Hidayat-হিদায়েত
Open in Telegram
6 660
Subscribers
-124 hours
+57 days
-5730 days
Posts Archive
6 657
চোখের গুনাহ করলে ৫টি ক্ষতি—
১. ফরয নামাযে তাকবিরে উলা থেকে মাহরুম হবে।
২. তাহাজ্জুদের নেয়ামত থেকে মাহরুম হবে।
৩. রুজির বরকত কমে যাবে।
৪. মুখস্ত কুরআন ও দুআ ভুলে যাবে।
৫. মৃ*ত্যুর সময় ঈমানি হালাতে মৃ*ত্যু হওয়ার সম্ভবনা কমে যাবে।
উল্টো দিকে নজরের হেফাজত করতে পারলে ঈমানের মজা পাবে আর ঈমানের মধ্যে নূর হাসিল হবে।
— মাওলানা ইউসুফ কান্ধলবী (রাহি.)
6 657
ইউসুফ (আঃ)-এর জীবনের এক অপূর্ব শিক্ষা
“ভাল ও মন্দের গুপ্ত রহস্য”
প্রশ্ন: বলুন তো, ইউসুফ (আঃ)-কে কি তাঁর পিতা ভালোবাসতেন?
উত্তর: হ্যাঁ, ভালোবাসতেন।
প্রশ্ন: এই ভালোবাসা কি ইউসুফ (আঃ)-এর জন্য কল্যাণকর ছিল? না অকল্যাণকর?
উত্তর: কল্যাণকর!
প্রশ্ন: কিন্তু এই কল্যাণ তাঁকে কোথায় নিয়ে গেল?
উত্তর: কূপে ফেলে দেওয়া হলো!
প্রশ্ন: কূপে পড়া কি কল্যাণ ছিল না অকল্যাণ?
উত্তর: অকল্যাণ!
প্রশ্ন: তাহলে এই অকল্যাণ তাঁকে কোথায় নিয়ে গেল?
উত্তর: রাজপ্রাসাদে!
প্রশ্ন: প্রাসাদে থাকা কি কল্যাণ ছিল না অকল্যাণ?
উত্তর: কল্যাণ!
প্রশ্ন: কিন্তু এই কল্যাণ তাঁকে কোথায় নিয়ে গেল?
উত্তর: কারাগারে!
প্রশ্ন: কারাগারে থাকা কি কল্যাণ ছিল না অকল্যাণ?
উত্তর: অকল্যাণ!
প্রশ্ন: এই অকল্যাণ তাঁকে কোথায় নিয়ে গেল?
উত্তর: রাজত্বে!
প্রশ্ন: রাজত্ব কি কল্যাণ ছিল না অকল্যাণ?
উত্তর: কল্যাণ!
প্রশ্ন: আর এই রাজত্ব তাঁকে কোথায় নিয়ে গেল?
উত্তর: পৃথিবীতে প্রতিষ্ঠা লাভ ও ক্ষমতার আসনে!
এভাবেই—
“আল্লাহ জানেন, আর তোমরা জানো না।” (সূরা আল-বাকারা ২:২১৬)
জীবনও এমনই!
তুমি অনেক সময় যা মন্দ মনে করো, সেটিই হয়তো তোমার জন্য এক বিশাল কল্যাণ।
তাই আল্লাহর ফয়সালায় ভয় পেও না, অবাক হয়ো না।
ধৈর্য ধরো, নিশ্চয়ই আল্লাহ ধৈর্যশীলদের সাথেই আছেন।
-ইকরা অনলাইন একাডেমী!
6 657
আর তোমরা নিজ গৃহে অবস্থান করবে এবং প্রাক-জাহেলী যুগের মত সৌন্দর্য প্রদর্শন করো না।
সূরা আল-আহযাব,৩৩
6 657
প্রথম চান্সে যদি জান্নাতে যেতে চান, জাহান্নামের কোনো স্পর্শ ছাড়া যদি জান্নাতে যেতে চান, তাহলে এই ১৬ বদঅভ্যাস থেকে, ১৬টি অপরাধ থেকে নিজেকে বাঁচাবার চেষ্টা করতে হবে।
১. যাদের মধ্যে ঈমান নাই, তারা জান্নাতে যেতে পারবে না।
২. সবচেয়ে বড় বাধা হলো, আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্ন করা। আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্নকারী সে জান্নাতে যেতে পারবে না।
৩. যারা চোগলখুরি বদঅভ্যাস আছে, এই রোগটা।
৪. প্রতিবেশীকে কষ্ট দেয়ার রোগ যাদের আছে।
৫. অহংকার।
৬. প্রতারণা করা মানুষের সাথে, মানুষকে ধোঁকা দেওয়া।
৭. দান করার পর খোঁটা দেওয়া।
৮. কৃপণতা।
৯. ঘুষ দেওয়া-নেওয়া।
১০. মা-বাবার নাফরমানি করা, মা-বাবার অবাধ্য হওয়া, মা-বাবার অসম্মান করা।
১১. মাদকাসক্ত হওয়া।
১২. হারাম উপার্জন দ্বারা, হারাম খাদ্য দ্বারা, পানীয় দ্বারা শরীর গঠন করা।
১৩. রূঢ় স্বভাবের হওয়া।
১৪. গণক হওয়া।
১৫. ব্ল্যাক ম্যাজিক করা, ব্ল্যাক ম্যাজিশিয়ান।
১৬. সিল্কের পোশাক পরা।
শায়খ আহমাদুল্লাহ (হাফি.)
সুত্র : [উনার বক্তব্য থেকে নেয়া]
6 657
দুনিয়াবী পেরেশানি থেকে মুক্তির সহজ উপায়
.
দুনিয়ার জীবন ক্ষণস্থায়ী এবং পরীক্ষা স্বরূপ। তাই জীবনে দুশ্চিন্তা, পেরেশানি বা বিপদ-আপদ আসা খুবই স্বাভাবিক। তবে ইসলামের দিকনির্দেশনা মেনে চললে এই পেরেশানি থেকে মুক্তি পাওয়া সহজ হয়ে ওঠে। নিচে কিছু সহজ উপায় তুলে ধরা হলো।
.
১. আল্লাহর ওপর পূর্ণ ভরসা রাখা
আল্লাহর উপর এই বিশ্বাস রাখা যে, জীবনে যা কিছু ঘটছে, তা আল্লাহর পূর্বনির্ধারিত এবং এর মধ্যেই কল্যাণ নিহিত আছে। আল্লাহ বলেছেন: "আর যে আল্লাহর ওপর তাওয়াক্কুল করে, আল্লাহ তার জন্য যথেষ্ট।" (সূরা তালাক: ৩) এবং সবসময় আল্লাহর প্রতি সুধারণা রাখা যে, তিনি আপনার জন্য উত্তমটাই করবেন এবং খারাপ অবস্থা থেকে অবশ্যই উত্তরণ করবেন।
.
২. ধৈর্য ধারণ করা
বিপদ-মসিবতে অস্থির না হয়ে ধৈর্য ধারণ করা। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ ধৈর্যশীলদের সুসংবাদ দিয়েছেন এবং কষ্টের পর স্বাচ্ছন্দ্য আসার আশ্বাস দিয়েছেন: "নিশ্চয় কষ্টের পর স্বাচ্ছন্দ্য আছে; অবশ্যই স্বাচ্ছন্দ্য আছে কষ্টের পর।" (সূরা ইনশিরাহ: ৫-৬)
.
৩. আল্লাহর সাহায্য চাওয়া ও দোয়া করা
পেরেশানি দূর করার জন্য আল্লাহর কাছে বেশি বেশি দোয়া করা এবং সালাতুল হাজাত (বিশেষ প্রয়োজন পূরণের নামাজ) আদায় করা। এবং বিপদে পড়লে বেশিবেশি "ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন" পড়া।
.
৪. রাসূলুল্লাহ (সা.) দুশ্চিন্তা ও দুঃখ থেকে মুক্তির জন্য যে দোয়াটি করতেন সেটা পড়া
উচ্চারণ: 'আল্লাহুম্মা ইন্নি আউযুবিকা মিনাল হাম্মি ওয়াল হুাযানি, ওয়াল আজাযি ওয়াল কাসালি, ওয়াল বুখলি ওয়াল জুবনি, ওয়া দালায়িদ দাইনি ওয়া গালাবাতির রিজালি।' অর্থ: 'হে আল্লাহ, আমি আপনার আশ্রয় নিচ্ছি দুশ্চিন্তা ও দুঃখ থেকে, অপারগতা ও অলসতা থেকে, কৃপণতা ও ভীরুতা থেকে, ঋণের ভার ও মানুষদের নিপীড়ন থেকে।' (সুনানে নাসাঈ ৫৪৪৯)
.
৫. ইস্তেগফার ও দরূদ পাঠ
নিয়মিত ইস্তেগফার পাঠ করলে আল্লাহ সব সংকট থেকে উত্তরণের পথ বের করে দেন, সব দুশ্চিন্তা মিটিয়ে দেন এবং অকল্পনীয় উৎস থেকে রিজিকের সংস্থান করে দেন। এবং রাসূল (সা.)-এর ওপর দরূদ পাঠ করলেও তা পেরেশানি দূর করার জন্য এবং পাপ মোচনের জন্য যথেষ্ট।
- ওয়াফিলাইফ হতে সংগৃহিত
6 657
এক ভাই বলে আগে ইচ্ছাকৃত নামাজ ছেড়ে দিলেও অনুশোচনা হতো না, আর এখন অনিচ্ছাকৃত মিস হয়ে গেলেও খুব আফসোস হয়, এটার নাম-ই হিদায়েত!
6 657
ভর্তি হওয়ার পর ১ সপ্তাহ অবজারভেশনে রেখেছিলেন। এর মধ্যে সব ডাক্তার বোর্ড বসল। আমাকে সহ গার্ডিয়ান ডাকল এবং বুঝিয়ে বলল যে, এমনও হতে পারে পেটে কেটে আবার সেলাই করে দিব। আমাদের কিছুই করার থাকবে না। আবার এমনও হতে পারে, হাফ টিউমার এখন কাটব, আবার পরবর্তীতে হাফ কাটব। অন্য আরেক রোগীর উদাহরণ দিলেন, যেন ওদের কাছে গিয়ে পরামর্শ নিই। ওদেরও দুইবার অপারেশন লেগেছে।
সবাই মোটামুটি ভেঙে পড়েছে ততদিনে। আমি শুধু একটা কথাই বলতাম যে, দেখবেন অপারেশন শেষে ডাক্তার বলবেন, "আপনার মেয়ের অপারেশন এত সহজ আর সুন্দর হয়েছে, আমাদের কল্পনার বাইরে।" আর বলতাম আম্মুকে যে, আমি সুস্থ হয়ে আমার দোয়া কবুলের গল্প সবাইকে বলব, ইনশা আল্লাহ।
অপারেশনের দিন আসল। আমাকে নেওয়া হলো অপারেশন থিয়েটারে। নেওয়ার পরেও প্রায় দেড় ঘণ্টা পর আমার অপারেশন শুরু হয়। এই দেড় ঘণ্টা বোধহয় আমি দেড় মিনিটও দরূদে ইবরাহিম পড়া বাদ দিইনি।
আমার বিন্দুমাত্র কোনো ভয় লাগেনি, আল্লাহর রহমতে।
অলমোস্ট ৫ ঘণ্টার অপারেশন শেষে বের হয়ে ডাক্তার সেইম এই কথাটাই বলছিলেন যে, "তোমার মেয়ের অপারেশন এত সহজ আর সুন্দর হয়েছে, আমাদের কল্পনার বাইরে ছিল এটা। পুরো টিউমার আমরা উঠিয়ে এনেছি এবং ওর সবকিছু ভালো আছে।" আলহামদুলিল্লাহ এভাবে করে অপারেশনের ৩ দিন পর আমার বায়োপসি রিপোর্ট আসে। আমি তখনও পোস্ট-অপারেটিভ রুমেই।
আমার হাসবেন্ড রিপোর্ট পেয়েই অ্যাসিস্ট্যান্ট ডাক্তারকে দেখিয়ে আমার কাছে এসে বলল, "তোমার বায়োপসি রিপোর্ট এসেছে এবং আলহামদুলিল্লাহ, এতে কোনো ক্যান্সার নেই।"
আমার তখন মনে হচ্ছিল যে, হ্যাঁ, এটাই তো হওয়ার ছিল। আমার রব্ব তো আমাকে নিরাশ করবেন না। আমি জানতাম।
তারপর রিপোর্ট নিয়ে মেইন ডাক্তার পুরো টিমসহ এসে সে কী উচ্ছ্বাস! বারবার বলছিলেন, "It's a miracle from Allah."
এরপর প্রতিবার ফলোআপে ডাক্তার একই কথা বলেন, "It's a miracle from Allah."
"আমরা অনেক রিস্ক নিয়ে তোমার অপারেশনে গিয়েছিলাম। ঠিক যেভাবে সুতার ওপর ভর দিয়ে মানুষ হাঁটে। কিন্তু আল্লাহ যে তোমাকে কই থেকে কই এনেছেন, এটা কল্পনাতীত।"
আলহামদুলিল্লাহ, আলহামদুলিল্লাহ।
(এমনকি আমার সাথে ওই সময়েই আরও কয়েকটা রোগীর এরচেয়ে ছোট টিউমারও পুরোপুরি উঠে আসেনি, আর আমার টিউমার ছিল বেশ বড়।)
আজ এই গল্পটা লিখলাম শুধু একটা কথাই বলার জন্য—
মানুষের রিপোর্ট শেষ কথা নয়, শেষ কথা একমাত্র আল্লাহর। আল্লাহ যখন "কুন" বলেন, তখন অসম্ভবও সম্ভব হয়ে যায়। আলহামদুলিল্লাহ।
আমি আমার রব্ব এর এই "কুন" এর অপেক্ষায় ছিলাম আর প্রতিবার এই আয়াত পড়তে নিলেই আমার খুশি লাগতো।
- সংগৃহীত
6 657
পুরোপুরি সুস্থ একজন মানুষ আমি। জাস্ট নরমাল একটা চেকআপে গিয়েছিলাম সেদিন ডাক্তারের কাছে।
ডাক্তার বলছিলেন, "আপনি তো আলহামদুলিল্লাহ সুস্থই আছেন। তবুও যেহেতু আপনি ধারণা করছেন আপনার থাইরয়েড হয়েছে নাকি, তাহলে সাথে আরও কিছু টেস্ট দেই, একবারে করে যান।" মনে মনে বিরক্ত হলাম যে, এই তো শুরু হয়ে গেল অযথাই টেস্টের পালা।
তো যাই হোক, পরবর্তীতে ব্লাডের কয়েকটা টেস্ট, ইসিজি প্লাস আল্ট্রাসাউন্ডও দিল। এটা দেখে তো আমি আরও হতাশ যে, আল্ট্রা কেন? আমার তো পেটে আল্লাহর রহমতে একটু গ্যাসের সমস্যাও নেই। যাই হোক, দিয়েছে যেহেতু করেই যাই।
একশো নম্বর সিরিয়ালে আমাকে ডাকলেন আল্ট্রাসাউন্ড রুমে। স্ক্রিনে তাকিয়েই আমাকে জিজ্ঞেস করলেন, পেটে ব্যথা কেমন, ডায়াবেটিস আছে কিনা, আরও বেশ কিছু প্রশ্ন।
এদিকে এসবের কিচ্ছুটিই আমার নেই। তখন আল্ট্রাসাউন্ডের ডাক্তার বললেন, "তাহলে কেন আসছেন ডাক্তারের কাছে?" পরে বললাম যে নরমাল চেকআপে।
উনাকে জিজ্ঞেস করলাম, "আমার কি সিরিয়াস কিছু হয়েছে কিনা?" উনি কোনো উত্তর দেননি। পরবর্তীতে যখন সব রিপোর্ট নিয়ে ডাক্তারকে দেখাই, তখন উনি ইমারজেন্সিভাবে হোল অ্যাবডোমেন সিটি স্ক্যান দেন। তখনও আমি একদমই ভাবিনি কী হতে যাচ্ছে আমার সাথে। পরদিন সিটি স্ক্যান করে চলে আসি। একদিন পর রিপোর্ট নিয়ে ডাক্তার দেখাতে গেলে ডাক্তার জানান যে, আমার ক্যান্সার হয়েছে। দ্রুত যেন ঢাকায় ডাক্তার দেখাই।
এই খবর শোনার পর মানসিক অবস্থা কেমন হতে পারে, সেই প্রসঙ্গে আর না গেলাম। রাতে বাসায় ফিরে ভীষণ কান্নাকাটি করে ঘুমিয়ে গিয়েছিলাম। পরদিন সকালে উঠে থেকে কিভাবে যেন শক্ত হয়ে গেছি। আর খোঁজ শুরু করলাম, কী আমল করলে আমার রব্ব আমাকে পরিপূর্ণ সুস্থ করে দিবেন।
সূরা ফাতিহা পড়া শুরু করলাম অগণিত বার। তাহাজ্জুদ, ইস্তিগফার, দরূদ—সবই বাড়িয়ে দিলাম। এর মধ্যেই ঢাকায় অ্যাপয়েন্টমেন্ট নেওয়া হলো। প্রথম সাক্ষাতে ডাক্তার বলছেন, "তোমার কিভাবে এই ক্যান্সার হতে পারে? এটা তো প্রায় অসম্ভব ব্যাপার। আর এতটা সুস্থ থাকাও সম্ভব না, যদি হয়েও থাকে।"
এবং খুব আশ্বাস দিলেন যে, অন্তত ক্যান্সার না।
এরপর উনি আরও কিছু টেস্ট দিলেন। এর মধ্যে এমআরসিপি রিপোর্টে প্যানক্রিয়াসে বেশ বড়সড় একটা টিউমারই দেখা দিল। তখনও ডাক্তার আমাকে কনফিডেন্টলি বললেন যে, এটা ক্যান্সার না। তবুও আমি এফএনএসি দিচ্ছি। এটা করিয়ে কনফার্ম হয়ে ট্রিটমেন্ট করব তোমার। অপারেশনও নাও লাগতে পারে। যথারীতি এফএনএসি করা হলো এবং রিপোর্ট আসল ৪ দিন পর। খুবই আগ্রাসী ক্যান্সারের। কেন যেন এই রিপোর্ট দেখে তেমন আর মন খারাপ হয়নি। মানে খুব সহজেই মেনে নিচ্ছিলাম। কিন্তু ভাবছিলাম, অবশ্যই আল্লাহ আমাকে সুস্থ করবেন, পরিপূর্ণভাবে।
তারপর পিজি সহ ঢাকার সনামধন্য দুই-তিন হাসপাতালে ডাক্তার দেখালাম। পিজিতে বোর্ডও বসল যে, এটা কিভাবে সম্ভব এই বয়সে? কিন্তু রিপোর্ট তো এই কথাই বলে।
শেষ অবধি আমার কেমোথেরাপি শুরু হলো। আগে টিউমার ছোট করতে হবে, এরপর অপারেশন।
এর মধ্যে আমি একদম ভেঙে পড়িনি। এসব কিছুই আমি নিজে ফেস করেছি, আলহামদুলিল্লাহ। আমার তখন একটাই চিন্তা ছিল, আমার রব্বের কাছ থেকে চেয়ে নেব।
তখন একটা মোটামুটি রুটিন বানিয়ে নিলাম। এমন—
প্রতি ৫ ওয়াক্ত নামাজের পর
৩ বার দরূদে ইবরাহিম
৭ বার সূরা ফাতিহা
৩ বার দরূদে ইবরাহিম
১ বার ইসমে আজম
আয়াতে শিফা
এরপর যত ইচ্ছা সূরা আন'আমের ১৭ নম্বর আয়াত।
এইটুকু ছিল ফিক্সড। তা ছাড়া অসংখ্য বার সূরা ফাতিহা, দরূদে ইবরাহিম, সাইয়্যেদুল ইস্তিগফার পড়েছি। আইয়ুব (আ.)-এর দোয়া পড়েছি। আরও আরও শিফার যত দোয়া যেখানে যা পেয়েছি, তাই পড়েছি।
আজান-ইকামতের মাঝখানের সময়টাতে অঝোরে কেঁদে দোয়া করেছি। তাহাজ্জুদে কান্নাকাটি করে চেয়েছি।
শুধু বলতাম, "ইয়া রব্ব, ইয়া শাফি, আপনি আমাকে সূরা ফাতিহার উসিলায় এমনভাবে পরিপূর্ণ শিফা দান করুন, যেন আমার শরীরে কোনো রোগই ছিল না।"
যত রকমভাবে আকুতি ভরে আল্লাহকে বলা যায়, সেভাবেই বলেছি। এভাবে করতে করতে অর্ধেক কেমোথেরাপি শেষ হওয়ার পর টেস্ট করতে দিল, কতটুকু ছোট হলো টিউমার। ফলাফল—ছোট তো হয়ইনি, বরং আরও একটু বড় দেখাচ্ছে।
ডাক্তার সহজ ভাষায় জানিয়ে দিলেন, "আপনার ট্রিটমেন্ট কাজ করেনি। সার্জারি ডাক্তারের সাথে কথা বলে দেখেন। অপারেশন করে ফেলেন এভাবেই।" রিপোর্ট নিজেই প্রথমে দেখেছি এবং একটুও বিচলিত হইনি, আলহামদুলিল্লাহ।
আমার আব্বু আমার সাথে ছিলেন। খুবই ভেঙে পড়েছিলেন। আমি বলছিলাম, "আব্বু, আমার ক্যান্সারই হয়নি। এই জন্য কেমোথেরাপি কাজ করেনি।"
তখন আব্বু বলছিলেন, "এত পজিটিভ ভাবো কিভাবে, আম্মু?"
কিন্তু আমি পূর্ণ তাওয়াক্কুল রেখেছিলাম রব্বের প্রতি।
এরপর গেলাম সার্জারি ডাক্তারের কাছে। উনি রিপোর্ট দেখে কিছুটা বিচলিত হলেও বুঝতে না দিয়ে বললেন, ইমারজেন্সি ভর্তি হয়ে যেতে।
6 657
একবার এক লোক বিশর ইবনে হারিস (রহ.)-কে বলল, 'আমাকে কিছু উপদেশ দিন।' তিনি বললেন, ‘তুমি প্রয়োজনে যিকির কম করো, তাও নিশ্চিত করো তোমার খাবার যেন হালাল হয়।’ (আল-ওয়ারউ, ইবনু আবিদ দুনইয়া, ১২৫)
অথচ আজকাল দপ্তরে বসে থাকা কত মানুষ হাতে তশবীহ নিয়ে ঘুষ খাচ্ছে! সুদ খাচ্ছে! দাড়ি টুপি পরা, হজ্জ করে আসা, আপাতত দৃষ্টিতে মুত্তাকী, দ্বীনদার মনে হওয়া এমন মানুষও এগুলো করে যাচ্ছে অনায়াসে! ভাবছে নফল ইবাদত তাদের এই যু*লুমের দাগ মিটিয়ে দেবে!
আসলে আমাদের অনেকেরই পেটের লাগামহীন চাহিদা হালাল রোজগারে পূরণ হয় না। তখন আমরা আরামের খোঁজে হারামের দিকে ঝুঁকি। এজন্যই বিশর ইবনু হারিস বলেছেন, প্রয়োজনে কম যিকর করো, তাও হালাল খাও। হালালের যে বরকত, তা কোনো নফল ইবাদত করে মেলে না।
শুয়াইব বিন হারব (রহ.) বলেন, “হালাল পন্থায় উপার্জিত একটি পয়সাকেও তুচ্ছজ্ঞান করো না। কারণ, এই উপার্জনের উদ্দেশ্য শুধুও টাকাকড়িই নয়, বরং আল্লাহর দাসত্ব করাই এখানে আসল উদ্দেশ্য। এই সামান্য হালাল পয়সা দিয়ে যদি কিছু সবজিও কিনে খাও, তা বর্জ্য হয়ে শরীর থেকে বের হয়ে যাওয়ার আগেই হয়ত আল্লাহ তা'আলা তোমাকে ক্ষমা করে দেবেন।” (সূত্র : সিফাতুস সাফওয়া, ২/৬২২)
6 657
নিজের সাথে সৎ হোন। কেননা, দিনশেষে আপনার কাজের থেকে কেউ যদি লাভবান হয়– সে আপনি নিজেই। আর আপনার গাফিলতি, দুনিয়ার মোহে জীবনটা বরবাদ করার থেকে যদি কারো ক্ষতি হয়– সেও আপনি নিজেই। তাই মৃ*ত্যু আসার আগেই সেই মৃ*ত্যুর জন্য প্রস্তুতি নিন। আজ, এখন, এই মুহূর্ত থেকেই।
[বই : এপিটাফ, মোহাম্মদ হাবলোস]
