ru
Feedback
Iftekhar Jamil

Iftekhar Jamil

Открыть в Telegram

একজন তালিবে ইলমের দিনলিপি-মুজাকারা-রিভিউ

Больше
9 274
Подписчики
Нет данных24 часа
-117 дней
-3630 дней

Загрузка данных...

Облако тегов
Нет данных
Возникли проблемы? Пожалуйста, обновите страницу или обратитесь к нашему support-менеджеру .
Входящие и исходящие упоминания
---
---
---
---
---
---
Привлечение подписчиков
сентябрь '26
сентябрь '26
+19
в 2 каналах
август '26
+81
в 3 каналах
Get PRO
июль '26
+133
в 3 каналах
Get PRO
июнь '26
+136
в 2 каналах
Get PRO
май '26
+121
в 2 каналах
Get PRO
апрель '26
+129
в 6 каналах
Get PRO
март '26
+527
в 4 каналах
Get PRO
февраль '26
+196
в 6 каналах
Get PRO
январь '26
+147
в 5 каналах
Get PRO
декабрь '25
+134
в 3 каналах
Get PRO
ноябрь '25
+97
в 2 каналах
Get PRO
октябрь '25
+234
в 2 каналах
Get PRO
сентябрь '25
+105
в 3 каналах
Get PRO
август '25
+140
в 5 каналах
Get PRO
июль '25
+201
в 3 каналах
Get PRO
июнь '25
+104
в 1 каналах
Get PRO
май '25
+100
в 1 каналах
Get PRO
апрель '25
+529
в 1 каналах
Get PRO
март '25
+78
в 0 каналах
Get PRO
февраль '25
+89
в 0 каналах
Get PRO
январь '25
+143
в 5 каналах
Get PRO
декабрь '24
+237
в 4 каналах
Get PRO
ноябрь '24
+150
в 2 каналах
Get PRO
октябрь '24
+262
в 6 каналах
Get PRO
сентябрь '24
+459
в 3 каналах
Get PRO
август '24
+831
в 3 каналах
Get PRO
июль '24
+128
в 3 каналах
Get PRO
июнь '24
+132
в 2 каналах
Get PRO
май '24
+487
в 2 каналах
Get PRO
апрель '24
+157
в 5 каналах
Get PRO
март '24
+174
в 5 каналах
Get PRO
февраль '24
+1 779
в 2 каналах
Get PRO
январь '24
+843
в 4 каналах
Get PRO
декабрь '23
+899
в 9 каналах
Get PRO
ноябрь '23
+445
в 9 каналах
Get PRO
октябрь '23
+2 298
в 12 каналах
Дата
Привлечение подписчиков
Упоминания
Каналы
06 сентября+3
05 сентября+3
04 сентября+1
03 сентября+2
02 сентября+9
01 сентября+1
Посты канала
মাদরাসায় রেগুলেশন সাভাবের এক মাদরাসায় শিশু নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে। অভিযোগ মোটামুটি 'ভয়াবহ'। কয়েক বছর আগে কওমি মাদরাসা শিক্ষাবোর্ড মাদরাসাটির রেজিস্ট্রেশন বাতিল করেছিল। ঠিক এখান থেকেই ধরতে পারবেন, বাংলাদেশে মাদরাসাব্যবস্থায় বেসরকারি পর্যায়ে রেগুলেশন করা যথেষ্ট কঠিন কাজ। দেশের মাদরাসাগুলো বহু বোর্ডে বিভক্ত, পাশাপাশি কেউ চাইলে বোর্ডের বাইরে গিয়েও মাদরাসা চালাতে পারছে। কাজেই, নিরাপত্তা প্রশ্নে সব মাদরাসাকে এক ছাতার নীচে আনার কোন বিকল্প নেই। পাশাপাশি, শুধু আইন যথেষ্ট নয়, বিচার করাও জরুরী—সেজন্য প্রশাসন/সরকারের সাথে সমন্বয় করতে হবে, জবাবদিহিতা বাধ্যতামূলক করতে হবে। তবে, এক্ষেত্রে আমাদের দিক থেকে তিনটি রেড ফ্ল্যাগ আছে, ক) মাদরাসার দায়িত্বশীলদের অনাগ্রহ-অযোগ্যতা, তাদের মধ্যে পলিটিকাল উইল কাজ করছে না। খ) আমলা-আদালত তথা রাষ্ট্রীয় হস্তক্ষেপ সীমিত রাখতে হবে, রাষ্ট্র ইমপ্লিমেন্টেশন-অডিটিং এর কাজে ফোকাসড থাকবে। গ) ধর্মীয় শিক্ষাকে বাজার ব্যবস্থার কাছে ছাড়া যাবে না। বাংলাদেশ গরীব দেশ, ধর্মীয় শিক্ষার আকর্ষণীয় চাকরির বাজার নেই। কাজেই, রেগুলেশন-মানোন্নয়নের নামে অতিরিক্ত খরচ বৃদ্ধি করলে ধর্মীয় শিক্ষা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হবে। আমি মনে করি, সরকারি উদ্যোগে কিছু আদর্শ হেফজখানা-মক্তব চালু করা জরুরী। পাশাপাশি, স্কুলের ধর্মীয় সাবজেক্টের অধীনে কুরআন শিক্ষার ব্যবস্থা রাখলে ছোট-খাটো মাদরাসা এমনিতেই আবেদন হারিয়ে ফেলবে। সরকারি সাবসিডিজ ছাড়া আদর্শ প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলার জন্য প্রয়োজনীয় গবেষণা-অবকাঠামো বরাদ্দ করা যথেষ্ট জটিল। আপনাদের জ্ঞাতার্থে জানাই, অধিকাংশ মুসলিম দেশে সরকারিভাবে মক্তব-হেফজখানা পরিচালিত হয়। রেগুলেশনের পাশাপাশি প্রতিযোগিতা সৃষ্টি না করা গেলে মাদরাসার লোকজন সতর্ক হবে না। মোটকথা, এই জটিলটাকে কেবল নীতিনৈতিকতার জায়গা থেকে না দেখে দেখতে হবে গভরনেন্সের দৃষ্টিকোণ থেকে।

2
আধুনিকতার পরীক্ষা আমরা মোটামুটি সবাই আধুনিকতার কঠিন পরীক্ষার মুখোমুখি। ক) আধুনিকতায় সবকিছু আপেক্ষিক—সুনির্দিষ্ট জায়েজ-নাজায়েজ বলে কিছু নেই। এটাও ঠিক, ঐটাও ঠিক, সেটাও ঠিক—সবই নাকি সঠিক ! খ) আধুনিকতায় মানুষের জীবন অনেকটাই অর্থহীন—পড়বেন, নয়টা টু পাঁচটা চাকরি, কামাবেন, ফুর্তি করবেন, নেটফ্লিক্সে মুভি দেখবেন, মারা যাবেন। মানবজীবনের কী অসম্ভব অপচয়। গ) আধুনিকতায় অধিকাংশ মানুষ অসুখী—এত খাবার, এত রিসোর্স, এত বিনোদন—জীবনে এত প্রাচুর্য—তবু নাশোকরিয়া, সবকিছু বোরিং—শারীরিক কোন কষ্ট নাই, অভাব নাই, তবু মনটা সবসময় ‘উদাসীন-বিমর্ষ’। বাংলাদেশে প্রতিদিন আত্মহত্যা করেন ত্রিশ-পয়ত্রিশ মানুষ—ভাবা যায়? ঘ) আধুনিকতায় সবকিছু অন্তহীন—সারাদিন ফেসবুক স্ক্রল করলেও শেষ হয় না, ইউটিউবের রেকমেন্ডশন বার খালি হবে না, বই পড়তে চাইলে অনলাইনে আছে কোটি কোটি বই। একজন মানুষের পক্ষে বিশ-ত্রিশজনের বেশী মানুষের সাথে বন্ধুত্ব রাখা সম্ভব নয়, অথচ ফেসবুকে আপনার লিস্টে পাঁচ হাজার মানুষ। প্রতিদিন একজন করে কথা বললেও পনের বছর লেগে যাবে। তবু মানুষের একাকীত্ব নাকি শেষ হয় না। ঙ) আধুনিকতা ইউটোপিয়ান ফিউচারের কথা বলে। সমস্যার কথা বললে সে দোষ স্বীকার করবে না। বলবে, আরও বাজেট বাড়ান, বরাদ্দ বৃদ্ধি করেন, আরও প্রজেক্ট নামান, আরও দশটা গবেষণা আনেন—তাহলে নাকি সব সমাধান হয়ে যাবে। যদি তাই হয়, তবে জাপানে এত আত্মহত্যা কেন—দেশ উন্নত হলে যদি জাপানের মত আত্মহত্যার পরিমাণ দিগুণ হয়ে যায়—তবে একে কি উন্নতি বলবেন? আধুনিকতাকে প্রশ্ন করতেও শিখেন
638
3
জলাভূমি : রাষ্ট্রীয় অব্যবস্থাপনা আড়িয়াল বিলে নতুন সড়ক নির্মিত হচ্ছে। এবারের বর্ষায় নতুন সড়কের প্রভাবটা ধরা যাচ্ছে খুবই স্পষ্টভাবে। নতুন সড়কের প্রেক্ষিতে জল-চলাচল ব্যাপকভাবে বাঁধাগ্রস্থ হচ্ছে, আটকে যাচ্ছে কচুরিপানা। নতুন রাস্তাকে কেন্দ্র করে ভরা বর্ষাতেও মাটিভরাটের উদ্যোগ মোটেই থেমে নেই। এলাকার মানুষ বলছেন, এবার তারা আর আগের মত মাছ পাচ্ছেন না। স্থানীয় মানুষ আগে থেকেই বিদেশমুখী, সামনে সেটা আরও বাড়বে—নিশ্চিতভাবেই বলা যায়। এ কেমন উন্নতি—যার প্রেক্ষিতে প্রবাসীর সংখ্যা বৃদ্ধি পায়? উন্নয়ন-যোগাযোগব্যবস্থা—সবই দরকার। তবে উন্নয়ন যদি টেকসই না হয়, উন্নতির চেয়ে ক্ষতি বেশী হচ্ছে কিনা, এ নিয়ে যদি কোন পরিসংখ্যান না থাকে, তবে বিপর্যয়ের দায় কে নিবে? বাংলাদেশ জলাভূমির দেশ—পানি আপনার ইতিহাস-সংস্কৃতি-অর্থনীতির সাথে গভীরভাবে যুক্ত। আপনার দেশের অবকাঠামো-উন্নয়ন-পরিবেশ-প্রকৃতি-বাস্তুতন্ত্র পশ্চিমা মডেলে চলতে পারে না। একটা রাষ্ট্র কী পরিমাণ দায়-দায়িত্বহীন হলে দেশের অন্যতম বৃহত্তর জলাভূমিতে বিমানবন্দর বানানোর কথা ভাবতে পারে? অবশ্য, এখন নতুন নতুন সড়ক নির্মাণ করে জলাভূমির জীবনীশক্তি নষ্ট করে দেওয়া হচ্ছে। আড়িয়াল বিলের চিত্রটা একটা কেইসস্টাডি—সারাদেশেই এ জাতীয় কাজ-কারবার চলছে। এসব অবকাঠামো হঠাৎ করে ভাঙতেও পারবেন না। আপনি জলের দেশের মানুষ, কিন্তু আপনি গ্রহণ করতে চাচ্ছেন পাহাড়-মরুভূমি-শীতের দেশের নগরব্যবস্থা। দুইদিন পরে যখন হিমালয়ের বরফ গলা শুরু করবে, চীন-ইন্ডিয়া বৃষ্টি-বর্ষা হলেই পানি ছেড়ে দিবে, তখন আপনার দেশ সেই ধাক্কা সামলাতে পারবে? পারবে না। সর্বোপরি, আপনার ইতিহাস-সংস্কৃতির কী হবে? আপনার জাতীয়তা-আত্মপরিচয় হুমকির মুখে পড়বে।
543
4
'আলেমদের' 'আলেম সমাজে' রুপান্তরিত হবার গল্প ইসলামি ইতিহাসে আলেম ছিলেন, তবে আলেম সমাজ ছিল কিনা সেটা নিয়ে আমার ঘোরতর সন্দেহ আছে। অর্থাৎ আলেমরা প্রধানত ব্যক্তিগতভাবে সক্রিয় হতেন, ইলম চর্চা ও প্রচার করতেন, হক-কথা বলতেন ও সাধ্যানুযায়ী সৎ কাজের আদেশ ও অসৎ কাজে নিষেধ করতেন। ইলম, বিচারিক, ওয়াজ ও তাসাউফের কাজ করতেন। আলেমদের বিশেষ সঙ্ঘবদ্ধতা বা স্বতন্ত্র সামাজিক সম্প্রদায় হয়ে উঠার ইতিহাস খুব বেশী দিনের নয়। এখানে বলে রাখা ভালো, ইসলামি ইতিহাসে অনেক আলেম সঙ্ঘবদ্ধতার চেষ্টা চালিয়েছেন, রাজনৈতিক বিপ্লবের প্রয়াস দেখিয়েছেন—খালদুন আমাদেরকে দেখান যে, অধিকাংশ ক্ষেত্রে ধর্মীয়ভাবে ভূমিকা রাখতে সক্ষম হলেও রাজনৈতিক সক্ষমতা না থাকায় সংঘবদ্ধ আলেমরা ব্যর্থ হয়েছেন। এর ভিত্তিতে এখানে অনেকে আলেমদের রাজনীতিতে অংশগ্রহণের বৈধতার প্রশ্ন টেনে আনেন, তাদের মতে আলেমদের রাজনীতিতে অংশগ্রহণ করাই উচিত নয়—খালদুনের ব্যাখ্যা মতে এখানে মূলত বৈধতার প্রশ্ন মূল নয়, খালদুনের ভাষায় আসাবিয়াতের প্রশ্নই মূল অর্থাৎ কৌশলগত সক্ষমতা না থাকায় তাদের ব্যর্থতা। আদতে তো শাসক আলেম হওয়াই উচিত, ইসলামি খেলাফতে তো শাসক মুজতাহিদ পর্যায়ের আলেম হওয়া শর্ত। অর্থাৎ শাসক ও রাজনীতিবিদরা আলেম হওয়া উচিত, তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে সেটা বাস্তব কিনা সেটা ভিন্ন প্রসঙ্গ। আলেমদের 'আলেম সমাজে' রুপান্তরিত হবার ইতিহাসটাও জানা দরকার। আমাদের সমাজে গত শতক থেকে সেকুলার ও ইসলামপন্থী নামে ধারা তৈরি হয়েছে। সেকুলার সমাজ ইসলামের পরিচয় ও বিধানকেই মানতে চায় না, তার প্রতিক্রিয়ায় গড়ে উঠেছে ইসলামপন্থী রাজনৈতিক দল— যারা 'ভালো মুসলমান'দের মধ্যে স্বতন্ত্র রাজনৈতিক ধারা ও প্রতিনিধি থাকা জরুরী মনে করেন। তারা নিজেদেরকে শুধু রাজনৈতিক প্রতিনিধিই মনে করেন না, পাশাপাশি ধর্মীয় বক্তব্য ও ব্যাখ্যারও প্রতিনিধি মনে করেন। এটা হয়তো তারা সর্বক্ষেত্রে বলেন না, তবে এটাই মৌলিকভাবে তাদের মানসিক অবস্থান। ইসলামি ইতিহাসে প্রধানত আলেমরাই ধর্মীয় প্রতিনিধি ও অভিভাকত্বের দায়িত্ব পালন করতেন। যদি খেলাফতের পতনপূর্ব ইতিহাস দেখেন, তাহলে এর বাস্তবতা স্পষ্টভাবেই বুঝা যাবে। তবে আধুনিক রাষ্ট্র, সেকুলারপন্থী সম্প্রদায় ও ইসলামপন্থীদের প্রভাবে আলেমরা প্রভাব খুইয়েছেন। আধুনিক রাষ্ট্র তাদেরকে সরিয়ে দিয়েছে রাষ্ট্রীয় পদ-সুবিধা থেকে, রাষ্ট্র এখন নিজেই নিজের যাজকগোষ্ঠী তৈরি করে নিতে সক্ষম। সেকুলাররা ফাসেক-ফুজ্জার মুসলমানদের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। ইসলামপন্থীরা দখল করে আছেন বিরোধী জনসমর্থন। এটা খুব স্বাভাবিক— একজন ইসলামপন্থী বা জিহাদি নেতা যে ভাষা ও কঠোরতায় জনতাকে উত্তেজিত করতে পারেন, আলেমরা সেটার সক্ষমতা রাখেন না নিরাপত্তাগত কারণে। এই বহুমুখী চাপে আলেমরা নিজেদের স্বতন্ত্র সম্প্রদায় হিসেবে উপস্থিত করতে চেষ্টা করলেন। এখানে যতটা ইলম ও তাকওয়ার গুরুত্ব, তারচেয়ে বেশী গুরুত্ব গোষ্ঠীবদ্ধতার; ইসলামি ইতিহাসে একজন আলেম যে ভূমিকা রাখতে সক্ষম ছিলেন, এখন আলেম সমাজের একজন সদস্যের পক্ষে সে ভূমিকা রাখা সম্ভব নয়। দরিদ্রতা ও দুনিয়াবিমুখতা ছিল যাদের গুণ ও ভূষণ, এখন সেটাই আলেমদেরকে নিন্মবর্গ বা পিছিয়ে পড়া শ্রেণী হিসেবে চিহ্নিত করছে। এখানে রাজনীতি যতটা না পরিবর্তনের অস্ত্র, তারচেয়ে সাম্প্রদায়িক দরকষাকষি ও নিরাপত্তাপ্রাপ্তির মাধ্যম ; আলেমরা যেখানে ছিলেন জাতির নেতা, এখন সেটা নেমে এসেছে পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধি। গুলিয়ে গেছে রাজনীতি, ইলম, ধার্মিকতা ও তাকওয়ার সম্পর্ক। ইলমচর্চা করতে হবে ইলমের মতো করেই, যেমন রাজনীতি হবে রাজনীতির প্রক্রিয়া মেনে। আলেমরা নিজেরা ব্যক্তিগতভাবে নিজেদের বক্তব্য, অবস্থান ও যোগ্যতা প্রমাণ করবেন— পক্ষান্তরে তারা নিছক একটা মুসলিম গোষ্ঠী বা সম্প্রদায়ের প্রতিনিধি, যতদিন এভাবে ভাববেন, ততদিন তাদের ভূমিকা আরও গৌণ ও ক্ষীণ হতে থাকবে। গোষ্ঠীবদ্ধতা ও রাজনীতি হবে সকল শ্রেণীর মুসলমানদেরকে নিয়ে, শুধু 'আলেম সমাজ' ও 'সম্প্রদায়' নিয়ে না, রাজনীতি হবে রাজনীতির শর্ত মেনে। 'আলেম সমাজ' কখনোই 'ইলম' ও 'আলেম' এর বিকল্প হতে পারে না, যেমন মুসলিম রাজনীতির বিকল্প হতে পারে না 'আলেম সমাজের' 'সাম্প্রদায়িক রাজনীতি'।
612
5
আসাদ পরিবারের সাথে ওলামা সমাজের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল। এদের মধ্যে রামাদান বুতি রাহিমাহুল্লাহ অন্যতম। বুতির মত নির্লোভ-জ্ঞানী ব্য
আসাদ পরিবারের সাথে ওলামা সমাজের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল। এদের মধ্যে রামাদান বুতি রাহিমাহুল্লাহ অন্যতম। বুতির মত নির্লোভ-জ্ঞানী ব্যক্তিত্ব কীভাবে আসাদ পরিবারের ঘনিষ্ঠ হয়ে ওঠলেন, এটা সমকালীন ইসলামি স্কলারশিপের একটা সাংঘাতিক গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। আল জাজিরা সম্প্রতি এ বিষয়ে একটা প্রবন্ধ প্রকাশ করেছে। পড়তে পারেন।
605
6
গবেষণা প্রবন্ধ : আবু হানিফা রাহিমাহুল্লাহুর হাদিস বিষয়ক দৃষ্টিভঙ্গি আইআইইউএমের আল বুরহান জার্নাল থেকে আমার একটি গবেষণা প্রকাশিত হয়েছে। আমাদের প্রবীণ শিক্ষক ড. নুর মোহাম্মদ ওসমানি স্যার ছিলেন প্রধান লেখক, আমি সহযোগী লেখক হিসেবে কাজ করেছি। হাদিস বিষয়ে ইমাম আবু হানিফার অবস্থান কেমন ছিল, এ নিয়ে গত কয়েক দশক ধরে অনেক বিতর্ক চলছে। এই গবেষণায় আমরা প্রচলিত প্রশ্নগুলোর পর্যালোচনাসহ হাদিস বিষয়ে ইমাম আবু হানিফার তাত্ত্বিক দৃষ্টিকোণ অনুসন্ধানের চেষ্টা চালিয়েছি। যারা হানাফি ফিকাহ/হানাফি-সালাফি সম্পর্ক/হানাফি উলুমুল হাদিস নিয়ে কাজ করেন, তারা গবেষণাটি পড়ে দেখতে পারেন। https://journals.iium.edu.my/al-burhan/index.php/al-burhan/article/view/355 কোন অজানা কারণে প্রবন্ধটা অনেকে পড়েছেন, ডাউনলোড করেছেন। অন্য যারা প্রবন্ধ পাবলিশ করেছেন, তাদের চেয়ে আমার কাজের রেসপন্স বেশ খানিকটা ভালো। সবই আল্লাহর তাওফিক।
599
7
গ্রামীণ মসজিদ। আড়িয়াল বিলের কোল ঘেঁষে—জানালার পাশেই বিস্তীর্ণ জলরাশি, নৌকা-ট্রলার। মনে হল, এমন কোন মসজিদে ইমামতি করে জীবনটা প
গ্রামীণ মসজিদ। আড়িয়াল বিলের কোল ঘেঁষে—জানালার পাশেই বিস্তীর্ণ জলরাশি, নৌকা-ট্রলার। মনে হল, এমন কোন মসজিদে ইমামতি করে জীবনটা পার করে দিলে মন্দ হত না।
770
8
রাষ্ট্রের সাথে সম্পর্ক, দূরত্ব কওমি/আলিয়া মাদরাসার ছাত্র-শিক্ষকদের অসহায়-নিরীহ হিসেবে উপস্থাপন আমার কোন কালেই পছন্দ ছিল না। রাষ্ট্রীয় কাঠামোর বাইরে থাকলে, নিজস্ব সিলেবাস-জীবনযাপন নিয়ে বাঁচতে চাইলে অর্থনৈতিক-রাষ্ট্রীয় কিছু জটিলতা আসবেই। মালয়েশিয়ান অর্থনীতি যথেষ্ট শক্তিশালী হওয়া সত্ত্বেও অধিকাংশ মাদরাসার উস্তাজরা বিনাবেতনে শিক্ষকতা করেন, অধিকাংশ মসজিদে কোন স্থায়ী ইমাম নেই। তবে মালয়েশিয়ায় রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে প্রচুর ধর্মীয় অধিদপ্তর আছে। প্রত্যেক রাজ্যে স্বতন্ত্র ইফতা বিভাগ আছে, ধর্মীয় বিভাগের নিজস্ব পুলিশ বাহিনী পর্যন্ত আছে, ধর্মীয় আদালত আছে—এসব অধিদপ্তরে ধর্মীয় কর্মসংস্থানের পরিধিটা অনেক বড়। কাজেই, যারা আনুষ্ঠানিক ধর্মীয় দায়িত্ব পালন করেন, তারা যথেষ্ট ধনী। আমাদের কেন্দ্রীয় মসজিদের যিনি খতিব, তার দুই-তিনটি গাড়ি আছে—প্রতিটার দাম কোটি টাকার ওপরে। বলাইবাহুল্য, এদের সামাজিক প্রভাবও অনেক বেশী। কাজেই, যারা কওমি/আলিয়া মাদরাসার লোকদের গরীব/অসহায় হিসেবে উপস্থাপন করে, তারা বোকা বা প্রতারক। আলিয়া মাদরাসা ইতিমধ্যে আংশিকভাবে রাষ্ট্রীয় কাঠামোতে অংশ নিয়েছে, শিক্ষকদের বেতন-সামাজিক মর্যাদাও কিন্তু কম নয়—তবে এসবের জন্য তাদেরকে ভারী মূল্যও দিতে হয়েছে? আপনারা কি এমন মূল্য দিতে প্রস্তুত? দুনিয়ার কোন কিছুই বিনামূল্যে অর্জন করতে পারবেন না। আমার মতামত জিজ্ঞাসা করলে বলব, আমি হাইব্রিড ব্যবস্থায় বিশ্বাস করি। আমার মনে হয়, সকল মাদরাসায় সমানভাবে ইলমি সিলসিলার প্রতি মনোনিবেশ করা সম্ভব নয়। প্রতিবছর ত্রিশ হাজার নয়, সর্বোচ্চ পাঁচ হাজার ছাত্র ট্র্যাডিশনাল ডিগ্রির অনুমতি পেতে পারেন। বাকিদেরকে রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থায় অংশ নিতে হবে। তারা সাধারণ চাকরিতে চলে যাবেন। ভালো জিনিস সংখ্যায় অধিক হয়ে গেলে তারও মূল্য কমে যায়। পাশাপাশি, এত বিপুল সংখ্যক ছেলে রাষ্ট্রীয় কাঠামোর বাইরে যাবার ঝুঁকি নিতে পারে না। ঝুঁকি নেবার পরিণাম হল, অনেকে মাদরাসার ছাত্রদেরকে অসহায়/নিরীহ হিসেবে উপস্থাপন করার সুযোগ পেয়ে যাচ্ছে। তাদের সামাজিক অবস্থানে অবনতি ঘটছে। আলেমদের সামাজিক অবস্থানে অবনতি ঘটলে এর ক্ষতিটা সবাইকেই পোহাতে হবে। যে দেশে আলেমরা মর্যাদাহীন, সে দেশে সেকুলারিকরণ বৃদ্ধি পাবে—সেটা চোখ বন্ধ করে বলা যায়। আপনারা রাষ্ট্রীয় কাঠামোর বাইরে গিয়ে যে অসম্ভব কুরবানি আঞ্জাম দিলেন, সেই কুরবানিটাই আপনার জন্য বিপদের কারণ হয়ে দাঁড়াল। ধরতে পারছেন?
976
9
গ্রামীণ মসজিদ, দুবলি বাজার
গ্রামীণ মসজিদ, দুবলি বাজার
889
10
নারীদের চাকরি  বাংলাদেশের অর্থনীতি-লাইফস্টাইল যে দিকে আগাচ্ছে, তাতে আগামী দশ-পনের বছরের মধ্যে শহরের নারীরা প্রায় সবাই চাকরিতে নামতে বাধ্য হবে। যাদের টাকা আছে, ঢাকায় প্রোপার্টি আছে, বা খুবই দ্বীনদার/অভিজাত—এমন পরিবারগুলো ছাড়া আর কেউই নারীদেরকে চাকরি না করার স্বাধীনতা দিতে পারবে না। আপনি ভালো লাইফস্টাইল চাইবেন, শহরেও থাকবেন, নারীদেরকেও হেফাজত করবেন, সব একসাথে পারবেন না। দেখেন, পরিবেশ ঠিক থাকলে  নারীদের চাকরি করা অবশ্যই জায়েজ। নারীরা কৃষিকাজে ছিল সুপ্রাচীনকাল থেকেই। মহিলা মাদরাসাগুলোতে বেতন যত কমই থাকুক, নারীশিক্ষিকারাই তো প্রতিষ্ঠানগুলো চালাচ্ছে, তাই না? তাহলে চাকরি জায়েজ কি জায়েজ না, সেটা প্রধান আলোচ্যবিষয় নয়।  আধুনিকতা নারীদেরকে চাকরি করতে বাধ্য করতেছে, সারাদিন ঘরের বাইরে থাকতে হচ্ছে, টাকা নেই বলে/টাকা জমিয়ে রেস্টুরেন্টে-কক্সবাজারে ঘুরতে যেতে হবে বলে লোকাল বাসে পুরুষদের বিশ্রি চোখ-স্পর্শ সহ্য করতে হচ্ছে—এগুলা কোন ধরণের স্বাধীনতা? পৃথিবীর ইতিহাসে নারীদেরকে কেউ এত কম টাকায় এত ব্যাপকভাবে ‘এক্সপ্লয়েট’ করতে পেরেছে? বিশেষত, গার্মেন্টসের মত কাজগুলাতে কারা নারীদেরকে পাঠায়—নারীরা কেন এই পরিমাণ কায়িকশ্রম করবে—কোন অভিজাত ব্যাটাছেলে মা-বোনকে গার্মেন্টসের মত কাজে পাঠাবে? টাকা-সম্মান তো দিবেন দুনিয়ার সবচেয়ে কম।  পাবলিক প্লেসে তর্ক করবেন, হুজুররা নারীদেরকে ঘরে আটকে রাখতে চায়। এসব তর্ক না থাকলে নারীদেরকে এত অল্প নিরাপত্তা-সম্মান-পারিশ্রমিক দিয়ে ‘এক্সপ্লয়েট’ করতে পারতেন? মোটেই পারতেন না। লোভ দেখাবেন, স্বাধীনতা-এজেন্সি দিচ্ছেন—বাচ্চা মেয়েদের ইমোশন নিয়ে খেলবেন, বাস্তবে অল্পটাকায় শ্রম কিনে অর্থনৈতিক লুটপাট চালাবেন। মূদ্রাস্ফীতি বৃদ্ধি করে, ফেইক মডার্ন লাইফস্টাইল ইমপোজ করে নারীদেরকে চাকরি করতে বাধ্য করবেন।  কি একটা অবস্থা! 
1 408
11
এই কনফারেন্সে আমি একটা গবেষণা পেশ করবো। শিরোনাম: 'Grey Areas Between Orthodoxy and Disbelief: Legal and Parental Perspectives
এই কনফারেন্সে আমি একটা গবেষণা পেশ করবো। শিরোনাম: 'Grey Areas Between Orthodoxy and Disbelief: Legal and Parental Perspectives'
1 607
12
ধর্মহীন আধ্যাত্মিকতা কিছু বামপন্থীদের ইদানীং রুহানিয়াত-আধ্যাত্মিকতা শব্দটা অনেক বেশী ব্যবহার করতে দেখি। এতে অবাক হবার কিছু নেই, নাস্তিককুল শিরোমণি স্যাম হ্যারিসও 'Waking Up: A Guide to Spirituality Without Religion' শিরোনামে একটা বই লেখেন। দেশি বাম/নাস্তিক/সেকুলারদেরকেও বৌদ্ধ দর্শন, লালন ও রবীন্দ্রনাথের গান শুনে আপ্লুত হতে দেখবেন। এগুলোর মূলকথা একই। বামপন্থা/সেকুলারিজম অনেক প্রশ্নের উত্তর দিতে পারে না। আপনার বিবাহ-বিচ্ছেদ ঘটলো, আপনি মৃত্যুর মুখামুখি, গভীর রাতে ভেঙ্গে গেল ঘুম, আপনার মনে প্রশ্ন আসবে, 'why is there something rather than nothing?' ‘কেন আমার জীবনটা এত কষ্টে কাটবে, লাইফ কেন ফেয়ার হবে না?’ ধর্ম এসবের উত্তর দিতে পারে, ধর্মহীনতা এসব ক্ষেত্রে চূড়ান্ত অক্ষম। এমন জটিলতায় আপনার এক রকমের ভাববাদ লাগবেই। বৌদ্ধ দর্শন, লালন বা রবীন্দ্রনাথ, সেকুলার সুফিবাদ বা ধ্যানে দেশি বাম/ নাস্তিকরা অর্থহীনতা ঘুচাতে চান। পশ্চিমা বৌদ্ধ ধর্ম ও দেশি লালন চর্চায় আসলে বিশেষ পার্থক্য নেই। কষ্ট পেলে আপনার আশ্রয় দরকার, আপনি মাঝেমাঝে অর্থহীনতাতেও ভুগতে পারেন, এগুলো কিন্তু ইসলামও বলে। আপনার একজন আল্লাহ আছে, তিনি আপনার ডাকে সাড়া দেন, তিনি আপনার কেয়ার করেন। ‘হে নবী, আমার বান্দারা আপনার কাছে আমার কথা জিজ্ঞাসা করলে আপনি বলুন, আমি কাছেই আছি। আমাকে ডাকলে আমি সাড়া দেই। তাদের বলুন, তারা যেন আমার কথা মানে, আমার প্রতি ঈমান আনে। দেখবেন তারা ভালো থাকবে, সুপথে চলতে পারবে’। ইসলাম আল্লাহর কাছে আশ্রয়ের কথা বলে, আপনার কষ্টে আপনি একা নন। আল্লাহ আপনার পাশেই আছেন। এটাই মোটাদাগে ভাববাদিতা, আপনি শতবার গুনাহ করেন, তাওবা ভঙ্গ করেন, তাওবার দরজা কিন্তু খোলা। তবে ইসলাম ঈমান ও আমলের শর্তও আরোপ করে। বৌদ্ধ ধর্ম বা লালনবাদে এসব শর্ত নেই। তারা ধর্মহীন ভাববাদিতা কায়েম করতে চান। আধুনিক মানুষের মনে অহংকার অনেক, সে কীভাবে অলৌকিক সত্ত্বার কাছে নতজানু হতে পারে, সে কীভাবে নিজের বুদ্ধি-প্রবৃত্তির শ্রেষ্ঠত্বের অহংকার ছাড়তে পারে? চিন্তার শিরিকির চেয়ে বড় শিরিকি আর নাই। তলিয়ে দেখলে বুঝবেন, ঈমান-আমল ছাড়া আধ্যাত্মিকতা হতেই পারে না। ঈমান ছাড়া মনে স্থিরতা আসে না। মুজাদ্দিদে আলফে সানি বলেন, আমল ছাড়া আধ্যাত্মিকতা করলে সেটা দর্শনে পরিণত হয়ে যায়। যদি দর্শনই করেন, তবে আধ্যাত্মিকতার কেন দরকার হবে? আল্লাহ আপনার পাশে আছেন, আপনাকে তিনি দেখে রাখছেন সবসময়। আপনাকে ছাড়তে হবে অহংকার, আল্লাহর কাছে করতে হবে আত্মসমর্পণ। গুনাহ করলে তওবা করবেন, বিপদে পড়লে আল্লাহর আশ্রয় চাইবেন, ধর্মহীন আধ্যাত্মবাদ আপনাকে আত্ম ও প্রবৃত্তি পূজা থেকে মুক্তি দিবে না। ধর্মহীন আধ্যাত্মিকতা আপনাকে আরও বেশী অর্থহীন, আশ্রয়হীন করে তুলবে
1 921
13
তালিবদের সফলতার রহস্য তালিবানদের সাংগঠনিক সফলতার একটা বড় কারণ তাদের ইলমি চর্চা। নতুনদের অবশ্যই মৌলিক ধর্মীয় শিক্ষাগ্রহণ করতে হয়। শিক্ষা চলতে থাকে, ক্রমশ নতুনরা প্রশিক্ষকে পরিণত হন। সিনিয়র সদস্যরা তরুণ প্রশিক্ষকদের উচ্চশিক্ষার দায়িত্ব গ্রহণ করেন। সর্বোচ্চ নেতাদের দরসে বসেন সিনিয়র নেতারা। এভাবে ক্রমধারায় সবাই ইলমের সাথে সংযুক্ত থাকেন। কঠিন যুদ্ধের মধ্যেও তারা ইলমি চর্চায় অবহেলা করেন না। যারা মৌলিক শিক্ষাগ্রহণে ব্যর্থ হয়, তাদেরকে সংগঠন থেকে বাদ দিয়ে দেওয়া হয়। তালিবানদের সাংগঠনিক কাঠামো এভাবে উস্তাদ-শাগরিদদের মিথস্ক্রিয়ায় পরিচালিত হয়। ছোটরা বড়দের সম্মান করেন, বড়রা ছোটদের দেখেন ছাত্র হিসেবে। তালিবানদের সফলতা থেকে যদি শুধু একটি বার্তা নেওয়া যায়, তবে সেটি হল সবাইকে মৌলিক ধর্মীয় শিক্ষাগ্রহণ করতে হবে। সাধারণরা তো আছেনই, বিশেষত যারা রাজনীতি ও প্রশাসনের সাথে যুক্ত হবেন, তাদেরকে অবশ্যই ধর্মীয় শিক্ষা অর্জন করতে হবে, সবসময় কোন একভাবে ইলমের সাথে যুক্ত থাকতে হবে। প্রত্যেককেই ইসলামি বিশ্বদৃষ্টি সম্পর্কে জানতে হবে। ভুল করলে না হয় তাওবা করে নিলেন, ভুল যে করছেন, সেটা অন্তত জানা থাকুক, মনে আসুক অনুতাপ। ইলম চর্চা শুধু জানার জন্য নয়, এটা এক বিশেষ লাইফস্টাইল। তৎকালীন তালিবান শীর্ষ নেতা ও অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা আবদুস সালাম জাইফ মন্ত্রীত্ব ছেড়ে মসজিদের ইমামতি-শিক্ষকতার জীবন বেছে নেন।
2 150
14
কাবুল বিজয়ের পাঁচ বছর দুই হাজার এক ও তিন সালে আফগান ও ইরাকের পতনে অনেকের ঈমানে টান পড়েছিল। যদি আল্লাহ সর্বশক্তিমান হন, যদি ইসলামই হয় সত্য ধর্ম, তবে শুধু মুসলমানরাই কেন বিপর্যয়ের শিকার হবে—অনেকেই এমন কথা ভেবেছেন ও বলেছেন। সর্বশেষ রোহিঙ্গা গণহত্যায় আমাদের দেশে ব্যাপক হতাশার জন্ম হয়। রাবেয়া স্কয়ারের কথা না বললেই নয়, দুই হাজার তেরো সালের চৌদ্দই আগস্ট মারা যান কয়েক হাজার মানুষ। আসমা বেলতাগির কথা হয়তো মনে আছে অনেকের, কিশোরী মেয়েটার হাসিমাখা মুখ—অনেকে প্রশ্ন করতে থাকেন, আল্লাহ কি এসব দেখেন না? আফগান ও ইরাক যুদ্ধের সময় আমরা ছোট ছিলাম। মাত্রই পত্রিকার শিরোনাম পড়তে শিখেছি। বাবা ফজরের নামাজে কুনুতে নাজেলা পড়তেন। নিয়মিত। মাঝেমাঝে মুসুল্লিরা হাউমাউ করে কান্না করতো। আন্তর্জাতিক পাতায় দেখতাম শুধু নির্যাতন, মৃত্যু, ধ্বংসের খবর। আমরা বড় হয়েছি এসব পরাজয় দেখতে দেখতে। আমরা ভাবতাম, এগুলো কি আমাদের পাপের ফসল, অন্য জাতিগুলো তো আরও বেশী পাপে লিপ্ত, বিপদ কেন আসবে শুধু মুসলমানের মাথায়? ইকবালের ভাষায়, There are other communities too. There are sinners in them too/ There are weak, wretched ones. There are those intoxicated with the wine of pride. Your mercies are on the houses of the Others/When lightning falls, then it's on the poor Muslims! ইকবাল বিপর্যয়ের ব্যাখ্যা দানের চেষ্টা করেছেন। আমি-আপনিও সে ব্যাখ্যাগুলো জানি। বাস্তবতা হচ্ছে, ব্যাখ্যায় সবসময় মন ভরে না। মানুষ চোখে ও চেখে দেখতে আগ্রহী। আফগানিস্থানের বিজয় সাধারণ মুসলমানদের আত্মিক শান্তি দিতে পেরেছে, এটুকুই অনেক। আফগানিস্থান বাংলাদেশ থেকে বহুদূরে অবস্থিত। ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতিও অনেক ভিন্ন। বাংলাদেশের মানুষ আসলে বিশেষ কিছু চায় না। তারা দেখতে চায় মুসলিম দেশগুলো ভালো থাকুক। আফগানিস্থানে বন্ধ হোক যুদ্ধ। বিরাজ করুক রাজনৈতিক সন্ধি, ঐক্যমত। আগামীকাল সকালে বাবা শিশু সন্তান নিয়ে রাস্তায় বের হোক নিরাপদে, নারীরা হিজাবে শিক্ষা ও কাজে যোগ দিক, পশতুনরা বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হোক তাজিকদের সাথে, আবার খুলুক মাদরাসাগুলো। বিকেলবেলায় নালার পাশে কিশোররা লেখুক কুরবানি, স্মৃতি, শোক ও প্রেমের কবিতা।
1 643
15
আধুনিকতার সমস্যা আধুনিক শিক্ষা-সভ্যতার দুটো দুর্বলতম দিক আছে—আর্থসামাজিক বৈষম্য, ভয়াবহ প্রাকৃতিক বিপর্যয়। যদি উন্নয়নের গল্প এতটাই সত্য হয়, তবে সমাজে এত বৈষম্য কেন, পাশাপাশি প্রকৃতি মানুষের ভোগবিলাসের চাপ সহ্য করতে পারছে না। বাতাস-পানি-মাটির মত গুরুত্বপূর্ণ উপাদান ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। আধুনিক চিন্তা-দর্শনে এসবের সহজ কোন সমাধান নেই। কিছু বললেই তারা 'সাসটেইনেবিলিটি' তত্ত্ব ধরিয়ে দেয়, কিন্তু এর মধ্যেও লুকিয়ে আছে অর্থনৈতিক-বিলাসিতার উপাদান। আর্থসামাজিক বৈষম্য আর প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের ভূত আধুনিক সমাজ-সভ্যতা-দর্শনকে তাড়িয়ে বেড়াচ্ছে। সবাই শুধু দৌড়াচ্ছে, আপাতত সমাধান নাই কোথাও।
1 369
16
রাজনীতি ও শরীয়া তখন মিসরে মুসলিম ব্রাদারহুড ক্ষমতায়। তারা কেন দ্রুত ‘ইসলাম কায়েম’ করে ফেলছে না, সে নিয়ে আমাদের মধ্যে উত্তেজনা। আমরা ভাবছিলাম, ‘ইসলাম কায়েম’ মানে ‘ইসলামি বিধিবিধান’ সব বাস্তবায়ন করতে হবে—যেমন তালিবরা করেছিল। আমি একটা আরবি রচনা লেখে ফেললাম। শিরোনাম দিলাম, ‘ইসলামি আইন’ ছাড়া ‘ইসলামি শাসন’ কীভাবে সম্ভব? আমাদের মরহুম এক শিক্ষক লেখাটা দেখে মুখটিপে হাসলেন, কিছুই বললেন না। ব্রাদারহুড খুব বেশীদিন ক্ষমতায় থাকতে পারলো না। আমাদের প্রজন্মের সবাই একটা ধাক্কা খেলাম—কিশোর বয়সের কথা। আমার পড়াশোনা-জানাশোনার পরিধি খুবই সীমিত ছিল। আমি বিকল্প লেখকদের অনুসন্ধান করতে লাগলাম। ইতিমধ্যে একটা তত্ত্ব আমার মনে ধরলো : আলহুররিয়াতু ওয়াশশারঈয়াতু কাবলাশ শারিয়াহ। যার মর্ম হল, রাজনৈতিক বৈধতা-স্বাধীনতার দিকটা শরীয়ার আনুষাঙ্গিক বিষয়ের চেয়েও বেশী গুরুত্বপূর্ণ। যদি দেশে অবৈধ শাসন চালু থাকে, সবাই রাষ্ট্রের কাছে পরাধীন থাকে, তবে শরীয়ার আনুষাঙ্গিক বিষয়দির কথা কল্পনাও করা যায় না। আপনার কাছে যদি সতর ঢাকার মত কাপড় না থাকে, তবে পাগড়ি বাঁধার কথা ভাববেন কীভাবে? বাংলাদেশে যারা বিপ্লবের পরে ‘ইসলাম কায়েমের’ আলোচনা করছেন, তাদের সাথে কিশোরবেলার স্মৃতি শেয়ার করার লোভ সামলাতে পারলাম না। মনে রাখবেন, আনুষাঙ্গিক বিষয়/বিবাদের চেয়ে প্রতিবিপ্লব/জাতীয়তাবাদ ঠেকানোটা বেশী জরুরি। (এখানে কিছু রেটোরিক ব্যবহার করা হয়েছে। পূর্ণ রুপটা এমন হবে : ضروريات الشريعة أهم من تحسينياتها وجزئياتها ، فإن حفظ النفوس والنظام من مهمات الشريعة، فالشريعة في 'الحرية والشرعية قبل الشريعة' يراد بها جزئياتها. জরুরি বলেই রেটোরিক ইউজ করা হয়েছে)
1 845
17
যে কারণে কুরআন শরীফ বুঝা জরুরি আমরা এখন প্রচুর বিদেশি কন্টেন্ট দেখি। বই পড়ি, ভিডিও দেখি। আমাদের রুচি-আকাঙ্খা-কল্পনা পাল্টে যাচ্ছে। কুরআন-হাদিসের সাথে সম্পর্কের মাধ্যমেই নিজেদের রুচি/ফিতরত খানিকটা ধরে রাখা সম্ভব। সবচে’ ভালো হয় যদি সামাজিক সম্পর্ক গড়ে তুলা যায়, বুজুর্গদের সাথে সম্পর্ক রাখা যায়। কারণ তারা জীবন্ত কুরআন-হাদিস।
9
18
সংগ্রহ করতে পারেন।
সংগ্রহ করতে পারেন।
1 672
19
ইমাম ইযযুদ্দিন বিন আব্দুস সালাম ইমাম ইযযুদ্দিন বিন আব্দুস সালাম ইসলামি ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ সময়ের গুরুত্বপূর্ণ আলেম। কেন তিনি গুরুত্বপূর্ণ, কয়েক শব্দে সেটা ব্যাখ্যা যাক। ক) তিনি একা ক্রুসেডার দখলদার বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছেন। খ) ক্রুসেডারদের সহযোগিতাকারী শাসকদের প্রতি সমর্থন প্রত্যাহার করেছেন। গণবিপ্লবে উৎসাহ প্রদান করেছেন। গ) তিনি ছিলেন গরীব বংশের সন্তান, অনেক বড় হয়ে ধর্মীয় পড়াশোনা শুরু করেছেন এবং সমকালীন সবচেয়ে বড় আলেমে পরিণত হয়েছেন। যারা গরীব বা বয়স্ক অবস্থায় জ্ঞানঅর্জন শুরু করেছেন, তারা তাঁর থেকে উৎসাহ পাবেন। ঘ) রাজনীতি নিয়ে লেখেছেন। অনেক নীতিমালা ও সূত্র ব্যাখ্যা করেছেন। তিনি যে সময়ের সন্তান ছিলেন, তখনো রাজনৈতিক অস্থিরতা চলছিল। ফলে রাজনীতিমুক্ত আলেম হওয়া তাঁর জন্য সমীচীন ছিল না। যেমন এখন সমীচীন নয়। ঙ) তাসাউফ ও মাকাসেদ নিয়ে লেখেছেন। রাজনৈতিক অস্থিরতায় মানুষের দ্বীনদারিতায় ব্যাপক ঘাটতি সৃষ্টি হয়েছিল, ফলে তাসাউফের কোন বিকল্প ছিল না। পাশাপাশি আলেম হিসেবে তাকে প্রায়োরিটি সেট করতে হচ্ছিল, মাকাসেদ তাকে এক্ষেত্রে বিশেষ সাহায্য করেছিল। ইমাম শাতেবি (রাহঃ) এর আগে মাকাসেদে শরিয়া বিষয়ে তিনিই ছিলেন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব। চ) দামেস্কের শাসকের বিশ্বাসঘাতকতায় তিনি মিসরে চলে যান এবং বিচারিক-ধর্মীয় দায়িত্বপ্রাপ্ত হন। সেখানেও নানারকম অনিয়ম চলছিল। তিনি সমস্ত মন্ত্রী-সামন্তনেতাদের বিরুদ্ধে রায় দেন। মিসরের এলিট সমাজ এতে ক্ষেপে যায়। শায়েখ সিদ্ধান্ত নেন তিনি মিসর থেকে চলে যাবেন। তাঁর সাথে আলেমরাও চলে যাচ্ছিলেন। তখন অভূতপূর্ব পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়। মিসরের ব্যবসায়ী ও ধর্মীয় পুরুষ সমাজও বেরিয়ে আসে। ঘরে বসে থাকেনি নারী-শিশুরাও। তারাও মিসর ছেড়ে যাবার সিদ্ধান্তগ্রহণ করে। একপর্যায়ে বাদশা সব শর্ত মেনে নেন।
1 764
20
আড়িয়াল বিল আড়িয়াল বিল আমার অন্যতম পছন্দের জায়গা। আমি এই এলাকায় অন্তত কয়েকশো বার গেছি বললে মোটেই বাড়িয়ে বলা হবে না। ইদানীং বিলের মাঝ বরাবর নতুন সড়ক নির্মাণ করা হচ্ছে। বিলের জীববৈচিত্র্যের ওপরে সড়কটার প্রভাব কেমন হবে, সেটা আসলেই দুশ্চিন্তার বিষয়। মরিচপট্টি থেকে ডুবলি, গালিমপুর থেকে জয়পাড়া, বারৈখালি থেকে হাশারা রোডের পর্যবেক্ষণ থেকে বুঝি, বিল মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হবে। তবে শুধু 'বয়ান' দিয়ে 'গ্রামীণ উন্নয়ন' থামানো যাবে না। আপনারা থাকবেন ঢাকায়, উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা উপভোগ করবেন, মাঝে মাঝে বিল দেখে শহরের ক্লেদ দূর করতে চাইবেন। গ্রামীণ জনপদকে কেন আপনাদের শহুরে জীবন ও দূষণের দায়ভার বহন করতে হবে? সরকার ঘোষণা করেছে, বিল এলাকায় নতুন করে বিশেষ কোন স্থাপনা বানানো যাবে না। হাইকোর্টের পর্যবেক্ষণ আছে, সরকার সংরক্ষিত জলাভূমি হিসেবে স্বীকৃতিও দিতে চাচ্ছে। কিন্তু প্রশ্নটা থেকেই যাবে : গ্রামীণ মানুষরা কেন আপনাদের শহুরে 'আবদার' রক্ষা করবে? পরিবেশ-নীতিবিদ্যায় এ এক সাংঘাতিক প্রশ্ন। ঠিক এ কারণেই পরিবেশ রক্ষাকে কেবল 'বৈজ্ঞানিক' দৃষ্টিকোণ থেকে দেখাই যথেষ্ট নয়। নৈতিক-আর্থসামাজিক মূল্যায়ন-সমাধান পেশ করাও সমানভাবে জরুরী। বাংলাদেশ রাষ্ট্র এক্ষেত্রে মোটামুটি ব্যর্থ।
1 642