ar
Feedback
Reality Check BD

Reality Check BD

الذهاب إلى القناة على Telegram

মিথ্যাচার, ‘গুজব’ আর প্রোপাগ্যান্ডার বিরুদ্ধে ...

إظهار المزيد
5 029
المشتركون
-124 ساعات
+147 أيام
+1230 أيام
أرشيف المشاركات
“প্রশ্ন মানেই নিরীহ কিছু নয়“ - কালচারাল ফ্যাসিস্টদের বিভিন্ন আগ্রাসন কেউ যদি মোকাবেলা করতে চায় তবে তার জন্য এই ভিডিওটি বেশ হেল্পফুল হবে ইনশা আল্লাহ। আমরা নিজেরাই নিজেদের কাজ এজন্যে এমন বলছি তা নয়, বরং বিশ্বাস করুন আমরা নিজেরাও মাঝে মধ্যে এই ভিডিওটি দেখি। আমরা বলছিনা এখানেই সব কিছু আছে তবে এই ভিডিওতে খুব গুরুত্বপূর্ন একটি বিষয় আলোচনা করা হয়েছে যা কালচারাল ফ্যাসিস্টদের খুব প্রিয় একটি “কৌশল”! ভিডিওটি শেয়ার করুন! আর গঠনমূলক কমেন্ট করুন, কারণ তা আমাদের কনটেন্ট গুলো র‍্যাংকিং করতে সাহায্য করে, কমেন্ট তো ফ্রিই তাই না!

তুমি তোমারটা বল আমরা আমাদেরটা বলি - এটুকুর নাম সৎ সাহস!

আমরা বারবার বলছি - এ দেশে ইসলাম বিদ্বেষ একটি কাঠামোগত সমস্যা। এটি বিশেষ কোন দল বা মতের সমস্যা নয় বরং এটি আমাদের দেশের সিস্টেমের রন্ধ্রে ঢুকে অবস্থান নেয়া একটি সমস্যা। এই সমস্যার মোকাবেলা করা সহজ নয়, আর সেটি হাল ছেরে দেয়ার কোন অজুহাতও নয়। তাহলে আমি কি করবো? ভিডিওতে আমরা কিছু করনীয় বলেছি। আপনি কোনটি করতে সক্ষম কমেন্ট করে জানাবেন। এতে অন্যরাও উৎসাহিত হবে ইনশা আল্লাহ।

দুনিয়া আজ খুঁজছে একটা সমাধান - যেটা মানুষের ভাঙা গড়ার বাইরে।

প্রথম আলো জানেনা কে মারলো। আচ্ছা আমরাই বলে দিচ্ছি - কানুদাসের ছেলে মুগ্ধ দাস এবং বিনয়চন্দ্র দাসের ছেলে - সিদ্ধার্থ দাস। প্রথম
প্রথম আলো জানেনা কে মারলো। আচ্ছা আমরাই বলে দিচ্ছি - কানুদাসের ছেলে মুগ্ধ দাস এবং বিনয়চন্দ্র দাসের ছেলে - সিদ্ধার্থ দাস। প্রথম আলোঃ উপস সরি, সব 'দাস'। আমরাও ভারত চন্দ্রের দাস, সো… ইয়েস টাইটেল রিমেইন্স। এখনো আমরা জানিনা কে মারলো, অল আইজ ক্লোজড। তুমি আসলে পাশবিক কিউট প্রথম আলো! ভীতিকর নির্লজ্জ এবং তোমার প্রভু ভারতের মন রক্ষার্থে তুমি কাপড় কেন প্রয়োজন হলে নিজের চামড়াও খুলে দিবে! প্রথম আলোর এই জঘন্য নির্লজ্জতা শেয়ার করছেন তো? না করলে কেন করবেন না?

প্রশ্ন হচ্ছে - এভাবে কি তারা সত্যকে দমাতে পারবে? They really don’t read history at all, if so - they probably knew the answer. তারা জানেনা - সত্য এজন্যই সত্য, যে তাকে চাপা দেয়া যায়না। তাদের প্রতিটি জুলুমের সাথে, সেন্সরশিপের সাথে, প্রতিটি প্রোপাগান্ডার সাথে তারা আসলে - নিজেরাই নিজেদের ফাঁদে ঢুকে যাচ্ছে! নিজেদের পরাজয় বুঝতে পারার জন্যও যতটুকু স্মার্ট হতে হয় - তারা এর চেয়েও নীচে! কিছুটা সময় হেসে নাও, খুব শীঘ্রই তোমরা অনেক কাঁদবে!

যাদেরকে “ইসলামপন্থী” বা “র‍্যাডিকালাইজড” বা “বিতর্কিত” বলা হয় - লক্ষ্য করুন, দেশের প্রচলিত মিডিয়া স্ট্রীমে তাদের শেয়ার কতটুকু
যাদেরকে “ইসলামপন্থী” বা “র‍্যাডিকালাইজড” বা “বিতর্কিত” বলা হয় - লক্ষ্য করুন, দেশের প্রচলিত মিডিয়া স্ট্রীমে তাদের শেয়ার কতটুকু? তাদের প্রেজেন্স কতটুকু? খুবই ক্ষীণ! কিন্তু এত ক্ষীণ উপস্থিতিকেও তারা ভয় পায়, কেন? তোমাদের আদর্শ যদি সত্যিই এত সুন্দর হয়ে থাকে - come on then let’s talk. তুমি তোমারটা বল, আমাদেরটা আমরা বলি। তোমাদের “গণতন্ত্র” মৌলিক ভাবে এমনই বলে থাকে। কিন্তু তারা তা করেনা। কেন? কারণ তারা জানে - সত্যের মোকাবেলা করার কোন সামর্থ্য, সাহস কিংবা বুদ্ধিমত্তা কোনটাই তাদের নেই। এরপরে তারা - নেইম কলিং, ট্যাগিং এবং “বিশেষ সূত্র“ মারফত জানিতে পারিলাম টাইপ অ্যাপ্রোচে যায়। প্রশ্ন হচ্ছে - এভাবে কি তারা সত্যকে দমাতে পারবে? They really don’t read history at all, if so - they probably knew the answer. তারা জানেনা - সত্য এজন্যই সত্য, যে তাকে চাপা দেয়া যায়না। তাদের প্রতিটি জুলুমের সাথে, সেন্সরশিপের সাথে, প্রতিটি প্রোপাগান্ডার সাথে তারা আসলে - নিজেরাই নিজেদের ফাঁদে ঢুকে যাচ্ছে! নিজেদের পরাজয় বুঝতে পারার জন্যও যতটুকু স্মার্ট হতে হয় - তারা এর চেয়েও নীচে!

গান গাওয়ার জন্য পাকিস্তান থেকে আতিফ আসলাম আসলে কোন সমস্যা নেই কিন্তু ইসলাম নিয়ে কথা বলার জন্য পাকিস্তান থেকে ত্বহা বিন জলিল আ
গান গাওয়ার জন্য পাকিস্তান থেকে আতিফ আসলাম আসলে কোন সমস্যা নেই কিন্তু ইসলাম নিয়ে কথা বলার জন্য পাকিস্তান থেকে ত্বহা বিন জলিল আসলে তাকে ইমিগ্রেশনে আটকে দেয়া হয়! কি বলতে চাচ্ছি? সহজ - আপনি সংঘর্ষ না চাইলেও সংঘর্ষ আপনাকে ঠিকই খুঁজে নিবে। কেবলমাত্র আপনার দ্বীনের জন্য, আপনার দ্বীনকে ডিফেন্ড করার জন্য। আমরা বার বার বলেছি, হাসিনা চলে গেছে বটে কিন্তু হাসিনা তৈরির সিস্টেম রয়ে গেছে। ঠিক যেভাবে হাসিনা আমলে বিশিষ্ট ইসলামী স্কলার বিলাল ফিলিপ্সকে আসতে দেয়া হয়নি, সেই একই মানসিকতা আমরা আবারো দেখছি। সময় যত লম্বা হবে দেনার ভার তত বাড়বে। লিখে নিন - এদেশে “ইসলাম বিদ্বেষ” কেয়ারফুল পলিসি, কোন বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। প্রতিটি সুর্যাস্তের সাথে সাথে আপনার পরিধি ছোট হতে থাকবে, প্রতিটি নিঃশ্বাসের পরেরটি আগের চেয়ে সংকুচিত হয়ে আসবে।

আমাদের করনীয় কি? আমাদের করনীয় হচ্ছে আমাদের দ্বীনকে ডিফেন্ড করা - like a real man does. কেন গায়ক গান গাইতে পারবে কিন্তু ইসলামী বক্তা কথা বলতে পারবেনা? আমরা যদি এই প্রশ্নের উত্তর না পাওয়া পর্যন্ত তারিখ গণনা লম্বা করে দিতে পারতাম, ঠিক যেভাবে জুলাই লম্বা হয়ে গিয়েছিল তাহলে খুব সম্ভব তারা সুবোধের ন্যায় আচরণ করত। তারা আমাদের উপরে জুলুম করে পার পেয়ে যায় কারণ আমরা আমাদের দ্বীন ডিফেন্ড করার জন্য কতটুকু প্রস্তুত বা দ্বীনের মুল্য আমাদের কাছে ঠিক কতটুকু - তা স্পষ্ট করতে পারিনি, আমরা এখনো প্রমাণ করতে পারিনি আমাদের কাছে আমাদের দ্বীনের মূল্য কতটুকু! আমরা সতর্ক করেছি - হয়ত আপনি ভাববেন!

রেফারেন্স ১. শাহ আবদুল আজীজের ১৮০৩ সালের 'দারুল হারব' ফতোয়া সংক্রান্ত বিবরণ: https://en.wikipedia.org/wiki/Ahl-i_Hadith https://www.ijcrt.org/papers/IJCRT25A4029.pdf ২. উইলিয়াম ডালরিম্পল, The Last Mughal: The Fall of a Dynasty, Delhi 1857 https://en.wikipedia.org/wiki/The_Last_Mughal ৩. রেশমি রুমাল আন্দোলন (Silk Letter Movement) https://en.wikipedia.org/wiki/Silk_Letter_Movement ৪. মাওলানা উবাইদুল্লাহ সিন্ধি, আফগানিস্তানে প্রবাসী ভারত সরকার গঠন ও আমির হাবিবুল্লাহ খানের সাথে যোগাযোগ: https://en.wikipedia.org/wiki/Silk_Letter_Movement (রাজা মহেন্দ্র প্রতাপ ও প্রভিশনাল গভর্নমেন্ট অব ইন্ডিয়া প্রসঙ্গে সম্পূরক সূত্র): https://en.wikipedia.org/wiki/Provisional_Government_of_India ৫. https://www.cambridge.org/core/books/muslims-of-british-india/ ৬. মাওলানা হাসরাত মোহানী কর্তৃক 'ইনকিলাব জিন্দাবাদ' স্লোগান প্রথম উচ্চারণ (১৯২১) ও আহমেদাবাদ কংগ্রেসে পূর্ণ স্বরাজ প্রস্তাব: https://en.wikipedia.org/wiki/Inquilab_Zindabad https://en.wikipedia.org/wiki/Hasrat_Mohani ৭. Remembering Partition: Violence, Nationalism and History in India https://en.wikipedia.org/wiki/Gyanendra_Pandey  https://archive.org/details/rememberingparti0000pand Routine Violence: Nations, Fragments, Histories (2006): https://books.google.com/books/about/Routine_Violence.html?id=Bd3kHO-lJ68C

ইতিহাসবিদ জ্ঞানেণ্দ্র পাণ্ডে তার 'রুটলেসনেস অ্যান্ড বিলংগিং' বিষয়ক গবেষণায় দেখিয়েছে, ১৯৪৭ সালের দেশভাগের পর ভারতের জাতীয়তাবাদী ইতিহাস রচনার ক্ষেত্রে এক ধরণের ‘সিলেক্টিভ মেমোরি’র আশ্রয় নেওয়া হয়।[৮] হিন্দুত্ববাদী আদর্শিক ধারার উত্থানের সাথে সাথে ভারতের ইতিহাসকে ‘হিন্দু বনাম মুসলিম’ দ্বিধাবিভক্ত কাঠামোয় রূপ দেওয়া হয়েছে। স্বাধীনতা সংগ্রামে মুসলিমদের বীরত্বগাথাকে পাঠ্যপুস্তক, রাষ্ট্রীয় স্মৃতিসৌধ এবং গণমাধ্যম থেকে ধীরে ধীরে মুছে ফেলা হয়েছে অথবা সেগুলোকে কেবল সাম্প্রদায়িক দৃষ্টিকোণ থেকে ব্যাখ্যা করা হয়েছে। বর্তমান ভারতে এনআরসি (NRC), সিএএ (CAA) এবং বুলেডোজার রাজনীতির মাধ্যমে মুসলিমদের যে নাগরিকত্বহীনতা ও নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে ফেলে দেওয়া হয়েছে, তা এই ইতিহাস মুছে ফেলারই সরাসরি পরিণতি। যখন একটি জাতির অতীত অবদানকে অস্বীকার করা হয়, তখন তার নাগরিক অধিকার হরণ করা সহজ হয়ে যায়। রেশমি রুমাল আন্দোলন কিংবা আলেমদের আত্মত্যাগ কেবল মুসলিমদের নিজস্ব ইতিহাস নয়; এটি অবিভক্ত ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের অবিচ্ছেদ্য অংশ। ইতিহাসকে বিকৃত করে বা একপেশে বয়ান তৈরি করে সাময়িক রাজনৈতিক ফায়দা তোলা সম্ভব হলেও সত্যকে চিরতরে চেপে রাখা যায় না। রেশমি রুমালের সুতোয় যে স্বাধীনতার স্বপ্ন বোনা হয়েছিল, তা ভুলে যাওয়া মানে ভারতের নিজের ভিত্তিকেই অস্বীকার করা। –

১৭৫৭ সালে পলাশীর যুদ্ধে বিজয়ের পর যখন ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি ধীরে ধীরে পুরো ভারতবর্ষ দখল করতে শুরু করে, তখন সর্বপ্রথম প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিলেন মুসলিম শাসক ও আলেম সমাজ। ১৭৯৯ সালে মহীশূরের টিপু সুলতানের প্রতিরোধ এবং ১৮০৩ সালে শাহ ওয়ালিউল্লাহ মুহাদ্দিসে দেহলভীর (র.) সুযোগ্য পুত্র শাহ আবদুল আজীজের ঐতিহাসিক ফতোয়া, যেখানে তিনি ভারতকে ‘দারুল হরব’ ঘোষণা দিয়ে ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে লড়াইকে বাধ্যতামূলক করেছিলেন - তা ছিল ভারতীয় স্বাধীনতা আন্দোলনের মূল ভিত্তিপ্রস্তর।[১] ১৮৫৭ সালের সিপাহী বিদ্রোহে সাধারণ সিপাহীদের পাশাপাশি উত্তর ভারতের হাজার হাজার আলেম শহীদ হয়েছিলেন। ইতিহাসবিদ উইলিয়াম ডালরিম্পল তার 'দ্য লাস্ট মুঘল' গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন, কীভাবে ব্রিটিশরা দিল্লি পুনর্দখলের পর হাজার হাজার আলেমকে ফাঁসি দিয়েছিল এবং চাঁদনি চকের গাছগুলোতে লাশ ঝুলিয়ে রেখেছিল।[২] এই ইতিহাস কেবল কলম এবং কালির আলোচনা নয় বরং এগুলো আজকে রাষ্ট্র হিসেবে ইন্ডিয়ার বুনিয়াদি ইতিহাস। এই প্রতিরোধের ধারা পরবর্তীকালে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ নেয় দারুল উলুম দেওবন্দ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে, যার মূল উদ্দেশ্যই ছিল ব্রিটিশ শাসনমুক্ত ভারতের চেতনা বাঁচিয়ে রাখা। . রেশমি রুমাল আন্দোলন: আন্তর্জাতিক সশস্ত্র বিদ্রোহের রূপরেখা প্রথম বিশ্বযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে দেওবন্দের শায়খুল হিন্দ মাওলানা মাহমুদুল হাসান এবং তাঁর প্রখ্যাত শিষ্য মাওলানা উবাইদুল্লাহ সিন্ধির নেতৃত্বে যে গোপন বিপ্লব পরিকল্পনা করা হয়েছিল, তা ইতিহাসে ‘রেশমি রুমাল আন্দোলন’ বা ‘সিল্ক লেটার মুভমেন্ট’ নামে পরিচিত।[৩] এই আন্দোলনের মূল উদ্দেশ্য ছিল আন্তর্জাতিক শক্তির সহায়তায় ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে ভারতবর্ষজুড়ে এক যোগে সশস্ত্র বিদ্রোহ সংগঠিত করা। এই সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনার অংশ হিসেবে কর্ম কৌশল হিসেবে গ্রহণ করা হয়েছিল - ১. আন্তর্জাতিক অক্ষ তৈরি: আন্দোলনের প্রধান লক্ষ্য ছিল ব্রিটিশ শাসনের পতন ঘটাতে আফগানিস্তান, তুরস্ক (উসমানীয় সাম্রাজ্য) থেকে সামরিক ও কৌশলগত সহায়তা লাভ করা। জার্মানির সাথেও যোগাযগ স্থাপন করান হয়েছিল। ২. প্রবাসী ভারত সরকার ও আফগান আমিরের সহায়তা: মাওলানা উবাইদুল্লাহ সিন্ধি কৌশলগতভাবে আফগানিস্তানে গমন করেন। সেখানে তিনি রাজা মহেন্দ্র প্রতাপের সঙ্গে যৌথভাবে ভারতের প্রথম ‘প্রবাসী ভারত সরকার’ (Provisional Government of India) গঠন করেন। তাঁরা আফগানিস্তানের আমির হাবিবুল্লাহ খানের সাথে দেখা করে সশস্ত্র বিপ্লবে আফগান সরকারের প্রত্যক্ষ সহায়তার আবেদন জানান।[৪] ৩. হেজাজে কূটনীতি ও ওসমানীয় সংযোগ: অন্যদিকে মাওলানা মাহমুদুল হাসান স্বয়ং হেজাজে (মক্কায়) যান এবং সেখানে অবস্থানরত উসমানীয় খলিফার প্রতিনিধি ও গভর্নর গালিব পাশা এবং অ্যানোভার পাশা সহ জার্মান কর্তৃপক্ষের সাথে সরাসরি যোগাযোগ করেন ও ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে সামরিক সাহায্যের আবেদন জানান। গোপনীয়তা রক্ষার জন্য বিপ্লবের নির্দেশাবলী, সেনাদলের কাঠামো ও কৌশল রেশমি কাপড়ে সাংকেতিক ভাষায় লিখে বার্তাবাহকের মাধ্যমে পাঠানো হতো। দুর্ভাগ্যবশত, ১৯১৬ সালে পাঞ্জাবের রাওয়ালপিন্ডিতে একটি রুমাল চিঠি ব্রিটিশ গোয়েন্দাদের হাতে ধরা পড়ে যাওয়ায় পুরো পরিকল্পনা ফাঁস হয়ে যায়। মাহমুদুল হাসানকে গ্রেপ্তার করে মাল্টায় বন্দি করা হয় এবং আন্দোলনটি সাময়িকভাবে ভেঙে পড়ে। তবে ইতিহাসবিদ পিটার হার্ডির মতে, রেশমি রুমাল আন্দোলন ছিল ভারতীয় স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসে আন্তর্জাতিক মিত্র সন্ধানের প্রথম ও অন্যতম সুসংগঠিত সশস্ত্র প্রয়াস।[৫] . ইনকিলাব জিন্দাবাদ থেকে ভারত ছাড়ো: ধারণাগত ও রাজনৈতিক নেতৃত্ব কেবল সশস্ত্র প্রতিরোধই নয়, ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনের মূলধারা এবং রাজনৈতিক স্লোগান তৈরিতেও মুসলিমদের ভূমিকা ছিল অগ্রগামী। ইনকিলাব জিন্দাবাদ: স্বাধীনতা সংগ্রামের সবচেয়ে জনপ্রিয় স্লোগান ‘ইনকিলাব জিন্দাবাদ’ প্রথম উচ্চারণ করেছিলেন প্রখ্যাত কবি ও স্বাধীনতা সংগ্রামী মাওলানা হাসরাত মোহানী (১৯২১ সালে)।[৬] একশতভাগ স্বাধীনতার দাবি: ১৯২১ সালের আহমেদাবাদ কংগ্রেসে পূর্ণ স্বায়ত্ব শাসন বা Complete Independence প্রস্তাব প্রথম পেশ করেছিলেন এই হাসরাত মোহানীই, যা তখন গান্ধীও গ্রহণ করতে দ্বিধা করেছিল। . স্মৃতিলোপের রাজনীতি এবং আধুনিক ভারতের সংকট তাহলে প্রশ্ন ওঠে, যে মুসলিম সমাজ স্বাধীনতার লড়াইয়ে রক্তের অক্ষরে ইতিহাস লিখল, তারা আজকের ভারতে ‘বহিরাগত’ বা ‘দ্বিতীয় শ্রেণির নাগরিক’ হিসেবে গণ্য হচ্ছে কেন?

বিস্মৃতির মহাফেজখানা: ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামে মুসলিমদের পথিকৃৎ ভূমিকা ও আধুনিক হিন্দুত্ববাদী বয়ানের সংকট - ইতিহাস কেবল অতীত
বিস্মৃতির মহাফেজখানা: ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামে মুসলিমদের পথিকৃৎ ভূমিকা ও আধুনিক হিন্দুত্ববাদী বয়ানের সংকট - ইতিহাস কেবল অতীতের ঘটনাবলির নিষ্ক্রিয় সমাহার নয়; ইতিহাস হলো ক্ষমতার রাজনীতি ও পরিচয়ের লড়াই ক্ষেত্র। সামপ্রদায়িক রাজনীতির বর্তমান প্রেক্ষাপটে ভারতে যে রাজনৈতিক ও সামাজিক বয়ান তৈরি করা হয়েছে, সেখানে মুসলিমদের একদিকে ‘সংখ্যালঘু’ হিসেবে প্রান্তিক অবস্থানে ঠেলে দেওয়া হয়েছে, অন্যদিকে তাদেরকে রাষ্ট্রের চোখে ‘বহিরাগত’ বা ‘অজাতশত্রু’ হিসেবে উপস্থাপন করা হচ্ছে। কিন্তু ইতিহাসের দলিল সম্পূর্ণ ভিন্ন কথা বলে। ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনের বিরুদ্ধে যে স্বাধীনতার সংগ্রামের সূচনা হয়েছিল, তাতে মুসলিম সমাজ শুধু অংশগ্রহণকারীই ছিল না, বরং অনেক ক্ষেত্রে তারাই ছিল সশস্ত্র ও আদর্শিক লড়াইয়ের পথিকৃৎ। দেওবন্দ আন্দোলনের অন্যতম উজ্জ্বল অধ্যায় ‘রেশমি রুমাল আন্দোলন’ এর স্পষ্ট প্রমাণ। আধুনিক ভারতের রাষ্ট্রীয় ইতিহাস ও স্টেট স্পন্সর্ড উগ্র ধর্মীয় আদর্শ ভিত্তিক রাজনীতি কীভাবে এই গৌরবময় ইতিহাসকে আড়াল করেছে, তা জানা আমাদের জন্য জরুরী। . সাম্রাজ্যবাদবিরোধী প্রথম অধ্যায়: আলেম সমাজ ও ফতোয়া-ই-জিহাদ

বঙ্গভূমি’র বাংলাদেশ ভেঙ্গে আলাদা হবার যে অদম্য! আকাংখা কিংবা অ্যাডভোকেট চৈতালি’র 'বিদেশী শক্তির' সাহায্য নিয়ে বাংলাদেশেই আলাদা প্রদেশ করার হুমকি - এগুলো কোন বিচ্ছিন্ন ডট নয় বরং এগুলো প্যাটার্নের ডট। বাই দা ওয়ে - তাদের পোশাকের রঙ গেরুয়া কেন!

[১৯] The Guardian — “US and Qatar report progress on Iran ceasefire and reopening Hormuz strait” (4 August 2026) https://www.theguardian.com/world/2026/aug/04/us-qatar-progress-iran-ceasefire-hormuz-strait

রেফারেন্সঃ [১] The Guardian — “US and Qatar report progress on Iran ceasefire and reopening Hormuz strait” (4 August 2026) https://www.theguardian.com/world/2026/aug/04/us-qatar-progress-iran-ceasefire-hormuz-strait [২] Al Jazeera — “Iran, Oman, US ‘close’ to Hormuz deal: What do they all want?” (5 August 2026) https://www.aljazeera.com/news/2026/8/5/iran-oman-us-close-to-hormuz-deal-what-do-they-all-want [৩] Anadolu Agency — “Yemen’s Houthis claim drone attack on Saudi airport” (4 August 2026) https://www.aa.com.tr/en/middle-east/yemen-s-houthis-claim-drone-attack-on-saudi-airport/4017972 [৪] Axios — “Scoop: MBS raises concerns over Trump’s plans for massive Iran strikes” (1 August 2026); Al Jazeera — “Trump cancels Iran strike, says ‘deal perimeters’ reached” (2 August 2026); Associated Press report — “Trump says Mideast allies have reached outlines of deal to end Iran war, says US to stop new strikes” (1 August 2026) https://www.axios.com/2026/08/01/saudi-crown-prince-trump-iran-attacks https://www.aljazeera.com/news/2026/8/2/trump-cancels-iran-strike-says-deal-perimeters-reached [৫] Associated Press report — “Trump says Mideast allies have reached outlines of deal to end Iran war, says US to stop new strikes” (1 August 2026) https://www.news4jax.com/news/politics/2026/08/02/saudi-crown-prince-urges-trump-not-to-escalate-iran-war-as-us-leader-weighs-new-strikes-ap-source/ [৬] Associated Press report — “Trump says Mideast allies have reached outlines of deal to end Iran war, says US to stop new strikes” (1 August 2026) https://www.news4jax.com/news/politics/2026/08/02/saudi-crown-prince-urges-trump-not-to-escalate-iran-war-as-us-leader-weighs-new-strikes-ap-source/ [৭]The New York Times — “A Look at the Text of the Agreement Between the United States and Iran” (17 June 2026) https://www.nytimes.com/2026/06/17/us/politics/us-iran-agreement-deal-text.html [৮] John J. Mearsheimer — “The US Cannot Defeat Iran” (12 July 2026) https://mearsheimer.substack.com/p/the-us-cannot-defeat-iran [৯] John J. Mearsheimer — “The US Cannot Defeat Iran” (12 July 2026) https://mearsheimer.substack.com/p/the-us-cannot-defeat-iran [১০] BBC News — “Analysis: Trump challenged by cold reality from top allies” (4 August 2026) https://www.bbc.com/news/articles/cgjed2q2l0xo [১১] Al Jazeera — “Saudi Crown Prince MBS urges Trump to ‘prioritise dialogue’ in US-Iran war” (2 August 2026) https://www.aljazeera.com/news/2026/8/2/saudi-crown-prince-mbs-urges-trump-to-prioritise-dialogue-in-us-iran-war [১২] Bloomberg — “Saudi Prince Concerned Over Trump’s Iran Strike Plan: Axios” (2 August 2026) https://www.bloomberg.com/news/articles/2026-08-02/saudi-prince-concerned-over-trump-s-iran-strike-plan-axios [১৩] Associated Press report — “Trump says Mideast allies have reached outlines of deal to end Iran war, says US to stop new strikes” (1 August 2026) https://www.news4jax.com/news/politics/2026/08/02/saudi-crown-prince-urges-trump-not-to-escalate-iran-war-as-us-leader-weighs-new-strikes-ap-source/ [১৪] CNN — “CNN Poll: Americans doubt Trump is paying enough attention to the country’s most important problems” (29 July 2026) https://www.cnn.com/2026/07/29/politics/cnn-poll-donald-trump-midterms-polls-iran-war [১৫] CNN — “CNN Poll: Americans doubt Trump is paying enough attention to the country’s most important problems” (29 July 2026) https://www.cnn.com/2026/07/29/politics/cnn-poll-donald-trump-midterms-polls-iran-war [১৬] CNN — “CNN Poll: Americans doubt Trump is paying enough attention to the country’s most important problems” (29 July 2026) https://www.cnn.com/2026/07/29/politics/cnn-poll-donald-trump-midterms-polls-iran-war [১৭] The New York Times — “Trump’s Agenda at Home Is Threatened By Iran War” (4 August 2026) https://www.nytimes.com/2026/08/04/us/politics/iran-war-complications-trump-agenda.html [১৮] Judging Freedom transcript — “Prof. John Mearsheimer: Will Trump Go Kamikaze?” (31 March 2026) https://singjupost.com/prof-john-mearsheimer-will-trump-go-kamikaze-transcript/

তবে এই একই বিশৃঙ্খলার ভেতর একটা সুযোগও লুকিয়ে আছে, যেটা আমরা প্রায়ই দেখতে ভুলে যাই। কাতার, ওমান, পাকিস্তান - এই মধ্যম শক্তিগুলো আজ হরমুজ সংকটে মধ্যস্থতাকারীর আসনে বসেছে, শুধু তাদের ভৌগোলিক অবস্থান আর কূটনৈতিক চাতুর্যের জোরে।[১৯] এখান থেকে একটা সহজ শিক্ষা নেওয়া যায় - বহুমেরু বিশ্বে ছোট রাষ্ট্রের ভূমিকা আর নিছক "বড়দের অনুসরণ করা" নয়; বরং সঠিক মুহূর্তে সঠিক পক্ষের সঙ্গে দাঁড়ানোর, বা কারো পক্ষ না নিয়ে দুই পক্ষকেই দরকারি থেকে যাওয়ার একটা কৌশল হয়ে উঠতে পারে। এজন্য শুধু ভৌগলিক অবস্থানই শর্ত নয় বরং বিশ্ব মঞ্চে এমন খেলার যোগ্যতাও জরুরী। বাংলাদেশের জন্য এই আলোচনা আরো প্রাসঙ্গিক - কারণ আমরা বসে আছি এমন একটা জায়গায় যেখানে ভারতের আঞ্চলিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা, চীনের অর্থনৈতিক উপস্থিতি আর আমেরিকার ইন্দো-প্যাসিফিক স্বার্থ,- তিনটাই একসঙ্গে ঘাঁটি গেড়ে বসে আছে আমাদের সীমান্তের চারপাশে। আমেরিকান একমেরু আধিপত্য যদি সত্যিই কমতে থাকে, তাহলে সবচেয়ে বড় প্রশ্নটা হলো - সেই শূন্যস্থান কে পূরণ করবে দক্ষিণ এশিয়ায়? বাস্তবতা হলো, কোনো দূরবর্তী ভারসাম্যকারী শক্তি এখানে বসে নেই যে বাংলাদেশের পক্ষে দাঁড়াবে যদি আঞ্চলিক চাপ বাড়ে। এই শূন্যস্থান একা ভারতই পূরণ করতে চাইবে, এবং সেটা যতটা অর্থনৈতিক প্রভাবের মাধ্যমে হবে, তার চেয়ে বেশি হবে রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা-সংক্রান্ত চাপের মাধ্যমে। যেমনটা আমরা গত দেড় দশক ধরে বাস্তবে দেখেছি। তাই এই "সুপারপাওয়ারের পতন" গল্পটা কেবল ওয়াশিংটনের সমস্যা না। এটা আমাদের জন্যও একটা সতর্কবার্তা - বৈদেশিক নীতিতে স্বাধীনতা, নিরাপত্তার মত এই প্রশ্নগুলো আর বিলাসিতা ভাবার সুযোগ নেই। যে বিশ্বব্যবস্থা গড়ে উঠছে, সেখানে টিকে থাকার শর্ত হলো নিজের সিদ্ধান্ত নিজে নেওয়ার সক্ষমতা তৈরি করা - কোনো একক পৃষ্ঠপোষকের ওপর নির্ভর না করে। এটির জন্য যেমন সক্ষমতা দরকার তেমনি দরকার অটল, অবিচল বিশ্বাস এবং আদর্শ। . Thoughts to carry - সাম্রাজ্য একদিনে পড়ে না। পড়ে হাজারো ছোট ছোট মুহূর্তের ভেতর দিয়ে। কাতারের মধ্যস্থতা, সৌদি যুবরাজের সতর্কবার্তা, মিয়ারশাইমারের পর্যবেক্ষন, নিজ দেশে ৭৩ শতাংশের অনাস্থা - এসব মিলিয়ে যে বাস্তবতা ফুটে ওঠে তা এড়ানো কঠিন। প্রশ্নটা আর এটা না যে আমেরিকা শক্তিশালী কি না। প্রশ্নটা হলো - যে শক্তি নিজের সীমাবদ্ধতা এবং দুর্বলতা মানতে বাধ্য হয়েও মোড়লগিরির অভ্যাস ছাড়তে রাজি না, তার ছায়ায় দাঁড়িয়ে থাকা, তার আদর্শ গ্রহণ করা, তার এজেন্ডা বাস্তবায়ন করা, তার স্বার্থের দেখ-ভাল ছোট রাষ্ট্রগুলো আসলে ঠিক কতটা নিরাপদ? –

The ‘Super Power’ is not winning - ফেব্রুয়ারিতে শুরু হওয়া এই যুদ্ধ পাঁচ মাস পার হয়ে গেছে।[৫] লক্ষ্য ছিল ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি ধ্বংস করা, পারমাণবিক অস্ত্র ঠেকানো।[৬] জুনের দিকে একটা সমঝোতা স্মারক (Islamabad Memorandum) সই হলো বটে, কিন্তু হরমুজ প্রণালীর ব্যাখ্যা নিয়ে মতবিরোধে সেটা কয়েক সপ্তাহেই ভেঙে গেল।[৭] শিকাগো বিশ্ববিদ্যালয়ের জন মিয়ারশাইমার তার লেখায় বলছেন - ইরান হরমুজ পুরো বন্ধ করে দেওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্রের হাতে "এমন কোনো সামরিক কৌশল নেই যা ইরানকে তার সিদ্ধান্ত বদলাতে বাধ্য করবে"।[৮] তার ভাষায়, জুনের সমঝোতাটা আসলে একটা "আত্মসমর্পণের দলিল" ছিল।[৯] এই একটা লাইনেই বোঝা যায়, কতটা তেতো এই মূল্যায়ন! The ‘Super Power’ is on paper only, mere shadow in battleground! সাম্রাজ্য পড়ে যাওয়ার একটা চিরচেনা লক্ষণ আছে - নিজের মিত্ররাই সবার আগে টের পায়, আর দূরত্ব বাড়াতে শুরু করে। বিবিসির অ্যান্থনি জারচার তার কলামে ঠিক এই জিনিসটাই দেখিয়েছে - ট্রাম্পের সবচেয়ে কাছের মিত্ররাই তাকে বাস্তবতার মুখোমুখি করছে।[১০] সৌদি আরবের ভূমিকা এখানে সবচেয়ে বেশি মনোযোগ দেয়ার মত। বিন সালমান সরাসরি ট্রাম্পকে ফোন করে বলেছে - থামতে।[১১] একজন মার্কিন কর্মকর্তা অ্যাক্সিওসকে বলেছে, "সৌদিরা উদ্বিগ্ন, পরিকল্পনার ব্যাপারে স্বচ্ছতা চাইছে।"[১২] হিসাবটা আসলে খুব সহজ। ইরানের জ্বালানি স্থাপনায় বড় হামলা হলে পাল্টা আঘাত প্রথমে পড়বে উপসাগরীয় তেল-গ্যাস স্থাপনায়। ওয়াশিংটনে নয়, রিয়াদে।[১৩] যে ছাতার নিচে দশকের পর দশক নিরাপত্তা খুঁজেছে উপসাগরীয় রাষ্ট্রগুলো, সেই ছাতা যুদ্ধের মুহূর্তে তাদেরকেই ভিজিয়ে দিচ্ছে। হুতিদের একের পর এক হামলা - নাজরান, তার আগে আরামকো, এগুলো সৌদিকে তার কথিত নিরাপত্তা বাবল থেকে বেরিয়ে আসতে বাধ্য করেছে। যে যুদ্ধ ইরানকে দুর্বল করতে চেয়েছিল, তা উল্টো ইরান-সমর্থিত শক্তিগুলোকে আগের থ্রেশহোল্ড ভেঙ্গে ফেলতে উতসাহিত করেছে আর সৌদি আরবকে টেনে এনেছে এক নতুন যুদ্ধে। . When you fear your own shadow - সম্রাজ্যের পতন শুধু যুদ্ধক্ষেত্রেই হয় এমন না, নিজের আপন ভূমিতেও তার পতন হয়। সিএনএন-এসএসআরএস এর জরিপ অনুযায়ী, ৭৩ শতাংশ আমেরিকান মনে করে ট্রাম্প ভুল জায়গায় মনোযোগ দিচ্ছে, মাত্র ২৭ শতাংশ তার প্রায়োরিটি সঠিক মনে করে।[১৪] মাত্র ২৮ শতাংশ ট্রাম্পের ইরান-নীতিকে সমর্থন করে, দুই-তৃতীয়াংশ মনে করে সামরিক সিদ্ধান্তগুলো ক্ষতি করেছে।[১৫] ট্রাম্পের আভ্যন্তরীণ অনুমোদনের হার নেমেছে ৩৪ শতাংশে - প্রথম মেয়াদের সর্বনিম্ন![১৬] নিউ ইয়র্ক টাইমস দেখিয়েছে - এই যুদ্ধ ঘরের রাজনীতিকেও জটিল করে তুলছে। মূল্যস্ফীতি, তেলের দাম, সবকিছু জড়িয়ে গেছে একসঙ্গে।[১৭] মিয়ারশাইমার এই মুহূর্তটাকে তুলনা করেছেন লিন্ডন জনসনের ভিয়েতনামের সঙ্গে - এমন একটা যুদ্ধ, যেখান থেকে সসম্মানে ফেরার পথ ক্রমশ সরু হয়ে আসছে।[১৮] . The Fall - is it Real? পতন মানে ঠিক কী? ইতিহাসে আমরা সাম্রাজ্যের পতনের ব্যাপারে দুই ধরনের দৃশ্য দেখতে পাই। এক, ক্ষমতা বদল। একজন সরে গিয়ে অন্যজন বসে, যেমন সোভিয়েত পতনের পর আমেরিকা বসেছিল। দুই, ক্ষমতার ছড়িয়ে পড়া, এখানে কেউ একা বসে না, বরং চীন, রাশিয়া, ভারত, তুরস্ক, সৌদি আরব, ইরানের মতো একাধিক কেন্দ্রের মধ্যে ক্ষমতা ভাগ হয়ে যায়। আজকের ঘটনাপ্রবাহ দ্বিতীয় ছবিটার দিকেই বেশি ইঙ্গিত করছে। সৌদি আরব, যে দশকের পর দশক আমেরিকান ছত্রছায়ায় ছিল, আজ ওয়াশিংটনকে "না" বলার সাহস দেখাচ্ছে, আবার তেহরানের সঙ্গেও যোগাযোগ রাখছে। এটা একমেরু বা দ্বিমেরু কোনো ছবি নয় বরং এটা একাধিক কেন্দ্রের মধ্যে দরকষাকষির একটা নতুন খেলা। আসুন প্রশ্ন করি - বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী সেনাবাহিনীই যদি একটা মধ্যম শক্তিকে হারাতে না পারে, আর নিজের মিত্ররাই যদি লাগাম টেনে ধরে, তাহলে "সুপারপাওয়ার" শব্দটার আসলে অর্থ কী থাকে? Is The ‘Fall’ then real? . Bangladesh - Where are you in the Game? এতক্ষণের আলোচনাটা যদি শুধু ওয়াশিংটন-তেহরান-রিয়াদের গল্প থেকে যায়, তাহলে সেটা অসম্পূর্ণ। কারণ এই বহুমেরু বিশৃঙ্খলার সবচেয়ে বেশি দাম দিতে হয় ঠিক বাংলাদেশের মতো রাষ্ট্রগুলোকেই, যাদের না আছে পারমাণবিক ছাতা, না আছে তেলের কূপ, না আছে জাতিসংঘে ভেটো। একমেরু বিশ্বে একটা সুবিধা ছিল - নিয়ম যতই অন্যায্য হোক, অন্তত পূর্বানুমানযোগ্য ছিল। কে কার পাশে দাঁড়াবে, কার সঙ্গে ব্যবসা করলে কী হবে সেটা মোটামুটি বোঝা যেত। বহুমেরু বিশ্বে সেই নিশ্চয়তা উড়ে যায়। আজ যে বন্দর ব্যবহার করছেন, কাল সেটা অন্য একটা শক্তির স্যাংশনের আওতায় পড়তে পারে। আজ যে ঋণ নিচ্ছেন, কাল সেটাই হয়ে উঠতে পারে ভূরাজনৈতিক দর কষাকষির হাতিয়ার। এটা কোনো তাত্ত্বিক আশঙ্কা না বরং শ্রীলঙ্কা, পাকিস্তান ইতিমধ্যে এই বাস্তবতার ভেতর দিয়ে গেছে।

~ Fall of a Superpower: What Lies Ahead? ~ . সাম্প্রতিক সময়ের আন্তর্জাতিক মিডিয়ার শিরোনামগুলো পাশাপাশি রাখলেই একটা প্যাটার্ন
~ Fall of a Superpower: What Lies Ahead? ~ . সাম্প্রতিক সময়ের আন্তর্জাতিক মিডিয়ার শিরোনামগুলো পাশাপাশি রাখলেই একটা প্যাটার্ন ফুটে ওঠে। কাতার বলছে, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সম্ভাব্য চুক্তির খসড়া হাতবদল হচ্ছে।[১] আল-জাজিরা লিখেছে, হরমুজ প্রণালী খুলে দেওয়ার সমঝোতা হতে পারে।[২] ইয়েমেনের হুতিরা সৌদি আরবের নাজরান বিমানবন্দরে ড্রোন হামলার দাবি করেছে।[৩] সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান নিজে ফোন করে ট্রাম্পকে অনুরোধ করছে, ইরানের জ্বালানি অবকাঠামোয় বড় কোন হামলা থেকে বিরত থাকতে, এই খবর অ্যাক্সিওস, আল-জাজিরা ও এপি আলাদাভাবে নিশ্চিত করেছে।[৪] এগুলো বিচ্ছিন্ন কোন ঘটনা নয়। এগুলো এমন একটা মুহূর্তের ছবি, যেখানে একটা সাম্রাজ্যবাদী শক্তি তার নিজের সীমাবদ্ধতা টের পাচ্ছে, আর তার আশেপাশের সবাই সেটা বুঝে ফেলছে তার আগেই। প্রশ্নটা তাই খুব সহজ: আমেরিকা কি সত্যিই কাঠামোগতভাবে পড়ে যাচ্ছে? আর পড়ে গেলে, তার জায়গায় কে বসবে? নাকি কেউই বসবে না? .

রেফারেন্সঃ [১] Pakistan: Authorities must lift communications blackout following reports of lethal force used against protesters amid elections. https://www.amnesty.org/en/latest/news/2026/07/pakistan-authorities-must-lift-communications-blackout-following-reports-of-lethal-force-used-against-protesters-amid-elections/ [২] Amnesty International. (2026, July 27), citing media reports of at least 40 deaths (34 protesters, 6 security personnel). [৩] Indiablooms. (2026, July 28).'They are enemies like India': Pakistan Minister's explosive remark amid deadly PoK crackdown. https://www.indiablooms.com/world/they-are-enemies-like-india-pakistan-ministers-explosive-remark-amid-deadly-pok-crackdown/details [৪] The Print. (2020, December 3). After 'Khalistan agenda', BJP leaders now see hand of 'tukde-tukde gang' in farmer protest; Bharatpedia, Tukde Tukde Gang (CAA-protest labelling, 2019–2020). https://theprint.in/politics/after-khalistan-agenda-bjp-leaders-now-see-hand-of-tukde-tukde-gang-in-farmer-protest/556673/ [৫] The Daily Star. (2024, July 14). PM's remark ignites protests; Al Jazeera. (2024, August 7). https://www.thedailystar.net/news/bangladesh/news/july-14-2024-pms-remark-ignites-protests-3938926 How Bangladesh's 'Gen Z' protests brought down PM Sheikh Hasina. https://www.aljazeera.com/news/longform/2024/8/7/how-bangladeshs-gen-z-protests-brought-down-pm-sheikh-hasina