en
Feedback
দারসুল হাদিস

দারসুল হাদিস

Open in Telegram

রাসূল তোমাদেরকে যা দেয় তা গ্রহন করো, যা করা থেকে নিষেধ করে তা পরিহার করো। [সুরা হাশর]

Show more
870
Subscribers
+124 hours
+27 days
+5730 days
Posts Archive
তাগুতের আক্রমণে আমাদের অনেক চ্যানেল নষ্ট হয়ে গিয়েছে। coffee house media, content series, mutasir media সহ প্রতিটি ডিপার্টমেন্টের গুরুত্বপূর্ণ চ্যানেল গুলো ধ্বংস হয়ে গিয়েছে। বিগত সময়ে তাগুতের ঘেউঘেউ শুনে আমরা কখনোই পিছিয়ে যাই নাই এবং ভয় পাই নাই। তাগুতের আস্ফালন যতই তীব্র হোক আমাদের কাজ কখনোই থেমে যাবে না এবং আক্রমণ অব্যাহত থাকবে ইনশাআল্লাহ। https://t.me/lonewolfmujahid https://t.me/coffehousearticl

ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মদিনায় এসে ইয়াহুদীদেরকে আশুরার দিন সাওম (রোযা/রোজা/সিয়াম/ছিয়াম) পালনরত দেখতে পেলেন। এরপর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জিজ্ঞাসা করলেন, তোমরা এটা কোন দিনের সাওম পালন করছ? তারা বলল, এ মহান দিনে আল্লাহ তায়ালা মূসা (আলাইহিস সালাম) ও তাঁর সম্প্রদায়কে মুক্তি দিয়েছেন এবং ফির’আউন ও তার কওমকে ডুবিয়ে দিয়েছেন। মূসা (আলাইহিস সালাম) কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করার লক্ষ্যে এ দিনে সাওম পালন করেছেন। তাই আমরাও এ দিনে সাওম পালন করছি। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, আমরা তো তোমাদের থেকে মূসা (আলাইহিস সালাম) এর অধিক নিকটবর্তী এবং হকদার। অতঃপর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাওম পালন করলেন এবং সাওম পালন করার জন্য সকলকে নির্দেশ দিলেন। ( মুসলিম)

ইবন উমর রাদিয়াল্লাহু আনহুমা বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “আমাকে ততক্ষণ পর্যন্ত যুদ্ধের নির্দেশ দেয়া হয়েছে যতক্ষণ না তারা বলবে, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ ও মুহাম্মাদ আল্লাহর রাসূল এবং সালাত কায়েম করবে আর যাকাত প্রদান করবে। অতঃপর যদি তারা তা করে, তবে তাদের জান ও মাল আমার হাত থেকে নিরাপদ হবে, কিন্তু যদি ইসলামের অধিকার আদায় করতে হয়, তবে তা ভিন্ন কথা। আর তাদের হিসাব নেয়ার ভার তো আল্লাহর উপর।” [বুখারী, মুসলিম]

আব্দুল্লাহ বিন আব্বাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা  সা’ব বিন জাস্সামা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, আমি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেছেন: “চারণভূমি সংরক্ষিত করার অধিকার আল্লাহ ও তদীয় রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ব্যতিত আর কারো নেই।” আমি তাঁকে আরো প্রশ্ন করেছি মুশরিকদের শিশুদের সম্পর্কে; আমরা কি মুশরিকদের সাথে তাদের শিশুদেরও হত্যা করবো? তিনি বলেন: “হ্যা, তাদেরকেও হত্যা করবে। কেননা ওরা তাদেরই অন্তর্ভূক্ত।” এরপর তিনি হুনাইনের যুদ্ধে তাদের শিশুদের হত্যা করতে নিষেধ করেন।”[ইবনে হিব্বান ]

আত ইবন ইয়াসার (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়াসাল্লাম বলিয়াছেনঃ সর্বোচ্চ মর্যাদার আধকারী ব্যক্তির কথা তোমাদেরকে বলিব কি? যে ব্যক্তি স্বীয় ঘোড়ার লাগাম হাতে নিয়া আল্লাহর রাহে জিহাদে লিপ্ত থাকে, সেই ব্যক্তি হইল সর্বোচ্চ মর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তি। অতঃপর সর্বোচ্চ মর্যাদা হইল ঐ ব্যক্তির যে ইবাদতে লিপ্ত হইয়া থাকে আর কাহাকেও তাহার সহিত শরীক করে নাই। (মুয়াত্তা মালিক)

জিলহজ্জ এর চাঁদ দেখা গেছে। ইবাদত শুরু হোক স্পেশাল ১০ দিনের ইনশাআল্লাহ

সাঈদ ইবনুল মুসাইয়্যাব (রহঃ) থেকে বর্ণিতঃ: তিনি বলেন, আয়িশা (রাঃ) বলেছেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেনঃ আরাফাহ্ দিবসের তুলনায় এমন কোন দিন নেই- যেদিন আল্লাহ তা’আলা সর্বাধিক লোককে দোযখের আগুন থেকে মুক্তি দান করেন। আল্লাহ তাআলা নিকটবর্তী হন, অতঃপর বান্দাদের সম্পর্কে মালায়িকার সামনে গৌরব করেন এবং বলেনঃ তারা কী উদ্দেশে সমবেত হয়েছে (বা তারা কী চায়)? [সহিহ মুসলিম, হাদিস নং-৩১৭৯]

Repost from News article
জিলহজ্জ মাসের প্রথম ১০ দিন এবং রাত ‘‘শপথ প্রত্যুষের ও দশ রজনির।’’ [সুরা ফজর আয়াত ১] দশ রজনি বলতে জিলহজ্জের প্রথম দশ রজনি বুঝায় এ ব্যাখ্যা ইবনে আব্বাস রা. ইবনে যুবায়ের ও মুজাহিদ রহ. সহ অনেকের। প্রসিদ্ধ মুফাসসির ইবনে কাসির এ মতটিকেই বিশুদ্ধ বলেছেন। ইবনু ‘আব্বাস (রাযি.) হতে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যিলহাজ্জ মাসের প্রথম দশ দিনের ‘আমলের চেয়ে অন্য কোন দিনের ‘আমলই উত্তম নয়। তাঁরা জিজ্ঞেস করলেন, জিহাদও কি (উত্তম) নয়? নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ জিহাদও নয়। তবে সে ব্যক্তির কথা ছাড়া যে নিজের জান ও মালের ঝুঁকি নিয়েও জিহাদে যায় এবং কিছুই নিয়ে ফিরে আসে না। ( বুখারী) হুনাইদাহ ইবনু খালিদ (রহ.) তার স্ত্রী থেকে এবং তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কোনো এক স্ত্রী সূত্রে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যিলহজ মাসের নয় তারিখ পর্যন্ত, আশুরার দিন, প্রত্যেক মাসে তিনদিন, মাসের প্রথম সোমবার ও বৃহস্পতিবার সওম রাখতেন।[ আবু দাউদ, নাসায়ী, আহমাদ) আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ এমন কোন দিন নেই যে দিনগুলোর (নফল) ইবাদাত আল্লাহ্ তা’আলার নিকট যিলহাজ্জ মাসের দশ দিনের ইবাদাত হতে বেশী প্রিয়। এই দশ দিনের প্রতিটি রোযা এক বছরের রোযার সমকক্ষ এবং এর প্রতিটি রাতের ইবাদাত কাদরের রাতের ইবাদাতের সমকক্ষ। ( ইবনে মাজাহ, তিরমিজি)  উম্মে সালামা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ বলেছেনঃ যে ব্যক্তির নিকট কুরবানীর পশু আছে সে যেন যিলহজ্জ এর নতুন চাঁদ দেখার পর থেকে কুরবানী করা পর্যন্ত তার চুল ও নখ না কাটে। [সহীহ মুসলিম, আবু দাউদ]

কাব ইবনু উজরা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বের হয়ে আমাদের সামনে আসলেন। আমরা সংখ্যায় ছিলাম নয়জন; পাঁচজন আরব এবং চারজন অনারব অথবা এর বিপরীত। তিনি বললেনঃ তোমরা শোন, তোমরা কি শুনেছ? খুব শীঘ্রই আমার পরে এমন কিছু সংখ্যক শাসক আবির্ভূত হবে, যে লোক তাদের সংস্পর্শে গিয়ে তাদের মিথ্যাচারকে সমর্থন করবে এবং তাদেরকে অত্যাচারে সহায়তা দান করবে সে আমার দলের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত নয় এবং আমিও তার দলে অন্তর্ভুক্ত নই। আর সে ব্যক্তি হাওযে কাওসারে আমার সামনে পৌছতে পারবে না। আর যে লোক তাদের সংস্পর্শে যাবে না, তাদের অত্যাচারে সহায়তা দান করবে না এবং তাদের মিথ্যাচারকে সমর্থন করবে না, সে আমার এবং আমিও তার। সে হাওযে কাওসারে আমার সাক্ষাৎ লাভ করবে। ( তিরমিজি)

আহমদ ইবনু সুলায়মান রাহাভী (রহঃ) ... উকবা ইবনু আমির (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি কি তোমাদের জন্য ঐরূপ সালাত আদায় করব না যেরূপ আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে দেখেছি সালাত আদায় করতে? আমরা বললাম, হ্যাঁ, তখন তিনি দাঁড়ালেন। যখন তিনি রুকু করলেন তখন তাঁর হাতদ্বয়ের তালু তাঁর উভয় হাটুর উপর রাখলেন। আর আঙ্গুল সমূহ রাখলেন তাঁর হাটুর নিচের দিকে। আর তার বগল (পার্শ্বদেশ থেকে) পৃথক রাখলেন। তখন তাঁর সকল অঙ্গ সোজা হয়ে গেল। তারপর তিনি তাঁর মাথা উঠালেন এবং দাঁড়িয়ে গেলেন। তখন তাঁর সকল অঙ্গ সোজা হয়ে গেল। তারপর সিজদা করলেন এবং তাঁর বগল (পার্শ্বদেশ থেকে) পৃথক রাখলেন এবং তার সকল অঙ্গ সোজা হয়ে গেল। তারপর বসলেন এবং সকল অঙ্গ সোজা হয়ে গেল, এরপর আবার সিজদা করলেন এবং সকল অঙ্গ সোজা হয়ে গেল। এরূপে চার রাকাআত আদায় করলেন। তারপর বললেন, এরূপই আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে সালাত আদায় করতে দেখেছি। আর তিনি এরূপেই আমাদের নিয়ে সালাত আদায় করতেন। ( নাসায়ী)

ইয়াযীদ ইবন খালিদ (রহঃ) .... ইয়াযীদ ইবন উমায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, যিনি মু’আয ইবন জাবাল (রাঃ)-এর সাথী ছিলেন, তিনি বলেনঃ মু’আয ইবন জাবাল (রাঃ) যখন কোন যিকিরের মজলিসে বসতেন, তখন এরূপ বলতেন যে, আল্লাহ্‌ তা’আলা সত্য প্রতিষ্ঠিত করেছেন এবং সন্দেহ পোষণকারীরা ধ্বংস হয়েছে। একদিন তিনি বলেনঃ তোমাদের পরবর্তী সময়ে ব্যাপক ফিতনার সৃষ্টি হবে। সে সময় ধন-সম্পদের প্রাচুর্য হবে এবং কুরআন শিক্ষার ব্যবস্থা সম্প্রসারিত হবে। ফলে, মু’মিন, মুনাফিক, স্ত্রী-পুরুষ, ছোট-বড় গোলাম ও স্বাধীন ব্যক্তি তার জ্ঞান অর্জন করবে। তখন এক ব্যক্তি এরূপ বলবেঃ লোকদের কি হয়েছে? তারা আমার অনুসরণ কেন করে না, অথচ আমি কুরআন পড়েছি! তারা ততক্ষণ আমার অনুসরণ করবে না, যতক্ষণ না আমি কুরআন ব্যতীত অন্য জিনিস তাদের সামনে পেশ করি। কাজেই, কেউ যদি এরূপ কিছু করে, তবে তোমরা তা অস্বীকার করবে। কেননা, এরূপ যা কিছু উদ্ভাবিত হবে, তা গুমরাহী এবং আমি আলিমদের গুমরাহী সম্পর্কে অধিক শংকিত। কেননা, শয়তান কখনো কখনো আলিমদের মুখ থেকে গুমরাহীর কথা বের করে দেয় এবং কোন কোন সময় মুনাফিকও সত্য কথা বলে। রাবী বলেনঃ তখন আমি মু’আয (রাঃ)-কে জিজ্ঞাসা করিঃ জ্ঞানী ব্যক্তি যে অজ্ঞানের মত কথা বলতে পারে এবং মুনাফিক ও কোন সময় সত্য কথা বলতে পারে, তা আমরা কিভাবে অবগত হতে পারি? তিনি বলেনঃ তোমরা জ্ঞানীদের সে সব কথা পরিহার করবে, যা ভুল ও মিথ্যার সাথে প্রসিদ্ধি লাভ করবে এবং লোকেরা তা গ্রহণ করতে অস্বীকার করবে। এ সময় ও তোমরা তাদের সাথে সস্পর্কচ্ছেদ করবে না; কেননা, হয়তো তারা তা থেকে ফিরে আসতে পারে। তোমরা তাদের থেকে সত্য কথা শ্রবণ করবে এবং তা গ্রহণ করবে। কেননা, হকের মধ্যে সত্যের নূর নিহিত থাকে। ( আবু দাউদ) 

মিকদাম ইবন মা’দীকরাব রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ জেনে রাখ! আমাকে কুরআন প্রদান করা হয়েছে এবং এর সাথে অনুরূপ (হাদীছ) দেয়া হয়েছ। অদূর ভবিষ্যতে একজন অভাবহীন তৃপ্ত ব্যক্তি তার খাটের উপর অবস্থান করে বলবেঃ তোমরা এ কুরআনকে গ্রহণ কর এবং এতে যা হালাল বলা হয়েছে, তা হালাল হিসাবে গ্রহণ কর; আর যা হারাম বলা হয়েছে তা হারাম হিসাবে গ্রহণ কর। জেনে রাখ! গৃহ-পালিত গাধার মাংস তোমাদের জন্য হালাল নয়, কোন হিংস্র জন্তুর মাংসও হালাল নয়, কোন যিম্মীর পরিত্যক্ত মাল হালাল নয়, তবে যদি তার মালিক তা থেকে বে-পরওয়া হয়, সে আলাদা ব্যাপার। আর যদি কেউ মেহমান হিসারে কোন কাওমের কাছে যায়, তবে তাদের উচিত তার মেহমানদারী করা। তারা যদি সে ব্যক্তি মেহমানদারী না করে, তবে তাদের নিকট থেকে মেহমানের হক গ্রহণ করার অধিকার তার থাকবে। ( আবু দাউদ)  " অভাবহীন - তৃপ্ত ব্যক্তি " মানে দুনিয়া নিয়ে যার সমস্ত চিন্তা এবং কর্মকাণ্ড। আখেরাত নিয়ে যার চিন্তা এবং কাজ সে কখনোই নিজের কাজে তৃপ্ত থাকে না৷ তার তৃপ্তি জান্নাতে দাখিল হওয়ার পরে৷ এবং যে সম্পদশালী। খাটের উপর অবস্থান মানে সে আরাম আয়েশের জীবন যাপন করে। এ ধরনের ব্যক্তি কখনোই দ্বীনের জ্ঞান রাখে না৷ অথচ সে ফতোয়া দিতে থাকবে। সে হাদিস অস্বীকার করবে। অথচ রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলছেন, তাঁকে কুরআন এর সাথে আরও কিছু দেয়া হয়েছে যা কুরআন এর মতোই অবশ্য পালনীয়। আর তা হচ্ছে হাদিস। এরপর এমন কিছু নির্দেশ দেয়া হচ্ছে যা কুরআনে নাই কিন্তু তা পালন করতেই হবে। যিম্মী হচ্ছে ইসলামী রাষ্ট্রে বা খিলাফতের ভুমিতে বসবাসকারী কাফের।

আবু হুরাইরাহ (রাযিঃ) এর সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত। তিনি বলেছেন, একদা জাহান্নাম ও জান্নাত বাক-বিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়লো। জাহান্নাম বলল, অহংকারী এবং প্রভাব প্রতিপত্তি সম্পন্ন লোকেরা আমার মাঝে প্রবেশ করবে। জান্নাত বলল, আমার কি হলো, মানুষের মাঝে যারা দুর্বল, নীচু স্তরের এবং অক্ষম, তারাই আমার মধ্যে প্রবেশ করবে। এ কথা শুনে আল্লাহ তা’আলা জান্নাতকে বললেন, তুমি আমার রহমত, আমার বান্দাদের যার প্রতি ইচ্ছা আমি তোমার দ্বারা রহমত বর্ষণ করব। তারপর তিনি জাহান্নামকে বললেন, তুমি আমার আযাব, আমার বান্দাদের মধ্যে যাকে ইচ্ছা আমি তোমার দ্বারা ’আযাব দিব। তোমাদের প্রত্যেকের জন্যই পেট ভর্তির ব্যবস্থা থাকবে। এতদসত্ত্বেও জাহান্নাম পূর্ণ হবে না। তাই আল্লাহ তা’আলা এর উপরে স্বীয় পা মুবারাক রাখবেন। তখন জাহান্নাম বলবে, যথেষ্ট হয়ে গেছে। এ সময়ই জাহান্নাম পরিপূর্ণ হবে এবং একাংশ অপরাংশের সাথে মিলে যাবে অর্থাৎ সঙ্কুচিত হয়ে যাবে। ( মুসলিম)  দুনিয়ায় সেলিব্রেটি, ষ্টার, বড়লোক, খ্যাতিমান হলে আখেরাতে বিপদ। অপরিচিত, সাধারণ, কপর্দকহীন ব্যক্তির জন্য জান্নাত অপেক্ষা করছে। অবশ্যই ঈমানদার হতে হবে৷ বেঈমান কাফের সর্বাবস্থায় জাহান্নামি।

আবদুল্লাহ ইবনু ’আমর (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: আমার হাওযের প্রশস্ততা এক মাসের পথের সমপরিমাণ এবং তার চতুর্দিকও সমপরিমাণ আর তার পানি দুধ অপেক্ষাও অধিক সাদা এবং তার ঘ্রাণ মৃগনাভি অপেক্ষাও অধিক সুগন্ধিময়, আর তার পানপাত্রসমূহ আকাশের তারকার মতো। যে তা থেকে একবার পান করবে সে আর কখনো তৃষ্ণার্ত হবে না। (বুখারী ও মুসলিম) আবূ হুরায়রাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: আমার হাওযের (উভয় পার্শ্বের) দূরত্ব আয়লাহ ও ’আদন-এর মধ্যবর্তী দূরত্ব থেকেও অধিক। তার পানি বরফের চেয়ে অধিক সাদা এবং দুধমিশ্রিত মধুর তুলনায় অনেক মিষ্ট। তার পানপাত্রসমূহ নক্ষত্রের সংখ্যা অপেক্ষা অধিক। আর আমি আমার হাওযের কাওসারে আগমন করা থেকে লোকেদেরকে (অন্যান্য উম্মতদেরকে) তেমনিভাবে বাধা দেব, যেমনিভাবে কোন লোক তার নিজের হাওয থেকে অন্যের উটকে পানি পানে বাধা দিয়ে থাকে। সাহাবীগণ প্রশ্ন করলেন, হে আল্লাহর রাসূল! সেদিন কি আপনি আমাদেরকে চিনতে পারবেন? তিনি (সা.) বললেন, হ্যাঁ, সেদিন তোমাদের বিশেষ চিহ্ন থাকবে যা অন্যান্য উম্মাতের কারো জন্য হবে না। তোমরা আমার কাছে এমন অবস্থায় আসবে যে, তোমাদের মুখমগুল এবং হাত-পা উযূর কারণে উজ্জ্বল থাকবে। (মুসলিম)

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, তোমরা অবশ্যই তোমাদের পূর্ববর্তীদের নিয়মপদ্ধতি অনুসরণ করবে, প্রতি গজে গজে প্রতি হাতে হাতে তাদের অনুসরণ করবে। এমনকি যদি তারা ‘দব’ তথা ষাণ্ডার গর্তেও ( অনেক অনুবাদে গুই সাপের গর্তে) প্রবেশ করে থাকে তবে তোমরাও তাতে প্রবেশ করবে। সাহাবায়ে কিরাম বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! ইয়াহুদী ও নাসারা সম্প্রদায়? তিনি বললেন, তবে আর কারা? [বুখারী ] দুনিয়া ব্যাপী মুসলমানদের দিকে তাকালেই এই হাদিসের ব্যাখ্যা পাওয়া যাবে। হালাল - হারাম, ভালো - খারাপ, মানবিক - অমানবিক, কিছুই বুঝার জ্ঞান পর্যন্ত নাই। তথাকথিত আধুনিক হওয়ার নেশায় বুঁদ।

আয়িশাহ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাজা খেজুর দিয়ে তরমুজ খেতেন। তিনি বলতেনঃ এর ঠান্ডা ওটার গরম কমাবে এবং এর গরম ওটির ঠান্ডা কমিয়ে দিবে। ( তিরমিজি, আবু দাউদ)

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ “আমাকে একমাসে অতিক্রম করার মত রাস্তার দূরত্ব থেকে কাফেরদের মনে ভয় ঢুকিয়ে সাহায্য করা হয়েছে।” [বুখারী, মুসলিম] এত দুর থেকে যখন কোন এক ব্যক্তিকে কেন ভয় করা হবে?  কারণ তিনি তাঁর মতাদর্শে একনিষ্ঠ, তিনি সত্যাশ্রয়ী, তিনি দুর্ধর্ষ যোদ্ধা এবং তাঁর রয়েছে দুর্ধর্ষ সৈন্যবাহিনী।  কারণ বর্তমান মুসলিমরা তাওহীদে একনিষ্ঠ নয় এবং তারা যুদ্ধ - অস্ত্র থেকে দুরে। দুনিয়ার লাভের জন্য তারা ঈমান ছেড়ে দিতে পারে, কুরআনের নির্দেশ অমান্য করা তাদের জন্য কোন ব্যপারই না। যুদ্ধকে তারা অপছন্দ করে,  আরামে আয়েশে থাকা তাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ। এজন্য তাদের কেউ মানুষই মনে করে না এখন।

আবু আইয়ুব (রাঃ) হতে বর্ণিত হাদিসে এসেছে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: “যে ব্যক্তি রমজানের রোজা রাখল এরপর শাওয়াল মাসে ছয়টি রোজা রাখল সে যেন গোটা বছর রোজা রাখল।”[সহিহ মুসলিম, সুনানে আবু দাউদ, জামে তিরমিজি, সুনানে নাসায়ী ও সুনানে ইবনে মাজাহ]

ঈদের দিন কয়েকটি কাজ ১) মিসওয়াক + গোসল ২) ভালো সুন্দর পোশাক পরিধান + সুগন্ধি ব্যবহার + খেজুর খাওয়া ,৩) ঈদের স্বলাতের স্থানে যাওয়া। ফিরে আসার সময় ভিন্ন রাস্তা দিয়ে আসা। ৪) যাওয়ার সময় চুপে চুপে ( ঈদুল আজহায় শব্দ করে) তাকবির পড়া ( আল্লাহু আকবর আল্লাহু আকবর আল্লাহু আকবর লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াল্লাহু আকবার আল্লাহু আকবর আল্লাহু আকবর ওয়া লিল্লাহিল হামদ) ৫) ঈদের দুই রাকাআত স্বলাত আদায়। এর আগে বা পরে কোন ধরনের নফল স্বলাত আদায় হবে না। ৬) স্বলাতের পরে খুতবা শোনা। ৭) খুতবার পরে দান সদকা করা। ৮) ঈদ মোবারক বলা যেতে পারে তবে সুন্নাহ দোয়া করতেই হবে। সুন্নাহ দোয়া --تَقَبَّلَ اللهُ مِنَّا وَ مِنْكُمْ উচ্চারণ : ‘তাক্বাব্বালাল্লাহু মিন্না ওয়া মিনকুম। অর্থ : ‘আল্লাহ তাআলা আমাদের ও আপনার নেকা আমল তথা ভাল কাজগুলো কবুল করুন।’

ঈদের দিন হালাল বিনোদন উপভোগ জায়েজ। যেমন - বাদ্য-বাজনা ছাড়া ( দফ... এল প্রকার ঢোল ব্যবহার করা যাবে) গান শোনা বা গাওয়া জায়েজ। তবে সে গান প্রেম বা অশ্লীলতার হবে না, নারী কন্ঠে হবে না ( ৭/৮ বছরের মেয়ে অর্থাৎ হায়েজ শুরু হয় নাই এমন মেয়ে গাইতে পারবে) । কবিতা আবৃত্তির ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য। ক্রিকেট ফুটবলের মতো অপ্রয়োজনীয় খেলা নয়, জিহাদে কাজ দেয় এমন খেলা জায়েজ। হারুন ইবনু সাঈদ আয়লী (রহঃ) ... আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, আবূ বকর (রাঃ) তাঁর নিকট এলেন। তখন তাঁর কাছে দুটি বালিকা দফ বাজাচ্ছিল আর গান গাইছিল। আর সেটা ছিল মিনা দিবসের মধ্যে। আর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বস্ত্রাবৃত ছিলেন। আবূ বকর (রাঃ) বালিকাদের ধমকালেন। তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুখের আবরণ সরিয়ে বললেন, হে আবূ বকর! এদেরকে ছেড়ে দাও, যেহেতু এটা ঈদের দিন। ( বুখারী,মুসলিম) আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, ঈদের দিনে মসজিদে একটি সেনাদল আগমন করলেন। যখন তারা অনূশীলন করছিল, তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে ডাকলেন। আমি আমার মাথা তাঁর কাঁধের উপর রেখে দিলাম এবং তাদের অনুশীলন দেখতে লাগলাম। শেষ পর্যন্ত আমি নিজেই তাদের দেখা ক্ষান্ত করে চলে গেলাম। ( বুখারী,মুসলিম)