ar
Feedback
Md. Ajmine

Md. Ajmine

الذهاب إلى القناة على Telegram

যে নিজের আত্মাকে পরিশুদ্ধ করেছে সে সফল। [সূরা আশ-শামস 91:09]

إظهار المزيد
8 208
المشتركون
-224 ساعات
-237 أيام
-4830 أيام

جاري تحميل البيانات...

سحابة العلامات
لا توجد بيانات
هل تواجه مشاكل؟ يرجى تحديث الصفحة أو الاتصال بمدير الدعم الخاص بنا.
الإشارات الواردة والصادرة
---
---
---
---
---
---
جذب المشتركين
أكتوبر '26
أكتوبر '26
+5
في 0 قنوات
سبتمبر '26
+102
في 1 قنوات
Get PRO
أغسطس '26
+68
في 0 قنوات
Get PRO
يوليو '26
+84
في 0 قنوات
Get PRO
يونيو '26
+63
في 0 قنوات
Get PRO
مايو '26
+106
في 0 قنوات
Get PRO
أبريل '26
+115
في 0 قنوات
Get PRO
مارس '26
+42
في 0 قنوات
Get PRO
فبراير '26
+141
في 2 قنوات
Get PRO
يناير '26
+55
في 0 قنوات
Get PRO
ديسمبر '25
+78
في 1 قنوات
Get PRO
نوفمبر '25
+98
في 0 قنوات
Get PRO
أكتوبر '25
+84
في 1 قنوات
Get PRO
سبتمبر '25
+66
في 1 قنوات
Get PRO
أغسطس '25
+52
في 0 قنوات
Get PRO
يوليو '25
+76
في 0 قنوات
Get PRO
يونيو '25
+343
في 1 قنوات
Get PRO
مايو '25
+165
في 1 قنوات
Get PRO
أبريل '25
+416
في 1 قنوات
Get PRO
مارس '25
+331
في 1 قنوات
Get PRO
فبراير '25
+405
في 0 قنوات
Get PRO
يناير '25
+598
في 1 قنوات
Get PRO
ديسمبر '24
+877
في 3 قنوات
Get PRO
نوفمبر '24
+671
في 2 قنوات
Get PRO
أكتوبر '24
+817
في 1 قنوات
Get PRO
سبتمبر '24
+1 726
في 1 قنوات
Get PRO
أغسطس '24
+840
في 1 قنوات
Get PRO
يوليو '24
+2 611
في 2 قنوات
Get PRO
يونيو '24
+442
في 0 قنوات
Get PRO
مايو '24
+689
في 0 قنوات
Get PRO
أبريل '240
في 0 قنوات
Get PRO
مارس '24
+10
في 0 قنوات
التاريخ
نمو المشتركين
الإشارات
القنوات
01 أكتوبر+5
منشورات القناة
ফোনের স্ক্রিনে আঙুলটা রেখেও আমি চাপ দিতে পারছি না। মাত্র সাত সেকেন্ডের একটা ভয়েস মেসেজ। সাত সেকেন্ড! অথচ মনে হচ্ছে, এই সাত সেকেন্ড শোনার মতো সাহস জোগাড় করতেই আমার জীবন থেকে কয়েক বছর চলে যাবে! মা চলে যাওয়ার পর আজ প্রায় ছয় মাস হতে চললো। এর মধ্যে ফোন বদলেছি, বাসা বদলেছি, আলমারির ভেতর থেকে মায়ের রেখে যাওয়া কাপড়গুলো অনেকটা জোর করেই গুছিয়েছি। এমনকি তাঁর ব্যবহৃত পুরোনো চিরুনিটাও একদিন হাতে নিয়ে কিছুক্ষণ বসে থেকেছি। সবই পেরেছি। শুধু এই একটা ভয়েস মেসেজ আর শোনা হয়নি আজো। জানি না কেন আজ হঠাৎ সাহস হলো। চোখ বন্ধ করে প্লে বাটনে চাপ দিলাম। কয়েক সেকেন্ড হালকা শব্দ। তারপর সেই চিরচেনা পরিচিত কণ্ঠ, “মা! ফোন ধরলি না যে? ... রাতে খেয়েছিস? ... আচ্ছা পরে কথা হবে।” ব্যস। এতটুকুই। আমার বুকের ভেতরটা হঠাৎ দুমড়ে-মুচড়ে গেল। সব এলোমেলো হয়ে গেল! ঐ 'পরে কথা'টা আর তো বলা হলো না! যে কথাগুলো শুনে একসময় বিরক্তিতে কান গরম হয়ে যেত, এখন মনে হচ্ছে আর একটা বার যদি কেবল সেই কথাগুলোই শুনতে পারতাম! ভয়েস মেসেজটা আবার চালালাম। তারপর আবার। আরেকবার। এবার মনে হলো, সাত সেকেন্ডের এই ছোট্ট অডিওর ভেতরেই বুঝি আমার গোটা দুনিয়া ঘুরপাক খাচ্ছে। কীভাবে আমার বুকের ওপর থেকে এই পাথর সরাবো জানি না। তবে, এই একটা আশার কথা ঠিকই জানি যে, ইনশাআল্লাহ মায়ের এই কণ্ঠটা আবারো একদিন সামনাসামনি শুনতে পাবো, ইনশাআল্লাহ। যেদিন আমার রব দয়া করে আমার গুনাহগুলো ধুয়ে মুছে অকল্পনীয় সুন্দর এক বাগানে আমাকে তাওফিক দিবেন, মায়ের কোলে ঝাঁপিয়ে পড়ার! সেদিন হয়তো আর কোনো সাত সেকেন্ডের রেকর্ডিং বারবার চালাতে হবে না। সেই আশাতে হলেও আমাকে উঠে দাঁড়াতে হবে! আশায় বুক বেঁধে আবারো চলা শুরু করতে হবে ... কবে পারবো জানি না! তবে পারতে তো আমাকে হবেই, ইনশাআল্লাহ। _ رَبِّ ارْحَمْهُمَا كَمَا رَبَّيَانِي صَغِيرًا রব্বির হামহুমা কামা রব্বাইয়ানী সগীরা। “হে আমার রব! তাঁদের দুজনের প্রতি দয়া করুন, যেমন তাঁরা শৈশবে আমাকে লালন-পালন করেছেন।” (কুরআন ১৭:২৪) “চিরস্থায়ী জান্নাতে তারা প্রবেশ করবে, আর তাদের পিতা-মাতা, স্বামী-স্ত্রী ও সন্তানদের মধ্যে যারা সৎ ছিল, তারাও।” (সূরা আর-রা‘দ, ১৩:২৩) “আর যারা ঈমান এনেছে এবং তাদের সন্তান-সন্ততিরাও ঈমানের সঙ্গে তাদের অনুসরণ করেছে, আমি তাদের সন্তান-সন্ততিদের তাদের সঙ্গে মিলিত করে দেব।” (সূরা আত-তূর, ৫২:২১) _ শারিন সফি অদ্রিতা

2
Yasser al dosary recition Surah A'la (6-19) #mdajmine
Yasser al dosary recition Surah A'la (6-19) #mdajmine
30
3
“কোনো গুনাহ সংঘটিত হওয়ার পর তুমি যদি তোমার অন্তরে এক প্রকার আঁধার ও বিষাদ অনুভব করো, তবে জেনে রেখো তোমার অন্তরে এখনও আলো অবশিষ্ট রয়েছে। আর সেই আলোর উপস্থিতির কারণেই তুমি এই আঁধারকে অনুভব করতে পেরেছ।” ~ইমাম ইবনুল জাওযী (রহ.) সূত্র: [রওজাতুল মুহিব্বীন: ২/১১২]
63
4
পবিত্র কুরআনের সূরা আন-নামল (২৭ নম্বর সূরা)-এর ২০ থেকে ৪৪ নম্বর আয়াতে হযরত সুলাইমান (আঃ) এবং সাবা রাজ্যের রানী বিলকিসের মধ্যকার পুরো ঘটনাটি ধাপে ধাপে বর্ণিত হয়েছে: হুদহুদ পাখি সুলাইমান (আঃ)-কে এসে সাবা রাজ্যের এক প্রভাবশালী রানী ও তাদের সূর্যপূজা করার খবর দিলে নবীজি সত্যতা যাচাইয়ের জন্য রানীর উদ্দেশে একটি চিঠি পাঠান; রানী দরবারিদের সামনে সেই চিঠি খুলে পাঠ করেন—“নিশ্চয় এটি সুলাইমানের পক্ষ থেকে এবং এটি পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু; নির্দেশ এই যে, তোমরা আমার বিরুদ্ধে অহংকার প্রদর্শন করো না এবং আত্মসমর্পণকারী (মুসলিম) হয়ে আমার কাছে উপস্থিত হও” (আয়াত: ৩০-৩১)। যুদ্ধ এড়াতে এবং সুলাইমান (আঃ)-এর মানসিকতা যাচাই করতে রানী তাঁর কাছে মূল্যবান উপঢৌকন পাঠান, কিন্তু সুলাইমান (আঃ) তা কঠোরভাবে প্রত্যাখ্যান করে সতর্ক করে দেন যে, আল্লাহ তাঁকে যা দিয়েছেন তা তাদের উপহারের চেয়ে বহুগুণ শ্রেষ্ঠ এবং বশ্যতা স্বীকার না করলে তিনি এমন বাহিনী নিয়ে আসবেন যা প্রতিহত করার ক্ষমতা তাদের নেই (আয়াত: ৩৫-৩৭)। এরপর রানী সদলবলে তাঁর কাছে আসার উদ্দেশ্যে রওনা হলে সুলাইমান (আঃ) ঐশী ক্ষমতাসম্পন্ন এক জ্ঞানবান ব্যক্তির মাধ্যমে চোখের পলকে রানীর জমকালো সিংহাসনটি নিজের দরবারে আনিয়ে নেন এবং রানীর বুদ্ধিমত্তা পরীক্ষার জন্য সেটির আদলে সামান্য পরিবর্তন ঘটিয়ে তাঁকে জিজ্ঞেস করেন—“আপনার সিংহাসন কি এ রকমই?” তখন রানী বিচক্ষণতার সাথে উত্তর দেন—“মনে হয় এটিই তো সেই সিংহাসন” (আয়াত: ৩৮-৪২)। এরপর রানীকে কাঁচ নির্মিত স্বচ্ছ প্রাসাদে প্রবেশের আহ্বান জানানো হলে তিনি চকচকে মেঝেটিকে গভীর পানির জলাশয় ভেবে কাপড়ের নিম্নাংশ কিছুটা তুলে ধরেন; সুলাইমান (আঃ) তখন স্পষ্ট করেন যে এটি কাঁচের তৈরি মসৃণ প্রাসাদ, আর সুলাইমান (আঃ)-এর নবুওয়াত, সত্য দীন ও আল্লাহর অতুলনীয় কুদরত অনুধাবন করতে পেরে রানী তাঁর ভুল স্বীকার করে ঘোষণা করেন—“হে আমার পালনকর্তা! নিশ্চয় আমি নিজের প্রতি অবিচার করেছিলাম; এখন আমি সুলাইমানের সাথে বিশ্বজগতের পালনকর্তা আল্লাহর কাছে আত্মসমর্পণ করলাম” (আয়াত: ৪৪)।
206
5
لا يوجد نص...
166
6
পবিত্র কুরআনের সূরা আন-নামল (২৭ নম্বর সূরা)-এর ১৮ ও ১৯ নম্বর আয়াতে হযরত সুলাইমান (আঃ) এবং পিঁপড়ার মধ্যকার ঘটনার বিবরণ এসেছে
পবিত্র কুরআনের সূরা আন-নামল (২৭ নম্বর সূরা)-এর ১৮ ও ১৯ নম্বর আয়াতে হযরত সুলাইমান (আঃ) এবং পিঁপড়ার মধ্যকার ঘটনার বিবরণ এসেছে। বর্ণিত হয়েছে যে, একবার হযরত সুলাইমান (আঃ) তাঁর বিশাল বাহিনী (মানুষ, জিন ও পাখি) নিয়ে একটি উপত্যকা অতিক্রম করছিলেন; তখন এক পিঁপড়া অন্য পিঁপড়াদের সতর্ক করে বলে, “হে পিঁপড়া দল! তোমরা নিজ নিজ গর্তে প্রবেশ করো, যাতে সুলাইমান ও তাঁর বাহিনী অজান্তে তোমাদের পদতলে পিষ্ট না করে ফেলে।” পিঁপড়ার এই আকুল ও দূরদর্শী কথা শুনে সুলাইমান (আঃ) মুচকি হাসেন এবং আল্লাহর দরবারে শুকরিয়া আদায় করে দোয়া করেন, আল্লাহ যেন তাঁকে ও তাঁর পিতা-মাতাকে প্রদত্ত নেয়ামতের প্রতি কৃতজ্ঞ থাকার এবং সৎকর্ম করার তৌফিক দান করেন।
161
7
لا يوجد نص...
145
8
لا يوجد نص...
162
9
"কাউকে ক্ষমা করার অর্থ শুধু অন্যের প্রতি ভালো আচরণ করা নয়; এটা নিজের হৃদয়ের ক্ষতকেও ধীরে ধীরে সারিয়ে তোলার একটি উপায়।" — ওস্তাদ নোমান আলী খান আমরা অনেকেই মনে করি, ক্ষমা করে দিলে বুঝি অপর পক্ষ জিতে গেল আর আমরা ছোট হয়ে গেলাম। অথচ বাস্তবতা হলো—ক্ষমা অন্য কাউকে দেওয়া কোনো ছাড় নয়, ক্ষমা হলো নিজের আত্মাকে ক্ষোভ ও বেদনার ভারী বোঝা থেকে মুক্ত করার সবচেয়ে বড় প্রতিষেধক। ইসলাম আমাদের অন্তরের এই গভীর প্রশান্তি আর ক্ষমার শিক্ষাই দেয়: ১. রবের পক্ষ থেকে ক্ষমা পাওয়ার মাধ্যম: "তারা যেন ওদের ক্ষমা করে এবং তাদের দোষত্রুটি উপেক্ষা করে। তোমরা কি চাও না যে আল্লাহ তোমাদের ক্ষমা করেন? আর আল্লাহ অত্যন্ত ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।" — (সূরা আন-নূর, আয়াত: ২২) ২. ক্ষমার বিনিময়ে আল্লাহর কাছে বিশেষ পুরস্কার: "মন্দের প্রতিফল তো অনুরূপ মন্দই। কিন্তু যে ক্ষমা করে দেয় এবং সংশোধন করে নেয়, তার পুরস্কার আল্লাহর জিম্মায় রয়েছে।" — (সূরা আশ-শূরা, আয়াত: ৪০) ৩. ক্ষমার মাধ্যমে সম্মান বাড়ে, কমে না: রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন: "সাদকা করাতে সম্পদের ঘাটতি হয় না; ক্ষমা প্রদর্শনের মাধ্যমে আল্লাহ বান্দার সম্মান ও মর্যাদাই বৃদ্ধি করে দেন এবং যে কেউ আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য বিনয়ী হয়, আল্লাহ তাকে উচ্চ মর্যাদায় আসীন করেন।" — (সহীহ মুসলিম: ২৫৮৮) ক্ষোভ পুষে রেখে নিজেকে তিলে তিলে কষ্ট দেওয়ার চেয়ে, আল্লাহর সন্তুষ্টি আর নিজের মানসিক প্রশান্তির জন্য মানুষকে মাফ করে দেওয়াই সবচেয়ে বড় সাহসিকতা। হে আল্লাহ! আমাদের অন্তরকে ক্ষোভ ও বিদ্বেষ থেকে পবিত্র করে ক্ষমাশীল বান্দাদের অন্তর্ভুক্ত করুন। আমীন। Al Quran Hidayat
165
10
~ দুই সিজদার মাঝে যে দোয়া পড়তে হয়..! 🗣️ জামশেদ মজুমদার #mdajmine
~ দুই সিজদার মাঝে যে দোয়া পড়তে হয়..! 🗣️ জামশেদ মজুমদার #mdajmine
178
11
Yasser Al Dosari 🤍☘️ وَلَقَدْ اٰتَيْنَا مُوْسَى الْكِتٰبَ لَعَلَّهُمْ يَهْتَدُوْنَ And We certainly gave Moses the Scripture
Yasser Al Dosari 🤍☘️ وَلَقَدْ اٰتَيْنَا مُوْسَى الْكِتٰبَ لَعَلَّهُمْ يَهْتَدُوْنَ And We certainly gave Moses the Scripture that perhaps they would be guided. #mdajmine
195
12
মানুষের মাঝে তিনটি গুণের বড়ই অভাব! বিখ্যাত মনীষী আল-হারিস আল-মুহাসিবী (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছিলেন— তিনটি জিনিস মানুষের মাঝে ক্রমশ বিরল হয়ে উঠেছে: ১. সুন্দর চেহারার সাথে চারিত্রিক পবিত্রতা (লজ্জাশীলতা ও তাকওয়া)। ২. সুন্দর স্বভাবের সাথে খাঁটি দ্বীনদারিতা। ৩. বন্ধুত্বের সাথে বিশ্বস্ততা ও আমানতদারিতা। আজকের দিনে দাঁড়িয়ে কথাগুলো যেন একদম অক্ষরে অক্ষরে সত্য। বাহ্যিক সৌন্দর্য বা মিষ্টভাষী মানুষ হয়তো সহজেই মেলে, কিন্তু আত্মার সৌন্দর্য আর বিশ্বস্ততা পাওয়া বড় কঠিন। অথচ এই গুণগুলোকেই ইসলাম সবচেয়ে বেশি মূল্যায়ন করেছে: সুন্দর চেহারার চেয়ে পবিত্র চরিত্রই আসল: রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন: “আল্লাহ তাআলা তোমাদের বাহ্যিক রূপ ও ধন-সম্পদের দিকে তাকান না; বরং তিনি দেখেন তোমাদের অন্তর ও আমল।” — (সহিহ মুসলিম: ২৫৬৪) দ্বীনদারিতা ছাড়া চরিত্রের পূর্ণতা নেই: রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন: “মুমিনদের মধ্যে ঈমানে সবচেয়ে পূর্ণাঙ্গ সেই ব্যক্তি, যার চরিত্র সবচেয়ে সুন্দর।” — (সুনানে তিরমিজি: ১১৬২) বিশ্বস্ততা ছাড়া ভ্রাতৃত্ব অর্থহীন: কুরআনে সফল মুমিনদের গুণ তুলে ধরে আল্লাহ তাআলা বলেন: “আর যারা তাদের আমানত ও অঙ্গীকারসমূহ পূর্ণ করে।” — (সূরা আল-মুমিনূন: ৮) রাসূলুল্লাহ ﷺ আরও কঠোরভাবে স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন: “যার আমানতদারিতা নেই, তার প্রকৃত ঈমান নেই।” — (মুসনাদে আহমাদ: ১২৩৮৩, সহিহ) বাহ্যিক রূপ আর কথার মিষ্টি প্রকাশ ক্ষণিকের, কিন্তু চারিত্রিক পবিত্রতা, দ্বীনদারিতা ও আমানতদারিতা মানুষকে দুনিয়া ও আখিরাতে সম্মানিত করে। আল্লাহ আমাদের সবাইকে চেহারা ও কথার চেয়ে অন্তর ও চরিত্রকে সুন্দর করার তাওফিক দিন। আমিন। Al Quran Hidayat
226
13
রাসূলুল্লাহ ﷺ-কে ভালোবাসাই ঈমানের পূর্ণতা ঈমানের দাবি কেবল মুখে স্বীকার করা নয়; এর মূল শক্তি লুকিয়ে আছে হৃদয়ের ভালোবাসায়। রাসুলুল্লাহ ﷺ পরিষ্কার ভাষায় জানিয়ে দিয়েছেন, তাঁর প্রতি ভালোবাসা অন্য সব জাগতিক সম্পর্কের ঊর্ধ্বে না হওয়া পর্যন্ত ঈমান পূর্ণাঙ্গ হতে পারে না। আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন: «فَوَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ لاَ يُؤْمِنُ أَحَدُكُمْ حَتَّى أَكُونَ أَحَبَّ إِلَيْهِ مِنْ وَالِدِهِ وَوَلَدِهِ» “সেই সত্তার কসম, যাঁর হাতে আমার প্রাণ! তোমাদের কেউ ততক্ষণ পর্যন্ত প্রকৃত মুমিন হতে পারবে না, যতক্ষণ না আমি তার কাছে তার পিতা ও সন্তানের চেয়েও অধিক প্রিয় হই।” — সহীহ বুখারী: ১৪ অন্য বর্ণনায় আনাস (রা.) থেকে অতিরিক্ত এসেছে: «وَالنَّاسِ أَجْمَعِينَ» — “এবং সমস্ত মানবজাতির চেয়েও অধিক প্রিয় না হই।” (সহীহ বুখারী: ১৫) উমর (রা.)-এর জীবনের সেই অভাবনীয় মুহূর্ত রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর প্রতি ভালোবাসার মাপকাঠি কেমন হওয়া উচিত, তা প্রকাশ পেয়েছিল উমর ইবনুল খাত্তাব (রা.)-এর একটি ঘটনায়: উমর (রা.) একবার নবিজী ﷺ-কে বললেন, “হে আল্লাহর রাসূল! আমার নিজের প্রাণ ছাড়া আপনি আমার কাছে অন্য সবকিছুর চেয়ে অধিক প্রিয়।” তখন নবিজী ﷺ বললেন: “না, যাঁর হাতে আমার প্রাণ তাঁর কসম! যতক্ষণ না আমি তোমার কাছে তোমার নিজের প্রাণের চেয়েও অধিক প্রিয় হব (ততক্ষণ ঈমান পূর্ণ হবে না)।” মুহূর্তের মধ্যে উমর (রা.) উপলব্ধি করলেন এবং বললেন, “আল্লাহর কসম! এখন আপনি আমার কাছে আমার নিজের জীবনের চেয়েও অধিক প্রিয়।” তখন রাসূলুল্লাহ ﷺ বললেন: «الآنَ يَا عُمَرُ» — “হে উমর! এখন তোমার ঈমান পূর্ণ হলো।” — সহীহ বুখারী: ৬৬৩২ পবিত্র কুরআনে ভালোবাসার অগ্রাধিকার পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তাআলা মুমিনদের প্রাণের চেয়েও নবিজীর অধিকারকে অগ্রাধিকার দিয়ে ঘোষণা করেছেন: النَّبِيُّ أَوْلَىٰ بِالْمُؤْمِنِينَ مِنْ أَنفُسِهِمْ “নবী মুমিনদের কাছে তাদের নিজেদের প্রাণের চেয়েও অধিক ঘনিষ্ঠ ও অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত।” — সূরা আল-আহযাব: ৬ এই ভালোবাসার প্রতিদান কী? এক সাহাবী এসে রাসুলুল্লাহ ﷺ-কে জিজ্ঞেস করলেন, “কিয়ামত কখন হবে? নবিজী ﷺ উল্টো জিজ্ঞেস করলেন, “তুমি কিয়ামতের জন্য কী প্রস্তুতি নিয়েছ?” তিনি বললেন, “আমার তো অনেক বেশি সালাত বা সিয়ামের পুঁজি নেই, তবে আমি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলকে ভালোবাসি।” তখন দয়ার নবী ﷺ এমন একটি সুসংবাদ দিলেন যা শুনে সাহাবায়ে কেরাম ইসলামের পর আর কোনো কথায় এত আনন্দিত হননি: «أَنْتَ مَعَ مَنْ أَحْبَبْتَ» “তুমি (পরকালে) তার সাথেই থাকবে, যাকে তুমি ভালোবাসো।” — সহীহ বুখারী: ৩৬৮৮ নবিজীকে ভালোবাসার বাস্তব প্রমাণ কী? রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর প্রতি ভালোবাসা কেবল আবেগ বা মুখের বুলিতে সীমাবদ্ধ নয়; এর বাস্তব প্রতিফলন ঘটে তিনটি জায়গায়: সুন্নাহর অনুসরণ: জীবনের প্রতিটি পদক্ষেপে—পোশাকে, আচরণে, লেনদেনে ও ইবাদতে তাঁর সুন্নাহকে অগ্রাধিকার দেওয়া। দরূদের প্রাচুর্য: প্রতিদিনের ব্যস্ততার মাঝেও তাঁর প্রতি বেশি বেশি দরূদ পাঠ করা। দ্বীনের প্রতি আনুগত্য: নিজের খেয়ালখুশি কিংবা প্রবৃত্তির চেয়ে রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর নির্দেশকে সবার উপরে স্থান দেওয়া। আল্লাহ তাআলা আমাদের অন্তরে তাঁর হাবীব ﷺ-এর প্রতি নিখাদ ভালোবাসা ও তাঁর সুন্নাহর পূর্ণ আনুগত্য দান করুন। اللَّهُمَّ صَلِّ عَلَى مُحَمَّدٍ وَعَلَى آلِ مُحَمَّدٍ 🤲 Al Quran Hidayat
239
14
Beautiful Quran Recitation Surah Maryam - Verses 7-8 Reader by Yasser Al Dosari #mdajmine
Beautiful Quran Recitation Surah Maryam - Verses 7-8 Reader by Yasser Al Dosari #mdajmine
197
15
কি করেন? — কিছু না, শুধু গৃহিণী! আসলেই কি "কিছু না"? আধুনিক বস্তুবাদী সমাজ আমাদের শিখিয়েছে—অফিসে গিয়ে মাস শেষে বেতন পাওয়াটাই কেবল কাজ, আর নিজের ঘর, সংসার এবং আগামী প্রজন্মকে গড়ে তোলার দায়িত্বটা নাকি "কিছুই না"! অথচ ইসলামের ইতিহাস আমাদের কী শিক্ষা দেয়? কখনো কি ভেবে দেখেছেন, সাইয়্যিদাতু নিসা-ইল আলামিন (বিশ্বজগতের নারীদের নেত্রী) হযরত ফাতিমা (রা.)-এর জীবনের অন্যতম মৌলিক বৈশিষ্ট্য কী ছিল? তিনি কি কোনো প্রশাসনিক পদে ছিলেন? তিনি কি কোনো বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের প্রধান ছিলেন? না। তিনি ছিলেন একজন আদর্শ "রব্বাতুল বাইত" (গৃহের অভিভাবক ও কর্ত্রী)। তাঁর জীবনের সৌন্দর্য ফুটে উঠেছিল তাঁর ঈমান, তাকওয়া, দুনিয়াবিমুখতা, স্বামীর প্রতি অগাধ আনুগত্য, পিতা ও পরিবারকে মানসিক শক্তি প্রদান এবং হাসান-হুসাইনের (রা.) মতো জান্নাতী যুবকদের মানুষ করার মহৎ দায়িত্ব পালনে। হাত কেটে যেত, তবু ক্লান্তিহীন গৃহিণী: রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর প্রিয়তম কন্যা হওয়া সত্ত্বেও তাঁর ঘরে কোনো দাসী ছিল না। নিজ হাতে গম পিষতে গিয়ে তাঁর হাতে কড়া পড়ে যেত, শক্ত চামড়ার মশক দিয়ে পানি টানতে টানতে বুকে দাগ বসে যেত এবং ঘর ঝাড়ু দিতে গিয়ে কাপড় ধূসর হয়ে যেত। একদিন তিনি কষ্টের কথা জানিয়ে খাদেম চাইতে বাবার কাছে গিয়েছিলেন। তখন বিশ্বনবী ﷺ তাঁকে কোনো খাদেম না দিয়ে শিখিয়ে দিয়েছিলেন জান্নাতী প্রেসক্রিপশন: "ঘুমানোর পূর্বে ৩৩ বার সুবহানাল্লাহ, ৩৩ বার আলহামদুলিল্লাহ এবং ৩৪ বার আল্লাহু আকবার পাঠ করবে; এটি তোমাদের জন্য একজন সেবকের চেয়েও উত্তম।" (সহীহ বুখারী: ৫৩৬১, সহীহ মুসলিম: ২৭২৭) একবার রাসূলুল্লাহ ﷺ ফাতিমা (রা.) এবং আলী (রা.)-এর মধ্যে কাজের দায়িত্ব ভাগ করে দিয়েছিলেন—ঘরের ভেতরের সকল কাজকর্ম ফাতিমা (রা.)-এর ওপর, আর বাইরের কাজ আলী (রা.)-এর ওপর। ফাতিমা (রা.) ঘরের দায়িত্ব পেয়ে কতটা সন্তুষ্ট হয়েছিলেন, তা তাঁর আমলই প্রমাণ করে। আম্মাজান খাদিজা (রা.)-এর উদাহরণ: শুধু ফাতিমা (রা.) নন, তাঁর মহীয়সী মা খাদিজাতুল কুবরা (রা.)-এর দিকে তাকান। তিনি ছিলেন সফল নারী, কিন্তু ওহী নাজিলের সেই কঠিনতম মুহূর্তে রাসূলুল্লাহ ﷺ যখন ভীত-সন্ত্রস্ত হয়ে ঘরে ফিরেছিলেন, তখন তিনি ব্যবসায়ী হয়ে নয়—বরং একজন স্নেহময়ী, পরম নির্ভরতার গৃহিণী হিসেবেই তাঁর পাশে দাঁড়িয়ে চাদর জড়িয়ে দিয়েছিলেন এবং সান্ত্বনা জুগিয়েছিলেন। এমনকি স্বয়ং জিবরীল (আ.) এসে রাসূলুল্লাহ ﷺ-কে বলেছিলেন: "হে আল্লাহর রাসূল! এই যে খাদিজা পাত্রে খাবার নিয়ে আপনার কাছে আসছেন। তিনি যখন আসবেন, তখন তাঁকে তাঁর প্রতিপালকের পক্ষ থেকে এবং আমার পক্ষ থেকে সালাম জানাবেন এবং জান্নাতে তাঁর জন্য মোতির তৈরি এমন একটি প্রাসাদের সুসংবাদ দেবেন, যেখানে কোনো শোরগোল থাকবে না এবং কোনো ক্লান্তি থাকবে না।" (সহীহ বুখারী: ৩৮২০) স্বামীর জন্য খাবার তৈরি ও সেবা করার বিনিময়ে স্বয়ং আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা‘আলা তাঁকে সালাম পাঠিয়েছেন! গৃহিণীর মর্যাদা হাদিসের দৃষ্টিতে: রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন: "...নারী তার স্বামীর ঘর ও সন্তানের অভিভাবক এবং সে এদের সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত হবে।" (সহীহ বুখারী: ৮৯৩) অন্য একটি হাদিসে এসেছে: "যে নারী পাঁচ ওয়াক্ত সালাত আদায় করে, রমজানের রোজা রাখে, নিজের লজ্জাস্থানের হেফাজত করে এবং স্বামীর আনুগত্য করে, তাকে বলা হবে—জান্নাতের যে কোনো দরজা দিয়ে ইচ্ছা তুমি প্রবেশ করো।" (সহীহ ইবনে হিব্বান: ৪১৬৩; সিলসিলাতুস সহীহাহ: ৩৬০) তাই প্রিয় বোনেরা! নিজেকে "শুধু গৃহিণী" ভেবে কখনোই হীনম্মন্যতায় ভুগবেন না। আপনি কোনো সাধারণ কাজ করছেন না; আপনি একটি পরিবার গড়ে তুলছেন, ঘরে প্রশান্তি তৈরি করছেন এবং উম্মাহর আগামী প্রজন্মকে দ্বীনের আলো দিয়ে গড়ে তুলছেন। আপনি যখন নিঃশব্দে এক গ্লাস পানি তুলে দেন, ক্লান্তি ভুলে পরিবারের মুখে খাবার তুলে দেন, তখন আল্লাহর কাছে আপনার এই শ্রম বৃথা যায় না। যে দায়িত্ব আম্মাজান খাদিজা ও ফাতিমা (রা.) পরম গর্বের সাথে পালন করে জান্নাতের সর্বোচ্চ মর্যাদার অধিকারী হয়েছেন, সেই দায়িত্ব তো একজন মুসলিম নারীর জন্য সর্বোচ্চ সম্মানের মুকুট! Al Quran Hidayat
213
16
لا يوجد نص...
161
17
হযরত আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন: “সাবধানতার দ্বারা তাকদীর পরিবর্তিত হয় না। তবে যে বিপদ এসে গেছে এবং যা এখনো আসেনি—উভয় ক্ষেত্রেই দু‘আ উপকারী। আসমান থেকে বিপদ নেমে আসার সময় দু‘আ তার পথ রোধ করে দাঁড়ায় এবং কিয়ামত পর্যন্ত উভয়ে লড়াই করতে থাকে (দু‘আ মুসিবতকে জমিনে নামতে বাধা দেয়)।” (মুসতাদরাক আলাস-সহীহাইন: ১/৬৭০; সুনানে তিরমিযী: ৫/৫৫২) ১. দু‘আ কি আসলেই তাকদীর বদলাতে পারে? রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন: “দু‘আ ছাড়া আর কিছুই তাকদীরকে পরিবর্তন বা রদ করতে পারে না, আর সৎকাজ ছাড়া আর কিছুই মানুষের আয়ু বাড়াতে পারে না।” (সুনানে তিরমিযী: ২১৩৯, হাসান হাদিস) মুহাদ্দিসগণ ব্যাখ্যা করেছেন—কোনো বিপদ আসার কথা থাকলে বান্দার আকুল দু‘আর কারণে আল্লাহ তা দূর করে দেন, আর এটিও আল্লাহর নির্ধারিত তাকদীরেরই অংশ। ২. বিপদ দূর হওয়া ও অন্তরে প্রশান্তি পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন: أَمَّنْ يُجِيبُ الْمُضْطَرَّ إِذَا دَعَاهُ وَيَكْشِفُ السُّوءَ “বরং কে তিনি, যিনি নিরুপায় ব্যক্তির ডাকে সাড়া দেন যখন সে তাঁকে ডাকে এবং তার বিপদ-মুসিবত দূর করেন?” (সূরা আন-নামল: ৬২) বিপদে মানুষ যখন চারপাশের সব উপায় বন্ধ দেখে আল্লাহর দিকে হাত তোলে, তখন আসমান থেকে সরাসরি সাহায্য নেমে আসে। ৩. দু‘আ কখনো ব্যর্থ হয় না অনেকে ভাবেন দু‘আ কবুল হচ্ছে না। কিন্তু রাসূলুল্লাহ ﷺ আশ্বস্ত করে বলেছেন: “কোনো মুসলিম যখন এমন কোনো দু‘আ করে যাতে কোনো পাপ বা আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্ন করার বিষয় নেই, তখন আল্লাহ তাকে তিনটি প্রতিদানের যেকোনো একটি অবশ্যই দেন: ১. তার দু‘আ তৎক্ষণাৎ কবুল করা হয়। ২. অথবা তা আখিরাতের জন্য সঞ্চয় করে রাখা হয়। ৩. কিংবা এর বিনিময়ে তার থেকে সমপরিমাণ কোনো বড় বিপদ বা অমঙ্গল দূর করে দেওয়া হয়।” (মুসনাদে আহমাদ: ১১১৩৩, সহীহ) যত বড় পরিকল্পনাই আমরা করি না কেন, তাকদীর আল্লাহর হাতে। কিন্তু সেই তাকদীর যিনি নির্ধারণ করেন, তিনিই আমাদের চেয়েছেন দু‘আর মাধ্যমে তাঁর কাছে চাইতে। প্রতিটি পেরেশানি, অসুস্থতা আর অনিশ্চয়তায় হতাশ না হয়ে জায়নামাজে বসে যাওয়া মুমিনের বৈশিষ্ট্য। বিপদের মুখে আপনার সব দরজা বন্ধ হলেও আসমানের দরজা সবসময় খোলা। তাই প্রতিটি পদক্ষেপে দু‘আ জারি রাখুন। ১. মূল হাদিস (দু‘আ ও বালা-মুসিবতের লড়াই) عَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا قَالَتْ : قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ : «لَا يُغْنِي حَذَرٌ مِنْ قَدَرٍ، وَالدُّعَاءُ يَنْفَعُ مِمَّا نَزَلَ وَمِمَّا لَمْ يَنْزِلْ، وَإِنَّ الْبَلَاءَ لَيَنْزِلُ فَيَلْقَاهُ الدُّعَاءُ فَيَعْتَلِجَانِ إِلَى يَوْمِ الْقِيَامَةِ» (আল-মুসতাদরাক আলাস-সহীহাইন: ১৮১৫; মাজমাউয যাওয়াইদ: ১০/১৪৬) ২. দু‘আ তাকদীর পরিবর্তন করে عَنْ ثَوْبَانَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ : قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ : «لَا يَرُدُّ الْقَدَرَ إِلَّا الدُّعَاءُ، وَلَا يَزِيدُ فِي الْعُمْرِ إِلَّا الْبِرُّ» (জামে আত-তিরমিযী: ২১৩৯; সুনানে ইবনে মাজাহ: ৯০) ৩. সূরা আন-নামল (আয়াত ৬২) ﴿أَمَّن يُجِيبُ الْمُضْطَرَّ إِذَا دَعَاهُ وَيَكْشِفُ السُّوءَ وَيَجْعَلُكُمْ خُلَفَاءَ الْأَرْضِ ۗ أَإِلَٰهٌ مَّعَ اللَّهِ ۚ قَلِيلًا مَّا تَذَكَّرُونَ﴾ (সূরা আন-নামল: ২৭:৬২) ৪. দু‘আ কবুলের ৩টি মাধ্যম عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ، أَنَّ النَّبِيَّ ﷺ قَالَ : «مَا مِنْ مُسْلِمٍ يَدْعُو بِدَعْوَةٍ لَيْسَ فِيهَا إِثْمٌ، وَلَا قَطِيعَةُ رَحِمٍ، إِلَّا أَعْطَاهُ اللَّهُ بِهَا إِحْدَى ثَلَاثٍ: إِمَّا أَنْ تُعَجَّلَ لَهُ دَعْوَتُهُ، وَإِمَّا أَنْ يَدَّخِرَهَا لَهُ فِي الْآخِرَةِ، وَإِمَّا أَنْ يَصْرِفَ عَنْهُ مِنَ السُّوءِ مِثْلَهَا» (মুসনাদে আহমাদ: ১১১৩৩; আল-আদাবুল মুফরাদ: ৭১০) Al Quran Hidayat
184
18
জীবন অল্প কিছু দিনের, কিন্তু এর প্রতিদান অনন্তকালের। শায়খ ইবনু উসাইমীন رحمه الله অত্যন্ত মূল্যবান একটি কথা বলেছেন: "জীবন অল্প কিছু সময়ের; তারপর তা শেষ হয়ে যাবে। তাই কষ্ট ও কঠিন পরিস্থিতিতে সবর করো। নিজের প্রবৃত্তি ও আকাঙ্ক্ষাকে সংযত রাখার ক্ষেত্রেও সবর করো। আল্লাহ তোমাকে যে ফরজ ও দায়িত্বগুলো পালন করার নির্দেশ দিয়েছেন, সেগুলো পালনের ক্ষেত্রেও সবর করো। তোমার নিজের কারণে, আল্লাহর পক্ষ থেকে অথবা মানুষের পক্ষ থেকে যে পরীক্ষাগুলো তোমার ওপর আসে—সেসবের ওপরও সবর করো। সবর করতে থাকো, যতক্ষণ না তুমি সেই প্রশান্তির আবাসে—আখিরাতের শান্তির ঘরে—পৌঁছে যাও।" (শারহু আল-কাফিয়াহ আশ-শাফিয়াহ, ৪/৪৬০) ইসলামে ধৈর্য বা সবর কেবল মুখ বুজে কষ্ট সহ্য করা নয়; এটি হলো অন্তরের অবিচল বিশ্বাস। আলেমগণ সবরকে মূলত তিনটি ভাগে ভাগ করেছেন: আল্লাহর আনুগত্যে সবর: ইবাদত ও দায়িত্ব পালনে মন অলসতা করলেও অবিচল থাকা। পাপ ও প্রবৃত্তি থেকে বাঁচতে সবর: মন টানলেও আল্লাহর নিষেধের সামনে নিজেকে আটকে রাখা। কঠিন তাকদীর ও বিপদে সবর: জীবনের অভাব, দুঃখ, অসুস্থতা বা মানুষের দেওয়া আঘাতে ভেঙে না পড়ে আল্লাহর সন্তুষ্টি খোঁজা। কোরআনের সান্ত্বনা: দুনিয়া পরীক্ষার জায়গা, এখানে ক্লান্তি আসবেই। কিন্তু এই ধৈর্যের প্রতিদান কত বড়, তা জানিয়ে স্বয়ং আল্লাহ তাআলা বলেন: إِنَّمَا يُوَفَّى الصَّابِرُونَ أَجْرَهُم بِغَيْرِ حِسَابٍ "নিশ্চয়ই ধৈর্যশীলদের তাদের পুরস্কার কোনো হিসাব ছাড়াই পরিপূর্ণভাবে দেওয়া হবে।" — [সূরা আয-যুমার, আয়াত: ১০] রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর দৃষ্টিভঙ্গি: একজন মুমিনের পুরো জীবনটাই কল্যাণের। রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন: "মুমিনের অবস্থা সত্যিই চমৎকার! তার প্রতিটি কাজেই কল্যাণ থাকে। আর এটা মুমিন ছাড়া অন্য কারও ক্ষেত্রে হয় না। যখন সে কোনো আনন্দের সংবাদ পায়, তখন আল্লাহর শোকর করে—তা তার জন্য কল্যাণকর হয়। আর যখন সে কোনো বিপদের সম্মুখীন হয়, তখন সবর (ধৈর্য ধারণ) করে—তাও তার জন্য কল্যাণকর হয়।" — [সহীহ মুসলিম, হাদিস: ২৯৯৯] অন্য একটি হাদিসে তিনি ধৈর্যশীলদের অন্যতম সেরা উপহারের সুসংবাদ দিয়ে বলেছেন: "ধৈর্যের চেয়ে উত্তম ও প্রশস্ত আর কোনো দান কাউকে দেওয়া হয়নি।" — [সহীহ বুখারী, হাদিস: ১৪৬৯; সহীহ মুসলিম, হাদিস: ১০৫৩] এই পথচলা সাময়িক। আজকের এই সংযম, চোখের পানি আর নীরবে সয়ে যাওয়া ক্লান্তিগুলো হারিয়ে যাবে না। একটু ধৈর্য ধরুন—জান্নাতের দরজায় যেদিন ফেরেশতারা বলবে: سَلَامٌ عَلَيْكُم بِمَا صَبَرْتُمْ فَنِعْمَ عُقْبَى الدَّارِ "তোমাদের সবরের কারণে তোমাদের ওপর শান্তি বর্ষিত হোক! আখিরাতের এই পরিণাম কতই না উত্তম!" (সূরা আর-রাদ, আয়াত: ২৪) — সেদিন পেছনের সব কষ্ট এক নিমেষেই তুচ্ছ মনে হবে। আল্লাহ আমাদের জীবনের প্রতিটি পদক্ষেপে সবর ও শোকরের তাওফিক দান করুন। আমিন। Al Quran Hidayat
192
19
"Remember Job when he called out to his Lord, 'Indeed, adversity has touched me, and You are the Most Merciful of the merciful.'" [Surah Al-Anbiya, 21:83]
167
20
কখনো কি এমন হয়েছে যে, চারপাশের দেয়ালগুলো আপনার দিকে তেড়ে আসছে? বুকটা ভীষণ ভারি হয়ে আছে, কিন্তু কাকে বলবেন সেই কথা খুঁজে পাচ্ছেন না? হয়তো বলতে চেয়েছেন কাউকে, কিন্তু শব্দগুলো গলার কাছে এসে আটকে গেছে। প্রিয় মানুষের অবহেলা, ভুল বোঝা কিংবা পরিস্থিতির নিষ্ঠুরতা আপনার মুখটা সজোরে বন্ধ করে দিয়েছে। মনে হতে থাকে এক গভীর সমুদ্রের নিচে আপনি তলিয়ে যাচ্ছেন, যেখানে চাইলেও চিৎকার করা যায় না—দম বন্ধ হয়ে আসে! আমরা কত মানুষের দরজায় করাঘাত করি একটুখানি শান্তির আশায়! ভাবি, কেউ একজন অন্তত আমার হাহাকারটা বুঝুক। অথচ আমরা ভুলে যাই, পৃথিবীর সবচেয়ে নিরাপদ আশ্রয়টি মানুষের কাছে নয়, বরং জায়নামাজে। মানুষের কাছে নিজের দুর্বলতা প্রকাশ করলে করুণা বা অবহেলা মেলে, আর আল্লাহর কাছে প্রকাশ করলে নেমে আসে প্রশান্তি আর সম্মান। ঠিক যেমন নবী ইয়াকুব (আলাইহিস সালাম) চরম বিপদে মানুষের কাছে হাত না পেতে বলেছিলেন: "আমি তো আমার দুঃখ আর বেদনার অভিযোগ কেবল আল্লাহর কাছেই পেশ করছি..." (সূরা ইউসুফ, আয়াত: ৮৬) যখন পুরো পৃথিবী আপনার দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়, তখন আপনার রব আপনাকে একান্তে ডাকার সুযোগ করে দেন। আপনি হয়তো ভাবছেন কেউ আপনাকে দেখছে না, কিন্তু আপনার রব বলছেন: "নিশ্চয়ই কষ্টের সাথেই রয়েছে স্বস্তি।" (সূরা আল-ইনশিরাহ, আয়াত: ৬) একবার ভাবুন তো, সালাতে দাঁড়িয়ে যখন বান্দা বলে ‘আলহামদু লিল্লাহি রাব্বিল আলামিন’, তখন আরশের মালিক স্বয়ং বান্দার কথার উত্তর দিয়ে ফেরেশতাদের সামনে গর্ব করে বলেন—"আমার বান্দা আমার প্রশংসা করল।" (সহিহ মুসলিম: ৩৯৫) আপনার চোখের জল যেখানে কেউ দেখে না, সিজদায় সেই নোনা জলটুকু পরম মমতায় মাটির বুক শুষে নেয়। আপনি কি জানেন, মানুষ তার রবের সবচেয়ে কাছাকাছি কখন পৌঁছায়? রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন: "বান্দা যখন সিজদারত অবস্থায় থাকে, তখন সে তার রবের সবচেয়ে নিকটবর্তী হয়। সুতরাং তোমরা সিজদায় বেশি বেশি দোয়া করো।" (সহিহ মুসলিম: ৪৮২) মানুষের কাছে হাত পাতলে হীনম্মন্যতা বাড়ে, আর আল্লাহর কাছে ভাঙা হৃদয় নিয়ে দাঁড়ালে বাড়ে মর্যাদা। আপনার সবটুকু দমবন্ধ করা কষ্ট উবে যাবে, যদি আপনি কেবল একবার গভীর রাতে দু’হাত তুলে জায়নামাজে নিজেকে সঁপে দিতে পারেন। দুনিয়ার কেউ না বুঝলেও আপনার প্রতিটা দীর্ঘশ্বাস, প্রতিটি অশ্রুবিন্দু আর ভেতরের আর্তনাদ আপনার রব ঠিকই শোনেন। Al Quran Hidayat
213