2 433
مشترکین
اطلاعاتی وجود ندارد24 ساعت
+27 روز
+5330 روز
در حال بارگیری داده...
کانالهای مشابه
ابر برچسبها
هیچ دادهای
مشکلی وجود دارد؟ لطفاً صفحه را تازه کنید یا با مدیر پشتیبانی ما تماس بگیرید.
اشارات ورودی و خروجی
---
---
---
---
---
---
جذب مشترکین
ژوئن '26
ژوئن '26
+28
در 1 کانالها
مه '26
+64
در 1 کانالها
Get PRO
آوریل '26
+11
در 1 کانالها
Get PRO
مارس '26
+51
در 2 کانالها
Get PRO
فوریه '26
+26
در 1 کانالها
Get PRO
ژانویه '26
+85
در 4 کانالها
Get PRO
دسامبر '25
+11
در 3 کانالها
Get PRO
نوامبر '25
+19
در 1 کانالها
Get PRO
اکتبر '25
+58
در 1 کانالها
Get PRO
سپتامبر '25
+15
در 1 کانالها
Get PRO
اوت '25
+114
در 3 کانالها
Get PRO
ژوئیه '25
+23
در 1 کانالها
Get PRO
ژوئن '25
+29
در 0 کانالها
Get PRO
مه '25
+37
در 1 کانالها
Get PRO
آوریل '25
+28
در 1 کانالها
Get PRO
مارس '25
+26
در 0 کانالها
Get PRO
فوریه '25
+30
در 0 کانالها
Get PRO
ژانویه '25
+30
در 0 کانالها
Get PRO
دسامبر '24
+87
در 1 کانالها
Get PRO
نوامبر '24
+775
در 2 کانالها
Get PRO
اکتبر '24
+199
در 1 کانالها
Get PRO
سپتامبر '24
+161
در 0 کانالها
Get PRO
اوت '24
+234
در 4 کانالها
Get PRO
ژوئیه '24
+87
در 0 کانالها
Get PRO
ژوئن '24
+84
در 0 کانالها
Get PRO
مه '24
+36
در 0 کانالها
Get PRO
آوریل '24
+113
در 0 کانالها
Get PRO
مارس '24
+45
در 0 کانالها
Get PRO
فوریه '24
+34
در 0 کانالها
Get PRO
ژانویه '24
+718
در 4 کانالها
| تاریخ | رشد مشترکین | اشارات | کانالها | |
| 13 ژوئن | +1 | |||
| 12 ژوئن | +2 | |||
| 11 ژوئن | +1 | |||
| 10 ژوئن | +1 | |||
| 09 ژوئن | 0 | |||
| 08 ژوئن | 0 | |||
| 07 ژوئن | +2 | |||
| 06 ژوئن | +3 | |||
| 05 ژوئن | +16 | |||
| 04 ژوئن | 0 | |||
| 03 ژوئن | +1 | |||
| 02 ژوئن | 0 | |||
| 01 ژوئن | +1 |
پستهای کانال
| 2 | ১২/০৬/২০২৬
বিজনেস, ক্রাইম, পলিটিকস
কয়েকদিন আগে নিউজ দেখতেছিলাম যে, পশ্চিমবঙ্গের মমতা ব্যানার্জির এমপি'রা সব বিজেপি'তে জয়েন করতেছে, তো, উনারা সবাই ‘ক্ষমতার পাগল' বইলা এই কাজ করতেছেন বইলা আমার মনেহয় না, বরং এইখানে একটা ‘পলিটিকাল টেকনিক' আছে…
পশ্চিমবঙ্গের বিজেপি'র যে লিডার, তার নামেও বড়সড় দুর্নীতির অভিযোগ আছে; তারপরে বিহারে যে মুখ্যমন্ত্রি বিজেপি'র সেও আদালতে কনভিক্টেটেড আসামি, কিনতু সরকারি কাগজ-পত্রে আইডেন্টিটি বদলায়া ফেলছে, এইরকম… মানে, উনাদের কম-বেশি ক্রাইম আছে!
এবং আমাদের রাস্ট্রের আইনি স্ট্রাকচারগুলাও এইরকমের যে, জাইনা হোক বা না-জাইনা ‘আইন ভঙ্গ' না কইরা সমাজে টাকা-পয়সা ইনকাম করা বা ইমপ্যাক্টফুল অরগানাইজেশন ও ব্যক্তি হওয়াটা টাফ, ইম্পসিবল না অবশ্যই, কিনতু সেইক্ষেত্রেও অনেক উকিল ও সাংবাদিক পালতে হবে আপনারে! মানে, স্ট্রাকচার’টাই অনেকটা এইরকম…
আপনার বিশাল টাকা-পয়সা আছে, তো, কিছু পলিটিকাল কানেকশন ও সরকারি অফিসের যোগাযোগ আপনার থাকা লাগবে, বাংলাদেশে এইটা হইতেছে ‘বিজনেস নর্মস’!
এইখানে আপনার কিছু ‘ইনভেস্টমেন্ট'-ই খালি লাগবে না, ‘জ্বী হুজুর, জ্বী হুজুর…’ করা লাগবে! আর তারপরেও কাহিনি আছে! যেইটারে বাংলাদেশে আওমি-লিগ ও ইনডিয়াতে বিজেপি ‘নেকস্ট লেভেলে' নিয়া গেছে!
যে, আপনার ‘ক্রাইম’ থিকা যদি ‘মুক্তি' পাইতে চান তাইলে যারা পলিটিকাল পাওয়ারে আছে তাদের পিছন পিছন ঘুরতে হবে! এমনকি, যদি আপনার কোন ক্রাইম না থাকে, আপনি বড় পলিটিকাল লিডারও হইতে পারবেন না আসলে! আর যদি কোন ক্রাইম-হিস্ট্রি না থাকে আপনার, সেইটারে ক্রিয়েট করা হবে, পাবলিকলি ভিলিফাই করা হবে!
তো, এইটা কোন কো-ইনসিডেন্ট না আর কি যে, বেশিরভাগ আওমি-লিগের লিডার কেন ক্রিমিনাল ছিল, বরং এইটাই ছিল আওমি-লিগের ‘পলিটিকাল মডেল’! যে, কার ক্রিমিনাল হিস্ট্রি আছে, তারে লিডার বানায়া দাও, তাইলে সে দলের প্রতি ‘লয়াল' থাকবে! বিজনেস-হাউজ ও সরকারি-অফিসগুলাতেও এইভাবে ‘কন্ট্রোল’ এস্টাবলিশ করা হইতো! তো, এইটা হইতেছে আওমি-লিগের ‘পলিটিকস'!
এখন, বিএনপি যে আওমি-লিগের এই ‘পলিটিকাল-মডেলের’ বাইরে যাইতে পারতেছে না খুব বেশি, আদ-দ্বীন হসপিটালের লাইসেন্স বাতিল করাটা যে এইরকমের একটা সিগনালিং, এইটা আমাদেরকে মার্ক করতে পারতে হবে আসলে… | 387 |
| 3 | ১০/০৬/২০২৬
পলিটিকাল মার্সেনারি গ্রুপ
আপনার কি মনেহয় চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই, ড্রাগ-পাচারের ভাগ পুলিশ পায় না? যদি ক্রাইমগুলা কমে পুলিশের কি লস হবে না? উকিলদের ইনকাম কি কমবে না? মানে, ক্রাইম তো এক ধরনের বিজনেসই…
এরও একটা পলিটিকাল ইকনোমি আছে, কথা-বার্তা যত কমই হোক এইটা নিয়া! আর বাংলাদেশের পলিটিকাল কালচারে এইটা খুবই ভাইটাল একটা জিনিস, পাকিস্তান পিরিয়ডেও ছিল কিছু, ১৯৭১’র পর পর তো বাড়ছেই, এমনকি ১৯৯০’র সময় থিকাই এইটা একটা ইন্ট্রিগ্রাল পার্ট পলিটিকাল পার্টি সিসটেমের – যে, একটা ‘ক্যাডার’ বা মাস্তান-গ্রুপ থাকা লাগবে আপনার, এলাকায় ‘রাজনীতি’ করতে হইলে!
তো, এর ইকনোমিক ট্রান্সলেশনটা হইতেছে, কিছু লোকজনরে আপনার পালতে হবে, তাদের আয়-রোজগারের ব্যবস্থা কইরা দিতে হবে, এবং এরা হইতেছে একটা ‘পলিটিকাল মার্সেনারি’ গ্রুপ… আপনি আওমি-লিগ করেন, বিএনপি করেন, বা জামাত করেন, মেবি ইভেন এনসিপি করলেও একটা ‘মার্সেনারি’ গ্রুপরে আপনার ক্যারি করতে হবে, এখনকার পলিটিকাল সিসটেমে যদি অপারেট করতে চান!
মানে, উনাদেরকে তো আপনি abandon করে দিতে পারবেন না! করলে, উনারা প্রফেশনাল ক্রাইম-গ্রুপই তৈরি করবেন, কে জানে তাদের কেউ কেউ ‘বিপ্লব'ও কইরা ফেলতে পারেন মেবি 🥱
আমি বলতে চাইতেছি, এইখানে, বাংলাদেশে একটা প্রফেশনাল পলিটিকাল মার্সেনারি গ্রুপ আছে (শিল্পি-সাহিত্যিক-বুদ্ধিজীবীরাদেরও একটা সফিসটিকেট গ্রুপ আছে, মানে, এইটা তো আরো ব্যাপক জিনিসই, ফারুকীর ৮৪০-এ এর কাছাকাছি একটা পোর্টেট পাইবেন…), যারা তাদের আয়-রোজগারের জন্য পলিটিকাল পার্টি-সিসটেমের উপরে ডিপেন্ডেড, এবং উনারা ঠিক জব-সিকারও না, এইটাই ইটসেলফ একটা প্রফেশন!
এখন, রাজনীতিতে যদি তাদের প্রফেশনাল রিকোয়ারমেন্ট কমতে থাকে বা বাতিল হয়া যায়, তাইলে উনারা সোশাল-ক্রাইমের জায়গাটারে পপুলেট করতে থাকার কথা একভাবে…
আর এইটাতে পুলিশেরও লস নাই আর কি তেমন একটা, মানে, এইভাবেও কিছু জিনিস ভাবা যাইতে পারে মনেহয়… | 204 |
| 4 | ০৬/০৬/২০২৬
১৯৪৭ সালে এই সাব-কন্টিনন্টে দুইটা রাস্ট্র জন্ম নিছিল – একটা হিন্দুদের রাস্ট্র, এবং আরেকটা পাঞ্জাবিদের রাস্ট্র! পাকিস্তান রাস্ট্রের মেইন টেনশন ছিল – পাঞ্জাবি ভার্সেস বাঙালি! এইটা খেয়াল করতে রাজি না হইলে বিপদেই পড়তে হবে আমাদেরকে, হিস্ট্রি-রিডিংয়ে!
জিন্নাহ এবং মুসলিম লিগ অবশ্যই মুসলমানদের জন্য আলাদা রাস্ট্র চাইছিলেন, কিনতু শেষমেশ হিন্দু আর মুসলমানের বেসিসে তো সীমানা ভাগ হয় নাই! হইছে জিওগ্রাফিকাল হিসাবে! একেক অঞ্চলের মানুশ একেকভাবে ডিসিশান নিছে…
পাঞ্জাব-সহ নর্থ-ওয়েস্টার্ন স্টেটগুলা আন-ডাউটেডলি পাকিস্তান চাইছে, কিনতু বাংলা ওয়াজ দা অনলি স্টেট, যেইখানে পলিটিকাল লিডার'রা স্কেপটিকাল ছিলেন ইনডিয়া কিংবা পাকিস্তানে জয়েন করার বেপারে – এই জায়গাটাও আমাদের মনে রাখা দরকার! (যদি অন্য স্টেইটগুলাতেও এইরকমের থার্ড অপশনের আলাপ জোরে-শোরে উঠতো তাইলে হয়তো অন্যরকম কিছু রিয়ালিটি পাইতাম আমরা, কিনতু অইটা একসেপশন হিসাবেই থেকে গেছে…)
তো, পুব-বাংলার বেপারে কংগ্রেস যেইরকম স্কেপটিকাল ছিল, জিন্নাহ বা পশ্চিম পাকিস্তানের মুসলিম-লিগও যে খুব উইলিং ছিল – তাও কিনতু না; যার ফলে, একটা ‘অনিচ্ছুক জাতিকে' স্বাধিনতা এনে দিছিলেন জিন্নাহও 🥱 মানে, ১৯৪৭-এর আজাদির পরে ‘বাঙালি' বিষয়ে পাকিস্তানের রাস্ট্রের এটিটুড গ্রসলি এইরকমই ছিল যে, ‘বাঙালিদের'কে পাকিস্তান রাস্ট্রে ‘ইনক্লুড' করতে হবে! মানে, চাকমা, গারো, মনিপুরিদের মতো সংখ্যায় কম হইলে তো সেইটা কোন সমস্যা ছিল না, কিনতু পুব-বাংলার জনসংখ্যা তো পশ্চিম পাকিস্তানের চাইতেও বেশি!
আমি বলতে চাইতেছি, পাকিস্তানে পুব-পাকিস্তান কিভাবে ইনক্লুডেড হবে – সেইটা শুরু থিকাই একটা প্রবলেম আকারে ছিল, এবং সেইটা ছিল পশ্চিম-পাকিস্তান না বরং স্পেসিফিকালি ‘পাঞ্জাব'-এর ডমিনেন্সের কারনেই… তো, জিওগ্রাফিকালি পশ্চিম-পাকিস্তানের অন্য প্রভিন্সগুলাতে অই ডমিনেন্স বড় কোন ইস্যু ছিল না, কিনতু জনসংখ্যা ও জিওগ্রাফির কারনে ‘বাঙালি' সমস্যার কোন পলিটিকাল সমাধান পাকিস্তান করতে পারে নাই!
পাকিস্তান এমন একটা রাস্ট্র হইতে চাইছে যেইখানে মুসলমান পরিচয়ের কারনে কাউরে যেন সাফার করতে না হয়; তো, এইটা পরে গিয়া ট্রান্সলেটেড হইছে একটা ‘ইসলামি রাস্ট্র’ কল্পনায়… মানে, যারা ‘ইসলামি রাস্ট্র’ তৈরি করতে চাইছেন তাদের অনেকরেই পাকিস্তান আন্দোলনে পাইবেন না, কিনতু পাকিস্তান রাস্ট্র তৈরি হওয়ার পরে তাদের রাজনীতি তৈরি হইছে বরং…
এখন সেইটা আরেকটা ক্রুশিয়াল আলাপ-ই, কিনতু আমি অই আলাপে যাওয়ার আগে এই জায়গাটাতেই একটু কনসানট্রেট করার কথা বলতেছি, যে, ইনডিয়া একটা হিন্দু-রাস্ট্র হইলেও পাকিস্তান মুসলিম-রাস্ট্র হইতে পারে নাই, বরং পাঞ্জাব-ডমিনেন্ট সিভিল ও মিলিটারি সোসাইটির নন-ডেমোক্রেটিক শাসনের ভিতর দিয়া ডিফরেন্ট একটা জিনিস-ই হইছে… যেইখানে ‘বাঙালি' হওয়াটারে রাস্ট্র-কাঠামোর মধ্যে বাড়তি একটা ঝামেলা হিসাবে বাতিল করতে হইছে! যেন ‘বাঙালি' হইলে আপনি আর ‘মুসলিম' না এনাফ, একটু ‘পাঞ্জাবি' ফ্লেভারও থাকতে হবে 🥱 | 251 |
| 5 | ০৫/০৬/২০২৬
হুমায়ুন আহমেদের হিমু কেন বাংলাদেশের হিরো? :) মানে, অনেকগুলা কারন তো আছে, বা থাকতেই পারে, কিনতু আমি একটা জিনিসের কথা ভাবতেছিলাম… আমার মনে হইতেছিল, হিমু'র একটা key-feature হইতেছে ডিটাচমেন্ট! সে আলগা! একলা থাকে, এবং কারো কাছে তার কোন জবাবদিহিতা নাই! ইভেন, প্রেমিকারেও সে পার্টনার বানায়া অই একসেস দিতে রাজি না!
আমাদের, বাংলাদেশের সমাজে, সোশাল রিলেশনগুলা এতোটাই সাফোকেটিং বা লাগালাগি'র অবস্থায় থাকে যে, যে কোন মানুশেরই দমবন্ধ হয়া আসার কথা! বাপ-মা, ভাই-বইন, ফ্রেন্ড-সার্কেল, বউ-জামাই, ছেলে-মেয়ে থিকা শুরু কইরা চাচা-চাচি, মামা-মামি, কাজিন, এমনকি পাড়া-প্রতিবেশি, এলাকার লোকজন… সার্বক্ষনিক এক ধরনের সিসি-ক্যামেরা’র আন্ডারে থাকতে হয়!
তো, হিমু হইতেছে অইটা থিকা একটা রিলিফ!
হিমু হওয়া মানে হইতেছে সাফোকেটিং সোশাল রিলেশনগুলা থিকা একটা ডিটাচমেন্ট! হিমু'রে সেলিব্রেট করার মেইন পয়েন্ট আমি দেখি এইটা, যে আপনি সমাজের বাইরে না, কিনতু সামাজিক-সম্পর্কগুলার মধ্যে বান্ধা থাকতে বাধ্য না!
যেই কারনে, হিমু’রে আবার কিছুটা নন-সেক্সুয়ালও হইতে হইছে, যে, দেখেন খালি ‘ফ্রি-সেক্স’ করার লাইগা আমি এইরকম করতেছি না 🥱
আবার এই যে ডিটাচমেন্ট, সেইটার লগে অধ্যাপকিয় ‘আধুনিক সমাজের বিচ্ছিন্নতা-বোধ'রে 😁 গুলায়া ফেললে বিপদ হবে আর কি… এবং এই যে ডিটাচমেন্ট সেইটা এলিয়েশন পার হয়া স্কেইপিজম পর্যন্ত যে যায় না – তাও না, কিনতু এই বেইজগুলা কিছুদূর পর্যন্ত যে ইরেলিভেন্টই, সেইটা খেয়াল করতে পারাটা বেটার!
মুশকিল হইতেছে, হিমু'রে নিয়াও একটা বই-ই লেখা দরকার! 😞 | 272 |
| 6 | ০৪/০৬/২০২৬ - ০৫/০৬/২০২৬
সরকারি চাকরি করা লোকজন বাংলাদেশে কেন আর কিভাবে পাওয়ারফুল হইয়া উঠলো? এইটা ভাবতে গিয়া মনে হইতেছিল যে, এইটা মেবি ল্যান্ড রিফর্মের লগেও জড়িত একটা জিনিস…
১. ঢাকা শহরের ‘অভিজাত' এলাকাগুলা – গুলশান, বনানী, বারিধারা, ধানমন্ডি, (ডিওএইচএস তো আর্মিদেরই), এমনকি সিদ্ধেশরী, সেগুনবাগিচার… ‘আদি' বা ২-৩ জেনারেশন আগের ল্যান্ড-ওনার কারা?
আমার ধারনা হইতেছে, খোঁজ নিলে হয়তো দেখা যাবে যে, অনেকেরই দাদা-বাবা খালি বড় বড় সরকারি-চাকরিই করতেন না, বরং সরকারি-ভাবে নাম-মাত্র মূল্যে এইসব জমির বরাদ্দ পাইছিলেন… এখনকার পূর্বাচলেও তো মনেহয় প্লট-টট পাইছেন বা পাইতেছেন সরকারি লোকজন…
মানে, আমি বলতে চাইতোছি সরকারি চাকরি করলে জমির ‘বরাদ্দ’ পাওয়া যায়! এবং উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়ার চাইতে সরকারি-সূত্রে পাওয়া জমির মালিকের সংখ্যা মনেহয় কম না!
তবে সবাই যে ফ্রি’তে পাইছেন – তা হয়তো না, অনেকে কিনছেনও, কিনতু সরকারি-চাকরি করাতেই শহরে জমি কিনা'টা সহজ হইছে, সুবিধা পাইছেন – এই ঘটনাও থাকতে পারে…
কিনতু এই ডেটা নিয়া দেখা উচিত আসলে, যে, ১৯৫০-২০০০ – এই সময়টাতে সরকারি-কর্মচারি’রা ঢাকা শহরে ‘জমি বরাদ্দের' বেনিফিশিয়ারি হইছেন কিনা? বা হইলে কতটুকু হইছেন? কিভাবে হইছেন?
আমি মনে করি, এই ডেটা কালেক্ট কইরা কিছু বিচার-বিশ্লেেষন করলে জরুরি কিছু পলিটিকাল, ইকনোমিকাল ও কালচারাল ইনসাইট পাওয়া যাইতে পারে…
(অবশ্য ১৯৪৭ ও ১৯৭১ পরবর্তি সময়ে এইখানে পলিটিকাল পাওয়ারও একটা ঘটনা ছিল জমি-দখলের, এখনো আছে…)
২. আমি ধরে নিতেছি যে, এই ঘটনা ঘটছে, যে, সরকারি চাকরি করার কারনেই জমির মালিক হওয়া গেছে, তো এইটা কেন পারছেন উনারা?
আমি বেশ আগে একবার বলছিলামও যে, যেই জমির কোন মালিকানা নাই – ধরেন, চরের জমি, ব্রিটিশ আমলের রেলওয়ের জমি, খেলার মাঠ, পরিত্যক্ত জমি… এইগুলারে আমরা ‘পাবলিক প্রপার্টি’ মনে করি না, মনে করি ‘গবমেন্ট প্রপার্টি’! চিটাগাংয়ের সিআরবি বা ঢাকা সরোয়ার্দি উদ্যানের কথা-ই ধরেন, এইগুলাতে যেন চিটাগাং ও ঢাকা শহরের মানুশের কোন রাইটস নাই, যা বা যট্টুক আছে তা আছে হইতেছে পিপলের মারফতে গবমেন্ট অফিসারদের… তো, উনারা তো নিজেদের জমি নিজেরাই নিতেছেন আসলে 🙂
তো, এই যে ফাঁকিবাজি'টা, এইটারে মেবি উনারা সত্যি-ই মনে করেন! পিপলের জমি মানে তো সরকারেই জমি, আর সরকার মানে তো সরকারি কমর্চারি’রাই! ছোট-খাট কিছু জিনিস পাওয়াটা তো উনাদের রাইটস! 🥱
আমার কথা হইছে, হিস্ট্রিকালি কম্পাইল করলে এই ‘রাইটস'-এর একটা ভালো ও বড় ইমপ্যাক্ট দেখতে পাওয়ার কথা আমাদের… এবং এই প্রসেসটারে লোকেট করাটাও জরুরি আসলে!
৩. আরেকটা ঘটনা এইখানে আছে, মানে, হিস্ট্রি’র অনেক ঘটনারেই তো খেয়াল করতে পারতে হবে আমাদেরকে… যে, পাকিস্তান হওয়ার পরে জিন্নাহ কিনতু গর্বনর জেনারেল হইছেন, প্রাইম মিনিস্টার বা প্রেসিডেন্ট হন নাই! এবং গর্বনর জেনারেল হওয়ার পরে উনি ছিলেন আমলাদের লিডার, পলিটিশিয়ানদের না! কারন অই পজিশন ছিল প্রাইম মিনিস্টার, প্রেসিডেন্টের চাইতেও বড় পজিশন!
যার ধারাবাহিকতায় ডিসি-এসপি-ইউএনও’রা কিনতু পলিটিকাল এমপি-চেয়ারম্যানের চাইতে পাওয়ারফুল ছিলেন তখনো, এবং এখনো! (কিছু চেইঞ্জ তো আছেই…) মানে, সরকারি-কর্মচারিদের একটা সুপিরিয়রিটি আছে যেইটা অন্য যে কোন পলিটিকাল পাওয়ার'রে সুপারসিড করে…
তো, এই পলিটিকাল পাওয়ার'টাও জমির দখলদারি ‘বুইঝা' নেয়ার জায়গাটাতে কন্ট্রিবিউট করার কথা…
(এইটা তো বেশ লম্বা ও জটিল আলাপই, কিনতু এইটা যে একটা দরকারি আলাপ হইতে পারে - সেই জায়গাটারে মেবি আমি কিছু হাইলাইট করতে পারতেছি…) | 467 |
| 7 | ০১/০৬/২০২৬
অবিচুয়ারি: তোফায়েল আহমেদ (১৯৪৩ - ২০২৬)
তোফায়েল আহমেদ মারা যাওয়ার নিউজ দেখার পরে উইকিপিডিয়ায় উনার এন্ট্রি'তে কি লেখা - সেইটা দেখতে গেছিলাম, ১৯৬৯ সালে আবদুল মালেকের খুনের ঘটনার পরে ১৯৭৫-এর কথা, ইভেন কোন মুক্তিযুদ্ধও নাই! অথচ উনার লাইফের সবচে পাওয়ারফুল টাইম তো হইতেছে ১৯৭২-৭৫ সাল! মাফিয়া-মিডিয়া ও প্রো-ইনডিয়ান ন্যারেটর'রা যাদেরকে ৪ খলিফা বানাইছে (খেয়াল কইরা দেখেন, মুজিব নেতা না, নবী!) তাদের মধ্যে সবচে ধুরন্ধর ও ক্রিমিনাল ছিলেন তোফায়েল আহমেদ! ১৯৭১ সালে বাংলাদেশ স্বাধিন হওয়ার পরে শেখ মুজিবের সবচে ক্লোজেস্ট লোক উনি!
এইরকম একটা ভিডিও ক্লিপও দেখলাম যে, তোফায়েল আহমেদ বলতেছেন, জিয়াউর রহমান কে আমরা চিনতামও না! তো, এইটা ভান কইরা বলা না, কারন ১৯৭২'র পরে তোফায়েল এতোটাই পাওয়ারফুল আছিলেন যে, এইরকম কথা চালু আছে, জিয়াউর রহমান লোকজন ধইরা তার কাছে রিকোয়েস্ট পাঠাইছিলেন যাতে রাস্ট্রদূত কইরা সেনাবাহিনি থিকা সরায়া না দেয়! মানে, তোফায়েল আহমেদ'রা-ই তো বাংলাদেশ চালাইতো তখন! চালাইতো মানে কি, লুটপাট করতো, ক্রিমিনাল এক্টিভিটি রান করতো পলিটিকসের নামে!
এবং পলিটিকস করতে হইলে আপনারে যে ক্রাইম করতে রাজি হইতে হবে - অই বটমে নামায়া নিয়া যাওয়ার ক্রেডিট পুরাটাই তোফায়েল আহমেদের! এর আগে যে গুন্ডামি-মাস্তানি ছিল না পলিটিকসে - তা না, সবসময়ই কম-বেশি ছিল বা আছে, কিনতু পলিটিকাল নেতা হওয়া মানে ক্রিমিনাল হয়া উঠা - এর উদাহারন মেবি তোফায়েল আহমেদের আগে বাংলাদেশে আর নাই!
তোফায়েল আহমেদ পলিটিকস'রে ক্রিমিনাল এক্টিভিটিতে এক্সটেন্ড কইরা নিয়া গেছেন স্বাধিন বাংলাদেশে - এইটাই আমি মনে তার সবচে বড় পলিটিকাল সিগনিফিকেন্স! আমি মনে করি ১৯৭২ টু ১৯৭৫-এ তার যেই ক্রিমিনাল এক্টিভিটি, তার খুব কম জিনিসই আমরা জানি (তোফায়েল ক্যাডার, রক্ষি-বাহিনি, এইটুকই আছে আলাপে...), কারন বাংলাদেশের মাফিয়া-মিডিয়াতে অই জিনিসগুলা এখনো ট্যাবু হয়া আছে... তো, উনার 'মহত্ব' এখনো টু সাম এক্সটেন্ড আবিস্কৃত হওয়ার অপেক্ষায় আছে বইলা আমি মনে করি...
১৯৭৫-এ মুজিব মারা যাওয়ার পরে উনি কিছুদিন বন্দি থাকলেও মোটামুটি 'অলৌকিক-ভাবে'-ই বাঁইচা থাকেন, অনেকে তো এই সন্দেহও করেন উনি কোনভাবে ইনভলব কিনা... কিনতু আমি মনে করি, উনি কোন একশনে থাকার কথা না, বরং বেনিফিটের অপেক্ষায় থাকার কথা, যেইটা এরপরে আর কোনদিনই খুব একটা পান নাই, এই সন্দেহের কারনেই হয়তো...
রেস্ট অফ দা লাইফ, আওমি-লিগের বার্কিং ডগ বা ঘেউ ঘেউ করা কুত্তা হিসাবেই উনার পলিটিকাল লাইফ পার করছেন... এর মধ্যে ১৯৯৬ সালে বানিজ্যমন্ত্রি হওয়ার সুবাদে ব্যবসায়িদের পছন্দের লোক হিসাবে ২০০৭-এর সিভিল-মিলিটারি ক্যু'তে জয়েন করতে গিয়া আরেক দফা ধরা খান! যদিও কাম-ব্যাক করেন আবার, ২০১৪ সালে বানিজ্যমন্ত্রি হন, মেবি অই ব্যবসায়িদের ব্যাক-আপেই...
এখন মনে হইতে পারে যে, রাজনীতিরে উনি বিজনেসে পরিনত করছিলেন বা ব্যবসায়িদেরকে পলিটিকসে ইনক্লুড করছিলেন উনি... (মানে, এইটুক হইলে তো হইতোই!) কিনতু আমি মনে করি, ঘটনা'টা ফার মোর ওরস্ট! স্বাধিনতার পরে জোর-জবরদস্তি কইরা মানুশের সম্পত্তি, বিজনেস দখল করাটারেই যে 'পলিটিকস করা' বানাইছিলেন, পরে ডাকাতি ও লুটপাট করতে পারাটারেই বাংলাদেশে 'বিজনেস করা' হিসাবে এস্টাবলিশড করতে পারার একজন কারিগর তোফায়েল আহমেদ!
এবং তার ক্রিমিনাল এক্টিভিটিগুলারে এখনো হাইড কইরা, টোন-ডাউন কইরা রাখা হয় এর একটা বড় কারন হইতেছে, বাংলাদেশের এস্টাবলিশমেন্ট এখনো তোফায়েল আহমেদের তৈরি করা 'নিয়মে'-ই চলে! হিজ ফিজিকাল ডেথ ইজ ইম-ম্যাটেরিয়াল! যেই বিষ উনারা ঢুকায়া দিয়া গেছেন বাংলাদেশ রাস্ট্রে ও সমাজে, সেইটা এটলিস্ট খেয়াল করতে রাজি হওয়া দরকার আমাদের!
আল্লাহ উনার কাজের বিচার করবেন! আমাদেরও তার কাজের বিচার-বিবেচনা করাটা জরুরি এখন, বাংলাদেশের ভালো'র জন্যই! | 459 |
| 8 | ০১/০৬/২০২৬
ট্রুথ ইজ, ভাসানীর কখনোই স্ট্রং কোন পলিটিকাল আইডিওলজি ছিল না! যেই কারনে নানান সময়ে নানান পলিটিকাল এজেন্সি দিয়া উনি ইউজডও হইছেন! কিনতু উনার একটা ট্রু rebel এটিটুড ছিল, যেইটা এখনো অনেক'রে ফ্যাসিনেট করে! কিনতু দুইটা তো দুই জিনিসই!
উনার সিগনিফিকেন্স হইতেছে, ১৯৪৭-এর পরে যেই সময়টাতে বাংলাদেশের মুসলমানদের সামনে কোন দিশা ছিল না, খাজা নাজিমুদ্দিন'রা ‘মুসলমান’ হওয়ার নামে পশ্চিম পাকিস্তানে হিজরত করে গেছিল, তখন সরোয়ার্দি ও হাশিমের অনুসারি'রা ভাসানীরে একটা ফিগার হিসাবে সামনে পাইছিলেন; এবং যেহেতু উনার কোন কলকাতা-কানেকশন ছিল না, উনারে ইনডিয়ার-এজেন্ট বানায়া দেয়াটা সহজ ছিল না, অই সময়ে (এবং পরেও আসলে); কিনতু পাকিস্তান মানে যে শুধু পাঞ্জাব না – অই আওয়াজ'টা তুলতে পারার জন্য উনি বাংলাদেশে ছিলেন সবচে রাইট ফিগার! কারন, উনার মুসলিম-আইডেন্টিটি নিয়া কোশ্চেন তোলার কোন স্কোপ ছিল না… মানে, উনি এন্টি-ইনডিয়ান এবং একইসাথে এন্টি-পাঞ্জাবি, এইটা উনারে ‘বাঙালি' কইরা তুলছিল!
কিনতু এই যে পলিটিকাল পজিশনগুলা, সেইটার আইডিওলজিকাল সিন্থেথিস উনার ছিল না, যার ফলে উনি পুব-পাকিস্তানের পলিটিকাল সংগঠন গইড়া তুলতে পারছেন, কিনতু কোন দিশা দিতে পারেন নাই সেই সংগঠনরে! যেমন, আওমি-লিগ যখন তৈরি হয়ে গেছে তখন সরোয়ার্দি’র ক্ষমতার সাথে কম্প্রোমাইজ করাটারে উনি নিতে রাজি হইতে পারেন নাই… সরোয়ার্দি’র বিরোধিতা করতে গিয়া উনি বাম'দের খপ্পরে পড়ছেন, পরে বাম'রা উনার ন্যাপ ও কৃষক-সমিতি দখল কইরা উনারে এক-ঘরে কইরা দিছে…
আমি বলতে চাইতেছি, আবদুল হামিদ খান ভাসানী'র যেই ইস্ট্রাগল, বাংলাদেশের মানুশরে সেন্টার কইরা উনার যেই রাজনীতি – সেইটারে আন্ডারমাইন করার কিছু নাই, বরং ১৯৪৭-পরবর্তি সময়ে অন্য যে কারো চাইতে উনি ছিলেন বাংলাদেশের মানুশের সবচে ট্রু-লিডার; সরোয়ার্দি বরং একটা ব্যালান্সের ভিতর দিয়া পাকিস্তান রাস্ট্র’রে সারভাইব করানোর ট্রাই করছেন (এবং সত্যি কথা বলতে গেলে, সরোয়ার্দি মারা যাওয়ার পরেই অই সম্ভাবনা শেষ হয়া গেছে, দুই পাকিস্তানের মধ্যে লিয়াঁজো করতে পারবে এমন কোন বান্দা হাজির ছিল না), যেই কারনে, সরোয়ার্দি মারা যাওয়ার পরে শেখ মুজিব চাইলেও অই জায়গাটাতে পলিটিকস’টা করতে পারেন নাই, ভাসানী'র লাইনেই তারে আগাইতে হইছে…
যেই জিনিসটা সবচে বেশি ইগনোর করা হয় ১৯৪৭-১৯৭১’র পাকিস্তানের ইতিহাসে, সেইটা হইতেছে – ‘বাঙালি ভারসেস পাঞ্জাবি’ ক্রাইসিস’টা! নট দ্যাট যে, ‘বাঙালি'রা তাদের মুসলমান-পরিচয় বাদ দিয়া দিতে চাইছে, বরং তাদের ‘বাঙালি' পরিচয়ের কারনে যে পাকিস্তানের রাস্ট্র-ক্ষমতাতে নিজেদের ভাগ পায় নাই, পাঞ্জাবিদের ডমিনেন্সের কারনে – অই জায়গাটারে হিস্ট্রিতে এখনো মিউট কইরা রাখা হইছে!
ইভেন, লাহোর পরস্তাব হয়া গেছে আবদুর রহিম ও ইকবালের ঘটনা, বড়জোর ফজলুল হকের রিড-আউট করাটা, সরোয়ার্দি ও হাশিমের সাজেশনগুলা যেন কখনো করা-ই হয় নাই! মোর সাসটেইনেবল মুসলিম-স্টেইটসের কথা যেন উনারা বলেন-ই নাই!
তো, আবদুল হামিদ খান ভাসানী যেহেতু পাকিস্তান'রে মাইনা নিয়াই উনার রাজনীতি শুরু করছেন, সেইখানে বাংলাদেশের মুসলমানদের পক্ষে আওয়াজ উনি তুলতে পারছেন, আর সেইটা এতোটাই বুলন্দ ছিল যে, নানান পক্ষ নানান ভাবে এর সুবিধা নিলেও, এই পলিটিকাল পজিশনটারে এড়ায়া যাইতে পারে নাই! এন্ড আন-ফরচুনেটলি এইটাও ট্রু যে, কোন পলিটিকাল দিশা উনার ছিল না, যার ফলে ক্রুশিয়াল মোমেন্টগুলাতে ভাসানী’রে এবসেন্ট হিসাবেই আমরা দেখতে পাবো… | 277 |
| 9 | খাজা নাজিমুদ্দিন পলিটিকাল হিরো যেমন ছিলেন না, একইভাবে ভিলেন ছিলেন – এইটাও আমার কাছে মনেহয় না, উনি বড়জোর ক্ষমতার রাজনীতির একজন ‘কুশিলব’ বা প্লেয়ার-ই ছিলেন… এর বেশি কিছু না, কখনোই! যেই কারনে, উনি যেইরকম ক্ষমতায় ছিলেন, সেই তুলনায় বাংলাদেশের রাজনীতিতে উনার সিগনিফিকেন্স নাই, বা কমই… | 334 |
| 10 | ২৭/০৫/২০২৬ - ৩০/০৫/২০২৬
খাজা নাজিমুদ্দিন
খাজা নাজিমুদ্দিন (১৮৯৪ - ১৯৬৪) ছিলেন ক্ষমতা-কাঠামোর একজন লোক, এবং কখনোই বাংলাদেশের মানুশের রাজনীতি করেন নাই – এই হিস্ট্রিকাল ট্রুথ’টারে খেয়াল করতে পারা এবং ক্লিয়ারলি বলতে পারাটা দরকার আমাদের!
ব্রিটিশ’রা ঢাকার সোসাইটি কন্ট্রোল করতো আহসান মঞ্জিলের নবাব পরিবারের মাধ্যমে, এবং খাজা সলিমুল্লাহ (১৯১৫ সালে) মারা যাওয়ার পরে অইখানে একটা ভ্যাকুয়াম তৈরি হয়, যেইটা খাজা নাজিমুদ্দিন ফুল-ফিল করেন (১৯২০-এর পরে)...
খাজা নাজিমুদ্দিন ছিলেন খাজা আহসানউল্লাহ’র নাতি (মেয়ে’র ছেলে) এবং খাজা সলিমুল্লাহ’র ভাইগ্না, কিনতু সলিমুল্লার মতো ফিউডাল প্রাইড উনার ছিল না, বরং ক্ষমতার গোলামি করার একটা বিরল প্রতিভা উনার ছিল, এবং ক্ষমতার এজেন্সিগুলাও উনারে পছন্দ করতো, কারন উনি নিজে কোন ডিসিশান-মেকিং করতে পারতেন না! উনার ছোটভাই খাজা শাহাবুদ্দিন-ই যত আকাম-কুকাম করতো, এবং উনি পলিটিকালি ‘ভালো মানুশ' হিসাবে উনার ইমেজ ধইরা রাখতে পারতেন!
নবাব বাড়ির সন্তান হিসাবেই উনি পলিটিকসে রেলিভেন্ট ছিলেন; এবং কলকাতার মুসলমান-ব্যবসায়িদের সাথেও গুড রিলেশন উনি মেইনটেইন করতেন, যার ভিতর দিয়া বাংলার মুসলিম-লিগের লিডারশিপ রোলে ছিলেন… উনি খালি ফজলুল হকের সাথে ইলেকশন কইরাই হারেন নাই, মেবি পিপলের ভোটে কোন ইলেকশনই জিততে পারেন নাই!
ফজলুল হক এবং সরোয়ার্দি খাজা নাজিমুদ্দিনের সাথে এক ধরনের পলিটিকাল সমঝোতা'তে গেলেও যান নাই আবুল হাশিম, এবং আবুল হাশিমের অনুসারি শিকখিত মুসলমানদের হাতে মুসলিম-লিগের নেতৃত্ব আসার পরে ঢাকার রাজনীতি'তে আহসান-মঞ্জিল ও খাজা নাজিমুদ্দিন কন্ট্রোল হারাইতে থাকেন, ১৯৪৫-এর পরে; যেইটা আর কখনোই উনারা রি-গেইন করতে পারেন নাই…
পলিটিকাল ক্যারিয়ার কন্সিডার করলে, খাজা নাজিমুদ্দিন খুবই সাকসেসফুল ছিলেন! অনেক বছর উনি ক্ষমতার কেন্দ্রে ছিলেন, কিনতু ক্ষমতায় থাইকা উনি বাংলাদেশের মানুশের জন্য কি করছেন? এই আলাপ তেমন কোথাও পাইবেন না… (ভালো কিছু জিনিস তো পাওয়া-ই যাবে খুঁজলে, খারাপ জিনিসও পাওয়া যাবে কিছু, কিনতু কোনটাতেই উনার কন্ট্রিবিউশন খুব-বেশি ছিল না, উনি ছিলেন ক্ষমতার গোলাম, সবসময়ই!)
খাজা নাজিমুদ্দিন পয়লা ক্ষমতায় আসেন বেঙ্গল প্রভিন্সের প্রধানমন্ত্রি হিসাবে, ১৯৪৩-৪৫ সনে; যখন ফজলুল হকের গবমেন্টরে সাসপেন্ড করা হয়… অই সময়টাতেই সরোয়ার্দি ও আবুল হাশিম মুসলিগ-লিগরে বাংলাদেশের শিকখিত মুসলমানদের দল কইরা তোলেন, এবং ১৯৪৬-এর ইলেকশনে শুধুমাত্র বেঙ্গল প্রভিন্সেই মুসলিম গবমেন্ট ফর্ম করে!
কিনতু সরোয়ার্দি ও আবুল হাশিম ‘ইন্ডিপেন্ডড প্রভিন্সেস’-এর পক্ষে থাকায়, পাকিস্তান প্রশ্নে খাজা নাজিমুদ্দিন জিন্নাহ'র একমাত্র রিপ্রেজেন্টেটিভ হয়া উঠেন বেঙ্গলে… ১৯৪৭-এ সরোয়ার্দি ক্ষমতা ছাড়লে খাজা নাজিমুদ্দিন আবারও পুব-পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রি হন, এবং জিন্নাহ মারা গেলে পরে ১৯৪৮ সালে পাকিস্তানের গবর্নর-জেনারেল হন, এবং পাকিস্তান হওয়ার পর থিকাই উনার রাজনীতি ঢাকাতে না বরং করাচি ও পশ্চিম পাকিস্তানেই বেইজড হয়…
১৯৫১ টু ১৯৫৩ তে উনি পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রি ছিলেন, এবং ১৯৫৪’র ইলেকশনে পুব-পাকিস্তানে মুসলিম-লিগের ব্যাপক ভরাডুবি'র পরে উনার পলিটিকাল ক্যারিয়ার একভাবে শেষ হয়… যদিও পাকিস্তানের ক্ষমতার রাজনীতিতে উনি এক্টিভ ছিলেন শেষ পর্যন্ত…
এইখানে একটা ঘটনা ইন্টারেস্টিং, আইয়ুব খানের এগেনেস্টে COP যখন প্রেসিডেন্ট কেন্ডিডেট দাঁড়া করায় তখন পুব-পাকিস্তানের সব দল কিনতু ফাতেমা জিন্নাহ'রেই সার্পোট করে, খাজা নাজিমুদ্দিনের কথাও কেউ তুলেন নাই!
খাজা নাজিমুদ্দিন উর্দু-স্পিকিং মানুশ ছিলেন বইলা বাংলা-ভাষারে হেইট করতেন – এইটা আমার মনেহয় না, বরং উনি সারাজীবন পিপলের এগেনেস্টে ক্ষমতার রাজনীতি-ই করে গেছেন, মানুশের ভালো-মন্দের চাইতে, ক্ষমতার কাছাকাছি থাকাটারেই ‘নরমাল' বইলা ভাবছেন… যেই কারনে, উনার ৪০ বছরের পলিটিকাল ক্যারিয়ারে পিপলস-পলিটিকসের তেমন কিছুই পাইবেন না!
খাজা নাজিমুদ্দিনের সবচে নোটেবল পলিটিকাল কন্ট্রিবিউশন হইতেছে, উনি জিন্নাহ'র ক্লোজেস্ট এলাই ছিলেন বেঙ্গলে, এবং পাকিস্তান-প্রশ্নে কোন দ্বিধা রাখেন নাই, যেই কারনে পলিটিকালি রিওয়ার্ডেডও হইছেন পরবর্তিতে! কিনতু উনার এই পারসোনাল রিওয়ার্ড বাংলাদেশের মানুশের কোন কাজে লাগে নাই!
খাজা নাজিমুদ্দিন সাহেবের না ছিল কোন পলিটিকাল ভিশন, না ছিল কোন পলিটিকাল উইজডম… যার ফলে, হিস্ট্রিতে উনার নাম যত পাইবেন, কাজ-কাম তেমন পাইবেন না! উনার পলিটিকাল ক্যারিয়ারের শুরু থিকা শেষ পর্যন্ত ক্ষমতার কাছাকাছি ছিলেন, ব্রিটিশদের দেয়া ‘স্যার’ উপাধি পাইছেন, কোন ইলেকশনে সরাসরি না জিইতাই পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রি হইছেন, এবং ক্ষমতা-কাঠামোর একজন লোক হিসাবে তার রোল প্লে করছেন! | 331 |
| 11 | ২৯/০৫/২০২৬
তো, জিয়াউর রহমান কেন খুন হইলেন? কন্সপিরেসি তো আছেই, কিনতু এর পলিটিকাল ইমপ্লিকেশন নিয়া কোন আলাপ কি আছে? নাই-ই তো মনেহয়…
[যেহেতু এইটা নিয়া আলাপ নাই, আমার কথা ‘ভুল' শোনাইতে পারে, তো, বেপার না, সবসময় এই রিস্ক নিয়া-ই কথা বলা লাগে আর কি 🥱]
আমার মতামত হইতেছে, জিয়াউর রহমান খুন হওয়ার পলিটিকাল বেইজটা তৈরি হইছিল কারন পলিটিকসরে উনি ক্যান্টনমেন্ট থিকা সরায়া নিতেছিলেন… এবং খেয়াল করলে দেখবেন, উনি মারা যাওয়ার পরে ক্যান্টমেন্টেই ফেরত গেছে আবার! যে, বাংলাদেশে মিলিটারি ছাড়া কেউ ভালো-মতো শাসন করতে পারবে না! 🙂
তারপরে যেইটা ফিরা আসছে ১৯৯০-এ, সেইটা সাসটেইন করতে পারে নাই, এবং ২০০৭-এ মিডিয়া-মিলিটারি-আমলা-ব্যবসায়ি দিয়া সেই ব্যবস্থাটারে পুরাপুরি ‘রি-স্টোর’ করা হইছিল… এখনো, কম-বেশি অই ফরমেশনটাই এফেক্টিভ আছে!
যেইখানে মিলিটারি, আমলা, ব্যবসায়ি, এমনকি মিডিয়াও ইন্সটিটিউশন হিসাবে বাংলাদেশে পিপলের কাছে একাউন্টেবল না, বরং উনারা এনটিটি হিসাবে above the law একটা পজিশনে থাকেন! জুলাই গনহত্যাতেও মিলিটারি, আমলা, ব্যবসায়ি ও মিডিয়ার লোকজনরে কিনতু একাউন্টেবল করা যায় নাই!
এবং পলিটিশিয়ান’রা পিপলের ফেভারে না বরং এই এজেন্সিগুলার লগে একভাবে মিল-মিশ রাইখা চলবেন - এইটাই এক্সপেক্টেড! বিএনপি বলেন আর জামাত, এইটা মাইনাই রাজনীতি করতেছেন এখন!...
তো, আমার ধারনা হইতেছে, জিয়াউর রহমান, এই জায়গাটারে পুরাপুরি সরাইতে না পারলেও ডিস-প্লেইসড কইরা তুলতেছিলেন কিছুটা… যেই কারনে, হি হ্যাজ টু গো! | 229 |
| 12 | তিন.
তো, এই জায়গা থিকা দেখতে গেলে, কাজী নজরুল ইসলাম ঠিক চিন্তা বা নন-ফিকশনে না, বরং উনার ক্রিয়েটিভ কাজগুলাতে নতুন কোন চিন্তা অফার করতে পারতেছেন কিনা, সেইটা খেয়াল করতে পারাটা বেটার...
কাজী নজরুল ইসলামের চিন্তা, কথা-বার্তা আলাদা না - তা না, বরং কম-বেশি ট্রেডিশনালই, যতটুক আলাদা সেইটা উনার আর্টের জায়গার কারনেই আলাদা…
কাজী নজরুল ইসলামের সাহিত্য, আমি দেখি যে, রি-ইনভেন্ট হওয়ার সম্ভাবনার মধ্যে আছে! তবে স্যাডলি, এখন পর্যন্ত যেইটা হইছে, এখনকার এগজিসটিং চিন্তার ফর্মগুলার লগে উনার ক্রিয়েটিভ কাজের মিল খোঁজার কিছু ঘটনার বাইরে – যেমন, উনি এন্টি-কলোনিয়াল ছিলেন, তেমন কিছু ঘটে নাই; তো, এইখানটাতে রি-এগজামিন করার স্কোপ আছে বইলা আমি মনে করি… | 220 |
| 13 | ২৭/০৫/২০২৬ - ২৯/০৫/২০২৬
ক্রিয়েটিভ ওয়ার্ক কিভাবে চিন্তাতে কন্ট্রিবিউট করে?
এক.
মাস-খানেক আগে একটা আলাপে ফয়সাল আহমেদ আর আবু তাহের তারেক কথা বলতেছিলেন কাজী নজরুল ইসলাম'রে নিয়া… আবু তাহের তারেক-ই কথা'টা তুলছিলেন, নজরুলরে গ্রেট বইলা প্রেইজ করতেছিলেন অনেক, তখন ফয়সাল এক রকম না পাইরাই তারেক'রে জিগাইতেছিলেন, চিন্তা-ভাবনায় তো নজরুলের কোন নতুনত্ব নাই, মানে, নতুন কোন থিওরেটিকাল দিশা তো উনি দিতে পারেন নাই! তখন তারেকও তার মতো একটা উত্তর দিতেছিলেন… তো, আমি আর উনাদের কথার মাঝখানে ইন্টার-ফেয়ার করি নাই, কিনতু কিছু জিনিস মনে হইতেছিল আমার…
(এমনিতে ঘাড়-তেড়ামির জন্য দুইজনরেই আমি কম-বেশি পছন্দ করি, এবং অনেক পয়েন্টে ডিফারও করি, কিনতু উনাদের সাথে এক প্লাটফর্মে আমার পক্ষে আলাপ করা পসিবল বইলা আমি মনে করি, যেই কারনে এনগেইজ হওয়ার কথা মনে হইছিল…)
দুই.
তো, আমার ৩টা জিনিস মনে হইতেছিল –
১. টেকনিকালি দেখতে গেলে, যে কোন ক্রিয়েটিভ-ওয়ার্ক হইতেছে চিন্তার আগের স্টেপ, এগজিসটিং চিন্তার কাঠামোর কোন কনফার্মেশন না!
যেই কারনে, দেখবেন সাত্রের সাহিত্য তেমন একটা হয় নাই, কারন উনি existentialism’রে অনেকটা সাহিত্য দিয়া ‘প্রমান’ করতে চাইছেন, কিনতু আলবেয়ার কামু জিনিসটারে বরং অনেকটা ‘আবিস্কার' করতে চাইছেন সাহিত্যের ভিতরে, মানে, লিটারেচার'রে উনি চিন্তার ভ্যাসেল হিসাবে নেন নাই, আগে একটা কিছু চিন্তা কইরা সেইটারে একটু সুন্দর কইরা বলাটারে ‘সাহিত্য’ মনে করেন নাই মেবি…
মানে, এইখানে, দুইটা ঘটনাই ঘটতে পারে বা ঘটে; তো, সাহিত্য যখন চিন্তারে কমিউনিকেট করার বা সমাজ-বাস্তবতারে রিফ্লেক্ট করার টুল হয়া উঠে, সেইটা সাহিত্য হিসাবে ইনফিরিয়র হইতে থাকে… কিনতু একইসাথে আপনি যখন সাহিত্য করেন তখন এগজিসটিং চিন্তা এবং সমাজ-বাস্তবতারে বাদ দিয়া যাওয়ার ঘটনা তো ঘটতে পারে না, কোন না কোনভাবে অই জিনিসগুলা থাইকাই যায়! এবং আর্টে, লিটারেচারে যদি অই জায়গাগুলার বাইরে কোন স্পেইস তৈরি করা না যায় সেইটা তত-একটা আর্ট-ম্যাটেরিয়াল হইতে পারে না আর কি…
যেই কারনে দেখবেন আমাদের পুরস্কার-পাওয়া সাহিত্যগুলা তেমন কোন নতুন কিছুই আর অফার করতে পারে না, এগজিসটিং চিন্তার কনফার্মেশন বা একো করাটাই তাদের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য হিসাবে থাকে, একভাবে! রিয়েল-আর্ট, এই কারনেও এখনকার দিনে, রেয়ার ঘটনা হয়া উঠতেছে…
২. যিনি ক্রিয়েটর, তিনি সবসময় তার ক্রিয়েশনের ইন্টেলেকচুয়াল কন্ট্রিবিউশনের জায়গাটা নিয়া সজাগ বা সচেতন থাকার কথা না, বরং একজন গ্রেট ক্রিয়েটর তার ক্রিয়েশনের চাইতে ইন্টেলেকচুয়ালি পিছায়া-ই থাকার কথা!
একজন রাইটার বা ক্রিয়েটর ইচ্ছা কইরা জানেন না বা মুর্খ হয়া থাকেন - তা না, বরং উনার জানার বাইরের জায়গাগুলাতেই উনি এক্সপ্লোর করতে থাকেন, যার ফলে সব রাইটারই তার ক্রিয়েশনের জায়গাগুলারে এক্সপ্লেইন করতে পারেন না… এইটা বেশিরভাগ কেইসেই পাইবেন
মানে, উনাদের নিজেদের একটা এক্সপ্লেনেশন তো থাকেই, কিনতু নিজের লেখা নিয়া রাইটারের এক্সপ্লেনেশন দেখবেন খুবই পুওর জিনিস হয়… শুনলে মনেহয়, আরে, এইটা, এইরকম কইরা ভাইবা লেখছে! কিনতু অই ভাবনাটা তো আর আর্ট না! এবং এই যে রাইটার নিজেই জানেন না - এইটা তার কোন ‘গুন' বা কোয়ালিটি না, বরং উনার এক্সিলেন্স অই জায়গাটাতে না আর কি! আর্টের এক্সপ্লোরেশনের জায়গাটা চিন্তার চাইতে ডিফরেন্ট, সবসময়ই…
৩. বরং কোন ইন্টেলেকচুয়াল যখন চিন্তার জায়গাগুলারে এক্সপ্লোর করতে থাকেন তখন কোন না কোন ক্রিয়েটিভ ওয়ার্কের লগে অই চিন্তার কোন কানেকশন খুঁইজা পাইতে পারেন…
আর্ট বেশিরভাগ সময়ে, একটা সময়ের ফ্যাশন হিসাবেই শুরুতে কাজ করে যে, এই গান শুনতে হবে, এই কবিতা-গল্প-উপন্যাস পড়তে হবে, দুই-তিনটা জেনারেশন পড়েও… এবং তারপরেই আসে, জেনারেশনাল নস্টালজিয়া ও ফ্যাশন-ম্যাটেরিয়ালের বাইরে আর্টের রেলিভেন্সের জায়গাটার পরিক্ষা, আর সেইখানে চিন্তা একটা ইম্পর্টেন্ট ঘটনা হয়া উঠে; দেখা যায়, কোন ইন্টেলেকচুয়াল তার নিজের চিন্তাগুলারে এক্সপ্লোর করতে গিয়া কোন আর্ট-ওয়ার্কের ভিতরে তারে পাইতেছেন! যেমন, ফুকো তার অর্ডার অফ থিংকস শুরু করছেন বোর্হেসের সাহিত্যের একটা জায়গা দিয়া…
সাহিত্য এইরকম চিন্তার জায়গাতে রি-ইনভেন্টেড হয়! যেহেতু রাইটার বা ক্রিয়েটর কোন একটা থিওরেটিকাল ফ্রেমওয়ার্কের ভিতর দিয়া ভাবেন না, মনে হইতে পারে এইখানে কোন চিন্তা যেন নাই! বা যা-ই আছে, তারে খেয়াল না করলেও হয়, কিনতু ঘটনা কোনভাবেই তা না, বরং লিটারেচার'রে ঠিকমতো পড়তে পারা বা লিটারেচারের ক্রিটিসিজম চিন্তার একটা জরুরি কাজ আসলে…
আমরা সাহিত্য পইড়া চিন্তা করতে শিখি - বেপারটা এইরকম না, কিনতু চিন্তার সাথে সাহিত্যের লেনদেনের একটা স্ট্রং সিলসিলা আছে, অনেক দিন থিকাই! একজন রাইটার যেমন লেখেন, একজন ইন্টেলেকচুয়ালের লেখার জায়গাগুলারে চিন্তার ভিতরে কানেক্ট করতে পারার দরকার হয়! | 252 |
| 14 | ২৭/০৬/২০২৬
বাংলাদেশের নাটক সিনেমা বা ভিজুয়ালসে জুলাই কেন একটা মিসিং ঘটনা? মানে, মাবরুর রশিদ বান্নাহ ছাড়া আর কেউ কি কোন ফিকশন বানাইছেন? ইন্টেরিম গবমেন্টের সময় ফারুকী তো সরকারি উদ্যোগে কিছু ডকুমেন্টারি বানাইছেন… তো, অন্যরা তেমন কেউ-ই কেন জুলাইরে সাবজেক্ট কইরা কোন নাটক-সিনেমা বানাইতে পারেন না? :)
বান্নাহ'র বানানো ভিজুয়ালগুলা* ছাড়া অন্য কোন উদাহারন যে নাই, তার কারন আমি মনে করি ৩টা –
(*বান্নাহ ভালো বানাইছেন কি খারাপ বানাইছেন, সেইটা অন্য আলাপ-ই এইখানে, তারপরে সময়-সুযোগ মতো বলবো এক সময়, কিনতু আর্টে বা ভিজুয়ালসে সাবজেক্টও তো একটা ইম্পর্টেন্ট ঘটনা…)
১. কালচারালি, আপনি প্রো-ইনডিয়ান (বাম-ডান যা-ই হন) না হয়া বাংলাদেশের কালচারাল সার্কেলের লোক আপনি হইতে পারবেন না! ইভেন, বিএনপি'র কালচারাল উইংয়ের লোক হইতে হইলেও আপনারে অই প্রো-ইনডিয়ান সার্কেলের লোক হইতে হবে, এবং এর বাইরে গেলেই আপনি হয়া যাবেন ‘জামাত' 🥱 এইটা পলিটিকালি জামাত হওয়া না, এইটা হইতেছে একটা কালচারাল-কোড আসলে, যে আপনি প্রো-ইনডিয়ান নাই আর!
যার কোন ডিরেক্টর, আরটিসট, টেকনিশিয়ান… কালচারাল সমাজে ‘একঘরে' রাজি না, যদি উনাদের ইচ্ছা থাকেও, এবং বিএনপি গবমেন্টরে ফর্ম হওয়ার পরে সেই ‘আত্মবিশ্বাস' উনারা ভালো মতোই ফিরা পাইছেন, যার ফলে জুলাই'রে ভিলিফাই করার না হইলেও এটলিস্ট কোশ্চেনেবল কইরা তোলার চেস্টা খুব অল্প সময়ের মধ্যেই আমরা দেখতে পাবো বইলা আমি মনে করি…
২. ইকনোমিক একটা কানেকশনও এইখানে আছে, যেইটা খুব একটা আটার করা হয় না… মানে, ‘ভাত ছড়াইলে টাকার অভাব হয় না’র মতো, আপনি যদি টাকা ছড়াইতে পারেন, কিছু আর্ট-ম্যাটেরিয়াল প্রডিউস করা পসিবল, অনেক আরটিসট যারা ৫ লাখ টাকা পান কোন কাজে ২০ লাখ টাকা পাইলে অবশ্যই করবেন, করার পরে মুখ মুইছা ফেলবেন যে, টাকার জন্য করছিলাম! 😎 লাভ দুইদিক দিয়াই হইলো তখন!
মানে, এভারেজ আর্ট-ফার্ট কোন নৈতিক ঘটনা না, বরং টাকা-পয়সা ইনকামের লগেই অনেক বেশি রিলেটেড – এইটা বলা'টা বাজে শোনায় বইলা লোকজন খুব একটা বলে না আর কি!
কিনতু যেইটা খেয়াল করার জন্য আমি বলতেছি, ব্যবসা-ও কালচারাল ভ্যালুগুলার লগে রিলেটেড! বাংলাদেশের আরটিসট-সমাজ যেমন প্রো-ইনডিয়ানের বাইরে যাইতে পারবেন না, বাংলাদেশে কোন করপোরেট হাউজ-ই এন্টি-ইনডিয়ান কোন প্রজেক্টে ফাইনান্স করতে পারবে না আসলে! এইখানে একটা আন-স্পোকেন এগ্রিমেন্ট আছে…
তবে টাকা-পয়সা দিয়া কিছু স্পেইস পপুলেট করা গেলেও আর্ট তো অইভাবে তৈরি করা যায় না আসলে, ফারুকী যেই ডকুমেন্টারিগুলা বানাইছিলেন, সেইখানে এইরকম কিছু ঘটনা ছিল বইলা আমি মনে করি, যারা এখনো না বললেও কিছুদিন পরে বলবেন যে, টাকার জন্য করছিলাম! 🥱
৩. লাস্ট বাট নট দা লিস্ট, একটা পলিটিকাল এনভায়রমনমেন্টও জরুরি! নজরুল যে নবযুগে লেখছেন সেইখানে তো ফজলুল হকের পলিটিকাল ব্যাক-আপ ছিল… এখনো জুলাই রেকর্ডস যে কিছু কাজ করতে পারতেছে সেইখানে নারায়নগঞ্জের এনসিপি'র এমপি'র ইকনোমিক সার্পোটই না পলিটিকাল সমর্থনও একটা ক্রুশিয়াল জিনিস! এই পলিটিকাল কানেকশনগুলাও খুব একটা খেয়াল করা হয় না…
বান্নাহ কথা দিয়া শুরু করছিলাম, উনার কথা দিয়া শেষ করি, উনি জুলাই নিয়া অনেক বেশি প্যাশোনেট, সেইটা উনারে কি কম-বিএনপি কইরা তুলে নাই, এখনকার সময়ে? কেন করছে? এইটা একটু ভাবতে গেলে আই গেইস এই কালচারাল, ইকনোমিক ও পলিটিকাল জায়গাগুলার কিছুটা দেখা পাইবেন! 🙂 | 482 |
| 15 | ২৭/০৬/২০২৬
বাংলাদেশের রাজনীতিতে আবদুল হামিদ খান ভাসানী হইতেছেন ১৯৪৭-পরবর্তি ঘটনা! মানে, এর আগে তো উনি ছিলেন-ই, উনার রাজনীতিও ছিল… ভাসানী ছিলেন আসামের মুসলিম লিগের সভাপতি, সিলেট পাকিস্তানের অংশ হইলে উনি পাকিস্তানে চলে আসেন, এবং বাংলাদেশের মেইন-স্ট্রিম পলিটিকসের অংশ হয়া উঠেন…
(এইখানে একটা ফুটনোট হিসাবে বইলা রাখা যাইতে পারে আসাম, ত্রিপুরা ও উত্তরবঙ্গের মুসলিম-জেলাগুলা যে বাংলাদেশের পার্ট হইতে পারলো না, সেইটারে বাংলাদেশের হিস্ট্রিকাল ফেইলওর হিসাবে আমাদের রিড করতে পারাটা দরকার…)
১৯৪৭ টু ১৯৪৯ – এই ২/৩ বছর পাকিস্তানের রাজনীতিতে বাংলাদেশের শিকখিত মুসলমানরা ছিল দড়ি-ছিঁড়া গরুর মতন (খাজা নাজিমুদ্দিনের কথায় পরে আসতেছি), কারন উনাদের যেই লিডার’রা ছিলেন: ফজলুল হক - পলিটিকাল দিশা হারায়া ফেলছিলেন, সরোয়ার্দি - পশ্চিমবঙ্গ মুসলিম-লিগের সভাপতি হয়া গান্ধির সাথে কাজ করতেছিলেন, আবুল হাশিম - ইনডিয়া'তে থাকতেছিলেন এবং পলিটিকালি ইন-এফেক্টিভ ছিলেন…
এই বন্ধ্যা-দশা কাটে যখন সরোয়ার্দি পাকিস্তানে হিজরত করার ডিসিশান নেন ১৯৪৯-এর মার্চ মাসে, কিনতু উনি পুব-বাংলার মানুশদের রাজনীতি করলেও ব্রিটিশ পিরিয়ডে যেমন ছিলেন কলকাতা'তে, পাকিস্তান আমলে আইসা সেটেলড হইলেন করাচি'তে, রাজনীতি করার জন্য রাস্ট্রের সেন্টার-প্লেইসগুলাতে থাকাটা জরুরি মনে করছেন উনি, আর এইটা তো দরকারিও একভাবে…
১৯৪৭’র পরে জিন্নাহও সরোয়ার্দি’রে রিকোয়েস্ট করছিলেন পাকিস্তানে চলে আসতে, কিনতু সরোয়ার্দি মনে করছেন কলকাতার মুসলমানদের বাঁচানো উনার সবচে জরুরি কাজ, কিনতু একটা সময়ে উনার ফিল করতে পারার কথা যে, কলকাতায় তেমন শিকখিত মুসলমান আর অবশিস্ট নাই, এবং ইনডিয়ার সিটিজেন হিসাবে পুব-পাকিস্তানে কোন পলিটিকাল এক্টিভিটি করার রাইটস উনার নাই, একবার ঢাকায় আসলে উনারে সরকারি-আদেশে রেস্ট্রিক্ট করা হয় এবং ফেরত পাঠানো হয়… মেবি এর পরেই তিনি পাকিস্তানে আসার ডিসিশান নেন!
সরোয়ার্দি পাকিস্তানে আইসা একটা বিরোধি-দল তৈরি করার জন্য যারা মুসলিম লিগের বাইরে পলিটিকালি এক্টিভ ছিলেন তাদের সাথে বসেন, এবং যেহেতু আবুল হাশিম তখনো সিনে নাই, উনার অনুসারি’রা আবদুল হামিদ খান ভাসানীরে সেন্টার কইরাই জড়ো হইতে থাকেন, এবং ভাসানী হয়া উঠেন উনার সবচে স্ট্রংগেস্ট পলিটিকাল এলাই, দুইজনে মিইলা অন্য সবাইরে নিয়া আওমি মুসলিম লিগ (বা বলা যায়, জনতার মুসলিম লিগ) গঠন করেন...
(আবুল হাশিম যখন বাধ্য হয়া পাকিস্তানে আসেন, ততদিনে উনার ফলোয়ারদের সাথে কানেকশন একভাবে উনি হারায়া ফেলেন, এবং উনার পলিটিকাল ডিরেকশনও পিপল-সেন্ট্রিক থিকা মোর আইডিওলজি-সেন্ট্রিক হয়া উঠতে থাকে…)
মানে, পাকিস্তানের যে বিরোধি-দল, সেইটা ঢাকাতেই তৈরি হয় আসলে! কারন পশ্চিম-পাকিস্তানের রাজনীতি সৌললি ছিল আমলাতন্ত্র, এলিট-সমাজ ও পরবর্তি’তে মিলিটারি ড্রিভেন একটা ঘটনা, এবং ইকনোমিকালি পলিটিকাল মিডল-ক্লাস অইখানে অইভাবে এমার্জ করে নাই (এইটা নিয়া আরো ডিটেইল আলাপ আছে…), যেইটা ঢাকা'তে রেডি অবস্থায় ছিল!
আর পুব-পাকিস্তানে অই বিরোধি-দলের নেতা, এবং পিপলস-লিডার (বা বলা ভালো, বাংলাদেশের শিকখিত মধ্যবিত্ত মুসলমানদের নেতা) হয়া উঠেন আবদুল হামিদ খান ভাসানী, ১৯৪৯-১৯৫৪, এই সময়টাতে! ১৯৫৪’র পার্লামেন্ট নন-ফাংশনাল হয়া যাওয়ার পরে পাকিস্তানের রাজনীতি'র ম্যাপিং’টাই চেইঞ্জ হয়া যায়, এবং এরপরে বাংলাদেশের রাজনীতি সিগনিফিকেন্টলি আলাদা হইতে থাকে, এবং সেইখানেও ভাসানী একজন ইম্পর্টেন্ট ফিগার-ই ছিলেন… | 279 |
| 16 | ২৬/০৬/২০২৬
বাংলাদেশের রাজনীতি'তে থিওরেটিকালি সবচে সাউন্ড লিডার ছিলেন আবুল হাশিম! (এইটা যেমন উনার সবচে স্ট্রং পার্ট, উইক পয়েন্টও ছিল এইটাই…) ১৯৪৩ সালে বেঙ্গল-প্রভিন্সের মুসলিম লিগের সেক্রেটারি হওয়ার পরে ৩টা কাজ উনি করতে চাইছেন –
১. পলিটিকালি, ঢাকার নবাব পরিবারের ক্ষমতারে চ্যালেঞ্জ কইরা তার জায়গায় শিকখিত মধ্যবিত্তের নেতৃত্ব নিয়া আসতে চাইছেন
২. কালচারালি, মাওলানা আকরাম খাঁ'র ‘ট্রেডিশনাল’ ইসলামি-বয়ান'রে মর্ডান ক্রিটিকাল ইসলামি-থট দিয়া রিপ্লেইস করতে চাইছেন
৩. ইকনোমিকালি, নন-বেঙ্গলি মুসলিম ব্যবসায়ি (মেইনলি, ইস্পাহানিদের) রাজনৈতিক গুরুত্ব কমাইতে চাইছেন, কর্মি-নির্ভর একটা পলিটিকাল স্ট্রাকচার দাঁড়া করানোর ভিতর দিয়া
এবং বলা যায় ১৯৪৬’র বেঙ্গল প্রভিন্সের ইলেকশনে মুসলিম লিগের বিজয় আসলে আবুল হাশিমের (এবং সরোয়ার্দি'র) সাকসেস! কিনতু ১৯৪৬’র বিজয়ের পরেই উনার পলিটিকাল রেলিভেন্স কমতে শুরু করে… মেবি থিওরেটিকাল আলাপে – ‘রবুবিয়াত’ ও ‘রব্বানিয়াত’রে – ফরমুলেট করার বেপারে যতটা প্রায়োরিটি দিতে চাইতেছিলেন প্রাকটিকাল ইস্যুগুলাতে তত একটা ফোকাস দিতে পারেন নাই…
এবং স্পেশালি ১৯৪৬’র দাঙ্গার পরে পাকিস্তান কায়েম করার জন্য ‘রেশনাল' হওয়ার চাইতে ‘রেডিকাল' হইতে পারাটা মোর দরকারি হইতে থাকে…
এবং পাকিস্তান প্রশ্নে ঢাকার নবাব পরিবার, ‘ট্রেডিশনাল’ ইসলামিস্ট ও মুসলিম ব্যবসায়ি’রা মোর এলাইনড হইতে পারতেছিলেন!
যেইখানে পাকিস্তান-প্রশ্নে আবুল হাশিম বিরোধি ছিলেন না, বরং উনি (এবং সরোয়ার্দিও) ‘অখন্ড ভারত' বা ‘কেন্দ্রের শাসন'র উপর ঈমান আনেন নাই! যেই কারনে, আবুল হাশিমের ফাইট'টা ছিল ‘সার্বভৌম প্রাদেশিক সরকার'-এর, যেইটা ইনডিয়ারও ফিউচারও মনে করতেন উনি, কিনতু পলিটিকালি সেইটা বাংলাদেশের মুসলমানদের জায়গাটারে ‘রিস্কি'-ই করে তুলতেছিল… আর হিন্দুরাও এইটা মানতে রাজি ছিলেন না! যার ফলে, আবুল হাশিমের পলিটিকাল সত্য তার কোন বাস্তব গ্রাউন্ড খুঁজে পায় নাই আসলে তখন 😞
তো, তারপরও, আজকে ৭০/৮০ বছর পরে আবুল হাশিমের যেই পলিটিকাল চিন্তা, সেইটার রেলিভেন্স নতুন কইরা শুরু হইতে পারে বইলা আমি মনে করি… কারন ‘অখন্ড ভারত' যে কতোটা ভয়াবহ জিনিস হইতে পারে, সেইটা দিন কে দিন তো ফিল করতে পারতেছি আমরা, এবং ফিউচারেও আরো টের পাইতে থাকবো আসলে… | 259 |
| 17 | ২৬/০৫/২০২৬
হোসেন শহিদ সরোয়ার্দির দুইটা পলিটিকাল 'ভুল'
বাংলাদেশে শিকখিত মুসলিম মিডল-ক্লাসরে ফার্স্ট সংগঠিত করছিলেন হোসেন শহিদ সরোয়ার্দি, ১৯৪১-১৯৪৩ সময়টাতে*… কিনতু পলিটিকাল ক্ষমতার জায়গাটাতে কখনোই সেটেলড হইতে পারেন নাই!
(যখন ফজলুল হক হিন্দু মহাসভা ও কংগ্রেসের সাথে মিইলা গবমেন্ট ফর্ম করলেন তখন সরোয়ার্দি বাংলাদেশের শিকখিত মিডল-ক্লাস মুসলমানদের নেতা হয়া উঠেন, এবং ১৯৪৩’র পরে এই জায়গাটারে আরো রেডিক্যাল ওয়ে'তে আগায়া নিয়া যান আবুল হাশিম…)
উনি যখন ক্ষমতায় ছিলেন ১৯৪৩-১৯৪৬ সময়টাতে, তখন বড় ২টা ডিজাস্টার ঘটে – ১৯৪৩’র দুর্ভিক্ষ (সরোয়ার্দি তখন মেবি সরবরাহ মন্ত্রি ছিলেন) এবং ১৯৪৬’র কলকাতার দাঙ্গা (তখন বেঙ্গল প্রভিন্সের নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রি ছিলেন), দুইটার কোনটাই উনার ফল্ট না, বরং উনি যথা-সম্ভব ট্রাই করছেন ডিজাস্টারের এফেক্ট মিনিমাইজ করার, কিনতু দুইটা ঘটনাতেই উনার পলিটিকাল ক্যারিয়ার সাফার করছে…
দুর্ভিক্ষের সময়ের ঘটনা'টা নিয়া খুব একটা বলাবলি নাই, কারন এইটা যতটা না পলিটিকাল তার চাইতে বেশি পলিটিকাল ইকনোমি'র ঘটনা! ১৯৪৩-এর দুর্ভিক্ষ ছিল একটা পলিটিকাল ডিসিশান, ব্রিটিশদের! ব্রিটিশ সৈন্যদের জন্য খালি খাদ্য মজুত করা নাই, বরং জাপানি সৈন্যরা যেন খাদ্য সংগ্রহ না করতে পারে এই কারনে বেঙ্গল প্রভিন্স থিকা সব চাল সরায়া নিয়া যাওয়া হইছিল জাপানি সৈন্যরা বার্মা দখল করার পরে, এবং নৌ-পথের যোগাযোগ-ব্যবস্থাও ধ্বংস কইরা ফেলা হইছিল, যার ফলে ফুড ডিস্ট্রিবিউশন পসিবল ছিল না…
তো, যখন জাপানি সৈন্যরা বার্মা ছাইড়া গেল তখন বিহার-উড়িষ্যা থিকা চাল আনার দরকার পড়লো, কিনতু অইখানে একটা ঘটনা ঘটলো… কলকাতার সবচে বড় চালের ব্যবসায়ি ছিলেন ইস্পাহানি'রা, সরোয়ার্দি চালের ইমপোর্ট বাড়ানোর জন্য হিন্দু-ব্যবসায়িদেরকেও লাইসেন্স দিলেন, এতে কইরা চালের ইমপোর্ট বাড়লেও কলকাতার পাওয়ারফুল মুসলমান-ব্যবসায়িদের ‘আস্থা' ও সমর্থন উনি হারাইলেন!
ইস্পাহানি'রা উনার জাত-শত্রুতে পরিনত হইলো, যাদের পলিটিকাল এলাই ছিলেন ঢাকার নবাব-পরিবার, খাজা নাজিমুদ্দিন… এবং অই শত্রুতার কারনে জিন্নাহ'র সাথে পলিটিকাল ডিসট্যান্সও মেবি বাড়ছিল, একভাবে!
সেকেন্ড হইতেছে, ১৯৪৬ সালের কলকাতার দাঙ্গা! অইটা ছিল সরোয়ার্দির গবমেন্টের দিক থিকা গোয়েন্দা ও প্রশাসনিক ফেইলওর! কলকাতার (বা বলা ভালো ইনডিয়ান) হিন্দু সরকারি-কর্মচারিদের একটা ‘প্রতিশোধ’ সরোয়ার্দির এগেনেস্টে, উনারা খালি এই ‘সাম্প্রদায়িক’ হামলার প্রিপারেশনের কথা গোপন-ই করেন নাই, পরে সেইটা থামাইতে এফেক্টিভ কোন একশনও নিতেছিলেন না! যেইটা সরোয়ার্দি সামাল দিছিলেন পাঞ্জাব থিকা পুলিশ নিয়া আইসা!
মানে, কলকাতার মুসলমান-ব্যবসায়িদের ‘আস্থাভাজন' যেমন উনি হইতে পারেন নাই, হিন্দু-কর্মচারিদের সাথে এক ধরনের বিরোধ উনার তৈরি হইছিল…
এইখানে থার্ড আরেকটা পয়েন্টও আছে, উনি ফজলুল হকের মতো যেমন পাকিস্তান প্রশ্নে বিরোধি ছিলেন না, আবার আবুল হাশিমের মতো বেঙ্গল প্রভিন্স তৈরি করার জায়গাটাতেও পুরাপুরি আটকায়া থাকেন নাই, উনি বরং মোর ইন্ডিপেন্ডেড বা সার্বভৌম মুসলিম স্টেটস-ই চাইছেন… যেইটা পরবর্তি’তে বাংলাদেশের জায়গাটারে তৈরি করছে আসলে! (আর মেবি এইসব পলিটিকাল পজিশনের কারনেও সরোয়ার্দি ১৯৪৭-এ পাকিস্তানে আসেন নাই, আসছেন ২ বছর পরে…) | 234 |
| 18 | ২৫/০৫/২০২৬
আবুল কাশেম ফজলুল হক ও আবদুল হামিদ খান ভাসানী
কিছুদিন আগে একটা আলাপে একজন আমারে জিগাইতেছিলেন যে, এ কে ফজলুল হক ও আবদুল হামিদ খান ভাসানীর মধ্যে মিল-অমিল কি কি?
তখন বলতেছিলাম, বেসিক ডিফরেন্স হইতেছে, ভাসানী ক্ষমতায় যাইতে চাইতেন না, বলা যায় অনেকটা ডরাইতেনই যে, ক্ষমতা উনারে ‘কলুষিত' কইরা ফেলতে পারে! আর সেই জায়গায় ফজলুল হক সাহেব ক্ষমতায় থাকা অবস্থাতেই তার বেস্ট পলিটিকাল কন্ট্রিবিউশন’টা রাখছেন!
অনেক লিডার দেখবেন, ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য অনেক স্ট্রাগল করেন, এমনকি এই জায়গাগুলারেই গ্লোরিফাই করা হয় আমাদের পলিটিকসে, কিনতু ক্ষমতায় যাওয়ার পরে কি করবেন? এই জায়গাটাতে ক্লিয়ার না এবং টেরিবেলি ফেইল করেন!
শেখ মুজিবুর রহমানের কথাটাই ধরেন, উনি আসলে জানতেনই না ক্ষমতায় আসার পরে কিভাবে দেশ চালাবেন! যেই কারনে ফেসিস্ট হয়া উঠছিলেন... সেই জায়গায় ফজলুল হক সাহেবের পলিটিকালি সবচে গ্লোরিয়াস পিরিয়ড হইতেছে যখন উনি ক্ষমতায় ছিলেন, ১৯৩৭-১৯৪১’র সময়টাতে… অনেকগুলা সরকারি আইন উনি করছেন, যেইগুলা বাংলাদেশের মুসলমান সমাজরে মধ্যবিত্ত হয়া উঠাতে সিগনিফিকেন্টলি কন্ট্রিবিউট করছে বইলা আমি মনে করি…
হাউএভার, পরে যে কোন মূল্যে ক্ষমতার কাছাকাছি থাকতে চাওয়াটা ফজলুল হক সাহেবের পলিটিকাল ক্যারিয়ারের সবচে বাজে দিক হয়া উঠছে…
কিনতু ফজলুল হক ইলেকশনের রাজনীতি বুৃঝতেন, আর ভাসানী ‘বিপ্লবি’ রাজনীতি করতে চাইছেন (এপারেন্টলি), এইটাও একটা ডিফরেন্সের জায়গা… ভাসানী জীবনে একবার ইলেকশন করছেন, আর ফজলুল হক সাহেবের পলিটিকাল ক্যারিয়ারই হইতেছে ইলেকশনের, জীবনে কোন ইলেকশনে উনি মেবি ফেইল করেন নাই!
আবার, মিলের জায়গাটা হইতেছে, দুইজনেই – আবুল কাশেম ফজলুল এবং আবদুল হামিদ খান ভাসানী – পিপলস-পলিটিকস করছেন! দুইজনের রাজনীতির সেন্টার পয়েন্টেই ছিল বাংলাদেশের মানুশ-জন, যেই কারনে বাংলাদেশের মানুশ-জনও উনাদের তাদের লিডার হিসাবে মানছেন, উনার দোষ-ক্রুটিসহই…
এবং খেয়াল করলে দেখবেন উনাদের দুইজনেই তাদের মুসলিম-পরিচয় নিয়া ইনফিরিয়রিটি'তে তো ছিলেন-ই না, বরং খুব স্ট্রংগলি এই পরিচয়'রে আপহোল্ড করছেন, তাদের রাজনীতিতে…
তো, উনাদের রাজনীতির ডিফরেন্স তো আছেই, কিনতু এই মিলের জায়গাগুলারেও আমাদের খেয়াল করতে পারাটা দরকার… | 282 |
| 19 | ২৫/০৫/২০২৬
মুসলিম লিগ কেন ১৯৪০’র দশকে বাংলাদেশের মুসলমানদের একমাত্র পলিটিকাল দল হয়া উঠছিল?
আমি মনে করি ২টা কারনে এই ঘটনা'টা ঘটছে… মানে, ১৯৩৭’র বেঙ্গল প্রভিন্সের ইলেকশনে মুসলিম লিগ ৪৩টা সিট পাইয়া সেকেন্ড হইলেও (কংগ্রেস পাইছিল ৫৪টা) ১৯৪৬-এ ১১৩টা সিট পাইয়া ‘নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা’ পাইছিল (কংগ্রেস পাইছিল ৫৪টাই)... কারন এ কে ফজলুল হক বাদে কৃষক-প্রজা পার্টির নেতা-কর্মি সবাই মোটামুটি মুসলিম-লিগেই জয়েন করছিলেন, এবং কংগ্রেস-কমুনিস্টদের ছোট্ট একটা গোষ্ঠির বাইরে বাংলাদেশের সব মুসলমান-ই মুসলিম-লিগের সার্পোটার ছিলেন… কিনতু ১৯২০’র পরে এমনকি ১৯৩০ বা ৩৫ পর্যন্তও এইরকম একচেটিয়া ঘটনা ছিল না; তো, এইটা অই সময়ে কেন ঘটলো? আমার ধারনা, ২টা জিনিস এইখানে আছে –
১. এইটা ঘটছে, কারন বাংলাদেশের শিকখিত মধ্যবিত্ত মুসলমান'রা অই সময়ে টের পাইছে যে, মুসলিম লিগ ছাড়া উনারা যেই সোশাল discrimination-এর ভিতরে আছেন – সেইটা থিকা বাইর হইতে পারবেন না! কংগ্রেস তো এই ডিসক্রিমিনেশন’টারে একনোলেজ-ই করবে না, এবং অন্য কেউ (কৃষক প্রজা পার্টি বা কমিউনিস্টরা) এইটারে পলিটিকাল ইস্যু কইরা তুলতে পারবে না, বা তুলতে রাজি না… যার ফলে, সরকারি চাকরিতে, ব্যবসা-বানিজ্যে, নিজেদের স্পেইস তৈরি করার জন্য মুসলিম লিগ ছাড়া অন্য কোন অপশন তাদের সামনে আসলেই ছিল না!
২. এই জায়গাটা কিছুটা ট্রিকি, যেইটা অনেকেই খেয়াল করেন না বইলাই আমি মনে করি, (যেইটা কামরুদ্দীন আহমদ মেবি কিছুটা বলছেন) যে, খেলাফত আন্দোলন ব্যর্থ হওয়ার পরে মুসলমানদের মধ্যে বরং এক ধরনের ব্রিটিশ-ভক্তিই দেখা গেছে, উনাদের অনেকেই চান নাই যে, বৃটিশ’রা হিন্দুদের হাতে ক্ষমতা ছাইড়া যাক, তাইলে সবচে বেশি বিপদে পড়বে মুসলমান'রা, কিনতু ইয়াং ও মধ্যবিত্ত মুসলমানদের মনে তো আজাদির খোয়াব আছে, সেইটা হাসিল হবে কিভাবে? সেইটার কোন সলিউশন তো নাই!
তো, অই সলিউশন'টা লাহোর পরস্তাবের ভিতর দিয়া একভাবে দিছে মুসলিম-লিগ! আরো ভালো কইরা বললে হোসেন শহিদ সরোয়ার্দি এবং মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ সেইটারে আর্টিকুলেট করছেন… যে, মুসলমানরা ব্রিটিশদের শাসন চায় না, মুসলমানরাও স্বাধিনতা চায়, কিনতু একইসাথে তাদের অধিকারও চায়! কিনতু পরে যেই ‘লাহোর পরস্তাব' ‘পাকিস্তান পরস্তাব' হয়া উঠছে সেইখানে ইকবাল ও চৌধুরি রহমত আলীর যেই লিগাসি ধইরা রাখা হইছে, বাংলার মুসলমানদের স্পেইস তত-একটা হাইলাইট হয় নাই! তারপরেও, বাংলাদেশের মুসলমান'রা তাদের অধিকার আদায়ের জন্য পাকিস্তানরেই অপশন হিসাবে নিতে বাধ্য হইছেন…
তো, এই যে ব্রিটিশ-বিরোধি আন্দোলনে শামিল হইতে পারা, এইটা বাংলাদেশের মুসলমান মধ্যবিত্তরা এক্সপ্লোর করতে পারছেন মুসলিম-লিগের ভিতর দিয়াই! যেই কারনে, মুসলিম-লিগের লগে এলাইনড হইছেন উনারা…
৩. এখন, থার্ড একটা রেলিভেন্ট পয়েন্টের কথা এইখানে বইলা রাখাটা বেটার, যে, মুসলিম লিগের era’টা বাংলাদেশে এতোটা শর্ট-লিভড হইলো কেন? মানে, ১৯৫০-এর পরেই আর মুসলিম-লিগ এলিট-সমাজের ঘটনা হয়া উঠে, পুব-পাকিস্তানের মিডল-ক্লাসের সাথে কানেকশন হারায়া ফেলে…
তো, এইটা আমি মনে করি অই ‘পাকিস্তান পরস্তাব'-এর লগে রিলেটেড, যেইখানে জিন্নাহ-সরোয়ার্দি-ফজলুলহকের ‘ডেমোক্রেটিক’ ভারসন'টা থিকা departure ঘটে… পাকিস্তানের শুরু থিকাই পুব-পাকিস্তান একটা exception হিসাবেই এগজিস্ট করতে থাকে… এবং মুসলিম-লিগ এই জায়গাটারে intrigrate করার বদলে চাপায়া দেয়ার একটা এটিটুড নিয়া আগাইতে গিয়া আরো ডিস-কানেক্টেট হইতে থাকে…
কিনতু ১৯৪০-এর মুসলিম-লিগের যেই রাজনৈতিক উদ্দেশ্য, সেইটা ইরিলিভেন্ট তো হয়-ই নাই, বরং এখনো শুধুমাত্র কালচারালি না, বরং পলিটিকালিও রেলিভেন্ট আছে বইলা আমি দেখি; যেই কারনে বিএনপি'র রাজনৈতিক উত্থান পসিবল হইছে, এবং জামাতের রাজনীতিরও যেই সাকসেস সেইটা মুসলিম-লিগের ভ্যাকুয়াম থিকাই আসছে বইলা আমি মনে করি…
তো, যা-ই হোক, সেইটা তো আরেকটা আলাপ-ই, আপাতত এইখানে থামলাম… | 317 |
| 20 | ২.
তো, ইস্যু হিসাবে কিভাবে জিনিসটা পারফর্ম করছে ১৮৮০ টু ১৯৪৭ - সেইটার একটা বর্ননা আবু সাঈদ পেশ করছেন, এই বইয়ে
সেইখানের ঘটনাগুলা খেয়াল করলে দেখবেন, এইখানে ২টা পক্ষ না, বরং ৩টা পক্ষ একটিভ আছে - আপার-ক্লাস ও শিকখিত হিন্দু; অশিকখিত ও ‘কুসংস্করাচ্ছন্ন’ :) মৌলবি-টাইপ মুসলমান এবং শিকখিত-মুসলমান (ব্রিটিশরা এইখানে এক্সাটার্নাল পার্টই)
তো, মেইন ঝামেলা'টা হইতেছে ‘শিকখিত মুসলমানদেরকে’ নিয়াই, যদিও উনারা একটা মিডল-গ্রাউন্ড নিয়া আছেন বইলা ক্লেইম করতেছেন, কিনতু উনারা আসলে শিকখিত ও আপার-ক্লাস হিন্দুদের পারপাসই সার্ভ করতেছেন, যে, যদিও মুসলমান'রা গরু খাইতে পারে, কিনতু যেহেতু হিন্দুদের এতে সমস্যা হয়, মুসলমানদের উচিত গরু না খাওয়া ও জবাই না করা…
এখন হিন্দুদের দাবি তো তা-ও মানা যায়, কিনতু মুসলমানদের হিন্দুগিরি তো ‘কুসংস্কারাচ্ছন্ন’ মুসলমান'রা মানেন নাই! সিঙ্গেল মোস্ট ট্রিগারিং ঘটনা ছিল মীর মোশাররফ হোসেনের ওকালতি, যেইটা শিকখিত-মুসলমানদেরকে হিন্দুদের সাথে পুরাপুরি এলাইনড কইরা তুলছিল…
তবে এই ইস্যুতে, মাওলানাদের যে ফতোয়া, এই হিন্দু পক্ষপাতিত্বের কারনে মীর মোশাররফ হোসেনের বউয়ের সাথে তালাক হয়া গেছে - এইটা (ঠিক বা ভুলের বাইরেও) পলিটিকাল ঘটনাই ছিল
গরু-বির্তকের হিস্ট্রিকাল এসেন্স এইটাই যে - শিকখিত-মুসলমান হইতে হইলে আপনারে হিন্দু কলোনিয়াল-কালচারের সাবস্ক্রাইবার হইতে হবে! গরু খাওয়া বা না-খাওয়ার চাইতে এর যে পলিটিকাল সিগনিফিকেন্স সেইটাতে ঈমান আনতে হবে!
৩.
১৯৪৭-এর পরে পুব-পাকিস্তানে এবং ১৯৭১-এর পরে বাংলাদেশে এইটা এতোটা সোশাল ও পলিটিকাল ইস্যু হিসাবে না থাকলেও এর কালচারাল সিগনিফিকেন্সটা মোটামুটি রয়া গেছে
সৈয়দ আলী আহসানের এইরকম একটা ঘটনা আছে, উনি উনার অটোবায়োগ্রাফি ‘জীবনের শিলান্যাসে’ বলতেছিলেন যে, ১৯৭২ সালে ভাবতেছিলেন, কুরবানি দিবেন না, সেই টাকা দান-খয়রাত কইরা দিবেন, তখন একজন উনারে বুঝাইলেন যে, ইসলাম ধর্ম-মতে এইটা তো আপনি করতে পারেন না! যদি আপনার সামর্থ্য থাকে, তাইলে কুরবানি দেয়াটা আপনার ধর্মিয় দায়িত্ব, এইটা তো ইচ্ছা-অনিচ্ছার কোন বিষয় না… তো, পরে উনি কুরবানি দিছিলেন; কিনতু আমি বলতে চাইতেছি, এই যে গরু জবাই করা, কুরবানি দেয়া - এইটা একটা কালচারাল স্টিগমা হিসাবে স্টিল এগজিস্ট করে, বাংলাদেশের মুসলমান সমাজে
কুরবানি দেয়া, গরু জবাই করা এসথেটিকালি একটু পুওর জিনিসই তো! মানে, এর লগে ‘প্রানী অধিকার সংরক্ষন'-ও অ্যাড করতে পারেন আপনি, অইসব আইডিওলজিকাল জায়গাগুলা তো আছেই, কিনতু পলিটিকাল ইস্যু হিসাবে এর রিলিভেন্সটা যে একেবারেই নাই - তা-ও না আর কি!
কারন একদিক দিয়া বাংলাদেশে গরু জবাই কইরা এখন আপনারে নিজেরে মুসলমান প্রমান করতে হয়, এবং আরেকদিক দিয়া গরু-খাওয়া মুসলমানদেরকে ‘আদার’ না কইরা নিজেরে ‘শিকখিত’ প্রমান করাটাও কঠিনই; যেই কারনে, গরু নিয়া আলাপের রেলিভেন্স এখনো আছে, এমনকি আগের চাইতে বেশি-ই মনেহয়….
এডিটর, বাছবিচার
জুন, ২০২৫ | 457 |
اکنون در دسترس! پژوهش تلگرام ۲۰۲۵ — مهمترین بینشهای سال 
