uz
Feedback
আকাবির-কথন

আকাবির-কথন

Kanalga Telegram’da o‘tish

Ko'proq ko'rsatish
Mamlakat belgilanmaganToif belgilanmagan
1 212
Obunachilar
+1524 soatlar
+237 kun
+3830 kun
Postlar arxiv
শাইখুল হাদীস মাওলানা যাকারিয়া রহ. পুরো জীবন (শুক্রবারে) আসরের নামায পড়ার সময় মসজিদে এতেকাফের নিয়তে ঢুকতেন এবং মাগরিব পড়ে বের হতেন। এ সময় কারও সাথে কোনো কথাবার্তা বলতেন না। তার জীবনীতে পাওয়া যায়, সফরে থাকলে গাড়িতে এতেকাফের নিয়তে বসে থাকতেন। আর সঙ্গীদের বলে দিতেন, আসর থেকে মাগরিব পর্যন্ত তার সাথে কেউ যেন কোনো কথা না বলে। গাড়িতে সফর করছেন। বসে আছেন। কিন্তু ওই সময় তার সাথে কারও কথা বলার অনুমতি ছিল না। [মুমিনের ইবাদত : ১২-১৩]

ধীরে ধীরে আমরা আরও বেশি অনলাইন-নির্ভর হয়ে যাচ্ছি, জীবনকে স্মার্টফোনের সাথে আরও বেশি যুক্ত করে ফেলছি। অহেতুক কথা ও কাজ আরও বেশি হচ্ছে। দাওয়াতের নিয়তে ফেসবুকে ঢুকে রিল দেখে ঘণ্টার পর ঘণ্টা পার করছি। আমাদের অন্তরে অনেক বেশি কালি লেগে যাচ্ছে। অন্তর শক্ত হচ্ছে দ্রুত। অন্তর নরম হওয়ার সুযোগ কম পাচ্ছে। আগে এক ঘণ্টার বয়ান শুনে অন্তর গলে যেত, এখন ৫ ঘণ্টাতেও সে প্রভাব পড়ছে না। আমরা তো আর এই অবস্থা থেকে বের হতে পারছি না। অন্তত কিছু কাজ করা যায়। -দৈনিক অবশ্যই আখিরাত সংক্রান্ত কিছু বই পড়া বা আলোচনা শোনা -কিছুক্ষণ কুরআন পড়া ও শোনা -দিল লাগিয়ে ১০০/২০০ বার এস্তেগফার পড়া। -মাসে একদিন হলেও সারাদিন মসজিদে থাকা। © মুহাম্মদ হোসাইন (উমেদ)

ইয়াযিদ বিন কুমাইত রহ. বলেন, আবু হানীফা রহ. ছিলেন খুবই খোদাভীরু একজন ব্যক্তি। একবার মুয়াজ্জিন আলী বিন হুসাইন আমাদের ইশার নামাজ পড়াচ্ছিলেন এবং নামাজে সূরা যিলযাল তিলাওয়াত করছিলেন। আবু হানীফা রহ. পেছনেই ছিলেন। তিনি সূরা যিলযালের শেষ আয়াত শ্রবণের পর ফজর পর্যন্ত সেখানে দণ্ডায়মান ছিলেন এবং এ বলে দুআ করেছিলেন, হে ওই সত্তা, যিনি প্রত্যেককে তার কিঞ্চিৎ পরিমাণ আমলেরও প্রতিদান দান করবেন। চাই সেটা ভালো হোক কিংবা মন্দ! তোমার বান্দা নুমানকে জাহান্নামের শাস্তি থেকে রক্ষা করো এবং তোমার ব্যাপক রহমতের অন্তর্ভুক্ত করো। [কুরআন অনুধাবন : ১২৭]

ইমাম শাফেয়ি রহিমাহুল্লাহ বলেন : আমি ১৬ বছরে মাত্র একবার পেট ভরে খেয়েছিলাম। এবং সেটাকেও বমি করে ফেলে দিয়েছি। কারণ পেট ভরে খাওয়া পেট ভারী করে দেয়, অন্তর শক্ত করে দেয়, আকল নষ্ট করে দেয়, ঘুম কেড়ে নেয় এবং ইবাদতে অলসতা তৈরি করে। [সুনান ও আদব : ৬৯]

নিশ্চয় নেক আমলের চিহ্ন বান্দার ওপর বিস্তার লাভ করে। নেক আমলের আলো বান্দার চেহারায় ফুটে ওঠে। অন্তরে নূর পয়দা হয়। শরীরে শক্তি হয়। রিজিক প্রশস্ত হয়। সৃষ্টজীবের জন্য অন্তরে ভালোবাসা তৈরি হয়। এমনিভাবে পাপেরও প্রভাব আছে। এতে চেহারায় কালো দাগ পড়ে, অন্তর অন্ধকারাচ্ছন্ন হয়। দেহে দুর্বলতা, রিজিকে ত্রুটি ও সৃষ্টিজীবের প্রতি ক্রোধ আসে। -ইবনে আব্বাস রা. [আল-ওয়াবিলুস সায়্যিব : ৮০]

ইবনু তাইমিয়া রাহিমাহুল্লাহ বলতেন, প্রকৃত বন্দি তো সে, যে তার রবের হাতে বন্দি। আর আসল আটক তো সে, যে তার প্রবৃত্তির হাতে আটক আছে। [আল-ওয়াবিলুস সায়্যিব : ১২২]

আমি শাইখুল ইসলাম ইমাম ইবনু তাইমিয়া রাহিমাহুল্লাহকে বলতে শুনেছি, নিশ্চয় দুনিয়ার একটি জান্নাত আছে, যে ব্যক্তি এই দুনিয়ার জান্নাতে প্রবেশ করেনি, সে মূলত আখিরাতের জান্নাতে প্রবেশ করেনি। তিনি আরও একবার আমাকে বলেছেন, শত্রুরা আমার আর কীই-বা ক্ষতি করতে পারবে! আরে, আমি তো জান্নাতকে বুকে নিয়ে ঘুরি। কারাগার আমাকে দেয় আসমানের মালিকের সাথে একাকী সময় কাটানোর সুযোগ, আর শত্রুরা আমায় হত্যা করলে আমি পান করব শাহাদাতের অমৃত সুধা, আর যদি তারা আমাকে নির্বাসনে পাঠায় তবে আমি বেরিয়ে পড়ি দ্বীনি সফরে। কারাগারে বন্দি থাকাবস্থায় তিনি বলেছেন, কারাগারে তারা আমাকে বন্দি করে উপকার করেছে, এ কারণে আমি যদি এই কামরা ভরতি স্বর্ণ তাদের জন্য খরচ করি, তবুও তাদের প্রতিদান আদায় হবার মতো নয়। কখনো-কখনো বলতেন, তাদের আমি কী প্রতিদান দেবো, তারা আমাকে বন্দি করে যে উপকার ও কল্যাণ করেছে! [আল-ওয়াবিলুস সায়্যিব : ১২২]

যদি পৃথিবীর সবাইকেই ভুলে যেতে পারতাম...
যদি পৃথিবীর সবাইকেই ভুলে যেতে পারতাম...

photo content
+3

photo content
+9

দুনিয়ার জীবন আখিরাতের তুলনায় কতটা তুচ্ছ? কারও দুনিয়ার জীবন ৫০ বছর, কারও ৬০ বছর, কারও ৮০ বছর। এর আগে আমরা ছিলাম মায়ের পেটে প্রায় ১০ মাস। এখন ভাবুন—এই ১০ মাসের জীবনকে ৫০–৮০ বছরের জীবনের সাথে তুলনা করলে কত ছোট মনে হয়! আমরা সবাই বলব—ওটা আবার কোনো জীবন হলো নাকি! এবার আরেক ধাপ সামনে যাই। ৮০ বছর দুনিয়া কাটিয়ে আমরা কবরে চলে যাব। আদম আ.-এর সময় থেকে আজ পর্যন্ত কত মানুষ কবরে শুয়ে আছে! আর কে জানে আরো কতদিন শুয়ে থাকবে! এখন দুনিয়ার ৫০–৮০ বছরের জীবনকে কবরের এই দীর্ঘ জীবনের সাথে তুলনা করুন—দুনিয়ার জীবন কত তুচ্ছ মনে হবে! কিন্তু কবরের জীবনও চিরস্থায়ী না। কবরের জীবন যতই দীর্ঘ হোক, এটাও শেষ হয়ে যাবে। তারপর আসবে হাশরের দিন। হাশরের একদিন হবে ৫০ হাজার বছরের সমান! এখন কবরের জীবনকে এই ৫০ হাজার বছরের সাথে তুলনা করলে—কবরের জীবনও একেবারে তুচ্ছ মনে হবে! তারপর শুরু হবে আসল জীবন। এই ৫০ হাজার বছরের দিন শেষ হলে শুরু হবে আসল জীবন। যে জীবন কখনো শেষ হবে না, কোনো সীমা নেই, কোনো শেষ নেই। তুমি ভাবতে ভাবতে ক্লান্ত হয়ে যাবে, কিন্তু সেই জীবন শেষ হবে না! #খুতুবাত

photo content

শাহ সুলতান আহমদ নানুপুরী রহ. খাদেমকে বললেন, আমি কলা খাবো, দোকানে গিয়ে কলা নিয়ে আসো। খাদেম মনে মনে ভাবলো, এতো গভীর রাতে বাজারে দোকান খোলা থাকবে না। তাও হযরতের আদেশ মান্য করে খাদেম বাজারে গিয়ে দেখে, একটি দোকান খোলা, এবং দোকানের সামনে কলা ঝুলছে! কলা ক্রয় করে হযরতের সম্মুখে পেশ করলেন। হযরত জিজ্ঞেস করলেন, দাম কত? খাদেম বলল, অন্যান্য সময়ের চেয়ে এখন একটু বেশি দাম দিয়ে কিনতে হয়েছে, কারণ বাজারে একটা মাত্র দোকান খোলা। তখন হযরত বললেন, দেখো! বাজারে একটা দোকান খোলা থাকায় কলার দাম বেড়ে গেছে, তেমনি যে ব্যক্তি তাহাজ্জুদ পড়ে, আল্লাহ পাক দেখেন, দুনিয়ার সকল লোক ঘুমে বিভোর কিন্তু এক ব্যক্তি নামায পড়ছে। তখন আল্লাহ পাকের কাছে উক্ত ব্যক্তির দাম এবং তার নামাজের দাম বেড়ে যায়। তখন যদি সে টুটিপুঁটি ইবাদতও করে আল্লাহ পাকের কাছে তার দাম অনেক বেশি! আল্লাহু আকবার, কী সুন্দর দৃষ্টান্ত আমাদের জন্য! #খুতুবাত

প্রথম কর্মস্থল গোপালপুর মাদরাসা মসজিদ। কত স্মৃতি জড়িয়ে আছে এখানে। আশরাফ ভাইয়ের মতো অসাধারণ মানুষকে পেয়েছিলাম এখানের বদৌলতেই।
প্রথম কর্মস্থল গোপালপুর মাদরাসা মসজিদ। কত স্মৃতি জড়িয়ে আছে এখানে। আশরাফ ভাইয়ের মতো অসাধারণ মানুষকে পেয়েছিলাম এখানের বদৌলতেই।

ফেসবুকে দাওয়াতী কাজে শুধু রিয়ার আশঙ্কা প্রবল, তা-ই না—মানুষের প্রশংসায় প্রভাবিত হওয়া, লোকের প্রশংসাকে নিজের পক্ষে প্রমাণ ভাবা, নিজের সম্পর্কে উঁচু ধারণা তৈরি হওয়া, লাইক-শেয়ারের ফাঁদে পড়া, আরও বেশি লাইক অর্জনের উপযোগী পোস্ট দেয়ার অবদমিত আকাঙ্ক্ষা তৈরি হওয়া, ভক্তকুল দ্বারা প্রভাবিত হওয়া, একসময় ভক্তকুলের পছন্দ-অপছন্দের মাধ্যমে চালিত হওয়া, দ্বীনী পথে ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জনের প্রচেষ্টা তৈরি হওয়া, নিজেকে পাবলিক ফিগার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার চেষ্টা করা, দাওয়াহ-পেইজের মাধ্যমে নিজস্ব ব্র্যান্ডিং করা, দ্বীনী ট্রলের নামে হাসি-তামাশাকে একটা নিয়মিত ব্যস্ততা বানিয়ে নেয়াসহ এমন জানা-অজানা প্রচুর দ্বীনী ক্ষতি রয়েছে। [কল্পিত কারাবাস : ৪০]

photo content
+6

'কেন আমরা আমল করছি না' এই প্রশ্নের জবাবে অলসতা, উদাসীনতা, আমলের আগ্রহে ঘাটতিকে দায়ী করা যায়। এটা বাস্তবও। কিন্তু এর পাশাপাশি আরও বড় কারণ হলো, মানুষের আমল করার সময় নেই। দৈনন্দিন আমলগুলো করার জন্য একটা মিনিমাম সময় প্রয়োজন। কিন্তু দিনে যে মানুষটার কয়েক ঘণ্টা কেটে যাচ্ছে স্মার্টফোনে, সে নিজের অন্যান্য কাজ ঠিক রেখে বাড়তি আমল করার ফুরসত কোথায় পাবে! স্যোশাল মিডিয়ায় কয়েক ঘণ্টার ব্যস্ততা শেষ করতে করতে গভীর রাত হয়ে যাবে। তখন মনের মধ্যে ফজরের আগে ওঠার তাড়া তৈরি হবে। কেউ উঠতে পারবে, কেউ পারবে না। ফজরের পর লম্বা ঘুম অনিবার্য হবে। ঘুম থেকে উঠতে উঠতে অনেকের দিনের অর্ধেক শেষ। দৈনন্দিন কাজগুলো সারতে সারতে বাকি দিন পার হবে। এর মধ্যে আবার স্যোশাল মিডিয়ার ক্ষুধা তৈরি হবে। বিভিন্ন ইস্যুতে মনোযোগ দিতে গিয়ে দেখতে দেখতে আবার মধ্যরাত। আবার ফজরের নামাজের তাড়া-চক্র চলতে থাকবে। দুঃখের ব্যাপার হলো, নিয়মিত গভীর রাত পর্যন্ত জেগে থাকার পরেও তাহাজ্জুদ পড়ার সুযোগ খুব একটা হয়ে ওঠে না! [কল্পিত কারাবাস : ৪৫]