আহমদ রাইসুনি অনুবাদ হচ্ছে। বেশ ভালো কথা। কিন্তু অনুবাদটা এমনভাবে হচ্ছে যেনো, আহমদ রাইসুনিকে এর আগ কেউ পাঠ করেনি। ইসলামের শুরা ব্যবস্থাকে জগাখুচিরি বানিয়ে গণতন্ত্রকে ইসলামি বানানোর তার প্রস্তাবিত বিষয়গুলো কেউই জানে না! অথচ বাস্তবতা হলো এগুলো অনেকটা পচা মাল। যে থিউরী রাইসুনিরা দিতে চাইতেছে এগুলো আরবে চূড়ান্ত ব্যর্থ হয়েছে।
রাইসুনি হলো আরবের বিশিষ্ট মাকাসেদি, যারা মাকাসেদে শরয়ীয়্যাহকে একটা ফিতনাহের পর্যায়ে নিয়ে গিছে। কীভাবে, তাদের কাছে মাকাসেদে শরয়ীয়্যাহ মানিই হলো এর নাম করে ফকিহদের স্পষ্ট সমাধানকে পাশ কেটে গিয়ে স্টাবলিষ্ট জীবনব্যবস্থাকে ধরে রাখা। তাদের জীবনের সব সমাধানই পশ্চিমের ফ্রেমওয়ার্কের মধ্যেই থাকে।
তো, এমন একজন মানুষের বই অনুবাদ করা হচ্ছে। গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র, যার যা ইচ্ছে সে অনুবাদ করতেই পারে, এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু সাথে এগুলোও উম্মাহের জেনে রাখা দরকার রাইসুনি হলো ঐ ব্যক্তি যে, ইজরাইলের সাথে ফিলিস্তিনের শান্তিপূর্ণ অবস্থানের প্রবক্তা! যার বিরুদ্ধে বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ও আলেম আলী মুহিউদ্দি আল কারদাগীসহ বেশ কিছু আলেম খণ্ডনও করেছেন!
এই রাইসুনি হলো সেই যার মত, যেহেতু আধুনিক জাতী রাষ্ট্রে শরীয়া বাস্তবায়ন অসম্ভব তাই শরীয়া বাস্তবায়ন মুসলিমদের জন্য আর আবশ্যক থাকে না। কারণ অসম্ভব বিষয় তো আবশ্যক নয়!
.
তার যে বই অনুবাদ করা হয়েছে সেটা নিয়ে আলাপ করি আসেন।
তার পুরো বইয়ের খোলাসা হলো, এই যে গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র আর তার যে নেজাম আছে ভোট, পার্লামেন্ট, নারীদের পার্লামেন্টে যাওয়া, নারীদের ভোট দেওয়া ইত্যাদি যা যা আছে এই সবকিছুই ইসলামে আছে। শুধু আছেই নয়, বরং ইসলাম মূলত এটাই চায় এবং এভাবেই রাষ্ট্র চালাতে চায়!
একটা বলি শুধু, নারীদের শুরার সদস্য হওয়া অর্থাৎ, আহলুল হাল্লি ওয়াল আকদ হওয়া। এখন সালাফদের অসংখ্য বক্তব্য তো পাওয়া যায়, নারীরা শুরার সদস্য হতে পারবে না। তাই রাইসুনি এটাকে কী করবে, সে মত আমাদের সালাফরা আসলে এই মাসআলাগুলো ঠিক মতো বুঝে নাই, এগুলো সঠিকভাবে মুনাকাশা করে নাই। তাই এখন আর ফকিহদের বক্তব্য নেওয়া যাবে না, আমরা সরাসরি সিরাত আর সাহাবাদের থেকে নিজেই নিয়ে নিবো। দুনিয়ার সমস্ত শয়তানী এভাবেই শুরু হয়। সালাফদের ইবারত ও সমাধানকে সামনে রাখলে তো আর পশ্চিমের জীবনব্যবস্থা মেনে নেওয়া সম্ভব না। তাই তাদেরকেই সাইট করে দেও।
শুরার ক্ষেত্রে নারী-পুরুষ সমান এটার দলিল সে কী দিছে জানেন? যে সমস্ত আয়াতে আল্লাহ নারী-পুরুষকে সমানভাবে সৃষ্টি করেছেন, তাই নারী পুরুষ সমান।
মুসা আ.কে ভাড়ায় রাখার জন্য শুয়াইব আ.-এর মেয়েরা যে পরামর্শ দিয়েছে, এখান থেকে প্রমাণিত হয় নারীরাও রাষ্ট্রের মূল কর্তৃত্বে অর্থাৎ, পার্লামেন্টে যেতে পারবে। শুধুই কী পারবে! বাকীটা আর না বললাম!
গণতন্ত্রকে ইসলামিকরনে পুরো বইতে এইধরনের দলিলই পাবেন ইনশাআল্লাহ। আর এগুলো পড়ে ভাববেন, আহা! আমাদের হুজুররা কত মূর্খ! গণতন্ত্রকে এভাবে কু*ফ*র বলে! আর জি*হা*দের কথা যারা বলে সেগুলোতো নষ্ট!
পড়তে থাকেন ইনশাআল্লাহ, চমৎকার ইলম!