ru
Feedback
Vaiya

Vaiya

Открыть в Telegram

ভাইয়াদের নিয়ে বাগানের সবুজ পাখি...

Больше
792
Подписчики
-124 часа
-17 дней
-1030 день
Архив постов
নফসের খায়েশাত বনাম আল্লাহর সন্তুষ্টি। Shaikhul Hadith Mufti Abu Imran Hafizahullah. @SHMAIH

ক্বলবের জাগরণ ও নফসের পতন। Shaikhul Hadith Mufti Abu Imran Hafizahullah. @SHMAIH

ঈমান বিধ্বংসী সমকামিতা ফিতনা
(এলজিবিটি মুভমেন্ট ও ট্রান্সজেন্ডারবাদের ভয়াবহতা)
লেখকঃ ড. মোহাম্মদ সরোয়ার হোসেন স্যার
রিভিউ করেছেন
মাওলানা মুহাম্মাদ আবদুল মালেক দামাত বারাকাতুহুম আমীনুত তালীম, মারকাযুদ দাওয়াহ আল ইসলামিয়া, ঢাকা খতীব, বায়তুল মুকাররম জাতীয় মসজিদ, বাংলাদেশ।

মিশরের দীর্ঘ জেল-জুলুম থেকে বের হয়ে তারা সোভিয়েত-আফগান জিহাদে যুক্ত হলো। জিহাদ শেষে সবাই নিজ দেশে ফিরে যাচ্ছে, কিন্তু এই লোকগ
মিশরের দীর্ঘ জেল-জুলুম থেকে বের হয়ে তারা সোভিয়েত-আফগান জিহাদে যুক্ত হলো। জিহাদ শেষে সবাই নিজ দেশে ফিরে যাচ্ছে, কিন্তু এই লোকগুলো যাচ্ছে না। কারণ নিজ দেশে গেলেই বন্দিত্ব, ফাঁসি ও অন্যান্য জুলুম। তাদের আর হারানোর কিছু নেই এই দুনিয়াতে। মহান রবের সন্তুষ্টির জন্য জীবন ছাড়া সবকিছুই আল্লাহর রাস্তায় দিয়ে ফেলেছে। এখন শুধু আছে ছোট এই জীবনটি। এই উপলব্ধি থেকে তারা থেকে গেল এবং মুসলিম উম্মাহর বীরগাথা গল্পে ৪০+ বছরের ইতিহাস লিখল, যা আজও চলমান। চিন্তা করুন, আজ যদি আপনার-আমার অবস্থাও তাই হয়—যে আমাদের আর হারানোর কিছু নেই দুনিয়ার কাছে, চাওয়ার কিছু নেই। মানুষ সবাই দূরে চলে গেছে আপনার-আমার থেকে। সবাই দুনিয়ার স্বার্থের দিকে ছুটছে, আপনাকে ছুড়ে ফেলেছে। আসলে আপনি তো অনেক আগেই অগ্রগামী হয়ে গেছেন আপনার সেই মিশরি ভাইদের মতো। শুধু ইস্তিকামত থাকুন, ইনশা-আল্লাহ কাঙ্ক্ষিত শাহাদাত আপনি ঘরে থাকলেও এসে দেখা দিবে, ইনশা-আল্লাহ। اللَّهُمَّ ارْزُقْنِي شَهَادَةً فِي سَبِيلِكَ وَلَا تَرُدَّنِي إِلَى أَهْلِي হে আল্লাহ! আমাকে তোমার রাস্তায় শাহাদাত (শহীদি মৃত্যু) দান করো এবং আমাকে আমার পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দিয়ো না।

আমি ইমারাতে ইসলামীয়ার কর্মকর্তাদের প্রতি আহ্বান জানাই যে, তারা নিজেদের দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে আল্লাহ তাআলার আদেশ ও নিষেধের প্রতি পূর্ণ মনোযোগ দিক, জনগণের সেবা, নিরাপত্তা ও কল্যাণে শরিয়তের আলোকে দায়িত্ব পালন করুক, মানুষের প্রয়োজনের দরজা বন্ধ না করুক এবং যথাযথ ও দ্রুততার সাথে কাজ সম্পন্ন করুক। একইভাবে জনগণের ওপর জুলুম করা থেকে নিজেদের রক্ষা করো। কারণ যে ব্যক্তি দুনিয়াতে জুলুম করে, সে যত শক্তিশালীই হোক না কেন, শেষ পর্যন্ত আল্লাহ তাআলা তাকে অপমানিত ও পরাজিত করেন। আমি নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিচ্ছি, বিশেষ করে ঈদের দিনগুলোতে, যেন তারা জনগণের সেবা, সুরক্ষা ও কল্যাণে পূর্ণ মনোযোগ দেয় এবং তাদের সুখ-স্বাচ্ছন্দ্যের জন্য প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা গ্রহণ করে। একইভাবে সংশ্লিষ্ট সকল কর্তৃপক্ষ যেন প্রত্যাবর্তনকারী অভিবাসী ও শরণার্থীদের ব্যাপারে বিশেষ মনোযোগ দেয়, যাতে জমি বণ্টন, পরিবহন ও পুনর্বাসনের ক্ষেত্রে তাদের জন্য আরও বেশি সুবিধা নিশ্চিত করা যায়। সম্মানিত আফগান ভাইয়েরা, এই শরিয়াভিত্তিক ব্যবস্থাকে রক্ষা ও সংরক্ষণ করা আমাদের সবার যৌথ দায়িত্ব। কারণ এটি অসংখ্য শহীদের পবিত্র রক্ত, মুজাহিদ ও নিষ্ঠাবান মুসলমানদের বিশাল ত্যাগ ও কষ্টের মাধ্যমে অর্জিত হয়েছে। আসুন, আমরা সবাই ঐক্য ও আন্তরিকতার সাথে এর সুরক্ষার জন্য আরও ত্যাগ স্বীকার করি এবং ভাইয়ের মতো একে অপরের পাশে দাঁড়াই, যাতে শত্রুদের অপকর্ম প্রতিহত করা যায়, নিরাপত্তা, কল্যাণ, উন্নয়ন ও ইসলামী ব্যবস্থার নেয়ামতের মূল্যায়ন করা যায় এবং শরিয়াভিত্তিক এই ব্যবস্থার শক্তি ও স্থায়িত্ব বৃদ্ধিতে একযোগে কাজ করা যায়। আমি আফগানিস্তান ও বিশ্বের বিভিন্ন স্থান থেকে দুই পবিত্র হারামে আগত সকল হাজিদের কাছে অনুরোধ করছি, তারা যেন ইসলামী উম্মাহর জন্য, বিশেষত বিশ্বের নিপীড়িত মুসলিম ভাইদের জন্য, দোয়া করেন, যাতে আল্লাহ তাআলা তাদের ইসলাম ও মুসলমানদের শত্রুদের বিরুদ্ধে বিজয় দান করেন এবং দুনিয়া ও আখিরাতে সফলতা ও সম্মান দান করেন। আমি আরও আহ্বান জানাই ধনী আফগান ও ইমারাতে ইসলামীয়ার কর্মকর্তাদের প্রতি, যেন তারা এই বরকতময় ঈদের দিন ও রাতগুলোতে প্রত্যাবর্তনকারী অভিবাসী, দরিদ্র ও অসহায় পরিবারগুলোর খোঁজখবর নেয় এবং তাদেরকেও ঈদের আনন্দে শরিক করে। সবশেষে, আবারও আমি সকল ঈমানদার ও সম্মানিত মানুষকে ঈদুল আযহার শুভেচ্ছা জানাই। আল্লাহ তাআলা করুন, তোমরা সর্বদা শান্তি ও সুখের সাথে ঈদ উদযাপন করতে পারো। আমীরুল মুমিনীন, শাইখ হিবাতুল্লাহ আখুন্দজাদা ৭ জিলহজ্জ ১৪৪৭ হি.

ঈদুল আযহা উপলক্ষে আমীরুল মুমিনীন, শাইখুল কুরআন ওয়াল হাদীস, হিবাতুল্লাহ আখুন্দজাদা হাফি. বার্তা: পরম করুণাময়, অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি। “আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ, ওয়াল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার, ওয়া লিল্লাহিল হামদ।” সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য। আমরা তাঁর প্রশংসা করি, তাঁর সাহায্য চাই এবং তাঁর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করি। আমরা নিজেদের অন্তরের অনিষ্ট ও আমাদের আমলের মন্দ পরিণতি থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় চাই। আল্লাহ যাকে হিদায়াত দেন, তাকে কেউ পথভ্রষ্ট করতে পারে না; আর যাকে তিনি পথভ্রষ্ট করেন, তাকে কেউ হিদায়াত দিতে পারে না। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরীক নেই। এবং আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ ﷺ তাঁর বান্দা ও রাসূল। অতঃপরঃ “আমি বিতাড়িত শয়তান থেকে আল্লাহর আশ্রয় প্রার্থনা করছি।” “বলুন, নিশ্চয়ই আমার সালাত, আমার কুরবানি, আমার জীবন ও আমার মৃত্যু সবই আল্লাহর জন্য, যিনি সকল জগতের প্রতিপালক।” (সূরা আল-আন‘আম: ১৬২) আল্লাহ তাআলা আরও বলেনঃ “এবং তোমরা আল্লাহর জন্য হজ ও উমরা পূর্ণ করো...” (সূরা আল-বাকারাহ: ১৯৬) আল্লাহ তাআলা আরও বলেনঃ “অতএব তোমার প্রতিপালকের জন্য সালাত আদায় করো এবং কুরবানি করো।” (সূরা আল-কাওসার: ২) আনাস ইবন মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ “রাসূলুল্লাহ ﷺ কালো দাগযুক্ত সাদা রঙের দুটি শিংওয়ালা দুম্বা কুরবানি করেছিলেন। তিনি নিজ হাতে সেগুলো জবাই করেন এবং ‘বিসমিল্লাহ, আল্লাহু আকবার’ বলেন। আমি তাঁকে দেখেছি, তিনি নিজের পা সেগুলোর পার্শ্বে রেখেছিলেন এবং বলছিলেন: ‘বিসমিল্লাহ, আল্লাহু আকবার।’” (মিশকাতুল মাসাবীহ ১/৪৫৭) সারসংক্ষেপে, রাসূলুল্লাহ ﷺ দুটি শিংওয়ালা কালো-সাদা দুম্বা কুরবানি করেছিলেন। তিনি নিজ হাতে সেগুলো জবাই করেন, “বিসমিল্লাহ” ও তাকবীর পাঠ করেন এবং নিজের মুবারক পা সেগুলোর পাশে রাখেন। আরেকটি সম্মানিত হাদীসে এসেছে— আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেনঃ “কুরবানির দিনে আদম সন্তানের কোনো আমল আল্লাহর কাছে রক্ত প্রবাহিত করার (কুরবানি করার) চেয়ে অধিক প্রিয় নয়। কিয়ামতের দিন কুরবানির পশু তার শিং, পশম ও খুরসহ উপস্থিত হবে। আর কুরবানির রক্ত জমিনে পড়ার আগেই আল্লাহর নিকট কবুল হয়ে যায়। অতএব তোমরা সন্তুষ্টচিত্তে কুরবানি করো।” (মিশকাত, খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ১২৮) আফগানিস্তানের ঈমানদার ও মুজাহিদ জনগণ এবং সমগ্র বিশ্বের মুসলমানদের প্রতি: আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু। সর্বপ্রথম আমি তোমাদের সবাইকে ঈদুল আযহার শুভেচ্ছা জানাই। আল্লাহ তাআলা তোমাদের ইবাদত, কুরবানি, হজ, দান-সদকা এবং সকল নেক আমল কবুল করুন। সম্মানিত আফগান ভাইয়েরা, এটি আল্লাহ তাআলার প্রতি কৃতজ্ঞতা ও প্রশংসার বিষয় যে, আমরা একটি ইসলামী ও শরিয়াভিত্তিক ব্যবস্থার ছায়াতলে শান্তিপূর্ণভাবে ঈদুল আযহা উদযাপন করছি। মানব জীবনের প্রকৃত উদ্দেশ্য হলো আল্লাহ তাআলার ইবাদত করা, তাঁর ইবাদতে প্রচেষ্টা চালানো, দ্বীন প্রতিষ্ঠায় চেষ্টা করা, শরিয়তের বিধান দৃঢ়ভাবে অনুসরণ ও মান্য করা এবং আল্লাহর দ্বীনের আলোকে পূর্ণ জীবন যাপন করা। আমাদের উচিত এই মহান উদ্দেশ্যের প্রতি গভীর মনোযোগ দেওয়া, কারণ এটিই সফলতা ও কল্যাণের পথ। ইমারাতে ইসলামীয়ার শাসনের অধীনে সকল নাগরিকের শরয়ী অধিকার সংরক্ষিত ও সুরক্ষিত। কাউকে অন্যের ওপর জুলুম বা সীমালঙ্ঘনের অনুমতি দেওয়া হয় না। জুলুম প্রতিরোধ করা হয় এবং মজলুমদের অধিকার প্রতিষ্ঠা করা হয় আফগানিস্তানে। শরয়ী আদালতসমূহের কার্যক্রমের মাধ্যমে পবিত্র ইসলামী আইন বাস্তবায়িত হয়েছে। একইভাবে সৎকাজের আদেশ ও অসৎকাজ থেকে নিষেধ করার মহান দায়িত্বও বাস্তবে কার্যকর করা হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে শরিয়তের নীতিমালার আলোকে সমাজ সংস্কারের প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। তবে সম্মানিত আলেমগণ, সৎকাজের আদেশ ও অসৎকাজ থেকে নিষেধ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাগণ এবং দাওয়াহ ও দিকনির্দেশনার দায়িত্বশীলদের প্রতি আহ্বান জানানো হচ্ছে যে, তারা জনগণকে দ্বীনের মৌলিক বিষয়াবলি, বিশেষত সালাত ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ ফরজ বিষয়, সম্পর্কে শিক্ষা, দিকনির্দেশনা ও নসিহত প্রদানে আরও অধিক প্রচেষ্টা চালান এবং মানুষকে এগুলোর প্রতি দৃঢ়ভাবে উৎসাহিত করেন। ইমারাতে ইসলামীয়া এতিম, বিধবা, প্রতিবন্ধী ও দরিদ্রদের অধিকার সংরক্ষণ ও সহায়তায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। একইভাবে ধনী আফগানদের প্রতিও আহ্বান জানানো হচ্ছে যেন তারা এসব অসহায় মানুষের প্রতি উদাসীন না হয় এবং তাদের যত্ন ও সহায়তায় পূর্ণ মনোযোগ দেয়। ইমারাতে ইসলামীয়া শরিয়তের নীতিমালার আলোকে সমগ্র বিশ্বের সাথে, বিশেষত ইসলামী দেশগুলোর সাথে, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন করতে চায় এবং এ ক্ষেত্রে নিজেদের দায়িত্ব পালন করেছে।

সন্দেহযুক্ত বিষয় বর্জন : প্রশান্তিময় জীবন লাভের অন্যতম উপায়। Shaikhul Hadith Mufti Abu Imran Hafizahullah. @SHMAIH

শাপলাচত্বর ডকুমেন্টারি! এখানে অসংখ্য ভিডিও ও ছবি মজুদ রয়েছে। এগুলো আমাদের ব্যাপাকভাবে প্রচার করা দরকার। https://t.me/shaplaDocuments

মালিতে বিজয় করা শহর ও প্রদেশে কালেমার পতাকা উত্তলন করছেন, মুজ|হিদরা। আল্লাহ যদি চায় তো রাজধানী বিজয় অতি নিকটে, ইনশাআল্লাহ।

সত্যবাদীদের সোহবত গ্রহণের গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা। Shaikhul Hadith Mufti Abu Imran Hafizahullah. @SHMAIH

আমার দেশ পাকিস্তান পুরো পৃথিবীতে নমক (লবন) বানানোতে দুই নাম্বার। তবে নিমকহারাম বানানোতে এক নাম্বার। -আনওয়ার মাকসুদ

মানুষ গুনাহগার। ভুলপ্রবণ। এই গুনাহ আবার দুই প্রকার। ১. লাযিম। ২. মুতাআদ্দি। ১. এমন গুনাহ, যা অন্যকে ইফেক্ট করে না। কেবল নিজের সাথেই সম্পর্কিত। ২. এমন গুনাহ, যা অন্যকে ইফেক্ট করে। প্রথম প্রকার গুনাহের চেয়ে দ্বিতীয় প্রকার গুনাহের ক্ষতি, প্রভাব ও ভয়াবহতা—সবই বেশি। গুনাহ না হওয়ার ব্যাপারে অত্যন্ত সচেষ্ট থাকা জরুরি। মুতাআদ্দি গুনাহ যেন না হয়—এ-ব্যাপারে সতর্ক থাকা আরও বেশি জরুরি। নবীজির তো কোনো গুনাহ ছিল না। এমন কথা কল্পনা করাও গুনাহ। তবু, রাসূলুল্লাহ ﷺ প্রতিদিন সকাল-সন্ধ্যা গুনাহ ঢেকে রাখার জন্য নিয়ম করে দুআ করতেন। নবীজি পড়তেন— اللَّهُمَّ اسْتُرْ عَوْرَاتِي وَآمِنْ رَوْعَاتِي "হে আল্লাহ! আপনি আমার গোপন ত্রুটি/গুনাহসমূহ ঢেকে রাখুন, এবং আমার সকল ভয়-ভীতি ও দুশ্চিন্তা থেকে আমাকে নিরাপত্তা দান করুন।" [সুনানু আবি দাউদ : ৫০৭৪] আল্লাহ তায়ালা আমাদেরকে সব ধরনের গুনাহ থেকে হেফাজত করুন এবং নিজেদের কৃত গুনাহের জন্য নিয়মিত তাওবা করার তাওফিক দান করুন।

নবিজী এই দোয়াটি উমর রাদি. কে শিখিয়েছিলেন- হে আল্লাহ! আপনি আমার গোপন অবস্থাকে আমার প্রকাশ্য অবস্থার চেয়ে উত্তম করে দিন। আর আমার প্রকাশ্য অবস্থাকে নেক করে দিন। اللَّهُمَّ اجْعَلْ سَرِيرَتِي خَيْرًا مِنْ عَلَانِيَتِي، وَاجْعَلْ عَلَانِيَتِي صَالِحَةً

photo content

‘তোমাদের মধ্যে যে অন্যায় দেখবে, সে যেন তা তার হাত দিয়ে বাধা দেয়। আর যদি হাত দিয়ে বাধা না দিতে পারে, তবে যেন মুখ দিয়ে বাধা দেয়। আর যদি মুখ দিয়ে বাধা না দিতে পারে, তবে যেন অন্তর দিয়ে বাধা দেয়। আর এটি হলো দুর্বল ঈমানের পরিচয়।’ নবীদের দাওয়াহ জনবিচ্ছিন্ন ছিল না। তাঁরা নিষ্ক্রিয় ছিলেন না। তাওহীদ ও আখিরাতের দাওয়াহর পাশাপাশি, সামসময়িক জুলুম, শোষণ আর অনাচারের বিরুদ্ধেও তাঁরা কথা বলেছেন। সমাজ পরিবর্তনের সক্রিয় লড়াই নববী দাওয়াহর মৌলিক বৈশিষ্ট্য। কিন্তু আজকে এ বিষয়টা অনেক বেশি অবহেলিত। -পৃষ্ঠা-১৮৬-১৮৯ , মুসলিমবঙ্গ,আসিফ আদনান, ইলমহাউস পাব্লিকেশন।

নবী-রাসূলগণ (আলাইহিমুস সালাম) মানুষকে সৎ কাজের আদেশ আর মন্দ কাজ থেকে নিষেধ করেছেন। তাওহীদের দাওয়াহর পাশাপাশি তাঁরা অবস্থান নিয়েছেন সমাজের জুলুম ও অনাচারের বিরুদ্ধে। ফিরআউন বনী ইসরাইলকে দাস বানিয়ে রেখেছিল। তাদের ওপর চালাচ্ছিল সীমাহীন অত্যাচার। মূসা (আলাইহিস সালাম) যখন আল্লাহর নির্দেশে ফিরআউনের কাছে গেলেন, তখন তিনি তাকে প্রথমে তাওহীদের দিকে ডাকলেন। তারপর আহ্বান জানালেন বনী ইসরাইলকে মুক্ত করে দেওয়ার। আল্লাহ তাঁকে নির্দেশ দিয়েছিলেন: فَأْتِيَا فِرْعَوْنَ فَقُولَا إِنَّا رَسُولُ رَبِّ الْعَالَمِينَ ۝ أَنْ أَرْسِلْ مَعَنَا بَنِي إِسْرَائِيلَ ۝ ‘অতএব, তোমরা উভয়ে ফিরআউনের কাছে যাও এবং বলো, “আমরা তো সৃষ্টিকুলের রবের রাসূল, বনী ইসরাইলকে আমাদের সঙ্গে যেতে দাও।”’ এই একই প্যাটার্ন আমরা বারবার নবীদের জীবনে দেখি। লূত (আলাইহিস সালাম) তার জাতিকে বিকৃত যৌনতার জঘন্য পাপ থেকে সরে আসতে বলেছিলেন। তিনি কিন্তু ভাবেননি, এরা তো ঈমানই আনেনি, এদেরকে মানা করে কী লাভ? সমাজে চলা চরম অনাচারের বিরুদ্ধে তিনি সাধ্যমতো অবস্থান নিয়েছিলেন। وَلُوطًا إِذْ قَالَ لِقَوْمِهِ أَتَأْتُونَ الْفَاحِشَةَ مَا سَبَقَكُم بِهَا مِنْ أَحَدٍ مِّنَ الْعَالَمِينَ ۝ إِنَّكُمْ لَتَأْتُونَ الرِّجَالَ شَهْوَةً مِّن دُونِ النِّسَاءِ ۚ بَلْ أَنتُمْ قَوْمٌ مُّسْرِفُونَ ‘আর আমি লূতকে পাঠিয়েছিলাম। সে তার সম্প্রদায়কে বলেছিল, “তোমরা কি এমন অশ্লীল কাজ করছ, যা তোমাদের পূর্বে সৃষ্টিকুলের কেউ করেনি? তোমরা তো কাম-তৃপ্তির জন্য নারীদের ছেড়ে পুরুষের কাছে যাও, তোমরা সীমালংঘনকারী সম্প্রদায়।”’ শুআইব (আলাইহিস সালাম) মাদইয়ানবাসীকে ওজন ও পরিমাপে কম দেওয়ার ব্যাপারে সতর্ক করেছেন, কারণ শিরকের পর এটাই ছিল সেই সমাজের সবচেয়ে বড় জুলুম। وَإِلَىٰ مَدْيَنَ أَخَاهُمْ شُعَيْبًا ۚ قَالَ يَا قَوْمِ اعْبُدُوا اللَّهَ مَا لَكُم مِّنْ إِلَٰهٍ غَيْرُهُ ۖ وَلَا تَنقُصُوا الْمِكْيَالَ وَالْمِيزَانَ ۚ إِنِّي أَرَاكُم بِخَيْرٍ وَإِنِّي أَخَافُ عَلَيْكُمْ عَذَابَ يَوْمٍ مُّحِيطٍ ۝ وَيَا قَوْمِ أَوْفُوا الْمِكْيَالَ وَالْمِيزَانَ بِالْقِسْطِ ۖ وَلَا تَبْخَسُوا النَّاسَ أَشْيَاءَهُمْ وَلَا تَعْثَوْا فِي الْأَرْضِ مُفْسِدِينَ ۝ ‘আর মাদইয়ানবাসীদের কাছে আমি তাদের ভাই শুআইবকে পাঠিয়েছিলাম। সে বলেছিল, “হে আমার সম্প্রদায়! তোমরা আল্লাহর ইবাদাত করো, তিনি ছাড়া তোমাদের কোনো ইলাহ নেই। আর মাপে ও ওজনে কম দিয়ো না। আমি তোমাদের ভালো অবস্থাতেই দেখছি, কিন্তু আমি তোমাদের ওপর এক সর্বগ্রাসী দিনের আযাবের ভয় করছি। হে আমার সম্প্রদায়! মাপ ও ওজন ইনসাফের সঙ্গে পূর্ণ করো, লোকদেরকে তাদের প্রাপ্য বস্তু কম দিয়ো না এবং যমীনে বিপর্যয় সৃষ্টি করে বেড়িয়ো না।”’ হূদ (আলাইহিস সালাম) আদ জাতির প্রতি প্রেরিত হয়েছিলেন, যারা ছিল উদ্ধত, অহংকারী, অত্যাচারী। তিনি তাদের অহংকার, জুলুম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে সতর্ক করেছিলেন: أَتَبْنُونَ بِكُلِّ رِيعٍ آيَةً تَعْبَثُونَ ۝ وَتَتَّخِذُونَ مَصَانِعَ لَعَلَّكُمْ تَخْلُدُونَ ۝ وَإِذَا بَطَشْتُم بَطَشْتُمْ جَبَّارِينَ ۝ فَاتَّقُوا اللَّهَ وَأَطِيعُونِ ۝ ‘তোমরা কি প্রতিটি উঁচু স্থানে অনর্থক স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ করছ? আর তোমরা প্রাসাদ নির্মাণ করছ এই মনে করে যে, তোমরা চিরস্থায়ী হবে? আর যখন তোমরা আঘাত করো, তখন আঘাত করো স্বেচ্ছাচারী হয়ে। সুতরাং তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং আমাকে অনুসরণ করো।’ কুরআন এবং হাদীসে এমন উদাহরণ অনেক। নবীজি ﷺ-এর জীবনজুড়ে ছড়িয়ে আছে সৎ কাজের আদেশ ও মন্দ কাজে নিষেধের দৃষ্টান্ত। আল্লাহ কুরআনে বলেছেন, ... يَأْمُرُهُم بِالْمَعْرُوفِ وَيَنْهَاهُمْ عَنِ الْمُنكَرِ وَيُحِلُّ لَهُمُ الطَّيِّبَاتِ وَيُحَرِّمُ عَلَيْهِمُ الْخَبَائِثَ ... ‘...তিনি তাদেরকে সৎ কাজের আদেশ দেন ও বারণ করেন অসৎ কাজ থেকে এবং তাদের জন্য পবিত্র বস্তু হালাল করেন আর অপবিত্র বস্তু হারাম করেন।’ মহান আল্লাহ কুরআনে একে মুসলিম উম্মাহর মৌলিক বৈশিষ্ট্য হিসেবেও চিহ্নিত করেছেন। বলেছেন, وَالْمُؤْمِنُونَ وَالْمُؤْمِنَاتُ بَعْضُهُمْ أَوْلِيَاءُ بَعْضٍ ۚ يَأْمُرُونَ بِالْمَعْرُوفِ وَيَنْهَوْنَ عَنِ الْمُنكَرِ ‘আর মুমিন পুরুষ ও মুমিন নারীরা একে অপরের বন্ধু, তারা সৎ কাজের আদেশ দেয় আর অসৎ কাজে নিষেধ করে…’ এবং তিনি বলেছেন, كُنتُمْ خَيْرَ أُمَّةٍ أُخْرِجَتْ لِلنَّاسِ تَأْمُرُونَ بِالْمَعْرُوفِ وَتَنْهَوْنَ عَنِ الْمُنكَرِ وَتُؤْمِنُونَ بِاللَّهِ ۗ ‘তোমরাই শ্রেষ্ঠ উম্মত, মানব জাতির কল্যাণের জন্য তোমাদের উদ্ভব ঘটানো হয়েছে, তোমরা সৎ কাজের আদেশ দেব, অসৎ কাজ থেকে নিষেধ করবে এবং আল্লাহর প্রতি ঈমান আনবে।’ নবীজি ﷺ আমাদের শিখিয়েছেন অন্যায়ে বাধা দেওয়ার সাথে সম্পর্ক আছে ঈমানের। তিনি বলেছেন:

. আমি আন্তরিকভাবে দুআ করি, তাদের পরবর্তী প্রজন্মের স্বার্থে আল্লাহ্‌ যেন তাদের এই পথ থেকে সময় থাকতে ফেরত আনেন। . . ৬. দেখুন হিন্দু সমাজে যখন বেঙ্গল রেনেসাঁ হয়েছে তার কাছাকাছি সময়ে বাংলা এবং ভারতবর্ষের মুসলিম সমাজেও ইসলাহী তথা সংস্কার আন্দোলন হয়েছে। যেমন: তরীকায়ে মুহাম্মাদিয়া, ফরায়েযী আন্দোলন, তাইউনি আন্দোলন ইত্যাদি। এর মধ্যে কিছু কিছু আন্দোলন তাজদীদে রূপ নিয়েছে। . এসব আন্দোলনের মধ্যে শাখাগত নানা পার্থক্য থাকলেও মৌলিকভাবে এ আন্দোলনগুলোর লক্ষ্য ছিল কুরআন-সুন্নাহর আলোকে মুসলিম সমাজের ইসলাহ। সমাজকে থেকে কুফর, শিরক, বিদআহ এবং উপমহাদেশীয় পৌত্তলিকতার প্রভাব থেকে মুক্ত করা। এ আন্দোলনগুলোর চোখে আদর্শ সমাজ ছিল সাহাবায়ে কেরাম (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুম)-দের সমাজ। অনুসরনীয় ছিলেন সালাফুসসালিহিনগণ। অর্থাৎ হিন্দু ও মুসলিম; দুই সমাজেই সংস্কার হলেও, এদের চরিত্র, গতিপথ, উদ্দেশ্য ও ভিত্তি ছিল সম্পূর্ণ আলাদা। . লক্ষ্যনীয় বিষয় হল হাজী শরীয়াতুল্লাহ, তিতুমীরদের আরও বেশি হিন্দুয়ানী আগ্রাসনের মোকাবেলা করতে হয়েছিল। মুসলিম সমাজে পৌত্তলিক প্রভাব তখন এখনকার চেয়েও বেশি ছিল। . বাংলার মুসলিম সমাজের ঈমান, আমল ও সাংস্কৃতিক অবস্থা নিয়ে কেয়ামুদ্দীন আহমাদ, মুইনউদদীন খান, আহসান ফয়সাল এবং মোহর আলীদের লেখায় বিস্ময়কর সব বিবরণ পাবেন। তার সাথে ছিল হিন্দু জমিদার এবং ব্রিটিশদের দিক থেকে আসা নানা প্রতিকূলতা। . এই সব বাস্তবতাকে সামনে রেখেই হাজী শরীয়াতুল্লাহ, দুদু মিয়া, তিতুমীররা সমাজ সংস্কারের প্রকল্প হাতে নিয়েছিলেন। নতুন করে আত্মপরিচয় নির্মাণ করেছিলেন। হেটেছিলেন দাওয়াহ, ইসলাহ ও তাজদীদের পথে। একই কথা তরীকায়ে মুহাম্মাদিয়া, আকাবীরে দেওবন্দ, আকাবীরে আহলে হাদিস- সবার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। . তারা কিন্তু কোন অবস্থাতেই শরীয়াহ, তাকওয়া এবং দ্বীনের মেজাজের সাথে আপোস করেননি। তারা বলেননি এখন অবস্থা খুব ক্রিটিকাল তাই শরীয়াহ এক পাশে সরিয়ে রাখতে হবে। বরং হালাল-হারামের সীমার ভেতরে, তাকওয়া ইখতিয়ার করেই তারা সমাজ সংস্কারের কাজ হাতে নিয়েছিলেন এবং সফলও হয়েছিলেন। . কাজী মোতাহের হোসেন কিংবা মুসলিম লীগ না, আত্মপরিচয় নির্মাণের সংগ্রাম এবং সাংস্কৃতিক যুদ্ধের ক্ষেত্রে সালাফুস সালেহিন এবং আইম্মায়ে কেরাম এর পর পর আমাদের আদর্শ হওয়া উচিত এই সব মহান ব্যক্তিরা। . ইতিহাস আমাদের দেখিয়েছে—যে মুসলিম সমাজ ওপরিচয়ের ভিত্তি তাকওয়াহ না, শরীয়াহ না, সে সমাজ ও পরিচয় শেষ পর্যন্ত টেকে না। আজ যারা শরীয়াহকে বাদ দিয়ে ‘পারফরমেটিভ মুসলিমনেস’ তৈরি করতে চাচ্ছেন—তাদের গন্তব্য সেই পুরনো, চেনা পরাজয়। . অতএব, নতুন করে আত্মপরিচয়ের প্রশ্ন তুললে, আমাদের ফিরে তাকাতে হবে সেই পথের দিকে যেটা শরীয়াহর সীমায় থেকে সংস্কার করেছে, অনুসরণ করতে হবে আমাদের নেককার পূর্বসুরীদের পদচিহ্ন। অন্য কোনো পথ শুধু ভ্রান্তিই বাড়াবে—উম্মাহকে গন্তব্যহীন বিশৃঙ্খলার গোলকধাঁধায় ঠেলে দেবে। ভাইয়া আসিফ আদনান

. তবে এই কাজটা করতে হবে শরীয়াহর সীমার ভেতরে থেকে। তাকওয়া এবং হালাল-হারামের দিকে সতর্ক নজরের সাথে। দুঃখজনকভাবে, বাঙ্গালি পরিচয়কে রিক্লেইম করা বা পুনঃদখলের ব্যাপারে অনেকের অনেক আগ্রহ থাকলেও সেখানে শরীয়াহর সীমানা এবং তাকওয়ার বিষয়টি চরমভাবে উপেক্ষিত হচ্ছে। . আমরা দেখছি এক ধরনের কালচারাল মুসলিম আইডেন্টিটি তৈরির চেষ্টা সমাজে আছে যেখানে এ বিষয়গুলো একেবারেই অনুপস্থিত। মিলাদ, কাওয়ালী, মাজার – বা এ জাতীয় বিষয়গুলোকে মুসলিম আইডেন্টিটির মার্কার হিসেবে আনার চেষ্টা করা হচ্ছে। . কিন্তু ইসলামী হারমানিউটিক্স বা সহজ এবং কিছুটা রিডাকটিভভাবে বললে, শরীয়াহর জায়গা থেকে এ ব্যাপারগুলো নিয়ে প্রশ্ন করা তোলা হলে উগ্রবাদী, মৌলবাদী ইত্যাদি পুরনো ট্যাগ দেয়া হচ্ছে। সাথে যুক্ত হয়েছে নতুন ট্যাগ – সামাজিক ফ্যাসিবাদ। . যখন শরীয়াহর জায়গা থেকে হালাল-হারাম বা বিদআহ-র প্রশ্ন আসছে তখন সংস্কৃতি, পূর্বপুরুষের আমল কিংবা আবেগের দোহাই দেয়া হচ্ছে। বলা হচ্ছে, হিন্দুয়ানি সংস্কৃতির বিরুদ্ধে বিকল্প তৈরি করতে হলে আমাদেরকে মিলাদ, কাওয়ালি, উরশের মত ‘লোকায়ত ইসলামী’ সংস্কৃতি আকড়ে ধরতে হবে। ‘বিশুদ্ধতাবাদী’ হতে গিয়ে আপনি সব কিছু বাদ দেন তাহলে মানুষ তো কনসার্ট আর হোলিতে মজবেই। . যারা এসব চেষ্টা করছেন তাদের মধ্যে এক দল সচেতনভাবে একধরনের ‘পারফর্মেটিভ মুসলিমনেস’ তৈরি করতে চান। যেখানে ‘মুসলমানিত্ব’ একটা সামাজিক-রাজনৈতিক হাতিয়ার, যেখানে ঈমান ও শরীয়াহ অপ্রাসঙ্গিক। তারা সচেতনভাবেই ‘মুসলিমনেস’-কে সেক্যুলারাইয করতে চান। . আরেক দল সম্ভবত আন্তরিকভাবেই ইসলাম এবং মুসলিম সমাজের খেদমত করতে চান। তবে তারা বেইসিকালি ধরে নিয়েছেন ইসলামের খেদমত করতে হলে ইসলামের সাথে সাংঘর্ষিক পথেই যেতে হবে, এর বিকল্প নেই। . এই অবস্থানের প্রকৃত তাৎপর্য তারা বোঝেন কি না, আমি জানি না। তবে এই অবস্থান গ্রহণের অর্থ হল, ইসলামকে যদিও আমরা পূর্ণাঙ্গ জীবনবিধান বলছি, কিন্তু ইসলামের জন্য কাজ করার জন্য ইসলাম বেঁধে দেয়া সীমানার মধ্যে থাকা সম্ভব না। এই ধরনের অবস্থান অনিবার্যভাবে এটা ঈমানের সংকট তৈরি করবে। . . ৫. পরিচয় নির্মাণ এবং সাংস্কৃতিক লড়াইয়ের ক্ষেত্রে শরীয়াহর সীমানা এবং তাকওয়ার বিষয়টি যদি উপেক্ষিত হয়, যদি সাময়িক অর্জনকে সামনে রেখে ইসলাম থেকে বিচ্ছিন্ন করে ‘পারফর্মেটিভ মুসলিমনেস’-কেই আকড়ে ধরা হয়-- তাহলে এধরনের প্রকল্প শুধু যে ব্যর্থ হবে তা না, বরং এটা সমাজের উল্লেখযোগ্য একটা অংশকে গোমরাহীর দিকে নিয়ে যাবে। . ইসলাম বাদ দিয়ে কালচারাল মুসলিম পরিচয় তৈরির প্রকল্প টেকসই না। শবে বরাতের হালুয়া, ঈদের পাঞ্জাবী, তাজিয়া মিছিল, রুমির কবিতা, কাওয়ালী সন্ধ্যার মিশেল দিয়ে মজবুত কোন কাঠামো তৈরি করা যাবে না। এগুলো দিয়ে সম্ভব না লিবারেল-সেক্যুলারিসমের তাণ্ডব থামানো। . এই প্রকল্প অলরেডি লিবারেল সেক্যুলারিসমের কাছে হার মেনে বসে আছে। হার মেনেছে দেখেই ইসলামকে বাদ দিয়ে কালচারাল মুসলিম পরিচয় খুজছে। হালাল-হারামের বদলে জাস্ট অ্যাআস্থেটিক্সের হিসাব কষছে। . এই প্রজন্মের কাওয়ালীপন্থী লোকেদের সন্তানেরা কনসার্টেই গিয়ে হাজির হবে। সর্বোচ্চ দুই প্রজন্মের মধ্যে। কথাটা এতো আত্মবিশ্বাসের বলছি, কারণ এমনটা আগেও হয়েছে। . ১৯২০/৩০ এর দশকে বাঙ্গালি মুসলিম সমাজের মধ্যে বুদ্ধির মুক্তি’ নামে বিভিন্ন আন্দোলন চালু হয়েছিল। কাজী মোতাহার হোসেন, কাজী আবদুল ওদুদ এবং আবুল হুসেনের মতো ব্যক্তিরা ছিলেন এগুলোর প্রথম সারির মানুষ। শিখা পত্রিকা, মুসলিম সাহিত্য সমাজ ইত্যাদি ছিল এই উদ্যোগের অংশ। . এই বুদ্ধিজীবিরা ছিলেন আদর্শিকভাবে ইউরোপীয় এনলাইটেনমেন্ট এবং লিবারেলসিম দ্বারা প্রভাবিত। অন্যদিকে চিন্তিত ছিলেন মুসলিম সমাজের স্বার্থ নিয়েও। কিন্তু তারাও ইসলামকে বাদ দিয়ে মুসলিম পরিচয় বানাতে চেয়েছিলেন। ফলে এক প্রজন্মের মধ্যেই মর্মান্তিক ফলাফল এসেছে। কাজী মোতাহার হোসেনদের ঘর থেকে ছায়ানটের সন্‌জীদা খাতুন বের হয়েছে। . একই ধরনের প্যাটার্ন দেখা যায় মুসলিম লীগের রাজনীতিবিদদের পরিবারে। তারাও রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিকভাবে মুসলিম পরিচয়কে গ্রহণ করেছিলেন। এর ভিত্তিতে বড়, এমনকি ঐতিহাসিক সফলতাও পেয়েছিলেন। কিন্তু ঈমান, শরীয়াহ ও তাকওয়ার দিকগুলো উপেক্ষা করার ফল ভুগতে হয়েছে তাদেরকেও। . এক থেকে দুই প্রজন্মের মধ্যে পারফরমেটিভ কিংবা কালচারাল মুসলিমনেস উবে গেছে। রয়ে গেছে কেবল লিবারেল-সেক্যুলারিসম। আবুল মনসুর আহমেদদের ঘর থেকে বের হয়েছে মাহফুজ আনামরা। এমন উদাহরণ বাংলা এবং পাকিস্তানে আরও অনেক। . আজ যারা ডারতীয় এবং বিন্দুত্বনব।দী প্রভাব মোকাবেলার জন্য লিবারেল-সেক্যুলারিসমের ফ্রেইমের মধ্যে পারফরমেটিভ মুসলিমনেসকে আকড়ে ধরছেন, তাদের নিয়্যাত ভালো হতে পারে, কিন্তু তারা একই পথে হাটছেন, একই গন্তব্যের দিকে।

কনসার্টে শেষ হবে কাওয়ালির গল্প: কালচার, না দ্বীন ইসলাম? . ১. ইসলামের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হল এটি দ্বীনুল ফিতরাহ। এই দ্বীন মানবপ্রকৃতি, জীবনের বাস্তবতা ও চাহিদাগুলোর সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। এই দ্বীন এসেছে কিয়ামত পর্যন্ত সমগ্র মানবজাতির জন্য। কোন একটা জাতি, অঞ্চল বা সময়ের জন্য না। তাই ইসলামের মধ্যে আছে প্রশস্থতা। . মহান আল্লাহ আমাদের একটা মৌলিক কাঠামো দিয়েছেন। কিছু নির্দিষ্ট প্যারামিটার আর সীমানা ঠিক করে দিয়েছেন। এগুলোকে অক্ষত রেখে বৈচিত্র্যের সুযোগ ইসলামে আছে। . যেমন ইসলাম এক অঞ্চলের মানুষকে অন্য অঞ্চলের মানুষের ভাষা, খাদ্যাভ্যাস বা সামাজিক রীতিনীতি অনুসরণ করতে বলে না। ইসলাম বাংলার মানুষকে বলে না, আরবের মানুষের খাবার খেতে। . একইভাবে ইসলাম আফ্রিকার মানুষকে বলে না পারস্যের মানুষের ভাষায় কথা বলতে। কুরআন-সুন্নাহ তথা ইসলামী ইলমের ভাষা হবার কারণে আরবীর বিশেষ মর্যাদা আছে, কিন্তু কোন ভাষাকে ইসলাম সত্তাগতভাবে নাকচ করে না। . ইসলাম বৈচিত্র্য অ্যাকোমোডেট করে। প্রত্যেক সমাজের নিজস্ব কিছু আচরণ এবং বৈশিষ্ট্য থাকে। শরীয়াহর সাথে সাংঘর্ষিক না হলে, ইসলাম সেগুলোকে বাদ দিতে বলে না। একারণেই মুসলিম জাতির ইতিহাসে বিভিন্ন ধরণের বৈচিত্র্য দেখা যায়। . যতক্ষণ পর্যন্ত শরীয়াহর শর্তগুলো মানা হচ্ছে ততোক্ষণ এ ধরণের বৈচিত্র্যে কোন সমস্যা নেই। বরং রাজনৈতিকভাবে উম্মাহকে একত্রিত করার ক্ষেত্রে এই পার্থক্যগুলো মাথায় রেখে হিসেব করা জরুরী। তবে অবশ্যই সুন্নাহর অনুসরণ প্রশংসিত, উত্তম এবং অধিক কাম্য। . সংক্ষেপে এটা হল লোকাল কালচার, লোকাল আইডেন্টিটির ব্যাপারে ইসলামের অবস্থান। . . ২. ইসলামের কোন দিক যদি স্থানীয় সংস্কৃতির সাংঘর্ষিক হয়? অথবা স্থানীয় সংস্কৃতির কোন দিক যদি সাংঘর্ষিক হয় ইসলামের সাথে? তাহলে কোনটা প্রাধান্য পাবে? . মুমিন এবং পাক্কা সেক্যুলার, দু'দলই এই প্রশ্নের সংক্ষিপ্ত এবং স্পষ্ট উত্তর দিতে পারে। . সেক্যুলার বলে, সংস্কৃতি প্রাধান্য পাবে। ইসলামকে সংস্কৃতির অধীন বানাতে হবে। ঐ যে মিতা হক বলেছিল, তুমি মুসলিম হও ভাল কথা, কিন্তু তুমি বাঙ্গালি না কেন? অথবা অনেকে যেমন বলে থাকে, ‘আরবের ইসলাম চলবে না, লোকায়ত ইসলাম চলবে। . এই হল সেক্যুলারদের অবস্থান। ইসলামের যে বিষয়গুলো আঞ্চলিক সংস্কৃতি এবং পশ্চিমা-লিবারেল ভ্যালুর সাথে মিলবে, সেগুলো আমরা গ্রহণ করবো। বাকিগুলো বাদ দেবো। . আর মুমিনের উত্তরও এখানে স্পষ্ট – সে বলবে ইসলাম সর্বাবস্থায় প্রাধান্য পাবে। ইসলাম নিয়ন্ত্রন করবে, নিয়ন্ত্রিত হবে না। দেশীয় সংস্কৃতির যা কিছু ইসলামের সাথে সাংঘর্ষিক না, সেগুলো আমরা গ্রহণ করতে পারি। যা কিছু সাংঘর্ষিক এবং/অথবা কুফফ| রের অনুকরণের অন্তর্ভুক্ত সেগুলো আমরা বাদ দেবো। . . ৩. বর্তমানে যে ‘বাঙ্গালি’ পরিচয় এবং বাঙ্গালি সংস্কৃতির ন্যারেটিভ, এটার র পেছনে ইতিহাসের দুটো অধ্যায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। একটা হল ১৮ এবং ১৯’শ শতাব্দীতে হিন্দু সমাজের মধ্যে চলা কলকাতাকেন্দ্রিক সমাজ সংস্কার আন্দোলন। যেটাকে বেঙ্গল রেনেসাঁ বলা হয়। অন্যটা হল, ১৯৫০ ও ৬০ এর দশকে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে চলা বাঙ্গালি জাতীয়তাবাদী আন্দোলন। . বেঙ্গল রেনেসাঁ বা বাংলার নবজাগরণ ছিল উচ্চ বর্ণের হিন্দুদের একটা সামাজিক ও সাংস্কৃতিক আন্দোলন। এই আন্দোলন বাঙালি পরিচয় ও বাঙালি সংস্কৃতির যে ধারণা তৈরি করলো তা ছিল বৈদিক সভ্যতা এবং হিন্দু ধর্ম ও পুরাণ আশ্রিত। বেঙ্গল রেনেসাঁ মূলত উপমহাদেশীয় পৌত্তলিকতার সাংস্কৃতিক রূপ রূপকে বাঙালি পরিচয় ও সংস্কৃতি আকারে নির্মাণ করলো। . পূর্ব পাকিস্তানে চলা বাঙ্গালি জাতীয়তাবাদী আন্দোলন বাঙ্গালিত্ব এবং বাঙালি সংস্কৃতির ধারণাগুলো ধার করে বেঙ্গল রেনেসাঁর কাছ থেকে। এসময় সচেতনভাবে পাকিস্তানী ও মুসলিম পরিচয়ের বিপরীতে বাঙ্গালি পরিচয়কে নিয়ে আসা হয়। . পাকিস্তানের ফর্মেশানের পেছনে মুসলিম পরিচয়ের ছিল কেন্দ্রীয় ভূমিকা। যেহেতু পাকিস্তান তৈরি হয়েছিল মুসলিম পরিচয়ের নামে, আর বাঙ্গালি জাতীয়তাবাদী আন্দোলন চাচ্ছিলো বাঙ্গালি পরিচয়কে পাকিস্তানী পরিচয়ের কাউন্টার হিসেবে দাড় করাতে, তাই এখানে মুসলিম পরিচয়কে ডাউনপ্লে করার ব্যাপার ছিল। . বর্তমানে ‘বাঙালি’ এবং ‘বাঙালি সংস্কৃতি’ বলতে বাঙালি জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের হাত ঘুরে আসা বেঙ্গল রেনেসাঁর সংজ্ঞা আর ফর্মেশানকেই গ্রহণ করা হয়। এটাই বাঙ্গালিত্ব ও বাঙ্গালিয়ানার প্রিমডমিন্যান্ট অর্থ। এটাকে বর্তমানে ডিসকোর্সের দিক থেকে একমাত্র ফাংশানাল অর্থ বললেও হয়তো ভুল হবে না। . . ৪. বাঙ্গালিত্ব ও বাঙ্গালিয়ানার এই হেজেমনিক ন্যারেটিভের বিপরীতে মুসলিমবঙ্গের ঐতিহ্যকে পুনরুজ্জীবিত করার প্রচেষ্টা ইতিবাচক। সেটা সাহাবা মসজিদ, ওলি-আউলিয়া, সুলতানী আমলকে ধরে হোক কিংবা ফরায়েযী, কিংবা তিতুমীরদের তাজদীদি আন্দোলনকে সামনে রেখে হোক।

যুহুদ। Shaikhul Hadith Mufti Abu Imran Hafizahullah.