ar
Feedback
ISLAMIC ARTICLE (ইসলামি প্রবন্ধ)

ISLAMIC ARTICLE (ইসলামি প্রবন্ধ)

الذهاب إلى القناة على Telegram
2 876
المشتركون
-224 ساعات
-37 أيام
لا توجد بيانات30 أيام
أرشيف المشاركات
এক সাহাবির অদ্ভুত নবীপ্রেম . হযরত তালহা ইবন বারা রাযি.। তিনি ছিলেন অল্প বয়সের সাহাবি। জীবনের শুরুতেই ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন। একদিন তিনি ভীষণ অসুস্থ হয়ে পড়লেন। এমন অসুস্থতা—যা দেখে বোঝা যাচ্ছিল, এটাই হয়তো শেষ সময়। খবর পৌঁছাল রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর কাছে। প্রিয় নবী নিজে ছুটে এলেন তাঁর খোঁজ নিতে। ঘরে ঢুকেই বুঝে গেলেন—এই রোগ থেকে তাঁর আর ফেরা নেই। নবীজি ﷺ সেদিন উপস্থিত লোকদের বললেন, ‘তালহার যখন ইন্তেকাল হবে, আমাকে খবর দিও। আমি এসে জানাযার নামায পড়াব।’ ভাবুন একবার! যার জানাযা রাসূলুল্লাহ ﷺ পড়াবেন—তার মর্যাদা কতটা মহান! এটা কি ছোট সম্মান? এটা তো দুনিয়া-আখিরাতের সবচেয়ে বড় সৌভাগ্য! নবীজি কথা বলে চলে গেলেন। কিন্তু এখানেই দেখা গেল তালহার প্রকৃত নবীপ্রেম। তিনি উপস্থিত লোকদের ডেকে বললেন, ‘যদি রাতে আমার মৃত্যু হয়, দয়া করে রাসূলুল্লাহ ﷺ-কে খবর দিও না।’ সুবহানাল্লাহ! কেন এই নিষেধ? কারণ তিনি জানতেন—রাসূল ﷺ-এর বাড়ি থেকে তাঁর বাড়ি তিন-চার মাইল দূরে। পথে ইহুদিদের বসতি। রাতের অন্ধকারে চলাফেরা কষ্টকর।নিরাপত্তার ঝুঁকি আছে। তিনি ভাবলেন, আমার জানাযার জন্য নবীজি কেন কষ্ট করবেন? আমার কারণে কেন আমার প্রিয় নবীর কষ্ট হবে? যদিও নবীজি জানাযা পড়ালে তাঁর জন্য বিশাল ফজিলত ছিল, তবুও তিনি সেই সুযোগ নিজের হাতে ছেড়ে দিলেন। এটাই তো প্রেম! এটাই তো নিঃস্বার্থ ভালোবাসা! অবশেষে রাতে তাঁর ইন্তেকাল হয়ে গেল।পরিবার তাঁর ওসিয়ত অনুযায়ী রাসূল ﷺ-কে খবর দিল না। পরদিন সকালে নবীজি জানতে পারলেন। খুব আফসোস করলেন। সঙ্গে সঙ্গে তাঁর কবরের কাছে গেলেন। কবরের পাশে দাঁড়িয়ে এই দোয়া করলেন اللَّهُمَّ الْقَ طَلْحَةَ تَضْحَكُ إِلَيْهِ وَيَضْحَكُ إِلَيْكَ হে আল্লাহ! তালহার সাথে আপনি এমন অবস্থায় মিলিত হোন, যেন আপনি তাকে দেখে হাসছেন, আর সে আপনাকে দেখে হাসছে। [মাজমাউয যাওয়াইদ : ১৫৯৬৯] ভাবুন একবার—রাসূল ﷺ নিজে নাম ধরে দোয়া করছেন! যদি নবীজি জানাযায় আসতেন, তাহলে সাধারণ জানাযার দোয়া পড়তেন اللَّهُمَّ اغْفِرْ لِحَيِّنَا, وَمَيِّتِنَا হে আল্লাহ! আমাদের জীবিত ও মৃত সবাইকে ক্ষমা করে দিন...। এই দোয়ায় তালহার নাম আসত না। সাধারণ দোয়ার মধ্যে মিশে যেত। কিন্তু তালহা নিজের সুবিধা ত্যাগ করলেন, নবীর কষ্ট এড়াতে চাইলেন, নবীকে আরাম দিলেন। ফলাফল কী হলো? নবীর জবান দিয়ে তাঁর নাম ধরে দোয়া বের হয়ে এল! এটাকেই বলে—দোয়া বের করানো। অনেকে আছে—দোয়া চায়, আমার জন্য দোয়া করবেন। কিন্তু খুব কম মানুষ আছে—যারা এমন কাজ করে যার কারণে বড় মানুষের মুখ থেকেই আপনা-আপনি দোয়া বের হয়ে আসে।একটু খেদমত, একটু আদব, একটু ভালো ব্যবহার—কখনো কখনো দোয়ার দরজা খুলে দেয়।

গুনাহে যেমন ক্ষণিকের আনন্দ আছে, তেমনি নেক আমলেও আছে এক অনন্য স্বাদ। তবে দুটির মাঝে আকাশ-পাতাল পার্থক্য। গুনাহের আনন্দের পরিণতি যন্ত্রণা, আর নেক আমলের কষ্টের পরিণতি প্রশান্তি ও চিরস্থায়ী সুখ। একজন হার্ট সার্জনকে খাবারের টেবিলে বসানো হলো। সামনে রসালো মাংস, চর্বিযুক্ত নানা সুস্বাদু খাবার সাজানো। কিন্তু তিনি সেগুলোর দিকে হাতই বাড়ালেন না। তাকে জিজ্ঞেস করা হলো, ডাক্তার সাহেব, এত ভালো খাবার! আপনি খাচ্ছেন না কেন? তিনি শান্তভাবে বললেন, আমি প্রতিদিন অপারেশন থিয়েটারে মানুষের হৃদয়ের ভেতর জমে থাকা চর্বির ভয়াবহ পরিণতি দেখি। তাই এই খাবারের স্বাদ আমার কাছে আর আগের মতো লাগে না। তিনি খাবারের বাহ্যিক মজার চেয়ে এর ভেতরে লুকিয়ে থাকা ক্ষতিটা দেখতে শিখেছেন। তাই যে খাবার অন্যের কাছে লোভনীয়, তা তাঁর কাছে আর আকর্ষণীয় নয়। ঠিক তেমনি, যে ব্যক্তি ঈমানের আলোয় গুনাহের পরিণতি—আল্লাহর অসন্তুষ্টি, অন্তরের অশান্তি, কবরের আযাব ও আখিরাতের শাস্তি—উপলব্ধি করতে পারে, তার কাছে গুনাহের চাকচিক্য আর আকর্ষণীয় থাকে না। সে বুঝে যায়, গুনাহের তথাকথিত আনন্দ আসলে শাস্তিরই সূচনা। আর নেক আমল? শুরুতে সেখানে কিছু কষ্ট থাকতে পারে—নফসের সঙ্গে লড়াই, সময় ব্যয়, ত্যাগ। কিন্তু সেই কষ্টের পরেই আসে ঈমানের মিষ্টতা, অন্তরের প্রশান্তি, আল্লাহর সন্তুষ্টি এবং জান্নাতের চিরস্থায়ী সুখ। তাই গুনাহের মজা ক্ষণস্থায়ী, কিন্তু তার আফসোস দীর্ঘস্থায়ী। আর নেক আমলের কষ্ট সাময়িক, কিন্তু তার আনন্দ দুনিয়া ও আখিরাতব্যাপী।

নারীর ভাষা ≈≈≈≈≈≈≈≈≈≈ আমার বন্ধুরা! মনে রাখবেন, মন্দভাষী নারী আপন স্বামীকে কবর পর্যন্ত পৌছাতে ঘোড়ার ডাকের মতো (দ্রুত) কাজ করে। যার স্ত্রী মন্দভাষী, তার জীবনে শান্তি মিলতে পারে না। নারীদের বলা হয়েছে, যেন তারা তাদের ভাষায় নম্রতা ও মধুরতা সৃষ্টি করে এবং ভালোভাবে কথা বলে। এ ব্যাপারটি এমনিতেই মীমাংসিত যে, নারী যতই মিষ্টভাষী হোক-না কেন, তার ভাষায় অল্প হলেও তিক্ততা অবশ্যই রয়েছে। কেননা, তাদের বাচনভঙ্গিই এমন। তথাপিও মহিলাদের ভাষা নম্র হওয়া উচিৎ। শরীয়ত বলে দিয়েছে, আপন স্বামীর সাথে নম্রস্বরে কথা বলবে আর যখন পরপুরুষের সাথে কথা বলার প্রয়োজন দেখা দেয়, তখন কর্কশ ভাষায় বলবে, যেন অন্য কথা জিজ্ঞাসা করার সাহসই না হয়। আধুনিক কালের আধুনিক নারীদের ব্যাপারটা একেবারেই এর ব্যতিক্রম। স্বামীর সাথে কথা বলতে গেলে যেন সারা দুনিয়ার সব তিক্ততা একত্র হয়। আর অন্য কারো সাথে কথা বলতে গেলে যেন সারা পৃথিবীর সব মিষ্টতা জড়ো হয়। মোটকথা, এটি চূড়ান্ত বিষয় যে, তরবারি যেসব বন্ধন ছিন্ন করতে পারে না, মুখের ভাষা তা ছিন্ন করে দেয়। একথাও মনে রাখবেন, নারীর ভাষা এমন তরবারি, যা কখনও মরিচা ধরে না। কোনো-কোনো নারীর মুখের ভাষা এতই মন্দ যে, নারী না হলে তা অসহনীয় হতো। কিছু নারী তো মন্দ ভাষা আর কুধারণার দরুন গোটা পরিবার ধ্বংস করে দেয়। শরীয়ত নির্দেশ দিয়েছে, মাহরাম পুরুষের সাথে কথা বললে নম্র ভাষায় আর গাইরে মাহরাম পুরুষের সাথে কথা বললে শক্ত ভাষায় বলো। পাশ্চাত্যের কোনো এক পণ্ডিত বলেছেন:
'নারী যদি স্বামীর সাথে সারা দিনে একবার এমন নম্র ভাষায় কথা বলে, যেমন নম্র ভাষায় বলে প্রতিবেশী পুরুষের সাথে, তাহলে পরিবার সুখময় থাকে। এমনিভাবে পুরুষ যদি সারা দিনে একবার স্ত্রীর দিকে এমন ভালোবাসার দৃষ্টিতে তাকায়, যেমন দৃষ্টিতে সে প্রতিবেশী নারীর দিকে তাকায়, তাহলেও পরিবার সুখময় থাকে।'
🔰 খুতুবাতে যুলফিকার | পৃষ্ঠাঃ ১-২:৬১ ─━━━━━━━━⊱✿⊰━━━━━━━─ আমাদের Telegram চ্যানেল সমূহ: HA | IL | IA | IM | IIQ | IIS | IIA | SIB | SW | SA | IA | HAI | HAA | NHA | AIF কয়েকটি ইসলামী এন্ড্রয়েড Apps: IJ | MB | MQ | HF | IBD | AHM | IJ | SLT All in One Cloud Links: Notion | GoogleDrive | iDrive | 1Drive

জ্ঞানের শ্রেষ্ঠত্ব সম্পর্কে সাহাবী ও তাবেয়ীদের উক্তি ━━━━━━ • পর্ব-০২ • ━━━━━━ হাসান বসরী (র) বলেছেন, 'জ্ঞানীর লেখার কালি ও শহিদের রক্ত ওজন করলে জ্ঞানীর কালির ওজন শহিদের রক্তের চেয়ে বেশি হবে।' (তারিখে ইস্পাহান: ২:১৭৮; জামিউ বায়ানিল ইলমি ওয়া ফাযলিহি: ১৫৩) আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা) বলেন, 'হে লোকসকল! জ্ঞান তুলে নেওয়ার পূর্বে জ্ঞান অর্জন করো। এর অর্থ জ্ঞানী লোকেরা মৃত্যুবরণ করার পূর্বে জ্ঞান অর্জন করো। আল্লাহর শপথ! যার কব্জায় আমার প্রাণ- আল্লাহর পথে যারা শহিদ হয়েছেন, তাঁরা আলেমদের মর্যাদা দেখে আপসোস করে বলবেন, আল্লাহ তাআলা আমাদের জ্ঞানী অবস্থায় পুনরুত্থিত করলেই ভালো হতো। জ্ঞানী হয়ে কেউ জন্মগ্রহণ করে না, বরং অনুশীলনের মাধ্যমে জ্ঞান অর্জন করতে হয়'। (আয যুহদ: ৮৯৯) আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা) বলেন, রাতের কিছু অংশে ইলমের চর্চা করা আমার মতে সারারাত জাগ্রত থেকে নফল ইবাদত করার চেয়েও উত্তম। (মুসান্নাফে আবদুর রাযযাক; ১১:২৫৩) এ বিষয়টিই হযরত আবু হুরায়রা (রা) ও ইমাম আহমাদ (র) থেকে বর্ণিত আছে। কুরআনে কারীমে ইরশাদ হচ্ছে- رَبَّنَا آتِنَا فِي الدُّنْيَا حَسَنَةً وَفِي الْآخِرَةِ حَسَنَةً. হে আমাদের প্রভু! দুনিয়া এবং আখেরাতে আমাদের কল্যাণ দান করুন। (সূরা বাকারা: ২০১) হাসান বসরী (র) বলেন, এ আয়াতে দুনিয়ার কল্যাণ অর্থ জ্ঞান ও ইবাদত। পরকালের কল্যাণ অর্থ জান্নাত। (জামে তিরমিযী: ৩৪৮৮) জনৈক দার্শনিককে কেউ জিজ্ঞেস করল, কোন জিনিস সঞ্চয় করা জরুরি? তিনি বললেন, এমন জিনিস সঞ্চয় করা চাই, তোমার নৌকা ডুবে গেলে যে তোমার সঙ্গে সাঁতার কাটতে পারে। অর্থাৎ, ইলম। কারণ, দেহরূপী নৌকা মৃত্যুরূপী পানিতে সমাধি লাভ করলে ইলম সঙ্গেই থাকে। (জামিউ বায়ানিল ইলমি ওয়া ফাযলিহি: ২৮০) আরেকজন দার্শনিক বলেন, 'যে ব্যক্তি জ্ঞানকে নিজের লাগাম বানিয়ে নেয়, লোকে তাকে ইমাম মনে করে। যে ব্যক্তি জ্ঞানের খ্যাতি অর্জন করে, মানুষ তাকে সম্মানের চোখে দেখে।' (জামিউ বায়ানিল ইলমি ওয়া ফাযলিহি : ২৮১) ইমাম শাফেয়ী (র) বলেন, জ্ঞানের গৌরব হলো, জ্ঞানকে কোনো ব্যক্তির সঙ্গে সামান্যতম ব্যাপারেও সম্পৃক্ত করা হলে সে খুশি হয়। যেমন: যদি বলা হয়, অমুক ব্যক্তি এ ব্যাপারে জ্ঞান রাখে তাহলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি খুব খুশি হয়। আর যে ব্যক্তি এ বিষয়ের জ্ঞান রাখে না- তাকে একথা বলা হলে সে দুঃখিত হয়। (ইতহাফুস সাদাতিল মুত্তাকিন: ১:৯২) ওমর (রা) বলেন, হে লোকসকল! ইলম অন্বেষণ করো। ইলম আল্লাহ তাআলার নিকট মহব্বতের একটি চাদর। যে ব্যক্তি কোনো বিষয়ের জ্ঞান তালাশ করে, আল্লাহ তাআলা তাকে সে চাদর পরিয়ে দেন। তারপর সে কোনো পাপ করলেও তাকে আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের তাওফীক দেওয়া হয়। পুনরায় গুনাহ করলেও আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের তাওফীক দেওয়া হয়। তৃতীয়বার গুনাহ করার পরও এরূপ করা হয়। এভাবে বারবার তাওফীক দেওয়ার উদ্দেশ্য হলো, তার থেকে মহব্বতের চাদরটি ছিনিয়ে না নেওয়া, যদিও তার পাপ বাড়তে বাড়তে মৃত্যু হয়। (ইতহাফুস সাদাতিল মুত্তাকিন: ১:৯২; জামিউ বায়ানিল ইলমি ওয়া ফাযলিহি: ৩০০) ইমাম আবু হানিফা (র) বলেন, মনে হয় জ্ঞানী লোকেরা যাবতীয় সম্মানের মালিক হয়ে যাবে। যে সম্মান জ্ঞানের দ্বারা পরিপক্ক না হয়, তার পরিণতি হয় অপমান-লাঞ্ছনা। (আল মুজালাসা ওয়া জাওয়াহিবুল ইলমি: ৩২৪) সালেম ইবনে আবুল জাদ বলেন, আমি ছিলাম ক্রীতদাস। আমার মনিব আমাকে তিনশ দিরহামের বিনিময়ে আযাদ করে দিলে আমি কী করে জীবিকা নির্বাহ করব তা নিয়ে ভাবতে লাগলাম। অবশেষে জ্ঞানকে পেশা হিসেবে বেছে নিলাম। এরপর এক বছর অতীত না হতেই শহরের প্রশাসক আমার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে এলেন। কিন্তু আমি তাঁকে ফিরিয়ে দিলাম। যুবাইর ইবনে আবু বকর বলেন, আমি ইরাকে ছিলাম, আমার পিতা আমাকে চিঠি লিখলেন, তুমি ইলম অর্জন করো। এতে যদি তুমি নিঃস্ব হয়ে যাও তাহলে জ্ঞান হবে তোমার ধন। আর যদি ধনী হয়ে যাও তাহলে জ্ঞান হবে তোমার অঙ্গসজ্জা। (আল মাদখাল ইলাস সুনানিল কুবরা: ৩৯৯) কথিত আছে, লোকমান হাকীম তাঁর ছেলেকে উপদেশ দিয়ে বলেন, হে বৎস! জ্ঞানীদের কাছে বসো। কেননা, আল্লাহ তাআলা জ্ঞানের আলোয় অন্তর জীবিত করেন, যেমন মাটিকে বৃষ্টির পানি দিয়ে শস্যশ্যামল করেন। (আল মুয়াত্তা: ২:১০০২) এক দার্শনিক বলেন, জ্ঞানী ব্যক্তি মারা গেলে তার জন্য জলের মাছ এবং আকাশের পাখিরা পর্যন্ত কাঁদে। দৃশ্যত তাঁকে দেখতে না পেলেও তার স্মৃতি হৃদয়ে বিরাজমান থাকে। (ইতহাফুস সাদাতিল মুত্তাকিন: ১:৯৩) ইমাম যুহরী (র) বলেন, ইলম হলো একটি উল্লেখযোগ্য গুণ। মানুষের মাঝে কেবল শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিরাই এ গুণটি পছন্দ করে। (হিলয়াতুল আওলিয়া: ৩:৩৬৫; জামিউ বায়ানিল ইলমি ওয়া ফাযলিহি: ২৯৬) 🔰 ইহয়াউ উলূমিদ্দীন | পৃষ্ঠা-১:২৬ ─━━━━━━━━⊱✿⊰━━━━━━━─ আমাদের Telegram চ্যানেল সমূহ: HA | IL | IA | IM | IIQ | IIS | IIA | SIB | SW | SA | IA | HAI | HAA | NHA | AIF কয়েকটি ইসলামী এন্ড্রয়েড Apps: IJ | MB | MQ | HF | IBD | AHM | IJ | SLT All in One Cloud Links: Notion | GoogleDrive | iDrive | 1Drive

জ্ঞানের শ্রেষ্ঠত্ব সম্পর্কে সাহাবী ও তাবেয়ীদের উক্তি ━━━━━━ • ✿ • ━━━━━━ আলী (রা) কোমাইল নামক এক ব্যক্তিকে বললেন, "হে কোমাইল! জ্ঞান ধনসম্পদ অপেক্ষা উত্তম। জ্ঞান তোমাকে নিরাপত্তা দেয়, হেফাজত করে, আর তুমি ধনসম্পদের নিরাপত্তা দাও। জ্ঞান শাসক আর ধনসম্পদ শাসিত। সম্পদ ব্যয় করলে হ্রাস পায় আর জ্ঞান ব্যয় করলে বৃদ্ধি পায়। (তারীখে বাগদাদ: ৬: ৩৭৬) তিনি আরও বলেন, 'আলেম ব্যক্তি রোযাদার, ইবাদতকারী ও জিহাদকারী অপেক্ষা উত্তম। আলেম ব্যক্তির মৃত্যু হলে ইসলামে এমন শূন্যতা দেখা দেয়, যা তার উত্তরসূরি ছাড়া কেউ পূরণ করতে পারে না।' (কুতুল কুলুব: ১: ১৪৩) আলী (রা) থেকে বর্ণিত একটি কবিতা, তিনি বলেন- আলেমদের গৌরব হলো, সে নিজে যেমন পথপ্রাপ্ত, তেমিন অপরেরও পথপ্রদর্শক। সৌন্দর্যের বস্তু কারও অর্জিত রয়েছে, এটিই মানুষের মর্যাদা। মূর্খরা সদা জ্ঞানীদের সাথে শত্রুতা পোষণ করে। তথাপি তুমি এমন জ্ঞান অর্জন করো, যদ্দ্বারা চিরজীবী হতে পারো। সকল মানুষ মৃত; কিন্তু জ্ঞানী অমর। (দেওয়ানে আলী: ৩০) আবুল আসওয়াদ (র) বলেন, ইলমের চেয়ে মর্যাদাপূর্ণ আর কোনো বিষয় নেই। বাদশাহ জনগণের শাসক হয়ে থাকেন। কিন্তু জ্ঞানীরা হন বাদশাহদের শাসক। (উয়ুনুল আখবার: ২: ১২১) ইবনে আব্বাস (রা) বলেন, হযরত সুলায়মান (আ)-কে ইলম, ধনসম্পদ ও রাজত্বের মধ্য থেকে যে-কোনো একটি বেছে নেওয়ার অধিকার দেওয়া হয়েছিল। তিনি ইলমকে বেছে নিলেন। ফলে তাঁকে ইলমের সঙ্গে ধনসম্পদ এবং রাজত্বও দান করা হয়। (তারিখে দিমাশক: ২২: ২৭৫) আবদুল্লাহ ইবনে মুবারক (র)-কে কেউ প্রশ্ন করল, মানুষ কারা? তিনি বললেন, জ্ঞানীরা। এরপর জিজ্ঞেস করা হলো, বাদশাহ কারা? তিনি বললেন, অনাসক্ত দরবেশগণ। প্রশ্ন করা হলো, নীচ কারা? জবাব দিলেন, যারা নিজেদের দীন বিক্রি করে খায়। (হিলয়াতুল আউলিয়া: ৮: ১৬৭) একমাত্র আলেম বা জ্ঞানী ব্যক্তিকেই শ্রেষ্ঠ মানুষ বলে গণ্য করা হয়। কেননা মানুষ এবং অন্যসব প্রাণির মাঝে যে বৈশিষ্ট্য স্বাতন্ত্র্য এনে দিয়েছে, তা হলো ইলম বা জ্ঞান। আর মানুষ তখনই মানুষ বলে গণ্য হবে যখন তার মধ্যে গৌরব ও শ্রেষ্ঠত্বের কারণ বিদ্যমান থাকবে। মানুষের মর্যাদা শক্তি বলে অর্জিত হয় না। কারণ, উট মানুষের চেয়েও অধিক শক্তিশালী এবং মোটা স্বাস্থ্য হওয়ার কারণে হয় না। কেননা, হাতির দেহ তার চেয়েও বিশালকায়। আবার বীরত্বের কারণেও নয়। কেননা, হিংস্র প্রাণির বীরত্ব মানুষের চেয়ে বহুগুণে বেশি। অতি ভোজনের কারণেও নয়। কারণ ষাড়ের উদর মানুষের চেয়েও বিশালকায়। অধিক সহবাসের কারণেও নয়। কেননা দুর্বল চড়ুইটিও এ কাজে মানুষের চেয়ে বেশি সবল। একমাত্র জ্ঞানের দিক দিয়েই মানুষ শ্রেষ্ঠ, মানুষের সৃষ্টিই জ্ঞানের জন্য। (ইতহাফুস সাদাতিল মুত্তাকিন: ১: ৯৮) এক জ্ঞানী ব্যক্তি বলেন, কেউ আমাকে বলুক, যে ব্যক্তি ইলম পায়নি, সে কী পেয়েছে এবং যে ব্যক্তি ইলম পেয়েছে, তার পাওয়ার আর কী আছে? (মিফতাহু সাআদাতিত দারাইন: ১: ১৭৫) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন- مَنْ أُوتِيَ الْقُرْآنَ فَرَأَى أَنَّ أَحَدًا أُوتِيَ خَيْرًا مِّنْهُ فَقَدْ حَقَّرَ مَا عَظَمَ اللَّهُ تَعَالَى. কোনো ব্যক্তিকে কুরআনের ইলম দান করার পর সে যদি অন্যকে তারচেয়ে উত্তম মনে করে তাহলে সে আল্লাহ তাআলা যে ইলমকে মহান করেছেন তাকে তুচ্ছতাচ্ছিল্য করল। (শুআবুল ঈমান, বায়হাকী ২৩৫২) ফাতাহ আল মুসেলী (র) বলেন, অসুস্থ ব্যক্তিকে প্রতিদিন খাদ্য, পানীয় ও ওষুধপত্র কিছুই না দিলে সে কি মরে যাবে না? উপস্থিত লোকেরা বলল, হাঁ, মরে যাবে। তিনি বললেন, আত্মার অবস্থাও তাই। আত্মাকে তিন দিন ইলম ও জ্ঞান থেকে উপবাস রাখলে সে মরে যাবে। (মিফতাহ্র দারিস সাআদাহ : ১: ১৭৫) যথার্থ তাঁর এ উক্তি। কেননা, ইলম ও প্রজ্ঞা হচ্ছে আত্মার খোরাক; এগুলোর মাধ্যমেই তার জীবন টিকে থাকে; দেহের খোরাক যেমন খাদ্য। যার জ্ঞান নেই, তার অন্তর অসুস্থ, তার মৃত্যু অবশ্যম্ভাবী। কিন্তু অনেকেই তার আত্মার রোগ ও মৃত্যুর খবর রাখে না। দুনিয়ার মহব্বতের কারণে তার চেতনা বিলুপ্ত হয়ে যায়। যেমন ভয় ও নেশার কারণে জখমের ব্যথা অনুভূত হয় না; যদিও তার ব্যথা থাকে। আর মৃত্যু যখন দুনিয়ার সম্পর্ক ছিন্ন করে দেয়, তখন সে আত্মার মৃত্যুর বিষয় জানতে পারে এবং খুবই অনুশোচনা করতে থাকে। তখন তার সেই অনুশোচনায় কোনো লাভ হয় না। ভীত ব্যক্তির ভয় বা মাতালের নেশা দূর হয়ে গেলে ভীত ও মাতাল অবস্থার আঘাতের যন্ত্রণা সে হাড়েহাড়ে টের পায়। সত্য উদঘাটিত হওয়ার সেই দিনের ভয়াবহ অবস্থা থেকে আমরা আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাই। কেননা, মানুষ এখন ঘুমিয়ে আছে। মৃত্যুর পর জাগ্রত হবে। ☞ অসম্পূর্ণ | পরবর্তী পর্ব... 🔰 ইহয়াউ উলূমিদ্দীন | পৃষ্ঠা-১:২৬ ─━━━━━━━━⊱✿⊰━━━━━━━─ আমাদের Telegram চ্যানেল সমূহ: HA | IL | IA | IM | IIQ | IIS | IIA | SIB | SW | SA | IA | HAI | HAA | NHA | AIF কয়েকটি ইসলামী এন্ড্রয়েড Apps: IJ | MB | MQ | HF | IBD | AHM | IJ | SLT All in One Cloud Links: Notion | GoogleDrive | iDrive | 1Drive

মৃত্যু চরম বাস্তবতা...! -মাওলানা জুলফিকার আহমাদ নকশাবন্দি ━━━━━━ • ✿ • ━━━━━━ ✿ ক্ষমতা দিয়ে মৃত্যুকে ঠেকানো সম্ভব হলে ফেরাউনের মৃত্যু হতো না। ✿ মন্ত্রিত্ব দিয়ে মৃত্যুকে ঠেকানো সম্ভব হলে হামানের মৃত্যু হতো না। ✿ গায়ের শক্তি দিয়ে মৃত্যুকে ঠেকানো সম্ভব হলে রোস্তম আর সোহরাবের মৃত্যু হতো না। ✿ ওষুধ দিয়ে মৃত্যুকে ঠেকানো সম্ভব হলে প্লেটো আর জালইউনুসের মৃত্যু হতো না। ✿ জ্ঞান ও প্রজ্ঞা দিয়ে মৃত্যুকে ঠেকানো সম্ভব হলে লোকমান হাকিমের মৃত্যু হতো না। ✿ সতীত্ব দিয়ে মৃত্যুকে ঠেকানো সম্ভব হলে যুবতী স্ত্রী তার যুবক স্বামীকে কিছুতেই মরতে দিতো না। ✿ ভালোবাসা দিয়ে মৃত্যুকে ঠেকানো সম্ভব হলে মায়ের কোলের নিষ্পাপ শিশু কখনোই মরতো না। 🔰 সুখময় দাম্পত্যজীবন | পৃষ্ঠা-১৭০ ─━━━━━━━━⊱✿⊰━━━━━━━─ আমাদের Telegram চ্যানেল সমূহ: HA | IL | IA | IM | IIQ | IIS | IIA | SIB | SW | SA | IA | HAI | HAA | NHA | AIF কয়েকটি ইসলামী এন্ড্রয়েড Apps: IJ | MB | MQ | HF | IBD | AHM | IJ | SLT All in One Cloud Links: Notion | GoogleDrive | iDrive | 1Drive

─━━━━━━━━⊱✿⊰━━━━━━─ আমাদের Telegram চ্যানেল সমূহ: HA | IL | IA | IM | IIQ | IIS | IIA | SIB | SW | SA | IA | HAI All in One Cloud Links: Notion | GoogleDrive | iDrive | 1Drive

একটি চমৎকার প্রশ্ন, প্রিয় নবীজীর (ﷺ) উত্তর এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রে মহিলাদের মর্যাদা ও ফযীলত... ━━━━━━ • ✿ • ━━━━━━ ▣ চমৎকার প্রশ্ন এক মহিলা এসে রাসূল (সল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়াসাল্লাম)-কে প্রশ্ন করলো, হে আল্লাহর রাসূল! পুরুষরা পুণ্য কাজে আমাদের চেয়ে এগিয়ে। রাসূল (সল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়াসাল্লাম) বললেন, তা কীভাবে? মহিলা বললো, পুরুষেরা আপনার সাথে জিহাদে যায়। শত্রু-সীমানা পাহারা দেয়। আর আমরা ঘরে বসে থাকি। ঘরের কাজ করি। পুরুষেরা মসজিদে গিয়ে জামাতে নামাজ আদায় করে। আর আমরা ঘরে আদায় করি। আমরা জামাতের সওয়াব থেকে বঞ্চিত হলাম! রাসূল (সল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়াসাল্লাম) বললেন, চমৎকার প্রশ্ন! ▣ প্রিয়নবির উত্তর রাসূল (সল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়াসাল্লাম) বললেন, যে মহিলা সন্তানের জন্যে রাত জাগলো, আল্লাহ তাকে ওই মুজাহিদের সমান সওয়াব দেবেন, যে রাত জেগে শত্রু-সীমানার পাহারা দেয়। নরম বিছানায় শুয়ে থেকেই জিহাদের সাওয়াব! আর ঘরে বসে যে মহিলা নামাজ আদায় করে, আল্লাহ তাকে ওই পুরুষের সমান সাওয়াব দেবেন, যে মসজিদে প্রথম তাকবিরের সাথে নামাজ আদায় করে। ▣ নারীর প্রতি ইসলামের দয়া নারী জীবনের বেশকিছু ক্ষেত্র রয়েছে, যেগুলোর সওয়াবের কথা জানতে পারলে আপনার বুঝে আসবে, ইসলাম নারীর প্রতি কতোটা দয়া করেছে। যে ঘরে মেয়ে জন্মে, আল্লাহ সে ঘরে রহমতের দরোজা খুলে দেন। দুই মেয়ে হলে বাবার জন্যে দুটি রহমত হয়। এমন বাবা জান্নাতে রাসূল (সল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়াসাল্লাম)-এর এতো কাছে থাকবে, দুটি আঙুল যতো কাছে থাকে। ▣ কুমারী মেয়ের মর্যাদা যে মেয়ে বিয়ের আগেই বাবার ঘরে মারা যায়, কেয়ামতের দিন আল্লাহ তাকে শহিদদের কাতারে দাঁড় করাবেন। দুনিয়ায় থেকে সে জীবনকে ভোগ করতে পারেনি। স্বামীর দেখা পায়নি। নিজের সতীত্বের হেফাজত করেছে। এর বিনিময়ে আল্লাহ তাকে আখেরাতে শহিদের মর্যাদা দেবেন। ▣ বিবাহিত নারীর সওয়াবে বাড়ানো বিবাহিত জীবনে যে নারী স্বামীর সেবা আর আল্লাহর ইবাদত করে, ফকিহরা লিখেছেন, সে এক নামাজের বদলে একুশ নামাজের সওয়াব পাবে। আর কুমারী নারী এক নামাজের বদলে এক সওয়াবই পাবে। যেহেতু বিবাহিত নারীর ওপর দু'টি দায়িত্ব-স্বামীর সেবা আর আল্লাহর ইবাদত। সে যখন স্বামীর সেবা করে আল্লাহর ইবাদত করবে, আল্লাহ তাকে সাওয়াব বাড়িয়ে দেবেন। নামাজ একটি। সাওয়াব একুশটির! ▣ আল্লাহ তায়ালার সুপারিশ আল্লাহতায়ালা নিজে কুরআনে মহিলাদের প্রতি ভালো ব্যবহারের জন্যে পুরুষদের সুপারিশ করেছেন- وَعَاشِرُواهُنَّ بِالْمَعْرُوفِ "তাদের সাথে ভালোভাবে জীবনযাপন করো। " দেখুন! কারো জন্যে বোন সুপারিশ করে, মা করে, ফুফি করে, আত্মীয়-স্বজন করে; কিন্তু মহিলাদের জন্যে আল্লাহ নিজে সুপারিশ করছেন। ▣ গর্ভবতী নারীর প্রতি আল্লাহর মেহেরবানি হাদিসে এসেছে, নারী যখন সন্তান সম্ভাবনা হয়, আল্লাহ তার পেছনের সব গোনাহ মাফ করে দেন। সন্তান ধারণের সময়টি অসুস্থতার জন্যে আল্লাহ দয়া করে তার পেছনের সব গোনাহ মাফ করে দেন। ▣ গর্ভাবস্থার কষ্টের জন্যে সওয়াব মহিলা যখন পেটে সন্তান নিয়ে শুয়ে থাকে, কাজ করে; ক্লান্ত হয়ে 'উহ্ আহ্!' করে; আল্লাহ ফেরেশতাদের বলেন, এ তো 'উহ্ আহ্!' করছে, তোমরা এর বদলে সোবহানাল্লাহ, আলহামদুলিল্লাহ, আল্লাহু আকবার বলার সোয়াব লিখে দাও! ▣ প্রসব ব্যথার সোয়াব প্রসব ব্যথার সময় যে ব্যথা হয়, প্রতিমুহূর্তের ব্যথার জন্যে আল্লাহ মহিলাকে একটি আরবি গোলাম মুক্ত করার সওয়াব দেন। আরেক হাদিসের ভাষ্য, যে একটি গোলাম মুক্ত করলো, সে জাহান্নাম থেকে মুক্ত। দেখুন! ইসলাম পদে পদে নারীর জন্যে কতো পুরস্কার আর শান্তির ব্যবস্থা করেছে। ▣ প্রসবের সময় মরণ হাদিসে এসেছে, সন্তান হওয়ার সময় মহিলা মারা গেলে শহিদের সওয়াব। আল্লাহ তাকে কেয়ামতের দিন শহীদদের কাতারে দাঁড় করাবেন। ▣ সন্তান জন্মে মায়ের জন্যে পুরস্কার সন্তান জন্মের পর আল্লাহর তরফ থেকে একজন ফেরেশতা এসে বলে, হে মা! আল্লাহ তোমাকে আজ গোনাহ থেকে এমনভাবে পবিত্র করে দিয়েছেন, তোমার জন্মের দিন তুমি যেমন পবিত্র ছিলে। এই সন্তান জন্মের কারণে আল্লাহ কতো বড়ো পুরস্কার দিলেন! সারা জীবনের গোনাহ মাফ! ▣ সন্তানকে 'আল্লাহ' শব্দ শেখানোর সওয়াব যে তার সন্তান ভালোভাবে লালন-পালন করলো, আল্লাহ আল্লাহ শেখালো, হাদিসে এসেছে, ওই সন্তানের বাবা-মার পেছনের সব গোনাহ মাফ করে দেয়া হয়। এটা কতো সহজ কাজ। আজ আমাদের মায়েরা সন্তানকে 'মাম্মি' শেখায়। একটু বেশি আধুনিক হলে- Twinkle Twinkle Little Star (টুইঙ্কেল টুইঙ্কেল লিটল স্টার) "ঝিকিমিকি ঝিকিমিকি ছোটো তারা" বলে আদর করে। কী উদ্ভট! আমাদের একথার আজ কোনো গুরুত্ব নেই, সন্তানকে আল্লাহ আল্লাহ শেখালে আর সন্তানের মুখ থেকে প্রথম আল্লাহ আল্লাহ বের হলে বাবা-মার পেছনের সব গোনাহ মাফ করে দেয়া হয়। ❍ অসম্পূর্ণ | পরবর্তী পর্ব...✍️ 🔰 সুখময় দাম্পত্যজীবন | পৃষ্ঠা-৮৯

গুনাহে পতিত হওয়ার কারণসমূহ ━━━━━━ • পর্ব - ১১ • ━━━━━━ হযরত আনাস বিন মালিক বলেন: প্রকৃতপক্ষে পরহেযগার হতে পারবে না কেউ যতক্ষণ না সে তার জিহ্বার ব্যাপারে চিন্তিত না হয়। সাইয়িদুনা হযরত কায়স বিন আওফ বলেন: আমি আবুবকরকে দেখলাম সে তার জিহ্বার একপার্শ্ব ধরে বলছে, এই জিনিসটি আমাদেরকে এই অবস্থানে নিয়ে এসেছে। হযরত দাউদ তাঈ বলেন: জিহ্বাকে সংযত রাখা সবচেয়ে কঠিন ও মর্যাদাপূর্ণ কাজ। সাইয়িদুনা আলি ইবন আবি তালিব বলেন: জিহ্বা হলো শরীরের স্তম্ভ। যখন জিহ্বা দৃঢ় থাকে শরীরের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ ঠিক থাকে। আর যখন জিহবা অশান্ত হয়ে যায় তার অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ ঠিক থাকে না। স্থির থাকে না। ইমাম মালিক বলেন: ঐ ব্যক্তির কথা আমলে গণ্য হয় যে ব্যক্তি কম কথা বলে এবং কথা বলে কেবল যথার্থ ও উপযুক্ত। সাইয়িদুনা হযরত আলি ইবন আবি তালিব রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন: সর্বোত্তম ইবাদত হচ্ছে চুপ থাকা এবং কষ্ট লাঘবের অপেক্ষা (বিপদ কেটে যাওয়ার অপেক্ষা) করা। হযরত উহাইব ইবনুল ওয়ারদ রহিমাহুল্লাহ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: বলা হয় হিকমাহ (প্রজ্ঞা) এর দশটি অংশ। তন্মধ্যে নয়টি অংশ রয়েছে চুপ থাকার মাঝে। আর দশম অংশ হলো মানুষের একাকীত্ব, নিঃস্বঙ্গতা ও বিচ্ছিন্নতা। অতএব কথাবার্তা বলার ক্ষেত্রে সাবধানতা অবলম্বন করা অত্যন্ত জরুরি। আমাদের উচিত এমন কথাবার্তা থেকে জিহ্বাকে সংযত রাখা যেসব কথাবার্তা আমাদেরকে পাপাচার ও অবাধ্যতার দিকে নিয়ে যায়। 🔰 গুনাহ থেকে ফিরে আসুন | পৃষ্ঠা-১২৭ ─━━━━━━━━⊱✿⊰━━━━━━━─ আমাদের Telegram চ্যানেল সমূহ: HA | IL | IA | IM | IIQ | IIS | IIA | SIB | SW | SA | IA | HAI | HAA | NHA | AIF কয়েকটি ইসলামী এন্ড্রয়েড Apps: IJ | MB | MQ | HF | IBD | AHM | IJ | SLT All in One Cloud Links: Notion | GoogleDrive | iDrive | 1Drive

গুনাহে পতিত হওয়ার কারণসমূহ ━━━━━━ • পর্ব - ১০ • ━━━━━━ ০৯। জিহ্বা জিহ্বার দ্বারাও অনেক গুনাহে লিপ্ত হয়। যেমন: গিবত, পরনিন্দা, মিথ্যা, হাসি-তামাসা ও কৌতুক ইত্যাদি। একারণে নবীজি সাল্লাল্লাহুআলাইহি ওয়া সাল্লাম হাদীসের মাঝে বলেন, যেমন আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণিত হাদীস, قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَنْ كَانَ يُؤْمِنُ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ فَلْيَقُلْ خَيْرًا أَوْ ليصمت আল্লাহর রাসুল সাল্লল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন: 'যে ব্যক্তি আল্লাহ তাআলার প্রতি এবং শেষদিবসের প্রতি ঈমান এনেছে সে যেন উত্তম কথা বলে অথবা চুপ থাকে। অর্থাৎ সে যেন এমন কথাবার্তা বলে যা উত্তম এবং কল্যাণজনক। অন্যথায় সে যেন চুপ থাকে। এ জিহ্বার ব্যাপারে আল্লাহর রাসূল মুআজ বিন জাবালকে সকল কিছুর মূল কী জিনিস, তা বলে দিয়েছেন। আল্লাহর রাসূল মুআজ রাদিয়াল্লাহু আনহুকে বললেন- আমি তোমাকে সে সবের (পাপকাজে লিপ্ত হওয়ার) মূল সম্বন্ধে বলে দেব না? (মুআজ রাদি. বলেন) আমি বললাম, অবশ্যই বলে দিন হে আল্লাহর রাসূল। তখন তিনি নিজ জিভটিকে ধরে বললেন' তোমার মধ্যে এটিকে সংযত রাখ। মু'আজ বললেন, হে আল্লাহর রাসূল, আমরা যে কথা বলি, তা কি আমাদেরকে হিসাব দিতে হবে? তিনি বললেন, তোমার মা তোমাকে হারিয়ে ফেলুক হে মুআজ, মানুষকে তাদের নিজেদের জিভ-ঘটিত পাপ ছাড়া অন্য কিছু কি তাদের মুখ থুবড়ে জাহান্নামে নিক্ষেপ করবে? মানুষ মুখ নিসৃত কথার দ্বারা বেশি জাহান্নামে পতিত হবে। যেমন হাদীসে বর্ণিত হয়েছে। হযরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন- দুটি ফাঁকা মানুষকে সবচেয়ে বেশি জাহান্নামে নিয়ে যাবে। সেগুলো হলো: মুখ ও লজ্জাস্থান। মুখ ও লজ্জাস্থান হেফাজত করার মাধ্যমে যেমন জান্নাত পাওয়া যায়, আবার এই ২টি অঙ্গের ক্ষেত্রে শয়তানকে প্রশ্রয় দেওয়ার কারণে অধিকহারে মানুষ জাহান্নামী হবে। নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন' যে ব্যক্তি উভয় চোয়ালের মধ্যভাগ (জিহ্বা) এবং দুই রানের মধ্যভাগ (লজ্জাস্থান) হেফাজতের দায়িত্ব গ্রহন করে আমি তার জন্য জান্নাতের দায়িত্ব গ্রহণ করি। রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কে প্রশ্ন করা হয়েছিল, কোন জিনিস অধিকহারে মানুষকে জাহান্নামের দিকে নিয়ে যাবে? তিনি উত্তরে বলেন, মুখ ও লজ্জাস্থান। একটি বাক্য বা কথাই ব্যক্তিকে জাহান্নামে নিয়ে যেতে পারে। আল্লাহর কাছে এমন কথা থেকে পানাহ চাই। عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رضي الله عنه : أَنه سَمِعَ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ: «إِنَّ العَبْدَ لَيَتَكَلَّمُ بِالْكَلِمَةِ مَا يَتَبَيَّنُ فِيهَا يَزِلُّ بِهَا إِلَى النَّارِ أَبْعَدَ مِمَّا بَيْنَ الْمَشْرِقِ وَالْمَغْرِبِ». متفق عَلَيْه সাইয়িদুনা আবু হুরাইরা রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছেন যে, মানুষ চিন্তা-ভাবনা না করে এমন কথাবার্তা বলে ফেলে, যার দ্বারা তার পদস্খলন ঘটে পূর্ব-পশ্চিমের মধ্যবর্তী দূরত্ব থেকে বেশি দূরত্ব দোযখে গিয়ে পতিত হয়। অপর একটি বর্ণনায় আছে, إِنَّ الْعَبْدَ لَيَتَكَلَّمُ بِالكَلِمَةِ ، يَنْزِلُ بِهَا فِي النَّارِ أَبْعَدَ مَا بَيْنَ الْمَشْرِقِ وَالْمَغْرِبِ মানুষ এমন কথাবার্তা বলে ফেলে যা তাকে জাহান্নামে অবতরণ করায়। যা পূর্ব-পশ্চিমের মধ্যবর্তী দূরত্ব থেকে বেশি দূরত্বে। একটি কথাই বান্দাকে পূর্ব পশ্চিম থেকে দূরত্বে নিয়ে যেতে পারে। জাহান্নামে নিক্ষিপ্ত হতে পারে একটি কথার কারণেই। তাই তো আমাদের সালাফগণ জিহ্বাকে হেফাজত করার প্রতি অনেক বেশি জোর দিতেন। সালাফগণ কতাবার্তাও কম বলতেন। আর যা বলতেন খুব চিন্তা ফিকির করেই বলতেন। অহেতুক ও অসার কোন কথা যেন মুখ থেকে না বের হয় সেদিকে সজাগ দৃষ্টি রাখতেন। সাইয়িদুনা হযরত আবু বকর রাদিয়াল্লাহু আনহু নিজের জিহ্বার একাংশ ধরে বললেন, এই জিনিসটিই আমাকে এই স্থানে অবতরণ করিয়েছে। সাইয়িদুনা আবুদ দারদা রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন: তোমরা চুপ করা শিখ যেভাবে তোমরা কথা বলা শিখেছ। কেননা চুপ থাকা অনেক বড় সহনশীলতা। আর শ্রবণ করার প্রতি মনোযোগী হও, এমন কোন কথা বলোনা যা অনর্থক এবং তোমার কোন কাজে আসে না। আশ্চর্য হওয়া ছাড়া হাসবে না, প্রয়োজন ছাড়া রাস্তা চলবে না। হযরত হাসান বলেন: যে ব্যক্তি তার জিহ্বাকে হেফাজত করে না সে বুদ্ধিমান নয়। আবদুল্লাহ ইবনে আমর রাদিঃ বলেন, যে ব্যক্তি চুপ থাকে সে মুক্তি পায়। ✦✦ অসম্পূর্ণ | পরবর্তী পর্ব... 🔰 গুনাহ থেকে ফিরে আসুন | পৃষ্ঠা-১২৭ ─━━━━━━━━⊱✿⊰━━━━━━━─ আমাদের Telegram চ্যানেল সমূহ: HA | IL | IA | IM | IIQ | IIS | IIA | SIB | SW | SA | IA | HAI | HAA | NHA | AIF কয়েকটি ইসলামী এন্ড্রয়েড Apps: IJ | MB | MQ | HF | IBD | AHM | IJ | SLT All in One Cloud Links: Notion | GoogleDrive | iDrive | 1Drive

হজরত দানিয়েল আলাইহিস সালাম এর নসিহত নবুয়াত প্রাপ্তির পূর্বে, হজরত দানিয়েল আলাইহিস সালাম যখন যুবক ছিলেন তখন তিনি তার জাতিকে নসিহত করছিলেন যে, হে আমার জাতি! তোমরা যেভাবে খেলাধুলার মধ্যে মত্ত হয়ে গেছো; খুব বেশি দেরি হবে না— যেই দিন তোমাদের যুবকেরা বন্দী হয়ে যাবে, বৃদ্ধদেরকে হত্যা করা হবে, নারীদেরকে বন্দী করা হবে, শিশুদেরকে বন্দী করা হবে। লাশ পরে থাকবে রাস্তায় রাস্তায়। তার জাতি তার কথা শুনে নাই। তারা খেলাধুলার মধ্যেই ডুবে ছিল। ইতিহাসে পাওয়া যায়, একজন জালিম বাদশা "বুখতে নসর" তাদের উপর আক্রমণ করলো। তাদের কতককে হত্যা করলো, কতকে বন্দী। রাস্তায় রাস্তায় লাশ পরে ছিল।  দানিয়েল আলাইহিস সালামও বন্দী হয়ে গেলেন। তখন তিনি তার জাতিকে উদ্দেশ্য করে বলেছিলেন, আমি তোমাদেরকে এই দিনটির ব্যাপারেই সতর্ক করেছিলাম। আজকের বিশ্বে প্রত্যেকটি মুসলিম দেশে অস্থিরতা, প্রত্যেকটি মুসলিম দেশের মানচিত্র হুমকির সম্মুখীন। প্রত্যেকটি রাষ্ট্রের আসে পাশে কোনো না কোনো একটি ইসরাইল আছে। আমাদের রাষ্ট্রের পাশেও একটি ইসরাইল আছে তার নাম কি? (ভারত) অমুসলিম দুনিয়া আজকে মুসলমানদেরকে খামচে খাচ্ছে। আমাদের মানচিত্র খামচে খাচ্ছে। আমাদের সম্পদ নিয়ে যাচ্ছে। আমাদের সব কিছু নিয়ে যাচ্ছে। এরপরেও আমরা খেলাধুলার মধ্যে মত্ত আছি।  বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম মুসলিম দেশ, বাংলাদেশ। আমি এই দেশে থেকেও হজরত দানিয়েল আলাইহিস সালাম কে অনুসরণ করে এই কথা বলতে চাই— যুবকেরা! তোমরা যদি এই ভাবে খেলাধুলায় মত্ত থাকো, এই দেশ থাকবে না। আল্লাহর কসম! এই দেশের স্বাধীনতা থাকবে না। কসম আল্লাহর! এই দেশের সর্বভৌমত্ব থাকবে না। রাস্তায় পাওয়া যাবে তোমার বোনের লাশ, তোমার মায়ের লাশ তোমার পায়ের সাথে ধাক্কা খাবে। যেভাবে আমরা খেলাধুলায় মত্ত হয়ে যাচ্ছি, সেই পরিস্থিতি তৈরি হয়ে যাচ্ছে।

হযরত হাকীমুল উম্মাত থানভী রহ. বলেন- দিনের মধ্যে কোনো একটা সময় নির্জনতার জন্য বের করুন। এরপর ঐ সময় এ কথার একটু ধ্যান করবেন যে, আমার শেষ সময় এসে গেছে। ফেরেশতা রূহ কবয করার জন্য এসে গেছেন। মালাকুত মউত বা মৃত্যুর ফেরেশতা আমার রূহ কবয করে ফেলেছেন। আমার আত্মীয়-স্বজনরা আমার গোসল ও কাফন-দাফনের ব্যবস্থা আরম্ভ করে দিয়েছে। অবশেষে আমাকে গোসল দিয়ে কাফন-দাফন পরিধান করিয়ে খাটিয়ায় উঠিয়ে কবরস্থান নিয়ে গেছে। জানাযার নামাযের পরে আমাকে একটি কবরে রেখেছে। অতঃপর ঐ কবরটি বন্ধ করে দিয়েছে। আর উপরে কয়েক মণ মাটি ঢেলে সবাই সেখান থেকে বিদায় হয়ে গেছে। এখন অন্ধকার কবরে আমি একা। ইতোমধ্যে প্রশ্নোত্তরের জন্য ফেরেশতাগণ এসে গেছেন। তাঁরা আমাকে প্রশ্ন করছেন। এরপর আখেরাতের ধ্যান করুন যে, আমাকে দ্বিতীয়বার কবর থেকে উঠানো হলো। এখন হাশরের ময়দান কায়েম হয়েছে। সমস্ত মানুষ হাশরের মাঠে একত্রিত হয়েছে। সেখানে প্রচণ্ড গরম লাগছে। ঘাম পড়ছে। সূর্য একেবারেই নিকটবর্তী। প্রত্যেকটা মানুষ পেরেশান। লোকেরা আম্বিয়ায়ে কেরাম আ.-এর নিকট গিয়ে সুপারিশ করছে, যেন তাঁরা আল্লাহ পাকের নিকট হিসাব-কিতাব শুরু হওয়ার দরখাস্ত করেন। অতঃপর এভাবেই হিসাব ও কিতাব, পুলসিরাত ও জান্নাত-জাহান্নামের ধ্যান করবেন। প্রত্যহ ফযর নামাযের পর কুরআনে কারীম তিলাওয়াত, মুনাজাতে মাকবুল এবং নিজ যিকির-আযকার থেকে অবসর হওয়ার পর একটু ধ্যান করবে যে, এই সময় আসছে। জানা নেই কখন এসে যাবে? আজকেই যে আমার মৃত্যু হবে না সেটার নিশ্চয়তা কী? এসব চিন্তা করার পর দুআ করবে হে আল্লাহ! আমি দুনিয়ার কারবার এর উদ্দেশ্যে বের হচ্ছি। এমন কোনো কাজ যেন আমার দ্বারা না হয় যা আমার আখেরাতের জন্য ধ্বংসের কারণ হয়। প্রতিদিন এভাবে ধ্যান করবেন। যখন একবার মৃত্যুর ধ্যান দিলের মধ্যে বসে যাবে, তখন ইনশাআল্লাহ স্বীয় ইসলাহ বা আত্মশুদ্ধির ফিকির পয়দা হবে। [ইরশাদাতে আকাবির : ৫৭-৫৮]

আব্দুল্লাহ ইবনে মোবারক এর তওবা ━━━━━━ • ✿ • ━━━━━━ যৌবনে আব্দুল্লাহ ইবনে মোবারক (রহঃ) একনারীর প্রেমিক ছিলেন। মহিলার সাথে অবৈধ কাজ করতে তার কাছে সময় চান। মহিলা কোনো রাতের কথা বলে। ইবনে মোবারক সারারাত অপেক্ষা করেন। মহিলা আর আসে না। ফজরের আজান হলে ইবনে মোবারকের মোহ ভেঙ্গে যায়। মনে আঘাত লাগে। হায়! আমি সারারাত মহিলার জন্যে অপেক্ষা করে তাকে পেলাম না! আমি যদি আল্লাহর ইবাদতে এ রাতটি জাগতাম, কতোই না ভালো হতো! তিনি খাঁটি তওবা করে আলেমদের এলাকার দিকে বের হলেন। পথচলার সময় একবুজুর্গও ওই এলাকার কাছ দিয়ে যাচ্ছিলেন। তিনি দেখলেন একটি ছায়া প্রচণ্ড গরমে তাদেরকে ছায়া দিচ্ছে। তিনি ভাবলেন, এই যুবক হয়তো আল্লাহর বড়ো ওলি হবেন। যার কারণে এই ছায়া। এদিকে ইবনে মোবারকও ছায়া দেখে তা-ই ভাবলেন। কিছুদূর যাওয়ার পর দু'জন নিজ পথে চলা শুরু করলো। ছায়া ইবনে মোবারকের ওপর চলে যায়। বুজুর্গ এটা দেখে দৌড়ে এসে ইবনে মোকারককে জিজ্ঞেস করেন, তুমি এমন কি আমল করলে, আল্লাহ তোমাকে এ মর্যাদা দিলেন? ইবনে মোবারক বললেন, "আমি একগোনাহ থেকে তওবা করে ভালো হওয়ার জন্যে আলেমদের কাছে যাচ্ছি। আমার আল্লাহ কতো বড়ো দয়ালু। তিনি দুনিয়াতে আমাকে রোদের তাপ থেকে বাঁচালেন, আমি আশাবাদী, তিনি আমাকে কেয়ামতের দিন জাহান্নামের আগুন থেকেও বাঁচাবেন।" আসলেই যে খাঁটি তওবা করে, আল্লাহ তাকে দুনিয়ার তাপ থেকেও বাঁচান আর জাহান্নামের তাপ থেকেও ইনশাআল্লাহ হেফাজত করবেন। 🔰 সুখময় দাম্পত্যজীবন | পৃষ্ঠা-৬৮ ─━━━━━━━━⊱✿⊰━━━━━━━─ আমাদের Telegram চ্যানেল সমূহ: HA | IL | IA | IM | IIQ | IIS | IIA | SIB | SW | SA | IA | HAI | HAA | NHA | AIF কয়েকটি ইসলামী এন্ড্রয়েড Apps: IJ | MB | MQ | HF | IBD | AHM | IJ | SLT All in One Cloud Links: Notion | GoogleDrive | iDrive | 1Drive

মুহাররম ও আশুরা : কিছু কথা, কিছু প্রশ্নের উত্তর -মাওলানা মুহাম্মাদ আব্দুল মালেক ━━━━━━ • ✿ • ━━━━━━ মুহাররম মাসের হেলাল দেখা গেছে এবং নতুন চান্দ্রবর্ষ শুরু হয়েছে। সকল প্রশংসা ওই আল্লাহর, যিনি আমাদের হায়াত বৃদ্ধি করেছেন এবং নতুন একটি মাস ও বছরের সূচনায় আমাদেরকে পৌঁছে দিয়েছেন। নতুন বছর, নতুন মাস, নতুন সপ্তাহ এবং প্রতিটি নতুন দিন ও রাত আমাদের জীবনের অংশ। আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের স্বতন্ত্র নিআমত। এগুলোর জন্য স্বতন্ত্রভাবে শোকর আদায় করা দরকার। নতুন নতুন সংকল্প ও প্রত্যয়ে এগুলোকে বরণ করা দরকার। কুরআনে কারীমে ইরশাদ হয়েছে- وَ هُوَ الَّذِیْ جَعَلَ الَّیْلَ وَ النَّهَارَ خِلْفَةً لِّمَنْ اَرَادَ اَنْ یَّذَّكَّرَ اَوْ اَرَادَ شُكُوْرًا. এবং তিনিই সেই সত্তা, যিনি রাত ও দিনকে পরস্পরের অনুগামী করে সৃষ্টি করেছেন। (কিন্তু এসব বিষয় উপকারে আসে কেবল) সেই ব্যক্তির জন্য, যে উপদেশ গ্রহণের ইচ্ছা রাখে কিংবা কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করতে চায়। -সূরা ফুরকান (২৫) : ৬২ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন- الطّهُورُ شَطْرُ الْإِيمَانِ، وَالْحَمْدُ لِلهِ تَمْلَأُ الْمِيزَانَ، وَسُبْحَانَ اللهِ وَالْحَمْدُ لِلهِ تَمْلَآَنِ مَا بَيْنَ السّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ، وَالصّلَاةُ نُورٌ، وَالصَدَقَةُ بُرْهَانٌ وَالصّبْرُ ضِيَاءٌ، وَالْقُرْآنُ حُجّةٌ لَكَ أَوْ عَلَيْكَ، كُلّ النَّاسِ يَغْدُو فَبَايِعٌ نَفْسَهُ فَمُعْتِقُهَا أَوْ مُوبِقُهَا. পবিত্রতা ঈমানের অংশ। ‘আলহামদু লিল্লাহ’ মীযানের পাল্লাকে ভরে দেয়। ‘সুবহানাল্লাহ ও আলহামদু লিল্লাহ’ আসমান-যমীনের মধ্যস্থ শূন্যতাকে ভরে দেয়। সালাত হল নূর। সদকা হল দলীল। সবর হচ্ছে আলো। কুরআন তোমার পক্ষে কিংবা বিপক্ষে প্রমাণ। প্রতিটি মানুষ সকাল যাপন করে; অতপর কেউ নিজেকে (আল্লাহর আনুগত্যে) নিয়োজিত করে জীবনকে রক্ষা করে। আর কেউ (নফস ও শয়তানের আনুগত্যে নিয়োজিত করে) নিজেকে ধ্বংস করে। -সহীহ মুসলিম, হাদীস ২২৩, কিতাবুত তাহারাতের প্রথম হাদীস সৌভাগ্যবান তো সেই ব্যক্তি যে প্রতিটি নতুন সময় ও সূচনায় নিজেকে এমন কাজে নিয়োজিত করে, যার মাধ্যমে আখেরাতে মুক্তি পাওয়া যায়। দুর্ভাগা সেই ব্যক্তি, যে নতুন সময় ও সূচনায় এমন কাজকর্মে লিপ্ত হয়, যা তার ধ্বংস টেনে আনে। । ২। মুহাররম চান্দ্রবছরের প্রথম মাস। সম্মানিত চার মাসের তৃতীয় মাস। হাদীস শরীফে এ মাসের অনেক ফযীলতের কথা উল্লেখিত হয়েছে। এ মাসে বেশি বেশি নফল রোযা ও তাওবা ইসতিগফারের প্রতি উৎসাহিত করা হয়েছে। ইরশাদ হয়েছে- أَفْضَلُ الصِّيَامِ، بَعْدَ رَمَضَانَ، شَهْرُ اللهِ الْمُحَرّمُ، وَأَفْضَلُ الصَلَاةِ، بَعْدَ الْفَرِيضَةِ، صَلَاةُ اللَّيْلِ. অর্থাৎ, রমযানের পর সবচে উত্তম রোযা হল আল্লাহর মাসের রোযা, যে মাসকে তোমরা মুহাররম নামে চেন। আর ফরয নামাযের পর সবচে উত্তম নামায হল রাতের নামায। -সহীহ মুসলিম, হাদীস ১১৬৩, কিতাবুস সওম, ফাযলু সওমি মুহাররম এই হাদীসে লক্ষণীয় বিষয় হল, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুহাররম মাসকে বলছেন ‘শাহরুল্লাহ’ বা আল্লাহর মাস। জানা কথা, সকল মাসই আল্লাহর মাস। এর পরও কোনো এক মাসকে আল্লাহর মাস বলার রহস্য কী? রহস্য হল, এই মাসের বিশেষ কিছু বৈশিষ্ট্য আছে। সেজন্যই তাকে আল্লাহর মাস বলা হয়েছে। যেমন দুনিয়ার সব ঘরই আল্লাহর ঘর। কিন্তু সব ঘরকে বাইতুল্লাহ বলা হয় না। মুহাররমের গুরুত্বপূর্ণ একটি ফযীলত হল, এর সঙ্গে তাওবা কবুলের ইতিহাস যুক্ত। মুসনাদে আহমাদ ও জামে তিরমিযীতে বর্ণিত একটি হাদীসে আছে- এক ব্যক্তি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট এসে জিজ্ঞেস করল, يَا رَسُولَ اللهِ، أَيّ شَهْرٍ تَأْمُرُنِي أَنْ أَصُومَ بَعْدَ رَمَضَانَ؟ আল্লাহর রাসূল! রমযানের পর আপনি আমাকে কোন্ মাসে রোযা রাখার নির্দেশ দেন? উত্তরে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন- إِنْ كُنْتَ صَائِمًا بَعْدَ شَهْرِ رَمَضَانَ فَصُم المُحَرّمَ، فَإِنّهُ شَهْرُ اللهِ، فِيهِ يَوْمٌ تَابَ فِيهِ عَلَى قَوْمٍ، وَيَتُوبُ فِيهِ عَلَى قَوْمٍ آخَرِينَ. তুমি যদি রমযানের পর আরও কোনো মাসে রোযা রাখতে চাও তাহলে মুহাররমে রোযা রাখ। কেননা সেটি আল্লাহর মাস। সেই মাসে এমন একটি দিন রয়েছে, যেদিন আল্লাহ তাআলা অনেকের তাওবা কবুল করেছেন। ভবিষ্যতেও সেদিন আরও মানুষের তাওবা কবুল করবেন। -জামে তিরমিযী, হাদীস ৭৫১ (ইমাম তিরমিযী বলেন- هذا حديث حسن غريب ); মুসনাদে আহমাদ, হাদীস ১৩২২, খ. ১ পৃ. ১৫৪ ✿✿ অসম্পূর্ণ | সম্পূর্ণ প্রবন্ধ পড়ুন…          (মাসিক আল-কাউসার) ─━━━━━━━━⊱✿⊰━━━━━━━─ আমাদের Telegram চ্যানেল সমূহ: HA | IL | IA | IM | IIQ | IIS | IIA | SIB | SW | SA | IA | HAI | HAA | NHA | AIF কয়েকটি ইসলামী এন্ড্রয়েড Apps: IJ | MB | MQ | HF | IBD | AHM | IJ | SLT All in One Cloud Links: Notion | GoogleDrive | iDrive | 1Drive

بسم الله الرحمن الرحيم সীরাত প্রতিযোগিতা ২০২৬ (সপ্তম) আয়োজনে: সীরাতে মুহাম্মাদ ﷺ গ্রুপ। ⭕ রেজিস্ট্রেশন: চলছে, ইনশাআল্লাহ। রে
بسم الله الرحمن الرحيم সীরাত প্রতিযোগিতা ২০২৬ (সপ্তম) আয়োজনে: সীরাতে মুহাম্মাদ ﷺ গ্রুপ। ⭕ রেজিস্ট্রেশন: চলছে, ইনশাআল্লাহ। রেজিস্ট্রেশন: সম্পূর্ণ ফ্রি। ⚠️ রেজিস্ট্রেশন ০১ জুলাই পর্যন্ত চলবে। 👉 ঐচ্ছিক ডোনেশন: ২০/৫০/১০০+২০০+৫০০ টাকা। টাকা পাঠানোর সময় রেফারেন্সে অবশ্যই s2026 লিখে দিবেন।
নগদ নাম্বার:     01732725745 বিকাশ নাম্বার:  01855640147
📌📌  বিঃদ্রঃ: আপনাদের ঐচ্ছিক ডোনেশন আমাদের কাজকে সহজ ভাবে সামনে এগিয়ে নিতে সহায়তা করবে ইনশাআল্লাহ। ◼️ রেজিস্ট্রেশন লিংক 👇👇👇 https://forms.gle/3xMDq5v6AgrVoX9i6                ⭕◼️ পুরস্কার ◼️⭕ ◼️ প্রথম পুরষ্কার:   ৫,০০০ টাকা ◼️ দ্বিতীয় পুরস্কার: ৩,০০০ টাকা ◼️ তৃতীয় পুরস্কার: ২,০০০ টাকা ◼️ ৪-৩০ নাম্বার:  ৪০০×২৭= ১০,৮০০ টাকা ◼️⭕ সর্বমোট ৩০ জন প্রতিযোগীকে পুরস্কৃত করা হবে ইনশাআল্লাহ ⭕◼️ 📌📌 নির্ধারিত গ্রন্থ: নূরের পর্বত থেকে সবুজ গম্বুজ। ⚠️পরীক্ষা: ০৩ সেপ্টেম্বর, রাত ৯:৩০ মিনিটে, ইনশাআল্লাহ। 👉 পরীক্ষা অনলাইনে গুগল ফরমের মাধ্যমে হবে ইনশাআল্লাহ। ➡️ মোট ১০০ টি MCQ এর উত্তর ৪০ মিনিটের মধ্যে দিতে হবে। ""جزاكم الله خيرا في الدارين""

মুহাররম ও আশুরা : গুরুত্ব ও ফযীলত -মুহাম্মাদ আশিক বিল্লাহ তানভীর ━━━━━━ • ✿ • ━━━━━━ মাহে যিলহজ্ব গত হয়ে শুরু হতে যাচ্ছে মুহাররম মাস। হতে যাচ্ছে একটি বছরের বিদায় আর একটি বছরের সূচনা। পশ্চিমাকাশে হেসে উঠবে মুহাররমের হেলাল- নতুন বছরের নতুন চাঁদ। জগদ্বাসীকে ডেকে বলবে- বিগত দিনের হিসাব মেলাও। প্রত্যয় গ্রহণ কর নতুন বছরের। পাথেয় সংগ্রহ কর পরকালের। দিন যায় রাত আসে। সপ্তাহ পেরিয়ে মাস আসে। ধীরে ধীরে তা-ও ফুরিয়ে যায়। এভাবে বারটি মাস ঘুরতেই কেটে যায় একটি বছর। শুরু হয়ে যায় আবার নতুন বছরের আয়োজন। এভাবে একদিন নিভে আসে জীবন-বাতি। বুদ্ধিমান তো সে-ই যে জীবনের এ মূল্যবান সময়গুলো যথাযথ কাজে লাগায়। প্রাত্যহিক জীবনে দিন-রাতের এ পরিক্রমা অনেকের কাছেই অনেকটা স্বাভাবিক। তবে জ্ঞানীদের জন্য এ থেকে শিক্ষা গ্রহণের বহু উপলক্ষ রয়েছে। কুরআনে কারীমে আল্লাহ তাআলা বিষয়টি বিভিন্নভাবে বোঝাতে চেয়েছেন। আল্লাহ তাআলা বলেন- إِنَّ فِي خَلْقِ السَّمَاوَاتِ وَالأرْضِ وَاخْتِلافِ اللَّيْلِ وَالنَّهَارِ لآياتٍ لأولِي الأَلْبَابِ . নিশ্চয়ই আকাশম-ল ও পৃথিবীর সৃজনে এবং পালাক্রমে রাত-দিনের আগমনে বহু নিদর্শন আছে ওই সকল বুদ্ধিমানদের জন্য...। -সূরা আলে ইমরান (৩) : ১৯০ আল্লাহ তাআলা আরো বলেন- إِنَّ فِي اخْتِلافِ اللَّيْلِ وَالنَّهَارِ وَمَا خَلَقَ اللهُ فِي السَّمَاوَاتِ والأرض لآياتٍ لِقَوْمٍ يَتَّقُونَ . নিশ্চয়ই দিন-রাতের একের পর এক আগমনে এবং আল্লাহ আকাশম-লী ও পৃথিবীতে যা-কিছু সৃষ্টি করেছেন তাতে সেই সকল লোকের জন্য বহু নিদর্শন উপস্থিত রয়েছে, যাদের অন্তরে আছে অল্লাহর ভয়। -সূরা ইউনুস (১০) : ৬ আল্লাহ তাআলা আরো চমৎকার উপস্থাপনে বলেন- تَبٰرَكَ الَّذِیْ جَعَلَ فِی السَّمَآءِ بُرُوْجًا وَّ جَعَلَ فِیْهَا سِرٰجًا وَّ قَمَرًا مُّنِیْرًا .وَ هُوَ الَّذِیْ جَعَلَ الَّیْلَ وَ النَّهَارَ خِلْفَةً لِّمَنْ اَرَادَ اَنْ یَّذَّكَّرَ اَوْ اَرَادَ شُكُوْرًا. কত মহান সেই সত্তা, যিনি আসমানে ‘বুরূজ’ সৃষ্টি করেছেন এবং তাতে স্থাপন করেছেন উজ্জ্বল প্রদীপ এবং আলো বিস্তারকারী চাঁদ। এবং তিনিই সেই সত্তা, যিনি রাত ও দিনকে পরস্পরের অনুগামী করে সৃষ্টি করেছেন; (কিন্তু এসব বিষয় উপকারে আসে কেবল) সেই ব্যক্তির জন্য, যে উপদেশ গ্রহণের ইচ্ছা রাখে কিংবা কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করতে চায়। -সূরা ফুরকান (২৫) : ৬১, ৬২ তবে বাস্তব কথা হল, কেউ এ থেকে শিক্ষা গ্রহণ করে, কেউ করে না। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন- كُلّ النّاسِ يَغْدُو فَبَايِعٌ نَفْسَهُ فَمُعْتِقُهَا أَوْ مُوبِقُهَا. প্রতিটি মানুষ সকাল যাপন করে; অতঃপর নিজেকে বিক্রি করে। এভাবে কেউ নিজেকে (আল্লাহর আনুগত্যে নিয়োজিত করে জীবনকে ধ্বংস থেকে) রক্ষা করে। আর কেউ (নফস ও শয়তানের আনুগত্যে নিয়োজিত হয়ে) নিজেকে ধ্বংস করে ফেলে। -সহীহ মুসলিম, হাদীস ২২৩ বুদ্ধিমান তো সেই, যে প্রতিটি নতুন সময় ও সূচনায় নিজেকে এমন কাজে নিয়োজিত করে, যার মাধ্যমে তার আখেরাত সুন্দর হয়। আর নির্বোধ ওই ব্যক্তি, যে নতুন সময় ও সূচনায় এমন কাজকর্মে লিপ্ত থাকে, যা তার ধ্বংস টেনে আনে। তাই জীবনের প্রতিটি নতুন মুহূর্তে কল্যাণের দিকে আরো ধাবিত হওয়ার প্রত্যয় গ্রহণ করাই মুমিনের ঈমানের দাবি। আল্লাহ আমাদের সেই তাওফীক নসীব করুন। মুহাররম : আল্লাহ্ তাআলার নির্ধারিত সম্মানিত মাস এবং হিজরী বর্ষের প্রথম মাস হিজরী বর্ষের সর্বপ্রথম মাস- মুহাররামুল হারাম তথা মুহাররম মাস। হাদীসের ভাষায়- শাহরুল্লাহ আলমুহাররাম। আল্লাহ তাআলা বছরের যে ক’টি মাসকে বিশেষ মর্যাদায় মহিমান্বিত করেছেন মুহাররম তার অন্যতম। পবিত্র কুরআন মাজীদে আল্লাহ তাআলা বলেন- اِنَّ عِدَّةَ الشُّهُوْرِ عِنْدَ اللهِ اثْنَا عَشَرَ شَهْرًا فِیْ كِتٰبِ اللهِ یَوْمَ خَلَقَ السَّمٰوٰتِ وَ الْاَرْضَ مِنْهَاۤ اَرْبَعَةٌ حُرُمٌ ؕ ذٰلِكَ الدِّیْنُ الْقَیِّمُ. فَلَا تَظْلِمُوْا فِیْهِنَّ اَنْفُسَكُم ... আল্লাহ যেদিন আসমান যমীন সৃষ্টি করেছেন সেদিন থেকেই মাসসমূহের গণনা আল্লাহ তাআলার নিকট তাঁর বিধান মতে বারটি। তন্মধ্যে চারটি মাস সম্মানিত। এটাই সহজ-সরল দ্বীন (-এর দাবি) অতএব তোমরা এ দিনগুলোতে নিজের উপর জুলুম করো না।... -সূরা তাওবা (৯) : ৩৬ ✿✿ অসম্পূর্ণ | সম্পূর্ণ প্রবন্ধ পড়ুন…          (মাসিক আল-কাউসার) ─━━━━━━━━⊱✿⊰━━━━━━━─ আমাদের Telegram চ্যানেল সমূহ: HA | IL | IA | IM | IIQ | IIS | IIA | SIB | SW | SA | IA | HAI | HAA | NHA | AIF কয়েকটি ইসলামী এন্ড্রয়েড Apps: IJ | MB | MQ | HF | IBD | AHM | IJ | SLT All in One Cloud Links: Notion | GoogleDrive | iDrive | 1Drive

থানবী রহ.-এর ইসলাহ পদ্ধতি হাকীমুল উম্মত আশরাফ আলী থানবী রহ. এর মুরীদগণ নিজেদের মনের অবস্থা জানিয়ে লিখিত আকারে তা হযরতের নিকট পেশ করতেন। জবাবে থানভী রহ. এর প্রতিকার ও কুদৃষ্টির গুনাহ থেকে বেঁচে থাকার পদ্ধতি বলে দিতেন। (১) এক মুরীদ তার অবস্থা সম্পর্কে লেখেন, হযরত, আমি অধম দীর্ঘদিন যাবৎ কুদৃষ্টি রোগে আক্রান্ত। বেগানা নারীদের প্রতি আমার প্রবল ঝোঁক আছে, অথচ আমার দুজন স্ত্রী আছে। এ অবস্থায়ও আমার পরনারীর দিকে তাকাতে ইচ্ছা হয়। জবাবে থানবী রহ. লেখেন, নিঃসন্দেহে এটা একটা মারাত্মক ব্যাধি। এর প্রতিকার হচ্ছে, মনের বিরুদ্ধাচরণ করা। যখন পরনারীর দিকে চোখ যাবে, সাথে সাথে নিজেকে তিরস্কার করবে। যখন পরনারীর দিকে দৃষ্টি যাবে, তখন নিজেকে নিজে জরিমানা করবে। প্রতিবার দৃষ্টি দেওয়ার জরিমানা হিসেবে বিশ রাকাত নামায পড়বে। আল্লাহ চাহে তো এর দ্বারা নিজের সংশোধন হয়ে যাবে। (২) জনৈক মুরীদ নিজের অবস্থা জানিয়ে লেখেন, যখন কারও প্রতি দৃষ্টি পড়ে যায়, তৎক্ষণাৎ তা ফিরিয়ে নিই এবং দ্রুত ঐ স্থান ত্যাগ করি। তারপরও মনে কুমন্ত্রণা থেকে যায়। কখনও এমনও হয়, দৃষ্টি কয়েক সেকেন্ড স্থায়ী হয়ে যায়, অতঃপর খেয়াল হওয়ার পর সাথে সাথে দৃষ্টি অন্য দিকে ফিরিয়ে নিই এবং তাওবা করি। কিন্তু কী করব, যখন এ জাতীয় অবস্থা হয়ে যায়, তখন মন পরিষ্কার হয় না। এ ব্যাপারটা আমাকে বড়ই পেরেশান করে রাখে। থানবী রহ. জবাবে লেখেন, আপনার জন্য পরামর্শ হলো, নফসকে পূর্ণ সাহসিকতার সঙ্গে নিয়ন্ত্রণে এনে দৃষ্টিকে হেফাজত করা। অন্তরকে শাসন করা, তিরস্কার করা। এর দ্বারা অন্তরে নূর সৃষ্টি হবে এবং অন্তর নির্মল হয়ে যাবে। এরপর সতর্কতা অবলম্বন করলে তা বেশ কার্যকর হবে। বারবার অন্তরকে সতর্ক করলে তা স্থায়ী হয়ে যাবে, ইনশাআল্লাহ। আর এ অবস্থা সৃষ্টি করে দেয়া আল্লাহ তা'আলার জন্য কোনো কঠিন কাজ নয়। আল্লাহ আমাদের ভালো কাজগুলো সহজ করে দিন, আমীন। (৩) আরেকজন লেখেন, আমার মধ্যে দুটি বড় দোষ রয়েছে। একটি হলো রিয়া বা লোকদেখানো। অপরটি হলো কুদৃষ্টি। এগুলো থেকে বেঁচে থাকার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করার পরও অনেক সময় হঠাৎ কোনো নারীর দিকে দৃষ্টি পড়ে যায়। যদি দোষ গোপন করি, তা হলে সংশোধন কীভাবে হবো। তাই হযরতের কাছে এ থেকে বেঁচে থাকার পরামর্শ চাইছি। 🔰 নষ্ট চোখ নষ্ট মন | পৃষ্ঠা-৪৫ ─━━━━━━━━⊱✿⊰━━━━━━━─ আমাদের Telegram চ্যানেল সমূহ: HA | IL | IA | IM | IIQ | IIS | IIA | SIB | SW | SA | IA | HAI | HAA | NHA | AIF কয়েকটি ইসলামী এন্ড্রয়েড Apps: IJ | MB | MQ | HF | IBD | AHM | IJ | SLT All in One Cloud Links: Notion | GoogleDrive | iDrive | 1Drive

এখন চলছে মুসলিম উম্মাহকে মুনাফিক বানানোর আয়োজন। ফুটবল বিশ্বকাপ। মুনাফিকদের একটা চরিত্র আল্লাহ তায়ালা কুরআন মাজিদ এর মধ্যে তুলে ধরেছেন। তারা যখন জাহান্নামে যাবে তখন তাদের জিজ্ঞাসা করা হবে যে, কোন চরিত্রের কারণে তোমরা জাহান্নামী? তখন তারা বলবে, إِنَّمَا كُنَّا نَخُوضُ وَنَلْعَبُ  আমাদের একটা চরিত্র ছিল, আমরা সবসময় খেলার মধ্যে ডুবে থাকতাম।  খেল-তামাশার মধ্যে ডুবে থাকা, এটা কোনো মুমিনের চরিত্র হতে পারে না, এটা মুনাফিকের চরিত্র। যে বাসায় বা দোকানে খেলার প্রতি মহব্বত দেখিয়ে অমুসলিমদ দেশের পতাকা ঝুলবে, তার চরিত্রে মুনাফিকী আছে। বুঝে নিবেন এটা মুসলিম উম্মাহের মধ্যে বসবাসকারী একটা মুনাফিকের বাসা বা মুনাফিকের দোকান। এখানে আল্লাহর রহমত কখনও প্রবেশ করতে পারে না।

মহররম ও আশুরার ফজিলত -শাইখ উমায়ের কোব্বাদী ━━━━━━ • ✿ • ━━━━━━ ০১। মুহাররম ‘হারাম’ বা সম্মানিত মাস হিসাবে পরিগণিত আবূ বাকরাহ রাযি. হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন- السَّنَةُ اثْنَا عَشَرَ شَهْرًا مِنْهَا أَرْبَعَةٌ حُرُمٌ ثَلاثٌ مُتَوَالِيَاتٌ ذُو الْقَعْدَةِ وَذُو الْحِجَّةِ وَالْمُحَرَّمُ وَرَجَبُ مُضَرَ الَّذِي بَيْنَ جُمَادَى وَشَعْبَانَ বারো মাসে বছর। তার মধ্যে চারটি মাস সম্মানিত। তিনটি ধারাবাহিক : যিলকদ, যিলহজ্ব, মহররম আর চতুর্থটি হল রজব, যা জুমাদাল উখরা  ও শাবান মাসের মধ্যবর্তী মাস। (সহীহ বুখারী ২/৬৭২) ০২। রামাযানের পরেই মুহাররমের রোজার অবস্থান আবূ হুরায়রাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন- أَفْضَلُ الصِّيَامِ بَعْدَ رَمَضَانَ شَهْرُ اللهِ الْمُحَرَّمُ وَأَفْضَلُ الصَّلاَةِ بَعْدَ الْفَرِيْضَةِ صَلاَةُ اللَّيْلِ রামাযানের পরে সর্বোত্তম রোজা হল মুহাররম মাসের রোজা (অর্থাৎ আশূরার রোজা) এবং ফরয নামাজ পরে সর্বোত্তম নামাজ হল রাতের নফল নামাজ।(মুসলিম হা/১১৬৩) ০৩। আশুরা (মুহাররমের দশম দিন ) একটি মহান দিন ইবনে আব্বাস (রাযি.) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন-  أن رسول الله ﷺ قدم المدينة فوجد اليهود صياما يوم عاشوراء، فقال لهم رسول الله ﷺ: ما هذا اليوم الذي تصومونه؟ قالوا هذا يوم عظيم أنجى الله فيه موسى وقومه، وغرق فرعون وقومه فصامه موسى شكرا فنحن نصومه. فقال رسول الله ﷺ : فنحن أحق وأولى بموسى منكم. فصامه رسول الله ﷺ وأمر بصيامه রাসূলুল্লাহ ﷺ মদীনায় এসে দেখলেন যে, ইহুদীরা আশুরার দিনে রোজা পালন করছে। তিনি তাদের জিজ্ঞেস করলেন, এটা কোন্ দিন যে তোমরা রোজা পালন করছ? তারা বলল, এটা এমন এক  মহান দিবস যেদিন আল্লাহ মুছা আ. ও তার সম্প্রদায়কে নাজাত দিয়েছিলেন মুছা আ. শুকরিয়া হিসেবে এ দিনে রোজা পালন করেছেন। এ কারণে আমরাও রোজা পালন করে থাকি। এ কথা শুনে রাসূলুল্লাহ ﷺ  বললেন, “তোমাদের চেয়ে আমরা মুছা আ. এর অধিকতর ঘনিষ্ট ও নিকটবর্তী।” অতঃপর রাসূলুল্লাহ ﷺ রোজা পালন করলেন ও অন্যদেরকে রোজা পালনের নির্দেশ দিলেন। ( মুসলিম হা/ ১১৩০) ০৪। আশুরা একটি ভাল দিন মুসলিমের বর্ণনা هذا يوم عظيم এটি একটি  মহান দিন; পক্ষান্তরে সহীহ বুখারীর বর্ণনায় আছে, هَذَا يَوْمٌ صَالِحٌ এটি একটি ভাল দিন। (সহীহ বুখারী ১৮৬৫) ০৫। এই দিন আল্লাহ মুছা আ. ও তাঁর সম্প্রদায়কে নাজাত দিয়েছিলেন এই দিন আল্লাহ মুছা আ. ও তাঁর সম্প্রদায়কে নাজাত দিয়েছিলেন এবং ফেরআউনকে তার দলবলসহ ডুবিয়ে মেরেছিলেন। (প্রাগুক্ত) ০৬। এই দিন নূহ আ.-এর কিশতি জুদি পর্বতে স্থির হয়েছিল ইমাম আহমাদ সামান্য বর্ধিতাকারে উক্ত হাদীস বর্ণনা করেছেন। যেখানে আছে- وهو اليوم الذي استوت فيه السفينة على الجودي فصامه نوح شكر এটি সেই দিন যাতে নূহ আ.-এর কিশতি জুদি পর্বতে স্থির হয়েছিল, তাই নূহ আ. আল্লাহর শুকরিয়া আদায়ার্থে সেদিন রোজা রেখেছিলেন। (ফাতহুল বারী ৫/৪৩৯) ০৭। এই দিনে মুছা আ. ও নূহ আ. রোজা রেখেছিলেন فصامه موسى شكرا মুছা আ. শুকরিয় হিসেবে এ দিনে রোজা পালন করেছেন। فصامه نوح شكراً  নূহ আ. আল্লাহর শুকরিয়া আদায়ার্থে এদিন রোজা  রেখেছিলেন।(প্রাগুক্ত) ০৮। এই দিনের অপেক্ষা করতেন নবীজী ﷺ আব্দুল্লাহ বিন আব্বাস (রাযি.) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন- আমি নবী করিম ﷺ-কে রোজা রাখার জন্য এত অধিক আগ্রহী হতে দেখিনি যত দেখেছি এই দিন অর্থাৎ আশুরার দিন এবং এই মাস অর্থাৎ রমজান মাসের রোজার প্রতি। (সহীহ বুখারী ১৮৬৭) ০৯। এই দিনের রোজায় এক বছরের গোনাহ থেকে মুক্তিলাভ হয় আবু কাতাদাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন- আশুরার দিনের রোজার ব্যাপারে আমি আল্লাহর কাছে আশা করি, তিনি পূর্ববর্তী এক বছরের গোনাহ ক্ষমা করে দেবেন।(মুসলিম, ১৯৭৬) ১০। আশুরার সাথে তাসুআর রোজাও মুস্তাহাব  আব্দুল্লাহ বিন আব্বাস (রাঃ) বর্ণনা করেন- حِينَ صَامَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ يَوْمَ عَاشُورَاءَ وَأَمَرَ بِصِيَامِهِ قَالُوا يَا رَسُولَ اللَّهِ، إِنَّهُ يَوْمٌ تُعَظِّمُهُ الْيَهُودُ وَالنَّصَارَى، فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ “فَإِذَا كَانَ الْعَامُ الْمُقْبِلُ إِنْ شَاءَ اللَّهُ صُمْنَا الْيَوْمَ التَّاسِعَ”. قَالَ فَلَمْ يَأْتِ الْعَامُ الْمُقْبِلُ حَتَّى تُوُفِّيَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ যখন রাসূলুল্লাহ ﷺ আশুরার রোজা রাখলেন এবং (অন্যদেরকে) রোজা রাখার নির্দেশ দিলেন। লোকেরা বলল, হে আল্লাহর রাসূল! এটিতো এমন দিন, যাকে ইহুদি ও খ্রিষ্টানরা বড় জ্ঞান করে, সম্মান জানায়। তখন রাসূলুল্লাহ ﷺ বললেন, আগামী বছর এদিন আসলে, আমরা নবম দিনও রোজা রাখব ইনশাল্লাহ। বর্ণনাকারী বলছেন, আগামী বছর আসার পূর্বেই রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর ওফাত হয়ে গিয়েছে। (মুসলিম, ১৯৪৬) উৎসঃ মুসলিম বাংলা ─━━━━━━━━⊱✿⊰━━━━━━━─ আমাদের Telegram চ্যানেল সমূহ: HA | IL | IA | IM | IIQ | IIS | IIA | SIB | SW | SA | IA | HAI | HAA | NHA | AIF কয়েকটি ইসলামী এন্ড্রয়েড Apps: IJ | MB | MQ | HF | IBD | AHM | IJ | SLT

মাহে মুহাররাম: করণীয় ও বর্জনীয় | পর্ব-০১ -হযরত মুফতি জসিমুদ্দীন (দা.বা.) ━━━━━━ • ✿ • ━━━━━━ মাহে মুহাররাম আল্লাহ তায়ালার নির্ধারিত মাস:আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কালামে পাকে এরশাদ করেন , অর্থ-“নিশ্চয় মাসসমূহের গণনা আল্লাহ তায়ালার কাছে বার মাস আল্লাহর কিতাবে, (সেদিন থেকে) যেদিন তিনি আসমান ও যমীন সৃষ্টি করেছেন। এর মধ্যে থেকে চারটি মাস সম্মানিত , এটাই প্রতিষ্ঠত দীন। সুতরাং তোমরা এ মাসসমূহে নিজেদের উপর কোন জুলুম করো না।” (সূরা-তাওবা, আয়াত-৩৬)। উল্লিখিত আয়াত দ্বারা সুস্পষ্টভাবে বুঝা যায় যে , আরবী মাসের গঠন পদ্ধতি এবং তার নাম করণ এটা কোন মানুষের আবিষ্কৃত নয়, বরং তা সমগ্র জাহানের সৃষ্টিকর্তা মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিন আসমান-জমীন সৃষ্টির সময়ই তা নির্ধারণ করেছিলেন। আর তাই তো, শরিয়তের গুরুত্বপূর্ণ সব আহকাম- রোযা, হজ্ব, যাকাত ইত্যাদিকে এই চন্দ্র মাস অর্থাৎ আরবী মাসের উপর করেছেন নির্ভরশীল। মাহে মুহাররাম বরকতময় এবং সম্মানিত মাস: এই মাস সম্মানিত এবং ফযিলতপূর্ণ মাস যেমনটি তার অভিধানিক অর্থ দ্বারাই বুঝা যায়। কেননা তার অর্থ হল সম্মানিত এবং তাৎপর্যপূর্ণ। এজন্যই তো ইসলামের পূর্বে অর্থাৎ আইয়ামে জাহেলিয়াতে এবং সপ্তম হিজরী পর্যন্ত এই মাসে যুদ্ধ-বিগ্রহ ছিল নিষিদ্ধ। যেমনটি উপরোক্ত আয়াতের মধ্যে আল্লাহ তায়ালা সুস্পষ্টভাবে ঘোষণা করে দিয়েছেন। হযরত মুফতি শফি রা.“منہااربعۃحرم” -এর তাফসীরে উল্যেখ করেন যে, অর্থাৎ ঐ বার মাসের মধ্যে চারটি মাস সম্মানিত আর তার সম্মান দুটি কারনে, এক- উক্ত মাসে যুদ্ধ-বিগ্রহ নিষিদ্ধ, দুই- উক্ত মাস বরকতময় ও তাৎপর্যপূর্ণ মাস। এই মাসে ইবাদতের ছাওয়াব বেশি পাওয়া যায়। তন্মধ্যে প্রথম হুকুম তো রহিত হয়ে গেছে কিন্তু দ্বিতীয় হুকুম অর্থাৎ তার তাৎপর্য এবং এ মাসে ইবাদতের গুরুত্ত এখনও বহাল রয়েছে। এই চার মাসের মধ্যে মুহাররাম হল অন্যতম । আরবী হিজরী সনের প্রথম মাস হল মুহাররাম। এ মাসের তাৎপর্য ও গুরুত্ত শুধুমাত্র শরিয়াতে মুহাম্মাদি সাঃ -এর মধ্যে সীমাবদ্ধ নয় বরং পূর্বেকার সমস্ত আম্বিয়া আঃ এর শরিয়তেও এ মাসের গুরুত্ত ও তাৎপর্য ছিল বিদ্ধমান। তার মধ্যে ইবাদতের ছাওয়াবও বেশি হত এবং গুনাহের শাস্তিও হত বেশি এবং এ মাসের মধ্যে যুদ্ধ-বিগ্রহও ছিল নিষিদ্ধ। এ মাসে রোযা রাখার প্রতি বিশেষভাবে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। হাদিস শরিফে বর্ণিত আছে হযরত আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরশাদ করেন ‘রমযানের পর আল্লাহর মাস মুহাররমের রোযা হল সর্বশ্রেষ্ঠ।’ (সহীহ মুসলিম ২/৩৬৮)। অন্য এক হাদিছে হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রা. বলেন ,‘ আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে রমযান ও আশুরায় যেরুপ গুরুত্বের সঙ্গে রোযা রাখতে দেখেছি অন্য সময় তা দেখিনি।’ (সহীহ বুখারী ১/২১৮)। সৃষ্টির ইতিহাসে এক ঐতিহাসিক মাসের নাম হল মুহাররাম । যে মাসে মহান আল্লাহ তায়ালা তার কুদরত প্রকাশ করেছেন এবং অনেক ঐতিহাসিক ঘটনা এই মাসে সংঘঠিত করেছেন। ইসলামী ইতিহাসের পাতায় স্বর্ণাক্ষরে লিপিবদ্ধ মাস হল মুহাররাম। (অসমাপ্ত) ✪ পরবর্তী পর্ব পড়ুন… ▣ Full Article FB Link | Notion ─━━━━━━━━⊱✿⊰━━━━━━━─ আমাদের Telegram চ্যানেল সমূহ: HA | IL | IA | IM | IIQ | IIS | IIA | SIB | SW | SA | IA | HAI | HAA | NHA | AIF কয়েকটি ইসলামী এন্ড্রয়েড Apps: IJ | MB | MQ | HF | IBD | AHM | IJ | SLT All in One Cloud Links: Notion | GoogleDrive | iDrive | 1Drive