fa
Feedback
Iftekhar Jamil

Iftekhar Jamil

رفتن به کانال در Telegram

একজন তালিবে ইলমের দিনলিপি-মুজাকারা-রিভিউ

نمایش بیشتر
9 252
مشترکین
-124 ساعت
-157 روز
-3830 روز

در حال بارگیری داده...

ابر برچسب‌ها
هیچ داده‌ای
مشکلی وجود دارد؟ لطفاً صفحه را تازه کنید یا با مدیر پشتیبانی ما تماس بگیرید.
اشارات ورودی و خروجی
---
---
---
---
---
---
جذب مشترکین
سپتامبر '26
سپتامبر '26
+66
در 3 کانال‌ها
اوت '26
+81
در 3 کانال‌ها
Get PRO
ژوئیه '26
+133
در 3 کانال‌ها
Get PRO
ژوئن '26
+136
در 2 کانال‌ها
Get PRO
مه '26
+121
در 2 کانال‌ها
Get PRO
آوریل '26
+129
در 6 کانال‌ها
Get PRO
مارس '26
+527
در 4 کانال‌ها
Get PRO
فوریه '26
+196
در 6 کانال‌ها
Get PRO
ژانویه '26
+147
در 5 کانال‌ها
Get PRO
دسامبر '25
+134
در 3 کانال‌ها
Get PRO
نوامبر '25
+97
در 2 کانال‌ها
Get PRO
اکتبر '25
+234
در 2 کانال‌ها
Get PRO
سپتامبر '25
+105
در 3 کانال‌ها
Get PRO
اوت '25
+140
در 5 کانال‌ها
Get PRO
ژوئیه '25
+201
در 3 کانال‌ها
Get PRO
ژوئن '25
+104
در 1 کانال‌ها
Get PRO
مه '25
+100
در 1 کانال‌ها
Get PRO
آوریل '25
+529
در 1 کانال‌ها
Get PRO
مارس '25
+78
در 0 کانال‌ها
Get PRO
فوریه '25
+89
در 0 کانال‌ها
Get PRO
ژانویه '25
+143
در 5 کانال‌ها
Get PRO
دسامبر '24
+237
در 4 کانال‌ها
Get PRO
نوامبر '24
+150
در 2 کانال‌ها
Get PRO
اکتبر '24
+262
در 6 کانال‌ها
Get PRO
سپتامبر '24
+459
در 3 کانال‌ها
Get PRO
اوت '24
+831
در 3 کانال‌ها
Get PRO
ژوئیه '24
+128
در 3 کانال‌ها
Get PRO
ژوئن '24
+132
در 2 کانال‌ها
Get PRO
مه '24
+487
در 2 کانال‌ها
Get PRO
آوریل '24
+157
در 5 کانال‌ها
Get PRO
مارس '24
+174
در 5 کانال‌ها
Get PRO
فوریه '24
+1 779
در 2 کانال‌ها
Get PRO
ژانویه '24
+843
در 4 کانال‌ها
Get PRO
دسامبر '23
+899
در 9 کانال‌ها
Get PRO
نوامبر '23
+445
در 9 کانال‌ها
Get PRO
اکتبر '23
+2 298
در 12 کانال‌ها
تاریخ
رشد مشترکین
اشارات
کانال‌ها
26 سپتامبر+3
25 سپتامبر+3
24 سپتامبر+4
23 سپتامبر+2
22 سپتامبر+2
21 سپتامبر+2
20 سپتامبر+2
19 سپتامبر+3
18 سپتامبر+4
17 سپتامبر+3
16 سپتامبر+2
15 سپتامبر+1
14 سپتامبر+2
13 سپتامبر+1
12 سپتامبر0
11 سپتامبر+2
10 سپتامبر+1
09 سپتامبر+2
08 سپتامبر+4
07 سپتامبر+4
06 سپتامبر+3
05 سپتامبر+3
04 سپتامبر+1
03 سپتامبر+2
02 سپتامبر+9
01 سپتامبر+1
پست‌های کانال
ফুকুয়ামার সংশয় ফ্রান্সিস ফুকুয়ামা মূলত একটা খৃস্টান পরিবারে জন্ম গ্রহণ করেন, তার বাবা ছিলেন একজন ধর্মযাজক। তার পূর্বপুরুষরা জাপানে থাকতেই খৃস্টধর্ম গ্রহণ করেন। ঠিক এ কারণেই হয়ত হিরোশিমা-নাগাসাকির বিপর্যয় ফুকুয়ামাকে বিশেষভাবে স্পর্শ করেনি। ফুকুয়ামার লিবারেলিজম তার গুরু হেগেলের মতই খৃস্টান ইউনিভার্সালিজমের সিলসিলা। হিস্ট্রি একরৈখিকভাবে চলতে থাকে, লিবারেল ডেমোক্রেসিতে মোক্ষ লাভ করে। বাংলাদেশে যেমন হেগেলের ভক্তপাঠক ফরহাদ মজহার ইসলামের মধ্যে ইউনিভার্সালিজম কেন নেই, কীভাবে 'ইসলামিক সার্বজনীনতা' কল্পনা করা যায়—এই প্রসঙ্গে তিনি ডিপলি বদারড। ফুকুয়ামা ইকুয়ালিটি চান, তবে সেটা লিবারেলিজমের শর্তে। যদি তাই হয়, চারদিকে যদি লিবারেলিজমের জয়জয়কার হয়, তবে কীভাবে ডোনাল্ড ট্রাম্প ক্ষমতা দখল করলেন—ইতিহাস কি একরৈখিক, চক্রকার, নাকি রেন্ডম?  যদি জ্ঞানব্যবস্থাই ভেঙ্গে পড়ে, তবে ফুকুয়ামা কীভাবে উত্তর খুঁজবেন? 

2
কয়েকদিন আগে ফ্রান্সিস ফুকুয়ামা নিউ ইয়র্ক টাইমসে সাক্ষাৎকার দিয়েছেন। লিবারেলিজম ও এন্ড অফ হিস্ট্রি থিসিসের পক্ষে সাফাই গাইলেও
কয়েকদিন আগে ফ্রান্সিস ফুকুয়ামা নিউ ইয়র্ক টাইমসে সাক্ষাৎকার দিয়েছেন। লিবারেলিজম ও এন্ড অফ হিস্ট্রি থিসিসের পক্ষে সাফাই গাইলেও তার নিজের মধ্যে এখন বেশকিছু অপরাধবোধ ও দ্বিধা কাজ করে, সেটা স্পষ্টভাবে ধরা যায়—তিনি কেন ও কীভাবে ইরাক যুদ্ধ-মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ সমর্থন করলেন, তার কাছে এই প্রশ্নের কোন উত্তর নেই।   সাক্ষাৎকারের মাঝে বলে বসলেন, তিনি এখন এনলাইটেনমেন্টের নলেজ প্রোডাকশনে আগের মত বিশ্বাস রাখেন না— মানুষ অধিকাংশ ক্ষেত্রে যুক্তি থেকে সিদ্ধান্তে পৌঁছায় না, আগে সিদ্ধান্ত ঠিক করে রাখে, তারপর যুক্তি সাজায়। বলাই বাহুল্য, এই কথা বললে প্রচলিত জ্ঞানব্যবস্থা প্রায় পুরোটাই ভেঙ্গে পড়বে। তার কথা শুনে আমি খানিকটা কৌতুকবোধ করলাম।
293
3
ঢাকায় সাংস্কৃতিক খানকা ঢাকায় বাম-লিবারেলদের অনেকগুলো নিজস্ব ‘খানকা-আস্তানা’ আছে। শহিদুল আলমের দৃক, আবু সাঈদের বিশ্ব সাহিত্যকেন্দ্র, ফরহাদ মজহারের প্রবর্তনা। ঢাকায় আমাদের এমন কোন সাংস্কৃতিক ‘খানকা-আস্তানা’ নেই। ইমরান রাইহানের সাথে একবার কথা প্রসঙ্গে ঠিক করেছিলাম ঢাকার বাইরে একটা স্পেস দরকার। আশেপাশে, কোন গ্রামীণ পরিবেশে। পরে ভাবলাম, আসলে স্পেসটা দরকার ঢাকায়। ছাদের পাশে একটা ছোট মসজিদ, কফিশপ, লাইব্রেরি ও সেমিনার স্পেস। আগামী দশ বছরের মধ্যে এমন কোন স্পেস দেখার সুযোগ হবে?
544
4
তুলনা মুসলমানরা যখন ইরাক জয় করেছিল, ঠিক একই সময়ে খ্রিস্টানরা ইংল্যান্ড দখল করতে শুরু করে। ইংল্যান্ডে তৎকালীন জাতি-উপজাতিদের কোন চিহ্নও অবশিষ্ট নেই। ইরাকের দিকে তাকান, খ্রিস্টানরাসহ প্রি-ইসলামিক যুগের বেশ কয়েকটি জাতির অস্তিত্ব এখনো টিকে আছে। আধুনিক রাষ্ট্রের ইতিহাস বাদ দিলে পার্থক্যটা আরও ভালোভাবে ধরতে পারবেন। দেখুন, এটা ইংল্যান্ডের একার সমস্যা নয়। যুক্তরাষ্ট্র-কানাডা-অস্ট্রেলিয়ায় উপজাতিদের অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া কঠিন, স্পেনের ঘটনা তো সবাই জানেন। পশ্চিমা সভ্যতায় ধর্ম-ধর্মনিরপেক্ষতা উভয়েই সমানভাবে নিপীড়নমূলক। ফ্রান্স শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে জুব্বা-পাঞ্জাবি-জামা-আবায়া জাতীয় কোন কাপড় পরতে দিবে না। তারা জনতার মধ্যে 'পার্থক্য' রাখতে চায় না, তারা একে প্রজাতন্ত্রের জন্য হুমকি হিসেবে আখ্যা দেয়। একটু তলিয়ে দেখলেই ধরতে পারবেন, পশ্চিমা স্বাধীনতার ধারণা ডিপলি প্রবলেমেটিক। রাষ্ট্র দাবী করছে আপনাকে সে ফ্রিডম দিবে, ব্যক্তি 'স্বাধীনতার মোক্ষ' লাভ করবে। আমরা ভুলে যাই, পার্সোনাল ফ্রিডম বলে কিছু নেই। আপনাকে ঠিক-বেঠিক নির্ধারণ করে দিচ্ছে আপনার সোসাইটি-নরমস-কাস্টমস। আপনি যদি সোশ্যাল ফ্রিডম ক্লেইম না করতে পারেন, তবে ফ্রিডম বলে কিছু অবশিষ্ট থাকে না। ফ্রিডম সেটাই যেটা আপনার পরিবার-সমাজ-ধর্মকে রাষ্ট্রের থাবাকে রক্ষা করতে পারে। পরিবার-সমাজ-ধর্মকে গুঁড়িয়ে দিলে আপনার অস্তিত্বই নাই হয়ে যায়। আপনার পরিচয় প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে যায় : স্কুল-কলেজ চালাবে তারাই, তাদের শিক্ষাই আপনাকে গ্রহণ করতে হবে, বাজারও বিগব্রাদারের নিয়ন্ত্রণে, টিভিতে দেখবেন বিবিসি-সিএনএন মিলে আপনাকে জ্ঞান দিচ্ছে। আপনার মাথার মধ্যে বসে যাবে আরেকজন মানুষ, আপনি ফ্রিডম দিয়ে কি করবেন?
775
5
গতকাল আসমার ওআফকারে ফরিদুদ্দিন আত্তারের মানতিকুত ত্বইর নিয়ে একটা দুর্দান্ত আলোচনা দেখলাম। সুফী কবিরা কীভাবে ভাষা-রুপক-আত্মিক
গতকাল আসমার ওআফকারে ফরিদুদ্দিন আত্তারের মানতিকুত ত্বইর নিয়ে একটা দুর্দান্ত আলোচনা দেখলাম। সুফী কবিরা কীভাবে ভাষা-রুপক-আত্মিক-মনস্তত্ত্বিক সংগ্রাম কল্পনা করেন, মানতিকুত্ব তইর এর একটা ভালো দৃষ্টান্ত। ফরিদুদ্দিন আত্তার পাখিদের সভা-আলোচনাকে কেন্দ্র করে মানুষের নৈতিক ও মনস্তত্ত্বিক সংকট ও সমাধানের ব্যাখ্যা তুলে ধরতে চেয়েছেন। অনুষ্ঠান শেষে ডক্টর আহমারি আত্তারের তরিকা নিয়ে আপত্তি জানালেন। বললেন এমন সমাজবিমুখতার প্রেক্ষিতেই মুসলিম ইতিহাসে জড়তা নেমে আসে। নবীরা তো কখনোই সমাজকে ত্যাগ করেননি, আত্মশুদ্ধির প্রশ্নটা তাই সামাজ সংস্কারের বাইরে গিয়ে ধরা যাবে না। আমার আহমারির কথাটা আংশিক সত্য মনে হল, তবে আত্তারের দিকটা ধরতে চেষ্টা করছিলাম। মূল আলোচক আত্তারের তরফে আত্মপক্ষ সমর্থনের চেষ্টা করলেন—সূফি আত্মশুদ্ধি কখনোই সমাজবিচ্ছিন্ন কিছু নয়। আত্মা শুদ্ধ হলে সেটা পরিবার-সমাজ-রাষ্ট্র সবখানেই প্রতিফলিত হয়।
718
6
গাজালির শেষজীবন গাজালি শেষ জীবনে ইলমে কালাম থেকে দূরে সরে গিয়েছিলেন, এই অনুমান ঠিক নয়। কেননা গাজালির জীবনের সর্বশেষ লেখা কয়েকটি বইয়ের মধ্যে একটি ছিল কালাম বিষয়ক। খোদ যখন গাজালি তৎকালীন ইলমি পরিমণ্ডলের প্রতি বিরক্ত হয়ে বেরিয়ে যান, সেই বিচ্ছিন্নতার সময়েও গাজালি কালাম বিষয়ক বেশ কয়েকটি পুস্তিকা লেখেন। ফলে গাজালি একসময় কালাম পরিত্যাগ করেছিলেন, এমন অনুমান ভুল। এমন অনুমানে আসলে গাজালির তৎকালীন ইলমি পরিমণ্ডলের প্রতি বিরক্তির প্রকৃতি ও প্রবণতাই বুঝা যাবে না। গাজালি আল ইকতিসাদ ও ইলজাম, উভয় বইয়েই বলেছেন, ইলমে কালাম ঔষধের মতো, মাত্রাতিরিক্ত ব্যবহারে অসুবিধা আছে। বিচ্ছিন্নতার সময়েই গাজালি তার অসামান্য পুস্তিকা কানুনুত তাবীল লেখেন। এর মাধ্যমে গাজালি যুক্তি বিষয়ে ইসলামী অবস্থানের মৌলিক সূত্রায়নের চেষ্টা করেছেন। গ্রীক যুক্তি ধারণায় বিরক্ত হয়ে গাজালির দোহাইয়ে খোদ যৌক্তিকতাকে অস্বীকার করাতে কোন ফায়দা নেই। তারচে বরং যুক্তির সীমাবদ্ধতা কী ও কোথায়, এটা বুঝার চেষ্টা করা উচিত। গাজালির তৎকালীন বিচ্ছিন্ন জীবনের মূল প্রণোদনা ছিল, ধর্মের প্রমাণ আর ধার্মিকতা এক জিনিস নয়। আপনি সত্য জেনেও লুকাতে পারেন। নৈতিকতা বর্জন করতে পারেন। এসব ক্ষেত্রে যুক্তি আপনাকে সাহায্য করবে না। কেননা মানুষের মধ্যে বুদ্ধির পাশাপাশি প্রবৃত্তিও আছে। তাকে নিয়ন্ত্রণ না করতে পারলে যুক্তিতে কী হবে? এ জন্য ইহসান ও ইখলাস দরকার। গাজালি এ উদ্দেশ্যেই নির্জন-জীবন গ্রহণ করেছিলেন।
757
7
শরিয়া আইন-আদালত  শরিয়া আইন-আদালত কি অপরাধকে শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনতে পারবে? পারবে না। অশিক্ষা-দরিদ্রতা-অস্থিতিশীলতা-বেকারত্ব অপরাধ ডেকে আনবে—সেটাই স্বাভাবিক। ইউরোপে কেন অপরাধ কম? অনেকেই এই প্রশ্নটা করে বুঝাতে চান, ওরা সভ্য, আমরা অসভ্য। বিষয়টা কি এতটাই সরল? মূল পার্থক্য আর্থসামাজিক প্রেক্ষাপট। আপনি কাতার বা ব্রুনাইয়ের পর্যায়ে আর্থসামাজিক স্থিতিশীলতা অর্জন করেন, আপনার দেশেও অপরাধ কমে যাবে। বরং আমাদের আর্থসামাজিক অস্থিতিশীলতার পেছনে ইউরোপিয়ানরাও কি খানিকটা দায়ী নয়? ওরা সম্পদ লুণ্ঠন না করলে, নিজেদের মত পলিটিকাল-জাস্টিজ সিস্টেম বসিয়ে না গেলে আমরা নিশ্চিতভাবে আরও ভালো থাকতাম। এতদিন পরেও কেন আমাদেরকে কলোনিয়াল জাস্টিজ সিস্টেম ফলো করতে হবে? এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গেলে ইউরোপিয়ান প্রভাবের দিকটা ধরতে পারবেন। শরিয়া আইন-আদালত অবশ্যই ইউরোপিয়ান জাস্টিজ সিস্টেম থেকে বেটার। কোন দিক দিয়ে? ইউরোপিয়ান জাস্টিজ সিস্টেম প্রধানত কলোনিয়াল প্রেক্ষাপটে নির্মিত হয়েছে। কাজেই, এর মধ্যে পলিটিকাল উপাদান অনেক বেশী উপস্থিত। ইউরোপিয়ান জাস্টিজ সিস্টেমে মানুষকে গ্রেফতার করা খুবই সহজ, কারণ রাজারা-কলোনিয়াল মাস্টাররা মানুষকে ভয়ভীতির মধ্যে রাখতে ভালবাসত। তবে, ঠিক এ কারণেই কলোনিয়াল লিগাল সিস্টেমে জাস্টিজ নিশ্চিত করা অত্যন্ত কঠিন। আলোচিত মামলাগুলো বাদ দিলে অধিকাংশ কেসের কোন বিচার হয় না। জমিনের মামলা নিয়ে কেন বছরের পর বছর ঘুরতে হবে, সেটার উত্তরও কেউ দিতে পারবে না। ইয়েস, প্রক্রিয়াগত দিক থেকে শরিয়া আইন ও আদালত ইউরোপিয়ান সিস্টেম থেকে অনেক বেশী গতিসম্পন্ন, তবে সেজন্যই কিছু ঝুঁকির দিকও থেকে যায়। হয়ত দ্রুততার প্রেক্ষিতে কিছু মামলায় এদিক-ওদিক হতে পারে। সেজন্য হাইকোর্ট/মাজালিম কোর্ট অত্যন্ত জরুরী। তবে স্থানীয় পর্যায়ে পরীক্ষামূলকভাবে কিছু শরিয়া কোর্ট/সালিশ ইন্ট্রিডিউস করা যেতে পারে। আমার ধারণা তাহলে ইউরোপিয়ান সিস্টেমের মনপলি প্রশ্নের মুখে ফেলা যাবে, খুব সহজেই। দারুল উলুম দেওবন্দের সফলতার শেষ নেই, তবে তারা তাদের প্রাথমিক পরিকল্পনার দুটি দিক কখনো বাস্তবায়ন করতে পারেনি—ক) বিকল্প আদালত, খ) বিকল্প চিকিৎসা ব্যবস্থা। আমার ধারণা বর্তমানে মাদরাসার ছাত্র-শিক্ষকরা এই ব্যর্থতার ইতিহাসটা জানেন না।
796
8
বাদশা আমানুল্লাহ আফগান বাদশা আমানুল্লাহ ইউরোপ সফর থেকে ফিরে আসলেন। তার চোখেমুখে মুগ্ধতা। তিনি ভাবলেন, বুরকা-নিকাব নিষিদ্ধ করতে হবে। পুরুষদেরকেও ইউরোপীয়ান পোশাক পরতে বাধ্য করতে হবে। নইলে শক্ত জরিমানা।কাবুলের মুচি-মজুর সবাইকেই কোট পরতে বাধ্য করা হয়। সে এক অদ্ভুত চিত্র—ঝাড়ুদার থেকে শুরু করে মুচি পর্যন্ত কোট পরতে শুরু করে। আমানুল্লাহ ভাবেন, এভাবেই প্রগতি-উন্নতি সম্ভব, কাপড়েই সকল সফলতা নিহিত। দেওবন্দি আলামদেরকে নিষিদ্ধ করা হয়, মাদরাসা বন্ধ করে দেওয়ার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়। সে একশো বছর আগের কথা—সেই কাবুল এখন শাসন করে দাড়ি-টুপিওয়ালা শাসকরা। তালিবরা নারীদের জন্য জেনারেল শিক্ষার দরজা সংকুচিত করেছে—খুবই সত্য কথা: আফগান সেকুলার-কমিউনিস্টরা মাদরাসা বন্ধ করে দিয়েছিল, এটাও সমানভাবে সত্য কথা। তালিবদের কঠোরতার গল্পে ইতিহাসের এই দিকটা কেউ তুলে আনেন না।
1 075
9
আসাম ও কলকাতায় মাদরাসা শিক্ষায় নিষেধাজ্ঞা আমাদের পার্শ্ববর্তী অঞ্চল দু’টিতে কওমি শিক্ষার ওপর ব্যাপক বিধিনিষেধ আরোপ করা হচ্ছে। কাজেই বৃদ্ধি পাচ্ছে আমাদের দায়িত্ব। কলকাতা বা আসামের কারো যদি শিক্ষা বিষয়ক পরামর্শ-রিসোর্স সংক্রান্ত হেল্পের দরকার হয়, আমার সাথে যোগাযোগ করতে পারেন। আমি সমাধানের সর্বোচ্চ চেষ্টা করবো, ইনশাআল্লাহ।
1 397
10
بدون متن...
2 219
11
মাদরাসায় রেগুলেশন সাভাবের এক মাদরাসায় শিশু নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে। অভিযোগ মোটামুটি 'ভয়াবহ'। কয়েক বছর আগে কওমি মাদরাসা শিক্ষাবোর্ড মাদরাসাটির রেজিস্ট্রেশন বাতিল করেছিল। ঠিক এখান থেকেই ধরতে পারবেন, বাংলাদেশে মাদরাসাব্যবস্থায় বেসরকারি পর্যায়ে রেগুলেশন করা যথেষ্ট কঠিন কাজ। দেশের মাদরাসাগুলো বহু বোর্ডে বিভক্ত, পাশাপাশি কেউ চাইলে বোর্ডের বাইরে গিয়েও মাদরাসা চালাতে পারছে। কাজেই, নিরাপত্তা প্রশ্নে সব মাদরাসাকে এক ছাতার নীচে আনার কোন বিকল্প নেই। পাশাপাশি, শুধু আইন যথেষ্ট নয়, বিচার করাও জরুরী—সেজন্য প্রশাসন/সরকারের সাথে সমন্বয় করতে হবে, জবাবদিহিতা বাধ্যতামূলক করতে হবে। তবে, এক্ষেত্রে আমাদের দিক থেকে তিনটি রেড ফ্ল্যাগ আছে, ক) মাদরাসার দায়িত্বশীলদের অনাগ্রহ-অযোগ্যতা, তাদের মধ্যে পলিটিকাল উইল কাজ করছে না। খ) আমলা-আদালত তথা রাষ্ট্রীয় হস্তক্ষেপ সীমিত রাখতে হবে, রাষ্ট্র ইমপ্লিমেন্টেশন-অডিটিং এর কাজে ফোকাসড থাকবে। গ) ধর্মীয় শিক্ষাকে বাজার ব্যবস্থার কাছে ছাড়া যাবে না। বাংলাদেশ গরীব দেশ, ধর্মীয় শিক্ষার আকর্ষণীয় চাকরির বাজার নেই। কাজেই, রেগুলেশন-মানোন্নয়নের নামে অতিরিক্ত খরচ বৃদ্ধি করলে ধর্মীয় শিক্ষা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হবে। আমি মনে করি, সরকারি উদ্যোগে কিছু আদর্শ হেফজখানা-মক্তব চালু করা জরুরী। পাশাপাশি, স্কুলের ধর্মীয় সাবজেক্টের অধীনে কুরআন শিক্ষার ব্যবস্থা রাখলে ছোট-খাটো মাদরাসা এমনিতেই আবেদন হারিয়ে ফেলবে। সরকারি সাবসিডিজ ছাড়া আদর্শ প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলার জন্য প্রয়োজনীয় গবেষণা-অবকাঠামো বরাদ্দ করা যথেষ্ট জটিল। আপনাদের জ্ঞাতার্থে জানাই, অধিকাংশ মুসলিম দেশে সরকারিভাবে মক্তব-হেফজখানা পরিচালিত হয়। রেগুলেশনের পাশাপাশি প্রতিযোগিতা সৃষ্টি না করা গেলে মাদরাসার লোকজন সতর্ক হবে না। মোটকথা, এই জটিলটাকে কেবল নীতিনৈতিকতার জায়গা থেকে না দেখে দেখতে হবে গভরনেন্সের দৃষ্টিকোণ থেকে।
2 679
12
আধুনিকতার পরীক্ষা আমরা মোটামুটি সবাই আধুনিকতার কঠিন পরীক্ষার মুখোমুখি। ক) আধুনিকতায় সবকিছু আপেক্ষিক—সুনির্দিষ্ট জায়েজ-নাজায়েজ বলে কিছু নেই। এটাও ঠিক, ঐটাও ঠিক, সেটাও ঠিক—সবই নাকি সঠিক ! খ) আধুনিকতায় মানুষের জীবন অনেকটাই অর্থহীন—পড়বেন, নয়টা টু পাঁচটা চাকরি, কামাবেন, ফুর্তি করবেন, নেটফ্লিক্সে মুভি দেখবেন, মারা যাবেন। মানবজীবনের কী অসম্ভব অপচয়। গ) আধুনিকতায় অধিকাংশ মানুষ অসুখী—এত খাবার, এত রিসোর্স, এত বিনোদন—জীবনে এত প্রাচুর্য—তবু নাশোকরিয়া, সবকিছু বোরিং—শারীরিক কোন কষ্ট নাই, অভাব নাই, তবু মনটা সবসময় ‘উদাসীন-বিমর্ষ’। বাংলাদেশে প্রতিদিন আত্মহত্যা করেন ত্রিশ-পয়ত্রিশ মানুষ—ভাবা যায়? ঘ) আধুনিকতায় সবকিছু অন্তহীন—সারাদিন ফেসবুক স্ক্রল করলেও শেষ হয় না, ইউটিউবের রেকমেন্ডশন বার খালি হবে না, বই পড়তে চাইলে অনলাইনে আছে কোটি কোটি বই। একজন মানুষের পক্ষে বিশ-ত্রিশজনের বেশী মানুষের সাথে বন্ধুত্ব রাখা সম্ভব নয়, অথচ ফেসবুকে আপনার লিস্টে পাঁচ হাজার মানুষ। প্রতিদিন একজন করে কথা বললেও পনের বছর লেগে যাবে। তবু মানুষের একাকীত্ব নাকি শেষ হয় না। ঙ) আধুনিকতা ইউটোপিয়ান ফিউচারের কথা বলে। সমস্যার কথা বললে সে দোষ স্বীকার করবে না। বলবে, আরও বাজেট বাড়ান, বরাদ্দ বৃদ্ধি করেন, আরও প্রজেক্ট নামান, আরও দশটা গবেষণা আনেন—তাহলে নাকি সব সমাধান হয়ে যাবে। যদি তাই হয়, তবে জাপানে এত আত্মহত্যা কেন—দেশ উন্নত হলে যদি জাপানের মত আত্মহত্যার পরিমাণ দিগুণ হয়ে যায়—তবে একে কি উন্নতি বলবেন? আধুনিকতাকে প্রশ্ন করতেও শিখেন
1 841
13
জলাভূমি : রাষ্ট্রীয় অব্যবস্থাপনা আড়িয়াল বিলে নতুন সড়ক নির্মিত হচ্ছে। এবারের বর্ষায় নতুন সড়কের প্রভাবটা ধরা যাচ্ছে খুবই স্পষ্টভাবে। নতুন সড়কের প্রেক্ষিতে জল-চলাচল ব্যাপকভাবে বাঁধাগ্রস্থ হচ্ছে, আটকে যাচ্ছে কচুরিপানা। নতুন রাস্তাকে কেন্দ্র করে ভরা বর্ষাতেও মাটিভরাটের উদ্যোগ মোটেই থেমে নেই। এলাকার মানুষ বলছেন, এবার তারা আর আগের মত মাছ পাচ্ছেন না। স্থানীয় মানুষ আগে থেকেই বিদেশমুখী, সামনে সেটা আরও বাড়বে—নিশ্চিতভাবেই বলা যায়। এ কেমন উন্নতি—যার প্রেক্ষিতে প্রবাসীর সংখ্যা বৃদ্ধি পায়? উন্নয়ন-যোগাযোগব্যবস্থা—সবই দরকার। তবে উন্নয়ন যদি টেকসই না হয়, উন্নতির চেয়ে ক্ষতি বেশী হচ্ছে কিনা, এ নিয়ে যদি কোন পরিসংখ্যান না থাকে, তবে বিপর্যয়ের দায় কে নিবে? বাংলাদেশ জলাভূমির দেশ—পানি আপনার ইতিহাস-সংস্কৃতি-অর্থনীতির সাথে গভীরভাবে যুক্ত। আপনার দেশের অবকাঠামো-উন্নয়ন-পরিবেশ-প্রকৃতি-বাস্তুতন্ত্র পশ্চিমা মডেলে চলতে পারে না। একটা রাষ্ট্র কী পরিমাণ দায়-দায়িত্বহীন হলে দেশের অন্যতম বৃহত্তর জলাভূমিতে বিমানবন্দর বানানোর কথা ভাবতে পারে? অবশ্য, এখন নতুন নতুন সড়ক নির্মাণ করে জলাভূমির জীবনীশক্তি নষ্ট করে দেওয়া হচ্ছে। আড়িয়াল বিলের চিত্রটা একটা কেইসস্টাডি—সারাদেশেই এ জাতীয় কাজ-কারবার চলছে। এসব অবকাঠামো হঠাৎ করে ভাঙতেও পারবেন না। আপনি জলের দেশের মানুষ, কিন্তু আপনি গ্রহণ করতে চাচ্ছেন পাহাড়-মরুভূমি-শীতের দেশের নগরব্যবস্থা। দুইদিন পরে যখন হিমালয়ের বরফ গলা শুরু করবে, চীন-ইন্ডিয়া বৃষ্টি-বর্ষা হলেই পানি ছেড়ে দিবে, তখন আপনার দেশ সেই ধাক্কা সামলাতে পারবে? পারবে না। সর্বোপরি, আপনার ইতিহাস-সংস্কৃতির কী হবে? আপনার জাতীয়তা-আত্মপরিচয় হুমকির মুখে পড়বে।
1 234
14
'আলেমদের' 'আলেম সমাজে' রুপান্তরিত হবার গল্প ইসলামি ইতিহাসে আলেম ছিলেন, তবে আলেম সমাজ ছিল কিনা সেটা নিয়ে আমার ঘোরতর সন্দেহ আছে। অর্থাৎ আলেমরা প্রধানত ব্যক্তিগতভাবে সক্রিয় হতেন, ইলম চর্চা ও প্রচার করতেন, হক-কথা বলতেন ও সাধ্যানুযায়ী সৎ কাজের আদেশ ও অসৎ কাজে নিষেধ করতেন। ইলম, বিচারিক, ওয়াজ ও তাসাউফের কাজ করতেন। আলেমদের বিশেষ সঙ্ঘবদ্ধতা বা স্বতন্ত্র সামাজিক সম্প্রদায় হয়ে উঠার ইতিহাস খুব বেশী দিনের নয়। এখানে বলে রাখা ভালো, ইসলামি ইতিহাসে অনেক আলেম সঙ্ঘবদ্ধতার চেষ্টা চালিয়েছেন, রাজনৈতিক বিপ্লবের প্রয়াস দেখিয়েছেন—খালদুন আমাদেরকে দেখান যে, অধিকাংশ ক্ষেত্রে ধর্মীয়ভাবে ভূমিকা রাখতে সক্ষম হলেও রাজনৈতিক সক্ষমতা না থাকায় সংঘবদ্ধ আলেমরা ব্যর্থ হয়েছেন। এর ভিত্তিতে এখানে অনেকে আলেমদের রাজনীতিতে অংশগ্রহণের বৈধতার প্রশ্ন টেনে আনেন, তাদের মতে আলেমদের রাজনীতিতে অংশগ্রহণ করাই উচিত নয়—খালদুনের ব্যাখ্যা মতে এখানে মূলত বৈধতার প্রশ্ন মূল নয়, খালদুনের ভাষায় আসাবিয়াতের প্রশ্নই মূল অর্থাৎ কৌশলগত সক্ষমতা না থাকায় তাদের ব্যর্থতা। আদতে তো শাসক আলেম হওয়াই উচিত, ইসলামি খেলাফতে তো শাসক মুজতাহিদ পর্যায়ের আলেম হওয়া শর্ত। অর্থাৎ শাসক ও রাজনীতিবিদরা আলেম হওয়া উচিত, তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে সেটা বাস্তব কিনা সেটা ভিন্ন প্রসঙ্গ। আলেমদের 'আলেম সমাজে' রুপান্তরিত হবার ইতিহাসটাও জানা দরকার। আমাদের সমাজে গত শতক থেকে সেকুলার ও ইসলামপন্থী নামে ধারা তৈরি হয়েছে। সেকুলার সমাজ ইসলামের পরিচয় ও বিধানকেই মানতে চায় না, তার প্রতিক্রিয়ায় গড়ে উঠেছে ইসলামপন্থী রাজনৈতিক দল— যারা 'ভালো মুসলমান'দের মধ্যে স্বতন্ত্র রাজনৈতিক ধারা ও প্রতিনিধি থাকা জরুরী মনে করেন। তারা নিজেদেরকে শুধু রাজনৈতিক প্রতিনিধিই মনে করেন না, পাশাপাশি ধর্মীয় বক্তব্য ও ব্যাখ্যারও প্রতিনিধি মনে করেন। এটা হয়তো তারা সর্বক্ষেত্রে বলেন না, তবে এটাই মৌলিকভাবে তাদের মানসিক অবস্থান। ইসলামি ইতিহাসে প্রধানত আলেমরাই ধর্মীয় প্রতিনিধি ও অভিভাকত্বের দায়িত্ব পালন করতেন। যদি খেলাফতের পতনপূর্ব ইতিহাস দেখেন, তাহলে এর বাস্তবতা স্পষ্টভাবেই বুঝা যাবে। তবে আধুনিক রাষ্ট্র, সেকুলারপন্থী সম্প্রদায় ও ইসলামপন্থীদের প্রভাবে আলেমরা প্রভাব খুইয়েছেন। আধুনিক রাষ্ট্র তাদেরকে সরিয়ে দিয়েছে রাষ্ট্রীয় পদ-সুবিধা থেকে, রাষ্ট্র এখন নিজেই নিজের যাজকগোষ্ঠী তৈরি করে নিতে সক্ষম। সেকুলাররা ফাসেক-ফুজ্জার মুসলমানদের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। ইসলামপন্থীরা দখল করে আছেন বিরোধী জনসমর্থন। এটা খুব স্বাভাবিক— একজন ইসলামপন্থী বা জিহাদি নেতা যে ভাষা ও কঠোরতায় জনতাকে উত্তেজিত করতে পারেন, আলেমরা সেটার সক্ষমতা রাখেন না নিরাপত্তাগত কারণে। এই বহুমুখী চাপে আলেমরা নিজেদের স্বতন্ত্র সম্প্রদায় হিসেবে উপস্থিত করতে চেষ্টা করলেন। এখানে যতটা ইলম ও তাকওয়ার গুরুত্ব, তারচেয়ে বেশী গুরুত্ব গোষ্ঠীবদ্ধতার; ইসলামি ইতিহাসে একজন আলেম যে ভূমিকা রাখতে সক্ষম ছিলেন, এখন আলেম সমাজের একজন সদস্যের পক্ষে সে ভূমিকা রাখা সম্ভব নয়। দরিদ্রতা ও দুনিয়াবিমুখতা ছিল যাদের গুণ ও ভূষণ, এখন সেটাই আলেমদেরকে নিন্মবর্গ বা পিছিয়ে পড়া শ্রেণী হিসেবে চিহ্নিত করছে। এখানে রাজনীতি যতটা না পরিবর্তনের অস্ত্র, তারচেয়ে সাম্প্রদায়িক দরকষাকষি ও নিরাপত্তাপ্রাপ্তির মাধ্যম ; আলেমরা যেখানে ছিলেন জাতির নেতা, এখন সেটা নেমে এসেছে পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধি। গুলিয়ে গেছে রাজনীতি, ইলম, ধার্মিকতা ও তাকওয়ার সম্পর্ক। ইলমচর্চা করতে হবে ইলমের মতো করেই, যেমন রাজনীতি হবে রাজনীতির প্রক্রিয়া মেনে। আলেমরা নিজেরা ব্যক্তিগতভাবে নিজেদের বক্তব্য, অবস্থান ও যোগ্যতা প্রমাণ করবেন— পক্ষান্তরে তারা নিছক একটা মুসলিম গোষ্ঠী বা সম্প্রদায়ের প্রতিনিধি, যতদিন এভাবে ভাববেন, ততদিন তাদের ভূমিকা আরও গৌণ ও ক্ষীণ হতে থাকবে। গোষ্ঠীবদ্ধতা ও রাজনীতি হবে সকল শ্রেণীর মুসলমানদেরকে নিয়ে, শুধু 'আলেম সমাজ' ও 'সম্প্রদায়' নিয়ে না, রাজনীতি হবে রাজনীতির শর্ত মেনে। 'আলেম সমাজ' কখনোই 'ইলম' ও 'আলেম' এর বিকল্প হতে পারে না, যেমন মুসলিম রাজনীতির বিকল্প হতে পারে না 'আলেম সমাজের' 'সাম্প্রদায়িক রাজনীতি'।
1 228
15
আসাদ পরিবারের সাথে ওলামা সমাজের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল। এদের মধ্যে রামাদান বুতি রাহিমাহুল্লাহ অন্যতম। বুতির মত নির্লোভ-জ্ঞানী ব্য
আসাদ পরিবারের সাথে ওলামা সমাজের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল। এদের মধ্যে রামাদান বুতি রাহিমাহুল্লাহ অন্যতম। বুতির মত নির্লোভ-জ্ঞানী ব্যক্তিত্ব কীভাবে আসাদ পরিবারের ঘনিষ্ঠ হয়ে ওঠলেন, এটা সমকালীন ইসলামি স্কলারশিপের একটা সাংঘাতিক গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। আল জাজিরা সম্প্রতি এ বিষয়ে একটা প্রবন্ধ প্রকাশ করেছে। পড়তে পারেন।
1 135
16
গবেষণা প্রবন্ধ : আবু হানিফা রাহিমাহুল্লাহুর হাদিস বিষয়ক দৃষ্টিভঙ্গি আইআইইউএমের আল বুরহান জার্নাল থেকে আমার একটি গবেষণা প্রকাশিত হয়েছে। আমাদের প্রবীণ শিক্ষক ড. নুর মোহাম্মদ ওসমানি স্যার ছিলেন প্রধান লেখক, আমি সহযোগী লেখক হিসেবে কাজ করেছি। হাদিস বিষয়ে ইমাম আবু হানিফার অবস্থান কেমন ছিল, এ নিয়ে গত কয়েক দশক ধরে অনেক বিতর্ক চলছে। এই গবেষণায় আমরা প্রচলিত প্রশ্নগুলোর পর্যালোচনাসহ হাদিস বিষয়ে ইমাম আবু হানিফার তাত্ত্বিক দৃষ্টিকোণ অনুসন্ধানের চেষ্টা চালিয়েছি। যারা হানাফি ফিকাহ/হানাফি-সালাফি সম্পর্ক/হানাফি উলুমুল হাদিস নিয়ে কাজ করেন, তারা গবেষণাটি পড়ে দেখতে পারেন। https://journals.iium.edu.my/al-burhan/index.php/al-burhan/article/view/355 কোন অজানা কারণে প্রবন্ধটা অনেকে পড়েছেন, ডাউনলোড করেছেন। অন্য যারা প্রবন্ধ পাবলিশ করেছেন, তাদের চেয়ে আমার কাজের রেসপন্স বেশ খানিকটা ভালো। সবই আল্লাহর তাওফিক।
1 137
17
গ্রামীণ মসজিদ। আড়িয়াল বিলের কোল ঘেঁষে—জানালার পাশেই বিস্তীর্ণ জলরাশি, নৌকা-ট্রলার। মনে হল, এমন কোন মসজিদে ইমামতি করে জীবনটা প
গ্রামীণ মসজিদ। আড়িয়াল বিলের কোল ঘেঁষে—জানালার পাশেই বিস্তীর্ণ জলরাশি, নৌকা-ট্রলার। মনে হল, এমন কোন মসজিদে ইমামতি করে জীবনটা পার করে দিলে মন্দ হত না।
1 275
18
রাষ্ট্রের সাথে সম্পর্ক, দূরত্ব কওমি/আলিয়া মাদরাসার ছাত্র-শিক্ষকদের অসহায়-নিরীহ হিসেবে উপস্থাপন আমার কোন কালেই পছন্দ ছিল না। রাষ্ট্রীয় কাঠামোর বাইরে থাকলে, নিজস্ব সিলেবাস-জীবনযাপন নিয়ে বাঁচতে চাইলে অর্থনৈতিক-রাষ্ট্রীয় কিছু জটিলতা আসবেই। মালয়েশিয়ান অর্থনীতি যথেষ্ট শক্তিশালী হওয়া সত্ত্বেও অধিকাংশ মাদরাসার উস্তাজরা বিনাবেতনে শিক্ষকতা করেন, অধিকাংশ মসজিদে কোন স্থায়ী ইমাম নেই। তবে মালয়েশিয়ায় রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে প্রচুর ধর্মীয় অধিদপ্তর আছে। প্রত্যেক রাজ্যে স্বতন্ত্র ইফতা বিভাগ আছে, ধর্মীয় বিভাগের নিজস্ব পুলিশ বাহিনী পর্যন্ত আছে, ধর্মীয় আদালত আছে—এসব অধিদপ্তরে ধর্মীয় কর্মসংস্থানের পরিধিটা অনেক বড়। কাজেই, যারা আনুষ্ঠানিক ধর্মীয় দায়িত্ব পালন করেন, তারা যথেষ্ট ধনী। আমাদের কেন্দ্রীয় মসজিদের যিনি খতিব, তার দুই-তিনটি গাড়ি আছে—প্রতিটার দাম কোটি টাকার ওপরে। বলাইবাহুল্য, এদের সামাজিক প্রভাবও অনেক বেশী। কাজেই, যারা কওমি/আলিয়া মাদরাসার লোকদের গরীব/অসহায় হিসেবে উপস্থাপন করে, তারা বোকা বা প্রতারক। আলিয়া মাদরাসা ইতিমধ্যে আংশিকভাবে রাষ্ট্রীয় কাঠামোতে অংশ নিয়েছে, শিক্ষকদের বেতন-সামাজিক মর্যাদাও কিন্তু কম নয়—তবে এসবের জন্য তাদেরকে ভারী মূল্যও দিতে হয়েছে? আপনারা কি এমন মূল্য দিতে প্রস্তুত? দুনিয়ার কোন কিছুই বিনামূল্যে অর্জন করতে পারবেন না। আমার মতামত জিজ্ঞাসা করলে বলব, আমি হাইব্রিড ব্যবস্থায় বিশ্বাস করি। আমার মনে হয়, সকল মাদরাসায় সমানভাবে ইলমি সিলসিলার প্রতি মনোনিবেশ করা সম্ভব নয়। প্রতিবছর ত্রিশ হাজার নয়, সর্বোচ্চ পাঁচ হাজার ছাত্র ট্র্যাডিশনাল ডিগ্রির অনুমতি পেতে পারেন। বাকিদেরকে রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থায় অংশ নিতে হবে। তারা সাধারণ চাকরিতে চলে যাবেন। ভালো জিনিস সংখ্যায় অধিক হয়ে গেলে তারও মূল্য কমে যায়। পাশাপাশি, এত বিপুল সংখ্যক ছেলে রাষ্ট্রীয় কাঠামোর বাইরে যাবার ঝুঁকি নিতে পারে না। ঝুঁকি নেবার পরিণাম হল, অনেকে মাদরাসার ছাত্রদেরকে অসহায়/নিরীহ হিসেবে উপস্থাপন করার সুযোগ পেয়ে যাচ্ছে। তাদের সামাজিক অবস্থানে অবনতি ঘটছে। আলেমদের সামাজিক অবস্থানে অবনতি ঘটলে এর ক্ষতিটা সবাইকেই পোহাতে হবে। যে দেশে আলেমরা মর্যাদাহীন, সে দেশে সেকুলারিকরণ বৃদ্ধি পাবে—সেটা চোখ বন্ধ করে বলা যায়। আপনারা রাষ্ট্রীয় কাঠামোর বাইরে গিয়ে যে অসম্ভব কুরবানি আঞ্জাম দিলেন, সেই কুরবানিটাই আপনার জন্য বিপদের কারণ হয়ে দাঁড়াল। ধরতে পারছেন?
1 540
19
গ্রামীণ মসজিদ, দুবলি বাজার
গ্রামীণ মসজিদ, দুবলি বাজার
1 268
20
নারীদের চাকরি  বাংলাদেশের অর্থনীতি-লাইফস্টাইল যে দিকে আগাচ্ছে, তাতে আগামী দশ-পনের বছরের মধ্যে শহরের নারীরা প্রায় সবাই চাকরিতে নামতে বাধ্য হবে। যাদের টাকা আছে, ঢাকায় প্রোপার্টি আছে, বা খুবই দ্বীনদার/অভিজাত—এমন পরিবারগুলো ছাড়া আর কেউই নারীদেরকে চাকরি না করার স্বাধীনতা দিতে পারবে না। আপনি ভালো লাইফস্টাইল চাইবেন, শহরেও থাকবেন, নারীদেরকেও হেফাজত করবেন, সব একসাথে পারবেন না। দেখেন, পরিবেশ ঠিক থাকলে  নারীদের চাকরি করা অবশ্যই জায়েজ। নারীরা কৃষিকাজে ছিল সুপ্রাচীনকাল থেকেই। মহিলা মাদরাসাগুলোতে বেতন যত কমই থাকুক, নারীশিক্ষিকারাই তো প্রতিষ্ঠানগুলো চালাচ্ছে, তাই না? তাহলে চাকরি জায়েজ কি জায়েজ না, সেটা প্রধান আলোচ্যবিষয় নয়।  আধুনিকতা নারীদেরকে চাকরি করতে বাধ্য করতেছে, সারাদিন ঘরের বাইরে থাকতে হচ্ছে, টাকা নেই বলে/টাকা জমিয়ে রেস্টুরেন্টে-কক্সবাজারে ঘুরতে যেতে হবে বলে লোকাল বাসে পুরুষদের বিশ্রি চোখ-স্পর্শ সহ্য করতে হচ্ছে—এগুলা কোন ধরণের স্বাধীনতা? পৃথিবীর ইতিহাসে নারীদেরকে কেউ এত কম টাকায় এত ব্যাপকভাবে ‘এক্সপ্লয়েট’ করতে পেরেছে? বিশেষত, গার্মেন্টসের মত কাজগুলাতে কারা নারীদেরকে পাঠায়—নারীরা কেন এই পরিমাণ কায়িকশ্রম করবে—কোন অভিজাত ব্যাটাছেলে মা-বোনকে গার্মেন্টসের মত কাজে পাঠাবে? টাকা-সম্মান তো দিবেন দুনিয়ার সবচেয়ে কম।  পাবলিক প্লেসে তর্ক করবেন, হুজুররা নারীদেরকে ঘরে আটকে রাখতে চায়। এসব তর্ক না থাকলে নারীদেরকে এত অল্প নিরাপত্তা-সম্মান-পারিশ্রমিক দিয়ে ‘এক্সপ্লয়েট’ করতে পারতেন? মোটেই পারতেন না। লোভ দেখাবেন, স্বাধীনতা-এজেন্সি দিচ্ছেন—বাচ্চা মেয়েদের ইমোশন নিয়ে খেলবেন, বাস্তবে অল্পটাকায় শ্রম কিনে অর্থনৈতিক লুটপাট চালাবেন। মূদ্রাস্ফীতি বৃদ্ধি করে, ফেইক মডার্ন লাইফস্টাইল ইমপোজ করে নারীদেরকে চাকরি করতে বাধ্য করবেন।  কি একটা অবস্থা! 
1 910