Hidayat-হিদায়েত
Open in Telegram
6 655
Subscribers
-524 hours
-17 days
-6030 days
Posts Archive
6 655
হাসান বসরী (রহ.) বলেছেন, অন্তর নষ্ট হওয়ার আলামত ছয়টি :
১. তাওবা করে ফেলবে এই আশায় গুনাহ করতে থাকা।
২. ইলম শিখেও আমল না করা।
৩. আমলে ইখলাস না থাকা।
৪. রিজিক পেয়েও শুকরিয়া আদায় না করা।
৫. তাকদীরের ফায়সালাতে সন্তুষ্ট না হওয়া।
৬. মৃ’ত ব্যক্তিকে দাফন করেও শিক্ষা না নেয়া।
[বই : প্রশান্ত অন্তর পৃ. ১৭-১৮]
6 655
আমি বিয়ের আগেও স্ত্রীর বাহ্যিক সৌন্দর্য নিয়ে মাথা ঘামাইনি, বিয়ের এতো বছর পরও ঘামাই না। পাত্রী দেখার সময় মায়ের জিজ্ঞাসার সময়ও স্পষ্ট ভাষায় বলেছি :
- চেহারার সৌন্দর্য নয়, মনের সৌন্দর্যটাই আমার আরাধ্য! আপনি তেমন কাউকে পান কি না দেখুন!
আল্লাহ সুবহানাহু ওয়াতাআ'লা আমাকে নিরাশ করেননি। ঠিক যেমনটা চেয়েছি তার চেয়েও অনেক গুণ বেশি 'সুন্দর' মনের অধিকারী একজনকে পেয়েছি। অনেক সময় তার মানবিক সৌন্দর্যের দ্যুতি এত বেশি 'চমকদার' হয়ে উঠত যে, আমার সব সৌন্দর্য-যোগ্যতা তার সামনে ম্লান হয়ে যেত!
দামেশক ইউনিভার্সিটিতে পড়ার সময় আমাদের দুই'শ নম্বরের দর্শনের সাবসিডিয়ারি ক্লাসে অংশগ্রহণ করতে হতো। পঞ্চাশ নম্বরের নন্দনতত্ত্বও পড়তে হতো। পড়াতেন ফরাসি এক ভদ্রলোক! নাম ভুলে গেছি!
তিনি বলতেন :
- সৌন্দর্যের মূল আধার বাইরের প্রকৃতিতে নয়!
- কোথায় মশিঁয়ে?
- তোমার চোখে! তোমার মনে! সেজন্য দেখো না, কুচকুচে কালো ছেলেটাও মায়ের চোখে 'ফুটফুটে'! প্রকৃত সৌন্দর্য কখনো খসে যায় না। সৌন্দর্য সম্পর্কে তোমার অনুভূতি-উপলব্ধি খসে যাওয়াকেই তুমি বলে বেড়াও সৌন্দর্য শেষ হয়ে গেছে! আসলে সৌন্দর্য কি তুমি সেটাই চেনো না।
কতো পুরুষ দেখেছি, ঘরে অতি রূপসী স্ত্রী রেখে, আরেক বিদঘুটে নারীর পানে চেয়ে বেড়াচ্ছে, চেহারার সৌন্দর্যই শেষ কথা নয়, চামড়ার রংই সব নয়, মনের রংই আসল!
বই : ওগো শুনছো; পৃ. ৬১-৬২।
6 655
ইস্তেগফার এমন এক বরকতময় আমল, যার প্রভাব শুধু কিতাবের পাতায় নয়— বাস্তব জীবনেও দেখা যায়। আমি নিজের চোখে তার এক জীবন্ত দৃষ্টান্ত দেখেছি।
একদিন দুপুরে খাবার খেয়ে একটু বিশ্রাম নিচ্ছিলাম। ঘুমটা ঠিকমতো আসেনি, এমন সময় কলিং বেল বেজে উঠল। প্রথমে একটু বিরক্ত লাগল, তবুও উঠে দরজাটা খুলে দিলাম।
দেখি, এক লোক দাঁড়িয়ে আছে। সালাম দিল, আমি জবাব দিলাম। চেনা মনে হলো না।
সে নিজেই বলল,
“হুজুর, আপনি আমাকে চিনবেন না। আমি এসেছি অনেক দূর থেকে— ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে। আসার একটা বিশেষ কারণ আছে।”
আমি বললাম, “বলেন ভাই, কী ব্যাপার?”
সে বলল,
“কয়েক মাস আগে আমি এই এলাকায় এসেছিলাম। আপনার পেছনে জুমার নামাজ পড়েছিলাম। নামাজের পর আপনার সঙ্গে একটু কথা হয়েছিল। তখন আমি ভীষণ বিপদে ছিলাম — চাকরি চলে গিয়েছিল, সংসার চালানো কষ্টকর হয়ে গিয়েছিল। এমনকি আমার স্ত্রীকেও তার বাবা নিয়ে গিয়েছিলেন এই বলে, ‘বেকার জামাইয়ের ঘরে মেয়ে রাখব না।’ আমি তখন সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েছিলাম।
আমি আপনার কাছে এসে দোয়া চেয়েছিলাম আর বলেছিলাম— হুজুর, এমন কোনো আমল বলুন, যাতে আল্লাহ আমার জন্য কোনো পথ খুলে দেন।”
আমি একটু ভেবে বললাম, “ভাই, আমার তো মনে পড়ছে না।”
সে হেসে বলল,
“আপনি তখন বলেছিলেন, বেশি বেশি ইস্তেগফার করতে। আমি জিজ্ঞেস করেছিলাম— কতবার? আপনি বলেছিলেন— প্রতিদিন পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের পর ১০০ বার করে আস্তাগফিরুল্লাহ পড়ো।”
তারপর সে বলল,
“আমি সেই দিন থেকেই শুরু করলাম। আলহামদুলিল্লাহ, কিছুদিনের মধ্যেই অবস্থা বদলে যেতে লাগল। নতুন একটা চাকরি পেলাম, আগের চেয়ে অনেক ভালো বেতনে। শ্বশুর নিজে এসে আমার স্ত্রীকে আবার আমার ঘরে দিয়ে গেলেন। তারপর ধীরে ধীরে আমার জীবনের সব সমস্যাই আল্লাহ তাআলা ঠিক করে দিলেন।
হুজুর, আমি বিশ্বাস করি— এসব কিছুই ইস্তেগফারের বরকতে হয়েছে। তাই প্রথম স্যালারির টাকা হাতে পেয়ে মনে হলো, যাঁর মুখে এই আমলের কথা শুনেছিলাম, তাঁর কাছে গিয়ে কৃতজ্ঞতা জানাই। সেই জন্যই আজ এত দূর থেকে এসেছি।”
তার কথাগুলো শুনে আমি স্তব্ধ হয়ে গেলাম। মনে হলো, আল্লাহর রহমত আমাদের কত কাছেই থাকে, শুধু আমরা দরজায় কড়া নাড়তে ভুলে যাই।
-উমায়ের কোব্বাদি হাফি.
6 655
বান্দার জন্য উচিত হলো, তার প্রতিটি নিঃশ্বাস যেন দুই প্রকারের হয় - এক নিঃশ্বাসে সে তার রবের প্রশংসা করবে, আর অন্য নিঃশ্বাসে সে তার গুনাহের জন্য আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করবে।
— ইমাম ইবনে তাইমিয়্যাহ (রহ.)
[সূত্র : জামি‘ আর-রাসাইল, ২/১৬১]
6 655
পাঁচটি বিষয়ের মধ্যে কল্যাণ রয়েছে :
১. অন্তরের উদারতা,
২. অন্যকে কষ্ট না দেওয়া,
৩. হালাল উপার্জন করা,
৪. তাকওয়া অবলম্বন করা এবং
৫. আল্লাহর উপর বিশ্বাস রাখা।
বই : সালাফের পাঠশালা
6 655
নিয়ামত হারানোর শুরুটা হয়—একটা গুনাহ দিয়ে।
.
মানুষ যখন গুনাহ করে, তখন আল্লাহর কোনো না কোনো নিয়ামত তার জীবন থেকে সরে যায়। আল্লাহর প্রতি অনুতপ্ত হয়ে যদি বান্দা ফিরে আসে, তাওবাহ করে তবে সেই নিয়ামত বা অনুরূপ কোনো বরকত আবার ফিরে আসে।
.
কিন্তু যদি সে গুনাহর উপর অটল থাকে, অনুতপ্ত না হয়, ফিরে না আসে—তাহলে সেই নেয়ামত আর ফিরে আসে না।
.
এভাবে একে একে গুনাহগুলো তার জীবনের নেয়ামতগুলো ছিনিয়ে নিতে থাকে। একসময় সে নিঃস্ব হয়ে পড়ে—বাহ্যিকভাবে হয়তো নয়, কিন্তু আভ্যন্তরীণভাবে।
.
– ইমাম ইবনুল কাইয়্যিম (রহিমাহুল্লাহ)
সূত্রঃ ত্বরীকুল হিজরাতাইন, পৃষ্ঠা ২৭১
6 655
যেকোনো বিপদে পড়া মাত্রই ইস্তিগফারে লেগে যান। দ্রুতই সমাধান পাবেন, ইনশাআল্লাহ্।
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন,
যে ব্যক্তি বেশি বেশি ইস্তিগফার পড়বে, আল্লাহ তার সব সংকট থেকে উত্তরণের পথ বের করে দেবেন, সব দুশ্চিন্তা মিটিয়ে দেবেন এবং অকল্পনীয় উৎস থেকে তার রিজিকের ব্যবস্থা করে দেবেন।
[সুনানে বাইহাকি : ৬৩৬; মুস্তাদরাকে হাকিম : ৭৬৭৭]
6 655
বিদায় নেওয়ার সময় আমার শায়েখকে বললাম, শায়েখ, দোয়া করবেন আমার জন্য, খাস করে সেই দোয়াটা।”
শায়েখ বললেন, "কোন দোয়া?"
বললাম, "একজন উত্তম জীবনসঙ্গিনীর অপেক্ষায় আছি, শায়েখ।"
আচ্ছা তাহলে আমি যদি এমন করে দোয়া করি, আল্লাহ যেনো তোমাকে তোমার মতই উত্তম একজন জীবনসঙ্গিনী দান করেন, খুশি হবে তো? বললাম, "না শায়েখ। আমার মতো না, আমার চেয়ে আরো ভালো হতে হবে।"
শায়েখ বললেন, "তবে কি তুমি চাও আমি এমন দোয়া করি যেই দোয়াতে তোমার মঙ্গল হোক আর অন্য কারো অমঙ্গল হোক! তুমি জিতে যাও আর অন্যজন ঠকে যাক! শুনো, এমন দোয়া গুলো কবুল হয় না। কবুল হয়ে গেলেও এর ফল ভালো হয় না।
আগে নিজে সালেহ হও, পরে একজন সালেহার জন্য আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করো। যখন এই প্রার্থনার মধ্যে কারো ঠকে যাওয়ার বিষয় নেই, সেই দোয়াটা আল্লাহ কবুল করে নিবেন।"
— সংগৃহীত
6 655
অনেক সময় আমরা পাপের সাগরে ভাসতে ভাসতে তাওবার কথা ভুলে যাই। ফলে আমাদের অন্তর কলুষিত হয়ে পড়ে। অন্তরের কলুষতা চিরস্থায়ী বরবাদির কারণ হতে পারে। এই কলুষতা দূর করার জন্য আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে বিপদ নামক পরীক্ষার চেয়ারে বসিয়ে দেন। এর মাধ্যমে বান্দার চিন্তার জগতে আলোড়ন সৃষ্টি হয়। সে নিজের ভুল বুঝতে পারে। আগের চেয়ে আরও বেশি সতর্ক হও। রোনাজারি করে আল্লাহর দরবারে। তাই বিপদকে আযাব মনে করে কষ্ট পাবেন না। এটা আল্লাহর পক্ষ থেকে আসা নিয়ামাত। এই নিয়ায়মাত আপনাকে খাঁটি মুমিন হওয়ার পথ করে দেবে। তাই সবর ও নেক আমলের মাধ্যমে এই নিয়ামাতকে কাজে লাগানোর চেষ্টা করুন।
বই : বিপদ যখন নিয়ামত - ২
#Sirah
6 655
ইস্তেগফার এমন এক বরকতময় আমল, যার প্রভাব শুধু কিতাবের পাতায় নয়— বাস্তব জীবনেও দেখা যায়। আমি নিজের চোখে তার এক জীবন্ত দৃষ্টান্ত দেখেছি।
একদিন দুপুরে খাবার খেয়ে একটু বিশ্রাম নিচ্ছিলাম। ঘুমটা ঠিকমতো আসেনি, এমন সময় কলিং বেল বেজে উঠল। প্রথমে একটু বিরক্ত লাগল, তবুও উঠে দরজাটা খুলে দিলাম।
দেখি, এক লোক দাঁড়িয়ে আছে। সালাম দিল, আমি জবাব দিলাম। চেনা মনে হলো না।
সে নিজেই বলল,
“হুজুর, আপনি আমাকে চিনবেন না। আমি এসেছি অনেক দূর থেকে— ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে। আসার একটা বিশেষ কারণ আছে।”
আমি বললাম, “বলেন ভাই, কী ব্যাপার?”
সে বলল,
“কয়েক মাস আগে আমি এই এলাকায় এসেছিলাম। আপনার পেছনে জুমার নামাজ পড়েছিলাম। নামাজের পর আপনার সঙ্গে একটু কথা হয়েছিল। তখন আমি ভীষণ বিপদে ছিলাম — চাকরি চলে গিয়েছিল, সংসার চালানো কষ্টকর হয়ে গিয়েছিল। এমনকি আমার স্ত্রীকেও তার বাবা নিয়ে গিয়েছিলেন এই বলে, ‘বেকার জামাইয়ের ঘরে মেয়ে রাখব না।’ আমি তখন সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েছিলাম।
আমি আপনার কাছে এসে দোয়া চেয়েছিলাম আর বলেছিলাম— হুজুর, এমন কোনো আমল বলুন, যাতে আল্লাহ আমার জন্য কোনো পথ খুলে দেন।”
আমি একটু ভেবে বললাম, “ভাই, আমার তো মনে পড়ছে না।”
সে হেসে বলল,
“আপনি তখন বলেছিলেন, বেশি বেশি ইস্তেগফার করতে। আমি জিজ্ঞেস করেছিলাম— কতবার? আপনি বলেছিলেন— প্রতিদিন পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের পর ১০০ বার করে আস্তাগফিরুল্লাহ পড়ো।”
তারপর সে বলল,
“আমি সেই দিন থেকেই শুরু করলাম। আলহামদুলিল্লাহ, কিছুদিনের মধ্যেই অবস্থা বদলে যেতে লাগল। নতুন একটা চাকরি পেলাম, আগের চেয়ে অনেক ভালো বেতনে। শ্বশুর নিজে এসে আমার স্ত্রীকে আবার আমার ঘরে দিয়ে গেলেন। তারপর ধীরে ধীরে আমার জীবনের সব সমস্যাই আল্লাহ তাআলা ঠিক করে দিলেন।
হুজুর, আমি বিশ্বাস করি— এসব কিছুই ইস্তেগফারের বরকতে হয়েছে। তাই প্রথম স্যালারির টাকা হাতে পেয়ে মনে হলো, যাঁর মুখে এই আমলের কথা শুনেছিলাম, তাঁর কাছে গিয়ে কৃতজ্ঞতা জানাই। সেই জন্যই আজ এত দূর থেকে এসেছি।”
তার কথাগুলো শুনে আমি স্তব্ধ হয়ে গেলাম। মনে হলো, আল্লাহর রহমত আমাদের কত কাছেই থাকে, শুধু আমরা দরজায় কড়া নাড়তে ভুলে যাই।
-উমায়ের কোব্বাদি হাফি.
6 655
একজন রিযিকের আধিক্যতা চাইলো, তার ইনকাম বেড়ে গেলো। গাড়ি কিনলো, বাড়ি করলো। কিন্তু সেই সাথে যুক্ত হলো নতুন নতুন খরচ। মেডিকেল চেকআপ, ৮/১০ টা ক্রেডিট কার্ডের বিল, বড় বড় ক্লাবের মেম্বারশীপ ফী। বোনাস হিসেবে আছে আরও নানা দুশ্চিন্তা আর অশান্তি।
আরেকজন রিযিকের বারাকাহ চাইলো। তার চাকরীটা চলে গেলো। একজন আলিমকে হতাশ হয়ে প্রশ্ন করাতে জবাব দিলেন, হারাম ইনকামের চাকরী চলে যাওয়াটাই দুআ কবুলের প্রথম ধাপ।
ছোট খাট আরেকটা চাকরী পেলেও ইনকাম আগের চেয়ে অর্ধেক। আয় কমলেও সেই সাথে সংকুচিত হতে থাকলো ব্যয়ও। দিন শেষে তার কোন সেভিংস থাকছে না, কিন্তু নতুন করে তার কোন লোনও যোগ হয় না।
এই তো সেদিন ডাক্তার তার ঘুম আর প্রেসারের ঔষধের ডোজ কমিয়ে দিলেন। ঘুম এখন যদি নিয়মিত হয়, ঔষধ খাবেনই বা কেন।
রিযিকের বারাকাহ এক অদ্ভুত রহমত। আধিক্যতা ছাড়াই যা পাওয়া সম্ভব। আল্লাহ! আপনি যা রিযিক দিবেন তাতে সন্তুষ্ট বানিয়ে দিন। এবং তাতে বরকত নাযিল করুন।
~ Rizwanul Kabir (Hafi.)
