ইসলাম ও ইসলামি বিশ্ব
Open in Telegram
আমরা চাই আমাদের চ্যানেলের মাধ্যমে অন্ধকারাচ্ছন্ন আত্মাগুলো আলোতে ফিরে আসুক।ইবাদতে অনাগ্রহী আত্মাগুলোতে আগ্রহ সঞ্চার হোক।মৃতপ্রায় আত্মাগুলোতে ছড়িয়ে পড়ুক নতুন প্রাণশক্তি। ভালো কিছুর প্রত্যাশায় ইন শা আল্লাহ... আমাদের ব্লগ সাইটঃ https://aahr2005.blogspot.com
Show more2 829
Subscribers
+124 hours
+227 days
+6430 days
Data loading in progress...
Similar Channels
Tags Cloud
No data
Any problems? Please refresh the page or contact our support manager.
Incoming and Outgoing Mentions
---
---
---
---
---
---
Attracting Subscribers
September '26
September '26
+27
in 1 channels
August '26
+116
in 1 channels
Get PRO
July '26
+65
in 1 channels
Get PRO
June '26
+72
in 1 channels
Get PRO
May '26
+103
in 1 channels
Get PRO
April '26
+90
in 1 channels
Get PRO
March '26
+21
in 0 channels
Get PRO
February '26
+166
in 2 channels
Get PRO
January '26
+74
in 3 channels
Get PRO
December '25
+80
in 1 channels
Get PRO
November '25
+137
in 1 channels
Get PRO
October '25
+131
in 1 channels
Get PRO
September '25
+76
in 1 channels
Get PRO
August '25
+36
in 0 channels
Get PRO
July '25
+71
in 1 channels
Get PRO
June '25
+44
in 0 channels
Get PRO
May '25
+66
in 1 channels
Get PRO
April '25
+75
in 1 channels
Get PRO
March '25
+86
in 1 channels
Get PRO
February '25
+59
in 2 channels
Get PRO
January '25
+100
in 0 channels
Get PRO
December '24
+229
in 0 channels
Get PRO
November '24
+178
in 1 channels
Get PRO
October '24
+188
in 0 channels
Get PRO
September '24
+108
in 0 channels
Get PRO
August '24
+164
in 1 channels
Get PRO
July '24
+141
in 2 channels
Get PRO
June '24
+85
in 0 channels
Get PRO
May '24
+103
in 0 channels
Get PRO
April '24
+93
in 0 channels
Get PRO
March '24
+128
in 0 channels
Get PRO
February '24
+145
in 0 channels
Get PRO
January '24
+346
in 1 channels
Get PRO
December '23
+464
in 1 channels
| Date | Subscriber Growth | Mentions | Channels | |
| 06 September | +2 | |||
| 05 September | +1 | |||
| 04 September | +5 | |||
| 03 September | +5 | |||
| 02 September | +4 | |||
| 01 September | +10 |
Channel Posts
কোনো কোনো জাতির স্বভাব হচ্ছে, রমাদানে প্রচুর ইবাদত-বন্দেগী করবে। অনেক পরিশ্রম করবে কিন্তু যখন রমাদান চলে যায়, তাদের এসব ইবাদত-বন্দেগীও হারিয়ে যায়। বড়ই নিকৃষ্ট মানুষ এরা, যারা কিনা আল্লাহকে শুধু রমাদান মাসেই চেনে।
— বিশর আল-হাফি (রহিমাহুল্লাহ)
[সূত্র : মিফতাহুল আফকার, ২/২৮৩]
| 2 | ইমাম ইবনুল কাইয়্যিম (রহ.) বলেছেন—
“যে ব্যক্তি নিয়মিত গান গায় বা গান শোনে, তার অন্তরে অজান্তেই নিফাক (কপটতা) জন্ম নেয়। যদি সে নিফাকের প্রকৃত স্বরূপ ও তার পরিণতি সম্পর্কে জানত, তবে সে অবশ্যই নিজের অন্তরেই তার চিহ্ন দেখতে পেত।
একজন মানুষের অন্তরে গানের প্রতি ভালোবাসা এবং কুরআনের প্রতি ভালোবাসা কখনো একত্রে স্থায়ীভাবে থাকতে পারে না। বরং, একটি অপরটিকে বিতাড়িত করে দেয়।
আমি নিজে এবং অন্যরাও লক্ষ্য করেছি যে– যারা গান গায় ও গান শোনে, তাদের কাছে কুরআন কতটা ভারী ও অসহনীয় মনে হয়! কুরআন তিলাওয়াত করা হলে, তারা অস্থির হয়ে পড়ে। আর কোনো ক্বারী যদি তাদের জন্য দীর্ঘ সময় ধরে তিলাওয়াত করেন, বিশেষত সালাতে– তাহলে তারা বিরক্ত ও অসন্তুষ্ট হয়ে যায়। কুরআনের তিলাওয়াত তাদের অন্তরে কোনো উপকার বা প্রভাব সৃষ্টি করে না এবং তা তাদেরকে কোনো ভালো কাজের প্রতি উদ্বুদ্ধও করে না।
কিন্তু যখন গান-বাজনা শুরু হয়—লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ! তখন দেখবে তারা কত মনোযোগ দিয়ে চুপ হয়ে যায় এবং শান্তভাবে তা শুনতে থাকে! তাদের অন্তর তাতে প্রশান্তি অনুভব করে, কান্না ও আবেগের বহিঃপ্রকাশ ঘটতে শুরু করে। ভেতরে ও বাইরে তারা গভীরভাবে প্রভাবিত হয়। তারা এর জন্য পোশাক-পরিচ্ছদ ও সুগন্ধিতে অর্থ ব্যয় করে এবং দীর্ঘ রাতের আশায় রাত জেগে থাকে।
এটি যদি নিফাক না-ও হয়, তবে নিঃসন্দেহে এটি নিফাকের দিকে নিয়ে যাওয়ার পথ এবং তার অন্যতম ভিত্তি।”
[সূত্র : মাদারিজুস সালিকীন; খণ্ড - ১, পৃ. ৪৮৭] | 30 |
| 3 | যে ব্যক্তির ক্বালবুন সালীম (বিশুদ্ধ, সুস্থ ও পরিচ্ছন্ন অন্তর) রয়েছে, আল্লাহ তা‘আলা তাকে এমন এক ফিরাসাত (প্রজ্ঞা/আধ্যাত্মিক অন্তর্দৃষ্টি) দান করেন, যার মাধ্যমে সে গুনাহকে চিনতে পারে। এমনকি তার নফস গুনাহের প্রতি প্রশান্তি, স্বস্তি ও আরামবোধ অনুভব করে না। এটি আল্লাহর পক্ষ থেকে মানুষের উপর এক মহান নেয়ামত।
— ইবনু উসাইমীন রহিমাহুল্লাহ
[সূত্র : ফাতহু যিল জালালি ওয়াল ইকরাম বিশারহি বুলূগিল মারাম, খণ্ড নং - ৬, পৃ. ২৪২] | 23 |
| 4 | এক নম্বর, নিজের আর নিজের সংখ্যার ওপর অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাস। সরবরাহ ব্যবস্থা ও কৌশলগত পরিকল্পনা করা হয়নি।
দুই নম্বর, সব পথ আসার বিষয়ে বিবেচনা করা হয়নি। একটা পুরো বাহিনী রাখেননি। অরক্ষিত রেখে দিলেন।
তিন নম্বর, তৎক্ষণাৎ অভিযান চালাননি। একদম শেষ পর্যন্ত অপেক্ষা করলেন শহর অক্ষত রাখতে চেয়ে। যদি এমনকি একটা এলাকা দিয়ে আক্রমণ করতেন, কোনোভাবেই এটা টিকে থাকত না।
মূল কথা, আল্লাহ তাঁর উম্মাহকে রক্ষা করবেন রাজনীতির উত্থান-পতন সত্ত্বেও। মুসলিমরা দুইবার ভিয়েনা জয় করার চেষ্টা করেছে। দুইবারই ব্যর্থ হয়েছে। দ্বিতীয়বার সত্যিই খুব কাছাকাছি বিষয় ছিল আর আল্লাহর প্ল্যান ছিলো ভিন্ন।
(একটি লেকচারের অনুবাদ) | 56 |
| 5 | এটা সবচেয়ে বড় ভুল ছিল। যদি তিনি আক্রমণ করতেন, শহর ক্ষতিগ্রস্ত হলেও এক লাখ আশি হাজারকে বিশ হাজার পরাজিত করতে পারত না। কিন্তু তিনি একদম শেষ পর্যন্ত অপেক্ষা করলেন। অবরোধ সপ্তাহ নয়, মাস স্থায়ী হলো। ভেতরের মানুষ অনাহারে মরছে। কিন্তু ওই মাসগুলোতে কী হলো? বিচ্ছিন্ন ইউরোপীয় রাজবংশগুলো ঐক্যবদ্ধ হওয়ার একটা কারণ খুঁজে পেল।
এটা ছিল তাঁর সবচেয়ে বড় ভুল। তাঁর অহংকারে তিনি ভাবলেন কেউ এক লাখ আশি হাজারকে পরাজিত করবে না। তিনি বিবেচনা করেননি যে দীর্ঘ অবরোধ অন্যান্য শক্তিগুলোকে একত্রিত হতে উৎসাহিত করবে। রাজা লিওপোল্ড, পোলিশ রাজা, বুলগেরিয়ার রাজা, হাঙ্গেরির রাজা, তারা সবাই প্রথমবারের মতো ঐক্যবদ্ধ হলো। তারা একে অপরকে ঘৃণা করত, গৃহযুদ্ধ ছিল। কিন্তু এখন তারা বুঝল আমাদের উসমানীদের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। তারা প্রত্যেকে তাদের সৈন্য পাঠাল। এটা ইউরোপীয় ঐক্যের শুরু। আক্ষরিক অর্থেই প্রথমবার ইউরোপ এক।
কারা মুস্তফা পাশার আত্মবিশ্বাসে, তিনি ভিয়েনা ঘিরে ফেললেন। একটা পাহাড় ছিল পোল্যান্ডের দিকে। তিনি ভাবলেন, কে পাহাড় পার হয়ে আসবে? তিনি পাহাড়ের দিক থেকে কোনো সৈন্য মোতায়েন করলেন না। সব সৈন্য শহরের দিকে মুখ করা আর পাহাড় পেছনে বাম দিকে। এটা চিরায়ত ভুল, যুদ্ধবিদ্যার প্রথম পাঠেই যা শেখানো হয়।
পরবর্তী তিন মাসে দ্রুত আলোচনা হয়। একজন বিশেষ ব্যক্তি এলেন। আমাদের দিক থেকে তিনি অপর পক্ষে, কিন্তু আমাদের সৎ হতে হবে। তাদের দিক থেকে তিনি একটা অসাধারণ কাজ করেছেন। এই ব্যক্তি পোল্যান্ড-লিথুয়ানিয়ার রাজা জন সোবিয়েস্কি। তাকে ইউরোপীয় ইতিহাসের মহানায়ক হিসেবে গণ্য করা হয়।
তিনি রাজপরিবারে জন্মগ্রহণ করেননি কিন্তু তাকে রাজা হিসেবে নির্বাচিত করা হয়েছিল যখন রাজারা নির্বাচিত হতো না। তিনি সাহস ও সততার মাধ্যমে সম্মান অর্জন করেন। যুদ্ধের পর যুদ্ধ জিতলেন, যতক্ষণ না একজন রাজা মারা গেলেন। পরবর্তী দল বলল, আমরা তার পরিবার চাই না, আমরা চাই তুমি রাজা হও। তাই একজন সামরিক প্রতিভা হিসেবে তাকে পোল্যান্ডের রাজা বানানো হয়।
তিনি রাজপরিবারের নন বলে অন্যান্য রাজাদের সাথে কঠোর ভাষায় কথা বলেন। তোমরা কি পাগল? তোমরা একে অপরের সাথে লড়াই করছ। আর উসমানীরা ওখানে। একটা পরিষদ বসল। তিনিই ইউরোপীয়দের ঐক্যবদ্ধ করেন। সম্রাট তাকে সমর্থন করেন। পোপ তাকে সমর্থন করেন। তিনি সব ইউরোপীয় গোষ্ঠীর সামরিক দায়িত্ব পান।
তিনি আশি হাজার সৈন্য নিয়ে এলেন। যখন তিনি পৌঁছান, উসমানীদের সংখ্যা এক লাখ বিশ হাজার হয়ে গেছে। কারণ তিন মাসে মানুষ মরেছে, চলে গেছে। তাই আশি বনাম এক লাখ বিশ। সেই আশি হাজারের মধ্যে একটা অশ্বারোহী বাহিনী ছিল যাকে সারা ইউরোপীয় ইতিহাসে সবচেয়ে কিংবদন্তি হিসেবে গণ্য করা হয়। ডানাওয়ালা হুসার। সবচেয়ে দক্ষ সামরিকভাবে প্রশিক্ষিত। সবচেয়ে ভালো ঘোড়া, সবচেয়ে ভালো বর্ম, সবচেয়ে বড় বর্শা।
আর অনন্য কিছু। যখন আমি ভিয়েনায় গিয়েছিলাম, আমি তাদের সামরিক পোশাক দেখেছি। সত্যি অসাধারণ। মানব ইতিহাসের একমাত্র অশ্বারোহী বাহিনী। তারা পিঠে ডানা পরত। শকুন আর ঈগলের পালক দিয়ে তৈরি আসল ডানা। প্রত্যেকের দুটো ডানা থাকত যেন পাখি বা ফেরেশতার মতো। যখন আপনি তাদের দেখতেন আর তারা আসছে, আপনি মুগ্ধ হয়ে যেতেন। আতঙ্কিত হতেন। এই ডানা আসছে আর শব্দ, ধাবমান ঘোড়ার গর্জন, তূরী বাজছে।
এই বাহিনীর সবচেয়ে বড় সমাবেশ হয়েছিল রাজা জন সোবিয়েস্কির অধীনে। বিশ হাজার। মানব ইতিহাসে কখনো এত বেশি একসাথে আসেনি, আবার উসমানীদের কারণে। উসমানীরা একদিন অবাক হয়ে দূরে এই বিশাল সেনাবাহিনী আসতে দেখল। সম্পূর্ণভাবে অবাক হয়ে গেল। এখানে একটা অবরোধ চলছে।
এমনকি তখনও যখন কারাম মুস্তফা পাশা তাদের দেখলেন, তিনি জানিসারিদের বললেন, তোমরা এখানে থাকো। আমি শহর রক্ষা করতে চাই। জানিসারিদের ডানাওয়ালা হুসারদের বিরুদ্ধে পাঠানো হয়নি একদম শেষ পর্যন্ত। আরেকটা বিশাল ভুল। কারণ তিনি শহর অক্ষত রাখতে চান। যখন পোল্যান্ডের রাজা আক্রমণ করলেন, যুদ্ধ পুরো দুই দিন স্থায়ী হলো আর এটা ছোট পরিসরের গণহত্যায় পরিণত হলো। উসমানীদের সৈন্যরা মনোবল হারিয়ে ফেলেছিল। ইউরোপীয়রা তাজা আসছে। উসমানীরা তিন মাস ধরে অবরোধ করছে, ক্লান্ত, খাবার শেষ।
ডানাওয়ালা হুসাররা সম্মিলিতভাবে ঝাঁপিয়ে পড়ল। বলা হয় এটা ছিল অশ্বারোহীদের সারা মানব ইতিহাসের সবচেয়ে বড় আক্রমণ। এর চেয়ে বড় কোনো আক্রমণ নেই। বিশ হাজার ঘোড়া একসাথে উসমানীদের বিরুদ্ধে ছুটে আসছে। কারা মুস্তফা পাশা নিজেই প্রাণ বাঁচাতে পালাতে হলো। যুদ্ধক্ষেত্র ছেড়ে আতঙ্কে চলে গেলেন। যখন নেতা চলে যান, তখন সম্পূর্ণ বিশৃঙ্খলা। সম্পূর্ণ হত্যাযজ্ঞ হলো। হাজার হাজার উসমানী মারা গেল।
কারা মুস্তফা বুলগেরিয়ায় পালিয়ে গেলেন। উসমানী সুলতান এতটাই হতাশ হলেন যে তিনি তার মৃত্যুদণ্ডের আদেশ জারি করলেন। সৈন্যরা গিয়ে তাকে খুঁজে বের করে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করল। তিনি পুরো রাজকোষ নষ্ট করেছেন, সম্পূর্ণ ব্যর্থ ছিলেন।
কেন এটা ব্যর্থ হলো? | 53 |
| 6 | মুসলিমরা খ্রিস্টানদের রাজধানী কনস্টান্টিনোপল জয় করেছিল। কিন্তু তাদের আরেকটি রাজধানী ভিয়েনা জয়ের দ্বারপ্রান্তে গিয়েও মুসলিমরা পরাজিত হয়।
কেন? এটা এমন এক গল্প যেখানে সবকিছু ছিল, শুধু ছিল না একটু বিনয়!
ভিয়েনা ছিল ইউরোপীয় সাম্রাজ্যের রাজধানী। রোমান সম্রাট শতাব্দীর পর শতাব্দী সেখানে থাকতেন। Hapsburg রাজবংশ ছিল ইউরোপের সবচেয়ে শক্তিশালী রাজবংশ। ইতিহাসের একটা শিক্ষা হলো, বিশাল রাজবংশগুলোও পরবর্তী প্রজন্মের কাছে ভুলে যায়। কিন্তু উসমানীরা ভালোভাবেই জানত এর গুরুত্ব।
আল্লাহ উসমানীদের অনেক কিছু জয় করার তাওফিক দিয়েছিলেন। তারা পুরো আনাতোলিয়া জয় করেছিল। তারপর কনস্টান্টিনোপল জয় করে ইস্তাম্বুলে পরিণত করল। সুলায়মান ও ফাতিহ এগিয়ে গেলেন। বসনিয়া, বুলগেরিয়া, হাঙ্গেরির অংশ জয় করলেন। বুলগেরিয়ায় আজও ৬০০-৭০০ বছরের পুরনো মসজিদ আছে। সুলতান আল ফাতিহ এসব জয় করার পর বললেন, চলো ভিয়েনা জয়ের চেষ্টা করি।
ভিয়েনা দুইবার আক্রমণ করা হয়েছিল। প্রথমবার ১৫২৯ সালে সুলায়মান দ্য ম্যাগনিফিসেন্ট দুই সপ্তাহ অবরোধ করলেন। কিন্তু বর্ষাকাল এলো, খাবার ফুরিয়ে গেল। তিনি বুঝলেন ভিয়েনার দেয়াল সারা ইউরোপের সবচেয়ে শক্তিশালী। ভিয়েনা ছিল ১৪শ, ১৫শ, ১৬শ শতাব্দীতে সাংস্কৃতিক, বুদ্ধিবৃত্তিক ও রাজনৈতিক রাজধানী। তিনি দুই সপ্তাহ পর ফিরে গেলেন।
একশো বছর উসমানীরা চিন্তা করতে থাকল। তাদের কনস্টান্টিনোপল আছে, বুলগেরিয়া আছে, Balkans আছে। পরবর্তী বড় শহর কী? ভিয়েনা। যদি ভিয়েনা পায়, তাহলে পুরো মধ্য ইউরোপ খুলে যাবে। তারপর পশ্চিম ইউরোপ।
১৭শ শতাব্দীতে ভাজির কারা মুস্তফা পাশা সিদ্ধান্ত নিলেন, আমি ভিয়েনা জয় করব। তিনি উসমানীদের পুরো ইতিহাসে সবচেয়ে বড় সেনাবাহিনী তৈরি করলেন। বিস্ময়কর, এক লাখ আশি হাজার সৈন্য। সেই সময়ে এমন সেনাবাহিনীকে কেউ হারাতে পারত না। আর এই কারণেই এটা এতো দুঃখের গল্প। কারণ সবকিছু ছিল। সবচেয়ে বড় সেনাবাহিনী। আর সেই সময়ে ইউরোপ ছিল ডজনখানেক ছোট ছোট রাজ্য। তারা বিচ্ছিন্ন ছিল। ক্যাথলিক বনাম প্রোটেস্ট্যান্ট গৃহযুদ্ধ চলছিল। তারা ঐক্যবদ্ধ হওয়া থেকে অনেক দূরে।
উসমানীরা বুঝল এটাই আমাদের সময়। কারা মুস্তফা পাশা এক লাখ আশি হাজার সৈন্য নিয়ে ভিয়েনার দিকে মার্চ করলেন। এটা ১৬৮৩ সাল, সুলায়মানের ১২০ বছর পর। ভিয়েনায় ছিল মাত্র বিশ হাজার সৈন্য। এক লাখ আশি হাজার বনাম বিশ হাজার। সহজ মনে হচ্ছিল।
তার ওপর, যখন কারা মুস্তফা পাশা ভিয়েনার কাছে পৌঁছলেন, সম্রাট তাঁর স্ত্রী, পরিবার আর সোনা নিয়ে পালিয়ে গেলেন। সম্রাট ভিয়েনা ছেড়ে পালালেন। মানুষের মনোবল কেমন হবে ভাবুন।
অভিজাতরা, ধনীরা পালিয়ে গেল। রইল শুধু গরীবরা। যাদের যাওয়ার কোথাও নেই। কিন্তু হতাশা দৃঢ়তা, সাহস, বীরত্ব নিয়ে আসে। যারা রয়ে গেল তারা সবাই স্বেচ্ছাসেবক যোদ্ধা হয়ে গেল। বিশ হাজারের সাথে প্রতিটা মানুষ সক্রিয় সহায়তাকারী হয়ে গেল।
মুস্তফা পাশা এলেন। বেশিরভাগ ঐতিহাসিক বলেন সেখানে অহংকার আর আত্মবিশ্বাসের একটা উপাদান ছিল। সুবহানাল্লাহ, হুনাইনের যুদ্ধে আল্লাহ কুরআনে বলেন, তোমরা ভেবেছিলে তোমাদের সংখ্যা কাজ করবে, কিন্তু কাজে আসেনি। যেন একই শিক্ষা আবার পুনরাবৃত্তি হলো।
কারা মুস্তফা পাশা একাধিক পর্যায়ে ভুল করলেন। মূল কারণ ছিল অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাস। আমি কোনোভাবে ভিয়েনা না পেয়ে যাব না। তিনি যখন শহরের বাইরে শিবির স্থাপন করলেন, এমনভাবে তৈরি করলেন যাতে শহর দেখতে পায়। শহর তো একটা দুর্গ। এমনকি এক লাখ সৈন্য থাকলেও সেই সময়ে এমন কামান ছিল না যা দুর্গ ভেদ করতে পারে। ১৬৮৩ সালে শহরের দেয়াল ধ্বংস করার মতো কামান তৈরি হয়নি। তাই মানুষকে ক্ষুধায় আত্মসমর্পণে বাধ্য করতে হবে। লক্ষ্য ছিল শহর ঘিরে ফেলা আর অবরোধ করা।
সেই কৌশলের অংশ ছিল শহরের মানুষকে উত্যক্ত করা, তাদের অসহায়ত্ব মুখে ছুড়ে মারা। তিনি নিজের জন্য মহৎ সিল্কের তাঁবু, প্রাসাদ, ঘর বানালেন। মাঝখানে একটা সোনার ঝর্ণা। শহরের ভেতরে পানি নেই। তারা মরছে। বলা হয় এই সময়ের শেষে তাদের ইঁদুর খেতে হয়েছে। আর শহরের বাইরে মুস্তফা পাশার সোনার ঝর্ণা থেকে পানি পড়ছে, প্রতিদিন সুস্বাদু খাবার। তিনি তাদের সামনে খাচ্ছেন তাদের যন্ত্রণা দেওয়ার জন্য, তাদের মুখে ঘষে দিচ্ছেন এই পার্থক্য। সবচেয়ে ভালো পোশাক পরছেন, ম্যাসাজ হচ্ছে, বিলাসবহুল জীবনযাপন করছেন যখন ভেতরের মানুষ অনাহারে।
সবচেয়ে বড় সমস্যা ছিল, শহর রক্ষা করতে আর ভেতরের ক্ষতি না করতে, তিনি ভেতরে আক্রমণ করতে অস্বীকার করলেন। তিনি চাইলেন আত্মসমর্পণের জন্য আলোচনা করতে। যদি আত্মসমর্পণ আলোচনার মাধ্যমে হয়, শহর অক্ষত থাকে। বলা হয় তাঁর বড় উচ্চাকাঙ্ক্ষা ছিল পরবর্তী খলিফা হওয়ার। একবার ভিয়েনা জয় করলেন আর এত সৈন্য আছে, তিনি ইসলামের ইতিহাসে কিংবদন্তি সামরিক বিজয়ী হবেন। তাই তিনি ভিয়েনা অক্ষত রাখতে চাইলেন পুরস্কার হিসেবে উপস্থাপন করতে। | 43 |
| 7 | একজন সাহাবী জান্নাতুল বাকীতে একটি কবর খুঁড়া শুরু করেন। সবাই বেশ অবাক! কেউ মারা যায়নি, হঠাৎ কেনো তিনি কবর খুঁড়ছেন?
দেখা গেলো, তিনদিন পর তিনি ইন্তেকাল করেন। তাঁর খুঁড়া কবরেই তাঁকে দাফন করা হয়।
তিনি ছিলেন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের দুধ-ভাই এবং চাচাতো ভাই আবু সুফিয়ান ইবনে হারিস রাদিয়াল্লাহু আনহু।
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের চেহারার সাথে যাদের মিল ছিলো, তিনি ছিলেন তাদের মধ্যে অন্যতম।
.
তথ্যসূত্র:
তাবাকাতে ইবনে সা'দ: ৪/৪০, ড. মুহাম্মদ আব্দুল মা'বুদ, আসহাবে রাসূলের জীবনকথা: ২/২৪১। | 33 |
| 8 | একজন রিযিকের আধিক্যতা চাইলো। তার ইনকাম বেড়ে গেলো। গাড়ি কিনলো, বাড়ি করলো। কিন্তু সেই সাথে যুক্ত হলো নতুন নতুন খরচ। মেডিকেল চেকআপ, ৮/১০ টা ক্রেডিট কার্ডের বিল, বড় বড় ক্লাবের মেম্বারশীপ ফী। বোনাস হিসেবে আছে আরও নানা দুশ্চিন্তা আর অশান্তি!
আরেকজন রিযিকের বারাকাহ চাইলো। তার চাকরীটা চলে গেলো। একজন আলিমকে হতাশ হয়ে প্রশ্ন করাতে জবাব দিলেন– "হারাম ইনকামের চাকরী চলে যাওয়াটাই দু'আ কবুলের প্রথম ধাপ।"
ছোটখাটো আরেকটা চাকরী পেলেও ইনকাম আগের চেয়ে অর্ধেক। আয় কমলেও সেই সাথে সংকুচিত হতে থাকলো ব্যয়ও। মাস শেষে তার কোন সেভিংস থাকছে না, কিন্তু নতুন করে তার কোন লোনও যোগ হয় না। এই তো সেদিন ডাক্তার তার ঘুম আর প্রেসারের ঔষধের ডোজ কমিয়ে দিলেন। ঘুম এখন যদি নিয়মিত হয়, ঔষধ খাবেনই বা কেন।
রিযিকের বারাকাহ এক অদ্ভুত রহমত! আধিক্যতা ছাড়াই যা পাওয়া সম্ভব।
“হে আল্লাহ! আপনি যা রিযিক দিবেন, তাতে সন্তুষ্ট বানিয়ে দিন। এবং তাতে বরকত নাযিল করুন।” | 74 |
| 9 | সব ক্ষয়িষ্ণু আনন্দের ধ্বং*সকারী মৃ*ত্যু আমাদের জন্যও অপেক্ষা করছে। আপনার-আমার জন্য সময় নির্ধারিত হয়ে গেছে, আর সমগ্র সৃষ্টি মিলেও একে ন্যানোসেকেন্ডও পরিবর্তনের ক্ষমতা রাখে না। কিন্তু আমরা কি জানি আমরা কবরে কী নিয়ে যাচ্ছি? আমরা কি জানি আমরা কবরের প্রশ্নকারীদের প্রশ্নের জবাব দিতে পারব কি না?
মানুষ আপনার জন্য চোখ মুছছে, দুআ করছে। আপনাকে কবরে নামানো হচ্ছে। ছোট্ট, সংকীর্ণ, অন্ধকার, ভারী। আপনার জন্য দুআ করা হচ্ছে আর আপনি দমবন্ধ করা সংকোচনে হাহাকার করছেন। প্রচন্ড ওজন আপনার ওপর চেপে বসেছে। আপনার জন্য দুআ হচ্ছে। তারা ওপরে, আপনি নিচে। তারা আলোতে, আপনি অন্ধকারে। আপনার চেনা মুখগুলো, আপনার প্রিয় মানুষগুলো- এই তো আর কিছুক্ষণ পর আপনাকে এই গর্তে শুইয়ে রেখে যার যার মতো বাড়ি ফিরে যাবে। নিজ নিজ স্ত্রী, সন্তানের কাছে, নিজ নিজ জীবনে। আপনাকে এই মাটির ঘরে ফেলে যাবে। আপনি একা, কেউ নেই পাশে। আর তারা চল্লিশ কদম যাবার সাথে সাথেই আসবে প্রশ্নকারীরা...
কী প্রস্তুত করেছি আমরা এই দিনটির জন্য? কীভাবে বাঁচবেন? একবার চোখ বন্ধ করার পর আপনি চোখ খুলবেন রাজাদের রাজার সামনে-আল্লাহ আযযা ওয়া জাল এর সামনে... কী নিয়ে তাঁর সামনে দাঁড়াবেন?
এই ধূলোমাটিই হলো সবচেয়ে ধনীদের শেষ পরিণতি। এই ধূলো সবচেয়ে আকর্ষনীয়, সবচেয়ে সুন্দর শরীরের নারীর শেষ পরিণতি। এই ধূলোই ক্ষমতাধরদের শেষ পরিণতি-এই ধূলোই আমাদের সবার শেষ পরিণতি। From dust, To dust...
আখিরাত এসে আমাদের দরজায় কড়া নাড়ছে... আমরা উদাসীন!
'প্রাচুর্যের প্রতিযোগিতা তোমাদেরকে মোহাচ্ছন্ন করে রেখেছে। যতক্ষণ না তোমরা কবরে উপস্থিত হচ্ছো...তারপর সেদিন অবশ্যই তোমরা নিআ'মত সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত হবে।'
(সূরা তাকাসুর, আয়াত : ১, ২, ৮)
সুতরাং, গতকালও এই পৃথিবীতে অসংখ্য মানুষ মারা গেছে। পৃথিবীর কোনো কিছুই থেমে থাকেনি। কারো জীবন এতে থমকে যায়নি। এভাবে একদিন আপনিও মারা যাবেন, পৃথিবীর কিচ্ছু আসে যাবে না। আপনার সবচেয়ে প্রিয় মানুষটাও, কষ্ট পাবে হয়তো, কিন্তু ঠিকই জীবনটা গুছিয়ে নেবে, এগিয়ে যাবে। অথচ এই পৃথিবী ঘিরে আমাদের কত স্বপ্ন, কত পরিকল্পনা আর পাওয়া না পাওয়ার হিসেব! একদিন মৃ*ত্যু এসে মনে করিয়ে দেবে এই পৃথিবী আসলে আমাদের নয়। আমাদের গন্তব্যস্থল আর চূড়ান্ত আবাস অন্য কোথাও। দিনশেষে শুধু পৃথিবীতে থেকে যাবে আমাদের ফেলে যাওয়া কিছু কর্ম, হঠাৎ হঠাৎ প্রিয়জনদের মজলিসে দু'লাইন আবেগঘন স্মৃতিচারণ, কিংবা কবরের পাশে একটি ধুলোমাখা 'এপিটাফ'।
লেখা : মোহাম্মদ হোবলস
বই : এপিটাফ | 73 |
| 10 | মাদ্রাসাগুলোতে বলাৎকারের ইস্যুটি নিয়ে গঠনমূলক কোন সিদ্ধান্ত এখনো নিতে পারছে না সংশ্লিষ্ট বোর্ড ও কর্তৃপক্ষ। আমি জানি না উনারা কোন জগতে বসবাস করেন।
শিক্ষাসিস্টেম একটা পর্যন্ত অনাবাসিক করা বর্তমান বাস্তবতায় একটি দীর্ঘ পরিকল্পনা ও পরিক্রমার বিষয়। সেটা নিয়ে ভাবা উচিত।
তবে প্রাথমিকভাবে শাস্তি, তদারকি, তরবিয়ত ও ব্লাক লিস্ট প্রণয়ন জরুরী।
যেসব মুসলিম মেয়েরা মালুদের ভাগাওয়া ট্রাপে স্বেচ্ছায় নিজেদের ইজ্জত বিসর্জন দিচ্ছে, তারা যেন চড়া মূল্যে কাবিনের বিনিয়য়ে কোন মুসলিম ছেলের কাঁধে ঝুলে যেতে না পারে, সেটার জন্য কিছু ভাইকে দেখলাম একটি ওয়েবসাইট তৈরি করেছেন। যেখানে প্রুফ সহ বিভিন্ন মেয়েদের তথ্য পাওয়া যাচ্ছে।
তো মাদ্রাসার বলাৎকার ইস্যুতেও এমন একটি সাইটের উদ্যোগ কেউ নিতে পারে। এসব অনাচারকারীর একটি লিস্ট অথেনটিক সোর্স সহ প্রমাণিত হওয়া শর্তে লিস্ট আকারে ওয়েবসাইটে তুলে দেয়া হবে। যেন এরা নিজেরা আর কোন প্রতিষ্ঠানে শিক্ষকতা করতে না পারে এবং নতুন কোন প্রতিষ্ঠানও খুলতে না পারে।
এই পদক্ষেপ বোর্ডের পক্ষ থেকে নিলে ভাল হয়। কিন্তু তাদের কোন চিন্তা দেখা যাচ্ছে না। ফলে নির্ভরযোগ্য কারো অধীনে যে কেউ আপতত এই পদক্ষেপ নিতে পারে, সততা ও আমানতদারিতার সাথে।
আরেকটি ভাল উদ্যোগের কথা মনে আসল। ছাপড়ি দমন কমিশন নামে একটা টিম যে আছে, যারা মাদ্রাসা অঙ্গনে টিকটকার ও ছাপড়ি ভ্লগারদের দমনে কাজ করছে। তাদের এই কাজটাও জরুরী ছিল। তো তারা এই ধরণের উদ্যোগও নিতে পারে।
~ইফতেখার শিফাত হাফিঃ | 63 |
| 11 | সাভারের ৭ বছরের বাচ্চাটার সাথে যা ঘটল, এর দায় মোছন কীভাবে সম্ভব? কোন উপায়ে সম্ভব?
একটা মাদরাসাতে পড়ত বাচ্চা ছেলেটা। একদিন তার এক সিনিয়র সহপাঠী মাদরাসারই বাথরুমে তাকে বলাত কার করে৷ এই ঘটনা জানতে পেরে যায় তার আরও কিছু সিনিয়র সহপাঠীরা৷ তারাও সুযোগ পায় আর সুযোগ পেয়ে তারাও সাত বছরের বাচ্চা ছেলেটার সাথে ক্রমান্বয়ে, দিনের পর দিন বলাত কারের মতো কাজ করে যেতে থাকে।
একটা সাত বছরের বাচ্চা ছেলে। জীবনটাকে শিখে উঠার আগেই তাকে সহ্য করতে হচ্ছিল এক অভিশপ্ত যন্ত্রণা।
কিন্তু ছেলেটা বাঁচতে চাইল৷ সে ভাবল, মাদরাসার ওস্তাদদের যদি এই ঘটনা জানিয়ে দেওয়া যায়, তাহলে তার মুক্তি মিলবে৷ সহপাঠীরা আর তার সাথে এই অভিশপ্ত কাজ করার সাহস পাবে না।
সে তাই করল৷ সাহস করে মাদরাসার কয়েকজন জুনিয়র আর সিনিয়র উস্তাদদের ব্যাপারটা বলে দিলো।
তাতে কী হলো, জানেন?
সাত বছরের বাচ্চা ছেলেটার এই অসহায়ত্বের সুযোগ নিয়ে, সেই সিনিয়র আর জুনিয়র উস্তাদেরাও বাচ্চাটাকে নিয়মিতভাবে বলাত কার করে যেতে লাগল।
একদিন বা দুই দিন নয়৷ টানা ছয়টা মাস! ফেব্রুয়ারি থেকে জুলাই।
ছেলেটা ঘরে ফিরলে মন মরা হয়ে থাকত। বাপকেও বলতে পারত না। হয়তো লজ্জায় অথবা ভয়ে। বাবা প্রথমে পাত্তা না দিলেও, পরে ডাক্তারের কাছে নিয়ে যায়৷ ডাক্তার পরীক্ষা নীরিক্ষা করতে গিয়ে উদঘাটন করে এই ঘটনা।
সাত বছরের সেই বাচ্চাটাকে তার যে সহপাঠী আর উস্তাদেরা মিলে বলাত কার করেছে টানা ছয়টি মাস, তাদের বিরুদ্ধে ছেলের বাবা মামলা করেছে।
হয়তো গ্রেফতার হবে, বিচার হবে, জেলে যাবে কালপ্রিটগুলো।
কিন্তু, একটা ছোট্ট কুসুমকলি বাচ্চা ছেলের গোটা জিন্দেগিটা যে জাহান্নাম হয়ে গেল, এটা কী দিয়ে ক্ষতিপূরণ সম্ভব? দুনিয়ার কোন আদালত, কোন বিচারক, কোন সালিশি বৈঠক এই বাচ্চাটাকে একটা স্বাভাবিক, ছন্দময়, গতিময় জীবন ফিরিয়ে দিতে পারবে? | 68 |
| 12 | এঁটো বাগান!
-
বিকেলে ছাদে বসে প্রাকৃতিক শোভা দেখা রাজার বহুদিনের শখ। দিনশেষে একাজটা না করতে পারলে মনে হয় যেন দিনটাই মাটি হয়ে গেল। যত ব্যস্ততাই থাকুক, একবার ছাদে বসা চাই-ই চাই! মাঝেমধ্যে বেগমও সাথে থাকেন। আবার কখনো চাটুকার-মোসায়েবও থাকে। গযল-সংগীতও শোনেন কখনও। কবিতা পাঠের আসর থাকে। একাকী থাকাও হয়। যেমন আজ! কারো সঙ্গ ভাল লাগছে না। চুপচাপ রাজ্যের ভবিষ্যত নিয়ে ভেবে চলছেন।চোখ গেল অদূরে পর্দাঢাকা এক ছাদে। বাতাসে পর্দাটা সরে গেল। বিদ্যুত চমকের মতো এক অনিন্দ্য সুন্দর নারীর মুখ ভেসে উঠেই আবার আড়াল হয়ে গেল। রাজা স্তব্ধ! এ কী দেখলাম! আহা কী দেখিলাম! মানুষ? জ্বিন? পরী? জান্নাতী হুর?
.
হাতে তালি বাজালেন। খাস বেয়ারা ছুটে এল:
-আমরান ইয়া মাওলায়া! হুকুম করতে আজ্ঞা হোক মহারাজ!
-ওই যে পর্দাঢাকা ছাদ দেখা যাচ্ছে, ওটা কার বাড়ি?
-ওটা তো হুজুরের খাস কলমচির!
-ঠিক আছে তুমি যাও!
.
একটু পর আর ধৈর্য রাখতে পারলেন না। গোয়েন্দা প্রধানকে ডেকে পাঠালেন। কলমচির ঘরে কে কে থাকে খোঁজ নিলেন। জানতে পারলেন নতুন বিয়ে করেছে সে। এখনো ছেলেপিলে হয়নি। না, আর কেউ থাকে না। নববধূকে নিয়ে কলমচি একাই থাকে। এবার কলমচির ডাক পড়ল।
-তোমাকে একটু পাশের রাজ্যে যেতে হবে! একটু পর এসে চিঠি নিয়ে যাবে!
.
কলমচি চিঠি নিয়ে রওয়ানা হলো। আঁধার নামতেই রাজা ছদ্মবেশ ধরে বের হলেন। কলমচির দরজায় টোকা দিলেন:
-কে?
-আমি তোমার স্বামীর মনিব!
-কোন মনিব?
-তার মনিব তো একজনই!
-আপনি মিথ্যা বলছেন। তিনি আমার বাড়িতে আসার কথা নয়। মনিবই আমার স্বামীকে এক কাজে পাঠিয়েছেন!
-দরজা খোল! আমিই তাকে পাঠিয়েছি! চিঠি দিয়ে। ওমুকের কাছে! এবার বিশ্বাস হলো?
-ইন্নালিল্লাহ!
বউ দরজা খুলে দিল। পর্দার ওপাশে গিয়ে রাজাকে বসার অনুরোধ জানাল। কী করবে বুঝতে পারছে না। স্বামী নেই। রাজামশায় কেন এলেন? আর কেউ নেই। আপ্যাায়ন কিভাবে করবে? রাজা বসার পর জানতে চাইলেন
-এবার বিশ্বাস হয়েছে তো! আমি তোমাকে দেখতে এসেছি। তোমার খোঁজ-খবর নিতে এসেছি! তুমি আড়ালে কেন, সামনে এসো!
-আমার স্বামী ছাড়া আর কারো সামনে যাওয়া যে শরীয়ত নিষেধ করেছে!
-তুমি বুঝতে পারছো আমি কেন এসেছি?
-জ্বি জাহাঁপনা!
-তাহলে এটাওতো বোঝা উচিত, সে আর তোমার স্বামী থাকবে না!
-জাহাঁপনা! আপনার পোষা কুকুরে মুখ দেয়া এঁটো খাবার খাবেন?
.
প্রশ্নটা শুনে রাজামশায় থমকে গেলেন। এই বালিকাবধূর মুখ থেকেই এমন তরিৎ প্রত্যুৎপন্নমতিত্বপূর্ণ কথার মারপ্যাঁচ আশা করেননি। স্বভাবতই রাজা লজ্জা পেলেন। আর কিছু না বলে চিন্তিত মুখে বেরিয়ে গেলেন।
.
কলমচি রাজার চিঠি পৌঁছে দেয়ার জন্যে রওয়ানা দিয়েছিল। কিছুদূর যাওয়ার পর জেব হাতড়ে দেখল চিঠিটা নেই। ভুলে রেখে এসেছি তাহলে! আবার ঘরের পথ ধরল। দরজার সামনে এসে দেখল, খোদ রাজা মশায়ের জুতো! দরজা বন্ধ! পুরো পৃথিবীটা তার সামনে দুলে উঠল। মাথা চক্কর দিয়ে উঠল। বুঝতে পারল, তাকে উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে পাঠানো হয়েছে। কিছু না বলে দরজার সামনে থেকে সরে পড়ল। রাত আরো গভীর হলে, ঘরে ফিরল। এসেই চিঠিটা নিয়ে গন্তব্যে রওয়ানা দিল। কর্তব্য সমাধা করে রাজাকে জানাল। রাজা খুশি হয়ে মোটা অংকের পুরষ্কার দিলেন। কলমচি ঘরে ফিরল। বিবিকে বলল:
-এই থলেতে বেশ কিছু টাকা আছে। আর ওই ব্যাগে কিছু উপহার আছে। রাজার কাছ থেকে বেশ মোটা অংকের ইনাম পেয়েছি। তুমি মায়ের কাছে যাবে বলেছিলে না! এই সুযোগে ঘুরে এসো। আমি কিছুদিন ভীষণ ব্যস্ত থাকবো। এতদিন হাতে টাকা-পয়সা ছিল না বলে, তোমাকে পাঠাতে পারিনি তুমিও খালি হাতে কিভাবে যাবে? এবার আর যেতে বাধা নেই! সবাইকে আলাদা আলাদা উপহার কিনে দেয়ার পরও বহু টাকা তোমার কাছে থেকে যাবে!
.
বিবি বাপের বাড়িতে বেড়াতে চলে গেল। দিন গিয়ে সপ্তাহ হল। সপ্তাহ পেরিয়ে মাস হলো। কিন্তু স্বামীর দিক থেকে কোনও সাড়া এল না। বিবির মনে খটকা লাগল। মানুষটার জন্যে মন সারাক্ষণ উতলা হয়ে আছে, আর উনি সম্পূর্ণ বেখবর! বাবা নেই। বড়ভাই-ই অভিবাবক। তাকে খোঁজ নিতে পাঠাল। ভাই দুশ্চিন্তা করতে করতে বোনজামাইয়ের কাছে এল। কুশল বিনিময়ের পর যোগাযোগ বিচ্ছিন্নতার কারন জানতে চাইল। কলমচি নিরুত্তর! কী জবাব দেবে সে?
-তুমি কি আমার বোনের প্রতি নারাজ হয়েছ কোনও কারনে?
-ঠিক নারাজ বলা যায় না! তবে আমি ঠিক করেছি, তার সাথে আমি আর সংসার করবো না!
-তোমার রাগের কারণটা তো অন্তত জানাবে! সংশোধনের সুযোগও দেবে না!
-দুঃখিত! আমি কিছু বলতে পারব না।
-আমি তাহলে কাজির কাছে যাবো!
-আপনি চাইলে যেতে পারেন! আমার কিছু করার নেই!
.
ভাই সরাসরি কাজির কাছে চলে গেল। কাজি তখন রাজার কাছে ছিলেন। রাজামশায় প্রতিদিন কিছু সময় সরাসরি বিচারকার্য দেখাশোনা করেন। রাজার হুকুমে তার সামনেই মামলা পেশ করতে বলা হল!
সম্পূর্ণ অংশ: https://aahr2005.blogspot.com/2026/09/blog-post.html | 168 |
| 13 | দুজন লোক রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে হত্যা করতে মদীনায় আসে!
একজনের নাম ছিলো আমির ইবনে তুফাইল, আরেকজনের নাম আরবাদ ইবনে কায়স।
মদীনায় আসার আগে তারা প্ল্যান করে— আমির রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাথে কথা বলে তাঁকে ব্যস্ত রাখবে। আর এই ফাঁকে আরবাদ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে হত্যা করবে (নাউজুবিল্লাহ)!
তারা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে গিয়ে বললো, আসুন, আমরা একটু আড়ালে গিয়ে কথা বলি।
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এমনিতে তাঁর পরিচিত কেউ হলে এই প্রস্তাব গ্রহণ করতেন। তিনি মানুষের প্রাইভেসিকে সবসময় গুরুত্ব দিতেন।
কিন্তু, কোথাকার কোন আগন্তুক এসেই বললো— 'আসুন, আড়ালে যাই' আর তিনি মেনে নিবেন?
তিনি তাদের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন।
তারা মসজিদের একপাশেই কথা শুরু করলো।
আমির ইবনে তুফাইল ছিলো চরম বেয়াদব! সে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে এমনভাবে কথা বলে, ঘটনাটি পড়তে গিয়ে আমি খুঁজছিলাম একজন সাহাবীকে। মনে মনে ভাবছিলাম, ইশ! উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু যদি আশেপাশে থাকতেন!
আমির বললো— আপনাকে একটা প্রস্তাব দিচ্ছি।
আপনি মদীনা শাসন করুন, শহরের দায়িত্ব আপনার। গ্রামের দায়িত্ব আমাকে দিন। আপনি শহরের রাজা, আমি গ্রামের!
তার এই ধৃষ্টতা দেখে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বুঝতে পারলেন সে আসলে কী চাচ্ছে।
প্রস্তাব ফিরিয়ে দিলে আমির বললো, তাহলে এক কাজ করেন, আপনি বেঁচে থাকাবস্থায় না হয় পুরোটাই শাসন করেন। মারা যাবার পর আমাকে দায়িত্ব দিয়ে যান!
অর্থাৎ, ইসলাম গ্রহণের আগেই সে 'খলিফা' হবার দাবি করে!
তার ঔদ্ধত্যপূর্ণ প্রস্তাব শুনে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন— "ক্ষমতার মালিক আল্লাহ। তিনি যাকে ইচ্ছে ক্ষমতা দান করেন।"
এরপর সে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে হুমকি দিলো। বললো— আমার প্রস্তাব গ্রহণ না করলে আমি ঘোড়ার বাহিনী নিয়ে মদীনা আক্রমণ করবো। এটা ঠেকানো সম্ভব না!
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাকে শান্তভাবে উত্তর দিলেন। তার এই হুমকির জবাবে কোনো ব্যবস্থা না নিয়ে আল্লাহর কাছেই বিচার দিলেন— "আল্লাহ! আপনি তাদেরকে দেখে নিন!"
.
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছ থেকে বের হয়ে আমির ইবনে তুফাইল বিরক্ত হয়ে আরবাদকে কী জিজ্ঞেস করলো— "কী ব্যাপার? তুমি তাকিয়ে তাকিয়ে কী দেখছিলে? আমি না বললাম আমি যখন মুহাম্মদকে (ﷺ) কথা বলে ব্যস্ত রাখবো, তুমি হত্যা করবা? কই? দাঁড়িয়ে ছিলা কেন?"
আরবাদ এমন এক কথা বললো, যা শুনে আমিরের চক্ষু চড়কগাছ।
সে বললো, "কোথায় মুহাম্মদ (ﷺ)? আমি তো তাঁকে দেখতে পাইনি? আমি শুধু তোমাকেই দেখলাম একা একা কথা বলছো!"
অর্থাৎ, আল্লাহ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে আরবাদের দৃষ্টির অগোচরে রাখেন। সামনে থাকা সত্ত্বেও সে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে দেখতে পায়নি; যেমনটা হয়েছিলো হিজরতের সময়। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বালি নিক্ষেপ করে মক্কার কাফিরদের দৃষ্টির অগোচরে চলে গিয়েছিলেন; সূরা ইয়াসিনে যেই ঘটনা আল্লাহ উল্লেখ করেন।
.
আমির এবং আরবাদ হতাশ হয়ে মদীনা থেকে বের হলো। উদ্দেশ্য তো পূরণ হলো না, বরং এবার শুনলো এই ভয়ঙ্কর ঘটনা। একজন মানুষ চোখের সামনে কীভাবে গায়েব হয়ে যায়?
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের বদ দুআর কথা মনে আছে?
যারা মদীনায় ঢুকে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের মসজিদে ঢুকে তাকে হুমকি দিয়েছিলো।
যাত্রাপথে আমির ইবনে তুফাইল অসুস্থ হয়ে পড়ে। তার একটা টিউমার দেখা দেয়। সে আশ্রয় নেয় এক মহিলার বাসায়।
কোনো কোনো বর্ণনামতে সেই মহিলা ছিলো একজন প্রস্টিটিউট!
যে কি-না রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে ক্ষমতা দাবি করেছিলো, খিলাফত দাবি করেছিলো, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের বদ দুআর ফলে আমির ইবনে তুফাইল টিউমারে আক্রান্ত হয়ে সেই মহিলার ঘরেই মারা যায়।
আর আরাবাদ ইবনে কায়স? যে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে হত্যা করতে গিয়েছিলো?
সে উটে চড়ছিলো। একটা বজ্রপাত এসে তার ওপর পড়ে। চিন্তা করুন, কেমন ছিলো তার মৃত্যু!
এই ঘটনা আল্লাহ পবিত্র কুরআনের সূরা রাদের ১৩ নাম্বার আয়াতে উল্লেখ করেন। তাফসীর ইবনে কাসিরে বিস্তারিত পাবেন। | 142 |
| 14 | আনাস ইবনু মালিক রদ্বিইয়াল্ল-হু 'আনহু একদিন হয়তো মুহতারামকে একাকী পেয়ে গেলেন।
.
আর সরাসরি আবদার করে ফেললেন,
"কিয়ামতের দিন আপনি আমার জন্য শাফায়াত করবেন ইয়া রাসূলাল্ল-হ্!"
(সল্লাল্ল-হু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম)
.
রাসূলুল্লাহ্ বললেন, ঠিকাছে, করব।
.
-তো আপনাকে সেদিন কোথায় পাব?
:প্রথমে পুলসিরাতের কাছে আসিও।
-যদি না পাই?
:মীযানের এখানে খুঁজিও।
-সেখানেও যদি না পাই?
:হাউজের (কাউসার) নিকট আসবা।
.
কিয়ামত নিয়ে পেরেশান আনাস হয়ত আরও জিজ্ঞেস করতেন,
যদি হাউজের নিকটও.........
.
এর আগেই রাসূলুল্লাহ্ নিজে তাকে শান্ত করলেন।
"হাউজের নিকট আসবা। এই তিন জায়গার কোথাও না কোথাও আমি থাকবই।"
.
কিয়ামতের দিন একদল মানুষ মহান আল্লাহর আরশের শীতল ছায়ায় বিশ্রাম নিতে থাকবে।
.
কতশত মানুষ রাসূলুল্লাহর মোবারক হাত থেকে কাউসারের পানি পান করে আজীবনের জন্য তৃপ্ত হয়ে নিশ্চিন্তে বসে থাকবে।
.
কারো হালত থাকবে ضَاحِکَةٌ مُّسۡتَبۡشِرَۃٌ হাসোজ্জল, প্রফুল্ল।
যারা ডান হাতে আমলনামা পেয়ে যাবে তারাও উৎফুল্লতায় ডুবে থাকবে।
.
.
কিন্তু একটা মানুষের দায়িত্ব তখনও শেষ হবেনা। পুলসিরাত, মীযান, হাউজের কাছে দৌঁড়াদৌড়ি করতে থাকবেন।
.
তিঁনি রাসূলুল্ল-হ্।
সল্লাল্ল-হু আলাইহি ওয়াসাল্লাম!
.
কার জন্য? নিজের জন্য?
না না। আমার জন্য , আপনার জন্য।
.
আমরা আল্লাহর কাছে তাঁর রাসূলের শাফায়াত চাই।
.
আল্লাহর রহমতে যদি এই নিয়ামত পেয়ে যাই, পেয়েই তো আমি আনন্দে আত্মহারা হয়ে যাব। সকল পেরেশানী থেকে মুক্ত হয়ে যাব। উড়তে শুরু করব, লাফালাফি শুরু করে দিব।
.
কিন্তু তখনও কি রাসূলুল্লাহর পেরেশানি কমবে?
তিঁনি তখনও অন্য কারো না কারো জন্য আল্লাহর সুপারিশ করতে থাকবেন।
.
দুনিয়ার নিয়মে একটা সময় মানুষের দায়িত্ব শেষ হয়। রিটায়ারমেন্টে যায়, রেস্ট করে, অলস বিকেল কাটায়, ট্যুরে যায়।
.
কিন্তু এই মানুষটাকে আল্লাহ্ কি এক মহাদায়িত্ব দিয়েছেন। রিসালাতের দায়িত্ব। পুরো উম্মতকে বাঁচানোর দায়িত্ব।
.
দুনিয়ার জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত যে দায়িত্ব কাটায় কাটায় পালন করে গেছেন। কিয়ামতের দিনও করবেন। একজন মু'মিন বান্দার মুক্তি বাকী থাকা পর্যন্ত তার দায়িত্ব শেষ হবেনা।
.
আপনার জন্য আমার পিতা-মাতার কুরবান , ইয়া রসূলাল্ল-হ্!
.
اللَّهُمَّ صَلِّ وَسَلِّمْ وَبَارِكْ عَلَى نَبِيِّنَا مُحَمَّدٍ | 119 |
| 15 | নবীজীবনের সবচেয়ে কষ্টের দিনগুলো
.
নবীজি (সা.)-এর পবিত্র জীবন মানেই চরম ত্যাগ আর ধৈর্যের এক মহাকাব্য। আল্লাহর দ্বীন প্রচার করতে গিয়ে তাঁকে কী পরিমাণ যে কষ্ট সহ্য করতে হয়েছে, তা ভাবলেও চোখ ভিজে আসে।
.
সীরাতের কিতাব 'আর-রাহীকুল মাখতূম' খুললেই তাঁর জীবনের সবচেয়ে বেদনাদায়ক কিছু দিনের কথা চোখের সামনে ভেসে ওঠে:
.
১. তায়েফের সেই রক্তঝরা দিন
আয়েশা (রা.) একবার রাসূল (সা.)-কে জিজ্ঞেস করেছিলেন, উহুদ যুদ্ধের চেয়েও কি কঠিন কোনো দিন আপনার জীবনে এসেছে? নবীজি উত্তরে তায়েফের সেই মর্মান্তিক দিনের কথা বলেছিলেন।
.
নবুওয়াতের দশম বছরে তিনি যখন তায়েফের মানুষের কাছে দ্বীনের দাওয়াত নিয়ে গেলেন, তখন তারা শুধু তাঁকে ফিরিয়েই দিল না, বরং শহরের দুষ্ট ছেলেদের লাগিয়ে দিল পেছনের দিকে। তারা নবীজির দিকে বৃষ্টির মতো পাথর ছুড়তে শুরু করল।
.
পাথরের আঘাতে তাঁর পবিত্র শরীর মোবারক ভেসে গেল রক্তে! জুতো মোবারক রক্তে থিকথিকে হয়ে পায়ের সাথে আটকে গেল। দুনিয়ার ইতিহাসে এর চেয়ে কষ্টের আর কী হতে পারে!
.
২. আমুল হুযন বা শোকের বছর
নবুওয়াতের দশম বছরটাকে বলা হয় ‘আমুল হুযন’ বা শোকের বছর। একটানা ব্যবধানে নবীজি (সা.) তাঁর জীবনের সবচেয়ে বড় দুই অবলম্বনকে হারালেন। প্রথমে চলে গেলেন চাচা আবু তালিব, যিনি মক্কার কুরাইশদের হাত থেকে তাঁকে আগলে রাখতেন।
.
এর ঠিক আড়াই মাস পর পৃথিবী ছেড়ে চলে গেলেন পরম ভালোবাসার জীবনসঙ্গী খাদিজা (রা.), যিনি ঘরের ভেতর সব সময় তাঁকে সান্ত্বনা আর সাহস জুগাতেন। এই জোড়া ধাক্কায় নবীজির বুকটা খালি হয়ে গিয়েছিল।
.
৩. শী'বে আবু তালিবে অবরুদ্ধ জীবন
কুরাইশদের অমানবিক উৎপীড়নে নবীজির পরিবারকে দীর্ঘ তিন বছর মক্কার এক গিরিপথে অবরুদ্ধ থাকতে হয়েছিল। কোনো খাবার বা বাইরের মানুষের সাথে যোগাযোগ ছিল না। ক্ষুধা মেটাতে তাঁদের গাছের পাতা আর চামড়া চিবিয়ে দিন কাটাতে হয়েছে। কী ভয়ানক সেই দিনগুলো!
.
এত কষ্টের পরেও নবীজি কখনো আল্লাহর ওপর থেকে ভরসা হারাননি। সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। | 115 |
| 16 | ভ|রতের ঘটনা
মুসলিম মেয়েটা নিজ ইচ্ছায় হি/ন্দু ছেলেটাকে (রাখি) বেঁধে দেয়। বর্তমানে মুসলিম মেয়েদের অবস্থায় | 98 |
| 17 | খুব সম্ভবত আপনি এই দেশে আবার একটা দুর্ভিক্ষ দেখাবেন ৭৪ এর মত।
জনগণের ভোটে ক্ষমতায় আসছেন, আর সার্ভ করতেছেন আমলাদের।
দেশের সিন্ডিকেট ভাঙতে পারেন নাই।
দ্রব্যমূল্যের দাম কমাইতে পারেন নাই।
জ্বালানি খাত ঠিক করতে পারেন নাই।
আরও ক্ষমতায় এসে ৬ মাসে সবকিছুর দাম বাড়াইছেন একাধিকবার।
ব্রয়লার মুরগির দাম ১৯৫ টাকা, পোলাওয়ের চাল মাত্র ছয় মাসে প্রায় ১০০ টাকা বেড়েছে।
সাত-আট মাস ধরে কাঁচা সবজির দাম সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে।
বিদ্যুৎ নাই, গ্যাস নাই, তেল নাই।
বিদেশী ঋণের বোঝা, ডলার সংকট এগুলো নিয়ে দেশ চালাচ্ছেন।
আর বসে বসে জনগণের পেটে লাথি মারতেছেন।
এর মধ্যেই অনুমোদন দিলেন নবম পে-স্কেলের।
সর্বোচ্চ বেতন ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা।
সর্বনিম্ন বেতন ২০ হাজার টাকা।
সরকারি আমলাদের বেতন বাড়িয়েছেন ১০০% এর বেশি।
এই পে-স্কেলের খবর শুনেই সিন্ডিকেট আবার বাজারে দ্রব্য মূল্যের দাম বাড়াবে।
রাজস্ব খাত থেকে সরকারি আমলাদের বেতন দিবেন নাকি আপনার ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড এসবের টাকা দিবেন?
আর রাজস্ব খাতে এতো টাকা আসবে কোত্থেকে?
দিনমজুর, শ্রমিক, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী আর বেসরকারি চাকরিজীবী আর সাধারণ মানুষের পকেট থেকে।
অথচ তাদের ইনকাম বাড়েনি এক টাকাও।
মানে একজন অষ্টম শ্রেণী পাশ করে ২০ গ্রেডের চাকরিতে জয়েন করবে ২০ হাজার টাকার বেতনে।
আর একজন গ্রেজুয়েশন শেষ করে প্রাইভেটে জয়েন করবে ১৫ হাজার টাকা বেতনে।
ফাইজলামি পাইছেন?
দেশের অর্থনীতি ঠিক নাই।
এর মাঝেই অর্থনীতিতে হঠাৎ করে বিপুল পরিমাণ বেতন বৃদ্ধি কখনোই বিনামূল্যে আসে না।
এর মূল্য শেষ পর্যন্ত জনগণকেই পরিশোধ করতে হবে।
দেশে সরকারি চাকরিজীবী কয়েক লাখ।
কিন্তু সাধারণ মানুষ কোটি কোটি।
বেতন বাড়াইছেন একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর।
কিন্তু মূল্যস্ফীতির বোঝা পুরো জাতির মাথায় দিচ্ছেন।
এটাই সবচেয়ে বড় বৈষম্য।
সরকারি খাতের আয় ১০০ থেকে ১৪২ শতাংশ পর্যন্ত বাড়াইছেন,
অথচ বেসরকারি খাতের মানুষের আয় একই জায়গায় দাঁড়িয়ে আছে।
এভাবে বৈষম্য বাড়তে থাকলে সামাজিক অস্থিরতা অনিবার্য।
দেশ এমনিতেই ঋণের ভারে পিঠ কুঁজো হয়ে গেছে।
নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নে আরও ঋণ নিতে হবে।
দেশি ঋণ, বিদেশি ঋণ।
আর সেই ঋণের সুদ শোধ করবে কে?
আবারও সাধারণ মানুষ।
ভ্যাট দিয়ে, ট্যাক্স দিয়ে।
নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাড়তি দাম দিয়ে।
সরকারের রাজস্ব আয়ের বড় অংশ যদি শুধু বেতন-ভাতাতেই চলে যায়।
© Aminul Islam | 116 |
| 18 | ওহে, যার যৌবন ফুরিয়ে গিয়েছে!
ওহে, যার আমলনামা স্খলনে ভরে গিয়েছে!
তুমি কি জানো না— চামড়াগুলোকে সাক্ষ্য দিতে বলা হলে সেগুলো কথা বলে উঠবে?
তুমি কি জানো না— জা*হান্নামটা পাপীদের জন্যই সৃষ্টি করা হয়েছে?
— ইমাম ইবনুল জাওযী (রহিমাহুল্লাহ)
[সূত্র : আত-তাবসিরাহ, ১/৮৩] | 110 |
| 19 | আপনি তাদেরকে প্রশ্ন করলে অবশ্যই তারা বলবে, আমরা তো আলাপ-আলোচনা ও খেল-তামাশা করছিলাম। বলুন, তোমরা কি আল্লাহ, তাঁর আয়াতসমূহ ও তাঁর রাসূলকে বিদ্রুপ করছিলে?
তোমরা ওজর (অজুহাত) পেশ করোনা, তোমরা তো ঈমান আনার পর কু*ফরী করেছো। আমি তোমাদের মধ্যে কোনো দলকে ক্ষমা করলেও অন্য দলকে শাস্তি দেব— কারণ তারা অপরাধী।
— সূরা আত-তাওবা, আয়াত : ৬৫-৬৬ | 127 |
| 20 | ভা*র*তের পতি*তালয়ে পাচার হওয়ার আগে এদের ঘুম ভাঙবেনা! | 114 |
