276
مشترکین
اطلاعاتی وجود ندارد24 ساعت
اطلاعاتی وجود ندارد7 روز
اطلاعاتی وجود ندارد30 روز
در حال بارگیری داده...
کانالهای مشابه
هیچ دادهای
مشکلی وجود دارد؟ لطفاً صفحه را تازه کنید یا با مدیر پشتیبانی ما تماس بگیرید.
ابر برچسبها
هیچ دادهای
مشکلی وجود دارد؟ لطفاً صفحه را تازه کنید یا با مدیر پشتیبانی ما تماس بگیرید.
اشارات ورودی و خروجی
---
---
---
---
---
---
جذب مشترکین
ژانویه '24
ژانویه '24
+276
در 0 کانالها
پستهای کانال
শাইখুল হিন্দ মাওলানা মাহমুদুল হাসান দেওবন্দি রহিমাহুল্লাহ। সম্ভবত মাল্টার কারাগারে থাকা অবস্থায় এই ছবিটি তোলা। এই কারাগারে শায়খের সাথে বন্দি ছিলেন মিসরি সাংবাদিক মুহাম্মদ আবদুর রহমান সবাহি। ১৯২১ সালে তিনি একটি বই লেখেন,
خمس سنين في مغاور الاسر
নামে। সেই বইতে তিনি এই ছবিটি দেন। এই বইতে শায়খের কারাজীবনের ঘটনা নিয়েও স্মৃতিচারণ করেন তিনি।
| 2 | ডক্টর মোহর আলির এই দুইটি খন্ড দুষ্প্রাপ্য। হার্ডকপি বা পিডিএফ কিছুই পাওয়া যেত না এতদিন। এক ভাই কষ্ট করে পিডিএফ তৈরি করেছেন৷ আল্লাহ তাকে উত্তম জাযা দিক | 0 |
| 3 | History of The Muslims of Bengal IIB.pdf | 0 |
| 4 | History of The Muslims of Bengal IIA.pdf | 0 |
| 5 | https://youtu.be/8Kzq0i5Xb6M?si=B13-_kvXGYbNbBOn | 0 |
| 6 | https://youtu.be/GSwPvq4qedg?si=pyXftS31KHxie6oU | 0 |
| 7 | https://youtu.be/QSvyV5Fbe3Q?si=BwpuNG92HTyQmNsX | 0 |
| 8 | সেলজুক সাম্রাজ্যের তুর্কমান বা তুর্কি বংশোদ্ভূত সুলতান আলাউদ্দিনকে আর্তুগ্রুল এক যুদ্ধে সাহায্য করেন। আর্তুগ্রুলের এমন কাজে আলাউদ্দিন খুবই খুশি হন। তাই তাকে বাইজান্টাইন- সীমান্তবর্তী সগুত এলাকার শাসনকর্তা নিযুক্ত করে যান তিনি। বাইজান্টাইনদের হাত থেকে সীমান্তে সেলজুক সাম্রাজ্যকে রক্ষা করাই ছিলো আর্তুগ্রুলের মূল দায়িত্ব। ৬৮৭ হিজরি (১২৮৮ ইং) আর্তুগ্রুল মৃত্যুবরণ করেন। তার উত্তরাধিকারী হন পুত্র উসমান। এই উসমানের দিকে সম্পৃক্ত করেই উসমানি সাম্রাজ্য বলা হয়। তার ও তার বংশধরদের প্রচেষ্টায় গড়ে ওঠে এই বিশাল সাম্রাজ্য।
উসমানের বংশধররা শাসনকার্জে নিজেদের দক্ষতার জানান দেন। ১৪৫১ সালে মুহাম্মদ আল ফাতিহ জয় করেন কনস্টান্টিনোপল, যা মুসলমানরা উমাইয়া আমল থেকেই জয়ের চেষ্টা করছিল। ১৫১৭ সালে প্রথম সেলিম মিসর আক্রমণ করেন। সেখানে তখন চলছিল মামলুকদের শাসন। কায়রোর উপকূল রায়দানিয়াতে ১৫১৭ সালে একটি ভয়াবহ যুদ্ধ সংঘটিত হয়। এতে উসমানি- সেনাবাহিনী বিজয় লাভ করে এবং তুমান বে পালিয়ে যায়। এভাবেই উসমানিদের হাতে পতন ঘটে মিশরের মামলুকদের। মামলুক-সেনাদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়। মিশর তার শাসনাধীনে চলে আসে।যেহেতু মামলুকদের অধীনে আব্বাসি খিলাফত ছিল তাই উসমানীরা সিদ্ধান্ত নেয় এই খেলাফতের পতন ঘটিয়ে নিজেদের খেলাফত দাবী করা হবে। তারা ইস্তমাবুল ফিরে আলেমদের মজলিস ডেকে নিজেদের খেয়ালফত দাবী করে। তখন থেকেই তাদের এই সালতানাত পরিচিত হয় উসমানী খেলাফত নামে। ইতিপুর্বে তারা নিজেদেরকে খলিফা দাবী করেনি। উসমানী শাসকদের মধ্যে সুলাইমান আল কানুনি শক্তিশালী ছিলেন। তার শাসনামলে ইউরোপে অনেক অভিযান পরিচালনা করায়। উসমানীরা শাসন করতেন আধুনিক ইউরোপের অনেক রাষ্ট্রই। তবে ধীরে ধীরে তারা দুর্বল হতে থাকে। তাদের উপর চেপে বসে ঋণের বোঝা। তাদের সর্বশেষ যোগ্য শাসক ছিলেন সুলতান আবদুল হামিদ দ্বিতীয়। ইহুদিরা তাকে ফিলিস্তিনে জমি বিক্রি করার অনুরোধ করে। তিনি এতে রাজি না হওয়ায় তার শাসনের পতন ঘটানো হয়। এরপর ১৯২৪ সালে কামাল আতাতুর্কের নেতৃত্বে উসমানী শাসনের আনুষ্ঠানিক পতন ঘটে। | 0 |
| 9 | নির্যাতন শুরু করে। তাদের উদ্দেশ্য ছিল আব্বাসি খেলাফতের পতন ঘটানো এবং হারামাইন শরিফাইন দখল করা। এ সময় সেলজুকরা আব্বাসিদের পাশে দাঁড়ালে তাদের চেষ্টা ব্যর্থ হয়। পরে সেলজুকদের অধীনস্থ শাসকরা বনু উবাইদের মোকাবেলা করেন। বিশেষত জেংগি পরিবার ও আইয়ুবি পরিবারের ভূমিকা এক্ষেত্রে অনস্বীকার্য। সেলজুকদের হাতেই জামেয়া নিজামিয়া প্রতিষ্ঠিত হয়। শুরু হয় শিক্ষাব্যবস্থায় নতুন ধারা। সুলতান আলপ আরসালানের নেতৃত্ব মানজিকার্টের যুদ্ধে মুসলমানরা রোমানদের পরাজিত করে। আব্বাসিদের আমলেই ক্রুসেড শুরু হয় কিন্তু দূর্বল আব্বাসি খলিফারা এর মোকাবেলা করতে সক্ষম ছিলেন না। মুসলমানদের হাতছাড়া হয় বাইতুল মাকদিস। ৮৮ বছর পর ১১৮৭ সালে সুলতান সালাহুদ্দিন আইয়ুবি তা জয় করেন। ১২১৯ সালে চেঙ্গিস খান মুসলিম বিশ্বে হামলা শুরু করেন। রাজনৈতিক কারণে আব্বাসিরা এই হামলায় সমর্থন দেয় কিন্তু এর কুফল তাদের ভোগ করতে হয়। ১২৫৮ সালে চেঙ্গিস খানের নাতি হালাকু খান বাগদাদ আক্রমণ করেন এবং আব্বাসিদের পতন ঘটান।
মামলুক সালতানাত
হালাকু খানের হাতে বাগদাদ পতনের কিছুদিন আগে মিসরে প্রতিষ্ঠিত হয় মামলুক সালতানাত। হালাকু খান বাগদাদ জয় করে মিসরের দিকে এগুচ্ছিলেন। মামলুক সুলতানরা সিদ্ধান্ত নেন তাদেরকে মিসর প্রবেশের আগেই আটকাতে হবে। মামলুক বাহিনী এগিয়ে আসে ফিলিস্তিনের দিকে। ১২৬০ সালে সংঘঠিত হয় আইন জালুতের যুদ্ধ। এই যুদ্ধে করুণভাবে পরাজিত হয় তাতার বাহিনী। মামলুকরা নিজেদের শাসন প্রতিষ্ঠিত করে। সুলতান বাইবার্স আবার আব্বাসি খিলাফাহকে জীবিত করেন। আব্বাসি পরিবারের একজনকে তিনি খলিফার দায়িত্ব সঁপে দেন। এরপর ১৫১৭ পর্যন্ত এই আব্বাসি খেলাফত টিকে ছিল। যদিও এটি ছিল মামলুকদের নিয়ন্ত্রিত এবং খলিফাদের কার্যত তেমন কোন ক্ষমতা ছিল না, তবু এর বাহ্যিক প্রভাব ও সম্মান ছিল। ভারতবর্ষের সুলতানি আমলের শাসকরা এই খলিফাদের সাথে পত্র যোগাযোগ রাখতেন। মামলুকদের সবচেয়ে বড় অবদান হলো তারা তাতার ও ক্রুসেডারদের হাত থেকে মুসলিম বিশ্বকে নিরাপদ করেছিল। তারা হয়ে উঠেন হারাইমাইন শরিফাইনের খাদেম। তাদের সময় আবার আব্বাসি শাসনামলের মত জ্ঞান বিজ্ঞান চর্চা শুরু হয়। মামলুকদের সাথে উলামায়ে কেরামের খুবই আন্তরিক সম্পর্ক ছিলো। সেজন্য তারা উলামায়ে কেরামকে যাবতীয় সুযোগ-সুবিধা দিতেন। তাদের গবেষণার জন্য বিশাল মাকতাবার ব্যবস্থা করে দিতেন। তালেবানে ইলমের জন্য মাদরাসা প্রতিষ্ঠা করতেন। তাদের পড়াশুনার যাবতীয় ব্যয়ভার সালতানাতের পক্ষ থেকে বহন করতেন। প্রত্যেক মাজহাবের জন্য আলাদা মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা করা হতো। মাদ্রাসাগুলোতে অভিজ্ঞ শিক্ষকমণ্ডলীর মাধ্যমে ছাত্রদের যথাযথ পরিচর্যা করা হতো। ফলে একই যুগে বিজ্ঞ উলামায়ে কেরামের বড় বড় অনেক জামাত প্রতিষ্ঠিত হয়ে গিয়েছিলো। নমুনা হিসেবে বলা যায়, শামে তখন ছিলো বিখ্যাত হাদিস বিশারদ ইমাম নববী, কাযীল কুযাত ইবনুয যিমলাকানী, শাইখুল ইসলাম আল্লামা ইবনে তাইমিয়া, ইমাম আলাউদ্দিন আল বিরযালী, ইমাম জামালুদ্দিন আল-মিযযী, ইমাম শামসুদ্দিন আয-যাহাবী, ইমাম ইবনুল কাইয়্যিম, ইমাম ইবনে কাছীর, ইমাম তাজুদ্দিন আস-সুবকি প্রমুখ উলামায়ে কেরামের জামাত। অপরদিকে মিশরে ছিলো ইমাম ইয্যুদ্দিন বিন আবদুস সালাম, ইমাম ইবনু দাকিকিল ঈদ, কাযীল কুযাত বদরুদ্দিন ইবনে জামাআহ, শাইখুল ইসলাম সিরাজুদ্দিন আল বুলকাইনী প্রমুখের জামাত। অনুরূপ হিজায ও ইয়ামেনসহ সালতানাতের অন্যান্য অঞ্চলও ইলমের বড় বড় মহীরুহদের পদচারণায় মুখরিত ছিলো। ইলমের এমন মুখর পরিবেশে আমীর-উমারা, সুলতানগণ ও তাদের সন্তানরাও পিছিয়ে ছিলেন না। তারাও ছিলেন এই পরিবেশের গর্বিত সদস্য। উল্লেখযোগ্য অবদানে তারাও ইলমের ভাণ্ডারকে সমৃদ্ধ করেছিলেন। আসলে তাদেরকে যেভাবে গড়ে তোলা হয়, তাতে রাজনীতি ও সমরনীতির মতো ইলম অর্জনেরও অবারিত সুযোগ থাকে। এজন্য তাদের মধ্যেও নানা বিষয়ের অভিজ্ঞ উলামায়ে কেরাম তৈরি হতো। জীবনী ভিত্তিক ইতিহাসের কিতাবগুলো মন্থন করা হলে এর অনেক প্রমাণ পাওয়া যাবে। কুতুজ, বাইবার্স, আল মালিকুন নাসির মুহাম্মদ বিন কালাউনকে বিবেচনা করা হয় মামলুকদের শ্রেষ্ঠ শাসক।
উসমানী সালতানাত
তুর্কিস্তানের শহর কিরগিজিস্তানের একটি জাতি হিসেবে উসমানি (অটোমান) তুর্কিদের গণ্য করা হয়। তুর্কিস্তান মোঙ্গলদের হাতে আক্রান্ত হওয়ার পর এই তুর্কি জাতিটি দক্ষিণ ককেশাসের উর্বর চারণভূমিতে আবাস গ্রহণ করে। তাদের গোত্রের লোকেরা সমভূমি আর্মেনিয়া ও এর আশপাশের পাহাড়ে ছড়িয়ে পড়ে। ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে এদের বসতি। এখানে অবস্থান যখন সুদৃঢ় হয়, তখনই মারা যান তাদের গোত্রপতি সুলাইমান। তার মৃত্যুর পর গোত্রপতির সম্মানে অভিষিক্ত করা হয় সুলাইমানের ছেলে আর্তুগ্রুলকে। একসময় আর্তুগ্রুল ও তার লোকজন সেলজুক-সুলতান দ্বিতীয় আলাউদ্দিনের শাসনাধীন দেশ আনাতোলিয়াতে (এশিয়া মাইনর) রওনা হন। তিনি যখন আনাতোলিয়াতে আসেন, তখন এই অঞ্চল বিভক্ত ছিলো। এক অংশ দীর্ঘদিন যাবৎ বাইজেন্টাইন-সাম্রাজ্যের অধীনে ছিলো; অপর অংশে আধুনিক তুরস্ক ও মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো নিয়ে সেলজুক সাম্রাজ্য ছিলো। | 0 |
| 10 | মুসলমানদের শাসনব্যবস্থার ইতিহাস
খেলাফতে রাশেদা
নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মদিনায় হিজরতের পর সেখানে স্বতন্ত্র শাসনব্যবস্থা গড়ে তোলেন। ইসলামের বিধানগুলো তখনো নিয়মিত অবতীর্ন হচ্ছিল। যখন যে বিধান আসছিল তা বাস্তবায়ন করা হচ্ছিল। নবিজির জীবনের শেষদিকে এসে সকল বিধান পূর্নতা পায়। নবিজির ইন্তেকালের পর যখন খোলাফায়ে রাশেদিন খিলাফতের মসনদে বসেন তখন তারা ইসলামকে এর সামগ্রিক কাঠামোসহ বাস্তবায়ন করেন। তাদের শাসনামলে ইসলামের বিজয়যাত্রা শুরু হয়। তারা একইসাথে পারসিক সাম্রাজ্য ও রোমান সাম্রাজ্যের মোকাবেলা করেছিলেন। এশিয়া ছাড়িয়ে আফ্রিকাতেও ছড়িয়ে পড়েছিল তাদের অভিযান। পারসিক সাম্রাজ্য একেবারেই ধবংস হয়ে যায়। তাদের পুরো রাজ্য চলে আসে মুসলমানদের দখলে। অপরদিকে রোমানরা সিরিয়া, ফিলিস্তিন ও মিসর থেকে বিতাড়িত হয়, তাদের রাজ্য সংকুচিত হয়ে শুধু ইউরোপে সীমাবদ্ধ থাকে। খেলাফতে রাশেদার সময় সাম্য, ন্যায়বিচার, ইনসাফ ইত্যাদি শতভাগ প্রতিষ্ঠিত ছিল। সুষ্ঠুভাবে যাকাত ও গনিমতের মাল বণ্টনের কারণে সমাজে দারিদ্রতা ছিল না। সামাজিক নিরাপত্তা ছিল অন্য যে কোন সময়ের চেয়ে বেশি।
খেলাফতে উমাইয়া
৪০ হিজরিতে আলি রা এর ইন্তেকালের পর খেলাফতের দায়িত্ব নেন মুয়াবিয়া রা। তার বিশ বছরের শাসনামলেও মুসলমানদের বিজয়যাত্রা অব্যাহত থাকে। তার শাসনামলেই ৪৪ হিজরিতে মুহাল্লাব বিন আবি সুফরা ভারতবর্ষের সীমান্তে আক্রমণ করেন। মুয়াবিয়া রা এর ইন্তেকালের পর ইয়াজিদ ক্ষমতায় বসলে পরিস্থিতি বেসামাল হয়ে উঠে। এ সময় কারবালা ও হাররার দুঃখজনক ঘটনা ঘটে। ইয়াজিদের মৃত্যুর পর তার ছেলে মুয়াবিয়া কিছুদিন শাসন করেন। তার মৃত্যুর পর মক্কায় আবদুল্লাহ ইবনুয যুবাইর খিলাফত ঘোষণা করেন। পরে মারওয়ান ও তার ছেলে আবদুল মালেক ইবনে মারওয়ান এই খেলাফতের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করেন। ৭৪ হিজরিতে আবদুল্লাহ ইবনুয যুবাইরকে কাবার প্রাঙ্গণে শহিদ করে দেয়া হয়। ক্ষমতায় বসেন আবদুল মালেক ইবনে মারওয়ান। উমাইয়া খলিফাদের মধ্যে সবচেয়ে প্রভাবশালী ছিলেন আবদুল মালেক ইবনে মারওয়ান ও তার তিন ছেলে ওয়ালিদ, সুলাইমান ও হিশাম। এর বাইরে উমর ইবনে আবদুল আজিজ। উমাইয়া খলিফারা সবাই দক্ষ সামরিক যোদ্ধা ছিলেন। এজন্য তাদের শাসনামলে বিজয় অভিযান অনেক বেশি হয়েছে। উমাইয়া আমলেই আন্দালুস, উত্তর আফ্রিকা, মধ্য এশিয়া ও সিন্ধু অঞ্চল মুসলমানরা জয় করে। দামেশকে বসে খলিফা যে ফরমান দিতেন তা পৌঁছে যেত তিনটি মহাদেশে। তবে উমাইয়া শাসকরা বেশ বদমেজাজি ছিলেন। তাদের দ্বারা প্রচুর জুলুম হয়। বিশেষ করে হাজ্জাজ বিন ইউসুফকে তারা নিজেদের ক্ষমতার স্বার্থে ব্যবহার করে। অনেক যোগ্য ও দক্ষ ব্যক্তিকে তারা হত্যা করে। উমাইয়াদের শাসনামলে শীর্ষ সাহাবিদের অনেকে জীবিত ছিলেন। তারা বিভিন্ন অঞ্চলে ইলমচর্চা করছিলেন। তাদের সামনে উপস্থিত ছিলেন তাবেইরা। সাহাবিদের কাছ থেকে তাবেইয়িদের কাছে ইলম হস্তান্তরের পুরো প্রক্রিয়াটি ঘটেছিল উমাইয়া আমলেই। তবে তখনো মুসলমানদের মাঝে ব্যাপকভাবে বই রচনার ধারা শুরু হয়নি। উমাইয়া শাসকদের মধ্যে শ্রেষ্ঠত্বের বিবেচনা করলে মুয়াবিয়া রা এর পরে থাকবেন উমইর ইবনে আবদুল আজিজ ও হিশাম বিন আবদুল মালিক।
খেলাফতে আব্বাসি
১৩২ হিজরিতে উমাইয়াদের পতন হলে ক্ষমতায় আসে আব্বাসি পরিবার। তারা ছিল হজরত আব্বাস রা এর বংশধর। তাদের শাসনামলের শুরুর দিকে কাগজ প্রস্তুত প্রণালী মুসলমানদের হাতে আসে। ফলে এই সময় ব্যাপকভাবে বইপত্র রচনার ধারা শুরু হয়। ইলমের নানা শাখাও বিস্তৃতিলাভ করে। মাজহাব চতুষ্টয়ের ইমামগণ এ সময় জীবিত ছিলেন। তারা নিজেদের মাজহাবের উসুল ও মূলনীতি প্রণয়ন করেন। মুহাদ্দিসরা হাদিস সংকলনের কাজ ব্যাপকভাবে শুরু করেন। কুতুবে সিত্তাহ এ সময় সংকলিত হয়। ইতিহাস শাস্ত্রের গুরুতপূর্ন বইগুলোও সংকলিত হয়। আব্বাসিদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ শাসক ছিলেন হারুনুর রশিদ। একদিকে ছিলেন সামরিক যোদ্ধা অন্যদিকে ছিলেন জ্ঞানের উৎসাহী সমঝদার। তার দরবারে সময়ের শ্রেষ্ঠ জ্ঞানীগুণীদের একত্র করেছিলেন তিনি। আব্বাসিদের আমলে সামরিক অভিযান কমে যায়। নতুন এলাকা জয়ের চেয়ে বিজিত এলাকা নিয়ন্ত্রণে রাখার প্রতিই আব্বাসিরা বেশি আগ্রহী ছিলেন। তাদের সময়ে আন্দালুস তাদের কতৃত্বের বাইরে চলে যায়। সেখানে গড়ে উঠে পৃথক উমাইয়া শাসন। এ সময় কারামেতা ও জাঞ্জ বিদ্রোহ শুরু হয়। ৩১৭ সালে কারামেতারা মক্কা আক্রমণ করে হাজরে আসওয়াদ ছিনিয়ে নেয়, ১৯ বছর পর তা ফিরিয়ে দেয়। আব্বাসিদের সময় মুসলিম বিশ্বে আঞ্চলিক কিছু শাসন গড়ে উঠে। যেমন তুলুনি শাসন, আগলাবি শাসন, ইখশিদি শাসন, হামদানি শাসন, তাহেরি শাসন, সামানি শাসন, গজনবী শাসন। এই শাসকদেরও অনেক অবদান ছিল। হামদানিরা রোমানদের বিরুদ্ধে অনেক জিহাদ করেছিলেন। আগলাবিরা সিসিলি জয় করেন। গজনবীরা ভারতে অভিযান পরিচালনা করেন। তবে আব্বাসিদের দূর্বলতার সুযোগ নিয়ে বুয়াইহি ও সেলজুকরা বাগদাদের উপর নিয়ন্ত্রণ নেয় এবং খলিফাকে কাবু করে ফেলে। বুয়াইহিরা ছিল শিয়া, সেলজুকরা ছিল সুন্নি। শিয়াদের আরেকটি শাখা বনু উবাইদ মিসরে নিয়ন্ত্রণ নেয় এবং আহলুস সুন্নাহর উপর তীব্র | 0 |
| 11 | মাগাজি মুসা বিন উকবার এ বছর প্রকাশিত মুহাক্কাক নুসখা | 0 |
| 12 | +2 مغازي سيدنا محمد ج1.pdf | 0 |
| 13 | প্রফেসর হামিদুর রহমান ইন্তেকাল করেছেন। ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। আট দশকের বর্নাঢ্য জীবনের বেশিরভাগ তিনি ব্যয় করেছেন দ্বীনের খেদমতে, কোরআনি মেহনতে। একজন উচ্চশিক্ষিত মানুষ হয়েও হাফেজ্জি হুজুরের সান্নিধ্যে নিজেকে বিলিয়ে দিয়েছেন, একসময় নিজেই হয়ে উঠেছেন সুবাসিত ফুল, যার ঘ্রাণ নিতে ব্যাকুল হয়েছেন হাজারো আলেম। পার্থিব উন্নতির অনেক সুযোগ সামনে পেয়েও হাসিমুখে তা দুরে ঠেলেছেন, পরিবারকে পরিচালিত করেছেন নিখাদ সুন্নতী জীবনে। জীবনযাপনের আরাম আয়েশ নিয়ে ভাবেননি খুব একটা, সামর্থ্যের সবটুকু বিলিয়ে দিয়েছেন মক্তব-মসজিদ-মাদরাসা প্রতিষ্ঠায়। বৃদ্ধ বয়সে অসুস্থ শরীর নিয়েও সফর করেছেন সারাদেশ। শিক্ষিত সমাজের এক বড় অংশকে দ্বীনে ফিরতে প্রভাবিত করেছেন তিনি। কাউকে উস্কে দেননি ইলমি নৈরাজ্যের পথে, বারবার নসিহত করেছেন আলেমদের সান্নিধ্যে থাকতে। চাইলে 'স্কলার' সেজে বসা অসম্ভব ছিল না তার জন্য, কিন্তু বারবার বলেছেন আমি আলেমদের ছাত্র, তাদের মজলিসে শোনা কথাগুলোই নকল করছি মাত্র। তার এই বিনয়ের কারণেই আল্লাহ তার মর্যাদা আরো বুলন্দ করেছেন। কাটিয়েছেন ঈর্ষনীয় জীবন, সতর্ক থেকেছেন সুন্নতের অনুসরণের প্রতি, দ্বীনে ফেরা যুবকদের জন্য তিনি অনুসরনীয়।
হজরত এক দীর্ঘ কর্মব্যস্ত জীবন কাটিয়েছেন। এখন সত্যিই তার বিশ্রামের দরকার ছিল। আমরা আল্লাহর কাছে দোয়া করি, আল্লাহ যেন তার ভুলত্রুটি ক্ষমা করে তাকে জান্নাতুল ফিরদাউস নসিব করেন। সদকায়ে জারিয়ার যেই মাধ্যমগুলো তিনি রেখে গেছেন তার দ্বারা তাকে উপকৃত করেন এবং আমাদেরকে এমন ঈর্ষনীয় জীবন গড়ার তাওফিক দেন। | 0 |
| 14 | সংকলকের ভূমিকা
সাধারণত আমাদের দেশ থেকে যেসব লেখক সাহিত্যিক বিদেশ ভ্রমণে যান তারা কোনো দেশে প্রবেশের ঘণ্টা দুয়েকের মধ্যে সেখানকার হাজার বছরের ইতিহাস, ঐতিহ্য, সভ্যতা সংস্কৃতি সবকিছু জেনে ফেলেন। প্রায়ই দেশে ফিরে সেসব অভিজ্ঞতালব্ধ জ্ঞান লিখে প্রকাশ করেন তারা। এমন বেশ কিছু সফরনামা পড়ে আমি অনুধাবন করেছি, বিদেশি কোনো আগন্তুকও চাইলে পুরান ঢাকার গলিতে দুই চক্কর দিয়ে আমাদের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বুঝে ফেলতে সক্ষম। ইদানীং প্রেমের টানেই হোক বা ভ্লগের টানে হোক প্রচুর বিদেশি বাংলাদেশে আসছেন। ঘুরে বেড়াচ্ছেন। আমি চাচ্ছিলাম তাদের কাউকে দিয়ে একটি ভ্রমণকাহিনী লিখিয়ে নিতে। ইতিমধ্যে খবর এলো ইবনে বতুতা বাংলাদেশে বেড়াতে এসেছেন এবং নিজের সফরনামা লিখছেন তিনি। কয়েকদিন যোগাযোগ করে তার কাছ থেকে পাণ্ডুলিপি উদ্ধারে সক্ষম হলাম। আপনার হাতে থাকা বইটিই সেই পাণ্ডুলিপি। বইয়ে উল্লিখিত ঘটনা কাল্পনিক নাকি বাস্তব তা ইবনে বতুতা ভালো জানবেন। তবে কেউ যদি এর কোনো অংশের সাথে নিজের মিল খুঁজে পান তাহলে তিনিই দায়ী থাকবেন।
ইমরান রাইহান | 0 |
| 15 | নতুন একটি রম্য সিরিজ নিয়মিত পোস্ট করা হবে এখানে ইনশাআল্লাহ। | 0 |
| 16 | সপ্তম শতাব্দীতে নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন দ্বীন প্রচার শুরু করেন সে সময় ভূমধ্যসাগরের আশপাশের পুরো এলাকা খ্রিস্টানদের নিয়ন্ত্রণে ছিল। এ অঞ্চলে খ্রিস্টানদের বিভিন্ন ফিরকার বসবাস ছিল। খুব এলাকাই এমন ছিল যেখানে মনি ও ইহুদি ধর্মের লোকজন বসবাস করত। ভূমধ্যসাগরের উত্তর অংশে ছিল রোমান সাম্রাজ্য, যার রাজধানী ছিল কনস্টান্টিনোপল। সিরিয়া, ফিলিস্তিন, মিসর, উত্তর আফ্রিকার কিছু অংশ, এশিয়া কিপচাক, এবং দক্ষিণ ইউরোপ জুড়ে ছিল এই সাম্রাজ্যের বিস্তৃতি। ভূমধ্যসাগরের পশ্চিম অংশে রোমান সাম্রাজ্য নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছিল। এখানকার স্থানীয়রা খ্রিস্টধর্ম গ্রহণ করে। নানা সফলতা ও ব্যর্থতার মধ্য দিয়ে তারা গির্জার প্রভাব টিকিয়ে রাখতে সক্ষম হয়।
মেসোপটেমিয়া ও ইরানের পশ্চিম সীমান্তবর্তি শহরগুলো তখন রোমান সাম্রাজ্যের আওতামুক্ত হলেও এসব এলাকায় উল্লেখযোগ্য সংখ্যক খ্রিস্টানের বসবাস ছিল। এমনকি আরবেও, যেখানে রোমান সাম্রাজ্য আর পারসিয়ান সাম্রাজ্যের সীমান্ত মুখোমুখি একে অপরকে চোখ রাঙ্গাচ্ছিল, সেখানেও ছিল অনেক খ্রিস্টানের অবস্থান। অবশ্য মূর্তিপূজারিদের তুলনায় খ্রিস্টান ও ইহুদিরা সেখানে সংখ্যালঘুই ছিল।
৬৩২ হিজরিতে নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ইন্তেকালের পর মুসলমানরা আরবের বাইরে একের পর এক জিহাদ পরিচালনা করেন এবং কয়েক দশকের মধ্যেই সুবিশাল পারসিয়ান সাম্রাজ্য ও রোমান সাম্রাজ্যকে তছনছ করে ফেলেন। পারসিয়ান সাম্রাজ্যের পুরো এলাকাই ইসলামি খেলাফতের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যায়। রোমান সাম্রাজ্য থেকেও কেড়ে নেয়া হয় সিরিয়া, ফিলিস্তিন, মিসর ও উত্তর আফ্রিকা। পরে স্পেন ও পর্তুগালে প্রতিষ্ঠা হয় মুসলিম শাসন। আন্দালুসে মুসলিম শাসন প্রতিষ্ঠা খ্রিস্টজগতকে অস্বস্তিতে ফেলে। সে সময় কনস্টান্টিনোপল জয়ের নেশায় মুসলিম সেনাবাহিনী একের পর এক অভিযান পরিচালনা করছিল, অপরদিকে আন্দালুসের মুসলিম বাহিনীও ফ্রান্সের দিকে এগুচ্ছিল। দ্বিমুখী এই আক্রমণের মুখে আশংকা ছিল খ্রিস্টজগতের শেষ আশ্রয়স্থলেরও পতন ঘটবে। কিন্তু ৭৩২ খ্রিস্টাব্দে ট্যুরসের যুদ্ধে চার্লস মার্টেলের বাহিনীর কাছে আব্দুর রহমান গাফেকি পরাজিত হলে খ্রিস্টজগত স্বস্তির নিশ্বাস ছাড়ে।
ইউরোপিয়ান ইতিহাসবিদদের দৃষ্টিতে ট্যুরসের যুদ্ধ তাই নিছক দুটি শক্তির লড়াই ছিল না, বরং এর উপর নির্ভর করছিল ইউরোপের ভবিষ্যৎ। ইতিহাসবিদ গিবন এই যুদ্ধ সম্পর্কে মূল্যায়ন করেছেন এভাবে,
'অগ্রগামী মুসলিম সেনারা ছড়িয়ে ছিল প্রায় এক হাজার মাইল এলাকা জুড়ে। যদি তারা সারিবদ্ধ হয়ে সামনে অগ্রসর হতে পারতো তাহলে মুসলমানরা পোল্যান্ডের সীমানা অতিক্রম করে স্কটল্যান্ডের পাহাড়ি এলাকা পর্যন্ত পৌঁছে যেত। মুসলমানদের জন্য রাইন নদী অতিক্রম করা ফোরাত বা নীল নদী অতিক্রমের চেয়ে কঠিন ছিল না। এমন হলে আজ অক্সফোর্ডের স্কুলগুলোতে কোরআনের তাফসির পড়ানো হত, এখানকার মঞ্চে মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের উপর অবতীর্ন অহির সত্যতা আলোচনা করা হত।
গিবনের মতে শুধু একজন ব্যক্তির বুদ্ধিমত্তা খ্রিস্ট জগতকে এই বিপদ থেকে রক্ষা করেছিল। তবে ইউরোপিয়ান ইতিহাসবিদরা এই যুদ্ধ নিয়ে যতটা উচ্ছ্বসিত ঠিক ততটাই নীরব আরব ইতিহাসবিদরা। আরব ইতিহাসবিদদের মধ্যে ইবনু আবদিল হাকাম প্রথম এই যুদ্ধের কথা আলোচনা করেন। তিনি খুব সংক্ষেপে বিবর্ণ দিয়েছেন। তার লেখা থেকে শুধু এটুকু জানা যায়, ১১৫ হিজরিতে টুরসের যুদ্ধে আব্দুর রহমান গাফেকি পরাজিত হন এবং শাহাদাত বরণ করেন। অন্য আরব ইতিহাসবিদরাও এই যুদ্ধের বিবরণ খুব সংক্ষেপে আলোচনা করেছেন। এমনকি তাবারির মত প্রসিদ্ধ ইতিহাসবিদ যিনি প্রতিটি বিবরণে বিস্তৃত আলোচনা ও নানা ধরণের বর্ননা একত্র করার জন্য প্রসিদ্ধ তিনিও এই ঘটনার কোনো আলোচনা করেননি।
(পর্ব-১) | 0 |
| 17 | মাআসিরে আলমগিরির বরাতে যদুনাথ সরকার লিখেছেন,
বাদশাহ আওরংজীব তখন পাঞ্জাবের হসন্ আব্দাল নামক শহরে বাস করিতেছিলেন। রাজবাড়ীর দেওয়ালের বাহিরে একজন গরীব বুড়োর দোকান ছিল। রাজ-বাগানের মধ্য দিয়া যে জল বাহির হইয়া নালায় পড়িত তাহাতে তাহার যাঁতা ঘুরিত এবং এইরূপে ময়দা পিষিয়া বেচিয়া যে কোনক্রমে খাওয়া চালাইত। বাদশাহ আসায় নাজীরের চাকরেরা ঐ জল বাহির হওয়ার পথ বন্ধ করিয়া দিল; বুড়ো ময়দাওয়ালা অনাহারে মারা যায় যায়। মাসির-ই-আলমগীরী গ্রন্থের লেখক সাকী মুস্তাদ খাঁ খবর পাইয়া একজন উচ্চকৰ্ম্মচারী বখ্তাত্তর খাঁ দ্বারা বাদশাহকে জানাইলেন। আওরংজীব হুকুম দিলেন যে বাত্তর খাঁ স্বয়ং গিয়া দেখুন যেন জলের মুরী খুলিয়া দেওয়া হয় এবং চাকরদের কড়া করিয়া বলিয়া দেন যে বুড়োর ব্যবসায়ে বাধা না ঘটে। দেড় প্রহর রাত্রে দুই থালা খাদ্য ও পাঁচটা মোহর একজন কর্ম্মচারীর হাতে দিয়া বলিলেন “এগুলি বখতাত্তর খার কাছে লইয়া যাও, যে তোমাকে ওই বুড়োর বাড়ীর পথ দেখাইয়া দিবে। বুড়োকে আমার সেলাম দিয়া ক্ষমা প্রার্থনা করিয়া আমার পক্ষ হইতে বলিও——তুমি আমার প্রতিবেশী, অথচ আমার আগমনে তোমার কষ্ট হইয়াছে। আমাকে মাফ কর।” কর্ম্মচারী বখ্তাত্তর খাঁর বাসায় পৌঁছিয়া অনেক খোঁজ লইবার পর একজন পেয়াদার নিকট জানিলেন যে আর একটি ছোটো পাহাড়ের পর বুড়োর কুঁড়ে ঘর আছে। দুপুর রাত্রে যেখানে পৌঁছিয়া বুড়োকে জাগাইয়া, তাহার ক্ষমা লাভ করিয়া তবে সকলে ফিরিল।
পরদিন বাদশাহ নাজীরকে হুকুম করিলেন যে বাদশাহী পাল্কী পাঠাইয়া বুড়োকে অন্দরমহলে আন। বুড়ো জীবনে কখন পাল্কীর নামও শুনে নাই, রূপার ডাঁট যুক্ত পাল্কী দেখা ত দুরে থাকুক। তাহাকে ঐ পাল্কীর ভিতর বসাইয়া আনা হইল। বাদশাহ তাহার অবস্থা জিজ্ঞাসা করিলেন, জানিলেন যে তাহার স্ত্রী, দুই কুমারী কন্যা ও নেংটা দুই পুত্র আছে। সরকার হইতে তাহাকে দু শ টাকা দেওয়া হইল, তাছাড়া আর সকলে অনেক টাকা, গহনা ও কাপড় দিলেন। দুদিন রাজবাড়ীতে কাটাইয়া সে ঘরে ফিরিল। তখন তাহার গায়ে শাল, কিংখাবের পাজামা, সুন্দর কেনারাযুক্ত পেশওয়াজ জামা, এবং বাদলা কাজ করা টুপী পরা, কোঁছায় মোহর টাকা ও গহনা। অথচ মুখখানি শত শত লোলচৰ্ম্মে ঢাকা এবং চোখ দুটি অন্ধপ্রায়। মুস্তাদ খাঁ তাম্বুর সামনে আসিয়া দাঁড়াইল। তিনি তো চিনিতেই পারেন না, পুছিলেন, "কে হে তুমি?” বুড়ো বলিল, “আব্বা, আমি সেই বুড়ো। আপনার এবং বক্তৃতাত্তর খাঁর অনুগ্রহে আমার এই সৌভাগ্য হইয়াছে!” খাঁ উত্তর করিলেন “ঈশ্বর তোমার ভাল করুন।”
দুতিন দিন পরে বাদশাহ পাল্কী করিয়া বুড়ো ও তাহার কন্যাদের আনাইলেন এবং যৌতুক স্বরূপ হাজার টাকা দিলেন। বেগমরাও অনেক গহনা, পোষাক ও টাকা দিলেন। বুড়োর আর একটি যাঁতা বসাইয়া তাহার জন্য সরকারী বাগান হইতে জল দিবার হুকুম হইল, এবং তাহাকে সব ট্যাক্শ হইতে মাফ করিয়া সনদ দেওয়া হইল। রাজবৈদ্যকে পাঠাইয়া বুড়োর চক্ষুর চিকিৎসা করা হইল। তাহার মেয়েদের বিবাহ হইয়া গেল,, এবং উলঙ্গ ছেলেদের জরীর পোষাক পরান হইল। তাহার স্ত্রীর এতদিন গ্রামের বুড়ি ডাকিনী বলিয়া গণ্য হইত, কিন্তু বাদশাহের অনুগ্রহে যেন তাহারও চেহারা ফিরিল, লোলচর্ম্ম চলিয়া গেল, চক্ষে জ্যোতি আসিল, সে আবার সুন্দরী হইল। | 0 |
| 18 | কাব্য ও সাহিত্য প্রতিভাতেও সুলতান পিছিয়ে ছিলেন না। সমকালীন ইতিহাসগ্রন্থগুলো এখনো বহন করছে সুলতানের প্রতিভার স্বাক্ষর। আদাবে আলমগিরি, দুস্তুরুল আমাল, আর রকাইমুল কারাইম, আল কালিমাতুত তাইয়িবাত গ্রন্থগুলোতে ইতিহাসের ফাকে ফাঁকে সুলতানের যেসব খণ্ডিত লেখা ও কবিতা উপস্থাপন করা হয়েছে তা থেকেই অনুমান করা যায় সুলতানের প্রতিভা। সুলতান প্রচুর অর্থ ও জমি দান করেছেন আলেমদেরকে। প্রতিবার শর্ত করে দিয়েছিলেন বিনিময়ে তাদেরকে দরস দিতে হবে। একবার মক্কায় তিনি বিপুল অর্থ পাঠান। বাহককে বলে দেন যে আলেমরা দরসের কাজে ব্যস্ত তাদেরকে এগুলো উপহার দিতে।
আলমগিরের পর মুসলিম বিশ্বে এত শক্তিশালী ও প্রভাবশালী আর কোনো শাসক আসেনি। তার শাসনামলে পৃথিবীর জিডিপির এক চতুর্থাংশ ছিল ভারতে।
আলমগির রহিমাহুল্লাহ।
-
তিনশো বছর আগে আলমগির যখন সেনাবাহিনীর সাথে কৃষ্ণা নদীর তীরে বদিগ্রামে বিশ্রামে ব্যস্ত, তখন তার সাথে দেখা করে এক আগন্তুক। 'আমি আপনার শিষ্য হতে বাংলা থেকে এখানে আগমন করেছি। আপনি আমার ইচ্ছা পূরণ করুন' বলেছিল সে। সুলতান মুচকি হেসে কিছু অর্থ উপহার দিলেন তাকে, বললেন, আমার কাছ থেকে যা আশা করছো তা হলো এই। লোকটি টাকা হাতে নিয়ে নদিতে ফেলে দেয়, নিজেও ঝাঁপিয়ে পড়ে নদিতে। আশপাশের লোকজন টেনে তুলে তাকে। সুলতান একজন উজিরের দিকে তাকিয়ে মুচকি হেসে বললেন, এই পাগলা আমার শিষ্য হতে বাংলা থেকে এখানে এসেছে। এক কাজ করো তাকে সিরহিন্দে মিয়া মুহাম্মদ নাফির কাছে পাঠিয়ে দাও।
-
আজ সারাদিন অনলাইনের প্রচারণা প্রমাণ করেছে, তিনশো বছর পরেও তার শিষ্য হতে চাওয়া লোকজনের অভাব নেই এই বাংলায়।
রহিমাহুল্লাহ। | 0 |
| 19 | মুঘল সাম্রাজ্য সবচেয়ে বেশি বিস্তৃত ছিল যার শাসনকালে তার নাম আবুল মুজাফফর মুহিউদ্দিন মুহাম্মদ আওরঙ্গজেব আলমগির। পশ্চিমে গজনী, পূর্বে চট্টগ্রাম, উত্তরে কাশ্মীর, দক্ষিণে কর্নাটকের কাবেরী নদী, এক বিশাল ভূখণ্ডের শাসক ছিলেন তিনি। তিব্বতের রাজারা ছিলেন তার অনুগত, সম্মান করে বলতেন, চক্রবর্তী। দক্ষিণ ভারতের মালাবারেও চলতো তার নামে মুদ্রা।
তখত ইয়া তক্তা, সিংহাসন অথবা শবাধার নীতিতে চলা মুঘল পরিবারে জন্মেছিলেন আলমগির, তবে অন্য মুঘল শাহজাদাদের চেয়ে ব্যতিক্রম কেটেছিল তার শৈশব। জীবনের শুরুতেই পেয়ে যান আবদুল লতিফ সুলতানপুরি, মুহাম্মদ হাশেম গিলানি ও শায়খ মুহিউদ্দিন বিন আবদুল্লাহ বিহারির মত আলেমদের সান্নিধ্য। তাদের কাছ থেকে অর্জন করেন হাদিস, তাফসির ও ফিকহের জ্ঞান। আরবি হস্তলিপি শিখেন আলহাজ্ব কাসেম ও সাইয়েদ আলি বিন মুহাম্মদের কাছে। আধ্যাত্মিক সম্পর্ক গড়ে তোলেন শায়খ আহমদ সিরহিন্দির ছেলে শায়খ মাসুমের সাথে। তরুণ বয়সেই সংকলন করেন কিতাবুল আরবাইন, যুগ যুগ ধরে মুহাদ্দিসরা বরকতের আশায় যে সংকলন তৈরি করতেন।
তরুণ বয়সের যাবতীয় অনাচার থেকে সযত্নে দূরে ছিলেন আলমগির, নিজেকে প্রস্তুত করেছিলেন সমৃদ্ধ আগামীর জন্য। পিতা শাহজাহানের রাজত্বের শেষদিকে ইচ্ছার বিরুদ্ধে ভ্রাতৃঘাতি লড়াইয়ে জড়িয়ে পড়তে হয় তাকে, নিজের সক্ষমতা প্রমাণ করে অর্জন করেন মুঘল সাম্রাজ্যের মসনদ। শুকরিয়া হিসেবে কোরআনুল কারিম হিফয করেন তখন। শাসনকার্যের ভার সামলাতে গিয়েও ব্যক্তিগত ইবাদতে ভাটা পড়তে দেননি তিনি। প্রতি ওয়াক্ত নামাজে উপস্থিত হতেন শাহী মসজিদে, ফটকের বাইরে ঘোড়া থেকে নামতেন সুলতান। জীবনের শেষদিকে যখন তিন দশক ধরে দক্ষিনাত্যের মরণপণ লড়াইয়ে ব্যস্ত তিনি, গোলকুণ্ডা আর বিজাপুর ধরা দিবে দিবে করেও দিচ্ছে না, তখনো বহুবার গোপনে ছুটে এসেছেন রাজধানীতে, শরিক হয়েছেন শাহি মসজিদের জুমার নামাজে।
গ্রীষ্ম কিংবা শীত, কখনোই তারাবি বাদ যেত না তার, নিয়ম করে প্রতি রমজানে উপস্থিত হতেন ইতিকাফে। নফল রোজাগুলো আদায় করা ছিল তার নিয়মিত অভ্যাস, পরিবারের সবার জানা ছিল সুলতান কবে রোজা রাখবেন। নিজের ব্যক্তিগত জীবনে ছিলেন শরিয়াহর পাবন্দ, আমির উজিরদেরকেও বারবার সতর্ক করতেন এ বিষয়ে। ১৬৫৪ সালে ১৫ বছর বয়সী পুত্র মুহাম্মদ সুলতানকে যখন আজমির পাঠান, তখন তাকে উপদেশ দিয়েছিলেন, যাত্রার দিনগুলিতে দুই পারা করে তিলাওয়াত করবে, বিশ্রামের দিনে তিন পারা।
সুলতানের দৈনন্দিন রুটিন ছিল খুবই কড়া, যুদ্ধের ময়দান ব্যতীত সহজে এর ব্যত্যয় হত না। শেষরাতে জেগে উঠতেন তিনি। তাহাজ্জুদ আদায় করে চলে যেতেন মসজিদ। ফজরের নামাজের পর দীর্ঘসময় ব্যস্ত থাকতেন তিলাওয়াত ও জিকিরে। এরপর বসতেন দৌলতখানায়, যেখানে তার সামনে উপস্থিত হতেন সভাসদরা। দীর্ঘ সময় প্রশাসনিক বিষয়াদি নিয়ে আলোচনা হত। শুরুর দিকে কিছুদিন তিনি পূর্বের সম্রাটদের রীতি মেনে যমুনার পাড়ে ঝরোকা দর্শন দিয়েছেন, তবে পরে এটি বাতিল করেন। দৌলতখানা থেকে সুলতান চলে আসতেন হেরেমে, এখানে ঘণ্টা দুয়েক বিশ্রাম নিয়ে চলে যেতেন দিওয়ানে আমে। কখনো জৌনপুরের প্রতিনিধি, কখনো বাংলার, কখনো গজনীর, একে একে সবার সাথেই আলোচনা সারতেন সুলতান। সব শ্রেণীর লোকজন এখানে এসে সুলতানের দেখা পেত। গভর্নরদের রিপোর্ট শুনতেন এখানে, কখনো কখনো তাদেরকে পুরস্কৃত করা হত, দেয়া হত সম্মানসূচক উপাধি। মজলিস শেষে সময় পেলে সুলতান ঘোড়ার আস্তাবল ঘুরে দেখতেন। রাজকীয় হাতীগুলোর খোজখবর নিতেন। এরপর আবার চলে যেতেন দৌলতখানায়, সেখানে শুধু উজির ও সেনাপতিরাই প্রবেশের অনুমতি পেত। রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ন বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা হত সেখানে। কোথাও পত্র লেখার দরকার হলে সুলতান বলে দিতেন, খসখস শব্দ তুলে অমসৃণ কাগজে লিখে ফেলা হত সেই বার্তা। শাহী সিলমোহর বসিয়ে সেই পত্র তুলে দেয়া হত বাহকের হাতে। গরমের দিনগুলোতে যোহর একটু পরে আদায় করতেন সুলতান। অনেক সময় দুপুরের খাবার নামাজের আগে সেরে নিতেন।
যোহরের পর সুলতান চলে যেতেন খলওয়াত খানায়। সেখানে একাকী সময় কাটাতেন তিলাওয়াত করে, ফিকহি নানা বিষয় নিয়ে চিন্তা করে কিংবা বইপত্র পড়ে। খুব কমই সেখানে কাউকে ঢুকার অনুমতি দেয়া হত। আসরের পর আবার দৌলতখানায় বসে কিছু কাজ সেরে নিতেন। মাগরিবের পর দীর্ঘ সময় তিলাওয়াত ও জিকিরে কাটাতেন। এরপর কিছু সময় প্রশাসনিক কাগজপত্র দেখতেন। এশার পর বিলম্ব করতেন না সুলতান। রাতের খাবার খেয়েই ঘুমিয়ে যেতেন।
সুলতানের প্রিয় কিতাব ছিল ইমাম গাজালির ইহইয়া উলুমিদ্দিন ও কিমিয়ায়ে সাআদাত। প্রায়ই কিতাবগুলো পড়ে শোনাতে ডেকে আনা হত কাউকে। সুলতানের হস্তলিপি ছিল অসাধারণ। খত্বে নসখ ও নাস্তালিকে তার ছিল বিশেষ পারদর্শীতা। প্রায়ই নিজ হাতে কোরআনুল কারিমের প্রতিলিপি তৈরি করে বিক্রি করতেন। এটাই ছিল তার জীবিকার মাধ্যম। নিজের হাতে লেখা একটি মুসহাফ তিনি পাঠিয়েছিলেন মক্কায়। আরেকবার আলফিয়া ইবনে মালিকের একটি কপি তৈরি করে পাঠান আরবে। | 0 |
| 20 | আত্মীয়ের মত হও। নিজের দোষের ব্যাপারে সতর্ক থাকো, সংগির দোষের ব্যাপারে থাকো নির্লিপ্ত। সবার ভুল ধরো না। বরং বলো, আসুন আমরা কল্যানের পথে চলি। পদে পদে ভুল ধরলে তোমার সঙ্গী কমে যাবে। ফলে তোমাকে নিঃসঙ্গ একাকী জীবন যাপন করতে হবে। তারিখু মাদিনাতি দিমাশক, ৩২/৪৬৯
গোনাহ সম্পর্কে আবদুল্লাহ ইবনুল মুবারকের একাধিক কবিতা রয়েছে। একটি কবিতায় তিনি বলেন, আমি লক্ষ কএরছি গোনাহের কারনে অন্তর মারা যায়। নেশায় অন্তর লাঞ্চিত হয়। মৃত্যুর আগেই তুমি তোমার প্রস্তুতি নাও। নফসের জন্য সর্বোত্তম হলো এর বিরোধিতা করা। রাজা বাদশাহ ও ধর্মীয় গুরুরা ছাড়া আর কে দ্বীন ধবংস করেছে। মানুষ একটা পচা দুর্গন্ধযুক্ত জিনিসের উপর চড়ে বেড়াচ্ছে, যার দুর্গন্ধ সকল বুদ্ধিমানই অনুভব করবে। তারিখু মাদিনাতি দিমাশক, ৩২/৪৬৭ | 0 |
