ইসলাম ও ইসলামি বিশ্ব
Kanalga Telegram’da o‘tish
আমরা চাই আমাদের চ্যানেলের মাধ্যমে অন্ধকারাচ্ছন্ন আত্মাগুলো আলোতে ফিরে আসুক।ইবাদতে অনাগ্রহী আত্মাগুলোতে আগ্রহ সঞ্চার হোক।মৃতপ্রায় আত্মাগুলোতে ছড়িয়ে পড়ুক নতুন প্রাণশক্তি। ভালো কিছুর প্রত্যাশায় ইন শা আল্লাহ... আমাদের ব্লগ সাইটঃ https://aahr2005.blogspot.com
Ko'proq ko'rsatish2 804
Obunachilar
+724 soatlar
+447 kunlar
+4430 kunlar
Postlar arxiv
2 804
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন,
ذَاقَ طَعْمَ الْإِيمَانِ مَنْ رَضِيَ بِاللَّهِ رَبًّا وَبِالْإِسْلَامِ دِينًا وَبِمُحَمَّدٍ رَسُولًا
"যে লোক আল্লাহকে রব, ইসলামকে দ্বীন এবং মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে রসূল হিসেবে পেয়ে সন্তুষ্ট, সে-ই ঈমানের স্বাদ পেয়েছে"।[১]
.
এর ব্যাখ্যায় আল্লামা উবাইদুল্লাহ আল মুবারাকপুরী [রাহ.] লিখেছেন,
"তাহরীর” গ্রন্থের রচয়িতা বলেন:
কোনো বিষয়ের ব্যাপারে ‘আমি সন্তুষ্ট হয়েছি’ (رَضِيتُ بِالشَّيْءِ)—এর অর্থ হলো, আমি তাতে সন্তুষ্ট থেকেছি, সেটাকেই যথেষ্ট মনে করেছি এবং তার পাশাপাশি অন্য কিছু চাইনি।
সুতরাং হাদিসের অর্থ হলো—সে আল্লাহ তাআলা ছাড়া অন্য কাউকে চায়নি, ইসলামের পথ ছাড়া অন্য কোনো পথে চলার চেষ্টা করেনি এবং মুহাম্মাদ ﷺ-এর শরীআতের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ বিষয় ছাড়া অন্য কোনো পথ অবলম্বন করেনি।
এ বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই যে, যার বৈশিষ্ট্য এমন, তার অন্তরে ঈমানের মিষ্টতা পূর্ণরূপে প্রবেশ করেছে এবং সে ঈমানের স্বাদ আস্বাদন করেছে"।[২]
.
[১) সহীহ মুসলিম, মিশকাত, হা: ৯;
২) আল্লামা উবাইদুল্লাহ আল মুবারাকপুরী (রাহ.), মিরআতুল মাফাতীহ: ১/৫৩]
2 804
নর্থ-ওয়েস্টার্ন বাংলাদেশ রিজিয়ন, রংপুরে, কাকে যেন সপরিবারে হত্যা করা হয়েছে। এটি নিয়ে নানাজনের নানান মন্তব্য। হরেক রকমের বিশ্লেষণ।
আপনাদের একটা বাস্তবতা শিখিয়ে দিই। তা হলো, আপনারা যাই বলেন না কেন, সামান্যতম মূল্য নাই। এখানে কারো এই ধারাণাটিও নাই যে, এটা কি হচ্ছে। আপনাদের আপনার শত্রুর জন্য ঐ মাত্রার Viciousness নাই, যা আপনার শত্রুর আপনার জন্য আছে।
ইণ্ডিয়ান মিলিটারি Cognitive Warfare Action Force দাঁড় করানোর পরিকল্পনা বাস্তবায়নের পথে রয়েছে। Eastern Command তার পাইওনিয়ার ভূমিকা রাখছে বড় আকারে। আমি আপনাদের আগে এটি সম্পর্কে বলেছি। এখন আর বলব না। কারণ, আপনারা বিভিন্নভাবে ইতিমধ্যে এর শিকারে পরিণত হয়েছেন। এখন আর আপনাদের বলে কিছুই বোঝানো সম্ভব না। বরং যে বলবে তার জন্য চরম ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। আপনারা সেই ঝুঁকির কারণ হতে পারেন।
This is the highest form of war fighting। সান জু বলেছিলেন, To subdue the enemy without fighting is the highest form of warfare। আর Cognitive Warfare হলো সেই আর্ট, যার দ্বারা এটি অর্জন করা হয়। আপনাদের যুদ্ধ ছাড়াই বশ করে নেওয়া হয়েছে। যদিও আপনারা নিজেদের মারাত্মক ইণ্ডিয়া বিদ্বেষী মনে করছেন। ওদিকে আপনার বাস্তবতা পরিবর্তন করে দেওয়া হয়েছে। আমাদের সর্ব বিশ্বস্তরা শত্রুর সর্ব ভয়ানক অস্ত্রে রূপান্তর লাভ করেছে।
ধন্যবাদ।
2 804
এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ ﷺ –এর কাছে এসেছিলো কিছু সম্পদ লাভের আশায়। সে রাসূলুল্লাহ ﷺ –এর কাছে সম্পদ চেয়েও ফেললো!
রাসূলুল্লাহ ﷺ তাঁকে ছাগল দান করলেন।
একটি-দুটি ছাগল না। হাদীসে উল্লেখ আছে- “তাকে এত বেশী ছাগল দিলেন যাতে দু’উপত্যকার মাঝামাঝি স্থান পরিপূর্ণ হয়ে যাবে।”
এখন চিন্তা করুন, দুই উপত্যকার মাঝামাঝি স্থান পূর্ণ হয়ে যাবে, এরকম কতো ছাগল লাগতে পারে?
৫০০? ১০০০ ছাগল? সংখ্যা শখানেক হোক বা হাজার, কিন্তু এটা স্পষ্ট যে, অনেক ছাগল দেয়া হয়। যা সে ভাবতেও পারেনি!
একসাথে এতো সম্পদ পেয়ে সেই বেদুইনের প্রতিক্রিয়া কী ছিলো জানেন?
সে খুশিতে আত্মাহারা হয়ে তার গোত্রে চলে গেলো চিৎকার করতে করতে- “হে আমার জাতির ভাইয়েরা! তোমরা ইসলাম গ্রহণ করো। কারণ মুহাম্মদ ﷺ অভাবের আশঙ্কা না করে এতো দান করতে থাকেন (তোমরা ভাবতেও পারবে না)!” (সহীহ মুসলিম: ৫৯১৪)
.
এই হাদীসের ব্যাখ্যায় ইমাম নববী রাহিমাহুল্লাহ বলেন- “এই বেদুঈন প্রথমে কেবল দুনিয়াবি লাভের আশায় নবী ﷺ–এর কাছে এসেছিলেন। কিন্তু রাসূল ﷺ–এর অসাধারণ উদারতা ও দানশীলতা দেখে তাঁর অন্তর ইসলামের প্রতি আকৃষ্ট হয় এবং তিনি আন্তরিকভাবে ইসলাম গ্রহণ করেন। এরপর তাঁর গোত্রও ইসলাম গ্রহণ করে।”
.
জীবনের প্রথম পরিচয়ে যে বেদুঈনের কাছে মনে হলো- রাসূলুল্লাহ ﷺ গরীব নন, তিনি অভাবের আশঙ্কা করেন না, তিনি দুহাত খুলে দান করেন, আর সেই রাসূল ﷺ সম্পর্কে আমরা কী মন্তব্য করি?
যেই নবী ﷺ একটি সুন্দর জামা পরে আসলে কেউ যদি বলতো জামাটা আমাকে দিবেন? তিনি সাথে সাথে জামা খুলে দিতেন, সেই নবীর অর্থনৈতিক জীবন বলতে গিয়ে আমরা শুধু তাঁর দারিদ্র্যের গল্প শুনাই?
আমাদের সময়ের প্রেক্ষাপটে রাসূলুল্লাহ ﷺ তাঁর জীবনে কোটি কোটি টাকা দান করেছেন। সেই রাসূলুল্লাহ ﷺ –এর ইমেইজ দাঁড় করানো হয়েছে কেবল ৩ মাস চুলোয় আগুন জ্বলেনি এই থিমের ওপর!
অথচ আমার রাসূলকে দুনিয়া অফার করা সত্ত্বেও তিনি দুনিয়া বেছে নেননি, তারপরও দুনিয়া তাঁর কাছে এসেছিলো। সেই দুনিয়াটাও তিনি গ্রহণ না করে দান করে গেছেন।
যার দানশীলতা দেখে একজন-দুজন না, একেকটা গোত্র ইসলাম গ্রহণ করতো, মক্কার কাফিররা যারা মক্কা বিজয়ের পরও মনে প্রাণে ইসলাম গ্রহণ করেনি, তাঁর দানশীলতা দেখে মুগ্ধ হয়ে পরবর্তীতে তাদের মন জয় হয়।
সেই রাসূলকে কিনা বলা হয় গরীব ছিলেন! অনাহারে থাকতেন।
.
রাসূলুল্লাহ ﷺ –কে ভালোবাসতে তাঁকে সম্পূর্ণভাবে জেনেই ভালোবাসতে হবে। আপনার কল্পিত ধারণা অনুযায়ী যে ইমেইজ দাঁড় করাতে চাচ্ছেন, সেভাবে না। বরং তিনি যেমন ছিলেন, ঠিক তেমনভাবেই তাঁকে চিন্তা করুন।
জোর করে ভালোবাসতে হবে না। ঐ ঘটনাগুলো পড়লে এমনিতেই ভালোবাসা জন্মাবে।
2 804
একজন নারী বিয়ের আগে স্বামীকে শর্ত দেন— আমাকে বিয়ে করলে কিন্তু আর দ্বিতীয় বিয়ে করতে পারবে না!
এটা এখনকার যুগের কথা না। এখন তো ১% ও দ্বিতীয় বিয়ে করে না৷
বলছি, সেই সময়ের কথা, যখন একজন পুরুষের একাধিক স্ত্রী থাকাটা ছিলো স্বাভাবিক। প্রায় ৯৯% পুরুষ একাধিক বিয়ে করতেন।
সেই যুগের একজন নারী বিয়ের আগে শর্ত জুড়ে দিয়েছিলেন। পরবর্তীতে তার এই শর্ত নিয়ে ফিক্বহের কিতাবে অনেক লেখালেখি হয় যে, এরকম শর্ত দেয়াও জায়েজ।
.
সুকাইনা বিনতে হুসাইন রাহিমাহাল্লাহ ছিলেন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নাতি হুসাইন রাদিয়াল্লাহু আনহুর মেয়ে। তিনি ছিলেন তৎকালীন যুগের সবচেয়ে সুন্দরী, বুদ্ধিমতী, উচ্চবংশীয় নারী।
অনেকেই তাঁকে বিয়ে করার স্বপ্ন দেখতেন। এমনকি একজন তাবেয়ী কা'বাঘরে গিয়ে দুআও করেন।
.
সুকাইনা বিনতে হুসাইন রাহিমাহাল্লাহকে বিয়ে করতে চান উসমান ইবনে আফফান রাদিয়াল্লাহু আনহুর নাতি যায়িদ ইবনে উমর ইবনে উসমান রাহিমাহুল্লাহ।
যায়িদ ছিলেন অনেক সম্পদশালী। একইসাথে তিনি কৃপণতার জন্য বিখ্যাত ছিলেন।
সুকাইনা রাহিমাহাল্লাহ যায়িদকে বিয়ের সময় তিনটি শর্ত দেন।
১. আমাকে বিয়ে করাবস্থায় তুমি আর কাউকে বিয়ে করতে পারবে না, কোনো দাসীর সংস্পর্শে যেতে পারবে না।
২. আমাকে ইচ্ছেমতো তোমার সম্পদ ব্যবহার করতে দিবে।
৩. আমাকে চলাফেরার স্বাধীনতা দিবে, বাধা দিতে পারবে না।
মজার ব্যাপার হলো, যায়িদ ইবনে উমর সবগুলো শর্ত মেনে নেন। তিনি সুকাইনাকে বিয়ে করেন।
সুকাইনা ছিলেন অনেক দানশীল। এজন্য আগে থেকে শর্ত দিয়ে দেন।
.
একবার যায়িদ ইবনে উমর একটি সফরে যান।
সুকাইনা একজন দাসকে পাঠান স্বামীর গতিবিধির ওপর নজর রাখতে। তিনি দাসকে বলে দেন, "আমার স্বামী যদি কোনো দাসীর সংস্পর্শে যায়, আমাকে এসে জানাবে।"
সেই সফরে যায়িদ ইবনে উমর দাসীর সংস্পর্শে যান, সফর শেষে আসার পর সেটা ফাঁস হয়ে যায়।
সুকাইনা যখন জানতে পারেন তার স্বামী বিয়ের সময়ের কন্ট্রাক্ট লঙ্ঘন করেছেন, তখন তিনি স্বামীকে নিয়ে আদালতে যান। বিচারকের কাছে গিয়ে পুরো ঘটনা খুলে বলেন।
সেইসময়ের অন্যতম ধনী ব্যক্তিকে সুকাইনা রাহিমাহাল্লাহ বিচারকের রায়ে তালাক আদায় করেন। তার ব্যক্তিত্ব এতো স্ট্রং ছিলো, স্বামী যখন প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে ব্যর্থ হন, তাকে ছাড় দেননি।
তথ্যসূত্র:
আবুল ফারাজ ইসফাহানী, কিতাবুল আগানী: ১৬/ ১৩৫-১৪০, ইবনে কাল্লিখান, ওয়াফাতুল আইয়ান: ২/৩৯৩-৩৯৭, ইমাম যাহাবী, সিয়ারু আলামিন নুবালা : ৫/২১৩,২৬২,২৬৩।
2 804
Repost from ইসলাম ও ইসলামি বিশ্ব
সাধারণ ভাই-বোন দের অনেকেই ঈমান ও আক্বীদার জন্য কিতাবের সাজেশন চান। তারা ঈমান ও আক্বীদার মূলমর্ম ও বর্তমান সভ্যতার সাথে প্রাসঙ্গিক করে বিষয়গুলো পড়তে চান। তাদের জন্য ছোট করে একটা সাজেশন তৈরির চিন্তা করছিলাম।
১। আক্বীদাতুত তহাভীর মূল পাঠ। অর্থাৎ এটার কোন ব্যাখ্যাগ্রন্থ নয়, বরং মূল কিতাবটি উদ্দেশ্য।
✨ https://rkmri.co/mA0A00RmT5o0/
২। ঈমান সবার আগে ~ মাওলানা আব্দুল মালেক হাফিজাহুল্লাহ। এটা সাধারণ জন্য উপযোগী করে লেখা এবং অত্যন্ত মুফিদ কিতাব।
✨ https://rkmri.co/lpMyRI5RAyNe/
৩। মুহাম্মাদ কুতুব রহিমাহুল্লাহর মাফাহিম গ্রন্থের অনুবাদ। চিন্তার পরিশুদ্ধি নামে রুহামা থেকে অনুদিত হয়ে এসেছে। এটিতে ঈমানের মৌলিক বিষয়গুলোর মর্ম সম্পর্কে এমন এপ্রোচে আলোচনা করা হয়েছে যে, বর্তমান জাহেলী সভ্যতার বিরুদ্ধে মজবুত এক চিন্তাকাঠামো তৈরিতে সকলের জন্য উপযোগী হবে ইনশাআল্লাহ।
✨ https://rkmri.co/E5eASReAE0SR/
৪। ফুরুঊল ঈমান ~ হাকিমুল উম্মত আশরাফ আলি থানভী রহিমাহুল্লাহ
✨ https://rkmri.co/5eEoEl30pNeM/
৫। তাওহিদের কালিমা ~ শাইখ হারেস আন নাজ্জারি রহিমাহুল্লাহ
✨ https://rkmri.co/MA2eISl5eoAm/
৬। আমি ঈমান এনেছি~ হাফিজ আল মুনাদি হাফিজাহুল্লাহ
✨ https://rkmri.co/NA5eISSI02AM/
৭। ইসলামী আক্বীদা-বিশ্বাস ~ মাওলানা তাকি উসমানি হাফিজাহুল্লাহ
✨ https://rkmri.co/pyA23A053A0A/
৮। তাওহিদ, শিরক ও তার প্রকারভেদ ~ আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী রহিমাহুল্লাহ।
✨ https://rkmri.co/ooeM3eoAoNMI/
৯। কালিমায়ে তাইয়েবা: বিশ্লেষণ ও ঈমান ভঙ্গের কারণ ~ মাওলানা সফিউল্লাহ ফুয়াদ হাফিজাহুল্লাহ
✨ https://rkmri.co/25TeEyyeN53T/
১০। তাকবিয়াতুল ঈমান ~ শাহ ইসমাঈল শহীদ রহিমাহুল্লাহ
✨ https://rkmri.co/Ep0eepAMNTmM/
১১| ইসলামি আকীদা ~ ড.খন্দকার আবদুল্লাহ জাহাঙ্গীর (রহ)
✨ https://rkmri.co/E35MeNlMMR0y/
অন্যান্য 👇
>#> সাধারণ বোনদের জন্য সমসাময়িক ইসলামী বইয়ের লিস্ট
✨ https://t.me/alaksa10/9445
>#> বিয়ের আগে যে বই গুলো পড়া উচিত
✨ https://t.me/alaksa10/9865
>#> বর্তমানের বেস্ট সেলিং বই এর লিস্ট
✨ https://t.me/alaksa10/9864
2 804
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের একজন খালার কবর ইউরোপে!
.
একবার রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর দুঃসম্পর্কের এক খালা উম্মু হারাম বিনতে মিলহান রাদিয়াল্লাহু আনহার বাড়িতে যান। দুপুর বেলা বিশ্রাম করতে গিয়ে ঘুমিয়ে পড়েন।
হঠাৎ ঘুম থেকে উঠে মৃদু হাসলেন।
উম্মু হারাম জিজ্ঞেস করলেন, "ইয়া রাসূলাল্লাহ! আপনি হাসছেন কেনো?"
রাসূলুল্লাহ বললেন, "আমাকে স্বপ্নে দেখানো হয়েছে, আমার উম্মতের কিছু লোক জিহাদ করার উদ্দেশ্যে সাগর পাড়ি দেয়ার জন্য জলযানে আরোহন করছে।"
উম্মু হারাম অনুরোধ করলেন, "ইয়া রাসূলুল্লাহ! আল্লাহর কাছে দুআ করুন, আল্লাহ যেন আমাকে সেই বাহিনীর অন্তর্ভুক্ত করেন।"
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আবার ঘুমিয়ে পড়েন।
এবার ঘুম থেকে উঠে মৃদু হেসে উম্মু হারাম বিনতে মিলহান রাদিয়াল্লাহু আনহাকে সুসংবাদ দিয়ে বলেন, "তুমি এই দলের অন্তর্ভুক্ত হবে।"
উম্মু হারাম অপেক্ষা করছেন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ভবিষ্যৎবাণী কখন বাস্তবায়ন হবে।
এভাবে প্রায় ২০ বছর অপেক্ষার পর ২৭ হিজরিতে উসমান রাদিয়াল্লাহু আনহুর খিলাফতকালে মুআবিয়া রাদিয়াল্লাহু আনহু একটি নৌবাহিনী গঠন করেন। সেই অভিযানে যুক্ত হন উম্মু হারাম বিনতে মিলহান রাদিয়াল্লাহু আনহা।
অভিযানটি ছিলো বর্তমান মানচিত্র অনুযায়ী সাইপ্রাসে।
সেখানে যাবার পর উম্মু হারাম বিনতে মিলহান ইন্তেকাল করেন।
সাইপ্রাসে তাকে দাফন করা হয়।
সমুদ্র অভিযানে অংশ নেয়ার তাঁর সেই স্বপ্নপূরণ হয়।
মদীনায় জন্মগ্রহণকারী উম্মু হারাম বিনতে মিলহানের কবর হয় সাইপ্রাসে।
রেফারেন্স: সহীহ বুখারী: ২৭৮৮, ৭০০২
2 804
মক্কা থেকে হিজরত করে রাসূলুল্লাহ ﷺ মদীনায় যান।
মক্কায় তো তাঁর একটি বাড়ি ছিলো। তিনি হিজরত করার পর ঐ বাড়িটি কেমন ছিলো? এটা কি কখনো চিন্তা করেছেন? কারা থাকতো ঐ বাড়িতে? পরবর্তীতে ঐ বাড়িটির কী হয়?
কারণ, রাসূলুল্লাহ ﷺ তো বাকিজীবন মদীনায়ই কাটান। মক্কায় আসেন হাতেগোনা ৪-৫ বার।
হিজরতের পর সাহাবীদের বাড়িগুলো দখল হয়, লুটপাট হয়।
এমনকি রাসূলুল্লাহ ﷺ -এর বাড়িটিও দখল হয়।
এই বাড়িটি দখল করে আবু লাহাবের ছেলে মুয়াত্তাব ইবনে আবি লাহাব।
.
রাসূলুল্লাহ ﷺ প্রায় ৮ বছর পর মক্কা বিজয় করেন।
যে মক্কা থেকে একসময় তিনি রাতের অন্ধকারে চলে গিয়েছিলেন, সেই মক্কায় তিনি বীরের বেশে প্রবেশ করেন। তিনি মক্কা বিজেতা। মক্কার সবচেয়ে ক্ষমতাধর।
তাঁর বাড়িটি যে ভোগ করেছে, তাকে তিনি ডাকেন।
মুয়াত্তাব ছিলো রাসূলুল্লাহ ﷺ -এর চাচাতো ভাই। তার বাবা আবু লাহাব, যে রাসূলকে অনেক কষ্ট দিয়েছে।
রাসূলুল্লাহ ﷺ লোক মারফত খবর পাঠালেন। মুয়াত্তাব এবং তার ভাই আসলেন।
রাসূলুল্লাহ ﷺ দীর্ঘক্ষণ তার চাচাতো ভাইদের সাথে কথা বললেন।
পরবর্তীতে তারা ইসলাম গ্রহণ করে।
রাসূলুল্লাহ ﷺ -এর যেই বাড়ি মুয়াত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহু একসময় 'দখল' করেছিলেন, রাসূলুল্লাহ ﷺ পরবর্তীতে তাঁর চাচাতো ভাইকে নিজের সেই বাড়িটি গিফট করেন।
চিন্তা করা যায়, আবু লাহাব, যে আবু লাহাব রাসূলকে এতো কষ্ট দিতো, একমাত্র কাফির, যার নামে পবিত্র কুরআনে একটি সূরা আছে, তার ছেলেকে রাসূলুল্লাহ ﷺ নিজের বাড়িটি গিফট করেন!
.
মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল্লাহ আযরাকি,আখবারু মাক্কাহ: ২/২৪৬
2 804
.
তিনি যে তাওহীদের দাওয়াহ নিয়ে এসেছেন, সেই দাওয়াহ প্রচারের মাধ্যমে। এবং যে দ্বীন তাঁর মাধ্যমে আল্লাহ আমাদের কাছে পাঠিয়েছেন, সেই দ্বীনকে দুনিয়াতে সামগ্রিকভাবে বাস্তবায়নের চেষ্টার মাধ্যমে। যদিও এই দাজ্জালি সভ্যতা এবং এর জাহেলি ব্যবস্থা এর বিরোধিতা করে।
.
আর সবকিছুর পর আমরা আল্লাহর কাছে দুআ করি—তাঁর প্রতি, তাঁর দ্বীনের প্রতি, তাঁর রাসূলের প্রতি আমাদের যে ভালোবাসা, তার কারণে তিনি হয়তো খুশি হয়ে তাঁর এই গুনাহগার বান্দাদের অগণিত দোষত্রুটি ক্ষমা করে দেবেন। তাঁদেরকে জাহান্নামের আগুন থেকে রক্ষা করবেন। তাঁর জান্নাতে তাঁর হাবীব মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর সাথে আমাদের দেখা করার, কথা বলার সুযোগ করে দেবেন।
.
إِنَّ الَّذِينَ آمَنُوا وَعَمِلُوا الصَّالِحَاتِ إِنَّا لَا نُضِيعُ أَجْرَ مَنْ أَحْسَنَ عَمَلًا
নিশ্চয় যারা ঈমান এনেছে এবং সৎকাজ করেছে--- আমরা তো তার শ্রমফল নষ্ট করি না- যে উত্তমরূপে কাজ সম্পাদন করেছে। [সূরা আল-কাহফ, ৩০]
2 804
উহুদ যুদ্ধের দিন রাসূলুল্লাহ ﷺ একজন সাহাবীকে পাঠালেন সা'দ ইবনুর রবী' (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু)-এর খোঁজ করার জন্যে। বললেন, সা’দকে পেলে তাঁকে সালাম দিয়ে বলবে—আল্লাহর রাসূল আপনাকে জিজ্ঞেস করছেন, আপনার অবস্থা এখন কেমন?
.
সা’দ ইবনুর রবী’ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু) একজন আনসারী সাহাবী। তাঁকে খোঁজার জন্য পাঠানো হয়েছিল যাইদ বিন সাবিত (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু)-কে।
.
যাইদ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু) বলেছেন, নিহতদের মধ্যে ঘুরতে ঘুরতে তিনি সা’দকে পেলেন। তাঁর দেহে সত্তরটি আঘাতের চিহ্ন। তিনি তখন জীবনের একদম শেষ মুহূর্তে।
.
যাইদ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু) বললেন - সা'দ, আল্লাহর রাসূল আপনাকে সালাম দিয়েছেন, আর জানতে চেয়েছেন—আপনার অবস্থা এখন কেমন।
.
জবাবে সা’দ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু) বললেন, “আল্লাহর রাসূল ও তোমার ওপর শান্তি বর্ষিত হোক! আল্লাহর রাসূলকে আমার সালাম জানিয়ে বলবে, আমি জান্নাতের খুশবু পাচ্ছি।
.
আর আমার গোত্র আনসারদেরকে বলবে—তোমাদের কারও চোখের পলক ফেলার মতো শক্তি থাকতে, আল্লাহর রাসূলের যদি কিছু হয়, তাহলে আল্লাহর দরবারে তোমাদের কোনো ওযর-আপত্তি কাজে আসবে না।”
.
জীবনের শেষ মুহূর্তে এসে একজন সাহাবী নিজের পরিবার, সম্পদ, গোত্র—সবকিছু ভুলে কেবল আল্লাহর রাসূল ﷺ-এর নিরাপত্তার কথা বললেন। নিজেদের গোত্রকে রাসূলের নিরাপত্তার দায়িত্ব স্মরণ করিয়ে দিলেন।
.
.
উহুদের এই দিনে সাহাবায়ে কেরাম (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুম) আল্লাহর জন্য এবং আল্লাহর রাসূল ﷺ-এর প্রতি আনুগত্য ও ভালোবাসার অসাধারণ দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছিলেন।
.
কুরাইশদের তীর যখন রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর দিকে আসছিল, তখন আরেকজন আনসারী সাহাবী, আবু তালহা আল-আনসারি (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু), তাঁর ﷺ সামনে দাঁড়িয়ে ঢাল দিয়ে তাঁকে আড়াল করে রেখেছিলেন।
.
রাসূলুল্লাহ ﷺ যখন যুদ্ধের পরিস্থিতি বোঝার জন্য মাথা তুলে তাকাচ্ছিলেন, তখন আবু তালহা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু) বলছিলেন, “আপনি মাথা ওঠাবেন না, শত্রুর কোনো তীর আপনার গায়ে লাগতে পারে। আমার গলায় তীর লাগুক, আপনার গলায় নয়!” আর বলছিলেন, “আল্লাহর নবি, আপনার জন্য আমার পিতা-মাতা কুরবান হোক!”
.
এই যুদ্ধের এক পর্যায়ে কুরাইশ বাহিনী চারদিক থেকে রাসূলুল্লাহ ﷺ-কে ঘিরে ফেলে। রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর সঙ্গে তখন মাত্র সাতজন আনসার ও দুজন কুরাইশ সাহাবী ছিলেন। রাসূলুল্লাহ ﷺ বললেন—কে এদেরকে আমাদের কাছ থেকে হটিয়ে দেবে?
.
এ কথা শুনে আনসারদের একজন এগিয়ে গেলেন, এবং লড়াই করতে করতে শহীদ হলেন। তারপর আনসারদের আরেকজন এগিয়ে গেলেন, এবং লড়াই করতে করতে শহীদ হলেন। এভাবে একের পর এক সাতজন আনসারী সাহাবী শহীদ হয়ে গেলেন।
.
উহুদের ময়দানে সাহাবায়ে কেরামের ভালোবাসা শুধু আবেগের বিষয় ছিল না। রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর নিরাপত্তা, তাঁর আনুগত্য এবং তাঁর সঙ্গে দ্বীনের পথে দাঁড়ানো, এজন্য নিজের সবকিছু কুরবান করে দেওয়া—তাঁদের কাছে ভালোবাসার বাস্তব অর্থ এটাই ছিল।
.
ভালোবাসার কথা বলা সহজ। কিন্তু সাহাবায়ে কেরাম রাসূলুল্লাহ ﷺ-কে ভালোবেসেছিলেন এমন সময়ে, যখন সেই ভালোবাসার অর্থ ছিল নিজের জীবনকে তাঁর সামনে পেশ করা, তাঁর আদেশ পালন করা এবং তাঁর জন্য ভয়, ক্ষুধা ও মৃত্যুর ঝুঁকি গ্রহণ করা। তাঁরা এই দ্বীনের জন্য নিজেদের বাপ, চাচা, ভাইদের সঙ্গে লড়াই করেছিলেন। সব কিছু ত্যাগ করেছিলেন।
.
সাহাবায়ে কেরাম (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুম আজমাইন), এই উম্মাহর মধ্যে এবং মানবজাতির জন্য শ্রেষ্ঠ প্রজন্ম। তাঁরা যেভাবে কুরআনকে বুঝেছেন, গুরুত্ব দিয়েছেন, দ্বীনকে আঁকড়ে ধরেছেন, দ্বীনের জন্য কুরবানী করেছেন—আর কোনো প্রজন্ম তা করতে পারেনি, পারবেও না।
.
তাঁরা যেভাবে আল্লাহর রাসূল ﷺ-কে সম্মান করেছেন, ভালোবেসেছেন—আর কোনো প্রজন্ম সেভাবে তাঁকে ﷺ ভালোবাসতে পারবে না।
.
আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জাম’আহর মানহাজ হলো সাহাবায়ে কেরাম (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুম) এবং প্রথম তিন প্রজন্মের অনুকরণে দ্বীনকে বোঝা, দ্বীনকে ধারণ করার চেষ্টা করা। এবং আল্লাহর রাসূল ﷺ ও তাঁর পরিবারকে সম্মান করা ও ভালোবাসা।
.
আমরা গুনাহগার, নাফরমান মানুষ। কিন্তু শত দোষত্রুটি এবং কমতির পরও আমরা চেষ্টা করি সর্বশ্রেষ্ঠ প্রজন্মের আদলে আল্লাহর রাসূল ﷺ-এর আনুগত্য করতে এবং তাঁকে ভালোবাসতে।
.
যে কাজ সাহাবায়ে কেরাম করেননি, সালাফুস সালেহিন করেননি, আমাদের ইমামরা করেননি— রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর ওফাতের কয়েক শতাব্দী পর, নাসারাদের অনুকরণে এবং ফাতিমীদের আয়োজনে শুরু হওয়া সেই “মিলাদুন্নবী পালন”-এর মধ্য দিয়ে আমরা বছরে এক দিন রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর প্রতি ভালোবাসা দেখাই না।
.
আবেগ, তা যতো নিখুতই এই দ্বীনের মাপকাঠি না। বাপদাদ বা কওমের অন্ধ অনুসরণ আল্লাহ এবং তাঁর রাসূল ﷺ-এর পছন্দনীয় বিষয় না।
.
আমরা রাসূলুল্লাহ ﷺ-কে ভালোবাসতে চাই যেভাবে সাহাবায়ে কেরাম তাঁকে ভালোবেসেছেন ও সম্মান করেছেন, সেভাবে। তাঁর সুন্নাহকে ধারণ করার মাধ্যমে, তাঁর দিকনির্দেশনা পরিপূর্ণভাবে অনুকরণের চেষ্টার মাধ্যমে।
2 804
একজন সাহাবীকে প্রায় সবাই 'মিথ্যাবাদী' ভেবেছিলো, কিন্তু তাঁর সততার ব্যাপারে আল্লাহ পবিত্র কুরআনে আয়াত নাযিল করেন!
.
মুনাফিক নেতা আব্দুল্লাহ ইবনে উবাই মুসলিমদের মধ্যে কীভাবে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করা যায় এই চিন্তায় থাকতো। সে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে ভালো সাজতো, কিন্তু আড়ালে তাঁর ব্যাপারে দোষারোপ করতো।
একবার সে বললো, মদীনায় গিয়ে মদীনার সম্মানিতরা লাঞ্চিত, বহিরাগতদের বের করে দিবে।
অর্থাৎ, সে সম্মানিত, আর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বহিরাগত (নাউজুবিল্লাহ)!
এই কথাটি শুনে ফেলেন একজন তরুণ সাহাবী; যার বয়স ছিলো মাত্র ১৬ বছর।
আর আব্দুল্লাহ ইবনে উবাই ছিলো ইসলাম-পূর্ব মদীনার নেতা হবার ক্যান্ডিডেট। সে ছিলো সম্মানিত। এজন্য সে রাসূলুল্লাহকে সহ্য করতে পারতো না।
ঐ সাহাবী যখন তার মুখে এমন কথা শুনলেন, তিনি সহ্য করতে পারলেন না। তিনি বললেন, 'আল্লাহর কসম! আমি এই কথা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলে দেবো!"
একথা শুনে আব্দুল্লাহ ইবনে উবাই বললো, না, এটা বলো না।
কিন্তু, সেই সাহাবী অনঢ়। তিনি বললেন, রাসূলের ব্যাপারে আমার বাবাও যদি এমন কথা বলতো, তবুও আমি বিচার দিতাম।
.
কিশোর সাহাবী রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে আব্দুল্লাহ ইবনে উবাইর ব্যাপারে বিচার দিলেন।
তাঁর কথা শুনে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যাচাই করতে চাইলেন— এমন কথা সে আসলেই বলেছে? তোমার কোথাও ভুল হচ্ছে না তো?
কিশোর সাহাবী বললন, না ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমার নিজের দুই কানে আমি শুনেছি।
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ডেকে আনলেন আব্দুল্লাহ ইবনে উবাইকে। জিজ্ঞেস করলেন, কী ব্যাপার? তুমি এমনটা বলছো? ঐদিকে উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু প্রস্তুত, সত্যি হলে তিনি মুনাফিকের শাস্তি দিবেন।
আব্দুল্লাহ ইবনে উবাই, কত্তো বড় মুনাফিক, সে আল্লাহর কসম করে বললো এরকম কথা সে কখনোই বলেনি, এই ছোট্ট ছেলেটা তার নামে মিথ্যা বলছে। এই পিচ্চির কথা গুরুত্ব না দিতে।
.
তখন পর্যন্ত মদীনার লোকদের কাছে আব্দুল্লাহ ইবনে উবাই এতোটা খারাপ ছিলো না; অর্থাৎ সে তখনো এক্সপোজড হয়নি।
যার ফলে সবাই এখন দোষারোপ শুরু করে এই তরুণ সাহাবীকে।
কত্তো বড় সাহস? মদীনার এতো বড় নেতার ব্যাপারে মিথ্যাচার? এই বয়সে যদি এমন হয়, না জানি বড় হলে কী হবে!
এমনকি বড় বড় সাহাবীরা পর্যন্ত সেই কিশোর সাহাবীকে ধিক্কার জানাচ্ছিলেন।
.
বেশ মন খারাপ তাঁর।
কই তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সম্মান রক্ষার জন্য এই বয়সে বিচার দিলেন, সেখানে কিনা তাঁকেই দোষারোপ করা হচ্ছে!
একে তো রাসূলের অসম্মান শুনে কষ্ট, তারওপর এই মিথ্যা অপবাদ।
আল্লাহর কাছে তিনি দুআ করতে লাগলেন, আল্লাহ যেন তাঁকে সাহায্য করেন।
এমন সময় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁকে সুসংবাদ দিলেন। যেই কিশোরের কথা সবাই মিথ্যা হিসেবে ধরে নিয়েছিলো, যাকে সবাই ধমক দিচ্ছে, ধিক্কার জানাচ্ছে, তাঁর পক্ষে কুরআনের আয়াত নাযিল করলেন স্বয়ং আল্লাহ সুবহানাহু ওতা'আলা!
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁকে অভিনন্দন জানিয়ে বলেন— "যে যুবক! আল্লাহ তোমার কথার সত্যায়ন করেছেন!"
আল্লাহ পবিত্র কুরআনের 'সূরা মুনাফিকুন' নাযিল করে আব্দুল্লাহ ইবনে উবাইর মিথ্যাচার তুলে ধরেন, আর সেই সাহাবীর সত্য অভিযোগ।
.
সেই সাহাবীর নাম যায়িদ ইবনে আরকাম রাদিয়াল্লাহু আনহু।
.
তথ্যসূত্র:
সহীহ বুখারী: ৪৯০০-৪৯০৫, সূরা মূনাফিকুনের তাফসীর।
2 804
এই গরমের মধ্যে ঠান্ডা পানি খেতে মন চায়। রাসূলের যুগে তো ফ্রিজ ছিলো না। তিনি কি গরমের সময় ঠান্ডা পানি খেতে চাইতেন?
আবুল হায়সাম ইবনে তায়্যিহান রাদিয়াল্লাহু আনহু নামে একজন আনসার সাহাবী ছিলেন। 'জাসিম' নামে তাঁর একটি কূপ ছিলো। এই কূপের পানি ছিলো ঠান্ডা এবং সুমিষ্ট। প্রচণ্ড গরমের সময় কেউ ঠান্ডা পানি খেয়ে তৃষ্ণা মেটাতে চাইলে 'জাসিম' কূপের পানি খেতো।
এক গরমের দিন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আবুল হায়সাম রাদিয়াল্লাহু আনহুর বাড়ি গেলেন। সাথে ছিলেন আবু বকর রাদিয়াল্লাহু আনহু।
বাড়িতে গিয়ে আবুল হায়সামকে জিজ্ঞেস করলেন, "আবুল হায়সান, ঠান্ডা পানি আছে?"
আবুল হায়সাম নবিজীর আগ্রহ দেখে তোড়জোড় শুরু করলেন। কী সৌভাগ্য, নবিজী তাঁর বাড়িতে ঠান্ডা পানি খেতে এসেছেন!
তিনি এক বালতি বরফের মতো ঠান্ডা পানি নিয়ে আসেন। ছাগলের দুধের সাথে ঠান্ডা পানি মেশান। বিভিন্ন ধরনের খেজুর আর প্লেটভর্তি সারীদ নিয়ে নবিজীর সামনে হাজির হন।
দুপুরবেলা বিশ্রাম নেবার জন্য আবুল হায়সাম রাদিয়াল্লাহু আনহুর একটি ছাউনি ছিলো। এই ছাউনিতে বসলে পর্যাপ্ত বাতাস আসে, ঠান্ডা পরিবেশ।
নবিজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর প্রিয় সাহাবীকে নিয়ে ঠান্ডা পানি, খেজুর, সারীদ খান। ছাউনির নিচে বিশ্রাম নেন।
.
তথ্যসূত্র:
বালাজুরী, আনসাবুল আশরাফ: ১/৫৩৫।
2 804
🤑 Inside Ad-এর মাধ্যমে আপনার টেলিগ্রাম চ্যানেল থেকে আয় করুন! সহজ মনিটাইজেশন ও দ্রুত বৃদ্ধি। আমি সুপারিশ করি! 👍
https://t.me/InsideAds_bot/open?startapp=r_5976289190
2 804
মক্কার একজন আলেম ক্ষুধার্ত অবস্থায় ঘর থেকে বের হলেন।
রাস্তায় খুঁজে পেলেন একটি ব্যাগ। ব্যাগটা নিয়ে ঘরে আসলেন। খুলে দেখলেন সেটাতে একটি হীরার নেকলেস!
তিনি বলেন, এমন নেকলেস আমি আমার জীবনে দেখিনি। মুহূর্তের মধ্যেই তিনি কয়েকশো কোটি টাকার মালিক!
কিছুক্ষণ পর দরজায় একজন নক করলো। তিনি দরজা খুললেন। একজন বৃদ্ধ বললো, "আমি আমার একটি ব্যাগ হারিয়ে ফেলছি। সম্ভবত আশেপাশের কোথাও পড়েছে। কেউ যদি ব্যাগটি পেয়ে থাকেন, তাকে আমি ৫০০ দিনার দেবো।"
৫০০ দিনার মানে কয়েক কোটি টাকা!
যে ব্যক্তি ক্ষুধার্ত অবস্থায় রাস্তায় বের হলেন, তিনি হীরা পেলেন, হীরা ফেরত দেবার বিনিময়ে কোটি টাকার অফার পেলেন, সেই ব্যক্তি আমাদের কাছে অনেক সৌভাগ্যবান মনে হচ্ছে না?
কিন্তু, তিনি ভাবলেন অন্য কিছু। তিনি ভাবলেন, এই হীরার মালিক আমি নই, এগুলোর বিনিময়ে ৫০০ দিনার গ্রহণ করা আমার জন্য ঠিক হবে না।
ফলে, বৃদ্ধকে হীরার থলেটি ফিরিয়ে দিলেন।
মক্কায় জ্ঞানার্জন করতে লাগলেন। এভাবেই কয়েক বছর কেটে গেলো।
একবার তিনি কয়েকজনের সাথে ভ্রমণে বের হলেন। নৌকায় ভ্রমণ করছিলেন। মাঝপথে ঝড় ওঠে। নৌকা ডুবে যায়, প্রায় সবাই মৃত্যুবরণ করে।
সেই আলেম কোনোরকম একটা তীরে ফিরেন। অপরিচিত দ্বীপে গিয়ে কয়েকজনের সাথে কথাবার্তা বললেন। তখন নামাজের সময় হলো।
একজন তার পোশাক দেখে জিজ্ঞেস করলো, "আপনি নামাজ পড়াতে পারবেন?"
তিনি বললেন, "হ্যাঁ, পারবো।"
তার তেলাওয়াত শুনে সবাই মুগ্ধ। তাকে তারা ইমাম হিশেবে রেখে দিলো। তিনি কুরআন পড়তে পারতেন। সেখানকার বাচ্চাদের কুরআন শেখাতে লাগলেন।
প্রতিদিন নানান উপহার-উপঢৌকন আসতে থাকে। দ্বীপের লোকেরা ইমাম সাহেবকে ছাড়তে রাজি না। এমন ইমাম পেয়ে তারা খুব খুশি।
তিনিও ভাবতে লাগলেন, কই থেকে কই আসলেন? একেবারে অপরিচিত এলাকার মানুষ তাকে আপন করে নিলো। আল্লাহ তার রিযিকের কী সুন্দর ব্যবস্থা করেছেন!
ইমাম সাহেব যেন তাদেরকে ছেড়ে যেতে না পারেন, সেজন্য তারা একজন ইয়াতিম মেয়ের সাথে ইমামের বিয়ে দিতে চাইলো। অনেকটা জোর করেই বিয়ে দিলো!
ইমাম সাহেব বাসর রাতে স্ত্রীকে দেখে অবাক। তিনি দেখতে পেলেন স্ত্রীর গলায় সেই হীরার নেকলেস, যেটা তিনি মক্কায় ফেরত দিয়েছিলেন বৃদ্ধকে!
পরদিন লোকজনকে জিজ্ঞেস করলেন, এটা কীভাবে সম্ভব?
লোকজন চিৎকার করে বললো, "আল্লাহু আকবর!"
এমন চিৎকারে ইমাম সাহেব ভয় পেয়ে গেলেন।
লোকজন বললো, "কয়েকবছর আগে আমাদের এলাকার সম্ভ্রান্ত ব্যক্তি মক্কা থেকে ফিরে একটি ঘটনা শুনান। সেখানে এক যুবক তার হারিয়ে যাওয়া হীরের নেকলেস ফেরত দিয়েছে, যা তিনি নিজের মেয়ের জন্য কিনেছিলেন।
এলাকায় ফিরে তিনি আফসোস করতে থাকেন সেই যুবকের জন্য। তিনি ইচ্ছাপোষণ করেন সেই যুবকের সাথে মেয়ের বিয়ে দেবেন।
কিন্তু, তার আগেই তিনি ইন্তেকাল করেন!
দেখুন, আপনার তাকদীর, সেই সম্ভ্রান্ত লোকের দু'আ আপনাকে এখানে নিয়ে আসলো। আপনি সেই মেয়েকেই বিয়ে করেন, যার জন্য সেই মেয়ের বাবা দু'আ করে যান। যেই হীরার নেকলেস আপনি ফিরিয়ে দিয়েছিলেন, এখন সেই নেকলেস আপনার ঘরে!"
সেই মহান আলেমের নাম ছিলো কাদিল মারিস্তান।
তার মনে পড়লো কুরআনের একটি আয়াত:
"ধৈর্যধারণ করো। আল্লাহ পুণ্যবানদের প্রতিদান নষ্ট করেন না!" [সূরা হুদ: ১১৫]
2 804
সাধারণ ভাই-বোন দের অনেকেই ঈমান ও আক্বীদার জন্য কিতাবের সাজেশন চান। তারা ঈমান ও আক্বীদার মূলমর্ম ও বর্তমান সভ্যতার সাথে প্রাসঙ্গিক করে বিষয়গুলো পড়তে চান। তাদের জন্য ছোট করে একটা সাজেশন তৈরির চিন্তা করছিলাম।
১। আক্বীদাতুত তহাভীর মূল পাঠ। অর্থাৎ এটার কোন ব্যাখ্যাগ্রন্থ নয়, বরং মূল কিতাবটি উদ্দেশ্য।
✨ https://rkmri.co/mA0A00RmT5o0/
২। ঈমান সবার আগে ~ মাওলানা আব্দুল মালেক হাফিজাহুল্লাহ। এটা সাধারণ জন্য উপযোগী করে লেখা এবং অত্যন্ত মুফিদ কিতাব।
✨ https://rkmri.co/lpMyRI5RAyNe/
৩। মুহাম্মাদ কুতুব রহিমাহুল্লাহর মাফাহিম গ্রন্থের অনুবাদ। চিন্তার পরিশুদ্ধি নামে রুহামা থেকে অনুদিত হয়ে এসেছে। এটিতে ঈমানের মৌলিক বিষয়গুলোর মর্ম সম্পর্কে এমন এপ্রোচে আলোচনা করা হয়েছে যে, বর্তমান জাহেলী সভ্যতার বিরুদ্ধে মজবুত এক চিন্তাকাঠামো তৈরিতে সকলের জন্য উপযোগী হবে ইনশাআল্লাহ।
✨ https://rkmri.co/E5eASReAE0SR/
৪। ফুরুঊল ঈমান ~ হাকিমুল উম্মত আশরাফ আলি থানভী রহিমাহুল্লাহ
✨ https://rkmri.co/5eEoEl30pNeM/
৫। তাওহিদের কালিমা ~ শাইখ হারেস আন নাজ্জারি রহিমাহুল্লাহ
✨ https://rkmri.co/MA2eISl5eoAm/
৬। আমি ঈমান এনেছি~ হাফিজ আল মুনাদি হাফিজাহুল্লাহ
✨ https://rkmri.co/NA5eISSI02AM/
৭। ইসলামী আক্বীদা-বিশ্বাস ~ মাওলানা তাকি উসমানি হাফিজাহুল্লাহ
✨ https://rkmri.co/pyA23A053A0A/
৮। তাওহিদ, শিরক ও তার প্রকারভেদ ~ আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী রহিমাহুল্লাহ।
✨ https://rkmri.co/ooeM3eoAoNMI/
৯। কালিমায়ে তাইয়েবা: বিশ্লেষণ ও ঈমান ভঙ্গের কারণ ~ মাওলানা সফিউল্লাহ ফুয়াদ হাফিজাহুল্লাহ
✨ https://rkmri.co/25TeEyyeN53T/
১০। তাকবিয়াতুল ঈমান ~ শাহ ইসমাঈল শহীদ রহিমাহুল্লাহ
✨ https://rkmri.co/Ep0eepAMNTmM/
১১| ইসলামি আকীদা ~ ড.খন্দকার আবদুল্লাহ জাহাঙ্গীর (রহ)
✨ https://rkmri.co/E35MeNlMMR0y/
অন্যান্য 👇
>#> সাধারণ বোনদের জন্য সমসাময়িক ইসলামী বইয়ের লিস্ট
✨ https://t.me/alaksa10/9445
>#> বিয়ের আগে যে বই গুলো পড়া উচিত
✨ https://t.me/alaksa10/9865
>#> বর্তমানের বেস্ট সেলিং বই এর লিস্ট
✨ https://t.me/alaksa10/9864
2 804
Repost from Asif Adnan (আসিফ আদনান)
গ্রিক পুরাণে প্রমিথিউস নামে এক দেবতার কথা পাওয়া যায়। দেবতাদের মধ্যে দুই দল ছিল, টাইটান আর অলিম্পিয়ান। প্রমিথিউস ছিল টাইটান। সে কাঁদামাটি থেকে মানুষ সৃষ্টি করে। তাকে দেয় দেবতাদের মতো সোজা হয়ে দাঁড়াবার ক্ষমতা।
.
যিউস এবং অন্যান্য অলিম্পিয়ান দেবতারা এতে অসন্তুষ্ট হয়। মানুষকে অধীনস্ত করে রাখার জন্য পৃথিবী থেকে সব আগুন তুলে নেয় দেবতাদের রাজা যিউস। কিন্তু মানুষের যে আগুনের প্রয়োজন। আগুন ছাড়া সভ্যতার বিকাশ অসম্ভব।
.
প্রমিথিউস তখন স্বর্গ থেকে আগুন চুরি করে আগুন এনে দেয় মর্ত্যের মানুষকে। এই আগুন পরিণত হয় মানবসভ্যতার চালিকা শক্তিতে। জন্ম হয় প্রযুক্তি আর বিজ্ঞানের। গড়ে ওঠে শিল্পসাহিত্যের চোখ ধাঁধানো ভাণ্ডার। প্রমিথিউস মানুষকে মহত্ব আর মুক্তি এনে দেয়। কিন্তু স্বর্গের বিরুদ্ধে এই বিদ্রোহের জন্যে চরম মূল্য দিয়ে হয় তাকে।
.
যিউস তাকে শেকল দিয়ে বেঁধে ফেলে পাহাড়ের সাথে। প্রতি সকালে এক বিশাল ঈগল এসে হাজির হয় বন্দী প্রমিথিউসের কাছে। ঠুকরে ঠুকরে তার কলিজা খায় দিনভর। রাতে আবার সেই কলিজা নতুনের মতো হয়ে যায়। পরদিন সকালে আবার আসে ঈগল। চক্র চলতে থাকে।
.
.
আধুনিকতা মানুষকে দেখে প্রমিথিউসের ছাঁচে। গ্রিক পুরাণের দেবতারা ছিল মানবতাবিরোধী। তারা মানুষকে দাবিয়ে রাখতে চেয়েছিল। নিয়ন্ত্রন করতে চেয়েছিল। মানুষের মুক্তির সংগ্রাম ছিল দেবতাদের স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে।
.
স্বাধীনতার অর্থ ছিল আসমানের নিয়ন্ত্রন থেকে মুক্ত হওয়া। প্রমিথিউস মানুষকে মুক্তি এনে দিয়েছিল জ্ঞান, বিজ্ঞান, প্রযুক্তির আর শিল্পের মাধ্যমে, আগুনের মাধ্যমে।
.
আধুনিকতাও মনে করে স্বাধীনতার অর্থ হল আসমানের দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়া। ধর্ম আর স্রষ্টার ‘শাসন’ থেকে মুক্ত হওয়া। মানুষ দীর্ঘ এক বিবর্তন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে হোমো স্যাপিয়েন্স (Homo Sapiens) হয়ে উঠেছে।
.
শাব্দিকভাবে হোমো স্যাপিয়েন্স অর্থ বিজ্ঞ মানুষ, জ্ঞানী মানুষ, বিচক্ষণ মানুষ। বিজ্ঞ মানুষ আসমানের নিয়ন্ত্রন থেকে মুক্ত। সে কারও গোলামি করে না। নিজের জীবনের নিয়তি ঠিক করে সে নিজেই। সে পৃথিবীকে দখল করতে চায়, প্রকৃতিকে নিয়ন্ত্রন করতে চায়, রাজত্ব করতে চায় মহাবিশ্বের ওপর।
.
বিজ্ঞ মানুষ আসমানের দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে তার দৃষ্টি নিবদ্ধ করে দুনিয়ার দিকে। নিজেকে সে মহাবিশ্বের কেন্দ্রে বসায়। নিজের বিবেককে বানায় পরম মাপকাঠি। মানুষই ভালোমন্দ ঠিক করে। মানুষই চূড়ান্ত কর্তৃপক্ষ। সবার ওপর মানুষ সত্য তাহার ওপর নাই!
.
.
ইসলাম মানুষকে সংজ্ঞায়িত করে উবুদিয়্যাহ আর খিলাফাহর মাধ্যমে। কুরআনে আল্লাহ্ আমাদের জানিয়েছেন, মানুষ আল্লাহর গোলাম। তাঁর সম্মানিত সৃষ্টি। আল্লাহ্ মানুষকে জ্ঞান দিয়েছেন, সক্ষমতা দিয়েছেন। মর্যাদা দিয়েছেন অন্যান্য সৃষ্টির ওপর। তার মধ্যে পাশবিক দিক আছে, কিন্তু একই সাথে সে আছে মহত্বের সম্ভাবনা।
.
মানুষ মাটির তৈরি কিন্তু মাটির এ পৃথিবী তার আসল ঠিকানা না। তাঁর আসল বাড়ি জান্নাহ। সে আখিরাতের মুসাফির, যে অল্প কিছু সময়ের জন্য দুনিয়াতে অবস্থান করছে। মৃত্যুর পর আল্লাহ্ সব মানুষকে পুনরুত্থিত করবেন। দুনিয়ার জীবনের কাজের ভিত্তিতে মানুষের তখন বিচার হবে, কেউ পুরস্কৃত হবে, কেউ পাবে শাস্তি।
.
মানবজাতির পিতা আদম আলাইহিসসালাম-কে আল্লাহ্ সৃষ্টি করেছেন তাঁর গোলাম এবং পৃথিবীতে তাঁর খালীফাহ হিসেবে। বনী আদম, আদমের সন্তানদের সম্মান, মর্যাদা, জীবনের উদ্দেশ্য– সব কিছু তাঁদের পিতার এই পরিচয়ের সাথে যুক্ত।
.
মানুষ পৃথিবীতে আল্লাহর প্রতিনিধি। বনী আদমকে পৃথিবীর অন্য সব প্রানীর ওপর কর্তৃত্ব করার ক্ষমতা দেয়া হয়েছে, একই সাথে দেয়া হয়েছে দায়িত্বও। তার দায়িত্ব—পৃথিবীতে এক আল্লাহর ইবাদাত প্রতিষ্ঠিত করা। আল্লাহর হক্ব এবং সৃষ্টির হক আদায় করা। দুনিয়াতে আল্লাহর নাযিলকৃত দ্বীন ইসলামকে বাস্তবায়ন করা।
.
.
আধুনিকতাকে মানুষকে প্রমিথিউসের ছাঁচে দেখে। ইসলাম বলে খিলাফাহ-র কথা। আধুনিকতা আসমানের বিরুদ্ধে বিদ্রোহের মধ্যে সাফল্য খুঁজে পায়। ইসলাম বলে সাফল্যের চাবিকাঠি তাওহীদ আর তাকওয়া। সাফল্য মহান আল্লাহর আনুগত্য তথা উবুদিয়্যাহর মধ্যে।
.
আধুনিকতা মানুষকেন্দ্রিক, তার চিন্তার সীমানা দুনিয়াকেন্দ্রিক। ইসলাম বলে সবকিছুর কেন্দ্র হলেন আল্লাহ্। আধুনিকতা মানুষের বিবেককে মাপকাঠি বানায়। দুনিয়াকে চালাতে চায় মানুষের বানানো বাদমতবাদ দিয়ে। ইসলাম বলে আল্লাহ একাই হলেন মালিক। তিনিই নৈতিকতা নির্ধারণ করেন বৈধ আর অবৈধ ঠিক করেন, ইবাদাত ও আইন; সর্ব ক্ষেত্রে তিনিই চূড়ান্ত কর্তৃপক্ষ।
.
আধুনিকতা আর ইসলাম, এই দুই দ্বীনের মধ্যে বিরাজ করে এক অনতিক্রম্য দূরত্ব।
2 804
নারী যখন বলে, আমার যা ইচ্ছে আমি পরব, পুরুষ তার দৃষ্টি নিচে রাখবে।
ব্যপারটা তখন আমার কাছে এমন হয় যে, "পুরুষ তুমি দৃষ্টি সংযত রেখে আল্লাহর হুকুম মেনে জান্নাতে যাও, আর আমি বিবস্ত্র থেকে আল্লাহর হুকুম অমান্য করে জা*হান্নামে যাই। My Life My Choice!”
সাধে কি আর জা*হান্নামে নারী বেশি থাকবে? আসলে জা*হান্নাম বেছে নেওয়াটাই ওদের চয়েজ!
— যাইনাব আল গাজী
2 804
শত ব্যস্ততার মাঝেও নির্দিষ্ট আমল পূরণ করার জন্য সালাফদের পূর্ণ মনোযোগ থাকত। কারণ তাঁরা জানতেন, নামাজে কুরআন তিলাওয়াত ও কুরআনে বর্ণিত তাসবিহ পাঠ আত্মার খোরাক। যা ছাড়া আত্মার বেঁচে থাকা সম্ভব নয়। তাঁরা শরীরের জন্য খাদ্য গ্রহণের আগে, রূহের খোরাকের প্রতি মনোযোগী হতেন; এতে কোনো ধরনের ব্যত্যয় ঘটলে, তাঁরা এর অভাব হাড়ে-হাড়ে টের পেতেন।
কিন্তু পরিতাপ তাদের জন্য, যারা কুরআন থেকে অনেক দূরে। যাদের ক্ষুধা ও তৃষ্ণা হচ্ছে দেহ-কেন্দ্রিক। তারা কীভাবে আত্মার মধ্যে ঘটে যাওয়া কোনো কিছুর শূন্যতা অনুভব করবে?
[বই : কুরআন অনুধাবন (পদ্ধতি ও সতর্কতা), পৃ. ২৯]
2 804
ইবনে আব্বাস (রা.) হতে বর্ণিত,
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) পানির পাত্রের মধ্যে নিঃশ্বাস ফেলতে অথবা তাতে ফুঁ দিতে বারণ করেছেন।
— সুনান আবু দাউদ, হাদিস : ৩৭২৮
[ফুটনোট : আমরা যখন নিঃশ্বাস বা ফুঁ ছাড়ি, তখন মূলত কার্বন ডাই অক্সাইড (CO₂) গ্যাস বের হয়। চিকিৎসাবিজ্ঞানের কিছু গবেষণায় বলা হয়, গরম পানি বা তরল খাবারে ফুঁ দিলে এই কার্বন ডাই অক্সাইড পানির অণুর সাথে বিক্রিয়া করে এক ধরনের অম্লীয় উপাদান (Carbonic Acid) তৈরি করতে পারে, যা পাকস্থলীর জন্য ক্ষতিকর।]
2 804
শয়তান যদি কাউকে গুনাহে জড়াতে ব্যর্থ হয়,
তাকে আমল থেকে দূরে সরানোর চেষ্টা করে।
তারপর যদি আমল থেকে সরাতেও ব্যর্থ হয়,
তখন সে তার নিয়ত আল্লাহর থেকে ঘুরিয়ে দেবার চেষ্টা করে।
সে ততক্ষণ পর্যন্ত হাল ছাড়ে না, যতক্ষণ পর্যন্ত না নিশ্চিত হচ্ছে, আপনি আল্লাহর রহমত থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
বই : সবুজ পাতার বন ২
2 804
শয়*তান থেকে আত্মরক্ষার জন্য বান্দা দশটি কাজ করতে পারে :
১. আল্লাহর কাছে শ*য়তান থেকে আশ্রয় চাইবে।
২. সূরা ফালাক ও সূরা নাস পড়বে।
৩. আয়াতুল কুরসি পড়বে।
৪. সূরা বাকারা পড়বে।
৫. সূরা বাকারার শেষ আয়াতগুলো পড়বে।
৬. সূরা গাফিরের (আল-মু'মিন) শুরু অংশ পড়বে।
৭. বেশি বেশি বলবে :
لَا إِلٰهَ إِلَّا اللَّهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ، لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ
৮. আল্লাহকে বেশি বেশি স্মরণ করবে।
৯. বেশি কথা, বেশি দেখা আর বেশি খাওয়া এড়িয়ে চলবে।
১০. আর মানুষের ভিড় থেকে দূরে থাকবে।
— ইমাম ইবনুল কায়্যিম (রহি.)
[সূত্র : বদায়েউল ফাওয়ায়েদ, ২/২৬৭]
