en
Feedback
দরসগাহ

দরসগাহ

Open in Telegram
1 985
Subscribers
No data24 hours
No data7 days
No data30 days
Posts Archive
আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, এমন এক যুগ আসবে, যখন মানুষ পরোয়া করবে না যে, সে কোথা হতে সম্পদ উপার্জন করল, হালাল হতে না হারাম হতে। সহিহ বুখারী, হাদিস নং ২০৫৯

আবূ হুরায়রাহ (রাঃ), থেকে বর্ণিতঃ রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেনঃ "যে ব্যক্তি বিষপান করে আত্মহত্যা করলো, সে অনন্তকালের জন্য জাহান্নামী হয়ে এই বিষ গলাধঃকরণ করতে থাকবে।" সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস নং ৩৪৬০ হাদিসের মান: সহিহ হাদিস

আবু হুরায়রাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ "আল্লাহ এমন কোন রোগ পাঠাননি যার প্রতিষেধকের ব্যবস্থা করেননি।" সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস নং ৩৪৩৯ হাদিসের মান: সহিহ হাদিস

উসামাহ বিন শরীক (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ আমি উপস্থিত থাকা অবস্থায় বেদুইনরা নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কে জিজ্ঞাসা করলো, এতে কি আমাদের গুনাহ হবে, এতে কি আমাদের গুনাহ হবে? তিনি বলেনঃ "আল্লাহর বান্দাগণ! কোন কিছুতেই আল্লাহ গুনাহ রাখেননি, তবে যে ব্যক্তি তার ভাইয়ের ইজ্জতহানি করে তাতেই গুনাহ হবে।" তারা বললো, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমরা যদি (রোগীর) চিকিৎসা না করি তবে কি আমাদের গুনাহ হবে? তিনি বলেনঃ "আল্লাহর বান্দাগণ! তোমরা চিকিৎসা করো। কেননা মহান আল্লাহ বার্ধক্য ছাড়া এমন কোন রোগ সৃষ্টি করেননি যার সাথে প্রতিষেধকেরও ব্যবস্থা করেননি (রোগও রেখেছেন, নিরাময়ের ব্যবস্থাও রেখেছেন)।" তারা বললো, ইয়া রাসূলাল্লাহ! বান্দাকে যা কিছু দেয়া হয় তার মধ্যে উত্তম জিনিস কী? তিনি বলেনঃ "সচ্চরিত্র।" সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস নং ৩৪৩৬ হাদিসের মান: সহিহ হাদিস

Repost from Manzur's posts
"তাওবাহ কবুল হওয়ার আলামত হচ্ছে: ১) ব্যক্তি অতীতে যে পাপ করেছে তা ভেবে কাঁদবে, ২) নতুন করে গুনাহ করতে ভয় পাবে, ৩) খারাপ সঙ্গীদের বর্জন করবে ও ৪) উত্তম ও নেককার সঙ্গীদের সাহচর্য অবলম্বন করবে।" . ~ ইমাম শাকীক বিন ইব্রাহীম আল বালখী [রাহ.] . . [ ইমাম যাহাবী (রাহ.), সিয়ারু আ'লামিন নুবালা: ৯/৩১৫, মুওয়াসসাসাতুর রিসালাহ, বৈরুত,লেবানন, ১৯৮৫ ঈ.] p: 252

প্রসঙ্গ: দান করে তা পুনরায় ফেরত নেওয়া (১) উমার ইবনুল খাত্তাব (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন- "তুমি তোমার কৃত দান ফেরত নিও না।" সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস নং ২৩৯০ হাদিসের মান: সহিহ হাদিস (২) আবদুল্লাহ ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ "যে ব্যক্তি দান করে তা পুনরায় ফেরত নেয়, সে কুকুরের সমতুল্য, যে বমি করে পুনরায় ফিরে এসে তা গলাধঃকরণ করে।" সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস নং ২৩৯১ হাদিসের মান: সহিহ হাদিস দরসগাহ

Edit, Sign and Share PDF files on the go. Download Acrobat Reader for mobile: https://adobeacrobat.app.link/Mhhs4GmNsxb

photo content

আল্লাহর প্রতি ঈমান: মন্দ বিষয়কে আল্লাহর সাথে সম্পর্কযুক্ত না করা বান্দাদের প্রতি আল্লাহর অপরিসীম রহমত ও পূর্ণ হিকমতের কারণে কোন খারাপ কাজকেই আল্লাহর সাথে সম্পর্কযুক্ত করা যায় না। রসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন:  «والشر ليس إليك» “খারাপ তোমার দিকে বর্তাবে না” আল্লাহর ফায়সালা নিজে কখনো খারাপ হতে পারে না। কেন না ফায়সালাটির পিছনে কোন না কোন কল্যাণ ও হিকমত নিহিত আছে। অনিষ্টতা বা ত্রুটি মূলত আল্লাহর ফায়সালার নয় বরং ফায়সালাকৃত জিনিস বা বিষয়টির সাথে সম্পৃক্ত। এর প্রমাণ হচ্ছে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর বাণী :  «وقني شرّ ما قضيت» “হে আল্লাহ! তোমার ফায়সালাকৃত জিনিসের অনিষ্টতা হতে আমাকে বাঁচাও”। [আবু দাউদ]। এ বাক্যটি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হাসান [রাদিয়াল্লাহু আনহু] কে দু‘আয়ে কুনুতের অংশ হিসেবে শিখিয়েছেন। এখানে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অনিষ্ট কথাটি আল্লাহ তা‘আলার ফায়সালাকৃত জিনিসের সাথে সম্পৃক্ত করেছেন। তাই অনিষ্টতা বা দোষ মূলত ফায়সালাকৃত বিষয়ের। তবে নিছক অনিষ্টতাই এর মুল কথা নয়। এক দিক থেকে খারাপ হলেও আবার অপর দিক থেকে এর মধ্যে কোন না কোন কল্যাণ নিহিত আছে। দুনিয়ার বিপর্যয় যেমন: দুর্ভিক্ষ, রোগ-ব্যধি, অভাব-অনটন, ভয়-ভীতি ও আতংক ইত্যাদি খারাপ বটে কিন্তু অন্য দিক থেকে বিচার করলে এগুলোর মধ্যেও কল্যাণ খুঁজে পাওয়া যাবে। আল্লাহ তা‘আলা ইরশাদ করছেন: ﴿ظَهَرَ ٱلۡفَسَادُ فِي ٱلۡبَرِّ وَٱلۡبَحۡرِ بِمَا كَسَبَتۡ أَيۡدِي ٱلنَّاسِ لِيُذِيقَهُم بَعۡضَ ٱلَّذِي عَمِلُواْ لَعَلَّهُمۡ يَرۡجِعُونَ ٤١﴾ [الروم: 41] “লোকদের নিজেদের কৃতকর্মের দরুণ স্থলে ও জলে বিপর্যয়ের সৃষ্টি হয়েছে। যেন তাদেরকে নিজেদের কৃতকর্মের স্বাদ ভোগ করাতে পারেন। এর ফলে হয়তো তারা [আল্লাহর পথে] ফিরে আসবে।” [রূম : ৪১] চোরের হাত কাটা, ব্যাভিচারীর রজম অর্থাৎ পাথর মেরে মৃত্যুদণ্ড দেয়া, চোর এবং ব্যভিচারীর নিজের জন্য অনিষ্টকর হতে পারে। কেননা চোর তার হাত হারাচ্ছে আর ব্যভিচারী তার জীবন হারাচ্ছে। কিন্তু অন্য দৃষ্টিকোন থেকে চিন্তা করলে দেখা যাবে এর মধ্যেও কল্যাণ নিহিত রয়েছে। আর তা হচ্ছে, তাদের উভয়ের পাপের কাফফারা হয়ে যাচ্ছে। এর ফলে তাদের জন্য দুনিয়া ও আখেরাতের শাস্তি একত্রিত করা হবে না। অন্য দৃষ্টিকোণ থেকে এর আরো একটি কল্যাণময় দিক রয়েছে। তা হচ্ছে, এ বিধান প্রয়োগের মাধ্যমে মানুষের ধন-সম্পদ, মান-ইজ্জত, এবং বংশ রক্ষা করা সম্ভব হচ্ছে। মূল- শাইখ সালিহ আল উসাইমিন রহি. বিশেষ কৃতজ্ঞতা- www.islamhouse.com

আল্লাহর প্রতি ঈমান (পর্ব ৬) আমরা ঈমান আনি যে, সিদ্ধান্ত ও কোন খবর দানের ব্যাপারে আল্লাহর কালামই হচ্ছে সবচেয়ে বেশি সত্য ও সঠিক এবং পূর্ণতার দাবিদার। হুকুম আহকামের ক্ষেত্রে তা সবচেয়ে বেশি ন্যায়ভিত্তিক ও ইনসাফপূর্ণ। বর্ণনার দিক থেকে তা সবচেয়ে বেশি সুন্দর। আল্লাহ তা‘আলা বলেন: “তোমরা রবের কথা সত্যতা ও ইনসাফের দিক থেকে পূর্ণতা লাভ করেছে।” [আন‘আম : ১১৫] “বস্তুত আল্লাহর কথা অপেক্ষা অধিক সত্য কথা আর কার হতে পারে?” [নিসা : ৮৭]

আল্লাহর প্রতি ঈমান (পর্ব ৫) আল্লাহ কথা বলেন আমরা ঈমান আনি যে, আল্লাহ তা‘আলা কথা বলেন যা বলেতে চান, যখন চান এবং যেভাবে চান।  “আল্লাহ মূসার সাথে কথা বলেছেন, যেভাবে কথা বলা হয়ে থাকে।” [নিসা : ১৬৪] “যখন মূসা আমার নির্দিষ্ট সময়ে এসে পৌছলো এবং তার রব তার সাথে কথা বললেন”। [আ‘রাফ : ১৪৩] “আমি মূসাকে তুর [পাহাড়] এর ডান দিক থেকে ডাকলাম এবং গোপন কথা বার্তার দ্বারা তাকে নৈকট্য দান করলাম।” [মারইয়াম: ৫২]

আল্লাহর প্রতি ঈমান (পর্ব ৪) আল্লাহ আলিমুল গায়েব আমরা ঈমান আনি যে,  “গায়েবের সব চাবিকাঠি তাঁরই কাছে রয়েছে। তিনি ছাড়া আর কেউ তা জানে না। স্থল ও জল ভাগে যা কিছু আছে তার সবই তিনি জানেন। বৃক্ষচ্যুত একটি পাতাও এমন নেই যার সম্পর্কে আল্লাহ জানেন না। যমীনের অন্ধকারে কোন শস্য, কোন আর্দ্র, কোন শুষ্ক জিনিস সবই এক সুস্পষ্ট কিতাবে লিপিবদ্ধ রয়েছে।” [আন‘আম : ৫৯] আমরা ঈমান আনি যে, “কেয়ামতের সময়ের জ্ঞান আল্লাহরই কাছে রয়েছে। তিনিই বৃষ্টি বর্ষণ করেন। তিনিই জানেন গর্ভে কী আছে। কেউ জানে না আগামী কাল সে কী কামাই করবে। না কেউ জানে তার মৃত্যু হবে কোন যমীনে। আল্লাহই সব কিছু জানেন এবং সব বিষয়েই তিনি ওয়াকিফহাল।” [লোকমান : ৩৪]

আল্লাহর প্রতি ঈমান: মন্দ বিষয়কে আল্লাহর সাথে সম্পর্কযুক্ত না করা বান্দাদের প্রতি আল্লাহর অপরিসীম রহমত ও পূর্ণ হিকমতের কারণে কোন খারাপ কাজকেই আল্লাহর সাথে সম্পর্কযুক্ত করা যায় না। রসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন:  «والشر ليس إليك» “খারাপ তোমার দিকে বর্তাবে না” আল্লাহর ফায়সালা নিজে কখনো খারাপ হতে পারে না। কেন না ফায়সালাটির পিছনে কোন না কোন কল্যাণ ও হিকমত নিহিত আছে। অনিষ্টতা বা ত্রুটি মূলত আল্লাহর ফায়সালার নয় বরং ফায়সালাকৃত জিনিস বা বিষয়টির সাথে সম্পৃক্ত। এর প্রমাণ হচ্ছে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর বাণী :  «وقني شرّ ما قضيت» “হে আল্লাহ! তোমার ফায়সালাকৃত জিনিসের অনিষ্টতা হতে আমাকে বাঁচাও”। [আবু দাউদ]। এ বাক্যটি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হাসান [রাদিয়াল্লাহু আনহু] কে দু‘আয়ে কুনুতের অংশ হিসেবে শিখিয়েছেন। এখানে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অনিষ্ট কথাটি আল্লাহ তা‘আলার ফায়সালাকৃত জিনিসের সাথে সম্পৃক্ত করেছেন। তাই অনিষ্টতা বা দোষ মূলত ফায়সালাকৃত বিষয়ের। তবে নিছক অনিষ্টতাই এর মুল কথা নয়। এক দিক থেকে খারাপ হলেও আবার অপর দিক থেকে এর মধ্যে কোন না কোন কল্যাণ নিহিত আছে। দুনিয়ার বিপর্যয় যেমন: দুর্ভিক্ষ, রোগ-ব্যধি, অভাব-অনটন, ভয়-ভীতি ও আতংক ইত্যাদি খারাপ বটে কিন্তু অন্য দিক থেকে বিচার করলে এগুলোর মধ্যেও কল্যাণ খুঁজে পাওয়া যাবে। আল্লাহ তা‘আলা ইরশাদ করছেন: ﴿ظَهَرَ ٱلۡفَسَادُ فِي ٱلۡبَرِّ وَٱلۡبَحۡرِ بِمَا كَسَبَتۡ أَيۡدِي ٱلنَّاسِ لِيُذِيقَهُم بَعۡضَ ٱلَّذِي عَمِلُواْ لَعَلَّهُمۡ يَرۡجِعُونَ ٤١﴾ [الروم: 41] “লোকদের নিজেদের কৃতকর্মের দরুণ স্থলে ও জলে বিপর্যয়ের সৃষ্টি হয়েছে। যেন তাদেরকে নিজেদের কৃতকর্মের স্বাদ ভোগ করাতে পারেন। এর ফলে হয়তো তারা [আল্লাহর পথে] ফিরে আসবে।” [রূম : ৪১] চোরের হাত কাটা, ব্যাভিচারীর রজম অর্থাৎ পাথর মেরে মৃত্যুদণ্ড দেয়া, চোর এবং ব্যভিচারীর নিজের জন্য অনিষ্টকর হতে পারে। কেননা চোর তার হাত হারাচ্ছে আর ব্যভিচারী তার জীবন হারাচ্ছে। কিন্তু অন্য দৃষ্টিকোন থেকে চিন্তা করলে দেখা যাবে এর মধ্যেও কল্যাণ নিহিত রয়েছে। আর তা হচ্ছে, তাদের উভয়ের পাপের কাফফারা হয়ে যাচ্ছে। এর ফলে তাদের জন্য দুনিয়া ও আখেরাতের শাস্তি একত্রিত করা হবে না। অন্য দৃষ্টিকোণ থেকে এর আরো একটি কল্যাণময় দিক রয়েছে। তা হচ্ছে, এ বিধান প্রয়োগের মাধ্যমে মানুষের ধন-সম্পদ, মান-ইজ্জত, এবং বংশ রক্ষা করা সম্ভব হচ্ছে। মূল- শাইখ সালিহ আল উসাইমিন রহি. বিশেষ কৃতজ্ঞতা- www.islamhouse.com

আল্লাহর প্রতি ঈমান (পর্ব ৪) আল্লাহ আলিমুল গায়েব আমরা ঈমান আনি যে,  “গায়েবের সব চাবিকাঠি তাঁরই কাছে রয়েছে। তিনি ছাড়া আর কেউ তা জানে না। স্থল ও জল ভাগে যা কিছু আছে তার সবই তিনি জানেন। বৃক্ষচ্যুত একটি পাতাও এমন নেই যার সম্পর্কে আল্লাহ জানেন না। যমীনের অন্ধকারে কোন শস্য, কোন আর্দ্র, কোন শুষ্ক জিনিস সবই এক সুস্পষ্ট কিতাবে লিপিবদ্ধ রয়েছে।” [আন‘আম : ৫৯] আমরা ঈমান আনি যে, “কেয়ামতের সময়ের জ্ঞান আল্লাহরই কাছে রয়েছে। তিনিই বৃষ্টি বর্ষণ করেন। তিনিই জানেন গর্ভে কী আছে। কেউ জানে না আগামী কাল সে কী কামাই করবে। না কেউ জানে তার মৃত্যু হবে কোন যমীনে। আল্লাহই সব কিছু জানেন এবং সব বিষয়েই তিনি ওয়াকিফহাল।” [লোকমান : ৩৪]

আল্লাহর প্রতি ঈমান (পর্ব ৩) আল্লাহ রিযিকদাতা আমরা  ঈমান আনি যে, “যমীনে বিচরণশীল এমন কোন জীব নেই, যার রিজিকের ব্যবস্থা আল্লাহর উপর নয় এবং যার স্থায়ী অস্থায়ী অবস্থান সম্পর্কে তিনি অবহিত নন। এসব কিছুই এক সুস্পষ্ট কিতাবে লিপিবদ্ধ রয়েছে।” [হুদ : ৬]

আল্লাহর প্রতি ঈমান (পর্ব ২) আল্লাহর জ্ঞান, সাম্রাজ্য ও ক্ষমতা আমরা ঈমান আনি যে, “আল্লাহ সেই চিরঞ্জীব শাশ্বত সত্তা, যিনি সমস্ত বিশ্বচরাচরকে দৃঢ়ভাবে ধারণ করে আছেন, তিনি ছাড়া আর কোন ইলাহ নেই। তন্দ্রা তাঁকে স্পর্শ করতে পারে না। তিনি নিদ্রাও যান না। আসমান ও যমিনে যা কিছু আছে সবই তাঁর মালিকানাধীন। এমন কে আছে যে তাঁর দরবারে তাঁরই অনুমতি ব্যতীত সুপারিশ করতে পারে? সামনে পিছনে যা কিছু আছে সবই তিনি জানেন। তাঁর জানা বিষয়সমূহের কোন জিনিসই তাদের জ্ঞানসীমার আয়ত্বাধীন হতে পারে না। অবশ্য কোন বিষয়ের জ্ঞান যদি তিনি নিজেই কাউকে জানাতে চান (তবে তা অন্য কথা)। তাঁর কুরসী সমগ্র আসমান ও যমীনকে ঘিরে আছে। আসমান ও যমীনের রক্ষণ-বেক্ষণ তাঁকে ক্লান্ত ও পরিশ্রান্ত করে দিতে পারে না। বস্তুত: তিনিই হচ্ছেন এক সর্বোচ্চ মহান শ্রেষ্ঠতম সত্তা”। [সূরা আল-বাকারাহ: ২৫৫] আমরা ঈমান আনি— “তিনিই আল্লাহ, যিনি ছাড়া কোন হক ইলাহ নেই। গোপন ও প্রকাশ্য সব কিছুই তিনি জানেন। তিনিই রহমান ও রহীম। তিনিই আল্লাহ যিনি ছাড়া কোন হক ইলাহ নেই। তিনি বাদশাহ। অতীব মহান ও পবিত্র। শান্তির ধারক। নিরাপত্তার আঁধার। রক্ষণাবেক্ষণকারী। তিনি পরাক্রমশালী, সর্বজয়ী, মহাশক্তিধর এবং নিজ বড়ত্ব গ্রহণকারী। লোকেরা যেসব শিরক করছে, তা থেকে আল্লাহ সম্পূর্ণ পবিত্র। তিনিই আল্লাহ যিনি সৃষ্টিকর্তা, পরিকল্পনাকারী, আকার আকৃতি রচনাকারী। তাঁর অনেক সুন্দর-সুন্দর নাম রয়েছে। আসমান ও যমিনে যা কিছু আছে সব কিছুই তাঁর প্রশংসা করে। তিনি অতীব পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়।” [হাশর : ২২-২৪] আমরা ঈমান আনি যে, আসমান ও যমীনের রাজত্ব একমাত্র আল্লাহর। “তিনি যাই চান, সৃষ্টি করেন। যাকে চান কন্যা-সন্তান দান করেন, যাকে চান পুত্র-সন্তান দান করেন। আবার যাকে চান পুত্র-কন্যা উভয় রকমের সন্তানই দান করেন। আর যাকে ইচ্ছা বন্ধ্যা করে দেন। তিনি সব কিছুই জানেন এবং সব বিষয়েই ক্ষমতাবান।” [শূরা : ৪৯-৫০] আমরা ঈমান আনি যে,  “কোন জিনিসই তাঁর অনুরূপ নয়। তিনি সব কিছুই শুনেন ও দেখেন। আকাশমণ্ডল ও যমীনের সকল ধনভাণ্ডারের চাবি তাঁরই কাছে। যাকে তিনি চান প্রচুর রিজিক দান করেন, আর যাকে চান পরিমিত দান করেন। তিনি সব বিষয়ে জ্ঞান রাখেন।” [শূরা : ১১-১২] ★★★ পর্ব ১ লিংক- https://t.me/darsgahbd/908

আল্লাহর প্রতি ঈমান (পর্ব ১) আল্লাহর প্রতি ঈমান: আমাদের আক্বীদা হচ্ছে: আল্লাহ তা‘আলা, তাঁর সকল ফিরিশ্‌তা, আসমানী কিতাব, নবী-রাসূল, আখেরাত এবং তাকদীরের ভাল-মন্দের প্রতি দৃঢ় বিশ্বাস রাখা। আল্লাহর রুবুবিয়্যাত আমরা আল্লাহ তা‘আলার রুবুবিয়্যাতে ঈমান আনি। এর অর্থ হচ্ছে, তিনিই হচ্ছেন রব; খালিক [সৃষ্টিকর্তা] বাদশাহ, সকল কাজেরই মহানিয়ন্ত্রক। আল্লাহর উলুহিয়্যাত আমরা আল্লাহর তা‘আলার উলুহিয়্যাতে ঈমান আনি। যার অর্থ হচেছ, তিনিই হচ্ছেন সত্য ইলাহ। তিনি ব্যতীত সব মা‘বুদই বাতিল ও অসত্য। আল্লাহর নাম ও সিফাত আমরা আল্লাহ তা‘আলার সব পবিত্র নাম ও সিফাত ঈমান আনি। অর্থাৎ তাঁর বহু পবিত্র নাম ও উন্নত সিফাতে কামেলা অর্থাৎ পরিপূর্ণ গুণাবলী রয়েছে। আল্লাহর ওয়াহদানিয়্যাত আর এতে করে আমরা ঈমান আনি আল্লাহ তা‘আলার ওয়াহদানিয়্যাতে বা একত্ববাদে। এর অর্থ হচ্ছে তাঁর রুবুবিয়্যাত, উলুহিয়্যাত এবং যত পবিত্র নাম ও সিফাত রয়েছে তাতে কোন শরীক বা অংশীদার নেই। আল্লাহ তা‘আলাই এরশাদ করেছেন: [আল্লাহ] “আসমান ও যমীন এবং এ দু’টির মাঝখানে যা আছে সব কিছুরই তিনি রব। অতএব তুমি তাঁরই ইবাদত করো এবং ইবাদতের পথে ধৈর্যের মাধ্যমে অবিচল থাকো। তাঁর সমতুল্য কোন সত্তার কথা তুমি জান কি?” [সূরা মারইয়াম: ৬৫]

উমার রাদ্বিয়া‏ল্লাহু আনহু বলেন, “কেউ হিদায়াত মনে করে কোনো পথভ্রষ্টতা অবলম্বন করার ওযর গ্রহণ করা হবে না। অনুরূপভাবে কেউ পথভ্রষ্টতা মনে করে কোনো হিদায়াত ত্যাগ করার ওযর গ্রহণ করা হবে না।কারণ সবকিছু স্পষ্ট বর্ণিত হয়েছে এবং প্রমাণ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।” - আল-বারবাহারী, শারহুস সুন্নাহ। [আমি বলি] এর অর্থ, ১- অজ্ঞতা একটি অস্থায়ী ওযর।তাই দীনের প্রকাশ্য সুস্পষ্ট বিধানসমূহের ক্ষেত্রে ওযর দেখিয়ে পার পাওয়ার সুযোগ নেই। ২- কোথাও অজ্ঞ থাকার সঙ্গত কারণ, যেমন দীনের শাখা-প্রশাখাজনিত বা অস্পষ্ট বিধানের কারণে কেউ অজ্ঞ থাকলে তা ওযর হবে। ৩- ইসলামের মূলনীতি হচ্ছে সকলকে দীনের মৌলিক বিষয় জানতে হবে। ৪- কোথাও জানার সুযোগ থাকার পরও না জেনে দীন বিরোধী কোনো বিশ্বাস, কথা বা কাজ করে কিংবা দীনের কোনো অত্যাবশ্যক বিশ্বাস, কথা বা কাজ পরিত্যাগ করে অজ্ঞতার অজুহাত পেশ করলে তা গ্রহণ করা হবে না। বরং তার বিরুদ্ধে শরঈ হুকুম ও তদনুযায়ী শাস্তি বলবৎ করা হবে। ৫- বাংলাদেশের বর্তমান প্রজন্মের কেউ দীনের বিরোধিতা করলে, কেউ ইসলামী প্রকাশ্য বিধানকে খারাপ বলে প্রচার করলে সেখানে অজ্ঞতার অজুহাত দেয়া যাবে না, তার ওপর শরীআতের হুকুম প্রবর্তিত হবে।॥ -শাইখ আবু বকর জাকারিয়া হাফি

وَاِ ذْ تَاَ ذَّنَ رَبُّكُمْ لَئِنْ شَكَرْتُمْ لَاَ زِيْدَنَّـكُمْ وَلَئِنْ كَفَرْتُمْ اِنَّ عَذَا بِيْ لَشَدِيْدٌ "স্মরণ কর, যখন তোমাদের প্রতিপালক ঘোষণা করেন, যদি তোমরা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ কর তাহলে আমি অবশ্যই তোমাদের জন্য (আমার নি‘য়ামাত) বৃদ্ধি করে দেব, আর যদি তোমরা অকৃতজ্ঞ হও (তবে জেনে রেখ, অকৃতজ্ঞদের জন্য) আমার শাস্তি অবশ্যই কঠিন।" সূরা ইবরাহীম, আয়াত ৭

আবদুল্লাহ্‌ ইব্‌নু ‘আমর (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ইরশাদ করেন, সে-ই মুসলিম, যার জিহবা ও হাত হতে সকল মুসলিম নিরাপদ এবং সে-ই প্রকৃত মুহাজির, আল্লাহ যা নিষেধ করেছেন তা যে ত্যাগ করে। সহিহ বুখারী, হাদিস নং ১০ আবূ মূসা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ তিনি বলেন, তারা (সাহাবাগণ) জিজ্ঞেস করলেন, হে আল্লাহর রসূল! ইসলামে কোন জিনিসটি উত্তম? তিনি বললেনঃ যার জিহবা ও হাত হতে মুসলিমগণ নিরাপদ থাকে। সহিহ বুখারী, হাদিস নং ১১ ‘আবদুল্লাহ্‌ ইব্‌নু ‘আমর (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ জনৈক ব্যক্তি আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে জিজ্ঞেস করল, ইসলামে কোন্‌ জিনিসটি উত্তম? তিনি বললেন, তুমি খাদ্য খাওয়াবে ও চেনা অচেনা সকলকে সালাম দিবে। সহিহ বুখারী, হাদিস নং ১২ আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেনঃ তোমাদের কেউ প্রকৃত মু’মিন হতে পারবে না, যতক্ষণ না সে তার ভাইয়ের জন্য সেটাই পছন্দ করবে, যা তার নিজের জন্য পছন্দ করে। সহিহ বুখারী, হাদিস নং ১৩