en
Feedback
Reality Check BD

Reality Check BD

Open in Telegram

মিথ্যাচার, ‘গুজব’ আর প্রোপাগ্যান্ডার বিরুদ্ধে ...

Show more
4 962
Subscribers
-124 hours
-107 days
+2230 days
Posts Archive
. আমরা বারবার সতর্ক করেছি—হাসিনার পলায়ন ছিল দিল্লির জন্য গত কয়েক দশকের সবচেয়ে বড় 'স্ট্র্যাটেজিক ফেইলিওর'। এই ভূ-রাজনৈতিক শূন্যতা পূরণে তারা এখন ডেসপারেট। এই ক্ষতি পুষিয়ে নিতে তারা এখন তাদের আগ্রাসী চাণক্য নীতিকে আর পর্দার আড়ালে রাখছে না। [২] অ্যাডভোকেট চৈতালী চক্রবর্তীর 'আলাদা প্রদেশ' গঠনের ঘোষণা কোনো সস্তা পাবলিসিটি স্টান্ট নয়; বরং এটি একটি সুপরিকল্পিত ট্রায়াল বেলুন। ভূ-রাজনৈতিক পরিভাষায় একে বলা হয় 'টেস্টিং দা গ্রাউন্ড' অর্থাৎ ক্ষেত্র কতটুকু প্রস্তুত হয়েছে। তারা লক্ষ্য করে: -প্রতিক্রিয়া কেমন? -প্রতিক্রিয়ার ধরন কী? -প্রতিক্রিয়া আসতে কত সময় লেগেছে? -কারা প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে? -মিডিয়া কী ভূমিকা পালন করেছে? -আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কী করেছে? -ঘটনাটি কি ধামাচাপা পড়েছে নাকি প্রতিরোধ করা গেছে? এমন আরো বেশ কিছু প্রতিক্রিয়া পর্যবেক্ষন করা হয়। . আরো লক্ষ্য করুন, এই একই ঘোষণা যদি কোনো দাড়ি-টুপিওয়ালা আলেম দিতেন, তবে এতক্ষণে পশ্চিমা মিডিয়া থেকে শুরু করে শাহবাগী সুশীলদের রাডারে 'ইসলামী জঙ্গিবাদ' এর সাইরেন বেজে উঠত। অথচ চৈতালীদের বেলায় অদ্ভুতভাবে - 'অল কোয়ায়েট অন দা সুশীল ফ্রন্ট'! এই নমনীয়তা স্পষ্ট ভাবে প্রমাণ করে যে, থিংস আর মুভিং টু আ ডেফিনিটিভ ডেস্টিনেশন। . ভারত তার আগ্রাসী চাণক্য নীতি নিয়ে এখন আর কোনো রাখঢাক করছে না। মেহেদি হাসানের সাথে রাম মাধবের সেই কুখ্যাত 'অখণ্ড ভারত' ঘোষণা থেকে শুরু করে শুভেন্দু অধিকারীর 'ঢাকা দখল' কিংবা মাত্র দুটি রাফায়েল জেট দিয়ে বাংলাদেশকে কুপোকাত করার দম্ভ - সবই একই সুতায় গাঁথা। [৩] সীমান্তে হঠাৎ বেড়ে যাওয়া পুশ-ইন এবং সীমান্ত ঘেঁষে হরিদাসের মন্দির-মূর্তি প্যাকেজের রাজনীতি মূলত বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বের ওপর এক ধরনের 'সাইকোলজিক্যাল প্রেশার' বা মনস্তাত্ত্বিক চাপ সৃষ্টির হাতিয়ার। [৪] This is what a fourth gen warfare looks like - যেখানে সরাসরি যুদ্ধের বদলে প্রক্সি এজেন্ট এবং ধর্মীয় সেন্টিমেন্টকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে একটি স্বাধীন রাষ্ট্রের অখণ্ডতাকে চ্যালেঞ্জ করা হয়! . বাংলাদেশের অভ্যন্তরে বসে যারা বিদেশের সাহায্য নিয়ে ভূখণ্ড ভাগ করার স্বপ্ন দেখে, তারাই একটি প্রক্সি যুদ্ধের ফুট সোলজার, they are just not the random ones. আর যারা তাদের এই দেশদ্রোহিতার সময় নীরব থাকে, আরো স্পষ্ট করে বললে তাদের ধর্ম এবং বিশ্বাসের পরিচয় দেখে কথা বলার মত ন্যুনতম গাটস অ্যান্ড কনফিডেন্স হারিয়ে ফেলে তাদের স্পষ্ট ভাবে আমাদের মার্ক করে নেয়া দরকার। কারন তারা এই যুদ্ধের বুদ্ধিবৃত্তিক সহযোগী। . মনে রাখবেন, চাণক্য নীতিতে কোনো কিছুই 'র‍্যান্ডম' নয়। প্রতিটি উস্কানি, প্রতিটি সীমান্ত লঙ্ঘন এবং প্রতিটি সাম্প্রদায়িক কার্ড একটি সুনির্দিষ্ট গন্তব্যের দিকে ধাবিত হচ্ছে। সময় এসেছে এই ডটগুলো কানেক্ট করার! - রেফারেন্সঃ ১. "বাংলাদেশে হিন্দুদের জন্য আলাদা প্রদেশ গঠনের হুমকি চৈতালী চক্রবর্তীর,"যমুনা টিভি, ২০ জুন ২০২৬ https://www.youtube.com/watch?v=sCqEREcjZsg ২. "Hasina's Departure: A Strategic Setback for New Delhi,- The Diplomat. https://thediplomat.com/2024/08/hasinas-departure-a-strategic-setback-for-new-delhi/ ৩. "Just Sending Two Rafale Jets Will do the Job: West Bengal BJP's Suvendu Adhikari Warns Bangladesh, - The Wire. https://m.thewire.in/article/politics/just-sending-two-rafale-jets-will-do-the-job-west-bengal-bjps-suvendu-adhikari-warns-bangladesh "Ram Madhav: India, Pakistan and Bangladesh will reunite to form Akhand Bharat," - Al Jazeera. https://www.youtube.com/watch?v=m1W-oXZ_31U) ৪. "গাইবান্ধায় হরিদাস চন্দ্র দাসের মন্দির প্রকল্প ও সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা,"প্রথম আলো, ১৮ জুন ২০২৬ https://www.firstpost.com/explainers/lord-ram-statue-bangladesh-controversy-hindu-communal-tensions-14023765.html ৫. "Bangladesh says it foiled multiple attempts by India to force people into country, - Reuters. https://www.reuters.com/world/asia-pacific/bangladesh-says-it-foiled-multiple-attempts-by-india-force-people-into-country-2026-06-04/ "The Real Crisis Behind India-Bangladesh Border Push-ins, - The Daily Star. https://www.thedailystar.net/slow-reads/geopolitical-insights/news/the-real-crisis-behind-india-bangladesh-border-push-ins-4200471

~ চাণক্য নীতি’র 'নিউ নরমাল' - বিচ্ছিন্ন উস্কানি? নাকি স্ট্র্যাটেজিক গ্রাউন্ড টেস্টিং? ~ - সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশে বেশ কিছু
~ চাণক্য নীতি’র 'নিউ নরমাল' - বিচ্ছিন্ন উস্কানি? নাকি স্ট্র্যাটেজিক গ্রাউন্ড টেস্টিং? ~ - সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশে বেশ কিছু ঘটনা একের পর এক ঘটে যাচ্ছে যা বিচ্ছিন্ন তো কোনভাবেই নয় বরং কৌশলগত ভাবে অত্যন্ত অ্যালার্মিং। বর্ডারে পুশইন, মন্দির নিয়ে ঢাকা অচলের হুমকি, বাইরের শক্তির সাহায্য নিয়ে বাংলাদেশেই আলাদা প্রদেশ করার হুমকি - এগুলো কস্মিনকালেও কোন বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। ভূ-রাজনৈতিক বিশ্লেষকের চশমায় দেখলে এগুলো এক ভয়াবহ ও সুসংগত নকশা। তথাকথিত উদারপন্থার বুলি আউড়ানো স্টারলিঙ্ক ব্যবহারকারী যে সাংবাদিক সাহেব দাড়ি-টুপিওয়ালা তরুণদের জুডো-কারাতের মতো সাধারণ শারীরিক প্রশিক্ষণ দেখলেই 'জঙ্গিবাদের' ভূত দেখেন, সেই একই ব্যক্তির রাডারে চৈতালী চক্রবর্তীর প্রকাশ্য দেশদ্রোহিতা ধরা পড়ে না। [১] যখন জয়-শ্রীরাম স্লোগান দিয়ে বাংলাদেশের ভেতরেই আলাদা প্রদেশ গঠনের ঘোষণা দেওয়া হয়, তখন 'সুশীল ফ্রন্ট' অদ্ভুতভাবে নীরব। এই নীরবতা কি কেবল কাকতালীয়, নাকি কোনো বৃহত্তর প্রকল্পের অংশ? হরিদাসকে মিডিয়ার কুসুম কুসুম শিরোনাম কিসের ইঙ্গিত দেয়? .

Kashmir - story of broken promises.

. বাস্তবতা হচ্ছে - যে সংসদ সদস্য নারীদের পর্দা নিয়ে এমন মন্তব্য করেছেন আর সার্কাসের অন্য সদস্যরা বিনোদিত হয়ে টেবিল চাপড়ছেন কে তাদের এতটুকু সিভিল সেন্স শিক্ষা দিবে যে, সমাজে একজন নারীর পোশাকের স্বাধীনতা আছে এমনকি তাদের মন্ত্র - গণতন্ত্র’ও এমন কথা বলে। কিন্তু বরাবরের মতই আমরা দেখছি - কটাক্ষ করার জন্য ইসলাম তাদের খুব প্রিয়! আমরা বার বার বলে এসেছি - হাসিনা চলে গেছে, কিন্তু তার সিস্টেম রয়ে গেছে। ইসলাম বিদ্বেষ এ দেশের কাঠামোগত সমস্যা, আদর্শগত সমস্যা! . A দল হোক কিংবা B দল হোক হোক নিজেদের জাত চেনানোর জন্য এবং খুব সম্ভব জাতে ওঠার জন্য তারা সুযোগ পাওয়া মাত্র ইসলামকে আক্রমন করেছে! এই অভিন্ন চিত্রের কোন পরিবর্তন নেই। কেন নেই? কারন - Islam does not matter to us that much, we kind of get used to it, let’s move on… টাইপ হয়ে গেছি। আর এই সু্যোগে তাদের কেউ পর্দা নিয়ে হাসাহাসি করে কেউ সাহাবীদের ব্যাপারে ঘৃন্য মন্তব্য করে! এখন এই বিষয়গুলোর সুরাহা তাদের হাতে নয়, বরং আমাদের হাতে। আমাদের সিদ্ধান্ত নিতে হবে আমরা ঠিক কতদিন পর্যন্ত এই অবস্থা মেনে নিয়ে চলতে রাজি আছি এবং ঠিক কতদিন পরে আমরা আমাদের সফটওয়ার আপডেট দিতে রাজি আছি! –

জন-প্রতিনিধি হিসেবে একজন সংসদ সদস্য যখন আরেকজন নারী সংসদ সদস্যের ব্যাক্তিগত বিশ্বাস এবং পোশাক নিয়ে কটাক্ষ করে নির্লজ্জের মত স
জন-প্রতিনিধি হিসেবে একজন সংসদ সদস্য যখন আরেকজন নারী সংসদ সদস্যের ব্যাক্তিগত বিশ্বাস এবং পোশাক নিয়ে কটাক্ষ করে নির্লজ্জের মত সস্তা হাসি হাসে এবং তার এই নির্লজ্জ আচরণে অন্যরা যখন টেবল চাপড়িয়ে - দলগত নির্লজ্জতা প্রদর্শন করে তখন আসলে আমাদের খুব স্পস্ট ভাবেই বুঝে নেয়া উচিৎ - এই সংসদের ধরণ সম্পর্কে। কিছুদিন আগেই এই সংসদের প্রাঙ্গন থেকেই একজন সংসদ সদস্যকে জঙ্গি ট্যাগ দেয়া হয়েছিল, স্পীকারের কাছে এর বিহিতের জন্য বিচার দেয়া হয়েছিল আমরা জানিনা এরপরে কি বিহিত হয়েছে!

~ সুশীলদের দেশে এক হরিদাস চন্দ্র - যার গল্পের আড়ালে ভয়ংকর চক্রান্ত! ~-
~ সুশীলদের দেশে এক হরিদাস চন্দ্র - যার গল্পের আড়ালে ভয়ংকর চক্রান্ত! ~-

একই সাথে সে সমস্ত কথিত সুশীল শ্রেনীও মুখে তালা দিয়ে বসে আছে যারা তাদের জীবনে একবার আস সুন্নাহ’র অডিট নিয়ে একটি পোস্ট করতে পারলে নিজের জীবন ধন্য মনে করে! তাদের কোথাও দেখতে পাচ্ছেন? পাবেন না। . ২০২৫ সালের ২৭ নভেম্বর। রাজশাহীর ভারতীয় সহকারী হাই কমিশনার মনোজ কুমার সশরীরে উপস্থিত হন পলাশবাড়ীর এই মন্দিরে এবং আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করেন বিগ্রহটি।[১১] কূটনৈতিক প্রোটোকলে একজন বিদেশি সহকারী হাই কমিশনার প্রত্যন্ত গ্রামের বেসরকারি মন্দির উদ্বোধনে যান না - বিশেষত যার প্রতিষ্ঠাতার বিরুদ্ধে প্রতারণার মামলা রয়েছে। তবু গেলেন। এটা কি ব্যক্তিগত আগ্রহ, নাকি দিল্লির নির্দেশ? এই একটি উপস্থিতি পুরো ছবিটা বদলে দেয়। . এই বির্তকের মাঝেই গত ১৭ জুন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কার্যের সামনে বিজেপি-ঘনিষ্ঠ হিন্দু নেতা পলাশ কান্তি দে প্রকাশ্য বক্তব্যে রামমন্দির নির্মাণে কঠোর হুশিয়ারী প্রদান করে, যা শুনে মনে হবে না সে সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলিম রাষ্ট্রে না বরং হিন্দু অধ্যুষিত ভারতে দাঁড়িয়ে বক্তব্য দিচ্ছে - "তোরা যদি রাম মন্দিরকে ভয় পাস, তোরা প্রয়োজনে পলাশবাড়িতে যাস না। তোরা প্রয়োজনে গাইবান্ধা থেকে অন্য জেলায় চলে যা। রাম মন্দির পলাশ বাড়িতেই হবে... বাংলাদেশে এমন কোনো শক্তি নাই যে রামমন্দির প্রতিষ্ঠা ঠেকায়।" সে আরও দাবি করে, মন্দির কমিটিকে 'প্রয়োজনে ঢাকা অচল করে দিয়ে' রক্ষা করার আশ্বাস দিয়েছে এবং অভিযোগ করে - তত্ত্বাবধায়ক সরকার সাম্প্রদায়িক শক্তিকে মুক্ত করেছে। একজন বিতর্কিত প্রতারকের গড়া মন্দিরের পক্ষে এমন প্রকাশ্য রাজনৈতিক হুঁশিয়ারি প্রশ্ন তোলে - এই প্রকল্পকে রক্ষা করতে কারা এত সরব, এবং কেন? . Somoy TV হরিদাস বাবুকে ডেকেছে 'রূপান্তরের জাদুকর', Morning Post BD লিখেছে 'তীর্থস্থানের নতুন ঠিকানা'।[৫][৯] একটি রিপোর্টেও তার গ্রেফতারের ইতিহাস নেই, অর্থের উৎস নিয়ে প্রশ্ন নেই। এই মিডিয়াগুলোর কাছে সেই তথ্য ছিল, তবু নেই। That's not journalism. That's a press release with a byline. Meaningless dots create a line. Meaningless lines create a pattern. Unattended patterns become strategy. . হরিদাস চন্দ্র তরনীদাস একজন প্রতারক - এটা প্রমাণিত।[১][২][৩] কিন্তু প্রশ্নটা শুধু তাকে নিয়ে নয়। প্রশ্নটা হলো - ভারতে 'প্রশিক্ষণ', রাষ্ট্রের নাম ভাঙিয়ে অর্থ সংগ্রহ, কারামুক্তির পর বৃহৎ ধর্মীয় স্থাপনা, ভারতীয় কূটনীতিকের উপস্থিতি, অনুগত মিডিয়া - এই পুরো কাঠামো কি একজন ষষ্ঠ শ্রেণি পাস মেকানিকের একার পরিকল্পনা? নাকি এর চেয়েও বড় কিছু? What do you see here - dots, lines, or the pattern? - রেফারেন্সঃ [১] Dhaka Mail — প্রতারণা করে কোটি টাকার পার্ক, বাড়ি ও জমি — https://dhakamail.com/national/49746 [২] Daily Star Bangla — প্রধানমন্ত্রীর পরিবারের প্রটোকল অফিসার পরিচয়ে প্রতারণা, গ্রেপ্তার ২ — https://bangla.thedailystar.net/news/bangladesh/crime-justice/news-413701 [৩] BSS News — র‍্যাব-এনএসআই যৌথ অভিযান — https://www.bssnews.net/bangla/national/65680 [৪] YouTube — হরিদাস বাবুর অর্থের উৎস ব্যাখ্যা — https://www.youtube.com/watch?v=qaQ1YdTcQc0 [৫] Somoy TV — হরিদাস বাবু যেন রূপান্তরের জাদুকর! — https://youtu.be/t3GOCs_WXVQ [৬] Desh Rupantor — সবজি বিক্রেতা থেকে কোটিপতি হরিদাস পাল — https://www.deshrupantor.com/390600 [৭] Nilkontho — ২২ কোটি টাকার মন্দির প্রতিষ্ঠাতা, সাধু নাকি প্রতারক — https://nilkontho.net/?p=115453 [৮] Jugantor — হরিদাস পালের অর্থের উৎস নিয়ে উত্তেজনা — https://www.jugantor.com/country-news/1112490 এই সূত্রে মন্দিরের ব্যয় ৪০ কোটি উল্লেখ আছে; Nilkontho-তে ২২ কোটি — দুটি দাবি সাংঘর্ষিক, উভয়ই পাদটীকায় রক্ষিত। [৯] Morning Post BD — গাইবান্ধায় তীর্থস্থানের নতুন ঠিকানা, সেপ্টেম্বর ২০২৫ — https://morningpost.com.bd [১০] Nababani.com — ভারতীয় হাই কমিশনার মন্দির পরিদর্শন — https://www.nababani.com/?p=27669 [১১] দৈনিক ইনকিলাব ও দেশের পত্রিকা — ভারতীয় কূটনীতিক বিগ্রহ উদ্বোধন করলেন, ২৭ নভেম্বর ২০২৫ প্রিন্ট রিপোর্ট। [Nababani.com লিংক[১০] সাম্প্রতিক সময়ে ডেড হওয়ায় এই প্রিন্ট সূত্রকেই মূল ভিত্তি হিসেবে গণ্য করা হয়েছে।]

বাংলায় একটা প্রবাদ আছে - 'তুমি কোন হরিদাস পাল?' অর্থ: তুমি আসলে কে, তোমার দাম কতটুকু? কিন্তু আজকের এই হরিদাস সেই প্রবাদকে অনেক আগেই ছাড়িয়ে গেছে। কারণ এই লোকের একটা পরিচয় নয়, দুটো। একটা মঞ্চ নয়, দুটো। এবং দুটো মঞ্চের পেছনে, অবাক করার মতো, একটাই হাত। ২০২২ সালের ৭ নভেম্বর রাতে বনানী থেকে র‍্যাব-৩ ও এনএসআই যাকে গ্রেফতার করে, তার পরিচয়পত্রে নাম লেখা 'তাওহীদ ইসলাম'।[১][২] আসল নাম: হরিদাস চন্দ্র তরনীদাস। বগুড়ার শিবগঞ্জের সন্তান, পড়াশোনা ষষ্ঠ শ্রেণি পর্যন্ত। . ষষ্ঠ শ্রেণির পর সে পাড়ি দেয় ভারতে। সেখানে পঞ্চায়েত প্রধানের কাছ থেকে 'এতিম সার্টিফিকেট' জোগাড় করে উচ্চমাধ্যমিক পাস এবং ইলেকট্রনিক বিষয়ে দুই বছরের প্রশিক্ষণ।[৩] দেশে ফেরে এসি মেকানিক হিসেবে। ২০১৮ সালে সে উত্তরায় একজন সবজি বিক্রেতার সাথে সাবলেট বাসায় থাকত।[৬] মাত্র এক বছরের ভেতর সে ধর্ম পরিবর্তন করে, নাম নেয় তাওহীদ ইসলাম এবং শুরু হয় তার আসল কর্মকাণ্ড! প্রধানমন্ত্রী পরিবারের সাথে এডিট করা ভুয়া ছবি, তাদের নামে জাল নম্বর সেভ করে কল এবং নকল ডিও লেটার - এই তিনটি দিয়ে শতাধিক মানুষের কাছ থেকে চাকরি-বদলি-টেন্ডারের নামে আত্মসাৎ করে নেয় প্রায় ৫ কোটি টাকা।[১][৩] স্বর্ণ চোরাচালানেও তার বিরুদ্ধে গোয়েন্দা তথ্য রয়েছে। জালিয়াতির সেই টাকাতেই ২০১৯ সালে ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়ায় দাঁড়িয়ে যায় ৩ কোটি টাকার 'প্যারিস সুইমিংপুল এন্টারটেইনমেন্ট রিসোর্ট'।[৬] . একজন সাধারণ মেকানিক ভারতে গিয়ে 'বিশেষ প্রশিক্ষণ' নিল, দেশে ফিরে ধর্ম পরিবর্তন করে মুসলিম মেয়ে বিয়ে করে নিল, রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ ক্ষমতাকেন্দ্রের নাম ভাঙিয়ে কোটি টাকা লুটটে শুরু করল, এই সমস্ত পরিকল্পনা কি স্বতঃস্ফূর্ত ছিল, নাকি অন্য কারও প্ররোচনায় ঘটেছে, পেছন থেকে অন্য কারও হাত ছিল? গ্রেফতারের পর হরিদাস আবার ফিরে আসে। এবার নতুন মঞ্চ: গাইবান্ধার পলাশবাড়ী। নতুন পরিচয়: 'হরিদাস বাবু', মন্দির কমিটির সভাপতি। রামচন্দ্রপুর গ্রামে দেবোত্তর সম্পত্তির ৭৬ শতাংশ জমিতে গড়ে উঠেছে শ্রী শ্রী রাধা গোবিন্দ ও কালী মন্দির কমপ্লেক্স। ২৮ ফুট উচ্চতার, তিন টন ওজনের শ্রীকৃষ্ণের বিগ্রহ - বলা হচ্ছে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ। পরিকল্পনায় ১৪৪টি দেব-দেবীর প্রতিমা।[৭] মোট ব্যয়ের দাবি সূত্রভেদে ২২ কোটি থেকে ৪০ কোটি টাকার মধ্যে।[৭][৮] এই টাকা কোথা থেকে এলো? এখানেই গল্পটা আলাদা মোড় নেয়। . ইউটিউব সাক্ষাৎকারে হরিদাস বাবু নিজেই বলেছে: 'এই প্রতিষ্ঠানের সকল ব্যয় আমার, একটি টাকাও কেউ দেয়নি।'[৪] কিন্তু Somoy TV’র রিপোর্টে ঠিক সেই একই মানুষ বলছে ভিন্ন কথা, এসব নাকি ভক্ত ও অনুরাগীদের দান![৫] একটি বিবৃতি সত্য হলে আরেকটি মিথ্যা - এই দুটো একসাথে সত্য হওয়ার কোনো উপায় নেই। আওয়ামী আমলে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে খাবার বিতরণ করে ১০০ কোটি টাকা আয়ের দাবিও তার নিজের মুখের।[৪] সেই হিসাবের কোনো অডিট নেই, কোনো প্রশ্নও করা হয়নি। স্থানীয় শিক্ষক নাইম ইসলাম সরাসরি বলেছেন, এই টাকা আসছে ভারত থেকে, গোপনে।[৮] গাইবান্ধা ইমাম উলামা পরিষদ ও হেফাজতে ইসলাম জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের কাছে ৮ দফা স্মারকলিপি দিয়ে অর্থের উৎস তদন্তের দাবি জানিয়েছে। চাপের মুখে মন্দির কমিটি রামমূর্তি নির্মাণ সাময়িক স্থগিতও করেছে।[৮] . এই পুরো ঘটনায় সবচেয়ে বিরক্তিকর প্রশ্নটি উঠেছে মিডিয়ার ভূমিকাকে কেন্দ্র করে। ২০২২ সালে র‍্যাবের গ্রেফতার ও প্রতারণার সংবাদ বহু মিডিয়াতে প্রকাশিত হয়েছে। তথ্যটা মিডিয়ার কাছে নতুন নয়। কিন্তু ২০২৫ সালে অর্থাৎ গ্রেফতার পরবর্তী সময়ে একই ব্যক্তিকে নিয়ে কী ধরনের সংবাদ হলো দেখুন: Somoy TV - 'হরিদাস বাবু যেন রূপান্তরের জাদুকর!' - এই শিরোনামে পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট। প্রতারণার ইতিহাস উল্লেখ নেই। টাকার উৎস নিয়ে প্রশ্ন নেই। পুরোটাই ইতিবাচক আলোয় উপস্থাপন। [৫] Morning Post BD (সেপ্টেম্বর ২০২৫)- 'গাইবান্ধায় তীর্থস্থানের নতুন ঠিকানা' - শিরোনামে গুণগ্রাহী রিপোর্ট। হরিদাস বাবুর স্বপ্নের বর্ণনা, মন্দিরের মহিমা, দর্শনার্থীর সংখ্যা। কোনো সমালোচনা নেই, কোনো প্রশ্ন নেই। [৯] Dainik Alokito News (জুন ২০২৫) - 'গ্রামের কৃতি সন্তান, সমাজসেবক হরিদাস বাবু' - এই বিশেষণে রিপোর্ট। মন্দিরের বিস্তারের পরিকল্পনার সুরেলা বর্ণনা। একজন প্রতারক, যার গ্রেফতারের খবর এই মিডিয়াগুলোর কাছে রয়েছে তাকে কোন স্বার্থে 'রূপান্তরের জাদুকর' বলা হচ্ছে? বিজ্ঞাপনের টাকা, নাকি অন্য কোনো চাপ? সাংবাদিকতার মূলনীতি হলো তথ্য যাচাই করা। কিন্তু এই রিপোর্টগুলোতে সেই যাচাই নেই। প্রশ্ন হলো - এটা অজ্ঞতা, নাকি উদ্দেশ্যমূলক?

তারা এমন এক পৃথিবী কল্পনা করছে যেখানে কোন লিঙ্গভেদ নেই, নারী এবং পুরুষের মৌলিক ব্যবধান তারা নষ্ট করে দিতে চায়, যেখানে স্রষ্টার বিধানের চেয়ে মানুষের খেয়াল-খুশিই বড়। এটি আসলে এক ধরনের 'সাংস্কৃতিক সাম্রাজ্যবাদ' যা মুসলিম উম্মাহ’র ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে তাদের ধর্মীয় শেকড় থেকে বিচ্ছিন্ন করার এক সুনিপুণ ষড়যন্ত্র। এই প্রসেসকে বলা হয় "The Decolonization of Morality," যা আসলে নৈতিকতাকে ধ্বংস করার একটি গালভরা নাম। . You are the shield for your children ইসলাম আমাদের শিখিয়েছে চোখ-কান খোলা রাখতে। আল্লাহ তাআলা কুরআনে বলেছেন, "হে মুমিনগণ, তোমরা নিজেদেরকে এবং তোমাদের পরিবার-পরিজনকে রক্ষা করো জাহান্নামের আগুন থেকে" (সূরা আত-তাহরীম: ৬)। আমাদের সন্তানদের বিনোদনের নামে আমরা আসলে কী বিষ গেলাচ্ছি, তা ভাবার সময় এখনই। আধুনিক 'কর্পোরেট র‍্যাট রেস' এমন এক পরিবেশ তৈরি করেছে যেখানে একজন মায়ের প্রধান দায়িত্ব ছিল তার সন্তানের যথাযথ প্রতিপালন, সেখানে আজ সেই মা কোনো অফিসের চার দেয়ালের মাঝে আটকে আছেন। আমাদের সন্তানদের বড় হওয়ার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময়গুলোতে তারা থাকছে কোনো চাইল্ড কেয়ার সেন্টারে অথবা কোনো গৃহকর্মীর কাছে। এই সুপরিকল্পিত ব্যবস্থার মাধ্যমে আমাদের সন্তানদের আমাদের থেকে মানসিকভাবে বিচ্ছিন্ন করা হচ্ছে। যখন বাবা-মা তাদের সন্তানদের পর্যাপ্ত সময় দিতে পারছেন না, তখন সেই শূন্যস্থান পূরণ করছে ডিজনির জাদুকরী জগৎ কিংবা নেটফ্লিক্সের বিষাক্ত কন্টেন্ট। প্যারেন্টস হিসেবে আমাদের যে গুরুদায়িত্ব ছিল, তা এই কর্পোরেট গোলকধাঁধায় আমাদের ভুলিয়ে দেওয়া হয়েছে। ফলে আমাদের সন্তানদের মনস্তাত্ত্বিক অভিভাবক হয়ে দাঁড়িয়েছে এই মিডিয়া সাম্রাজ্যগুলো। আমাদের উচিত বিকল্প হালাল বিনোদনের ব্যবস্থা করা এবং শিশুদের ছোটবেলা থেকেই দ্বীনি শিক্ষার মাধ্যমে একটি শক্তিশালী নৈতিক ঢাল তৈরি করে দেওয়া। মনে রাখবেন, আজকের একটি 'নিষ্পাপ' কার্টুন হতে পারে আগামীকালের বড় কোনো ঈমানবিধ্বংসী ফিতনার প্রবেশপথ। ডিজনির সেই জাদুকরী দুর্গ আসলে এক মরীচিকা। Stay Vigilant, Protect Your Family, and Stay Firm on Faith. এই লড়াই কেবল সংস্কৃতির নয়, এই লড়াই আমাদের অস্তিত্ব রক্ষার। –

আজকের ডিজিটাল যুগে বিনোদন কেবল অবসরের মাধ্যম নয়, বরং এটি চিন্তা ও আদর্শ প্রচারের এক শক্তিশালী মনস্তাত্ত্বিক অস্ত্র। বিশেষ করে শিশুদের মনস্তত্ত্ব গঠনে 'Disney' যে সাম্রাজ্য গড়ে তুলেছে, তা আপাতদৃষ্টিতে বিনোদন মনে হলেও এর গভীরে লুকিয়ে আছে এক সূক্ষ্ম এবং সুদূরপ্রসারী ধ্বংসাত্মক এজেন্ডা। আধুনিক মিডিয়া বিশেষ করে ডিজনি, হলিউড এবং নেটফ্লিক্স এর মত প্রথম সারির মিডিয়া প্ল্যাটফর্মগুলো সম্মিলিতভাবে আমাদের নৈতিকতা, ধর্মীয় মূল্যবোধ এবং মানব সমাজের মৌলিক কাঠামো ধংস্ব করার মিশনে কাজ করছে। . The Normalization of Occultism ডিজনির লোগো থেকে শুরু করে তাদের থিম সং - সবখানেই 'ম্যাজিক' বা জাদু এক অপরিহার্য উপাদান। কিন্তু ইসলামের দৃষ্টিতে জাদু বা 'সিহর' একটি কুফরি কাজ এবং শিরকের নামান্তর। ডিজনির প্রায় প্রতিটি জনপ্রিয় মুভিতে জাদুকে একটি ইতিবাচক শক্তি হিসেবে দেখানো হয়। Cinderella’র 'Fairy Godmother' থেকে শুরু করে সাম্প্রতিক Agatha All Along পর্যন্ত, জাদুকর বা ডাইনিদের বীর হিসেবে চিত্রায়িত করা হচ্ছে। [১] একাডেমিক গবেষণায় দেখা গেছে যে, ছোটবেলা থেকেই জাদুর এই ক্রমাগত প্রদর্শন শিশুদের অবচেতন মনে ম্যাজিক বা জাদুর প্রতি এক ধরনের মোহ তৈরি করে, যা শেষ পর্যন্ত তাদের আকিদাহ বা বিশ্বাসের ভিত্তিকে দুর্বল করে দেয়। একে বলা হয় "The Desensitization of the Sacred." যখন শিশুরা দেখে যে জাদু দিয়ে সব অসম্ভবকে সম্ভব করা যায়, জাদুর জিন তাদের ইচ্ছা পূরণ করে তখন তাদের কাছে আল্লাহ’র ক্ষমতার ধারণাটি ঝাপসা হয়ে আসে। [২] . The War on Modesty ডিজনি যেখানে শিশুদের লক্ষ্য করে কাজ করছে, সেখানে হলিউড, বলিউড এবং নেটফ্লিক্স সাধারণ দর্শকদের জন্য 'নির্লজ্জতা' বা 'বেহায়াপনাকে' আধুনিকতার সমার্থক বানিয়ে ফেলেছে। হলিউডের মুভিগুলোতে এখন নগ্নতা, অশ্লীলতা এবং পরকীয়া অত্যন্ত সাধারণ বিষয়। কিন্তু এর চেয়েও ভয়ঙ্কর বিষয় হলো শিশুদের কন্টেন্টে 'হাইপার-সেক্সুয়ালাইজেশন' এবং এলজিবিটিকিউ (LGBTQ+) মতাদর্শের সুপরিকল্পিত অনুপ্রবেশ। এই বিষয়টি এখন আর কেবল ধর্মীয় মহলের উদ্বেগ নয়, বরং খোদ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রেও এটি নিয়ে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে বিতর্ক হচ্ছে। সম্প্রতি ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে মার্কিন সিনেটর জশ হ্যালি নেটফ্লিক্সের কো-সিইও টেড স্যারান্ডোস কে এক শুনানিতে সরাসরি প্রশ্ন করে যে, কেন নেটফ্লিক্সের শিশুদের কন্টেন্টে এত বেশি 'ট্রান্সজেন্ডার আইডিওলজি' প্রচার করা হচ্ছে? [৩] জশ হ্যালি উদ্বেগ প্রকাশ করে বলে যে, বাবা-মা হিসেবে সে তার সন্তানদের নেটফ্লিক্সের অনেক শো দেখতে দিতে ভয় পাচ্ছে। এটিই প্রমাণ করে যে, এই এজেন্ডাটি কতখানি প্রকট এবং বিপজ্জনক! একে বলা যেতে পারে "The Systematic Erosion of Fitra" বা মানুষের সহজাত প্রকৃতির সুপরিকল্পিত বিনাশ। শুধু দূরের আলোচনাই বা কেন - আমাদের দেশের মধ্যেই ওটিটি প্ল্যাটফর্ম গুলো অশ্লীলতা এবং সমকামিতার মত জঘন্য বিষয় বিনোদনের নামে প্রসার ঘটাচ্ছে দেদারসে! . The Creation of a Parallel Reality এই মিডিয়া সাম্রাজ্যগুলো প্রথমে আমাদের সন্তানদের জন্য বিনোদনের নামে একটি আলাদা কাল্পনিক জগৎ তৈরি করে। তারা সেই জগতে আমাদের সন্তানদের বড় করে তোলে, যেখানে মা-বাবার আদর্শের চেয়ে পর্দার চরিত্রগুলোর আদর্শ বড় হয়ে দাঁড়ায়। ফলাফল হিসেবে এক সময় আমাদের সন্তানরা এমন হয়ে যায় যে, আমরা নিজেরাই তাদের চিনতে পারি না। একটি জ্বলন্ত উদাহরণ হলো বিশ্বের অন্যতম প্রভাবশালী ব্যক্তি ইলন মাস্ক এর ব্যক্তিগত জীবন। মাস্ক নিজেই স্বীকার করেছে যে, তার সন্তান 'Woke Mind Virus'এর শিকার হয়ে নিজের লিঙ্গ পরিবর্তন করেছে এবং তার সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করেছে। মাস্ক আক্ষেপ করে বলেছে যে, তার সেই সন্তান আসলে 'মৃত', কারণ এই বিষাক্ত মতাদর্শ তাকে, তার পরিবার ও শেকড় থেকে পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন করে ফেলেছে। [৪] এটিই হলো "The Illusion of Choice," যেখানে আমাদের মনে হয় আমরা আমাদের সন্তানদের জন্য বিনোদনের ব্যবস্থা করছি কিন্তু বাস্তবে আমরা আমাদের সন্তানদের এই দানবীয় ব্যবস্থার বিক্রি করে দিচ্ছি! . Breaking the Fabric of Human Society ইতিহাসজুড়ে মানব সমাজকে রক্ষা করেছে তার পারিবারিক কাঠামো এবং ধর্মীয়, নৈতিক মূল্যবোধ। ডিজনি, হলিউড এবং নেটফ্লিক্সের সম্মিলিত লক্ষ্য হলো এই কাঠামোকে ভেঙে ফেলা। তারা 'ব্যক্তিবাদ' বা "Hyper-Individualism" প্রচার করছে, যেখানে মা-বাবা, পরিবার বা স্রষ্টার কোনো স্থান নেই। একাডেমিক গবেষণায় দেখা গেছে যে, গ্লোবাল মিডিয়ার এই প্রভাব ঐতিহ্যবাহী, নিরাপদ পারিবারিক ব্যবস্থাকে ধ্বংস করে দিচ্ছে, যা শেষ পর্যন্ত একটি বিশৃঙ্খল সমাজ তৈরি করছে। [৫]

~ ডিজনি, নেটফ্লিক্স ও হলিউড: They want to Hijack our Children! ~ -
~ ডিজনি, নেটফ্লিক্স ও হলিউড: They want to Hijack our Children! ~ -

এদিকে বাংলাদেশের বিভিন্ন নিরাপত্তা সংস্থার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থার তত্ত্বাবধানে ২০২৪ সালের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত ৭০০ জেএসএস সন্ত্রাসী দেশে প্রবেশ করেছে। [৪] . পার্বত্য এলাকায় কাজ করা একাধিক গোয়েন্দা সংস্থার তথ্য বলছে, মূলত জেএসএস, ইউপিডিএফ ও কেএনএফের সামরিক শাখার নিয়ন্ত্রণ যারা করে, তারা কেউ বর্তমানে বাংলাদেশে নেই। জেএসএসের অস্ত্রধারী ক্যাডারদের মধ্যে সুভাস চাকমা ওরফে জার্নাল বাবু, সুবল চাকমা ওরফে আশিষ বাবু, জ্ঞান চাকমা ওরফে কার্জন চাকমা, প্রণতি বিকাশ চাকমা, পরিণতি চাকমা ও অভিযান চাকমা অন্যতম। এছাড়া ইউপিডিএফ ক্যাডারদের মধ্যে সজিব চাকমা, উজ্জ্বল স্মৃতি চাকমা, রঞ্জন মণি চাকমা, রজন বসু ও শ্রাবণ চাকমা অন্যতম। এদের সবাই ভারতের মিজোরাম ও ত্রিপুরায় অবস্থান করে এদেশে থাকা সন্ত্রাসীদের মাধ্যমে অপারেশন পরিচালনা করছে।[৫] দেশের এই অরাজকতা জিইইয়ে রাখার জন্য অস্ত্র আসছে ভারত থেকে, সন্ত্রাসীদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে ভারতে। ভারত প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে বাংলাদেশ থেকে পার্বত্য চট্টগ্রামকে পৃথক করতে ব্রিটিশ আমলের শেষ থেকে ষড়যন্ত্র করে যাচ্ছে। ১৯৭১ সাল থেকে পার্বত্য চট্টগ্রাম নিয়ে যে আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্র চলছে, সরকার সে ষড়যন্ত্রের ‘পাতানো ফাঁদে’ এদেশের এক সম্পদশালী এক-দশমাংশ এলাকাকে ঠেলে দিয়েছে। . মুসলিম অধ্যুষিত এই বাংলাদেশকে বরাবরই ভারত তার লক্ষ্য (অখন্ড ভারত) অর্জনের পথে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করে রেখেছে। তাই তো প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে পাহাড়ি সন্ত্রাস টিকিয়ে রেখেছে, অস্ত্রের যোগান দিয়ে যাচ্ছে। এসব ষড়যন্ত্রের একটি অংশ এই অগাস্টিনাদের মিথ্যাচার, যাতে জাতিসংঘের হস্তক্ষেপের পটভূমি তৈরি করা যায়। সন্তু লারমা ২৮ বছর ধরে সরকারি সুযোগ-সুবিধা ভোগ করে পার্বত্য অঞ্চলের অগ্রগতিতে কী ভূমিকা রেখেছে? তারা নিরাপত্তা বাহিনীগুলোর বিশেষ করে সেনাবাহিনীর সন্ত্রাসবিরোধী প্রতিটি অভিযানকে অত্যাচার হিসেবে অপপ্রচার চালায়। অগাস্টিনারা আসলে পাহাড়ে শান্তি চায় না। রক্তপাত, রক্তচক্ষু ধরে রাখতে চায়। এই ভূমিতে থেকেও তারা ভারতের উদ্দেশ্য বাস্তবায়ন করে যাচ্ছে। – * লেখাটির পিডিএফ ডাউনলোড করুন. PDF: https://files.fm/u/aq9hg37q25

গত ২০ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে, জাতিসংঘের সদর দপ্তর নিউইয়র্কে ইউএনপিএফআইআই-এর ২৫তম অধিবেশনে পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির প্রতিনিধি অগাস্টিনা চাকমা তার একটি বক্তব্যে উল্লেখ করে - “পার্বত্য চট্টগ্রামে জুম্ম নারী ও শিশুরা প্রতিদিন ঘুম থেকে জেগে ওঠে এই অনিশ্চয়তা নিয়ে যে তারা পরবর্তী হামলা থেকে বাঁচতে পারবে কিনা। ১৯৯৭ সালের পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তিতে দেওয়া আত্মনিয়ন্ত্রণ, ভূমির মালিকানা এবং সাংস্কৃতিক সংরক্ষণের প্রতিশ্রুতিগুলো ভেঙে পড়েছে, যার ফলে তারা প্রতিনিয়ত সহিংসতা ও বঞ্চনার মুখোমুখি হচ্ছে।” . রাষ্ট্র বা নিরাপত্তা বাহিনীর কারণে পাহাড়ের নারীরা অনিরাপদ - এমন জঘন্য মিথ্যাচার স্পষ্ট দেশদ্রোহিতার পর্যায়ে পড়ে! সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো নিজেদের মধ্যকার সংঘাত, চাঁদাবাজি এবং অপহরণের ঘটনাগুলোকে সুকৌশলে আড়াল করে সাধারণ পাহাড়ি ও নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর দোষ চাপানোর এক ভয়ংকর ছক বা নীলনকশা আঁকা হয়েছে। বিশেষ করে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকে এ অপপ্রচার এবং আন্তর্জাতিক লবিং বহুগুণ বেড়েছে। . দেশ স্বাধীনের পর, মানবেন্দ্র নারায়ন লারমা শেখ মুজিবুর রহমানের কাছে যে চার দফা দাবী উত্থাপন করেছিল, তার একটিও পূরন না করে শেখ মুজিব পাহাড়িদের বাঙালী হয়ে যাবার কথা বলায় পাহাড়িরা মারমুখী হয়ে উঠে। সে চার দফার মূল কথা ছিলো পাহাড়িদের স্বায়াত্ত্বশাসন, বাঙালীদের অনুপ্রবেশ নিষিদ্ধকরণ। মানবেন্দ্র লারমা অবস্থা অনুকুলে না দেখে সশস্ত্র বাহিনী গঠন করার সিদ্ধান্ত নেয় এবং সেটি গঠনও করে। যা পরবর্তিতে পিসিজেএসএস নামে পরিচিত হয়। পিসিজেএসএসের যাত্রা শুরু ১৯৭২ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি। ১৯৭৩ সালের ৭ জানুয়ারি সে ‘শান্তি বাহিনী’ নামে সশস্ত্র শাখা গঠন করে। পরবর্তী সময়ে এ বাহিনীর বিরুদ্ধে একাধিক সহিংসতার অভিযোগ ওঠে। ১৯৮৪ সালের ভূষণছড়া ঘটনায় কমপক্ষে ৪০০ বাঙালি বেসামরিক হত্যা, ১৯৮১ সালে একটি বিডিআর ক্যাম্পে হামলায় ১৩ জন নিরাপত্তা সদস্য ও ২৪ জন বেসামরিক নিহত এবং ১৯৯৬ সালে ৩০ জন বাঙালি কাঠুরিয়াকে অপহরণের পর হত্যা করা হয়। [১] . এখানে শুধু কয়েকটি পরিসংখ্যান তুলে ধরা হয়েছে। তাদের অপরাধের হিসেব আরও বিস্তৃত। অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বে ১৯৮৩ সালের ১০ নভেম্বর খাগড়াছড়ির খেদারাছড়ায় মানবেন্দ্র নারায়ণ লারমা নিহত হয়। মানবেন্দ্র মৃত্যুর পর এর দায়িত্ব নেয় সন্তু লারমা। পার্বত্য চট্টগ্রামে এহেন অপরাধ নেই যা হয়নি। বাংলাদেশের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছে সন্তু লারমার শান্তি বাহিনী। এতকিছু সত্ত্বে ১৯৯৭ সালের ২রা ডিসেম্বর বাংলাদেশের ইতিহাসে স্মরণকালের সবচেয়ে বিতর্কিত পার্বত্য চট্টগ্রাম সংক্রান্ত শান্তি চুক্তি সম্পাদিত হয়। যা তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সন্তু লারমার সাথে করে। এই চুক্তি দেশ বিরোধী, স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব বিরোধী, মৌলিক অধিকার - সমতা-সমসুযোগ বিরোধী বলেই পার্বত্য চট্টগ্রামের একক সংখ্যাগরিষ্ঠ বাঙালী মুসলিমরা এর বিরোধীতা তখন থেকেই করছে। পার্বত্য চট্টগ্রামের আরো ১২টি উপজাতিকে বাদ দিয়ে চাকমা শান্তি বাহিনীর সাথেই সরকার চুক্তি করেছে। কেবল চাকমাদের সাথে চুক্তি অন্যদের অধিকার ও সুযোগ হরণ মাত্র। . শান্তি চুক্তির পর থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত সামাজিক অপরাধের বাইরে তিন পার্বত্য জেলায় মোট খুন হয়েছে ২ হাজার ৫৭৩ জন মানুষ। অপহৃত হয়েছে অন্তত ২ হাজার ৬২৬ জন।[২] গত বছরও (২০২৫ সালে) পার্বত্য তিন জেলায় পাহাড়ি সংগঠন ইউপিডিএফ (প্রসীত), জেএসএস (সন্তু), কেএনএফ ও এমএলপির সহিংসতায় অন্তত ৫২ জন নিহত ও ১২৪ জন অপহৃত হন। [১.১] নিহতদের মধ্যে পাহাড়ি-বাঙ্গালি উভয় সম্প্রদায়ে থাকলেও বাঙালিদের সংখ্যা বেশি। বাঙালিরা খুন হয়েছেন সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষ ও চাঁদাবাজির জের ধরে এবং অধিকাংশই পাহাড়িদের হাতে। . পাহাড়ে কর্মরত বিভিন্ন সূত্রের মতে, পার্বত্য চট্টগ্রামে বিভিন্ন সশস্ত্র গ্রুপের কাছে তিন হাজারের বেশি আগ্নেয়াস্ত্র আছে। সেখানে পুরনো অস্ত্রের পাশাপাশি নতুন এবং অত্যাধুনিক কিছু অস্ত্রও রয়েছে। এসবের মধ্যে আছে এম ১৬ রাইফেল, মায়ানমারে তৈরি এম ১ রাইফেল, একে ৪৭ রাইফেল, একে ২২ রাইফেল এবং এলএমজি (লাইট মেশিনগান)।[২.১] স্থানীয় প্রশাসন ও সেনাবাহিনীর অভিযোগ—পার্বত্য শান্তি চুক্তির পর অস্ত্র ও সদস্যদের তালিকা জমা দেওয়ার কথা থাকলেও জেএসএস, ইউপিডিএফসহ কোনো সংগঠনই তা করেনি। অস্ত্র চোরাচালানে ব্যবহৃত প্রধান রুটগুলোর একটি মিয়ানমার থেকে ভারতের মিজোরাম হয়ে রাঙামাটির থাচি, লুলংছড়ি, চাকপতিঘাট ও বসন্তপাড়া পর্যন্ত বিস্তৃত।[৩] ভারতের গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত বছরের প্রথম তিন মাসে দেশটিতে এসব রুটে পাঁচটি বড় অস্ত্র চালান আটক করা হয়েছে। এসব চালানে একে-৪৭, এম-১৬ রাইফেল, গ্রেনেড ও গ্রেনেড লঞ্চারসহ বিপুল পরিমাণ গোলাবারুদ ছিল।[৩.১] এসব অস্ত্রের টাকা আসে চাঁদাবাজি থেকে। ২০২৫ সালে ১৮৩টি চাঁদাবাজির ঘটনায় আনুমানিক এক হাজার কোটি থেকে এক হাজার ২০০ কোটি টাকা আদায়ের তথ্য পাওয়া যায়।[১.২]

"অধিকারে মোড়কে পাহাড়ি সন্ত্রাস ও সার্বভৌমত্বের জন্য হুমকি" -
"অধিকারে মোড়কে পাহাড়ি সন্ত্রাস ও সার্বভৌমত্বের জন্য হুমকি" -

সুন্দর করে গুছিয়ে লিখে কমেন্ট করুন এই পোস্টে এবং সাথে কমপক্ষে ৩জন আপনার কোন ফ্রেন্ড বা প্রিয় মানুষকে ট্যাগ/মেনশন করে দিন। বেস্ট ৩টি ঘটনা মিলিয়ে আমরা আপনাদের জন্য সুন্দর একটি ভিডিও তৈরি করব ইনশা আল্লাহ। ক্লোজ আপের কাছে আসার নোংরা গল্প তো মানুষ অনেক দেখেছে এবার সবাই দেখবে Reality Check BD’র পরিবর্তনের গল্প! Reality Check BD presents - ‘Change Story’ - It’s Your Story! অধিক পরিমাণে শেয়ার করে সবার কাছে পৌঁছে দিন! You ready? Comment box is yours!

📣 Open Contenst! Reality Check BD - আপনাদের পেইজ। আপনাদের জন্য আমরা সবসময় আমাদের সেরাটা দেয়ার চেষ্টা করি। একটি ঘটনা আমাদের ম
📣 Open Contenst! Reality Check BD - আপনাদের পেইজ। আপনাদের জন্য আমরা সবসময় আমাদের সেরাটা দেয়ার চেষ্টা করি। একটি ঘটনা আমাদের মনে পড়ছে - একজন কমেন্ট করে আমাদের জানিয়েছিলেন আমাদের উনি তার বাসার সবাইকে আমাদের ‘ভারতের আগ্রাসন’ সিরিজ দেখিয়েছিলেন এবং ডিশের লাইন থেকে ইণ্ডিয়ান সকল চ্যানেল বাদ দিতে সক্ষম হয়েছিলেন। এই ঘটনা আমাদের জন্য অত্যন্ত আনন্দের! আমরা কাজ করি এই ছোট ছোট পরিবর্তন গুলোর জন্য। Change demands change. যেদিন আমরা সবাই এরকম ছোট ছোট পরিবর্তন অনেক বেশী হারে আনতে সক্ষম হব, আমাদের সমাজ খুব দ্রুতই পরিবর্তন হতে থাকবে ইনশা আল্লাহ। আমরা একটি কনটেস্ট আহ্বান করছি - উপরের ঘটনার মত আপনারাও Reality Chek BD এর ব্যাপারে আপনাদের অভিজ্ঞতা শেয়ার করুন, এমন কোন ঘটনা, এমন কোন পরিবর্তন, এমন কোন অভিজ্ঞতা যা শুধু আপনিই জানেন আর কেউ জানেনা অথচ সেগুলো অন্যরা জানলে আরো অনেকেই উৎসাহিত হবেন ইনশা আল্লাহ। আমাদের বিশ্বাস আরো শক্ত হবে যে - we are making some changes, let’s make more!

অ্যামেরিকাই হচ্ছে বিশ্ব শান্তির জন্য সবচেয়ে বড় হুমকি। আমাদের কথা নয় প্রখ্যাত স্কলার নোয়াম চমস্কির কথা এবং পরিসংখ্যান এর কথা! ভেবে দেখুন এই অ্যামেরিকার প্রেসক্রিপশনে আমাদের দেশে অনেক পলিসি বাস্তবায়ন করা হয়! Take some serious note!

কাশ্মীর ফাইলস এর নাম মনে আছে? এই হচ্ছে কাশ্মীর ফাইলসের পরিচালক, অবস্থা বুঝে নিন।

The Choice is Yours!