uz
Feedback
যুবায়ের হোসাইন

যুবায়ের হোসাইন

Kanalga Telegram’da o‘tish
1 655
Obunachilar
+624 soatlar
+147 kun
+9830 kun

Ma'lumot yuklanmoqda...

O'xshash kanallar
Ma'lumot yo'q
Muammo bormi? Iltimos, sahifani yangilang yoki bizning qo'llab-quvvatlash boshqaruvchimizga murojaat qiling>.
Taglar buluti
Ma'lumot yo'q
Muammo bormi? Iltimos, sahifani yangilang yoki bizning qo'llab-quvvatlash boshqaruvchimizga murojaat qiling>.
Kirish va chiqish esdaliklari
---
---
---
---
---
---
Obunachilarni jalb qilish
Sentabr '26
Sentabr '26
+14
1 kanalda
Avgust '26
+161
0 kanalda
Get PRO
Iyul '26
+56
0 kanalda
Get PRO
Iyun '26
+13
0 kanalda
Get PRO
May '26
+7
0 kanalda
Get PRO
Aprel '26
+8
0 kanalda
Get PRO
Mart '26
+10
0 kanalda
Get PRO
Fevral '26
+6
0 kanalda
Get PRO
Yanvar '26
+7
0 kanalda
Get PRO
Dekabr '25
+40
1 kanalda
Get PRO
Noyabr '25
+20
0 kanalda
Get PRO
Oktabr '25
+91
1 kanalda
Get PRO
Sentabr '25
+169
1 kanalda
Get PRO
Avgust '25
+445
0 kanalda
Get PRO
Iyul '25
+919
3 kanalda
Sana
Obunachilarni jalb qilish
Esdaliklar
Kanallar
05 Sentabr+2
04 Sentabr+6
03 Sentabr0
02 Sentabr+6
01 Sentabr0
Kanal postlari
একটি বাস্তবতাকে ভুলে যাওয়া যায় না, আমরাও ভুলিনি فصل العلم عن الكسب : -২৩ নিকট অতীত থেকে চলমান সময় পর্যন্ত যারা ইলমের বাইরে হালাল উপার্জনের পথে পা রেখেছে, তাদের অধিকাংশ ইলমের পথকে হারিয়ে ফেলেছে। তাদের অধিকাংশ ইলমের পথে আর ফিরে আসেনি। উপার্জনের ময়দানকে ইলমের অধীনে আনতে গিয়ে তারা নিজেদেরকে এবং নিজেদের ইলমকে উপার্জনের অধীন করে ফেলেছে। ফলে উপার্জন ইলমের দ্বারা উপকৃত হয়নি এবং ইলমও উপার্জন দ্বারা উপকৃত হয়নি। বরং হালাল হারামের ব্যবধানকে পদদলিত করে, শুধু উপার্জনকেই জীবনের লক্ষ্য হিসাবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। আমাদের আকাবির ওলামায়ে কেরামের সামনে এ অভিজ্ঞতাগুলো থাকার কারণে আহলে ইলমকে তাঁরা ইলমকে মাধ্যম না বানিয়ে উপার্জনের পথে পা বাড়াতে দেননি। এখনো দিচ্ছেন না। এখন ভাবনার বিষয় হচ্ছে, তাহলে সমস্যার সমাধান কী? এ হালাত থেকে উত্তরণের কোন বিকল্প নেই। অতএব পথ খুঁজে বের করতেই হবে। আমার অংক অনুযায়ী এখানে মৌলিক কয়েকটি বিষয় আমাদের পরিবর্তনের পেছনে বাধা হয়ে আছে। এক. ইলম শিক্ষার সূচনা থেকেই আমরা ইলমের লক্ষ্য উদ্দেশ্য স্থির করতে পারিনি এবং লক্ষ্য উদ্দেশ্য সম্পর্কে প্রাথমিক কিছু আলোচনা হলেও শিক্ষা জীবনের শেষ পর্যন্ত তা জিইয়ে রাখতে পারিনি। এরই বিপরীতে ইলমের মাধ্যমে উপার্জনের শত হাজার উদাহরণ, মান সম্মানের শত হাজার উদাহরণ আমরা প্রত্যক্ষ করেছি। যার ফলে ইলম শেখার উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য এ গণ্ডি অতিক্রম করতে পারেনি। এর বাইরে কোন উদ্দেশ্য মনে স্থান দেয়া সম্ভব হয়নি। দুই. ইলমের অধিকাংশ অধ্যায়ের ক্ষেত্রে আমরা এ সবক পেয়েছি যে, এ অধ্যায়গুলো এখন আর কার্যকরি নয়। পৃথিবীতে যখন ইসলামী খেলাফত ছিল, তখন এসবের কার্যকারিতা ছিল, আবার যখন খেলাফত প্রতিষ্ঠিত হবে, তখন এর কার্যকারিতা ফিরে আসবে। এখন এগুলো শুধুই পড়তে হবে এবং এক যুগ পর আবার এগুলো পড়াতে হবে। এর বাইরে এগুলোর প্রায়োগিক কোন অস্তিত্ব নেই। এ সবকও প্রায় শতাধিক বছরের। তিন. ইলম একটি ফরয দায়িত্ব। শেখাও ফরয, শেখানোও ফরয। এ বিষয়টি দালিলিকভাবে প্রতিষ্ঠিত করা হয়নি। এ ফরযের গণ্ডিও নির্ণয় করে দেয়া হয়নি। ইলম উপার্জনের জন্য নয়, এ বিষয়টি মনের মাঝে যথাযথভাবে গেঁথে দেয়া হয়নি। ইলমের মাঝে লোভ, কৃপণতা, দুনিয়ামুখিতা ইত্যাদির নিন্দা এসেছে। কিন্তু এগুলো যথাযাথ অনুশীলনের সাথে পড়ানো হয়নি। উদাহরণগুলো দেখিয়ে দেয়া হয়নি। চার. দীর্ঘকাল যাবতই ইলম ও উপার্জন একসাথে চলছে। যার ফলে এ দু’টিকে আলাদা করার কথা আমরা আমাদের মনে জায়গা দিতে পারছি না। যার ফলে ইলমকে যথাযথভাবে ধরলে আমাদের দুনিয়া ছুটে যায়। আবার দুনিয়া ধরতে গেলে আমাদের ইলম ছুটে যায়। একটি দীর্ঘ মেয়াদী অভ্যাস খুব দ্রুত বদলে ফেলা সহজ নয়। এ বাস্তবতাকে স্বীকার করেই বলব, অভ্যাস আখের অভ্যাসই। আমরা এ অভ্যাসও নিজেরাই গড়ে তুলেছি। অতএব অভ্যাস আমরাই ভাংতে হবে। সময় নিতে হবে অবশ্যই, তবে শুরু করতে হবে এখনই। ইলম ও উপার্জান একসাথ হওয়া ইসলামের ফিতরাত বা স্বভাব নয়। এর ভিন্নতাই ইসলামের ফিতরাত। আমরা সে ফিতরাতকে ভেঙ্গে নিজেদের মত করে অভ্যাস গড়ে তুলেছি। এখন সে ফিতরাতে ফিরে যেতে হলে এ অভ্যাসকে ভেঙ্গে চুরমার করে ফেলতে হবে। ফিতরাত পরিপন্থি ও স্বভাববিরোধী অভ্যাস কখনো মুক্তির মূলমন্ত্র হতে পারে না। আমরা এটাও স্বীকার করছি যে, দীর্ঘ দিনের এ অভ্যাস থেকে ফিরে আসতে আমাদের অনেক কিছু ক্ষয় করতে হবে। কিন্তু মনে রাখতে হবে এ ক্ষতি, এ চুরমান ও এ প্রলয়- “ধ্বংসের তাণ্ডব লিলা নয়, সৃষ্টির প্রসব বেদনা মাত্র।” সৃষ্টির প্রসব বেদনা সহ্য না করে সৃজনশীল হওয়া যায় না। তাই এ ঝুঁকি আমাদেরকে নিতেই হবে। আমরা আয্‌ম তথা দৃঢ় প্রতিজ্ঞা করে পদক্ষেপ নিলে আল্লাহ আমাদেরকে সাহায্য করবেন। আমাদের রাব্বে কারীমের কাছে এটাই আমাদের আশা।

2
আলইয়াদুল উলয়ার পরিচয় প্রতিষ্ঠিত করতে হবে فصل العلم عن الكسب : -২২ ‘আলইয়াদুল উলয়া’ তথা উপরের হাত গুণটি এমন ব্যক্তিরা ধারণ করার কোন অধিকার রাখে না যারা দ্বীনের প্রতি ভালোবাসা রাখে না। যারা ইলমে দ্বীনের প্রতি আস্থা রাখে না। যারা ইলমে দ্বীনের ধারক বাহকদের প্রতি শ্রদ্ধা রাখে না। যারা ইসলামের প্রতিটি বিধানের কাছে অত্মসমর্পণ করতে প্রস্তুত নয়। ‘আলইয়াদুল উলয়া’ তথা উপরের হাত গুণটি এমন ব্যক্তিদের জন্য মানায় না, যারা নিজেদের সন্তানকে ইলমে দ্বীন শিক্ষা দিতে আগ্রহী নয়। যারা ইলমে দ্বীন শিক্ষার পথকে বেকারত্বের পথ মনে করে। যারা ইলমের ধারক বাহকদেরকে প্রথম শ্রেণির নাগরিক হিসাবে দেখতে পছন্দ করে না। যারা ইলমে দ্বীনের পুরা বিভাগকে তাদের করুণার পাত্র মনে করে। যারা ইলমের জন্য খরচ করাকে নিজেদের ফরয দায়িত্ব মনে না করে, আহলে ইলমের প্রতি সাহায্যের হাত বড়িয়ে দেয়া মনে করে। এসব ব্যক্তিরা আলইয়াদুল উলয়ার অধিকারী হতে পারে না। তাদের এ ইনফাক অধিকাংশ ক্ষেত্রে ভালো কোন উদ্দেশ্যে হয় না। অতএব, এ পরিচয় আহলে ইলমরাই ধারণ করতে হবে। সে জন্য এর পথকে সুগম করতে হবে। প্রতিবন্ধকতাগুলোকে দূর করতে হবে। পরিবেশ তৈরি করতে হবে। পরিকল্পনা তৈরি করতে হবে। সাহসী পদক্ষেপ নিতে হবে। আল্লাহর কাছে চাইতে হবে।
245
3
আলইয়াদুস সুফলার পরিচয় মিটিয়ে দিতে হবে فصل العلم عن الكسب : -২১ উপরের হাত নিচের হাতের চাইতে ভালো। নিচের হাতের এ পরিচয়কে ভুলিয়ে দেয়ার জন্য আমাদেরকে কিছু সাহসী পদক্ষেপ নিতে হবে। এর জন্য পর্যায়ক্রমে- এক. ইলম ও ইলম সংশ্লিষ্ট সকল ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের জন্য গায়রে আহলে ইলমের কাছে হাত পাতা বন্ধ করতে হবে। দুই. কেউ নিজের ইচ্ছায় দান করতে আসলে নির্দ্বিধায় তা নেয়া বন্ধ করতে হবে। দাতার কামাই হালাল নাকি হারাম, তা বিবেচনা না করে চোখ বন্ধ করে দান গ্রহণ করা বন্ধ করতে হবে। তিন. যে কেউ কোন দান করতে আসলে তাকে সুস্পষ্ট ভাষায় বলতে শিখতে হবে যে, এখানে কোন প্রকার দান খয়রাত গ্রহণ করা হয় না। চার. দাতাদেরকে স্পষ্ট করে বলতে হবে, এখানে দানের কোন খাত নেই। পাঁচ. দাতারা দানের জন্য ইলম ও ইলমের সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে দানের খাত ধারণা করার কারণগুলো মিটিয়ে দিতে হবে। ছয়. ইলমের বাহক ও ইলমের প্রতিষ্ঠানগুলোর সেটাপ গেটাপ এমন হতে হবে যেন কোন গায়রে আহলে ইলম তার দানের টাকা নিয়ে এ আঙ্গিনায় আসার সাহস না পায়। সাত. মুখলিস ও দ্বীনদার দাতাদেরকে দানের খাত হিসাবে তার আত্মীয় স্বজন, প্রতিবেশি ও সাধারণ অভাবীদেরকে দেখিয়ে দেয়ার সৎ সাহস দেখাতে হবে। আট. দানের উপযুক্ত কোন তালিবে ইলম, বা কোন আলেমকে উপযুক্ত কোন দাতা সাহায্য করতে চাইলে সে ইলমের আঙ্গিনার বাইরে তা করবে। আত্মীয়, প্রতিবেশী, পরিচিতজন হিসাবে দান করার পথ তাকে দেখিয়ে দিতে হবে। নয়. শরীয়ত অনুমোদিত দান খয়রাতের খাতগুলোর জন্য ইলমের বাহক ও ইলমের প্রতিষ্ঠানকে মাধ্যম বানানো থেকে বিরত থাকতে হবে। দশ. দাতারা নিজেদের দানের টাকা নিয়ে ঘুরে ঘুরে উপযুক্ত জায়গা বের করে, উপযুক্ত খাত বের করে, সেখানে দান করবেন। এক্ষেত্রে ইলমের বাহক ও ইলমের প্রতিষ্ঠানগুলোকে কখনো ব্যবহার করবেন না। মনে রাখতে হবে, এমন কিছু কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে না পারলে এবং সাহসের সঙ্গে কাজগুলো করতে না পারলে আমরা আমাদের আলইয়াদুলস সুফলার পরিচয়কে মিটিয়ে দিতে পারব না।
279
4
ইলম সবার উত্তরাধিকার হবে فصل العلم عن الكسب : -২০ ইলম সবার উত্তরাধিকার হওয়ার বিষয়টি প্রতিষ্ঠিত করতে হবে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাহল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন শরীয়তের যে বিধান উম্মতকে দিয়েছেন, তখন তা সমগ্র উম্মতকে দিয়েছেন। সবার জন্য দিয়েছেন। সবার এ উত্তরাধিকার সবার কাছে পৌঁছানোর দ্বার উন্মুক্ত করতে হবে। পথ সহজ করতে হবে। কীভাবে ভাবা যায় যে, দ্বীন ও ইলমে দ্বীন চর্চার সর্বোচ্চ অঙ্গন মসজিদ ও মাদরাসার দায়িত্বশীল সভাপতি সম্পাদকরা সূরা ফাতেহা পড়তে পারে না। সহীহ করে দুই রাকাত নামায পড়তে পারে না। ঈমান কুফরের পার্থক্যগুলো জানে না। হারাম হালালের প্রাথমিক পর্যায়ের বিষয়গুলোও তাদের জানা নেই। অথচ তারা আবার দ্বীন ও ইলমে দ্বীন চর্চার কেন্দ্রগুলোর কর্ণধার। তাদের অবহেলা অবশ্যই আছে। কিন্তু এ ক্ষেত্রে আমাদের বিন্যাসের কোন ভুল আছে কিনা, আমাদের সত্য উপস্থাপনায় কোন ভুল আছে কিনা, তা খতিয়ে দেখা আমাদেরই দায়িত্ব। আহলে ইলম যাদেরকে কুরআন সুন্নাহর সব কথা শোনানোর অধিকার রাখে না, সত্য কথাটি শুনিয়ে সত্যের পথে দাওয়াত দেয়ার অধিকার রাখে না, আহলে ইলম তাদেরই হাতে যিম্মি হলে দ্বীন ও ইলমে দ্বীন সর্বস্তরে পৌঁছানে সম্ভব নয়। কারণ, এ ধরনের লোক দ্বীন ও ইলমে দ্বীনের কেবল ততটুকুরই অনুমতি দেবে, যতটুকু তাদের নেতৃত্ব-কর্তৃত্ব ও স্বার্থের পথে বাধা মনে হবে না। পুরা উম্মত তাদের উত্তরাধিকার বুঝে না পাওয়ার পেছনে যেসব ক্ষেত্রে আমরা প্রতিবন্ধক হয়ে আছি, সেগুলো খুঁজে বের করতে হবে। সঠিক উপলব্ধি লাগবে। সমাধানের ফিকর করতে হবে। কিছু ঝুঁকি নিতে হবে।
327
5
ইলম ও আলেম বোঝা হবে না, সবার কামনা বাসনা হবে فصل العلم عن الكسب : -১৯ ইলমের ধারক বাহকগণ যখন ইলমকে শুধু ইলম ও দ্বীনের জন্য ব্যবহার করবেন, উপার্জনের মাধ্যম হিসাবে গ্রহণ করবেন না, তখন তারা বে-ইলম মানুষের মুখাপেক্ষী হবেন না। তাদের জীবিকা দান খায়রাতনির্ভর হবে না। তখন তারা উম্মতের বোঝা না হয়ে তাদের কামনার বস্তু হবেন। মনে রাখা দরকার, যারা নিজে ফরযে আইন পরিমাণ ইলম শেখার জন্য মানসিকভাবে প্রস্তুত নয়, যারা নিজের সন্তানকে ইলমে দ্বীন শেখাতে আগ্রহী নয়, যারা সর্বস্তরে ইলমের প্রয়োগকে পছন্দ করে না, যারা ইলম ও আহলে ইলমকে শ্রদ্ধা না করে শুধু দয়ার দৃষ্টিতে দেখে, যারা আহলে ইলমের মুখে কঠিন সত্য শুনতে প্রস্তুত নয় –তাদের দান খয়রাতের উদ্দেশ্য সন্দেহজনক। আমাদের আত্মপ্রবঞ্চনার মেয়াদ এবার শেষ হওয়া দরকার।
291
6
ইলম শুধু শেখা-শেখানো হবে না, ইলমের উপর আমল হবে فصل العلم عن الكسب : -১৮ ইলমের সঙ্গে আমলের ধারনাটি এখনো বেঁচে আছে। তবে তা খুবই সীমিত কয়েকটি অধ্যায়ের সঙ্গে আছে। উদাহরণ স্বরূপ, ইলমের অধ্যায় যদি হয় একশতটি তাহলে তার আমলী অনুশীলন রয়েছে দশ থেকে পনেরটিতে। এরপর যে অধ্যায়গুলোতে ইলমের আমলী অনুশীলন রয়েছে, সে অধ্যায়গুলোও অনৈসলমিক আইনের বেড়াজালে আটকা পড়ে তার মূল অবয়ব হারিয়ে ফেলেছে। কুফরী আইনের অজুহাতে, সমাজের প্রথা প্রচলনের অজুহাতে, বিভিন্ন রকমের কল্পনিক বাধ্যবাধকতার অজুহাতে অনুসৃত অধ্যায়গুলোর সঠিক পরিচয় আমাদের সামনে নেই। অতএব ইলমের চর্চাকে ইলমের আঙ্গিনায় সীমাবদ্ধ না রেখে উন্মুক্ত করে দিলে, ইলম শুধু শেখা আর শেখানোই হবে না, ইলমের প্রতিটি বিভাগ ও প্রতিটি অধ্যায় আমলের গতি পাবে। ইলমের শব্দ ও বাক্যগুলো আমরা ঘণ্টার পর ঘণ্টা পড়েও মুখস্থ করতে পারছি না, কারণ এর আমলী রূপ আমাদের সামনে নেই। আমলী অনুশীল নেই। পক্ষান্তরে যেসকল ইলমের আমলী রূপ আমাদের দৈনন্দিন জীবনে আছে, সেসব ইলম রপ্ত করার জন্য আমাদেরকে ঘন্টার পর ঘণ্টা বসে বসে পড়তে হয় না। এ ব্যবধানগুলোও আমাদের উপলব্ধিতে আসতে হবে।
407
7
ইলম গণ্ডিবদ্ধ হবে না, ব্যাপ্ত হবে فصل العلم عن الكسب : -১৭ ইলমের চর্চা ব্যক্তিগত ও ঘরোয়া দু’একটি অধ্যায়কে অতিক্রম করে পরিবার, সমাজ, দেশ ও সারা বিশ্বের প্রতিটি জটিল জটিল বিষয়ের সমাধানের ময়দানে পা রাখবে। বিশ্ব নেতৃত্বের প্রতিটি উপাদান ইলম নির্বাচন করবে, সংগ্রহ করবে, ব্যবহার করবে, বিজয় লাভ করবে। মানব রচিত প্রতিটি নোংরা নীতিমালার মাথায় আঘাত করবে। মানব রচিত দুর্বল ও স্বার্থনির্ভর প্রতিটি নীতির অসারতা একমাত্র ইলমই ধরিয়ে দিতে পারবে। আর তা হবে, যখন ইলম প্রায়োগিক হবে। সামগ্রিক হবে। সকল অঙ্গনে বিচরণকারী হবে। সকল অঙ্গনকে ইলম যখন তার অধীনে নিয়ে আসতে পারবে। মানব রচিত বিধানে শাসিত পৃথিবীর প্রতিটি অঙ্গন মূর্খতায় ভরে আছে। সেখানে ইলমের ধারক বাহকের পদচারণা মূর্খ ও মূর্খতাকে কাঁপিয়ে দেবে। মূর্খতার টুটি চেপে ধরবে। ইলমের হাত যদি বিশ্বমূর্খতার কণ্ঠনালী পর্যন্ত পৌঁছে না যায়, তাহলে এ ইলম তার ধারবাহকদেরকে বিশ্বনেতৃত্বে নিয়ে যাবে না। অতএব স্বপ্নচারীর স্বপ্নকে ভিত্তিবহুল করার জন্য ইলমকে গণ্ডিবদ্ধতা থেকে বের করে ব্যাপ্তির পথে অগ্রসর করতে হবে।
400
8
فصل العلم عن الكسب : -১৬ ইলম অবহেলিত হবে না, দামি হবে ইলমের চর্চা হবে ইলমের ফরয দায়িত্বের তাগিদে। ইলমের চর্চা হবে দ্বীনের প্রতিটি শাখা প্রশাখাকে ইলমের আলোতে পরিচালনা করার তাগিদে। ইলম চলবে তার নিজস্ব শক্তি, আলো ও নিজস্ব গতিতে। প্রতিটি মুসলিম তার জীবনের প্রতিটি অঙ্গনকে ইলমের আওতাভুক্ত মনে করতে হবে। আর এ মনে করার জন্য আহলে ইলমের পদচারণা প্রতিটি অঙ্গনে ব্যাপক থেকে আরো ব্যাপক হতে হবে। জীবনের প্রতিটি অঙ্গন ইলমের কাছে দায়বদ্ধ হলে পরে ইলম দামি হবে। ইলমের ধারক বাহক প্রতিটি অঙ্গনে ছড়িয়ে না পড়লে প্রতিটি অঙ্গনকে ইলমের আওতায় নিয়ে আসা সম্ভব নয়। ইসলামী খেলাফত প্রতিষ্ঠা হওয়ার আগ পর্যন্ত এর কোন বিকল্প নেই। আহলে ইলম নিজেদেরকে যত বেশি সীমাবদ্ধ গণ্ডিতে আবদ্ধ করে রাখতে চাইবে, সাধারণ মানুষ তাদেরকে আরো বেশি সীমাবদ্ধ করে দেবে। আহলে ইলম সমাজ ও দেশের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসাবে নিজেদেরকে প্রতিষ্ঠিত করতে হবে। সীমাবদ্ধ গণ্ডিতে আবদ্ধ থেকে শুধু মুখের ভাষা দিয়ে, নিয়ন্ত্রিত বক্তব্য দিয়ে সমাজের অংশ হওয়া যাবে না। এ বাস্তবতার উপলব্ধি সময়ের দাবি।
463
9
فصل العلم عن الكسب : -১৫ মাদরাসাগুলো খালি হয়ে যাবে না, ভরে উঠবে ইলম যখন এক কেন্দ্রিক না হয়ে বিকেন্দ্রিক হবে, গণ্ডিবদ্ধ গোষ্ঠিবিশেষের জন্য না হয়ে পুরা উম্মতের জন্য হবে, দ্বীনের প্রতিটি অঙ্গ যখন ইলমের ছোঁয়া পেতে থাকবে, তখন ঈমান ও আমলের প্রতিটি অঙ্গন তরতাজা হয়ে উঠবে। ইলমের অঙ্গন নিভতে নিভতেও আবার জ্বলে উঠবে। উম্মাহর প্রতিটি সদস্য ইলমের প্রতি অনুরাগী হওয়ার দার উন্মুক্ত হবে। ইলমের বিষয়ে আতংক দূর হয়ে যাবে। ইলমের অনুসরণের উপকারিতা তারা ধরা ছোঁয়ার মধ্যে দেখতে পাবে। শরয়ী যে জীবনের আতংকে তারা আতংকগ্রস্থ হয়ে আছে, সে আতংক দূর করার সুযোগ বের হয়ে আসবে। দ্বীনের ধারকবাহকগণ গুটি কয়েকজন নিয়ে না ভেবে পুরা উম্মাহকে নিয়ে ভাবার ক্ষেত্র খুঁজে পাবেন।
500
10
فصل العلم عن الكسب : -১৪ আমরা ভিন্ন এক প্রজাতি আমরা ভিন্ন উপগ্রহের মানুষ। আমরা এ গ্রহে থাকার অধিকার রাখি না। আমরা যখন মানুষের দানখায়রাত নির্ভর চার দেয়ালের বাইরে পরিবার, সমাজ, দেশ ও বিশ্বকে বোঝার প্রয়োজনবোধ করি না, তখন পরিবার আমাদেরকে তাদের অংশ মনে করবে কেন? সমাজ আমাদেরকে তাদের উপর প্রভাব বিস্তারকারী মনে করবে কেন? রাষ্ট্র আমাদেরকে দেশের কর্ণধার হিসাবে দেখতে চাইবে কেন? আমাদের সর্বোচ্চ চূড়া ও সর্ব বিস্তৃত পরিধি তো আমাদের দাতাদের হাতের মুঠোয়। দাতাদের হাতের মুঠোকে না ডিঙ্গিয়ে আমরা পৃথিবী জয়ের স্বপ্ন দেখব কীভাবে? কুরআনের প্রতিটি আয়াত প্রতিটি ক্ষেত্রে প্রয়োগ করার হিম্মত করব কীভাবে? হাদীসের প্রতিটি আবেদনকে তার যথাযোগ্য ক্ষেত্রে বাস্তবায়ন করব কীভাবে? দাতাদের অনেকে দ্বীনদরদী হলেও, অনেকে দ্বীন ও দ্বীনের উদ্দেশ্য ও সামগ্রিকতা সম্পর্কে বেখবর, অনেকে দ্বীনের কোনো ধার ধারে না, অনেকে দান-খায়রাত জাতীয় মোটাদাগের কিছু কাজ করাকেই দ্বীনের জন্য যথেষ্ট মনে করে, আবার অনেকে দান-খায়রাতকে একটা রাজনৈতিক পলিসির মতো ব্যবহার করে। কমপক্ষে উপমহাদেশের প্রেক্ষাপট এমনই। এমতবাস্থায় এ দেয়াল না ডিঙ্গিয়ে আমরা কী করতে চাই?
445
11
فصل العلم عن الكسب : -১৪ দ্বীনের অন্যসব বিভাগে ইলম ও আহলে ইলম অপাংক্তেয় কারণ আমরা সে বিভাগের কিছুই বুঝি না। আমরা কৃষি বুঝি না। আমরা ব্যবসা বুঝি না। আমরা রাখালি বুঝি না। আমরা দিনমজুরী বুঝি না। অতএব বিভাগুলোকে দ্বীনী নির্দেশনা দেয়ার অধিকারও আমি রাখি না। সংশ্লিষ্ট বিভাগের লোকদেরও ধারণা আমরা বুঝি না। আমরাও ধারণা করি যে, আমরা বুঝি না। আরেক ধাপ এগিয়ে এ না বুঝাকে আমরা আমাদের কৃতিত্ব মনে করি। আর এ সুযোগেই সংশ্লিষ্ট বিভাগে শরীয়ত নির্ভর কথা বলতে গেলে তাদের সহজ সরল বক্তব্য থাকে, ‘আপনারা এ বিষয়টি বুঝবেন না’। অথচ হালাল উপার্জনের বিভাগগুলোকে বোঝার জন্য দীর্ঘ মেয়াদি কোন কোর্স দরকার নেই। সে বিভাগগুলোতে সফল হওয়ার জন্য বিশাল পুঁজির প্রয়োজন নেই। একটু তাকিয়ে দেখুন, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদেরকে একটু জিজ্ঞেস করে দেখুন। বিভাগের ব্যক্তিদের সংশ্রবে দু’চার দিন কাটানোর পরই আপনি সে পথে ঢুকতে পারবেন ইনশাআল্লাহ। তাহলে এতটুকু পদক্ষেপ গ্রহণ করতে সমস্যা কোথায়? আরেকটু অগ্রসর হয়ে ইলম ও হালাল উপার্জনের সমন্বয় করতে সমস্যা কোথায়? আমরা এতটুকুর জন্য কেন প্রস্তুত হচ্ছি না।
1
12
فصل العلم عن الكسب : -১৩ দ্বীনের অন্যসব বিভাগে ইলম ও আহলে ইলম অপাংক্তেয় কারণ আমরা সে বিভাগের কিছুই বুঝি না। আমরা কৃষি বুঝি না। আমরা ব্যবসা বুঝি না। আমরা রাখালি বুঝি না। আমরা দিনমজুরী বুঝি না। অতএব বিভাগুলোকে দ্বীনী নির্দেশনা দেয়ার অধিকারও আমি রাখি না। সংশ্লিষ্ট বিভাগের লোকদেরও ধারণা আমরা বুঝি না। আমরাও ধারণা করি যে, আমরা বুঝি না। আরেক ধাপ এগিয়ে এ না বুঝাকে আমরা আমাদের কৃতিত্ব মনে করি। আর এ সুযোগেই সংশ্লিষ্ট বিভাগে শরীয়ত নির্ভর কথা বলতে গেলে তাদের সহজ সরল বক্তব্য থাকে, ‘আপনারা এ বিষয়টি বুঝবেন না’। অথচ হালাল উপার্জনের বিভাগগুলোকে বোঝার জন্য দীর্ঘ মেয়াদি কোন কোর্স দরকার নেই। সে বিভাগগুলোতে সফল হওয়ার জন্য বিশাল পুঁজির প্রয়োজন নেই। একটু তাকিয়ে দেখুন, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদেরকে একটু জিজ্ঞেস করে দেখুন। বিভাগের ব্যক্তিদের সংশ্রবে দু’চার দিন কাটানোর পরই আপনি সে পথে ঢুকতে পারবেন ইনশাআল্লাহ। তাহলে এতটুকু পদক্ষেপ গ্রহণ করতে সমস্যা কোথায়? আরেকটু অগ্রসর হয়ে ইলম ও হালাল উপার্জনের সমন্বয় করতে সমস্যা কোথায়? আমরা এতটুকুর জন্য কেন প্রস্তুত হচ্ছি না।
457
13
فصل العلم عن الكسب : -১২ ইলমের ফরযে কেফায়া দায়িত্ব ইলমের ফরযে কেফায়া দায়িত্ব পালন করতে হলে একজন শিক্ষার্থীকে শিক্ষাশেষে সমাজে ফিরে যেতে হবে। যে পরিবার ও যে সমাজ থেকে তাকে ইলম শেখার জন্য পাঠানো হয়েছে, তাকে সে সমাজেই ফিরে যেতে হবে। অর্জিত ইলম সে পরিবার ও সমাজে আগে বিতরণ করতে হবে। সময় ও মেধা উদ্বৃত্ত থেকে গেলে, যে এলাকায় ইলমের কেফায়া দায়িত্ব পালন করার কেউ নেই সেখানে যেতে হবে। তবে সর্বাবস্থায় আর্থিক যোগানের জন্য দ্বীন ও ইলমে দ্বীনের শত্রুদের শরণাপন্ন না হয়ে তা করতে হবে। চলমান সময়ে দ্বীন ও ইলমে দ্বীনের শত্রুদের শরণাপন্ন না হওয়ার পথ হচ্ছে, হালাল উপার্জনের উন্মুক্ত পথ হাতে থাকা। নচেৎ, দ্বীন ও ইলমে দ্বীনের শত্রুদের মর্জি ও সন্তুষ্টি রক্ষা করতে করতে বেলা শেষ হয়ে যাবে। বেলা শেষ হয়ে যাচ্ছে। আথবা বলা যায়, বেলা শেষ হয়ে গেছে।
511
14
فصل العلم عن الكسب : -১১ ইলমের ফরযে আইন দায়িত্ব ইলম শেখার ফরযে আইন একটি পরিমাণ রয়েছে, আবার ইলম শেখানোরও একটি ফরযে আইন পরিমাণ রয়েছে। এ পরিমাণ সর্বাবস্থায় আমল কেন্দ্রিক। বাস্তব জীবনে প্রায়োগিক। মুসলিম জীবনে ইলম প্রয়োগের এমন শত ও হাজারটি ক্ষেত্র রয়েছে, যা শিক্ষাকেন্দ্রের বাইরে অবস্থিত। শিক্ষাকেন্দ্র হাজারটি ফরয দায়িত্ব আদায়ের ক্ষেত্রগুলোর একটি। এখন ইলম অর্জনকারীর উপার্জনের মাধ্যম যদি শুধু ইলম হয়ে যায়, তাহলে দ্বীন ও শরীয়তের আরো হাজারটি ক্ষেত্র কার তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হবে? ইলম অর্জনকারীর অর্জিত ইলমের ছোঁয়া ও প্রভাব অন্য ক্ষেত্রগুলো কীভাবে পাবে?
479
15
فصل العلم عن الكسب : -১০ ইলমের অনুপস্থিতি হালাল উপার্জনকে কঠিন করে দিচ্ছে হালাল উপার্জন কঠিন বলে আমরা উপার্জনের জন্য ইলমের অঙ্গনের বাইরে যেতে চাচ্ছি না। তাহলে ইলমের অঙ্গনের বাইরে অবস্থিত মুসলিম উম্মাহর বিশাল জনগোষ্ঠির জন্য আমরা কী চিন্তা করেছি? বা তাদের জন্য আমাদের পরামর্শ কী? আমরা তাদেরকে উপার্জনের পথে থাকতে বলব? নাকি উপার্জন থেকে বিরত থাকতে বলব? যদি তাদেরকে উপার্জন করতে বলি, তাহলে যা আহলে ইলমের জন্য নিরাপদ পথ নয়, তা উম্মাহর ইলমমুক্ত বিশাল জনগোষ্ঠির জন্য কেন নিরাপদ? হালাল উপার্জনের পন্থাগুলোতে আহলে ইলমের সংমিশ্রণে হালাল হারামের নিরাপত্তা বাড়বে? নাকি কমবে? প্রতিটি বিষয় নিয়ে ভাবতে হবে। বাস্তবতার আলোকে সঠিক গন্তব্যে পৌঁছতে হবে।
541
16
فصل العلم عن الكسب : -৯ ইলম বিতরণের ফরয দায়িত্ব কী? فَلَوْلَا نَفَرَ مِنْ كُلِّ فِرْقَةٍ مِنْهُمْ طَائِفَةٌ لِيَتَفَقَّهُوا فِي الدِّينِ وَلِيُنْذِرُوا قَوْمَهُمْ إِذَا رَجَعُوا إِلَيْهِمْ لَعَلَّهُمْ يَحْذَرُونَ এ আয়াতের দাবি হচ্ছে, ইলম শেখার পর শিক্ষার্থী বাড়িতে ফিরে যাবে। যা শিখেছে তা দিয়ে নিজের এলাকার মানুষদের সতর্ক করবে। ঈমান থেকে শুরু করে শরীয়তের প্রতিটি বিধান মানুষদেরকে জানিয়ে তাদেরকে সতর্ক করবে। নিজের ঠিকানায় বসে তা করবে। নিজের ফরযে কেফায়া এলাকায় অবস্থান করে এ ফরয দায়িত্ব পালন করবে। দ্বীন ও শরীয়তের বিষয়ে কেউ জানতে চাইলে তাকে বলে দেবে। লুকিয়ে রাখবে না। عن النبي صلى الله عليه وسلم قال : ما من رجل يحفظ علما فيكتمه ، إلا أتي به يوم القيامة ملجما بلجام من النار. লুকিয়ে রাখলে আগুনের শেকল তাকে পরিয়ে দেয়া হবে।
528
17
পোস্ট- فصل العلم عن الكسب : -৮ ইলম বিতরণের ফরয দায়িত্ব ছুটে যাবে? ছুটে যাবে না ইনশাআল্লাহ। আমি যদি -উদাহরণস্বরূপ- ইলমের জন্য আট ঘণ্টা ব্যয় করি এবং হালাল উপার্জনের জন্য আট ঘণ্টা ব্যয় করি তাহলে ইলম বিতরণের ফরয দায়িত্বে কোন প্রকার ব্যঘাত ঘটবে না ইনশাআল্লাহ। ইলম বিতরণের ফরয মাপকাঠিটি নির্ধারিত হয়ে গেলে বিষয়টি বুঝতে আরো সহজ হয়ে যাবে ইনশাআল্লাহ।
494
18
فصل العلم عن الكسب : -৭ আমি কি দুনিয়াদার হয়ে যাব? ইলম ব্যতীত অন্যান্য হালাল পথে উপার্জন করলে আমি দুনিয়াদার হয়ে যাব, আর ইলমের বিনিময়ে উপার্জন করলে আমি দুনিয়াদার হব না, এ বিষয়টি কতটুকু যুক্তিসংগত? বাস্তব চিত্রগুলো কী বলে? মানুষ দুনিয়াদার হয় তার লোভ ও কৃপণতার কারণে। আল্লাহর ভয় ও পরকালের ভয় কমে যাওয়ার কারণে। এ ত্রুটিগুলো যার সঙ্গে থাকবে, সে যে পথেই যাবে, দুনিয়া তাকে পেয়ে বসবে। সে ‍দুনিয়াদার হয়ে যাবে।
558
19
فصل العلم عن الكسب : -৬ হারাম পথে কেন যেতে হবে? আমার নিরক্ষর যে বন্ধুটি উপার্জন করছে তা যদি হারাম পথে হয়ে থাকে, তাহলে আমি সে পথে যাব না, শুধু এতটুকুই নয়, আমি আমার সে বন্ধু ও প্রতিবেশীকে হারাম পথ থেকে বিরত রাখার সর্বাত্মক চেষ্টা করব। পুরা মুসলিম উম্মাহকে আমি হারাম উপার্জনের পথ থেকে বিরত রাখার চেষ্টা করব। হালাল উপার্জন সম্ভব নয়, বা উপর্জনের পথগুলো হালাল রয়নি, এ অজুহাতে হালাল উপার্জনের পথ থেকে বিরত থাকার কোন সুযোগ নেই। উপার্জনতো আখের করতেই হবে। হালাল পথেই করতে হবে। অতএব হালাল উপার্জনের পথ কখনো বন্ধ হবে না। কারণ আল্লাহ হালাল উপার্জনকে আবশ্যক করেছেন। হালাল উপার্জনের সকল পথকে বন্ধ করে দিয়ে যদি শুধু ইলমের মাধ্যমে উপার্জনের পথ খোলা রাখি তাহলে তা কতটুকু নিরাপদ? ইলম তো উপার্জনের মাধ্যম নয়। ইলমের গন্তব্য তো অন্য কিছু।
560
20
فصل العلم عن الكسب : -৫ হালাল উপার্জন কেন কঠিন? নিরক্ষর বন্ধু যে সকল পদ্ধতিতে উপার্জন করছে তা যদি হালাল হয়ে থাকে তাহলে তা আমার জন্যও হালাল। যেকোন হালাল পদ্ধতির উপার্জন গ্রহণ করার ক্ষেত্রে দ্বিধা সংকোচ বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে কিনা, দেখা যেতে পারে। বিষয়টি যদি শুধুই দ্বিধা সংকোচের হয়, তাহলে এ দ্বিধা সংকোচকে প্রশ্রয় দেয়ার কোন সুযোগ নেই। দ্বিধা সংকোচের কারণে উপার্জনের হালাল যে পথগুলোকে আমরা গ্রহণ করতে পারছি না, সে পথগুলো ছেড়ে আমরা যেদিকে যাচ্ছি, তা কতটুকু প্রশংসণীয়? হালাল উপার্জনের কোন একটি পন্থা আমাদের ব্যক্তিমর্যাদার পরপন্থি মনে হলে, উম্মতের প্রথম সারি সাহাবায়ে কেরামের সঙ্গে একটু মিলিয়ে দেখা যেতে পারে। তাঁরা কী কী পেশা করেছিলেন। তাঁরা যা করতে পেরেছেন, তা করতে গিয়ে আমাদের দ্বিধা সংকোচ হওয়া অনুচিত। রাখাল, কুলি, দিনমজুর, কৃষক, কাঠ কুড়িয়ে বিক্রয়, উন্মুক্ত বাজারে দাঁড়িয়ে বিক্রয়, এক বাজার থেকে কিনে আরেক বাজারে বিক্রয়, হাতের কাজ, খামার, উৎপাদন ইত্যাদি পেশাগুলোর কোন কোনটি সাহাবায়ে কেরাম পছন্দ করতেন না, সেগুলো বাদ দিয়ে বাকিগুলো গ্রহণ করা যেতে পারে। তবু হালাল উপার্জনের পথগুলো ইলমের ধারক বাহকদের সামনে উন্মুক্ত থাকা চাই। ভিত্তিহীন দ্বিধা সংকোচের সূত্রগুলো কেটে ফেলা চাই।
526