আগামীকাল বাদ জুমা দেশব্যাপী
দোয়ার আহ্বান জানিয়েছে
হেফাজতে ইসলাম
হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমীর আল্লামা শাহ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী দেশের চলমান উদ্বেগজনক পরিস্থিতিতে আগামীকাল বাদজুমা দেশব্যাপী দোয়া করার আহ্বান জানিয়েছেন । আজ (১ আগষ্ট) বৃহস্পতিবার বা'দ আসর জামিআতুল মানহাল উত্তরায় মহাসচিব আল্লামা শায়েখ সাজিদুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে হেফাজত আমীর ভার্চুয়ালি অংশগ্রহণ করে এ আহ্বান জানান । তিনি বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে বৈষম্যবিরোধী কোটা সংস্কার ছাত্র আন্দোলনকে ঘিরে দেশব্যাপী নিরীহ ছাত্রদের সাথে প্রশাসনের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে শত শত ছাত্র-জনতা নিহত হয়েছেন, হাজার হাজার মানুষ আহত হয়েছেন। যৌক্তিক এ আন্দোলনকে দমন করার জন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কর্তৃক ছাত্র জনতার ওপর বলপ্রয়োগ ও বেপরোয়া নির্যাতন চালানো হচ্ছে। এছাড়া বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী ও সাধারণ জনতাকে নির্বিচারে গ্রেপ্তার করা হচ্ছে। আমি এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।
আমীরে হেফাজত আরও বলেন, চলমান নাজুক পরিস্থিতিতে আসুন আমরা সকলেই আমাদের কৃতকর্মের জন্য আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাই। আল্লাহ তওবাকারীদের ভালোবাসেন। আমি দেশের সকল মসজিদের ইমাম ও খতীবদেরকে কূনুতে নাজেলা পড়ে দেশ ও জাতির কল্যানে এবং বিচার বহির্ভূত জুলুম থেকে নিরস্ত্র মানুষকে হেফাজতের জন্য দু’আ করার জন্য বিশেষভাবে আহবান জানাচ্ছি।
বৈঠকে সভাপতির বক্তব্যে মহাসচিব আল্লামা শায়েখ সাজিদুর রহমান গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, নিয়ন্ত্রিত গণমাধ্যম ও ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে সমগ্র দেশকে গোটা বিশ্ব থেকে বিচ্ছিন্ন করে নির্মম ও নৃশংস হত্যাকাণ্ডের যে কালো ইতিহাস রচনা করা হয়েছে, তার পূঙ্খানুপুঙ্খ তথ্য তাৎক্ষণিক জানা সম্ভব হচ্ছিল না। পরবর্তিতে বিভিন্ন মিডিয়ার কল্যাণে যেসব তথ্য উঠে এসেছে, সেগুলো রীতিমতো রোমহর্ষক ও মানবাধিকারের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। এ পরিস্থিতিতে দেশের সর্বত্র আতঙ্কময় ভয়াবহ এক অরাজক পরিস্থিতি বিরাজ করছে। দেশে নেমে এসেছে চরম বিপর্যয়।
তিনি বলেন, ইসলামে কুরআন হাদিসের আইন বহির্ভূত সব রকম হত্যা, রক্তপাত, অরাজকতা, সন্ত্রাস ও সহিংসতাকে কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। আল্লাহ তাআ'লা বলেন, কেউ যদি কোনো মুসলমানকে ইচ্ছাকৃতভাবে হত্যা করে, তাহলে তার শাস্তি চিরস্থায়ী জাহান্নাম। আর আল্লাহ তার প্রতি ক্রোধাণ্বিত হবেন, তাকে লা'নত করবেন এবং তার জন্য তিনি মহাশাস্তি প্রস্তুত করবেন। (সূরা নিসা- আয়াত নং ৯৩) আরেক আয়াতে আল্লাহ বলেন, নরহত্যা বা পৃথিবীতে ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ডের অপরাধে অভিযুক্ত ব্যক্তি ছাড়া কেউ কাউকে হত্যা করলে সে যেন দুনিয়ার সমগ্র মানবগোষ্ঠীকে হত্যা করল; আর কেউ কারও প্রাণ রক্ষা করলে সে যেন পৃথিবীর সমগ্র মানবগোষ্ঠীকে প্রাণে রক্ষা করল। (সূরা মায়িদাহ-আয়াত নং ৩২) হত্যা এমন একটি জঘন্য অপরাধ, যা আল্লাহর কাছে কঠিন ও মারাত্মক গুনাহ হিসেবে বিবেচিত এবং এর শাস্তি অত্যান্ত ভয়ানক। আল্লাহ তাআ'লা এই ব্যাপারে আমাদেরকে কুরআনুল কারিমে সতর্ক করেছেন।
তিনি আরো বলেন, সরকার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল- ছাত্রদের কাউকে গ্রেপ্তার ও হয়রানি করা হবে না, মামলাও দেবে না; কিন্তু সারা দেশে ছাত্রদের বিরুদ্ধে মামলা দেওয়া হচ্ছে এবং নির্বিচারে গ্রেপ্তার ও হয়রানি করা হচ্ছে। একদিকে সরকার সহানুভূতির কথা বললেও অন্যদিকে ছাত্র জনতার ওপর হামলা ও মামলা অব্যাহত রেখেছে। আমরা সরকারের এই আচরণের তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি। দেশের এই উদ্ভূত পরিস্থিতি থেকে উত্তোরণের জন্য অবিলম্বে সরকারকে সব ধরনের রাজনৈতিক অপকৌশল, নির্যাতন, নিপীড়ন এবং অহেতুক হামলা ও মিথ্যা মামলার হয়রানি বন্ধ করতে হবে।
সরকারের প্রতি তিনি জোর দাবি জানিয়ে আরো বলেন, দ্রুত সময়ে সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলে দেশের পরিস্থিতি স্বাভাবিক ও স্থিতিশীল করুন। সাথে সাথে ছাত্রদের যৌক্তিক দাবিগুলো মেনে তা বাস্তবায়ন করার মাধ্যমে দেশে শান্তি শৃংখলা ফিরিয়ে আনুন। কোটা সংস্কার ছাত্র আন্দোলনে দেশজুড়ে যেই নির্মম নির্যাতন ও হত্যাকান্ডের ঘটনা ঘটেছে, তার নিরেপক্ষ তদন্ত নিশ্চিত করুন। সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনানুগ ব্যবস্থা নিন। এছাড়া এখন পর্যন্ত যারা নিখোঁজ রয়েছে তাদের সন্ধান দিন এবং জনসম্মুখে দ্রুত হাজির করুন।
তিনি বলেন, গত কয়েকদিনে দেশ ও জাতির জান-মালের যে সীমাহীন ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তা বর্ণনা করা অসাধ্য ব্যাপার। এই সংঘাত এবং অরাজকতা এখনই বন্ধ করতে হবে। কালক্ষেপণ করার বিন্দুমাত্র সুযোগ নেই। মনে রাখতে হবে, এ দাবি এখন শুধুমাত্র ছাত্রদের দাবি নয়। এটা আজ জাতীয় দাবিতে পরিণত হয়েছে। তাই আমরা সরকার প্রধানসহ দায়িত্বশীল মহলের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানাচ্ছি, আপনারা এ বিষয়ে সর্বোচ্চ বিনম্রতার পরিচয় দিয়ে সর্বাগ্রে ছাত্র জনতার যৌক্তিক দাবিগুলো মেনে নিন। এছাড়া প্রশাসনের দায়িত্বরত ব্যক্তিদের প্রতি আহবান থাকবে, বিক্ষোভকারী ছাত্র জনতার সাথে সর্বোচ্চ সহনশীল আচরণ করুন।