fa
Feedback
ইমরুল হাসান

ইমরুল হাসান

رفتن به کانال در Telegram

রাইটিংস

نمایش بیشتر
2 419
مشترکین
-524 ساعت
-37 روز
-1330 روز
آرشیو پست ها
২৫. জুন, ২০২৬: The Muslim Minds, শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হকের পলিটিকাল সিগনিফিকেন্স https://youtu.be/WFCe9hWriU4?si=MF17pb7HZtiN5XGQ

আমার পাবলিক আলাপ ইসপেশালি গত দুই বছরে অনেকগুলা পাবলিক আলাপ আমি করছি, সব মিলায়া ২৫টা আলাপের লিংক একসাথে পারলাম… সব আলাপ-ই ইম্পর্টেন্ট না, কিনতু ৫-৭টা আলাপে কিছু কথা আমি বলতে পারছি মনেহয়… আমার রিকমেন্ডশন হইতেছে ১, ৩, ৬, ৮, ১৪, ১৬, ২২; অন্যগুলাও শুনতে পারেন, তবে অডিও-ভিডিও কোয়ালিটি কোনটারই খুব বেশি ভালো না আর কি! :( তো, নানান জায়গায় জিনিসগুলা ছড়ায়া আছে, একটা সময় এক জায়গায় কইরা ফেলতে পারলে ভালো… কতো যে কাজ, আর আইলসামিও যে এতো আরামের জিনিস, দুইটার ভিতরে চুজ করা মুশকিলই হয়, বেশিরভাগ সময়! 🥱 … ১. মোহাম্মদ আজমের বই নিয়া কথা (ঢাকা, বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র, সেপ্টেম্বর ২০১৯) https://youtu.be/hB6WX0y6JHg?si=2qQyW76fSE6vwCQI ২. ইন্টারভিউ সিরিজের বইগুলা নিয়া কথা (ঢাকা, ডিসেম্বর ২০১৯) https://youtu.be/SAPxkSDkAgE?si=pPNateL0opFaST0g … ৩. মিডিয়া-রিয়ালিটির মুখস্ত সমাজে কি করতে পারি আমরা? (চিটাগাং, ষোলশহর রেলস্টেশন, SAD, ০৮/১১/২০২৪) (পোগরামের লাইভ একটা ফুটেজ আছে https://www.facebook.com/share/v/18mdPtRZAh/) ৪. বাকশালি বয়ান থিকা সরতে কি করতে পারে ইন্টেরিম গবমেন্ট (ঢাকা, রসিক আড্ডা, শিল্পকলা একাডেমি, ১০/১২/২০২৪, পোগরামে যাওয়া হয় নাই, একটা অডিও শেয়ার করা হইছিল…) https://youtu.be/7VPX1kSqYAk?si=2yqC5y3TkblLSnL8 ৫. বাকশাল কি? এবং এইটা কেমনে ফাংশন করে? (গোপালগঞ্জ, গোপালগঞ্জ ভার্সিটি, ২০২৪) [আলাপের ভিডিও'টা নাই, তবে এই ইবুক'টা বেইজ-লাইন হিসাবে কাজ করছে এই আলাপের https://www.facebook.com/share/p/1GNcdmYodZ/] ৬. বাংলাদেশের আর্ট-কালচার এবং দেবাশিস চক্রবর্তীর ডিজিটাল ড্রয়িং (ঢাকা, শিল্পকলা একাডেমি, ১৮/০১/২০২৫) [মূল আলাপের ভিডিও নাই, কোশ্চেন-আনসার সেশনটা আছে https://youtu.be/RAX9Wr2qAKI?si=O33eabfLvuOGaVRh]… ৭. ‘বাঙালি মুসলমান প্রশ্ন' বই নিয়া আলাপ (ঢাকা, সিটিজেন ইনিশিয়েটিভ, ৩০/০৫/২০২৫) https://youtu.be/z4yO3fc__ok?si=kQ84FrLs2xyzKSKv (বইটা নিয়া আরো একটা আলাপ শুনতে পারেন এইখানে https://youtu.be/x_ttmEpMfBw?si=liiDllTBEuiZ-7Ql) ৮. হিস্ট্রি, কালচার ও পলিটিকসে ‘বাংলাদেশ ধারনা' কেন একটা মিসিং ঘটনা? (সিলেট, ০৪/০৭/২০২৫) পার্ট ১: https://youtu.be/qm9W33nCkok?si=tYHx2uBoVj-5iVi6 পার্ট ২: https://youtu.be/iyVaO6FWYK0?si=aMcc0Lah2-JLXvLq ৯. জাগো হুয়া সভেরা: বাংলাদেশের ভিজুয়াল নিয়া আলাপ (ঢাকা ভার্সিটি, ১৯/০৭/২০২৫) https://youtu.be/_iyR0GFYdWM?si=DvpQG3B6usv2zM8- ১০. জুলাই-উত্তর বাংলাদেশে সাহিত্য-চিন্তা (ঢাকা, দৈনিক আমার দেশ, ২৬/০৭/২০২৫) https://youtu.be/QcDXc7sEOvg?si=emx37Xj8m418FlKw ১১. নয়েজ, নেটওয়ার্ক ও নিরবতা: সেন্সরশিপের ৩টা টুল নিয়া কয়েকটা কথা (ঢাকা, বাংলা একাডেমি, ০২/০৮/২০২৫) https://youtu.be/Sydfl3wUHOY?si=wZCT94W4IYO1219Y ১২. ইনকিলাব কালচারাল সেন্টারের বিসমিল্লাহ বৈঠকে (ঢাকা, ০৫/০৮/২০২৫) https://youtu.be/ie5bgcroKfc?si=TqZ4-q46UFdTSGW7 ১৩. বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক বোঝাপড়া (ময়মনসিং মুসলিম ইন্সিটিটিউট, জনমুক্তি ০৪/১০/২০২৫) https://www.facebook.com/share/v/1EH1y28dxk/ ১৪. বাংলাদেশপন্থা কারে কয়? (ঢাকা, হাতিরপুল, বাঙলানামা পাঠচক্র, ১৮/১০/২০২৫) https://youtu.be/Z9D_vBbDNgU?si=GRpg3J_hBz69aBdG ১৫. শিখাগোষ্ঠি নিয়া আলাপ (ঢাকা ভার্সিটি, ইসলামিকেট বেঙ্গল, ২৪/১০/২০২৫) https://youtu.be/X5r2HE7K6cY?si=u6UYzVemZw4KdC3G ১৬. বাংলাদেশি সিনেমা কেন ও কিভাবে বাংলা-সাহিত্যের চাইতে একটা আলাদা লিগাসির ঘটনা? (ঢাকা, ইনকিলাব কালচারাল সেন্টার, ০৬/১২/২০২৫) https://youtu.be/rkQu3qt3EUE?si=6ly4eyZdUfFEnDVV ১৭. নতুন পলিটিকাল পার্টি নিয়া আলাপ: রক মনু ও শাওন চিশতির সাথে (ঢাকা, মার্চ ২০২৫) https://youtu.be/rlEGgh8vxOY?si=T_TCPcpC03uqG7jQ ১৮. কেন বাংলাদশে কোন ইলেকশন ফ্রি, ফেয়ার ও ট্রান্সপারেন্ট হইতে পারে না? (ঢাকা, ইনকিলাব কালচারাল সেন্টার, ৩০/০১/২০২৬) https://youtu.be/EQm58COE9Jw?si=Ps3oDxB-bQBrurX7 ১৯. “জুলাই বয়ান” বই নিয়া আলাপ (ঢাকা, ইনকিলাব কালচারাল সেন্টার, ১০/০৪/২০২৬) https://www.facebook.com/share/v/18pb6Ecmrc/ ২০. সাতচল্লিশের দেশপ্রাপ্তি ও আজাদী (ঢাকা ভার্সিটি, ডাকসু, ১৫/০৫/২০২৬) https://www.facebook.com/share/v/1Gdh4bGwUQ/ ২১. পলাশী উত্তর বাংলাদেশ (ঢাকা ভার্সিটি, সিবিএস, ২৭/০৬/২০২৬) https://youtu.be/E-nu82Zg8rw?si=iorptGESl9kxCMj7 … পডকাস্ট ২২. সেপ্টেম্বর, ২০২৫: y to zee podcast কালচার ও পলিটিকস, আফটার জুলাই https://youtu.be/BIBL_azP1qI?si=CRMFZQktm12eOG3m ২৩. জানুয়ারি, ২০২৬: The Muslim Minds, ফেব্রুয়ারি ২০২৬-এর ইলেকশন https://youtu.be/25MpNHz19og?si=pD2DuvQ5DTpgS8sr ২৪. ফেব্রুয়ারি, ২০২৬: Bangladesh and Beyond, বাংলাদেশের ভাষা ও রাজনীতি https://youtu.be/__bKaYrd1TE?si=ndqMRPjYG5IdzT09

০৮/০৭/২০২৬ ইনকিলাব কালচারাল সেন্টার ১. যেই কথাটা কেউ-ই খোলাখুলি-ভাবে বলতেছেন না, সেইটা হইতেছে ইনকিলাব কালচারাল সেন্টারে যেই পরিমান ডিবি-পুলিশ, এনএসআই, সরকারি গোয়েন্দা ও ইনফর্মার ঘোরা-ফেরা করতো ঢাকা শহরের কোন থানাতেও এতো পুলিশ থাকে না মনেহয়! মানে, হাদি খুন হওয়ার আগে থিকাই এবং পরেও এইটা হয়া উঠছিল নজরদারি'র একটা সেন্টার! ২. যার ফলে, আমি মনে করি, এই সেন্টার'রে ফাংশনাল কইরা তোলা মোটামুটি ইম্পসিবল বেপার! তারপরেও জাবের, জুমা, ফাহিম উনারা অনেক ট্রাই করছেন... কিনতু স্টিল দে আর সারাউন্ডেড বাই দা উলফস! উনাদের বয়স কম, আশা করি উনারা উনাদের ট্রমা কিছুটা হইলেও ওভারকাম করতে পারবেন, এবং নতুন কইরা অনেক কিছুই শুরু করতে পারবেন! আমি বলবো, আপনারা আপনাদের কাজ করেন, আপনাদের কাজের ভিতর দিয়াই হাদি'র কাজ ফুইটা উঠবে! ৩. আই গেইস, ইনকিলাব কালচারাল সেন্টার মারা যাবে না, কিনতু এর পক্ষে একটা কালচারাল হাব হয়া উঠা'টা টাফ... কারন এইটা খালি ইনডিয়ান কালচারাল হেজিমনির জন্যই থ্রেট না, বরং বিএনপি, এনসিপি, জেআই যে কারো পলিটিকসের লগে যায় না, কিনতু টিইকা থাকার জন্য হয়তো কারো না কারো পকেটেই ঢোকানো হবে, শেষমেশ! মানে, এইটা ধ্বংসাবশেষ হবে না, এমন একটা জিনিস হয়া উঠতে পারে যেইটা হাদি'রেই কোশ্চেনেবল কইরা তুলবে, যেইরকম অসংখ্য প্রোফাইল পিকচার দিয়া করা হইছে, ফেইসবুক... মানে, পলিটিকস ও কন্সপিরেসির প্লে-বুক এখন অন্য রকম একটা লেভেলেই ফাংশন করে... ৪. কিনতু দেড়-দুই বছরে ইনকিলাব কালচারাল সেন্টার যা-ই করছে, যতটুকই করছে, আমি মনে করি অনেক কিছু্রেই ইন্সপায়ার করছে, এবং করবে... বেস্ট উইশেস টু অল!

০৮/০৭/২০২৬ বাংলাদেশের মিলিটারি বাংলাদেশের মানুশের মিলিটারি'র উপর ভরসা আছে, কিনতু কেন ও কিভাবে এই ভরসার জায়গাটা তৈরি হইছে, সেইটা নিয়া আলাপ কম-ই... যেমন ধরেন, জুলাই আপরাইজিংয়ের সময়ও মিলিটারি'র একটা অংশ মানুশের উপর গুলি চালাইলেও মানুশ ভরসা রাখছে মিলিটারি'র উপরে যে, বাংলাদেশের মিলিটারি বাংলাদেশের মানুশের সাথে গাদ্দারি করবে না! এবং মোটা দাগে সেইটা করেও নাই! জুলাইয়ের পরেও মিলিটারি ইন্টেরিম গবমেন্টের প্রবলেমের কারন হয় নাই... (রাস্ট্রের নানান ইন্সস্টিটিউশনের মধ্যে টেনশন কিছু থাকে, অইটা অন্য আলাপই কিছুটা...) তো, কেন ও কিভাবে এই ভরসার জায়গাটা তৈরি হইলো? দুই-তিন বছর আগে আমি মুক্তিযুদ্ধ নিয়া ছোট একটা আলাপ দিছিলাম, তখন বলছিলাম যে, দেখেন, ১৯৭১ সালের যুদ্ধ ছিল একটা মিলিটারি ওয়ার! বাংলাদেশের দিক থিকাও এই যুদ্ধ শুরু হইছিল জিয়াউর রহমানের 'উই রিভোল্ট' বইলা চিটাগাং ক্যান্টমেন্ট থিকা বাইর হয়া আসার ভিতর দিয়া! যুদ্ধে ধিরে ধিরে বাংলাদেশের মানুশ-জন শামিল হইছেন, কিনতু একটা মিলিটারি ওয়ার হিসাবেই এই যুদ্ধ চলছে! তো, ১৯৭১-এর যুদ্ধের পরে বাংলাদেশ যে একটা স্বাধিন রাস্ট্র হইলো, সেইখানে মিলিটারি'র বড় একটা রোল আছে! এবং এইটারে না-বলার একটা ঘটনা বাংলাদেশের হিস্ট্রি'র বয়ানের মধ্যে আছে... কিনতু মানুশ-জন তো জানে আসলে! (আর এই কারনেই দেখবেন, ১৯৭১-এর যুদ্ধ শেষ হওয়ার পরপরই ইনডিয়া বাংলাদেশের মিলিটারি'রে রিপ্লেইস করতে চাইছে প্রতিরক্ষা চৃক্তি, রক্ষিবাহিনি'র ভিতর দিয়া...) এবং যুদ্ধ শেষে যখন সিভিল গবমেন্ট রাস্ট্র চালাইতে শুরু করছে মিলিটারি ব্যারাকে ফিরা গেছে; এমনকি ১৯৭৫ সালে অনেকগুলা ক্যু ও পাল্টা-ক্যু'র পরে জিয়াউর রহমান মিলিটারি রাস্ট্র চালাবে - এর বাইরে গিয়া সিভিল গবমেন্টই ফর্ম করতে চাইছেন! এরশাদ এই জায়গায় প্রবলেম ক্রিয়েট করছেন... এবং ২০০৭-তে সরাসরি রাস্ট্র-ক্ষমতাতে এন্টারফেয়ার করার ঘটনাও মিলিটারি'র ক্ষতিই করছে! আর যখন মিলিটারি আবারো সরে গেছে তখন ২০০৯-এর বিডিআর ম্যাসাকারের ভিতর দিয়া মিলিটারি'রে ইন্সিটিটউশন হিসাবে কম-জোরি করার ঘটনা ঘটছে... মানে, আপনি যদি দেখেন, বাংলাদেশের মিলিটারি কখনোই বাংলাদেশের মানুশরে খুন করে নাই, ১৯৭১ সালে বরং বাঁচাইছে, আর সেই মিলিটারি'রে দিয়া হাসিনা ও ইনডিয়া গুম-খুন করাইছে! যেইটা বাংলাদেশের মিলিটারি'র হিস্ট্রিকাল রোলের সাথে যায় না, এলাইনড না! যেই কারনে, বাংলাদেশের মানুশের একটা ভরসা সবসময় মিলিটারি'র উপরে আছে, যে, তারা লাইনটা ক্রস করবে না! আমি খুব অল্প কথাতেই জায়গাটারে মার্ক করার ট্রাই করলাম, বিস্তারিত খুঁটি-নাটি আরো অনেক আলাপ তো আছেই...

আহমদ ছফা ও সাহিত্য-সার্কেল (২০২৫) আহমদ ছফা'র সাথে একবার দেখা হইছিল আমার, বাচ্চা-বয়সে, ১৯৯৩/৯৪ সালের দিকে, ভার্সিটিতে মাত্র ভর্তি হইছি; উনি আজিজ মার্কেটে একটা অফিস নিয়া বসেন মনেহয় তখন, বা আসা-যাওয়া আছে... আমরা একটা লিটল-ম্যাগাজিন ছাপাইছি, অইটা উনারে দিছিলাম, উনি নিয়া কিছু কথা বলছিলেন (আমিনুল বারী) শুভ্র'রে, যে সম্পাদক ছিল পত্রিকাটার, আমি সাথে ছিলাম... অইরকম রিমার্কেবল কোন কথা হয় নাই... এরপরে দুয়েকবার পথে-ঘাটে দেখছি উনারে, কিনতু কখনো কথা হয় নাই আর, পরে তো উনার অলমোস্ট সবকিছু পড়ছি, এবং মোস্টলি ক্রিটিকই করছি, যদিও মানুশরে দেখার যেই দরদ উনার, সেই জায়গাটারে আমি এপ্রিশিয়েট করি এবং রেয়ারও মনে করি বাংলাদেশের ইন্টেলেকচুয়ালদের মধ্যে... আমার ধারনা, উনার লাইফ-স্টাইল উনি এনজয় করতেন, কিনতু আমি কিছুটা ভয়-ই পাইছি, আমার মনে হইছে জিনিসটা খালি অনেক বন্ধু-বান্ধব থাকা-ই না, বরং অনেক বেশি ডিপেন্ডেড হয়া থাকাও কিনা... মানে, লাইফে কম-বেশি ডিপেন্ডেন্সি তো সবারই থাকে, থাকা লাগে; তো, অইটা আপনার চিন্তা-ভাবনারেও লিমিট কইরা ফেলতে পারে তো! মানে, আমরা অনেকের সাথে আমাদের সম্পর্কের কারনেই আসলে অনেক কিছু ভাবতে পারি, বা এমনকি ভাবতেও রাজি করাইতে পারি না নিজেদেরকে... অই অপারচুনেটি ও অবস্টেকল'টা আছে আমাদের পরে একটা লেখাটাতে পাইছি যে, আহমদ ছফা আক্ষেপ করতেছেন, ঢাকা শহরে এখন আর সাহিত্যিকদের আড্ডা হয় না বইলা ভালো-লেখক তৈরি হইতেছে না! অথচ দেখেন, শহিদুল জহির যে কিছুটা ভালো-লেখক হইতে পারছেন তার একটা কারন তো এইটাও যে, উনারে সাহিত্য-সমাজের লোক হয়া একই ধরনের সাহিত্যের একো করতে হয় নাই! মানে, আহমদ ছফা'র কাছে যেইটা তার লাইফের সবচে জরুরি জিনিস মনে হইছে, আমি অইটারে ডরাইছিই কিছুটা; উনি মনে করছেন, যে কোন মূল্যে হোক একটা সাহিত্য-সার্কেলের লোক হইতে হবে, ঢাকার ইন্টেলেকচুয়াল, সাহিত্যিক হিসাবে সারভাইব করতে হইলে! কিনতু আমি দেখছি যে, কিছুটা না সরতে পারলে তো মুশকিলই... তো, যেহেতু দুইটা সময়ের এক্সপেরিয়েন্স, আলাদা আসলে হইতেই পারে! কিনতু একইসাথে, একটা কানেকশন যেমন জরুরি, চিন্তার 'গোত্রবদ্ধতা'-ও বেশিরভাগ সময় তো বাজে জিনিসই! ৩০/০৬/২০২৫

বাংলাদেশের মুসলমানরা বাংলাদেশের হিন্দুদের সাথে যতটা ইজি, পশ্চিমবঙ্গের মুসলমানদের সাথে ততটা এটাচড না! এবং হিন্দুদের বেপারেও এইটা কম-বেশি সত্যি! আর এইটা অনেকেই খেয়াল করতে রাজি না! মানে, বাংলাদেশের মুসলমানদের চলা-ফেরা, উঠা-বসা, মিল-মিশ হিন্দুদের সাথে ইজিলি ঘটে, অইখানে তেমন কোন আন-ইজি নাই, নরমালি... বরং ইনডিয়ার মুসলামনদের সাথে এতোটা ইজি রিলেশন নাই কিনতু; পশ্চিমবঙ্গের মুসলমান'রা বরং skeptical কিছুটা বাংলাদেশের মুসলমানদের সাথে মিল-মিশের বেপারে; অইরকম রিলেশন কিনতু কমই! উনারা বরং ইনডিয়ান হইতেই বেশি রাজি! বাংলা-ভাষী মুসলমান হিসাবে বাংলাদেশি হওয়াটা উনাদের কাছে মেবি ইনফিরিয়র ঘটনাই কিছুটা! উনারা মুসলমান হইলেও ইনডিয়ানই হইতে চান! সিমিলারলি, হিন্দুদের বেপারেও, যদিও এক ধরনের 'আদারিং'-এর ঘটনা শুরু হইছে কিছুটা এখন বাংলাদেশে, এবং অনেক সম্পত্তি দখলের ভিতর দিয়া ভয় ঢুকায়া দেয়া হইছে পলিটিকালি, তারপরও সোশাল-স্পেইসে আন-ইজিনেস এখনো কমই... হিন্দুরা তাদের পরিচয়ের কারনে 'আদার' না, বাংলাদেশে! তো, এই যে জিওগ্রাফিকাল কো-হেরিয়েন্স - এইটা আলাপ-আলোচনার মধ্যে বেশ এবসেন্ট জিনিসই!

২৯/০৬/২০২৬ পলিটকাল পন (pawn) যাদেরকে পলিটিকাল pawn বা দালাল বইলা আমরা মনে করি নট নেসেসারিলি যে উনারা সবাই খুব খারাপ মানুশ, বরং বেশিরভাগ সময়েই উনারা aware হইতে রাজি না যে, কার এবং কোন পলিটিকাল পারপাস উনারা সার্ভ করেন বা করতেছেন! মানে, কেউ খারাপ মানুশ বইলাই দালালি করেন না (কেউ কেউ তো করেন অবশ্যই), বরং উনারা মনে করেন যে, এইটাই করা উচিত আমাদের! এবং এতোটাই শিওর থাকেন যে, কোন এর জন্য যে কোন বে-আইনি ও অ-নৈতিক কাজ করতেও উনারা হেসিটেট করেন না! তো, এইটাই হইতেছে সমস্যাটা! উনাদের ‘ডেডিকেশন' এতোটাই যে, উনারা লাইনটা ক্রস কইরা যান! যেই কারনে দেখবেন, একটা সময়ের ‘আদর্শবাদীরা’ অন্য একটা সময়ের ‘দালাল'-এ পরিনত হন, খুব সহজেই! এবং এই গ্রুপটারেই এজেন্সিগুলা pawn হিসাবে টার্গেট করে... এবং সফলও হয় তাদেরকে নিয়া নানান জিনিস মবিলাইজ করাইতে! মানে, যারা পলিটিকাল pawn বা দালাল বেশিরভাগ কেইসেই উনারা ভাবেন যে, কোন একটা সমাজ-সচেতন দায়িত্ব উনারা পালন করতেছেন... কিনতু একটা সময়ে গিয়া তাদের অনেকেই রিয়ালাইজ করতে পারার কথা ট্রাপ'টা; কিনতু ততদিনে 'প্রফেশনাল' হয়া উঠতে পারেন উনারা! 🥱

১৫/০৬/২০২৬ শাবানা (জন্ম: ১৫ ই জুন, ১৯৫২) আজকে নায়িকা শাবানা'র জন্মদিন; বাংলাদেশে শাবানা এখন অনেকটা মিম-ম্যাটেরিয়াল, ১৯৮০'র দশকে উনি ছিলেন এমন নায়িকা যার জামাই ও বাচ্চা-কাচ্চা আছে, মানে, 'বাড়ির বউ' টাইপের রোলে-ই বেশি অভিনয় করছেন, 'প্রেমিকা' না এতোটা, বরং হাউজ-ওয়াইফ! উনার দুক্খ-কস্ট দিয়াই আমরা উনারে চিনি... 'শাবানা ও সেলাইমেশিন' নামেও কারো লেখা থাকতে পারে, না থাকলে সমাজ-বিশ্লেষনমূলক লেখাও কেউ লেখতে পারেন... মানে, বাংলাদেশের সিনেমা বলতে আমরা যা বুঝি, তার মেমোরি তো শুরু হইছে ১৯৮০'র পর থিকা আসলে, কারন এর আগের ফটোগ্রাফ, ভিডিও খুব একটা নাই... তো, অইখানে শাবানা অইরকমই... কিনতু উনার ফিল্ম ক্যারিয়ার তো শুরু হইছে ১৯৬৭'র দিকে! এতহেশামে'র চকোরী ছিল হিট একটা সিনেমা, ইউটিউবে দেখছিলাম এক সময়, শি ওয়াজ সাচ আ বিউটি! তারপরে অনেকগুলা উর্দু সিনেমা করছেন উনি, বাংলা সিনেমাও... এমনকি ১৯৭৮ পর্যন্ত মেবি 'গ্ল্যামারাস' রোলগুলাতে অভিনয় করছেন উনি... এরপরে যখন বয়স হইতে শুরু করছে, উনি রিটায়ার করেন নাই আর, বা বউ-ভাবী-মা রোলগুলাতে শিফট করছেন! আর উনারা তো আমাদের ফিল্মি রিয়ালিটিতে এক রকমের 'হাস্যকর'-ই! আর তার মেইন উদাহারন হয়া উঠছেন শাবানা! তো, ইন্টারেস্টিং একটা ঘটনাই এইটাই...

১৫/০৬/২০২৬ এইরকম কথাও দেখবেন আছে যে, জুলাইয়ের পরে জুলাই-পন্থি কোন ইন্সিটিটিউশন দাঁড়ায় নাই! তো, দাঁড়ায় নাই বা তৈরি হয় নাই – বেপার’টা এইরকম না, বরং এইরকম আলাপের ডেসটিনেশন হইতেছে যে, ইনডিয়ান কালচারাল এস্টাবলিশমেন্টের বাইরে কোন স্পেইস তৈরি হইতে আমরা দিবো না! যেই কারনে, প্রো-ইনডিয়ান কালচারাল এস্টাবলিশমেন্টগুলাই দেখবেন মিউ মিউ টাইপের কিছু জুলাই-বন্দনা চালু করছে নিজেরা নিজেরা, যারা ‘পকরিত' জুলাই দাবি কইরা আনু মুহাম্মদ'রে আর কারে কারে জানি মাস্টার-মাইন্ড দাবি করতে চাইতেছিল, তো, ‘মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস'-এর মতো এই বাটপারিগুলা বরং কাজ করে নাই! জুলাইয়ের একটা বড় ইন্সিটিটিউশন হইতেছে ইনকিলাব কালচারাল সেন্টার! এমনকি হাদি’রে খুন করার পরেও এই ইন্সিটিটিউশনরে, ইয়াং-পিপলদের মধ্যে এর আকাংখা'রে কব্জা করা যায় নাই! এইরকম আরো কিছু স্পেইস তৈরি হইছে – যেমন, এক The Dissent মাফিয়া-মিডিয়ারে যেইরকম চাপের মধ্যে রাখছে, ‘আমার দেশ' তার প্রেজেন্সের ভিতর দিয়া কিছুটা হইলেও চাপ তৈরি করতে পারতেছে, পডকাস্টগুলা টকশো'রে টেইক-ওভার করতেছে… মানে, একটা ইন্সিটিটিউশন তৈরি হওয়ার পরেও, ইন্সিটিটিউশন হিসাবে পারফর্ম করার পরেও এর ইমপ্যাক্ট ভিজিবল হইতে লাগে! অনেক সময় বলাও হয় নাই, কিনতু না বললেই তার ইমপ্যাক্ট নাই হয়া যায় না আর কি! যেমন ধরেন, বাংলাদেশে বইয়ের ইতিহাস নিয়া বদিউদ্দিন নাজির একটা ডিটেইল বই লেখছেন, অইখানে সেবা প্রকাশনি’র নাম-ই নেন নাই! কারন মেবি অরা তো ‘মান-সম্মত' বই ছাপায় না! তো, এই কারনে সেবা প্রকাশনি কি নাই হয়া গেছে! বাংলাদেশের বেশিরভাগ পাঠাগার/লাইব্রেরি দেখবেন সেবা প্রকাশনির বই পড়ার জন্য রাখা হয় না, যেন এইগুলা পড়ার মতো বই না, তারপরও আমরা যারা পড়তে চাইছি, ঠেকায়া রাখতে পারছে? তো, এইরকম জুলাইয়ের ইন্সিটিটিউশনও তৈরি হবে, তৈরি হইতেছে, এমনকি অনেক ‘কবি যশোপ্রার্থিদেরকে’-ও দেখবেন ‘বাধ্য হইয়া' জুলাইয়ের কবিতা লেখতেছে! পরে পরিস্থিতি চেইঞ্জ হইলে মাফ-টাফ চাইয়া নিবে! 🥱

১৪/০৬/২০২৬ অনেকেই বলেন বা বলতে চান যে, জুলাইয়ের তেমন কোন এফেক্ট ভিজিবল না, কিনতু এইটা আমার কাছে ট্রু রিফ্লেকশন মনে হয় না, আমি বরং উল্টা'টাই দেখি… কেন? বলি! বাংলাদেশে ৫০ বছর বয়স পার কইরা ফেলছেন, এইরকম ইন্টেলেকচুয়াল, আরটিসটদের ৮০%-৯০% দেখবেন আওমি-লিগের দালাল না হইলেও সিমপেথাইজার, বড় জোর ১০%-২০% পাইবেন জুলাইয়ের দিকের লোক… কিনতু আপনি যদি ৩০ বছরের নিচে দেখেন, ২০% ইন্টেলেকচুয়াল, আরটিসট পাইবেন কিনা সন্দেহ যারা আওমি-লিগের পক্ষের লোক, এবং এরাও সিসটেমেটিক কারনে, ইন্সিটিটিউশনে ঢোকার জন্য আওমি-বাকশালি সোশাল সার্কেলের লগে এনগেইজড… মানে, এরা সবসময় এইরকমই! মানে, একটা গ্রুপ অফ ইন্টেলেকচুয়াল, আরটিসটদেরকে দেখবেন, এরা ‘পরমিত'তে লেখলেও বলে ‘বাধ্য হয়া' লেখতেছি, তা নাইলে কোথাও লেখা ছাপায় না; আবার ‘কমন-বাংলায়' লেখলেও বলে, চাকরি বাঁচানোর জন্য করতেছি! 🥱 মানে, উনারা একটু ‘দুর্বলচিত্তের’ লোকজনই… তো, এইটা সমস্যা না; আমার কথা হইতেছে এইরকম ১০%-২০% ইন্টেলেকচুয়াল, আরটিসট আপনি সবসময় পাইবেন, যারা কোন পলিটিকাল ডিসিশান নিতে পারে-না না, নিতে রাজি হইতে পারে না! গ্রে থাকলে পারলে তো সুবিধা বেশিই! তো, এই যে, ৩০ বছর বয়সের নিচে (কম বা বেশি) জুলাই-পন্থি বাদে কোন ইন্টেলেকচুয়াল, আরটিসট নাই – এইটাই হইতেছে জুলাইয়ের মেইন স্ট্রেংথ আসলে!

ফেইসবুক কাজ না করা মোটামুটি ভূমিকম্পের চাইতেও বড় ঘটনা! 🥱

১২/০৬/২০২৬ বিজনেস, ক্রাইম, পলিটিকস কয়েকদিন আগে নিউজ দেখতেছিলাম যে, পশ্চিমবঙ্গের মমতা ব্যানার্জির এমপি'রা সব বিজেপি'তে জয়েন করতেছে, তো, উনারা সবাই ‘ক্ষমতার পাগল' বইলা এই কাজ করতেছেন বইলা আমার মনেহয় না, বরং এইখানে একটা ‘পলিটিকাল টেকনিক' আছে… পশ্চিমবঙ্গের বিজেপি'র যে লিডার, তার নামেও বড়সড় দুর্নীতির অভিযোগ আছে; তারপরে বিহারে যে মুখ্যমন্ত্রি বিজেপি'র সেও আদালতে কনভিক্টেটেড আসামি, কিনতু সরকারি কাগজ-পত্রে আইডেন্টিটি বদলায়া ফেলছে, এইরকম… মানে, উনাদের কম-বেশি ক্রাইম আছে! এবং আমাদের রাস্ট্রের আইনি স্ট্রাকচারগুলাও এইরকমের যে, জাইনা হোক বা না-জাইনা ‘আইন ভঙ্গ' না কইরা সমাজে টাকা-পয়সা ইনকাম করা বা ইমপ্যাক্টফুল অরগানাইজেশন ও ব্যক্তি হওয়াটা টাফ, ইম্পসিবল না অবশ্যই, কিনতু সেইক্ষেত্রেও অনেক উকিল ও সাংবাদিক পালতে হবে আপনারে! মানে, স্ট্রাকচার’টাই অনেকটা এইরকম… আপনার বিশাল টাকা-পয়সা আছে, তো, কিছু পলিটিকাল কানেকশন ও সরকারি অফিসের যোগাযোগ আপনার থাকা লাগবে, বাংলাদেশে এইটা হইতেছে ‘বিজনেস নর্মস’! এইখানে আপনার কিছু ‘ইনভেস্টমেন্ট'-ই খালি লাগবে না, ‘জ্বী হুজুর, জ্বী হুজুর…’ করা লাগবে! আর তারপরেও কাহিনি আছে! যেইটারে বাংলাদেশে আওমি-লিগ ও ইনডিয়াতে বিজেপি ‘নেকস্ট লেভেলে' নিয়া গেছে! যে, আপনার ‘ক্রাইম’ থিকা যদি ‘মুক্তি' পাইতে চান তাইলে যারা পলিটিকাল পাওয়ারে আছে তাদের পিছন পিছন ঘুরতে হবে! এমনকি, যদি আপনার কোন ক্রাইম না থাকে, আপনি বড় পলিটিকাল লিডারও হইতে পারবেন না আসলে! আর যদি কোন ক্রাইম-হিস্ট্রি না থাকে আপনার, সেইটারে ক্রিয়েট করা হবে, পাবলিকলি ভিলিফাই করা হবে! তো, এইটা কোন কো-ইনসিডেন্ট না আর কি যে, বেশিরভাগ আওমি-লিগের লিডার কেন ক্রিমিনাল ছিল, বরং এইটাই ছিল আওমি-লিগের ‘পলিটিকাল মডেল’! যে, কার ক্রিমিনাল হিস্ট্রি আছে, তারে লিডার বানায়া দাও, তাইলে সে দলের প্রতি ‘লয়াল' থাকবে! বিজনেস-হাউজ ও সরকারি-অফিসগুলাতেও এইভাবে ‘কন্ট্রোল’ এস্টাবলিশ করা হইতো! তো, এইটা হইতেছে আওমি-লিগের ‘পলিটিকস'! এখন, বিএনপি যে আওমি-লিগের এই ‘পলিটিকাল-মডেলের’ বাইরে যাইতে পারতেছে না খুব বেশি, আদ-দ্বীন হসপিটালের লাইসেন্স বাতিল করাটা যে এইরকমের একটা সিগনালিং, এইটা আমাদেরকে মার্ক করতে পারতে হবে আসলে…

১০/০৬/২০২৬ পলিটিকাল মার্সেনারি গ্রুপ আপনার কি মনেহয় চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই, ড্রাগ-পাচারের ভাগ পুলিশ পায় না? যদি ক্রাইমগুলা কমে পুলিশের কি লস হবে না? উকিলদের ইনকাম কি কমবে না? মানে, ক্রাইম তো এক ধরনের বিজনেসই… এরও একটা পলিটিকাল ইকনোমি আছে, কথা-বার্তা যত কমই হোক এইটা নিয়া! আর বাংলাদেশের পলিটিকাল কালচারে এইটা খুবই ভাইটাল একটা জিনিস, পাকিস্তান পিরিয়ডেও ছিল কিছু, ১৯৭১’র পর পর তো বাড়ছেই, এমনকি ১৯৯০’র সময় থিকাই এইটা একটা ইন্ট্রিগ্রাল পার্ট পলিটিকাল পার্টি সিসটেমের – যে, একটা ‘ক্যাডার’ বা মাস্তান-গ্রুপ থাকা লাগবে আপনার, এলাকায় ‘রাজনীতি’ করতে হইলে! তো, এর ইকনোমিক ট্রান্সলেশনটা হইতেছে, কিছু লোকজনরে আপনার পালতে হবে, তাদের আয়-রোজগারের ব্যবস্থা কইরা দিতে হবে, এবং এরা হইতেছে একটা ‘পলিটিকাল মার্সেনারি’ গ্রুপ… আপনি আওমি-লিগ করেন, বিএনপি করেন, বা জামাত করেন, মেবি ইভেন এনসিপি করলেও একটা ‘মার্সেনারি’ গ্রুপরে আপনার ক্যারি করতে হবে, এখনকার পলিটিকাল সিসটেমে যদি অপারেট করতে চান! মানে, উনাদেরকে তো আপনি abandon করে দিতে পারবেন না! করলে, উনারা প্রফেশনাল ক্রাইম-গ্রুপই তৈরি করবেন, কে জানে তাদের কেউ কেউ ‘বিপ্লব'ও কইরা ফেলতে পারেন মেবি 🥱 আমি বলতে চাইতেছি, এইখানে, বাংলাদেশে একটা প্রফেশনাল পলিটিকাল মার্সেনারি গ্রুপ আছে (শিল্পি-সাহিত্যিক-বুদ্ধিজীবীরাদেরও একটা সফিসটিকেট গ্রুপ আছে, মানে, এইটা তো আরো ব্যাপক জিনিসই, ফারুকীর ৮৪০-এ এর কাছাকাছি একটা পোর্টেট পাইবেন…), যারা তাদের আয়-রোজগারের জন্য পলিটিকাল পার্টি-সিসটেমের উপরে ডিপেন্ডেড, এবং উনারা ঠিক জব-সিকারও না, এইটাই ইটসেলফ একটা প্রফেশন! এখন, রাজনীতিতে যদি তাদের প্রফেশনাল রিকোয়ারমেন্ট কমতে থাকে বা বাতিল হয়া যায়, তাইলে উনারা সোশাল-ক্রাইমের জায়গাটারে পপুলেট করতে থাকার কথা একভাবে… আর এইটাতে পুলিশেরও লস নাই আর কি তেমন একটা, মানে, এইভাবেও কিছু জিনিস ভাবা যাইতে পারে মনেহয়…

০৬/০৬/২০২৬ ১৯৪৭ সালে এই সাব-কন্টিনন্টে দুইটা রাস্ট্র জন্ম নিছিল – একটা হিন্দুদের রাস্ট্র, এবং আরেকটা পাঞ্জাবিদের রাস্ট্র! পাকিস্তান রাস্ট্রের মেইন টেনশন ছিল – পাঞ্জাবি ভার্সেস বাঙালি! এইটা খেয়াল করতে রাজি না হইলে বিপদেই পড়তে হবে আমাদেরকে, হিস্ট্রি-রিডিংয়ে! জিন্নাহ এবং মুসলিম লিগ অবশ্যই মুসলমানদের জন্য আলাদা রাস্ট্র চাইছিলেন, কিনতু শেষমেশ হিন্দু আর মুসলমানের বেসিসে তো সীমানা ভাগ হয় নাই! হইছে জিওগ্রাফিকাল হিসাবে! একেক অঞ্চলের মানুশ একেকভাবে ডিসিশান নিছে… পাঞ্জাব-সহ নর্থ-ওয়েস্টার্ন স্টেটগুলা আন-ডাউটেডলি পাকিস্তান চাইছে, কিনতু বাংলা ওয়াজ দা অনলি স্টেট, যেইখানে পলিটিকাল লিডার'রা স্কেপটিকাল ছিলেন ইনডিয়া কিংবা পাকিস্তানে জয়েন করার বেপারে – এই জায়গাটাও আমাদের মনে রাখা দরকার! (যদি অন্য স্টেইটগুলাতেও এইরকমের থার্ড অপশনের আলাপ জোরে-শোরে উঠতো তাইলে হয়তো অন্যরকম কিছু রিয়ালিটি পাইতাম আমরা, কিনতু অইটা একসেপশন হিসাবেই থেকে গেছে…) তো, পুব-বাংলার বেপারে কংগ্রেস যেইরকম স্কেপটিকাল ছিল, জিন্নাহ বা পশ্চিম পাকিস্তানের মুসলিম-লিগও যে খুব উইলিং ছিল – তাও কিনতু না; যার ফলে, একটা ‘অনিচ্ছুক জাতিকে' স্বাধিনতা এনে দিছিলেন জিন্নাহও 🥱 মানে, ১৯৪৭-এর আজাদির পরে ‘বাঙালি' বিষয়ে পাকিস্তানের রাস্ট্রের এটিটুড গ্রসলি এইরকমই ছিল যে, ‘বাঙালিদের'কে পাকিস্তান রাস্ট্রে ‘ইনক্লুড' করতে হবে! মানে, চাকমা, গারো, মনিপুরিদের মতো সংখ্যায় কম হইলে তো সেইটা কোন সমস্যা ছিল না, কিনতু পুব-বাংলার জনসংখ্যা তো পশ্চিম পাকিস্তানের চাইতেও বেশি! আমি বলতে চাইতেছি, পাকিস্তানে পুব-পাকিস্তান কিভাবে ইনক্লুডেড হবে – সেইটা শুরু থিকাই একটা প্রবলেম আকারে ছিল, এবং সেইটা ছিল পশ্চিম-পাকিস্তান না বরং স্পেসিফিকালি ‘পাঞ্জাব'-এর ডমিনেন্সের কারনেই… তো, জিওগ্রাফিকালি পশ্চিম-পাকিস্তানের অন্য প্রভিন্সগুলাতে অই ডমিনেন্স বড় কোন ইস্যু ছিল না, কিনতু জনসংখ্যা ও জিওগ্রাফির কারনে ‘বাঙালি' সমস্যার কোন পলিটিকাল সমাধান পাকিস্তান করতে পারে নাই! পাকিস্তান এমন একটা রাস্ট্র হইতে চাইছে যেইখানে মুসলমান পরিচয়ের কারনে কাউরে যেন সাফার করতে না হয়; তো, এইটা পরে গিয়া ট্রান্সলেটেড হইছে একটা ‘ইসলামি রাস্ট্র’ কল্পনায়… মানে, যারা ‘ইসলামি রাস্ট্র’ তৈরি করতে চাইছেন তাদের অনেকরেই পাকিস্তান আন্দোলনে পাইবেন না, কিনতু পাকিস্তান রাস্ট্র তৈরি হওয়ার পরে তাদের রাজনীতি তৈরি হইছে বরং… এখন সেইটা আরেকটা ক্রুশিয়াল আলাপ-ই, কিনতু আমি অই আলাপে যাওয়ার আগে এই জায়গাটাতেই একটু কনসানট্রেট করার কথা বলতেছি, যে, ইনডিয়া একটা হিন্দু-রাস্ট্র হইলেও পাকিস্তান মুসলিম-রাস্ট্র হইতে পারে নাই, বরং পাঞ্জাব-ডমিনেন্ট সিভিল ও মিলিটারি সোসাইটির নন-ডেমোক্রেটিক শাসনের ভিতর দিয়া ডিফরেন্ট একটা জিনিস-ই হইছে… যেইখানে ‘বাঙালি' হওয়াটারে রাস্ট্র-কাঠামোর মধ্যে বাড়তি একটা ঝামেলা হিসাবে বাতিল করতে হইছে! যেন ‘বাঙালি' হইলে আপনি আর ‘মুসলিম' না এনাফ, একটু ‘পাঞ্জাবি' ফ্লেভারও থাকতে হবে 🥱

০৫/০৬/২০২৬ হুমায়ুন আহমেদের হিমু কেন বাংলাদেশের হিরো? :) মানে, অনেকগুলা কারন তো আছে, বা থাকতেই পারে, কিনতু আমি একটা জিনিসের কথা ভাবতেছিলাম… আমার মনে হইতেছিল, হিমু'র একটা key-feature হইতেছে ডিটাচমেন্ট! সে আলগা! একলা থাকে, এবং কারো কাছে তার কোন জবাবদিহিতা নাই! ইভেন, প্রেমিকারেও সে পার্টনার বানায়া অই একসেস দিতে রাজি না! আমাদের, বাংলাদেশের সমাজে, সোশাল রিলেশনগুলা এতোটাই সাফোকেটিং বা লাগালাগি'র অবস্থায় থাকে যে, যে কোন মানুশেরই দমবন্ধ হয়া আসার কথা! বাপ-মা, ভাই-বইন, ফ্রেন্ড-সার্কেল, বউ-জামাই, ছেলে-মেয়ে থিকা শুরু কইরা চাচা-চাচি, মামা-মামি, কাজিন, এমনকি পাড়া-প্রতিবেশি, এলাকার লোকজন… সার্বক্ষনিক এক ধরনের সিসি-ক্যামেরা’র আন্ডারে থাকতে হয়! তো, হিমু হইতেছে অইটা থিকা একটা রিলিফ! হিমু হওয়া মানে হইতেছে সাফোকেটিং সোশাল রিলেশনগুলা থিকা একটা ডিটাচমেন্ট! হিমু'রে সেলিব্রেট করার মেইন পয়েন্ট আমি দেখি এইটা, যে আপনি সমাজের বাইরে না, কিনতু সামাজিক-সম্পর্কগুলার মধ্যে বান্ধা থাকতে বাধ্য না! যেই কারনে, হিমু’রে আবার কিছুটা নন-সেক্সুয়ালও হইতে হইছে, যে, দেখেন খালি ‘ফ্রি-সেক্স’ করার লাইগা আমি এইরকম করতেছি না 🥱 আবার এই যে ডিটাচমেন্ট, সেইটার লগে অধ্যাপকিয় ‘আধুনিক সমাজের বিচ্ছিন্নতা-বোধ'রে 😁 গুলায়া ফেললে বিপদ হবে আর কি… এবং এই যে ডিটাচমেন্ট সেইটা এলিয়েশন পার হয়া স্কেইপিজম পর্যন্ত যে যায় না – তাও না, কিনতু এই বেইজগুলা কিছুদূর পর্যন্ত যে ইরেলিভেন্টই, সেইটা খেয়াল করতে পারাটা বেটার! মুশকিল হইতেছে, হিমু'রে নিয়াও একটা বই-ই লেখা দরকার! 😞

০৪/০৬/২০২৬ - ০৫/০৬/২০২৬ সরকারি চাকরি করা লোকজন বাংলাদেশে কেন আর কিভাবে পাওয়ারফুল হইয়া উঠলো? এইটা ভাবতে গিয়া মনে হইতেছিল যে, এইটা মেবি ল্যান্ড রিফর্মের লগেও জড়িত একটা জিনিস… ১. ঢাকা শহরের ‘অভিজাত' এলাকাগুলা – গুলশান, বনানী, বারিধারা, ধানমন্ডি, (ডিওএইচএস তো আর্মিদেরই), এমনকি সিদ্ধেশরী, সেগুনবাগিচার… ‘আদি' বা ২-৩ জেনারেশন আগের ল্যান্ড-ওনার কারা? আমার ধারনা হইতেছে, খোঁজ নিলে হয়তো দেখা যাবে যে, অনেকেরই দাদা-বাবা খালি বড় বড় সরকারি-চাকরিই করতেন না, বরং সরকারি-ভাবে নাম-মাত্র মূল্যে এইসব জমির বরাদ্দ পাইছিলেন… এখনকার পূর্বাচলেও তো মনেহয় প্লট-টট পাইছেন বা পাইতেছেন সরকারি লোকজন… মানে, আমি বলতে চাইতোছি সরকারি চাকরি করলে জমির ‘বরাদ্দ’ পাওয়া যায়! এবং উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়ার চাইতে সরকারি-সূত্রে পাওয়া জমির মালিকের সংখ্যা মনেহয় কম না! তবে সবাই যে ফ্রি’তে পাইছেন – তা হয়তো না, অনেকে কিনছেনও, কিনতু সরকারি-চাকরি করাতেই শহরে জমি কিনা'টা সহজ হইছে, সুবিধা পাইছেন – এই ঘটনাও থাকতে পারে… কিনতু এই ডেটা নিয়া দেখা উচিত আসলে, যে, ১৯৫০-২০০০ – এই সময়টাতে সরকারি-কর্মচারি’রা ঢাকা শহরে ‘জমি বরাদ্দের' বেনিফিশিয়ারি হইছেন কিনা? বা হইলে কতটুকু হইছেন? কিভাবে হইছেন? আমি মনে করি, এই ডেটা কালেক্ট কইরা কিছু বিচার-বিশ্লেেষন করলে জরুরি কিছু পলিটিকাল, ইকনোমিকাল ও কালচারাল ইনসাইট পাওয়া যাইতে পারে… (অবশ্য ১৯৪৭ ও ১৯৭১ পরবর্তি সময়ে এইখানে পলিটিকাল পাওয়ারও একটা ঘটনা ছিল জমি-দখলের, এখনো আছে…) ২. আমি ধরে নিতেছি যে, এই ঘটনা ঘটছে, যে, সরকারি চাকরি করার কারনেই জমির মালিক হওয়া গেছে, তো এইটা কেন পারছেন উনারা? আমি বেশ আগে একবার বলছিলামও যে, যেই জমির কোন মালিকানা নাই – ধরেন, চরের জমি, ব্রিটিশ আমলের রেলওয়ের জমি, খেলার মাঠ, পরিত্যক্ত জমি… এইগুলারে আমরা ‘পাবলিক প্রপার্টি’ মনে করি না, মনে করি ‘গবমেন্ট প্রপার্টি’! চিটাগাংয়ের সিআরবি বা ঢাকা সরোয়ার্দি উদ্যানের কথা-ই ধরেন, এইগুলাতে যেন চিটাগাং ও ঢাকা শহরের মানুশের কোন রাইটস নাই, যা বা যট্টুক আছে তা আছে হইতেছে পিপলের মারফতে গবমেন্ট অফিসারদের… তো, উনারা তো নিজেদের জমি নিজেরাই নিতেছেন আসলে 🙂 তো, এই যে ফাঁকিবাজি'টা, এইটারে মেবি উনারা সত্যি-ই মনে করেন! পিপলের জমি মানে তো সরকারেই জমি, আর সরকার মানে তো সরকারি কমর্চারি’রাই! ছোট-খাট কিছু জিনিস পাওয়াটা তো উনাদের রাইটস! 🥱 আমার কথা হইছে, হিস্ট্রিকালি কম্পাইল করলে এই ‘রাইটস'-এর একটা ভালো ও বড় ইমপ্যাক্ট দেখতে পাওয়ার কথা আমাদের… এবং এই প্রসেসটারে লোকেট করাটাও জরুরি আসলে! ৩. আরেকটা ঘটনা এইখানে আছে, মানে, হিস্ট্রি’র অনেক ঘটনারেই তো খেয়াল করতে পারতে হবে আমাদেরকে… যে, পাকিস্তান হওয়ার পরে জিন্নাহ কিনতু গর্বনর জেনারেল হইছেন, প্রাইম মিনিস্টার বা প্রেসিডেন্ট হন নাই! এবং গর্বনর জেনারেল হওয়ার পরে উনি ছিলেন আমলাদের লিডার, পলিটিশিয়ানদের না! কারন অই পজিশন ছিল প্রাইম মিনিস্টার, প্রেসিডেন্টের চাইতেও বড় পজিশন! যার ধারাবাহিকতায় ডিসি-এসপি-ইউএনও’রা কিনতু পলিটিকাল এমপি-চেয়ারম্যানের চাইতে পাওয়ারফুল ছিলেন তখনো, এবং এখনো! (কিছু চেইঞ্জ তো আছেই…) মানে, সরকারি-কর্মচারিদের একটা সুপিরিয়রিটি আছে যেইটা অন্য যে কোন পলিটিকাল পাওয়ার'রে সুপারসিড করে… তো, এই পলিটিকাল পাওয়ার'টাও জমির দখলদারি ‘বুইঝা' নেয়ার জায়গাটাতে কন্ট্রিবিউট করার কথা… (এইটা তো বেশ লম্বা ও জটিল আলাপই, কিনতু এইটা যে একটা দরকারি আলাপ হইতে পারে - সেই জায়গাটারে মেবি আমি কিছু হাইলাইট করতে পারতেছি…)

০১/০৬/২০২৬ অবিচুয়ারি: তোফায়েল আহমেদ (১৯৪৩ - ২০২৬) তোফায়েল আহমেদ মারা যাওয়ার নিউজ দেখার পরে উইকিপিডিয়ায় উনার এন্ট্রি'তে কি লেখা - সেইটা দেখতে গেছিলাম, ১৯৬৯ সালে আবদুল মালেকের খুনের ঘটনার পরে ১৯৭৫-এর কথা, ইভেন কোন মুক্তিযুদ্ধও নাই! অথচ উনার লাইফের সবচে পাওয়ারফুল টাইম তো হইতেছে ১৯৭২-৭৫ সাল! মাফিয়া-মিডিয়া ও প্রো-ইনডিয়ান ন্যারেটর'রা যাদেরকে ৪ খলিফা বানাইছে (খেয়াল কইরা দেখেন, মুজিব নেতা না, নবী!) তাদের মধ্যে সবচে ধুরন্ধর ও ক্রিমিনাল ছিলেন তোফায়েল আহমেদ! ১৯৭১ সালে বাংলাদেশ স্বাধিন হওয়ার পরে শেখ মুজিবের সবচে ক্লোজেস্ট লোক উনি! এইরকম একটা ভিডিও ক্লিপও দেখলাম যে, তোফায়েল আহমেদ বলতেছেন, জিয়াউর রহমান কে আমরা চিনতামও না! তো, এইটা ভান কইরা বলা না, কারন ১৯৭২'র পরে তোফায়েল এতোটাই পাওয়ারফুল আছিলেন যে, এইরকম কথা চালু আছে, জিয়াউর রহমান লোকজন ধইরা তার কাছে রিকোয়েস্ট পাঠাইছিলেন যাতে রাস্ট্রদূত কইরা সেনাবাহিনি থিকা সরায়া না দেয়! মানে, তোফায়েল আহমেদ'রা-ই তো বাংলাদেশ চালাইতো তখন! চালাইতো মানে কি, লুটপাট করতো, ক্রিমিনাল এক্টিভিটি রান করতো পলিটিকসের নামে! এবং পলিটিকস করতে হইলে আপনারে যে ক্রাইম করতে রাজি হইতে হবে - অই বটমে নামায়া নিয়া যাওয়ার ক্রেডিট পুরাটাই তোফায়েল আহমেদের! এর আগে যে গুন্ডামি-মাস্তানি ছিল না পলিটিকসে - তা না, সবসময়ই কম-বেশি ছিল বা আছে, কিনতু পলিটিকাল নেতা হওয়া মানে ক্রিমিনাল হয়া উঠা - এর উদাহারন মেবি তোফায়েল আহমেদের আগে বাংলাদেশে আর নাই! তোফায়েল আহমেদ পলিটিকস'রে ক্রিমিনাল এক্টিভিটিতে এক্সটেন্ড কইরা নিয়া গেছেন স্বাধিন বাংলাদেশে - এইটাই আমি মনে তার সবচে বড় পলিটিকাল সিগনিফিকেন্স! আমি মনে করি ১৯৭২ টু ১৯৭৫-এ তার যেই ক্রিমিনাল এক্টিভিটি, তার খুব কম জিনিসই আমরা জানি (তোফায়েল ক্যাডার, রক্ষি-বাহিনি, এইটুকই আছে আলাপে...), কারন বাংলাদেশের মাফিয়া-মিডিয়াতে অই জিনিসগুলা এখনো ট্যাবু হয়া আছে... তো, উনার 'মহত্ব' এখনো টু সাম এক্সটেন্ড আবিস্কৃত হওয়ার অপেক্ষায় আছে বইলা আমি মনে করি... ১৯৭৫-এ মুজিব মারা যাওয়ার পরে উনি কিছুদিন বন্দি থাকলেও মোটামুটি 'অলৌকিক-ভাবে'-ই বাঁইচা থাকেন, অনেকে তো এই সন্দেহও করেন উনি কোনভাবে ইনভলব কিনা... কিনতু আমি মনে করি, উনি কোন একশনে থাকার কথা না, বরং বেনিফিটের অপেক্ষায় থাকার কথা, যেইটা এরপরে আর কোনদিনই খুব একটা পান নাই, এই সন্দেহের কারনেই হয়তো... রেস্ট অফ দা লাইফ, আওমি-লিগের বার্কিং ডগ বা ঘেউ ঘেউ করা কুত্তা হিসাবেই উনার পলিটিকাল লাইফ পার করছেন... এর মধ্যে ১৯৯৬ সালে বানিজ্যমন্ত্রি হওয়ার সুবাদে ব্যবসায়িদের পছন্দের লোক হিসাবে ২০০৭-এর সিভিল-মিলিটারি ক্যু'তে জয়েন করতে গিয়া আরেক দফা ধরা খান! যদিও কাম-ব্যাক করেন আবার, ২০১৪ সালে বানিজ্যমন্ত্রি হন, মেবি অই ব্যবসায়িদের ব্যাক-আপেই... এখন মনে হইতে পারে যে, রাজনীতিরে উনি বিজনেসে পরিনত করছিলেন বা ব্যবসায়িদেরকে পলিটিকসে ইনক্লুড করছিলেন উনি... (মানে, এইটুক হইলে তো হইতোই!) কিনতু আমি মনে করি, ঘটনা'টা ফার মোর ওরস্ট! স্বাধিনতার পরে জোর-জবরদস্তি কইরা মানুশের সম্পত্তি, বিজনেস দখল করাটারেই যে 'পলিটিকস করা' বানাইছিলেন, পরে ডাকাতি ও লুটপাট করতে পারাটারেই বাংলাদেশে 'বিজনেস করা' হিসাবে এস্টাবলিশড করতে পারার একজন কারিগর তোফায়েল আহমেদ! এবং তার ক্রিমিনাল এক্টিভিটিগুলারে এখনো হাইড কইরা, টোন-ডাউন কইরা রাখা হয় এর একটা বড় কারন হইতেছে, বাংলাদেশের এস্টাবলিশমেন্ট এখনো তোফায়েল আহমেদের তৈরি করা 'নিয়মে'-ই চলে! হিজ ফিজিকাল ডেথ ইজ ইম-ম্যাটেরিয়াল! যেই বিষ উনারা ঢুকায়া দিয়া গেছেন বাংলাদেশ রাস্ট্রে ও সমাজে, সেইটা এটলিস্ট খেয়াল করতে রাজি হওয়া দরকার আমাদের! আল্লাহ উনার কাজের বিচার করবেন! আমাদেরও তার কাজের বিচার-বিবেচনা করাটা জরুরি এখন, বাংলাদেশের ভালো'র জন্যই!

০১/০৬/২০২৬ ট্রুথ ইজ, ভাসানীর কখনোই স্ট্রং কোন পলিটিকাল আইডিওলজি ছিল না! যেই কারনে নানান সময়ে নানান পলিটিকাল এজেন্সি দিয়া উনি ইউজডও হইছেন! কিনতু উনার একটা ট্রু rebel এটিটুড ছিল, যেইটা এখনো অনেক'রে ফ্যাসিনেট করে! কিনতু দুইটা তো দুই জিনিসই! উনার সিগনিফিকেন্স হইতেছে, ১৯৪৭-এর পরে যেই সময়টাতে বাংলাদেশের মুসলমানদের সামনে কোন দিশা ছিল না, খাজা নাজিমুদ্দিন'রা ‘মুসলমান’ হওয়ার নামে পশ্চিম পাকিস্তানে হিজরত করে গেছিল, তখন সরোয়ার্দি ও হাশিমের অনুসারি'রা ভাসানীরে একটা ফিগার হিসাবে সামনে পাইছিলেন; এবং যেহেতু উনার কোন কলকাতা-কানেকশন ছিল না, উনারে ইনডিয়ার-এজেন্ট বানায়া দেয়াটা সহজ ছিল না, অই সময়ে (এবং পরেও আসলে); কিনতু পাকিস্তান মানে যে শুধু পাঞ্জাব না – অই আওয়াজ'টা তুলতে পারার জন্য উনি বাংলাদেশে ছিলেন সবচে রাইট ফিগার! কারন, উনার মুসলিম-আইডেন্টিটি নিয়া কোশ্চেন তোলার কোন স্কোপ ছিল না… মানে, উনি এন্টি-ইনডিয়ান এবং একইসাথে এন্টি-পাঞ্জাবি, এইটা উনারে ‘বাঙালি' কইরা তুলছিল! কিনতু এই যে পলিটিকাল পজিশনগুলা, সেইটার আইডিওলজিকাল সিন্থেথিস উনার ছিল না, যার ফলে উনি পুব-পাকিস্তানের পলিটিকাল সংগঠন গইড়া তুলতে পারছেন, কিনতু কোন দিশা দিতে পারেন নাই সেই সংগঠনরে! যেমন, আওমি-লিগ যখন তৈরি হয়ে গেছে তখন সরোয়ার্দি’র ক্ষমতার সাথে কম্প্রোমাইজ করাটারে উনি নিতে রাজি হইতে পারেন নাই… সরোয়ার্দি’র বিরোধিতা করতে গিয়া উনি বাম'দের খপ্পরে পড়ছেন, পরে বাম'রা উনার ন্যাপ ও কৃষক-সমিতি দখল কইরা উনারে এক-ঘরে কইরা দিছে… আমি বলতে চাইতেছি, আবদুল হামিদ খান ভাসানী'র যেই ইস্ট্রাগল, বাংলাদেশের মানুশরে সেন্টার কইরা উনার যেই রাজনীতি – সেইটারে আন্ডারমাইন করার কিছু নাই, বরং ১৯৪৭-পরবর্তি সময়ে অন্য যে কারো চাইতে উনি ছিলেন বাংলাদেশের মানুশের সবচে ট্রু-লিডার; সরোয়ার্দি বরং একটা ব্যালান্সের ভিতর দিয়া পাকিস্তান রাস্ট্র’রে সারভাইব করানোর ট্রাই করছেন (এবং সত্যি কথা বলতে গেলে, সরোয়ার্দি মারা যাওয়ার পরেই অই সম্ভাবনা শেষ হয়া গেছে, দুই পাকিস্তানের মধ্যে লিয়াঁজো করতে পারবে এমন কোন বান্দা হাজির ছিল না), যেই কারনে, সরোয়ার্দি মারা যাওয়ার পরে শেখ মুজিব চাইলেও অই জায়গাটাতে পলিটিকস’টা করতে পারেন নাই, ভাসানী'র লাইনেই তারে আগাইতে হইছে… যেই জিনিসটা সবচে বেশি ইগনোর করা হয় ১৯৪৭-১৯৭১’র পাকিস্তানের ইতিহাসে, সেইটা হইতেছে – ‘বাঙালি ভারসেস পাঞ্জাবি’ ক্রাইসিস’টা! নট দ্যাট যে, ‘বাঙালি'রা তাদের মুসলমান-পরিচয় বাদ দিয়া দিতে চাইছে, বরং তাদের ‘বাঙালি' পরিচয়ের কারনে যে পাকিস্তানের রাস্ট্র-ক্ষমতাতে নিজেদের ভাগ পায় নাই, পাঞ্জাবিদের ডমিনেন্সের কারনে – অই জায়গাটারে হিস্ট্রিতে এখনো মিউট কইরা রাখা হইছে! ইভেন, লাহোর পরস্তাব হয়া গেছে আবদুর রহিম ও ইকবালের ঘটনা, বড়জোর ফজলুল হকের রিড-আউট করাটা, সরোয়ার্দি ও হাশিমের সাজেশনগুলা যেন কখনো করা-ই হয় নাই! মোর সাসটেইনেবল মুসলিম-স্টেইটসের কথা যেন উনারা বলেন-ই নাই! তো, আবদুল হামিদ খান ভাসানী যেহেতু পাকিস্তান'রে মাইনা নিয়াই উনার রাজনীতি শুরু করছেন, সেইখানে বাংলাদেশের মুসলমানদের পক্ষে আওয়াজ উনি তুলতে পারছেন, আর সেইটা এতোটাই বুলন্দ ছিল যে, নানান পক্ষ নানান ভাবে এর সুবিধা নিলেও, এই পলিটিকাল পজিশনটারে এড়ায়া যাইতে পারে নাই! এন্ড আন-ফরচুনেটলি এইটাও ট্রু যে, কোন পলিটিকাল দিশা উনার ছিল না, যার ফলে ক্রুশিয়াল মোমেন্টগুলাতে ভাসানী’রে এবসেন্ট হিসাবেই আমরা দেখতে পাবো…

খাজা নাজিমুদ্দিন পলিটিকাল হিরো যেমন ছিলেন না, একইভাবে ভিলেন ছিলেন – এইটাও আমার কাছে মনেহয় না, উনি বড়জোর ক্ষমতার রাজনীতির একজন ‘কুশিলব’ বা প্লেয়ার-ই ছিলেন… এর বেশি কিছু না, কখনোই! যেই কারনে, উনি যেইরকম ক্ষমতায় ছিলেন, সেই তুলনায় বাংলাদেশের রাজনীতিতে উনার সিগনিফিকেন্স নাই, বা কমই…

২৭/০৫/২০২৬ - ৩০/০৫/২০২৬ খাজা নাজিমুদ্দিন খাজা নাজিমুদ্দিন (১৮৯৪ - ১৯৬৪) ছিলেন ক্ষমতা-কাঠামোর একজন লোক, এবং কখনোই বাংলাদেশের মানুশের রাজনীতি করেন নাই – এই হিস্ট্রিকাল ট্রুথ’টারে খেয়াল করতে পারা এবং ক্লিয়ারলি বলতে পারাটা দরকার আমাদের! ব্রিটিশ’রা ঢাকার সোসাইটি কন্ট্রোল করতো আহসান মঞ্জিলের নবাব পরিবারের মাধ্যমে, এবং খাজা সলিমুল্লাহ (১৯১৫ সালে) মারা যাওয়ার পরে অইখানে একটা ভ্যাকুয়াম তৈরি হয়, যেইটা খাজা নাজিমুদ্দিন ফুল-ফিল করেন (১৯২০-এর পরে)... খাজা নাজিমুদ্দিন ছিলেন খাজা আহসানউল্লাহ’র নাতি (মেয়ে’র ছেলে) এবং খাজা সলিমুল্লাহ’র ভাইগ্না, কিনতু সলিমুল্লার মতো ফিউডাল প্রাইড উনার ছিল না, বরং ক্ষমতার গোলামি করার একটা বিরল প্রতিভা উনার ছিল, এবং ক্ষমতার এজেন্সিগুলাও উনারে পছন্দ করতো, কারন উনি নিজে কোন ডিসিশান-মেকিং করতে পারতেন না! উনার ছোটভাই খাজা শাহাবুদ্দিন-ই যত আকাম-কুকাম করতো, এবং উনি পলিটিকালি ‘ভালো মানুশ' হিসাবে উনার ইমেজ ধইরা রাখতে পারতেন! নবাব বাড়ির সন্তান হিসাবেই উনি পলিটিকসে রেলিভেন্ট ছিলেন; এবং কলকাতার মুসলমান-ব্যবসায়িদের সাথেও গুড রিলেশন উনি মেইনটেইন করতেন, যার ভিতর দিয়া বাংলার মুসলিম-লিগের লিডারশিপ রোলে ছিলেন… উনি খালি ফজলুল হকের সাথে ইলেকশন কইরাই হারেন নাই, মেবি পিপলের ভোটে কোন ইলেকশনই জিততে পারেন নাই! ফজলুল হক এবং সরোয়ার্দি খাজা নাজিমুদ্দিনের সাথে এক ধরনের পলিটিকাল সমঝোতা'তে গেলেও যান নাই আবুল হাশিম, এবং আবুল হাশিমের অনুসারি শিকখিত মুসলমানদের হাতে মুসলিম-লিগের নেতৃত্ব আসার পরে ঢাকার রাজনীতি'তে আহসান-মঞ্জিল ও খাজা নাজিমুদ্দিন কন্ট্রোল হারাইতে থাকেন, ১৯৪৫-এর পরে; যেইটা আর কখনোই উনারা রি-গেইন করতে পারেন নাই… পলিটিকাল ক্যারিয়ার কন্সিডার করলে, খাজা নাজিমুদ্দিন খুবই সাকসেসফুল ছিলেন! অনেক বছর উনি ক্ষমতার কেন্দ্রে ছিলেন, কিনতু ক্ষমতায় থাইকা উনি বাংলাদেশের মানুশের জন্য কি করছেন? এই আলাপ তেমন কোথাও পাইবেন না… (ভালো কিছু জিনিস তো পাওয়া-ই যাবে খুঁজলে, খারাপ জিনিসও পাওয়া যাবে কিছু, কিনতু কোনটাতেই উনার কন্ট্রিবিউশন খুব-বেশি ছিল না, উনি ছিলেন ক্ষমতার গোলাম, সবসময়ই!) খাজা নাজিমুদ্দিন পয়লা ক্ষমতায় আসেন বেঙ্গল প্রভিন্সের প্রধানমন্ত্রি হিসাবে, ১৯৪৩-৪৫ সনে; যখন ফজলুল হকের গবমেন্টরে সাসপেন্ড করা হয়… অই সময়টাতেই সরোয়ার্দি ও আবুল হাশিম মুসলিগ-লিগরে বাংলাদেশের শিকখিত মুসলমানদের দল কইরা তোলেন, এবং ১৯৪৬-এর ইলেকশনে শুধুমাত্র বেঙ্গল প্রভিন্সেই মুসলিম গবমেন্ট ফর্ম করে! কিনতু সরোয়ার্দি ও আবুল হাশিম ‘ইন্ডিপেন্ডড প্রভিন্সেস’-এর পক্ষে থাকায়, পাকিস্তান প্রশ্নে খাজা নাজিমুদ্দিন জিন্নাহ'র একমাত্র রিপ্রেজেন্টেটিভ হয়া উঠেন বেঙ্গলে… ১৯৪৭-এ সরোয়ার্দি ক্ষমতা ছাড়লে খাজা নাজিমুদ্দিন আবারও পুব-পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রি হন, এবং জিন্নাহ মারা গেলে পরে ১৯৪৮ সালে পাকিস্তানের গবর্নর-জেনারেল হন, এবং পাকিস্তান হওয়ার পর থিকাই উনার রাজনীতি ঢাকাতে না বরং করাচি ও পশ্চিম পাকিস্তানেই বেইজড হয়… ১৯৫১ টু ১৯৫৩ তে উনি পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রি ছিলেন, এবং ১৯৫৪’র ইলেকশনে পুব-পাকিস্তানে মুসলিম-লিগের ব্যাপক ভরাডুবি'র পরে উনার পলিটিকাল ক্যারিয়ার একভাবে শেষ হয়… যদিও পাকিস্তানের ক্ষমতার রাজনীতিতে উনি এক্টিভ ছিলেন শেষ পর্যন্ত… এইখানে একটা ঘটনা ইন্টারেস্টিং, আইয়ুব খানের এগেনেস্টে COP যখন প্রেসিডেন্ট কেন্ডিডেট দাঁড়া করায় তখন পুব-পাকিস্তানের সব দল কিনতু ফাতেমা জিন্নাহ'রেই সার্পোট করে, খাজা নাজিমুদ্দিনের কথাও কেউ তুলেন নাই! খাজা নাজিমুদ্দিন উর্দু-স্পিকিং মানুশ ছিলেন বইলা বাংলা-ভাষারে হেইট করতেন – এইটা আমার মনেহয় না, বরং উনি সারাজীবন পিপলের এগেনেস্টে ক্ষমতার রাজনীতি-ই করে গেছেন, মানুশের ভালো-মন্দের চাইতে, ক্ষমতার কাছাকাছি থাকাটারেই ‘নরমাল' বইলা ভাবছেন… যেই কারনে, উনার ৪০ বছরের পলিটিকাল ক্যারিয়ারে পিপলস-পলিটিকসের তেমন কিছুই পাইবেন না! খাজা নাজিমুদ্দিনের সবচে নোটেবল পলিটিকাল কন্ট্রিবিউশন হইতেছে, উনি জিন্নাহ'র ক্লোজেস্ট এলাই ছিলেন বেঙ্গলে, এবং পাকিস্তান-প্রশ্নে কোন দ্বিধা রাখেন নাই, যেই কারনে পলিটিকালি রিওয়ার্ডেডও হইছেন পরবর্তিতে! কিনতু উনার এই পারসোনাল রিওয়ার্ড বাংলাদেশের মানুশের কোন কাজে লাগে নাই! খাজা নাজিমুদ্দিন সাহেবের না ছিল কোন পলিটিকাল ভিশন, না ছিল কোন পলিটিকাল উইজডম… যার ফলে, হিস্ট্রিতে উনার নাম যত পাইবেন, কাজ-কাম তেমন পাইবেন না! উনার পলিটিকাল ক্যারিয়ারের শুরু থিকা শেষ পর্যন্ত ক্ষমতার কাছাকাছি ছিলেন, ব্রিটিশদের দেয়া ‘স্যার’ উপাধি পাইছেন, কোন ইলেকশনে সরাসরি না জিইতাই পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রি হইছেন, এবং ক্ষমতা-কাঠামোর একজন লোক হিসাবে তার রোল প্লে করছেন!