ব্যথিত মনে আরজি -------
মা ন হা জি / উগ্র ইত্যাদি ট্যাগ দিতে আল্লাহকে ভয় করি, ইকটু বিবেকের সাথে বুঝাপড়া করি।
আমাদের অনেককেই নিজ মাসলাক বিরোধীদের কথায় কথায় ট্যাগ দিতে বেশ অভ্যস্হ। উম্মাহ দরদী এসব উলামাদের তথ্য প্রমান ছাড়া ট্যাগ দিয়ে জালিমের রোষনলে ঠেলে দিয়ে দ্বীনের কি ফায়দা? বরং অনেক সময় একজন আলেমের জীবন ধ্বংশ করে দিতে যথেষ্ট।
কয়েক বছর আগে মুশতাকুন্নবী ভাই যখন গুম হয়েছিলন, ওনার খোঁজে সর্বমহলে যোগাযোগ করে প্রশাসন ওনার ব্যাপারে যে তথ্য পেশ করেছিলো,রীতিমত গা শিহরে উঠার মত।
শাইখুল হাদীস আল্লামা আশরাফ আলী সা রহ এর মাধ্যমে সরকারের সর্বোচ্চ মহলে কথা হয়। আশরাফ আলী সা রহ এর কাছে তিনি বলেন,
" হুজুর, তদন্তের স্বার্থে প্রয়োজনে গোয়েন্দাদের কাছে কিছুদিন থাকা হতে পারে, তবে প্রশাসনকে আমি বলে দিয়েছি, বড় বড় সব উলামারা উনার ব্যাপারে আমাকে ফোন দিয়েছে, উনি যেন জীবিত ফিরত আসেন।"
এই কথা শুনে সেদিন আমরা অঝোরে কেঁদেছিলাম। হয়তো মুশতাকুন্নবী ভাইকে আর ফিরত পাবোনা। আলহামদুলিল্লাহ সারাদেশের উলামা- আওয়ামের দুআয় তিনি আমাদের মাঝে ফেরত এসেছেন। জামিন পেয়ে প্রথমদিনই অশ্রুকন্ঠে আমাকে বলেছিলেন, ভাই ধারনাও ছিলনা, আপনাদের সাথে আবার কোনদিন দেখা হবে।
কল্পনা করতে পারি? প্রশাসন কি মনে করেছিলো?উনার ব্যাপারে প্রশাসনে জঘন্য ভুল তথ্যগুলো কারা দিয়েছিলো?
তিনি হয়তো আল্লাহর মেহেরবানীতে খালাসী পেয়েছেন, কিন্তু আরো অসংখ্য উলামা?? সন্দীপের হযরত রহ এর জামাতা মাদানীনগর মাদরাসার আকবর সা যিনি রমনা বটমুলের মামলায় ফাঁসির দন্ডপ্রাপ্ত, অথচ এর আগে তিনি নাকি রমনা বটমুলের নামও শুনেননি।
এর দায় কি এড়াতে পারবো?
আবু রেজা নদভী প্রতিশোধের আগুনে ক্ষমতার দাপটে বাবুনগরী রহ. সহ হেফাযতের অনেক নেতৃবৃন্দ নিয়ে কি না করেছে? সংসদে তার বক্তব্য ষড়যন্ত্রের গভীরতার ইংগিত পাওয়া যায়।
সেই সময় " হেফাযতে মানহাজি গ্রুপ"৷ শিরোনামে কয়েকটি বাম টিভি মুফতী মুশতাকিন্নবী সা, হাসান জামিল সা সহ কয়েকজনকে মান হা জি দের লিডার দাবী করে কি জঘন্য ষড়যন্ত্রমুলক সংবাদ প্রচার করেছিলো।
প্রশ্ন হলো এই পরিভাষা ও মিথ্যা তথ্য কারা সাপ্লাই করেছিলো ঘৃন্য স্বার্থে!
এই ঝুঝুর ভয়ে কত আলেম প্রশাসনের কঠিন রোষানলে পড়েছেন, কত আলেম ও তাদের পরিবারের জীবন শেষ, এর জবাব আল্লাহর কাছে দিতে হবেনা?
সন্ত্রাস দমন অন্তরালে তা/লে/বা/ন দের বিশ বছর পাহাড়ের গুহায় কি কুরবানীর জীবন দিতে হয়েছিলো। এর সাথে মিডিয়ার অপপ্রচারে কত কিছুর ট্যাগ নিয়ে কত অপমানজনক! সময় কাটিয়েছেন। অথচ আজ বিশ্বে তারাই ইসলামের পতাকা উঁচু করে দেখিয়েছে।
আর আমাদের অনেকে আতংকে আছি, না জানি এ দেশ আ ফ গা ন ফিলিস্হিন হয়ে যায়!
কে না জানে, আন্তার্জাতিক পরিমন্ডলে তথাকথিত টেরোরিষ্ট দমনের নামে কিছু পদক্ষেপ সরকারকে দেখাতে হয়। আমরা নিজ মাসলাক বিরোধীদের নাম মা /ন/ হা /জি বলছি, আর প্রশাসন তা লুফে নিচ্ছে। আহ!
অথচ যারা এই ট্যাগ দিচ্ছে, তারা কোন তথ্যই পেশ করতে পারবেনা। এমনকি মা ন হা জি র সংজ্ঞাটাও ভালভাবে জানেননা!
প্রশাসনের রোষানলে যারা পড়ে গেছেন, তাদেরকে রক্ষা করা ছিলো আমাদের মানবতা, ইমানী দায়িত্ব।সেখানে তথ্য প্রমান ছাড়া ট্যাগ দেওয়া কতবড় অমানবিক ও আদর্শহীনতার পরিচয় দিচ্ছি, তা ভেবে দেখা দরকার।
কাহারো কোন বিষয়ে অভিযোগ থাকলে দালিলিক আলোচনা হতে পারে, কিন্তু মাজলুমীনদের আরো মাজলুমিয়্যাতের অভিশাপ বহন করতে পারবো তো?
মুফতী হারুন ইযহারকে রিমান্ডে প্রশ্নোত্তরের পর খোদ প্রশাসনই আশ্চর্য হয়ে জিজ্ঞাসা করতেছিলো -
" অনেক বিষয় তো আপনার সাথে আলাপের পর পরিস্কার হচ্ছে। তাহলে আপনাদের লোকেরাই আপনাদের মানহাজি বলছে কেন? ""
জেলের ভিতরেই হারুন ভাই শীর্ষ একজন আলেমকে বলেছিলেন, আপনিও নাকি গোয়েন্দাদের কাছে আমাকে মা ন হা জি বলে স্বীকৃতি দিয়েছেন? কেন ভাই? জবাবে তিনি বললেন, ভাই লেক মুখে শুনে বলেছি। বাস্তবতা জানিনা।
হারুন ভাই এর ব্যাপারে প্রশাসন পরিস্কার হওয়ার কারনে অনেক কারাবন্দীদের ব্যাপারে তিনি কার্যকর সুপারিশ এবং সহযোগীতা করতে পেরেছেন।
এমন অসংখ্য উম্মাহ দরদী যোগ্য উলামাদের আমরা অভিযুক্ত বানাচ্ছি, জাতির সামনে তাদেরকে হেয় করার অপচেষ্টায় করছি । অথচ ইলম তাকওয়া আর দ্বীনি চেতনা ও কুরবানীতে তাদের কাছেও পৌঁছতে পারবেনা।
আল্লাহ তাআলা আকাবিরও আসলাফের আদর্শ ও চেতনা নিয়ে চলার তাওফীক দিন। আমীন।