es
Feedback
Fatayat al-Huda (হিদায়াতের কন্যারা)

Fatayat al-Huda (হিদায়াতের কন্যারা)

Ir al canal en Telegram
1 883
Suscriptores
+824 horas
+307 días
+2630 días
Archivo de publicaciones
কোরআনে একটা আয়াত যখনই পড়ি তখনই আমি আত্নবিশ্বাসী হই। আল্লাহ বলেছেন — "নিশ্চয়ই আমি মানুষকে সৃষ্টি করেছি সর্বোত্তম গঠনে।" (সূরা ত্বীন, ৯৫:৪) "সর্বোত্তম" মানে এর ওপরে আর কিছু নেই। অথচ আমরা নিজেদের চেহারা বা অবয়ব নিয়ে সবচেয়ে অসন্তুষ্ট জাতি হয়ে উঠছি। একটা প্রশ্ন করি। যখন আয়না ছিল না, তখন মানুষ কী করত? হাজার হাজার বছর মানুষ নিজের মুখ ঠিকমতো দেখতেই পেত না। পানির প্রতিফলন, নয়তো ধাতুর পালিশ করা টুকরো — এতটুকুই। মানুষ তখন বাঁচত নিজের চেহারা নিয়ে না ভেবে। তারপর এলো আয়না। মানুষ প্রথমবার স্পষ্ট করে নিজেকে দেখল। আর দেখা শুরু করতেই — নিজেকে নিয়ে ব্যস্ত হয়ে গেল। কীভাবে আরও সুন্দর হওয়া যায়, কীভাবে এই দাগটা ঢাকা যায়, কীভাবে ওকে টেক্কা দেওয়া যায় — চিন্তাটা এখান থেকেই শুরু। প্রথমে এলো মেকআপ। যা আছে, তার ওপর রং চাপিয়ে দেওয়া। আসল মুখটা ঢেকে একটা "উন্নত" মুখ দেখানো। তারপর এলো ফিল্টার। মেকআপেরও ডিজিটাল সংস্করণ — এক ট্যাপে ত্বক মসৃণ, নাক সরু, চোখ বড়, রং ফর্সা। কী অদ্ভুত যাত্রা, খেয়াল করেছেন? আয়না বানানো হয়েছিল সত্য দেখতে। কিন্তু সেই সত্যটা আমাদের এত অপছন্দ হলো যে আমরা এমন জিনিস বানালাম, যা মিথ্যে বলে। ভয়ংকর বিষয় হল, এটা এখন আর রং বা ফিল্টারে থেমে নেই। পশ্চিমে নিজের চেহারা পরিবর্তন করা মহামারির রূপ নিয়েছে। ঠোঁটে জেল ভরানো, চোয়াল কেটে ছোট করা, নাকের আকার বদলানো, চামড়া সাদা করার ইনজেকশন, নিজেকে জীবন্ত পুতুল বানানো। মানুষ ছুরির নিচে শুয়ে পড়ছে — একটা কাল্পনিক "নিখুঁত" মুখের জন্য। না, নিজেদের ভালো ভাবার প্রয়োজন নেই। এটা এখন শুধু ওদের সমস্যা না ঢাকাতেই এখন সারি সারি ক্লিনিক। ঠোঁটে ফিলার, মুখের আকার বদলানো, ফর্সা হওয়ার ইনজেকশন — সবই এখন হাতের নাগালে, বিজ্ঞাপনসহ। আমাদের ঘরেও ঢুকে গেছে। কেন হচ্ছে এমন? কারণ ছোটবেলা থেকে আমাদের সুন্দর হওয়ার ছাঁচ গিলিয়ে দেওয়া হয়েছে। ভেবে দেখুন — নাটক-সিনেমার নায়ক কি কখনো কালো হয়? বোঁচা নাক? শুকনো? হয় না। নায়িকাও না। ইন্ডাস্ট্রি একটা "সুন্দর"-এর সংজ্ঞা বানিয়ে রেখেছে — ফর্সা, লম্বা, নিখুঁত। আর গত পঁচিশ-তিরিশ বছর ধরে আমরা ওই একটা বিজ্ঞাপনই তো দেখে আসছি — "ফর্সা হও, তবেই সুন্দর।" সাবান থেকে ক্রিম, শ্যাম্পু থেকে সিনেমা — গোটা ইন্ডাস্ট্রি মিলে একটা ছাঁচ বানিয়েছে। তারপর কেউ সেই ছাঁচে খাপ না খেলে নিজেকে কুৎসিত ভাবে। আর তখনই ছোটে মেকআপে, ফিল্টারে, ক্লিনিকে, সার্জারীতে। অথচ ছাঁচটাই তো মিথ্যে। এবার আসল কথাটা শুনুন। আল্লাহর একটা সুন্দর নাম আছে — আল-মুসাওয়্যির। অর্থ: যিনি রূপদান করেন, আকৃতি দেন। যিনি প্রতিটা মুখ আলাদা করে, নিজ হাতে, নিখুঁতভাবে গড়েন। মায়ের গর্ভে আপনার চোখ কোথায় বসবে, নাক কেমন হবে, ঠোঁটের বাঁক কতটা — প্রতিটা সিদ্ধান্ত তাঁর। কোটি কোটি মানুষ, অথচ একটা মুখও আরেকটার মতো না। এই বৈচিত্র্যটাই তো তাঁর শিল্পের প্রমাণ। এখন ভাবুন। যে মুখটা আল-মুসাওয়্যির নিজ হাতে গড়েছেন, সেটাকে "অসুন্দর" বলে ঢেকে ফেলা, কেটে বদলানো — এটা আসলে কার সিদ্ধান্তকে প্রশ্ন করা? আপনার এই চেহারাটাই — যেটা নিয়ে আপনি আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে আফসোস করেন — এটাই আপনার স্রষ্টার হাতে গড়া সেরা মাস্টারপিস। আপনার গায়ের রং, আপনার নাকের গড়ন, আপনার উচ্চতা — কোনোটাই ভুল না। এগুলো একজন মহাশিল্পীর সিদ্ধান্ত। আর তাঁর সিদ্ধান্তে ভুল থাকে না। টিভির হিরো আপনার সৌন্দর্যের সংজ্ঞা ঠিক করে না। সৌন্দর্যের সংজ্ঞাটা আসমান থেকে লেখা হয়ে এসেছে — "সর্বোত্তম গঠনে"। মেকআপ মুছে যায়। ফিল্টার সরে যায়। সার্জারির দাগ থেকে যায়। কিন্তু তিনি যে রূপ দিয়েছেন, সেটাই আসল, সেটাই স্থায়ী, সেটাই সুন্দর। আল্লাহ আমাদের নিজেদের রূপে সন্তুষ্ট থাকার, আর তাঁর সৃষ্টিকে সম্মান করার তাওফিক দিন। আমীন। 🤍 - সংগৃহীত

🌸সালাফের নারীগণ -১ সালাফের নারীগণ সন্তান জন্মের পূর্ব থেকেই সন্তানকে আদর্শ সন্তান হিসেবে গড়ে তোলার ফিকির ও পরিকল্পনা করতেন। এর জন্য পূর্বপ্রস্তুতি নিতেন। কুরআন মাজীদে উম্মে মারয়াম রা. এর মহান মান্নতের ঘটনা এর সমুজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। মহান রবের দরবারে তিনি অত্যন্ত নিষ্ঠাপূর্ণ ও হৃদয়নিংড়ানো আকুতি নিয়ে বললেন— رَبِّ إِنِّي نَذَرْتُ لَكَ مَا فِي بَطْنِي مُحَرَّرًا فَتَقَبَّلْ مِنِّي إِنَّكَ أَنْتَ السَّمِيعُ الْعَلِيمُ. হে আমার রব, আমার গর্ভে যে সন্তান আছে, আমি আপনার জন্য তার ব্যাপারে মান্নত করলাম যে, তাকে মুক্ত রাখা হবে। অতএব আপনি আমার পক্ষ থেকে কবুল করুন। —সূরা আলে ইমরান, (৩) : ৩৫ অর্থাৎ দুনিয়ার সমস্ত ব্যস্ততা, ঝায়-ঝামেলা ও দায়দায়িত্ব থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত, আল্লাহর ইবাদত ও বাইতুল মাকদিসের সেবার জন্য ওয়াক্ফকৃত। আকাক্সক্ষার বিপরীতে যখন কন্যাসন্তান জন্মলাভ করে, তিনি নিরাশ হননি। আল্লাহর ওপর ভরসা করে মান্নত পূর্ণ করলেন এবং বললেন, وَإِنِّي سَمَّيْتُهَا مَرْيَمَ وَإِنِّي أُعِيذُهَا بِكَ وَذُرِّيَّتَهَا مِنَ الشَّيْطَانِ الرَّجِيمِ. আমি তার নাম রাখলাম মারয়াম এবং তাকে ও তার বংশধরগণকে অভিশপ্ত শয়তান থেকে হেফাজতের জন্য তোমার আশ্রয়ে অর্পণ করলাম। —সূরা আলে ইমরান, (৩) : ৩৬ আল্লাহ রাব্বুল আলামীন মায়ের এ নিষ্ঠা ও কুরবানিকে কী সাদরে মূল্যায়ন করলেন! فَتَقَبَّلَهَا رَبُّهَا بِقَبُولٍ حَسَنٍ وَأَنْبَتَهَا نَبَاتًا حَسَنًا وَكَفَّلَهَا زَكَرِيَّا. সুতরাং তাঁর প্রতিপালক তাঁকে (মারয়ামকে) উত্তমভাবে কবুল করলেন এবং তাঁকে উৎকৃষ্ট পন্থায় প্রতিপালন করলেন। এবং তাঁকে যাকারিয়ার তত্ত্বাবধানে সোপর্দ করলেন। —সূরা আলে ইমরান, (৩) : ৩৭ বলাবাহুল্য, এ কন্যাসন্তান মারিয়াম রা. ও তাঁর অস্তিত্বে সুপ্ত হযরত ঈসা আ. কত বরকতপূর্ণ ছিলেন। হযরত উম্মে মারয়াম রা. তাঁর এ ইখলাস ও কুরবানির মাধ্যমে মায়েদের জন্য রেখে গেলেন আল্লাহর ওপর ভরসা করে আল্লাহর তরে সন্তানকে ওয়াক্ফ করার উজ্জ্বল শিক্ষা। মাওলানা মানযূর নুমানী রাহ. বলেন, “ইমাম আবু বকর জাস্সাস রাযী রাহ. ‘আহকামুল কুরআন’ কিতাবে এ আয়াতের তাফসীর প্রসঙ্গে লিখেছেন, সন্তানকে আল্লাহর জন্য ওয়াক্ফ করার এ ধারা শরীয়তে মুহাম্মাদীতেও বহাল রয়েছে, তবে শরীয়তে মুহাম্মাদীর স্বভাব ও প্রকৃতি অনুুযায়ী তার রূপ সংশোধন করা হয়েছে। অর্থাৎ যারা সন্তানকে আল্লাহর জন্য ওয়াক্ফ করতে চায়, তারা এভাবে নিয়ত করবে যে, এই সন্তানকে আমি আল্লাহর জন্য এবং তাঁর দ্বীনের খিদমতের জন্য ওয়াক্ফ করলাম। এতে সে ইলমে দ্বীন হাসিল করা এবং দ্বীনের খেদমত করার জন্য ওয়াক্ফ হয়ে যাবে। তবে আমাদের শরীয়তে মুহাম্মাদীতে এজন্য তার সংসার ত্যাগ করার প্রয়োজন নেই এবং অনুমতিও নেই। জীবনকে সে আল্লাহর নামে উৎসর্গ করবে, জীবনের অঙ্গনে অবস্থান করে। প্রয়োজনে সে উপার্জন ও জীবিকার পথ গ্রহণ করবে, বিবাহ-সংসার নির্বাহ করবে এবং সন্তান-সন্ততির তরবিয়ত করবে, এমনকি মা-বাবার সেবা-দায়িত্বও পালন করবে, কিন্তু তার জীবনের একমাত্র লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য হবে ইলমের তলব, দ্বীনের খেদমত এবং আল্লাহ তাআলার রিযা ও সন্তুষ্টি অর্জন। জীবনের অঙ্গনে অবস্থান করেও এ লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যের পথেই হবে তার জীবন ও মরণ।” —তালিবানে ইলমের রাহে মনযিল পৃ. ২২-২৩ @FatayatalHuda

এই দুনিয়ার জীবনে কোনো স্থিরতা নেই। নেই কোনো পূর্ণতা। এটা মেনে নিলেই দিল শান্ত হবে। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়াতাআ'লা তো নিজেই বলেছেন, তিনি তাঁর বান্দাকে পরীক্ষা করবেন বারবার। কখনো দিয়ে, কখনো কেড়ে নিয়ে। কেউ থাকবে অসুস্থতার পরীক্ষায়। কেউ বা থাকবে অভাবে। কাউকে পরীক্ষা করা হবে জীবনসঙ্গী দিয়ে। কেউ কেউ নিঃসন্তান হয়ে জীবন কাটাবে। আবার সেই পরীক্ষাগুলো শেষ হওয়ার পর নতুন করে নতুন রূপে,নতুন নতুন পরীক্ষা আসবে। এটাই যে জীবন! খেয়াল করলে দেখবেন,যাদের জীবনে পূর্ণতা আসে,তাদের জীবন থেকে কোনো না কোনো মানুষের বিদায় হয়। মৃত্যু এসে সব লন্ডবন্ড করে। কিংবা কোনো মরণব্যাধি ধরা পড়ে। এটাই আল্লাহর ইচ্ছে। আর মাবুদের ইচ্ছেকে সবরের সাথে মেনে নেওয়াই গোলামের কর্তব্য! সব পরিস্থিতিতে, সব হালতে কেবলমাত্র আল্লাহর দিকে ফিরে যাওয়াতেই মুক্তি। সবর ও সালাতের মাধ্যমে আল্লাহর সাহায্য চাওয়ার মাধ্যমেই জীবন সহজ হয়। ইহকাল ও পরকালে মুক্তি মেলে। সবশেষে, আমরা তো আল্লাহর জন্য এবং তাঁর কাছেই ফিরে যাবো। ~ Tahia Islam @FatayatalHuda

একদিন আমি এই পৃথিবী ছেড়ে চলে যাব। তখন আমার সন্তানরা আমাকে কীভাবে স্মরণ করবে? তারা কি বলবে আমাদের আব্বু গভীর রাতে তাহাজ্জুদ পড়তেন, কুরআন তিলাওয়াত করতেন, আল্লাহর কাছে অনেক দোয়া করতেন। নাকি বলবে আমাদের আব্বু রাত জেগে মোবাইল চালাতেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সময় কাটাতেন, কিন্তু নামাযের জন্য উঠতে পারতেন না। একটু নিজের বিবেককে জিজ্ঞেস করুন, আপনি আপনার সন্তানদের জন্য কোন স্মৃতিটি রেখে যেতে চান? আমরা প্রায়ই সন্তানদের নসীহত করি, বাবা, পাঁচ ওয়াক্ত নামায পড়ো। কিন্তু সে কি কখনো দেখেছে যে, আজান হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আমরা সব কাজ ফেলে মসজিদের দিকে ছুটে গেছি? আমরা বলি, বাবা, মোবাইল কম দেখো। কিন্তু আমাদের নিজের হাতেই কি সারাক্ষণ মোবাইল থাকে না? আমরা বলি, মিথ্যা বলা মহাপাপ। কিন্তু নিজেদের প্রয়োজনে কি আমরা ছোট-বড় মিথ্যাকে সহজভাবে গ্রহণ করি না? আমরা চাই সন্তান ভদ্র হোক, অথচ আমাদের মুখে রাগ, গালি ও কঠোর ভাষা। আমরা চাই সন্তান সত্যবাদী হোক, অথচ আমাদের কথার সঙ্গে কাজের মিল নেই। মনে রাখতে হবে, সন্তান কেবল আমাদের উপদেশ শোনে না; সে আমাদের জীবন পড়ে। সে আমাদের প্রতিটি আচরণ, প্রতিটি অভ্যাস এবং প্রতিটি সিদ্ধান্ত নীরবে শিখে নেয়। এ কারণেই বলা হয়, সন্তান হলো মা-বাবার জীবন্ত প্রতিচ্ছবি। মূল ছবিতে যা থাকবে, প্রতিচ্ছবিতেও তাই ফুটে উঠবে। তাই যদি আমরা চাই আমাদের সন্তানরা আল্লাহভীরু, সৎ, নামাযী, কুরআনপ্রেমী, চরিত্রবান ও আদর্শ মানুষ হোক, তাহলে প্রথমে নিজেদের জীবনকেই বদলাতে হবে। -খুতুবাত

ভাতের মাড় ফেলবেন কিন্তু লুছনী খুঁজে পাচ্ছেন না, গোসলে যাবেন গামছা খুঁজে পাচ্ছেন না সাথে সাথে আল্লাহকে বলবেন যে, আল্লাহ খুঁজে পাচ্ছিনা পাইয়ে দাও। যদিও এগুলো জিনিস হাতের কাছেই থাকে একটু খুঁজলেই পাওয়া যায় তবুও আগে আল্লাহকে বলবেন। আমার ছেলে ঘুমের মধ্যে পুরো বিছানা গড়াগড়ি করে, খাটের মাথায় গিয়ে বাড়ি খায় নয়তো নিচে পড়ে যায় এইজন্য দুই পাশে কোল বালিশ দিয়ে রাখি। রাতে ঘুমের মধ্যে হঠাৎ হাত দিয়ে দেখি এক পাশে বালিশ নাই। ঘুমের মধ্যেই উঠে বিছানার চারপাশে খুঁজলাম পেলাম না পরে বিরক্ত হয়ে শুয়ে পড়লাম। তখনই মনে খেয়াল আসলো, আল্লাহ তো জুতার ফিতাও চাইতে বলছেন আচ্ছা আল্লাহকেই বলি। বলে আবার খুঁজা শুরু করলাম। আলহামদুলিল্লাহ পেয়ে গেলাম অথচ সেই একই জায়গায় মাত্রই দেখেছি কিন্তু পাইনি। বড় বড় বিপদ ছাড়া আল্লাহকে বলার অভ্যাস নাই আমাদের কিন্তু বলা উচিত তাহলে জীবন সহজ হয়ে যায়। কারণ লুছনী বলেন বা গামছা প্রত্যেকটা জিনিসের মালিক আল্লাহ। এই ছোট্ট জিনিসটাও আল্লাহর ইচ্ছে ছাড়া ফিরে পাওয়া সম্ভব না। যতই নাগালে থাকুক, চোখের সামনে থাকুক। তাই খুঁজবেন কিন্তু আল্লাহকে বলে নিবেন। একটা আইসক্রিম খেতে চাইলেও হাজব্যান্ড বা বাবাকে বলার আগে আল্লাহকে বলবেন। এই ছোট্ট জিনিসটা কিনে দিতে কোনো বাবা বা হাজব্যান্ডই না করবেন না। কিন্তু এমন হতে পারে যে, তাদের আনার কথা মনে থাকলোনা কিংবা আনার পথে হারিয়ে গেলো বা কোনোভাবে নষ্ট হয়ে গেলো। কিন্তু আল্লাহ ইচ্ছে করলে যেভাবেই হোক আপনার হাতে পৌঁছে যাবে। সবচেয়ে বড় ফায়দা হলো, এই ধরনের ছোট ছোট বিষয়ে বলার অভ্যাস থাকলে আল্লাহর সাথে স্ট্রং একটা কানেকশন তৈরি হয়ে যায় তখন বড় বড় বিপদে মাথা ঠান্ডা থাকে। নয়তো আমরা প্যানিক করে ফেলি, হসপিটালে দৌড়াই টাকা ঢালতে থাকি, এর কাছে বলি ওর কাছে দৌড়াই, এই সেক্টরে পরিচিত উচ্চপদস্থ কে আছে খুঁজতে থাকি। সবশেষে যখন কোন কাজ হয়না তখন আল্লাহকে বলি অথচ শুরুতেই আল্লাহকে বললে আল্লাহ বিষয়টা সবচেয়ে সুন্দরতম উপায়ে সহজ করে দিতেন। - সংগৃহীত

তৃষ্ণায় শীতল পানির চেয়েও প্রিয় আলী রাযিয়াল্লাহু কে জিজ্ঞেস করা হল যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে আপনারা কেমন ভালোবাসতেন? জবাবে তিনি বলেন, كَانَ وَاللَّهِ أَحَبُّ إِلَيْنَا مِنْ أَمْوَالِنَا وَأَوْلَادَنَا، وآبائِنَا وَأُمَّهَاتِنَا، وَمِنَ الْمَاءِ الْبَارِدِ عَلَى الظَّما আল্লাহর কসম! তিনি আমাদের নিকট আমাদের ধন-সম্পদ, সন্তান-সন্ততি, পিতৃ ও মাতৃকুল এবং প্রচন্ড তৃষ্ণার সময় ঠান্ডা পানি যেমন প্রিয়, তার চাইতেও অধিক প্রিয় ছিলেন। (আশ-শিফা বি তা'রীফি হুকুক্বিল মুস্তাফা: ২/৫২) সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম - খুতুবাত 🍀জুমার রাত, দুরুদ আর সূরা কাহাফ এর আমল ভুলব না...

এক বন্ধুর বাসায় গিয়েছিলাম। ড্রয়িংরুমে কিছুক্ষণ বসার পর সে তার সাত মাস বয়সী মেয়েকে নিয়ে ঢুকলো। কোলে নেয়ার জন্য হাত বাড়ালাম, আসবে না। মুখ দিয়ে কত অঙ্গভঙ্গি করলাম, আদর করে ডাকলাম, কিছুতেই আসবে না। কেমন যেন ভয়ের চোখে তাকিয়ে আছে। অপরিচিত মানুষ দেখলে বাচ্চারা যেমন করে আর কি। এরপর যেই না জোর করে কোলে নিতে গেলাম, চিৎকার করে কেঁদে উঠলো। মেয়ের বাবা আদর করল, ধমকও দিল। এত ভয় পাবার কি আছে? কিন্তু ধমক খেয়েও সে বাবার কোলেই থাকবে, আমার কোলে আসবে না। ২) ফেসবুকে পরিচিত এক দ্বীনি ভাইয়ের সাথে কথা হচ্ছিল সেদিন। তিনি তার ছোট ভাইয়ের ব্যাপারে বলছিলেন। উমরা করে এসে সম্পূর্ণ পরিবর্তন হয়ে যান। দাড়ি রাখেন, নিয়মিত নামাজ পড়া শুরু করেন। কথা বার্তা আচার আচরণ সব কিছুতেই তার আমূল পরিবর্তন আসে। উমরা থেকে এসে এক বছর পর বিয়ে করেন। একটি ছেলেও হয়। সব কিছু বেশ ভাল ভাবেই চলছিল। কিন্তু বছরখানেক ধরে তার জীবনে একটার পর একটা বিপদ আসছে। প্রথমে তার ব্যবসায়িক পার্টনার তাকে ধোঁকা দেয়। যার কারণে অনেক বড় অঙ্কের টাকা লোকসান হয়। এর কিছুদিন পর এক্সিডেন্ট করে পা ভেঙ্গে ফেলেন। আর সর্বশেষ মাসখানেক আগে তার একমাত্র ছেলেটি মারা যায়। এসব শুনে কিছু বলার মত ভাষা ছিল না। তারপরও জিজ্ঞেস করলাম, আপনার ভাইয়ের এখন কি অবস্থা। একদম তো ভেঙ্গে পড়ার কথা। তিনি জবাব দিলেন, না ভাই! আল্লাহর রহমতে যথেষ্ট স্বাভাবিক আছে। একটা সময় ছিল, যখন আমার এই ভাইয়ের আচার আচরণের কারণে আমরা কেউ মুখ দেখাতে পারতাম না। আর এখন ওর কাছেই আমরা ঈমানের দৃঢ়তা শিখি। এত বড় বড় বিপদের পরও বলে, আল্লাহই বিপদ দেন, তিনিই এর প্রতিদান দিবেন। ------------ ঘটনা দুটোর মাঝে কি কোন মিল আছে? হয়তো আছে। একটি ছোট বাচ্চা, কথা বলা শেখার আগেই পরিচিত ও অপরিচিতের মাঝে পার্থক্য করতে শিখে। তার কাছে মনে হয়, তার পরিচিত মানুষটি ধমক দিলেও, সে তার আপন। তাকে ভয় পাবার কিছু নেই। আর অপরিচিত কেউ আদর করলেও তাকে সে ভয় পায়, ইনসিকিউর ফিল করে। ঠিক একই ভাবে, একজন প্রকৃত ঈমানদারও তার আপনকে চিনে। সে জানে এ জগতে তার সবচেয়ে আপন তার রব, তার মালিক। পৃথিবীর সবাই তাকে ভুলে গেলেও তিনি তাকে ভুলবেন না। তিনি যদি তাকে বিপদে ফেলেন, তিনিই তাকে উদ্ধার করবেন। তিনি যদি তার কাছ থেকে কিছু নিয়ে যান, তিনিই এর থেকে উত্তম কিছু তাকে দিয়ে দিবেন। আবু সাঈদ খুদরি (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি নবী কারিম (স.)-এর কাছে ছিলাম, তখন তিনি ভীষণ জ্বরে আক্রান্ত ছিলেন। আমি তার ওপর আমার হাত রাখলে তর গায়ের চাদরের ওপর থেকেই তার শরীরের প্রচণ্ড তাপ অনুভব করলাম। আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসুল! কত তীব্র জ্বর আপনার। তিনি বলেন, আমাদের (নবী-রাসুলদের) অবস্থা এমনই হয়ে থাকে। আমাদের ওপর দ্বিগুণ বিপদ আসে এবং দ্বিগুণ পুরস্কারও দেওয়া হবে। আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসুল! কার ওপর সর্বাধিক কঠিন বিপদ আসে? তিনি বলেন, নবীদের ওপর। আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসুল! তারপর কার ওপর? তিনি বলেন, তারপর নেককার বান্দাদের ওপর। তাদের কেউ এতটা দারিদ্র্যপীড়িত হয় যে, শেষ পর্যন্ত তার কাছে তার পরিধানের কম্বল ছাড়া আর কিছুই থাকে না। তাদের কেউ বিপদে এত শান্ত ও উৎফুল্ল থাকে, যেমন তোমাদের কেউ ধন-সম্পদ প্রাপ্তিতে আনন্দিত হয়ে থাকে। [ইবনে মাজাহ ৪০২৪] তাই মু’মিন হতাশও হয় না, হীনমন্যতায়ও ভুগে না। বিপদ তার ঈমানকে আরও বাড়িয়ে দেয়। কষ্ট তাকে করে আরও শক্তিশালী। ~ Rizwanul Kabir @FatayatalHuda

"দাম্পত্য জীবন সুখময় রাখা বিষয়ে শরয়ী নির্দেশনা" সিরিজের সকল পর্বের লিংক নিচে দেওয়া হলো: • পর্ব-১ (দাম্পত্য জীবন সুখময় রাখা বি
"দাম্পত্য জীবন সুখময় রাখা বিষয়ে শরয়ী নির্দেশনা" সিরিজের সকল পর্বের লিংক নিচে দেওয়া হলো: • পর্ব-১ (দাম্পত্য জীবন সুখময় রাখা বিষয়ে শরয়ী নির্দেশনা)পর্ব-২ (স্বামী-স্ত্রীর হক সমূহ)পর্ব-৩ (উত্তম স্ত্রী এবং উত্তম স্বামীর গুণাবলীপর্ব-৪ (অবাধ্য স্ত্রীকে সংশোধনের কয়েকটি নির্দেশনা)পর্ব-৫ (তালাক দেওয়ার সর্বোত্তম পদ্ধতি হানাফি ফিকহ অনুযায়ী)পর্ব-৬ (তালাক দেওয়ার ভুল পদ্ধতি এবং তার কুফল)পর্ব-৭ (রুজু করার মনগড়া পদ্ধতি সমূহ)পর্ব-৮ (তালাক দাতার জন্য মহিলাটি কখন হালাল হবে)পর্ব-৯ (লিআনের পরিচয় ও তা শরীয়ত সম্মত হওয়ার দলীল ও হিকমাহ)পর্ব-১০ (মুমিনের ঘরের ১৩ টি বৈশিষ্ট্য) • আমাদের ফেইসবুক পেইজ লিংক: @FatayatalHuda

দ্বীনে ফেরার পর প্রায় সবাই কিছু না কিছু জাহিলিয়্যাত নিয়ে ফিরে। কেউ চিন্তাগত জাহিলিয়্যাত নিয়ে ফিরে আবার কেউ আমলি জাহিলিয়্যাত নিয়ে ফিরে। এ জাহিলিয়্যাতগুলো থেকে বের হওয়ার আগ পর্যন্ত আসলে নিজেকে পরিপূর্ণ দ্বীনদার দাবি করাটা অনুচিত। এ কারণে এক ভাই খুব সুন্দর বলেছিলেন, 'হে দ্বীনি ভাই পুনরায় দ্বীনে ফিরো।’ ভাইয়ের কথাটা অনেকটা কুরআনের এ আয়াতের মতো —
হে ইমানদারগণ তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং মুসলিম হওয়া ছাড়া মৃত্যুবরণ করো না। (আলে ইমরান ১০২)
প্রশ্ন থাকে আমাদের ভিতরের এই জাহিলিয়্যাহগুলো কিভাবে দূর হবে? ১. কুরআনের সাথে সুদৃঢ় সম্পর্ক গড়ার মাধ্যমে। ২. উলামাদের থেকে ইলম গ্রহণের মাধ্যমে। অন্তত ফরজ পরিমাণ ইলম গ্রহণ করতেই হবে এক্ষেত্রে। ৩. দ্বীনি ভাইদের সাথে নিয়মিত সাক্ষাৎ ও মুজাকারা করার মাধ্যমে। ৪. রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাহর ওপর চলার মাধ্যমে। 🍀 লাস্ট পয়েন্টে আরেকটা গুরুত্বপূর্ণ কাজ হলো: নিজেকে দ্বীনদার ভেবে তৃপ্তির ঢেকুর না তুলে প্রতি রাতে ঘুমানোর আগে নিজের ভুলভ্রান্তি নিয়ে মুহাসাবা করার মাধ্যমে। অনলাইন দ্বীনি ভাইদের কাছে আমি দ্বীনদার নামে পরিচিত হলেও আসমানে আমি দ্বীনদার তো? নাকি আমি এমন মুনাফিক হিসেবে পরিচিত, যে দ্বীনদারদের সামনে তার দ্বীন 'শো' করে আর অন্যান্য সময় বেদ্বীন এর মতোই নিজেকে পেশ করে। লিখেছেন: মুহতারাম Abdur Rahman ভাইজান (হাফিজাহুল্লাহ) @FatayatalHuda

বেদ্বীন পরিবারে কখনো কখনো টিকে থাকা আসলেই মুশকিল হয়ে যায়। এমনিতেই তো মুশকিল। তার উপর বাবা-মা যদি সীমার বাইরে অমানুষ হয়, তবে বাড়ি ছাড়ার কথা মাথায় আসা অস্বাভাবিক না। কিন্তু আপা, এই প্রস্তাবে বিবেচনা করার কিছু ব্যাপার আছে। প্রথমত, যদি বাসায় আপনাকে যৌন নিপীড়ন না করা হয়, তবে বাইরের দুনিয়া থেকে বাড়িতে থাকা আপনার জন্য তুলনামূলক নিরাপদ। হ্যাঁ, রোজ দু’বেলা নিয়ম করে ভাতের সাথে গালি খেলেও নিরাপদ। পর্দার কিছুটা খেলাপ হলেও তুলনামূলক নিরাপদ। এ কথা মানতে কষ্ট হবে জানি। আমারও লিখতে কষ্ট হচ্ছে। কিন্তু এটাই বাস্তবতা রে, আপা। ঘর ছেড়ে আপনি যাবেন কই? এতিমখানা? মাদ্রাসায় আবাসিক থাকবেন? কোন মাদ্রাসা? একটা ঘরছাড়া অবিবাহিত মেয়ে যে ভীষণ অসহায় তা আর কাউকে আলাদা করে বলে দিতে হয় না। আপনার এই অসহায়ত্বের সুযোগ কেউ নিবে না এ নিশ্চয়তা আপনাকে কে দিবে? বিশ্বাস করবেন? কীসের ভিত্তিতে বিশ্বাস? যেখানে নিজের পরিবারকে বিশ্বাস করতে পারলেন না, সেখানে বাইরের মানুষকে বিশ্বাস? সে বিশ্বাস করলে তো আর আমরা পর্দা করতাম না, আপা। অবাস্তব বিশ্বাসের শিক্ষা তো আমাদের দ্বীন আমাদের দেয় না, আপা। চারপাশে নজর বুলিয়ে দেখুন। বিশ্বাস করতে পারেন? পারবেন না। আরেকটা সমাধান হলো: কোনো মেস/হোস্টেলে ওঠা। কিন্তু সেটার জন্য আপনার আয়ের উৎস থাকতে হবে; মেস ভাড়া, রান্নাবান্না, যাতায়াত, বিছানা-বালিশ, সাবান-তেল আরো কত কত কত কিছু রে, আপা। উঠি বললেই তো ওঠা যায় না। গিয়ে আবার ফিরে আসবেন? তাহলে কথার বাণ যে কতগুণ বেড়ে যাবে রে, আপা। নাউজুবিল্লাহ। আবার, ঘর ছেড়ে আপনি বাইরে যাবেন, তখন আবার আপনি অনিরাপদ হয়ে যাবেন। সামান্য বাবা না থাকলেই মেয়েদের বিয়ে নিয়ে কম ঝক্কি পোহাতে হয় না। সেখানে আপনার পরিবার থেকেও নাই। নিজের এই অসহায়ত্ব পুরুষ মানুষের সামনে দেখাতে হয় না। দেখালে পস্তাতে হয়। হয়ই। মেয়েদের পরিবারের আশ্রয় থাকাটা দরকার। নিজের স্বার্থেই দরকার। তবে যদি পরিবারে নির্যাতনের পরিমাণ অসহনীয় হয়, যৌন নিপীড়িত হতে হয়, নিত্যদিন মেরে আধমরা করে ফেলে—এসব বিবেচনায় মাশোয়ারা-ইস্তিখারা-প্রস্তুতি সাপেক্ষে ঘর ছাড়তে হতে পারে। কিন্তু সে পথ সাধারণদের জন্য না, আপারা। সাধারণদের জন্য না। সে পথ বড় কন্টকাকীর্ণ। এতখানি পড়ে মনে হতে পারে, আমি হয়তো আপনাদের নির্যাতন সইতে বলছি। হয়তো আমি নিজে কখনো এই পরিস্থিতির মধ্যে দিয়ে যাইনি, তাই এত সহজে বলতে পারছি। কিন্তু যারা বেদ্বীন পরিবারে দ্বীন পালন করে তাদের গল্পগুলো একই রকম রে, আপা; একই রকম। মাইর-গালি আপনি খান মানে আমিও খাই। হয়তো উনিশ-বিশ পার্থক্য। হয়তো আপনি সকালে খান, আমি বিকালে। এতটুকুই। মনে হতে পারে, সমাধান কি নাই? নাই-ই? আরে, সে কথা বলেছি নাকি রে, আপা? সমাধান আছে। সমাধান হলো: দুআ-দুরূদ-দুআ ইউনুস-হাওক্বালা-দুআ। বিশেষ করে দুরূদে ইব্রাহিমের উপর আর কোনো সমাধান নাইইই। নাইই। পরিবারে শান্তি ও বারাকাহ চাইলে দুরূদে ইব্রাহিম জবানে ওয়াজিব করে নিতে হবে। সারাদিন জবান চলতে হবে, মোবাইল আসক্তি ভুলে যেতে হবে। মাত্র একটা সপ্তাহ অন্তত দিনে ১০০ বার দুরূদে ইব্রাহিম পড়েই দেখুন। হাতেনাতে ফলাফল পাবেন ইনশাআল্লাহ, আপা। তবে, নিয়ত হতে হবে আল্লাহ তাআলার ভালোবাসা পাওয়া। এটাই মূল নিয়ত রাখবেন। আল্লাহ তাআলার ভালোবাসা (সন্তুষ্টি) নিয়ত না হলে কিন্তু আমল কবুল হবে না, আপা। তাই আমলের নিয়তটা রাখবেন এর‌কম—‘আমি দুরূদ পড়ছি কারণ: আমি আল্লাহ তাআলার ভালোবাসা চাই। এরপর আমি চাই আমার রাসুলের ﷺ ভালোবাসা, তাঁর শাফায়াত, তাঁর সুন্নাহ পালনের সওয়াব। এর পাশাপাশি আমি চাই দুরূদের যাবতীয় দুনিয়াবী ও আখিরাতী ফজিলত ও সওয়াব। আমি চাই আমার গুনাহ মাফ হোক, আমার সওয়াব ও মর্যাদা বৃদ্ধি পাক। এসবই আমার মূল নিয়ত, ইয়া রব্বি। পাশাপাশি, আমি চাই এই দুরূদের উসিলায়/বর‌কতে যেন পরিবারে শান্তি আসে, যেন আমার দ্বীন পালন সহজ হয়ে যায়। আমার তরফ থেকে এ আমল কবুল করুন, ইয়া রব্বি। আমার নিয়তে-আমলে ত্রুটি থাকলে তা মাফ করে দিন।’ (বা যদি অন্য কোনো নিয়তে পড়েন তবে সেটা উল্লেখ করবেন শেষে।) এটা বাধ্যতামূলক না। কিন্তু দুরূদ পড়ার আগে, মাঝে, পরে বারবার নিজের নিয়ত ঝালাই করতে হবে। মনে রাখবেন, যে আল্লাহ তাআলার ভালোবাসা চায়, সে রব্বে কারীমের ভালোবাসাও পায়; আবার তার দুনিয়া ও আখিরাতের যাবতীয় প্রয়োজনের জন্যও তিনিই যথেষ্ট হয়ে যান। আর যে (আল্লাহ তাআলার ভালোবাসা ছাড়া) দুনিয়াবী জিনিস পাওয়ার জন্য আমল করে, সে হয় সেই জিনিস পায় নাহয় কিছুই পায় না। অন্তরের মালিকের সাথে ছলচাতুরী করে জেতা সম্ভব না, আপা। সম্ভব না। দ্বীন পালন তো করতে চানই রবকে সন্তুষ্ট করতে বা তার অসন্তুষ্টি থেকে বাঁচতে। তাই না? রব্বে কারীমের ভালোবাসার নিয়তে আমল করুন, দেখবেন আপনি মুখ ফুটে না বললেও আপনার প্রয়োজন পূরণ হয়ে যাবে ইনশাআল্লাহ। যে তার রবকে ভালোবাসে, যাকে আল্লাহ ﷻ  ভালোবাসেন, তাকে কি তিনি একলা ছেড়ে দিবেন? কখনোই না ইনশাআল্লাহ। এ তো আমাদের রবের বৈশিষ্ট্য-ই না। • বেদ্বীন পরিবারে দ্বীন পালন ~ জিলফাত ফারহা @FatayatalHuda

"যদি কেউ ঘর থেকে বের হওয়ার সময় বলে, ‘বিসমিল্লাহি তাওয়াক্কালতু আলাল্লাহ, লা-হাওলা ওয়ালা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ’, তবে তাকে বলা হয়– তুমি হেদায়াতপ্রাপ্ত হয়েছ, (আল্লাহ তাআলাই) তোমার জন্য যথেষ্ট, তুমি হেফাজত অবলম্বন করেছ (অনিষ্ট থেকে)। তাতে শয়তান তার থেকে দূরে সরে যায়।" [তিরমিজি ৩৪২৬] ৯. একজন মুমিন ঘরে প্রবেশকালে সালাম দিবে। কেননা, সালাম দেওয়া একটি গুরুত্বপূর্ণ সুন্নত। আল্লাহ  তাআলা বলেন, ‘যখন তোমরা গৃহে প্রবেশ করবে, তখন সশব্দে সালাম করবে। এটি আল্লাহর পক্ষ থেকে প্রাপ্ত বরকতময় ও পবিত্র অভিবাদন।’ [সুরা নূর ৬১] ১০. একজন মুমিন শয্যা গ্রহণের সময় দরজা বন্ধ করবে, আগুন (চুলা) নিভিয়ে নিবে ও খাবার পাত্র ঢেকে রাখবে : ঘুমানোর আগে রাসুল ﷺ এজাতীয় কিছু কাজ করতে বলেছেন, প্রত্যেক পরিবারের জন্য তা মেনে চলা জরুরি। কেননা এতে বহু উপকারিতা রয়েছে। রাসুল ﷺ বলেন, "যখন সন্ধ্যা হয়, তখন তোমাদের সন্তানদের ঘরে আটকে রাখো। কেননা এ সময় শয়তানরা ছড়িয়ে পড়ে। তবে রাতের কিছু অংশ অতিক্রম করলে তখন তাদের ছেড়ে দিতে পারো। আর ঘরের দরজা বন্ধ করবে। কেননা শয়তান বন্ধ দরজা খুলতে পারে না। আর তোমরা আল্লাহর নাম নিয়ে তোমাদের মশকের মুখ বন্ধ করবে এবং আল্লাহর নাম নিয়ে তোমাদের পাত্রগুলোকে ঢেকে রাখবে, কমপক্ষে পাত্রগুলোর ওপর কোনো বস্ত্র আড়াআড়ি করে রেখে দিয়ো। আর (শয্যা গ্রহণের সময়) তোমরা তোমাদের প্রদীপগুলো নিভিয়ে দেবে।" [সহিহ বুখারি ৫৬২৩ মুসলিম ২০১২] ১১. একজন মুমিনের ঘর বা বাড়িতে ছবি বা মূর্তি থাকতে পারে না। কেননা, সে জানে যে, ছবি-মূর্তি ইসলামে নিষিদ্ধ। তাই এসব থেকে বাড়ি-ঘর মুক্ত রাখা মুমিনের অন্যতম কর্তব্য। হাদিস শরিফে রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, ‘যে ঘরে কুকুর ও ছবি থাকে, সে ঘরে (রহমত ও বরকতের) ফেরেশতা প্রবেশ করে না।’ [সহিহ বুখারি ৩২২৫, ৩৩২২; মুসলিম ২১০৬] ১২. অনুরূপভাবে একজন মুমিনের ঘরে বাদ্যযন্ত্র থাকতে পারে না। কেননা, রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, "আল্লাহ তাআলা আমাকে মুমিনদের জন্য হিদায়াত ও রহমত স্বরূপ প্রেরণ করেছেন এবং বাদ্যযন্ত্র, ক্রুশ ও জাহেলি প্রথা বিলোপসাধনের নির্দেশ দিয়েছেন।" [শুয়া’বুল ঈমান, বাইহাকি ৬০২৭] ১৩. একজন মুমিনের বাড়িতে অপচয়-অপব্যয় থাকতে পারে না: কেননা, আল্লাহ বলেন, ‘তোমরা খাও এবং পান করো; কিন্তু অপচয় কোরো না। নিশ্চয়ই আল্লাহ অপচয়কারীদের ভালোবাসেন না।’ [সুরা আ’রাফ ৩১] মহান আল্লাহ আমাদের আমল করার তাওফিক দান করুন। লেখক: মাওলানা উমায়ের কোব্বাদী ~ মুসলিম বাংলা - প্রবন্ধ • দাম্পত্য জীবন সুখময় রাখা বিষয়ে শরয়ী নিদের্শনা (পর্ব-১০ বা শেষ পর্ব)পর্ব-৯ (লিআনের পরিচয় ও তা শরীয়ত সম্মত হওয়ার দলীল ও হিকমাহ)

মুমিনের ঘরের ১৩ বৈশিষ্ট্য বাসা-বাড়িতে বসবাস আমাদের জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘আল্লাহ করে দিয়েছেন তোমাদের গৃহকে অবস্থানের জায়গা।’ [সূরা আন নাহল ৮০] যাপিত জীবনে আমরা হয়ত বাসাবাড়িতে থাকি কিংবা ব্যবসা-বানিজ্য, চাকুরিসহ জীবনের বিভিন্ন প্রয়োজনে বাড়ির বাইরে অবস্থান করি। প্রশ্ন হল, একজন মুমিন হিসেবে আমাদের বাসাবাড়ি কেমন হওয়া উচিত? কী কী ফ্যাসিলিটি থাকা উচিত? কেমন হলে আমাদের বাসা কিংবা বাড়িটা দৃশ্যমান এবং অদৃশ্যমান শত্রু তথা জিন ও শয়তান থেকে নিরাপদ থাকবে এবং বিপরীতে আল্লাহ তাআলার রহমত আকর্ষণ করতে সক্ষম হবে? এ নিয়ে কিঞ্চিত আলোচনা আপনাদের জন্য পেশ করা হল– ১. একজন মুমিনের বাসা-বাড়িতে ইবাদত, জিকির-আজকার, তেলাওয়াত এক কথায় আল্লাহর বিধান পালনের আদর্শ-পরিবেশ বিদ্যমান থাকবে। কেননা, হাদিস শরিফে জিকির থেকে বিমুখ বাসা-বাড়িকে মৃত ব্যক্তির সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে। রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, ‘যে ঘরে আল্লাহর জিকির হয় এবং যে ঘরে আল্লাহর আল্লাহর জিকির হয় না; তাদের দৃষ্টান্ত- জীবিত ও মৃতের ন্যায়।’ [সহিহ বুখারী ৬৪০৭] ২. বিশেষ করে নামাজের পরিবেশ বিদ্যমান থাকবে। কেননা, আল্লাহ তাআলা বলেন, "আমার স্মরণার্থে নামায কায়েম কর।" [সুরা ত্বা-হা ১৪] মু‘আয বিন আব্দুল্লাহ বিন হাবীব আল-জুহানী সূত্রে হিশাম বিন সা‘দ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, ‘আমরা হিশামের কাছে গেলাম। তিনি তার স্ত্রীকে জিজ্ঞেস করলেন, শিশু কখন সালাত আদায় করবে? তিনি বললেন, আমাদের এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ ﷺ সম্পর্কে বলতেন তাঁকে এ ব্যাপারে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল। এর উত্তরে তিনি বলেন, ‘যখন সে তার ডানকে বাম থেকে আলাদা করতে পারবে, তখন তাকে সালাতের নির্দেশ দাও।’ [আবূ দাউদ  ৪৯৭ বাইহাকী, সুনান আল-কুবরা  ৫২৯৬] ৩. একজন মুমিনের ঘরে পর্দা ও লজ্জাশীলতার পরিবেশ থাকবে। উমর রাযি. নবীজী ﷺ-এর কাছে নিবেদন করলেন, ‘ওগো আল্লাহর রাসূলাল্লাহ! আপনার স্ত্রীদের কাছে ভালো-মন্দ সব ধরনের লোক আসে। যদি তাদেরকে পর্দার বিধান দিতেন! এ পরিপ্রেক্ষিতে আল্লাহতাআলা পর্দার আয়াত নাযিল করেন।’ (বুখারী, মুসলিম) মুফতি শফী রহ. মাআরিফুল কুরআনে লিখেছেন, পর্দা সম্পর্কে কুরআনে সাতটি আয়াত এবং রাসূলুল্লাহ ﷺ- এর সত্তরটি হাদীস রয়েছে। পর্দা পালনের দ্বারা উদ্দেশ্য হল, নারীরা যথাসম্ভব ঘরে থাকবে। বিশেষ প্রয়োজনে বের হতে হলে শরীর ও সৌন্দর্য বোরকা ও ওড়না দ্বারা এমনভাবে ঢেকে রাখবে যাতে কোনোভাবেই পরপুরুষের সামনে প্রকাশ না পায়। ৪. একজন মুমিনের বাড়িতে দীনি তা’লিমের তথা কুরআন, সুন্নাহ, সীরাত ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় শিক্ষা দানের আদর্শ পরিবেশ বিদ্যমান থাকবে। আলী রাযি. থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেন, ‘তোমরা তোমাদের সন্তানদেরকে তিনটি বিষয়ে শিক্ষা দাও। (ক) তোমাদের নবীর প্রতি ভালোবাসা (খ) তাঁর পবিত্র আহলে বাইতের প্রতি ভালোবাসা এবং (গ) কুরআন তিলাওয়াত। কুরআনের ধারকরা নবী-রাসুল ও আল্লাহর প্রিয় বান্দাদের সাথে আল্লাহর আরশের ছায়াতলে থাকবে, যখন তাঁর ছায়া ছাড়া অন্য কোনো ছায়া থাকবে না।’ [সহিহবুখারী, কিতাবুল আদব ৫৯৯৭] সা‘দ ইবন আবী ওয়াক্কাস রাযি. বলেন, আমরা আমাদের সন্তানদের রাসূলের যুদ্ধের ইতিহাস শিক্ষা দিতাম, যেমনিভাবে তাদেরকে আমরা কুরআনের সূরা শিক্ষা দিতাম। [তারবিয়াতুল আওলাদ ফিল ইসলাম ৩১৮] ৫. একজন প্রকৃত মুমিনের বাড়িতে মেহমানদারির ব্যবস্থা থাকে এবং তার দ্বারা তার প্রতিবেশিরা কষ্ট পায় না। কেননা, রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি আল্লাহ ও আখিরাতের প্রতি ঈমান রাখে, সে যেন প্রতিবেশীকে কষ্ট না দেয়। যে আল্লাহ ও আখিরাতের প্রতি ঈমান রাখে, সে যেন মেহমানের সম্মান করে।’ [সহিহ বুখারী ৬০১৮] ৬. একজন মুমিন পর্দার পরিবেশ, ইবাদতের পরিবেশ ও মেহমানদারির ব্যবস্থা সুন্দর রাখার লক্ষে সামর্থানুপাতে বসবাসের ঘর প্রশস্ত ও বড়সড় রাখার চেষ্টা করবে। কেননা, রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, "সুসংবাদ ওই ব্যক্তির জন্য, যে তার জিবকে সংযত করতে সক্ষম হয়েছে, বাড়িকে প্রশস্ত করেছে এবং নিজের পাপের জন্য ক্রন্দন করেছে।" [সহিহ আত-তারগিব ২৮৫৫] ৭. একজন মুমিনের বৈশিষ্ট হল, বাড়িতে প্রবেশের সময় ‘বিসমিল্লাহ’ বলবে। কেননা, রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেন, "কোনো ব্যক্তি তার ঘরে প্রবেশকালে ও খাবার গ্রহণকালে আল্লাহর নাম স্মরণ করলে শয়তান (তার সঙ্গীদের) বলে, তোমাদের রাত্রি যাপন ও রাতের আহারের কোনো ব্যবস্থা (এ ঘরে) হলো না; কিন্তু কোনো ব্যক্তি তার ঘরে প্রবেশকালে আল্লাহকে স্মরণ না করলে শয়তান বলে, তোমরা রাত্রি যাপনের জায়গা পেয়ে গেলে। আহারের সময় আল্লাহকে স্মরণ না করলে শয়তান বলে, তোমাদের রাতের আহার ও শয্যা গ্রহণের ব্যবস্থা হয়ে গেল।" [সহিহ মুসলিম ২০১৮; আবু দাউদ ৩৭৬৫] ৮. অনুরূপভাবে ঘর থেকে বের হওয়ার সময়ও ‘বিসমিল্লাহ’ বলবে। কেননা, রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেন,

লিআনের পদ্ধতি: স্বামী বিচারকের নিকট একদল মানুষের উপস্থিতিতে চারবার বলবে: আমি আল্লাহর নামে সাক্ষ্য দিয়ে বলছি যে, আমি আমার অমুক স্ত্রীর উপর যে ব্যভিচারের অপবাদ আরোপ করেছি (স্ত্রী উপস্থিত থাকলে ইশারা করবে, অনুপস্থিত থাকলে নাম উল্লেখ করবে যাতে চিনা যায়) এবং এই ব্যাপারে আমি সত্যবাদী। অতঃপর পঞ্চমবার বাড়িয়ে বলবে: আমি যদি মিথ্যাবাদী হই তাহলে আমার উপর আল্লাহর অভিশাপ। অতঃপর স্ত্রী চারবার বলবে, আমি আল্লাহর নামে সাক্ষ্য দিয়ে বলছি যে, আমার স্বামী আমার উপর যে অপবাদ দিয়েছে এ ব্যাপারে সে মিথ্যাবাদী। পঞ্চমবার বাড়িয়ে বলবে, যদি সে সত্যবাদী হয় তাহলে আমার উপর আল্লাহর গযব। আল্লাহ তা'আলার বাণী: وَالَّذِينَ يَرْمُونَ أَزْوَاجَهُمْ وَلَمْ يَكُن لَّهُمْ شُهَدَاءُ إِلَّا أَنفُسُهُمْ فَشَهَادَةُ أَحَدِهِمْ أَرْبَعُ شَهَادَاتٍ بِاللَّهِ إِنَّهُ لَمِنَ الصَّادِقِينَ ٦ وَالْخَامِسَةُ أَنَّ لَعْنَتَ اللَّهِ عَلَيْهِ إِن كَانَ مِنَ الْكَاذِبِينَ ٧ وَيَدْرَؤُا عَنْهَا الْعَذَابَ أَن تَشْهَدَ أَرْبَعَ شَهَادَاتٍ بِاللَّهِ إِنَّهُ لَمِنَ الْكَاذِبِينَ ٨ وَالْخَامِسَةَ أَنَّ غَضَبَ اللَّهِ عَلَيْهَا إِن كَانَ مِنَ الصَّادِقِينَ ٩ "যারা নিজেদের স্ত্রীর প্রতি অপবাদ আরোপ করে অথচ নিজেরা ব্যতীত তাদের কোনো সাক্ষী নেই, তাদের প্রত্যেকের সাক্ষ্য এই হবে যে, সে আল্লাহর নামে চার বার শপথ করে বলবে যে, সে অবশ্যই সত্যবাদী। আর পঞ্চম বারে বলবে যে, সে যদি মিথ্যাবাদী হয় তাহলে তার উপর নেমে আসবে আল্লাহর লা'নত। আর স্ত্রীর শাস্তি রহিত হবে যদি সে চার বার আল্লাহর নামে শপথ করে সাক্ষ্য দেয় যে, তার স্বামীই মিথ্যাবাদী। আর পঞ্চমবারে বলবে যে, তার স্বামী সত্যবাদী হলে তার নিজের উপর নেমে আসবে আল্লাহর গযব।” [সূরা নূর ৬-৯] 📄 লিআনের সাথে সম্পৃক্ত হুকুমসমূহ যদি লিআন সম্পন্ন হয় তাহলে নিম্নের বিষয়গুলো প্রযোজ্য হবে: ১. স্বামীর উপর থেকে অপবাদের শাস্তি রহিত হয়ে যাবে। ২. স্বামী-স্ত্রীর মাঝে বিচ্ছেদ সাব্যস্ত হবে এবং একে অপরের জন্য চিরস্থায়ী হারাম হিসেবে গণ্য হবে। যদিও তাদের বিচারক পৃথক না করে। ৩. স্বামীর থেকে সন্তানের বংশের সম্পর্ক বাদ দেওয়া হবে আর স্বামী লিআনের সময় স্পষ্টভাবে সন্তানকে অস্বীকার করবে এই বলে যে, أشهد بالله إني لمن الصادقين فيما رميتها به من الزنى، وما هذا بولدي "আমি আল্লাহর নামে সাক্ষ্য দিয়ে বলছি, আমি সত্যবাদী। আমি তাকে ব্যভিচারের অপবাদ আরোপ করেছি এবং এটা আমার সন্তান না।” ইবনু উমার এর হাদীস: أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَاعَنَ بَيْنَ رَجُلٍ وَامْرَأَتِهِ ، فَفَرِّقَ بَيْنَهُمَا، وَأَلْحَقَ الوَلَدَ بِالْمُرْأَةِ "নিশ্চয়ই নাবী এক লোক ও তার স্ত্রীর মাঝে লিআন করালেন। তাদেরকে বিচ্ছিন্ন করে দিলেন এবং সন্তান মহিলাকে দিয়ে দিলেন।" [মুত্তাফাকুন আলাইহি: সহীহুল বুখারী, হা. ৫৩১৫; সহীহ মুসলিম, হা. ফুআ. ১৪৯৪] ৪. যদি স্ত্রী লিআন না করে তাহলে তার উপর ব্যভিচারের শাস্তি ওয়াজিব হবে। কারণ তার স্বামীর শপথ সত্ত্বেও শপথ থেকে তার সরে আসাটা একটি শক্তিশালী প্রমাণ। যেটা তার উপর ব্যভিচারের শাস্তি আবশ্যক করে। [ফিকহুল মুয়াসসার] • দাম্পত্য জীবন সুখময় রাখা বিষয়ে শরয়ী নিদের্শনা (পর্ব-৯)পর্ব-৮ (তালাক দাতার জন্য মহিলাটি কখন হালাল হবে) @FatayatalHuda

📄 লিআনের পরিচয় এবং তা শরীয়ত সম্মত হওয়ার দলীল ও হিকমাহ ১. লিআনের পরিচয়: আভিধানিক অর্থ: এটা لاعن এর মাসদার। যা اللعن থেকে নেওয়া। অর্থ: তাড়িয়ে দেওয়া, দূরে সরিয়ে রাখা। شرعاً: شهادات مؤكدات بالأيمان، مقرونة باللعن من جهة الزوج وبالغضب من جهة الزوجة، قائمة مقام حد القذف في حق الزوج، ومقام حد الزنى في حق الزوجة. পরিভাষায়: কসম বিশিষ্ট একাধিক সাক্ষ্য, যা স্বামীর পক্ষ থেকে অভিশাপযুক্ত আকারে আর স্ত্রীর পক্ষ থেকে ক্রোধ আকারে এসে থাকে। যা হবে স্বামীর উপর অপবাদের শাস্তি এবং স্ত্রীর উপর ব্যভিচারের শাস্তি স্বরূপ। আর এটাকে لعان বা লিআন নামে নামকরণ করার কারণ হলো- স্বামী পঞ্চমবার একথা বলে যে, নিশ্চই আমার উপর আল্লাহর অভিশাপ, যদি আমি মিথ্যাবাদী হই। তাদের দুজনের একজন অবশ্যই মিথ্যাবাদী হবে। অতঃপর অভিশপ্ত হবে। ২. লিআন শরীয়ত সম্মত হওয়ার দলীল: লিআন শরীয়ত সম্মত হওয়ার উপর আল্লাহ তা'আলার এই বাণী প্রমাণ করে। তা হলো- وَالَّذِينَ يَرْمُونَ أَزْوَاجَهُمْ وَلَمْ يَكُن لَّهُمْ شُهَدَاءُ إِلَّا أَنفُسُهُمْ فَشَهَادَةُ أَحَدِهِمْ أَرْبَعُ شَهَادَاتٍ بِاللَّهِ إِنَّهُ لَمِنَ الصَّادِقِينَ ٦) "আর যারা নিজেদের স্ত্রীর প্রতি অপবাদ আরোপ করে অথচ নিজেরা ব্যতীত তাদের কোনো সাক্ষী নেই, তাদের প্রত্যেকের সাক্ষ্য হবে এই যে, সে আল্লাহর নামে চারবার শপথ করে বলবে যে, সে অবশ্যই সত্যবাদী।" [সুরা নূর ৬] [বিস্তারিত সূরা নূর ৬ থেকে ১০ আয়াত।] সাহল ইবনু সা'দ এর হাদীস। أَنَّ رَجُلًا مِنَ الْأَنْصَارِ جَاءَ إِلَى رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَقَالَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، أَرَأَيْتَ رَجُلًا وَجَدَ مَعَ امْرَأَتِهِ رَجُلًا، أَيَقْتُلُهُ أَمْ كَيْفَ يَفْعَلُ؟ فَأَنْزَلَ اللهُ فِي شَأْنِهِ مَا ذَكَرَ فِي القُرْآنِ مِنْ أَمْرِ الْمُتَلَاعِنَيْنِ، فَقَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «قَدْ قَضَى اللهُ فِيكَ وَفِي امْرَأَتِكَ قَالَ : فَتَلَاعَنَا فِي الْمَسْجِدِ وَأَنَا شَاهِدٌ، وفي رواية : فَتَلَاعَنَا وَأَنَا مَعَ النَّاسِ عِنْدَ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ "আনসারদের মধ্য থেকে এক ব্যক্তি রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর কাছে এসে বলল, হে আল্লাহর রসূল! আপনি কী বলেন, যদি কোনো ব্যক্তি তার স্ত্রীর সঙ্গে অন্তরঙ্গ অবস্থায় অন্য কোনো লোককে দেখতে পায়, তবে কি সে তাকে হত্যা করবে? অথবা কী করবে? এরপর আল্লাহ তা'আলা তার ব্যাপারে কুরআনে উল্লিখিত লিআনের বিধান অবতীর্ণ করেন। তখন নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন: আল্লাহ তোমার ও তোমার স্ত্রীর ব্যাপারে ফয়সালা দিয়েছেন। রাবী বলেন, তারা উভয়ে মসজিদে লিআন করল আর আমি উপস্থিত ছিলাম।” অন্য বর্ণনায় রয়েছে: তারা উভয়ে লিআন করল আর আমি মানুষের সাথে আল্লাহর রসূল এর কাছেই ছিলাম। [মুত্তালাকুন আলাইহি: সহীহুল বুখারী, হা. ৫৩০৮, মুসলিম ১৪৯২] ৩. লিআনকে শরীয়ত সম্মত করার হিকমাহ: লিআনকে স্বামীর জন্য শরীয়ত সম্মত করার হিকমাহ: স্ত্রীর জিনার কারণে যেন তাকে লজ্জিত না হতে হয়, তার বিছানাকে কেউ নষ্ট না করে এবং অন্যের সন্তানকে যেন তার দিকে সম্পৃক্ত না করে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে সে তার স্ত্রীর উপর প্রমাণ স্থাপন করতে পারে না এবং তার অপরাধ স্বীকার করে না। কেননা তার উপর তার কথা গ্রহনযোগ্য হয় না। কারণ দুজনের মাঝে শক্তিশালী শপথ ছাড়া আর কিছু প্রমাণ অবশিষ্ট থাকে না। সমস্যা সমাধান ও সংকীর্ণতা দূর করা এবং তার থেকে অপবাদের শাস্তি দূর করার জন্যই লিআনের বৈধতা। যখন সে নিজে ব্যতীত তার কোনো সাক্ষী থাকবে না এবং মহিলা তার শপথের বিপরীতে তার মতকেই পুনরাবৃত্তি করবে। তখন মহিলা থেকে শাস্তি রহিত হয়ে যাবে। অন্যথায় তার উপর শাস্তি আবশ্যক হবে। যদি স্বামী শপথ করা থেকে সরে আসে, তাহলে তার উপর অপবাদের শস্তি বাস্তবায়ন হবে। যদি স্ত্রী তার স্বামীর শপথের পর শপথ থেকে সরে আসে, তাহলে তার স্বামীর শপথ ও তার শপথ থেকে সরে আসা, এ দুটি স্ত্রীর বিরুদ্ধে শক্তিশালী প্রমাণ হিসেবে সাব্যস্ত হবে। যা থেকে আর ফিরে আসা যাবে না এবং তার উপর তখন ব্যভিচারের শাস্তি বাস্তবায়ন করা হবে। 📄 লিআনের শর্ত ও পদ্ধতি ১. লিআনের শর্ত সমূহ: ক. স্বামী-স্ত্রীর উভয়েই মুকাল্লাফ হওয়া (প্রাপ্ত বয়ষ্ক, জ্ঞানবান হওয়া)। আল্লাহ তা'আলার বাণী: وَالَّذِينَ يَرْمُونَ أَزْوَاجَهُمْ "আর যারা নিজেদের স্ত্রীর প্রতি অপবাদ আরোপ করে।” [সূরা নূর: ৬] খ. স্বামী তার স্ত্রীকে একথা বলে অপবাদ দেওয়া যে, হে ব্যভিচারিনী, অথবা আমি দেখেছি তুমি ব্যভিচার করছো, অথবা তুমি ব্যভিচার করেছো। গ. স্ত্রী তার স্বামীর অপবাদকে মিথ্যারোপ করবে এবং তার উপর অটল থাকবে লিআন শেষ হওয়া পর্যন্ত। ঘ. বিচারকের বিচারের মাধ্যমে লিআন বাস্তবায়িত হবে। ২. লিআনের পদ্ধতি ও ধরন:

হযরত আলী রা.-এর শাহাদাতের পর যখন হযরত হাসান রা. খলীফা নির্বাচিত হলেন তখন তার স্ত্রী আয়েশা খাছআমিয়া তাকে মোবারকবাদ জানান। হযরত হাসান রা. স্ত্রীকে বললেন, তোমার এই মোবারকবাদ কি হযরত আলী রা.-এর শাহাদাতের কারণে? তুমি এতে খুশি প্রকাশ করছ? তোমাকে তিন তালাক দিলাম। যখন তার ইদ্দত শেষ হয়ে গেল তখন হাসান রা. তার অবশিষ্ট মহর এবং অতিরিক্ত দশ হাজার দিরহাম পাঠিয়ে দিলেন। আয়েশা খাছআমিয়ার হাতে যখন এগুলো পৌঁছল তিনি বলতে লাগলেন, প্রিয়ের  বিচ্ছেদের তুলনায় এ সম্পদ অতি তুচ্ছ। হযরত হাসান রা. যখন এ কথা শুনলেন তখন অশ্রুসিক্ত নয়নে বললেন- لو لا أني سمعت جدي أو حدثني أبي أنه سمع جدي يقول : أيما رجل طلق امرأته ثلاث عند الأقراء أو ثلاثا مبهمة لا تحل له حتى تنكح زوجا غيره لراجعتها. আমি যদি নানাজানকে বলতে না শুনতাম কিংবা বলেছেন, আমার আববার মাধ্যমে নানাজানের এ কথা না শুনতাম, ‘যে ব্যক্তি স্ত্রীকে হায়েয থেকে পবিত্র অবস্থায় পর্যায়ক্রমে তিন তালাক দিল কিংবা একসাথে তিন তালাক দিল তার জন্য ওই স্ত্রী হালাল হবে না অন্য পুরুষের সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হওয়া ছাড়া, তাহলে আমি তাকে ফিরিয়ে আনতাম। -[আসসুনানুল কুবরা ৭/৩৩৬] চতূর্থ হাদীস عن عبادة بن الصامت قال : طلق جدي امرأته له ألف تطليقة، فانطلقت إلى النبي صلى الله عليه وسلم فسألته، فقال : أما اتقى الله جدك، أما ثلاثة فله، وأما تسع مأة وسبعة وتسعون فعدوان وظلم، إن شاء الله عذبه وإن شاء غفر له. উবাদা ইবনে ছামেত রা. বলেন, আমার দাদা তার স্ত্রীকে ‘এক হাজার তালাক’ দিলেন। আমি তখন হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে গিয়ে এ বিষয়ে জিজ্ঞাসা করলাম। তিনি বললেন, তোমার দাদা কি আল্লাহকে ভয় করেনি? তিনটি তো তার অধিকার (যা কার্যকর হয়ে গেছে) আর বাকি নয়শত সাতানববইটি হল সীমালঙ্ঘন ও জুলুম। আল্লাহ ইচ্ছা করলে তাকে ক্ষমা করে দিতে পারেন অথবা শাস্তিও দিতে পারেন। এসকল হাদীস দ্বারা এটাই প্রমাণিত হয় যে, একসাথে তিন তালাক প্রদান করলে তিন তালাকই হয়। নানা রকম হিলা-বহানা করে তিন তালাককে বাতিল তালাক অথবা এক তালাকে রজয়ী সাব্যস্ত করার অপচেষ্টা মুর্খতা ছাড়া আর কিছুই নয়। এর কারণে মহিলা কখনও হালাল হয়ে যাবে না। সারকথা হল, বিবাহ একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এর জন্য সময় নিয়ে প্রস্ত্ততি গ্রহণ করতে হয়। অনেক বুঝে, চিন্তা-ফিকির করে শরীয়তসম্মত পন্থায় বিবাহ সম্পন্ন করতে হয়। তাই আগ-পিছ না ভেবে হুট করে তালাক প্রদান করা কখনই উচিত নয়। যখন তালাক দেওয়া ছাড়া কোনো উপায় থাকবে না তখন শরীয়তের নির্দেশিত পন্থায় তালাক দিবে। চিন্তা-ভাবনা ছাড়া শুধু রাগের বশবর্তী হয়ে নির্দ্বিধায় তালাক দিয়ে ফেলা শুধু অবৈধ ও গুনাহই নয়; বরং সামাজিক জীবনেও এর মারাত্মক ক্ষতি রয়েছে। এর ফলে দুঃখ-দুর্দশা, হতাশা ও দুশ্চিন্তা ভর করে। একমাত্র শান্তি ও কামিয়াবি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যে শিক্ষা ও নির্দেশনা উম্মতের মাঝে রেখে গেছেন তার মধ্যে। জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে ঐ নির্দেশনার উপর অবিচল থাকা আবশ্যক। সমস্ত ভুল পথ ও পদ্ধতি পরিহার করে চলতে হবে। পূর্বের গুনাহের জন্য আল্লাহর কাছে কায়মনো বাক্যে ইস্তেগফার করতে হবে। আগামী জীবন নবীর আদর্শ অনুসরণ করে পরিচালনা করতে দৃঢ় সংকল্প করতে হবে। আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে কবুল করুন। আমীন। লেখক: মাওলানা হাসীবুর রহমান ~ মুসলিম বাংলা - প্রবন্ধদাম্পত্য জীবন সুখময় রাখা বিষয়ে শরয়ী নিদের্শনা (পর্ব-৮)পর্ব-৭ (রুজু করার মনগড়া পদ্ধতি সমূহ) @FatayatalHuda

তালাকদাতার জন্য মহিলাটি কখন হালাল হবে? তালাকপ্রাপ্তা মহিলা যদি ইদ্দত শেষে অন্যত্র বিবাহ হয় এবং সে স্বামীর সাথে তার নিশ্চিত মেলামেশা হয় অতঃপর সেই স্বামী কোনো কারণে স্বেচ্ছায় মহিলাটিকে তালাক দেয় কিংবা স্বামীর মৃত্যু হয় তাহলে মহিলাটি ইদ্দত পালন করার পর পূর্ণ স্বাধীন থাকবে-ইচ্ছা করলে অন্যত্র বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হতে পারবে। আবার ইচ্ছা করলে প্রথম স্বামীর সাথে বিবাহ বসতে পারবে। তাকে প্রথম স্বামীর সাথে বিবাহে বাধ্য করা যাবে না; তারা নিজেরা যদি পুনরায় দাম্পত্য সম্পর্কে আগ্রহী হয় তাহলে নতুন মহর ধার্য করে স্বাক্ষীদের উপস্থিতিতে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হবে। এক্ষেত্রে মনে রাখা প্রয়োজন যে, দ্বিতীয় স্বামীকে জোর করে তালাক দিতে বাধ্য করা সম্পূর্ণ নিষেধ এবং বিবাহের আগে এই শর্ত জুড়ে দেওয়া যে, বিবাহের পর দ্বিতীয় স্বামী অবশ্যই স্ত্রীকে তালাক দিতে বাধ্য থাকবে, সম্পূর্ণ নাজায়েয। কেউ যদি এ রকম করে তাহলে সেটা আল্লাহর লানত ও আযাবের কারণ হবে। হাদীস শরীফে এসেছে, যে ব্যক্তি এভাবে (শর্তের সাথে) হালাল করার দায়িত্ব নিবে এবং যার জন্য করবে উভয়ের উপর আল্লাহর লানত। বলাবাহুল্য যে, আত্মমর্যাদাসম্পন্ন কোনো মানুষ কখনই তালাকপ্রাপ্তা মহিলাকে ঘরে উঠানোর জন্য হিলা বাহানার পথ বেছে নিতে পারে না। এটা সুস্থ আকলেরও পরিপন্থী। সুতরাং তালাকের ক্ষেত্রে কুরআন-হাদীসের নির্দেশনা যথাযথ অনুসরণ করা কর্তব্য এবং সুস্থ সুন্দর জীবন যাপনের ব্যবস্থা করা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। একসাথে তিন তালাক যদি কেউ পূর্বাপর না ভেবে ঠান্ডা মাথায় হোক কি রাগের ঝোঁকে হোক একসাথে তিন তালাক দিয়ে ফেলে তাহলে সে একটি মারাত্মক অপরাধ করল এবং এক নিমিষেই একটি সুখের সংসার তছনছ করে দিল। সে নিজেই  কৃতকর্মের কুফল টের পাবে। এভাবে তালাক দেওয়া মারাত্মক গুনাহ এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ। কিন্তু কেউ দিয়ে ফেললে এই যুক্তি চলবে না যে, সে অন্যায়ভাবে তালাক দিয়েছে অতএব তা কার্যকর হবে না। কিংবা শুধু এক তালাক হবে। যারা এরূপ ধারণা করেন তারা শরীয়তের বিধান না জানার কারণে করে থাকেন। শরীয়তের বিধান হল, তালাক সংকল্প করে দিক অথবা ঠাট্টাচ্ছলে, খেল-তামাশা করে দিক সর্বাবস্থায় তালাক কার্যকর হয়ে যাবে। আর স্পষ্ট শব্দে তালাক দেওয়ার সাথে অন্তরের নিয়ত থাকা শর্ত নয়। সুতরাং যেভাবেই হোক একসাথে তিন তালাক দেওয়ার সাথে সাথেই স্ত্রীর উপর তিন তালাক কার্যকর হয়ে যাবে। একাধিক সহীহ হাদীসে আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একসাথে তিন তালাক দেওয়াকে তিন তালাকই গণ্য করেছেন। যদিও এভাবে তালাক দেওয়ার কারণে অত্যন্ত রাগান্বিত হয়েছেন। প্রথম হাদীস : عن محمود بن لبيد قال : أخبر رسول الله صلى الله عليه وسلم عن رجل طلق امرأته ثلاث تطليقات جميعا فقام غضبان، فقال : أيلعب بكتاب الله وأنا بين أظهركم؟ فقام رجل فقال : يا رسول الله صلى الله عليه وسلم ألا أقتله. মাহমুদ ইবনে লাবীদ বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জানানো হল যে, জনৈক ব্যক্তি তার স্ত্রীকে তিন তালাক দিয়েছে। তিনি (একথা শুনে) রাগান্বিত হয়ে দাঁড়িয়ে বললেন, তোমাদের মাঝে আমি থাকা অবস্থায় আল্লাহর কিতাবের সাথে উপহাস করা হচ্ছে? এ সময় এক ব্যক্তি দাঁড়িয়ে বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আমি কি তাকে কতল করব না?-[সুনানে নাসায়ী ২/৯৮] এই হাদীসে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একসাথে তিন তালাক দেওয়ার উপর নেহায়েত অসন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন এবং কেউ কেউ তার ওই কাজকে হত্যাযোগ্য অপরাধ মনে করেছেন। আর এ কথা কোথাও নেই যে, তিনি এই তিন তালাককে তালাক হিসেবে গণ্য করেননি অথবা এটাও এক তালাকে রজয়ী করে মহিলাটিকে তালাকদাতার কাছে ফিরিয়ে দিয়েছেন। কাজী আবু বকর ইবনুল আরাবী এই হাদীসে বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তিন তালাকের হুকুম কার্যকর করেছেন। দ্বিতীয় হাদীস : সাহাবী উয়াইমির আজলানী রাহ. সম্পর্কে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি এবং তার স্ত্রী রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সামনে লিআন করলেন। যখন লিআন শেষ হল, তখন উয়াইমির রা. বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! এখন যদি আমি তাকে আমার কাছে রাখি তাহলে আমি মিথ্যাবাদী। অতঃপর  উয়াইমির রা. হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সামনে স্ত্রীকে তিন তালাক দিলেন। হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তা কার্যকর করলেন এবং তাদের মাঝে বিচ্ছেদ ঘটালেন।-[সহীহ বুখারী হাদীস ৫৩০৯; সুনানে দাউদ হাদীস ২২৫০] এই হাদীস থেকে সুস্পষ্ট প্রমাণিত হয় যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তিন তালাককে তিন তালাকই গণ্য করেছেন এবং তার হুকুমও কার্যকর করেছেন। আর পূর্বে উল্লেখিত মাহমুদ ইবনে লাবীদের হাদীসটিও তা প্রমাণ করে। পক্ষান্তরে কোথাও একথা পাওয়া যায় না যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একসাথে দেওয়া তিন তালাককে তালাক সাব্যস্ত করেননি বা এক তালাকে রজয়ী গণ্য করেছেন। তৃতীয় হাদীস

সেই সাথে আমাদের আরেকটা কথাও মনে রাখা উচিত। আমরা জানি না কার মনে কী আছে। আপনজনও আমাদেরকে হিংসা করছে নাকি, আমাদের ক্ষতি চাইছে নাকি— এ বিষয়ে আমাদের ধারণা নেই। আর অযথা মানুষকে সন্দেহ করে সময় নষ্ট করারও দরকার নেই। এর চেয়ে আমাদের নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দিকে মন দেয়া উচিত। আল্লাহ এমন এমন বিপদ থেকে আমাদের বাঁচাতে পারেন, যেগুলো হয়তো আমাদের কল্পনাতেও নেই। এ জন্য সকাল-সন্ধ্যার মাসনুন দুয়ার আমল মিস করা যাবে না। এছাড়াও সুরা বাকারাহ তিলাওয়াতসহ আর যেসব আমলের কথা বলা হয়েছে সেগুলো আঁকড়ে ধরতে হবে। হিফাজতের মালিক একমাত্র আল্লাহ। © মাহবুবা উপমা • মন্ত্রণা ~ প্রস্থানের পথে @FatayatalHuda