ঈমান ও আমল
📈 Análisis del canal de Telegram ঈমান ও আমল
El canal ঈমান ও আমল (@imanoamol) en el segmento lingüístico de Bengalí es un actor destacado. Actualmente la comunidad reúne a 18 359 suscriptores, ocupando la posición 4 353 en la categoría Religión y espiritualidad y el puesto 1 230 en la región Bangladesh.
📊 Métricas de audiencia y dinámica
Desde su creación el невідомо, el proyecto ha mostrado un crecimiento acelerado, reuniendo a 18 359 suscriptores.
Según los últimos datos del 02 septiembre, 2026, el canal mantiene una actividad estable. En los últimos 30 días la variación de miembros fue de -81, y en las últimas 24 horas de -3, conservando un alto alcance.
- Estado de verificación: No verificado
- Tasa de interacción (ER): El promedio de interacción de la audiencia es 5.57%. Durante las primeras 24 horas tras publicar, el contenido suele obtener 2.68% de reacciones respecto al total de suscriptores.
- Alcance de las publicaciones: Cada publicación recibe en promedio 1 023 visualizaciones. En el primer día suele acumular 491 visualizaciones.
- Reacciones e interacción: La audiencia responde de forma activa: el promedio de reacciones por publicación es 0.
📝 Descripción y política de contenido
No se ha proporcionado la descripción del canal.
Gracias a la alta frecuencia de actualizaciones (últimos datos recibidos el 03 septiembre, 2026), el canal mantiene la vigencia y un amplio alcance. La analítica demuestra que la audiencia interactúa activamente con el contenido, lo que lo convierte en un punto de referencia dentro de la categoría Religión y espiritualidad.
Carga de datos en curso...
| Fecha | Crecimiento de Suscriptores | Menciones | Canales | |
| 03 septiembre | +9 | |||
| 02 septiembre | +2 | |||
| 01 septiembre | +3 |
| 2 | Sin texto... | 414 |
| 3 | দীর্ঘদিন ধরে নৈতিকতার একটা নির্দিষ্ট ফ্রেইমওয়ার্কে আমাদের বেঁধে ফেলার চেষ্টা চলমান। ফ্রেইমওয়ার্কটা হলো, কারো কোন ক্ষতি না করে যে যার মত স্বাধীনতা চর্চা করবে। এখন, এই যে ক্ষতির কথা বলা হচ্ছে, এইটা নির্ধারণ করবে কে?
মনে করেন, আপনার এলাকায় একটা ভন্ড পীরের আস্তানা আছে। ঐখানে মাজার পূজা হয়, অনৈতিক কাজকারবার হয়। এখন ঐ আস্তানা উচ্ছেদ করার দাবি উঠালে বলা হবে মাজারের লোকেরা তো আপনার কোন ক্ষতি করতেসে না। আপনি কেন তাদের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করতে চাচ্ছেন?
দেখুন, এই একই যুক্তি কিন্তু আপনি মাদকের ক্ষেত্রে বলতে পারেন। মাদক যে নেয়, ক্ষতি শুধু তার হয়। আপনি কেন মাদক বন্ধ করার কথা বলেন? বলেন, কারণ এই ক্ষতি শুধু মাদকগ্রহণকারীর মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না। সমাজের মধ্যে এর প্রভাব পড়ে। মাদকের আস্তানা থাকলে মাদকের বিস্তার ঘটে। সেই মাদকের প্রভাবে সমাজে বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়। ক্ষতি সাময়িকভাবে ব্যক্তিগত মনে হলেও এটা আর ব্যক্তিগত পর্যায়ে থাকে না।
একইভাবে, ভন্ডপীরের আস্তানা থাকলে তার প্রভাব সমাজে বিস্তার করে। মানুষের মাঝে অন্ধ বিশ্বাস জন্ম নেয়। সেই বিশ্বাসকে পূঁজি করে তাদের সম্পদের ক্ষতি হয়। মানুষ মনে করে তার পাপের সমাধান সে পেয়ে গেছে। সমাজে তখন পাপ-অপরাধ করার প্রবণতা বেড়ে যায়। মুশকিলে আহসান একজন থাকলে তার তো আর ভয় থাকে না। একারণে দেখবেন, এসকল আস্তানায় বিভিন্ন গডফাদার, সন্ত্রাসীদের আনাগোনা বেশি।
শুধুমাত্র অন্যের ক্ষতি না করলে সব করার স্বাধীনতা আছে- এইটা বায়বীয় কথা। মানুষ সামাজিক প্রাণী। সমাজে পারস্পরিক সংস্পর্শে যখন কেউ আসে তখন তার প্রতিটা কাজ সমাজে প্রভাব ফেলে। একইসাথে, কোনটা ক্ষতি, কোনটা ক্ষতি না- এইটা নির্ধারণ করার অবজেক্টিভ নৈতিক মানদন্ড থাকা উচিৎ। শুরুতে যেই ফ্রেইমওয়ার্কের কথা বললাম ঐটা নিজেই একটা স্বতন্ত্র মানদন্ড। ফলে এই মানদন্ড আপনার স্বাধীনতার কথা বলে আপনাকে মূলত তার বেঁধে দেয়া মানদন্ডের মাঝেই পরাধীন করে ফেলে।
এই দুনিয়ায় স্বাধীন বলে কেউ নাই। হয় সে আল্লাহ্র ইচ্ছার নিকট, নয় সে শয়তানের ইচ্ছার নিকট পরাধীন হয়। আপনার আমার স্বাধীনতা হচ্ছে আমরা কার কাছে পরাধীনতা বরণ করবো সেইটা বেছে নেয়ায়।
- মুহাম্মদ ফাহাদ | 605 |
| 4 | এক ব্যক্তি ৬৫ বছরের জীবনে সাতবার জেল খাটেন!
শাহাদাতবরণও করেন জেলের মধ্যে। মৃত্যুর আগে তিনি তাঁর বিখ্যাত বইয়ে লিখে যান “দুনিয়ার জীবনেও একটি জান্নাত আছে। যে এই জান্নাতে প্রবেশ করেনি, সে পরকালীন জান্নাতেও প্রবেশ করতে পারবে না।”
যে মানুষটার প্রায় জীবনটাই কাটলো জেলের মধ্যে, সেই মানুষটা নাকি আবার দুনিয়ায় জান্নাত খুঁজছেন! এটা কিভাবে সম্ভব হলো? কারাগারের অন্ধকারে বন্দীযাপন করেও কিভাবে তিনি জান্নাত খুঁজছেন? এর উত্তর পাওয়া যায় তাঁর আরেকটি লেখার মধ্যে।
“আমার শত্রুরা আমার কী করবে? আমার জান্নাত, আমার বাগান তো আমার বুকের মধ্যে। আমি যখন সফর করি, আমার জান্নাত আমার সাথে থাকে। কারাগারের এই বন্দীযাপন বরং আমার জন্য আল্লাহ সাথে নিভৃতযাপনের সুযোগ এনে দেয়। এভাবে মরে গেলে তো শহীদ হবো, ছাড়া পেলে আবার আধ্যাত্মিক সফরে বেরিয়ে যাবো।” [ওয়াবিলুস সাইয়্যিব, ইবনুল কায়্যিমঃ ৬৯]
যিনি তাঁর বুক পকেটে জান্নাত নিয়ে ঘুরতেন, তিনি আর কেউ না, ইমাম ইবনে তাইমিয়া (রাহিমাহুল্লাহ)।
এতো কষ্ট, এতো নির্যাতন সহ্য করা সত্ত্বেও তিনি দুনিয়াতে জান্নাত খুঁজে পেতেন। কারণ, জান্নাত দুনিয়ার মধ্যে নেই, জান্নাত হলো নিজের মধ্যে। মনের মধ্যে। মনের মধ্যে যদি আল্লাহ থাকেন, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থাকেন, তাহলে তো বুক পকেটে জান্নাত থাকবে।
আর মনের মধ্যে যদি আল্লাহ না থাকেন, তাহলে তো মানুষ মুক্ত থেকেও বন্দী। স্বাধীন থাকা সত্ত্বেও দাস। ইবনে তাইমিয়া বলেনঃ “যার হৃদয়ে আল্লাহ নেই, সে-ই আসলে বন্দী। যার প্রবৃত্তি তাকে দাস বানিয়েছে, সে-ই মোহগ্রস্ত।” [ওয়াবিলুস সাইয়্যিব, ইবনুল কায়্যিমঃ ৬৯]
...
শারীরিক নির্যাতন, সামাজিক অশান্তি, আর্থিক অসচ্ছলতা থাকা সত্ত্বেও ইবনে তাইমিয়া কিভাবে মানসিক প্রশান্তি খুঁজে পান তার উত্তর আমরা খুঁজে পাই রাসূলের (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) একটা হাদীসে।
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেনঃ “শরীররে মধ্যে একটি গোশতের টুকরা আছে। সেটি যখন ঠিক থাকে, গোটা শরীর তখন ঠিক থাকে। আর সেটি যদি খারাপ হয়ে যায়, গোটা শরীরই তখন খারাপ হয়ে যায়। জেনে রাখো, সেই গোশতের টুকরাটি হলো- ক্বলব (হৃদয়)।” [সহীহ বুখারীঃ ৫২]
হৃদয়টা যদি সুস্থ থাকে, তাহলে অশান্ত পরিবেশেও প্রশান্তি মিলবে। রাসূলের (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) হাদীস আর ইবনে তাইমিয়ার জীবন যেন আমাদেরকে এই শিক্ষা দেয়।
যার ফলে অন্ধকার কারাগারে বসে ইবনে তাইমিয়া খুলেছিলেন আলোর পাঠশালা। কয়েদীদেরকে কুর’আন-হাদীস পড়াতেন, শুনাতেন রাসূলের (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) জীবনকাহিনী। জেলে বন্দী কয়েদীরা পেতো আত্মার খোড়াক।
কোনো কোনো কয়েদীর মুক্তির ফরমান আসলে সে বলতো, “আমি জেল থেকে যাবো না।” কারণ, তার কাছে জেল কোনো বন্দীযাপন ছিলো না। সেটা ছিলো তার আত্মার হাসপাতাল।
...
// অশান্ত পরিবেশে প্রশান্তি //
আরিফুল ইসলাম
৬ এপ্রিল ২০২০ | 687 |
| 5 | একজন বেস্টসেলার লেখক, যার বই প্রকাশ হবার সাথে সাথে ১ লক্ষ কপি বিক্রি হয়; তিনি হঠাৎ লেখালেখি ছেড়ে দিলেন!
একজন বিখ্যাত ওয়ায়েজ, যার ওয়াজ শুনার জন্য লক্ষাধিক মানুষ জড়ো হতো, তিনি হঠাৎ ওয়াজ করা বন্ধ করে দিলেন!
একজন ইউটিউবার, যার সাবস্ক্রাইবার কয়েক মিলিয়ন, যিনি সবসময় ইসলামি ভিডিও আপলোড করে মানুষকে দাওয়াত দেন, তিনি তার ইউটিউব চ্যানেল নিজেই ডিলিট করে দিলেন!
.
উপরের সিনারিওগুলো কি আমরা কল্পনা করতে পারি? কেউ এমনটা করলে আমরা তাকে কী বলতাম?
এতো জনপ্রিয় একজন আলেম, লেখক, দাঈ যদি সবকিছু ছেড়ে নির্জনতা বেছে নেন, তাহলে নিশ্চিতভাবে আমরা তাকে ‘পাগল’ বলতাম। আমরা বলতাম- আপনার মাধ্যমে কতো মানুষ দ্বীনের বার্তা পায়, আপনি নিজেকে গুটিয়ে নিবেন কেনো?
.
মুসলিম ইতিহাসে একজন আলেম ঠিক এমনটাই করেছিলেন।
বর্তমান সময়ে বাংলাদেশের ক্ষেত্রে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, বিদেশের ক্ষেত্রে আল-আজহার, মদীনা ভার্সিটি, অক্সফোর্ড, হার্ভার্ড, ক্যামব্রিজের অধ্যাপক হওয়াটা যেমন সম্মানের, অনেকের জন্য স্বপ্নের, ঠিক তেমনি আজ থেকে প্রায় ১০০০ বছর আগে নিজামিয়া মাদ্রাসার অধ্যাপক হওয়াটাও ছিলো তেমন সম্মানের।
মুসলিম জ্ঞানের অন্যতম কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয় এই মাদ্রাসা। একজন আলেম মাত্র ৩৪ বছর বয়সে সেখানকার অধ্যাপক হিসেবে নিয়োগ পান। তাঁর যশ-খ্যাতি চারিদিকে ছড়িয়ে পড়ে। এতো দারুণভাবে পড়াতেন, তাঁর ক্লাস করার জন্য অনেকেই মুখিয়ে থাকতো।
বলা হয়ে থাকে, সেই সময় বাগদাদের সবচেয়ে জনপ্রিয় (আমাদের সময় যেটাকে বলি ‘সেলিব্রিটি’) ছিলেন তিনি।
৪ বছর অধ্যাপনার পর হঠাৎ করে তিনি উপলব্ধি করেন- আমি এগুলো কী করছি?
তাঁর ভাবোদয় হয়। তিনি বলেন, “আমি অধ্যাপনার ক্ষেত্রে আমার নিয়ত ও উদ্দেশ্য নিয়ে যখন চিন্তা করলাম, তখন উপলব্ধি করলাম- আমার অধ্যাপনা তো একমাত্র আল্লাহর উদ্দেশ্যে নিবেদিত নয়! বরং এই অধ্যাপনার মূল প্রেরণা ও চালিকাশক্তি হলো মান-মর্যাদা বৃদ্ধির আকাঙ্ক্ষা; নিজেকে আরও বেশি জনপ্রিয় করা।”
এই ভাবনা তাঁকে কুড়ে কুড়ে খাচ্ছিলো। যেই মুহূর্তে তাঁর মনে হলো তিনি আল্লাহর জন্য এসব না করে সবকিছু করছেন জনপ্রিয় হবার জন্য, তখন তিনি শারীরিক পরিবর্তনও লক্ষ্য করেন।
৬ মাস ধরে তিনি চিন্তা করতে থাকেন, আমি কী করছি, কোথায় যাচ্ছি।
তিনি ছিলেন বাগ্মী। কথার জাদুতে মানুষকে মুগ্ধ করতেন। হঠাৎ লক্ষ্য করলেন, তিনি বাকরুদ্ধ হয়ে গেছেন, কথা বলতে পারছেন না। যেই মুখ দিয়ে মানুষকে আকর্ষিত করতেন, সেই মুখ দিয়ে কোনো কথা বের হচ্ছে না। ক্লাস নিতে পারছেন না। এমনকি ঠিকমতো খাওয়াদাওয়া করতে পারছেন না।
ডাক্তাররা তাঁর আশা ছেড়ে দিলো!
এতো জনপ্রিয় একজন আলেমের হঠাৎ কী এমন হলো সবাই ভেবে পাচ্ছে না। কিন্তু, তিনি জানতেন তাঁর কেনো এমন হলো। তিনি জানতেন, আল্লাহ তাঁকে পরীক্ষা করছেন। তাঁর উপলব্ধি এসেছিলো, সেই উপলব্ধি বাস্তবায়ন যেন সহজে করতে পারেন, এজন্যই হয়তো আল্লাহ তাঁকে বাকরুদ্ধ করেছেন।
বাগদাদ ছেড়ে চলে গেলেন সিরিয়ায়। সেখানে ১০ বছর কাটান। এই ১০ বছর নিজের নফসের সাথে যুদ্ধ করেন। তাঁর মধ্যে যে ‘রিয়া’ জন্মেছিলো, সেটা দূর করেন। আত্মশুদ্ধি, চারিত্রিক সংশোধন এবং আল্লাহর যিকিরের উদ্দেশ্যে নির্জনে বসবাস করেন।
কেউ যখন আল্লাহর উদ্দেশ্যে সবকিছু ছেড়ে দেয়, আল্লাহ তাঁকে সাহায্য করেন।
সেই আলেম নিজের খ্যাতি, মর্যাদা সব ছেড়ে দেন শুধুমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য।
১০ বছরের নির্জনবাসে নিজের নফসের সাথে যুদ্ধ করার পাশাপাশি একটি বই লিখেন।
অনেকের মতে ১৪০০ বছরের মুসলিম ইতিহাসে আলেমদের লেখা ১০ টি সেরা বইয়ের মধ্যে এই বইটি অন্যতম!
বইটির নাম ‘ইহইয়াউ উলূমিদ্দীন’। সেই আলেমের নাম ইমাম গাজালি রাহিমাহুল্লাহ।
- আরিফুল ইসলাম | 628 |
| 6 | নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম একদিন একটি চতুর্ভুজ আঁকলেন। চতুর্ভুজের মাঝখানে একটি রেখা টানলেন, যা চতুর্ভুজ অতিক্রম করে উপরের দিকে উঠে গেল।
এরপর মাঝখানের রেখার দু পাশ থেকে ছোট ছোট কয়েকটি রেখা টানলেন, যার কিছু কিছু মাঝের রেখাকে স্পর্শ করল।
এরপর নবীজি (সা.) বললেন, চতুর্ভুজের মাঝের রেখাটি মানুষ। আর চতুর্ভুজটি হলো তার আয়ু, যা তাকে ঘিরে রেখেছে। আর বাইরের দিকে অতিক্রম করে যাওয়া রেখাটি তার আশা-আকাঙ্ক্ষা।
আর ছোট ছোট রেখাগুলো তার বিপদাপদ। যদি সে এগুলোর একটি এড়িয়ে যায়, তবে অন্যটি তাকে আক্রমণ করে। আর অন্যটি এড়াতে পারলে আরেকটি এসে আক্রমণ করে।
সত্যি তাই, আমরা সুনির্দিষ্ট এক আয়ুর বৃত্তে বন্দি হয়ে আছি। আর এই বৃত্তবন্দি অবস্থায় আমরা এমন সব অলীক স্বপ্ন দেখি, যেখানে পৌঁছাতে হলে আয়ুর রেখাকে অতিক্রম করতে হয়।
অলীক সেই স্বপ্নের বন্দরে আমাদের জীবনতরী নোঙর করা হয় না, তার আগেই মৃত্যু এসে আমাদের পথ রোধ করে দাঁড়ায়।
বোখারি বর্ণিত হাদিসটি যতবার পড়ি, নবীজির প্রজ্ঞা ও পাঠদান পদ্ধতি দেখে হতবাক হয়ে যাই। আমাদের এই ক্ষণস্থায়ী জীবন, জীবনের চাওয়া-পাওয়া এবং নিত্য স্পর্শ করা এর বিপদ-আপদ বোঝাতে তিনি কী চমৎকার এক চিত্রকল্পের আশ্রয় নিয়েছেন!
এই ক্ষণস্থায়ী জীবনের নিগূঢ় রহস্য এর থেকে ভালো করে, ছবি এঁকে, চোখে আঙুল দিয়ে তুলে ধরা বুঝি আর সম্ভব নয়।
আজ থেকে প্রায় পনেরোশ বছর আগে, মরুভূমির রুক্ষ মাটির বুকে, যে সকল মরুচারীর সামনে এই চতুর্ভুজটি তিনি এঁকেছিলেন, সেই মধুর সময়ের স্মৃতি ও শিক্ষাটুকু নিশ্চয়ই তারা সুগন্ধি ফুলের মতোই বুকের কোণে আগলে রেখেছিলেন আজীবন।
আমাদের নবীজি (সা.) প্রকৃত অর্থেই সর্বকালের সেরা শিক্ষক ছিলেন। শ্রোতাদের মনস্তত্ত্ব তার মতো করে আর কেউ অনুভব করতে পারত না।
আমাদের হাদিস পাঠের অভিজ্ঞতায় আলোচ্য বর্ণনাটি নবীজির অসামান্য প্রজ্ঞার এক উৎকৃষ্ট উদাহরণ হয়ে থাকবে সব সময়। | 664 |
| 7 | Sin texto... | 587 |
| 8 | মৃত্যুর সময় মানুষ নিজের মৃত্যুর অনুভূতি বুঝতে পারে? | 852 |
| 9 | একটা সেনসেটিভ বিষয় নিয়ে কথা বলা দরকার।
এক ধরণের হাদি ব্যবসায়ী বের হয়ছে। যারা দেখবেন, কিছু হলেই বলে হাদি ভাই তো এটা চাইতেন না। হাদি ভাই জীবিত থাকলে এরাই হাদির বিরুদ্ধে লাগত..৷ এই ধরণের নানা হাদি ব্যবসায়িক কথাবার্তা বলে।
দেখুন শরীফ উসমান হাদি ভাই অবশ্যই এই অঞ্চলের মুসলিমদের পাওয়ার ও ডেভেলপের ব্যাপারে আন্তরিক ছিলেন। ছিলেন কল্যানকামী। একই সাথে ছিলেন ডারতীয় আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে বলিষ্ঠ কণ্ঠ ও সাংস্কৃতিক উদ্যোক্তা।
কিন্তু এর মানে কি এই যে উসমান হাদির সকল চিন্তা, সকল কাজ, সকল উদ্যোগের সাথে সহমত পোষণ করতে হবে, তার সকল বিষয়ই শরীয়ার দিক থেকে সমর্থনযোগ্য হবে।
মিউজিক, কনসার্ট, ফ্রি মিক্সিং এগুলো যে কেউই করুক, সেটার সাথে তো সহমত পোষণ করা সম্ভব না। বা সেগুলোর পক্ষে যুক্তি ও জনমত গঠন তো ইসলামের দাবি না।
এগুলোর মাধ্যমে লিবারেল ভেলুজকে মুসলিমদের মাঝে প্রতিষ্ঠিত করতে চাওয়ার যে খাহেশ, এটা সমস্যাজনক।
হালাল হারামের কনসেপ্ট ইসলামের মৌলিক সীমা। আল্লাহর নির্ধারিত বর্ডার। সেটা ব্যক্তিগতভাবে কেউ পালন নাই করতে পারে ঈমানি দূর্বলতার কারণে।
কিন্তু হালাল হারামের কনসেপ্টকে লিবারেল আধিপত্য ও যুক্তি দিয়ে মুসলিমদের কাছে হালকা করে তোলা, এটাকে মুসলিমদের ব্যক্তিগত পছন্দ- অপছন্দের বাউন্ডারিতে ফেলে দেয়া- এটা নিছক গোনাহ না। এটা ভয়াবহ ভ্রান্তি। এটা ব্যক্তিকে কোন কোন ক্ষেত্রে ইসলাম থেকে দূরে সরিয়ে দেয়, ইসলামের পরিচয় থেকেও বের করে দেয়।
ইসলামের হালাল হারামের কনসেপ্টের বিরুদ্ধে লিবারেল ভেলুজের ন্যারেটিভ কায়েম করা, কখনোই ইসলাম ও মুসলিমদের রাজনীতি না।
কিন্তু একটা শ্রেণি হাদিকে সামনে রেখে এবং হাদিকে ঢাল বানিয়ে এই রাজনীতিই করতে চাচ্ছে। এবং হাদির প্রতি যেই সেন্টিমেন্ট আছে কওমী সমাজ ও সচেতন নাগরিক সমাজে, সেটাকে কাজে লাগিয়ে যেন নতুন এক মূর্তি বা ব্যবসা চালু করেছে।
এজন্য কিছু হলেই এরা হাদি ভাইকে সামনে আনে। যেন ব্যক্তি হাদিই আমাদের চিন্তা, রাজনীতি আর এক্টিভিটির একমাত্র মানদণ্ড। এর বাইরে গেলেই আপনি হলেন মূর্খ, আপনি হলেন বোঝেন না কিছু, আপনি হলেন বাংলাদেশের শত্রু।
কওমীর সন্তানদের বলছি। আপনাদের আকাবিরদের নিজস্ব ঐতিহ্য আছে, আপনাদের ইলমে নববীর শক্তিশালী এক ইলমি ইসনাদ ও জ্ঞানতাত্ত্বিক সিলসিলা আছে।
সেটাই আপনাদের প্রধান শক্তির উৎস। বিদ্যমান বাস্তবতায় সেখানে অনেক ঘাটতি ও ত্রুটি আছে। কিন্তু মনে রাখবেন, এর চেয়ে বেটার কোন কিছু কেউ এখনো আপনাদের প্রোভাইট করতে পারেনি।
তাই নিজেদের সিলসিলালে আরো সমাজমুখী ও দাওয়াহমুখী করুন। বহুমাত্রিক যোগ্য রিজাল তৈরির প্রতি মনোনিবেশ করুন। এবং আকাবিররা যেই সোস্যাল পাওয়ার প্রতিষ্ঠা করেছিলেন দাওয়াহ, তাযকিয়া ও তাহরিকের মাধ্যমে সেটাকে আরো শক্তিশালী করুন।
আবারও বলছি, এই অঞ্চলে ইসলাম ও মুসলিমদের স্বার্থ রক্ষা, দ্বীনি আহকামের অবিকৃত হেফাজত এটার জন্য এর চেয়েও কার্যকর ও ফলপ্রসূ কোন ধারা এখনো প্রোভাইড করতে পারেনি।
যা কিছু রঙিন দেখছেন, সব কিছু এক মোহনায় মিলিত হয়েছে। লিবারেল ও মডার্নিস্ট ভেলুজের আধিপত্য।
তাই নিজেদের সিলসিলা নিয়ে হীনমন্যতায় ভুগবেন না। ত্রুটি, দূর্বলতা ও টার্গেট চিহ্নিত করুন এবং সংস্কারের জন্য প্রস্তুত হোন।
- ইফতেখার সিফাত | 908 |
| 10 | ভয়াবহ বিপদের আশঙ্কা: নেপালে কি আবার ভূমিধস? | Abdullah Bin Abdur Razzak | 944 |
| 11 | ইসলামের আমল বিল মারুফ নাহি আনিল মুনকার কনসেপ্টকে অস্বীকার করাটা একদম স্বাভাবিক হয়েছে। অথচ এটা ইসলামের অকাট্য বিধান।
লিবারেল রাষ্ট্র কাঠামোর দোহাই দিয়ে সব জায়গাতেই এই বিধানের আমলকে ক্রিমিনালাইজ করা হয়। তাহলে আগে স্বীকার করুন যে এই কাঠামো ইসলামবিদ্বেষী বা বিরোধী। আপনারা সেই রাজনীতিই চান।
সামর্থ্য অনুযায়ী প্রজ্ঞা অনুযায়ী আমর বিল মারুফ ও নাহি আনিল মুনকারের বিধান বাস্তবায়ন হবে৷ এখন আপনি সব এলাকা, সমাজ ও সব পরিস্থিতি এক পাল্লায় নিয়ে কেন বিচার করবেন?
শক্তি থাকলে শক্তি দিয়ে করবে, না থাকলে যবানে প্রতিবাদ করবে। সেটাও না পারলে অন্তরে ঘৃণা। এটা না থাকলে ইমানের অস্তিত্ব নেই। আপনাদের ভিতর তো দেখছি সেই ঘৃণাটাও নেই। আছে উলটো চাওয়া।
যেই সমাজে বিজাতীয় বা লিবারেল কালচার নিয়ে রক্ষণশীলতা আছে, সেই সমাজের রক্ষণশীলতা আপনি কেন ভাঙ্গতে যাবেন? সেই সমাজের উপর আপনার লিবারেল আধিপত্য কেন চাপিয়ে দিবেন?
আমাদের সমাজে তো এক সময় এতো অশ্লিলতা আর বেহায়াপনা ব্যাপক ছিল না। সামাজিক রক্ষণশীলতাকে ধ্বংস করা হয়েছে এই লিবারেল চেতনা দিয়ে। লিবারেল আধিপত্য দিয়ে।
লিবারেল সুশীলগিরি দিয়ে মানুষের মন জয় করতে পারবেন, কিন্তু ইসলামের কাছে আত্মসমর্পণের সাহস দেখাতে পারবেন না। অথচ মুসলিম দাবি করলে, ইসলামের কাছে আত্মসমর্পণ জরুরী।
লিবারেল ভেলুজের কাছে আত্মসমর্পণ করে মুসলিম হওয়া যায় না।
আপনাকে ইসলাম চেয়েই মুসলিম হতে হবে। ইসলামের নৈতিক মানদণ্ড ও এর আধিপত্যকে না মেনে আপনি মুসলিম হতে পারবেন না।
- ইফতেখার সিফাত | 1 101 |
| 12 | আবু বকর রাদিয়াল্লাহু আনহুর ইসলাম গ্রহণের কয়েক ঘণ্টা পর একজন ইসলাম গ্রহণ করেন।
কিন্তু, তাঁকে বেশিরভাগ মুসলিম চিনে না; তাঁর নাম পর্যন্ত জানে না।
এক রাতে তিনি একটি স্বপ্ন দেখেন। তার বাবা তাকে আগুনে ফেলে দিচ্ছেন আর নবিজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাকে আগুন থেকে উদ্ধার করছেন।
তৎকালীন সময়ের স্বপ্নের ব্যাখ্যায় এক্সপার্ট ছিলেন আবু বকর রাদিয়াল্লাহু আনহু। তিনি আবু বকর রাদিয়াল্লাহু আনহুর কাছে স্বপ্নের ব্যাখ্যা জানতে গেলে আবু বকর তাকে ইসলামের দাওয়াত দেন এবং বুঝান- নবিজি তাকে হিদায়াতের পথে আহবান করবেন, আর তার বাবা তাকে অন্ধকারের দিকে।
ঐদিনই আবু বকর রাদিয়াল্লাহু আনহু ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন, তিনিও সেদিন ইসলাম গ্রহণ করেন।
ইসলাম গ্রহণের পর তাঁর বাবা তাঁকে তলব করলেন। ইসলাম ত্যাগ করার জন্য তাঁকে বল প্রয়োগ করলেন। কিন্তু, তিনি অটল। বাবা তাঁকে ৩ দিনের নির্বাসনে পাঠালেন, খাবারদাবার বন্ধ করলেন। তবুও তিনি ইসলাম ত্যাগ করছেন না।
অতঃপর তাঁর বাবা তার দুই ভাইকে পাঠালেন তার অবস্থা দেখে আসতে। কয়েকদিন আগে তার ভাই তার মাথায় আঘাত করে মাথা ফাটিয়েছিলেন! এবার তারা আরো কঠোর হবে।
কিন্তু, না। তিনি ভাইদেরকে দাওয়াত দিলেন। তাঁর দুই ভাই ইসলাম গ্রহণ করলো! রাদিয়াল্লাহু আনহুমা।
৬৩৪ খ্রিস্টাব্দে বাইজেন্টাইনদের বিরুদ্ধে মুসলিমদের একটি যুদ্ধ হয়। যুদ্ধের নাম ছিলো 'মারজাল সাফফার'।
যুদ্ধের ঠিক আগের দিন সেই সাহাবী বিয়ে করেন উম্মে হাকিম বিনতুল হারিস রাদিয়াল্লাহু আনহাকে। বিয়ের পরদিন স্বামী-স্ত্রী দুজন যুদ্ধে যান৷ যুদ্ধে তিনি শহীদ হন, তার স্ত্রী প্রতিপক্ষের ৭ জন যোদ্ধাকে হত্যা করে!
স্বপ্নের মাধ্যমে যেই সাহাবী হিদায়াত লাভ করেছিলেন, আবু বকর রাদিয়াল্লাহু আনহুর ইসলাম গ্রহণের কয়েক ঘন্টা পর যিনি ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন, বিয়ের পরদিন যিনি শাহাদাত লাভ করেন, সেই সাহাবী হলেন খালিদ ইবনে সাঈদ ইবনুল আ'স রাদিয়াল্লাহু আনহু।
- আরিফুল ইসলাম | 964 |
| 13 | এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ ﷺ –এর কাছে এসেছিলো কিছু সম্পদ লাভের আশায়। সে রাসূলুল্লাহ ﷺ –এর কাছে সম্পদ চেয়েও ফেললো!
রাসূলুল্লাহ ﷺ তাঁকে ছাগল দান করলেন।
একটি-দুটি ছাগল না। হাদীসে উল্লেখ আছে- “তাকে এত বেশী ছাগল দিলেন যাতে দু’উপত্যকার মাঝামাঝি স্থান পরিপূর্ণ হয়ে যাবে।”
এখন চিন্তা করুন, দুই উপত্যকার মাঝামাঝি স্থান পূর্ণ হয়ে যাবে, এরকম কতো ছাগল লাগতে পারে?
৫০০? ১০০০ ছাগল? সংখ্যা শখানেক হোক বা হাজার, কিন্তু এটা স্পষ্ট যে, অনেক ছাগল দেয়া হয়। যা সে ভাবতেও পারেনি!
একসাথে এতো সম্পদ পেয়ে সেই বেদুইনের প্রতিক্রিয়া কী ছিলো জানেন?
সে খুশিতে আত্মাহারা হয়ে তার গোত্রে চলে গেলো চিৎকার করতে করতে- “হে আমার জাতির ভাইয়েরা! তোমরা ইসলাম গ্রহণ করো। কারণ মুহাম্মদ ﷺ অভাবের আশঙ্কা না করে এতো দান করতে থাকেন (তোমরা ভাবতেও পারবে না)!” (সহীহ মুসলিম: ৫৯১৪)
.
এই হাদীসের ব্যাখ্যায় ইমাম নববী রাহিমাহুল্লাহ বলেন- “এই বেদুঈন প্রথমে কেবল দুনিয়াবি লাভের আশায় নবী ﷺ–এর কাছে এসেছিলেন। কিন্তু রাসূল ﷺ–এর অসাধারণ উদারতা ও দানশীলতা দেখে তাঁর অন্তর ইসলামের প্রতি আকৃষ্ট হয় এবং তিনি আন্তরিকভাবে ইসলাম গ্রহণ করেন। এরপর তাঁর গোত্রও ইসলাম গ্রহণ করে।”
.
জীবনের প্রথম পরিচয়ে যে বেদুঈনের কাছে মনে হলো- রাসূলুল্লাহ ﷺ গরীব নন, তিনি অভাবের আশঙ্কা করেন না, তিনি দুহাত খুলে দান করেন, আর সেই রাসূল ﷺ সম্পর্কে আমরা কী মন্তব্য করি?
যেই নবী ﷺ একটি সুন্দর জামা পরে আসলে কেউ যদি বলতো জামাটা আমাকে দিবেন? তিনি সাথে সাথে জামা খুলে দিতেন, সেই নবীর অর্থনৈতিক জীবন বলতে গিয়ে আমরা শুধু তাঁর দারিদ্র্যের গল্প শুনাই?
আমাদের সময়ের প্রেক্ষাপটে রাসূলুল্লাহ ﷺ তাঁর জীবনে কোটি কোটি টাকা দান করেছেন। সেই রাসূলুল্লাহ ﷺ –এর ইমেইজ দাঁড় করানো হয়েছে কেবল ৩ মাস চুলোয় আগুন জ্বলেনি এই থিমের ওপর!
অথচ আমার রাসূলকে দুনিয়া অফার করা সত্ত্বেও তিনি দুনিয়া বেছে নেননি, তারপরও দুনিয়া তাঁর কাছে এসেছিলো। সেই দুনিয়াটাও তিনি গ্রহণ না করে দান করে গেছেন।
যার দানশীলতা দেখে একজন-দুজন না, একেকটা গোত্র ইসলাম গ্রহণ করতো, মক্কার কাফিররা যারা মক্কা বিজয়ের পরও মনে প্রাণে ইসলাম গ্রহণ করেনি, তাঁর দানশীলতা দেখে মুগ্ধ হয়ে পরবর্তীতে তাদের মন জয় হয়।
সেই রাসূলকে কিনা বলা হয় গরীব ছিলেন! অনাহারে থাকতেন।
.
রাসূলুল্লাহ ﷺ –কে ভালোবাসতে তাঁকে সম্পূর্ণভাবে জেনেই ভালোবাসতে হবে। আপনার কল্পিত ধারণা অনুযায়ী যে ইমেইজ দাঁড় করাতে চাচ্ছেন, সেভাবে না। বরং তিনি যেমন ছিলেন, ঠিক তেমনভাবেই তাঁকে চিন্তা করুন।
জোর করে ভালোবাসতে হবে না। ঐ ঘটনাগুলো পড়লে এমনিতেই ভালোবাসা জন্মাবে।
© আরিফুল ইসলাম | 750 |
| 14 | আজ থেকে আর হচ্ছে না সাপ্তাহিক লাইভ অনুষ্ঠান ‘শরয়ী সমাধান’।
বিগত সাত বছর ধরে চলা অনুষ্ঠানটির সফল সমাপ্তির পর আমরা শুরু করতে যাচ্ছি সম্পূর্ণ নতুন ধারাবাহিক—‘প্রিয়নবীর (সা.)-এর হারিয়ে যাওয়া সুন্নাহ’।
প্রিয়নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে ভালোবাসা আমাদের ঈমানের অংশ। আর তাকে ভালোবাসার দাবি তখনই পূর্ণ হবে, যখন আমরা তার সুন্নাহর অনুসরণ করব।
কিন্তু অত্যন্ত দুঃখের বিষয়, আমাদের সমাজ থেকে দিনকে দিন প্রিয়নবীর সুন্নাহগুলো হারিয়ে যেতে বসেছে।
অথচ পার্থিব জীবনে সুস্থতা, শৃঙ্খলা, সফলতা এবং আত্মপ্রশান্তির জন্য সুন্নাহর অনুসরণের বিকল্প নেই।
আবার পরকালীন মুক্তি ও প্রিয়নবী (সা.)-এর শাফায়াত লাভেরও অন্যতম মাধ্যম তার সুন্নাহর অনুসরণ।
সমাজের বুকে সুন্নাহর পুনর্জাগরণের লক্ষ্যে আগামী শুক্রবার থেকে শুরু হচ্ছে নতুন ধারাবাহিক অনুষ্ঠান ‘প্রিয়নবীর হারিয়ে যাওয়া সুন্নাহ’।
অনুষ্ঠানটি প্রতি শুক্রবার বাদ জুমা আমার ভেরিফাইড ফেসবুক পেজ এবং চ্যানেলে একযোগে প্রচারিত হবে, ইনশাআল্লাহ।
সুন্নাহর ভালোবাসায় এই খবরটি ছড়িয়ে দিন আপনার প্রিয়জনদের কাছে।
সুন্নাহ জানার, মানার এবং জীবনে ধারণ করার এই মহতি যাত্রায় দোয়া ও অংশগ্রহণের মাধ্যমে আমাদের সঙ্গে থাকুন।
© শাইখ আহমাদুল্লাহ | 2 582 |
| 15 | নবীজি ﷺ এর রওজা মোবারকের পাশ থেকে চারজন পুলিশ এক যুবককে আটক করে; তারা কোনো কথা না বলেই সাথে সাথে যুবকটির পেছনে দড়ি দিয়ে তার দু'হাত বেঁধে ফেলে। যুবকটি পুলিশদের জিজ্ঞেস করতে লাগলো তোমাদের কী হয়েছে; আমিতো চোরও নই, ডাকাতও নই, তাহলে আমার সাথে এমন আচরণ করছ কেন?!
দূর থেকে একজন বয়স্ক মুরব্বী পুরো বিষয়টি লক্ষ্য করছিলেন। তখন তিনি কাছে এসে পুলিশদের বললেন, "আমি এই যুবককে চিনি।"
পুলিশরা তাকে বললো: আপনি তাকে কীভাবে চিনেন?
মুরব্বী বললেন: আমি তাকে দেখি সে সবসময় রাসূলুল্লাহ ﷺ এর রওজার সামনে দাঁড়িয়ে-দাঁড়িয়ে, বসে-বসে দুরূদ পড়ে, সালাম দেয়, কান্নাকাটিও করে। তোমরা তাকে গ্রেফতার করেছ কেন, সে কি চোর?
যুবকটি ছিলো আলবেনিয়ার নাগরিক, বয়স ৩৫ অথবা ৩৬ হবে। তার মাথা ভর্তি ঘাড় বাবরি চুলে আর মুখ ভর্তি হালকা দাড়িতে।
পুলিশ বললো: না, সে চোর নয়। এই যুবক আলবেনিয়ার অধিবাসী, সে মদিনায় ছয় বছর ধরে বসবাস করছে অথচ এখানে তার কোনো বসবাসের কাগজপত্র নেই। আমরা তাকে ধরে আলবেনিয়ায় পাঠিয়ে দিতে চাচ্ছি ছয় বছর যাবৎ কিন্তু প্রতিবারই তাকে ধরার পর সে আমাদের থেকে পালিয়ে যায়। আমরা তাকে প্রতিবারই রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মসজিদ থেকে ধরি। এবারও তাই হলো। তাকে এবার পাওয়া মাত্রই সাথে সাথে দড়ি দিয়ে বাঁধা ছাড়া আমাদের কোনো উপায় ছিল না!
মুরব্বী পুলিশদের বললেন: এখন তোমরা তাকে নিয়ে কী করবে?
তারা বললো: রাষ্ট্রীয় আইন প্রয়োগ করবো। আমরা তাকে এখন ধরে নিয়ে প্লেনে উঠিয়ে দিবো এবং তারপর সে আলবেনিয়ায়।.....
যুবকটি তখন কাঁদছিল আর ভাবছিল এবার মনে হয় তাকে সত্যি সত্যিই রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মসজিদ ছেড়ে যেতে হবে! রাসূলের স্মৃতি বিজড়িত মদীনা শহর ছেড়ে যেতে হবে! কিছুক্ষণ ভেবে যুবকটি পুলিশদের বলতে লাগলো: দেখুন ভাই, আমি এখানে চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই ও কারো সাথে প্রতারণা করি না। আমি এখানে এসেছি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ভালোবাসার টানে, এছাড়া অন্য কোনো দুনিয়াবি উদ্দেশ্য আমার নেই।
পুলিশরা বললো: না, এটা গ্রহণযোগ্য কথা নয়, আপনাকে অবশ্যই দেশে ফিরে যেতে হবে। বহিরাগতদের রাষ্ট্রীয় আইনে এখানে থাকার সুযোগ নেই।
পুলিশরা যুবককে নিয়ে মসজিদে নববী থেকে বের হয়ে গেলো। যুবক পথিমধ্যে তাদের বললেন: আমার একটি শেষ অনুরোধ রাখবেন? পুলিশরা তার অনুরোধ শুনলো এবং সুযোগ দিল।
যুবকটি তখন সবুজ গম্বুজের দিকে তাকিয়ে আবেগতাড়িত কণ্ঠে বললো:
هل هكذا كان الإتفاق بينن؟!
"ইয়া রাসূলুল্লাহ! আমাদের মধ্যে চুক্তিটা কি এমন হয়েছিল!
হে রাসূল! আপনার প্রতিবেশী হবো, তাই আমি আমার দোকান, ব্যবসা, মা-বাবাকে ছেড়ে এখানে এসেছি কিন্তু তারা আমাকে আর থাকতে দিচ্ছে না। এই কথা বলতে বলতে যুবক মাটিতে লুটিয়ে পড়লো।
পুলিশরা বলেছে: আমরা ভাবলাম, যুবক ইচ্ছাকৃতভাবে মাটিতে লুটিয়ে পড়ছে, সে জ্ঞান হারানোর ভান করছে , হয়তো আবার পালানোর পাঁয়তারা করছে।
পুলিশ সদস্যরা কিছুক্ষণ পর যুবককে মাটি থেকে টেনে উঠালো, দেখল সে সত্যিই অচেতন, মুখে পানি ঢেলে দিলেও যুবক আর নড়ছে না। তাদের মধ্যে একজন বললো: তার হয়তো স্ট্রোক বা হার্ট অ্যাটাক হয়েছে, এক্ষুনি অ্যাম্বুলেন্স আনো। অ্যাম্বুলেন্স এসেছিল এবং যুবককে হাসপাতালেও নেওয়া হয়েছিল, ডাক্তার তার পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার পর বললেন: আরো দেড় ঘণ্টা আগে যুবক এই পৃথিবী থেকে চলে গেছে, সে বেঁচে নেই।
পুলিশ সদস্যরা তখন কান্নায় ভেঙে পড়েছিল এবং বলছিল: আল্লাহর শপথ, আমরা আমাদের দায়িত্ব পালনকালে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের প্রতি তাঁর গভীর ভালোবাসার নমুনা অনুভব করতে পারিনি।
এরপর গোসল ও জানাযা শেষে যুবককে অ্যাম্বুলেন্সে করে জান্নাতুল বাকিতে নিয়ে যাওয়া হয় এবং সেখানে দাফন করা হয়।
আলবেনিয়ার পথে রওনা দেওয়া যুবক, জান্নাতুল বাকিতে চলে গেলেন। রেখে গেলেন পৃথিবীবাসীর জন্যে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের প্রতি ভালোবাসার অনুপম উপমা।
~ আরবি থেকে অনূদিত © | 1 103 |
| 16 | Sin texto... | 871 |
| 17 | বাংলাদেশে ২০২৬ সালের তথা ১৪৪৮ হিজির এর পবিত্র রবিউল আউয়াল মাসের আইয়ামে বীজের রোজাগুলো রাখতে হবে যথাক্রমে ২৭ আগস্ট, ২৮ আগস্ট, ২৯ আগস্ট যথাক্রমে বৃহস্পতিবার, শুক্রবার এবং শনিবার। অর্থাৎ বুধবার দিবাগত রাতে সাহরি খেয়ে বৃহস্পতিবার থেকে রোজা শুরু করতে হবে। যাদের পক্ষে সম্ভব, তারা আগে থেকেই প্রস্তুতি নিয়ে রাখি।
আইয়ামে বীজ আরবি দুটি শব্দের সমন্বয়ে গঠিত। আইয়ামে অর্থ দিবসসমূহ, আর বীজ অর্থ শুভ্র, সাদা, শ্বেত, খাঁটি, নির্ভেজাল। প্রতি চান্দ্র মাসের ১৩, ১৪ ও ১৫ তারিখকে আইয়ামে বীজ বলা হয়। বেশ কয়েকটি সহীহ হাদীসে এ তিন দিনের রোজা রাখার জন্য উৎসাহিত করা হয়েছে। এ রোজাগুলো নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সারা জীবনের সুন্নত। প্রতি মাসে আইয়ামে বীজের ৩টি রোজা রাখা সারা বছর রোজা রাখার সমতুল্য।
তাই চলুন, আমরা প্রত্যেকে সাধ্যমতো পরিবারের সকলকে নিয়ে নফল রোজাগুলো পালন করি। রোজা এমন একটা ইবাদত যার প্রতিদান আল্লাহ নিজে দিবেন।
আইয়ামে বীজের রোজার ফজিলত ও সংশ্লিষ্ট কিছু মাসআলা সম্পর্কে জানতে ভিজিট করুন: https://muslimsday.com/blog/আইয়ামে-বীজ-রোজার-ফজিলত
আল্লাহ আমাদেরকে এই নফল রোজাগুলো নিয়মিত রাখার তাওফিক দান করুন। | 5 |
| 18 | Sin texto... | 1 561 |
| 19 | নবীজি ﷺ-এর প্রতি ভালোবাসার আসল পরিচয় কিসে—নির্দিষ্ট দিনের উৎসবে, নাকি দৈনন্দিন সুন্নাহ অনুসরণে? | 803 |
| 20 | আর যদি তুমি এমন কাউকে চেনো যে নীরবে ভেঙে যাচ্ছে, তাকে শুধু উপদেশ দিও না। তার পাশে বসো। তার কথা শোনো। তাকে জড়িয়ে ধরো। বলো, “তুমি চাইলে আমার কাছে সব বলতে পারো।” কখনো কখনো একজন মানুষের জীবন বদলে দেওয়ার জন্য বিশাল কোনো বক্তৃতার দরকার হয় না; দরকার শুধু একজন মানুষ, যে তার অন্ধকারের রাতে পাশে দাঁড়িয়ে বলে
“তুমি একা নও। আমি আছি। আর তোমার রব তো আছেনই।”
মনে রেখো, এই দুঃখ তোমার পুরো জীবন নয়। এই রাতটাই তোমার শেষ গল্প নয়। আজ যে বুকটা ভারী হয়ে আছে, আল্লাহ চাইলে একদিন সেই বুকেই আবার প্রশান্তি নেমে আসবে।
হয়তো আজ তুমি বুঝতে পারছ না কেন এত কষ্টের মধ্য দিয়ে যাচ্ছ।
কিন্তু একদিন পেছনে ফিরে তাকিয়ে হয়তো তুমি চোখের পানি মুছে বলবে-
“আলহামদুলিল্লাহ… তখন আমি ভেবেছিলাম আল্লাহ আমাকে একা রেখে দিয়েছেন। অথচ তিনি তখনও আমাকে ধরে রেখেছিলেন।”
তাই আরেকটু ধৈর্য ধরো।
আরেকটু দোয়া করো।
আরেকবার সিজদায় যাও।
কারণ তুমি যে গল্পের এই মুহূর্তটাকে শেষ মনে করছ, আল্লাহ হয়তো সেখান থেকেই তোমার সবচেয়ে সুন্দর অধ্যায়টি শুরু করছেন। | 1 011 |
