Revolutionary Students' Front
رفتن به کانال در Telegram
409
مشترکین
اطلاعاتی وجود ندارد24 ساعت
+57 روز
+3430 روز
آرشیو پست ها
Beauty Is in the Street: Testimony of a Eyewitnesses
https://chhatrafauj.wordpress.com/2026/07/25/beauty-is-in-the-street-testimony-of-a-eyewitnesses/
https://www.facebook.com/share/p/1MYMebtPab/
https://www.instagram.com/p/DbOcF9pBgmB/
দিল্লিতে চলমান ছাত্র আন্দোলনের সমর্থনে, ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফার দাবি সহ NTA বাতিল, NEP 2020 বাতিল প্রভৃতি বিভিন্ন দাবিকে কেন্দ্র করে গতকাল (২৪/০৭/২০২৬) শিয়ালদহ বাজার থেকে ধর্মতলা পর্যন্ত বিপ্লবী ছাত্র ফ্রন্ট (RSF) সহ বিভিন্ন কমিউনিস্ট ছাত্র সংগঠনের ডাকে প্রতিবাদী মিছিল এবং ধর্মতলায় অবস্থান বিক্ষোভের আয়োজন করা হয়। পুলিশের লাঠি, টিয়ার সেলের সামনে ছাত্রছাত্রীরা গড়ে তোলে ঐক্যবদ্ধ জঙ্গি প্রতিরোধ।
https://www.facebook.com/share/p/1CdDV4hAvq/
https://www.instagram.com/p/DbNUTcBgbCj/
গতকাল (২০/০৭/২০২৬) দিল্লিতে আন্দোলনরত ছাত্রছাত্রীদের সমর্থনে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফার দাবিতে, NEP ২০২০ ও NTA বাতিলের দাবি সহ একাধিক বিষয়ে বিপ্লবী ছাত্র ফ্রন্ট (RSF) সহ একাধিক ছাত্রসংগঠন ও গণসংগঠনের উদ্যোগে যাদবপুরে ৮বি আয়োজিত হয় গণমিছিল।
https://www.facebook.com/share/p/1AfY4D2DF7/
https://www.instagram.com/p/DbC0mmdATMJ/
দিল্লিতে চলমান শান্তিপূর্ণ ছাত্র আন্দোলনের ওপর ফ্যাসিবাদী রাষ্ট্রীয় বাহিনীর বিস্ফোরক নিক্ষেপ সহ সামগ্রিক হামলার বিরুদ্ধে সোচ্চার হোন
https://www.facebook.com/share/1ErimQfn4f/
https://www.instagram.com/p/DbBBO6bB9EX/
দিল্লিতে চলমান শান্তিপূর্ণ ছাত্র আন্দোলনের ওপর ফ্যাসিবাদী রাষ্ট্রীয় বাহিনীর বিস্ফোরক নিক্ষেপ সহ সামগ্রিক হামলার বিরুদ্ধে সোচ্চার হোন
সাথী, আপনারা জানেন, গত ২৮শে জুন থেকে বিজ্ঞানী ও পরিবেশকর্মী সোনম ওয়াংচুক সহ বিভিন্ন প্রতিবাদী ছাত্রছাত্রী দিল্লির যন্তরমন্তরে অনশন কর্মসূচি পালন করে আসছিলেন। দেশের শিক্ষাব্যবস্থার সুষ্ঠু পরিচালনায় ব্যর্থ কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফা, প্রশ্নফাঁসে বিধ্বস্ত ও আত্মঘাতী পরীক্ষার্থীদের পরিবারের প্রতি ক্ষতিপূরণ সহ একাধিক দাবি নিয়ে শুরু হয় আন্দোলন। কিন্তু সরকারের তরফে কোনরকম ব্যবস্থা নেওয়া হয়না। বরং সোনম ওয়াংচুককে গত ১৮ই জুলাই সকালে অনশন মঞ্চ থেকে মারধর করে নাগরিক পোশাকে তুলে নিয়ে গিয়ে আটক করে পুলিশবাহিনী।
অন্যদিকে, আজ ২০শে জুলাই প্রতিবাদী ছাত্রছাত্রীদের পক্ষ থেকে তাদের ন্যায্য দাবি সরকারের কাছে পেশ করার উদ্দেশ্যে ‘সংসদ যাত্রা’র ডাক দেওয়া হয়। কিন্তু, আমরা দেখলাম আজ প্রতিবাদীদের শান্তিপূর্ণ সংসদ যাত্রার ওপর ভয়াবহ নৃশংস হামলা চালানো হয়েছে। দিল্লি পুলিশ, র্যাফ, সিআরপিএফ সহ ফ্যাসিবাদী রাষ্ট্রীয় বাহিনী যৌথভাবে ছাত্রছাত্রীদের লক্ষ্য করে লাঠিচার্জ শুরু করে। তাদের গুরুতরভাবে মারধর করা হয়। পঞ্চাশেরও বেশিজনের কাঁধ মেরে ভেঙে দেওয়া হয়। বারংবার জলকামান সহ একাধিক রকমের বিস্ফোরক, দাহ্য টিয়ার গ্যাস ছোঁড়া হচ্ছে। জনগণের টাকায় জায়নবাদী ইজরায়েলের থেকে কেনা এইসব বিস্ফোরক জনগণের বিরুদ্ধেই ব্যবহার করছে ভারতের ব্রাহ্মণ্যবাদী হিন্দুত্ব ফ্যাসিবাদী শক্তি। এমনকি, ইন্দিরাচকে রাষ্ট্রীয় বাহিনী রাবার বুলেট ছোঁড়ায় জখম ২ জন প্রতিবাদীর অবস্থা গুরুতর। বহু আন্দোলনকারীকে আটক করা হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে জনগণের পক্ষ থেকে ফ্যাসিবাদী বাহিনীর বিরুদ্ধে গড়ে তোলা হয়েছে প্রতিরোধ। প্রতিবাদী জনগণের তরফে পুলিশের গাড়ি ভেঙে ফেলা হয়েছে।
সাথী, বর্তমানে দেশজুড়ে ক্রমহ্রাসমান গণতান্ত্রিক পরিসরে ফ্যাসিবাদী আরএসএস-বিজেপির একের পর এক জনবিরোধী পদক্ষেপের বিরুদ্ধে সময় থাকতে আমাদের দাঁড়াতেই হবে। শান্তিপূর্ণ ভাবে নয়, ফ্যাসিবাদীদের যৌথ আক্রমণের বিরুদ্ধে দেশজুড়ে বিভিন্ন গণতান্ত্রিক, প্রগতিশীল, ফ্যাসিবিরোধী গণসংগঠন ও ব্যক্তিবর্গকে ঐক্যবদ্ধ জঙ্গি গণপ্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। ফ্যাসিবাদী বাহিনীর মুখে জনগণের প্রতিরোধকে সমর্থন করুন। বিপ্লবী ছাত্র ফ্রন্ট (RSF) দিল্লিতে ন্যায্য দাবিতে অনশন ও আন্দোলনরত ছাত্রছাত্রীদের ওপর ফ্যাসিবাদী দিল্লি পুলিশ ও অন্যান্য রাষ্ট্রীয় বাহিনীর অগণতান্ত্রিক হামলার বিরুদ্ধে সোচ্চার হোন এবং এলাকায় এলাকায় প্রতিরোধ গড়ে তুলুন।
SOS SOS SOS
দিল্লিতে চলমান শান্তিপূর্ণ ছাত্র আন্দোলনে ফ্যাসিবাদী রাষ্ট্রীয় বাহিনীর গুলিচালনা সহ সামগ্রিক হামলার বিরুদ্ধে সোচ্চার হোন
https://www.facebook.com/share/p/1JuL1kdcDH/
https://www.instagram.com/p/DbA5WkYBEWo/
SOS SOS SOS
দিল্লিতে চলমান শান্তিপূর্ণ ছাত্র আন্দোলনে ফ্যাসিবাদী রাষ্ট্রীয় বাহিনীর গুলিচালনা সহ সামগ্রিক হামলার বিরুদ্ধে সোচ্চার হোন
সাথী, আপনারা জানেন, গত ২৮শে জুন থেকে বিজ্ঞানী ও পরিবেশকর্মী সোনম ওয়াংচুক সহ বিভিন্ন প্রতিবাদী ছাত্রছাত্রী দিল্লির যন্তরমন্তরে অনশন কর্মসূচি পালন করে আসছেন। তাঁদের দাবি দেশের শিক্ষাব্যবস্থার সুষ্ঠু পরিচালনায় ব্যর্থ কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফা। কিন্তু সরকারের তরফে কোনরকম ব্যবস্থা নেওয়া হয়না। বরং সোনম ওয়াংচুককে গত ১৮ই জুলাই সকালে অনশন মঞ্চ থেকে মারধর করে নাগরিক পোশাকে তুলে নিয়ে যায় পুলিশবাহিনী।
অন্যদিকে, আজ ২০শে জুলাই প্রতিবাদী ছাত্রছাত্রীদের পক্ষ থেকে তাদের ন্যায্য দাবি সরকারের কাছে পেশ করার উদ্দেশ্যে ‘সংসদ যাত্রা’র ডাক দেওয়া হয়। কিন্তু, আমরা দেখলাম আজ প্রতিবাদীদের শান্তিপূর্ণ সংসদ যাত্রার ওপর ভয়াবহ নৃশংস হামলা চালানো হয়েছে। দিল্লি পুলিশ, র্যাফ, সিআরপিএফ সহ ফ্যাসিবাদী রাষ্ট্রীয় বাহিনী যৌথভাবে ছাত্রছাত্রীদের লক্ষ্য করে লাঠিচার্জ শুরু করে। তাদের গুরুতরভাবে মারধর করা হয়। পঞ্চাশেরও বেশিজনের কাঁধ মেরে ভেঙে দেওয়া হয়। বারংবার জলকামান সহ একাধিক রকমের বিস্ফোরক, দাহ্য টিয়ার গ্যাস ছোঁড়া হচ্ছে। জনগণের টাকায় জায়নবাদী ইজরায়েলের থেকে কেনা এইসব বিস্ফোরক জনগণের বিরুদ্ধেই ব্যবহার করছে ভারতের ব্রাহ্মণ্যবাদী হিন্দুত্ব ফ্যাসিবাদী শক্তি। এমনকি, ইন্দিরাচকে রাষ্ট্রীয় বাহিনী গুলি পর্যন্ত চালায়। গুলিতে জখম ২ জন প্রতিবাদীর অবস্থা আশঙ্কাজনক। ছাত্রনেতা অভিজিৎ দীপকে সহ বহু আন্দোলনকারীকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
সাথী, বর্তমানে দেশজুড়ে ক্রমহ্রাসমান গণতান্ত্রিক পরিসরে ফ্যাসিবাদী আরএসএস-বিজেপির একের পর এক জনবিরোধী পদক্ষেপের বিরুদ্ধে সময় থাকতে আমাদের দাঁড়াতেই হবে। ফ্যাসিবাদীদের যৌথ আক্রমণের বিরুদ্ধে আমাদেরও দেশজুড়ে বিভিন্ন গণতান্ত্রিক, প্রগতিশীল, ফ্যাসিবিরোধী গণসংগঠন ও ব্যক্তিবর্গকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। বিপ্লবী ছাত্র ফ্রন্ট (RSF) দিল্লিতে ন্যায্য দাবিতে অনশন ও আন্দোলনরত ছাত্রছাত্রীদের ওপর ফ্যাসিবাদী দিল্লি পুলিশ ও অন্যান্য রাষ্ট্রীয় বাহিনীর অগণতান্ত্রিক হামলার বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার এবং অবশ্যই যৌথ জঙ্গি গণপ্রতিরোধ গড়ে তোলার ডাক দিচ্ছে।
দিল্লিতে প্রতিবাদরত ছাত্রছাত্রীদের সমর্থনে, অনশনরত সোনম ওয়াংচুকের ওপর নেমে আসা রাষ্ট্রীয় নিপীড়নের বিরুদ্ধে, NTA বাতিল সহ একাধিক দাবি নিয়ে বিপ্লবী ছাত্র ফ্রন্ট (RSF) সহ বিভিন্ন ছাত্রযুব ও বামপন্থী সংগঠনের যৌথ উদ্যোগে আজ (২০ জুলাই) বিকেল ৫টা থেকে যাদবপুর ৮বি চত্বরে আয়োজিত হতে চলেছে গণমিছিল। সমস্ত গণতান্ত্রিক, প্রগতিশীল, ফ্যাসিবিরোধী সংগঠন ও ব্যক্তিবর্গের কাছে আহ্বান দেশের ছাত্রসমাজের স্বার্থে, সুষ্ঠু শিক্ষাব্যবস্থার স্বার্থে, ফ্যাসিবাদী আগ্রাসনের বিরুদ্ধে, ছাত্রছাত্রীদের ন্যায্য দাবির পক্ষে ঐক্যবদ্ধ হোন।
গণমিছিল
২০শে জুলাই
বিকেল ৫টা
যাদবপুর ৮বি
https://www.facebook.com/share/p/14nhz9Z7Leg/
https://www.instagram.com/p/DbATR2KBCgk/
গতকাল যাদবপুর ৮বি চত্বরের কর্মসূচি থেকে বিপ্লবী ছাত্র ফ্রন্টের (RSF) মুখপাত্রের বক্তব্য।
https://www.facebook.com/share/v/1EvKGwupMB/
https://www.instagram.com/reel/Da-drNNhXTV/
https://youtube.com/shorts/v6jHS_UNSJY
পরিবেশকর্মী সোনম ওয়াংচুক সহ দিল্লির যন্তর মন্তরে আমরণ অনশনরত প্রতিবাদী ছাত্রছাত্রীদের ন্যায্য দাবির সমর্থনে, তাদের ওপর ফ্যাসিবাদী শক্তির আক্রমণের প্রতিবাদে, দেশজুড়ে শিক্ষাব্যবস্থার বেহাল দশা ও ক্রমিক বেসরকারিকরণের বিরুদ্ধে, NTA বাতিলের দাবিতে গতকাল যাদবপুর ৮বি চত্বরে বিপ্লবী ছাত্র ফ্রন্টের (RSF) কর্মসূচি।
https://www.facebook.com/share/p/1Byj7NbD9u/
https://www.instagram.com/p/Da98pk6AftH/
Statement from the Revolutionary Students’ Front (RSF) in support of Sonam Wangchuk's democratic demands on hunger strike
আমরণ অনশনরত সোনম ওয়াংচুকের গণতান্ত্রিক দাবির সপক্ষে বিপ্লবী ছাত্র ফ্রন্টের (RSF) বিবৃতি
https://www.facebook.com/share/1ESD7Xdqm5/
https://www.instagram.com/p/Da57WPtAU7F/
আজকের দিনে বিজেপি সরকার সমস্তরকম বিরোধী গণতান্ত্রিক কণ্ঠস্বরকেই অপরাধী হিসাবে চিহ্নিত করতে তৎপর। সেই লক্ষ্যে ‘ষড়যন্ত্র তত্ত্ব’ নিয়ে মাঠে নেমে পড়েছে বিজেপি আইটি সেল সহ ‘গোদি’ মিডিয়া। সোনম ওয়াংচুক দীর্ঘদিন ধরেই লাদাখের পরিবেশ আন্দোলন সহ একাধিক গণআন্দোলনে যুক্ত। সেজন্যই তিনি বারবার সরকারি দমনপীড়নের মুখোমুখি হয়েছেন, জেলবন্দি হয়েছেন। আজ ছাত্রছাত্রীদের স্বার্থেই তিনি মৃত্যুমুখে এগিয়ে চলেছেন। তাঁর এই আত্মত্যাগকে আমরা স্বীকার করি। কিন্তু আমরা এটাও স্পষ্ট করতে চাই, আমাদের দেশের ক্রমহ্রাসমান গণতান্ত্রিক পরিসরে ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে লড়াই কখনোই অনশনের মাধ্যমে সম্ভব নয়। ব্রিটিশ ভারতে জোর করে খাইয়ে অনশন ভঙ্গ করাতে গিয়ে মৃত্যু ঘটেছিল বিপ্লবী কমরেড যতীন দাসের। তাঁর মৃত্যুদিন আজও রাজনৈতিক বন্দিদের অধিকার সংক্রান্ত দিবস হিসাবে পালিত হয়ে আসছে। ক্ষমতা হস্তান্তর পরবর্তীকালেও ইরম শর্মিলা সহ বিভিন্ন সময়ের আমরণ অনশনরত আন্দোলনকারীদের ওপর রাষ্ট্র বারবার হয় নিপীড়ন নামিয়ে এনেছে, নয়তো উপেক্ষা করেছে সার্বিকভাবে। রাষ্ট্র যেখানে তার নাগরিকের বিরুদ্ধে আক্ষরিকভাবেই যুদ্ধ ঘোষণা করেছে, সেখানে অনশনের মাধ্যমে সরকারকে দাবি মেনে নিতে বাধ্য করা আর সম্ভব নয়। “বধিরকে শোনাতে উচ্চকণ্ঠের প্রয়োজন”। ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজন সমস্ত গণতান্ত্রিক, প্রগতিশীল শক্তির ফ্যাসিবিরোধী বৃহত্তর যৌথ গণআন্দোলন। যা অবশ্যই হতে হবে জঙ্গি চরিত্রের। সোনম ওয়াংচুকের প্রতি বিপ্লবী ছাত্র ফ্রন্ট ডাক দিচ্ছে, অনশনের মাধ্যমে নিজের শক্তিক্ষয় করে নিজেকে মৃত্যুমুখে পাঠিয়ে নয়, বরং দুর্নীতিমুক্ত গণবৈজ্ঞানিক শিক্ষার স্বার্থে দেশব্যাপী ছাত্রছাত্রীদের বৃহত্তর গণপ্রতিরোধে যুক্ত হওয়াই আজ সময়ের দাবি। আবার, ছাত্রছাত্রীরাই বিপ্লবের বার্তাবহ। ছাত্রআন্দোলনকেও তাই ফ্যাসিবিরোধী তথা সমাজব্যবস্থা বদলের লড়াইয়ের অংশ হিসাবে তার সামাজিক দায়িত্ব পালন করতে হবে।
আমরণ অনশনরত সোনম ওয়াংচুকের গণতান্ত্রিক দাবির সপক্ষে বিপ্লবী ছাত্র ফ্রন্টের (RSF) বিবৃতি
বিজ্ঞানী ও সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুক গত ২৮শে জুন থেকে ২০ দিনেরও বেশি সময় ধরে দিল্লির যন্তরমন্তরে অনশন চালিয়ে যাচ্ছেন। তাঁর অনশনের অন্যতম দাবি, দেশের শিক্ষাব্যবস্থার সুষ্ঠু পরিচালনায় ব্যর্থ কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফা। এই মুহূর্তে তাঁর ওজন ৯ কেজিরও অধিক কমেছে, সাথে বিভিন্ন শারীরিক সমস্যা দেখা দিতে শুরু করেছে। ক্রমাগত মৃত্যুর দিকে এগিয়ে চলেছেন সোনম। তারপরও আমরা দেশের কেন্দ্রের ক্ষমতাসীন ব্রাহ্মণ্যবাদী হিন্দুত্ব ফ্যাসিবাদী আরএসএস-বিজেপির পক্ষ থেকে স্রেফ সরকারি উদাসীনতার সাক্ষী হয়ে চলেছি।
ধর্মেন্দ্র প্রধানের আমলে দেশজুড়ে বিভিন্ন প্রবেশিকা ও নিয়োগ পরীক্ষা সহ সর্বভারতীয় পরীক্ষাগুলিতে বারংবার কারচুপি, অব্যবস্থা, প্রশ্নফাঁস সহ একাধিক অভিযোগ উঠে এসেছে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে এই অভিযোগ প্রমাণিতও হয়েছে। এই ঘটনা শুধুমাত্র দেশের ক্ষয়িষ্ণু শিক্ষাব্যবস্থারই নজির নয়, বরং এক সুপরিকল্পিত এজেন্ডা। যা পরীক্ষার্থীদের ওপর এক ধারাবাহিক মানসিক চাপেরও সৃষ্টি করছে। কিছুদিন আগেই ২০২৬ সালে NEET-UG পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁসের খবর সামনে আসে। এরপরই আমরা দেখেছি, ১৩ জনেরও বেশি পরীক্ষার্থী এই অব্যবস্থার ফলস্বরূপ আত্মহত্যা করতে বাধ্য হয়েছে, যা প্রাতিষ্ঠানিক খুনেরই সামিল। শুধুমাত্র ২০২৬ সালেই NEET-UG ছাড়াও, CUET-UG, CUET-PG, UGC-NET, UPSC প্রিলিমস, SSC GD, এমনকি CBSE দ্বাদশ শ্রেণির পরীক্ষাতেও বিভিন্ন অব্যবস্থা, প্রশ্নফাঁস সামনে এসেছে। ২০২৪ সালের NEET-UG পরীক্ষাতেও ভয়াবহ প্রশ্নফাঁসের ঘটনা ঘটে। নিয়োগ পরীক্ষা আয়োজনে NTA সম্পূর্ণরূপে ব্যর্থ হওয়ার পরেও, তাদের বিরুদ্ধে প্রতিবার অভিযোগ আসার পরেও সরকারের পক্ষ থেকে উদাসীনতা ছাড়া কোনো ব্যবস্থাই নেওয়া হয়নি। ২০২৪ সালের কারচুপির পর সরকার NTA-র ডিরেক্টর জেনারেলের কোনরকম শাস্তির ব্যবস্থা না করে স্রেফ বদলি করেছিল। অন্যদিকে, NTA-র চেয়ারপারসন আরএসএস-ঘনিষ্ট প্রদীপ জোশির বিরুদ্ধে মধ্যপ্রদেশ পাবলিক সার্ভিস কমিশনের দুর্নীতির সাথে যুক্ত থাকার অভিযোগ রয়েছে। উত্তরপ্রদেশ, বিহার সহ বিজেপিশাসিত রাজ্যগুলিতে এই অব্যবস্থা নিত্যনৈমিত্তিক ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে IISER, IIT সহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানও এই অভিযোগের বাইরে নেই। একদিকে নিয়মিত নিয়োগ পরীক্ষার অভাব এবং অন্যদিকে, পরীক্ষা কারচুপির ফলে স্থগিত হয়ে যাওয়া — পরীক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যের চরম বিপর্যয় ঘটিয়ে চলেছে। ছাত্রছাত্রী ও পরীক্ষার্থীদের আত্মহত্যার পরিসংখ্যান দেশজুড়ে ক্রমবর্ধমান। এই প্রত্যেকটি ঘটনার দায় কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী তথা আরএসএস-বিজেপির সরকারের ওপরেই বর্তায়।
দেশজুড়ে সংগঠিত এই ধারাবাহিক অব্যবস্থার উদ্দেশ্য সাম্রাজ্যবাদের স্বার্থে দেশের জনগণের শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের ক্ষতিসাধন। তাছাড়া, অব্যবস্থার অজুহাতে ধীরে ধীরে শিক্ষাব্যবস্থাটিকেই বেসরকারি হাতে তুলে দেওয়া। আমরা ইতিমধ্যেই দেখেছি, সাম্রাজ্যবাদী পুঁজির অনুপ্রবেশের অবাধ রাস্তা করে দিতে NEP ২০২০, HEFA-র মত বিভিন্ন শিক্ষানীতি ও আইন লাগু করা হয়েছে। আমলাতান্ত্রিক মুৎসুদ্দি পুঁজির সাথে গাঁটছড়া বেঁধে বেড়ে চলেছে শিক্ষা মাফিয়াদের বাড়বাড়ন্ত। ফি বৃদ্ধি সহ ছাত্রবিরোধী পদক্ষেপের কারণে এক বড় অংশের ছাত্রছাত্রী শিক্ষার অধিকার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ছে। এর সাথেই কর্মসংস্থানের সংকোচন, অনিয়মিত নিয়োগ সহ একাধিক কারণে বেড়ে চলেছে বেকারত্ব। জনসংখ্যার এই মজুত শ্রম ভান্ডারকেই নিজের ফ্যাসিবাদী এজেন্ডা পূরণে ও তার প্রভুদের সস্তা শ্রমের উৎস হিসাবে ব্যবহার করতে তৎপর আরএসএস-বিজেপি। সেই জন্যই বর্তমান অচলাবস্থার পরিবর্তনে কোনরকম হস্তক্ষেপের চেষ্টা আমরা সরকারের পক্ষ থেকে দেখতে পাচ্ছি না।
এই পরিস্থিতিতে দাঁড়িয়ে বিপ্লবী ছাত্র ফ্রন্ট (RSF) সোনম ওয়াংচুক সহ আন্দোলনকারীদের পক্ষ থেকে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের গণতান্ত্রিক দাবিকে সমর্থন জানায়। কিন্তু তার সাথেই আমরা স্পষ্ট করতে চাই, শুধুমাত্র ব্যক্তি ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থাকে সঠিক পথে পরিচালিত করতে সক্ষম নয়। শিক্ষাব্যবস্থা সরাসরি রাষ্ট্রের চরিত্রের সাথে যুক্ত। আমাদের রাষ্ট্র বর্তমানে ব্রাহ্মণ্যবাদী হিন্দুত্ব ফ্যাসিবাদের ক্ষমতাধীন। সুতরাং, যেমন রাষ্ট্রের আধা সামন্ততান্ত্রিক আধা ঔপনিবেশিক চরিত্রের পরিবর্তন না ঘটলে কোনোভাবেই দুর্নীতিমুক্ত, গণবৈজ্ঞানিক শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব নয়। আবার, সেই লক্ষ্যে প্রথম কর্তব্য অবশ্যই ফ্যাসিবাদের পরাজয়।
