fa
Feedback
Abdullah bin bashir

Abdullah bin bashir

رفتن به کانال در Telegram

প্রয়োজনীয় পিডিএফ ও ব্যক্তিগত নোট

نمایش بیشتر

📈 تحلیل کانال تلگرام Abdullah bin bashir

کانال Abdullah bin bashir (@abdullahbinbashir) در بخش زبانی بنگالی بازیگری فعال است. در حال حاضر جامعه شامل 11 329 مشترک است و جایگاه 7 971 را در دسته دین و مذهبی و رتبه 2 067 را در منطقه بنغلاديش دارد.

📊 شاخص‌های مخاطب و پویایی

از زمان ایجاد در невідомо، پروژه رشد سریعی داشته و 11 329 مشترک جذب کرده است.

بر اساس آخرین داده‌ها در تاریخ 25 اوت, 2026، کانال فعالیت پایداری دارد. در ۳۰ روز گذشته تغییر اعضا برابر 70 و در ۲۴ ساعت گذشته برابر 3 بوده و همچنان دسترسی گسترده‌ای حفظ شده است.

  • وضعیت تأیید: تأیید نشده
  • نرخ تعامل (ER): میانگین تعامل مخاطب 15.79% است و در ۲۴ ساعت نخست پس از انتشار، محتوا معمولاً 5.63% واکنش نسبت به کل مشترکان کسب می‌کند.
  • دسترسی پست‌ها: هر پست به طور میانگین 1 788 بازدید دریافت می‌کند. در اولین روز معمولاً 638 بازدید جمع‌آوری می‌شود.
  • واکنش‌ها و تعامل: مخاطبان به‌طور فعال حمایت می‌کنند؛ میانگین واکنش به هر پست 33 است.

📝 توضیح و سیاست محتوایی

نویسنده این فضا را محل بیان دیدگاه‌های شخصی توصیف می‌کند:
প্রয়োজনীয় পিডিএফ ও ব্যক্তিগত নোট

به لطف به‌روزرسانی‌های پرتکرار (آخرین داده در تاریخ 26 اوت, 2026)، کانال همواره به‌روز و دارای دسترسی بالاست. تحلیل‌ها نشان می‌دهد مخاطبان به‌طور فعال با محتوا تعامل دارند و آن را به نقطه اثرگذاری مهم در دسته دین و مذهبی تبدیل کرده‌اند.

11 329
مشترکین
+324 ساعت
+367 روز
+7030 روز
آرشیو پست ها
Repost from N/a
রাসুলুল্লাহ ﷺ-এর জীবন ও কর্মের ইতিহাস শুধু মুসলমানদের ধর্মীয় আবেগের বিষয় নয়, বরং ইসলামের ইতিহাস ও সভ্যতার অন্যতম প্রধান ভিত্তি। নবিজীবনকে জানার জন্য রচিত হয়েছে বিপুল পরিমাণ সীরাত-সাহিত্য। কিন্তু এই বিশাল সাহিত্যভাণ্ডারের উৎস কী? এর ঐতিহাসিক ভিত্তি কতটা শক্তিশালী? কোন কোন সূত্র ও উপাদানের ওপর দাঁড়িয়ে সীরাতের বর্ণনাগুলো গড়ে উঠেছে? আর বর্তমান সময়ে সীরাত পাঠের প্রয়োজনই বা কতটা? সীরাত পাঠ নিয়ে নানা আলোচনা থাকলেও সীরাতশাস্ত্রের উৎস, প্রকৃতি ও পাঠপদ্ধতি নিয়ে আমাদের মাঝে খুব বেশি সুসংগঠিত আলোচনা দেখা যায় না। একইভাবে, রাসুলুল্লাহ ﷺ-এর জীবন থেকে ব্যক্তি ও সমাজের জন্য কীভাবে দিকনির্দেশনা গ্রহণ করা যায়, সে প্রশ্নটিও নতুন করে ভাবার প্রয়োজন রয়েছে। এই বিষয়গুলোকে সামনে রেখে রবিউল আউয়াল মাসের এই সীরাত আবহে তারিখল্যাব আয়োজন করছে অফলাইন ‘সীরাত হালাকাহ’। আলোচক হিসেবে থাকছেন জামিআতুত দুওয়ালিল আরাবিয়্যাহ, মিসর এ মাস্টার্স অধ্যায়নরত ফয়েজ আহমাদ ও বিজ্ঞ লেখক,অনুবাদক ইমরান রাইহান। ফয়েজ আহমাদ আলোচনা করবেন সীরাতশাস্ত্রের উৎস, প্রকৃতি ও প্রাসঙ্গিক পর্যালোচনা নিয়ে। সীরাতের প্রাথমিক উৎস, এর বিকাশ এবং সীরাত পাঠের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় ঐতিহাসিক ও পদ্ধতিগত দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে থাকবে তাঁর আলোচনা। অন্যদিকে ইমরান রাইহান আলোচনা করবেন সীরাত পাঠের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে। আজকের সময়ে কেন আমাদের সীরাত চর্চা জরুরি, এবং রাসুলুল্লাহ ﷺ-এর জীবনকে কীভাবে আমাদের চিন্তা, চরিত্র ও জীবনবোধের সঙ্গে যুক্ত করা যায়, আলাপ হবে সে বিষয়েও। সীরাতের প্রতি আগ্রহী পাঠক, ইতিহাসপ্রেমী এবং রাসুলুল্লাহ ﷺ-এর জীবনকে আরও গভীরভাবে জানতে আগ্রহী সবাইকে এই আয়োজনে আমন্ত্রণ। তারিখল্যাবের এই সেশনটি সবার জন্য উন্মুক্ত। এর জন্য অশেষ কৃতজ্ঞতা আমাদের স্পন্সর পারফিউমেন্স কর্তৃপক্ষের। 📅 তারিখ: ২০ আগস্ট ২০২৬, বৃহস্পতিবার 🕰️ সময়: বাদ আসর থেকে এশা 📍 স্থান: এমইসি কনভেনশন হল, শেওড়াপাড়া। শেওড়াপাড়া মেট্রোর পাশেই মাহফিল কনভেনশন সেন্টারের ভবন৷ ৬ তলা সীরাতের মাসে ইতিহাসের আলোকে নবিজীবনকে নতুন করে জানার এই মুবারক আয়োজনে আপনাদের সবাইকে স্বাগত।

Repost from N/a
photo content

আফগানের বিজয় উৎসবে এই দুজনের ছবি কেন?!
আফগানের বিজয় উৎসবে এই দুজনের ছবি কেন?!

photo content

Sabil Ar-rashad - The Path of Guidance.pdf1.02 MB

ইলহামির সাবিলুর রাশাদ বইটা শেষ করলাম। ইনশাআল্লাহ, বইটি নিয়ে আলাপ করার ইচ্ছে আছে। একদম শেষের দিকে এই লাইনগুলো বলেছেন ইলহামি।
+1
ইলহামির সাবিলুর রাশাদ বইটা শেষ করলাম। ইনশাআল্লাহ, বইটি নিয়ে আলাপ করার ইচ্ছে আছে। একদম শেষের দিকে এই লাইনগুলো বলেছেন ইলহামি।

বাদাখশানে তালেবরা কেনো মানুষ মারতেছে? . কেউ কোনো অধিকারের জন্য—চাই তা ন্যায্য হোক বা অন্যায্য—নিরস্ত্রভাবে যদি আন্দোলন করে, সেই আন্দোলনকারীদের গু*লি করে হ*ত্যা করা একটা অন্যায়। চাই এটা তালেবান করুক বা এরদোয়ান। . তালেবদের ব্যাপারে একটা অভিযোগ উঠেছে, তালেবরা নাকি মে মাস থেকে বাদাখশানে আন্দোলনকারীদের নিয়মিত গু*লি করে হ*ত্যা করতেছে৷ স্বাভাবিক এমন অভিযোগ শুনে খারাপ লাগলো। কিন্তু অভিযোগগুলো একটু যাচাই করে যেটা বুঝলাম, বিষয়টিকে যতটা সরল করে উপস্থাপন করা হচ্ছে তা এত সরল নয়। অভিযোগ থেকে মনে হচ্ছে বাদাখশানে তালেবরা শত শত না হলেও ৫০/৬০ বা ৭০/৮০ জনের মত নিরস্ত্র মানুষকে গ*লি করে মে*ছে। অথচ বিবিসি বহু কৌশল করেও এখন পর্যন্ত মে থেকে আগষ্টের আজকের দিন পর্যন্ত আন্দোলনে তালেবদের গুলিতে নিহিতের সংখ্যা উল্লেখ করতেছে মাত্র ৪ থেকে ৮ জন। এই হলো একদিক। এবার এই ৪ থেকে ৮ জনও নিরস্ত্র অসহায় আন্দোলকারী নয়। বরং ঘটনা হলো, বাদাখশানে এক স্বামী-স্ত্রী হুন্ডায় করে মাদক চোরাচালানের কাজ করতেছিলো। তালেবরা সন্দেহের ভিত্তিতে স্বামী-স্ত্রীকে আটক করলে স্বামী কোনোভাবে পালিয়ে গিয়ে স্থানীয়দের মাঝে ছড়িয়ে দেয়, তালেবরা নারীর গায়ে হাত দিয়ে তল্লাশি করতেছে! বাস, নারীর ইজ্জতের বিষয়ক সেন্সেটিভ আফগান জাতি পুরো বিষয় যাচাই না করেই ক্ষেপে উঠে। আর এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে তালেব বিরোধী স্থানীয়রা লোকদের নিয়ে পুলিশ চৌকিতে সশস্ত্র আক্রমণ করে বসে। তালেবরা পালটা আক্রমণ চালায়। এই হলো ঘটনা। বাকি তালেবদের দাবী হলো, গুলিতে আহত হলেও কোনো নিহিত হয়নি। স্থানীয়দের কিছু কেনো ক্ষেপে উঠলো, যাচাই না করে? মূলত বাদাখশানে আফিম, চোরাকারবারির কাজ ছিলো তুঙ্গে। তালেবরা এগুলো বন্ধ করে সকলকে বৈধ পথে ইনকামের জন্য বলছে এবং বিভিন্ন বৈধ ইনকামের পথও দ্রুত ব্যবস্থা করছে। ঐ যে কিছু খবিসের কাজই হলো অন্যায়ভাবে টাকা কামিয়ে বড়লোক হওয়া! একটি ইসলামি শাসন তো কখনোই কর্মসংস্থানের নামে অবৈধ কাজের রাস্তা খোলা রাখতে পারে না। এগুলো ইসলামি গণতন্ত্রের স্লোগান তোলা ভণ্ডগুলোর পক্ষেই সম্ভব। . মে থেকে আগষ্টের যে আন্দোলনে ৪ থেকে ৮ জনের নি*হিতের খবর বিবিসি করতেছে তার মধ্যে একটি বড় ঘটনা হলো জুলাইতে। বাদাখশানের এক সশস্ত্র বিদ্রোহী গোষ্ঠী হলো সেপাহ-ই মিহান ফ্রন্ট। তারা বাদাখশানের একটি জেলায় আক্রমণ করে তালেবদের হটিয়ে দেয়। তালেবরা এরপর পালটা আক্রমণ চালিয়ে জেলাটি পুনরূদ্ধার করে। একটি সশস্ত্র বিদ্রোহীদের তো ফুল ছিটিয়ে ছড়ানো সম্ভব নয়! . এই হলো মোটামুটি চিত্র যা কিছু ঘাটাঘাটি করে পেলাম। তালেবদের অবশ্যই স্থানীয়দের সাথে আরো সতর্কতা ও আন্তরিকতার সাথে বিষয়গুলো ডিল করা উচিত। কিন্তু দুইটা সশস্ত্র গোষ্ঠীর সাথে এই দীর্ঘ সময় করে আটজন মানুষ (যদি ধরে নেই) নিহিত হওয়া কী খুবই বড় ঘটনা? . তালেবরা সাহাবাদের জামাত না৷ তাদের পলিসিতে ভুল থাকতে পারে। তাদের কারো ব্যক্তিগত ত্রুটিও থাকতে পারে। তাদের কিছু কৌশল হয়তো সময়ের সাথে অনুপযুক্ত ও শরীয়াহ বিরোধীও হয়তো হয়ে যেতে পারে৷ আর যেটা ভুল সেটা অবশ্যই ভুল। কিন্তু এই সবকিছুর পরও সামগ্রিকভাবে বর্তমান পৃথিবীর মুসলিম উম্মাহের জন্য এই দল আল্লাহর রহমত এবং উম্মাহের জন্য আদর্শস্বরূপ। . সোর্স: ১। আগষ্টের ঘটনা সম্পর্কে “কাবুল নাউ” এর নিউজ। https://kabulnow.com/2026/08/taliban-confirm-injuries-during-badakhshan-protest-as-reports-allege-deadly-crackdown/?utm_source=chatgpt.com ২। জুলাইতে হওয়া ঘটনা সম্পর্কে আফগান ইন্টারন্যাশনাল সাইটের নিউজ https://www.afintl.com/en/202608018810

যেকোনো শাস্ত্র নিয়ে বিস্তর পড়াশোনা করা কারো লেখা পড়ার একটা ফায়দা হলো, সংশ্লিষ্ট বিষয়ে আপনার অল্প-বিস্তর যাই পড়াশোনা থাকুক, তারপরও উক্ত বই থেকে ব্যাপকভাবে উপকৃত হবেন। এবং এমন অনেক নোট করার মত বিষয় পাবেন যা হয়তো আপনার পড়াশোনার পরিধিতে ছিলো না। ইমাম মাহদি, দাজ্জাল এই সকল বিষয়ে লিখিত বইয়ের প্রতি সবসময় একটা আগ্রহ কাজ করে। সে হিসেবে বিজ্ঞ উস্তাদদের তত্ত্বাবধানে উলুমুল হাদিস বিষয়ক বিস্তর পড়াশোনা করা মাওলানা ইবরাহিম সাহেবের লেখা এই বইটির সংবাদ যখন পাই, তখন থেকেই বইটি পড়ার ইচ্ছে ছিলো। আলহামদুলিল্লাহ, কিছুদিন আগে সংগ্রহ হলে দ্রুতই বইটি পড়ে ফেলি এবং গুরুত্বপূর্ণ এমন অনেক নোট পাই, যা এই বিষয়ে আমার জ্ঞানকে আরো সমৃদ্ধ করেছে। . * বইটি মূলত তিনটি অধ্যায়ে লিখিত। ১. ইমাম মাহদি। ২. দাজ্জাল। ৩. হযরত ঈসা আ.। কেয়ামতের পূর্বের এই তিনজন ব্যক্তিকে নিয়ে সমাজে নানারকম বিভ্রান্তি রয়েছে। সেগুলোর ইলমি ও দালিলিক আলাপ সংক্ষেপে বইটিতে রয়েছে। আলোচনা সংক্ষিপ্ত হলেও তৃপ্তিদায়ক। *লেখক উলুমুল হাদিস বিষয়ক বিজ্ঞ মানুষ হলেও ফেরাকে বাতেলা বিষয়কও লেখকের প্রচুর পড়াশোনা রয়েছে, তা বইটি পড়লে আন্দাজ করা যায়। ইমাম মাহদি বিষয়ক, কাদিয়ানী, হিযবুত তাওহিদ, শিয়াদের যে ভান্তি সেগুলো ফিরকাগুলোর একদম মূল উৎস থেকে লেখম দেখিয়েছেন এবং সংক্ষিপ্ত তবে জোড়ালো খণ্ডন করেছেন। * বইটিতে ইমাম মাহদি বিষয়ক আলোচনায় বেশ উপকৃত হয়েছে। বিশেষত ইমাম মাহদি বিষয়ক নেতিবাচক ও ইতিবাচক উভয় ধরনের ভ্রান্তিগুলো নিয়েই লেখক আলোচনা করেছেন এবং সকল দিকের ভ্রান্তিগুলোর তৃপ্তিদায়ক জবাব দিয়েছে। *সবচেয়ে বেশি ভালো লেগেছে ইমাম মাহদি কেন্দ্রিক ইবনে খালদুন যে ভ্রান্তির স্বীকার হয়েছেন এবং কেনো হয়েছেন তা লেখক একদম গোড়া থেকে দেখিয়েছেন এবং সেগুলোর চমৎকার ও দালিলিক খণ্ডন করেছেন। . আল্লাহ লেখককে উত্তম প্রতিদান দান করুন। উম্মাহের জন্য এমন আরো উপকারী কাজ করার তাওফিক দান করুন।

photo content

প্রতিদিনই আমার এই বিশ্বাস আরও দৃঢ় হচ্ছে যে, মুসলমান বর্তমানে যে সংকটে রয়েছে তা সংশয়ের সংকট নয়। যেগুলো দূর করার জন্য সংশয়ের খণ্ডন, ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ ইত্যাদি করার খুব বেশি প্রয়োজন রয়েছে। বরং এ সংকটটি দূর্বলতা ও ব্যর্থতার। যা মোকাবিলায় প্রয়োজন কর্মদক্ষতা, কাজ সম্পাদনের সামর্থ্য, এবং যোগ্য মানুষ ও প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার সক্ষমতা। কারণ, কোনো সংশয় যতই দুর্বল ও ভিত্তিহীন হোক, তা যদি কোনো শক্তিশালী, বিজয়ী ও ক্ষমতাবান ব্যক্তি বলে, মানুষ তার কথাকে গুরুত্ব দেয়। আবার কোনো সত্য যতই সঠিক ও শক্তিশালী হোক, তা যদি কোনো দুর্বল ও বঞ্চিত মানুষের মুখে উচ্চারিত হয়, মানুষ সেটিকেও ত্রুটিপূর্ণ ও তুচ্ছ মনে করে। এটাই মানুষের স্বাভাবিক প্রবণতা। কিন্তু শক্তির ভারসাম্য যখন বদলে যায়, তখন দৃশ্যপটও বদলে যায়। যে সংশয় একসময় শক্তিশালী পক্ষের প্রভাবে মানুষের চিন্তায় আধিপত্য বিস্তার করেছিল, তা তখন গ্রীষ্মের মেঘের মতো মিলিয়ে যায়। আর যে সত্য এতদিন দুর্বল ও বঞ্চিত মানুষের মুখে থাকায় তুচ্ছজ্ঞান করা হয়েছিল, তার প্রবক্তা যখন বিজয়ী হয়, তখন সেই চিন্তাই মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্য হয়ে ওঠে। মানুষও তখন অনায়াসে তার দিকে ফিরে আসে। -মুহাম্মদ ইলহামি সাবিলুর রশাদ: মাআলিমু তরিকিত তাহাররুরিল ইসলামি, পৃ. ১৩, তৃতীয় মূদ্রণ

বর্তমান যুগে মুসলমান-অমুসলিমদের মধ্যকার সম্পর্কের পার্থক্যরেখা মুছে যাচ্ছে। একই দেশ ও সমাজে একসাথে বসবাসের সুবাদে অতীতের তুলন
বর্তমান যুগে মুসলমান-অমুসলিমদের মধ্যকার সম্পর্কের পার্থক্যরেখা মুছে যাচ্ছে। একই দেশ ও সমাজে একসাথে বসবাসের সুবাদে অতীতের তুলনায় বর্তমানে পারস্পরিক যোগাযোগ ও লেনদেনের প্রয়োজনীয়তা বেশি দেখা দিচ্ছে। তাই এই বিষয়টি বর্তমান জামানার অন্যতম একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। ব্যক্তি থেকে সামাজিক জীবনের প্রতিটি কদমে এর প্রয়োজনীয়তার সম্মুখীন হচ্ছি। এসব কারণে জরুরি হয়ে পড়েছে মুসলমান ও কাফেরদের মধ্যে সম্পর্কের বিভিন্ন দিক এবং তার শরয়ি বিধিবিধান ও মাসআলাগুলোকে ইলমি-আমলি দিক থেকে স্পষ্ট করা। বক্ষ্যমাণ বইটিতে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে সে বিষয়টিই আলোকপাত করা হয়েছে। মুসলিম অমুসলিম সম্পর্ক লেখক: মুফতি উবাইদুর রহমান, অনুবাদ: শায়খ আব্দুল্লাহ বিন বশির মূল্য: ১৭০৳ (২৫% ছাড়ে!)

# শাসক নিজে যদি আলিমের গৃহে আসেন, তবে তাকে স্বাগত জানাতে, সাক্ষাৎ দিতে অসুবিধা নেই। এমন সাক্ষাৎকে যদি সৎকাজের আদেশ ও অসৎকাজের নিষেধ করার সুযোগ হিসেবে কাজে লাগানো হয়, শাসককে দীন ও উম্মাহর কল্যাণে কাজ করতে নসীহত করা হয়, তবে তা খুবই মুবারক কাজ। এমন আলিমের নামে বদনাম করা অন্যায়, এই প্রকৃতির সাক্ষাৎকে দরবারী আখ্যা দেয়া জুলুম। যাদের এটুকু শরঈ জ্ঞান নেই, আলিমদের প্রতি যাদের এটুকু শ্রদ্ধা ও আস্থা নেই, তারা রাষ্ট্রীয়ভাবে দীন কায়েম করবেন কী করে? # একই সঙ্গে বর্তমান সময়ের সেক্যুলার শাসকদের ব্যাপারে উলামায়ে কিরামকে অবশ্যই সতর্ক থাকতে হবে। তাদের কারও কারও বংশীয় শারাফত ও সদাচার, ব্যক্তিগত ইসলাম ও উলামাপ্রীতির যাহের দেখে তাদের আদর্শিক বিচ্যুতি, শরীয়াহর সঙ্গে সেক্যুলার ও জাতীয়তাবাদী সিস্টেমের চিরন্তন সংঘাতের কথা এক মুহূর্তের জন্য নযরান্দায করা যাবে না। তারা ব্যক্তি জীবনে যতোই সৎ হোন, যেই সিস্টেমের নেতৃত্ব দিচ্ছেন, তা যে সবচেয়ে বড়ো আদর্শিক অসততা, উলামাদের সামনে তারা যতোই বিনয়ী হোন, রাজনীতিতে তারা যে মহান আল্লাহর সামনে চরম দুর্বিনীত, তারা যতোই উলামাদের কাছে আসুন, আদর্শিকভাবে উলামারা যে তাদের সবচেয়ে বড়ো প্রতিপক্ষ এটা ভোলা যাবে না। ফলে উচ্ছ্বাস নয়, এই প্রকৃতির সাক্ষাৎ ঘিরে উলামাদের সতর্ক পাঠ ও পর্যবেক্ষণ থাকা দরকার। ©মাওলানা মিজান হারুন হাফি.

আব্বাসী শাসনের প্রতিষ্ঠাতা সাফ্ফাহর চাচা ছিলেন আব্দুল্লাহ ইবনে আলী। সে ছিল অত্যন্ত কঠোর, নিষ্ঠুর এবং রক্তপাতপ্রবণ এক শাসক। শাম থেকে বনু উমাইয়াকে উৎখাত করে সেখানে সেই আব্বাসীদের শাসনের ভিত্তি স্থাপন করে। শামে প্রবেশের পর সেখানকার প্রসিদ্ধ আলেম ইমাম আওযায়ী রহিমাহুল্লাহকে তিনি নিজের দরবারে হাজির হওয়ার জন্য বার্তা পাঠালেন। আওয়াযী রহিমহুল্লাহ বুঝে যান আব্দুল্লাহ বিন আলীর উদ্দেশ্য। তাই তার আবেদনে সাড়া না দিয়ে তিনদিন পর্যন্ত আত্মগোপনে থাকেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত আর এড়িয়ে থাকা সম্ভব হলো না। তিনি আবদুল্লাহ ইবন আলীর দরবারে গিয়ে উপস্থিত হন। আওযায়ী রহিমাহুল্লাহ পরে সেই ভয়ংকর সাক্ষাতের কথা বর্ণনা করতে গিয়ে বলেছিলেন, আমি তার সামনে প্রবেশ করলাম। দেখলাম, সে একটি খাটের ওপর বসে আছে। হাতে একটি বাঁশের ছড়ি। তার ডান পাশে ও বাঁ পাশে কালো পোশাক পরা সৈন্যরা দাঁড়িয়ে আছে। তাদের হাতে খোলা তরবারি, কোমরে লোহার খাপ। আমি তাকে সালাম দিলাম। সে আমার সালামের কোনো জবাব দিল না। বরং হাতে থাকা বাঁশের ছড়িটি দিয়ে মাটিতে টোকা দিতে লাগল। তারপর আমার দিকে তাকিয়ে বলল, ‘হে আওযায়ী! আমরা যা করেছি, অর্থাৎ উমাইয়া জালিমদের হাত থেকে মানুষ ও দেশকে মুক্ত করেছি, এটা কি জিহাদ ও সীমান্ত পাহারা দেওয়ার কাজ হিসেবে গণ্য হবে বলে তুমি মনে করো?’ আওযায়ী রহিমাহুল্লাহ জবাবে বললেন, ‘রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, “কাজ নিয়তের ওপর নির্ভরশীল। প্রত্যেক ব্যক্তি তার নিয়ত অনুযায়ী ফল পাবে।”’ আমার কথা শেষ হতেই সে আগের চেয়ে আরও জোরে বাঁশের ছড়ি দিয়ে টোকা দিতে লাগল। তার চারপাশে দাঁড়িয়ে থাকা সৈন্যরাও একে একে নিজেদের তরবারির হাতল শক্ত করে মুঠোয় চেপে ধরল। তারপর সে আমার দিকে তাকিয়ে বলল, ‘হে আওযায়ী! বনু উমাইয়ার লোকদের রক্ত সম্পর্কে তুমি কী বল?’ আমি বললাম, ‘রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘তিন কারণ ছাড়া মুসলমানের রক্ত ঝড়ানো বৈধ নয়। কেউ কোনো মুসলমানকে অন্যায়ভাবে হ*ত্যা করলে, বিবাহিত কেউ যিনা করলে এবং ইসলাম ধর্ম ত্যাগ করে মুসলিম জামাত থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেলে।’ আমার উত্তর শুনে আব্দুল্লাহ বিন আলী আরও জোরে বাঁশের ছড়ি দিয়ে টোকা দিতে লাগল। তারপর বলল, ‘তাহলে তাদের সম্পদ সম্পর্কে তুমি কী বল?’ আমি বললাম, ‘যদি তাদের হাতে থাকা সম্পদ হারামভাবে অর্জিত হয়ে থাকে, তবে আপনার জন্যও তা হারাম। আর যদি তা বৈধভাবে অর্জিত হয়ে থাকে, তাহলে শরিয়তসম্মত কোনো উপায় ছাড়া তা আপনার জন্য বৈধ হবে না।’ এবার সে আগের চেয়েও প্রবলভাবে ছড়ি দিয়ে টোকা দিতে লাগল। কিছুক্ষণ পর হঠাৎ বলল, ‘তাহলে কি তোমাকে বিচারকের পদে নিয়োগ দেব?’ আমি বললাম, ‘আপনার পূর্বসূরিরা আমাকে এ বিষয়ে কখনো কষ্ট দেননি। আর আমি চাই, তারা আমার প্রতি যে অনুগ্রহের রীতি শুরু করে গেছেন, সেটিই যেনো অব্যাহত থাকে।’ সে আমার দিকে তাকিয়ে বলল, ‘মনে হচ্ছে, তুমি এখান থেকে চলে যেতে চাইছ?’ আমি বললাম, ‘আমার ঘরে কিছু নারী-স্বজন রয়েছেন। তারা অসহায় এবং তাদের দেখাশোনা ও নিরাপত্তার প্রয়োজন। আমার কারণে তাদের মনও এখন উদ্বেগে ভারাক্রান্ত।’ কথাগুলো বলার পর আমি মনে মনে অপেক্ষা করতে লাগলাম—এই বুঝি আমার মাথা আমার সামনে মাটিতে গড়িয়ে পড়বে! কিন্তু কিছুক্ষণ পর সে আমাকে বলল, ‘তুমি চলে যাও।’ আমি তখন সেখান থেকে বেরিয়ে এলাম। কিছুদূর যাওয়ার পর হঠাৎ দেখলাম, পেছন থেকে আমিরের একজন দূত আমার কাছে ছুটে আসছে। তার হাতে ছিল দুইশ দিনার। সে এসে বলল, ‘আমির আপনাকে বলেছেন, এগুলো নিজের প্রয়োজনে খরচ করুন।’ আমি কিছুটা ভয় পেলাম, যদি এই অর্থও এখন গ্রহণ না করি তাহলে আব্দুল্লাহ বিন আলী আমার হয়তো ক্ষতি করবেন। তাই নিরুপায় হয়ে তা গ্রহণ করে নিলাম এবং সাথে সাথে পুরো দুশো দিনারই সদকা করে দিলাম। যে তিনদিন আত্মগোপনে ছিলাম, সে তিনদিনই আমি রোজা রেখেছিলাম। আমির যখন বিষয়টি জানতে পারলেন আমাকে একদিন তার সাথে ইফতারের জন্য দাওয়াত করলেন। একজন জালেমের সাথে ইফতার করতে আমি সরাসরি অস্বীকৃতি জানালাম। . এইধরনের ব্যক্তিত্বের কারণে শামে ইমাম আওযায়ী রহিমাহুল্লাহের প্রভাব ছিলো অনেক বেশি। সেখানে তার প্রভাব ও কর্তৃত্ব ছিল এতটাই প্রবল যে, সাধারণ মানুষের কাছে তার নির্দেশ শাসকের নির্দেশের চেয়েও বেশি গুরুত্ব বহন করত। একবার শামের এক গভর্নর তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার কথা ভাবলেন। তখন তার সঙ্গীরা তাকে বলল, ‘তাকে ছেড়ে দিন। আল্লাহর কসম! উনি যদি মানুষকে আদেশ করেন আপনাকে হত্যা করে ফেলতে তাহলে শামবাসী নির্দ্ধিধায় তাই করবে’ ইমাম আওযায়ী ইন্তেকাল করার পর একবার সেই গভর্নর তার কবরের পাশে বসে বললেন, ‘আল্লাহ আপনার প্রতি রহম করুন। আল্লাহর কসম! যে খলিফা আমাকে গভর্নর করে এখানে পাঠিয়েছেন তার থেকেও আমি আপনাকে বেশি ভয় করতাম!’ . সূত্র : আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া, ১০/১১৮, ১৫৭ হিজরীর আলোচনা দ্র.

photo content

ইসলাম ও পশ্চিমা সভ্যতা বই থেকে
ইসলাম ও পশ্চিমা সভ্যতা বই থেকে

একজন পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাধারণ মানুষের সাথে নিজের গায়ের রুমাল বিছিয়ে মাঠিতেই বসে যাচ্ছে!

ইংরেজ ও তাদের পরবর্তী শাসনব্যবস্থার অধিনে যে শাসকদের মুসলিম উম্মাহের উপর চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে, এদের প্রায় সকলেই হয় সরাসরি তাদের কর্তৃক সরাসরি নিয়োগপ্রাপ্ত অথবা তাদের দিকনির্দেশনা অনুযায়ী মানুষকে পরিচালনা করবে, এমন মুচলেকা দিয়েই শাসনের রাজদণ্ড হাতে নেওয়া। আল্লাহ প্রদত্ত মুসলিমদের যেই কাঙ্খিত জীবন তা কস্মিনকালেও এই সেকুলার ও জাতীয়তাবাদী শাসকগুলো দিয়ে অর্জন হবে না। বরং এরা পশ্চিমের বানানো জীবন কাঠামোকে মুসলিমদের উপর চাপিয়ে দেওয়ার জন্য যাবতীয় বন্দোবস্তই করবে। সেকুলার কাঠামোকে ঠিক রেখে মুসলমানদের পরিচালনার চেষ্টা করে যাবে ও ধীরে ধীরে মুসলিম প্রতিরক্ষাকে চাই তা সামাজিক হোক বা সামরিক, ধ্বংস করার চেষ্টা করে যাবে৷ সুতরাং মুসলিম উম্মাহের জন্য প্রথম করনীয় হলো, এধরণের শাসকদের অধীন থেকে নিজেদের মুক্ত করা এবং প্রকৃত মুমিন ও মুসলিম উম্মাহের নিজেদের মধ্য থেকে দ্বীন ও ইমানের বিষয়ে বিশ্বস্ত ব্যক্তিকে শাসক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া। . এটা হলো মৌলিক বিষয়। কিন্তু যেহেতু এই শাসন ও শাসকরা আমাদের উপর চেপে বসে আছে, আর আমরা চাইলেও শক্তির বলে এখান থেকে বের হয়ে আসতে পারতেছি না, এখন কী মুসলমানরা নিজেদের জানমাল রক্ষা, দাওয়াতি কাজের সুরক্ষা এবং নিজেদের কাঙ্খিত লক্ষ্যে পৌঁছার জন্য এধরণের শাসকদের সাথে একদম উঠাবসা, সৎকাজের আদেশ করা ও অসত কা থেকে নিষেধ করা, মুসলিম উম্মাহের আপত সামগ্রিক কল্যাণ অর্জনের জন্য তাদের সাথে সমন্বয় করার কাজও ছেড়ে দিবে? এক্ষেত্রে সংক্ষিপ্ত কথা হলো, সেকুলার জীবনব্যবস্থা দিয়ে পরিচালনাকারী শাসকদের সাথে আমাদের আচরণ হবে সতর্কতা ও অবিশ্বাসের। সতর্কতা হলো, তাদের থেকে দুনিয়াবি যেকোনো উপকার অর্জনের সময় থাকতে হবে সতর্ক। যেনো দুনিয়ার এই স্বার্থ দিয়ে তারা আমাদেরকে তাদের অধিনস্ত বা তাদের কার্যসিদ্ধি উদ্ধার না করতে পারে। আর অবিশ্বাস হলো, দ্বীনি ও মুসলমানদের সামগ্রিক স্বার্থের যেকোনো বিষয়ে আমরা এদেরকে অবিশ্বাসই করবো, যতক্ষণ তারা কাজটি বাস্তবায়ন না করছে। যার কারণে অমুক ফিরকাকে কাফের ঘোষণা করা হবে, আমরা ক্ষমতায় গেলে ধর্মের বিরুদ্ধে কিছুই করবো না, বা আলেমদের সান্যিধ্যে যাওয়া ইত্যাদি। . এই সাম্রাজ্যবাদীদের নিয়োগপ্রাপ্ত এধরণের শাসকদের ব্যাপারে আমাদের ধারণা যতদিন স্পষ্ট না হবে, আমরা বনি ইসর*য়েলের মত তীহের প্রান্তরে দিক বেদিক ঘুরতেই থাকবে উদ্ভ্রান্তের মত। কিন্তু কোনো দিশাই আর পাবো না। পাবো না ফিরে নিজের আত্মমর্যাদাবোধ। তখন সারাদিন এই গোলটেবিল বৈঠক করেই আমাদের কাটাতে হবে, কীভাবে আমরা সমাজে মাথা উচু করে বাঁচতে পারি। কিন্তু সেই মাথা আর কখনোই উচু হবে না। সমাজের সামান্যকিছু ধর্মহীন মানুষের করুনার পাত্র হয়ে আমাদের বেচে থাকতে হবে। .

ইতিহাস বিশ্লেষক মুহাম্মদ ইলহামি লেখেন, ‘দীর্ঘকাল ধরে এসব বিষয় গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ ও চিন্তা করার পর আমার যে দৃঢ় বিশ্বাস জন্মেছে তা হলো—বর্তমান মুসলিম উম্মাহের উপর চেপে থাকা শাসকদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহের ফলে যে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা করা হয়, তা তাদের ক্ষমতায় বহাল থাকা ও ক্রমে শক্তিশালী হয়ে ওঠার ক্ষতির তুলনায় অনেক কম। কারণ মানুষ খুব দ্রুতই নিজেদের বিষয়াদি সুবিন্যস্ত করতে, নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং নিজেদের অধিকাংশ স্বার্থ সংরক্ষণ করতে সক্ষম। অন্যদিকে, এসব শাসনব্যবস্থার টিকে থাকার অর্থ হলো বর্তমান পরিস্থিতি অপরিবর্তিত থেকে ক্রমেই অবনতির দিকে যাওয়া এবং শত্রুর আধিপত্য আরও সুদৃঢ় হওয়া। এসব ব্যবস্থা হয় আমাদের সরাসরি দখলদারির দিকে নিয়ে যাবে, নয়তো তাদের স্বৈরাচার অব্যাহত থাকবে এবং প্রতিটি দিন আগের দিনের চেয়ে আরও কঠিন হয়ে উঠবে। প্রকৃতপক্ষে, বৈশ্বিক ব্যবস্থার অন্তর্ভুক্ত জাতিরাষ্ট্রভিত্তিক রাষ্ট্রব্যবস্থা জনগণের গতিবিধি নিয়ন্ত্রণকারী একটি কারাগার ছাড়া আর কিছু নয়। এই রাষ্ট্রব্যবস্থার কার্যকারিতা মূলত নির্ভর করে কারাগারটি কতটা সুরক্ষিত ও দুর্ভেদ্যভাবে পরিচালিত হচ্ছে তার ওপর। সমকালীন রাজনৈতিক পরিভাষায় “ব্যর্থ রাষ্ট্র” বলতে এমন রাষ্ট্রকে বোঝানো হয়, যে এই ভূমিকা পালনে সক্ষম নয়। অথচ অনেক মানুষ মনে করেন, জনগণকে মর্যাদাপূর্ণ জীবন দিতে ব্যর্থ রাষ্ট্রই “ব্যর্থ রাষ্ট্র”—বিষয়টি আসলে তা নয়। আজকের শাসকদের বাস্তবতার সঙ্গে ইতিহাসের সবচেয়ে কাছাকাছি যে দৃষ্টান্তটি পাওয়া যায়, তা হলো ইসলাম গ্রহণকারী মঙ্গোল শাসকদের দৃষ্টান্ত। তারা প্রকাশ্যে ইসলাম গ্রহণ করলেও তাদের শাসনব্যবস্থার মূল ভিত্তি ছিল চেঙ্গিস খানের বিধিবিধান। তারা সেসব আইনকানুনের ভিত্তিতেই বিচার-ফয়সালা করত। ইমাম ও আলেমরা তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছিলেন। তাদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধে মানুষকে উদ্বুদ্ধ করার ক্ষেত্রে ইবনু তাইমিয়্যাহ বিশেষ ভূমিকা পালন করেন। এমনকি মামলুকদের পতাকার অধীন তিনি নিজেও তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। ইতিহাসবিদরা এ কারণেই তইমুর লংকে আলেমদের কর্তৃক কা*ফির ঘোষণার কথাও উল্লেখ করেছেন। ইবনে হাজার রহিমাহুল্লাহ বলেন, ‘সে চেঙ্গিস খানের বিধিবিধানকে অগ্রাধিকার দিত এবং সেগুলোকে মূল ভিত্তি হিসেবে গ্রহণ করত। এ কারণে একদল আলেম তার কুফরের ফতোয়া দিয়েছিলেন, যদিও তার দেশে ইসলামের নিদর্শনগুলো প্রকাশ্য ছিল।’ আমাদের যুগে ঔপনিবেশিক শক্তি ও তাদের সহযোগীদের মাধ্যমে শরিয়াহর পরিবর্তন সাধিত হওয়ার পর থেকে বহু সমকালীন আলেমও এসব বিষয়ে সত্য কথা উচ্চারণ করেছেন। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখজনকভাবে তাদের বক্তব্য ব্যাপকভাবে পরিচিতি লাভ করেনি। এর একমাত্র কারণ হলো—এসব শাসকের প্রবল ক্ষমতা ও দমননীতি এবং প্রচারমাধ্যম, সংস্কৃতি, শিক্ষা ও গণমাধ্যমের ওপর তাদের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ। এখানে এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনার অবকাশ নেই। আমরা বিষয়টি উল্লেখ করেছি একটি মাত্র উদ্দেশ্যে। তা হলো—যেসব আলেম নিজেদের গ্রন্থে ক্ষমতা দখলকারী শাসকের শাসন মেনে নেওয়ার কথা লিখেছেন, তারাই শরিয়াহর বিরোধিতা করে তা পরিবর্তনকারীদের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন এবং তাদের সঙ্গে যুদ্ধ করেছেন। তারা ছিলেন দ্বীনদার ও সাহসী মানুষ; সমকালীনদের অনেকে যেভাবে তাদের কল্পনা করেন, তেমন কাপুরুষ ও মুনাফিক ছিলেন না।’ . সূত্র : খুলাসাতু তারিখিল ইসলাম, ৩/১০২-১০৪

বিশিষ্ট ইতিহাস বিশ্লেষক মুহাম্মদ ইলহামি তার “খুলাসাতুত তারিখ”-এর ৩য় খণ্ডে বলেন এই কথাগুলো! . যারা না বুঝেন তারাই বেচে গেছেন!
বিশিষ্ট ইতিহাস বিশ্লেষক মুহাম্মদ ইলহামি তার “খুলাসাতুত তারিখ”-এর ৩য় খণ্ডে বলেন এই কথাগুলো! . যারা না বুঝেন তারাই বেচে গেছেন!