পৃথিবীতে কোনো কিছুই রাজনীতির বাইরে না।
ফিফা ফুটবল বিশ্বকাপ একটি পলিটিক্যাল ইভেন্ট। এটি কোনোভাবেই রাজনীতি মুক্ত কিছু না।
আপনার কাছে মনে হতে পারে যে, এগুলো কন্সপিরেসি থিউরী, এগুলো বাড়াবাড়ি, খেলার সাথে আবার রাজনীতির কী সম্পর্ক!
কিন্তু সত্যি হচ্ছে, ফিফা আয়োজিত ফুটবল বিশ্বকাপও রাজনৈতিক একটা ইভেন্ট।
এটা বিশ্বরাজনীতির অংশ, আন্তর্জাতিক রাজনীতির একটা গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
কিন্তু এসব ব্যাপারে যদি আপনি মানুষকে বলতে যান, ফেইসবুকে লিখতে যান, তাহলে বড় অংশই ক্ষেপে যাবে।
ক্ষেপে আপনাকে গালাগালি করবে।
এজন্য ফুটবল নিয়ে কোনো সিরিয়াস আলাপ ফেইসবুকে দিই না।
তবে ফেইসবুকে থাকা বেশীরভাগ অডিয়েন্সের যেহেতু বুঝার ক্ষমতা অত্যন্ত নিন্ম লেভেলের, তাই তারা যেকোনো কিছু নিজের দিকে টেনে নেয়।
ক্ষেপে যায়। ক্ষেপে গিয়ে আবার গালাগালি করে।
অবশ্য আমার মজাই লাগে, এজন্য এদেরকে আমি প্রচুর ক্ষেপাই।
এদের প্রিয় দল, প্রিয় খেলোয়াড় নিয়ে আপনি কিছু বললে—
এর আপনাকে বাপ মা তোলে গালাগালি করবে।
জিনিসটা আমি আবিষ্কার করি, ২০১৪ সালে।
আর্জেন্টিনা কীভাবে দেশের সব কালো মানুষকে মুছে ফেলে পুরোপুরি সাদা হয়ে গেল, কালোদের উপর চালানো গণহত্যা নিয়ে লিখেছিলাম।
তখন যাদেরকে ভালো লোক ভাবতাম, তারাও এসে আমাকে অ্যাটাক করে।
কারণ তারা আর্জেন্টিনার সাপোর্টার।
ব্যাপারটাকে আমি প্রচণ্ড অবাক হই।
আমি কিন্তু ইতিহাস, রাজনীতি নিয়ে লিখেছি।
খেলার সাথে এর কোনো সম্পর্ক ছিল না।
গণহারে রিপোর্ট করে আমার সেই লেখাও রিমুভ করে দেয় তারা।
তখন বুঝতে পারি, এই দেশে ফুটবল ফ্যানরা কত ফ্যানাটিক।
আমার অবজারভেশনে ভুল থাকতে পারে, অন্যদের চেয়ে আলাদা হতে পারে;
কিন্তু আর্জেন্টিনা আর মেসি ফ্যানদের একটা বড় অংশ ফ্যানাটিক।
আমি বলছি না, সবাই।
আমার অনেক ক্লোজ মানুষ এই দলের সাপোর্টার।
কিন্তু একটা বড় অংশ অত্যন্ত ফ্যানাটিক।
এর একটা কারণ হতে পারে, বাংলাদেশে আর্জেন্টিনা সাপোর্টার বেশী, তাই হয়তো এরকম অংশও বেশী।
অন্যান্য দলের সাপোর্টারদের মধ্যেও সেইম লোক আছে, কিন্তু তারা সংখ্যায় অত্যন্ত নগন্য।
মেসি যে জায়োনিস্ট, এটা বললেও এসে গালাগাল করবে।
ইভেন মেসির পরে পরবর্তী তারকা হিসেবে জায়োনিস্টরা নেইমারকে পছন্দ করে গ্রুম করতে পিক করেছিল।
কিন্তু নানা কারণে সেটা হয় নাই।
ব্রাজিলের রাজনৈতিক কারণ, আমেরিকার সাথে ব্রাজিলের বিপরীত মেরুর অবস্থানের কারণে এটা অতটা সহজ না।
যতটা সহজ একজন আর্জেন্টাইন বা সুইডিশ কাউকে করা।
আবার ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো এন্টি জায়োনিস্ট, এন্টি ইজরাইলী না হলে, সে ছিল একটা খুব ভালো চয়েস।
কিন্তু এন্টি জায়োনিস্ট হওয়ায়, তাকে দমিয়ে রাখতে পারাটাও একটা সাফল্য।
কিন্তু সে এসব বিট করেছে, অনেকভাবেই।
যাই হোক, এই লেখাটা কোনো খেলা নিয়ে লেখা না।
এই লেখাটা রাজনৈতিক।
আমি কোনো ফুটবল দলেরই খেলার জন্য সাপোর্টার না।