en
Feedback
ইসলাম ও ইসলামি বিশ্ব

ইসলাম ও ইসলামি বিশ্ব

Open in Telegram

আমরা চাই আমাদের চ্যানেলের মাধ্যমে অন্ধকারাচ্ছন্ন আত্মাগুলো আলোতে ফিরে আসুক।ইবাদতে অনাগ্রহী আত্মাগুলোতে আগ্রহ সঞ্চার হোক।মৃতপ্রায় আত্মাগুলোতে ছড়িয়ে পড়ুক নতুন প্রাণশক্তি। ভালো কিছুর প্রত্যাশায় ইন শা আল্লাহ... আমাদের ব্লগ সাইটঃ https://aahr2005.blogspot.com

Show more
2 828
Subscribers
-124 hours
+97 days
+6630 days
Posts Archive
সাভারের ৭ বছরের বাচ্চাটার সাথে যা ঘটল, এর দায় মোছন কীভাবে সম্ভব? কোন উপায়ে সম্ভব? একটা মাদরাসাতে পড়ত বাচ্চা ছেলেটা। একদিন তার এক সিনিয়র সহপাঠী মাদরাসারই বাথরুমে তাকে বলাত কার করে৷ এই ঘটনা জানতে পেরে যায় তার আরও কিছু সিনিয়র সহপাঠীরা৷ তারাও সুযোগ পায় আর সুযোগ পেয়ে তারাও সাত বছরের বাচ্চা ছেলেটার সাথে ক্রমান্বয়ে, দিনের পর দিন বলাত কারের মতো কাজ করে যেতে থাকে। একটা সাত বছরের বাচ্চা ছেলে। জীবনটাকে শিখে উঠার আগেই তাকে সহ্য করতে হচ্ছিল এক অভিশপ্ত যন্ত্রণা। কিন্তু ছেলেটা বাঁচতে চাইল৷ সে ভাবল, মাদরাসার ওস্তাদদের যদি এই ঘটনা জানিয়ে দেওয়া যায়, তাহলে তার মুক্তি মিলবে৷ সহপাঠীরা আর তার সাথে এই অভিশপ্ত কাজ করার সাহস পাবে না। সে তাই করল৷ সাহস করে মাদরাসার কয়েকজন জুনিয়র আর সিনিয়র উস্তাদদের ব্যাপারটা বলে দিলো। তাতে কী হলো, জানেন? সাত বছরের বাচ্চা ছেলেটার এই অসহায়ত্বের সুযোগ নিয়ে, সেই সিনিয়র আর জুনিয়র উস্তাদেরাও বাচ্চাটাকে নিয়মিতভাবে বলাত কার করে যেতে লাগল। একদিন বা দুই দিন নয়৷ টানা ছয়টা মাস! ফেব্রুয়ারি থেকে জুলাই। ছেলেটা ঘরে ফিরলে মন মরা হয়ে থাকত। বাপকেও বলতে পারত না। হয়তো লজ্জায় অথবা ভয়ে। বাবা প্রথমে পাত্তা না দিলেও, পরে ডাক্তারের কাছে নিয়ে যায়৷ ডাক্তার পরীক্ষা নীরিক্ষা করতে গিয়ে উদঘাটন করে এই ঘটনা। সাত বছরের সেই বাচ্চাটাকে তার যে সহপাঠী আর উস্তাদেরা মিলে বলাত কার করেছে টানা ছয়টি মাস, তাদের বিরুদ্ধে ছেলের বাবা মামলা করেছে। হয়তো গ্রেফতার হবে, বিচার হবে, জেলে যাবে কালপ্রিটগুলো। কিন্তু, একটা ছোট্ট কুসুমকলি বাচ্চা ছেলের গোটা জিন্দেগিটা যে জাহান্নাম হয়ে গেল, এটা কী দিয়ে ক্ষতিপূরণ সম্ভব? দুনিয়ার কোন আদালত, কোন বিচারক, কোন সালিশি বৈঠক এই বাচ্চাটাকে একটা স্বাভাবিক, ছন্দময়, গতিময় জীবন ফিরিয়ে দিতে পারবে?

এঁটো বাগান! - বিকেলে ছাদে বসে প্রাকৃতিক শোভা দেখা রাজার বহুদিনের শখ। দিনশেষে একাজটা না করতে পারলে মনে হয় যেন দিনটাই মাটি হয়ে গেল। যত ব্যস্ততাই থাকুক, একবার ছাদে বসা চাই-ই চাই! মাঝেমধ্যে বেগমও সাথে থাকেন। আবার কখনো চাটুকার-মোসায়েবও থাকে। গযল-সংগীতও শোনেন কখনও। কবিতা পাঠের আসর থাকে। একাকী থাকাও হয়। যেমন আজ! কারো সঙ্গ ভাল লাগছে না। চুপচাপ রাজ্যের ভবিষ্যত নিয়ে ভেবে চলছেন।চোখ গেল অদূরে পর্দাঢাকা এক ছাদে। বাতাসে পর্দাটা সরে গেল। বিদ্যুত চমকের মতো এক অনিন্দ্য সুন্দর নারীর মুখ ভেসে উঠেই আবার আড়াল হয়ে গেল। রাজা স্তব্ধ! এ কী দেখলাম! আহা কী দেখিলাম! মানুষ? জ্বিন? পরী? জান্নাতী হুর? . হাতে তালি বাজালেন। খাস বেয়ারা ছুটে এল: -আমরান ইয়া মাওলায়া! হুকুম করতে আজ্ঞা হোক মহারাজ! -ওই যে পর্দাঢাকা ছাদ দেখা যাচ্ছে, ওটা কার বাড়ি? -ওটা তো হুজুরের খাস কলমচির! -ঠিক আছে তুমি যাও! . একটু পর আর ধৈর্য রাখতে পারলেন না। গোয়েন্দা প্রধানকে ডেকে পাঠালেন। কলমচির ঘরে কে কে থাকে খোঁজ নিলেন। জানতে পারলেন নতুন বিয়ে করেছে সে। এখনো ছেলেপিলে হয়নি। না, আর কেউ থাকে না। নববধূকে নিয়ে কলমচি একাই থাকে। এবার কলমচির ডাক পড়ল। -তোমাকে একটু পাশের রাজ্যে যেতে হবে! একটু পর এসে চিঠি নিয়ে যাবে! . কলমচি চিঠি নিয়ে রওয়ানা হলো। আঁধার নামতেই রাজা ছদ্মবেশ ধরে বের হলেন। কলমচির দরজায় টোকা দিলেন: -কে? -আমি তোমার স্বামীর মনিব! -কোন মনিব? -তার মনিব তো একজনই! -আপনি মিথ্যা বলছেন। তিনি আমার বাড়িতে আসার কথা নয়। মনিবই আমার স্বামীকে এক কাজে পাঠিয়েছেন! -দরজা খোল! আমিই তাকে পাঠিয়েছি! চিঠি দিয়ে। ওমুকের কাছে! এবার বিশ্বাস হলো? -ইন্নালিল্লাহ! বউ দরজা খুলে দিল। পর্দার ওপাশে গিয়ে রাজাকে বসার অনুরোধ জানাল। কী করবে বুঝতে পারছে না। স্বামী নেই। রাজামশায় কেন এলেন? আর কেউ নেই। আপ্যাায়ন কিভাবে করবে? রাজা বসার পর জানতে চাইলেন -এবার বিশ্বাস হয়েছে তো! আমি তোমাকে দেখতে এসেছি। তোমার খোঁজ-খবর নিতে এসেছি! তুমি আড়ালে কেন, সামনে এসো! -আমার স্বামী ছাড়া আর কারো সামনে যাওয়া যে শরীয়ত নিষেধ করেছে! -তুমি বুঝতে পারছো আমি কেন এসেছি? -জ্বি জাহাঁপনা! -তাহলে এটাওতো বোঝা উচিত, সে আর তোমার স্বামী থাকবে না! -জাহাঁপনা! আপনার পোষা কুকুরে মুখ দেয়া এঁটো খাবার খাবেন? . প্রশ্নটা শুনে রাজামশায় থমকে গেলেন। এই বালিকাবধূর মুখ থেকেই এমন তরিৎ প্রত্যুৎপন্নমতিত্বপূর্ণ কথার মারপ্যাঁচ আশা করেননি। স্বভাবতই রাজা লজ্জা পেলেন। আর কিছু না বলে চিন্তিত মুখে বেরিয়ে গেলেন। . কলমচি রাজার চিঠি পৌঁছে দেয়ার জন্যে রওয়ানা দিয়েছিল। কিছুদূর যাওয়ার পর জেব হাতড়ে দেখল চিঠিটা নেই। ভুলে রেখে এসেছি তাহলে! আবার ঘরের পথ ধরল। দরজার সামনে এসে দেখল, খোদ রাজা মশায়ের জুতো! দরজা বন্ধ! পুরো পৃথিবীটা তার সামনে দুলে উঠল। মাথা চক্কর দিয়ে উঠল। বুঝতে পারল, তাকে উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে পাঠানো হয়েছে। কিছু না বলে দরজার সামনে থেকে সরে পড়ল। রাত আরো গভীর হলে, ঘরে ফিরল। এসেই চিঠিটা নিয়ে গন্তব্যে রওয়ানা দিল। কর্তব্য সমাধা করে রাজাকে জানাল। রাজা খুশি হয়ে মোটা অংকের পুরষ্কার দিলেন। কলমচি ঘরে ফিরল। বিবিকে বলল: -এই থলেতে বেশ কিছু টাকা আছে। আর ওই ব্যাগে কিছু উপহার আছে। রাজার কাছ থেকে বেশ মোটা অংকের ইনাম পেয়েছি। তুমি মায়ের কাছে যাবে বলেছিলে না! এই সুযোগে ঘুরে এসো। আমি কিছুদিন ভীষণ ব্যস্ত থাকবো। এতদিন হাতে টাকা-পয়সা ছিল না বলে, তোমাকে পাঠাতে পারিনি তুমিও খালি হাতে কিভাবে যাবে? এবার আর যেতে বাধা নেই! সবাইকে আলাদা আলাদা উপহার কিনে দেয়ার পরও বহু টাকা তোমার কাছে থেকে যাবে! . বিবি বাপের বাড়িতে বেড়াতে চলে গেল। দিন গিয়ে সপ্তাহ হল। সপ্তাহ পেরিয়ে মাস হলো। কিন্তু স্বামীর দিক থেকে কোনও সাড়া এল না। বিবির মনে খটকা লাগল। মানুষটার জন্যে মন সারাক্ষণ উতলা হয়ে আছে, আর উনি সম্পূর্ণ বেখবর! বাবা নেই। বড়ভাই-ই অভিবাবক। তাকে খোঁজ নিতে পাঠাল। ভাই দুশ্চিন্তা করতে করতে বোনজামাইয়ের কাছে এল। কুশল বিনিময়ের পর যোগাযোগ বিচ্ছিন্নতার কারন জানতে চাইল। কলমচি নিরুত্তর! কী জবাব দেবে সে? -তুমি কি আমার বোনের প্রতি নারাজ হয়েছ কোনও কারনে? -ঠিক নারাজ বলা যায় না! তবে আমি ঠিক করেছি, তার সাথে আমি আর সংসার করবো না! -তোমার রাগের কারণটা তো অন্তত জানাবে! সংশোধনের সুযোগও দেবে না! -দুঃখিত! আমি কিছু বলতে পারব না। -আমি তাহলে কাজির কাছে যাবো! -আপনি চাইলে যেতে পারেন! আমার কিছু করার নেই! . ভাই সরাসরি কাজির কাছে চলে গেল। কাজি তখন রাজার কাছে ছিলেন। রাজামশায় প্রতিদিন কিছু সময় সরাসরি বিচারকার্য দেখাশোনা করেন। রাজার হুকুমে তার সামনেই মামলা পেশ করতে বলা হল! সম্পূর্ণ অংশ: https://aahr2005.blogspot.com/2026/09/blog-post.html

দুজন লোক রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে হত্যা করতে মদীনায় আসে! একজনের নাম ছিলো আমির ইবনে তুফাইল, আরেকজনের নাম আরবাদ ইবনে কায়স। মদীনায় আসার আগে তারা প্ল্যান করে— আমির রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাথে কথা বলে তাঁকে ব্যস্ত রাখবে। আর এই ফাঁকে আরবাদ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে হত্যা করবে (নাউজুবিল্লাহ)! তারা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে গিয়ে বললো, আসুন, আমরা একটু আড়ালে গিয়ে কথা বলি। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এমনিতে তাঁর পরিচিত কেউ হলে এই প্রস্তাব গ্রহণ করতেন। তিনি মানুষের প্রাইভেসিকে সবসময় গুরুত্ব দিতেন। কিন্তু, কোথাকার কোন আগন্তুক এসেই বললো— 'আসুন, আড়ালে যাই' আর তিনি মেনে নিবেন? তিনি তাদের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন। তারা মসজিদের একপাশেই কথা শুরু করলো। আমির ইবনে তুফাইল ছিলো চরম বেয়াদব! সে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে এমনভাবে কথা বলে, ঘটনাটি পড়তে গিয়ে আমি খুঁজছিলাম একজন সাহাবীকে। মনে মনে ভাবছিলাম, ইশ! উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু যদি আশেপাশে থাকতেন! আমির বললো— আপনাকে একটা প্রস্তাব দিচ্ছি। আপনি মদীনা শাসন করুন, শহরের দায়িত্ব আপনার। গ্রামের দায়িত্ব আমাকে দিন। আপনি শহরের রাজা, আমি গ্রামের! তার এই ধৃষ্টতা দেখে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বুঝতে পারলেন সে আসলে কী চাচ্ছে। প্রস্তাব ফিরিয়ে দিলে আমির বললো, তাহলে এক কাজ করেন, আপনি বেঁচে থাকাবস্থায় না হয় পুরোটাই শাসন করেন। মারা যাবার পর আমাকে দায়িত্ব দিয়ে যান! অর্থাৎ, ইসলাম গ্রহণের আগেই সে 'খলিফা' হবার দাবি করে! তার ঔদ্ধত্যপূর্ণ প্রস্তাব শুনে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন— "ক্ষমতার মালিক আল্লাহ। তিনি যাকে ইচ্ছে ক্ষমতা দান করেন।" এরপর সে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে হুমকি দিলো। বললো— আমার প্রস্তাব গ্রহণ না করলে আমি ঘোড়ার বাহিনী নিয়ে মদীনা আক্রমণ করবো। এটা ঠেকানো সম্ভব না! রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাকে শান্তভাবে উত্তর দিলেন। তার এই হুমকির জবাবে কোনো ব্যবস্থা না নিয়ে আল্লাহর কাছেই বিচার দিলেন— "আল্লাহ! আপনি তাদেরকে দেখে নিন!" . রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছ থেকে বের হয়ে আমির ইবনে তুফাইল বিরক্ত হয়ে আরবাদকে কী জিজ্ঞেস করলো— "কী ব্যাপার? তুমি তাকিয়ে তাকিয়ে কী দেখছিলে? আমি না বললাম আমি যখন মুহাম্মদকে (ﷺ) কথা বলে ব্যস্ত রাখবো, তুমি হত্যা করবা? কই? দাঁড়িয়ে ছিলা কেন?" আরবাদ এমন এক কথা বললো, যা শুনে আমিরের চক্ষু চড়কগাছ। সে বললো, "কোথায় মুহাম্মদ (ﷺ)? আমি তো তাঁকে দেখতে পাইনি? আমি শুধু তোমাকেই দেখলাম একা একা কথা বলছো!" অর্থাৎ, আল্লাহ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে আরবাদের দৃষ্টির অগোচরে রাখেন। সামনে থাকা সত্ত্বেও সে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে দেখতে পায়নি; যেমনটা হয়েছিলো হিজরতের সময়। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বালি নিক্ষেপ করে মক্কার কাফিরদের দৃষ্টির অগোচরে চলে গিয়েছিলেন; সূরা ইয়াসিনে যেই ঘটনা আল্লাহ উল্লেখ করেন। . আমির এবং আরবাদ হতাশ হয়ে মদীনা থেকে বের হলো। উদ্দেশ্য তো পূরণ হলো না, বরং এবার শুনলো এই ভয়ঙ্কর ঘটনা। একজন মানুষ চোখের সামনে কীভাবে গায়েব হয়ে যায়? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের বদ দুআর কথা মনে আছে? যারা মদীনায় ঢুকে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের মসজিদে ঢুকে তাকে হুমকি দিয়েছিলো। যাত্রাপথে আমির ইবনে তুফাইল অসুস্থ হয়ে পড়ে। তার একটা টিউমার দেখা দেয়। সে আশ্রয় নেয় এক মহিলার বাসায়। কোনো কোনো বর্ণনামতে সেই মহিলা ছিলো একজন প্রস্টিটিউট! যে কি-না রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে ক্ষমতা দাবি করেছিলো, খিলাফত দাবি করেছিলো, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের বদ দুআর ফলে আমির ইবনে তুফাইল টিউমারে আক্রান্ত হয়ে সেই মহিলার ঘরেই মারা যায়। আর আরাবাদ ইবনে কায়স? যে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে হত্যা করতে গিয়েছিলো? সে উটে চড়ছিলো। একটা বজ্রপাত এসে তার ওপর পড়ে। চিন্তা করুন, কেমন ছিলো তার মৃত্যু! এই ঘটনা আল্লাহ পবিত্র কুরআনের সূরা রাদের ১৩ নাম্বার আয়াতে উল্লেখ করেন। তাফসীর ইবনে কাসিরে বিস্তারিত পাবেন।

আনাস ইবনু মালিক রদ্বিইয়াল্ল-হু 'আনহু একদিন হয়তো মুহতারামকে একাকী পেয়ে গেলেন। . আর সরাসরি আবদার করে ফেললেন, "কিয়ামতের দিন আপনি আমার জন্য শাফায়াত করবেন ইয়া রাসূলাল্ল-হ্!" (সল্লাল্ল-হু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম) . রাসূলুল্লাহ্ বললেন, ঠিকাছে, করব। . -তো আপনাকে সেদিন কোথায় পাব? :প্রথমে পুলসিরাতের কাছে আসিও। -যদি না পাই? :মীযানের এখানে খুঁজিও। -সেখানেও যদি না পাই? :হাউজের (কাউসার) নিকট আসবা। . কিয়ামত নিয়ে পেরেশান আনাস হয়ত আরও জিজ্ঞেস করতেন, যদি হাউজের নিকটও......... . এর আগেই রাসূলুল্লাহ্ নিজে তাকে শান্ত করলেন। "হাউজের নিকট আসবা। এই তিন জায়গার কোথাও না কোথাও আমি থাকবই।" . কিয়ামতের দিন একদল মানুষ মহান আল্লাহর আরশের শীতল ছায়ায় বিশ্রাম নিতে থাকবে। . কতশত মানুষ রাসূলুল্লাহর মোবারক হাত থেকে কাউসারের পানি পান করে আজীবনের জন্য তৃপ্ত হয়ে নিশ্চিন্তে বসে থাকবে। . কারো হালত থাকবে ضَاحِکَةٌ مُّسۡتَبۡشِرَۃٌ হাসোজ্জল, প্রফুল্ল। যারা ডান হাতে আমলনামা পেয়ে যাবে তারাও উৎফুল্লতায় ডুবে থাকবে। . . কিন্তু একটা মানুষের দায়িত্ব তখনও শেষ হবেনা। পুলসিরাত, মীযান, হাউজের কাছে দৌঁড়াদৌড়ি করতে থাকবেন। . তিঁনি রাসূলুল্ল-হ্। সল্লাল্ল-হু আলাইহি ওয়াসাল্লাম! . কার জন্য? নিজের জন্য? না না। আমার জন্য , আপনার জন্য। . আমরা আল্লাহর কাছে তাঁর রাসূলের শাফায়াত চাই। . আল্লাহর রহমতে যদি এই নিয়ামত পেয়ে যাই, পেয়েই তো আমি আনন্দে আত্মহারা হয়ে যাব। সকল পেরেশানী থেকে মুক্ত হয়ে যাব। উড়তে শুরু করব, লাফালাফি শুরু করে দিব। . কিন্তু তখনও কি রাসূলুল্লাহর পেরেশানি কমবে? তিঁনি তখনও অন্য কারো না কারো জন্য আল্লাহর সুপারিশ করতে থাকবেন। . দুনিয়ার নিয়মে একটা সময় মানুষের দায়িত্ব শেষ হয়। রিটায়ারমেন্টে যায়, রেস্ট করে, অলস বিকেল কাটায়, ট্যুরে যায়। . কিন্তু এই মানুষটাকে আল্লাহ্ কি এক মহাদায়িত্ব দিয়েছেন। রিসালাতের দায়িত্ব। পুরো উম্মতকে বাঁচানোর দায়িত্ব। . দুনিয়ার জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত যে দায়িত্ব কাটায় কাটায় পালন করে গেছেন। কিয়ামতের দিনও করবেন। একজন মু'মিন বান্দার মুক্তি বাকী থাকা পর্যন্ত তার দায়িত্ব শেষ হবেনা। . আপনার জন্য আমার পিতা-মাতার কুরবান , ইয়া রসূলাল্ল-হ্! . اللَّهُمَّ صَلِّ وَسَلِّمْ وَبَارِكْ عَلَى نَبِيِّنَا مُحَمَّدٍ

নবীজীবনের সবচেয়ে কষ্টের দিনগুলো . নবীজি (সা.)-এর পবিত্র জীবন মানেই চরম ত্যাগ আর ধৈর্যের এক মহাকাব্য। আল্লাহর দ্বীন প্রচার করতে গিয়ে তাঁকে কী পরিমাণ যে কষ্ট সহ্য করতে হয়েছে, তা ভাবলেও চোখ ভিজে আসে। . সীরাতের কিতাব 'আর-রাহীকুল মাখতূম' খুললেই তাঁর জীবনের সবচেয়ে বেদনাদায়ক কিছু দিনের কথা চোখের সামনে ভেসে ওঠে: . ১. তায়েফের সেই রক্তঝরা দিন আয়েশা (রা.) একবার রাসূল (সা.)-কে জিজ্ঞেস করেছিলেন, উহুদ যুদ্ধের চেয়েও কি কঠিন কোনো দিন আপনার জীবনে এসেছে? নবীজি উত্তরে তায়েফের সেই মর্মান্তিক দিনের কথা বলেছিলেন। . নবুওয়াতের দশম বছরে তিনি যখন তায়েফের মানুষের কাছে দ্বীনের দাওয়াত নিয়ে গেলেন, তখন তারা শুধু তাঁকে ফিরিয়েই দিল না, বরং শহরের দুষ্ট ছেলেদের লাগিয়ে দিল পেছনের দিকে। তারা নবীজির দিকে বৃষ্টির মতো পাথর ছুড়তে শুরু করল। . পাথরের আঘাতে তাঁর পবিত্র শরীর মোবারক ভেসে গেল রক্তে! জুতো মোবারক রক্তে থিকথিকে হয়ে পায়ের সাথে আটকে গেল। দুনিয়ার ইতিহাসে এর চেয়ে কষ্টের আর কী হতে পারে! . ২. আমুল হুযন বা শোকের বছর নবুওয়াতের দশম বছরটাকে বলা হয় ‘আমুল হুযন’ বা শোকের বছর। একটানা ব্যবধানে নবীজি (সা.) তাঁর জীবনের সবচেয়ে বড় দুই অবলম্বনকে হারালেন। প্রথমে চলে গেলেন চাচা আবু তালিব, যিনি মক্কার কুরাইশদের হাত থেকে তাঁকে আগলে রাখতেন। . এর ঠিক আড়াই মাস পর পৃথিবী ছেড়ে চলে গেলেন পরম ভালোবাসার জীবনসঙ্গী খাদিজা (রা.), যিনি ঘরের ভেতর সব সময় তাঁকে সান্ত্বনা আর সাহস জুগাতেন। এই জোড়া ধাক্কায় নবীজির বুকটা খালি হয়ে গিয়েছিল। . ৩. শী'বে আবু তালিবে অবরুদ্ধ জীবন কুরাইশদের অমানবিক উৎপীড়নে নবীজির পরিবারকে দীর্ঘ তিন বছর মক্কার এক গিরিপথে অবরুদ্ধ থাকতে হয়েছিল। কোনো খাবার বা বাইরের মানুষের সাথে যোগাযোগ ছিল না। ক্ষুধা মেটাতে তাঁদের গাছের পাতা আর চামড়া চিবিয়ে দিন কাটাতে হয়েছে। কী ভয়ানক সেই দিনগুলো! . এত কষ্টের পরেও নবীজি কখনো আল্লাহর ওপর থেকে ভরসা হারাননি। সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম।

ভ|রতের ঘটনা মুসলিম মেয়েটা নিজ ইচ্ছায় হি/ন্দু ছেলেটাকে (রাখি) বেঁধে দেয়। বর্তমানে মুসলিম মেয়েদের অবস্থায়

খুব সম্ভবত আপনি এই দেশে আবার একটা দুর্ভিক্ষ দেখাবেন ৭৪ এর মত। জনগণের ভোটে ক্ষমতায় আসছেন, আর সার্ভ করতেছেন আমলাদের। দেশের সিন্ডিকেট ভাঙতে পারেন নাই। দ্রব্যমূল্যের দাম কমাইতে পারেন নাই। জ্বালানি খাত ঠিক করতে পারেন নাই। আরও ক্ষমতায় এসে ৬ মাসে সবকিছুর দাম বাড়াইছেন একাধিকবার। ব্রয়লার মুরগির দাম ১৯৫ টাকা, পোলাওয়ের চাল মাত্র ছয় মাসে প্রায় ১০০ টাকা বেড়েছে। সাত-আট মাস ধরে কাঁচা সবজির দাম সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে। বিদ্যুৎ নাই, গ্যাস নাই, তেল নাই। বিদেশী ঋণের বোঝা, ডলার সংকট এগুলো নিয়ে দেশ চালাচ্ছেন। আর বসে বসে জনগণের পেটে লাথি মারতেছেন। এর মধ্যেই অনুমোদন দিলেন নবম পে-স্কেলের। সর্বোচ্চ বেতন ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা। সর্বনিম্ন বেতন ২০ হাজার টাকা। সরকারি আমলাদের বেতন বাড়িয়েছেন ১০০% এর বেশি। এই পে-স্কেলের খবর শুনেই সিন্ডিকেট আবার বাজারে দ্রব্য মূল্যের দাম বাড়াবে। রাজস্ব খাত থেকে সরকারি আমলাদের বেতন দিবেন নাকি আপনার ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড এসবের টাকা দিবেন? আর রাজস্ব খাতে এতো টাকা আসবে কোত্থেকে? দিনমজুর, শ্রমিক, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী আর বেসরকারি চাকরিজীবী আর সাধারণ মানুষের পকেট থেকে। অথচ তাদের ইনকাম বাড়েনি এক টাকাও। মানে একজন অষ্টম শ্রেণী পাশ করে ২০ গ্রেডের চাকরিতে জয়েন করবে ২০ হাজার টাকার বেতনে। আর একজন গ্রেজুয়েশন শেষ করে প্রাইভেটে জয়েন করবে ১৫ হাজার টাকা বেতনে। ফাইজলামি পাইছেন? দেশের অর্থনীতি ঠিক নাই। এর মাঝেই অর্থনীতিতে হঠাৎ করে বিপুল পরিমাণ বেতন বৃদ্ধি কখনোই বিনামূল্যে আসে না। এর মূল্য শেষ পর্যন্ত জনগণকেই পরিশোধ করতে হবে। দেশে সরকারি চাকরিজীবী কয়েক লাখ। কিন্তু সাধারণ মানুষ কোটি কোটি। বেতন বাড়াইছেন একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর। কিন্তু মূল্যস্ফীতির বোঝা পুরো জাতির মাথায় দিচ্ছেন। এটাই সবচেয়ে বড় বৈষম্য। সরকারি খাতের আয় ১০০ থেকে ১৪২ শতাংশ পর্যন্ত বাড়াইছেন, অথচ বেসরকারি খাতের মানুষের আয় একই জায়গায় দাঁড়িয়ে আছে। এভাবে বৈষম্য বাড়তে থাকলে সামাজিক অস্থিরতা অনিবার্য। দেশ এমনিতেই ঋণের ভারে পিঠ কুঁজো হয়ে গেছে। নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নে আরও ঋণ নিতে হবে। দেশি ঋণ, বিদেশি ঋণ। আর সেই ঋণের সুদ শোধ করবে কে? আবারও সাধারণ মানুষ। ভ্যাট দিয়ে, ট্যাক্স দিয়ে। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাড়তি দাম দিয়ে। সরকারের রাজস্ব আয়ের বড় অংশ যদি শুধু বেতন-ভাতাতেই চলে যায়। © Aminul Islam

ওহে, যার যৌবন ফুরিয়ে গিয়েছে! ওহে, যার আমলনামা স্খলনে ভরে গিয়েছে! তুমি কি জানো না— চামড়াগুলোকে সাক্ষ্য দিতে বলা হলে সেগুলো কথা বলে উঠবে? তুমি কি জানো না— জা*হান্নামটা পাপীদের জন্যই সৃষ্টি করা হয়েছে? — ইমাম ইবনুল জাওযী (রহিমাহুল্লাহ) [সূত্র : আত-তাবসিরাহ, ১/৮৩]

আপনি তাদেরকে প্রশ্ন করলে অবশ্যই তারা বলবে, আমরা তো আলাপ-আলোচনা ও খেল-তামাশা করছিলাম। বলুন, তোমরা কি আল্লাহ, তাঁর আয়াতসমূহ ও তাঁর রাসূলকে বিদ্রুপ করছিলে? তোমরা ওজর (অজুহাত) পেশ করোনা, তোমরা তো ঈমান আনার পর কু*ফরী করেছো। আমি তোমাদের মধ্যে কোনো দলকে ক্ষমা করলেও অন্য দলকে শাস্তি দেব— কারণ তারা অপরাধী। — সূরা আত-তাওবা, আয়াত : ৬৫-৬৬

ভা*র*তের পতি*তালয়ে পাচার হওয়ার আগে এদের ঘুম ভাঙবেনা!
+1
ভা*র*তের পতি*তালয়ে পাচার হওয়ার আগে এদের ঘুম ভাঙবেনা!

বন্ধুদের কথা যেমন মোটিভেট করে, তেমনি ডিমোটিভেটও করে। চিন্তা করুন, একজন মানুষ বন্ধুদের কাছে অপমানিত হবার শুনার পর কীভাবে ইতিহাস বদলে দেন!

একদিন খেলতে গিয়ে বন্ধুদের সাথে ঝগড়া হলে বন্ধুরা তাকে বললো- “তুমি যাকে বাবা ডাকো, তিনি তোমার আসল বাবা নন!” বন্ধুদের মুখে কথাটি শুনে যায়িদ যেন আকাশ থেকে পড়লেন! তিনি ছুটে গেলেন তার মায়ের কাছে। জিজ্ঞেস করলেন, “মা, রাবিয়াহ ইবনে হারাম কি আমার বাবা নন?” ফাতিমা বিনতে সা’দ বুঝতে পারলেন, যে কথা তিনি এতোদিন ধরে লুকিয়ে রেখেছিলেন এখন সময় এসেছে আসল কথা বলার। তিনি যায়িদকে কাছে টেনে নিয়ে বললেন- “শুনো বাবা…।” মাত্র কৈশোরে পা দেয়া যায়িদ শুনতে লাগলেন তার জন্মের ইতিহাস। তার বাবার নাম কিলাব ইবনে মুররাহ। এই ঘরে জন্ম নেন যুহরা ইবনে কিলাব এবং যায়িদ ইবনে কিলাব। কিলাবের মৃত্যুর পর তার মায়ের বিয়ে হয় রাবিয়াহ ইবনে হারামের সাথে। স্ত্রীকে নিয়ে রাবিয়াহ মক্কা ছেড়ে চলে যান সিরিয়ায়। সেখানে বেড়ে ওঠেন যায়িদ। এতোদিন তিনি জেনে আসছিলেন রাবিয়াহ তার বাবা। কিন্তু, মায়ের মুখে তার আসল বাবার পরিচয় লাভের পর জানতে পারেন- তিনি এমন এক বংশে জন্মগ্রহণ করেছেন যেই বংশ কাবা নির্মাণ করেছে। অর্থাৎ, তিনি ইব্রাহিম আ. এবং ইসমাইল আ. এর বংশধর। সৎ বাবাকে এতোদিন বাবা ডাকার ফলে প্রথমে যে হীনমন্যতা তৈরি হয়েছিলো, এবার পরিচয় পাবার পর যায়িদ গর্ববোধ করতে লাগলেন। কিশোর যায়িদ সিরিয়া ছেড়ে চলে আসেন মক্কায়। এখানকার কেউ তাকে চিনে না। কারণ মক্কা শাসন করছে বনু খুজাআ নামক গোত্র, যারা জুরহুম গোত্রকে বিতাড়িত করে মক্কার শাসক হয়। . মক্কার শাসক তখন হুলাইল ইবনে হুবশিয়া। যায়িদ মক্কায় আসলে হুলাইলের অধীনে কাজ করেন। তার দক্ষতা, আমানতদারিতা দেখে মক্কার লোকজন তাকে পছন্দ করা শুরু করে। এমনকি মক্কার শাসক নিজেও যায়িদকে পছন্দ করতেন। তার একমাত্র মেয়ে হুব্বাকে বিয়ে দিতে পাত্র খুঁজতে লাগলেন। কিন্তু, হুলাইলের মনে হলো মক্কার ভেতরের কেউ যোগ্য না। এজন্য তিনি সেই ‘কিশোর আগন্তুক’ যায়িদের সাথেই মেয়েকে বিয়ে দিলেন। চিন্তা করুন, একটা শহরের গভর্নর, মেয়র তার মেয়েকে বিয়ে দিচ্ছেন তার একজন এমপ্লয়ির সাথে। আর এই বিয়ে ইতিহাসের মোড় বদলে দেয়! . হুলাইল মেয়েকে বেশিই ভালোবাসতেন। তার কাছে ছেলেরা ছিলো অযোগ্য। এজন্য মৃত্যুর আগে তিনি কাবার চাবি দিয়ে যান মেয়ে হুব্বাকে। হুব্বা কাবার চাবি পেলেও বাবার মৃত্যুর পর তিনি এক সমস্যায় পড়েন। তিনি মেয়ে মানুষ, কাবা ঘর খুলতে তো পারবেন না। এজন্য চাবিটা দিয়ে দেন তার চাচাতো ভাই আবু গুবশানকে। আবু গুবশানের একটা বদ অভ্যাস ছিলো। আর এই এক বদ অভ্যাসই কাবার ইতিহাস বদলে দেয়। একদিন আবু গুবশাণের প্রচন্ড নেশা ধরে। সে কোথাও মদ খুঁজে পাচ্ছিলো না। তখন একজন তাকে বললো, আমি তোমাকে মদ দিতে পারি। আবু গুবশান মদের জন্য সবকিছু দিতে রাজি। তাকে বলা হলো, তুমি কাবা ঘরের চাবি আমাকে দিয়ে দাও, আমি এই মদের পুরো পেয়ালা তোমাকে দিয়ে দেবো। মদের নেশায় আসক্ত আবু গুবশান রাজি হয়ে যায়! সেই বুদ্ধিমান লোক কে ছিলো যে কাবা ঘরের চাবির মালিক হন? তিনি ছিলেন সেই যায়িদ, যিনি সুদূর সিরিয়া থেকে মক্কায় আসেন তার পিতৃপুরুষদের বানানো কাবা ঘর পুনরুদ্ধার করতে। যায়িদ মক্কায় আসার পর থেকেই কাবা পুনরুদ্ধারের জন্য কাজ শুরু করেন। তার একার পক্ষে তো সম্ভব না, এজন্য তিনি তার চাচা, চাচাতো ভাই সবাইকে মক্কায় আসতে বলেন। তার ভাই যুহরা, চাচা তাইম ইবনে মুররাহ, চাচাতো ভাই মাখজুম, যুমাহ, সাহম সবাইকে একত্রিত করেন। রাতের বেলা যায়িদ কাবার চাবি পান। সকাল হলেই আবু গাবশানের সম্বিৎ ফিরে। সবাই তাকে বললো, তুমি এ কী করলে? যাও চাবি নিয়ে আসো…। কিন্তু, যায়িদ সেই চাবি ফিরিয়ে দিতে রাজি হলেন না। এই নিয়ে দেখা দিলো বনু খুজাআর সাথে দ্বন্দ্ব। যায়িদও প্রস্তুত। তিনি তো আগে থেকেই তার বংশের লোকজনকে মক্কায় নিয়ে এসেছেন। তার বংশের লোকজনই হলো কুরাইশ। কুরাইশ এবং কিনানা গোত্র মিলে বনু খুজাআর সাথে যুদ্ধ হয়। অর্থাৎ যায়িদের নিজের বংশের সাথে শ্বশুরবাড়ির বংশের যুদ্ধ। দীর্ঘ ৩০০ বছর তারা মক্কা শাসন করলেও এই ‘কিশোর আগন্তুক’ –এর মাস্টারপ্ল্যানের কাছে পরাজিত হয় বনু খুজাআ। বন্ধুদের সাথে খেলতে গিয়ে যিনি শুনেছিলেন ‘তুমি যাকে বাবা ডাকো, তিনি তোমার আসল বাবা নন’, সেই ছেলেটি কয়েক বছরের মধ্যে হয় মক্কার শাসক। . যায়িদ ছিলো তার ডাকনাম। মক্কার লোকজনের কাছে তিনি ছিলেন আগন্তুক, কিশোর। এজন্য তারা তাকে ডাকে ‘কুসাই’ নামে। অর্থাৎ সেই যায়িদই হলেন কুসাই ইবনে কিলাব; রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের পঞ্চম পূর্বপুরুষ। কুসাইয়ের ছেলে আব্দে মানাফ, আব্দে মানাফের ছেলে হাশিম, হাশিমের ছেলে আব্দুল মুত্তালিব, আব্দুল মুত্তালিবের ছেলে আব্দুল্লাহ, আব্দুল্লাহর ছেলে মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। . কুসাই ইবনে কিলাবের ভাইয়ের নাম ছিলো যুহরা। এই বংশে জন্মগ্রহণ করেন আমিনা। আর কুসাইয়ের বংশে আব্দুল্লাহ। তারমানে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের মা-বাবার বংশ গিয়ে মিলিত হয় কিলাব ইবনে মুররাহর সাথে। আর কুসাইয়ের চাচা তাইম ইবনে মুররাহ, এই বংশে জন্মগ্রহণ করেন আবু বকর রাদিয়াল্লাহু আনহু।

(পর্বঃ ০২) ধাক্কা, একটি ঝাঁকুনি কিংবা ধেয়ে আসা সময়ের কাছে কান্না... আমাদের চারপাশে অনেক বাবা মায়েদের খোঁজ পাবেন যারা তাদের সন্তানের কোন ভয়ংকর অসুখ, মৃত্যুর পর আল্লাহর দ্বীনের পথে চলা শুরু করে। সন্তান যেমন মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে আশীর্বাদস্বরূপ ঠিক তেমনি সন্তানবিয়োগও কিছু মানুষের জন্য রহমত হয়ে আসে। সন্তান হারানোর বিনিময়ে মহান আল্লাহর সিরাত্বাল মুস্তাকিমের সন্ধান পাওয়া অনেক সৌভাগ্যের নয় কি? আমি অনেক দ্বীনি পিতামাতাকে চিনি যাদের সন্তান হেদায়াতপ্রাপ্ত হয়নি। বাবা মসজিদের ইমাম, মাদরাসার শিক্ষক কিন্তু ছেলে মেয়ে বাবার দ্বীনি শিক্ষার কিছুই পায়নি! এমনও দেখেছি বাবা মসজিদে নামাজ পড়াচ্ছে আর ছেলে পাশের মাঠে ক্রিকেট খেলছে। এই অন্তরগুলো বক্রতা অবলম্বন করেছে। এদের কিসের অভাব? এদের কাছে কি সত্যের বাণী, হেদায়াতের বাণী পৌঁছাইনি? পৌঁছেছে! এদের অন্তর corrupted হয়ে গেছে। ধাক্কা দরকার। জোরেশোরে একটা ঝাঁকুনি দরকার। আল্লাহ রহম করে এদের অন্তরে ধাক্কাটা দিলে এরা বেঁচে যাবে। আর নয়ত হাহাকার ছাড়া কিছুই নেই। আমার এক চাচাত ভাইয়ের ক্যান্সার ধরা পড়েছে। উনাকে দেখতে গিয়েছিলাম। দেখলাম উনি নামাজ পড়ছেন। জুমার দিন ছাড়া উনি কোনদিন পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়তেন বলে জানিনা কিন্তু এখন……!! মসজিদে নামাজ পড়তে গেলে খেয়াল করে দেখবেন প্রথম কাতারে কিছু নিয়মিত মুখ দেখা যায়। এরা নামাজ বাদ দেয়না, সারাদিন এবাদত-বন্দেগীতে থাকে। ব্যতিক্রম অবশ্যই আছে কিন্তু খোঁজ নিলে দেখবেন, এদের বেশিরভাগই একসময় নামাজ পড়তেন না। যৌবনের টগবগে সময় এরা আর দশজনের মত করেই কাটিয়েছেন। মৃত্যুর দ্বারপ্রান্তে এসে এদের অন্তর কেঁপেছে! মৃত্যুভয় এক বিশাল ঝাঁকুনি দিয়ে গেছে এদের অন্তরে। এই দৃশ্যগুলো খুবই সাধারণ। স্ট্রোক করল, ডাক্তার বলল আরেকটা স্ট্রোক করলে ঘটনা ঘটে যেতে পারে! তার পরদিন থেকে স্ট্রোককারী নামাজ পড়া শুরু করে দিল। আল্লাহ বাঁচাও, আল্লাহ মাফ কর। খুবই সাধারণ একটা দৃশ্য এটা মানুষের! আল্লাহ সে কথাই বলেছেন সুরা ইউনুসে। "আর যখন মানুষ কষ্টের সম্মুখীন হয়, শুয়ে বসে, দাঁড়িয়ে আমাকে ডাকতে থাকে। তারপর আমি যখন তা থেকে মুক্ত করে দেই, সে কষ্ট যখন চলে যায় তখন মনে হয় কখনো কোন কষ্টেরই সম্মুখীন হয়ে যেন আমাকে ডাকেইনি। এমনিভাবে মনঃপুত হয়েছে নির্ভয় লোকদের যা তারা করেছে।" [১০ঃ১২] অতঃপর একটি ধাক্কা! আল্লাহর হেদায়াতের এই ধাক্কা অনেক বড় জিনিস। অন্তরের ঝাঁকুনি অনেক বড় এক হেদায়াত। এধরনের পরিসংখ্যানের কথা খুব বেশি শুনা যাচ্ছে যে, পাশ্চাত্যের মানুষ ইসলামের প্রতি ঝুঁকছে। আলহামদুলিল্লাহ। এটা অনুমেয়ই ছিল। দুনিয়াকেন্দ্রিক, ভোগবাদী জীবনের স্বপ্ন লালন করা মানুষগুলো তাদেরই তৈরি করা দুনিয়ার স্বর্গে থেকে ক্লান্ত, অবসন্ন, শূণ্য হয়ে পড়ছে। একটা পর্যায়ে গিয়ে তারা জীবনের কোন অর্থ খুঁজে পায়না। মোজ, মাস্তি, সেক্স, অ্যালকোহল, মূল্যবোধহীন, নৈতিকতাহীনতা, ব্যভিচার-অজাচার যেখানে নিত্য ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে, সে জীবনে বেশিদিন টিকে থাকা যায়না। এখানে সাময়িক একটা ভালো লাগা আছে কিন্তু এই ভালো লাগা আত্মাকে দেউলিয়া বানিয়ে দেয়। আর তাই জীবন শেষে এরা জীবনের কোন what and why এর উত্তর খুঁজে পায়না। জীবনের কোন অর্থ খুঁজে পায়না। আর তখনি মনে আসে ধাক্কা, অন্তরে ঝাঁকুনি আসে। অনেকেরই চোখের রঙিন পর্দা খসে পড়ে। সত্য উন্মোচিত হয়ে পড়ে। বর্তমান মুসলিমদের দাঈদের দেখলেই ধাক্কার ব্যাপারটা বুঝতে পারবেন। ডঃ আবু আমিনাহ বিলাল ফিলিপ্স, আব্দুর রহমান গ্রিন—সবার সত্য গ্রহণ এবং এই সত্য ইসলামেরই বাণী প্রচারের পেছনে ছিল সেই ধাক্কা, ঝাঁকুনি! আমার জীবনে অনেকগুলো ধাক্কা ছিল। ঝাঁকুনি ছিল। ফেসবুকের আর দশজন হাই হ্যালো টাইপ ফেসবুকারের বদলে সবাই আমাকে এখন ইসলামপন্থী হিসেবে জানে। আমার লেখা পড়ে অনেকেই নাকি ইসলামের পথে এসেছে, কেউ শপথ করেছে সে হিজাব করবে, কেউ নাকি তাওবা করে ভাল হয়ে গেছে, কেউ নাকি গার্লফ্রেন্ড ছেড়েছে। আলহামদুলিল্লাহ। এই জীবনের পেছনে আল্লাহর রহমত ছিল। এই দূষিত চিন্তা purify করার পেছনে অনেকগুলো ধাক্কা ছিল, ঝাঁকুনি ছিল। একটা সময় কয়দিন পর পর আবু গারিব কারাগার থেকে লেখা ফাতেমার চিঠি পড়তাম। ফেসবুকের ইনবক্সে এই চিঠিটা রাখতাম যাতে কোথাও সুযোগ পেলেই পরিচিতদের পড়তে দিতে পারি। আমার সবসময়ই মনে হয় ফাতেমা, আফিয়া সিদ্দিকিদের জন্য মুসলিম উম্মাহ কিছুই করতে পারেনি কিন্তু তাদের লেখা চিঠি আমার মত হাজারো মুসলিম যুবককে তাদের জীবন নিয়ে, দ্বীন নিয়ে নতুন করে ভাবিয়েছে। অন্তরে ঝাঁকুনি দিয়ে গেছে। চলবে ইনশাআল্লাহ

হারামকে হারাম মনে না করা এবং কেউ হারামের বিপক্ষে কথা বললে তার বিরুদ্ধে ক্ষেপে যাওয়া– এটি আজকের সমাজের এক ভয়ংকর বাস্তবতা। ধীরে ধীরে মানুষের অন্তর থেকে “হালাল-হারাম” এর পার্থক্য মুছে যাচ্ছে, আর তার জায়গায় তৈরি হচ্ছে নিজের ইচ্ছা ও অভ্যাসকে বৈধতা দেওয়ার মানসিকতা। দুঃখজনকভাবে আজ অনেক নামধারী মুসলমান এমন অবস্থায় পৌঁছে গেছে– তারা হারাম কাজ করছে, অথচ সেটাকে স্বাভাবিক মনে করছে। আর যখন কেউ কুরআন-হাদিসের আলোকে তাদের ভুল ধরিয়ে দেয় বা সতর্ক করে, তখন তার প্রতি বিরক্তি, বিদ্বেষ এবং আক্রমণাত্মক আচরণ প্রদর্শন করে। যেন সত্য বলা ব্যক্তিটিই অপরাধী, আর গুনাহে আপত্তি করাটাই অন্যায়! এটাই অন্তরের পরিবর্তনের সবচেয়ে ভয়ংকর দিক– যখন গুনাহ স্বাভাবিক হয়ে যায় এবং হক কথা অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। তখন মানুষ আর নিজেকে যাচাই করে না; বরং নিজের ভুলকেই যুক্তি দিয়ে বৈধ করার চেষ্টা করে। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তা'আলা বলেন, “যখন তাদেরকে বলা হয়, তোমরা অনুসরণ কর, যা আল্লাহ নাযিল করেছেন, তখন তারা বলে– না, আমরা আমাদের পূর্বপুরুষদের পথেই চলব।” (সূরা আল-বাকারাহ : ১৭০) একজন মুসলমানের বৈশিষ্ট্য হলো– সে সত্যকে গ্রহণ করে, এমনকি তা নিজের বিরুদ্ধে গেলেও। কিন্তু যখন সত্যের প্রতি ঘৃণা জন্ম নেয়, তখন বুঝতে হবে– অন্তর ধীরে ধীরে কঠিন হয়ে যাচ্ছে। তাই সময় থাকতে নিজের অবস্থাকে যাচাই করা জরুরি– আমি কি সত্যকে ভালোবাসি, নাকি শুধু নিজের ইচ্ছাকেই? কারণ এখানেই লুকিয়ে আছে ঈমানের প্রকৃত পরীক্ষা! © মাহমুদুল হাছান

বোন, তুমি যদি অন্য ধর্মের মানুষের হাতে ভালোবাসার প্রতীক হিসেবে লাল সুতা বাঁধছো, কিন্তু একজন মুসলিম হিসেবে নিজের ধর্মীয় পরিচয
বোন, তুমি যদি অন্য ধর্মের মানুষের হাতে ভালোবাসার প্রতীক হিসেবে লাল সুতা বাঁধছো, কিন্তু একজন মুসলিম হিসেবে নিজের ধর্মীয় পরিচয় ও পর্দার ব্যাপারে তুমি যে অবস্থান নিচ্ছো, সেটি অবশ্যই ভেবে দেখা দরকার। পর্দা শুধু পোশাকের বিষয় নয়, এটি একজন মুসলিম নারীর ধর্মীয় বিশ্বাস ও মূল্যবোধের অংশ। আমাদের মুসলিম বোনদের কি হয়ে গেলো?

নবীজি ﷺ -এর সেই বিখ্যাত চিঠি। দেহইয়া কালবী রা. বহন করে নিয়ে গিয়েছিলেন। রোমসম্রাট হিরাক্লিয়াসের কাছে। সম্রাটের ‍পুরো নাম ছিল (Flavius Heraclius Augustus) ফ্লেবিয়াস হিরাক্লিয়াস অগাস্টাস। জীবনকাল ৫৭৫-৬৪১। শাসনকাল ৬১০-৬৪১। বায়যান্টাইন সাম্রাজ্যের শাসনকাল ছিল ৩৩০ থেকে ১৪৫৩ সালে মুহাম্মাদ আলফাতিহের হাতে পতন পর্যন্ত। . চিঠিতে নবীজি ﷺ লিখিয়েছেন, বিসমিল্লাহির রহমানির রহীম আল্লাহর বান্দা ও রাসূল মুহাম্মাদের পক্ষ থেকে রোমসম্রাট হিরাক্লিয়াসের প্রতি। হিদায়াত অনুসরণকারীর প্রতি সালাম! পর সমাচার, আমি আপনাকে ইসলামের দাওয়াত দিচ্ছি। ইসলাম গ্রহণ করুন, নিরাপদ থাকবেন (أسلم تسلم)। শান্তি পাবেন। . . সেই বিখ্যাত কথা, ইসলাম গ্রহণ করুন! শান্তিতে থাকবেন। (أسلم تسلم) নিরাপদ থাকবেন। মরু আরবের কুঁড়েঘরে বসে, তৎকালীন সবচেয়ে শক্তিশালী শাসকের কাছে চিঠি পাঠিয়েছেন। কোনও কিছুর পরোয়া করেননি। আর আমরা? খ্রিস্টান মিশনারীদের প্রভাবে, সেবা-চিকিৎসা দিয়ে মনজুগিয়ে দ্বীনের দাওয়াতের চিন্তা করি। এই পদ্ধতি মন্দ বা অকার্যকর, সেটা বলছি না। কিন্তু এটা দ্বীনি দাওয়াতের মৌলিক পদ্ধতি নয়। এটা একটা অনুষঙ্গ হতে পারে বড়জোর। আবার এমনটা ভাবাও ঠিক নয়, তরবারির জোরে কাউকে মুসলিম বানানো হবে। . "بسم الله الرحمن الرحيم من محمد عبد الله ورسوله إلى هرقل عظيم الروم: سلام على من اتبع الهدى، أما بعد فإني أدعوك بدعوة الإسلام، أسلم تسلم..." . অনেক দিনের কৌতুহল, চিঠিটা কার হাতে লেখা? নবীজির কাতেব তো অনেকেই ছিলেন! . ব্যক্তিগত বেদনা ও আনন্দের বিষয় হল, সরাসরি চিঠির চিত্র থেকে এর আগে নবীজির কোনও চিঠি পড়িনি। ছাপানো কিতাব থেকে চিঠির ভাষ্যগুলো পড়া হয়েছিল। এই প্রথম চিঠির চিত্র থেকে পাঠোদ্ধার করে নবীজির ﷺ কথাগুলো পড়লাম। তবে শতভাগ উদ্ধার করতে পারিনি। আলহামদুলিল্লাহ। ✍️ উস্তায আতিক উল্লাহ হাফিযাহুল্লাহ

ইলমুল কিয়াফাহ! হাতের আঙুল: ১. কনিষ্ঠা-Baby Finger/ Pinky (خِنْصَر)। ২. অনামিকা (Ring Finger (بِنْصَر)। ৩. মধ্যমা (Middle Finger (وُسطَى)। ৪. তর্জনী (Index Finger (سَبَّابَة-شَهادَة)। ৫. বৃদ্ধাঙ্গুলি (Thumb Finger (إِبْهام)। . আরবরা প্রাচীন যুগ থেকেই একটি শাস্ত্র চর্চা করতো। সেটার নাম (علم القيافة)। এই শাস্ত্রে মানুষের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ দেখে বংশ নির্ণয় করা হতো। মানুষ, ঘোড়া ও উটের পদচিহ্ন থেকে গন্তব্য, সংখ্যা নির্ণয় করা হতো। আরো নানা বিষয় এই শাস্ত্রের আলোচ্যবিষয় ছিলো। এই শাস্ত্রের পরিবর্তিত রূপ হলো ইলমুল ফিরাসাত। (Physiognomy:ফিজিওনামি)। . তবে এই শাস্ত্র ব্যবহার করে বংশ নির্ণয় করতে শরীয়ত নিষেধ করে। অর্থাৎ এই শাস্ত্রের সিদ্ধান্তকে অকাট্য মনে করে শরীয়তের বিধান জারি করতে নিষেধ করে। বুখারিতে মজার একটি বর্ণনা আছে। আম্মাজান আয়েশা রা. বর্ণনা করেছেন, أنَّ رَسولَ اللَّهِ ﷺ دَخَلَ عَلَيْها مَسْرُورًا، تَبْرُقُ أسارِيرُ وجْهِهِ، فَقالَ: ألَمْ تَسْمَعِي ما قالَ المُدْلِجِيُّ لِزَيْدٍ، وأُسامَةَ، ورَأى أقْدامَهُما: إنَّ بَعْضَ هذِه الأقْدامِ مِن بَعْضٍ একদিন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার কাছে এলেন এত প্রফুল্ল অবস্থায় যে, তার চেহারার চিহ্নগুলি চমকাচ্ছিল। তিনি বললেনঃ তুমি কি দেখনি যে, মুজাযযিয (চিহ্ন ধরে বংশ উদঘাটনকারী) যায়িদ বিন হারিসা এবং উসামা বিন যায়িদ এর দিকে সন্ধানী দৃষ্টিতে তাকিয়েছে। এরপর সে বলেছে, এদের দু’জনের কদম একে অপর থেকে (বুখারি: ৩৫৫৫)। . ঘটনা হলো, যায়েদ বিন হারেসার গাত্রবর্ণ ছিলো একেবারে তুলোর মতো শুভ্রশাদা। তার ছেলে ‘উসামা’র গাত্রবর্ণ ছিলো নিকষ কালো। দুষ্টলোক মুনাফিকরা উসামার বংশ পরিচয় নিয়ে কানাঘুষা করত। এমন শাদা বাবার ঔরস থেকে এমন কালো ছেলের জন্ম হতেই পারে না। মুনাফিকদের এহেন কুৎসা নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে ভীষণ পীড়া দিত। যায়েদেক তিনি পুত্রের মতো আদর করতেন। আর উসামা তো ছিলেন নবীজির চোখের মণি। . একদিন ঘটনাক্রমে যায়েদ-উসামা (বাপবেটা) এক বিছানায় মুখ ঢেকে শুয়ে ছিলেন। তবে দুজনেরই পা উদোম ছিলো। সেখানে বিশিষ্ট ইলমুল কিয়াফা বিশেষজ্ঞ সাহাবী মুজাযযিয বিন আওয়ার রা. উপস্থিত ছিলেন। তিনি বাপবেটার পা দেখেই বলে উঠেছিলেন, ‘এই দুজনের একজন বাপ, আরেকজন বেটা’। . আরবরা ইলমুল কিয়াফাকে দিব্যজ্ঞানের মতো বিশ্বাস করত। হযরত মুজাযযিযের এনালিসিস শুনে নবীজি স্বস্তির নিঃশ্বাস ছাড়লেন। মুনাফিকরাও কানাঘুষা বন্ধ করে দিলো। আসলে ব্যাপার ছিলো, যায়েদ বিন হারেসার স্ত্রী উম্মে আইমান ছিলেন ‘কালো বর্ণের। উসামা মায়ের গাত্রবর্ণ পেয়েছিলেন। . . . যাক এবার মূলকথায় আসি। বামহাতের আঙুল দিয়ে ‘জাত’ নির্ণয় প্রক্রিয়া। এটা কোনো অকাট্য কিছু নয়। এই দৃশ্যে তিনটি জাতির পরিচয় তুলে ধরা হয়েছে। কোন আঙুল বেশি লম্বা, অনামিকা নাকি তর্জনী? A. আরব। অনামিকা তর্জনীর চেয়ে লম্বা। B. পারসিক। তর্জনী অনামিকার চেয়ে লম্বা। C. আফ্রিকান। তর্জনী ও অনামিকা সমান। . . ইলমুল ফিরাসত নিয়ে আমাদের মজার একটি পোস্ট আছে। আর হাঁ, আপনি কোন জাতি? আমি ‘বি’। (আবার খেয়াল করে দেখলাম, ‘এ’)। বাঙালির এনথ্রোপলজিক্যাল বা নৃতাত্ত্বিক কোনো স্বাতন্ত্র্য নেই। বাঙালি সংকর মানে মিশ্র জাতি। বাঙালির শরীরে বহুজাতির রক্ত মিশে আছে। ✍️ উস্তায আতীক উল্লাহ হাফিযাহুল্লাহ

বিকাশ আপনার কাছ থেকে তিন জায়গায় অর্থ উপার্জন করে... ১. আপনার আমানত অন্য কাওকে ঋণ দিয়ে সেই সুদ থেকে আয়। ২. ক্যাশ আউটের ক্ষেত্রে ১.৮৫% চার্জ কেটে যায়। ৩. প্রতিবার সেন্ড মানি করলে সেখান থেকে চার্জ কেটে আয়। এর বাইরে রেমিটেন্স, মুদ্রা বিনিময়, পেমেন্ট, ফোন রিচার্জ, ডোনেশন, রিটেইল ইত্যাদি ক্ষেত্র থেকে বিকাশের আয় হয়। তবে সে আলাপে আর না গেলাম। প্রধান ৩ উপার্জন মাধ্যমের ৩ নম্বরটা খেয়াল করুন। একটা টাকা যতবার হাত বদল হবে, ততবার ১০ টাকা কেটে নিবে বিকাশ। ধরুন, ১০০ টাকা ক্যাশ ইন করে পরে আপনার মাকে পাঠালেন। সে পাবে ৯০ টাকা। আপনার মা সেই টাকা তার বুয়াকে পাঠালে, বুয়া পাবে ৮০ টাকা। বুয়া এটা ক্যাশ কাউট করলে ফাইনালি পাবে ৭৮.৫২ টাকা। হাত বদল আরও বেশি হলে বুয়া ৫০-৬০ টাকা পেতো। এখানে থিওরিটিকালি টাকাটা ৩ বার হাত বদল হয়েছে। কিন্তু প্র্যাকটিকালি টাকাটা হাত বদল হয়নি। বিকাশের সার্ভারের অভ্যন্তরীণ সিস্টেমে জাস্ট দুয়েকটা কোড এদিক সেদিক হয়েছে। আপনার একাউন্ট থেকে ইলেক্ট্রিক মানির কোড নিয়ে সে আপনার মায়ের একাউন্টে সমন্বয় করেছে। পরে বুয়ার একাউন্টে করেছে। আপনি যে টাকাটা বিকাশকে দিয়েছেন, সেটা আদতে কোনদিন ট্রান্সফার হয়নি, ওটা ব্র্যাক ব্যাংকেই রক্ষিত আছে। কেবল ক্যাশ আউটের সময়ই টাকাটা সত্যিকার অর্থে ট্রান্সফার হয়। ক্যাশ আউট বাদে সেন্ড মানির যে লেনদেন - এটাকে বলে পিটুপি ট্রানজ্যাকশন। ভারতে ১ লাখ রুপি পর্যন্ত এই পিটুপি লেনদেন ফ্রি। মিয়ানমারে পুরোপুরি ফ্রি। থাইল্যান্ডে ৫০০০ বাথ মানে ১৩০০০ টাকা পর্যন্ত ফ্রি। ভিয়েতনামে সম্পূর্ণ ফ্রি। বিকাশে ফ্রি না। প্রতিবারে ১০ টাকা। ডাকাতিটা এখানেই শেষ হলে পারতো। হয়নি। এর চেয়ে ভয়াবহ একটা কাজ করেছে বিকাশ। আগে পিটুপি লেনদেনে টাকার পরিমাণ কম হলে বিকাশ কম টাকা চার্জ করতো। টাকার পরিমাণ বেশি হলে, শতকরা হিসাব করে বেশি টাকা চার্জ করতো। অর্থাৎ ২০০ টাকায় চার্জ কম। ৫০০০ টাকায় চার্জ বেশি। কিন্তু এখন আর সেটা করে না। সবার জন্য এক রেট। ১০০ টাকা লেনদেন করলেও ১০ টাকা। ৪০ হাজার টাকা লেনদেন করলেও ১০ টাকা। এর মাধ্যমে বিকাশ বলতে চাচ্ছে, দ্যাখেন আমরা শত শত টাকা চার্জ করছি না। যত বড় এমাউন্টই পাঠান, মাত্র ১০ টাকার বিনিময়ে আপনার টাকা আমরা পৌঁছে দিবো। কিন্তু আপনি শেষ কবে ৪০ হাজার টাকা বিকাশে লেনদেন করেছেন? ১০ হাজার টাকার উপরে বাঙলাদেশের সাধারণ মানুষ ও অফিসগুলো বিকাশে লেনদেন করে না, পলিসির কারণে করতে পারে না। বিকাশ মূলত ছোট ছোট লেনদেনের অ্যাপ। সাধারণ মানুষ, গার্মেন্টস কর্মী, ছাত্র, কৃষক একে অন্যকে ২০০ টাকা, ৪০০ টাকা এভাবে পাঠায়। রিকশায় ভাংতি না থাকলে বিকাশে দেয়। রাইড শেয়ারিং অ্যাপে ভাড়া দেয়। সব রকম ভাংতির সংকটে বিকাশ ব্যবহার করে। সেলামি, বখশিশ, চটজলদি যে কোন ২০০-৫০০ টাকা পাঠাতে দেশের মানুষের একমাত্র একচেটিয়া সম্বল হলো বিকাশ। আর এই প্রতিটা ট্র্যানজেকশনে বিকাশ নেয় ১০ টাকা। রিকশাওয়ালাকে ৭০ টাকা ভাড়া দিলেও ১০ টাকা। সেলামিতে ২০০ টাকা দিলেও ১০ টাকা। দোস্ত একটু আটকে গেছি, ২০০ টাকা সেন্ড মানি কর - ক্ষেত্রেও ১০ টাকা। বিকাশের এই ইউনিভার্সাল রেইটের ক্ষেত্রে সবচেয়ে ভালনারেবল হলো গরীব মানুষ। যেহেতু প্রতিদিন ৪-৫টা লেনদেনে মাত্র ৫০ টাকা ব্যয় হচ্ছে, সে খেয়াল করে না। কিন্তু ক্যাশ আউট চার্জ বাদ দিয়েই সারা দেশের নিম্নমধ্যবিত্ত ৫ জনের একটি পরিবার মাসে ১৫০০ টাকা বিকাশকে দিচ্ছে। এটা সেই পরিবারের বিদ্যুৎ বিলের চেয়ে বেশি! বাঙলাদেশে বহু প্রতিষ্ঠান আছে যারা মধ্যবিত্ত আর উচ্চ মধ্যবিত্তদের লুট করে। যেমন উবার অথবা লালা মুভ। কিন্তু বিকাশের সিস্টেম তৈরিই হয়েছে ২০০-৪০০ লেনদেন করা গরীব মানুষকে নিপীড়ন করতে। একদম গরীব মানুষকে টার্গেট করে তারা এই সিস্টেম ডেভলপ করেছে। এই মুহূর্তে এর চাইতে গরীব বিধ্বংসী কোন ঐতিহাসিক পণ্য বা সেবা মনে পড়ছে না। ৩৫০ এমপির মধ্যে একটা প্রাণী নাই যে এটা নিয়ে সংসদে অর্থমন্ত্রীকে প্রশ্ন করবে। তাদের সবার রাজনীতি জনবিচ্ছিন্ন। তাদের রাজনীতি শুধু অর্থহীন জাতীয়তাবাদ, ধর্মীয় পরিচয় আর সংবিধান নিয়ে। একদা ঐকমত্য কমিশনের বৈঠকে দেখেছিলাম, রাষ্ট্রীয় মূলনীতি সাম্য, মানবিক মর্যাদা, সামাজিক সুবিচার হবে নাকি গণতন্ত্র, সমাজতন্ত্র, জাতীয়তাবাদ আর ধর্মনিরপেক্ষতা হবে তা নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলো কামড়াকামড়ি করছে। আমি প্রচন্ড বিতৃষ্ণা নিয়ে বের হয়ে গেলাম। আমার বের হওয়াতে কিচ্ছু যায় আসে না। কিন্তু এটলিস্ট আমি জেনে গেছিলাম - এরা আমাদের লোক না। এরা আমাদের রাজনীতিটা করে না।