তুমি কি মুসলিম হবে?”
ছেলেটি চুপচাপ। কোনো জবাব নেই।
সে সম্ভবত মনে মনে এটাই ভাবছিল— "একটা মেয়ের জন্য কেন আমি আমার ধর্মত্যাগ করব?"
সে যাই হোক, তাকে দেখেই বোঝাই যাচ্ছিল, একজন মুশরিক তার ভ্রান্ত ধর্মের ওপর পাহাড়ের মতো অটল-অবিচল হয়ে থাকতে চাচ্ছিল।
কিন্তু ক্ষণকাল পর মানুষ মেয়েটিকে জিজ্ঞেস করল, “তুমি কি হিন্দু হবে?”
পাশ থেকে মেয়েটা বেশ স্বাভাবিক ভঙ্গিতেই বলে উঠল, “হ্যাঁ, আমি হিন্দু হব! আমি ওর সবকিছুই জানি। জেনেশুনেই এসেছি। ওর জন্য আমি সবকিছুই করতে রাজি।”
কথাটা শুনে আশপাশের সবার মতো আমার মাথায়ও যেন সাত আসমান ভেঙে পড়ল। যেন কয়েক মুহুর্তের জন্য থমকে গেল আমার ঘড়ির কাটা।
চিন্তা করছি— কী অসভ্য আর নালায়েক একটা মেয়ে! কী অসচেতন আর দ্বীন-ধর্ম নিয়ে উদাসীন একটা পরিবারের সন্তান সে!
কী মূল্যবোধ দিয়ে বড়ো করেছে তাকে তার পরিবার, তার সমাজ ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান!
আর্থসামাজিক অবস্থাকে আমরা একপাশে রেখেও যদি স্রেফ আমাদের চিরাচরিত ধর্মীয় মূল্যবোধের দিকে তাকাই, তাহলে এটা আমাদের জন্য কত বড় পরাজয়, কত বড় লজ্জার বিষয়— সেটা কি আমরা ভাবতে পারছি?
একজন মুসলিম মেয়ে একটা মুশরিকের কাছে নিজেকে সঁপে দিতে পরিবার-পরিজন, সামাজিক মর্যাদা— সবকিছু বিসর্জন দিয়ে চলে এসেছে; এর চেয়ে অপমানজনক দৃশ্য, এর চেয়ে ঘৃণিত ঘটনা মুসলিম উম্মাহর জন্য আর কী হতে পারে?
আমাদের মুসলিম মেয়েরা তো এমন আত্মমর্যাদাবান মানবী হওয়ার কথা ছিল, যাদের পাওয়ার কথা একজন ফাসিকও কল্পনা করতে পারত না। তাদের দিকে একজন বেনামাজিও চেয়ে দেখার কথা ভাবতে পারত না।
অথচ এখব সেখানে একজন মুশরিক কত সহজেই না তাদেরকে প্রেম-ভালোবাসার নামে ভোগ করে! কত সহজেই না তাদের প্রেমের জালে ফাঁসিয়ে সর্বস্ব কেড়ে নেয় নাপাক মুশরিকরা!
কত যে মুসলিম মেয়ে— এমনকি হিজাবি-নিকাবিরাও— নাপাক মুশরিকদের প্রেমের ফাঁদে পড়ে খোদার দ্বীন ত্যাগ করে মুরতাদ-মুশরিক হয়ে যাচ্ছে দিনদিন!
গত কয়েক বছর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বদৌলতে আমরা এত এত ঘটনার সাক্ষী হয়েছি যে, এখন সেসব আমাদেরকে আর খুব বেশি কষ্টও দেয় না।
আমাদের মুসলিম মেয়েরা, মুসলিম বাবা-মায়েরা— আর কতটা আত্মমর্যাদাহীন, নির্লজ্জ হলে এরপর তাদের হুঁশ ফিরবে?
একদিকে আমরা সোশ্যাল মিডিয়ায় ঝগড়াঝাটি করছি, অন্যদিকে মুশরিকরা আমাদের কিশোর-তরুণী নারীদেরকে নিয়ে এক বিকৃত আয়োজনে মেতে উঠেছে!
~রেদওয়ান রাওয়াহা | 197 |
