ISLAMIC ARTICLE (ইসলামি প্রবন্ধ)
الذهاب إلى القناة على Telegram
অন্যান্য চ্যানেলঃ ❑ t.me/hakeemacademybd ❑ t.me/islamiclibraryintl ❑ t.me/islamimasayel ❑ t.me/iiqbyhakeemacademy ❑ t.me/iisbyhakeemacademy ❏ t.me/hakeemacademy ❑ t.me/islaah_academy ❑ t.me/selectedwaz ❑ t.me/islamicaudiobd ✪ যোগাযোগঃ t.me/nurulhakim365
إظهار المزيد2 885
المشتركون
+424 ساعات
+97 أيام
+1030 أيام
جاري تحميل البيانات...
القنوات المماثلة
سحابة العلامات
لا توجد بيانات
هل تواجه مشاكل؟ يرجى تحديث الصفحة أو الاتصال بمدير الدعم الخاص بنا.
الإشارات الواردة والصادرة
---
---
---
---
---
---
جذب المشتركين
يوليو '26
يوليو '26
+41
في 6 قنوات
يونيو '26
+44
في 2 قنوات
Get PRO
مايو '26
+48
في 4 قنوات
Get PRO
أبريل '26
+45
في 5 قنوات
Get PRO
مارس '26
+27
في 6 قنوات
Get PRO
فبراير '26
+49
في 5 قنوات
Get PRO
يناير '26
+37
في 3 قنوات
Get PRO
ديسمبر '25
+37
في 2 قنوات
Get PRO
نوفمبر '25
+25
في 2 قنوات
Get PRO
أكتوبر '25
+19
في 0 قنوات
Get PRO
سبتمبر '25
+36
في 1 قنوات
Get PRO
أغسطس '25
+55
في 4 قنوات
Get PRO
يوليو '25
+44
في 3 قنوات
Get PRO
يونيو '25
+50
في 8 قنوات
Get PRO
مايو '25
+36
في 6 قنوات
Get PRO
أبريل '25
+53
في 7 قنوات
Get PRO
مارس '25
+63
في 12 قنوات
Get PRO
فبراير '25
+87
في 10 قنوات
Get PRO
يناير '25
+61
في 6 قنوات
Get PRO
ديسمبر '24
+50
في 5 قنوات
Get PRO
نوفمبر '24
+67
في 5 قنوات
Get PRO
أكتوبر '24
+73
في 11 قنوات
Get PRO
سبتمبر '24
+178
في 10 قنوات
Get PRO
أغسطس '24
+153
في 12 قنوات
Get PRO
يوليو '24
+65
في 12 قنوات
Get PRO
يونيو '24
+80
في 15 قنوات
Get PRO
مايو '24
+74
في 13 قنوات
Get PRO
أبريل '24
+66
في 14 قنوات
Get PRO
مارس '24
+108
في 12 قنوات
Get PRO
فبراير '24
+73
في 15 قنوات
Get PRO
يناير '24
+61
في 12 قنوات
Get PRO
ديسمبر '23
+63
في 12 قنوات
Get PRO
نوفمبر '23
+69
في 2 قنوات
Get PRO
أكتوبر '23
+58
في 2 قنوات
Get PRO
سبتمبر '23
+51
في 0 قنوات
Get PRO
أغسطس '23
+103
في 0 قنوات
Get PRO
يوليو '23
+53
في 0 قنوات
Get PRO
يونيو '23
+63
في 0 قنوات
Get PRO
مايو '23
+46
في 0 قنوات
Get PRO
أبريل '23
+37
في 0 قنوات
Get PRO
مارس '23
+57
في 0 قنوات
Get PRO
فبراير '23
+48
في 0 قنوات
Get PRO
يناير '23
+69
في 0 قنوات
Get PRO
ديسمبر '22
+46
في 0 قنوات
Get PRO
نوفمبر '22
+58
في 0 قنوات
Get PRO
أكتوبر '22
+74
في 0 قنوات
Get PRO
سبتمبر '22
+94
في 0 قنوات
Get PRO
أغسطس '22
+74
في 0 قنوات
Get PRO
يوليو '22
+163
في 0 قنوات
Get PRO
يونيو '22
+63
في 0 قنوات
Get PRO
مايو '22
+52
في 0 قنوات
Get PRO
أبريل '22
+56
في 0 قنوات
Get PRO
مارس '22
+84
في 0 قنوات
Get PRO
فبراير '22
+55
في 0 قنوات
Get PRO
يناير '22
+75
في 0 قنوات
Get PRO
ديسمبر '21
+129
في 0 قنوات
Get PRO
نوفمبر '21
+77
في 0 قنوات
Get PRO
أكتوبر '21
+105
في 0 قنوات
Get PRO
سبتمبر '21
+89
في 0 قنوات
Get PRO
أغسطس '21
+159
في 0 قنوات
Get PRO
يوليو '21
+120
في 0 قنوات
Get PRO
يونيو '21
+162
في 0 قنوات
Get PRO
مايو '21
+60
في 0 قنوات
Get PRO
أبريل '21
+67
في 0 قنوات
Get PRO
مارس '21
+37
في 0 قنوات
Get PRO
فبراير '21
+101
في 0 قنوات
Get PRO
يناير '21
+72
في 0 قنوات
Get PRO
ديسمبر '20
+798
في 0 قنوات
| التاريخ | نمو المشتركين | الإشارات | القنوات | |
| 27 يوليو | 0 | |||
| 26 يوليو | +4 | |||
| 25 يوليو | +2 | |||
| 24 يوليو | +2 | |||
| 23 يوليو | +3 | |||
| 22 يوليو | +1 | |||
| 21 يوليو | +1 | |||
| 20 يوليو | 0 | |||
| 19 يوليو | 0 | |||
| 18 يوليو | +1 | |||
| 17 يوليو | 0 | |||
| 16 يوليو | +2 | |||
| 15 يوليو | 0 | |||
| 14 يوليو | +2 | |||
| 13 يوليو | +1 | |||
| 12 يوليو | +1 | |||
| 11 يوليو | +2 | |||
| 10 يوليو | +4 | |||
| 09 يوليو | +1 | |||
| 08 يوليو | +2 | |||
| 07 يوليو | +1 | |||
| 06 يوليو | +1 | |||
| 05 يوليو | +4 | |||
| 04 يوليو | +2 | |||
| 03 يوليو | +2 | |||
| 02 يوليو | +1 | |||
| 01 يوليو | +1 |
منشورات القناة
কুরআন-হাদীসে যে সকল গুনাহের উপর লা‘নত করা হয়েছে
-হযরত মুফতী মনসূরুল হক সাহেব
━━━━━━ • ✿ • ━━━━━━
০১। যে স্ত্রী বা পুরুষ সূঁচের দ্বারা নিজ হাতে নিজের শরীর খোদায় বা অন্যের দ্বারা তা অঙ্কিত করায় তার প্রতি আল্লাহর লা‘নত। (বুখারী: হাদীস নং ৫৯৩৭, মুসলিম: হাদীস নং ২১২৪)
০২। যে স্ত্রীলোক নিজ হাতে বা অন্য কারো দ্বারা অন্যের চুল নিজের চুলের সঙ্গে মিশিয়ে নিজের চুলের পরিমাণ বাড়ায় তার উপর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম লা‘নত করেছেন। (বুখারী: হাদীস নং ৫৯৩৭, মুসলিম: হাদীস নং ২১২৪)
০৩। যে ব্যক্তি নিজে সূদ খায় বা (বিনা অপরাগতায়) অন্যকে সূদ খাওয়ায়, যে সূদের দলীলে বা কারবারে স্বাক্ষী হয়, যে সূদের দলীল লেখে তাদের সকলের উপর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম লা‘নত করেছেন। (মুসলিম: হাদীস নং ১৫৯৮)
০৪। যে নিজ স্ত্রীকে তিন তালাক দিয়ে হীলা-বাহানা করে হারামকে হালাল করার জন্য সে স্ত্রীকে অন্য কারো নিকট এই শর্তে বিবাহ দেয় যে, বিবাহের পর সহবাস করে তালাক দিতে হবে এবং দ্বিতীয় ব্যক্তি এরূপ শর্ত স্বীকার করে বিবাহ করে উভয় ব্যক্তির উপর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম লা‘নত করেছেন। (তিরমিযী শরীফ: হাদীস নং ১১২১)
০৫। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেছেন: যে ব্যক্তি ডিম বা রশি ইত্যাদি ক্ষুদ্র জিনিষও চুরি করে আল্লাহ তা‘আলা তার হাত কাটার হুকুম দিয়েছেন এবং আল্লাহ তা‘আলা তার উপর লা‘নত করেছেন। (বুখারী: হাদীস নং ৬৭৯৯, মুসলিম: হাদীস নং ১৬৮৭)
০৬। যে মদ তৈরী করে, যার জন্য তৈরী করে, যে মদ পান করে, যে মদ পান করায়, যে মদ বিক্রি করে, যে মদ বিক্রি করে পয়সা খায়, যে মদ বহন করে আনে, যার জন্য বহন করে আনা হয়, যে মদ দান করে, তাদের সকলের উপর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম লা‘নত করেছেন। (তিরমিযী: হাদীস নং ১২৯৮)
০৭। যে পিতা-মাতাকে লা‘নত করে আল্লাহ তা‘আলা তাদের উপর লা‘নত করেন। (মুসলিম: হা: নং ১৯৭৮)
০৮। যে পিতা-মাতাকে গালি দেয় বা সমালোচনা করে আল্লাহ তা‘আলা তার উপর লা‘নত করেন। (মুসনাদে আহমদ: হা: নং ২৮২০)
০৯। যে ব্যক্তি তীর বা ধনুকের লক্ষ্য ঠিক করার জন্য কোন প্রাণীকে কষ্ট দিয়ে তাকে নিশানা বানায় তার উপর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম লা‘নত করেছেন।
১০। যে পুরুষ স্ত্রীলোকের সুরত ও বেশ-ভুষা বা যে স্ত্রীলোক পুরুষের সূরত বেশ-ভুষা ধারণ করে তার উপর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম লা‘নত করেছেন।
১১। যে এক আল্লাহ ব্যতীত অন্য কারো নামে প্রাণী যবাহ করে আল্লাহ তা‘আলা তার উপর লা‘নত করেছেন। (মুসলিম: হা: নং ১৭৮৯)
১২। যে ইসলাম ধর্মের বাহিরের কোন কথা ইসলাম ধর্মের ভিতরে দাখিল করে এবং যে এমন ব্যক্তির সহায়তা করে আল্লাহ তা‘আলা, ফেরেশতা এবং মানব সকলেই তার উপর অভিসম্পাত করে। (আবূ দাউদ: হা: নং ৪৫১৯)
১৩। যে ব্যক্তি কোন জীব-জন্তুর ছবি অঙ্কিত করে তার উপর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম লা‘নত করেছেন। (বুখারী: হা: নং ২০৮৬)
১৪। যে ব্যক্তি লুত আলাইহিস সালামের কওমের পাপকার্যে অর্থাৎ সমকামিতায় লিপ্ত হয় সে অভিশপ্ত। (মুসনাদে আহমাদ: হা: নং ১৮৮০)
১৫। যে কোন জীবের সাথে কু-কর্ম করে সে অভিশপ্ত। (প্রাগুক্ত)
১৬। যে ব্যক্তি কোন জীবের মুখের উপর লোহা গরম করে দাগ দিবে অথবা তার মুখের উপর আঘাত করবে সে অভিশপ্ত। (আবূ দাউদ: হা: নং ২৫৬৪)
১৭। যে ব্যক্তি কোন মুসলমানের সহিত ধোঁকাবাজী করে বা জ্ঞাতসারে কোন মুসলমানের ক্ষতি করে সে অভিশপ্ত। (তিরমিযী: হা: নং ১৯৪৬)
১৮। যে সব স্ত্রীলোক মাজারে যাবে এবং যারা মাজারে গিয়ে সিজদা করবে বা তথায় বাতি জ্বালাবে তাদের উপর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম লা‘নত করেছেন। (তিরমিযী: হা: নং ৩২০)
১৯। যে লোক কারো স্ত্রীকে তার স্বামীর বিরুদ্ধে উস্কানী দিয়ে খাড়া করাবে (বা চাকর-গোলামকে তার মুনিবের বিরুদ্ধে বা শাগরেদকে উস্তাদের বিরুদ্ধে) কুমন্ত্রণা দিয়ে উত্তেজিত করবে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন সে আমার দলভুক্ত নয়। (আবূ দাউদ: হা: নং ২১৭৫)
২০। যে পুরুষ তার স্ত্রীর পশ্চাতদ্বারে সহবাস করবে সে অভিশপ্ত। (আবূ দাউদ: হা: নং ২১৬২)
২১। যে স্ত্রী তার স্বামীর উপর রাগ করে স্বামী থেকে পৃথক রাত্রিযাপন করে তার উপর ফেরেশতাগণ ভোর পর্যন্ত লা‘নত করতে থাকেন। (মুসলিম হা: নং ১৪৩৬)
✪✪ অসম্পূর্ণ | বাকি অংশ...✍️
🔰 PDF File
তথ্যসূত্রঃ ইসলামী যিন্দেগী | জাযাউল আমাল
─━━━━━━━━⊱✿⊰━━━━━━━─
আমাদের Telegram চ্যানেল সমূহ:
HA | IL | IA | IM | IIQ | IIS | IIA | SIB | SW
কয়েকটিইসলামী এন্ড্রয়েড Apps:
IJ | MB | MQ | AHM | KQ | SLT
| 2 | পারিবারিকখরচের বেলায় উদারমনা হওয়া উচিত
━━━━━━ • ✿ • ━━━━━━
খানা-পিনার ক্ষেত্রে স্বচ্ছলতা ও আন্তরিকতা থাকা চাই। অনেকে 'না হলেই নয়' পরিমাণে খাবার দিয়ে দায় সারতে চান। আর ভাবেন, 'মারা না গেলেই তো হলো।' এমনটি ঠিক নয়। বরং গৃহস্বামীর আয়ের মাত্রানুযায়ী প্রসন্ন মনে উপযুক্ত খাবারের আয়োজন করা উচিত। অনেকের মনে আবার খটকা লাগতে পারে। কারণ খরচাদির ব্যাপারে কঞ্জুশী করতে পারবে না। বরং প্রসন্নতা ও বদান্যতার আশ্রয়ে সংসার চলা উচিত। তাই স্বভাবতঃই প্রশ্ন জাগে কার্পণ্য বলতে কি বুঝায় আর অপব্যয়ের পরিমাণটাই বা কি? এ দু'টো নির্ণয়ের কোন সীমারেখা আছে কি?
❂❂ বৈধ প্রয়োজন; বৈধ আয়োজন
এ প্রশ্নের জবাবে হযরত থানবী (রহ.) বলেছেন, 'ঘর' বলা হয় এমন একটি নিবাসকে যা বসবাসের পূর্ণউপযুক্ত। যেমন একটি চাল টনিয়ে দিল, বস্তিতে ঝুপড়ী পেতে দিল। ওতেও মানুষ বসবাস করে। এবং এমন স্থানে বসবাস করাটাও বৈধ অবৈধ কিছু নয়। তবে আরেকটি পর্যায় হলো, যেখানে বৈধ বসবাসের সাথে বৈধ আয়োজন আয়েশেরও ব্যবস্থা আছে। যেমন থাকার জন্য পাকা বাড়ি তৈরী করা হলো। যেমন মানুষ একটু আরাম আয়েশে থাকতে পারে। কিংবা এর সাথে আরো কিছু সামগ্রীর আয়োজন করা হলো। আয়েশী সামগ্রী। ইসলাম এতে বাধা দেয়নি। কারণ, কেউ কেউতো ঝুপড়ীতেও বসবাস করতে পারে আবার অনেকেই তা পারে না। যারা পারে না তাদের তো থাকা খাওয়ার জন্যে অবশ্যই পাকা বাড়ি চাই। চাই সেখানে বিদ্যুৎ, বিদ্যুৎ পাখা আর কত কি। ইসলামের দৃষ্টিতে তার এই বিদ্যুৎ ও পাখা কোনটাই অপচয়ের শামিল নয় বরং প্রয়োজন মাত্র।
❂❂ সাজ সজ্জার বৈধসীমা
তৃতীয় অবস্থা হলো, বৈধ আসবাব পত্রের পাশাপাশি সাজ সজ্জারও ব্যবস্থা কর। যেমন, এক ব্যক্তির একটি পাকা বাড়ি আছে। প্লাস্টার, বিদ্যুৎ, বিদ্যুৎ পাখা সবই আছে। তবে রং করেনি সে বাড়িটিতে। বলা বাহুল্য, এ ঘরে থাকতে আরামগত কোন অপূর্ণতা নেই। তবে তা দেখতে যেন কেমন ঠেকে এই যা অসুবিধা। এখন যদি বাড়িওয়ালা সৌন্দর্য ও সাজ সজ্জার খাতিরে বাড়িতে রং করে তাহলে এটাও শরীয়তের দৃষ্টিতে বৈধ।
সার কথা হলো, থাবার উপযুক্ত আবাস তৈরীর ক্ষেত্রে একান্ত প্রয়োজন মাফিক, আরামদায়ক ও সৌন্দর্য মণ্ডিত সব ধরনের আয়োজনেরই অবকাশ আছে ইসলামে। পার্থিব সৌন্দর্য ও সাজ সজ্জা বলতে যদি একথা বুঝানো হয় যে, কেউ তার বাড়িটিকে সুন্দর করে তৈরী করলো যেন দেখলে মনটা খুশী লাগে, দেখতে ভালো দেখায় এবং তৃপ্তি বোধ হয়। তাহলে এতে শরীয়তের দৃষ্টিতে কোন রূপ বাধা নেই। বরং সম্পূর্ণ বৈধ।
❂❂ অবৈধ সাজ সজ্জা
এই পরিমাণে সাজ সজ্জা যার উদ্দেশ্য শারীরিক আরাম কিংবা মনের তৃপ্তি ও খুশীবোধও নয়। বরং নিজেকে অন্যের চোখে দৌলতমান্দ ধনী বলে জাহির করাই এর মূল মতলব। তার কাছে যে প্রচুর অর্থ আছে, সে যে এখন বেশ বড় শ্রেণীর মানুষ এই বড় মানুষী ফোটানোর লক্ষ্যেই যে সাজ সজ্জার আয়োজন করা হয় শরীয়তের দৃষ্টিতে এটা অবৈধ এবং অপচয়ের শামিল।
❂❂ অপচয়ের সীমারেখা
উপরোল্লেখি চারটি স্তর খানাপিনা পোশাক পরিচ্ছদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। বরং সর্বক্ষেত্রেই প্রযোজ্য। কেউ যদি আরাম ও ভালো লাগার উদ্দেশ্যে ভালো কাপড় পরে, যদি এজন্যে ভালো পোশাক পরিধান করে যে, আবার পরিবার পছন্দ করবে, আমার সাক্ষাতে যারা আসে তাদের একটু আরাম অনুভব হবে তাহলে এতে আপত্তি করার কিছুই নেই। কিন্তু যদি নিজেকে ধনী প্রমাণিত করার জন্যে, নিজের সম্পদের প্রাচুর্য বিকাশের জন্যে কেউ ভালো পোশাক পরে কিংবা উদ্দেশ্য হয় নিজের মর্যাদা প্রকাশ করা তাহলে বৈধ হবে না। হযরত থানবী (রহ.) অবশ্য অপচয়ের একটি সীমানাও এঁকে দিয়েছেন। যদি কেউ নিজের প্রয়োজন পূরণার্থে, আরাম, মানসিক তৃপ্তি কিংবা অন্যের আরামের খাতিরে কোন খরচ করে ওটা অপচয় হবে না।
আমি একবার একটি শহরে অবস্থান করছিলাম। করাচী ফিরে আসব ভাবছিলাম। তখন প্রচণ্ড গরম ছিল। তাই আমি একজনকে বললাম, ভাই এয়ারকন্ডিশন কোচে আমার টিকেট বুক করবে এবং এই বলে তাকে আমি পূর্ণ পয়সাও দিয়ে দিলাম। তখন আমার পাশেই আরেক ভদ্রলোক বসা ছিলেন। তিনি সাথে সাথেই বলে উঠলেন; জনাব, আপনিতো অপচয় করছেন দেখছি। কারণ নর্মাল কোচে না গিয়ে এয়ারকন্ডিশনে যাওয়াটা কি অপচয় নয়?
অনেকেই এমনটি মনে করেন। তাদের ধারণা ভালো ক্লাশের টিকেটে সফর করা মানেই অপচয়। তাই খুব ভালভাবে স্মরণ রাখতে হবে, যদি শারীরিক আরামের উদ্দেশ্যে কেউ ভালো ক্লাশের গাড়িতে সফর করে তাহলে এটা অপচয় নয়। যেমন ধরুন, গরমের মৌসুম। অসহ্য গরম। কিংবা তার গরম মোটেই বরদার্শত হয় না এবং আল্লাহ তাআলা তাকেও অর্থও দিয়েছেন। তাহলে এমন বাক্তির জন্যে ভালোমানের গাড়িতে সফর করা মোটে অপচয় নয়। হ্যাঁ, কেউ যদি এই মানসিকতার বশীভূত হয়ে ভালো শ্রেণীতে ভ্রমণ করে যে, মানুষ তাকে ধনী ও বড়লোক মনে করবে, তাহলে এটা অপচয়ের শামিল হবে এবং এটা অবৈধ। অনুরূপ বিধান খানা পিনা, আসবাব-পত্র সর্বক্ষেত্রেই।
🔰 আদর্শ দাম্পত্য জীবন | পৃষ্ঠা-৮৩ | 304 |
| 3 | সারা জীবন গানের আসরে সর্ব শেষে কালিমা নিয়ে মৃত্যুর দুয়ারে
━━━━━━ • ✿ • ━━━━━━
হযরত উমর (রা.) এর কালের ঘটনা। সেকালে এক গায়ক ছিল। সে লুকিয়ে লুকিয়ে গান গাইত। গান-বাজনা হারাম বলে মানুষের সামনে খোলামেলা গাইত না। লুকিয়ে লুকিয়ে যারা তার গান শুনত তারাও তাকে কিছু পয়সা দিত। যখন সে বৃদ্ধ হয়ে পড়ল তখন তার আওয়াজ শ্রুতিকটু হয়ে পড়ল। এখন আর গাইতে পারে না। তখন শুরু হয় ক্ষুধা ও তৃষ্ণার ক্রমাগত আক্রমণ। অবশেষে জান্নাতুল বাকির পেছনে গিয়ে নিরিবিলি বসে পড়ল এবং বলতে লাগল-হে আল্লাহ্! যখন আমার সুমিষ্ট আওয়াজ ছিল, সুমধুর কণ্ঠ ছিল তখন মানুষ আমার গান শুনত। এখন আমার কণ্ঠ হারিয়ে গেছে এতে আমার শ্রোতারাও হারিয়ে গেছে। এখন আমার কণ্ঠ শোনার কেউ নেই। অথচ তুমি সকলের কণ্ঠই শোন। তুমি জান, আমি দুর্বল। তুমি জান আমি তোমার অবাধ্য। এরপরও আমি তোমার কাছে এসেছি। তুমি আমার অভাবকে দূর করে দাও। এ কথা বলে সে এমন জোরে চিৎকার করল, তার কণ্ঠ গিয়ে পৌঁছল আল্লাহর দরবারে। মসজিদে শায়িত অবস্থায় ছিলেন হযরত উমর (রা.)। তাঁর কাছে নির্দেশ এল- আমার বান্দা আমাকে ডাকছে। তুমি তাকে সাহায্য কর। হযরত উমর (রা.) নাঙ্গা পায়ে ছুটে গেলেন জান্নাতুল বাকিতে। সেখানে গিয়ে দেখলেন একজন দুর্বল, বয়সের ভারে ন্যুজ্ব বৃদ্ধ বিড়বিড় করে আল্লাহকে তার জীবন কাহিনী শোনাচ্ছে। কিন্তু সে হযরত উমর (রা.) কে দেখেই ওঠে ছুটে পালাতে চেষ্টা করল। হযরত উমর (রা.) তাকে ডেকে বললেন, দাঁড়াও, দাঁড়াও। আমি তোমাকে ধরতে আসিনি। আমাকে তোমার কাছে পাঠানো হয়েছে। বৃদ্ধ ফিরে তাকাল। বলল, কে পাঠিয়েছে? উমর (রা.) বললেন, তুমি যাকে ডাকছ তিনিই আমাকে পাঠিয়েছেন। একথা শোনতেই বৃদ্ধ আকাশের দিকে দৃষ্টি তুলে বলল, হে আল্লাহ্! সত্তরটি বছর তোমার অবাধ্যতায় কাটিয়েছি, তোমাকে কখনো স্মরণ করিনি। জীবনের শেষ প্রান্তে স্মরণ করলাম, তাও পেটের তাগাদায়। এরপরও তুমি আমার ডাকে সাড়া দিয়েছ! হে আল্লাহ্! তুমি আমাকে ক্ষমা করে দাও। এ কথা বলেই সে হাউমাউ করে কেঁদে উঠল এবং এ কান্নার ভেতর দিয়েই সে মহান মালিকের সাথে গিয়ে মিলিত হল। হযরত উমর (রা.) নিজে তাঁর জানাযা পড়ালেন।
🔰 ঈমানজাগানিয়া কাহিনী | পৃষ্ঠা-৭৪ | 441 |
| 4 | *আত্মিক রোগ বা জাহেরী গুনাহ বর্জনের জন্য শুধু দোয়া করা যথেষ্ট না। এখানে মূল বিষয় হলো মুজাহাদা করতে হবে এবং আল্লাহওয়ালাদের সোহবতে যাওয়া-আসা করতে হবে।*
আত্মিক রোগ বা জাহেরী গুনাহ
নিজের বিভিন্ন ত্রুটি বিচ্যুতি সংশোধনের জন্য হিম্মত দরকার আগ্রহ দরকার আল্লাহওয়ালাদের সোহবত দরকার, সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা দরকার যে, আমার মধ্যে এই এই দোষ আছে, এই এই ত্রুটি আছে; এগুলো সংশোধন করতে হবে। এই এক ফিকির থাকতে হবে সারাক্ষন ২৪ ঘন্টা। এই এক আগ্রহ এই এক চেতনা লালন করতে হবে আমৃত্যু। এটা না করে কেউ যদি শুধু দোয়া করে, "ইয়া আল্লাহ আমার এই সমস্যা আমার মধ্যে অহংকারের সমস্যা আছে, আমার কুধারনার সমস্যা আছে, অহেতুক রাগ করি ইত্যাদি বিভিন্ন সমস্যা আছে; আপনি এগুলো দুর করে দেন।"
দোয়া করা অবশ্যই ঠিক আছে। দোয়া করা অনেক বড় সুন্নত আমল। দোয়া করার দ্বারা আল্লাহ তা'লার সাথে সম্পর্ক বাড়ে, আল্লাহ তায়ালার সাথে ঘনিষ্ঠতা বাড়ে, আমল নামায় নেকী জমা হয়; ফায়দাই ফায়দা হয়। কিন্তু নিজের ত্রুটি বিচ্যুতির জন্য যে কাজগুলি করণীয় সেগুলি করতে হবে, বর্জণীয় গুলি বর্জন করতে হবে। এখানে শুধু দোয়া করা কাফি না। এখানে করণীয়টা করতে হবে বর্জণীয়টা বর্জন করতে হবে। উদাহরণ স্বরূপ এক ব্যক্তি হযরত থানবী (র:) কে জানালেন যে, আমার খুব রাগ। নিজেকে কন্ট্রোল করতে পারি না। হযরত থানবী (র:) তাঁর এক খলিফার কথা বলে দিলেন যে, তুমি ওমুক ব্যক্তির নিকট যাও।
তার সুহবতে কিছু দিন থাকো। সেই ব্যক্তি পরামর্শ মানলেন, সেখানে গেলেন। সেই ব্যক্তি কাপড়ের ব্যবসা করতেন। দোকানে কাস্টমার আসছে অনেক কাপড় নামাইতেছে দেখতেছে। শেষে চলে গেছে। কাপড় কিনে নাই। চলে গেছে। আবার সব গুছগাছ করে জায়গা মত রেখে দিছে। এই ভাবে চলে। লোকজন আসে। কেউ কিনে, কেউ কিনে না। অনেক কাপড় এলোমেলো করে চলে যায়। আবার সেগুলো ভাজ করে রাখে। এগুলো দেখে ওই লোকের খুব কষ্ট লাগে, রাগ হয়।
সুহবতের প্রভাব আছে। ওই নেককার ব্যবসায়ীর সহ্য ক্ষমতা আছে। কাস্টমার আসবে। সব কাস্টমার সমান হবে না। অনেকেই অনেক কাপড় দেখবে। একটাও কিনবে না। কিন্তু তাদের সাথে খারাপ আচরণ করা যাবে না। খারাপ আচরণ করলে দুই ক্ষতি। দুনিয়ার ক্ষতি হলো ওই কাস্টমার নষ্ট হবে। সে আর আসবে না। আখেরাতের ক্ষতি হলো বদ আখলাক দেখানো ভালো বিষয় না। হযরত থানবী (র:) যাকে পাঠিয়েছিলেন, সেই নেক ব্যবসায়ীর নিকট, তার ফায়দা হলো। তার বিমারী দূর হয়ে গেলো।
যা বলতেছিলাম, নিজের ত্রুটি বিচ্যুতি সেটা আত্মিক হোক অথবা বাহ্যিক কোনো গুনাহ হোক, সেটা দুর করার জন্য শুধু দোয়া করা যথেষ্ঠ না; বরং করনীয়টা করতে হবে আর বর্জনীয়টা বর্জন করতে হবে।
রাগের ব্যাপারে হযরত আলী (রা:) এর আমল অত্যন্ত কার্যকরী। বুখারী শরীফের হাদিসে এসেছে এই ঘটনা। তো আলী (রা:) এর আমল ছিলো যখন কারো সঙ্গে মনোমালিন্য হতো, তিনি সে স্থান দ্রুত ত্যাগ করতেন। যার সঙ্গে রাগ হচ্ছে সে যদি সামনেই না থাকে, তাহলে রাগ আর কোথা থেকে প্রকাশ পাবে? রাগের এইটা হচ্ছে অনেক ফলপ্রসু চিকিৎসা। নিজে সে স্থান দ্রুত ত্যাগ করা। আল্লাহ পাক আমাদেরকে নিজের তামাম ত্রুটি বিচ্যুতির দিকে খেয়াল রাখার তৌফিক দান করেন। এবং সেখানে করনীয় যা সেটা করা, বর্জণীয়টা বর্জন করা আর সঙ্গে সঙ্গে দোয়া করতে থাকা।আল্লাহওয়ালাদের সুহবত ব্যতিত এটা নিজে একা একা সাধারণত হয় না। চুড়ান্ত কামিয়াবী অর্জন হয় না। এজন্য আল্লাহওয়ালাদের সুহবত দরকার। আল্লাহওয়ালাদের সুহবতের সঙ্গে যদি মুজাহাদা জারি থাকে তখন দ্রুত ফায়দা হয়। আল্লাহপাক আমাদেরকে বুঝার তৌফিক দান করেন। | 360 |
| 5 | তাহাজ্জুদ | আল্লাহ তা'আলার প্রিয় হওয়ার আমল
-মাওলানা উমায়ের কোব্বাদী
━━━━━━ • ✿ • ━━━━━━
অন্য সময়ের ইবাদতে আমরা আল্লাহ তাআলাকে পাওয়ার চেষ্টা করি, আর রাতের শেষ প্রহরে স্বয়ং আল্লাহ বান্দাকে ডাকতে থাকেন। অন্য সময়ে আমরা আল্লাহকে তালাশ করি, রাতের শেষ প্রহরে স্বয়ং আল্লাহ তাঁর কিছু বান্দাকে তালাশ করেন।
আল্লাহ যেন আমার ডাকে সাড়া দেন। তিনি যেন আমাকে ক্ষমা করেন; এর জন্য আমাদের কত ভাবনা! আর রাতের শেষ প্রহরে স্বয়ং আল্লাহ বান্দাকে ডাকতে থাকেন দোয়া কবুলের জন্য, বান্দাকে ক্ষমা করার জন্য! আর এর জন্য তিনি প্রথম আসমানে চলে আসেন।
শিশু যখন কাঁদে, বাবা তখন সন্তানকে এভাবে জিজ্ঞেস করে, আব্বু! তোমার কী লাগবে? মজা লাগবে? আইসক্রিম দরকার? চকলেট দিব? কী প্রয়োজন? আব্বুকে বলো! আব্বু এখুনি এনে দিচ্ছি।
অনুরূপভাবে রাতের শেষ প্রহরে আল্লাহ তাঁর প্রিয় বান্দাকে জিজ্ঞেস করেন, বান্দা! তোমার কী দরকার? ক্ষমা দরকার? ক্ষমা করে দিব। রিজিক লাগবে? রিজিক দিয়ে দিব। বান্দা! আমি মাওলার কাছে বলো, তোমার কী প্রয়োজন, আমি পূরণ করে দিব।
َالْحَمْدُ لِلّهِ وَكَفَى وَسَلَامٌ عَلَى عِبَادِهِ الَّذِيْن َاصْطَفَى اَمَّا بَعْدُ! فَاَعُوْذُ بِاللهِ مِنَ الشَّيْطَانِ الرَّجِيْمِ. بِسْمِ اللهِ الرَّحْمنِ الرَّحِيْمِ. تَتَجَافَىٰ جُنُوبُهُمْ عَنِ الْمَضَاجِعِ يَدْعُونَ رَبَّهُمْ خَوْفًا وَطَمَعًا وَمِمَّا رَزَقْنَاهُمْ يُنفِقُونَ
بارك الله لنا ولكم في القرآن العظيم ونفعني وإياكم بما فيه من الآيات والذكر الحكيم وجعلني وإياكم من الصالحين. أقول قولي هذا وأستغفر الله لي ولكم فاستغفروه إنه هو الغفور الرحيم. اَللَّهُمَّ صَلِّ عَلَى سَيِّدِنَا مُحَمَّدٍ وَّعَلَى الِ سَيِّدِنَا مُحَمَّدٍ وَّبَارِكْ وَسَلِّمْ
সমস্ত প্রশংসা আল্লাহ তাআলার জন্য, তিনি আজকেও আমাদেরকে তাঁর জন্য কিছু সময় বের করে বসার তাওফীক দান করেছেন আলহামদুলিল্লাহ। আজ যে বিষয় নিয়ে আলোচনা করার ইচ্ছা করেছি, শুরুতেই আমরা প্রত্যেকেই বিশেষ করে যারা ইতেকাফে আছি; এই নিয়ত করে নিব যে, ইনশাআল্লাহ, বিষয়টার ওপর সারা জীবন আমল করবো।
ফরজ নয় তবে বহু ফরজের চেয়ে ফযিলতপূর্ণ আমল
মুহতারাম হাজেরীন! তেলাওয়াতকৃত আয়াতে মুমিনগণের একটি গুণ এই বলে বর্ণনা করা হয়েছে যে, রাতের বেলা তারা শয্যা ত্যাগ করে জাহান্নামের ভয় ও জান্নাতের আশা নিয়ে তাদের মালিককে ডাকে। এর উদ্দেশ্য, তাহাজ্জুদ ও নফল নামায যা ঘুম থেকে উঠার পর গভীর রাতে পড়া হয়।
ওলামায়ে কেরাম লিখেছেন, ফরজ নয় তবে বহু ফরজের চেয়ে ফযিলতপূর্ণ একটা আমল আছে, যার নাম তাহাজ্জুদ।
তাহাজ্জুদ পড়ি না; নাকি আল্লাহ সুযোগ দেন না?
একটা সময় ছিল, তাকবীরে উলা ছুটে গেলে তাঁরা কান্নাকাটি করতেন। তাহাজ্জুদ ছুটে গেলেও কান্নাকাটি করতেন। আর এখন তো ফরজ ছুটে গেলেও কান্না আসে না। ঈমান চলে গেলেও আমরা কান্না করি না।
আমরা অনেকে এভাবে চিন্তা করি, আমি তাহাজ্জুদ পড়ি না। আমার অভ্যাস নেই।
কিন্তু বুজুর্গানে দীন এভাবে চিন্তা করতেন না। তাঁরা ভাবতেন, আল্লাহ তাআলা আমাকে তাহাজ্জুদ পড়ার সুযোগ দেননি।
আল্লাহ তাআলা কেন সুযোগ দিলেন না? নিশ্চয় আমার জীবনে এমন কোনো গোনাহ আছে, যার কারণে তিনি এই বিশেষ সময়ে আমার চেহারা দেখতে চান না।
অনেক সময় যুবকেরা আমাদের কাছে এসে বলে যে, হুজুর! কত বছর হয়ে গেছে রাতের বেলা ঘুমাইনি। বিস্ময়কর ব্যাপার হল, সারা রাত জেগে থাকি, কিন্তু ভোর রাত যখন হয় তখন ঘুম এমনভাবে চেপে বসে যে, ফজর নামাজটাও পড়তে পারিনা।
এর মূল কারণ হল, আল্লাহ তাআলা চান, এই বিশেষ সময়ে তাঁর প্রিয় বান্দারা তাঁর সঙ্গে নির্জনে সময় কাটাবে। এই জন্য কেমন যেন তিনি এই সময়ে পাপিষ্ঠদেরকে দূরে সরিয়ে দেন।
অনেক সময় দেখবেন, বিয়ে বাড়িতে লোকজন জড়ো হয় এবং চিন্তা করে, সারা রাত আড্ডা দিবে, গল্প করবে। কিন্তু ভোর রাত হলে দেখা যায়, সবাই ঘুমিয়ে পড়ে। কারণ কী?
কারণ এটাই যে, আল্লাহ তাআলা চান, এই সময়ে তিনি তাঁর নৈকট্যপ্রাপ্ত বান্দাদের সুযোগ দিবেন। তাঁরা আল্লাহর সঙ্গে একান্ত সময় কাটাবে। সুতরাং এর মাঝে যেন অন্যরা ডিস্টার্ব করতে না পারে।
☞ অসম্পূর্ণ | সম্পূর্ণ প্রবন্ধটি পড়ুন…
--
🔰 PDF File 1 - 🔰 PDF File 2
--
─━━━━━━━━⊱✿⊰━━━━━━━─
আমাদের Telegram চ্যানেল সমূহ:
HA | IL | IA | IM | IIQ | IIS | IIA | SIB | SW | SA | DOT | IA | HAI | WA1 | WA2 | WA3
কয়েকটি ইসলামী এন্ড্রয়েড Apps:
IJ | MB | MQ | AHM | KQ | SLT | 370 |
| 6 | গানের অনুষ্ঠানের জন্য মাইক ও সাউন্ডবক্স ভাড়া দেওয়া প্রসঙ্গ
গান-বাদ্যের অনুষ্ঠানের জন্য মাইক, সাউন্ডবক্স ইত্যাদি ভাড়া দেওয়া গুনাহের কাজে সরাসরি সহযোগিতা করার অন্তর্ভুক্ত। কুরআনে কারীমে ইরশাদ হয়েছে— وَ لَا تَعَاوَنُوْا عَلَی الْاِثْمِ وَ الْعُدْوَانِ ‘গুনাহ ও জুলুমের কাজে একে অন্যের সহযোগিতা করো না।’ (সূরা মায়িদা-২) সুতরাং গান-বাদ্যের জন্য মাইক, সাউন্ডবক্স ইত্যাদি ভাড়া দেওয়া, সেখানে মেশিনপত্র পাঠানো, বা তাদের জন্য নিজের কোনো লোক দেওয়া সবই নাজায়েয। যে শ্রমিক এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবে সে দু’ভাবে গুনাহগার হবে। গুনাহের কাজে সহযোগিতা করার কারণে এবং গান-বাদ্য শ্রবণের কারণে। আল মাবসূত, সারাখসী ১৬/৩৮, আদ্দুররুল মুখতার ৬/৩৪৯; জাওয়াহিরুল ফিকহ ২/৪৫৩।
লেখক: মাসিক আল কাউসার
আরও পড়ুন: https://hanafifiqh.net/articles/667 | 738 |
| 7 | নবীজির দারিদ্র্য
━━ • পার্ট-২ • ━━
হযরত আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা বলেন, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের এই অবস্থা দেখে আমার খুব-কান্না আসতো। ক্ষুধার কারণে আমিও অস্থির হয়ে পড়তাম। পেটের উপর হাত বুলাতাম। এ-সময় আমি রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতাম, হায়, আমাদের যদি জীবনধারণ উপযোগী আহারের ব্যবস্থা থাকতে।; সচ্ছলতা ও বিলাসিতা না-হোক, অন্তত স্বাভাবিক জীবনযাপনেরও যদি সুযোগ হতো! আমার একথা শুনে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, আয়েশা, দুনিয়ার সঙ্গে আমাদের কী সম্পর্ক? আমার পূর্বে আমার অনেক ভাই দুনিয়া থেকে বিদায় নিয়েছেন। তারা বড়ো বড়ো পয়গামবর ছিলেন। দুনিয়ায় তারা আমার চেয়েও বেশি কষ্ট সহ্য করেছেন এবং সে অবস্থাতেই তারা আল্লাহ তায়ালার সঙ্গে মিলিত হয়েছেন। সেখানে তাদের উচ্চ মর্যাদা ও নানাপ্রকার নিয়ামত দান করা হয়েছে। আমার আশঙ্কা হচ্ছে, দুনিয়ায় আমাকে যদি অধিক সুখ-স্বাচ্ছন্দ্য দান করা হয় তা হলে হয়তো আখিরাতের চিরস্থায়ী নিয়ামত হ্রাস পাবে। আমার নিকট এরচেয়ে অধিক পছন্দের কিছুই নেই যে, আমি এই দারিদ্র্য অবস্থা নিয়েই পরকালে আমার ভাই-বন্ধুদের সঙ্গে মিলিত হবো।
صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ
হযরত আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা বলেন, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার নিকট এই কথা বলার পর এক মাসও দুনিয়ায় ছিলেন না। তারপর তিনি মালিকে হাকিকী রাব্বুল আলামিনের সান্নিধ্যে চলে যান।
اِنَّا للهِ وَاِنَّاۤ اِلَیۡہِ رٰجِعُوۡنَ
صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ تَسْلِيمًا كَثِيرًا كَثِيرًا
🔰 উসওয়ায়ে রাসুলে আকরাম (ﷺ) | পৃষ্ঠা-১০২
─━━━━━━━━⊱✿⊰━━━━━━━─
আমাদের Telegram চ্যানেল সমূহ:
HA | IL | IA | IM | IIQ | IIS | IIA | SIB | SW | SA | IA | HAI | HAA | NHA | AIF
কয়েকটি ইসলামী এন্ড্রয়েড Apps:
IJ | MB | MQ | HF | IBD | AHM | IJ | SLT
All in One Cloud Links:
Notion | GoogleDrive | iDrive | 1Drive | 271 |
| 8 | নবীজির দারিদ্র্য
━━━━ • ✿ • ━━━
ইমাম কাসতালানী রহ. তার 'মাওয়াহিব' কিতাবে লিখেছেন, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং তার সাহাবীদের সম্পর্কে একদিকে যেমন বলা হয়েছে তারা ক্রমাগত দীর্ঘ সময় পর্যন্ত অভুক্ত থাকতেন, তাদের জন্য খাবারের কোনো আয়োজনই থাকতো না, কখনো খেজুর খেয়ে এবং তা-ও না-পাওয়া গেলে শুধু পানি পান করেই দিন কাটিয়ে দিতেন; অন্যদিকে বলা হয়েছে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার পরিবার-পরিজনকে বছরের খোরাক ও ভরণ-পোষণ একবারেই দিয়ে দিতেন। একবার তিনি চল্লিশজন সাহাবীর মাঝে চল্লিশটি উট বিতরণ করেন। অন্য এক বিবরণে জানা যায়, হজ ও উমরার সময় তিনি একশ উট জবাই করেছেন। একবার এক বেদুইনকে একপাল ছাগল দান করেন। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কোনো কোনো সাহাবী বিপুল সম্পদের মালিক ছিলেন। হযরত আবুবকর, হযরত উসমান গনী, হযরত আবদুর রহমান ইবনে আউফ প্রমুখ সাহাবী বিত্তশালী ছিলেন। বিত্তহীন মুসলিমদের সেবায় তারা প্রচুর অর্থ দান করেছেন। এখন প্রশ্ন হলো, তারা যদি এতই অর্থ-বিত্ত ও বিষয়-সম্পত্তির মালিক ছিলেন, তবে ক্রমাগত কয়েকদিন অভুক্ত থাকা এবং মাসের পর মাস তাদের চুলায় আগুন না-জ্বলার অর্থ কী? আর এতই যদি দরিদ্র ছিলেন যে, নিয়মিত পানাহারেরও আয়োজন হতো না, তা হলে কীভাবে এতো বিপুল পরিমাণ সম্পদ দান করতেন? সাধারণ মানুষের নিকট এ এক দুর্বোধ্য ও জটিল বিষয়।
ইমাম তাবারী রহ. এই জটিল প্রশ্নের জবাব দিয়েছেন। ফাতহুল বারীতে বলা হয়েছে, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও তার সাহাবীগণ একারণে এতটা কষ্ট ভোগ করেননি যে, সত্যিই তারা নিজেদের আহার-পানির ব্যবস্থা করতে অক্ষম ছিলেন। এমন সাহাবীর সংখ্যা কমই ছিলো, যারা নিদারুণ দৈন্য-দারিদ্র্যের মধ্যে জীবনযাপন করেছেন। তবে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও তার সাহাবীগণ কদাচ অক্ষমতার কারণেও অভুক্ত থেকেছেন। অন্যথায় সাধারণভাবে তারা ইচ্ছা করেই ক্ষুধা-তৃষ্ণার কষ্ট সহ্য করেছেন, যেন নিজেদের মধ্যে বিত্তহীনদের কষ্টের অনুভূতি এবং অপরের জন্য কষ্ট ও ত্যাগ স্বীকারের প্রেরণা সৃষ্টি হয়। পর্যাপ্ত সম্পদের মালিক হওয়া সত্ত্বেও তারা স্বেচ্ছায় অনাহার-অর্ধাহারে থেকে পার্থিব বিত্ত-সম্পদ ও আরাম-আয়েশের প্রতি অনাগ্রহ ও অনাসক্তি প্রকাশ করেছেন। কেননা ধনসম্পদ ও ভোগ-বিলাস মানুষকে আল্লাহর স্মরণ ও সত্য প্রতিষ্ঠার পথ থেকে বিচ্যুত করে।
হাফেয ইবনে হাজার রহ. বলেন, প্রকৃত অবস্থা হলো, অধিকাংশ সাহাবীই হিজরতের পূর্বে মক্কায় চরম দৈন্য-দারিদ্র্যের মাঝে জীবনযাপন করেছেন। মক্কা থেকে হিজরত করে মদিনায় আসার পর আনসারগণ সর্বতোভাবে তাদের সহযোগিতা করেন। মুহাজিরদের তারা নিজেদের ঘরে আশ্রয় দেন। সকল কাজকর্মে তাদের শরিক করে নেন। তারপর জিহাদের মাধ্যমে বিভিন্ন এলাকা বিজিত হতে লাগলো। সেখান থেকে পাওয়া গনিমত দ্বারা সাহাবীদের আর্থিক দৈন্য ঘুচে যায়। এ-পর্যায়ে প্রায় সাহাবীই প্রচুর অর্থ-বিত্তের মালিক হন। কিন্তু এর পরেও তারা ওই সম্পদ ব্যক্তিগত ভোগ-বিলাসিতায় ব্যয় না-করে সাধারণ মুসলিমদের মাঝে বিলিয়ে দিতেন।
হযরত আবু উমামা রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, আমার রব আমাকে বলেছেন, হে নবী, আপনি যদি ইচ্ছা করেন, সমগ্র মক্কা উপত্যকা আপনার জন্য স্বর্ণ বানিয়ে দেওয়া হবে। আমি আরয করলাম, হে আমার প্রতিপালক, আমি পছন্দ করি, আমি একদিম উপবাস থাকবো আরেকদিন পেট ভরে আহার করবো। যেদিন উপবাস থাকবো সেদিন আপনার দরবারে রোনাজারি করবো আর আপনার যিকির করে সময় কাটাবো। আর যেদিন পেট ভরে আহার করবো সেদিন অন্তরের অন্তঃস্তল থেকে আপনার শোকর ও প্রশংসা করবো। ১৮
রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, আমার পূর্ববর্তী সকল নবী দারিদ্র্য ও উপবাসের কষ্ট সহ্য করেছেন। আমিও আল্লাহ তায়ালার এই অনুগ্রহটি খুব পছন্দ করি।
হযরত আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা বলেন, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কখনো তৃপ্তির সঙ্গে আহার করতেন না। নিজের অর্ধাহার অনাহারের কথা প্রকাশ করতেন না। কেননা তিনি ধনাঢ্যতার চেয়ে দরিদ্রতা এবং আহারের চেয়ে অনাহারে থাকাই বেশি পছন্দ করতেন। প্রায় সময় তিনি ক্ষুধার কারণে সারারাত অস্থিরতার মধ্যে কাটাতেন। অথচ এই ক্ষুধার কারণে তিনি পরের দিনের রোযা থেকে বিরত থাকতেন না। রাতে আহার-পানীয় কিছুই গ্রহণ না-করে পরের দিন রোযা রাখতেন। অথচ তিনি ইচ্ছা করলে পৃথিবীর সকল ধনভাণ্ডার এবং নিয়ামত ও ঐশ্বর্য প্রার্থনা করতে পারতেন। কিন্তু তিনি দারিদ্র্য ও উপবাসকে আরাম-আয়েশের উপর প্রাধান্য দিয়েছেন।
✦✦ অসম্পূর্ন | বাকী অংশ...✍️
🔰 উসওয়ায়ে রাসুলে আকরাম (ﷺ) | পৃষ্ঠা-৯২
─━━━━━━━━⊱✿⊰━━━━━━━─
আমাদের Telegram চ্যানেল সমূহ:
HA | IL | IA | IM | IIQ | IIS | IIA | SIB | SW | SA | IA | HAI | HAA | NHA | AIF
কয়েকটি ইসলামী এন্ড্রয়েড Apps:
IJ | MB | MQ | HF | IBD | AHM | IJ | SLT
All in One Cloud Links:
Notion | GoogleDrive | iDrive | 1Drive | 267 |
| 9 | ঈমানের অগ্নি পরীক্ষা
━━━━ • পার্ট-৩ • ━━━
তার কথা শুনে সম্রাট ঘাবড়ে গেল। সে ভাবলো, এরা মানুষ নয়, দেবতা বা অন্য কিছু হবে। এদের মারলে আমাদের পরিণতি শুভ হবে না। অবস্থা এমন দাঁড়াল যে, এদেরকে মুক্তি দিয়ে বিদায় করতে পারলেই যেন তার জীবন বাঁচে। অবশেষে সে সাহাবীদেরকে মুক্তি দিল। শুধু মুক্তিই নয়, তাদের প্রত্যেককে মদীনা পর্যন্ত পৌঁছার ব্যবস্থাও করল।
এ সংবাদ মদীনায় পৌছলে স্বয়ং হযরত উমর (রা.) সহ সকল মুসলমান মদীনার বাইরে এসে তাদের সংবর্ধনার জন্য দাঁড়িয়ে রইলেন। হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে হুযাইফা (রা.) তার সঙ্গী-সাথীসহ সেখানে পৌঁছার পর উষ্ণ অভ্যর্থনা দিয়ে তাদেরকে মদীনায় নিয়ে যাওয়া হয়।
এ ঘটনা থেকে আমরা এ শিক্ষা নিতে পারি যে, হযরত সাহাবায়ে কেরাম ঈমানের অগ্নি পরীক্ষায় যেরূপ উত্তীর্ণ হয়েছিলেন, অনুরূপ কোন পরিস্থিতি সৃষ্টি হলে আমরাও যেন তাদের মত উত্তীর্ণ হই। আল্লাহ আমাদের সহায় হউন। (সূত্র: সত্যের পথে সংগ্রাম পৃঃ ২৫)
🔰 যে গল্পে হৃদয় গলে-২ | পৃষ্ঠা-১৮
─━━━━━━━━⊱✿⊰━━━━━━━─
আমাদের Telegram চ্যানেল সমূহ:
HA | IL | IA | IM | IIQ | IIS | IIA | SIB | SW | SA | IA | HAI | HAA | NHA | AIF
All in One Cloud Links:
Notion | GoogleDrive | iDrive | 1Drive | 232 |
| 10 | ঈমানের অগ্নি পরীক্ষা
━━━━ • পার্ট-২ • ━━━
খবর পেয়ে সম্রাট নির্দেশ দিলেন, ওদেরকে শুকরের গো ও মদ মিশ্রিত পানি খেতে দাও। আর স্পষ্ট বলে দাও যে, এটা শুকরের গোশ্ আর এটা মদ মিশানো পানি। যদি বাঁচতে চাও তবে এগুলোই তোমাদের খেতে হবে। এ ছাড়া তোমাদের জন্য দ্বিতীয় কোন ব্যবস্থা নেই।
সম্রাটের কথামত যখন বন্দী মুসলমানদের সামনে এ সব হারাম ও নাপাক খাবার পরিবেশন করা হল এবং সবকিছু পরিস্কার জানিয়ে দেয়া হল, তখন দলপতি হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে হুযাইফা (রা.) এক মুহূর্তও দেরী না করে চোখ রাঙ্গিয়ে হুংকার ছেড়ে বললেন, এক্ষুণিই এগুলো সামনে থেকে সরিয়ে নাও। যদি বিন্দুমাত্রও সময় নষ্ট কর তাহলে লাথি মেরে থালা-বাসন ভেঙ্গে চুরমার করে ফেলবো।
অবস্থা দৃষ্টে কারারক্ষীরা হতবাক হলো। তারা ভাবলো, একটু পূর্বেও যারা ক্ষুধার যন্ত্রণায় পিষ্ট হয়ে মৃত্যুর সাথে আলিঙ্গণ করার প্রস্তুতি নিচ্ছিল; খাবার পরিবশন করার পর খাবার তো খেলই না বরং কত কঠিন কথা তাদের মুখ থেকে উচ্চারিত হল! এ তো এক অবিশ্বাস্য ব্যাপার!!
প্রসঙ্গক্রমে এখানে একটি কথা পাঠক ভাই-বোনদের জানিয়ে রাখা প্রয়োজন যে, জান বাঁচানোর জন্য যদিও হারাম খাওয়া জায়েয তথাপি যদি অবস্থা এমন দাঁড়ায় যে, হারাম খাবার ভক্ষণ করলে ইসলামের শান-শওকত ও মর্যাদা ভূলণ্ঠিত হবে, ক্ষুন্ন হবে; তখন যদি হারাম না খেয়ে কেউ মৃত্যুবরণ করে তাহলে সে উঁচু পর্যায়ের শহীদ বলে গণ্য হবে। (ফতওয়ায়ে শামী)
যা হোক, হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে হুযাইফা (রা.) এর কথা সম্রাটের কানে পৌঁছলে সে তেলে-বেগুনে জ্বলে উঠল এবং তাদেরকে চূড়ান্ত পরীক্ষা করার কঠিন সিদ্ধান্ত গ্রহণ করল।
অহংকারী সম্রাট তার অনুচরদের নির্দেশ দিল, বন্দী মুসলমানদের প্রত্যেকের জন্য এতবড় একটি ডেগ তৈরী কর যাতে সম্পূর্ণ মানুষটি তাতে ডুবে যায়। অতঃপর ডেগগুলো তৈল দ্বারা ভর্তি করে ফুটাতে থাক। সম্রাটের আদেশ অনুসারে বিশাল বিশাল ডেগ তৈরী করা হল এবং এগুলো বড় বড় চুলার উপর বসিয়ে তৈল দ্বারা পূর্ণ করে দীর্ঘ সময় ধরে জ্বাল দেয়া হলো। এসময় সম্রাট মন্ত্রীদের নিয়ে পাশে দাঁড়িয়ে তামাশা দেখছিলো।
তেল যখন টগবগ করে ফুটতে শুরু করল তখন সম্রাট জল্লাদকে নির্দেশ দিয়ে বললো, মুজাহিদদের দলপতি আব্দুল্লাহ ইবনে হুযাইফা (রা.) ছাড়া অন্য যে কোন একজন মুসলিম বন্দীকে এই ফুটন্ত তেলে নিক্ষেপ কর।
নিষ্ঠুর জল্লাদ তাই করল। যখন একজন সাহাবীকে উত্তপ্ত তেলের মধ্যে ফেলা হল, তখন মুহূর্তের মধ্যে তার সমস্ত দেহ মাছের ন্যায় ভাজা হয়ে গেল। তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করে শহীদদের তালিকায় নাম লিপিবদ্ধ করলেন। বিদায় নিলেন এ ধরাপৃষ্ঠ থেকে চিরকালের মত। এবার আব্দুল্লাহ ইবনে হুযাইফা (রা.) এর পালা। সম্রাট তাকেও ফুটন্ত তেলে নিক্ষেপ করার জন্য জল্লাদকে নির্মম নির্দেশ দিল।
জল্লাদ হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে হুযাইফা (রা.) কে ধরে ডেগের কাছে নিয়ে যাচ্ছে। সবাই নীরব, নিস্তব্ধ। কারো মুখে কোন কথা নেই। সকলেই পলকহীন দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে দলপতির মুখের দিকে। ভাবছে, তাকেও পূর্বের লোকটির ন্যায় একই ভাগ্যবরণ করতে হবে। হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে হুযাইফা (রা.) ধীরপদে সামনে অগ্রসর হচ্ছেন। তার চেহারায় কোন ভয়ের ছাপ নেই, নেই হীম-শীতল মৃত্যুর ভয়াল বিভীষিকার আতংকে কোন বিষন্নতা। তবে বাহ্যত কিছুটা বিচলিত হওয়ার ক্ষীণতম লক্ষণ তার মধ্যে পরিস্ফুট হয়ে উঠেছিল। কারণ তার দু'গন্ড বেয়ে তখন ফোটা ফোটা অশ্রু গড়িয়ে পড়ছিল। সম্রাট মনে করলো, তিনি ভয় পেয়েছেন। তাই তাকে ফিরিয়ে এনে ডেকে বললো, দেখ, তুমি আমার হাতে বন্দী। তোমার মনে আছে যে, প্রথম দিন আমি তোমাকে বলেছিলাম, যদি তুমি আমার ধর্ম গ্রহণ কর তাহলে আমার রাজত্বের অর্ধেক তোমার নামে লিখে দিব, আমার কন্যাকে তোমার নিকট বিবাহ দিব। আর আমি মারা যাওয়ার পর বাকী অর্ধেক রাজত্বের মালিকও তুমিই হবে। আমার সে প্রস্তাব এখনও বলবৎ আছে। যদি আমরা প্রস্তাব না মেনে এবার টু শব্দটি পর্যন্ত কর তাহলে তোমার সাথীকে যেভাবে ফুটন্ত তেলে নিক্ষেপ করে জীবন লীলা সাঙ্গ করা হয়েছে তোমার অবস্থাও তা-ই হবে।
এ কথা শুনার সাথে সাথে হযরত হুযাইফা (রা.) এর ধৈর্যের সবগুলো বাধ যেন এক সঙ্গে ভেঙ্গে গেল। তিনি ক্রোধে কাঁপতে কাঁপতে বললেন, হে বোকা সম্রাট! তুমি মনে করেছ মৃত্যুর ভয়ে আমি চোখের পানি ঝরাচ্ছি? মৃত্যুর ভয়ে নয়, বরং আমি তো চোখের পানি ফেলে খোদার দরবারে আফসোস করে বলছিলাম, হে পরওয়ারদিগার! তুমি তো আমাকে একটি মাত্র জীবন দিয়ে পরীক্ষা করছ। অথচ একটি মাত্র জীবন দিয়ে আমি কিভাবে তোমাকে বুঝাব যে, আমি তোমাকে কত ভালবাসি? তোমার দ্বীনকে কত ভালবাসি? যদি তুমি আমাকে একশ জীবন দিতে তাহলে এক একটি করে সবগুলো জীবনকে তোমার পথে বিলীন করে দিয়ে তোমাকে দেখিয়ে দিতাম যে, আমি তোমাকে এবং তোমার দ্বীনকে কত ভালবাসি।
☞ অসম্পূর্ণ | বাকি অংশ...
🔰 যে গল্পে হৃদয় গলে-২ | পৃষ্ঠা-১৮
─━━━━━━━━⊱✿⊰━━━━━━━─
আমাদের Telegram চ্যানেল সমূহ:
HA | IL | IA | IM | IIQ | IIS | IIA | SIB | SW | SA | IA | HAI | HAA | NHA | AIF
All in One Cloud Links:
Notion | GoogleDrive | iDrive | 1Drive | 174 |
| 11 | ঈমানের অগ্নি পরীক্ষা
━━━━━ • ✿ • ━━━━━
হযরত উমর (রা.) এর শাসন কাল। চতুর্দিকে মুসলমানদের জয়জয়কার। একের পর এক পৃথিবীর বিভিন্ন অঞ্চলে মুসলমানগণ বিজয় পতাকা উড্ডীন করে চলেছেন। তাদের বিজয়ের পথে বাধা দেওয়ার সাধ্য যেন কারো নেই।
তৎকালীন সময়ে রোম আর পারস্য ছিল দুটি শক্তিধর রাষ্ট। তারা শক্তির বড়াই করতো। হযরত উমর (রা.) রোমানদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার জন্য সৈন্য পাঠালেন। মুসলিম মুজাহিদরা অস্ত্র-শস্ত্রে সজ্জিত হয়ে বর্তমান ইতালির রাজধানী রোমের দিকে এগিয়ে চললেন।
এদিকে রোম সম্রাট মুসলমানদের অনেক কিংবদন্তীর কথা শুনেছেন। শুনেছেন তাদের অনেক বীরত্বপূর্ণ অবিশ্বাস্য কাহিনী। তিনি এও শুনেছেন যে, মুসলমানদের অপ্রতিরোধ্য বিজয় যাত্রার কারণ হলো তারা মৃত্যুকে পরওয়া করে না এবং ভয়-ভীতি বা প্রলোভনের সামনে কখনোই মাথানত করে না। এসব কথা রোম সম্রাটের বিশ্বাস হতো না। সে এগুলোকে কল্প-কাহিনী মনে করতো।
মুসলমান মুজাহিদরা রোম আক্রমণ করতে আসছে এ সংবাদপ্রাপ্ত হয়ে সম্রাটের মনে কৌতূহল জাগলো যে, যদি এ যুদ্ধে কয়েকজন মুসলমানকে জীবিত বন্দী করতে পারি তাহলে আমি পরীক্ষা করে দেখবো যে, তারা কি পরিমাণ প্রলোভনকে প্রত্যাখান করতে পারে, আর কি পরিমাণ ভয়-ভীতি উপেক্ষা করতে পারে। তাই সে তার সেনাবাহিনীকে বলে দিল, যদি তোমরা রণাঙ্গণ থেকে মুসলমানদেরকে জীবিত বন্দী করে আনতে পার তাহলে তাদের মারধর না করে যত্ন সহকারে আমার নিকট পাঠিয়ে দিবে।
৫০/৬০ জন মুসলিম মুজাহিদের দলনেতা ছিলেন হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে হুযাইফা (রা.)। রোমানদের সাথে মুসলমানদের তুমুল লড়াই শুরু হলে এক পর্যায়ে তিনি সঙ্গী সাথীসহ রোমানদের হাতে বন্দী হন। তাদের এ বন্দী হওয়ার পিছনে হয়তো একটি কারণ এও থাকতে পারে যে, আল্লাহ তায়ালা সকল বেঈমান-কাফের গোষ্ঠীকে বাস্তবেও দেখিয়ে দিতে চান যে, সত্যিকার অর্থেই মুসলমানগণ মৃত্যুকে ভয় করে না; টাকা-পয়সা আর ধন-ঐশ্চর্য্যের প্রলোভন দেখিয়ে কখনোই তাদেরকে সত্যের পথ থেকে সামান্যতমও বিচ্যুত করা যায় না।
যা হোক, সম্রাটের নির্দেশ মোতাবেক বন্দীদের রাজধানীতে পাঠিয়ে দেয়া হলো। সম্রাট প্রথমে আব্দুল্লাহ ইবনে হুযাইফা (রা.) কে তার খাস কামরায় ডেকে বললো, দেখ, আমি খৃষ্টান। আমি খৃষ্ট ধর্মকে ভালবাসি। যদি তুমি তোমার ধর্ম ছেড়ে আমার ধর্ম গ্রহণ কর তাহলে এখনই তোমার নামে আমার বিশাল সাম্রাজ্যের অর্ধেক লিখে দিব। শুধু তাই নয়, আমার একটি সুন্দরী ষোড়শী কন্যা আছে। তাকেও তোমার নিকট বিবাহ দেব। আমি মরে গেলে বাকী অর্ধেক সাম্রাজ্যের মালিক তুমি এমনিই হয়ে যাবে। তুমি হবে তখন রাষ্ট্রপ্রধান।
এ প্রস্তাব শুনে ঘৃণা আর ক্রোধে হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে হুযাইফা (রা.) এর সমস্ত দেহ কাঁপতে শুরু করল। আঘাত খাওয়া বাঘের ন্যায় তার সমস্ত সত্তা যেন একত্রে লাফিয়ে উঠলো। অতঃপর তার অগ্নিঝরা কণ্ঠ থেকে উচ্চারিত হলো-
হে রোমের কুকুর! তুমি কি দুনিয়ার বিনিময়ে আমার দ্বীন ক্রয় করতে চাও? দুনিয়ার সম্পদ দিয়ে আমার ধর্ম কিনে নিতে চাও? বেওকুফ কোথাকার! খবরদার! এই নিকৃষ্ট বাজে কথা আমার সামনে আর কখনোই উচ্চারণ করবে না।
হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে হুযাইফা (রা.) এর বক্তব্যে সম্রাটের মাথায় যেন আগুন ধরে গেল। ক্রোধে অগ্নিশর্মা হয়ে সে হিংস্র হায়েনার রূপ ধারণ করলো। সে একটু অস্ফুট স্বরে বিড়বিড় করে বললো, আমি রোমের সম্রাট! সমস্ত রোমবাসী আমার কথায় উঠা-বসা করে!! আর এক দুর্বল বন্দী কি-না আমাকে চোখ রাঙ্গিয়ে কথা বলে!!! কত বড় স্পর্ধা তার! দাঁড়াও, এখনই মজা বুঝিয়ে দিচ্ছি।
অতঃপর সম্রাট তার অনুগত বাহিনীকে কড়া নির্দেশ দিয়ে বললো, যাও, এদেরকে এখনই জেল খানার প্রকোষ্টে আবদ্ধ কর। আমার আদেশ না পাওয়া পর্যন্ত তাদেরকে যেন এক দানা খাদ্যও না দেয়া হয়, এক ফোটা পানিও না দেয়া হয়।
সম্রাটের নির্দেশ মোতাবেক তা-ই করা হল। আজ কয়েকদিন যাবত মুসলিম মুজাহিদদের খানা-পিনার সাথে কোন সাক্ষাত নেই। সকলেই নিস্তেজ ও দুর্বল হয়ে পড়েছেন। মনে হয় মৃত্যু যেন তাদেরকে হাতছানি দিয়ে ডাকছে।
এদিকে সম্রাট একজন বিজ্ঞ ডাক্তারকে এ বলে জেলখানায় পাঠিয়ে দিলেন যে, তুমি তাদের প্রতি সতর্ক দৃষ্টি রাখবে। যখন দেখবে যে, এখন খানা না খেলে তারা মারা যাবে ঠিক তখনই আমাকে সংবাদ দিবে। কারণ আমার মূল উদ্দেশ্য হল, ওদের পরীক্ষা করা, মেরে ফেলা নয়।
ক্রমাগত কয়েক দিন খেতে না দেয়ার পর ডাক্তার যখন দেখলেন, মুজাহিদদের শিরা একেবারে নিস্তেজ হয়ে পড়েছে, শরীরের স্পন্দনও মনে হয় থেমে যাচ্ছে, সকলেই অচেতন হয়ে পড়ে আছে, তখন তিনি সম্রাটের নিকট খবর পাঠালেন যে, এ মুহূর্তে যদি তাদেরকে খাবার না দেয়া হয় তবে তাদের জীবন রক্ষা করা সম্ভব হবে না।
☞ অসম্পূর্ণ | বাকি অংশ...
🔰 যে গল্পে হৃদয় গলে-২ | পৃষ্ঠা-১৮
─━━━━━━━━⊱✿⊰━━━━━━━─
আমাদের Telegram চ্যানেল সমূহ:
HA | IL | IA | IM | IIQ | IIS | IIA | SIB | SW | SA | IA | HAI | HAA | NHA | AIF
কয়েকটি ইসলামী এন্ড্রয়েড Apps:
IJ | MB | MQ | HF | IBD | AHM | IJ | SLT
All in One Cloud Links:
Notion | GoogleDrive | iDrive | 1Drive | 227 |
| 12 | স্বামীর আনুগত্যের ক্ষেত্রে মহিলা সাহাবিদের ঘটনাবলি বড়ই আশ্চর্যজনক
━━━━━━ • ✿ • ━━━━━━
এক মহিলা সাহাবির ছেলে জন্মাল। স্বামী জিহাদে ছিলেন। যেদিন তাঁর বাড়ি আসার কথা, সেদিন ঘণ্টাকয়েক আগে ছেলেটি মারা গেল। এখন তিনি চিন্তায় পড়ে গেলেন, এত দিন পর স্বামী বাড়ি এসে যখন জানতে পারবেন, ছেলে মারা গেছে, তখন তিনি কতই-না দুঃখ পাবেন এবং মনে কত আক্ষেপ যে হবে হায়! যদি জীবিতাবস্থায় ছেলেকে একটু আদর দিতে পারতাম! চিন্তিত অবস্থায় তিনি বাচ্চাটিকে গোসল করিয়ে চৌকির ওপর কাপড় দিয়ে ঢেকে রেখে দিলেন। কাউকে কিছু জানাননি। স্বামী বাড়ি এসে জিজ্ঞাসা করলেন, সন্তান কী হয়েছে? উত্তরে তিনি বললেন, আল্লাহ তা'আলা পুত্রসন্তান দান করেছেন। স্বামী বললেন, কোথায় ও? বললেন, সে শান্তিতে আছে।
স্বামী ভাবলেন, সে ঘুমিয়ে আছে। তাই তিনি খাওয়া-দাওয়া করলেন। রাত হয়ে গেল। দুজনে মেলামেশাও হলো। সফরের নানা কথা আলাপসালাপও হলো। কিন্তু দেখুন, এ মহিলা মা ছিলেন। তার অন্তরে কেমন একটা ঝড় বয়ে যাচ্ছিল, যার নিষ্পাপ ছেলের লাশ সামনে চৌকিতে পড়ে রয়েছে! কেবল স্বামীর সন্তুষ্টির খাতিরে বুকের ওপর পাথর চেপে এ রহস্যটি লুকিয়ে রেখেছেন, যেন আমার স্বামীর অন্তর দুঃখিত না হয়। সে তার সাথে খানাপিনাও করছে, হাসি-ঠাট্টাও চলছে, উভয়ে মেলামেশাও করেছে। এমনকি এভাবেই সকাল হয়ে গেল।
সকালবেলা স্বামীকে বললেন, একটি কথা বলুন তো। স্বামী বললেন, বলো কী কথা? তিনি বললেন, যদি কেউ কারো নিকট কোনো আমানত রাখে আর কিছুদিন পর তা ফেরৎ চায়, তাহলে কি তা খুশি মনে ফেরত দেওয়া উচিৎ, নাকি ভগ্নহৃদয়ে? স্বামী উত্তর দিলেন, খুশি মনে। স্ত্রী বললেন, বেশ; মহান আল্লাহ আপনাকে একটি আমানত দিয়েছিলেন এবং আপনি আসার একটু আগে আবার ফেরৎ নিয়ে গেছেন। এখন যান; সন্তুষ্টচিত্তে তাকে আল্লাহর হাওলা করে দিন। আল্লাহু আকবার!
এই মহিলা সাহাবি সদাচরণের হক আদায় করে দিয়েছেন। ভোরবেলা স্বামী রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দরবারে হাজির হয়ে বললেন, ওগো আল্লাহর নবী! আমার ঘরে এ ঘটনা ঘটেছে যে, আমার স্ত্রী আমার সন্তুষ্টির খাতিরে এত ধৈর্য ও সহনশীলতার পরিচয় দিয়েছে। নবীজি তাঁর জন্য দোআ করলেন। ফলে আল্লাহ তা'আলা ওই রাতটিতে বরকত দিলেন আর মহিলা তার স্বামীর সাথে মেলামেশার দরুন গর্ভবতী হলেন। আল্লাহ তাদের আরেকটি পুত্রসন্তান দান করলেন, যে কালের হাফেযে কুরআনও হয়েছে, আবার হাফেযে হাদীছও হয়েছে।
🔰 খুতুবাতে যুলফিকার | পৃষ্ঠাঃ ১-২:৬৩
─━━━━━━━━⊱✿⊰━━━━━━━─
আমাদের Telegram চ্যানেল সমূহ:
HA | IL | IA | IM | IIQ | IIS | IIA | SIB | SW | SA | IA | HAI | HAA | NHA | AIF
কয়েকটি ইসলামী এন্ড্রয়েড Apps:
IJ | MB | MQ | HF | IBD | AHM | IJ | SLT
All in One Cloud Links:
Notion | GoogleDrive | iDrive | 1Drive | 234 |
| 13 | হাকীমুল উম্মত হযরত থানবী (রহঃ) এর খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি উপদেশ
━━━━━━ • ✿ • ━━━━━━
হাকীমুল উম্মত হযরত থানবী (রহঃ) বলেন, তরীকতের সাধক তথা সালেকের জন্য উচিত হলো, সর্বদা নিজের শাইখের শিক্ষা ও উপদেশাবলী অনুসরণ করে চলা। এ বিষয়ের কিতাব দেখে নিজে নিজে আমল করা ভুল। হযরত থানবী (রহঃ) আরো বলেন, তাসাওউফ বিষয়ক কিতাব তরীকতের প্রাথমিক পর্যায়ের লোকদের জন্য নয়। বরং এ লাইনে যারা চূড়ান্ত পর্যায়ের সাধক এবং কামেল ও প্রসিদ্ধ ব্যক্তি তাদের জন্য হলো কিতাব। আর প্রাথমিক পর্যায়ের ব্যক্তিদের জন্য কিতাব হচ্ছে তার শাইখ। সে তার শাইখকে দেখবে, তার কাছে বিভিন্ন বিষয়ে জিজ্ঞাসা করবে জানবে এবং তার উপর আমল করবে। যেমন হাকীমী ও ডাক্তারী বইসমূহ হলো, হাকীম ও ডাক্তাদের জন্য। তারাই শুধু এসব বই দেখে ফায়দা হাসিল করতে পারে। পক্ষান্তরে অসুস্থ ব্যক্তি নিজেই যদি ডাক্তারী বইপত্র পড়ে ঔষধ খেতে যায় তবে তা তার জীবনের জন্য হবে আশঙ্কাজনক।
❑❑ প্রত্যেকের উচিত তার বড়কে অনুসরণ করা
হযরত থানবী (রহঃ) ইরশাদ করেন, প্রত্যেক ব্যক্তির জন্য উচিত হলো, নিজের বড়কে অনুসরণ করা, তার পরামর্শ মেনে চলা। কখনো খোদরায়ী বা স্বেচ্ছাচারিতা করা উচিত নয়। হযরত থানবী (রহঃ) আরো বলেন যে, কোন ব্যক্তি যদি এমন অবস্থায় থাকে যে, নিয়মতান্ত্রিক হিসাবে তার চাইতে বড় কেউ নেই, তবে সে কি করবে? এরূপ ব্যক্তির ব্যাপারেও আল্লাহ পাক আমাকে একটি গুরুত্বপূর্ণ জ্ঞান দান করেছেন। তা হলো এই যে, এরূপ ব্যক্তি নিজের ছোটদেরকেই একত্রিত করে পরামর্শ করবে। সকলের মতামত শুনে যার মতের উপর তার মন সায় দিবে বা যার মত অধিক গ্রহণযোগ্য বলে মন গ্রহণ করে নিবে তার উপর আমল করবে। এ পদ্ধতিতে একদিকে খোদরায়ী তথা স্বেচ্ছাচারিতার বিপদ থেকেও রক্ষা পাবে অপরদিকে পরামর্শের বরকতে আল্লাহ পাক তাকে মঙ্গলের দিকে হিদায়াত ও পথপ্রদর্শন করবেন।
🔰 মাজালিসে হাকীমুল উম্মত | পৃষ্ঠা-৪৭৭
─━━━━━━━━⊱✿⊰━━━━━━━─
আমাদের Telegram চ্যানেল সমূহ:
HA | IL | IA | IM | IIQ | IIS | IIA | SIB | SW | SA | IA | HAI | HAA | NHA | AIF
কয়েকটি ইসলামী এন্ড্রয়েড Apps:
IJ | MB | MQ | HF | IBD | AHM | IJ | SLT
All in One Cloud Links:
Notion | GoogleDrive | iDrive | 1Drive | 249 |
| 14 | এক সাহাবির অদ্ভুত নবীপ্রেম
.
হযরত তালহা ইবন বারা রাযি.। তিনি ছিলেন অল্প বয়সের সাহাবি। জীবনের শুরুতেই ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন। একদিন তিনি ভীষণ অসুস্থ হয়ে পড়লেন। এমন অসুস্থতা—যা দেখে বোঝা যাচ্ছিল, এটাই হয়তো শেষ সময়।
খবর পৌঁছাল রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর কাছে। প্রিয় নবী নিজে ছুটে এলেন তাঁর খোঁজ নিতে। ঘরে ঢুকেই বুঝে গেলেন—এই রোগ থেকে তাঁর আর ফেরা নেই। নবীজি ﷺ সেদিন উপস্থিত লোকদের বললেন, ‘তালহার যখন ইন্তেকাল হবে, আমাকে খবর দিও। আমি এসে জানাযার নামায পড়াব।’
ভাবুন একবার! যার জানাযা রাসূলুল্লাহ ﷺ পড়াবেন—তার মর্যাদা কতটা মহান! এটা কি ছোট সম্মান? এটা তো দুনিয়া-আখিরাতের সবচেয়ে বড় সৌভাগ্য!
নবীজি কথা বলে চলে গেলেন। কিন্তু এখানেই দেখা গেল তালহার প্রকৃত নবীপ্রেম। তিনি উপস্থিত লোকদের ডেকে বললেন, ‘যদি রাতে আমার মৃত্যু হয়, দয়া করে রাসূলুল্লাহ ﷺ-কে খবর দিও না।’
সুবহানাল্লাহ! কেন এই নিষেধ? কারণ তিনি জানতেন—রাসূল ﷺ-এর বাড়ি থেকে তাঁর বাড়ি তিন-চার মাইল দূরে। পথে ইহুদিদের বসতি। রাতের অন্ধকারে চলাফেরা কষ্টকর।নিরাপত্তার ঝুঁকি আছে। তিনি ভাবলেন, আমার জানাযার জন্য নবীজি কেন কষ্ট করবেন? আমার কারণে কেন আমার প্রিয় নবীর কষ্ট হবে?
যদিও নবীজি জানাযা পড়ালে তাঁর জন্য বিশাল ফজিলত ছিল, তবুও তিনি সেই সুযোগ নিজের হাতে ছেড়ে দিলেন। এটাই তো প্রেম! এটাই তো নিঃস্বার্থ ভালোবাসা!
অবশেষে রাতে তাঁর ইন্তেকাল হয়ে গেল।পরিবার তাঁর ওসিয়ত অনুযায়ী রাসূল ﷺ-কে খবর দিল না।
পরদিন সকালে নবীজি জানতে পারলেন। খুব আফসোস করলেন। সঙ্গে সঙ্গে তাঁর কবরের কাছে গেলেন। কবরের পাশে দাঁড়িয়ে এই দোয়া করলেন
اللَّهُمَّ الْقَ طَلْحَةَ تَضْحَكُ إِلَيْهِ وَيَضْحَكُ إِلَيْكَ
হে আল্লাহ! তালহার সাথে আপনি এমন অবস্থায় মিলিত হোন, যেন আপনি তাকে দেখে হাসছেন, আর সে আপনাকে দেখে হাসছে। [মাজমাউয যাওয়াইদ : ১৫৯৬৯]
ভাবুন একবার—রাসূল ﷺ নিজে নাম ধরে দোয়া করছেন! যদি নবীজি জানাযায় আসতেন, তাহলে সাধারণ জানাযার দোয়া পড়তেন
اللَّهُمَّ اغْفِرْ لِحَيِّنَا, وَمَيِّتِنَا
হে আল্লাহ! আমাদের জীবিত ও মৃত সবাইকে ক্ষমা করে দিন...।
এই দোয়ায় তালহার নাম আসত না। সাধারণ দোয়ার মধ্যে মিশে যেত। কিন্তু তালহা নিজের সুবিধা ত্যাগ করলেন, নবীর কষ্ট এড়াতে চাইলেন, নবীকে আরাম দিলেন। ফলাফল কী হলো? নবীর জবান দিয়ে তাঁর নাম ধরে দোয়া বের হয়ে এল! এটাকেই বলে—দোয়া বের করানো।
অনেকে আছে—দোয়া চায়, আমার জন্য দোয়া করবেন। কিন্তু খুব কম মানুষ আছে—যারা এমন কাজ করে যার কারণে বড় মানুষের মুখ থেকেই আপনা-আপনি দোয়া বের হয়ে আসে।একটু খেদমত, একটু আদব, একটু ভালো ব্যবহার—কখনো কখনো দোয়ার দরজা খুলে দেয়। | 320 |
| 15 | গুনাহে যেমন ক্ষণিকের আনন্দ আছে, তেমনি নেক আমলেও আছে এক অনন্য স্বাদ। তবে দুটির মাঝে আকাশ-পাতাল পার্থক্য। গুনাহের আনন্দের পরিণতি যন্ত্রণা, আর নেক আমলের কষ্টের পরিণতি প্রশান্তি ও চিরস্থায়ী সুখ।
একজন হার্ট সার্জনকে খাবারের টেবিলে বসানো হলো। সামনে রসালো মাংস, চর্বিযুক্ত নানা সুস্বাদু খাবার সাজানো। কিন্তু তিনি সেগুলোর দিকে হাতই বাড়ালেন না।
তাকে জিজ্ঞেস করা হলো, ডাক্তার সাহেব, এত ভালো খাবার! আপনি খাচ্ছেন না কেন?
তিনি শান্তভাবে বললেন, আমি প্রতিদিন অপারেশন থিয়েটারে মানুষের হৃদয়ের ভেতর জমে থাকা চর্বির ভয়াবহ পরিণতি দেখি। তাই এই খাবারের স্বাদ আমার কাছে আর আগের মতো লাগে না।
তিনি খাবারের বাহ্যিক মজার চেয়ে এর ভেতরে লুকিয়ে থাকা ক্ষতিটা দেখতে শিখেছেন। তাই যে খাবার অন্যের কাছে লোভনীয়, তা তাঁর কাছে আর আকর্ষণীয় নয়।
ঠিক তেমনি, যে ব্যক্তি ঈমানের আলোয় গুনাহের পরিণতি—আল্লাহর অসন্তুষ্টি, অন্তরের অশান্তি, কবরের আযাব ও আখিরাতের শাস্তি—উপলব্ধি করতে পারে, তার কাছে গুনাহের চাকচিক্য আর আকর্ষণীয় থাকে না। সে বুঝে যায়, গুনাহের তথাকথিত আনন্দ আসলে শাস্তিরই সূচনা।
আর নেক আমল? শুরুতে সেখানে কিছু কষ্ট থাকতে পারে—নফসের সঙ্গে লড়াই, সময় ব্যয়, ত্যাগ। কিন্তু সেই কষ্টের পরেই আসে ঈমানের মিষ্টতা, অন্তরের প্রশান্তি, আল্লাহর সন্তুষ্টি এবং জান্নাতের চিরস্থায়ী সুখ।
তাই গুনাহের মজা ক্ষণস্থায়ী, কিন্তু তার আফসোস দীর্ঘস্থায়ী। আর নেক আমলের কষ্ট সাময়িক, কিন্তু তার আনন্দ দুনিয়া ও আখিরাতব্যাপী। | 336 |
| 16 | নারীর ভাষা
≈≈≈≈≈≈≈≈≈≈
আমার বন্ধুরা! মনে রাখবেন, মন্দভাষী নারী আপন স্বামীকে কবর পর্যন্ত পৌছাতে ঘোড়ার ডাকের মতো (দ্রুত) কাজ করে। যার স্ত্রী মন্দভাষী, তার জীবনে শান্তি মিলতে পারে না। নারীদের বলা হয়েছে, যেন তারা তাদের ভাষায় নম্রতা ও মধুরতা সৃষ্টি করে এবং ভালোভাবে কথা বলে। এ ব্যাপারটি এমনিতেই মীমাংসিত যে, নারী যতই মিষ্টভাষী হোক-না কেন, তার ভাষায় অল্প হলেও তিক্ততা অবশ্যই রয়েছে। কেননা, তাদের বাচনভঙ্গিই এমন। তথাপিও মহিলাদের ভাষা নম্র হওয়া উচিৎ। শরীয়ত বলে দিয়েছে, আপন স্বামীর সাথে নম্রস্বরে কথা বলবে আর যখন পরপুরুষের সাথে কথা বলার প্রয়োজন দেখা দেয়, তখন কর্কশ ভাষায় বলবে, যেন অন্য কথা জিজ্ঞাসা করার সাহসই না হয়।
আধুনিক কালের আধুনিক নারীদের ব্যাপারটা একেবারেই এর ব্যতিক্রম। স্বামীর সাথে কথা বলতে গেলে যেন সারা দুনিয়ার সব তিক্ততা একত্র হয়। আর অন্য কারো সাথে কথা বলতে গেলে যেন সারা পৃথিবীর সব মিষ্টতা জড়ো হয়।
মোটকথা, এটি চূড়ান্ত বিষয় যে, তরবারি যেসব বন্ধন ছিন্ন করতে পারে না, মুখের ভাষা তা ছিন্ন করে দেয়। একথাও মনে রাখবেন, নারীর ভাষা এমন তরবারি, যা কখনও মরিচা ধরে না। কোনো-কোনো নারীর মুখের ভাষা এতই মন্দ যে, নারী না হলে তা অসহনীয় হতো। কিছু নারী তো মন্দ ভাষা আর কুধারণার দরুন গোটা পরিবার ধ্বংস করে দেয়। শরীয়ত নির্দেশ দিয়েছে, মাহরাম পুরুষের সাথে কথা বললে নম্র ভাষায় আর গাইরে মাহরাম পুরুষের সাথে কথা বললে শক্ত ভাষায় বলো। পাশ্চাত্যের কোনো এক পণ্ডিত বলেছেন:
'নারী যদি স্বামীর সাথে সারা দিনে একবার এমন নম্র ভাষায় কথা বলে, যেমন নম্র ভাষায় বলে প্রতিবেশী পুরুষের সাথে, তাহলে পরিবার সুখময় থাকে। এমনিভাবে পুরুষ যদি সারা দিনে একবার স্ত্রীর দিকে এমন ভালোবাসার দৃষ্টিতে তাকায়, যেমন দৃষ্টিতে সে প্রতিবেশী নারীর দিকে তাকায়, তাহলেও পরিবার সুখময় থাকে।'
🔰 খুতুবাতে যুলফিকার | পৃষ্ঠাঃ ১-২:৬১
─━━━━━━━━⊱✿⊰━━━━━━━─
আমাদের Telegram চ্যানেল সমূহ:
HA | IL | IA | IM | IIQ | IIS | IIA | SIB | SW | SA | IA | HAI | HAA | NHA | AIF
কয়েকটি ইসলামী এন্ড্রয়েড Apps:
IJ | MB | MQ | HF | IBD | AHM | IJ | SLT
All in One Cloud Links:
Notion | GoogleDrive | iDrive | 1Drive | 370 |
| 17 | জ্ঞানের শ্রেষ্ঠত্ব সম্পর্কে সাহাবী ও তাবেয়ীদের উক্তি
━━━━━━ • পর্ব-০২ • ━━━━━━
হাসান বসরী (র) বলেছেন, 'জ্ঞানীর লেখার কালি ও শহিদের রক্ত ওজন করলে জ্ঞানীর কালির ওজন শহিদের রক্তের চেয়ে বেশি হবে।' (তারিখে ইস্পাহান: ২:১৭৮; জামিউ বায়ানিল ইলমি ওয়া ফাযলিহি: ১৫৩)
আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা) বলেন, 'হে লোকসকল! জ্ঞান তুলে নেওয়ার পূর্বে জ্ঞান অর্জন করো। এর অর্থ জ্ঞানী লোকেরা মৃত্যুবরণ করার পূর্বে জ্ঞান অর্জন করো। আল্লাহর শপথ! যার কব্জায় আমার প্রাণ- আল্লাহর পথে যারা শহিদ হয়েছেন, তাঁরা আলেমদের মর্যাদা দেখে আপসোস করে বলবেন, আল্লাহ তাআলা আমাদের জ্ঞানী অবস্থায় পুনরুত্থিত করলেই ভালো হতো। জ্ঞানী হয়ে কেউ জন্মগ্রহণ করে না, বরং অনুশীলনের মাধ্যমে জ্ঞান অর্জন করতে হয়'। (আয যুহদ: ৮৯৯)
আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা) বলেন, রাতের কিছু অংশে ইলমের চর্চা করা আমার মতে সারারাত জাগ্রত থেকে নফল ইবাদত করার চেয়েও উত্তম। (মুসান্নাফে আবদুর রাযযাক; ১১:২৫৩)
এ বিষয়টিই হযরত আবু হুরায়রা (রা) ও ইমাম আহমাদ (র) থেকে বর্ণিত আছে।
কুরআনে কারীমে ইরশাদ হচ্ছে-
رَبَّنَا آتِنَا فِي الدُّنْيَا حَسَنَةً وَفِي الْآخِرَةِ حَسَنَةً.
হে আমাদের প্রভু! দুনিয়া এবং আখেরাতে আমাদের কল্যাণ দান করুন। (সূরা বাকারা: ২০১)
হাসান বসরী (র) বলেন, এ আয়াতে দুনিয়ার কল্যাণ অর্থ জ্ঞান ও ইবাদত। পরকালের কল্যাণ অর্থ জান্নাত। (জামে তিরমিযী: ৩৪৮৮)
জনৈক দার্শনিককে কেউ জিজ্ঞেস করল, কোন জিনিস সঞ্চয় করা জরুরি? তিনি বললেন, এমন জিনিস সঞ্চয় করা চাই, তোমার নৌকা ডুবে গেলে যে তোমার সঙ্গে সাঁতার কাটতে পারে। অর্থাৎ, ইলম। কারণ, দেহরূপী নৌকা মৃত্যুরূপী পানিতে সমাধি লাভ করলে ইলম সঙ্গেই থাকে। (জামিউ বায়ানিল ইলমি ওয়া ফাযলিহি: ২৮০)
আরেকজন দার্শনিক বলেন, 'যে ব্যক্তি জ্ঞানকে নিজের লাগাম বানিয়ে নেয়, লোকে তাকে ইমাম মনে করে। যে ব্যক্তি জ্ঞানের খ্যাতি অর্জন করে, মানুষ তাকে সম্মানের চোখে দেখে।' (জামিউ বায়ানিল ইলমি ওয়া ফাযলিহি : ২৮১)
ইমাম শাফেয়ী (র) বলেন, জ্ঞানের গৌরব হলো, জ্ঞানকে কোনো ব্যক্তির সঙ্গে সামান্যতম ব্যাপারেও সম্পৃক্ত করা হলে সে খুশি হয়। যেমন: যদি বলা হয়, অমুক ব্যক্তি এ ব্যাপারে জ্ঞান রাখে তাহলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি খুব খুশি হয়। আর যে ব্যক্তি এ বিষয়ের জ্ঞান রাখে না- তাকে একথা বলা হলে সে দুঃখিত হয়। (ইতহাফুস সাদাতিল মুত্তাকিন: ১:৯২)
ওমর (রা) বলেন, হে লোকসকল! ইলম অন্বেষণ করো। ইলম আল্লাহ তাআলার নিকট মহব্বতের একটি চাদর। যে ব্যক্তি কোনো বিষয়ের জ্ঞান তালাশ করে, আল্লাহ তাআলা তাকে সে চাদর পরিয়ে দেন। তারপর সে কোনো পাপ করলেও তাকে আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের তাওফীক দেওয়া হয়।
পুনরায় গুনাহ করলেও আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের তাওফীক দেওয়া হয়। তৃতীয়বার গুনাহ করার পরও এরূপ করা হয়। এভাবে বারবার তাওফীক দেওয়ার উদ্দেশ্য হলো, তার থেকে মহব্বতের চাদরটি ছিনিয়ে না নেওয়া, যদিও তার পাপ বাড়তে বাড়তে মৃত্যু হয়। (ইতহাফুস সাদাতিল মুত্তাকিন: ১:৯২; জামিউ বায়ানিল ইলমি ওয়া ফাযলিহি: ৩০০)
ইমাম আবু হানিফা (র) বলেন, মনে হয় জ্ঞানী লোকেরা যাবতীয় সম্মানের মালিক হয়ে যাবে। যে সম্মান জ্ঞানের দ্বারা পরিপক্ক না হয়, তার পরিণতি হয় অপমান-লাঞ্ছনা। (আল মুজালাসা ওয়া জাওয়াহিবুল ইলমি: ৩২৪)
সালেম ইবনে আবুল জাদ বলেন, আমি ছিলাম ক্রীতদাস। আমার মনিব আমাকে তিনশ দিরহামের বিনিময়ে আযাদ করে দিলে আমি কী করে জীবিকা নির্বাহ করব তা নিয়ে ভাবতে লাগলাম। অবশেষে জ্ঞানকে পেশা হিসেবে বেছে নিলাম। এরপর এক বছর অতীত না হতেই শহরের প্রশাসক আমার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে এলেন। কিন্তু আমি তাঁকে ফিরিয়ে দিলাম।
যুবাইর ইবনে আবু বকর বলেন, আমি ইরাকে ছিলাম, আমার পিতা আমাকে চিঠি লিখলেন, তুমি ইলম অর্জন করো। এতে যদি তুমি নিঃস্ব হয়ে যাও তাহলে জ্ঞান হবে তোমার ধন। আর যদি ধনী হয়ে যাও তাহলে জ্ঞান হবে তোমার অঙ্গসজ্জা। (আল মাদখাল ইলাস সুনানিল কুবরা: ৩৯৯)
কথিত আছে, লোকমান হাকীম তাঁর ছেলেকে উপদেশ দিয়ে বলেন, হে বৎস! জ্ঞানীদের কাছে বসো। কেননা, আল্লাহ তাআলা জ্ঞানের আলোয় অন্তর জীবিত করেন, যেমন মাটিকে বৃষ্টির পানি দিয়ে শস্যশ্যামল করেন। (আল মুয়াত্তা: ২:১০০২)
এক দার্শনিক বলেন, জ্ঞানী ব্যক্তি মারা গেলে তার জন্য জলের মাছ এবং আকাশের পাখিরা পর্যন্ত কাঁদে। দৃশ্যত তাঁকে দেখতে না পেলেও তার স্মৃতি হৃদয়ে বিরাজমান থাকে। (ইতহাফুস সাদাতিল মুত্তাকিন: ১:৯৩)
ইমাম যুহরী (র) বলেন, ইলম হলো একটি উল্লেখযোগ্য গুণ। মানুষের মাঝে কেবল শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিরাই এ গুণটি পছন্দ করে। (হিলয়াতুল আওলিয়া: ৩:৩৬৫; জামিউ বায়ানিল ইলমি ওয়া ফাযলিহি: ২৯৬)
🔰 ইহয়াউ উলূমিদ্দীন | পৃষ্ঠা-১:২৬
─━━━━━━━━⊱✿⊰━━━━━━━─
আমাদের Telegram চ্যানেল সমূহ:
HA | IL | IA | IM | IIQ | IIS | IIA | SIB | SW | SA | IA | HAI | HAA | NHA | AIF
কয়েকটি ইসলামী এন্ড্রয়েড Apps:
IJ | MB | MQ | HF | IBD | AHM | IJ | SLT
All in One Cloud Links:
Notion | GoogleDrive | iDrive | 1Drive | 316 |
| 18 | জ্ঞানের শ্রেষ্ঠত্ব সম্পর্কে সাহাবী ও তাবেয়ীদের উক্তি
━━━━━━ • ✿ • ━━━━━━
আলী (রা) কোমাইল নামক এক ব্যক্তিকে বললেন, "হে কোমাইল! জ্ঞান ধনসম্পদ অপেক্ষা উত্তম। জ্ঞান তোমাকে নিরাপত্তা দেয়, হেফাজত করে, আর তুমি ধনসম্পদের নিরাপত্তা দাও। জ্ঞান শাসক আর ধনসম্পদ শাসিত। সম্পদ ব্যয় করলে হ্রাস পায় আর জ্ঞান ব্যয় করলে বৃদ্ধি পায়। (তারীখে বাগদাদ: ৬: ৩৭৬)
তিনি আরও বলেন, 'আলেম ব্যক্তি রোযাদার, ইবাদতকারী ও জিহাদকারী অপেক্ষা উত্তম। আলেম ব্যক্তির মৃত্যু হলে ইসলামে এমন শূন্যতা দেখা দেয়, যা তার উত্তরসূরি ছাড়া কেউ পূরণ করতে পারে না।' (কুতুল কুলুব: ১: ১৪৩)
আলী (রা) থেকে বর্ণিত একটি কবিতা, তিনি বলেন-
আলেমদের গৌরব হলো, সে নিজে যেমন পথপ্রাপ্ত, তেমিন অপরেরও পথপ্রদর্শক। সৌন্দর্যের বস্তু কারও অর্জিত রয়েছে, এটিই মানুষের মর্যাদা। মূর্খরা সদা জ্ঞানীদের সাথে শত্রুতা পোষণ করে। তথাপি তুমি এমন জ্ঞান অর্জন করো, যদ্দ্বারা চিরজীবী হতে পারো। সকল মানুষ মৃত; কিন্তু জ্ঞানী অমর। (দেওয়ানে আলী: ৩০)
আবুল আসওয়াদ (র) বলেন, ইলমের চেয়ে মর্যাদাপূর্ণ আর কোনো বিষয় নেই। বাদশাহ জনগণের শাসক হয়ে থাকেন। কিন্তু জ্ঞানীরা হন বাদশাহদের শাসক। (উয়ুনুল আখবার: ২: ১২১)
ইবনে আব্বাস (রা) বলেন, হযরত সুলায়মান (আ)-কে ইলম, ধনসম্পদ ও রাজত্বের মধ্য থেকে যে-কোনো একটি বেছে নেওয়ার অধিকার দেওয়া হয়েছিল। তিনি ইলমকে বেছে নিলেন। ফলে তাঁকে ইলমের সঙ্গে ধনসম্পদ এবং রাজত্বও দান করা হয়। (তারিখে দিমাশক: ২২: ২৭৫)
আবদুল্লাহ ইবনে মুবারক (র)-কে কেউ প্রশ্ন করল, মানুষ কারা? তিনি বললেন, জ্ঞানীরা। এরপর জিজ্ঞেস করা হলো, বাদশাহ কারা? তিনি বললেন, অনাসক্ত দরবেশগণ। প্রশ্ন করা হলো, নীচ কারা? জবাব দিলেন, যারা নিজেদের দীন বিক্রি করে খায়। (হিলয়াতুল আউলিয়া: ৮: ১৬৭)
একমাত্র আলেম বা জ্ঞানী ব্যক্তিকেই শ্রেষ্ঠ মানুষ বলে গণ্য করা হয়। কেননা মানুষ এবং অন্যসব প্রাণির মাঝে যে বৈশিষ্ট্য স্বাতন্ত্র্য এনে দিয়েছে, তা হলো ইলম বা জ্ঞান। আর মানুষ তখনই মানুষ বলে গণ্য হবে যখন তার মধ্যে গৌরব ও শ্রেষ্ঠত্বের কারণ বিদ্যমান থাকবে। মানুষের মর্যাদা শক্তি বলে অর্জিত হয় না। কারণ, উট মানুষের চেয়েও অধিক শক্তিশালী এবং মোটা স্বাস্থ্য হওয়ার কারণে হয় না। কেননা, হাতির দেহ তার চেয়েও বিশালকায়। আবার বীরত্বের কারণেও নয়। কেননা, হিংস্র প্রাণির বীরত্ব মানুষের চেয়ে বহুগুণে বেশি। অতি ভোজনের কারণেও নয়। কারণ ষাড়ের উদর মানুষের চেয়েও বিশালকায়। অধিক সহবাসের কারণেও নয়। কেননা দুর্বল চড়ুইটিও এ কাজে মানুষের চেয়ে বেশি সবল। একমাত্র জ্ঞানের দিক দিয়েই মানুষ শ্রেষ্ঠ, মানুষের সৃষ্টিই জ্ঞানের জন্য। (ইতহাফুস সাদাতিল মুত্তাকিন: ১: ৯৮)
এক জ্ঞানী ব্যক্তি বলেন, কেউ আমাকে বলুক, যে ব্যক্তি ইলম পায়নি, সে কী পেয়েছে এবং যে ব্যক্তি ইলম পেয়েছে, তার পাওয়ার আর কী আছে? (মিফতাহু সাআদাতিত দারাইন: ১: ১৭৫)
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন-
مَنْ أُوتِيَ الْقُرْآنَ فَرَأَى أَنَّ أَحَدًا أُوتِيَ خَيْرًا مِّنْهُ فَقَدْ حَقَّرَ مَا عَظَمَ اللَّهُ تَعَالَى.
কোনো ব্যক্তিকে কুরআনের ইলম দান করার পর সে যদি অন্যকে তারচেয়ে উত্তম মনে করে তাহলে সে আল্লাহ তাআলা যে ইলমকে মহান করেছেন তাকে তুচ্ছতাচ্ছিল্য করল। (শুআবুল ঈমান, বায়হাকী ২৩৫২)
ফাতাহ আল মুসেলী (র) বলেন, অসুস্থ ব্যক্তিকে প্রতিদিন খাদ্য, পানীয় ও ওষুধপত্র কিছুই না দিলে সে কি মরে যাবে না? উপস্থিত লোকেরা বলল, হাঁ, মরে যাবে। তিনি বললেন, আত্মার অবস্থাও তাই। আত্মাকে তিন দিন ইলম ও জ্ঞান থেকে উপবাস রাখলে সে মরে যাবে। (মিফতাহ্র দারিস সাআদাহ : ১: ১৭৫)
যথার্থ তাঁর এ উক্তি। কেননা, ইলম ও প্রজ্ঞা হচ্ছে আত্মার খোরাক; এগুলোর মাধ্যমেই তার জীবন টিকে থাকে; দেহের খোরাক যেমন খাদ্য।
যার জ্ঞান নেই, তার অন্তর অসুস্থ, তার মৃত্যু অবশ্যম্ভাবী। কিন্তু অনেকেই তার আত্মার রোগ ও মৃত্যুর খবর রাখে না। দুনিয়ার মহব্বতের কারণে তার চেতনা বিলুপ্ত হয়ে যায়। যেমন ভয় ও নেশার কারণে জখমের ব্যথা অনুভূত হয় না; যদিও তার ব্যথা থাকে। আর মৃত্যু যখন দুনিয়ার সম্পর্ক ছিন্ন করে দেয়, তখন সে আত্মার মৃত্যুর বিষয় জানতে পারে এবং খুবই অনুশোচনা করতে থাকে। তখন তার সেই অনুশোচনায় কোনো লাভ হয় না। ভীত ব্যক্তির ভয় বা মাতালের নেশা দূর হয়ে গেলে ভীত ও মাতাল অবস্থার আঘাতের যন্ত্রণা সে হাড়েহাড়ে টের পায়। সত্য উদঘাটিত হওয়ার সেই দিনের ভয়াবহ অবস্থা থেকে আমরা আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাই। কেননা, মানুষ এখন ঘুমিয়ে আছে। মৃত্যুর পর জাগ্রত হবে।
☞ অসম্পূর্ণ | পরবর্তী পর্ব...
🔰 ইহয়াউ উলূমিদ্দীন | পৃষ্ঠা-১:২৬
─━━━━━━━━⊱✿⊰━━━━━━━─
আমাদের Telegram চ্যানেল সমূহ:
HA | IL | IA | IM | IIQ | IIS | IIA | SIB | SW | SA | IA | HAI | HAA | NHA | AIF
কয়েকটি ইসলামী এন্ড্রয়েড Apps:
IJ | MB | MQ | HF | IBD | AHM | IJ | SLT
All in One Cloud Links:
Notion | GoogleDrive | iDrive | 1Drive | 245 |
| 19 | মৃত্যু চরম বাস্তবতা...!
-মাওলানা জুলফিকার আহমাদ নকশাবন্দি
━━━━━━ • ✿ • ━━━━━━
✿ ক্ষমতা দিয়ে মৃত্যুকে ঠেকানো সম্ভব হলে ফেরাউনের মৃত্যু হতো না।
✿ মন্ত্রিত্ব দিয়ে মৃত্যুকে ঠেকানো সম্ভব হলে হামানের মৃত্যু হতো না।
✿ গায়ের শক্তি দিয়ে মৃত্যুকে ঠেকানো সম্ভব হলে রোস্তম আর সোহরাবের মৃত্যু হতো না।
✿ ওষুধ দিয়ে মৃত্যুকে ঠেকানো সম্ভব হলে প্লেটো আর জালইউনুসের মৃত্যু হতো না।
✿ জ্ঞান ও প্রজ্ঞা দিয়ে মৃত্যুকে ঠেকানো সম্ভব হলে লোকমান হাকিমের মৃত্যু হতো না।
✿ সতীত্ব দিয়ে মৃত্যুকে ঠেকানো সম্ভব হলে যুবতী স্ত্রী তার যুবক স্বামীকে কিছুতেই মরতে দিতো না।
✿ ভালোবাসা দিয়ে মৃত্যুকে ঠেকানো সম্ভব হলে মায়ের কোলের নিষ্পাপ শিশু কখনোই মরতো না।
🔰 সুখময় দাম্পত্যজীবন | পৃষ্ঠা-১৭০
─━━━━━━━━⊱✿⊰━━━━━━━─
আমাদের Telegram চ্যানেল সমূহ:
HA | IL | IA | IM | IIQ | IIS | IIA | SIB | SW | SA | IA | HAI | HAA | NHA | AIF
কয়েকটি ইসলামী এন্ড্রয়েড Apps:
IJ | MB | MQ | HF | IBD | AHM | IJ | SLT
All in One Cloud Links:
Notion | GoogleDrive | iDrive | 1Drive | 245 |
| 20 | ─━━━━━━━━⊱✿⊰━━━━━━─
আমাদের Telegram চ্যানেল সমূহ:
HA | IL | IA | IM | IIQ | IIS | IIA | SIB | SW | SA | IA | HAI
All in One Cloud Links:
Notion | GoogleDrive | iDrive | 1Drive | 1 |
