7 699
Підписники
-124 години
-287 днів
-7830 днів
Архів дописів
7 699
৪। উমর রাদিয়াল্লাহু আনহুর বর্ণনামতে সে বৈঠকের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত ছিল আবূ বকর রাদিয়াল্লাহুকে খলিফা নির্ধারণ করা। অর্থাৎ রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে কখন দাফন করা হবে এই বিষয়ের চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ ছিল আবূ বকর রাদিয়াল্লাহু আনহুকে খলিফা বানানো।
আর সাহাবায়ে কেরাম তো দ্বীনের চাহিদা ও নবিজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মন-মেজায সম্পর্কে অন্য সবার চেয়ে বেশি জানতেন, সেমতেই তাঁরা এই বিষয়কে প্রাধান্য দিয়েছেন।
সাহাবায়ে কেরামের এই আমল থেকে বোঝা যায়, মুসলিমদের জন্য একজন খলিফার অধীনে একতাবদ্ধ হওয়া অনেক গুরুত্বপূর্ণ আমল। আর তাঁদের জন্য অনেক বড় বিপদ হল খলিফা ছাড়া বিচ্ছিন্নভাবে দিন যাপন করা।
© শাইখ তামিম আল আদনানী হাফিজাহুল্লাহ ..
7 699
সেই কঠিন ও শোকাবহ মুহূর্তে নরম হৃদয়ের অধিকারী হজরত আবূ বকর রাদিয়াল্লাহু আনহু পাহাড়সম দৃঢ়তা দেখালেন। যখন সাহাবায়ে কেরামের অনেকেই শোকে হতবিহ্বল, কিংকর্তব্যবিমূঢ়, তখন তাঁর দৃঢ় কণ্ঠ ও প্রজ্ঞাপূর্ণ অবস্থান সাহাবীদের আবেগের ঘোর কাটিয়ে বাস্তবতাকে মেনে নেওয়ার শক্তি জোগাল। সেই সংকটময় মুহূর্তে তিনি বিপর্যস্ত উম্মতের জন্য কাণ্ডারি ও পথপ্রদর্শকের ভূমিকা পালন করেন।
তিনি মিম্বরে দাঁড়িয়ে বললেন-
أَلَا مَنْ كَانَ يَعْبُدُ مُحَمَّدًا فَإِنَّ مُحَمَّدًا قَدْ مَاتَ وَمَنْ كَانَ يَعْبُدُ اللهَ فَإِنَّ اللهَ حَيٌّ لَا يَمُوْتُ وَقَالَ إِنَّكَ مَيِّتٌ وَّإِنَّهُمْ مَيِّتُوْنَ (الزمر : 30) وَقَالَوَمَا مُحَمَّدٌ إِلَّا رَسُوْلٌ قَدْ خَلَتْ مِنْ قَبْلِهِ الرُّسُلُ أَفَإِنْم مَاتَ أَوْ قُتِلَ انْقَلَبْتُمْ عَلٰى أَعْقَابِكُمْ وَمَنْ يَّنْقَلِبْ عَلٰى عَقِبَيْهِ فَلَنْ يَّضُرَّ اللهَ شَيْئًا وَسَيَجْزِي اللهُ الشَّاكِرِيْنَ (آل عمران : 135) قَالَ فَنَشَجَ
النَّاسُ يَبْكُوْنَ
যারা মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ইবাদাতকারী ছিলে তারা জেনে রাখ, মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মৃত্যুবরণ করেছেন। আর যারা আল্লাহর ইবাদাত করতে তারা নিশ্চিত জেনে রাখ আল্লাহ্ চিরঞ্জীব, তিনি মৃত্যুবরণ করবেননা।
অতঃপর আবূ বকর রাদিয়াল্লাহু আনহু এই আয়াত তিলাওয়াত করলেনঃ (অর্থ) নিশ্চয়ই আপনি মরণশীল আর তারা সকলেই মরণশীল-(সুরা যুমার ৩০)।
এরপর এই আয়াত তিলাওয়াত করলেনঃ (অর্থ) মুহাম্মাদ হচ্ছে কেবল একজন রাসূল। তাঁর পূর্বে আরও অনেক রসূল গত হয়েছে; কাজেই যদি তিনি মারা যান কিংবা নিহত হন, তবে তোমরা কি তোমাদের পেছনে ফিরে যাবে? আর যে ব্যক্তি পেছনে ফিরে যায়, সে কখনো আল্লাহর কোন ক্ষতি করতে পারে না। আর আল্লাহ অচিরেই কৃতজ্ঞদের প্রতিদান দেবেন। (আলে ইমরান ১৪৪)।
রাবী বলেন, উপস্থিত সবাই আবু বকর রাদিয়াল্লাহু আনহুর কথা শুনে ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কাঁদতে লাগলেন। -[বুখারী ৩৬৬৮]
এরপর নেতৃস্থানীয় সাহাবায়ে কেরাম সাকিফায়ে বনু সায়িদায় সমবেত হন, সেখানে কে মুসলিমদের খলিফা হবেন এই নিয়ে অনেকক্ষণ আলোচনা পর্যালোচনা হয়। এক পর্যায়ে আবূ বকর রাদিয়াল্লাহু আনহু আহ্বান জানান উমার বা আবু উবাইদাহ ইবনুল জাররাহ রাদিয়াল্লাহু আনহুমা- এই দুজনের মধ্য থেকে একজনকে খলিফা হিসেবে বায়াত দেওয়ার জন্য। কিন্তু কিন্তু উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু আবূ বকর রাদিয়াল্লাহু আনহুর জীবদ্দশায় নিজে খলিফা হতে অস্বীকৃতি জানান এবং তিনি সর্বপ্রথম আবূ বকর রাদিয়াল্লাহু আনহুর হাতে বায়াত হন। অতঃপর তাঁর দেখাদেখি উপস্থিত অন্যন্য সাহাবীরাও বায়াতবদ্ধ হন।
এই ঘটনার বর্ণনা দেওয়ার পর উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন-
وَإِنَّا وَاللهِ مَا وَجَدْنَا فِيمَا حَضَرنَا مِنْ أَمْرٍ أَقْوَى مِنْ مُبَايَعَةِ أَبِي بَكْرٍ
আল্লাহর কসম! আমরা সে সময় জরুরী বিষয়ের মধ্যে আবূ বকরের বায়আতের চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও কার্যকর কোন কিছুকে মনে করিনি। -[বুখারী ৬৮৩০,নাসাই ৭৭৭]
-
এই হাদীসটি মুসলিমদের জন্য আমীর (শাসক) ও খলিফা নির্বাচনের পথ পদ্ধতি সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ পথপ্রদর্শক। রাসুলের সাহাবীরা কিভাবে কোন পদ্ধতিতে খলিফা নির্বাচন করেছেন, আমাদেরকে কিভাবে করতে হবে তার বর্ণনা এই হাদীসে আছে।
এই হাদীসে কয়েকটি বিষয় লক্ষণীয়-
১। পরামর্শ সভায় মদীনার সব মানুষ উপস্থিত হয়নি, আনসার ও মুহাজিরদের মধ্য হতে নেতৃস্থানীয় ও মুরুব্বি সাহাবীরা উপস্থিত হয়েছিলেন। তাঁদের মতামতের ভিত্তিতে আবু বকর রাদিয়াল্লাহু আনহু খলিফা নির্ধারিত হন।
২। সে সময় উম্মাহাতুল মুমিনীন রাদিয়াল্লাহু আনহুন্না এবং ফাতিমা রাদিয়াল্লাহু আনহা জিবীত ছিলেন। কিন্তু তাঁরা এই পরমর্শসভায় অংশগ্রহণ করেননি। পরবর্তীতেও কখনো তাঁরা এই ধরণের পরামর্শে উপস্থিত হন নাই। এ থেকে বোঝা যায়, ইসলামের নীতি হল, খলিফা নির্বাচন ও এ জাতীয় মৌলিক দায়িত্ব পালনের জন্য গঠিত আহলুল হল্ল ওয়াল আকদ পরিষদে নারীগণ সদস্য হবেননা।
৩। বনু সায়ীদার এই বায়াতের পর সাধারণ মুসলিমরাও সিদ্দীকে আকবার রাদিয়াল্লাহু আনহুকে বায়াত দিয়েছেন।
দুঃখজনক ব্যাপার হল কিছু মানুষ বায়াত আর ভোটকে এক করে ফেলে, এটা মারাত্মক ভুল। কারণ বায়াত হল আনুগত্যের অঙ্গীকার, খলিফা বা আমীর নির্বাচন নয়। কারণ এই দায়িত্ব দেশের নেতৃস্থানীয় ও মান্য গণ্য ব্যক্তি তথা আহলুল হাল্ল ওয়াল আক্বদের উপর ন্যস্ত, সাধারণ মানুষের উপর নয়। আর ভোট হল- কে শাসক হবে, কে এমপি হবে সেটি নির্বাচন করার মাধ্যম।
সারকথা হল- ইসলামী শাসনব্যস্থায় খলিফা বা আমীর হওয়ার জন্য আহলুল হাল্ল ওয়াল আকদের নির্বাচন ও বায়াত জরুরী। তাঁরা নির্বাচন করার পর সাধারণ জনগণের দায়িত্ব হল আনুগত্যের অঙ্গীকার তথা বায়াত দেওয়া। আর গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে নির্বাচিত হওয়ার জন্য জনগণের ভোট পাওয়া জরুরী। মানে এখানে সর্বস্তরের জনগণ, পাগল, মূর্খ, মাতাল, কাফের-ফাসেক, অপরাধী সবাই মিলে শাসক নির্বাচন করে।
7 699
আবূ বকর রাদিয়াল্লাহু আনহু কি গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত হয়েছেন?
১১ হিজরীর ১২ রবিউল আউয়াল যখন রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দুনিয়ার সফর শেষ করে আখিরাতের যাত্রা শুরু করেন। সাহাবীরা তখন শোকে দিশেহারা হয়ে পড়েন; তাঁরা কোনভাবেই যেন প্রিয় নবিজীর মৃত্যুকে মানতে পারছিলেন না। তাদের কাছে দুনিয়ার অন্য সব বিপদের চেয়ে প্রিয় রাসুলের চলে যাওয়াটা ছিল বেশি কষ্টের।
এর কারণ হল সাহাবীরা রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে মা-বাবা স্ত্রী সন্তান এমনকি নিজের জীবনের চেয়েও বেশি ভালবাসতেন। তাঁরা এটা কোনভাবেই মেনে নিতে পারছিলেন না যে, এখন আর নবিজীর সদা হাস্যোজ্জল মুবারক মুখখানি দেখতে পারবেন না, এখন আর নবিজীর আদরমাখা সম্বোধন শুনতে পারবেন না। এখন আর নবিজীর মুখ থেকে সরাসরি ওহীর বাণী শুনতে পারবেন না।
নবিজীর ওফাতের পর সাহাবীরা স্বাভাবিক ছিলেন না, প্রিয় নবিজী আর দুনিয়াতে নেই এই কথা তাঁরা কোনভাবেই নিজের মনকে বিশ্বাস করাতে পারছিলেন না।
7 699
কিয়ামতের বড় আলামত | আখিরুজ্জামান সিরিজ | পর্ব - ০২ | Shaikh Tamim Al Adnani
© শাইখ তামিম আল আদনানী হাফিজাহুল্লাহ ..
7 699
খুলাফায়ে রাশিদীনের নির্ধারণ ও নির্বাচনের মৌলিক পদ্ধতি ছিল দুটি- (অন্যান্য শাখাগত সুরতগুলো এই দুই সুরতেরই অন্তর্ভুক্ত)
১। আহলুল হাল্লি ওয়াল আক্বদের নির্বাচন। (উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু ছাড়া বাকি তিন খলিফা এই পদ্ধতিতে নির্বাচিত হয়েছেন)
২। আগের খলিফার নির্ধারণ (আবু বকর রাদিয়াল্লাহু আনহু ওফাতের আগে উমর রাদিয়াল্লাহু আনহুকে পরবর্তী খলিফা হিসেবে নির্ধারণ করে গিয়েছিলেন।)
এই দুই পদ্ধতির কোন এক পদ্ধতিতে নির্বাচিত ও নির্ধারিত হওয়ার পর সাধারণ জনতার দায়িত্ব ছিল আনুগত্যের বায়াত দেওয়া।
সাধারণ জনতার এই বায়াতকে কিছুলোক গ'ণ'ত'ন্ত্রের ভোটের সাথে মিলানোর চেষ্টা করছে, এটি স্পষ্ট ভুল।
কেন ভুল, বায়াত ও ভোটের মধ্যে কী কী পার্থক্য, এই বিষয়গুলো নিয়েই আমাদের আজকের আলোচনা।
-
বায়াত কী?
বায়াত হল শরীয়ত সম্মত উপায়ে নির্বাচিত খলিফা আল্লাহপ্রদত্ত বিধান অনুযায়ী বিচার ফায়সালা করবেন এবং দুনিয়াতে আল্লাহর খলিফা বা প্রতিনিধি হিসেবে আল্লাহর বান্দাদের কল্যাণে কাজ করবেন এই মর্মে জনগণ তাঁর হাতে শ্রবণ ও আনুগত্যের অঙ্গিকারে আবদ্ধ হওয়া।
ভোট কী?
আর গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় ভোট হল, জনগণ প্রার্থীর প্রচার প্রচারনায় প্রভাবিত হয়ে বা অর্থের প্রলোভনে কিংবা প্রার্থীর জুলুম অত্যাচারের ভয়ে নির্দিষ্ট ব্যক্তিকে শাসক ও আইনপ্রণেতা হওয়ার যোগ্য বলে মত দেওয়া।
-
আরো কিছু পার্থক্য-
১। ইসলামী ব্যবস্থায় সাধারণ জনতার বায়াত হল বৈধ কাজে খলিফা ও আমীরের আনুগত্যের অঙ্গিকার, শাসক নির্বাচনের মূল ভিত্তি নয়। শাসক নির্বাচনের দায়িত্বের মৌলিক অংশ তাদের কাঁধে অর্পিত নয়, এই দায়িত্ব আহলুল হাল্লি ওয়াল আক্বদের কাঁধে অর্পিত।
## আর ভোট সরাসরি শাসক ও আইনপ্রণেতা নির্বাচনের অংশ, একজন মানুষ ভোট দেওয়ার মাধ্যমে কে আইনপ্রণেতা হবে, কার হাতের শাসন ভার অর্পিত হবে এটি নির্বাচন করেন।
২। বায়াতের উদ্দেশ্য হল আল্লাহর আনুগত্যের সীমার মধ্যে শাসকের আনুগত্য করা। ইসলামী শরীয়ায় খলিফা বা আমীরের এই অধিকার নেই যে, ইসলামবিরোধী কোন আইনপ্রণয়ন করবে বা কাউকে ইসলামের বিরুদ্ধে কোন কাজ করতে বলবে।
## পক্ষান্তরে ভোটের মাধ্যমে নির্বাচিত এমপি আল্লাহর আইনের পক্ষে বিপক্ষে সব ধরনের আইন প্রণয়নের অধিকার প্রাপ্ত হয়। তাকে আইন বানানোর জন্যই সংসদে পাঠানো হয়। তারা সংসদে কোরআনবিরোধী আইন পাশ করলে সেটি পালন করতেও জনগনকে বাধ্য করা হয়। বর্তমানে বাংলাদেশ পাকিস্তান সহ বিভিন্ন দেশে অসংখ্য ইসলামবিরোধী আইন প্রণয়ন করা হয়েছে/হচ্ছে। জনগণকেও সেসব মানতে বাধ্য করা হচ্ছে।
আশা করি উপরের সংক্ষিপ্ত আলোচনা বায়াত ও ভোটের মাঝে পার্থক্য বোঝার জন্য সহায়ক হবে। আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে শরীয়াহ সঠিকভাবে বুঝা, পালন করা ও বাস্তবায়ন করার তাওফিক দান করুন। আমিন।
© শাইখ তামিম আল আদনানী হাফিজাহুল্লাহ ..
7 699
খুলাফায়ে রাশিদীন কি ভোটের মাধ্যমে নির্বাচিত হয়েছেন?
-
ইসলামের নামে গ'ণ'ত'ন্ত্রে যুক্ত হওয়া কতক ভাই গ'ণ'ত'ন্ত্রকে ইসলামী প্রমাণের জন্য অদ্ভুত সব কথা-বার্তা বলেন। তারা বলেন খুলাফায়ে রাশিদীন নাকি গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে ভোটের মাধ্যমে নির্বাচিত হয়েছিলেন। খলিফার বায়াত নাকি গণতান্ত্রিক ভোটেরই ভিন্ন একটি রূপ।
এমন দাবী যে দলিলশূণ্য ও ভিত্তিহীন তা আর বলার অপেক্ষা রাখেনা। ইসলামী ফিকহ ও তুরাসের সাথে যাদের নূন্যতম সম্পর্ক আছে তারা কেউ এমন দাবী করতে পারেনা।
7 699
-
বিগত সময় দেখা গেছে, আশেকে রাসুলরা নবী অবমাননার বিচার চাইতে গেলে উলটো তাদেরকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে, পিটিয়ে আহত করা হয়েছে।
কখনো কোন আশেকে রাসুল রাসুলপ্রেমের দাবী পূরণে শাতিমদের পাওনা বুঝিয়ে দিলে সেই আশেকে রাসুলকে জ'ঙ্গি স'ন্ত্রাসী তকমা দিয়ে গ্রেফতার করা হয়েছে, রিমান্ডে নিয়ে কঠোর নির্যাতন করা হয়েছে, সবশেষ তাকে সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
-
তবু একদল লোক মনে করে এই দেশ ইসলামী দেশ, এই দেশ যেই গণতন্ত্র দিয়ে চলে সেটি ইসলাম সমর্থিত ব্যবস্থা। অথচ এখানে মুসলিমের চেয়ে কাফেরের নিরাপত্তা বেশি, ইসলামের চেয়ে কুফরের শক্তি বেশি। আল্লাহ,রাসুলের চেয়ে নেতা মন্ত্রীদের সম্মান বেশি।
যারা এই র|ষ্ট্রকে ইসলামী র|ষ্ট্র মনে করেন, আর এই শাসকদেরকে উলুল আমর গণ্য করেন- তারা কি এখনো পুরনো বিভ্রান্তির মধ্যেই পড়ে থাকবেন?
7 699
এই দেশে সে/ক্যু'লার র|ষ্ট্রের কাছে আল্লাহ ও রাসুল সাল্লাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মর্যাদার চেয়ে নেতা-মন্ত্রীদের ইজ্জতের দাম বেশি।
সরকার ও সরকারের নেতা-মন্ত্রীদের নিয়ে কেউ কুমন্তব্য করলে তাকে সাথে সাথে গ্রেফতার করা হয়, নির্যাতন করা হয়, মেরে হাত-পা ভেঙ্গে দেওয়া হয়।
অথচ শত কোটি মানুষের হৃদয়ের স্পন্দন সাইয়িদুল মুরসালীন প্রিয় নবিজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে নিয়ে কটূক্তি করা হলে অপরাধীকে নিরাপত্তা দেওয়া হয়। ব্যাপারটা বেশি ছড়িয়ে পড়লে অপরাধীকে জনসাধারণের হাত থেকে বাঁচানোর জন্য আটক করা হয়, উদ্দেশ্য শাস্তি নয়, নিরাপত্তা দেওয়া।
যুগ যুগ ধরে দেশে এই চিত্রই দেখা যাচ্ছে।
7 699
এই মহাবিজয় আমাদের কী শিক্ষা দেয় Shaikh Tamim Al Adnani-২য় অংশ (শেষ)
© শাইখ তামিম আল আদনানী হাফিজাহুল্লাহ ..
7 699
এই মহাবিজয় আমাদের কী শিক্ষা দেয়? | Shaikh Tamim Al Adnani-১ম অংশ
© শাইখ তামিম আল আদনানী হাফিজাহুল্লাহ ..
7 699
আল্লাহ তাআলা বলেছেন-
مَنۡ عَمِلَ صَالِحًا مِّنۡ ذَكَرٍ اَوۡ اُنۡثٰی وَ هُوَ مُؤۡمِنٌ فَلَنُحۡیِیَنَّهٗ حَیٰوۃً طَیِّبَۃً ۚ وَ لَنَجۡزِیَنَّهُمۡ اَجۡرَهُمۡ بِاَحۡسَنِ مَا كَانُوۡا یَعۡمَلُوۡنَ ﴿۹۷﴾
নারী হোক বা পুরুষ যেই সৎকাজ করবে মুমিন অবস্থায়, তাকে আমি অবশ্যই উত্তম জীবন দান করব আর তারা যেই আমল করেছে আমি তাদেরকে এর উত্তম প্রতিফল দান করব। -[সুরা নাহল ৯৭]
-
যদি কেউ 'ব্যক্তি জীবনে' আল্লাহর আনুগত্য করে তাহলে সে ব্যাক্তি জীবনে উত্তম জীবন লাভ করবে।
আর যখন সমাজ ও রাষ্ট্র আল্লাহর দেওয়া হুকুম আহকাম অনুযায়ী পরিচালিত হয় তখন সেই সমাজ ও রাষ্ট্র আদর্শ সমাজ ও রাষ্ট্রে পরিণত হয়। সেখান থেকে মারামারি হানাহানি, অশান্তি অন্যায় অবিচার বিদায় নেয়, সর্বত্র বিরাজ করে এক শান্তিময় পরিবেশ।
পক্ষান্তরে কেউ যদি আল্লাহর হুকুম থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয় তাহলে দুনিয়াটা প্রশস্ত হওয়া সত্ত্বেও তার জীবনটা সংকীর্ণ হয়ে যায়। সে তখন প্রকৃত সুখের পরিবর্তে মেকী সুখের পেছনে দৌড়াতে শুরু করে।
সে তখন একটুখানি সুখের আশায় যাবতীয় অপরাধমূলক কাজ করে বেড়ায়। কেউ মদের নেশায় সুখ খোঁজে, কেউ যিনা ব্যভিচার ও অন্যায় অশ্লীলতায় সুখ খোঁজে, কেউ আবার মিউজিক গান আর বারে গিয়ে সুখ খোঁজে। সর্বত্র সে সুখ হাতড়ে বেড়ায় কিন্তু কোথাও সুখের দেখা পায়না।
এই ব্যাপারে আল্লাহ তাআলা বলেছেন-
وَ مَنۡ اَعۡرَضَ عَنۡ ذِكۡرِیۡ فَاِنَّ لَهٗ مَعِیۡشَۃً ضَنۡكًا وَّ نَحۡشُرُهٗ یَوۡمَ الۡقِیٰمَۃِ اَعۡمٰی ﴿۱۲۴﴾
আর যে আমার স্মরণ থেকে মুখ ফিরিয়ে নেবে, তার জন্য হবে নিশ্চয় এক সংকীর্ণ জীবন এবং আমি তাকে কিয়ামত দিবসে উঠাবো অন্ধ অবস্থায়। -[সুরা ত্বহা ১২৪]
একইভাবে সমাজ ও রাষ্ট্র যখন আল্লাহর দেওয়া বিধি বিধান দ্বারা পরিচালিত হয়না, আসমানী জীবনব্যবস্থাকে সর্বত্র প্রতিষ্ঠা করা হয়না তখন সেই সমাজ ও রাষ্ট্র অধিবাসীদের জনপদের জন্য সংকীর্ণ হয়ে আসে। কখন কে কোথায় অন্যায় ও জুলুমের শিকার হয়, চুরি, ছিনতাই, ঘুষ ও ডাকাতির সম্মুখীন হয় এই ভয় সবাইকে তাড়া করে বেড়ায়।
এখানে কেউ নির্বিঘ্নে নিশ্বাসটুকু পর্যন্ত ফেলতে পারেনা। সব সময় একটা ভয় আর আতঙ্ক বিরাজ করে সবার মনে।
-
যেই সমাজ ও রাষ্ট্র আল্লাহর দেওয়া বিধি বিধান দ্বারা পরিচালিত হয়, আইন আদালতে ইসলামী বিচারব্যবস্থার অনুসরণ করা হয়, মানুষ ব্যাপকভাবে আল্লাহর নাফরমানি থেকে বিরত থাকার চেষ্টা করে। সেই সমাজ ও রাষ্ট্রে অবিরত আল্লাহর রহমত বর্ষণ হতে থাকে, জমিন বরকতে ভরে যায়। আল্লাহ তাআলা বলেছেন-
وَ لَوۡ اَنَّهُمۡ اَقَامُوا التَّوۡرٰىۃَ وَ الۡاِنۡجِیۡلَ وَ مَاۤ اُنۡزِلَ اِلَیۡهِمۡ مِّنۡ رَّبِّهِمۡ لَاَكَلُوۡا مِنۡ فَوۡقِهِمۡ وَ مِنۡ تَحۡتِ اَرۡجُلِهِمۡ ؕ مِنۡهُمۡ اُمَّۃٌ مُّقۡتَصِدَۃٌ ؕ وَ كَثِیۡرٌ مِّنۡهُمۡ سَآءَ مَا یَعۡمَلُوۡنَ ﴿۶۶﴾
আর যদি তারা তাওরাত, ইনজীল ও তাদের নিকট তাদের রবের পক্ষ থেকে যা নাযিল করা হয়েছে, তা কায়েম করত, তবে অবশ্যই তারা খাবার পেত তাদের উপর থেকে এবং তাদের পদতল থেকে। তাদের মধ্যে সঠিক পথের অনুসারী একটি দল রয়েছে, আর তাদের অনেকেই যা করছে, তা কতইনা মন্দ! -[ সুরা মায়িদা ৬৬]
-
আল্লাহর দেওয়া বিধি বিধান অনুযায়ী সমাজ ও রাষ্ট্র পরিচালনা করার সুফল অনেক। শুধু আখিরাতের সুফলই নয় দুনিয়াতেও লাভ হয় অনেক বরকত ও কল্যাণ।
যখন কোন রাষ্ট্রে একটা হদ বাস্তবায়ন করা হয়, তখন সেখানে আল্লাহ এত পরিমাণ রহমত বর্ষণ করেন যে, লাগাতার চল্লিশ দিন রহমতের বৃষ্টি হওয়ার চেয়েও মানুষের জন্য হদ কায়েম বেশি কল্যাণকর।
হাদিসে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন-
إِقَامَةُ حَدٍّ مِنْ حُدُودِ اللَّهِ خَيْرٌ مِنْ مَطَرِ أَرْبَعِينَ لَيْلَةً فِي بِلاَدِ اللَّهِ عَزَّ وَجَلَّ
আল্লাহর নির্ধারিত হদসমূহের মধ্য হতে কোন একটা হদ কায়েম করা, মহামহিম আল্লাহ তাআলা কোন জনপদে চল্লিশ রাত বৃষ্টি বর্ষণ করার চেয়েও উত্তম। -[সুনানে ইবনে মাজাহ ২৫৩৭, সুনানে নাসাই ৪৯০৫]
-
দুঃখজনক ব্যাপার হল, মানুষ কল্যাণ লাভের জন্য কোথাকার কোন গণতন্ত্র আর কল্যাণরাষ্ট্রের পেছনে ছুটছে। অথচ আল্লাহ তাআলা বরকত ও কল্যাণ রেখেছেন ইসলামী শরীয়াহ দ্বারা শাসিত রাষ্ট্র ও সমাজে।
7 699
দুনিয়া কখন আমাদের জন্য বরকতে ভরে উঠবে?
-
আমরা যে দ্বীন পালন করি এই দ্বীন শুধু আখিরাতের জীবনকেই সুন্দর করেনা, দুনিয়ার জীবনকেও করে সুন্দর।
যেই ব্যক্তি সঠিকভাবে দ্বীন পালন করে, আল্লাহর দেয়া হুকুম আহকামগুলো ইখলাসের সাথে সুন্নাহ সম্মতভাবে আদায় করে সে দুনিয়াতেই লাভ করবে এক টুকরো জান্নাত।
7 699
উম্মাহর মহান মু'জ|হিদ শায়েখ উ স!মা রহিমাহুল্লাহ আল্লাহপ্রদত্ত দূরদৃষ্টি ও রাজনৈতিক প্রজ্ঞা দিয়ে বহু আগেই বুঝতে পেরেছিলেন, আমেরিকাই হল সাপের মাথা।
আমেরিকাকে পরাজিত করা ছাড়া ই/সর|য়েল ধ্বংস হবেনা, মাসজিদুল আকসা পুনরুদ্ধার হবেনা।
যতই দিন যাচ্ছে, উম্মাহর সামনে তাঁর এই তত্ত্বের হাকীকত দিনের আলোর মত পরিষ্কার হচ্ছে। তুফানুল আকসার ঘটনাপ্রবাহ বারবার যেন এই সত্যকেই প্রমাণ করে যাচ্ছে। যদি আমেরিকা ই/সর|য়েলের পাশে না থাকতো তবে গা*জ্জা এমন ভয়াবহ গণ"হ/ত্যার শিকার হতোনা, ধ্বংসস্তুপে পরিণত হতোনা। হামাসের মু'জ|হিদ ভাইদের হাতেই হয়তো ই/সর|য়েলের পরাজয় ঘটতো।
উম্মাহর সামনে তিনি শুধু এই বৈপ্লবিক তত্ত্ব পেশ করেই ক্ষান্ত থাকেন নি, বরং নিজের জান-মাল সর্বস্ব বিলিয়ে দিয়ে তত্ত্বের বাস্তবায়নও করে গেছেন। তিনি ও তাঁর আমীর মো ল্লা মুহাম্মাদ উ মর রহিমাহুল্লাহ আমেরিকাকে লজ্জাজনক পরাজয়ের স্বাদ আস্বাদন করিয়েছেন, উম্মাহর হারানো আধিপত্য ফিরিয়ে আনার উদ্দেশ্যে সাহসী অভিযাত্রার সূচনা করে দিয়ে গেছেন।
আমরা অনেকেই হয়তো এই মহান দুই ইমামকে যথাযথ মূল্যায়ন করতে পারিনি। এখন সময় এসেছে তাঁদেরকে চেনার, তাঁদের মানহাজ জানার এবং তাঁদের অনুসারী কাফেলার সঙ্গী হয়ে উম্মাহকে নুসরত করার। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা আমাদেরকে তাওফিক দান করুন। আমীন।
© শাইখ তামিম আল আদনানী হাফিজাহুল্লাহ ..
7 699
আমরা যেন বনী ইসরাইলের মত না হই-
মুসা আলাইহিস সালাম যখন বনী ইসরাইলকে কওমে আমালিকার বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে পবিত্রভূমিতে প্রবেশের আদেশ দিয়েছিলেন তখন তারা উত্তরে বলেছিলঃ
قَالُوۡا یٰمُوۡسٰۤی اِنَّا لَنۡ نَّدۡخُلَهَاۤ اَبَدًا مَّا دَامُوۡا فِیۡهَا فَاذۡهَبۡ اَنۡتَ وَ رَبُّكَ فَقَاتِلَاۤ اِنَّا هٰهُنَا قٰعِدُوۡنَ
হে মূসা! তারা ওখানে যতদিন থাকবে ততদিন আমরা ওখানে কখনো প্রবেশ করবোনা, কাজেই তুমি আর তোমার প্রতিপালক যাও, গিয়ে যুদ্ধ করো, আমরা এখানেই বসে রইলাম। (সূরা মায়িদা ২৪)
এই বেয়াদবি ও ঔদ্ধত্যের কারণে আল্লাহ তাআলা তাদেরকে কঠিন শাস্তি দেন। চল্লিশ বছরের জন্য পবিত্র ভূমিতে প্রবেশ হারাম করে দেন। এই পুরো সময়কাল তারা ময়দানে তীহে উদ্ভ্রান্তের ন্যায় ঘুরপাক খেতে থাকে। সকালে যেখান থেকে রওয়ান করতো, সন্ধ্যায় যাত্রাবিরতি করার পর সেই জায়গায়ই আবার ফিরে আসতো।
আল্লাহ তাআলা কুরআনুল কারীমে এই ঘটনা বর্ণনা করেছেন যেন আমরা এখান থেকে শিক্ষা গ্রহণ করতে পারি, যেন আমাদের থেকে এমন বেয়াদবী প্রকাশ না পায়।
কিন্তু দুঃখজনক ব্যপার হল আমাদের মধ্যেও অনেকে না বুঝে এরকম বা এর কাছাকাছি কিছু কথা বলে থাকেন। যেমন অনেকে বলে- এই যমানা বুলেটের নয় বরং ব্যালটের। ইসলাম প্রতিষ্ঠার জন্য বা মজলুমদের মুক্ত করার জন্য আমাদের কিছু করার নেই। কারণ আমাদের শক্তি নেই, শক্তি অর্জনের চেষ্টা করারও সুযোগ নেই। আমরা যদি কিছু করতে যাই তাহলে অমুক দেশ এসে হা*মলা করে সব শেষ করে দেবে। অতএব আমাদের পক্ষে বসে বসে দেখা ছাড়া কিইবা করার আছে।
আল্লাহ যদি অলৌকিকভাবে কিছু করেন তাহলে হবে নয়তো অমুক রাষ্ট্র যেই শক্তিশালী তাদের বিরুদ্ধে কিছু করার সামর্থ্য কি কারো আছে? তারা তো স্যাটেলাইট দিয়ে সব দেখতে পায়, আমরা কি করি না করি সব তাদের নখদর্পনে। তাদের গো/য়ে/ন্দাবিভাগ এতটাই শক্তিশালী যে, আমরা যদি ফিস ফিস করে কথা বলি তাও তারা টের পেয়ে যায়। তাদেরকে হারানো সম্ভব নয়, তাদের বিরুদ্ধে দাঁড়ানো মানে আত্মহত্যা করা। তাই তাদের বিরোধিতা না করে তাদের এঁকে দেওয়া ছকের মাঝে জীবন যাপন করাই হল নিরাপদ। ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন।
বুঝতে পারছিনা আমরাও কি এই ধরণের কথা এবং নিষ্ক্রিয়তার কারনে এত বছর ধরে শাস্তি পাচ্ছি? আমরা তো গত একশো বছরে কম প্রাণ দেইনি, কম জুলুম নির্যাতন সহ্য করিনি। (যদি লড়াইয়ের ময়দানে এর অর্ধেক মানুষও জীবন দিতো তাহলে হয়তো চিত্র ভিন্ন হতো) তবুও কেন ঘুরেফিরে সেই পুরনো গর্তে গিয়েই পড়ছি। ঘুষ দূর্নীতি অন্যায় অবিচার ও লাঞ্ছনা বঞ্চনাই বারবার ফিরে পাচ্ছি। সমাজ ও রাষ্ট্রে ঘুরেফিরে সেই কুফর ও ইলহাদই দেখতে পাচ্ছি।
-
উম্মতে মুসলিমার আদর্শ সাহাবায়ে কেরাম রাদিয়াল্লাহু আনহুম কখনো এমন কথা বলেননি, তারা কুফফারদের বিশাল শক্তি দেখে ভয় পাননি বরং এসব তাদের ঈমান আরো বাড়িয়ে দিয়েছিল। ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত তিনি বলেন,
شَهِدْتُ مِنَ الْمِقْدَادِ بْنِ الْأَسْوَدِ مَشْهَدًا لَأَنْ أَكُوْنَ صَاحِبَهُ أَحَبُّ إِلَيَّ مِمَّا عُدِلَ بِهِ أَتَى النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم وَهُوَ يَدْعُوْ عَلَى الْمُشْرِكِيْنَ فَقَالَ لَا نَقُوْلُ كَمَا قَالَ قَوْمُ مُوْسَى (اذْهَبْ أَنْتَ وَرَبُّكَ فَقَاتِلَا) وَلَكِنَّا نُقَاتِلُ عَنْ يَمِيْنِكَ وَعَنْ شِمَالِكَ وَبَيْنَ يَدَيْكَ وَخَلْفَكَ فَرَأَيْتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم أَشْرَقَ وَجْهُهُ وَسَرَّهُ يَعْنِيْ قَوْلَهُ
(বদর যুদ্ধের আগে) আমি মিকদাদ ইবনে আসওয়াদের এমন একটি ঘটনা প্রত্যক্ষ করেছি, যেই কাজটি আমি করতে পারলে সেটি আমার নিকট এর পরিবর্তে অন্য সমস্ত কিছুর তুলনায় অধিক প্রিয় হতো।
নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন মুশরিকদের বিরুদ্ধে বদ দোয়া করছিলেন তখন তিনি তাঁর নিকট আসলেন। এসে বললেন, মূসা আলাইহিস সালামের কওম যেমন কথা বলেছিল আমরা তেমন কথা বলবোনা। মুসা আলাইহিস সালামের কওম বলেছিলঃ ‘‘তুমি আর তোমার প্রতিপালক যাও এবং যুদ্ধ করো’’- । বরং আমরা আপনার ডানে, বামে, সামনে, পেছনে সর্বদিক থেকে যুদ্ধ করব। ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, আমি দেখলাম, এই কথা শুনে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মুখ উজ্জ্বল হয়ে উঠল এবং তিনি খুব আনন্দিত হলেন। - বুখারী ৩৯৫২
আচ্ছা আমরা কি পারিনা, মিকদাদ রাদিয়াল্লাহু আনহুর মত সাহসিকতার পরিচয় দিতে এবং সব ভয়কে ছুঁড়ে ফেলে কুফরী বিশ্বব্যবস্থাকে ভেঙ্গে ইসলামী বিশ্বব্যবস্থা গড়ে তোলার অঙ্গিকার নিতে?
© শাইখ তামিম আল আদনানী হাফিজাহুল্লাহ .
7 699
আমরা সবকিছু দেখেও না দেখার ভান করে বসে আছি। সন্তানদের জাহান্নামের দিকে টেনে নিতে দেখেও চুপ করে আছি, যেন আমাদের কিছুই করার নেই, কিছুই বলার নেই।
-
নিজেরা ভাল জিনিস শেখা যেমন জরুরী তেমনি সন্তানদের জন্যেও সুশিক্ষা নিশ্চিত করা জরুরী। যদি আমরা তাদেরকে সুশিক্ষা না দিয়ে কুশিক্ষা দেই তাহলে এই সন্তানেরাই কেয়ামতের দিন আল্লাহ তাআলার কাছে আমাদের বিরুদ্ধে নালিশ করবে। তারাই আমাদের জাহান্নামে যাওয়ার কারণ হবে। তাই সময় থাকতেই সচেতন হতে হবে।
আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে উপকারী ইলম শেখার এবং শেখানোর তাওফিক দান করুন। আমীন সুম্মা আমীন
7 699
মানুষের জীবনে উপকারী ইলমের প্রভাব অনেক। উপকারী ইলম একজন মানুষের চিন্তা ভাবনা, আচার আচরণ আমল আখলাককে প্রতিনিয়ত উন্নত থেকে উন্নততর করে। তার ভেতরে সদা সর্বদা আল্লাহভীতিকে জাগ্রত রাখে। হারাম ও অন্যায়-অশ্লীল কাজ থেকে বিরত রাখে।
উপকারী ইলম একজন উপকারী বন্ধুর মতই কাজ করে। যখনই তাকে অন্যায়ের দিকে পা বাড়াতে দেখে বাধা দেয়। মুখ দিয়ে খারাপ কথা বের হতে দেখলে মুখে লাগাম পরিয়ে দেয়। অন্তরে কুচিন্তা আসলে ভাল চিন্তা দিয়ে পরিবর্তন করে দেয়। হারামের দিকে পা বাড়াতে দেখলে মনে আল্লাহর ভয় জাগিয়ে দেয়। সর্বদা মানুষের কল্যাণে এবং রবের ইবাদতে নিমগ্ন থাকার প্রেরণা যোগায়। দুনিয়া আখিরাত সব জায়গায় কিভাবে কল্যাণ লাভ করা যাবে সেই পথ দেখায়।
তাই তালিবে ইলম এবং বিদ্যার্থীদের উপকারী ইলম অর্জন করার পেছনেই ছোটা উচিত। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আল্লাহ তাআলার কাছে এই ইলমের জন্য দোয়া করেছেন। দোয়াটি হল-
اللَّهُمَّ انْفَعْنِي بِمَا عَلَّمْتَنِي وَعَلِّمْنِي مَا يَنْفَعُنِي وَزِدْنِي عِلْمًا الْحَمْدُ لِلَّهِ عَلَى كُلِّ حَالٍ وَأَعُوذُ بِاللَّهِ مِنْ حَالِ أَهْلِ النَّارِ
অর্থাৎ হে আল্লাহ! আপনি আমাকে যে জ্ঞান দান করেছেন সেই জ্ঞান দ্বারা উপকৃত করুন এবং এমন বিষয় শিক্ষা দিন যা আমার উপকারে আসবে, এবং আমার ইলম বৃদ্ধি করে দিন। সর্বাবস্থায় সমস্ত প্রশংসা আল্লাহ তাআলারই জন্য এবং আমি জাহান্নামীদের অবস্থা থেকে আল্লাহর কাছে পানাহ চাই। [সুনানুত তিরমিজিঃ ৩৫৯৯]
আমাদের সালাফরা উপকারি ইলম অর্জনের ব্যাপারে অনেক বেশি সচেষ্ট ছিলেন। তারা চেষ্টা করতেন যেন বেশি বেশি উপকারী ইলম অর্জন করা যায় এবং তদানুযায়ী আমল করা যায়। তারা শুধু নিজেদের ব্যাপারেই চিন্তা করতেন না, সন্তানদেরকেও উপকারী ইলম শিক্ষাদানের ফিকির করতেন। এমন সব ইলম অর্জন এবং শিক্ষাদান থেকে বিরত থাকতেন যা দুনিয়া আখিরাতে কোন উপকার বয়ে আনবেনা। আল্লাহ তাআলা আমাদের জন্য উপকারী ইলম অর্জন করাকে সহজ করুন।
-
আর ক্ষতিকর ইলম হল ওই ইলম যা বান্দাকে আল্লাহ থেকে দূরে সরিয়ে দেয়। অন্যের ক্ষতিসাধন করার কুমন্ত্রণা দেয়, আল্লাহর বিধান লঙ্ঘন করা এবং অন্যায় ও অশ্লীলতার পথে চলার কুপরামর্শ দেয়। আল্লাহ তাআলা এই সম্পর্কে ইরশাদ করেছেন-
وَیَتَعَلَّمُوۡنَ مَا یَضُرُّهمۡ وَلَا یَنۡفَعُهمۡ ؕ وَلَقَدۡ عَلِمُوۡا لَمَنِ اشۡتَراه مَا لَه فِی الۡاٰخِرَۃِ مِنۡ خَلَاقٍ
তারা এমন জিনিস শেখে যা তাদের কোন উপকারে আসেনা, শুধু ক্ষতিই বয়ে আনে। অথচ তারা ভালভাবেই জানতো যে, যে এসব শেখে তার জন্য আখিরাতে কোন অংশ নেই। [সুরা বাকারা-১০২]
রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ক্ষতিকর ইলমের ব্যাপারে আমাদের সতর্ক করেছেন এবং নিজেও ক্ষতিকর ইলম থেকে আল্লাহর কাছে পানাহ চেয়েছেন।
আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলতেনঃ
اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنْ عِلْمٍ لَا يَنْفَعُ وَمِنْ قَلْبٍ لَا يَخْشَعُ وَمِنْ نَفْسٍ لَا تَشْبَعُ وَمِنْ دُعَاءٍ لَا يُسْمَعُ
অর্থাৎ হে আল্লাহ! আমি অনুপকারী ইলম, ভয় ডরহীন অন্তর, অতৃপ্ত নফস এবং ঐ দোয়া থেকে আপনার নিকট পানাহ চাই, যা কবুল করা হয়না। [সুনানুন নাসাইঃ ৫৫৩৬]
রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আল্লাহ তাআলার সম্মানিত নবী হয়েও তাঁর কাছে ক্ষতিকর ও অনুপকারী ইলম থেকে পানাহ চেয়েছেন।
অথচ আমরা অনেকে জেনে বুঝে সন্তানদের দুনিয়া আখেরাত ধ্বংসকারী বিভিন্ন বিষয় শিখতে সুযোগ করে দিচ্ছি। জাতীয় শিক্ষা কারিকুলামে ঈমানবিধ্বংসী বিভিন্ন বিষইয়ের অনুপ্রবেশ দেখেও অনেকে প্রতিবাদ ও প্রতিরোধ করছিনা, নীরবে মেনে নিচ্ছি।
-
এনজিও এবং বিদেশী শক্তির ইন্ধনে অনেক দিন ধরেই দেশে শিক্ষা কারিকুলামের মাধ্যমে মুসলিম শিশুদের ইসলামবিরোধী ও ধর্মহীন বানানোর ষড়যন্ত্র হচ্ছে। শিশুদের মনে কুফরের বিষ ঢোকানোর জন্য দেওয়া হচ্ছে রামায়ন মহাভারতের পাঠ। শিরককে স্বাভাবিক করার জন্য পড়ানো হচ্ছে হিন্দুদের পূজার গল্প। অশ্লীলতা শেখানোর জন্য শারীরিক শিক্ষার নামে ছেলেমেয়েদের একসাথে প্রেম ভালোবাসা আর যৌনতার পাঠ দেওয়া হচ্ছে। নাচ-গান বেহায়াপনা শেখানোর জন্য স্কুলে নাচ-গানের শিক্ষক নিয়োগের ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে। এছাড়া হিন্দু মুসলিমের মাঝে হারাম সম্পর্ক, ট্রান্সজেন্ডার, ফেমিনিজম সহ নানান ধরণের ইমানবিধ্বংসী পাঠ অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে বইয়ে।
7 699
উপকারী ইলম ও ধ্বংসাত্মক জ্ঞান-
ইলম বা জ্ঞান হল আলো। ইলমের মাধ্যমে একজন মানুষ ভাল মন্দের মাঝে পার্থক্য করার শক্তি অর্জন করে। কল্যাণ ও ন্যায়ের পথে চলার দিশা লাভ করে।
তবে সব জ্ঞানই যে মানুষকে সত্যের দিশা দেয় এমন নয়। কিছু কিছু জ্ঞান মানুষকে অন্ধকারের পথও দেখায়। তাই আমাদের করণীয় হল, উপকারী ইলম সম্পর্কে অবগত হওয়া এবং উপকারী ইলম অর্জনে সচেষ্ট হওয়া আর ক্ষতিকর জ্ঞান থেকে নিজেকে বাঁচিয়ে রাখা।
উপকারী ইলম কী?
উপকারী ইলম হল ওই ইলম যার মাধ্যমে একজন মানুষ তাঁর রবকে চিনতে পারে, তাঁর দেয়া বিধি নিষেধ সম্পর্কে জানতে পারে, দুনিয়া-আখিরাতের কল্যানের পথে চলতে পারে এবং হক বাতিলের মাঝে পার্থক্য বুঝতে পারে।
উপকারী ইলম বান্দার অন্তরে আল্লাহর ভয় জাগ্রত করে। আল্লাহ তাআলা বলেছেন- إِنَّمَا يَخْشَى اللَّهَ مِنْ عِبَادِهِ الْعُلَمَاءُ
নিশ্চয়ই আল্লাহর বান্দাদের মধ্য থেকে ইলমের অধিকারীরাই আল্লাহকে ভয় করে [সুরা ফাতির – ২৮]
7 699
অন্তিম শয্যায় কেমন ছিল সালাফের অবস্থা-Shaikh Tamim Al Adnani-১ম অংশ.
© শাইখ তামিম আল আদনানী হাফিজাহুল্লাহ ..
