4 079
Подписчики
-324 часа
-157 дней
-4630 дней
Архив постов
4 078
অনুযায়ী এবং এটাই অধিকাংশের মতো বাক্কা বিল্লাহ। এগুলো কি কি অবস্থা এগুলো বিস্তারিত আলাপ।
..
তো যেটা বলতে চাচ্ছি, সেটা পশ্চিমারা যেমন জ্ঞানের ডেফিনেশনকে বদলে ফেলছে, ইসলামের অংশের বিকৃত ঘটাইছে, তাসাউফকে তারা esoteric বলে থাকে, যেটা শাহ ওয়ালিউল্লাহর সংজ্ঞার বিপরীত এবং অধিকাংশ ক্ষেত্রেই আলেমদের অবস্থান। তাসাউফ সর্বোচ্চ উচ্চতর স্তরের জ্ঞান বলা যায়, তবে এটা esoteric না, বরং ইসলামের বিভিন্ন শাখার ইলমের মতো এটাও উচ্চতর একটা স্তর, যেটার নাগাল সবাই পায় না।
4 078
যতটুকু মনে পড়ে ফ্রান্সিস বেকন (Francis Bacon) হলো প্রথম ব্যাক্তি যিনি পশ্চিমাদের মধ্যে জ্ঞান (knowledge) ও ইলমের ডেফিনেশনকে সম্পূর্ণভাবে বদলে দিয়েছে। সে জ্ঞানকে উপস্থাপন করছে শক্তি (power politics) ও আধিপত্যের আসল উৎস হিসেবে। কারণ, যখন জ্ঞান তার প্রি-মডার্ন ইউনিভার্সাল ডেফিনিশন হারায়, যেটা উর্ধ্বজাগিক বা ascending nature, তখন এটা descending ফর্মের রূপ ধারণ করে। (অর্থাৎ জ্ঞানকে যদি কেউ শক্তি বা ক্ষমতার সাথে যুক্ত করে, তাহলে এটা হচ্ছে জ্ঞানের descending ফর্ম।)
অর্থাৎ রেনেসাঁর পর মানুষ যখন এবার নিজেকে খোদার আসনে বসিয়েছে, এবং খোদার অবস্থান যখন পশ্চিমা বুদ্ধিবৃত্তিক শ্রেণীর মধ্যে অনুপস্থিত বা অস্পষ্ট, তখন তারা প্রকৃতিকে আর জ্ঞানকে নতুনভাবে তুলে ধরছে শক্তি বা ক্ষমতা (power and monopoly) অর্জনের মাধ্যম হিসাবে। অর্থাৎ Knowledge এখন তার আপওয়ার্ড ডেফিনেশন থেকে ডাউন-ওয়ার্ডের দিকে ঝুঁকে পড়ছে, অর্থাৎ অধ্বঃমুখী।
বেকন নিজে ব্যাপারটা আবিষ্কার করছে এমন না, বরং বেকনের এই চিন্তাটা হলো রেনেসাঁর ফলাফল আর এর কারিগর হলো রেনেসাঁর বস্তুবাদী সময়কাল। বেকনই সর্বপ্রথম আনুষ্ঠানিকভাবে জ্ঞানকে শক্তি ও আধিপত্যের উৎস হিসেবে ঘোষণা করে, আর তারপরে পশ্চিমা লিটেরিচার আর টিভি সিরিয়াল গুলোর মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে "Knowledge Is power"
..
এতটুকু বলার কারণ হলো জ্ঞান কখনো শক্তি আধিপত্যের উৎস হিসেবে বিবেচিত করা হয় নাই ইসলামের মধ্যে। ইসলামে জ্ঞান হলো ইবাদত, এটা আল্লাহকে পাওয়ার রাস্তা, তাঁকে চেনা ও জানার উপায়। তার নিয়ামত ও প্রকৃতিতে তাঁর রেখে দেওয়া রহস্য যা তিনি রেখেছেন মুমিনদের জন্য যারা তাঁকে চিনতে ও জানতে চায়। এজন্য ইসলামে যারা যত জ্ঞানী হয়, তারা ততই লোকচক্ষুর অন্তরালে হারিয়ে যায়।
..
পশ্চিমাদের মধ্যে এই যে জ্ঞানের সংজ্ঞাই পরিবর্তন করা হয়েছে, ঠিক এরকম আরো বহুত বিষয় আছে, যেগুলো প্রি-মডার্ন ফিলোসফির মধ্যে ছিলো না। অর্থাৎ তারা মানুষের চিন্তার পুরো প্যারাডাইমকে চেঞ্জ করে ফেলছে।
..
উদাহরণস্বরূপ আমরা আখলাকের কথা ধরতে পারি। আরবী আখলাক শব্দের সাধারণ অনুবাদ করা হয়, নৈতিকতা আর আমরা নৈতিকতা বলতে বুঝে সাধারণত ভালো আচরণ ইত্যাদি। আবার ইংরেজিতে এটাকে অনুবাদ করা হয় Morality বা ethics দিয়ে। কিন্তু এর কোনোটাই কিন্তু আখলাকের পুরো মর্ম তুলে ধরে না।
..
আরবী আখলাক শব্দটা অনেক পরিব্যপ্ত, এর মধ্যে মানুষের ভেতর এবং বাহিরের জগত ইনক্লুডেড।
ইসলামী শাসনব্যবস্থার অধিকাংশ হুকুম আহকাম ইলমুল আখলাকের সাথে জড়িত, আর ইলমুল আকলাকের এই ফিকহি দিকটাকে সাধারণ বলা হয় মেজাজে শরিয়ত বুঝা। ট্যাকনিক্যালি তাফাক্কুহ ফি-দ্দীন।
..
এখন পশ্চিমারা এটাকে বিকৃত করছে নিছকই আচার-ব্যবহারের মধ্যে সীমিত করে, কারণ তাদের বেশিরভাগ ম্যাটেরিয়ালিস্টিক ডেফিনেশন নিছকই তাদের (pre-assumption)"ধারনা"। আর ইলমুল আখলাককেই বলা হয়ে থাকে ইলমে তাসাউফ। কিন্তু পশ্চিমারা এই ইলমুল আখলাক বা তাসাউফকে দেখে esoteric হিসেবে।
কারণ, তাদের "ধারনা" হিন্দু বৌদ্ধ ও খ্রিষ্টানদের মতো সম্ভবত ইসলামের মধ্যেই esoteric knowledge বলে কিছু আছে ( মূলতগতভাবে analogical similarity খোঁজার প্রবণতা ওরিয়েন্টালিস্টদের, যারা নবী- সাহাবাদের জীবনকে বিকৃত করতো)। এজন্য তারা তাসাউফকে ভাবে এমন esoteric কোনো কিছু। অথচ যদি ইলমুল আখলাক হয়, ফিকহ ও শরিয়তের ফাউন্ডেশন, মেজাজে শরিয়ত ও ইলমে শরিয়তকে ধারন করার ফাউন্ডেশন, তাহলে এখানে esoteric বলে কিছু অবশিষ্ট থাকছে না, বরং যেটাই শরিয়ত সেটাই তাসাউফ। (তবে এটা সত্য যে তাসাউফের ধারা নিজস্ব কিছু কার্যক্রম আছে, এটা ভিন্ন এবং বিস্তারিত আলাপ)
কেউ যদি ভাবে ইলমে শরিয়ত আর তাসাউফ আলাদা জিনিস, তাহলে এখানে শরিয়ত হয়ে পড়বে বস্তুবাদী শরিয়ত, কারণ ইসলামের মধ্যেই এমন distinction নাই। কিন্তু যখন মানুষকে পশ্চিমা প্রোপাগান্ডা ও তাদের ইন্টেলেকচুয়াল assumption কে প্রোপার ডেফিনেশন হিসেবে গ্রহণ করতে শুরু করলো, তখন থেকেই তাসাউফকে ইলমে শরিয়তের মেজাজের চেয়ে ভিন্ন কিছু মনে করতো শুরু করলো। ফলে এখানে শরিয়ত ইলম বস্তুবাদের ইলম ও ইনফরমেশন বেইসড নলেজের সমান হয়ে গেলো, যেখানে শরিয়তের নিছকই কিছু ফ্যাক্ট ও ইনফরমেশনকে মানুষ কনজিউম করতেছে, মাওলানারা ফ্যাক্ট বেইজড মাওলানা হচ্ছে। অর্থাৎ এখানে material knowledge=Divine knowledge সমান হয়ে গেলো।
..
কারণ কি? কারণ তারা পশ্চিমা একাডেমিকদের ইন্টেলেকচুয়াল assumptionকে বেশি সঠিক মনে করে। মানে ইসলামকে বুঝার মানদণ্ড পশ্চিমাদের একাডেমিক প্রোপাগান্ডা!!!
..
এখন বলি তাসাউফ কী? তাসাউফ হলো ইলমুল আখলাকের ভেতরের অংশ। অর্থাৎ মানুষের ভেতরের জগতের বিভিন্ন স্তরকে পরিশালিত করা। মানুষ আত্মিকতা, আধ্যাত্মিক ও রুহানি জগতের সাতটা বিভিন্ন স্তর আছে। এর সর্বোচ্চ স্তর শায়খ আহমাদ সিহি্ন্দের আলাপ অনুযায়ী ফানাফিল্লাহ যেটাকে তিনি বলছেন মুশাহাদায়ে রব। আর শাহ ওয়ালিউল্লাহ ইবনে আরাবী এবং জোনায়েদ আল বাগদাদী রহ মতামত
4 078
একটা আনন্দের বিষয় হলো গত বছর আমি ভালোভাবেই তাসাউফের আলোচনা উঠাইছি, তখন সবাই নানানভাবে আমাকে বলার চেষ্টা করছিলেন যে আমি আমায় মানহাজ থেকে সরে গেছি। কিন্তু আজকে অনেকেই তাসাউফের গুরুত্ব বুঝতে পারতেছেন। অনেকেই এটাও বুঝতেছেন যে নন-ডেমোক্রেটিক "বিপ্লবী ইসলামপন্থার পক্ষে বাংলাদেশের মুসলমানদের জন্য দীর্ঘমেয়াদি কিছু করার সম্ভাবনা নাই। তাদের অত্যন্ত অদূরদর্শি লোকজনে ভরা। তারা বন্ধুর চেয়ে বেশি শত্রু তৈরি করতে জানে।
মীর সালমান ভাইয়ের সাথে কথা হয়েছে বেশ কয়েকবার, তিনিও বুজতেছেন যে তাসাউফের গুরুত্ব এখন কতটুকু।
বিপ্লবী ইসলামপন্থার ব্যাপারে আমি বলছি যে এটা মডার্নিজমের ডানপন্থার কপি, ফলে তাদের মাধ্যমে হাইপ তৈরি হয়, কিন্তু দীর্ঘমেয়াদি কোনো ফলাফল আসবে না, কারণ একটা ম্যাটেরিয়ালিস্ট রাজনৈতিক আন্দোলনের কপি ভার্সন। এটা একটা রাজনৈতিক আন্দোলনের রিয়েকশন, কিন্তু সত্ত্বাগত পিউর আর খাঁটি ইসলামের প্রতিনিধিত্ব করে না। ইসলামের নিজস্ব গতি আছে, দাবি ও বাস্তবতা আছে, সেগুলো বাইপাস করে কোনো রিয়েকশন হিসেবে এটাকে প্রতিষ্ঠিত করা সম্ভব না। এই ব্যাপারে বিস্তারিত আলোচনা আমার পিন পোস্ট থেকে পড়ে নিতে পারবেন।
মানহাযি নন-ডাইকোটমি গুলো ফালতু, নিজেকে মানহাযি দাবি করার মধ্যে ভালো কিছু নাই, বরং এই দাবির মাধ্যমে আমি আরো বাকিদের থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেলাম। আমাদের লিবারেল সেক্যুলার মতো ছোটলোকি আচরণ করলে হবে না, বরং রাজনৈতিক আন্দোলনের ক্যাচালের বাইরে গিয়ে ইসলাহের যেই কাজ সেটা করতে হবে। যদি আপনি ইসলাহের নজরে তাকান, তাহলে আপনাকে বহুত মানুষ আপন করবে, আর যদি রাজনৈতিক আন্দোলন হিসেবে দেখেন, তাহলে ঘরের ভাইও পর হয়ে যাবে।
খালি বই বেচা বন্ধ করে দিছে, দেখে নন-ডেমোক্রেটিক ইসলামপন্থীদের ভেতরে অবস্থা প্রকাশ পেয়ে গেছে, এমন অযোগ্য লোকদের মাধ্যমে আপনারা কিভাবে আশা করেন যে ইসলামী শাসনব্যবস্থায় তাদের কোনো ভূমিকা থাকবে? আমার নিজের যোগ্যতা তো তাদের চেয়েও কম, আমি শুধু আপনাদের চিন্তা করার কথা বলতেছি। ইসলাম কোনো রাজনৈতিক আন্দোলন না, এটা মডার্নিস্ট ডান-বামের সাথে তূলনা করে, তাদের রাজনৈতিক আন্দোলন ও কর্মপন্থাকে কপি করে রাজনৈতিক বিপ্লব করার স্বপ্ন যারা দেখায়, তাদের "খাঁটি" হিসেবে দেখার কোনো সুযোগ নাই। বরং সন্দেহের চোখে দেখেন।
4 078
Repost from Meer Salman
সমাজের উপর ইসলামের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে যাওয়ার একটা কারণ বড় কারণ তাসাউফের সিলসিলাগুলোর অধঃপতন। সমালোচকদের নিন্দা করে লাভ নাই। কারণ তারা নিন্দা করবেই। আপনারা জানেন নজদি দাওয়াতে সাবস্ক্রাইব না করেও তাদের প্রতি আমার গভীর সহানুভূতি আছে তাওহীদের পক্ষে এবং বিদয়াতের বিরুদ্ধে তাদের দৃঢ় অবস্থানের কারণে। কিন্তু তাদের সুফিদের বিরুদ্ধে অযৌক্তিক সমালোচনাগুলো আমি অপছন্দ করি এবং মনে করি তাদের জাহেরি প্রবনতা, সুফিদের বক্তব্যগুলোর মূল অর্থ বুঝতে চেষ্টা না করা, সমাজ ও মানবীয় স্বভাব-চরিত্রের বাস্তবতা সম্পর্কে অনভিজ্ঞতা এবং কিছু ক্ষেত্রে অপ্রয়োজনীয় কঠোরতা তাসাউফ নামক প্রতিষ্ঠানটির ভয়াবহ ক্ষতি করেছে। এই ক্ষতি শুধু মুসলিম সমাজে ইমান, তাকওয়া এবং আখলাকের ক্ষতি নয় বরং সভ্যতাগতভাবে মুসলমানদের ক্ষতির কারণ হয়েছে। কিন্তু সমালোচক বা বিরোধীদের বিরোধিতা কখনো কারও পতন ঘটাতে পারে না বরং নিজেদের অযোগ্যতা, অদক্ষতা এবং অবক্ষয়ই যে কোন গোষ্ঠীর পতনের প্রধান কারণ। কিন্তু আমরা মানুষ প্রায়ই নিজে দায় না নিয়ে অন্যদের ঘাড়ে দোষ চাপাতে পছন্দ করি। কিন্তু এতে কাজের কাজ কিছু হয় না।
একটা সময় ছিলো যখন সুফিরা ছিলেন অত্যন্ত বিদগ্ধ পন্ডিত যারা দুনিয়া এবং আখিরাত উভয় বিষয়ে গভীর জ্ঞাণ রাখতেন। তাদের কুরআন, হাদিস, ফিকহের পাশাপাশি সমাজ, রাষ্ট্র, অর্থনীতি, সংস্কৃতি সম্পর্কে পরিচ্ছন্ন ধারণা ছিল। পাশাপাশি তারা খুবই উন্নত চরিত্র, সুদৃঢ় ব্যাক্তিত্ব এবং ক্যারিশমার অধিকারী ছিলেন। এজন্য সুফিদের জায়ান্টদের নামগুলো দেখুন। ইব্রাহিম আদহাম, ইমাম গাযযালি, শাইখ আব্দুল কাদির জিলানি, মাওলানা জালালুদ্দিন রুমি, খাজা বাকি বিল্লাহ, মুজাদ্দিদে আলফে সানি, শাহ ওয়ালিউল্লাহ, শাহ আব্দুল আযিয (রহ) প্রমুখ। কিন্তু আমাদের যুগে এমন ভালো শিক্ষিত, সামাজিক বোধবুদ্ধিসম্পন্ন, ব্যাক্তিত্বের দৃঢ়তাসম্পন্ন সুফি নেই বললেই চলে। অথচ রুহানিয়াতের আকাল বাজারে তীব্র। মানুষ পুঁজিবাদের যাতাকলে তীব্র মানসিক অশান্তিতে ভুগছে। আবুল হাসান আলী নদভী (রহ) তাঁর মুসলমানদের পতনে বিশ্ব কি হারালো পুস্তকে মূলত রুহানিয়াতের পতনকে বিশ্বের বড় ক্ষতি হিসেবে দেখিয়েছেন। দেখুন আমরা মুখে যাই বলি কেউই কিন্তু বস্তুবাদের বাহিরে চিন্তা করতে পারছে না। আমরা জাশির নিন্দা করতে পারবো মেয়েদের ভলিবল আয়োজন করায়। কিন্তু আমরা সবাই যার যার জায়গায় বস্তুবাদে আটকে গিয়েছি। এই বাস্তবতা জাশি এবং অন্যান্য ইসলামি দলগুলোর ভেতর একই। মাত্রায় কম-বেশি হতে পারে। সাদিক কাইয়্যুমকে এগুলো তাদের পরিবেশ অনুযায়ী করতে হচ্ছে। আপনি ঢাবির বাস্তবতা জানেন না। বাহির থেকে ফেসবুকে মন্তব্য করা সহজ। কিন্তু প্রায়ই সমালোচকরা বিশেষ বিশেষ জায়গার বিশেষ বিশেষ বাস্তবতা সম্পর্কে অবহিত না। আবার অন্যরা এই বাস্তবতায় নাই, অন্য বাস্তবতায় আছে। তারা সে অনুযায়ী আপোষ করছেন। কিন্তু মূল সংকট হলো রুহানিয়াতের অভাব। তায়াক্কুল মায়াল্লাহর অভাব৷ মানুষের নিজের আত্মশুদ্ধি এবং অন্যের জন্য এহসান মূলনীতির অনুপস্থিতি আমাদের সংকটকে ঘনীভূত করছে। মানুষের চারিত্রিক উন্নয়ন ও আত্মার প্রশান্তির যে চাহিদা বাজারে আছে সে অনুযায়ী যদি তাসাউফ নামক প্রতিষ্ঠানটিকে ঢেলে সাজানো যায় তবে এর অভূতপূর্ব উন্নয়ন সম্ভব এবং মুসলমানদের সভ্যতা বিনির্মানে সুফি সিলসিলাগুলো গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারবে।
আমাদের মাদ্রাসাগুলোকে খানকা বানাতে হবে। থানভী বা মাদানি রহমাতুল্লাহি আলাইহিরা কাজটা করতে চেষ্টা করেছিলেন। এর ফলও তারা পেতেছেন। তবে আরও বিস্তৃত পরিসরে কাজ করতে হবে।
আমরা আজও পশ্চিমের কলোনি। সমাজ ও রাষ্ট্রের নেতৃত্ব যারা দিবে তাদের মেয়েদের ভলিবল আয়োজন করতে হবে। এই রাষ্ট্রের প্রধানমন্ত্রী যদি তারেক রহমান না হয়ে মুহিবুল্লাহ বাবুনগরি হন তবে পরিস্থিতির রাতারাতি খুব বড় উন্নতি হয়ে যাবে তা নয়। হ্যাঁ ইসলামপন্থীরা কিছু সুযোগ সুবিধা বেশি পাবে। সেটাও বস্তুগত। হুযুররাও যে তাহাজ্জুদ পড়া বাড়িয়ে দিবে তা নয়। আমাদেরকে বাস্তবতা উপলব্ধি করতে হবে। সুতরাং এখন করনীয় কি? করনীয় হলো মানুষের সাথে ইসলাহী সম্পর্ক তৈরি করা। মানুষের সাথে ফতোয়ার মেজাজে না মিশে দরদের সাথে মেশা। একজন অভিনেতা, অভিনেত্রী বা রাজনীতিবিদের সাথে ইশক তৈরি করা। অভিনেত্রী হয়তো প্রথম দিন অভিনয় ছাড়বেন না। তিনি সালাত৷ আদায় শুরু করবেন। সাথে শায়েখের প্রতি ভক্তি ও প্রম অনুভব করবেন। এই অনুভূতি হয়তো তাদের পাপাচার থেকে বিরত রাখতে পারবে না কিন্তু তাদের রিদ্দা থেকে বাঁচাবে। একজন রাজনীতিবিদ হয়তো রাজনৈতিক বাটপারি অব্যাহত রাখবেন কিন্তু তিনি দিলের ভেতর শায়েখের ইশকও রাখবেন ফলে তিনি পাশ্চাত্যের কাফেরদের গোলামি করেও উম্মাহর সাথে একটা সুতায় কোথাও না কোথাও বাঁধা থাকবেন। হয়তো তিনি দ্বীনের উপর থাকবেন না কিন্তু তাঁর বংশধর কেউ দ্বীনের উপর আসবে। যেমন আকবরের মতো মুরতাদ, জাহাঙ্গীরের মতো ফাসিকের বংশের আওরঙ্গজেব আলমগীর (রহ) এর মতো ওলিয়ে কামেল পয়দা হয়েছেন।
4 078
রকমারি বা ওয়াফি লাইফ বই সরিয়ে ফেলেছে দেখেই আপনাদের এমন রিয়েক্টিভ আচরণটা কেমন হলো? ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান তো আর আপনাদের কারো নিজস্ব না। যাকে তাকে শত্রু বানানোর এই প্রবণতাটা বাদ দিতে হবে আপনাদের।
নিজেদের চিন্তার বাইরে সবাইকে শত্রু ভাবাটা আপনাদের একটা সাধারণ সমস্যা হয়ে গেছে ভাই। আহমাদ রফিক ভাই, আপনার স্টেটমেন্টগুলো সবচেয়ে জঘন্য হয়েছে, শুনতেই তো লজ্জা লাগে। এই ধরনের লাগাম ছাড়া কথাবার্তা শোনার পর আমার বলতে মন চাচ্ছে শক্তি ভাইয়ের তার সঙ্গ পরিবর্তন করা উচিত।
4 078
ইসরার আহমেদ রহিমাহুল্লাহ ওয়াহদাতুল উজুদ নিয়ে বয়ান করছেন, দুই ঘন্টার বয়ান, যদিও এখানে সারমর্ম উঠে আসছে।
4 078
তাযকিয়াহর বয়ানের চেয়েও আরো বেশি গুরুত্বপূর্ণ। আল্লাহর ব্যাপারে আলোচনা করা আর লাজ্জাতে খোদা পাওয়া ভিন্ন ভিন্ন দুটো জিনিস। একটা ঈমানের তাওহীদের গুরুত্ব তুলে ধরে, অন্যটা তাওহীদ ও দিদারে খোদার পথকে উন্মুক্ত করে দেয়।
4 078
মু**জাহিদ হওয়ার জন্য সুফি হওয়া শর্ত কি না এই ধরনের প্রশ্ন অনেকেই করে থাকেন। যদিও এই প্রশ্নগুলোই অমূলক, তাও কিছু বলা প্রয়োজন।
দেখেন, সাহাবাদের সময়ে উসুলুল হাদিস, উসুলুল কুরআন রিজাল শাস্ত্র সহ আরো অনেক কিছুই ছিলো যেগুলোর অস্তিত্ব ছিলো না। এমনকি ইসলামী রাষ্ট্র কাঠামোর বেশিরভাগ বিধান হানাফি ও শাফেয়ী ফুকাহাদের হাত ধরে পরবর্তীতে আসছে, এখন কেউ যদি অক্ষরবাদীদের আক্ষরিকতা খুঁজে, তাহলে উমাইয়ারা তো আছেই, উসমানি খেলাফত পর্যন্ত সবাই বাতিল গন্য হবে, কিংবা বলতে হবে তারা সকলেই জঘন্যতম বিদআতি এবং গোমরাহ।
সাহাবা এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ছিলেন horizontal এবং vertical plan এর ক্রস পয়েন্ট, অর্থাৎ তারা ছিলেন প্রিন্সিপাল, অর্থাৎ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজে ছিলেন ইনসানে কামিল, আর তাঁর দৃষ্টিতে সাহাবারা সেই কামালাতে ইনসানির দরজা অর্জন করেছিলেন, এজন্য তাদের আলাদাভাবে তাসাউফ লাগে নাই, হাদিসের সনদ যাচাইয়ের জন্য একে অপরের ব্যাপারে রিজাল শাস্ত্র গড়তে হয় নাই, বরং তারা প্রত্যেকেই রুহানিয়াতের ওই স্তরে ছিলেন, যেটা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামদের পরের স্তর।
এগুলো স্বাভাবিক আকলমন্দ সবাই বুঝে যাদের নূন্যতম চিন্তায় গভীরতা আছে।
এখন প্রশ্ন হলো তাসাউফ ও সুফি হাওয়ার মুজাহিদ হওয়ার জন্য শর্ত কি না। যারা এই ধরনের প্রশ্ন করে, তারা আসলে জানেই না, তাসাউফ কি জিনিস। তাসাউস খালি আত্মশুদ্ধির জন্য না, তাসাউফের স্তর আছে, এরমধ্যে প্রাথমিক স্তর হলো আখলাক। ব্যাপারটা এমনো না যে কেউ একজন আগে সুফি হবে, তারপর গিয়ে আলেম হবে তারপর গিয়ে জি***দ করবে— ব্যাপারটা মোটেই এমন না। বরং এই তিনটা জিনিসই চলমান থাকবে একই সাথে, কিন্তু নিশ্চিতভাবেই তৃতীয়টা সময় ও পারিপার্শ্বিক অবস্থার সাথে শর্তযুক্ত।
হাদিস বুঝার জন্য যেমন উসুল বুঝা এখন গুরুত্বপূর্ণ, কুরআন বুঝার জন্য উসুল যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি ইলম ধারণ করার জন্য এবং খালিসভাবে আল্লাহর রাস্তায় জি***দ করার জন্যেও ইলমুল আখলাক ও তাসাউফ গুরুত্বপূর্ণ। এগুলো হচ্ছে কামালাতে ইনসানি এবং তাক্বাররুবে রবের সম্পূরক। এই সম্পূরক না থাকার অর্থই হলো নফসে আম্মারাহ এবং শয়তান তার উপর বিভিন্ন নেক সুরত ও বদ সুরতে ভর করবে।
তাসাউফকে অস্বীকার যারা করে তারা উম্মতের সবচেয়ে ছোট্ট অংশ, ইবনে তাইমিয়া আসার আগ পর্যন্ত তাসাউফের মতো গুরুতর বিষয়কে অস্বীকার করছে এমন কাউকে পাওয়া যায় না, খোদ হাম্বলি মাযহাবে তাসাউফ আগ থেকেই প্রচলিত ছিলো যেমন শায়খ আব্দুর কাদির জিলানী রহ। তাসাউফকে জঘন্যভাবে সমালোচনা করছে ইবনে তাইমিয়া রহ এবং খারেজি নজদী, নজদী বরং এই ব্যাপারে একধাপ আগায় ছিলো ইবনে তাইমিয়ার চেয়ে।
দেখেন, কাদার কিছু জঘন্যতম সিদ্ধান্তগুলোথ মধ্যে একটা হলো অযোগ্যদেরকে তারা রিক্রুট করতো, এজন্য খারেজিদের উত্থান তাদের মাধ্যমে হইছে তালিবদের মাধ্যমে হয় নাই। আমি কাদা হক মনে করি কিন্তু নির্ভুল না। তালিবদের মতো সমস্তরের না তারা, তবে অবশ্যই তারা আল্লাহর রাস্তার মুজা*দ। যারকাভীর মতো ফ্যানাটিক লোকদের হাত ধরেই কা*দায় খারেজিদের উত্থান হইছে, যারা "আদর্শ" ধারন করতো, কিন্তু না ছিলো তাদের মধ্যে ইলম আর না ছিলো তাসাউফ। যারা জাহেল তারা তাসাউফ কেন, তারা এমন প্রশ্নও করবে যে মু***হিদ হওয়ার জন্য ইলম জরুরি কি না বা এমন কোনো শর্ত শরিয়তে আছে কি না! এগুলো ফ্যান্টাসি আর জাহালত ছাড়া আর কিছুই না।
আমি সমানভাবেই বলি ইলম তাসাউফ ছাড়া কেউ যদি জি***দ করতে চায়, তাহলে আল্লাহর ফজল না থাকলে তার পরিণতি খারেজিদের মতোই হবে। হকের উপর থাকার জন্য দুইটা জিনিস লাগে। একটা হলো ইলম আরেকটা আল্লাহর ফজল।
ইবনে তাইমিয়া যদি আজকে বেঁচে থাকতো, তাহলে শাহ ওয়ালিউল্লাহকে যিন্দিকে আকবার আখ্যায়িত করতো, আর সাইয়েদ আহমাদ সিরহিন্দিকে বলতো যিন্দিকে আসগর। কারণ সাইয়েদ আহমাদ সিরহিন্দি ওয়াহদাতুশ শুহুদের কথা বলছে, সেটা ওয়াহাদতুল উজুদেরই একটা নিম্নতর স্তর। আর শাহ ওয়ালিউল্লাহকে তাকফির এজন্য করতো যে শাহ ওয়ালিউল্লাহ ইবনে আরাবীর ওয়াহদাতুল উজুদকে শুধু যে ব্যাখ্যা করছে এমন না, বরং তার মধ্যে Neoplatonic ও মাশাঈদের লজিক ও ফিলোসফিক্যাল আর্গুমেন্টকেও কম্বাইনকে করে শায়খে আকবারের উজুদকে সর্বোচ্চ মাক্বাম দিছেন। আর তিনিই শাহ ওয়ালিউল্লাহ, যিনি উপমহাদেশে আবারো শুহুদের চেয়ে উজুদ বিশুদ্ধ এই কথা বলে গেছেন।
অথচ এই উজুদের কারণে ইবনে তাইমিয়া ইবনে আরাবীকে তাকফির করছে।
এগুলো বলার কারণ হলো শাহ ওয়ালিউল্লাহ তাসাউফকে খুবই গুরুত্বপূর্ণ মনে করতেন, তাসাউফ ছাড়া মানুষের সাথে আল্লাহর সম্পর্ক গভীর হয় না। দেখেন, ইবনে তাইমিয়া আর ইবনুল জাওযী যেই তাসাউফের কথা বলছে, এগুলো সাধারণ আমল দৈনন্দিন জীবনের, এটা সবচেয়ে আদনা স্তর। নিজের রুহকে পরিচর্যা করা এবং এটাকে পলিশ করা একটা আলাদা অনুশীলন। যওক্বে খোদা ও লাজ্জাতে খোদা এগুলো আলাদা জিনিস। যওক্বে খোদা পাওয়ার জন্য আলাদা মেহনত লাগে। এগুলো দৈনন্দিন
4 078
Repost from Meer Salman
সিরিয়া এবং ইরাকের মুসলমানরা ধ্বংস হয়েছে শুধু চরমপন্থার কারনে। দায়েশ যদি চরমপন্থা গ্রহণ না করে লড়াই এবং রাজনীতি যুগপৎ করতো তবে ইরাকে অন্তত সুন্নি বেল্টে ইসলাম শক্তিশালী থাকতো। অন্যদিকে চরমপন্থী আচার আচরণের কারণে সিরিয়াতেও বিপ্লব ধ্বংস হয়ে গিয়েছিলো। সিরিয়ায় ইসলামপন্থী গ্রুপগুলো শীর্ষ নেতারা যতটা আমেরিকা, রাশিয়া এবং আসাদ-ইরান-হিযবুল্লাত গং মেরেছে তার চেয়ে বেশি মেরেছে দায়েশ একা। এক ইফতারে আহরারুশ শামের সকল নেতাকে সুইসাইড এটাক করে হত্যা করেছে। শেষ পর্যন্ত শামে যেটুকু ইসলাম বেঁচেছে সেটুকু বেঁচেছে আহমাদ আল শারাহ চরমপন্থা পরিত্যাগ করায়। নয়তো শামের মুসলমানদের পরিনতি সাফাভি ইরানের চেয়ে মোটেই ভালো হতো না। বাংলাদেশ, পাকিস্তানেও চরমপন্থীদের কারণে মুসলমানদের অপরিসীম ক্ষতি হয়েছে।
আহলে সুন্নাহর মানহায পরিত্যাগ করা, মধ্যপন্থার পরিবর্তে চরমপন্থা গ্রহণ করার দ্বারা কখনো কল্যাণ সাধিত হবে না। আপাতদৃষ্টিতে কখনো লাভ মনে হতে পারে। কিন্তু এই লাভ হলো শয়তানের ধোকা। এর ভেতরেই পরাজয় লুকিয়ে থাকে।
4 078
যদিও মাওলানা ইসরার আহমেদ রহিমাহুল্লাহর সাথে উলামায়ে কেরামের কিছু মতপার্থক্য তৈরি হয়েছিলো, কিন্তু তিনি দিনশেষে তাদের সাথেই ছিলেন অর্থাৎ মাওলানা ইসরার আহমেদ রহিমাহুল্লাহ উজুদি আকিদার ছিলেন, অর্থ্যাৎ তিনি ওয়াহদাতুল উজুদকেই সবচেয়ে বিশুদ্ধ মনে করতেন।
4 078
ইসলামী খারেজিদের সূচনা হয়েছিলো বাছবিচার ছাড়া হুকুম প্রয়োগের মাধ্যমে। তারা মনে করতো, কুরআনের আয়াত দিয়ে হুকুম লাগিয়ে দিলেই হুজ্জত হয়ে যায়। এই কারণে পরবর্তীতে বড় বড় আলেমরা ইরজার সূচনা করেন, কারণ খারেজি চরমপন্থীরা বাছবিচারহীন হুকুম প্রয়োগ করে তাকফির করতো।
আজকে দেখতেছি, এদের এই সফট ভার্সন আসছে, বাছবিচার হুকুম প্রয়োগের করে তাকফির করে না, বরং আলেম বিদ্বেষের বীজ বপন করে দেয়, আর মুখে মুখে বলে আমরা আলেমদের অনুসরণ করি!!!!
আধুনিক খারেজিদের সাথে এদের অনেক মিল আছে। এসব সফটকোর বিপ্লবী জাহেলদের কাছ থেকে আর কিছু অর্জন হোক না হোক, অন্তত দেখবেন আলেমদের থেকে মন উঠে যাবে, আর আপনি ইসলামের জ্ঞানের ব্যাপারে অজ্ঞাত থেকে যাবেন, কিন্তু না হবে তাদের দেখানো সেই বিপ্লব আর না হবে আপনার ইলম শিখা। আপনি অন্ধকারেই থেকে যাবেন আলোর আশায়।
4 078
শাহ ওয়ালিউল্লাহর ব্যাপারে আমার কনক্লুশন সঠিক ছিলো আলহামদুলিল্লাহ। আমি তাকে সবসময়ই ইমাম আল গাজালীর সাথে তূলনা করি, এবং এই খানে সঠিক ছিলাম আলহামদুলিল্লাহ। তবে শাহ ওয়ালিউল্লাহর এই বিশেষত্বের কারণ তাঁর উজুদি আকিদা এবং তাসাউফ ও মাকবুলিয়াতের সর্বোচ্চ স্থানে পৌঁছাতে পারার মধ্যে।
দুইজনে একই মাকামে ছিলেন, তবে দুইজনের একই গন্তব্যে পৌঁছার পর ছিলো ভিন্ন ভিন্ন। তবে সবচেয়ে বড় ব্যাপার হলো শাহ ওয়ালিউল্লাহ ইবনে আরাবীর ভক্ত ছিলেন।
4 078
আইডিয়ালিজমের গোমারহী কিরকম এবার একটু বিবেচনা করেন, পোলাপান ৯১১ ঘটনাকে একটা হক বাতিলের তারাজু বানিয়ে ফেলছে, অথচ তিন যুগের পর উলামায়ে কেরামের ইজমা ছাড়া কোনো ঘটনাই হক বাতিলের তারাজু হতে পারবে না।
অথচ ৯১১ ঘটনা নিয়ে খোদ তাদের নিজেদের মধ্যেই মতপার্থক্য আছে, আবার তালিবরা এখনো এই বিষয়টাকে সমালোচনার নজরে দেখে।
আমার কথা হচ্ছে, আমি এই ঘটনাকে হক বাতিলের তারাজু হিসেবে দেখি না আর না এটাকে জায়েজ ও নাজায়েজের তারাজুতে মাপার চেষ্টা করি, বরং এটা এমন একটা বিষয় যেটা আপনাকে অউন করতে হবে এই সমস্ত আর ডিকটমির বাইরে গিয়ে। কারণ ফিকহের দিক বিবেচনা করলে এই ঘটনার জন্য অনেক ফাঁকফোকর আছে, তাদের নিজেদের সার্কেলের বড় বড় ফকিহরাও এটার বিরোধীতা করছেন।
এজন্য আমি এতটুকু থেকে এটাকে সেলিব্রিট করি যে কেউ একজন তাদেরকে আঘাত করছে। স্ট্রাটেজি ও ফিকহের আলাপ এখানে আনাই বাতুলতা, কারণ এসব বিষয়ে এমন এমন পোলাপাইন কথা বলতেছে, যাদের এখনো নাক টিপ দিলে দুধ বের হয়, ইসলামের বেসিক ফান্ডামেন্টাল জানেনা আইডিয়লিজমের সাথে ইসলামকে গুলিয়ে ফেলা লোকজন যখন এসব নিয়ে কথা বলে, তখন এসব নিয়ে কথা বলাই উচিত না।
আপনারা যারা কা*দা কে হক বাতিলের মানদণ্ড মনে করেন, তাদেরকে স্পষ্টভাবেই বিভ্রান্ত মনে করি, মানদণ্ড কুরআন ও সুন্নাহ হবে। ১৪ বছরের ঐতিহ্যের উপরেই কায়েদা কে যাচাই করতে হবে, কাদা নিজে কোনো মাপকাঠি না বরং তারা নিজেরাই মাপকাঠির অধীনে। কিন্তু যারা তাদেরকে মাপকাঠি মনে করেন আপনাদের মধ্যে একটা সমস্যা আছে, যেটা খারেজি দা**শীদের মধ্যে কমন, তারা নিজেদেরকে একমাত্র হকের মাপকাঠি মনে করতো, ফলে ওই সময়ে সিরিয়াতে নিজেদের বাইরে মোটামুটি সবাইকে তাকফির করতো।
আর কথা হলো কাদা যদি এতোটাই নির্ভুল হয়, তাহলে দায়েশী জানোয়ারগুলোর উত্থান কোত্থেকে হইছে? এই সত্য তো আপনারা অস্বীকার করতে পারবেন না যে তারা এক সময়ে কাদার অংশ ছিলো? তাহলে কা**দা নির্ভুল হয় কিভাবে?
বাস্তবতা হলো কা***দা উম্মতের কল্যাণের তাড়নায় এমন অসংখ্য অযোগ্য লোক নিজেদের মধ্যে রিক্রুট করছে, যারা ইসলামকে এজ "আইডিওলজি" হিসেবে ধারণ করতো, কোনো ইউনিভার্সাল ঐশী ধর্ম না। ফলে তারা নিজেদের স্পেসিফিক আইডিওলজিক্যাল কনসেপ্ট ও ফ্রেমওয়ার্কের বাইরে কুরআন ও সুন্নাহর অধীনে থাকা বৈধ মতপার্থক্যের জায়গাগুলোকে সঙ্কীর্ণ করে যাকে তাকে তাকফির করতে শুরু করেছিলো।
আইডিওলজির সমস্যা এটাই, এটাকে সবকিছুকে সীমিত করে ফেলে মানুষের চিন্তাধারকে। কারণ আইডিওলজি নিজেই পশ্চিমাদের খোদাদ্রোহী চিন্তাভাবনার প্রধান ফাউন্ডেশন। এখন যারা ইসলামকে আইডিওলজিক্যাল মুভমেন্টের মতো ট্রিট করছে, বা এটাকে মিলিটারি রেভ্যুলেশনারি ধর্মকে হিসেবে ট্রিট করছে, তারাই দিনশেষে নতুন গোমরাহীর দরজা খুলে দিছে।
আমার কথা স্পষ্ট, এই ঘটনাকে অউন করতে হলে জায়েজ ও নাজায়েজের বাইরে গিয়ে সেলিব্রেট করেন, এটাই সবচেয়ে ভালো। তাদের মধ্যে প্রচুর পরিমাণ ভুল ভ্রান্তি আছে, আবার আছে তালিবদের নিজেদের মধ্যেও। কিন্তু এগুলো এতো বড় বড় ও সূক্ষ্ম বিষয় যে অনলাইনে নাক টিপ দুধ পরা পোলাপাইন তালগোল পাকিয়ে ফেলে। চিন্তার মধ্যে কোনো স্থিরতা নাই আর না আছে প্রপার কোনো ফাউন্ডেশন, যেখানে নিজকে দাড় করিয়ে যাচাই বাছাই করতে পারবে। বরং কথা হলো কা***দার নিজেদের প্রচুর পরিমাণ ভুল ভ্রান্তি সত্ত্বেও তাদের হাজার হাজার মানুষ শুধুমাত্র ইসলামের জন্য খালিস নিয়তে নিজেদের জীবনকে কোরবানী করছে, এটাই সবচেয়ে বড় কথা; যারা চলে গেছে তাদের জন্য আমাদের অবস্থান এটাই।
কিন্তু তাদের ভুল আমাদের নিজেদের করা উচিত হবে না, কারণ সেই একটাই। ইমাম মাহদী আলাইহিস সালাম আসা পর্যন্ত হক বাতিলের তারাজু কুরআন ও সুন্নাহ এবং উলামায়ে কেরামদের ইজমা, এর বাইরে কোন ভিন্ন মত থাকলে সংখ্যাগরিষ্ঠ উলামাদের অবস্থানের উপর থাকাই উচিত হবে। কিন্তু নিজেদের আবেগী মতামতকে উসুল ও সুন্নাহ উপরে উঠিয়ে নিয়ে অন্য সবকিছুকে সেটার উপর যাচাই বাছাই করা প্রবণতা নিছকই হঠকারিতা।
এই চাপাচাপি স্বভাবের কারণেই দেখা যায় সবাই আপনাদের থেকে দূরে সরে যায়, যারা এক সময় আপনাদের ভালো চাইতো, তারাও আপনাদের শত্রু হয়ে পড়ে। কারণ ওই যে, অজ্ঞতা ও হঠকারিতা, এগুলো মানুষকে ধ্বংস করে। একটা কথা বারবার বলি, ইলম ছাড়া আদর্শ হলো গোমরাহীর প্রধান দরজা। তাদেরকে অউন করতে চাইলে তাদের সকল ভুলভ্রান্তি ও ত্রুটিগুলো আলোচনা করেই করতে হবে। সাহাবাদের পর থেকে আজো পর্যন্ত যত বড় ফকীহ ও মুহাদ্দিস ও সুফিই হোক না কেন; ভুল ও ত্রুটি থেকে মুক্ত না।
4 078
৯:১১ কে আমি জায়েজ এবং না জায়েজের বাইরে গিয়ে সেলিব্রেট করি। দেখেন এই কাজটা নিয়ে ঠিক তাদের নিজেদের মধ্যেই বিশাল মতপার্থক্য আছে, আর তালিবরা বিষয়টা এখনো নেতিবাচকভাবেই দেখে থাকে। এখন এসবের মধ্যে না জড়িয়ে আমি এতটুকুই মনে করি যে এটা আমেরিকার গালে বড় একটা আঘাতই ছিলো। যদি আপনি জায়েজ না জায়েজের হিসাব করেন, তাহলে আপনি অস্থির হয়ে উঠবেন।
আরেকটা ব্যাপার ৯:১১ এমন কোনো মানদণ্ড না যে যার উপর ভিত্তি করে হক বাতিল নির্ধারিত হবে, কারো মধ্যে যদি এমন চিন্তা-ভাবনা থাকে, তাহলে কোনো সন্দেহ ছাড়াই আমি বলবো সে মডার্নিটির একটা রেডিক্যাল ভার্সন। মডার্নিটির লিবারেল উইং যেমন আছে, তেমনি রেডিক্যাল উইংও আছে। এই ঘটনাকে মানদণ্ড তারাই বানায় যারা কোনো না কোনো মডার্নিটির ফ্রেমওয়ার্কে আবদ্ধ কম বা বেশি।
4 078
Repost from Mysterious Monastery
এক ভাই আমার উপর প্রচণ্ড রাগ করেছেন। কারণ আমি তাযকিরাতুর রশীদ এবং থানভী রাহিমাহুল্লাহ এঁর গ্রন্থে দুইটি ঘটনা শুনেও কেন রশীদ সাহেবের পক্ষ নিলাম? ভাইটি আমার অত্যন্তঃ প্রিয়। এজন্য একটু খুলে বলি যাতে হৃদয়ের মলীনতা দূর হয়ে যায়। টেলিগ্রামে বলছি, এর কারণ ফেসবুকে বহু অমুসলিম আমায় অনুসরণ করেন আর তারা ইসলাম নিয়ে তাসাউফের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে জানেন না। সুতরাং ভুল হতে পারে।
কিন্তু ভাইটি এসম্পর্কে বিস্তারিত জানেন। সেহেতু তিনি বুঝবেন এবং যাঁরা এসব বিষয় জানেন অথচঃ একজন অপব্যখ্যাকারীর অপব্যখ্যা দেখে বিভ্রান্ত হচ্ছেন তাঁরা বুঝবেন।
১] তাজকিরাতুর রশীদে স্বপনের বিষয়
মু'মিনের স্বপ্ন সত্য। এটা হাদীসপাক থেকে প্রমাণিত। এবং স্বপ্ন অনেক সময় রূপক হয়ে দেখা দেয় এটাও সর্বস্বীকৃত। রশীদ সাহেবের এই স্বপ্ন সংক্রান্ত তাযকিরার আলোচনাগুলো আগে পড়ি নি। গতকাল পড়েছিলাম। যেখানে তাঁর একজন সহচর (লেখক) লিখেছেন যে, তিনি একবার স্বপ্নে দেখেন তিনি কাসিম সাহেবের স্ত্রী হিসেবে দেখেছেন। এবং পরস্পর পরস্পরকে সহায়তা করছেন। এর ব্যখ্যা তিনি করেছেন যে, তিনি এবং কাসিম সাহেব উভয়েই যেভাবে একে অপরকে সহায়তা করছেন এবং তাঁর শিষ্যদের তিনি মানুষ করছেন এজন্য স্বপ্নে ওভাবে দেখানো হয়েছে।
এতে ভুল কোথায়? এখানে তো অন্যায় কিছু নেই! যদি কেও অন্যায়ভাবে মিথ্যা জুড়ে সেটা নোংরা বানিয়ে ফেলে সেখানে সমস্যা।
স্বপ্ন নিয়ে বিস্তারিত পড়াশোনা আপনার আছে বলেই মানি। এর থেকে অদ্ভুত স্বপনের কথা কি আপনি কোথাও পান নি ভাই? অনেক সময় অনেকে পাপের কারণে স্বপ্নে খুব খারাপ অবস্থায় দেখেছেন। সেগুলো তো রূপক স্বপ্ন, বার্তাটা মূখ্য। এটা আপনার সাথেও হতে পারে, অথবা হয়েছে!
আমি স্বপ্ন নিয়ে কখনো লিখি না। কারণ এগুলো সবার কাছে প্রকাশ করার বিষয় নয়। আজ আপনার খাতিরে আল্লাহ তাআলাকে সাক্ষ্য রেখে একটা খুব সাম্প্রতিক স্বপ্নের কথা বলি।
আমি কয়েকদিন পূর্বে হঠাৎ একটা কারণে আমি আসরের পর আমার এক স্যারের বাড়িতে যাই। ওখানে গিয়ে স্যার আমায় ছাড়তে চাচ্ছিলেন না। বিধায় প্রচণ্ড অনীহার স্বত্বেও আমার মাগরিব কাজা হয় ও ইশার নামাজও কাযা হয়। পরেরদিন ফজরের নামাজের পর তন্দ্রা এলে হঠাৎ স্বপ্নে দেখলাম একজন (অথবা দুইজন স্বচ্ছ মনে নেই একই ব্যক্তি ছিল নাকি) দুই মহিলার সাথে বলপূর্বক অপকর্মে লিপ্ত আছে। আর আমি অত্যন্তঃ অসহায় অবস্থায়, সেগুলো দেখছি, না আমি পারছি সহায়তা করতে। হঠাৎ ধড়ফড় করে উঠে ভাবলাম যে, কোন আপদ আসবে, পরে ভেবে দেখলাম গতকাল দুই ওয়াক্ত কাযা করেছি।
এখন যদি এই স্বপ্ন আমি জনৈক বন্ধুকে বলি, সে কোন তাবীর সংক্রান্ত আলোচনায় তা লিখে দেয়। সেখানে আমার কিছু অপরাধ থাকার কথা নয়। রূপক স্বপ্ন। তাবীরে শিক্ষা। তো রশীদ সাহেবের স্বপ্ন এভাবেই রূপক ছিল। ওতে তো দোষণীয় কিছু দেখি না। ওনারদের রূহানী সম্পর্ক ছিল। এখন এভাবে দোষ ধরতে গেলে তো বড়বড় ইমাম মুহাদ্দিস বিনা অপরাধে দোষী হবেন!
২. থানভী রাহিমাহুল্লাহ এঁর লেখায় রশীদ ও কাসেম সাহেবের খানকাহে একটি হালত
আমি দীর্ঘদিন ধরে শাতহাত নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছি। শাতহা নিয়ে ইবনু তাইমিয়া রাহিমাহুল্লাহ এঁর কথাও এনেছি যাতে সালাফি ভাইয়েরা এ বিষয় নিয়ে চর্চা করে।
থানভী রাহিমাহুল্লাহ যে ঘটনার কথা উল্লেখ করেছেন, সেটা ঘটেছিল খানকাহে। যেখানে তাঁরা তাসাউফ চর্চা করেন। আমি জানি না পুরো ঘটনা কি, কেন তিনি তাঁকে সে আদেশ দেন। কিন্তু ঘটনা থেকে সেটা কাসিম সাহেবের শাতহা বলেই মনে হয়। এটা তো কিছু না। আপনি যদি আহলে তাসাউফের দিওয়ান পড়েন, এমন এমন শাতহা পাবেন যা সাধারণ হালতে কুফরে আকবর। আপনি স্বয়ং খাজা জী রাহিমাহুল্লাহ এঁর দীওয়ান পড়েন। সেখানে তাঁর কিছু শাতহা রয়েছে। তিনি এমন হালতে গিয়ে কবিতা রচনা করেছেন যেটা বাহ্যিকভাবে নিলে লন্ডভন্ড হয়ে যাবে। শাতহা নিয়ে তো বিস্তারিত বলার নেই। আপনি ছাড়া কে ভালো জানবে এ নিয়ে?
আমি যেহেতু দুটো বিষয় জানি, মানি। সেহেতু দুটো বিষয়ে কোন ভুল দেখি না। ভুলটা হল সেগুলো জনগণের সামনে আনা, চর্চা করে অপব্যখ্যা করা। শাতহার হুকুম হল বর্জনীয়। এখানে আমার যদি কোন অপরাধ থাকে সেটা বলবেন। নতুবা আশা করছি মলীনতা দূর করে আমরা পরম প্রেমাস্পদের প্রেমে মত্ত হব ইন শা আল্লাহ।
4 078
Repost from Meer Salman
আপনি বাঙালি নাকি মুসলমান অথবা আগে বাঙালি নাকি আগে মুসলমান প্রশ্নটা একটা শয়তানি প্রশ্ন। এই প্রশ্ন করা হয় অনেকগুলো শয়তানি মতলবকে সামনে রেখে৷ আমার মতে এই সমস্যা মোকাবেলা করার জন্য কয়েকটি করণীয় আছে।
তার ভেতর প্রথম কাজ
১) বাঙালিত্বের সঙ্গা জিজ্ঞেস করুন। জিজ্ঞেস করুন কি কি ক্রাইটেরিয়ার ভিত্তিতে কেউ বাঙালি হতে পারে? কারণ বাংলা ভাইওতো বাঙালি। তাতে কার কি চুল ছেঁড়া যায়?
২) স্পষ্টভাবে বলুন দুনিয়ার জীবন সামান্য সময়ের জন্য। তারপর অনন্তকাল। সেখানে মানুষের জাতীগত, রাষ্ট্রীয় পরিচয় কোন কাজে আসবে না। সেখানে শুধু এটাই বিবেচিত হবে যে কে রহমানের বান্দা এবং কে রহমান ব্যাতিত অন্য কোন তাগুতের উপাসনা করতো।
৩) খুব স্পষ্টভাবে বলুন আমাদের আনুগত্য সবার আগে আল্লাহর। তারপর আমরা সেই আনুগত্যের ভিত্তিতে আনুগত্য বিবেচনা করি।
৪) আমরা আমাদের দেশ এবং জাতীকে ভালোবাসি। তবে দেশের নামে কোন গোষ্ঠীর পূজা করি না। বাঙালিত্বের সঙ্গা কোন শয়তানের ইচ্ছা অনুযায়ী করা হলে আমরা সেই সঙ্গায় সাবস্ক্রাইব করি না।
4 078
Repost from Iftekhar Jamil
মাদরাসায় রেগুলেশন
সাভাবের এক মাদরাসায় শিশু নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে। অভিযোগ মোটামুটি 'ভয়াবহ'। কয়েক বছর আগে কওমি মাদরাসা শিক্ষাবোর্ড মাদরাসাটির রেজিস্ট্রেশন বাতিল করেছিল। ঠিক এখান থেকেই ধরতে পারবেন, বাংলাদেশে মাদরাসাব্যবস্থায় বেসরকারি পর্যায়ে রেগুলেশন করা যথেষ্ট কঠিন কাজ। দেশের মাদরাসাগুলো বহু বোর্ডে বিভক্ত, পাশাপাশি কেউ চাইলে বোর্ডের বাইরে গিয়েও মাদরাসা চালাতে পারছে।
কাজেই, নিরাপত্তা প্রশ্নে সব মাদরাসাকে এক ছাতার নীচে আনার কোন বিকল্প নেই। পাশাপাশি, শুধু আইন যথেষ্ট নয়, বিচার করাও জরুরী—সেজন্য প্রশাসন/সরকারের সাথে সমন্বয় করতে হবে, জবাবদিহিতা বাধ্যতামূলক করতে হবে। তবে, এক্ষেত্রে আমাদের দিক থেকে তিনটি রেড ফ্ল্যাগ আছে, ক) মাদরাসার দায়িত্বশীলদের অনাগ্রহ-অযোগ্যতা, তাদের মধ্যে পলিটিকাল উইল কাজ করছে না। খ) আমলা-আদালত তথা রাষ্ট্রীয় হস্তক্ষেপ সীমিত রাখতে হবে, রাষ্ট্র ইমপ্লিমেন্টেশন-অডিটিং এর কাজে ফোকাসড থাকবে। গ) ধর্মীয় শিক্ষাকে বাজার ব্যবস্থার কাছে ছাড়া যাবে না। বাংলাদেশ গরীব দেশ, ধর্মীয় শিক্ষার আকর্ষণীয় চাকরির বাজার নেই। কাজেই, রেগুলেশন-মানোন্নয়নের নামে অতিরিক্ত খরচ বৃদ্ধি করলে ধর্মীয় শিক্ষা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হবে।
আমি মনে করি, সরকারি উদ্যোগে কিছু আদর্শ হেফজখানা-মক্তব চালু করা জরুরী। পাশাপাশি, স্কুলের ধর্মীয় সাবজেক্টের অধীনে কুরআন শিক্ষার ব্যবস্থা রাখলে ছোট-খাটো মাদরাসা এমনিতেই আবেদন হারিয়ে ফেলবে। সরকারি সাবসিডিজ ছাড়া আদর্শ প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলার জন্য প্রয়োজনীয় গবেষণা-অবকাঠামো বরাদ্দ করা যথেষ্ট জটিল। আপনাদের জ্ঞাতার্থে জানাই, অধিকাংশ মুসলিম দেশে সরকারিভাবে মক্তব-হেফজখানা পরিচালিত হয়। রেগুলেশনের পাশাপাশি প্রতিযোগিতা সৃষ্টি না করা গেলে মাদরাসার লোকজন সতর্ক হবে না। মোটকথা, এই জটিলটাকে কেবল নীতিনৈতিকতার জায়গা থেকে না দেখে দেখতে হবে গভরনেন্সের দৃষ্টিকোণ থেকে।
