1 995
Subscribers
-124 hours
No data7 days
+430 days
Posts Archive
1 996
শেখো।
যেখান থেকে পারো, শেখো।
বই পড়ে। আড্ডায়। গল্পে। মুভি দেখে। ক্লাস রুমে। ভ্রমণে। প্রকৃতির তুমুল আলোড়নে। পরিবার থেকে। স্বজন থেকে।
জীবনের শেখা শুধু চাকরির জন্য নয়। জীবনের শেখা শুধু টাকার জন্য নয়। জীবনের শেখা হলো জীবনকে উপভোগের জন্য। জীবনকে ড্রাইভ করার জন্য।
তোমার জীবন একটা যাত্রা। এবং তুমি সেটার ড্রাইভার। তোমাকে শিখতে হবে। সেই শিক্ষা তোমার চোখ-কান খোলা রাখবে। তুমি তোমার জীবনকে যেনো ঠিকভাবে ড্রাইভ করতে পারো।
তুমি শুধু বড়ো বড়ো ডিগ্রী নিলেই হবে না। পৃথিবীর সেরা সেরা ইউনিভার্সিটিতে পড়লেই শুধু হবে না। তোমাকে শিখতে হবে, কি করে মানুষের সাথে চলতে হয়। তোমাকে শিখতে হবে সহনশীলতা। তোমাকে শিখতে হবে ভিন্ন সংস্কৃতি মেনে নেয়ার শিক্ষা। তোমাকে শিখতে হবে কি করে পারিবারিক বন্ধনকে আগলে রাখতে হয়। তোমাকে শিখতে হবে কি করে সন্তান বড়ো করতে হয়। তোমাকে শিখতে হবে কি করে মানবিক হতে হয়।
শুধু বড়ো চাকরি করলেই হবে না। তোমাকে শিখতে হবে কি করে সৃষ্টি করতে হয়। তোমাকে শিখতে হবে কী করে জীবনের আনন্দকে উপভোগ করতে হয়।
তোমাকে শিখতে হবে কি করে জীবনকে আগলে রাখতে হয়। তোমাকে শিখতে হবে কি করে দুঃসময়ে শক্ত থাকতে হয়। তোমাকে শিখতে হবে কি করে যন্ত্রণাকে হজম করতে হয়।
শেখা শুধু ডিগ্রির জন্য নয়। সার্টিফিকেটের জন্য নয়। শেখা শুধু অর্থের জন্য নয়। শেখা শুধু বাড়ি-গাড়ি কেনার জন্য নয়। পাশের বাড়ির ছেলে-মেয়েকে জানানোর জন্য নয়।
জীবনের অনেক বড়ো বড়ো শিক্ষাগুলো তুমি বইয়ে পাবে না। স্কুল-কলেজে তোমাকে শেখানো হবে না। কিন্তু জীবন তোমাকে শেখাবে। সে শিক্ষা নেয়ার জন্য তোমাকে প্রস্তুত থাকতে হবে।
শেখা হলো আনন্দের জন্য। শেখা হলো জীবনের জন্য। শেখা হলো জীবনকে চালিয়ে নেয়ার জন্য। জীবনের এই দীর্ঘ পথ পাড়ি দেয়ার জন্য।
শেখো, শেখো, শেখো।
……………………
@Rauful Alam
1 996
💔 যৌন অনীহা 💔
নারীর যৌন অনীহা শারীরিক কিংবা মনস্তাস্তিক উভয় কিংবা যেকোন একটি কারনে হতে পারে। স্বাভাবিক ভাবেই বেশিরভাগ নারীর এ সমস্য খুবই ক্ষনস্থায়ী হয়ে থাকে। নারীর যৌন আকাঙ্খা কম থাকাকে যৌন দুর্বলতা অথবা "ফিমেল সেক্সুয়াল এ্যরুসাল ডিজওর্ডার" বলা হয়। অনেক নারী আপনা থেকেই এ সমস্যা কাটিয়ে উঠতে পারে। কিন্তু যারা পারেন না তাদের বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের পরামর্শ নেবার প্রয়োজন পড়তে পারে। যৌন অনীহা নারীর ক্ষেত্রে সচরাচর দেখা যায়। তবে পুরুষের ক্ষেত্রে এমনটি খুব কমই দেখা যায়।
শারীরিক যে সব কারন থাকতে পারেঃ
১।রক্ত স্বল্পতা, যা নারীদের মাসিক ঋজচক্রকালীন রক্তে আয়রনের হার হ্রাস পাওয়া থেকে প্রকট হয়।
২।মদ্যপানে আসক্তি।
৩।মাদাকাসক্তি।
৪।ডায়াবেটিস জাতীয় রোগ দেখা যায়।
৫।সন্তান প্রসব। সন্তান প্রসবের পরবর্তী কিছু সময়কাল নারীর যৌন আকঙ্খা সম্পুর্ন হারিয়ে যায়। এটি শরীরে হরমোনাল পরিবর্তনের সাথে প্রায় সরাসরি জড়িত। বেশির ভাগ নারী সন্তান জন্মদেবার পর মানসিক ভাবে অনেকটা বিক্ষিপ্ত থাকেন তাই তারা শারীরিক মিলন নিয়ে চিন্তা করার অবকাশ পাননা।
৬।কিছু ঔষধের পাশ্বপ্রতিক্রিয়া।
৭।Hyperprolactinaemia - পিটুহিটারী গ্রন্থির অতিরিক্ত ক্রিয়াশীলতায় এ সমস্যা দেখা দেয়।
মনস্তাস্তিক কারন সমুহঃ
১।অবসাদ কিংবা বিষন্নতা
২।দুশ্চিন্তাগ্রস্ত হওয়া; যখন নারী দুশ্চিন্তাগ্রস্ত থাকে তখন এ্যডরিনাল (মুত্র) গ্রন্থি ইষ্ট্রোজেন এবং টেষ্ট্রোষ্টিরন হরমোন সৃষ্টিতে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে। ইষ্ট্রোজেন এবং টেষ্ট্রোষ্টিরন হরমোনই নারী শরীরে যৌন আকাঙ্খা উৎপন্ন করে।
৩।উদ্বিগ্নতা।
৪।শিশুসুলভ মনোভাবের পুর্নজন্ম।
৫।পুর্বের ধর্ষণ কিংবা যন্ত্রনাদায়ক শারীরিক সম্পর্কের শিকার হওয়া।
৬।স্বামীর সাথে প্রচন্ড মানসিক বিবাধ থাকা।
যৌন অনীহায় নারীর করনীয়ঃ
কোন নারী যদি অনুমান করতে পারে যে তার ভেতর যৌন অনীহা কাজ করছে তাহলে সে নারী ডাক্তারের সাথে দেখা করে তার সমস্যা নিয়ে আলোচনা করতে পারে। পরিবার পরিকল্পনা অফিসের নারী কর্মীও এই ব্যপারে সেই নারীকে সহযোগীতা করতে পারে।
এমন সব পরামর্শ অথবা ব্লগের জন্য জয়েন করুন -
https://www.facebook.com/groups/149192167228573
#konna #girls #pleasure #sexeducationedit #snapchat #instagood #sexeducationnetflix #beautiful #romantic #sexeducator #sexeducation #love #sex #sexpositive #sexualhealth #couplegoals #health #healthy
1 996
আপনি ২০ বছরের ছেলে বা মেয়ে হলে আপনার এটা পড়া প্রয়োজন।
১) রুটিন বানান কনসিসট্যান্টলি রুটিনটা ফলো করুন। রুটিন আমাদের সাব-কনশাস মাইন্ডে প্রভাব পরে যেকোন অভ্যাস করতে সাহায্য করে। ১১ টার ভিতরে ঘুমান ৭ টার মধ্যে উঠে পড়ুন।
২) প্রতিদিন ৩০ মিনিট হলেও বই পড়ুন, লিখুন।
৩) লার্ন হাই ইনকাম স্কিল যা পার মান্থ $1000 আর্ন করতে পারবেন।(হিউম্যানিটিস গ্রুপ থেকেও সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার হয়, আপনি সায়েন্সের হয়ে পারবেন না কেন?)
৪)প্রতিদিন ১০০ পুশআপ দিন যা ৯৭% মানুষ থেকে আপনাকে হেলদি রাখবে।
৫)বিল্ড সেলফ ডিসিপ্লিন সকালে ঘুম থেকে উঠে ঠান্ডা পানি দিয়ে শাওয়ার করুন। (কয়েকদিন করলেই বুঝতে পারবেন আপনাকে বুস্ট রাখবে)
৬)ইন্টারনেটে আপনার একটি আর্নিং এর ওয়ে রাখুন, ইন্টারনেটে এন্ডলেস পসিবিলিটিস রয়েছে আর্নিং করার।
৭)আপনার সুন্দর জীবনের জন্য দ্বায়িত্ব নিন। এবং কোন পরিস্থিতিতেই অন্যকে দোষারোপ করবেন না।
৮)আপনার হেল্থ অপ্টিমাইজ করার জন্য আপনার দৈনন্দিন ডায়েটে প্রোটিন, তাজা ফল এবং দুই লিটার পানি অন্তর্ভুক্ত করুন।
৯)এমন বন্ধুদের সাথে হ্যাঙ্গআউট করুন যারা ভালো জীবনযাপন করছে, যারা গসিপ, কমপ্লেইন, একে অপরে জেলাস তাদের এভয়েড করে চলুন।
১০) ভালো পোষাক পরিধান করুন, ফ্র্যাগনেন্স মোস্ট ইমপর্ট্যান্ট। কমিউনিকেশন স্কিল বাড়ান আপনার সাকসেসের হার ৯৪% বুস্ট হবে।
১১)প্রকৃতির সাথে বন্ধুত্ব করুন, মাইন্ড রিফ্রেশমেন্টের জন্য ১০০০ স্টেপস হাঁটুন, বুস্ট ইউর মোড এন্ড গেট ক্রিয়েটিভ।
১২)এমন পাবলিক থেকে দূরত্ব বজায় রাখুন যারা তাদের প্রয়োজনে আপনাকে চিনে বাকি সময় আপনাকে চিনে না। দে আর ইউর গ্রেটেস্ট সেটব্যাক।
১৩)ড্রা*গস, প*র্ণ, এলকোহল থেকে দূরে থাকুন এইগুলো আপনার ডোপামিন হরমোন নিঃসরণ হতে দিবে না যার কারনে আপনি ডিপ্রেসড ফিল করবেন।
1 996
সহ-বাসের আগে স্বামীদের করনীয়ঃ-
১. পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা,সুগন্ধি ব্যবহার করা,ব্রাশ করা।
২. রোমান্টিকতা করা,সরাসরি মিলন না করা।
৩. সর্তকতা অবলম্বন করা, নির্জন পরিবেশ রক্ষা করা করুন।
৪. সহ-বাসের আগে স্ত্রী কে জানিয়ে দেওয়া তাহলে পূর্বপ্রস্ততি নেওয়া অধিকতর সহজ স্ত্রীদের জন্য, অনেকক্ষেত্রে পুরুষ এই বিষয় কে এড়িয়ে চলে।
৫.কিছু জিনিস হাতের কাছে রাখা সাপ্লিমেন্ট হিসাবে জিনসেং, জিংক,ভিটামিন, স্প্রে ও জেল, কন-ডম ইত্যাদি।
৬.টুকটাক যৌ-ন মিলন সম্পর্কে জ্ঞান রাখা ভালো।
৭.সহ-বাসের আসনে পরিবর্তন ও ফোরপ্লে করা
৮. মিলনের জন্য জোরাজোরি, তাড়াহুড়ো না করা।
৯.স্ত্রীর যো-নিপথ পিচ্ছিল না আসা পর্যন্ত অপেক্ষা অথবা আহবান না করা পর্যন্ত অপেক্ষা করা।
১০.রাগ,শোক, টেনশনে, নে-শা করে মিলন করা থেকে বিরত থাকুন।
#DrSRKhan
1 996
Choking বা শিশুর গলায় কিছু আটকে গেলে করণীয়ঃ
১ বছরের ছোট্ট আয়েশা রান্নাঘরে মায়ের পাশে বসে খেলছে। তার মা বসে মটরশুঁটি পরিস্কার করছেন। মা পানি পান করতে একটু দূরে গেলেন। হঠাৎ আয়েশা কাশতে শুরু করলো। মা দৌড়ে ছুটে এলেন। মনে হলো ওর গলায় কিছু আটকে গেছে। এই পরিস্থিতিতে কি করা উচিত বলে আপনাদের মনে হয়??
✴️✴️শিশুর গলায় কিছু আটকে গেলে করণীয়ঃ
গলায় কিছু আটকে যাওয়াকে বলে চকিং, যা মৃত্যুও ডেকে আনতে পারে। নিচের লক্ষণ থাকলে ধরে নেওয়া হয় শিশুর গলায় কিছু আটকে গেছে।
* শিশুর শ্বাস-প্রশ্বাসে টান উঠেছে বা শাঁই শাঁই শব্দ শোনা যাচ্ছে
* কথা বলতে, কান্না করতে বা মুখে আওয়াজ করতে পারছে না
* ঠোঁট-জিব-মুখ নীল হয়ে যাচ্ছে
* নিজের গলা বা হাতে হাত বোলাচ্ছে
* শিশু ভীষণ আতঙ্কিত অবস্থায় আছে।
🔶✅যা করতে পারেন
দাঁড়ানো অবস্থায় শিশুর মুখে হাত ঢুকিয়ে বা পিঠে চাপড় দিয়ে আটকে যাওয়া বস্তু বের করে আনতে চেষ্টা করবেন না, বরং এতে তা শ্বাসনালিতে আরো ভয়ানকভাবে আটকে যেতে পারে।
শিশুকে পেছন থেকে ধরে মাথা নিচু করে পেটের দিকে চাপ দিন। এ পদ্ধতিটি হেমলিখ ম্যানুইভার (Heimlich maneuver) নামে পরিচিত।
শিশুটিকে দ্রুত হাসপাতালে বা ডাক্তারের কাছে নিয়ে যান।
✅মনে রাখুন
* শিশু যদি অনবরত কাশে এবং কথা বলতে পারে, তবে বুঝতে হবে শ্বাসনালি পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়নি। এ অবস্থায় বেশি কিছু না করে ডাক্তারের কাছে নিয়ে যান।
* যদি শিশু অচেতন হয়ে যায় এবং শ্বাস-প্রশ্বাস বন্ধ মনে হয়, তবে ট্রেনিং থাকলে কার্ডিওপালমোনারি রিসাসিটেশন বা 'সিপিআর' অবলম্বন করুন।
* শিশু যদি অনবরত কাশে বা শ্বাসে শাঁই শাঁই শোনা যায়, শ্বাসকষ্ট বা গিলতে অসুবিধা দেখা যায়, তবে হাসপাতালে নিয়ে যান।
* চার বছরের ছোট শিশুকে গলায় আটকে যেতে পারে এমন খাবার দেবেন না। যেমন-ছোলা, বাদাম। ফল কেটে ছোট করে দিন।
* খাবার সময়ে যেন কথা না বলে বা জোরে না হাসে।
* বোতাম, ব্যাটারি, বেলুন, কয়েন এ জাতীয় জিনিস যেনো ছোট শিশুর নাগালে না আসে।
Dr. Tajreen Jahan
Advisor
20 Minute Medical
1 996
---পুরুষ নয় মহাপুরুষ------
_পুরুষ মানুষ সুযোগ পেলে, কেবল মাত্র শারীরিক উত্তেজনা ও কামবোধ থেকে যেকোন নারী দেহের কাছে যেতে পারে!
নারীদের একটা আলাদা বৈশিষ্ট্য আছে। নারী তার কামবোধকে সংযত করতে পারে। মানসিক আগ্রহ ও কোনরকম আবেগের জায়গা সৃষ্টি না হলে, নারীরা সাধারনত দেহের বিনিময় করেনা।
পুরুষের ভেতরও এক শ্রেণীর পুরুষ আছেন, যারা তার তীব্র কামবোধকে নিয়ন্ত্রন করতে পারে। সুযোগ থাকার পরও নারীরা যার তার সাথে নিজেকে ভাগ করেনা!
এমন পুরুষের সন্ধান পাওয়া বিরল, তবে শূণ্য নয়।
যে পুরুষ সুযোগ থাকার পরও তার কাছের মানুষটির কথা ভেবে, নিজের কামনা ও বাসনাকে নিয়ন্ত্রন করে এবং সকল সুযোগ উপেক্ষা করে ঘরে ফিরে আসে, সে কেবল পুরুষ নয় মহাপুরুষ!তাঁরা দেহের পাগল না,খোঁজে শুদ্ধ প্রেম।যে প্রেমে কোন স্বার্থ থাকে না।বিনা স্বার্থে সব কিছু বিসজন দেয় প্রেমিক।
তুমি সেই জাতিয় পুরুষ হলে,যে কোন নারী তোমার প্রেমে পড়তে বাধ্য। আগে নিজে ত্যাগ আর বিসজন দেওয়া শিখো।ভোগ বিলাসীতা কেবল অলসা আর পাপ কর্ম বৃদ্ধি করে,ত্যাগ মানুষ কে উদার আর মহানুভব করে।
🌹🌹🌹🌹
1 996
নিজের সন্তানকে সম্মান করা কি জরুরি?
১. সন্তানের সাথে কথা বলার সময় ভাষার ব্যাপারে সচেতন হন,তা সে যত ছোট শিশুই হোক না কেন! কখনোই বাচ্চার সামনে তাকে গালাগালি করা ঠিক নয়।
২. সন্তানকে কখনোই 'বোকা', 'গাধা 'ইত্যাদি বলে অসম্মান করবেন না বা ট্যাগ করবেন না। আমরা নিজেও সকল বিষয়ে পারদর্শী নই, একটি শিশুও সকল বিষয়ে পারদর্শী হবে না। বরং তাকে উৎসাহিত করলে সে তার যোগ্যতার চেয়ে বেশি কিছু করতে পারবে।
৩. সন্তানের সাথে আচার-আচরণের ক্ষেত্রে, আপনি নিজে কোন ভুল করলে অবশ্যই ক্ষমা চান।
৪. কিছু ব্যাপারে অবশ্যই সন্তানের সিদ্ধান্তকে সম্মান করতে শিখুন। যেমন, সে কাউকে নিজেকে ধরতে দিবে কিনা, সে নিজে কাউকে ধরবে কিনা, সে আদৌ বাইরে যেতে চায় কিনা ইত্যাদি।
৫.আমাদের যেমন ব্যক্তিগত সময় প্রয়োজন, তেমনি শিশুদেরও প্রয়োজন। সন্তানের প্রাইভেসিকে সম্মান করুন।
৬.একটি নির্দিষ্ট বয়সের পরে, সন্তানের সবকিছু তাকে জিজ্ঞেস না করে ধরার অভ্যাস পরিত্যাগ করুন।
৭. সন্তানের সম্পূর্ণ বক্তব্য শুনুন, এরপর নিজের মতামত দিন।
৮.সন্তানকে বুঝান, আপনি তাকে নি:শর্তভাবে ভালবাসেন।
৯.সন্তানের সামনে বাকিদের সম্মান করে কথা বলুন।
১০. সন্তানকে সবাইকে সম্মান করতে উৎসাহিত করুন।
সম্মান একটি দ্বিপাক্ষিক বিষয়, আপনি কাওকে না দিলে,তার থেকে আশা করাটাও অনুচিত!
#phyco_logy
#psycology
#parenting ❤️
1 996
মাইয়া সন্তানের বাপ হইয়া পড়ছি বিপদে। মাইয়াকে এক্সট্রা শিক্ষা দিতে হবে। মাইয়াকে বোঝাইতে হবে— পুরুষ তোমার শ ত্রু না। মাইয়াকে বোঝাইতে হবে পুরুষবিদ্বেষ মানেই নারীবাদ না। মাইয়াকে বোঝাইতে হবে পুরুষের ওই শক্ত শক্ত পেশির ভেতরে লুকিয়ে আছে এক মমতা কাতর মানুষ, যাকে ভালোবাসা দিয়ে পোষ মানানো যায়।
মাইয়াকে আরও বোঝাইতে হবে— স্বনির্ভরতা মানে অর্থনৈতিক মুক্তি। স্বনির্ভরতা মানে হাতা কাটা ব্লাউজ আর বড় টিপ না। স্বনির্ভরতা মানে নিজের কামাই নিজে খাওয়া।
মাইয়াকে বোঝাইতে হবে— মানুষের বৈশিষ্ট্য হচ্ছে কম্প্রোমাইজ। মাইয়াকে বোঝাইতে হবে সংসার মানে সেক্রিফাইস ও কম্প্রোমাইজ। মাইয়াকে বোঝাইতে হবে যে— সংসার টিকাইয়া রাখতে পারাও একটা গুণ। ডিভোর্স একটা অস্থায়ী ফ্যাশন। এই ফ্যাশনের ফাঁদ থেকে মাইয়াকে বাঁচাইতে হবে।
মাইয়াকে 'ডিপ্রেশন' নামের আধুনিক ফ্যাশন থেকেও দূরে রাখতে হবে। মোটিভেশন স্পিকারদের খপ্পড় থেকে মেয়েকে সুরক্ষা দিতে হবে।
মাইয়াকে বুড়া কবিদের সঙ্গে চ্যাটিংয়ের ক্ষতি সম্পর্কে বোঝাইতে হবে। মাইয়ার বাপ হিসেবে আমার অনেক দায়িত্ব, অনেক। আমার মেয়ে পিঠ বের করে তথাকথিত 'সাহসী নারী' হওয়ার আগেই ওকে 'সাহস'—এর আসল সংজ্ঞা শিখাইতে হবে। মাইয়াকে এমনভাবে বড় করে তুলব যাতে পয়সা ইনকামের জন্য ক্যামেরার সামনে ওর বুক ও রান বের করে রাখা না লাগে। আমি চাই আমার মেয়ের শুধু মস্তিষ্কটাই লোকে দেখুক, ওর বুক, রান ও পিঠ নয়।
© শিবলী আহমেদ
1 996
ডায়াবেটিস থাকলে মধু খাওয়া যাবে না , উচ্চ রক্তচাপ থাকলে 2 চা চামচ এর জায়গায় চূর্ণ 1 চা-চামচ খেতে হবে।
.
★ মাসিক চলাকালীন সময়ে কি স্ত্রী সহবাস করা যাবে ?
উত্তর - ইসলাম ধর্মে ও মেডিকেল সাইন্স এ মাসিক চলাকালীন সময়ে সহবাস করা নিষিদ্ধ।
.
★ গর্ভ অবস্থায় কি আমি আমার স্ত্রীর সাথে সহবাস করতে পারব ?
উত্তর- প্রথম তিন মাস ও শেষের তিন মাস সহবাস করা যাবে না। এরমধ্যে এর সময় সহবাস করা যাবে তবে তা খুব সতর্কতার সাথে।
.
★ রাস্তায় পোস্টার / কেবল টিভির ডিশ এর বিজ্ঞাপনে / ইদানিং ফেসবুকে ইউটিউবে দেখা যায় বিভিন্ন হারবাল/আয়ুর্বেদিক/ইউনানী/হোমিও প্রতিষ্ঠান চুক্তিতে , গ্যারান্টি দিতে চিকিৎসা করে।এমনকি তারা বলে 3 দিনে অথবা 7 দিনে 100% গ্যারান্টি তে রোগ ভালো করে দেবে তারা। তাদের কাছে কি যাওয়া যাবে ?
উত্তর- মেডিকেল আইন অনুযায়ী 100% গ্যারান্টি অথবা চুক্তিতে 3 দিন বা 7 দিনে চিকিৎসা করা বা এজাতীয় বিজ্ঞাপন প্রচার করা বেআইনি। যারা এগুলো করে তারা রোগীদের সাথে প্রতারণা করার জন্য এমন মুখরোচক কথা দিয়ে বিজ্ঞাপন করে। তাদের কাছে যাওয়া যাবে না। এমনকি ইদানিং ফেসবুকে বা ইউটিউবে বিভিন্ন ফুড সাপ্লিমেন্ট বা ডায়েটারী সাপ্লিমেন্ট বিভিন্ন দেশের নাম দিয়ে বিক্রি করা হচ্ছে। বলা হচ্ছে এগুলোর কোন সাইডএফেক্ট নাই। এগুলো থেকে দূরে থাকতে হবে । এগুলো উপকার করতে পারবে না উল্টা ক্ষতি করবে। আজীবনের জন্য যৌন অক্ষমতা তৈরি করে ফেলবে এই জাতীয় প্রতিষ্ঠান , ফুড সাপ্লিমেন্ট/ডায়েটারী সাপ্লিমেন্ট ,ওষুধগুলো।
.
★ আমি মোটা হতে চাই,স্বাস্থ্য ভালো করার জন্য একটি ওষুধের নাম বলে দিন ?
উত্তর- পৃথিবীতে মোটা হওয়ার জন্য সত্তিকারের কোনো ওষুধ নেই। বাজারে মোটা হওয়ার জন্য যেসকল ওষুধ আছে বা রুচিবর্ধক যেসকল ওষুধ আছে তা সব কেমিক্যাল দিয়ে তৈরি করা। এতে স্টেরয়েড ব্যবহার করা হয়েছে । মোটা হতে চাইলে আগে দেখতে হবে পেটের বা হজমের কোন সমস্যা আছে কিনা , হজমের সমস্যা দূর করার পর প্রচুর পুষ্টিকর খাবার খেতে হবে। বেশি করে ভাত, ডাল, ডিম, মাছ, মাংস/গোস্ত , দুধ , ছোলা বুট সিদ্ধ করা খেতে হবে। সাথে দেশি ফল খেতে হবে। পর্যাপ্ত শাকসবজি রাখতে হবে প্রতিবার খাবারের সাথে। এরপরেও যদি স্বাস্থ্য ভালো না হয় তাহলে একজন ডাক্তারের সাথে সরাসরি দেখা করতে হবে। কিন্তু বাজার থেকে নিজে নিজে স্বাস্থ্য মোটা করার কোন ওষুধ খাওয়া যাবেনা।
.
এই তথ্যগুলো অনেকে জানে না । তাই লজ্জা না পেয়ে লেখাটি শেয়ার করুন।
.
আরো বিস্তারিত তথ্য জানার জন্য , আমার লেখা দুটি বই পড়তে পারেন:
১) বয়সন্ধিকালের যৌন শিক্ষা
২) বড়দের যৌনশিক্ষা
নিম্নের মোবাইল নাম্বারে ফোন দিয়ে সুন্দরবন কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে বই দুটি সংগ্রহ করতে পারবেন । কুরিয়ার চার্জ বই দুটির দাম ২২০ টাকা।
.
.
ডা: মোঃ ফাইজুল হক
২০ বছরের অভিজ্ঞ হোমিওপ্যাথিক, ইউনানী এবং আয়ুর্বেদিক চিকিৎসক, শিক্ষক ও লেখক ।
Gov. Registered Ayurvedic , Unani and Homoeopathic Physician , Ayurved Tirtha
Advanced Trained on Cognitive-Behavior Therapy for Depression (DU)
Trained on Therapeutic Counselling
(Department of Clinical Psychology, University of Dhaka)
.
.
চেম্বারঃ বাসা# এ-৩৮/১ , ইসলামপুর , [হাসপাতাল রোড , খাদ্য গোডাউন মোড়ের একটু আগে আমাবাগান দারুস সালাম জামে মসজিদের গলী ( চার তলা মসজিদ ) ] , ধামরাই , ঢাকা ।.
.
মোবাইলঃ
01712859950
01972859950
1 996
এই পোস্টে অনেক ১৮+ শিক্ষামূলক লেখা আছে , তাই সতর্কতার সাথে পড়ুন। এ বিষয়ে এলার্জি থাকলে দূরে থাকা বাঞ্ছনীয়।
.
.
.
.
.
.
.
.
★ লিঙ্গ বড় করা যায় ?
উত্তর- না
.
★ লিঙ্গ মোটা করা যায়?
উত্তর- না
.
★ লিঙ্গ লম্বা করা যায় ?
উত্তর- না
.
★ ওয়াইফের সাথে/গার্লফ্রেন্ডের সাথে কথা বললে লিঙ্গের মাথায় আঠালো পদার্থ / বীর্য চলে আসে, কি ওষুধ খাব ?
উত্তর- এটা স্বাভাবিক বিষয়, কোন রোগ না, তাই ওষুধ খাওয়ার প্রয়োজন নেই। আঠালো যে পদার্থ আসে তা বীর্য না।
.
★ পায়খানা করার সময় কোথ দিলে প্রস্রাবের সাথে আঠালো বা বীর্যের মত পদার্থ বের হয়। কি করব ?
উত্তর- এটা স্বাভাবিক বিষয় , কোন রোগ না , তাই ওষুধ খাওয়ার প্রয়োজন নেই।
.
★ আমার স্বপ্নদোষ হচ্ছে, খুব টেনশন এ আছি। মাসে কতবার স্বপ্নদোষ হওয়া স্বাভাবিক ?
উত্তর- স্বপ্নদোষ একটি স্বাভাবিক বিষয়। মাসে ৮ থেকে ১০ বার স্বপ্নদোষ হলেও টেনশনের কোন কারণ নেই। টেনশন ফ্রি থাকুন পুষ্টিকর খাবার খান। রাতে ঘুমানোর আগে প্রস্রাব করে ঘুমাবেন। কোন খারাপ চিন্তা করবেন না।
.
★ আমার লিঙ্গ ছোট আমি কি বিয়ে করতে পারব ?
উত্তর- উত্থিত অবস্থায় / উত্তেজিত অবস্থায় লিঙ্গ ৩.৫ ইঞ্চির চেয়ে বেশি হলে তা স্বাভাবিক।
.
★ উত্থিত অবস্থা ছাড়া / উত্তেজিত অবস্থা ছাড়া আমার লিঙ্গ খুব ছোট হয়ে থাকে । কি করব ?
উত্তর- কথিত অবস্থা ছাড়া বা উত্তেজিত অবস্থা ছাড়া লিঙ্গ ছোট হয়ে থাকবে এটাই স্বাভাবিক। দেখতে হবে ঠিকভাবে উত্থান হয় কিনা। ঠিকভাবে উত্থান হলে টেনশনের কোন কারণ নেই।
.
★ লিঙ্গে একটা মালিশ ব্যবহার করতে চাই , ভালো কোম্পানির একটা মালিশের নাম বলে দেন
উত্তর- পৃথিবীতে যত লিঙ্গের মালিশ আছে , তা লিঙ্গ বড় করা অথবা মোটা করা অথবা দীর্ঘ করার জন্য কোন কাজ করে না । তাই কোন মালিশ ব্যবহার করার প্রয়োজন নেই।
.
★ দেশের বড় বড় নামকরা কয়েকটি কোম্পানি লিঙ্গ বড় করার , বক্রতা দূর করার , ও মজবুত করার জন্য ক্রিম বা তেল বাজারে নিয়ে এসেছে । আপনি বললেন এগুলো কোন কাজ করে না তাহলে তারা কেন নিয়ে আসলো ?
উত্তর- তারা কেন নিয়ে আসছে উত্তর আমার কাছে নাই । তাদের কাছে আছে। তবে আমরা বুঝি এ বিষয়ে আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞান কি বলছে তা। আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞান বলছে কোন মালিশ বা অয়েল/ তেল লিঙ্গ বড় বা মোটা করতে পারেনা। আমার প্রায় ১৮ বছরের অভিজ্ঞতার আলোকে আমি দেখেছি ,এই তেল বা মালিশ বা ক্রিম রোগীকে মানসিক তৃপ্তি প্রদান করে ,মানসিক প্রশান্তির জন্য দেয়া যায় কিন্তু এর দ্বারা কোন রেজাল্ট আসে না।
.
★ লিঙ্গ আগা মোটা গোড়া চিকন , এ সমস্যার জন্য কি করব ?
উত্তর - এটা কোন সমস্যা না। স্বাভাবিক। এর জন্য কোন মেডিসিন ব্যবহার করতে হবে না।
.
★আমার লিঙ্গ এক দিকে একটু বাকা , এর জন্য কি ওষুধ ব্যবহার করব ?
উত্তর- লিঙ্গ একটু বাঁকা এটা পার্সোনাল লাইফে কোন সমস্যা করবে না , এটার জন্য কোন মেডিসিন প্রয়োজন নেই।
.
★ গরমে আমার অন্ডকোষ ঝুলে যায়। এটাকি কোন রোগ ?
উত্তর- অন্ডকোষ গরমে ঝুলে যাবে আবার ঠান্ডায় বা শীতে ছোট হয়ে যাবে । এটাই স্বাভাবিক।
.
★ আমার বীর্য পাতলা হয়ে গেছে। আমি কি বাবা হতে পারব ?
উত্তর - বীর্য পাতলা অথবা ঘন হওয়ার সাথে বাবা হওয়ার সম্পর্ক নেই। বিশ্বের মধ্যে শুক্রের পরিমাণ, গুণগত মান ঠিক আছে কিনা তার উপর নির্ভর করে আপনি বাবা হতে পারবেন কিনা। সিমেন এনালাইসিস নামের একটা বীর্য পরীক্ষা আছে। যা চাইলে করে দেখতে পারেন আপনার বাসার পাশের কোন ভাল ডায়াগনস্টিক সেন্টার থেকে। এই পরীক্ষার মাধ্যমে আপনি জানতে পারবেন আপনি বাবা হতে পারবেন কি পারবেন না।
.
★ সপ্তাহে 2 বার হস্তমৈথুন করি , আমার কি কোনো সমস্যা হবে ?
উত্তর- মেডিকেল সাইন্স বলে পরিমিত (সপ্তাহে 2 বার হস্তমৈথুন ) করলে শারীরিক কোনো সমস্যা হয় না। কোন কোন ক্ষেত্রে যৌন সমস্যার চিকিৎসা হিসেবে হস্তমৈথুনকে ব্যবহার করা হয়। তবে যেহেতু হস্তমৌথুন একটি অস্বাভাবিক প্রক্রিয়া , তাই অতিরিক্ত অবশ্যই খারাপ।
.
ইসলাম ধর্মে হস্তমৈথুন হারাম। তাই , হস্তমৈথুন করবেন না । তাই আমরা এটা করতে নিষেধ করি । ধর্মীয় অনুশাষন ও বিধি-বিধান মেনে চলুন। দ্রুত বিয়ে করে ফেলুন ।
.
★ আমি আগে অনেক হস্তমৈথুন করেছি, এখন আর করিনা । কি করলে আগের হস্তমৈথুনজনিত গ্যাপ পূরণ হবে।
উত্তর- হস্তমৈথুন জনিত গ্যাপ বলতে কিছু নাই । আপনি ,১) টেনশন ফ্রি থাকুন ২) পুষ্টিকর খাবার খান ৩) সকালে ও রাতে চার/পাঁচটা খোরমা খেজুর 2 চা চামচ খাঁটি মধু সহ খাবেন।
.
★ আমার একটু যৌন দুর্বলতা মনে হচ্ছে , আমি কি খেতে পারি ?
আপনি ,১) অশ্বগন্ধা চূর্ণ ২) শিমুল মূল চূর্ণ ৩) শতমূলী চূর্ণ ৪) তেতুল বীজ চূর্ণ একসাথে সবগুলো মেশাবেন। একসাথে বিছানোর পর এখান থেকে 2 চা চামচ পাউডার 2 চা চামচ মধুর সাথে মিশাবেন , মিশিয়ে হালুয়ার মতো তৈরি করে ফেলবেন। সকালে খাবার পর খাবেন ও রাতে খাবার পর খাবেন।
1 996
আমার তিলাওয়াত শেষ হলে আহমদ লাফ দিয়ে উঠল। সে দৌড়ে এসে আমাকে জড়িয়ে ধরল। আমি তার হৃৎপিণ্ডের আওয়াজ শুনতে পাচ্ছিলাম। তার ভেতরে যেন প্রশান্তির উত্তাল তরঙ্গ প্রবাহিত হচ্ছিল। সে আমার কপালে চুম্বন করল। একবার কাঁদছিল আবার হাসছিল। আমাকে বলল, 'শাইখ! আমি সমস্ত কুরআন হিফজ করেছি কিন্তু আজকে মনে হচ্ছে, আমি এই আয়াত জীবনে প্রথমবার শুনলাম। কিভাবে আমি এই আয়াতটা দেখলাম না।'
সেদিন মাগরিবের সময়ে মসজিদের ঈমাম উপস্থিত ছিল না। তারা আহমদকে সালাতের জন্য এগিয়ে দিল। আর সে সূরা ফাতিহার পর সূরা ফুরকানের সেই আয়াতগুলোই তিলাওয়াত করতে থাকল। কিন্তু যখন'ই إِلَّا مَن تَابَ পর্যন্ত পৌঁছালো, ক্রন্দনের কারণে পুরোটা শেষ করতে পারল না। এভাবে দ্বিতীয় রাকাতেও সূরা ফাতিহার পর একই সূরা পাঠ করে একই স্থানে এসে কাঁদতে থাকল। এই আয়াত সে কখনোই শেষ করতে পারত না।
এরপর জীবন থেকে আরও কিছু মাস পেরিয়ে গেল। তখন রমজান চলছিল। হঠাৎ একদিন আমি আহমদের পিতার ফোন পেলাম। তিনি বললেন, 'দয়া করে দ্রুত বাসায় আসুন।'
আমি তাড়াতাড়ি আহমদের বাসায় পৌঁছালাম।তার পিতা দেখা মাত্রই আমাকে জড়িয়ে ধরে পাগলের মত কাঁদতে লাগল। আমি তখনো বুঝতে পারছিলাম না কি হয়েছে। তিনি বললেন, 'আপনার প্রিয় বন্ধু আহমদ আপনাকে সালাম জানিয়েছে আর গতরাতে সে তার রবের কাছে ফিরে গিয়েছে।'
আমি বুঝতে পারছিলাম না কার জন্য কাঁদবো। আহমদ নাকি তার পিতা!
কিছুক্ষণ পর আমার সামনে আহমদের সাদা কাফনে মোড়ানো দেহ আনা হলো। তার মুখ ঢেকে রাখা ছিল।
আমি মুখের উপর থেকে কাপড় সরিয়ে দেয়ার সাথে সাথেই তার চেহারার নুর আমাকে বিস্মিত করল। এটা যেন জান্নাতী মানুষের চেহারা, এটা যেন প্রশান্তিময় জীবনের সূচনার চিহ্ন, এটা যেন নুরানী পবিত্রতার উজ্জ্বলতা। আমি তার জন্য দোয়া করলাম আর তার কপালে চুম্বন করলাম। আল্লাহ তাকে জান্নাতবাসী করুক। আমিন।
এরপর তার পিতাকে জিজ্ঞেস করলাম, 'ঘটনা কি বলুন তো?'
তিনি বলেন, 'সে অনেকদিন ধরেই কোনো সমস্যার মধ্য দিয়ে যাচ্ছিল। কিন্তু আমাদের কাউকে তা জানায়নি। আজকে আমরা একত্রে আসর আদায় করেছি। আমি তাকে বললাম, বাবা! আজকে আমাদের সাথে ইফতার করবে চলো।'
কিন্তু সে বললো, 'আমার আজকে মসজিদে আরো কিছুক্ষণ থাকতে ইচ্ছে করছে। আমি একটু অন্যরকম অনুভব করছি।'
'তাই আমি তাকে ছেড়ে আসলাম। ইফতারের সময় তাকে আসতে না দেখে আমার ছোট ছেলেকে দিয়ে ডাকতে পাঠালাম। সে কাঁদতে কাঁদতে ফিরে এসে বললো, 'বাবা! বাবা! আহমদ কথা বলছে না।'
'আমি দৌড়ে মসজিদে গেলাম আর তাকে মিম্বারের সিড়ির উপর পরে থাকতে দেখলাম। যেমনটা সে সবসময় করে। তখনো তার শ্বাস-প্রশ্বাস কিছুটা বাকি ছিল। আমি তার হাত থেকে কুরআন টা নিয়ে সরিয়ে রাখলাম।'
'সে আমাকে কিছু বলতে চাচ্ছিল বলে মনে হলো, তাই আমি তার দিকে এগিয়ে কান বাড়িয়ে দিলাম। সে ধীর আওয়াজে বললো, 'শাইখকে আমার সালাম দিও, শাইখকে আমার সালাম দিও।' এজন্য আমি আপনাকে এই আমানত পৌঁছাতে ফোন করেছি।
কিন্তু শাইখ আরেকটা কথা। সে আমার কোলের উপর ছিল। আমরা এম্বুলেন্স ফোন করেছি। তার প্রশ্বাস ক্রমশই বন্ধ হয়ে আসছিল। কিন্তু এমন সময় হঠাৎ করেই তার কণ্ঠস্বর পুরোপুরি পরিবর্তন হয়ে গেল। একটা সুস্থ মানুষের মত করে স্পষ্টভাবে সুরলিত কন্ঠে সে কুরআন তিলাওয়াত করতে লাগল,
وَٱلَّذِينَ لَا يَدْعُونَ مَعَ ٱللَّهِ إِلَٰهًا ءَاخَرَ وَلَا يَقْتُلُونَ ٱلنَّفْسَ ٱلَّتِى حَرَّمَ ٱللَّهُ إِلَّا بِٱلْحَقِّ وَلَا يَزْنُونَۚ وَمَن يَفْعَلْ ذَٰلِكَ يَلْقَ أَثَامًا، يُضَٰعَفْ لَهُ ٱلْعَذَابُ يَوْمَ ٱلْقِيَٰمَةِ وَيَخْلُدْ فِيهِۦ مُهَانًا ،إِلَّا مَن تَابَ وَءَامَنَ وَعَمِلَ عَمَلًا صَٰلِحًا فَأُو۟لَٰٓئِكَ يُبَدِّلُ ٱللَّهُ سَيِّـَٔاتِهِمْ حَسَنَٰتٍۗ وَكَانَ ٱللَّهُ غَفُورًا رَّحِيمًا
'সে এই আয়াতগুলো পুরোপুরি তিলাওয়াত করল। এমন মধুময় আওয়াজ আমি ইতিপূর্বে কখনো শুনিনি। আর এরপরেই তার আত্মা আখিরাতের দিকে ফিরে গেল।'
আহমদের পিতা জিজ্ঞেস করল, 'শাইখ! আমার ছেলের কি হয়েছিল?'
আমি আহমদকে কথা দিয়েছিলাম এটা প্রকাশ করব না। তাই বললাম, 'সে তার বন্ধুকে (ঈমান) হারিয়ে ফেলেছিল।'
~Porda
1 996
এইটুকু পবিত্রতা নিয়ে আরও কিছুসময় অতিবাহিত হলো। এতদিনে আহমদ কুরআনের হাফেজ হয়ে গেছে। সে এখন একদিন পরপর রোজা রাখে, পাঁচ ওয়াক্ত সালাতে মসজিদে উপস্থিত থাকে। বেশী বেশী দান সদকা করে। সারাক্ষণ যিকিরে মগ্ন থাকে। নিজের প্রত্যেকটা কাজকে হিসেব কষে কষে আল্লাহর ইচ্ছার মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখে। সে আর কখনোই এত বেশী খুশি হয়নি।
কিছু বছর পর ~
একদিন মদিনা থেকে একজন বড় আলিম বক্তব্য দেয়ার জন্য আসলেন। তিনি তার বক্তব্যের একপর্যায়ে একটা ঘটনা বললেন। তিনি বলেন, রাবী ইবনু খুসাইম রহিমাহুল্লাহ নামক এক নেককার তাবেয়ী ছিলেন। তিনি আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ রাদিআল্লাহু এর প্রিয় ছাত্রদের একজন। তার পরিচ্ছন্ন ব্যক্তিত্ব, নিষ্কলুষ অন্তর আর ইবাদাতের একনিষ্ঠতা দেখে ইবনু মাসউদ (রা) আফসোস করতেন আর বলতেন : "হে আবু ইয়াযিদ! যদি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তোমাকে দেখতেন, তবে অবশ্যই তোমাকে ভালোবাসতেন। আমি তোমাকে যতবার দেখেছি, আমার কোরআনে বর্ণিত বিনয়ীদের কথা মনে পড়েছে।" [সিফাতুস সাফওয়া : ২/৩৪]
একবার একদল লোক রাবী রহিমাহুল্লাহর পদস্খলনের জন্য চেষ্টা করল। তারা ১০০ দিনারের বিনিময়ে শহরের সবচাইতে সুন্দর নারীকে ভাড়া করল। আর তাকে বললো, 'তোমার রাবী ইবনু খুসাইমকে চু-ম্ব-ন করতে হবে।' সেই নারী বললো, 'একশ দিনারের বিনিময়ে সামান্য এইটুকু!'
সে রাবী রহিমাহুল্লাহর জন্য পথের একপাশে অপেক্ষা করছিল। মাগরিবের সালাত আদায় করে তিনি যখন বাড়ি ফিরছিলেন সে চুম্বনের উদ্দেশ্যে তার সামনে দাঁড়িয়ে প্রথমে নিজের রূপ প্রদর্শন করল। রাবী রহিমাহুল্লাহ চিৎকার দিয়ে বললেন, 'হায়! যদি তুমি এক ঘন্টা পর মৃত্যুবরণ কর তাহলে কালকে তোমার এই রূপের কি অবস্থা হবে? তুমি আল্লাহকে কি জবাব দিবে? তিনি তোমাকে রূপ আর সৌন্দর্য দান করেছেন আর তুমি তা হারামের পথে ব্যবহার করছ।'
নিজের মৃত্যুর কথা শুনে সেই নারী এমনভাবে প্রভাবিত হলো যে, সে কাঁদতে কাঁদতে ফিরে গেল। এরপর আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাইলো এবং আখিরাতে মনোযোগী হলো। আর রাবী রহিমাহুল্লাহর সেই নসীহতের বদৌলতে একটা সময়ে সে আবিদাতুল কুফা বা কুফার ইবদতগুজার নারীতে পরিণত হলো।
এই ঘটনা শুনে লোকেদের মাঝ থেকে একজন যুবক চিৎকার করে কেঁদে উঠে বললো, 'রা'বীয়া ইবনু খুসাইম সেই নারীকে ফিরিয়ে দিয়েছে আর আমি তার সাথে যি-না-য় লিপ্ত হয়েছি।'
'আমরা বুঝতে পারলাম এটা আহমদ ছিল। কিন্তু আমি কিভাবে জানব সে এখানে আছে! পূর্বে জানলে শাইখকে এই গল্প বলতে বারণ করতাম।'
'সময়ের আরও কিছু অংশ চলে গেল। অনেকদিন আহমদকে দেখি না। একদিন আমি একজন বড় আলিমের সাক্ষাত লাভ করলাম। তিনি আগের সবার থেকে বেশী প্রজ্ঞাবান এবং অধিক ইলমের অধিকারী ছিলেন। আমি ভাবলাম এই শাইখকেও আহমদের ব্যাপারটা জানিয়ে দেখি। যদি এবার অন্তত সেই অসহায় যুবকের জন্য একটা সমাধান পাওয়া যায়।'
সেই আলিম সমস্ত ঘটনা শুনে আমাকে বললেন, 'শাইখ! এর জন্য তো কুরআনে কত সুন্দর একটা আয়াত রয়েছে। আপনি তার কাছে যান আর তাকে বলুন।'
'কোন আয়াত টা?'
'আপনার কি সূরা ফুরকানের সেই আয়াতের কথা মনে নেই? যেখানে আল্লাহ বলেছেন,
وَٱلَّذِينَ لَا يَدْعُونَ مَعَ ٱللَّهِ إِلَٰهًا ءَاخَرَ وَلَا يَقْتُلُونَ ٱلنَّفْسَ ٱلَّتِى حَرَّمَ ٱللَّهُ إِلَّا بِٱلْحَقِّ وَلَا يَزْنُونَۚ وَمَن يَفْعَلْ ذَٰلِكَ يَلْقَ أَثَامًا،
يُضَٰعَفْ لَهُ ٱلْعَذَابُ يَوْمَ ٱلْقِيَٰمَةِ وَيَخْلُدْ فِيهِۦ مُهَانًا،
إِلَّا مَن تَابَ وَءَامَنَ وَعَمِلَ عَمَلًا صَٰلِحًا فَأُو۟لَٰٓئِكَ يُبَدِّلُ ٱللَّهُ سَيِّـَٔاتِهِمْ حَسَنَٰتٍۗ وَكَانَ ٱللَّهُ غَفُورًا رَّحِيمًا،
"আর যারা আল্লাহর সাথে অন্য ই-লাহকে ডাকে না এবং যারা আল্লাহ যে নাফসকে হ/ত্যা করা নিষেধ করেছেন যথার্থ কারণ ছাড়া তাকে হ/ত্যা করে না। আর যারা ব্যভিচার করে না। আর যে তা করবে সে আযাবপ্রাপ্ত হবে।"
"কিয়ামতের দিন তার আযাব বর্ধিত করা হবে এবং সেখানে সে অপমানিত অবস্থায় স্থায়ী হবে।"
"তবে যে তাওবা করে, ঈমান আনে এবং সৎকর্ম করে। পরিণামে আল্লাহ তাদের পাপগুলোকে পূণ্য দ্বারা পরিবর্তন করে দেবেন। আল্লাহ অতীব ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।" [সূরা ফুরকান, ২৫ : ৬৮-৭০]
'আমি এটা শুনে খুশিতে পাগলের মত হয়ে গেলাম।আমার আর তর সইছে না। কতক্ষণে আহমদকে এই বিষয়ে জানাবো। এটা এখন পর্যন্ত আমার শোনা শ্রেষ্ঠ সমাধান। কেন এতদিন এটা আমার মনে ছিল না!'
'আমি সাথে সাথেই মসজিদে গেলাম। আর দেখলাম, আহমদ প্রতিদিনের মত মিম্বারের সামনে নত মস্তকে প্রার্থনারত। তাকে দেখে আমি নিজেকে আর সামলে রাখতে পারলাম না। তাকে ডাকলাম, 'আহমদ, আহমদ' এর পর আর কিছু না বলেই নিজের হৃদয়ের সবটুকু ভালোবাসা আর আবেগ দিয়ে সূরের সর্বোত্র সুন্দর তরঙ্গে সেই আয়াতগুলো তিলাওয়াত করলাম।
1 996
قُلْ يَٰعِبَادِىَ ٱلَّذِينَ أَسْرَفُوا۟ عَلَىٰٓ أَنفُسِهِمْ لَا تَقْنَطُوا۟ مِن رَّحْمَةِ ٱللَّهِۚ إِنَّ ٱللَّهَ يَغْفِرُ ٱلذُّنُوبَ جَمِيعًاۚ إِنَّهُۥ هُوَ ٱلْغَفُورُ ٱلرَّحِيمُ
বল, ‘হে আমার বান্দাগণ, যারা নিজেদের উপর বাড়াবাড়ি করেছ তোমরা আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হয়ো না। অবশ্যই আল্লাহ সকল পাপ ক্ষমা করে দেবেন। নিশ্চয় তিনি ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু’।
[সূরা আয যুমার, ৩৯ : ৫৩]
কিন্তু এটা শোনার পরেও আহমদের অনুশোচনা কমলো না। সে বললো, 'এটা সত্য যে আল্লাহ সকলকে ক্ষমা করেন। কিন্তু আমাকে ক্ষমা করবেন না। আমি ক্ষমার যোগ্য না। আমার চারপাশে আলিমদের অভাব ছিল না। আমি এমন স্থানে জন্মেছি যেটা ইসলামের মূল কেন্দ্র। যেখানে আল্লাহর ঘর আছে, যেখানে রাসুলুল্লাহ ﷺ শুয়ে আছেন। আমি বিবাহিত। আমার সন্তানও আছে। আমি জানি কোনটা হালাল আর কোনটা হারাম।তারপরেও আমি এটা করেছি। আমি ক্ষমার যোগ্য না।'
শাইখ বলেন, 'এরপর আমার ফ্লাইটের সময় হয়ে গিয়েছিল। তাই আমি চলে আসি। আর আসার সময় তার নাম্বার নিয়ে এসেছিলাম। আমি ভেবেছিলাম, এরকম অনেককেই তো দেখেছি। দুই এক সপ্তাহ পর সে এমনিতেই ঠিক হয়ে যাবে।' কিন্তু প্রায় এক মাস পর আমি তার ফোন পেলাম। সে বললো, 'আমি আপনার সাথে মসজিদে দেখা করতে চাই।'
'আহমদ যখন আমার কাছে আসলো তার মধ্যে বেশ পরিবর্তন লক্ষ্য করলাম। আগের মত আর কান্নাকাটি করছিল না, চেহারায় কোনো বিষণ্ণতা ছিল না। কিন্তু তার মধ্যে একটা ভ-য়ং-কর ব্যাপার ছিল। আমি তার চেহারার দিকে তাকালাম। মনে হলো, সে পুরোপুরিভাবে শূন্য।'
আমাকে আরও আশ্চর্য করে দিয়ে সে বললো, 'শাইখ আমি আপনাকে হ্যালো বলার জন্যে কল দেইনি। আমি আপনাকে বিদায় জানাতে এসেছি।'
আমি বললাম, 'কেন? তুমি কোথায় যাচ্ছ?'
সে বললো, 'আমি নিজেকে সৌদি সরকারের নিকট সোপর্দ করে দেবো। যাতে তারা আমার অপরাধের জন্য আমাকে পা/থ/র নিক্ষেপের শাস্তি দেয়।'
'তার কথা শুনে আমি চমকে উঠলাম। রীতিমতো ভ-য় পেয়ে গেলাম। তাকে আটকাতে চেষ্টা করলাম। তাকে বললাম, তুমি কি পাগল হয়ে গিয়েছ? তোমার সন্তান আছে, স্ত্রী, পরিবার আছে। আর আল্লাহ তায়ালা তো কাউকে স্বেচ্ছায় নিজেকে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিতে বলেন নি। আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাও। এর থেকে মুক্তির আরও অনেক পথ খোলা আছে। আল্লাহ অসীম ক্ষমাশীল।'
আহমদ বললো, 'আমার স্ত্রী এবং সন্তান আমাকে আল্লাহর শাস্তি থেকে বাঁচাতে পারবে না। আমি শাস্তির যোগ্য। আমাকে যেতে দিন।। আমি শুধু আপনাকে ধন্যবান জানাতে এসেছি। জাঝাকাল্লাহ! আপনি আমাকে সাহায্য করতে যথেষ্ট চেষ্টা করেছেন।'
'আমি কি করব বুঝতে পারছিলাম না। এটা ওটা বলে বোঝাতে চেষ্টা করছিলাম। কিন্তু তারপরেও সে বুঝতে চাইছিল না। এরপর তার চলে যাবার মুহুর্তে আমি বললাম - আহমদ! শোনো, চলো আমরা এমন একজন আলিমের কাছে যাই যাকে তুমি এবং আমি দুজনেই সম্মান করি এবং যার উপর আমাদের আস্থা আছে। আমরা তাকে তোমার ঘটনা বলবো। তিনি যদি তোমাকে মৃ-ত্যু-র মুখে যাবার ব্যাপারে সম্মতি দেন, তাহলে আমি নিজেই তোমাকে নিয়ে যাবো। আমি তার কাছে এই ব্যাপারে অঙ্গীকার নিলাম। কেননা তার পালিয়ে যাবার সম্ভাবনা ছিল।'
এরপর আমরা সেই বড় আলিমের কাছে গেলাম। আর তিনি আমাদেরকে বললেন, 'তার জন্য নিজেকে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেওয়া বৈধ নয়।' কিন্তু আহমদ এতে সন্তুষ্ট হয় নি। সে ফিরে আসার পর বারবার সেই আলিমকে ফোন দিয়ে বলতে লাগল, 'শাইখ! আপনি আমাকে যা বলেছেন তার ব্যাপারে আল্লাহকে ভয় করুন ওয়াল্লাহি! কেয়ামতের দিন আমি আল্লাহকে বলবো, আমি নিজেকে শা-স্তি-র জন্য সরকারের কাছে দিতে চেয়েছিলাম, কিন্তু এই আলিম আমাকে যেতে দেন নি।' শাইখ আশ্চর্য হয়ে বললেন, 'আমি তো ইলমের বাইরে কিছুই বলিনি।'
এর কিছুদিন পর আহমদ আবার আমাকে ফোন দিল।সে বললো, 'আমি আপনার সাথে মসজিদে দেখা করতে চাই'।
আমি বললাম, 'এবার কি হয়ছে?'
সে বললো, 'আমি হজ্জে যেতে চাই।'
আমি খুশি হয়ে বললাম, 'চলো তাহলে একসাথে যাই।'
কিন্তু সে না করে দিয়ে বললো, 'না না! আমি একাই যাবো।'
আমি ভাবলাম সে হয় নিজের কোনো পছন্দের গ্রুপের সাথে যাবে।
আমরা দু'জনে আলাদা আলাদা হজ্জ্ব গেলাম। হঠাৎ শয়-তানকে পাথর নিক্ষেপের স্থানে দূর থেকে তাকে দেখতে পেলাম। দেখা মাত্রই আমি 'আহমদ, আহমদ' বলে ডাকলাম। কিন্তু সে আমাকে দেখা মাত্রই দৌড়ে পালাল।
হজ্জ শেষে আমাদের দেখা হলে তাকে জিজ্ঞেস করলাম, 'আমাকে দেখে পালিয়ে গেলে কেন?'
সে বলল, 'শাইখ! কেন আপনি আমার সাথে দেখা করবেন? আপনারা পবিত্র মানুষ। কেন আমার মত অপবিত্র মানুষকে সঙ্গী বানিয়ে নিজের হজ্জ নষ্ট করবেন। আমি তো তখন ইস্তেগফারে ব্যস্ত ছিলাম। আপনি এখনও কেন আমার সাথে দেখা করছেন? আমাকে একলা ছেড়ে দিন...!'
সে আরেকটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে বললো, 'কিছুসময় আমি সকল হাজিদের দিকে তাকিয়ে ভাবি, তারা সকলেই কত পবিত্র। আর এই নুরানী কাফেলায় আমার মত নিকৃষ্ট সত্ত্বাও আছে। আমার জন্যেই হয়ত আজ কারও হজ্জ কবুল হবে না। কিন্তু আবার কখনো মনে হয়, যদি এই পবিত্র মানুষগুলোর সাথে থাকার কারণে আমিও ক্ষমা পেয়ে যাই।'
1 996
'তাদের সাথে পা-পে-র নতুন এক জগতে প্রবেশ করলাম। তারা নারীদের সাথে মেলামেশা করছিলো, ম-দ পান করছিল, গানের তালে নিজেকে ভাসিয়ে দিচ্ছিল। আমি শুধু বসে বসে দেখছিলাম। কিন্তু ধীরে ধীরে আমার ভেতরের উত্তেজনাও প্রবল হতে লাগল, কা-ম-না-রা সীমা ছাড়িয়ে যেতে লাগল। এর প্রভাবে যেটা এতদিন আমার কাছে বড় পাপ মনে হত, এখন তা ক্ষুদ্র মনে হতে লাগল। যা এতদিন নিকৃষ্ট মনে হত, এখন সেটা স্বাভাবিক হয়ে গেল। একটা সময়ে আমি পাপের প্রতি পুরোপুরি অনুভূতিশূন্য হয়ে পড়লাম। দিন-রাত আমাকে নিয়ে তার আপন গতিতে ছুটছিল। কিন্তু ওয়াল্লাহি! আমি তখনো মদ স্পর্শ করিনি। আমার চারপাশে জু-য়ার আসর বসেছিল, আমি জু-য়া খেলিনি।'
'এরপর আমাদের মাঝে কিছু না-রী-র আগমন ঘটল। আমার বন্ধুরা তাদের সাথে দুষ্টুমি শুরু করল। তারাও এতে সায় দিচ্ছিল। আমিও তাদের সাথে যোগ দিলাম। আমাকেও তারা প্রতিউত্তর করছিল। আমার বন্ধুরা সেই নারীদের সাথে রাত্রি যাপন করছিল। আর হাস্যোজ্জ্বল চেহারায় ফিরে আসছিল। আমি দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে তাদের এই অপ-কর্মের দৃশ্য দেখছিলাম।'
'একদিন আমার পাশে এক সুন্দরী নারী এসে বসলো। দেখার সাথেই তার চেহারার প্রতি আমি আকৃষ্ট হয়ে গেলাম। তার সাথে কথাবার্তা শুরু করলাম। কিন্তু একপর্যায়ে আমার নফস তার কা-ম-না-র পূর্ণতা চাইতে লাগল।'
একটা বিষয় জানা দরকার। মানুষের মস্তিষ্কের ভালো-মন্দ নির্বাচনকারী অংশকে প্রি ফ্রন্টাল কর্টেক্স বলা হয়। কিন্তু কোনো কারণে যদি এটা ব্লক হয়ে যায় তাহলে মানুষ সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের সক্ষমতা হারিয়ে ফেলে। তখন সে নিজের আবেগ আর অনুভূতির মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নেয়। আর বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণিত যে, মানুষের কাম উত্তেজনা বৃদ্ধি পেলে তার প্রি ফ্রন্টাল কর্টেক্স ব্লক হয়ে যায়।
আহমদ বললো, 'আমার প্রিফ্রন্টাল কর্টেক্স ব্লক হয়ে নফসের কামনাগুলো আমাকে নিয়ন্ত্রণ করতে লাগল। সেই মুহুর্তে আমার সাথে কি হচ্ছিল আমি কিছুই বুঝতে পারছিলাম না। একপর্যায়ে আমি আর সেই নারী একটা ঘরে প্রবেশ করলাম।'
কিন্তু রাসুলুল্লাহ ﷺ যেমন বলেছেন,
"কোনো পুরুষ একজন মহিলার সাথে নির্জনের মিলিত হলে তাদের তৃতীয় সঙ্গী হয় শয়-তান।" [সহিহ বুখারী : ৩০০৬]
'শয়-তান আমাদের দু'জনকে একলা পেয়ে উত্তেজিত করতে থাকল। এভাবে আমরা পরস্পরের প্রতি পুরোপুরি আসক্ত হয়ে আল্লাহর সীমারেখা ভেঙ্গে নিজের উপর জাহান্নাম অবধারিত করার মাধ্যমে নিজের বাসনার পূর্ণতা দিলাম।'
'কিন্তু কাম-নার সাময়িক সুখ শেষ হবার পর যখন উত্তেজনা প্রশমিত হলো আর ঈমান ফিরে আসলো, আমার ভেতরে অনুশোচনা আর অপরাধবোধ প্রবল যন্ত্রণা সৃষ্টি করল। পায়ের তলার মাটি সরে গিয়ে নিজেকে অসহায় অবস্থায় পেলাম। মনে হচ্ছিল, আমি মাটিতে পড়ে যাবো। নিজের প্রতি এত বেশী ঘৃ-ণা হচ্ছিল যে মনে হতে লাগল, 'আমি যদি কখনো দুনিয়াতেই না আসতাম'।
নিজেই নিজেকে বলতে লাগলাম, 'এটা আমি কি করলাম? আমার পরিবারের কি হবে? আমার স্ত্রী-সন্তানের কি হবে? আমার আখিরাতের কি হবে? আল্লাহ সুবহানাহু ওয়াতাআ'লা আমাকে এর জন্য কখনোই ক্ষমা করবেন না। আমি কিভাবে এই পৃথিবীতে বেঁচে থাকব?'
'আমি চিৎকার করতে করতে ঘর থেকে বেরিয়ে আসলাম। সেই হোটেলের দরজায় এসে দেখলাম আমাদের একজন সঙ্গী। সে মূলত একজন অ-বৈ-ধ নারী ব্যবসায়ী। অর্থের নিনিময়ে সে নারী এনে দিত। আর তার এই ব্যবসার আমি একটা ক্রেতা ছিলাম। হায়! সে যদি শুধু আমার অর্থ নিয়ে নিত। সে যদি আমাকে জানাত যে আমার সাথে কি করতে চাচ্ছে। কিন্তু আমিতো যি-নার মত কবীরা গুনাহ করে ফেলেছি। এখন আমি কি করব?'
সেই লোকটি আমার পাশে দাঁড়িয়ে ছিল। আমাকে দেখে বললো, 'কি সমস্যা?'
আমি বললাম, 'আমি তো যি-না করে ফেলেছি। তুমি কি জানো এর পরিণতি কি?'
আমার দিকে ম-দের বোতল বাড়িয়ে ধরে সে বললো, 'কোনো ব্যাপার নাহ। এটা একটু চেখে দেখো। তাহলেই সব সমস্যা দূর হয়ে যাবে।'
আহমদ বললো, 'এতক্ষণ তো আমি জান্নাতের স্ত্রী পাওয়ার অযোগ্য হয়েছিলাম, এখন তুমি আমাকে জান্নাতের শরাব পান করা থেকেও বঞ্চিত করতে চাচ্ছ?'
সে শয়-তানের সুরে তাকে বললো, 'আল্লাহ তো দয়ালু ক্ষমাশীল। চিন্তা কর না।'
সে ভুলে গিয়েছিল আল্লাহ তায়ালা কঠিন শা-স্তিদাতা।সে ভুলে গিয়েছিল জাহান্নাম কতটা ভ-য়া-ব-হ। সত্তর হাজার ফেরেশতা দিয়ে যাকে সামলে রাখতে হয় তার ভেতরটা কত বেশী ভ-য়া-ন-ক।
আহমদ বললো, 'এরপর আমি ধা-ক্কা দিয়ে তাকে দূরে ঠেলে দিয়ে হোটেল থেকে বেরিয়ে আসলাম। কিন্তু কোথায় যাবো তা জানা ছিল না। গৃহহারা ব্যক্তির মত রাস্তায় রাস্তায় ঘুরতে লাগলাম। তারপর থেকে আর কিছু খেতে পাচ্ছি না, ঘুমাতে পাচ্ছি না। শুধু কান্না আসছে। নিজেকে একটা আবর্জনার স্তুপ মনে হচ্ছে। আমি এই জগতে থাকার যোগ্যই না। আমি পৃথিবীর সবচাইতে নি-কৃ-ষ্ট মানুষে পরিণত হয়েছি। আমি আল্লাহর ক্ষমারও যোগ্য না।'
শাইখ তার দিকে তাকালেন। তিনি বলেন, 'আমি বুঝতে পারছিলাম না তাকে এখন কি বলবো? আমি কেবল এইসময়ে ক্ষমার বিষয়ে শ্রেষ্ঠ আয়াতের কথা মনে করতে পারলাম। এরপর তা তিলাওয়াত করলাম,
1 996
এক আরব শাইখের জীবনের সত্য ঘটনা। সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে তার বাড়ি। একবার তিনি নিজ প্রয়োজনে সৌদির পাশের কোন এক দেশে গিয়েছিলেন।
প-শ্চি-মা সংস্কৃতির অনুকরণে অবৈধ আমোদ ফূর্তির জন্য সেখানে স্বতন্ত্র ব্যবস্থা করা হয়েছিল। রাত্রিবেলায় শহরের হোটেলগুলোতে নারী-পুরুষের অবৈধ মেলামেশা, ম-দ্য-পান আর গানবাজনার মেলা বসত।
শাইখ বলেন, 'আমি নিজের কাজ শেষে রাত্রিযাপনের জন্য একটা ঘর খুঁজছিলাম। না জেনেই এরকম অ-শ্লী-ল-তা-পূর্ণ একটা হোটেলে প্রবেশ করলাম।ওখানে যা দেখেছি, সেই নি-কৃ-ষ্ট চিত্র আমার জীবনে আর দেখিনি।
আমাকে দেখেই এক ভদ্র মুসলমান কর্মচারী দৌড়ে আসল। সে বললো, 'শাইখ! এই যায়গা আপনার জন্য না। দয়া করে এখানে প্রবেশ করবেন না।'
'হোটেল থেকে বেরিয়ে রাস্তায় হাঁটতে শুরু করলাম।সারাদিনের ছোটাছুটিতে শরীর বেশ ক্লান্ত হয়ে পড়েছিল। কোথায় যাবো কিছু বুঝতে পারছিলাম না।কিছুদূর হেঁটে একটা পার্ক দেখতে পেলাম। সামনে চলার মতন শক্তি অবশিষ্ট ছিল না। তাই পার্কের বেঞ্চের উপরেই শুয়ে পড়লাম।'
'যোহরের পর আমার ফ্লাইট ছিল। তাই ফজরের সময় ঘুম থেকে উঠে একটা ট্যাক্সি নিয়ে সোজা এয়ারপোর্টে চলে আসলাম। ভেতরে একপাশে নামাজঘর দেখে সেখানে গিয়ে ফজর আদায় করলাম। এরপর ক্লান্তি কাটাতে আবারও সেখানে ঘুমিয়ে পড়ি। একঘন্টা পর একটা কান্নার আওয়াজে আমার ঘুম ভাঙল। চোখ খুলে দেখলাম, একটা ২৫-২৬ বছর বয়সী যুবক। নামাজে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে কাঁদছিল। এরকম কান্নাভরা আবেগী নামাজ আমি আগেও দেখেছি, তাই বেশি কিছু না ভেবে আবার চোখ বন্ধ করলাম। যোহর পর্যন্ত বিশ্রামের পর যখন চোখ খুললাম, দেখলাম সেই যুবক তখনো সালাতে দাঁড়িয়ে কেঁদেই যাচ্ছে।
কিছুক্ষণ পর আমাকে উঠতে দেখে ছেলেটা আমার কাছে আসলো। দেখে মনে হচ্ছিল, সে অনেক বেশী ক্লান্ত, ক্ষুধার্ত আর দু'তিনদিন ধরে হয়ত ঘুমায় নি। আমাকে অবাক করে দিয়ে সে বললো, 'শাইখ! আপনি কি ঘুমোতে পারেন?'
আমি বললাম, 'হ্যাঁ! পারি।'
সে বললো, 'আমি ঘুমোতে পারছি না শাইখ! তিনরাত তিনদিন ধরে পাগলের মত এদিক ওদিক ছুটে বেড়াচ্ছি। কিছু খেতে পাচ্ছি না, ঘুমোতে পাচ্ছি না, জীবন উপভোগ করতে পাচ্ছি না। ঘরে আর ফিরতে চাই না।'
এদিকে যোহরের সালাতের সময় হয়ে এসেছিল। তাকে বললাম, 'আমরা যোহরের পর কথা বলবো'। এরপর আমরা দুজনে যোহর আদায় করলাম। সেখানে আর কেউই ছিল না।
এরপর তাকে জিজ্ঞেস করলাম, 'কি হয়েছে বলো?' সে বললো, 'আমি আহমদ (ছদ্মনাম)। আমি বিবাহিত।আমার সন্তানও আছে। আমি অনেক বিত্তশালী এবং দ্বীনদার পরিবারের সন্তান। আমরা সবাই উদ্যোক্তা। আমাদের কারও কাজ করার প্রয়োজন হয় না কেননা আমাদের ইনকাম যথেষ্ট। আমাদের কাছে সবকিছুই আছে। কর্মচারী, চাকর-বাকর, দামী গাড়ি, ভালো খাবার ,যা কিছু আপনি ভাবতে পারেন - তার সব আমাদের আছে।'
'কিন্তু একটা সময় আমি নিজের এই আয়েশের জীবন নিয়ে অতিষ্ঠ হয়ে পড়লাম। আমার মনে হলো, মানুষের জীবনে কি আর কিছুই নেই? আমার আরও কিছু ট্রাই করা উচিত। আমার সব আছে, কিন্তু আমি নতুন কিছু ট্রাই করতে চাই।'
আমার ভাইয়েরা, এটা মূলত শয়-তানের একটা প্ররোচনা। সে এরকম অবস্থায় মানুষকে এসে বলতে থাকে, 'কেন তুমি নিজের স্বাভাবিক জীবন থেকে একটু বের হয়ে পৃথিবীটা দেখো না?' স্বাভাবিক জীবন থেকে বেরিয়ে আলাদা সময় অতিবাহিত করায় খারাপ কিছু নেই। কিন্তু এরপরেই শয়-তান এসে বলে, 'কেন তুমি এমন কিছু করছ না যেটা কখনোই কর নি? ইসলাম বলেছে, এটা হালাল ওটা হারাম। তুমি তো এতদিন হালালের সীমারেখার মাঝেই থেকেছ, তাই হয়ত জীবনটা তেতো হয়ে গিয়েছে। একটু হারাম ট্রাই করে দেখ না কেন?'
'বড় কিছু না হউক একটু ছোটখাটো পাপ করে দেখো কেমন লাগে। তোমার চারপাশে কত ছেলে-মেয়ে একসাথে সময় কাটাচ্ছে। ঘুরতে যাচ্ছে, জীবনকে নিজেদের মত করে উপভোগ করছে, তুমিও তাদের মত একটু করে দেখো না? অত বেশী গভীরে যাবার দরকার নেই, তবে সামান্য হাসি মজা তো করাই যায়। আর যা পাপ হবে তার জন্য ওমরাহ করে নেবে, তাহলেই সব মুছে যাবে।'
আহমদ বলল, 'শয়-তানের এই প্রতারণার ফাঁদে আমি পা দিয়ে ফেললাম। আমার নতুন কিছু করার দৃঢ় ইচ্ছা জাগল। কিন্তু আমি তো পরিবারের সাথে থাকি। সবার সামনে নিজের ইচ্ছা পূরণের সুযোগ হবে না। তাই এমন কোনো স্থানে যাবার পরিকল্পনা করলাম, যেখানে আমাকে কেউ দেখবে না, কেউ বাধা দিবে না। এভাবে পরিকল্পনা অনুযায়ী ব্যবসার কথা বলে ঘর থেকে বের হলাম। আর এই দেশে আসলাম যেটা আমরা কথা বলছি।'
'শাইখ! আমি বড় কিছু করার কথা কখনো কল্পনাও করিনি। চেয়েছিলাম ছোটখাটো দু'একটা পাপ করে সাথে সাথেই আবার তাওবা করে নেব। কিভাবে শুরু করব তা বুঝে ওঠার আগেই একদল উ-ন্মা-দ-দের সাথে আমার সাক্ষাত হলো। এতদিন শুধু দূর থেকেই তাদের আনন্দ-উল্লাস দেখতাম। আজ সেই উল্লাস আরও কাছ থেকে দেখার ইচ্ছা জাগল। তাই তাদেরকেই নিজের সঙ্গী বানালাম।'
1 996
নেওয়া উচিৎ বলে মনে করি।স্কোপোলামিন ভিক্টিমের সংখ্যা দিনিদিন বেড়েই চলছে।তাই সময় থাকতেই সবাই সাবধান হই।বলা তো যায়না...নেক্সট ভিক্টিম হয়তো আপনিই!
লিখা: আতিক ফয়সাল
29 Hatman House
1 996
𝘿𝙚𝙫𝙞𝙡'𝙨 𝘽𝙧𝙚𝙖𝙩𝙝: 𝙒𝙤𝙧𝙡𝙙’𝙨 𝙎𝙘𝙖𝙧𝙞𝙚𝙨𝙩 𝙏𝙝𝙞𝙣𝙜𝙨❓
আচ্ছা ধরেন আপনার কাছে একজন অপরিচিত মানুষ এসে একটা কাগজ দিয়ে বললো, এই জায়গাটা কোথায় একটু বলে দেন। আপনি কাগজটা খুব মনোযোগ দিয়ে পড়লেন। এরপর হলো কি, ওই অপরিচিত মানুষটা আপনার কাছে খুব স্বাভাবিকভাবে আপনার টাকা,মোবাইল,জুয়েলারি চাইলো আর আপনিও খুব স্বাভাবিক ভাবেই তার কথা মতো সবকিছু দিয়ে দিলেন..যেন সে আপনার খুব পরিচিত!
ভাবছেন এও সম্ভব নাকি!?সত্যি বলতে খুব সম্ভব!এমনটাই হচ্ছে এখন আমাদের দেশে!এর পেছনের রহস্য কি?ব্ল্যাক ম্যাজিক?নাকি হিপনোটিজম?নাকি অন্যকিছু? এটাই আলোচনা করবো আজকে। দীর্ঘ লেখার জন্য শুরুতেই ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি।
সম্প্রতি এক গ্রুপে একজন ব্যাখ্যা চেয়ে একটি ঘটনা শেয়ার করেন। যেটার সারমর্ম হলো বহদ্দারহাট নামক এক জায়গায় মা মেয়ে যে রিকশায় উঠেন সেই রিকশাওয়ালা তাদেরকে একটি ঔষধের নাম লেখা কাগজ পড়তে দেয়, তার কিছুক্ষণ পরেই রিকশাওলার কথামত তারা সবকিছু করতে থাকে।মা মেয়ে মিলে তাদের সব গয়না রিকশাওয়ালার হাতে দিয়ে দেয় খুব স্বাভাবিক ভঙ্গিতেই! যেন ওগুলো দিয়ে দেওয়াই উচিৎ! পরে যখন হঁশ ফিরে পেলেন তখন সব শেষ!তার চেয়েও ভয়ংকর ব্যাপার হচ্ছে সেই পোস্টের কমেন্টে অনেকেই সেইম অদ্ভুতুরে ঘটনার কথা শেয়ার করেন যেটার ভিক্টিম তাদের পরিবারের সদস্য অথবা আত্নীয়!তাহলে বুঝাই যাচ্ছে এই ভয়ংকর জিনিসটা ইতোমধ্যেই দেশের আনাচে কানাচে ছড়িয়ে পড়েছে! বিষয়টা নিয়ে ঘাটাঘাটি করতে গিয়ে যা কিছু জানতে পারলাম সেটাই আজকে আপনাদের সাথে শেয়ার করবো। 29 Hatman House
রিকশাওয়ালা সেই কাগজে যেটা ব্যবহার করেছিলো সেটা এক ধরণের ড্রাগ।যাকে বলা হয় World's Scariest Drug! যার সিক্রেট নাম হলো Devil's Breath।যেটি কলম্বিয়ায় সবচেয়ে বেশি পাওয়া যায়।একে হায়োসিনও বলা হয়। জেনেরিক নেইম Scopolamine। ১গ্রাম Scopolamine দেখতে ১গ্রাম কোকেনের মতোই। পার্থক্য হলো এই ১গ্রাম Scopolamine ১৫জন মানুষকে হত্যা করার জন্য যথেষ্ঠ! প্রতিবছর সারাবিশ্বে ৫০ হাজারের মতো মানুষ Scopolamine ড্রাগের ভিক্টিম হয়ে থাকে। অন্যান্য সব ড্রাগের মত এটিরও চিকিৎসা ক্ষেত্রে স্বল্প পরিমাণ প্রয়োগ আছে। এটার ১ মিলিগ্রাম ডোজ মূলত সী সিকনেসের(sea sickness) জন্যে ব্যবহৃত হয়।এটা দেয়া হয় কানে, তারপর সেখান থেকে স্কিনে চলে যায়।
এটি তৈরি হয় কলম্বিয়ার Borrachero নামক ফুলের বীজ থেকে।এই পাউডার ভিক্টিমের উপর কাগজ/ভিজিটিং কার্ড এর মাধ্যমে অথবা খাবারের মাধ্যমে, অথবা মুখের উপর ফু দিয়ে(যা বেশি করা হয়) অথবা হ্যান্ডশেকের সময় হাতে একটা পিন ফুটিয়ে প্রয়োগ করা হয়..এটি মূলত এর বেআইনী ব্যবহারের জন্যেই কুখ্যাত।কলম্বিয়ার একজন প্রফেশনাল Scopolamine এ্যাটাকার এর মতে এটা ৩ ধরণের কাজে তারা ব্যবহার করেঃ ১.ছিনতাই ২.রেইপ ৩.হত্যা
যেকোনো ধরণের ছোট কাগজের মধ্যে ড্রাগ মিশিয়ে কারো হাতে দিলে সেটি নিমিষেই স্কিন এর ভেতর দিয়ে প্রবাহিত হয় এবং ভিকটিমের নিজ ইচ্ছায় কিছু করার ক্ষমতা নষ্ট করে দেয়। এটি ব্রেইনের Amygdala নামক অংশকে আক্রান্ত করে।যার ফলে তার চিন্তা করার ক্ষমতা চলে যায় এবং বাহির থেকে আক্রমণ আসলে তার প্রতি যে স্বভাবগত প্রতিক্রিয়া দেখানোর কথা সেটা আর পারে না..একইসাথে ইনিশিয়াল স্টেইজ অব মেমোরি ব্লক হয়ে যাওয়ার ফলে সে এ্যাটাকারকেও ভালভাবে চিনতে পারে না..সেই ভিক্টিমের আচরণ হয়ে যায় সাবমিসিভ বা বশীভূত!তখন তাকে যে কমান্ড দেয়া হয় সে তাই মানে!!তখন তার কাছে টাকা,গয়না, ক্রেডিট কার্ডের পাসওয়ার্ড যাই চাওয়া হোক না কেন সে তাই দিয়ে দিবে!মানে অনেকটা বোধশক্তিহীন জোম্বির মত আচরণ করবে সে! 29 Hatman House
নাসা তাদের এ্যাস্ট্রোনাটদের উপর ০.৩৩ মিলিগ্রাম ইউজ করে তাদের মোশন সিকনেস কাটানোর জন্য...আর কোন সাধারণ মানুষের উপর যদি এর ৫-৭ মিলিগ্রাম ইউজ করা হয় তবে সে হয়ে যাবে কাইন্ড অফ হেল্পলেস জোম্বি!!..তাকে দিয়ে যা ইচ্ছা করানো যাবে!!আর যদি ১০ মিলিগ্রাম বা তার বেশি হয় তাহলে রেসপাইরেটরি ফেইলিউর হয়ে মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে!
বাংলাদেশেও এই ড্রাগ চলে এসেছে যেটা বিভিন্ন ঘটনা থেকে স্পষ্টভাবে প্রমাণিত।অনেক সময় এটি ড্রিংক্স কিংবা খাবারের মধ্যেও মিশিয়ে দেওয়া হয়।তাই বাসার বাইরে খাওয়ার সময় কখনোই খাবার অরক্ষিত রেখে উঠে যাবেন না।অপরিচিত কারও কাছ থেকে কিছু খাওয়ার তো প্রশ্নই আসেনা!বলা তো যায়না, কে না কে আপনাকে টার্গেট করে রেখেছে খাদ্যে ড্রাগ মিশিয়ে দেয়ার জন্যে!শুনা যায় এদেশের গোয়েন্দা সংস্থা অনেক আগে থেকেই এই ড্রাগ ইউজ করে থাকে তথ্য আদায়ের জন্য।সে যাইহোক!এ ধরণের সেন্সিটিভ ড্রাগ কিভাবে অপরাধীদের হাতে পৌঁছে গেল সেটাই আসলে চিন্তার বিষয়! 29 Hatman House
আর বিশেষ করে আমরা যারা মেডিকেল সেক্টরে আছি তাদেরকে আরও বেশি সচেতন থাকা উচিৎ বলে মনে করি।কারণ চলতে ফিরতে অনেক রুগীর স্বজন এসে আমাদেরকে প্রেসক্রিপশন দিয়ে ওষুধ কিংবা পরীক্ষার নামগুলো জানতে চান।আমি নিজেও এটা ফেস করেছি।এজন্য রাস্তাঘাটে একা চলাফেরার সময় কারও হাত থেকে প্রেসক্রিপশন না নিয়ে তার হাতে থাকা অবস্থাতেই পড়ে
1 996
রাতে বিছানায় শোয়ার পর 2 মিনিটে ঘুমিয়ে পড়ার কৌশল!
প্রথমে নাক দিয়ে চার সেকেন্ড শ্বাস নিন। তারপর সাত সেকেন্ড শ্বাসক্রিয়া আটকে রাখুন। আর আগামী ৮ সেকেন্ড মুখ দিয়ে আস্তে করে নিঃশ্বাস ত্যাগ করুন। যতক্ষণ পর্যন্ত ঘুম না আসে এভাবেই শ্বাসক্রিয়া চালান। বেশিক্ষণ না,মিনিট খানেকের মধ্যেই ঘুমিয়ে পড়বেন।
©Science Secret
1 996
১২. হট ওয়াটার ব্যাগ
কিভাবে ব্যবহার করবেন ?
এই ব্যাগের মধ্যে গরম জল ঢেলে তলপেটে সেক দিতে হবে।
কিভাবে সাহায্য করে ?
সাধারণত পিরিয়ডের সময় হয়ে এলে ব্যথা শুরু হয়, কিন্তু যাদের অনিয়মিত মাসিক হয় তাদের ক্ষেত্রে অনেকসময় ব্যথা শুরু হয় কিন্তু মাসিক শুরু হয় না। তাই তখন তারা যদি এই হট ওয়াটার ব্যাগের সেক তলপেটে দিতে থাকে , তাহলে পিরিয়ড হওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যায়।
অনিয়মিত পিরিয়ড থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য উপযোগী যোগাসন
প্রাণায়ম
এই আসন মন, শরীর, এবং আত্মাকে শান্ত করে । আপনার রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বা ইমিউনিটি সিস্টেম বৃদ্ধিতে সাহায্য করে । এছাড়া এই আসন জরায়ু সহিত শরীরের বিভিন্ন অঙ্গের কার্যকারিতার উন্নতি ঘটে এবং শ্বাসের উদ্বেগ কমাতেও সাহায্য করে।
সূর্য নমস্কার
সূর্য নমস্কার শরীরের সব অঙ্গের কার্যকারিতার উন্নতি করার পাশাপাশি মাসিক সঠিক ভাবে হতে সাহায্য করে। শ্বাস-প্রশ্বাসের উন্নতি করে।
ধনুরাসন
পলিসিস্টিক ওভারিয়ান সিনড্রোম বা অনিয়মিত পিরিয়ডের সমস্যা থাকলে ধনুরাসন সবচেয়ে উপকারী এক্ষেত্রে । পেটের চর্বি কমাতে ও পেটের অসুখের জন্য এই আসন উপযুক্ত । এটি প্রজনন অঙ্গগুলির কার্যকারিতার উন্নতি করতে সক্ষম ।
বজ্রাসন
অনিয়মিত মাসিক, বদ হজমের সমস্যা কমাতে উপযোগী এই আসন খাবার খাওয়ার পরও করা সম্ভব ।
অনিয়মিত পিরিয়ডের থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য কিছু জরুরি টিপস
প্রথমত নিজের ডায়েট ঠিক করুন। প্রচুর পরিমানে শাক সবজি খাওয়ার অভ্যেস করুন। স্যালাড খেতে শুরু করুন। প্রয়োজনে ডায়েটশিয়ানের সাহায্য নিন।
নিয়িমিত যোগব্যায়াম করার চেষ্টা করুন।
নিজেকে স্ট্রেস মুক্ত রাখুন।
অবশ্যই ডাক্তারের সঙ্গে পরামর্শ করতে ভুলবেন না এ ব্যাপারে।
এমন সব পরামর্শ অথবা ব্লগের জন্য জয়েন করুন -
https://www.facebook.com/groups/149192167228573
#konna #কন্যা #moodswing #glutatabs #satinskinz #u #bbeau #jamumoden #jerawat #breastenlargement #satinskinzroseship #moods #mentalhealth #depressionawareness #pms #manicdepression
Available now! Telegram Research 2025 — the year's key insights 
