es
Feedback
ঈমান ও আমল

ঈমান ও আমল

Ir al canal en Telegram

📈 Análisis del canal de Telegram ঈমান ও আমল

El canal ঈমান ও আমল (@imanoamol) en el segmento lingüístico de Bengalí es un actor destacado. Actualmente la comunidad reúne a 18 360 suscriptores, ocupando la posición 4 338 en la categoría Religión y espiritualidad y el puesto 1 234 en la región Bangladesh.

📊 Métricas de audiencia y dinámica

Desde su creación el невідомо, el proyecto ha mostrado un crecimiento acelerado, reuniendo a 18 360 suscriptores.

Según los últimos datos del 26 agosto, 2026, el canal mantiene una actividad estable. En los últimos 30 días la variación de miembros fue de -65, y en las últimas 24 horas de -5, conservando un alto alcance.

  • Estado de verificación: No verificado
  • Tasa de interacción (ER): El promedio de interacción de la audiencia es 5.98%. Durante las primeras 24 horas tras publicar, el contenido suele obtener 2.22% de reacciones respecto al total de suscriptores.
  • Alcance de las publicaciones: Cada publicación recibe en promedio 1 098 visualizaciones. En el primer día suele acumular 408 visualizaciones.
  • Reacciones e interacción: La audiencia responde de forma activa: el promedio de reacciones por publicación es 0.

📝 Descripción y política de contenido

No se ha proporcionado la descripción del canal.

Gracias a la alta frecuencia de actualizaciones (últimos datos recibidos el 27 agosto, 2026), el canal mantiene la vigencia y un amplio alcance. La analítica demuestra que la audiencia interactúa activamente con el contenido, lo que lo convierte en un punto de referencia dentro de la categoría Religión y espiritualidad.

18 360
Suscriptores
-524 horas
-127 días
-6530 días
Archivo de publicaciones
নবীজি ﷺ এর রওজা মোবারকের পাশ থেকে চারজন পুলিশ এক যুবককে আটক করে; তারা কোনো কথা না বলেই সাথে সাথে যুবকটির পেছনে দড়ি দিয়ে তার দু'হাত বেঁধে ফেলে। যুবকটি পুলিশদের জিজ্ঞেস করতে লাগলো তোমাদের কী হয়েছে; আমিতো চোরও নই, ডাকাতও নই, তাহলে আমার সাথে এমন আচরণ করছ কেন?! দূর থেকে একজন বয়স্ক মুরব্বী পুরো বিষয়টি লক্ষ্য করছিলেন। তখন তিনি কাছে এসে পুলিশদের বললেন, "আমি এই যুবককে চিনি।" পুলিশরা তাকে বললো: আপনি তাকে কীভাবে চিনেন? মুরব্বী বললেন: আমি তাকে দেখি সে সবসময় রাসূলুল্লাহ ﷺ এর রওজার সামনে দাঁড়িয়ে-দাঁড়িয়ে, বসে-বসে দুরূদ পড়ে, সালাম দেয়, কান্নাকাটিও করে। তোমরা তাকে গ্রেফতার করেছ কেন, সে কি চোর? যুবকটি ছিলো আলবেনিয়ার নাগরিক, বয়স ৩৫ অথবা ৩৬ হবে। তার মাথা ভর্তি ঘাড় বাবরি চুলে আর মুখ ভর্তি হালকা দাড়িতে। পুলিশ বললো: না, সে চোর নয়। এই যুবক আলবেনিয়ার অধিবাসী, সে মদিনায় ছয় বছর ধরে বসবাস করছে অথচ এখানে তার কোনো বসবাসের কাগজপত্র নেই। আমরা তাকে ধরে আলবেনিয়ায় পাঠিয়ে দিতে চাচ্ছি ছয় বছর যাবৎ কিন্তু প্রতিবারই তাকে ধরার পর সে আমাদের থেকে পালিয়ে যায়। আমরা তাকে প্রতিবারই রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মসজিদ থেকে ধরি। এবারও তাই হলো। তাকে এবার পাওয়া মাত্রই সাথে সাথে দড়ি দিয়ে বাঁধা ছাড়া আমাদের কোনো উপায় ছিল না! মুরব্বী পুলিশদের বললেন: এখন তোমরা তাকে নিয়ে কী করবে? তারা বললো: রাষ্ট্রীয় আইন প্রয়োগ করবো। আমরা তাকে এখন ধরে নিয়ে প্লেনে উঠিয়ে দিবো এবং তারপর সে আলবেনিয়ায়।..... যুবকটি তখন কাঁদছিল আর ভাবছিল এবার মনে হয় তাকে সত্যি সত্যিই রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মসজিদ ছেড়ে যেতে হবে! রাসূলের স্মৃতি বিজড়িত মদীনা শহর ছেড়ে যেতে হবে! কিছুক্ষণ ভেবে যুবকটি পুলিশদের বলতে লাগলো: দেখুন ভাই, আমি এখানে চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই ও কারো সাথে প্রতারণা করি না। আমি এখানে এসেছি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ভালোবাসার টানে, এছাড়া অন্য কোনো দুনিয়াবি উদ্দেশ্য আমার নেই। পুলিশরা বললো: না, এটা গ্রহণযোগ্য কথা নয়, আপনাকে অবশ্যই দেশে ফিরে যেতে হবে। বহিরাগতদের রাষ্ট্রীয় আইনে এখানে থাকার সুযোগ নেই। পুলিশরা যুবককে নিয়ে মসজিদে নববী থেকে বের হয়ে গেলো। যুবক পথিমধ্যে তাদের বললেন: আমার একটি শেষ অনুরোধ রাখবেন? পুলিশরা তার অনুরোধ শুনলো এবং সুযোগ দিল। যুবকটি তখন সবুজ গম্বুজের দিকে তাকিয়ে আবেগতাড়িত কণ্ঠে বললো: هل هكذا كان الإتفاق بينن؟! "ইয়া রাসূলুল্লাহ! আমাদের মধ্যে চুক্তিটা কি এমন হয়েছিল! হে রাসূল! আপনার প্রতিবেশী হবো, তাই আমি আমার দোকান, ব্যবসা, মা-বাবাকে ছেড়ে এখানে এসেছি কিন্তু তারা আমাকে আর থাকতে দিচ্ছে না। এই কথা বলতে বলতে যুবক মাটিতে লুটিয়ে পড়লো। পুলিশরা বলেছে: আমরা ভাবলাম, যুবক ইচ্ছাকৃতভাবে মাটিতে লুটিয়ে পড়ছে, সে জ্ঞান হারানোর ভান করছে , হয়তো আবার পালানোর পাঁয়তারা করছে। পুলিশ সদস্যরা কিছুক্ষণ পর যুবককে মাটি থেকে টেনে উঠালো, দেখল সে সত্যিই অচেতন, মুখে পানি ঢেলে দিলেও যুবক আর নড়ছে না। তাদের মধ্যে একজন বললো: তার হয়তো স্ট্রোক বা হার্ট অ্যাটাক হয়েছে, এক্ষুনি অ্যাম্বুলেন্স আনো। অ্যাম্বুলেন্স এসেছিল এবং যুবককে হাসপাতালেও নেওয়া হয়েছিল, ডাক্তার তার পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার পর বললেন: আরো দেড় ঘণ্টা আগে যুবক এই পৃথিবী থেকে চলে গেছে, সে বেঁচে নেই। পুলিশ সদস্যরা তখন কান্নায় ভেঙে পড়েছিল এবং বলছিল: আল্লাহর শপথ, আমরা আমাদের দায়িত্ব পালনকালে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের প্রতি তাঁর গভীর ভালোবাসার নমুনা অনুভব করতে পারিনি। এরপর গোসল ও জানাযা শেষে যুবককে অ্যাম্বুলেন্সে করে জান্নাতুল বাকিতে নিয়ে যাওয়া হয় এবং সেখানে দাফন করা হয়। আলবেনিয়ার পথে রওনা দেওয়া যুবক, জান্নাতুল বাকিতে চলে গেলেন। রেখে গেলেন পৃথিবীবাসীর জন্যে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের প্রতি ভালোবাসার অনুপম উপমা। ~ আরবি থেকে অনূদিত ©

photo content

বাংলাদেশে ২০২৬ সালের তথা ১৪৪৮ হিজির এর পবিত্র রবিউল আউয়াল মাসের আইয়ামে বীজের রোজাগুলো রাখতে হবে যথাক্রমে ২৭ আগস্ট, ২৮ আগস্ট, ২৯ আগস্ট  যথাক্রমে বৃহস্পতিবার, শুক্রবার এবং শনিবার। অর্থাৎ বুধবার দিবাগত রাতে সাহরি খেয়ে বৃহস্পতিবার থেকে রোজা শুরু করতে হবে। যাদের পক্ষে সম্ভব, তারা আগে থেকেই প্রস্তুতি নিয়ে রাখি। আইয়ামে বীজ আরবি দুটি শব্দের সমন্বয়ে গঠিত। আইয়ামে অর্থ দিবসসমূহ, আর বীজ অর্থ শুভ্র, সাদা, শ্বেত, খাঁটি, নির্ভেজাল। প্রতি চান্দ্র মাসের ১৩, ১৪ ও ১৫ তারিখকে আইয়ামে বীজ বলা হয়। বেশ কয়েকটি সহীহ হাদীসে এ তিন দিনের রোজা রাখার জন্য উৎসাহিত করা হয়েছে। এ রোজাগুলো নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সারা জীবনের সুন্নত। প্রতি মাসে আইয়ামে বীজের ৩টি রোজা রাখা সারা বছর রোজা রাখার সমতুল্য। তাই চলুন, আমরা প্রত্যেকে সাধ্যমতো পরিবারের সকলকে নিয়ে নফল রোজাগুলো পালন করি। রোজা এমন একটা ইবাদত যার প্রতিদান আল্লাহ নিজে দিবেন। আইয়ামে বীজের রোজার ফজিলত ও সংশ্লিষ্ট কিছু মাসআলা সম্পর্কে জানতে ভিজিট করুন: https://muslimsday.com/blog/আইয়ামে-বীজ-রোজার-ফজিলত আল্লাহ আমাদেরকে এই নফল রোজাগুলো নিয়মিত রাখার তাওফিক দান করুন।

photo content

নবীজি ﷺ-এর প্রতি ভালোবাসার আসল পরিচয় কিসে—নির্দিষ্ট দিনের উৎসবে, নাকি দৈনন্দিন সুন্নাহ অনুসরণে?

আর যদি তুমি এমন কাউকে চেনো যে নীরবে ভেঙে যাচ্ছে, তাকে শুধু উপদেশ দিও না। তার পাশে বসো। তার কথা শোনো। তাকে জড়িয়ে ধরো। বলো, “তুমি চাইলে আমার কাছে সব বলতে পারো।” কখনো কখনো একজন মানুষের জীবন বদলে দেওয়ার জন্য বিশাল কোনো বক্তৃতার দরকার হয় না; দরকার শুধু একজন মানুষ, যে তার অন্ধকারের রাতে পাশে দাঁড়িয়ে বলে “তুমি একা নও। আমি আছি। আর তোমার রব তো আছেনই।” মনে রেখো, এই দুঃখ তোমার পুরো জীবন নয়। এই রাতটাই তোমার শেষ গল্প নয়। আজ যে বুকটা ভারী হয়ে আছে, আল্লাহ চাইলে একদিন সেই বুকেই আবার প্রশান্তি নেমে আসবে। হয়তো আজ তুমি বুঝতে পারছ না কেন এত কষ্টের মধ্য দিয়ে যাচ্ছ। কিন্তু একদিন পেছনে ফিরে তাকিয়ে হয়তো তুমি চোখের পানি মুছে বলবে- “আলহামদুলিল্লাহ… তখন আমি ভেবেছিলাম আল্লাহ আমাকে একা রেখে দিয়েছেন। অথচ তিনি তখনও আমাকে ধরে রেখেছিলেন।” তাই আরেকটু ধৈর্য ধরো। আরেকটু দোয়া করো। আরেকবার সিজদায় যাও। কারণ তুমি যে গল্পের এই মুহূর্তটাকে শেষ মনে করছ, আল্লাহ হয়তো সেখান থেকেই তোমার সবচেয়ে সুন্দর অধ্যায়টি শুরু করছেন।

কখনো কখনো মানুষ বাইরে থেকে একদম স্বাভাবিক থাকে, অথচ ভেতরে ভেতরে প্রতিদিন একটু একটু করে ভেঙে পড়ে। সে হাসে, মানুষের সঙ্গে কথা বলে, কাজ করে, পরিবারের পাশে বসে কিন্তু তার বুকের ভেতরটা যেন নিঃশব্দ এক যুদ্ধক্ষেত্র। কাউকে কিছু বলতে পারে না। কারণ সে জানে, সবাই তার চোখের জল দেখতে পাবে না; সবাই তার নীরবতার অর্থ বুঝবে না। তখন রাত গভীর হলে, চারপাশ যখন নিস্তব্ধ হয়ে আসে, মানুষটা নিজের বুকের ভেতর জমে থাকা হাজারটা কষ্ট নিয়ে একা হয়ে যায়। মনে হয় “আমি আর পারছি না।” এই অনুভূতিটাই মানসিক অবসাদকে এত ভয়ংকর করে তোলে। শরীরের ক্ষত মানুষ দেখতে পায়, কিন্তু মনের ক্ষত দেখা যায় না। শরীর অসুস্থ হলে মানুষ পাশে দাঁড়ায়, অথচ মন ক্লান্ত হয়ে গেলে অনেক সময় মানুষটাকেই বলা হয় “এত চিন্তা করো কেন?”, “ইমান দুর্বল বলেই এমন হচ্ছে”, “নামাজ পড়লেই তো সব ঠিক হয়ে যাবে।” অথচ একজন ভেঙে পড়া মানুষকে প্রথমে দরকার বিচার নয় দরকার মমতা। দরকার এমন একজন মানুষ, যার কাছে সে নিজের ভাঙাচোরা গল্পটা বলতে পারে এবং যার মুখে শুনতে পারে “তুমি একা নও।” ইসলাম মানুষের এই ভেতরের কান্নাকে অস্বীকার করে না। বরং কুরআন আমাদের এমন একজন নবীর কথা শোনায়, যিনি ছিলেন আল্লাহর প্রিয়, অথচ তিনিও দুঃখ পেয়েছেন, কেঁদেছেন, কষ্ট পেয়েছেন। ইয়াকুব (আ.) তাঁর প্রিয় সন্তান ইউসুফ (আ.)-এর বিচ্ছেদে এত কেঁদেছিলেন যে তাঁর চোখ সাদা হয়ে গিয়েছিল। তিনি তাঁর কষ্ট মানুষের কাছে নয়, আল্লাহর কাছেই উজাড় করে দিয়েছিলেন “আমি তো আমার দুঃখ ও কষ্টের অভিযোগ শুধু আল্লাহর কাছেই করি।” (সূরা ইউসুফ, ১২:৮৬) কী গভীর শিক্ষা লুকিয়ে আছে এই কথার মধ্যে! কাঁদা দুর্বলতা নয়। ভেঙে পড়া মানেই ঈমান শেষ হয়ে যাওয়া নয়। কখনো কখনো একজন মুমিনের চোখের পানিও তার রবের সঙ্গে সম্পর্কের ভাষা হয়ে ওঠে। রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর জীবনেও আমরা দেখি প্রিয় মানুষ হারানোর কষ্ট, অপমান, প্রত্যাখ্যান, একাকীত্ব কিছুই তাঁর জীবনকে ছেড়ে যায়নি। তায়েফের সেই নির্মম দিনটির কথা ভাবুন। তাঁকে উপহাস করা হলো, পাথর ছোড়া হলো, তাঁর শরীর রক্তাক্ত হলো। অথচ তিনি সেই কষ্ট নিয়েও আল্লাহর দিকে ফিরে গেলেন। কারণ তিনি জানতেন মানুষের দরজা বন্ধ হয়ে যেতে পারে, কিন্তু আল্লাহর দরজা কখনো বন্ধ হয় না। তাই আজ যদি তোমার মনে হয়, “আমার কথা শোনার মতো কেউ নেই” তাহলে মনে রেখো, আল্লাহ আছেন। যখন পৃথিবীর সবাই তোমার হাসিটা দেখে আর তোমার কান্নাটা দেখতে পায় না, আল্লাহ তোমার নীরব কান্নাটাও জানেন। যখন তুমি কাউকে কিছু বলতে পারো না, তখনও তোমার রব তোমার বুকের ভেতরের সেই কথাগুলো জানেন, যেগুলো তুমি ভাষায় প্রকাশ করতে পারোনি। কুরআনের একটি আয়াত যেন ক্লান্ত হৃদয়ের ওপর বৃষ্টির মতো নেমে আসে “নিশ্চয়ই কষ্টের সাথে স্বস্তি রয়েছে।” —সূরা আশ-শারহ, ৯৪:৫ খেয়াল করুন, আল্লাহ বলেননি, কষ্টের পরে স্বস্তি আসবে। বলেছেন, কষ্টের সাথেই স্বস্তি রয়েছে। অর্থাৎ তুমি যখন অন্ধকারের ভেতর দিয়ে হাঁটছ, তখনও আল্লাহর রহমত তোমাকে ঘিরে থাকতে পারে, যদিও তুমি এই মুহূর্তে তা দেখতে পাচ্ছ না। হয়তো তুমি অনেক দোয়া করেছ, কিন্তু উত্তর পাওনি। হয়তো রাতের পর রাত সিজদায় গিয়ে কেঁদেছ, কিন্তু পরিস্থিতি বদলায়নি। হয়তো তুমি ভাবছ, “আল্লাহ কি আমার কথা শুনছেন?” হ্যাঁ, তিনি শুনছেন। তবে মনে রেখো, দোয়ার উত্তর সবসময় আমাদের চাওয়া জিনিসটির মাধ্যমে আসে না। কখনো আল্লাহ পরিস্থিতি বদলে দেন, কখনো আমাদের হৃদয়কে শক্ত করেন, কখনো এমন কোনো বিপদ সরিয়ে দেন যার খবর আমরা জানিই না, আবার কখনো এমন সময়ের জন্য রেখে দেন যখন আমরা বুঝতে পারব কেন তখন তা পাইনি। তাই দেরি মানেই প্রত্যাখ্যান নয়। কখনো কখনো আল্লাহ তোমাকে ভাঙতে দেন, যেন তুমি মানুষের ওপর ভরসা করা ছেড়ে তাঁর ওপর ভরসা করতে শেখো। কখনো তোমাকে একা করে দেন, যেন তুমি বুঝতে পারো তোমার আসল আশ্রয় কোনো মানুষ নয়। আর একটা কথা খুব মনে রেখো মানসিক অবসাদে ভুগলে সাহায্য নেওয়া ঈমানের দুর্বলতার প্রমাণ নয়। যেমন শরীর অসুস্থ হলে ডাক্তার দেখানো সুন্নাহসম্মত স্বাভাবিক কাজ, তেমনি মন দীর্ঘদিন ভেঙে থাকলে একজন বিশ্বস্ত মানুষ, কাউন্সেলর বা মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞের সাহায্য নেওয়াও লজ্জার কিছু নয়। চিকিৎসা নেওয়া আর আল্লাহর ওপর তাওয়াক্কুল করা এ দুটো পরস্পরের বিপরীত নয়। আমরা চিকিৎসা গ্রহণ করি, দোয়া করি, চেষ্টা করি আর ফলাফলের ভার আল্লাহর হাতে ছেড়ে দিই। তাই তুমি যদি আজ খুব ক্লান্ত হও, তাহলে আজ তোমার নিজের কাছে বড় কোনো প্রতিজ্ঞা করার দরকার নেই। শুধু আজকের দিনটা পার করো। অজু করো। দুই রাকাত নামাজ পড়ো। সিজদায় গিয়ে সুন্দর ভাষা খুঁজতে যেও না। শুধু বলো- “হে আল্লাহ, আমি ক্লান্ত। আমি আর পারছি না। আপনি আমাকে ধরে রাখুন।” এই একটি কথাও যথেষ্ট হতে পারে।

প্রশ্ন আসতে পারে, কথা সুন্দর, গায়কও হুজুর, কিন্তু গজলে রয়েছে মিউজিক্যাল ইনস্ট্রুমেন্টের ব্যবহার, সেক্ষেত্রে করণীয় কী? তাদের প্রতি ফিরতি প্রশ্ন, এক গ্লাস দুধে কয়েক ফোঁটা গোমূত্র দিয়ে পরিবেশন করা হলে আপনি কী করবেন? পান করবেন, না কি ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করবেন? আল্লাহর রাসূল ﷺ-এমন সুরকেও ঘৃণা করতেন যে সুরে গান করা হত। তিনি কখনোই গানের সুরে তেলাওয়াত করতেন না। (তিরমিজি-২৪৫) এরপরও দেখবেন কিছু মানুষ ভিন্ন যুক্তি, বিতর্কিত ব্যক্তিদের উত্থাপিত দলিল এবং ধারণাপ্রসূত কথাবার্তা দিয়ে মিউজিক, গান-বাজনাকে ইনিয়েবিনিয়ে হালাল বলবে। শুধু হালালই বলবে না, সাহাবারা সেসবে কখনো মত্ত ছিলেন বা পছন্দ করতেন বলে প্রমাণ করার চেষ্টা করবে। এই দল থাকবেই। তাদেরকে এড়িয়ে যাওয়াটাই আমাদের জন্য পরীক্ষা। এই পরীক্ষায় কৃতকার্য হতেই হবে। “আমার পরে অবশ্যই অবশ্যই এমন এক দলের আবির্ভাব ঘটবে যারা রেশমের পোশাক পরিধান, নেশাগ্রহণ এবং গানবাজনা, বাদ্যযন্ত্রকে হালাল বলবে।" বুখারী—৫৫৯০ লেখা : নজরুল ইসলাম

মিউজিক মস্তিষ্কে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে। কাজ করে একেবারে নেশার মতো। ডোপামিন বা নিউরোট্রান্সমিটার বাড়ায় স্বাভাবিক অবস্থার চেয়ে প্রায় ১০ ভাগ বেশি। ডোপামিনকে 'ফিল-গুড কেমিক্যাল' বা আনন্দ অনুভরের রসায়নিক বার্তাও বলা হয়। এই ডোপামিন যে কারণে বৃদ্ধি পাবে ব্রেইন বারবার সেটাই চাইবে। একবার মিউজিকে বুঁদ হয়ে গেলে তা ত্যাগ করা অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়ে। একজন আপাদমস্তক নেশাখোর যেভাবে নেশাতে নিজেকে হারিয়ে ফেলে মিউজিকপ্রেমী ঠিক সেভাবেই মিউজিকের চোরাগলিতে নিজেকে হারিয়ে ফেলে। মিউজিকের প্রথম এবং একমাত্র আঘাত হয় নিউরনে। নিউরনের প্রাকৃতিক গতি নষ্ট করে অত্যধিক চঞ্চল ও অস্থির করে তোলে এই গানবাজনা। হ্যাঁ, আপনি সুস্থ থাকতে চাইলে ডোপামিনের কার্যকারিতা লাগবেই। আল্লাহ এই হরমুন এমনি এমনি দেন নি। কর্মোদ্যম হওয়া এবং মনকে চাঙা রাখার ক্ষেত্রে ডোপামিনের ভূমিকা অনস্বীকার্য। মস্তিষ্কের সাবস্ট্যানশিয়া নাইগ্রা (Substantia Nigra) এবং ভেন্ট্রাল টেগমেন্টাল এরিয়া (VTA) নামের অংশে তৈরি হওয়া ডোপামিনের অভাবে আপনার মুভমেন্ট, স্বাভাবিক জীবনমান, উৎসাহ-উদ্দীপনার ঘাটতি হলে আপনি ভারসাম্য ঠিক রেখে চলাফেরা করতে পারবেন না, হাত-পা কাঁপবে (পারকিনসন ডিজিজ) , ডিপ্রেশন বা হতাশায় নিমজ্জিত হবেন। আবার অতিরিক্ত ডোপামিন বুস্ট হলে আপনি নেশাখোর বা নিয়মভাঙা মানসিক রোগীর মতো হয়ে যাবেন। মিউজিক বা গানবাজনা ঠিক এই কাজটিই করে। ডোপামিন স্বাভাবিকের চেয়ে অনেকগুণ বেশি বৃদ্ধি করে শ্রোতাকে উশৃংখল করে তোলে। যেহেতু ডোপামিন আপনাকে উজ্জীবিত করে সেহেতু এটার পরিমাণ যত বৃদ্ধি পাবে আপনি ততই উত্তেজনায় লাগামহীন হয়ে যাবেন। ঠিক একারণে ডোপামিন নিঃসরণ স্বাভাবিক ও প্রাকৃতিক রাখতে হয়। এজন্য আপনি নিয়মিত ব্যায়াম, পর্যাপ্ত ঘুম, সুষম খাবার (প্রোটিন, ফল, শাকসবজি) সৃজনশীল কাজ বা নতুন বৈধ কিছু শেখা এবং পরিবার ও ভালো বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটানো ইত্যাদি অভ্যাস গড়বেন। অ্যালকোহল পান করলে সেটা মস্তিষ্কের যে জায়গায় প্রভাব সৃষ্টি করে গানবাজনা ঠিক সেই একই জায়গায় প্রভাব ফেলে। খেয়াল করলে দেখবেন, গানে আসক্ত ব্যক্তির প্রিয় কোনো লিরিক, পরিচিত মিউজিক কানে আসলেই তার ভাবভঙ্গি পরিবর্তন হয়ে যায়। তার শরীর মনের অজান্তে দুলতে থাকতে, ঠোঁট নড়তে থাকে, মাথা ঝাঁকাতে থাকে—মানে গুজবাম্প বা আলাদা শিহরণ জাগে। এই অতিরিক্ত শিহরণই নিয়মের খোলস থেকে বের করে নিয়ে যায়। সুতরাং আজেবাজে গান-বাজনা, মিউজিক থেকে আমাদের দূরে থাকতেই হবে। মিউজিক আমাদেরকে আল্লাহ বিমুখ করে দেয়। যারা মিউজিক দিয়ে মানুষকে আকৃষ্ট করে তারা মূলত শ্রোতাদেরকে আল্লাহ বিমুখ করার চেষ্টা করে। “এমন কিছু লোক রয়েছে যারা মানুষদেরকে আল্লাহর পথ থেকে বিচ্যুত করতে অবান্তর কথাবার্তা সংগ্রহ করে" (লুকমান—৬) লাহওয়াল হাদীস দ্বারা উদ্দেশ্য গান-বাজনা-মিউজিক সহ সমগোত্রীয় বিষয়াদি। (তাবারী) হযরত আব্দুল্লাহ বিন মাসউদ রা. তিনবার আল্লাহর নামে কসম কেটে বলেছেন, "লাহওয়াল হাদীস মানেই গানবাজনা।" নাচ-গান, বাদ্যযন্ত্রের অবাধ ব্যবহার এবং নেশাদ্রব্যের সহজলভ্যতা আমাদের জন্য সামগ্রিক আজাব ডেকে আনবে, আনছেও। আমরা সেসবে জড়িত না থাকলেও ওসবের কারণে আসা আজাব থেকে বাঁচতে পারব বলে মনে হয় না। কারণ আজাব বা জালিমগোত্র কর্তৃক জুলুম সামগ্রিক হয়; ব্যক্তিবিশেষ হয় না। নবী ﷺ বলেন, “যখন আমার উম্মাহ নেশাগ্রস্ত হবে, গানবাজনায় মত্ত হবে, বাদ্যযন্ত্র ব্যবহারে আসক্ত হবে তখন অবশ্যই তাদের ওপর তিনটি ভয়াবহ বিপদ নেমে আসবে। এক. বিভিন্ন এলাকায় ভূমিধস হবে। দুই. উপর থেকে বা কোনো জাতি-গোষ্ঠী থেকে জুলুম চাপিয়ে দেওয়া হবে। তিন. অনেকের পাপের কারণে আকার-আকৃতিতে বিকৃতি ঘটবে।" সহীহুল জামি'—৫৪৬৭ গান-বাজনা বা বাদ্যযন্ত্রের শব্দ আমরা শুনতে না চাইলেও কানে আসে। জোর করে প্রবেশ করে কর্ণকুহরে। যে আধুনিক শব্দযন্ত্র এখন মানুষের হাতে হাতে, তাতে বাজনার শব্দ থেকে মুক্তি পাওয়া অত্যন্ত কঠিন। খুব কঠিন হলেও চেষ্টা করতে হবে আপন জায়গা থেকে। প্রয়োজনে কানে আঙুল ঢোকাতে হবে, অথবা দিতে হবে দুই কানে দুই দুটো তুলোর দলা। যেদিক থেকে বাজনার শব্দ আসবে সেদিকটা এড়িয়ে ভিন্ন কোনো রাস্তা ব্যবহার করতে হবে। তবু অন্তরকে হত্যা করা যাবে না। একবার ইবনু উমর রাদিআল্লাহু আনহু এবং তাঁর গোলাম নাফে যাচ্ছিলেন কোথাও। পথিমধ্যে বাদ্যযন্ত্রের শব্দ তাঁর কানে আসল। তিনি দুই কানে দুই আঙুল ঢুকিয়ে রাস্তা থেকে সরে গেলেন। তাঁকে অনুসরণ করলেন নাফে। কানে আঙুল রেখেই গোলামকে বললেন, "নাফে, তুমি কি কিছু শুনতে পাচ্ছো?" "না তো, তেমন কিছু তো শুনিনি।" নাফের জবাব। ইবনু উমর রাদিআল্লাহু আনহু কান থেকে আঙুল বের করে বললেম, "একদা আমি ও আল্লাহর রাসূল ﷺ একসাথে চলছিলাম। পথিমধ্যে তিনি বাদ্যযন্ত্রের শব্দ শুনে কানে আঙুল ঢুকিয়ে রাস্তা থেকে সরে গিয়েছিলেন এবং আমাকে একই প্রশ্ন করেছিলেন যেটা আমি তোমাকে করেছি।" আবু দাউদ—৪৯২৪

photo content

photo content

সমাজে বিকৃতি প্রতিষ্ঠার বিরুদ্ধে সোচ্চার হোন। এই বার্তাটি শেয়ার করে ছড়িয়ে দিন।

হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, একবার একজন রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের পাশ দিয়ে হেঁটে গেলেন। সাহাবারা দেখলেন জীবিকা অর্জনে লোকটি খুবই তৎপর।তারা বললেন, এই লোকের পরিশ্রম যদি আল্লাহর পথে হতো, কতই না ভালো হতো! . তখন রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন "সে যদি তার ছোট ছোট সন্তানদের (জীবিকা অর্জনের) জন্য কাজ করে, তবে সে আল্লাহর রাস্তাতেই রয়েছে। সে যদি তার বৃদ্ধ পিতা-মাতার (জীবিকার) জন্য পরিশ্রম করে, তবে সে আল্লাহর রাস্তাতেই রয়েছে। সে যদি নিজেকে (অন্যের কাছে হাত পাতা থেকে) পবিত্র ও আত্মমর্যাদাবান রাখার জন্য চেষ্টা করে, তবে সে আল্লাহর রাস্তাতেই রয়েছে। কিন্তু সে যদি লোকদেখানো, প্রতিযোগিতা ও অহংকার প্রকাশের উদ্দেশ্যে উপার্জন করে, তবে সে শয়তানের রাস্তায় রয়েছে।" . [আল মুজামুল আওসাত, তবারানী, হাদীস ৪২২৬; আল মুজামুল কাবীর, তবারানী, ১৯/১২৯]

[يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا عَلَيْكُمْ أَنفُسَكُمْ] হে মুমিনগণ, তোমাদের উপর তোমাদের নিজদের দায়িত্ব। যদি তোমরা সঠিক পথে থাক তাহলে যে পথভ্রষ্ট হয়েছে সে তোমাদের ক্ষতি করতে পারবে না। (সূরা আল-মায়িদা: ১০৫) তাই এই ঘটনাটা আসলে ইবনে জুদ'আনকে নিয়ে নয়। এটা আয়নার সামনে দাঁড়ানোর একটা মুহূর্ত। আমরা সারা জীবন এত কিছু চাই। রিযিক চাই, সন্তান চাই, সুস্থতা চাই, শান্তি চাই। আজকের দিনে ক্ষমা চেয়েছেন তো? হে আল্লাহ, আমাদের অন্তরে সঠিক ইমান দিন, আর আমাদের আমলকে কবুল করুন। আমাদের এমন মানুষদের অন্তর্ভুক্ত করবেন না, যারা সবকিছু চেয়েছিল—শুধু আপনার ক্ষমাটুকু ছাড়া। রাব্বিগফিরলি, রাব্বিগফিরলি। আমীন। © ইয়াসির কাদী

শুধু মানুষের উপকার করলেই কি আপনার মুক্তি মিলবে? মক্কার সম্ভ্রান্ত মানুষদের অন্যতম ছিলেন আবদুল্লাহ ইবনে জুদ'আন। সীরাতের পাতায় নামটা বারবার ফিরে আসে। তিনি ছিলেন আয়েশা (রাঃ)-এর দূরসম্পর্কের আত্মীয়। তাঁর আতিথেয়তা ছিল কিংবদন্তিতুল্য—তাঁর সময়ের মক্কাবাসীদের মধ্যে তাঁকেই গণ্য করা হতো সবচেয়ে সম্ভ্রান্ত মানুষ হিসেবে। মানুষ তাঁকে চিনত সমস্যা সমাধানকারী হিসেবে; ঝামেলায় পড়লে মক্কার লোক তাঁর দরজাতেই কড়া নাড়ত। আর তাঁর বাড়িতেই বসেছিল সেই ঐতিহাসিক সভাটি, যেখান থেকে জন্ম নেয় হিলফুল ফুযুল—দূর ইয়েমেন থেকে আসা এক অসহায় বণিকের পাওনা আদায়ের জন্য কুরাইশের প্রবীণদের সেই শপথ: জালিম যে গোত্রেরই হোক, আমরা মজলুমের পাশেই দাঁড়াব। সেই সভার সর্বকনিষ্ঠ অংশগ্রহণকারীর বয়স তখন মাত্র বিশ। বহু বছর পরে তিনিই হবেন আল্লাহর রসূল। ইবনে জুদ'আন সেই দিনটি দেখে যাননি। দাওয়াহ শুরুর আগেই তিনি ইন্তেকাল করেন। বহু বছর পর, এক সহিহ হাদিসে বর্ণিত আছে, আয়েশা (রাঃ) রসূলুল্লাহ (স)-কে জিজ্ঞেস করলেন এই মানুষটির কথা। লক্ষ করুন, প্রশ্নটা কে করছেন। তিনি তাঁরই বংশের একজন। তিনি ছোটবেলা থেকে এই নামটি শুনে বড় হয়েছেন—কী উদার, কী অতিথিপরায়ণ, কী ভালো মানুষ ছিলেন তিনি। তিনি বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ, ইবনে জুদ'আন তো মহৎ এক মানুষ ছিলেন। প্রতিবেশীদের প্রতি সদয় ছিলেন, মানুষের সাথে ভালো ব্যবহার করতেন। তাঁর পরিণতি কী হবে? জবাব এলো: তিনি জাহান্নামে যাবেন। আয়েশা (রাঃ) জিজ্ঞেস করলেন, কেন? আর এবার উত্তরটা শুনুন। মাত্র একটি বাক্য। তিনি বললেন, সে কখনো একবারের জন্যও বলেনি— [رَبِّ اغْفِرْ لِي] হে আমার রব, আমাকে ক্ষমা করুন। এইটুকুই। একটা গোটা জীবন, এত দান, এত আতিথেয়তা, এত মানুষের উপকার—আর একটিবারও এই ছোট্ট বাক্যটি নয়। এবার একটু থামুন, আর নিজেদের যুগটার দিকে তাকান। আমাদের কালে তাকওয়া আর পুণ্যের মাপকাঠিটা প্রায় পুরোপুরি একটাই হয়ে গেছে—আপনি মানুষের সাথে কতটা ভালো। ব্যস। আপনি যদি মানুষের সাথে ভালো ব্যবহার করেন, তাহলে আপনার কাছে আমাদের আর কিছুই চাওয়ার নেই। আপনি একটা এতিমখানা খুললেন—আপনি মহৎ। একটা হাসপাতাল গড়লেন, সবার দিকে হাসিমুখে তাকালেন—আহা, কত ভালো, কত প্রেমময় একজন মানুষ। আর আপনি ভেতরে ভেতরে কী বিশ্বাস করেন, স্রষ্টার ব্যাপারে আপনার অবস্থান কী—সেটা যেন একেবারেই অপ্রাসঙ্গিক একটা প্রশ্ন। এই হাদিস আমাদের বলছে—না। মানুষের সাথে ভালো ব্যবহার করা ভালো। উত্তম। কিন্তু আরো একটা জিনিস আছে, যা এর চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ: যিনি আপনাকে সৃষ্টি করেছেন, তাঁর ওপর ইমান আনা, আর তাঁরই ইবাদত করা। ভেবে দেখুন প্রশ্নটা: গোটা মানবজাতির সাথে ভালো ব্যবহার করে লাভ কী, যদি আপনি তাঁকেই অস্বীকার করেন, যিনি আপনাকে সবচেয়ে বড় নিয়ামতটা দিয়েছেন—আপনার অস্তিত্ব? ইসলামে তাকওয়ার রায় দুটি জিনিসের ওপর দাঁড়িয়ে আছে: আপনি কী বিশ্বাস করেন, আর আপনি কতটা ভালো। [إِنَّ الَّذِينَ آمَنُوا وَعَمِلُوا الصَّالِحَاتِ] নিশ্চয় যারা ইমান এনেছে এবং সৎকর্ম করেছে... দুটো সবসময় একসাথে আসে। কুরআনে এই জোড়াটা বারবার ফিরে আসে, কখনো আলাদা হয় না। সঠিক ইমান থাকতে হবে, আর তার সাথে সাথে থাকতে হবে নেক আমল। একটা ছাড়া অন্যটা—কোনো কাজেই আসবে না। এখন একটা জরুরি কথা, যেটা না বললে এই আলোচনা বিপজ্জনক হয়ে যায়। আমরা মুসলিমরা কারো নাম ধরে বলি না—তুমি জান্নাতে যাচ্ছ, আর তুমি জাহান্নামে যাচ্ছ। আল্লাহ নিজে না জানালে কোনো ব্যক্তির ব্যাপারে আমরা এমন রায় দিই না। আমরা বলি আবু বকর (রাঃ) জান্নাতে যাবেন, উমর (রাঃ) জান্নাতে যাবেন—কারণ আল্লাহ ও তাঁর রসূল আমাদের জানিয়েছেন। আমরা বলি ফেরাউন জাহান্নামে যাবে—কারণ আমাদের জানানো হয়েছে। এর বাইরে কারো ব্যাপারেই আমরা চূড়ান্ত কথা বলি না। এমনকি শ্রেষ্ঠতম ইমামদের ব্যাপারেও নয়—ইমাম আবু হানিফা, ইমাম শাফেয়ি, ইমাম মালিক—আমরা বলি, ইনশাআল্লাহ তাঁরা জান্নাতে যাবেন। আশা করি। কিন্তু চূড়ান্তভাবে বলি না। কেন? কারণ আমি কে? ইবনে জুদ'আনের কথাটা আমরা বলতে পারি একটিমাত্র কারণে—কথাটা আমাদের নয়। কথাটা রসূলুল্লাহ (স)-এর। আমরা কেবল বহন করছি। তাহলে বাকি সবার ব্যাপারে? যারা কখনো দাওয়াতই পায়নি, তাদের কী হবে? এই প্রশ্নটা প্রায় সবার মনেই একবার না একবার জাগে। আর এর জবাবটাও চমকে দেওয়ার মতো: অন্য মানুষদের কী হবে, তা নিয়ে অতিরিক্ত ভাবায় আমাদের নিজেদের ক্ষতি ছাড়া লাভ নেই। রসূলুল্লাহ (স) বলেছেন, আমার উম্মত কল্যাণের মধ্যেই থাকবে, যতক্ষণ না তারা মূর্তিপূজারিদের সন্তানদের ব্যাপারে প্রশ্ন করতে শুরু করে। কিছু আলেম এর ব্যাখ্যা করেছেন—যতক্ষণ না তারা এমন সব বিষয়ে তর্ক শুরু করে, যা তাদের কোনো কাজেই আসে না। তাদের বিষয় আমরা আল্লাহর ওপরই ছেড়ে দিই। তিনি সর্বজ্ঞ, তিনি পরম দয়ালু, তিনি পরম প্রজ্ঞাময়, তিনি পরম ন্যায়বিচারক। আর কুরআন আঙুল ঘুরিয়ে দেয় ঠিক আমাদের নিজেদের দিকেই:

আপনার বাচ্চা মোবাইল এ আসক্ত TikTok, Facebook reals দেখে সারাদিন। আপনার বাচ্চার জন্য নিয়ে আসা হয়েছে দারুণ একটি ইসলামিক সাইট। আপনার বাচ্চা মোবাইল আসক্তি থেকেই এখন শিখে নিবে দারুণ কিছু, ডাউনলোড করে নিন কাহাফ কিডস্ https://id.kahf.co/register?ref=KK-JMHC96। যেখানে থাকছে সব ধরনের ইসলামিক ভিডিও, নাথ, পড়াশুনার ভিডিও আরও অনেক কিছু।

​অর্থাৎ, কুরআনের প্রতিটি ক্ষেত্রে 'লাদুন' বা 'মিল্লাদুনকা' শব্দটি এসেছে কোনো বড় ফিতনা বা সংকট থেকে উত্তরণের অপ্রতিরোধ্য ঐশ্বরিক সমাধান হিসেবে। ​কেন সূরা কাহাফই শেষ জামানার রক্ষাকবচ? শেষ জামানার সবচেয়ে বড় ফিতনা হলো দাজ্জাল। দাজ্জালের ফিতনা হবে মূলত 'শুবুহাত' (সংশয়) এবং 'শাহাওয়াত' (প্রবৃত্তি) এর এক চরম মিশ্রণ। সে অলৌকিক ক্ষমতা দেখিয়ে মানুষকে বিভ্রান্ত করবে। আসহাবে কাহাফ যেমন তাদের সময়ের ফিতনা থেকে বাঁচতে গুহায় আশ্রয় নিয়ে আল্লাহর কাছে 'মিল্লাদুনকা রাহমাহ' চেয়েছিলেন, শেষ জামানায় মুমিনদেরও তেমনি জাগতিক উপায়-উপকরণের বাইরে আল্লাহর বিশেষ রহমত ও 'ইলমে লাদুন্নী'র প্রয়োজন হবে। - নাজমুস সাকিব

সূরা কাহাফ কেন শেষ জামানার সূরা? একটি সূরার ব্যাখ্যা ব্যাপক ও বিস্তারিত।আমি শুধু একটি দিক নিয়ে আলোচনা করব।তা হল مِن لَّدُنكَ মিল্লাদুন্কা কি কেন কিভাবে? শেষ জামানায় ঘরে ঘরে ফিতনা দিয়ে ভরে থাকবে।এখন ফিতনা অর্থ কি? ফিতনা শব্দটা জটিল এবং বহুমাত্রিক অর্থ বহন করে।আরবি 'ফাতন' (Fatn) মূলধাতু থেকে 'ফিতনা' শব্দের উৎপত্তি। এর মূল আক্ষরিক অর্থ হলো 'পুড়িয়ে পরীক্ষা করা'। যেমন: ​স্বর্ণের খাদ যাচাই: প্রাচীন আরবে আগুনের তাপে সোনা গলিয়ে খাঁটি ও ভেজাল আলাদা করাকে 'ফিতনা' বলা হতো। দ্বিতীয়ত ​পরীক্ষা ও কষ্টিপাথর: কোনো জিনিসের গুণমান যাচাই করার জন্য তাকে কঠিন পরিস্থিতির সম্মুখীন করা। আভিধানিক অন্যান্য অর্থ: বিশৃঙ্খলা, বিচ্যুতি, মোহগ্রস্ত করা, কষ্ট দেওয়া বা দহন। ইসলামী পরিভাষায় 'ফিতনা' শব্দটি কেবল নেতিবাচক অর্থে নয়, বরং বিভিন্ন গভীর অর্থে ব্যবহৃত হয়: ​ক. পরীক্ষা বা আজমাইশ (Trial/Test) ​মানুষের ঈমান ও ধৈর্যের পরীক্ষা। আল্লাহ তায়ালা বলেন: ​"মানুষ কি মনে করে যে, 'আমরা ঈমান এনেছি' বললেই তাদের ছেড়ে দেওয়া হবে, আর তাদের ফিতনা (পরীক্ষা) করা হবে না?" (সূরা আনকাবুত: ২) ​খ. শিরক ও কুফর (Disbelief/Polytheism) ​কুরআনের কোনো কোনো স্থানে ফিতনা মানে শিরক বা দ্বীন থেকে বিচ্যুত করা। ​"আর ফিতনা (শিরক/দ্বীন নিয়ে বাড়াবাড়ি) হত্যা অপেক্ষা অধিকতর গুরুতর।" (সূরা বাকারা: ১৯১) ​গ. সামাজিক বিশৃঙ্খলা ও গৃহযুদ্ধ (Social Discord/Civil War) ​মুসলিম উম্মাহর মধ্যে অনৈক্য, মারামারি বা বিশৃঙ্খলা। বিশেষ করে সাহাবীগণের যুগের পরবর্তী রাজনৈতিক অস্থিরতাকে 'ফিতনা' বলা হয়। ​ঘ. দুনিয়াবী মোহ (Allurement) ​সম্পদ, সন্তান বা পার্থিব জৌলুস যা মানুষকে আল্লাহর পথ থেকে দূরে সরিয়ে দেয়। ​"তোমাদের ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি তো কেবল একটি ফিতনা (পরীক্ষা)।" (সূরা তাগাবুন: ১৫) ফিতনার প্রকারভেদ: ​ফিতনা দুই প্রকার। যথা: ​ফিতনাতুশ শুবুহাত (সংশয়জনিত ফিতনা): যা মানুষের আকিদা বা বিশ্বাসে বিভ্রান্তি তৈরি করে (যেমন: বিদআত, নাস্তিকতা)। ​ফিতনাতুশ শাহাওয়াত (প্রবৃত্তিজনিত ফিতনা): যা মানুষের চরিত্র ও নৈতিকতা নষ্ট করে (যেমন: লোভ, জিনা, অবৈধ সম্পদ)। এখন এই ফিতনা থেকে বাচতে হলে ‘'মিল্লাদুনকা’ জানতে হবে। 'লাদুন' (لدن) বা 'মিল্লাদুনকা' শব্দটির ব্যবহার অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। আল-কুরআনের ভাষাতত্ত্ব (Linguistics) এবং আধ্যাত্মিকতা (Tasawwuf) উভয় ক্ষেত্রেই এর গভীর প্রয়োগ রয়েছে। ​১. ভাষাতাত্ত্বিক বিশ্লেষণ (Linguistic Framework) ​আরবি ব্যাকরণে 'মিন' (Min) এবং 'লাদুন' (Ladun) উভয়ই "থেকে" বা "পক্ষ থেকে" অর্থ প্রকাশ করলেও সূক্ষ্ম পার্থক্য আছে: ​সাধারণ উৎস (Min): কোনো নির্দিষ্ট স্থান বা ব্যক্তি থেকে কিছু আসা। যেমন: "আমি বাড়ি থেকে এসেছি।" ​বিশেষ ও নিকটবর্তী উৎস (Ladun): এটি আল্লাহর এমন এক 'ব্যক্তিগত' বা 'খাস' ভাণ্ডারকে বোঝায়, যেখানে সাধারণ কোনো মাধ্যম (Means) কাজ করে না। ​গবেষণা সূত্র: ইমাম রাযী তাঁর তাফসীরে কবীর-এ উল্লেখ করেছেন যে, 'লাদুন' শব্দটি 'ইনদা' (Inda - কাছে) শব্দের চেয়েও বেশি নিকটবর্তী ও নিবিড় অর্থ প্রকাশ করে। ​২. কুরআনিক প্রয়োগের শ্রেণিবিন্যাস (Thematic Categorization) ​ এই শব্দটির ব্যবহারকে তিনটি প্রধান থিমে ভাগ করা যায়: ​ক. অলৌকিক রিজিক ও রহমত (Miraculous Provisions) ​যখন জাগতিক সব কারণ (Causal links) বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়, তখন নবীরা 'লাদুন' ব্যবহার করেছেন। ​যাকারিয়া (আ.): বৃদ্ধ বয়সে সন্তান কামনায় (সূরা মারইয়াম: ৫)। ​আসহাবে কাহাফ: গুহায় সম্পূর্ণ নিরুপায় অবস্থায় রহমত কামনায় (সূরা কাহাফ: ১০)। ​খ. বিশেষ জ্ঞান বা প্রজ্ঞা (Divinely Inspired Knowledge) ​যাকে আমরা 'ইলমে লাদুন্নী' বলি। এটি অর্জিত শিক্ষা নয়, বরং সরাসরি আল্লাহর পক্ষ থেকে ঢেলে দেওয়া জ্ঞান। ​হযরত খিজির (আ.): সূরা কাহাফের ৬৫ নম্বর আয়াতে এটি স্পষ্টভাবে বর্ণিত। ​রাসূলুল্লাহ (সা.): সূরা আন-নিসা (আয়াত: ১১৩) এবং সূরা ইসরা-তে এই বিশেষ অনুগ্রহের ইঙ্গিত পাওয়া যায়। ​গ. রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক সাহায্য (Strategic Support) ​রাসূলুল্লাহ (সা.) যখন মক্কা থেকে হিজরত করছিলেন, তখন তিনি আল্লাহর কাছে বিশেষ শক্তির দোয়া করেছিলেন: ​বনী ইসরাঈল (আয়াত: ৮০): "ওয়া জা'আল লি মিল্লাদুনকা সুলতানান নাসিরা" (এবং আপনার পক্ষ থেকে আমাকে সাহায্যকারী শক্তি/কর্তৃত্ব দান করুন)। ​আসহাবে কাহাফ যখন ফিতনায় পড়েছিলেন, তারা চেয়েছিলেন 'মিল্লাদুনকা রহমত' (বাঁচবার জন্য)। (সূরা কাহাফ: ১০): ​"রাব্বানা আতিনা মিল্লাদুনকা রাহমাহ..." অর্থ: "হে আমাদের পালনকর্তা! আমাদের আপনার নিজের পক্ষ থেকে রহমত দান করুন..." ​যাকারিয়া (আ.) যখন সন্তানহীনতার ফিতনায় (পরীক্ষায়) ছিলেন, তিনি চেয়েছিলেন 'মিল্লাদুনকা উত্তরাধিকারী' (বংশ রক্ষার জন্য)। "ফাহাব লি মিল্লাদুনকা ওয়ালিইয়া" অর্থ: "সুতরাং আপনি আপনার পক্ষ থেকে আমাকে একজন উত্তরাধিকারী দান করুন।" (সূরা মারইয়াম: ৫)

photo content

জুমাবারে দুরূদ ------- ১. জুমাবার মুমিনের জন্য এক বিশেষ সম্পদ। জুমার দিন মুমিনের জন্য আল্লাহর রেখেছেন অমূল্য সব সওগাত। নবীজি উত্তম জুমার দিন বেশকিছু সুন্নতের প্রতি উদ্বুদ্ধ করে গেছেন। জুমার দিনে বিশেষ এক সুন্নত হল, নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের প্রতি বেশি বেশি দুরূদ শরীফ পাঠ করা। একে সপ্তাহের সেরা জুমাবার, তার উপর নবীজির উপর দুরূদ পাঠ, সেরা সময়ে সেরা কাজ।
আওস বিন আওস রা. বর্ণনা করেছেন, আল্লাহর রাসূল বলেছেন, إِنَّ مِنْ أَفْضَلِ أَيَّامِكُمْ يَوْمَ الْجُمُعَةِ، فِيهِ خُلِقَ آدَمُ، وَفِيهِ قُبِضَ، وَفِيهِ النَّفْخَةُ، وَفِيهِ الصَّعْقَةُ، فَأَكْثِرُوا عَلَيَّ مِنَ الصَّلاَةِ فِيهِ، فَإِنَّ صَلاَتَكُمْ مَعْرُوضَةٌ عَلَيَّ". قَالَ: قَالُوا: يَا رَسُولَ اللَّهِ، وَكَيْفَ تُعْرَضُ صَلاَتُنَا عَلَيْكَ وَقَدْ أَرِمْتَ؟ -يَقُولُونَ: بَلِيتَ- فَقَالَ: "إِنَّ اللَّهَ عَزَّ وَجَلَّ حَرَّمَ عَلَى الأَرْضِ أَجْسَادَ الأَنْبِيَاءِ দিনসমূহের মধ্যে জুমুআর দিনই সর্বোৎকৃষ্ট। এই দিনই আদমকে সৃষ্টি করা হয়েছে। এই দিনই তিনি ইন্তেকাল করেছেন। এই দিনে শিংগায় ফুঁ দেয়া হবে। এদিন সমস্ত সৃষ্টি সংজ্ঞাহীন হবে। অতএব তোমরা ঐ দিন আমার উপর বেশি বেশি দুরূদ পাঠ করবে। কারণ, তোমাদের দুরূদ আমার সামনে পেশ করা হয়। সাহাবায়ে কেরাম জানতে চাইলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আপনার দেহ তো গলে যাবে। এমতাবস্থায় আমাদের দুরূদ কিরূপে আপনার সম্মুখে পেশ করা হবে? উত্তরে নবীজি বলেছেন, আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা আম্বিয়ায় কিরামের দেহসমূহকে মাটির জন্য হারাম করে দিয়েছেন। আম্বিয়ায়ে কেরামের দেহ কবরের মাটি বিনষ্ট করতে পারে না  (আবূ দাউদ ১০৪৭। সহীহ)।
২. মনে রাখা জরুরী, জুমাবার শুরু হয় বৃহস্পতিবার মাগরিবের পর থেকে। আরবী তারিখ মাগরিবের পর থেকেই শুরু হয়। বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতের মাগরিব থেকে জুমাবারে দিবাগত রাতের মাগরিব পর্যন্ত পুরো সময়টাই জুমাবার। বৃহস্পতিবার মাগরিবের পর থেকেই দুরূদ পেশ করা শুরু করতে পারি।
আনাস রা. থেকে বর্ণিত। আল্লাহর রাসূল বলেছেন, أَكْثِرُوا عَلَيَّ الصَّلاَةَ فِي يَوْمِ الْجُمُعَةِ، وَلَيْلَةِ الْجُمُعَةِ، فَمَنْ فَعَلَ ذَلِكَ كُنْتُ لَهُ شَهِيدًا، أوَ شَافِعًا يَوْمَ الْقِيَامَةِ জুমাবারে আমার উপর বেশি বেশি দুরূদ পাঠ করবে। জুমার রাতেও বেশি বেশি দুরূদ পেশ করবে। যে ব্যক্তি জুমার দিন ও রাতে আমার উপর দুরূদ পেশ করবে, কেয়ামতের দিন আমি তার জন্য সুপারিশকারী হবো (বায়হাকী ৩/১১০। হাসান-আল্লামা সুয়ূতী রহ.)।
৩. শ্রেষ্ঠতম দুরূদ হল দুরূদে ইবরাহীমি। যে দুরূদ আমরা নামাজে পড়ি। হাতে সময় থাকলে, দুরূদে ইবরাহীমিও পড়তে পারি। না হলে সংক্ষেপে- ১: সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামও পড়তে পারি। অর্থঃ আল্লাহ তা‘আলা রাসূলের উপর রহমত ও শান্তি বর্ষণ করুন। ২: এছাড়াও পড়তে পারি-আল্লাহুম্মা সাল্লি আলা মুহাম্মাদ। ৩: অথবা পড়তে পারি, আল্লাহুম্মা সাল্লি ও সাল্লিম ওয়া বা-রিক আলা মুহাম্মাদ। ৪: অথবা পড়তে পারি- আল্লাহুম্মা সাল্লি আলা মুহাম্মাদ ওয়া আলা আ-লিহি ওয়া সাহবিহি ওয়া সাল্লিম। ৪. কতবার দুরূদ শরীফ পড়ব? আমি পেয়ারা নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে যতটা ভালবাসি? আমার দুরূদ পাঠের সংখ্যা থেকে ফুটে উঠবে, আমি নবীজিকে কতটা ভালবাসি। একটু খেয়াল করলেই, সারাদিনে আমি অগনিত দুরূদ পাঠ করতে পারি। কাটুক না সপ্তাহে একটা দিন নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ভালবাসায়। উঠতে বসতে, হাঁটতে চলতে দুরূদ পাঠ করতে পারি। রাব্বে কারীম তাওফীক দান করুন। আমীন। শাইখ আতিক উল্লাহ