ঈমান ও আমল
رفتن به کانال در Telegram
نمایش بیشتر
📈 تحلیل کانال تلگرام ঈমান ও আমল
کانال ঈমান ও আমল (@imanoamol) در بخش زبانی بنگالی بازیگری فعال است. در حال حاضر جامعه شامل 18 268 مشترک است و جایگاه 4 451 را در دسته دین و مذهبی و رتبه 1 258 را در منطقه بنغلاديش دارد.
📊 شاخصهای مخاطب و پویایی
از زمان ایجاد در невідомо، پروژه رشد سریعی داشته و 18 268 مشترک جذب کرده است.
بر اساس آخرین دادهها در تاریخ 15 اکتبر, 2026، کانال فعالیت پایداری دارد. در ۳۰ روز گذشته تغییر اعضا برابر -50 و در ۲۴ ساعت گذشته برابر -5 بوده و همچنان دسترسی گستردهای حفظ شده است.
- وضعیت تأیید: تأیید نشده
- نرخ تعامل (ER): میانگین تعامل مخاطب 8.56% است و در ۲۴ ساعت نخست پس از انتشار، محتوا معمولاً 2.89% واکنش نسبت به کل مشترکان کسب میکند.
- دسترسی پستها: هر پست به طور میانگین 1 564 بازدید دریافت میکند. در اولین روز معمولاً 528 بازدید جمعآوری میشود.
- واکنشها و تعامل: مخاطبان بهطور فعال حمایت میکنند؛ میانگین واکنش به هر پست 0 است.
📝 توضیح و سیاست محتوایی
توضیحی برای کانال ارائه نشده است.
به لطف بهروزرسانیهای پرتکرار (آخرین داده در تاریخ 16 اکتبر, 2026)، کانال همواره بهروز و دارای دسترسی بالاست. تحلیلها نشان میدهد مخاطبان بهطور فعال با محتوا تعامل دارند و آن را به نقطه اثرگذاری مهم در دسته دین و مذهبی تبدیل کردهاند.
18 268
مشترکین
-524 ساعت
-157 روز
-5030 روز
آرشیو پست ها
18 268
জুমাবারে দুরূদ
-------
১. জুমাবার মুমিনের জন্য এক বিশেষ সম্পদ। জুমার দিন মুমিনের জন্য আল্লাহর রেখেছেন অমূল্য সব সওগাত। নবীজি উত্তম জুমার দিন বেশকিছু সুন্নতের প্রতি উদ্বুদ্ধ করে গেছেন। জুমার দিনে বিশেষ এক সুন্নত হল, নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের প্রতি বেশি বেশি দুরূদ শরীফ পাঠ করা। একে সপ্তাহের সেরা জুমাবার, তার উপর নবীজির উপর দুরূদ পাঠ, সেরা সময়ে সেরা কাজ।
আওস বিন আওস রা. বর্ণনা করেছেন, আল্লাহর রাসূল বলেছেন, إِنَّ مِنْ أَفْضَلِ أَيَّامِكُمْ يَوْمَ الْجُمُعَةِ، فِيهِ خُلِقَ آدَمُ، وَفِيهِ قُبِضَ، وَفِيهِ النَّفْخَةُ، وَفِيهِ الصَّعْقَةُ، فَأَكْثِرُوا عَلَيَّ مِنَ الصَّلاَةِ فِيهِ، فَإِنَّ صَلاَتَكُمْ مَعْرُوضَةٌ عَلَيَّ". قَالَ: قَالُوا: يَا رَسُولَ اللَّهِ، وَكَيْفَ تُعْرَضُ صَلاَتُنَا عَلَيْكَ وَقَدْ أَرِمْتَ؟ -يَقُولُونَ: بَلِيتَ- فَقَالَ: "إِنَّ اللَّهَ عَزَّ وَجَلَّ حَرَّمَ عَلَى الأَرْضِ أَجْسَادَ الأَنْبِيَاءِ দিনসমূহের মধ্যে জুমুআর দিনই সর্বোৎকৃষ্ট। এই দিনই আদমকে সৃষ্টি করা হয়েছে। এই দিনই তিনি ইন্তেকাল করেছেন। এই দিনে শিংগায় ফুঁ দেয়া হবে। এদিন সমস্ত সৃষ্টি সংজ্ঞাহীন হবে। অতএব তোমরা ঐ দিন আমার উপর বেশি বেশি দুরূদ পাঠ করবে। কারণ, তোমাদের দুরূদ আমার সামনে পেশ করা হয়। সাহাবায়ে কেরাম জানতে চাইলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আপনার দেহ তো গলে যাবে। এমতাবস্থায় আমাদের দুরূদ কিরূপে আপনার সম্মুখে পেশ করা হবে? উত্তরে নবীজি বলেছেন, আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা আম্বিয়ায় কিরামের দেহসমূহকে মাটির জন্য হারাম করে দিয়েছেন। আম্বিয়ায়ে কেরামের দেহ কবরের মাটি বিনষ্ট করতে পারে না (আবূ দাউদ ১০৪৭। সহীহ)।২. মনে রাখা জরুরী, জুমাবার শুরু হয় বৃহস্পতিবার মাগরিবের পর থেকে। আরবী তারিখ মাগরিবের পর থেকেই শুরু হয়। বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতের মাগরিব থেকে জুমাবারে দিবাগত রাতের মাগরিব পর্যন্ত পুরো সময়টাই জুমাবার। বৃহস্পতিবার মাগরিবের পর থেকেই দুরূদ পেশ করা শুরু করতে পারি।
আনাস রা. থেকে বর্ণিত। আল্লাহর রাসূল বলেছেন, أَكْثِرُوا عَلَيَّ الصَّلاَةَ فِي يَوْمِ الْجُمُعَةِ، وَلَيْلَةِ الْجُمُعَةِ، فَمَنْ فَعَلَ ذَلِكَ كُنْتُ لَهُ شَهِيدًا، أوَ شَافِعًا يَوْمَ الْقِيَامَةِ জুমাবারে আমার উপর বেশি বেশি দুরূদ পাঠ করবে। জুমার রাতেও বেশি বেশি দুরূদ পেশ করবে। যে ব্যক্তি জুমার দিন ও রাতে আমার উপর দুরূদ পেশ করবে, কেয়ামতের দিন আমি তার জন্য সুপারিশকারী হবো (বায়হাকী ৩/১১০। হাসান-আল্লামা সুয়ূতী রহ.)।৩. শ্রেষ্ঠতম দুরূদ হল দুরূদে ইবরাহীমি। যে দুরূদ আমরা নামাজে পড়ি। হাতে সময় থাকলে, দুরূদে ইবরাহীমিও পড়তে পারি। না হলে সংক্ষেপে- ১: সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামও পড়তে পারি। অর্থঃ আল্লাহ তা‘আলা রাসূলের উপর রহমত ও শান্তি বর্ষণ করুন। ২: এছাড়াও পড়তে পারি-আল্লাহুম্মা সাল্লি আলা মুহাম্মাদ। ৩: অথবা পড়তে পারি, আল্লাহুম্মা সাল্লি ও সাল্লিম ওয়া বা-রিক আলা মুহাম্মাদ। ৪: অথবা পড়তে পারি- আল্লাহুম্মা সাল্লি আলা মুহাম্মাদ ওয়া আলা আ-লিহি ওয়া সাহবিহি ওয়া সাল্লিম। ৪. কতবার দুরূদ শরীফ পড়ব? আমি পেয়ারা নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে যতটা ভালবাসি? আমার দুরূদ পাঠের সংখ্যা থেকে ফুটে উঠবে, আমি নবীজিকে কতটা ভালবাসি। একটু খেয়াল করলেই, সারাদিনে আমি অগনিত দুরূদ পাঠ করতে পারি। কাটুক না সপ্তাহে একটা দিন নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ভালবাসায়। উঠতে বসতে, হাঁটতে চলতে দুরূদ পাঠ করতে পারি। রাব্বে কারীম তাওফীক দান করুন। আমীন। শাইখ আতিক উল্লাহ (হাফি)
18 268
পূজা উপলক্ষে পণ্যে ডিসকাউন্ট ও কেনাকাটার বিধান
বাণিজ্যিক লাভের মোহে শিরকের প্রচারে মুমিনের সতর্কতা ও শরিয়তের সীমারেখা জানুন।
দুর্গাপূজা ঘনিয়ে এলেই শহরের অলিগলি থেকে শুরু করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের দেয়ালে চোখ পড়ে রকমারি বিজ্ঞাপনে—‘
শারদীয় ধামাকা’, ‘পূজা স্পেশাল অফার’
কিংবা বিশেষ ছাড়ের হাতছানি। সামান্য কিছু বাড়তি মুনাফা বা গ্রাহক টানার তাগিদে একজন মুসলিম ব্যবসায়ী যখন কোনো শিরকি উৎসবকে উপলক্ষ বানিয়ে নিজের পণ্যের পসরা সাজান, তখন তিনি হয়তো ভাবেন,
‘এটা তো কেবলই ব্যবসা!’
কিন্তু কখনো কি আমরা ভেবে দেখেছি, পার্থিব বিক্রির অংকটা একটু বাড়াতে গিয়ে আমরা কার উৎসবকে মর্যাদাপূর্ণ করে তুলছি, কার নারাজিকে আমন্ত্রণ জানাচ্ছি?
পাপের কাজে সহযোগিতার স্পষ্ট নিষেধাজ্ঞা
ব্যবসায় লাভ করা ইসলামে বৈধ, কিন্তু যে উপার্জনের পেছনে শিরকের মতো জঘন্য পাপের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ প্রচার জড়িয়ে থাকে, তা কখনোই মুমিনের আদর্শ হতে পারে না। মহান রব পবিত্র কুরআনে স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছেন:
“তোমরা সৎকর্ম ও তাকওয়ার কাজে একে অপরকে সহযোগিতা করো; আর পাপ ও সীমালঙ্ঘনের কাজে একে অপরকে সহযোগিতা কোরো না...” (সূরা আল-মায়িদা, ৫:২)
অমুসলিমদের ধর্মীয় উৎসবকে উপলক্ষ বানিয়ে বিশেষ ‘পূজা অফার’ বা ছাড়ের ব্যানার টানানো মূলত তাদের শিরকি উৎসবেরই এক ধরনের প্রচার ও সামাজিক গ্রহণযোগ্যতা বাড়িয়ে দেওয়া। যে কাজ আল্লাহর ক্রোধ ডেকে আনে, তাকে কেন্দ্র করে নিজের ব্যবসার প্রচার চালানো স্পষ্টতই পাপের কাজে সহযোগিতার শামিল।
ফিকহের মানদণ্ড ও সতর্কবাণী
বিশ্ববিখ্যাত ফতোয়া বোর্ড
‘আল-লাজনাহ আদ-দায়িমাহ’-
এর ফতোয়ায় দ্ব্যর্থহীন ভাষায় বলা হয়েছে,
অমুসলিমদের ধর্মীয় উৎসবের জন্য কোনো ধরনের সহযোগিতা করা, গণমাধ্যমে এর প্রচার চালানো কিংবা তাদের উৎসবকে কেন্দ্র করে বাণিজ্যিক মূল্যছাড় ও আর্থিক উপহারের ব্যবস্থা করা কোনো মুসলিমের জন্য জায়েজ নয়
[ফাতাওয়া আল-লাজনাহ আদ-দায়িমাহ, ২৬/৪০৯]।
আল্লামা ইবনে নুজাইম (রহ.)
এবং ফিকহের কিতাবসমূহে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে বলা হয়েছে—
তাদের উৎসবের দিনের সম্মানার্থে কোনো কিছু উপহার দেওয়া বা সেই দিনের মর্যাদা বাড়িয়ে তোলার উদ্দেশ্য পোষণ করা কুফরির সমতুল্য মারাত্মক অপরাধ
[আল-বাহরুর রায়িক: ৫/১৩৩; ফাতহুল বারী: ২/৩১৫]। পার্থিব কিছু টাকার লোভে যে উৎসবকে আল্লাহ অপছন্দ করেন, তাকে নিজের বিজ্ঞাপনী ট্যাগ বানানো ঈমানের আত্মমর্যাদার সাথে একেবারেই বেমানান।
সাধারণ কেনাকাটা বনাম পূজা উপলক্ষে ছাড় গ্রহণ
ব্যবসায়ীর জন্য পূজার নামে ডিসকাউন্ট দেওয়া যেমন নাজায়েজ, তেমনি একজন সাধারণ ক্রেতার মনে প্রশ্ন জাগে—ভিন্ন ধর্মের কেউ যদি এমন ছাড় দেয়, তবে সেখান থেকে কেনাকাটা করা যাবে কি? শরিয়তের মূলনীতি হলো, কোনো দোকানে পূজা উপলক্ষে মূল্যছাড় দেওয়া হলেও সেখান থেকে সাধারণ হালাল ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য কেনা নাজায়েজ হয়ে যায় না।
কারণ, হালাল পণ্যের ক্রয়-বিক্রয় মূলত বৈধ, এবং কম দামে পণ্য কেনার নিয়ত আর সেই ধর্মীয় উৎসবে হৃদয়ের একাত্মতা পোষণ করা এক বিষয় নয়। তবে কোনো অবস্থাতেই পূজার প্রতি সম্মান প্রদর্শন বা উৎসবে শামিল হওয়ার মানসিকতা রাখা যাবে না।
একটি আত্মজিজ্ঞাসা ও মুমিনের করণীয়
ব্যবসায়ীরা যদি এই দিনগুলোতে বিক্রি বাড়াতে চান, তবে কোনো ধর্মীয় উৎসবকে ট্যাগ না করে নিরপেক্ষভাবে—যেমন
‘অক্টোবর অফার’
বা ‘
ঋতুভিত্তিক ছাড়’
হিসেবে ডিসকাউন্ট দিতে পারেন। তবে সবচেয়ে বড় বেদনার জায়গা হলো, মুসলিমদের নিজেদের ধর্মীয় উৎসব যেমন ঈদ কিংবা কুরবানিতে আমাদের দেশে পণ্যের দাম আকাশচুম্বী করে ফেলা হয়, অথচ বিজাতীয় ধর্মীয় উৎসব এলে ছাড় দেওয়ার অসুস্থ প্রতিযোগিতা দেখা যায়। এই মানসিকতা মুমিনের আত্মমর্যাদাবোধকে প্রশ্নবিদ্ধ করে।
পার্থিব লাভ-লোকসানের হিসাব যেন আমাদের আখিরাতের হিসাবকে ওলটপালট না করে দেয়।
সামান্য কিছু বিক্রির জন্য নিজের দোকান বা প্রতিষ্ঠানের ব্যানারে এমন কোনো স্লোগান যেন না ওঠে, যা আসমান ও জমিনের একছত্র অধিপতির অসন্তুষ্টি ডেকে আনে।
আসুন, রিজিকের মালিকের ওপর পূর্ণ ভরসা রাখি এবং আমাদের ব্যবসা ও উপার্জনকে সকল প্রকার শিরকি আবহ থেকে সম্পূর্ণ পবিত্র রাখি।
হানাফী ফিকহ ফেসবুক গ্রুপের এডমিন, মুফতি মুহাম্মদ খাইরুল ইসলাম (হাফি.) এর ফেসবুক পোস্ট অবলম্বনে লিখিত।
মুসলিমস ডে অ্যাপের অন্যান্য ইউজারদের সাথে আপনিও যুক্ত হতে পারেন আমাদের ফেসবুক গ্রুপের মাধ্যমে। অ্যাপ সম্পর্কিত জিজ্ঞাসা, মতামত ও আইডিয়া শেয়ার এবং সামাজিক যোগাযোগের জন্য জয়েন করুন আমাদের ফেসবুক পেজে
মুসলিমস ডে'র ফেসবুক গ্রুপে জয়েন করুন
https://www.facebook.com/groups/muslimsday
-----------------------------
Copied from Muslims day app.
Download link:
https://kahf.to/muslimsday
18 268
প্রশ্ন: সূরা মুলক ইশার সালাতের আগে পড়লে রাতে কি আবার পড়তে হবে?
উত্তর:
রাত-দিন যে কোন সময় সূর মুলক পাঠ করা অত্যন্ত ফযিলতপূর্ণ আমল। কেননা হাদিসে এসেছে:
আবু হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন,
إِنَّ سُورَةً مِنْ الْقُرْآنِ ثَلَاثُونَ آيَةً شَفَعَتْ لِرَجُلٍ حَتَّى غُفِرَ لَهُ وَهِيَ سُورَةُ تَبَارَكَ
الَّذِي بِيَدِهِ الْمُلْكُ -وحسنه الألباني في صحيح الترمذي
"কুরআনের তিরিশ আয়াত বিশিষ্ট এমন একটি সূরা আছে , যা তার পাঠকারীর জন্য সুপারিশ করবে এবং শেষাবধি তাকে ক্ষমা করে দেয়া হবে। সেটা হচ্ছে ‘তাবা-রাকাল্লাযী বিয়্যাদিহিল মূলক (অর্থাৎ সূরা মূলক)।”
(তিরমিযী, শাইখ নাসিরুদ্দীন আলবানী রাহ. উক্ত হাদীসটিকে তার সহীহ তিরমিযীতে ‘হাসান’ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়া রাহ. মাজমু ফতোয়াতে এটিকে সহীহ বলেছেন।)
উক্ত হাদিসে রাত-দিন বা কোন নির্দিষ্ট সময়ে পড়ার কথা আসে নি।
সুতরাং আপনি রাত-দিন যে কোনো সময় তা পড়তে পারেন। এমনকি ইশা, তাহাজ্জুদ, ফজর বা অন্য কোনো সালাতে দাঁড়িয়েও যদি তা পাঠ করেন তাহলে উক্ত মর্যাদা লাভ করা যাবে ইনশাআল্লাহ।
তবে যদি রাতে ঘুমের পূর্বে পড়তে পারেন তাহলে তা আরও উত্তম। কেননা হাদিসে এসেছে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ঘুমের পূর্বে পড়তেন।
আল্লাহর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যে সকল সূরা পাঠ না করে ঘুমাতেন না সেগুলো হল ৪টি সূরা। যথা:
▪১) আলিফ লাম তানযীল (সূরা সাজদাহ)
▪২) তাবারাকাল্লাযি বিইয়াদিহিল মুলক (সূরা মুলক)
এ মর্মে হাদিস হল:
فروى الترمذي (2892) عَنْ جَابِرٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ : " أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ لا يَنَامُ حَتَّى يَقْرَأَ الم تَنْزِيلُ ، وَتَبَارَكَ الَّذِي بِيَدِهِ الْمُلْكُ " ، وصححه الألباني في " صحيح سنن الترمذي
▪৩) সূরা ইসরা (বনী ইসরাঈল) এবং
▪৪) সূরা যুমার।
এ মর্মে হাদিস হল:
روى الترمذي (3405) عن عَائِشَة رضي الله عنها قالت : " كَانَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَا يَنَامُ حَتَّى يَقْرَأَ الزُّمَرَ ، وَبَنِي إِسْرَائِيلَ " ، وصححه الألباني في " صحيح سنن الترمذي "
আল্লাহু আলাম।
-----------------------------------------------
উত্তর প্রদানে:
আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল
18 268
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন:
"একটি মাছির কারণে এক ব্যক্তি জান্নাতে প্রবেশ করেছে, আর আরেক ব্যক্তি মাছি উৎসর্গ করে জাহান্নামে গিয়েছে।"
সাহাবিগণ আরজ করলেন, "হে আল্লাহর রাসূল! তা কীভাবে?"
তিনি বললেন: "পূর্ববর্তী উম্মতের দুই ব্যক্তি এক কওমের পাশ দিয়ে যাচ্ছিল, যাদের একটি মূর্তি ছিল। মূর্তির কাছে কোনো কিছু মানত বা বলিদানের তোহফা না দিয়ে কেউ সে পথ দিয়ে যেতে পারত না। তারা এক লোককে বলল, 'একটি মাছি হলেও উৎসর্গ করো।' সে মূর্তির নামে একটি মাছি উৎসর্গ করল এবং তারা তাকে ছেড়ে দিল; ফলে সে জাহান্নামে গেল। অতঃপর দ্বিতীয় জনকে একই কথা বলা হলে সে বলল, 'আমি আল্লাহ ছাড়া আর কারও নামে কোনো কিছু উৎসর্গ বা মানত করি না।' তখন তারা তাকে হত্যা করল; ফলে সে জান্নাতে প্রবেশ করল।"
রেফারেন্স: কিদাবুত তাওহীদের সূত্রে মুসান্নাফে ইবনে আবি শায়বাহ (হাদীস নং: ৩৩০৩৮), শুআবুল ঈমান (বায়হাকী: ৭৩৬৩)।
18 268
আহমেদ মানার ওমর আবু সুলতান। যিনি আড়াই বছরেরও বেশি সময় ধরে নিখোঁজ ছিলেন। অবশেষে গতকাল গাজার খান ইউনিসে তাকে খুঁজে পাওয়া যায়।
ধ্বংসস্তূপ থেকে বের করার পর দেখা যায়, আড়াই বছরেরও বেশি সময় পরও তার লাশে কোনো প্রকার পরিবর্তন আসেনি। দেহ একদম অবিকৃত রয়েছে। আল্লাহু আকবার!
আড়াই বছর! অথচ কয়েকদিনেই লাশ বিকৃত হয়ে যায়। মনে পড়ে গেল কুরআনের এই আয়াত..
আর যারা আল্লাহর পথে নিহত হয়, তাদেরকে মৃত বলো না। বরং তারা জীবিত; কিন্তু তোমরা তা উপলব্ধি করতে পারো না। সূরা আল-বাকারা: ১৫৪
বেলাল মুসা, গাজা, ফিলিস্তিন
18 268
এক ব্যক্তি বলল, ‘হে আল্লাহর রাসূল! আমি কি আমার দোয়ার এক-তৃতীয়াংশ সময় আপনার দরুদের জন্য নির্ধারণ করব?’ তিনি (ﷺ) বললেন: “হ্যাঁ, তুমি চাইলে করতে পারো।” লোকটি বলল, ‘তাহলে কি আমি আমার দোয়ার অর্ধেক সময় নির্ধারণ করব?’ তিনি বললেন: “হ্যাঁ।”
লোকটি বলল, ‘তাহলে কি আমি আমার দোয়ার পুরো সময়টাই আপনার ওপর দরুদ পাঠে নিবেদিত করব?’ তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন: “তবে তো আল্লাহ তাআলা তোমার দুনিয়া ও আখেরাতের যাবতীয় চিন্তা ও উৎকণ্ঠার জন্য যথেষ্ট হয়ে যাবে।”
(উৎস: আত-তাবারানী ‘আল-মু'জামুল কাবীর’ গ্রন্থে, এবং আল-কাওলুল বাদী, পৃ. ২৫৬)
18 268
হযরত আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন, আল্লাহ তাআলা বলেছেন:
"আমি শরিকদের (শিরককারী ও যার শিরক করা হয়) অংশীদারিত্ব থেকে সম্পূর্ণ অমুখাপেক্ষী। যে ব্যক্তি এমন কোনো আমল করে, যাতে সে আমার সাথে অন্য কাউকেও শরিক করে, আমি তাকে এবং তার শিরক—উভয়কেই বর্জন করি (প্রত্যাখ্যান করি)।"
--সহিহ মুসলিম (হাদীস নং: ২৯৮৫)।
18 268
একজন বেদুঈনকে একবার জিজ্ঞেস করা হলো, ‘আল্লাহর অস্তিত্বের প্রমাণ কী?’
বেদুঈন কোনো দার্শনিক ভাষা ব্যবহার করলেন না। তিনি তাঁর সহজ-সরল চোখে দেখা সত্যটাই বললেন
اَلْبَعَرَةُ تَدُلُّ عَلَى الْبَعِيرِ
وَالرَّوْثُ عَلَى الْحَمِيرِ
وَآثَارُ الْأَقْدَامِ عَلَى الْمَسِيرِ
فَسَمَاءٌ ذَاتُ أَبْرَاجٍ
وَأَرْضٌ ذَاتُ فِجَاجٍ
وَبِحَارٌ ذَاتُ أَمْوَاجٍ
أَمَا تَدُلُّ عَلَى الصَّانِعِ الْحَلِيمِ الْعَلِيمِ الْقَدِيرِ؟
মাটিতে যদি উটের বিষ্ঠা দেখি, বুঝি—এখানে উট গেছে।
গাধার বিষ্ঠা দেখলে বুঝি—গাধা গেছে।
পায়ের ছাপ দেখলে বুঝি—কেউ হেঁটে গেছে।
তাহলে বলো—তারাগুলোতে ভরা আকাশ,
পথ-প্রান্তর জুড়ে বিস্তৃত পৃথিবী, ঢেউয়ে ভরা সমুদ্র—এসব কি একজন নির্মাতা, একজন সুপরিকল্পনাকারী, একজন সর্বশক্তিমান স্রষ্টার দিকে ইশারা করে না?
[আস-সাফিরী রহ., শারহুল বুখারী : ১/৪৬১]
18 268
মেয়েদের জন্য পুরুষ টিউটর প্রদানের বিধান
প্রশ্ন:
আমি একটি টিউশন মিডিয়ার ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। কোনো মেয়ে যদি নিজের জন্য একজন পুরুষ টিউটর চায়, তাহলে তাকে পুরুষ টিউটর প্রদান করা কি জায়েয হবে?
আর যদি তাকে পুরুষ টিউটর প্রদান করা হয়, তাহলে এর বিনিময়ে যে মিডিয়া-ফি নেওয়া হবে, সেই ফি কি হালাল হবে?
-আবু হাদ্দাদ
উত্তর:
এটা জায়েয হবে না। নাজায়েয কাজে সহযোগিতার গুনাহ হবে।
-সূরা আহযাব, ৩৩:৫১; সূরা নূর, ২৪:৩১-৩২; সহীহ মুসলিম: ২৬৫৭; রদ্দুল মুহতার: ৬/৩৬৯ (দারুল ফিকর)।
বিস্তারিত জানতে দেখুন-
ফাতওয়া নং ২২৫: পুরুষ শিক্ষকের সামনে চেহারা খোলা রেখে ক্লাস করা কি জায়েয?
https://www.facebook.com/share/p/1CcLMj6Qc9/
ফাতওয়া নং ২৪৭: প্রচলিত সহশিক্ষা পদ্ধতিতে মেডিক্যাল শিক্ষা গ্রহণের হুকুম কি?
https://www.facebook.com/share/v/1ENWzQm8yz/
ফাতওয়া নং ১৪১: সহশিক্ষার হুকুম কী?
https://www.facebook.com/share/v/1VMiLi6VFt/
فقط، والله تعالى أعلم بالصواب
আবু মুহাম্মাদ আব্দুল্লাহ আলমাহদি (উফিয়া আনহু)
২৪-০৩-১৪৪৮ হি.
০৭-০৯-২০২৬ ঈ.
18 268
পৃথিবীর কোনো ধনকুবেরের পক্ষে কি প্রতিদিন ৩০ কোটি টাকা আল্লাহর রাস্তায় দান করা সম্ভব? কল্পনা করলেও তো মাথা ঘুরে যায়। অথচ রাসুলুল্লাহ ﷺ তাঁর উম্মতকে এমন একটি সহজ আমল শিখিয়ে গেছেন, যা মাত্র কয়েক মিনিটে বসে আদায় করলেই তার সওয়াব কোটি কোটি টাকা সদকা করার চেয়েও বেশি।
হাদিসে এসেছে, রাসুলুল্লাহ ﷺ-এর ফুফাতো বোন উম্মেহানী (রা.) একদা আল্লাহর রাসুলের দরবারে এসে ব্যাকুল হয়ে আরজ করলেন। বার্ধক্যের ভারে তাঁর শরীর তখন নুয়ে পড়েছে, আগের মতো শক্তি নিয়ে দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে ইবাদত করার সামর্থ্য আর নেই। তিনি অশ্রুসিক্ত কণ্ঠে বললেন, “ইয়া রাসুলুল্লাহ! ﷺ- আমি তো বয়োবৃদ্ধ হয়ে গেছি, আমার শরীর ভীষণ দুর্বল। আমাকে এমন একটি সহজ আমল শিখিয়ে দিন, যা আমি এক জায়গায় বসে বসেই আদায় করতে পারি।”
তাঁর এই কথা শুনে রাসুলুল্লাহ ﷺ বললেন—“তুমি ১০০ বার ‘সুবহানাল্লাহ’ পাঠ করো। এটি আল্লাহর রাস্তায় জিন ও লাগামসহ প্রস্তুত করা ১০০টি যুদ্ধের ঘোড়া সদকা করার সমান সওয়াব এনে দেবে।”
আজকের দিনে যুদ্ধ বা চলাচলের জন্য প্রস্তুত ১০০টি উন্নত জাতের ঘোড়ার দাম হিসাব করলে তা কয়েক কোটি টাকা ছাড়িয়ে যায়। অথচ মাত্র কয়েক মিনিট ‘সুবহানাল্লাহ’ পাঠ করলেই আল্লাহ বান্দার আমলনামায় সেই পরিমাণ সওয়াব লিখে দেন।
এরপর রাসুলুল্লাহ ﷺ বললেন, “১০০ বার ‘আলহামদুলিল্লাহ’ পাঠ করো; তা আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য কুরবানি করা ১০০টি গ্রহণযোগ্য উটের চেয়েও উত্তম।” চিন্তা করে দেখুন, আজকের বাজারে এরকম এক-একটি ভালো মানের উটের বাজারমূল্য ঠিক কত টাকা, ১০০টি উটের বহর মানে কী বিপুল অঙ্কের সদকা!
এরপর নবীজি ﷺ আরও বলেন, “১০০ বার ‘আল্লাহু আকবার’ বলো; এটি ইসমাইল (আ.)-এর বংশধরদের থেকে ১০০ জন দাস মুক্ত করার সওয়াবের সমান হবে।”
রাসুলুল্লাহ ﷺ ইরশাদ করেছেন, “যে ব্যক্তি কোনো মুসলিম দাসকে মুক্ত করবে, আল্লাহ তার প্রতিটি অঙ্গের বিনিময়ে মুক্তকারী ব্যক্তির প্রতিটি অঙ্গকে জাহান্নামের আগুন থেকে রক্ষা করবেন। এমনকি তার লজ্জাস্থানের বিনিময়ে তার লজ্জাস্থানকেও রক্ষা করবেন।”
এখন চিন্তা করে দেখুন, কোনো বন্দি মানুষকে কিনে আজাদ করে দেওয়া ঠিক কত বড় পুণ্যের কাজ!
সবশেষে রাসুলুল্লাহ ﷺ বললেন, “আর ১০০ বার ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ পাঠ করো; এই তাসবিহর সওয়াব আকাশ ও জমিনের মাঝের সমস্ত শূন্যতাকে কানায় কানায় ভরে দেয়।”
১০০টি ঘোড়া, ১০০টি উট আর ১০০ জন দাস মুক্তির বর্তমান আর্থিক মূল্য হিসাব করলে তা সহজেই ২০ থেকে ৩০ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যায়। অথচ প্রতিদিন সকালে ও সন্ধ্যায় মাত্র পাঁচ-দশ মিনিট ব্যয় করে এই জিকিরগুলো করলেই আল্লাহ তাআলা সেই বিপুল সওয়াব আপনার আমলনামায় দান করবেন।ইন শা আল্লাহ। এরপরেও কি আমরা চুপচাপ বসে থাকব? হা-হুতাশ জুড়ে দিয়ে বলব, আল্লাহ তো আমাকে সদাকা করারা তাওফিকই দান করেননি?
ইনশাআল্লাহ আমরা চেষ্টা করলে প্রতিদিনের ব্যস্ততার মাঝেও এই সহজ ও মহামূল্যবান জিকিরগুলো নিয়মিত আমল করতে পারি।
হাদিসের রেফারেন্স:
মুসনাদে আহমাদ, হাদিস নম্বর: ২৬৯০৩
সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস নম্বর: ৩৮১০
সহিহ বুখারি, হাদিস নম্বর: ২৫১৭ ও ৬৭১৫
ড. খোন্দকার আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর (রহ.), ‘রাহে বেলায়াত’, অনুচ্ছেদ: সকাল-সন্ধ্যার জিকির (পৃষ্ঠা ৯৭)
18 268
গুনাহ যেন প্রতিক্রিয়াশীল না হয়
কিছু গুনাহ আছে এমন যা কেবল একজনের মাঝে সীমাবদ্ধ থাকে না; বরং অন্যদের মাঝেও প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে। আমরা সদকায়ে জারিয়ার কথা শুনেছি। অনুরূপভাবে কিছু গুনাহ্ও আছে এমন যে, জারি থাকে।
গুনাহ আমাদের দ্বারা হয়ে যাবে। কিন্তু আমি সবসময় সতর্ক থাকবো যেন জারি থাকে এমন গুনাহ না হয়। অনুরূপভাবে কিছু গুনাহ আছে ছোট কিন্তু স্থানের কারণে সেটা বড় হয়ে যায়। যেমন হারাম শরিফ। কুদৃষ্টি দেওয়া গুনাহ। কিন্তু হারাম শরীফে বসে দেওয়া আরও বড় গুনাহ।
অনুরূপভাবে কিছু সময় আছে, যে সময়ে গুনাহ-কে বড় করে দেখা হয়। যেমন কোনো লোক যদি লাইলাতুল কদরে মাহরুম হয়ে যায় তাহলে নবীজী বলেন যে, সব কল্যাণ থেকে মাহরুম হয়ে যায়। কারণ সে এত বড় সময়টাকে মূল্য দিতে পারেনি। রমযানে যে নিজেকে মাফ করাতে পারে না; জিবরাইল আ. বলেন, সে আল্লাহর রহমত থেকে দূরে সরে গেল। কেন? কারণ এত বড় রমযান আসল, এত বড় অফার আসল অথচ সে এই অফারটা নিতে পারেনি!
সুতরাং বোঝা গেল, কিছু সময় আছে এমন যে, ওই সময়ে গুনাহ করলে সেটা বড় করে দেখা হয়।
আবার কিছু ব্যক্তি আছে এমন যাদের সামনে গুনাহ করলে সেটা বড় করে দেখা হয়। যেমন নবীজী এক ব্যক্তিকে বললেন, তুমি ডান হাতে খানা খাও। তার মাঝে অহংকার চেপে বসল। সে বলে বসল, আমি ডান হাতে খেতে পারি না। নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তুমি ডান হাতে খেতেও পারবে না। পরবর্তীতে তার হাত অবশ হয়ে গিয়েছিল।
আবার কিছু ব্যক্তি আছে এমন, গুনাহ-টা হয়তো ছোট কিন্তু ওই ব্যক্তির জন্য গুনাহ-টা বড়। যেমন ইমাম সাহেব যদি ইস্তেঞ্জার পরে শুধু পানি নেন মুসল্লিদের সামনে। যদিও পানি ও ঢিলার যে কোনো একটা নিলেই হয়ে যায়। কিন্তু মুসল্লিরা বলে বসবে, হায়রে! আমরা কোন ইমামের পিছনে নামায পড়ি, ঢিলা কুলুখ কিছু নেয় না, পানিও খরচ করে না!
আমি বলবো না যে, লোকটার কোনো দোষ নেই। বরং আমি এ কথা বলব যে, ওই লোকের চেয়ে ইমাম সাহেবের দোষ বেশি। কারণ নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,
اتَّقُوا مَوَاضِعَ التَّهَمَةِ
তোমার ওপর অপবাদ আসতে পারে এমন কথা থেকে, কাজ থেকে, জায়গা থেকে বেঁচে থাক। (ইহইয়াউ উলুমিদ্দীন: খণ্ড ০৩ পৃ. ২৩)
শ
18 268
জীবনে বারাকাহ পাওয়ার ৭টি উপায়!
সময় যেন দিন দিন ছোট হয়ে আসছে। সকাল শুরু হতে না হতেই সন্ধ্যা, সপ্তাহ শেষ হতে না হতেই মাস, আর বছরগুলোও যেন চোখের পলকে পার হয়ে যাচ্ছে।
বরকত মানে শুধু বেশি সময় পাওয়া নয়। অল্প সময় ও সীমিত সামর্থ্যের মধ্যেও এমন কল্যাণ পাওয়া, যা আমাদের কাজ, জীবন ও সম্পর্ককে অর্থবহ করে তোলে।
জীবনে ও সময়ে বরকত পাওয়ার ৭টি উপায় হলো:
১. ভোরে দিন শুরু করুন
রাসূলুল্লাহ ﷺ তাঁর উম্মতের ভোরের সময়ে বরকতের জন্য দোয়া করেছেন:
“হে আল্লাহ! আমার উম্মতকে তার ভোরের সময়ে বরকত দান করুন।” (সুনানে আবু দাউদ, হাদিস: ২৬০৬; জামে আত-তিরমিযী, হাদিস: ১২১২; সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস: ২২৩৬)
তাই ফজরের পর অলসতায় সময় না কাটিয়ে পড়াশোনা, কাজ কিংবা দিনের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দিয়ে দিন শুরু করার চেষ্টা করুন।
২. গুনাহ ও অহেতুক বিবাদ থেকে দূরে থাকুন
গুনাহ মানুষের জীবনের বরকত নষ্ট করে। রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন:
“নিশ্চয়ই বান্দা তার কৃত পাপের কারণে তার জন্য নির্ধারিত রিযিক থেকে বঞ্চিত হয়।” (সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস: ৪০২২; মুসনাদে আহমাদ, হাদিস: ২২৩৮৬)
এর পাশাপাশি অহেতুক তর্ক, পরনিন্দা, ক্ষোভ আর সামাজিক জটিলতাও আমাদের সময় ও মানসিক শক্তির বড় অংশ কেড়ে নেয়।
হৃদয়কে অপ্রয়োজনীয় ঝামেলা থেকে মুক্ত রাখতে পারলে গঠনমূলক কাজের জন্য সময় ও মানসিক প্রশান্তি দুটোই বাড়ে।
৩. আত্মীয়তার সম্পর্ক ঠিক রাখুন
কাজের ব্যস্ততা কিংবা অর্থ উপার্জনের অজুহাতে আত্মীয়দের থেকে দূরে সরে যাওয়া ঠিক নয়। রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন:
“যে ব্যক্তি চায় তার রিযিক প্রশস্ত হোক এবং তার আয়ু দীর্ঘায়িত হোক, সে যেন তার আত্মীয়তার সম্পর্ক অক্ষুণ্ণ রাখে।” (সহীহ বুখারী, হাদিস: ২০৬৭; সহীহ মুসলিম, হাদিস: ২৫৫৭)
অর্থাৎ পরিবারের জন্য সময় দেওয়া শুধু সামাজিক দায়িত্ব নয়, বরং জীবনে বরকতেরও একটি মাধ্যম।
৪. নিজের সময় দিয়ে মানুষের উপকার করুন
আপনার সময়ের কিছু অংশ যদি অন্যের উপকারে ব্যয় হয়, সেটাও সময়ের শুকরিয়া। কারও প্রয়োজনের সময় পাশে দাঁড়ানো, সমাজের কল্যাণে কাজ করা কিংবা দ্বীনের কোনো কাজে সহযোগিতা করা হতে পারে সেই শুকরিয়ার অংশ।
রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন:
“আল্লাহ ততক্ষণ পর্যন্ত বান্দার সাহায্যে থাকেন, যতক্ষণ বান্দা তার ভাইয়ের সাহায্যে নিয়োজিত থাকে।” (সহীহ মুসলিম, হাদিস: ২৬৯৯)
নিজের সময় যখন অন্যের কল্যাণে ব্যয় হয়, তখন সেই সময়ও অর্থবহ হয়ে ওঠে।
৫. কুরআনের সঙ্গে নিয়মিত সম্পর্ক রাখুন
প্রতিদিন কুরআনের জন্য নির্দিষ্ট একটি সময় রাখুন। বিশেষ করে সূরা আল-বাকারাহ সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন:
“তোমরা সূরা আল-বাকারাহ পাঠ করো; কেননা তা গ্রহণ করা বরকত এবং তা বর্জন করা অনুতাপের কারণ।” (সহীহ মুসলিম, হাদিস: ৮০৪)
ব্যস্ত জীবনের মধ্যেও কুরআনের সঙ্গে নিয়মিত সম্পর্ক অন্তরকে স্থির রাখতে এবং জীবনের লক্ষ্য মনে রাখতে সাহায্য করে।
৬. দৈনন্দিন কাজের মধ্যেও যিকির করুন
যিকিরের জন্য সবসময় আলাদা জায়গায় বসে থাকতে হয় না। হাঁটতে হাঁটতে, কাজের ফাঁকে, রান্না করার সময় কিংবা অন্য কোনো হালাল কাজের মধ্যেও আল্লাহকে স্মরণ করা যায়।
রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন:
“মুফাররিদুনরা এগিয়ে গেছে।”
সাহাবিরা জিজ্ঞেস করলেন, “হে আল্লাহর রাসুল! মুফাররিদুন কারা?”
তিনি বললেন, “আল্লাহকে অধিক স্মরণকারী পুরুষ ও আল্লাহকে অধিক স্মরণকারী নারী।” (সহীহ মুসলিম, হাদিস: ২৬৭৬)
৭. অবসর ও সুস্থতার মূল্য দিন
রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন:
“দুটি নিয়ামত এমন রয়েছে, যার ব্যাপারে অধিকাংশ মানুষই প্রতারিত: সুস্থতা এবং অবসর।” (সহীহ বুখারী, হাদিস: ৬৪১২)
যে সময়টা আপনার হাতে আছে এবং যে সুস্থতাটা এখন আপনার রয়েছে, এগুলো চিরদিন থাকবে না। তাই অবসরকে উদ্দেশ্যহীনভাবে নষ্ট না করে জ্ঞান, ইবাদত, পরিবার, কাজ ও মানুষের কল্যাণে কাজে লাগান।
জীবনে বরকত মানে সবসময় বেশি পাওয়া নয়। বরং যতটুকু সময়, সামর্থ্য ও সুযোগ আল্লাহ দিয়েছেন, তার মধ্যেই এমন কিছু করে যাওয়া, যার কল্যাণ আমাদের সময়ের সীমা পেরিয়েও থেকে যায়।
আরিফুল ইসলাম
