uk
Feedback

Не попадись на ботовода! Telemetrio знаходить і позначає такі канали мітками 👉 Хочеш бачити мітку, оформляй підписку

Fatayat al-Huda (হিদায়াতের কন্যারা)

Fatayat al-Huda (হিদায়াতের কন্যারা)

Відкрити в Telegram
2 217
Підписники
+324 години
+597 днів
+19630 днів
Архів дописів
১৮৮৪৯৬ (প্রায় ১ লাখ ৮৯ হাজার) টাকা। মোহরানার ব্যাপারে আরেকটি পর্বে আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ কথা থাকবে, ইনশাআল্লাহ। • বন্ধন (দ্বাদশ পর্ব) ~ Nusus 🍀 বিঃদ্রঃ এই পোস্টটি আরও ৪ বছর আগে Nusus পেইজের লেখা। এজন্য বর্তমানে রূপার মূল্যের সাথে মিলবে না। আপনারা বর্তমান মূল্য অনুসারে হিসাব করবেন ইন শা আল্লাহ। • পর্ব-১১ (নির্দিষ্ট কাউকে চাওয়া) @FatayatalHuda

💌 বিয়ের মোহরানা কেমন হওয়া উচিত? ফাতেমী মোহরানা বলতে কী বুঝায়? মোহরানা সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ কত হবে? (দলিলের আলোকে) (১) বিয়ের মোহরানা সম্পর্কে ইসলামের নীতি: বিয়ের মোহরানা হলো একজন নারীর সম্মানের বিষয়। স্বামী এটি তাকে উপহার দিয়ে সম্মানিত করে। তাই, এটি দিতে হয় খুশিমনে। আল্লাহ তা‘আলা বলেন, ‘‘তোমরা নারীদেরকে তাদের মোহরানা দাও খুশিমনে, স্বপ্রবৃত্ত হয়ে।’’ [সুরা নিসা, আয়াত: ০৪] (২) নবিজির মোহরানা কেমন ছিলো? আবু সালামা ইবনে আবদুর রহমান বলেন, আমি আয়িশা (রা.)-কে জিজ্ঞাসা করলাম, নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কর্তৃক মোহরানা কত ছিলো? তিনি বললেন, ‘নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর স্ত্রীদেরকে সাড়ে ১২ উকিয়া অর্থাৎ পাঁচ শ’ দিরহাম মোহরানা দিয়েছেন।’ [ইমাম মুসলিম, আস-সহিহ: ৩৩৮০] তখনকার সময়ে কারও কাছে ৫ উকিয়া থাকলেই যাকাত ফরজ হতো। সুতরাং সাড়ে ১২ উকিয়া যথেষ্ট পরিমাণ মোহর এবং সম্মানজনক মাল ছিলো। ৫০০ দিরহামের একটা হিসাব করা যাক। ১ দিরহাম = ২.৯৭ গ্রাম, সুতরাং ৫০০ দিরহাম = প্রায় ১৪৮৮ গ্রাম রৌপ্য। [এই হিসাবটি নেওয়া হয়েছে শায়খ মুহাম্মাদ সলিহ আল মুনাজ্জিদ (ফা. আ.) পরিচালিত islamqa(dot)info থেকে] তবে, নবিজির এই পরিমাণটি আমাদের জন্য শরয়ি সুন্নাত নয়। কেউ চাইলে এটির উপর আমল করতে পারেন আবার নাও করতে পারেন। কারণ সালাফে সালিহিন হুবহু নবিজির নির্দিষ্ট মোহরানাকে স্ট্যান্ডার্ড ধরেননি। কেউ এর চেয়ে বেশি দিয়েছেন, কেউ কমও দিয়েছেন। একজন সাহাবি ১ লক্ষ দিরহামে বিয়ে করেছিলেন। [ইমাম আবু দাউদ, আস-সুনান: ২১১৭; হাদিসটি সহিহ] আবার বউকে কুরআন শেখানোর পরিশ্রমের বিনিময় হিসেবেও একজন হতদরিদ্র সাহাবিকে বিয়ে দিয়েছেন নবিজি। তাঁর কাছে এককথায় কিছুই ছিলো না। [ইমাম বুখারি, আস-সহিহ: ৫০২৯] এমনিতে সাহাবিগণের মাঝে ৪০০ দিরহামে মোহরানার মোটামুটি প্রচলন ছিলো। [ইমাম নাসায়ি, আস-সুনান: ৩৩৪৮; হাদিসটি সহিহ] অর্থাৎ, এই বিষয়টি শরিয়তে অনেক প্রশস্ত। (৩) মোহরানার সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন পরিমাণ: মোহরানা সর্বোচ্চ কত হবে, তা ইসলাম ফিক্সড করে দেয়নি। সুতরাং কেউ যদি ৫০ কোটি টাকাও মোহর নির্ধারণ করে, তবে সেটি নাজায়েয হবে না। তবে, সাধারণভাবে ইসলাম বিয়েকে সহজ করতে বলে এবং মোহরানাও সহজ করতে বলে। নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘‘সেই মোহরানা উত্তম, যেটি সহজতর।’’ [ইমাম বাইহাকি, সুনানুল কুবরা: ১৩৪৩১; শায়খ আলবানি, সহিহুল জামি’: ৩২৭৯; হাদিসটি সহিহ] নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘‘নারীর সৌভাগ্যের/বরকতের অন্যতম বিষয় হলো: তার বিয়ে সহজ হওয়া, তার মোহরানা সহজ হওয়া এবং তার গর্ভধারণ সহজ হওয়া।’’ [ইমাম আহমাদ, আল-মুসনাদ: ২৪৪৭৮; শায়খ আলবানি, সহিহুল জামি’: ২২৩৫; হাদিসটি হাসান] আর সর্বনিম্ন মোহরানা কত হবে, এটি নিয়ে আলিমদের মাঝে কিছু মতভিন্নতা আছে। তবে, সেগুলো বেশ কাছাকাছি। আলিমগণের বড় একটি অংশ বলেছেন, খুব সামান্য পরিমাণ মাল দিয়েও মোহরানা আদায় হয়ে যাবে। যেমন: একটি হাদিসে আমরা দেখি, একজন হতদরিদ্র সাহাবিকে মোহরানার জন্য সামান্য লোহার আংটি জোগাড় করতে বলেছেন। [ইমাম বুখারি, আস-সহিহ: ৫০২৯] আবার ইমাম আবু হানিফা (রাহ.) বলেছেন, কমপক্ষে ১০ দিরহাম হতে হবে। এটি প্রায় ৩০ গ্রাম রৌপ্যের সমান। টাকার হিসাবে এটি বর্তমান বাজারমূল্যে প্রায় ১৭০০ টাকা। তিনি আকলি ও নকলি একাধিক দলিল দিয়েছেন এই পরিমাণের পক্ষে। যাহোক, মূলকথা হলো, সর্বনিম্ন মোহরানার পরিমাণ সব আলিমের মতেই যৎসামান্য। মুফতি তাকি উসমানি (হা.) বলেন, ‘সর্বনিম্ন পরিমাণ মোহর নির্ধারিত থাকার অর্থ এই নয় যে, এত সামান্য পরিমাণ মোহর নির্ধারণ করা শরিয়তে প্রশংসনীয়; বরং উদ্দেশ্য হলো, তার চেয়েও কম মোহরে বিয়েতে স্ত্রী রাজি থাকলেও সেটি শরিয়তসম্মত হবে না। কারণ এর দ্বারা মোহরের মূল উদ্দেশ্য পূরণ হয় না। তাছাড়া মোহরের এই সর্বনিম্ন পরিমাণও রাখা হয়েছে আর্থিকভাবে দুর্বল লোকদের কথা বিবেচনা করে, যাতে তারাও নারীর সম্মতির শর্তে এই পরিমাণ অর্থ দ্বারা বিবাহ করতে পারে।’ [মাসিক আল কাউসার, মে-২০১১ সংখ্যা] (৪) ফাতেমী মোহর বলতে আসলে কী বুঝায়? সহজ কথায় বললে, নবিজির কন্যা ফাতিমা (রা.) ও আলি (রা.)-এর বিয়েতে যে মোহরানা ছিলো, সেটিই ফাতেমী মোহর। এর পরিমাণ ছিলো, ৫০০ দিরহাম। অর্থাৎ, নবিজি তাঁর স্ত্রীদের যে পরিমাণ মোহরানা দিতেন, সেই পরিমাণ। [ইমাম ইবনু আবি শাইবাহ, আল-মুসান্নাফ: ১৬৬৩০; ইমাম ইবনু সা’দ, তবাকাতুল কুবরা: ৮/২২; ইমাম হাকিম, আল-মুসতাদরাক: ২৭৪২] অন্য বর্ণনামতে, ৪৮০ দিরহাম। [ইমাম হাইসামি, মাজমাউয যাওয়াইদ: ৪/২৮৩] আমরা ৫০০ দিরহামকেই অগ্রাধিকার দিচ্ছি। বর্তমানে প্রাচীন ১২ গ্রামের তোলার পরিবর্তে ১০ গ্রাম তোলার হিসাবে বেচাকেনা হয়। সেই হিসাবে ১৫৪ তোলা রৌপ্য হলো বর্তমানে ফাতেমী মোহরানা। বর্তমান বাজারে ১ তোলা রুপার মূল্য (২২ ক্যারেটে) ১৫১৬ টাকা। সেই হিসেবে ১৫৪ তোলা রুপার মূল্য হয় ১৫৪*১৫১৬ = ২৩৩৪৬৪ (প্রায় ২ লাখ ৩৪ হাজার) টাকা। ১৮ ক্যারেটের রুপার হিসাবে হলে এই পরিমাণটা হয়

IMG_20261017_071300_780.jpg9.78 KB

হযরত আবুদ দারদা রা. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন— ❝যে ব্যক্তি সূরা কাহফের প্রথম দশ আয়
হযরত আবুদ দারদা রা. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন— ❝যে ব্যক্তি সূরা কাহফের প্রথম দশ আয়াত মুখস্থ করবে, সে দাজ্জালের ফেতনা থেকে রক্ষা পাবে।❞ ❪সহীহ মুসলিম, হাদীস ৮০৯❫

আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা‘আলা বান্দাকে পরিতৃপ্ত করেন। এটুকু বিশ্বাস রাখতে হবে যে, আল্লাহর জন্য এটা কোনো ব্যাপারই না যে, তিনি উত্তম কাউকে মুহূর্তের মধ্যেই মিলিয়ে দিতে পারেন। অতএব, আল্লাহ্ ‘আযযা ওয়া জাল্লার উপর পূর্ণ ভরসা রাখতে হবে। হাদিসে কুদসিতে মহান আল্লাহ্ সুবহানাহু ওয়া তা‘আলা বলেন, ‘‘আমার ব্যাপারে বান্দা যেমন ধারণা রাখে, আমি তার সাথে তেমনই (আচরণ করি)। আর সে যখন আমার নিকট দু‘আ করে, তখন আমি তার সাথেই থাকি (সাড়া দিই)।’’ [ইমাম মুসলিম, আস-সহিহ: ৬৭২২] অতএব, আল্লাহর সক্ষমতার সামনে নিজের আবেগ, মুগ্ধতা, বাস্তবতা—সবকিছুকে তুচ্ছজ্ঞান করতে হবে এবং তাঁর (আল্লাহর) ব্যাপারে সর্বোত্তম ধারণা রেখে উত্তম জীবনসঙ্গীর জন্য অবিরত দু‘আ করে যেতে হবে। পাশাপাশি, নিজেকেও সেভাবে প্রস্তুত করতে হবে। নেককার জীবনসঙ্গী চাওয়ার বিভিন্ন দু‘আ কুরআন-হাদিসে আছে। সেগুলো আমল করতে হবে। পাশাপাশি সকল গুনাহ, অবৈধ চ্যাটিং, কথা-বার্তা, কুদৃষ্টি থেকে বেঁচে থাকতে হবে। আল্লাহ্ আমাদের নেক মনোবাসনা পূর্ণ করুন। আমিন। (যারা ইতোমধ্যে বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কে জড়িয়ে আছেন, বের হতে পারছেন না, তাদের জন্য একটি পর্বে ইতিবাচক আলোচনা করা হবে, ইনশাআল্লাহ।) • বন্ধন (একাদশ পর্ব) • পর্ব-১০ (বিয়ের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে ইস্তিখারার আমল) ~ Nusus @FatayatalHuda

💌 জীবনসঙ্গী নির্বাচন করতে গিয়ে আমরা অনেকেই একটি বড় ভুল করি। সেটি হলো, কারো বাহ্যিক দ্বীনদারি/ভালোমানুষী দেখে তার ব্যাপারে প্রচণ্ড মুগ্ধ হয়ে যাওয়া। এ প্রসঙ্গে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ কথা: আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা‘আলা বলেন— وَعَسَىٰ أَن تَكْرَهُوا شَيْئًا وَهُوَ خَيْرٌ لَّكُمْ ۖ وَعَسَىٰ أَن تُحِبُّوا شَيْئًا وَهُوَ شَرٌّ لَّكُمْ ۗ وَاللَّهُ يَعْلَمُ وَأَنتُمْ لَا تَعْلَمُونَ ‘‘তোমাদের কাছে হয়তো কোনো একটি বিষয় পছন্দনীয় নয়, অথচ তা তোমাদের জন্য কল্যাণকর। আর হয়তো কোনো একটি বিষয় তোমাদের কাছে পছন্দনীয়, অথচ তোমাদের জন্য তা অকল্যাণকর। বস্তুত আল্লাহই জানেন, তোমরা জান না।’’ [সুরা বাকারা, আয়াত: ২১৬] • এক. যে ছেলেকে বাহ্যিকভাবে দেখে আপনি দুর্বল হয়ে গেছেন, তার অভ্যন্তরীণ দ্বীনদারির অবস্থা তেমন ভালো না-ও হতে পারে। হতে পারে, সে নামাজের ব্যাপারে উদাসীন। বিশেষত ফরজের বাইরে সুন্নাতে মুয়াক্কাদা নামাজের ব্যাপারে তার মধ্যে হয়তো তেমন সিরিয়াসনেস নেই। হতে পারে, সে দৃষ্টির হেফাজত করে না, গাইরে মাহরাম মেন্টেইন করে না। এমনও হতে পারে, সে আসলে প্রচণ্ড অহংকারী—স্ত্রীর মতামতকে ভবিষ্যতে পাত্তাও দেবে না। অপরদিকে এমনও হতে পারে: আপনার বাছাইকৃত মেয়েটি গায়রে মাহরাম মেন্টেইন করে না। হয়তো সে গিবত করাকে নিজের অভ্যাসে পরিণত করেছে। হতে পারে, সে বিভিন্ন সিরিয়াল দেখায় মারাত্মকভাবে আসক্ত। এমনও হতে পারে, সে বাবা-মারই আনুগত্য করে না; ভবিষ্যতে আপনার কথা শুনবে, তারও নিশ্চয়তা নেই। এমন অনেক অজানা সমস্যা থাকতে পারে, যেগুলো জানতে পারলে তার প্রতি আপনার মুগ্ধতা থাকবে না। • দুই. এ-তো গেলো, তার অভ্যন্তরীণ দ্বীনদারির অবস্থা। তার দুনিয়ার জীবনেও হয়তো বড় কোনো দুর্বলতা আছে, যা আপনি বাহ্যিকভাবে বুঝতে পারছেন না। হতে পারে, তার চোখ দুটো দুনিয়াবি কামনা-বাসনায় পরিপূর্ণ, যা সে অন্যকে বুঝতে দেয় না। তার মধ্যে থাকতে পারে বিরক্তিকর কোন বদ-অভ্যাস, যা তার সাথে গভীরভাবে না মেশা পর্যন্ত কেউ বুঝতে পারবে না। • তিন. শুরুর কথাগুলোতে ফিরে যাই। যার বাহ্যিক দ্বীনদারি দেখে আপনি মুগ্ধ, তার অজানা অনেক সমস্যা আপনি জানেন না। ফলে আপনার মুগ্ধতা দিনে দিনে এতটাই বেড়ে যাচ্ছে যে, আপনি ভাবতেও পারছেন না—আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা‘আলা তার চেয়েও দ্বীনদার, কল্যাণকর এবং বেটার কাউকে আপনার জন্য মিলিয়ে দিতে পারেন। ব্যক্তিবিশেষের প্রতি মুগ্ধতার কারণে আপনি নিজেকে এক পর্যায়ে খুবই সস্তা ভাবতে শুরু করবেন। এমনকি আপনার ভেতর থেকে আত্মমর্যাদাবোধের মতো গুরুত্বপূর্ণ গুণটি নিঃশেষ হতে থাকবে। • চার. তাহলে সমাধান কী? ইসলামই সমাধান। ইসলাম আমাদের শিক্ষা দিয়েছে, ব্যক্তিবিশেষের জন্য পাগলপারা হওয়া যাবে না; বরং চক্ষুশীতলকারী (قُرَّةُ أَعْيُنْ) কাউকে জীবনসঙ্গী হিসেবে পাওয়ার জন্য আল্লাহর কাছে চাইতে হবে। চক্ষুশীতলকারী মানে কি? এর মানে, যাকে দেখলে আপনার চোখ শীতল হয়ে যাবে! আপনি তাকে দেখলে তৃপ্তি পাবেন। তার সাহচর্যকে নিয়ামত মনে করবেন। ‘চক্ষুশীতলকারী’ এমন একটি ব্যাপক অর্থবোধক শব্দ, যা ব্যক্তির মধ্যে দ্বীনি ও দুনিয়াবি কল্যাণসমূহকে অন্তর্ভুক্ত করে। এক্ষেত্রে কোনো ব্যক্তিবিশেষকে নয়, সাধারণভাবে এই গুণবিশিষ্ট কাউকে আল্লাহর নিকট চাইতে হবে বেশি করে। মাথা থেকে এই ধারণা সরাতে হবে যে, ‘অমুকের চেয়ে ভালো কীভাবে পাব? অমুক তো আমার পরীক্ষিত’ ইত্যাদি। আল্লাহর কাছে বলুন, ‘আল্লাহ! আমার জন্য যে উত্তম হবে, তাকেই মিলিয়ে দিন।’ আরো বলবেন, ‘এমন কাউকে মিলিয়ে দিন, যার উপর আপনি সন্তুষ্ট এবং আমরা নিজেরাও একে অপরের উপর সন্তুষ্ট থাকবো।’ এভাবে কাউকে নির্দিষ্ট না করে ব্যাপকভাবে আল্লাহর কাছে চান। নিজে নির্দিষ্ট কাউকে চেয়ে পরে নিজেই আফসোস করার দরকার নেই। 🍀 প্রশ্ন আসতে পারে : তাহলে কি ‘নির্দিষ্ট’ কাউকে আল্লাহর কাছে চাওয়া জায়েয নেই? উত্তরে আলিমগণ বলেন, হ্যাঁ জায়েয। বিশেষত, কারও ব্যাপারে খুব ভালো জানাশোনা থাকলে, তাকে আল্লাহর কাছে চাওয়াতে দোষের কিছু নেই। কিন্তু সমস্যা হলো, আমরা অনেকেই এক্ষেত্রে আবেগের কাছে হেরে যাই। বাহ্যিক কিছু বৈশিষ্ট্য দেখে ফিদা হয়ে যাই। তাই, নিরাপদ হলো, আল্লাহর কাছেই নিজের পছন্দকে সোপর্দ করে দেওয়া। তার মানে কিন্তু এই না যে, আমরা খোঁজখবর নেবো না। অবশ্যই নেবো। আর, অবশ্যই ইস্তিখারা না করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবো না। • পাঁচ. আল্লাহর নির্ধারিত তাকদিরকে কেউ অতিক্রম করতে পারবে না। স্বাভাবিক দৃষ্টিতে যতই সম্ভাবনাময় মনে হোক-না কেন, তাকদিরের ফয়সালা না থাকলে নির্দিষ্ট কাউকে জীবনসঙ্গী হিসেবে পাওয়া সম্ভব নয়। এমতাবস্থায়, আমরা যখন কাউকে নিয়ে স্বপ্ন দেখতে শুরু করি, আর সেই স্বপ্নটা ভাগ্যের বাস্তবতায় এসে ভেঙে যায়, তখন হতাশ হয়ে পড়ি। এজন্য আমাদের কখনই উচিত নয়—নির্দিষ্ট কাউকে নিয়ে স্বপ্নের রাজ্যে হারিয়ে যাওয়া বা নির্দিষ্টভাবে শুধু তার জন্যই মালিকের দরবারে দু‘আ করা; বরং আমরা সাধারণভাবে ‘চক্ষুশীতলকারী’ কাউকে কামনা করবো এবং তার জন্য আল্লাহর নিকট ফরিয়াদ জানাবো। নিঃসন্দেহে

আগের অংশ প্রশ্ন-৩: কোনও অমুসলিম পূজার জন্য ফুল চাইলে তাকে তা দিলে কি গুনাহ হবে? আর যদি সে না বলে নিয়ে যায় সেক্ষেত্রে কী হবে? উত্তর: যদি আপনি জানতে পারেন যে, কোন হিন্দু মূর্তি পূজার জন্য ফুল ব্যবহার করবে বা পূজা মণ্ডপে ফুলের অর্ঘ প্রদান করবে তাহলে তাদেরকে ফুল দেয়া বা তাদের কাছে তা বিক্রয় করা জায়েজ নয়। কেননা হিন্দুরা মূর্তি পূজার মাধ্যমে এ বিশ্বচরাচরের মহান সৃষ্টিকর্তা আল্লাহর সাথে শিরক (অংশী স্থাপন) করে। আর শিরক আল্লাহর নিকট সবচেয়ে বড় অপরাধ। সুতরাং আপনার ফুল দ্বারা যদি তারা এত বড় অপরাধ করে তাহলে প্রকারান্তরে আপনি তাদেরকে এতে সহায়তা করলেন। অথচ আল্লাহর নাফরমানির ব্যাপারে কাউকে সাহায্য করা ইসলামে নিষিদ্ধ। তবে না দিলে তারা যদি আপনার ক্ষয়-ক্ষতি করবে বলে আশঙ্কা থাকে তাহলে আত্মরক্ষার স্বার্থে দিলে গুনাহ হবে না ইনশাআল্লাহ। আর তারা যদি অজান্তে আপনার বাগান থেকে ফুল তুলে নিয়ে যায় তাহলে এতে আপনার কোন গুনাহ নাই কারণ। তা আপনার ইচ্ছার বাইরে ঘটেছে। আল্লাহু আলাম। উত্তর প্রদানে: আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল মাদানী। দাঈ, জুবাইল দাওয়াহ এন্ড গাইডেন্স সেন্টার, সৌদি আরব। বির্ধমীদের আয়োজন আলোচনা - ৬ পূজার সময় আমাদের করণীয় বিধর্মীদের তৈরি খাবার খাওয়ার বিধান পূজায় দেখতে যাওয়া, চাঁদা দেয়া, কমিটি করা এসবের বিধান কি শরীয়তে? লিখিত মাসয়ালা ১ পূজায় অংশ গ্রহণ, পূজার কোনও উপরকণ বিক্রয় ,ভাড়া প্রদান হিন্দুদের পূজা উপলক্ষে ফার্নিচার, মাইক, সিসি ক্যামেরা, গাড়ি ইত্যাদি ভাড়া দেয়া জায়েজ আছে কি? @FatayatalHuda

💌 বিয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে ইস্তিখারা করুন, তাহলে মনোবল দৃঢ় থাকবে ইনশাআল্লাহ নবিজির আপন চাচাতো বোন ছিলেন যাইনাব বিনতে জাহাশ (রা.)। নবিজি প্রথমে তাঁকে বিয়ে দেন যায়েদ বিন হারিসা (রা.)-এর সাথে। কিন্তু তাঁদের মাঝে বনিবনা হয়নি, তাই তালাক হয়ে যায়। এরপর নবিজি নিজে তাঁকে বিয়ের প্রস্তাব পাঠান। তখন যাইনাব (রা.) ইস্তিখারা করার জন্য সময় চেয়ে নেন এবং তৎক্ষণাৎ নামাজে দাঁড়িয়ে যান। [ইমাম নাসায়ি, আস-সুনান: ৩২৫১; হাদিসটি সহিহ] সুতরাং আমরা বুঝতে পারলাম, বিয়ের ক্ষেত্রে ইস্তিখারা করার ব্যাপারে বিশুদ্ধ হাদিস রয়েছে। জাবির ইবনু আবদিল্লাহ (রা.) বলেন, ‘রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে প্রতিটি কাজে (সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে) ইস্তিখারা করতে শেখাতেন, যেভাবে তিনি আমাদের কুরআনের সুরা শেখাতেন।’ [ইমাম বুখারি, আস-সহিহ: ১১৬২] প্রশ্ন আসবে, ইস্তিখারা কী? সহজ কথায়: ইস্তিখারা মানে কল্যাণ কামনা করা, সঠিক দিক-নির্দেশনা কামনা করা। অর্থাৎ, কোনো কাজের কল্যাণ কামনায় দুই রাকাত নফল নামাজ পড়ে আল্লাহর কাছে হাদিসে বর্ণিত দু‘আটি পড়ে আল্লাহর কাছে কল্যাণ কামনা করা। ইস্তিখারা করতে হয় দুটো ক্ষেত্রে: (১) কোনো কাজ করতে যাচ্ছেন, কিন্তু সেটি আপনার জন্য কতটুকু ঠিক-বেঠিক তা জানেন না, তখন সেই কাজটিতে যাতে আল্লাহ কল্যাণ দেন, সেজন্য ইস্তিখারা করা। আর, যদি তাতে আপনার জন্য কল্যাণ না থাকে, তাহলে যেন তিনি এটি থেকে আপনাকে দূরে রাখেন। (২) দুটো একই ধরনের কাজ সামনে উপস্থিত। আপনি বুঝতে পারছেন না, কোন্ কাজটি গ্রহণ করবেন আর কোনটি বাদ দেবেন। তখন আল্লাহর কাছে ইস্তিখারা করবেন, আপনার জন্য যেটি উত্তম ও বেটার, সেটিই যেন করার তাওফিক দেন। ধরুন, একসাথে দুটো জবের অফার এসেছে, দুটো বিয়ের প্রস্তাব এসেছে, দুটো ট্যুরের সুযোগ এসেছে, তখন কোনটি গ্রহণ করবেন, তা নিয়ে কনফিউশানে পড়ে গেছেন। তখন ইস্তিখারা করবেন। ইস্তিখারা করলে মানসিক তৃপ্তি পাওয়া যায়, মনোবল চাঙ্গা হয়, ফলে সিদ্ধান্ত নেওয়া খুব সহজ হয়ে যায়। তাই, বিয়ের ক্ষেত্রে ইস্তিখারা করে নিতে ভুল করবেন না। ইস্তিখারার মাধ্যমে দু‘আ করে আল্লাহকে বলবেন, ‘হে আল্লাহ! এই পাত্র/পাত্রীর মাঝে যদি আমার জন্য কল্যাণ থাকে, তাহলে তাকে আমার জন্য কবুল করুন। না হয়, যে পাত্রের/পাত্রীর মাঝে আমার কল্যাণ আছে, তাকে ব্যবস্থা করে দিন।’ (এটা একটা স্যাম্পল, আপনারা আরও সুন্দর ভাষায় বলবেন) নিয়ম হলো: প্রথমে নিজের আকল-বুদ্ধি দিয়ে বিষয়টি আগে বিবেচনা করা, এরপর যোগ্য ব্যক্তিদের সাথে পরামর্শ করা, সর্বশেষ ইস্তিখারা করে সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করা। ◉ ইস্তিখারার নিয়ম হলো: প্রথমে ইস্তিখারার উদ্দেশ্যে দুই রাকাত নফল নামাজ পড়বেন। নিয়ত মনের ইচ্ছার ব্যাপার, মুখ ফুটে কিছু বলতে হবে না। এরপর সাধারণ নফলের মতোই দুই রাকাত নফল পড়বেন। অতঃপর সিজদায় কিংবা সালাম ফেরানোর আগে কিংবা নামাজ শেষে ইস্তিখারার দু‘আটি পড়বেন। তিন স্থানের যেকোনো স্থানেই পড়তে পারেন। ইস্তিখারার দু‘আটি বেশ বড়। সেজন্য আমরা এটি আলাদা আলাদা বাক্যে অর্থ, বাংলা উচ্চারণ এবং অডিওসহ উপস্থাপন করেছি। কমেন্টে লিংক পাবেন। শিখে নিতে পারেন। ইস্তিখারার দু‘আর মধ্যে ‘হাযাল আমরা’ (এর অর্থ: এই কাজটি)-এর স্থানে পড়তে পারেন ‘হাযাল ফুলান’ (এই পুরুষ, অর্থাৎ যার সাথে বিয়ের ব্যাপারে কথা হচ্ছে) অথবা ‘হাযিহিল ফুলানাহ’ (এই নারী, অর্থাৎ যার সাথে বিয়ের ব্যাপারে কথা হচ্ছে)। কিংবা বলতে পারেন, ‘হাযিহিস সিলাহ’ (এই বন্ধন, অর্থাৎ বিয়ে)। • বন্ধন (দশম পর্ব) ~ Nusus

(আগের অংশ) প্রশ্ন-২: হিন্দুদের পূজা উপলক্ষে ফার্নিচার, মাইক, সিসি ক্যামেরা, গাড়ি ইত্যাদি ভাড়া দেয়া জায়েজ আছে কি? উত্তর: হিন্দুরা মহান সৃষ্টিকর্তা আল্লাহর সবচেয়ে ঘৃণিত কাজ করে। তা হল, মূর্তিপূজা। এটি হল, শিরক। শিরক এত ভয়ানক অপরাধ যাতে মহান আল্লাহ সবচেয়ে বেশি ক্রোধান্বিত হন এবং এই অপরাধ তিনি ক্ষমা করবেন না বলে দ্ব্যর্থ হীন ভাবে ঘোষণা করেছেন। আল্লাহ তায়ালা বলেন: “নিঃসন্দেহে আল্লাহ তাকে ক্ষমা করেন না, যে লোক তাঁর সাথে শরীক করে। তিনি ক্ষমা করেন এর নিম্ন পর্যায়ের পাপ, যার জন্য তিনি ইচ্ছা করেন।” (সূরা নিসা: ৪৮) সুতরাং কোনও মুসলিমের জন্য জঘন্য শিরকের কাজে কোনও ভাবেই সহায়তা করা বৈধ নয়। অত:এব হিন্দুদের পূজা উপলক্ষে ফার্নিচার, মাইক, গাড়ি ইত্যাদি ভাড়াও দেয়া যাবে না। মোটকথা, পূজার কাজে ব্যবহার করার জন্য কোনও বস্তু বা উপকরণ তাদের কাছে বিক্রয় করা বা ভাড়া দেয়া বৈধ নয়। কারণ তা শিরকের কাজে সহায়তার শামিল। আল্লাহ বলেন, “সৎকর্ম ও আল্লাহ ভীতিতে একে অন্যের সাহায্য কর। পাপ ও সীমালঙ্ঘনের ব্যাপারে একে অন্যের সহায়তা করো না।” (সূরা মায়িদা: ২) আর এ কথায় কোনও সন্দেহ নাই যে, মূর্তিপূজা ও শিরক হল, সবচেয়ে বড় পাপ ও সীমালঙ্ঘন। তবে সিসি ক্যামেরা ভাড়া দেয়া যেতে পারে। কারণ তা মুসলিম-হিন্দু সকলের নিরাপত্তার জন্য প্রয়োজন। কেননা অনেক সময় কোনও স্বার্থান্বেষী অমুসলিমরা মুসলিম সেজে পূজা মণ্ডপে আক্রমণ চালিয়ে মুসলিমদের উপর তার দোষ চাপিয়ে দেয়। সিসি ক্যামেরা থাকলে হয়ত এমন চক্রান্ত বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে না। সুতরাং বৃহত্তর স্বার্থে এতে কোনও সমস্যা নাই ইনশাআল্লাহ। সৌদি আরবের সাবেক গ্রান্ড মুফতি বিশ্ববরণ্যে আলেম আল্লামা আব্দুল্লাহ বিন বায রাহ. বলেন, “কোনও মুসলিম পুরুষ-নারীর জন্য ইহুদি-খ্রিস্টান বা অন্যান্য কাফেরদের উৎসবে অংশগ্রহণ করা ও সহযোগিতা করা জায়েজ নয় বরং তা বর্জন করা আবশ্যক। কারণ “যে ব্যক্তি অন্য কোনও জাতির সাদৃশ্য অবলম্বন করবে সে তাদের দলভুক্ত হিসেবে গণ্য হবে।” রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাদেরকে তাদের সাদৃশ্য অবলম্বন ও চরিত্র গ্রহণ করার ব্যাপারে সতর্ক করেছেন। সুতরাং ইমানদার নারী-পুরুষের জন্য এ বিষয়ে সাবধান হওয়া জরুরি। এ উৎসব পালনে তাদেরকে কোনভাবেই সাহায্য করা বৈধ নয়। কেননা এগুলো শরিয়ত বিরোধী উৎসব। সুতরাং তাতে অংশগ্রহণ করা জায়েজ নেই এবং তাদেরকে সাহায্য-সহযোগিতা করা বৈধ নয়। চা, কফি, হাড়ি-পাতিল ইত্যাদি দ্বারাও সহায়তা করা যাবে না। আল্লাহ তা’আলা বলেন, তিনি বলেন, “আর তোমরা সৎকর্ম ও আল্লাহ ভীতিতে একে অন্যের সহায়তা কর। পাপ ও সীমালঙ্ঘনের ব্যাপারে একে অন্যের সহায়তা করো না।” (সূরা মায়িদা: ২) আর কাফেরদের সাথে তাদের উৎসবে অংশগ্রহণ করা তাদেরকে গুনাহ এবং সীমালঙ্ঘনের কাজে সহায়তার শামিল।” [ফতোয়া বিন বায ৬/৪০৫] ◈◈ মিলিনিয়াম (সহস্রাব্দ) পালন উৎসবে অংশ গ্রহণ প্রসঙ্গে সৌদি আরবের স্থায়ী ফতোয়া কমিটির আলেমগণ বলেন, “কোনও মুসলিমের জন্য কাফেরদেরকে তাদের উৎসবে কোনোভাবে সাহায্য-সহযোগিতা করা শরিয়ত সম্মত নয়। যার মধ্যে রয়েছে: উল্লিখিত মিলিনিয়াম (সহস্রাব্দ) উদযাপন, তাদের উৎসবগুলোর প্রচার-প্রসার করা বা সেগুলো ঘোষণা করা বা এগুলোর প্রতি কোনও উপায়ে আহ্বান জানানো-চাই তা মিডিয়ার মাধ্যমে হোক অথবা ডিজিটাল ঘড়ি ও বিলবোর্ড স্থাপনের মাধ্যম হোক অথবা এ উপলক্ষে বিশেষ পোশাক তৈরি, স্মৃতিসৌধ নির্মাণ, স্কুলের খাতা ছাপানো, কার্ড বানানো, এ উপলক্ষে বাণিজ্যিক ছাড় ও আর্থিক পুরস্কার ঘোষণা অথবা ক্রীড়া কার্যক্রম বা তাদের নিজস্ব লোগো প্রকাশ ইত্যাদি যেভাবেই হোক না কেনো।” (ফতোয়া লাজনা দায়েমাহ) অবশ্য কোথাও পরিস্থিতি যদি এমন হয় যে, কাফেরদের পূজা বা উৎসব পালনে সাহায্য না করলে তারা মুসলিমদের জান-মালের ক্ষতি করবে বা তাদের প্রতি জুলুম-নির্যাতন করবে তাহলে তাদের ক্ষতির হাত থেকে আত্মরক্ষার স্বার্থে যদি সহযোগিতা করতে বাধ্য হয় তাহলে ইনশাআল্লাহ দয়াময় আল্লাহ গুনাহ লিখবেন না। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, “আমার উদ্দেশ্যে আল্লাহ‌ আমার উম্মতের অনিচ্ছাকৃত ভুল-ত্রুটি ও জোরপূর্বক কৃত অন্যায় ক্ষমা করে দিয়েছেন।” (ইবনে মাজাহ, হা/২০৪৫, বায়হাকি-সুনানুল কুবরা, হা/৭। হাদিসটি হাসান) উত্তর প্রদানে: আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল মাদানী। দাঈ, জুবাইল দাওয়াহ এন্ড গাইডেন্স সেন্টার, সৌদি আরব। • বিধর্মীদের আয়োজন আলোচনা - ৫ পূজার সময় আমাদের করণীয় বিধর্মীদের তৈরি খাবার খাওয়ার বিধান পূজায় দেখতে যাওয়া, চাঁদা দেয়া, কমিটি করা এসবের বিধান কি শরীয়তে? লিখিত মাসয়ালা ১ পূজায় অংশ গ্রহণ, পূজার কোনও উপরকণ বিক্রয় ,ভাড়া প্রদান

💌 বিয়ে করার জন্য একটি ছেলের শারীরিক ও আর্থিক ‘সামর্থ্য’ ন্যূনতম কতটুকু হওয়া জরুরি? বিষয়টি কি আসলেই এত কঠিন ও জটিল? প্রথমে আসি শারীরিক সামর্থ্যের ব্যাপারে। ইসলামি শরিয়াহ মতে, যখন থেকে একটি ছেলের ঘুমের মধ্যে স্বপ্নদোষ হয়, তখন থেকেই সে বালেগ হয়ে যায়; বাংলায় যাকে আমরা প্রাপ্তবয়স্ক (adult) বলি। তখন থেকেই তার উপর শরিয়তের প্রতিটি বিধান মানা ফরজ হয়ে যায় এবং সে বিয়ের ব্যাপারে উপযুক্ত সাব্যস্ত হয়। যদি বালেগ হওয়ার পর কোনো ছেলের মাঝে যৌন সমস্যা দেখা দেয়, অথবা নারীদের প্রতি আগ্রহবোধ না করে কিংবা পুরুষত্বহীনতার সম্ভাবনা থাকে, তখন তার জন্য বিয়ে করা জায়েয নেই। বরং সে চিকিৎসা নেবে, সুস্থ হবে, এরপর বিয়ের চিন্তা করবে। আর, যদি সে অন্য দশটি ছেলের মতো সুস্থ ও স্বাভাবিক জীবনযাপন করে, নারীদের প্রতি যৌন কামনা অনুভব করে এবং সঙ্গীর অভাববোধ করে, তাহলে তাকে বিয়ের ব্যাপারে ‘শারীরিকভাবে সক্ষম’ হিসেবে ধরে নেওয়া হবে। অর্থাৎ, যৌন অক্ষমতার ব্যাপারটি ব্যতিক্রমী কেইস। একমাত্র যে রোগী, সে ব্যতীত অন্যদেরকে শারীরিকভাবে সক্ষম হিসেবে ধরে নেওয়া হবে। কারণ বিয়ের আগে হারাম পন্থায় যৌনতা করে নিজেকে প্রমাণ করার কথা ইসলাম বলে না। ছেলে যদি সহবাসের ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী থাকে, তাহলেই যথেষ্ট। এরপর আসি, আর্থিক সামর্থ্যের ব্যাপারে। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘‘হে যুবকের দল! তোমাদের মধ্যে যে বিয়ের সামর্থ্য রাখে, সে যেন বিয়ে করে নেয় এবং যে বিয়ের সামর্থ্য রাখে না, সে যেন রোজা রাখে। কেননা, রোজা যৌন কামনাকে দমন করে।’’ [ইমাম বুখারি, আস-সহিহ: ৫০৬৫] অর্থাৎ, কোনো ছেলে যদি বউয়ের ভরণপোষণ দেওয়ার ব্যাপারে সামর্থ্য না রাখে, তাহলে আপাতত সে অপেক্ষা করবে। ভরণপোষণ বলতে, কমপক্ষে বউয়ের খাবার, কাপড় এবং বাসস্থান নিশ্চিত করতে হবে। তবে, এ ব্যাপারে সহজ কথা হলো: কোনো ছেলে যদি আর্থিকভাবে খুব দুর্বলও হয়, কিন্তু পরিশ্রমী ও উদ্যমী হয়, হালাল উপার্জনের ব্যাপারে অলসতা না করে এবং পরিবারের ভরণ-পোষণ নিশ্চিত করতে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ হয়, তাহলে সেই ছেলের বিয়ে করতে কোনো বাধা নেই। যেমন: আলি (রা.)-এর কাছে নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর সবচেয়ে আদরের কন্যা ফাতিমা (রা.)-কে বিয়ে দিয়েছিলেন। অথচ আলি (রা.) তখন অত্যন্ত দরিদ্র ছিলেন। সহিহ বুখারিতে (৫১৩৫ নং হাদিস) এসেছে, একজন দরিদ্র সাহাবির সাথে নবিজি এক নারীকে বিয়ে দিয়েছিলেন। সেই সাহাবির কিছুই ছিলো না। ফলে, বউকে কুরআন শেখানোর শর্তে (অর্থাৎ এটিকে মোহরানা বানিয়ে) বিয়ে দেন। নবিজি তার আর্থিক দুরবস্থার কারণে তাকে জিজ্ঞাসা করেছিলেন, ‘তোমার কাছে কি একটা লোহার আংটিও নেই?’ তখন সেটিও ছিলো না সেই সাহাবির কাছে। সহজ কথা হলো: বর্তমানে যেমন আমাদের অনেকের একটা ফিক্সড ইনকামের ব্যবস্থা থাকে, সাহাবিদের মধ্যে তেমনটা ছিলো না। তাঁদের অনেকেই দিন এনে দিন খেতেন। তাই, উপস্থিত সময়ে যদি সেরকম অর্থ-সম্পদ না থাকে, কিন্তু সে হালাল উপার্জনে অভ্যস্ত থাকে আর কনে তার এই অবস্থাটি মেনে নেয়, তাহলে তার বিয়ে করতে কোনো বাধা নেই, যদিও সে অত্যন্ত দরিদ্র হয়। আর্থিক সামর্থ্যের ব্যাপারে অসাধারণ আলোচনা পাবেন শায়খ মুহাম্মাদ সলিহ আল মুনাজ্জিদ পরিচালিত Islamqa থেকে। লিংক: https://islamqa.info/en/answers/181556/the-hadeeth-whoever-among-you-can-afford-it-let-him-get-married-does-not-mean-that-one-who-is-poor-cannot-get-married আল্লাহ তা‘আলা বলেন, ‘‘তোমাদের মধ্যে যারা বিবাহহীন, তাদের বিয়ে দাও এবং তোমাদের দাস ও দাসীদের মধ্যে যারা সৎ, তাদেরকেও। তারা অভাবগ্ৰস্ত হলে, আল্লাহ নিজ অনুগ্রহে তাদেরকে অভাবমুক্ত করবেন; আল্লাহ তো প্রাচুর্যময়, সর্বজ্ঞ।’’ [সুরা নুর, আয়াত: ৩২] রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘‘আল্লাহ্ তা‘আলা তিন শ্রেণির মানুষকে সাহায্য করা নিজের কর্তব্য হিসেবে নির্ধারণ করেছেন। (১) আল্লাহর পথে জিহাদকারী; (২) চুক্তিবদ্ধ গোলাম, যে চুক্তির অর্থ পরিশোধের ইচ্ছা করে এবং (৩) বিবাহে আগ্রহী ব্যক্তি, যে (বিয়ের মাধ্যমে) পবিত্র জীবন যাপন করতে চায়।’’ [ইমাম তিরমিযি, আস-সুনান: ১৬৫৫; হাদিসটি হাসান] • বন্ধন (নবম পর্ব) • পর্ব-৮ (কনে দেখার পদ্ধতি) ~ Nusus @FatayatalHuda

💌 বাড়তি কিছু সুন্নাহ • রাতে স্ত্রী কে নিয়ে নির্জনে হাঁটা। [বুখারী ৫২১১] • কিছু জানা না থাকলে তা স্বীকার করা। [বায়হাকি ১৭৫৯৫] • মাঝে মধ্যে বিপদে আকাশের দিকে তাকানো। [সহিহ মুসলিম ২৫৩১] • খুব খুশিতে সিজদাহ্ দেয়া। [মুখতাসার যাদুল-১/২৭] • করজে হাসানাহ (সুদবিহীন ঋণ) দেয়া। [মুসলিম ২৫৮৫] • নফল ও সুন্নাত সলাত ঘরে পড়া। [বুখারী ৭৩১] • একদম পেট ভরে না খাওয়া। [বুখারী ৫২১১] • মানুষের মাঝে বিবাদ মেটানো [মুসনাদে আহমদ ২৭৫০৮] • মাঝে মাঝে খালি পায়ে হাটা [আবু দাউদ ৪১৬০] • মৃত্যুর পূর্বেই ওসিয়ত করা। [বুখারী ২৭৩৮] • বাড়িতে অযু করে পানি মুছে মসজিদে যাওয়া। [তাবারানি ৬১৩৯] • অযুর পর কালেমা শাহাদাত ও ২ রাকাত নামাজ। [মুসলিম ৫৫৩, বুখারী১৫৯] • মুচকি হাসা সুন্নাত। [তিরমিজি ১৯৫৬] • দিনে ১০০ বার ইস্তেগফার করা। [মুসলিম ৭০৩৪] • সকাল ও সন্ধ্যায় সাইয়েদ্যুল ইস্তেগফার পড়া। [রিয়াযুস সানেহিন ১৮৮৪] • ফরজ সালাতের শেষে ১ বার আল্লাহহু আকবার বলা। • ফরজ সালাত শেষে ৩ কূল ১ বার করে। [আবু দাউদ ১৫২৩] • ফজরের পর ইশরাকের সালাত পড়া। [তিরমিজি] • স্ত্রীর খাবারের খুঁত না ধরা। [বুখারী ৫১৯৮] • সকাল সন্ধ্যা ৩ বার করে ৩ কূল পড়া। [রিয়াযুস স্বলিহীন ১৪৬৪] • রাতে ঘুমানোর সময় বাকারার শেষ ২ আয়াত। • ফরজ সালাত শেষে ৩ বার আস্তাগফিরুল্লাহ। [মুসলিম ১৯৯২] • মসজিদে প্রবেশ করে ২ রাকাত নামাজ পরা। ©Inspire To Deen প্রাত্যহিক সুন্নাহ (পর্ব-২৪ তথা শেষ পর্ব) • পর্ব-০১ (পোশাক পরিধানের সুন্নাহ) • পর্ব-০২ (খাবার গ্রহণের সুন্নাহ) • পর্ব-০৩ (ঘুমানোর সুন্নাহ ও আদব) • পর্ব-০৪ (ঘুম থেকে ওঠার সুন্নাহ) • পর্ব-০৫ (ইস্তিঞ্জার সুন্নাহ) • পর্ব-০৬ (গোসলের আদব ও সুন্নাহ) • পর্ব-৭ (আতর ব্যবহারের সুন্নাহ) • পর্ব-৮ (মিসওয়াকের সুন্নাহসমূহ) • পর্ব-৯ (যানবাহনে আরোহণের সুন্নাহ সমূহ) • পর্ব-১০(দস্তরখানের আমল এর সুন্নাহসমূহ) • পর্ব-১১(সালাম দেওয়ার আদব ও সুন্নাহ সমূহ) • পর্ব-১২ (কুরআন তিলাওয়াতের আদব ও সুন্নাহ সমূহ) • পর্ব-১৩ (ফজরের পর না ঘুমানো) • পর্ব-১৪ (আতিথেয়তার সুন্নাহসমূহ) • পর্ব-১৫ (আযান সংক্রান্ত সুন্নাহসমূহ) • পর্ব-১৬ (বৃষ্টি সংক্রান্ত সুন্নাহসমূহ) • পর্ব-১৭ (দাওয়াত দেওয়া ও গ্রহণের সুন্নাহ) • পর্ব-১৮ (মসজিদ থেকে বের হওয়ার সুন্নাহসমূহ) • পর্ব-১৯ (মুসাফাহার সুন্নাহসমূহ) • পর্ব-২০ (রোগী দেখার আদব ও সুন্নাহ) • পর্ব-২১ ( বিয়ে সংক্রান্ত সুন্নাহসমূহ) • পর্ব-২২ (সন্তান জন্মের পর সুন্নাহসমূহ) • পর্ব-২৩ (জুম'আর দিনের সুন্নাহসমূহ) @FatayatalHuda

💌 বিয়ের জন্য একজন মেয়েকে কতটুকু দেখা যাবে? লুকিয়ে দেখা যাবে? কনে দেখার ভুল: প্রথম কথা হলো, বিয়ের উদ্দেশ্যে কনে দেখা মুস্তাহাব (উত্তম)। এক ব্যক্তি নবিজির নিকট এসে তাঁকে বলেন যে, তিনি আনসার সম্প্রদায়ের এক মেয়েকে বিবাহ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাকে বললেন, ‘‘তুমি কি তাকে দেখেছো?’’ তিনি বলেন, ‘না।’ তখন নবিজি বললেন, ‘‘যাও! তুমি তাকে (আগে) দেখে নাও।’’ [ইমাম মুসলিম, আস-সহিহ: ৩৩৭৬] ❂ কনেকে আগে দেখে নেওয়ার উপকারিতা: মুগিরা ইবনু শু’বা বলেন, রাসুলুলাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সময় আমি এক নারীকে বিবাহ করার প্রস্তাব দিলাম। তখন নবিজি বলেন, ‘‘তুমি তাকে দেখে নাও। কেননা, এতে তোমাদের মধ্যে ভালবাসা (আগ্রহ) তৈরি হবে।’’ [ইমাম নাসায়ি, আস-সুনান: ৩২৩৫; হাদিসটি সহিহ] ❂ বিয়ের উদ্দেশ্য ঠিক থাকলে কনেকে আড়ালে লুকিয়ে থেকেও দেখা যাবে: জাবির (রা.) বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘‘তোমাদের কেউ যখন কোন নারীকে বিবাহের প্রস্তাব দেবে, সম্ভব হলে সে তার এমন কিছু দেখে নেবে, যা তাকে বিবাহে উৎসাহিত করে।’’ বর্ণনাকারী বলেন, ‘আমি একটি মেয়েকে বিয়ের প্রস্তাব দেওয়ার পর তাকে দেখার আকাঙ্ক্ষা গোপন রেখেছিলাম। অতঃপর আমি তার মাঝে এমন কিছু দেখি, যা আমাকে তাকে বিয়ে করতে আকৃষ্ট করে। অতঃপর আমি তাকে বিয়ে করি।’ [ইমাম আবু দাউদ, আস-সুনান: ২০৮২; হাদিসটি হাসান] মুহাম্মাদ বিন সালামাহ (রা.) বলেন, আমি এক নারীকে বিবাহের প্রস্তাব পাঠালাম। আমি তাকে দেখার জন্যে চুপিসারে তার বাগানে যাতায়াত করতাম এবং সেখানে (একদিন) তাকে দেখে ফেললাম। তাকে বলা হলো, ‘রাসুলের সাহাবি হয়ে আপনি এই কাজ করলেন?’ তিনি বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলতে শুনেছি, ‘‘যখন আল্লাহ কারো অন্তরে কোন নারীকে বিবাহ করার প্রস্তাব দানের আগ্রহ সৃষ্টি করেন, তখন তাকে দেখে নেওয়াতে দোষের কিছু নেই।’’ [ইমাম ইবনু মাজাহ, আস-সুনান: ১৮৬৪; হাদিসটি সহিহ] অন্য বর্ণনায় এটাও এসেছে যে, তার (মেয়ের) অজান্তেও যদি তাকে দেখা হয়, তাহলে গোনাহ হবে না। [ইমাম তহাবি, শারহু মা‘আনিল আসার: ২৪২৭; হাদিসের সনদ সহিহ] ❂ কনেকে কতটুকু দেখা যাবে? আর হবু বরকে কনে কতটুকু দেখতে পারবে? হবু বরের নাভী থেকে হাঁটু, অর্থাৎ সতরের অংশটুকু বাদে বাকি সবকিছুই কনে দেখতে পারবে। এ ব্যাপারে আলিমগণ একমত। কনের চেহারা এবং কব্জি পর্যন্ত হাত দেখার ব্যাপারে প্রায় সবাই একমত। ইমাম নববি (রাহ.) বলেন, চেহারা দেখার দ্বারা মেয়ের সৌন্দর্য বুঝা যায় আর কব্জি পর্যন্ত হাত দেখার দ্বারা মেয়ের শারীরিক গঠন (স্লিম-হ্যালদি ইত্যাদি) বুঝা যায়। তবে, ইমাম আবু হানিফা (রা.)-এর মতে, এগুলোর পাশাপাশি তার গোড়ালি থেকে পায়ের নিচের অংশও দেখা যাবে। এ ব্যাপারে হাম্বলি মাযহাবের আলিমগণের মু’তামাদ মত হলো: একজন মেয়ে ঘরোয়া পরিবেশে পরিবারের সদস্যদের সামনে যে অবস্থায় থাকে, সে অবস্থায় দেখা যাবে। যেমন: তার হাত (কনুই পর্যন্ত), চেহারা, ঘাড়, পা ইত্যাদি। তবে, আলিমগণ বলেছেন, তার দিকে কামনার দৃষ্টিতে তাকাবে না। বরং স্বাভাবিক দৃষ্টি দেবে। আর, যেহেতু এটা বিবাহের সিদ্ধান্ত নেওয়ার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের জন্য, সেহেতু বারবার তাকালেও কোনো গোনাহ হবে না। ❂ কনে দেখতে গিয়ে যে ভুলগুলো হয়: কোনোভাবেই কনেকে বরপক্ষের কোনো পুরুষ দেখতে পারবে না। এমনকি বরের বাবাও নয়। শুধু বর দেখবে। বিয়ের কনে দেখার সব হাদিসে নির্দিষ্টভাবে শুধু বরের কথাই এসেছে। তবে, বরের নারী আত্মীয়রা ইচ্ছামত দেখতে পারবে। এতে কোনো বাধা-নিষেধ সেই। কোনোভাবেই বিয়ের আগে বর-কনে নিরবে একত্র হতে পারবে না। যতই কথা বলার প্রয়োজন হোক, অবশ্যই সেই মেয়ের কোনো মাহরাম পুরুষ সামনে থাকতে হবে। অথবা, অন্তত মাহরামের চোখের সামনে, সামান্য দূরে, স্বল্প সময়ে বিশেষ কথা হতে পারে, যদি কিছু বলার বা জানার থাকে। কারণ হাদিসে বলা হয়েছে, ‘‘মাহরাম পুরুষ ব্যতীত কোনো নারীর সাথে যেন কোনো পুরুষ নিরিবিলিতে একত্র না হয়।’’ [ইমাম বুখারি, আস-সহিহ: ৫২৩৩] অন্য হাদিসে এসেছে, ‘‘যখন কোনো পুরুষ কোনো নারীর সাথে নিরবে একত্র হয়, তখন তাদের তৃতীয়জন হয় শয়তান।’’ [ইমাম তিরমিযি, আস-সুনান: ১১৭২; হাদিসটি সহিহ] আর, অবশ্যই এটা বলার অপেক্ষা রাখে না যে, ফিয়ান্সের (হবু বর-বউ) সাথে বিয়ের আগে ঘোরাঘুরি করা যাবে না। হাদিসে এসেছে, ‘‘কোনো নারী যেন তার মাহরাম ব্যতীত সফর না করে।’’ [ইমাম বুখারি, আস-সহিহ: ১৮৬২] 🍀 কনের ছবি দেওয়া যাবে না। তবে, কনেপক্ষের কোনো মাহরাম পুরুষ তার নিজের মোবাইলে পাত্রকে কনের ছবি দেখাতে পারে। কিন্তু ছবি তাকে পাঠাবে না। • বন্ধন (অষ্টম পর্ব) • পর্ব-৭ (বিয়েতে কুফু বা সমতা) ~ Nusus