7 922
Suscriptores
+124 horas
-37 días
-8230 días
Archivo de publicaciones
7 922
মুমিনদের পারস্পরিক সম্পর্ক যেমন হবে-
আজকাল তো আমরা ঈমানী বন্ধন বলে যে কিছু একটা আছে সেটাই ভুলে গেছি। এখন ভ্রাতৃত্ব ও ভালোবাসা হয় ভাষা,জাতি,অঞ্চল ইত্যাদির ভিত্তিতে। অথচ মুমিন হিসেবে আমাদের ভ্রাতৃত্ব ও ভালোবাসার মাপকাঠি হওয়ার দরকার ছিল ঈমান। পৃথিবীর শেষ প্রান্তেও যদি একজন মুমিন থাকে সে আমার ভাই। আমি এটা দেখবোনা সে কি আফ্রিকান নাকি বাংলাদেশী কিবা কাশ্মীরি। তার ভাষার সাথে আমার ভাষার মিল আছে কি নেই এটাও আমি দেখবোনা। তার মাজহাব-মাসলাক কী সেটাও আমার দেখার বিষয় নয়। আমি দেখবো তার ঈমান আছে কিনা।
.
পৃথিবীর যে প্রান্তেই থাকুক একজন মুমিনের সাথে আরেকজন মুমিনের সম্পর্ক হবে ভালোবাসা, দয়া এবং মুহাব্বতের। নুমান ইবনে বশীর রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন-
تَرَى المُؤْمِنِينَ فِي تَرَاحُمِهِمْ وَتَوَادِّهِمْ وَتَعَاطُفِهِمْ كَمَثَلِ الجَسَدِ، إِذَا اشْتَكَى عُضْوًا تَدَاعَى لَهُ سَائِرُ جَسَدِهِ بِالسّهَرِ وَالحُمّى.
মুমিনদেরকে দেখবে পরস্পরের প্রতি দয়া, ভালোবাসা ও মমতার ক্ষেত্রে এক দেহের ন্যায়। দেহের একটি অঙ্গ অসুস্থ হলে (যেমন) গোটা দেহ অনিদ্রা ও জ্বরাক্রান্ত হওয়ার মাধ্যমে তার প্রতি একাত্মতা প্রকাশ করে (মুমিনদের অবস্থাও এরকম, একজন আক্রান্ত হলে সবাই তার সাহায্যে ছুটে আসে)। -সহীহ বুখারী ৬০১১, সহীহ মুসলিম ২৫৮৬
.
মুমিনদের পরস্পরের মাঝে ঈমানী বন্ধন কতটুকু দৃঢ় হওয়া উচিত তা আমরা এই হাদীস থেকে উপলব্ধি করতে পারি। শুধু ঈমানী যোগসূত্রের কারণেই তারা একে অপরকে ভালোবাসে, একে অপরের প্রতি মমতা, ভালোবাসা ও হৃদ্যতা পোষণ করে।
পৃথিবীর কোথাও কোনো মুমিন আক্রান্ত হলে সবাই তার জন্য এগিয়ে আসে, তার পাশে দাঁড়ায়, প্রয়োজনে নিজের জান দিয়ে হলেও তাঁকে সাহায্য সহযোগিতা করে এবং জুলুম হতে রক্ষা করে। ঈমানের দাবিদার হওয়া সত্ত্বেও যদি কারো মধ্যে এই বৈশিষ্ট্যগুলো না থাকে, তাহলে তার উপলদ্ধি করা উচিত যে, তার এখনো পূর্ণাঙ্গ ও খাঁটি ঈমান নসীব হয়নি। আমাদের আদর্শ সাহাবায়ে কেরাম রাদিয়াল্লাহু আনহুম সবাই এই সকল গুণে পরিপূর্ণ গুনান্বিত ছিলেন। আল্লাহ তাআলা তাদের ব্যাপারে ইরশাদ করেছেন,
رُحَماءُ بَيْنَهُمْ
তারা একে অপরের প্রতি অত্যন্ত দয়াদ্র। সূরা ফাতহ-
.
অপর এক হাদীসে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মুমিনদের পারস্পরিক সম্পর্ক কতটুকু দৃঢ় হওয়া উচিত, তা একটি উদাহরণের মাধ্যমে বুঝিয়েছেন। হাদিসটি হল –
আবু মূসা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,
إِنّ المُؤْمِنَ لِلْمُؤْمِنِ كَالْبُنْيَانِ، يَشُدّ بَعْضُهُ بَعْضًا وَشَبّكَ أَصَابِعَهُ.
মুমিনরা একে অপরের জন্য অট্টালিকার ন্যায়। যার এক অংশ অপর অংশকে মজবুত করে রাখে। তারপর তিনি (বুঝানোর জন্য) তাঁর এক হাতের আঙ্গুল অপর হাতের আঙ্গুলের মাঝে প্রবেশ করে দেখালেন। -সহীহ বুখারী ৪৮১,২৪৪৬, সহীহ মুসলিম ২৫৮৫
.
একটি ভবনের জন্য যেমন ভিত,খুঁটি,ছাদ সবগুলো একটি অপরটির জন্য অপরিহার্য,একটি অপরটি ছাড়া দূর্বল এবং শক্তিহীন এবং একে অপরের পরিপূরক। তেমনি মুমিনরা সবাই একটি ভবনের ন্যায় , এই ভবনের কেউ ভিত, তো কেউ খুঁটি, আবার কেউ ছাদ। সবাই একে অপরের সহযোগী। একজন বিপদে পড়লে অন্যরা তার সাহায্যে এগিয়ে আসতে হবে।
ইবনু বাত্তাল রহিমাহুল্লাহ বলেনঃ এই হাদিসে মুমিনদের আখিরাতের বিষয়ে এবং দুনিয়াবি জায়েজ বিষয়ে একে অপরের সহযোগিতা করতে বলা হয়েছে।
আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে অন্যন্য মুসলিম ভাই বিশেষত মজলুম মুসলিমদের পাশে দাঁড়ানোর তাওফিক দান করুন। আমীন ইয়া রব্বাল আলামীন
7 922
এই বিষয়টি উমার রাদিয়াল্লহু আনহুর নিকট খৃষ্টানদের পাঠানো জিম্মি চুক্তির শর্ত থেকে বুঝে আসে। তারা বলেছিল-
وَلَا نُعَلِّمَ أَوْلَادَنَا الْقُرْآنَ، ………… وَلَا نَتَشَبَّهَ بِهِمْ فِي شَيْءٍ مِنْ مَلَابِسِهِمْ، فِي قَلَنْسُوَةٍ، وَلَا عِمَامَةٍ، وَلَا نَعْلَيْنِ، وَلَا فَرْقِ شَعْرٍ، وَلَا نَتَكَلَّمَ بِكَلَامِهِمْ، وَلَا نَكْتَنِيَ بكُنَاهم
আমরা আমাদের সন্তানদের কুরআন শেখাবনা……, মুসলিমদের পোশাকের অনুকরণ করবনা, টুপি, পাগড়ী, জুতা, চুলের সিঁথি কোন কিছুতেই না। তাদের মত করে কথা বলবনা এবং তাদের মত উপনাম ধারণ করবনা। -[তাফসীরে ইবনে কাসীর-সুরা তাওবা ২৯ নাম্বার আয়াতের তাফসীর]
অথচ বর্তমানে আমরা নিজদের স্বাতন্ত্র্যবোধ হারিয়ে ক|ফে'রদের সাথে একাকার হয়ে গেছি। আমাদের পোশাক আশাক চাল চলন কথা বার্তা দেখে বোঝা যায়না- আমরা মুসলিম না অমুসলিম। আমাদের চরিত্র ও লেনদেন দেখে মুসলিম নাকি কাফির পার্থক্য করা যায়না। সুদ ঘুষ ধোঁকা প্রতারনা ক|ফে'রদের দেখাদেখি আমরাও করছি, অনেক ক্ষেত্রে তাদেরকে ছাড়িয়েও গেছি।
আর শাসন ও আইন বিচারের ক্ষেত্রে তো পুরোপুরি তাদের অনুকরণই করছি। ইসলামী সমাজ,রাষ্ট্র ও অর্থ ব্যবস্বস্থার কথা কল্পনাও করিনা। কেউ সেদিকে ডাকলে তাদেরকে উলটো অপরাধী প্রমাণের চেষ্টা করি। মোট কথা কু'ফ'ফাররা যা করে, যেভাবে চলতে বলে আমরা ঠিক সেভাবেই চলি।
আমাদের এই অবস্থার ব্যাপারে প্রিয় নবিজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি দেড় হাজার বছর আগেই সতর্ক করেছিলেন। তিনি বলেছেন-
لَتَتْبَعُنَّ سَنَنَ مَنْ كَانَ قَبْلَكُمْ شِبْرًا شِبْرًا وَذِرَاعًا بِذِرَاعٍ حَتَّى لَوْ دَخَلُوا جُحْرَ ضَبٍّ تَبِعْتُمُوهُمْ قُلْنَا يَا رَسُولَ اللهِ الْيَهُودُ وَالنَّصَارَى قَالَ فَمَنْ
অবশ্যই তোমরা তোমাদের আগের লোকদের নীতি-পদ্ধতিকে বিঘতে বিঘতে, হাতে হাতে অনুকরণ করবে। এমনকি তারা যদি দবের গর্তে ঢুকে, তাহলে তোমরাও তাদের অনুকরণ করবে। আমরা বললাম, হে আল্লাহর রসূল! এরা কি ইয়াহুদি ও নাসারা? তিনি বললেনঃ আর কারা?-[বুখারী ৭৩২০]
-
আজ আমরা ক|ফে'রদের অনুসরণ করতে করতে নিজেদের পরিচয় ভুলে গেছি। আমরা কে, দুনিয়াতে আমরা কার খলিফা, কী আমাদের দায়িত্ব সব ভুলে গেছি।
এখন আমরা কোন কাজ করতে গেলে আল্লাহর সন্তুষ্টি অসন্তুষ্টির চেয়ে আমেরিকা-ইউরোপ, জাতিসংঘ, ভারতের সন্তুষ্টি অসন্তুষ্টিকে বেশি প্রাধান্য দেই।
কোন বিধান ইসলামের দৃষ্টিতে আবশ্যকীয় হলেও যদি তাতে এদের আপত্তি থাকে তাহলে আমরা সেই কাজ থেকে বিরত থাকি। তাদের আপত্তির কারনে জি/হা/দ, খিলা/ফাহ, ইসলামী আইন ও অর্থব্যবস্থাকে পরিত্যাগ করেছি। তাদের আপত্তির কারনে মজলুমদের সাহায্যে এগিয়ে যাওয়াকে পরিত্যাগ করেছি, আর সম্মতি থাকায় শুধু ত্রান পাঠিয়ে সন্তুষ্ট হয়েছি। যেন এটুকুই আমাদের করণীয়, এটুকুই আমাদের দায়িত্ব।
মোটকথা আমাদের যাবতীয় কার্যক্রম এবং আবেগ অনুভূতির প্রকাশ কু'ফ'ফ|রদের দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হচ্ছে।
-
এই অবস্থার পরিবর্তন কিভাবে হবে? তাদের বানানো ব্যবস্থার ভেতর থেকে তাদের সন্তুষ্টি অসন্তুষ্টির পরোয়া করে মুক্তি কিভাবে মিলবে?
© শায়েখ তামিম আল আদনানী হাফিজাহুল্লাহ ..
7 922
গোলামী নয়, তামকীন ও সম্মানের জীবন কাম্য
-
আল্লাহ তাআলা তাঁর বান্দাদের মধ্যে স্বাতন্ত্র্য ও শ্রেষ্ঠত্ব দেখতে পছন্দ করেন। ক|ফে'রদের অনুসরণ অনুকরণ এবং তাদের অধীনস্ত হওয়াকে তিনি ভীষণ অপছন্দ করেন।
তিনি চান নেতৃত্বের আসনে থাকবে শুধু মুসলিমরা, ক্ষমতার আসনে থাকবে শুধু মুসলিমরা। মুসলিমরা এমন শান শওকতের অধিকারী হবে যে, ক|ফে'ররা তাদের দেখে ইর্ষা করবে, তাদের মত হওয়ার জন্য প্রতিযোগিতা করবে।
যেমনটা দেখা যেত ইসলামের সোনালী যুগে, ক|ফে'রদের জন্য মুসলিমদের মত পোশাক পরার উপর নিষেধাজ্ঞা ছিল, তবু তারা লুকিয়ে মুসলিমদের পোশাক পরত আর বিজয়ী জাতির পোশাক পরেছে বলে গর্ববোধ করত।
7 922
নাস্তিক এবং ইসলাম অবমাননাকারীদের বিচার দাবি করায় ৬ই মে রাতে শাপলা চত্বরে নির্বিচারে গুলি চালিয়ে অগণিত তৌহিদী জনতাকে হত্যা করা। একজন আলিমের মৃত্যুদন্ডের প্রতিবাদ করায় দুই শতাধিক মুসলিমকে নির্মমভাবে হত্যা করা। এমন আরো অনেক ঘটনা ঘটেছে গত অল্প কয়েক বছরে। এগুলো তো সব বড় বড় ঘটনা এর বাইরেও অসংখ্য গুম খুন নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে শুধুমাত্র ভারতীয় আধিপত্যবাদকে মেনে না নেয়ার কারণে.
.
মোটকথা যে বা যারাই হিন্দু বা হিন্দুত্ববাদীদের ইসলাম ও মুসলিম বিরোধী ষড়যন্ত্রের বিরোধিতা করবে তাকেই হয়তো গুম করে ফেলা হবে অথবা মিথ্যা মামলায় রিমান্ডে নিয়ে নির্যাতন করা হবে কিংবা নির্বিচারে গুলি করে হত্যা করা হবে। এই পর্যন্ত বহু আলেম ওলামা এবং সাধারণ মানুষ এই ধরণের গুম খুনের শিকার হয়েছেন। অসংখ্য আলেম ওলামা তাদের দ্বারা নির্যাতিত হয়েছেন। তাঁদের কেউ কেউ নির্যাতনের কারণে কারাগার কিংবা বন্দী অবস্থায়ই দুনিয়া থেকে বিদায় নিয়েছেন।
.
এখনো যদি আমরা আমাদের আসল শত্রুকে না চিনি, তাদের বিরুদ্ধে শক্তভাবে প্রতিরোধ গড়ে না তুলি তাহলে আরো অনেক আলেম উলামাকে এমন পরিস্থিতির সম্মুখীন করা হবে। গুম খুনের শিকার হতে হবে আরো অনেক দায়ী বক্তাকে। তাই আসুন আমরা সকলে নিজেদের মধ্যকার ভেদাভেদ ভুলে একতাবদ্ধ হই এবং শত্রুর বিরুদ্ধে সীসাঢালা প্রাচীরের ন্যায় শক্ত প্রতিরোধ গড়ে তুলি। আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার তাওফিক দান করুন। ওয়ামা আলাইনা ইল্লাল বালাগ।
.
বি: দ্র: লেখাটি বেশ কিছুদিন আগের লেখা, তাই এখানে সাম্প্রতিক সময়ে ফরিদপুরের ঘটনার কথা আসেনি। লেখার সাথে এই ঘটনার বাস্তবতাও মিলিয়ে নিতে পারেন।
© শায়েখ তামিম আল আদনানী হাফিজাহুল্লাহ ..
7 922
আসুন শত্রুর বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হই...
.
যদি অস্ট্রেলিয়ান ক্রুসেডাররা কানাডিয়ান ক্রুসেডারদের সাথে মিলে ইসলাম ধ্বংসের মিশনে নামতে পারে, যদি আমেরিকান ক্রুসেডাররা ব্রিটিশ ক্রুসেডারদের সাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে ইরাক আফগানে মুসলিম নিধন অভিযান চালাতে পারে, যদি ইসরাইলের ইয়াহুদীরা ভারতীয় মুশরিক এবং পশ্চিমা ক্রুসেডারদের সহায়তা নিয়ে সমগ্র আরব অঞ্চলে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করতে পারে, তাহলে আমরা এক আল্লাহর বান্দা হয়ে, এক রাসুলের উম্মত হয়ে কেন নিজেদের ভেতরকার পারস্পরিক মতভেদ ভুলে এক কালেমার পতাকাতলে ঐক্যবদ্ধ হতে পারিনা?
.
মুশরিক এবং কুফফারদের মাঝে শত শত মতপার্থক্য এবং দৃষ্টিভঙ্গির ফারাক থাকা স্বত্বেও শুধুমাত্র শত্রু এক হওয়ার কারণে সবাই একে অপরের সাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে ইসলামের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করছে। অথচ আমাদের মুসলিমদের মাঝে শত শত মিল থাকা স্বত্বেও শাখাগত কিছু মত পার্থক্যের কারণে শত শত দলে বিভক্ত হয়ে বসে আছি। আমাদের সবার শত্রু তো এক ও অভিন্ন, আমাদের সবার লক্ষ্যও তো এক ও অভিন্ন।
.
আমাদের সবার লক্ষ্য তো একটাই, আল্লাহর জমিনে আল্লাহর বিধান কায়েম করা এবং জালেমদের ধ্বংস করে মাজলুমদের ইনসাফ প্রদান করা। আমাদের সবার উদ্দেশ্য তো একটাই আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভ করা এবং জান্নাতে গিয়ে চূড়ান্ত সুখ এবং সফলতা লাভ করা। তাহলে কেন আমরা নিজ দল এবং মতের বাইরে কাউকে সহ্য করতে পারিনা। কেন আমরা নিজ দল এবং মতের বাইরে অন্য কাউকে হক পথের পথিক ভাবতে পারিনা! কেন আমরা নিজ দল এবং মতের বাইরে ভিন্ন কাউকে দ্বীনের কাজ করছে এই স্বীকৃতি দিতে পারিনা!
.
আমাদের সবার শত্রু এক। বুঝতে হবে ভারত এবং তাদের এদেশীয় দোসররা চায় আমাদের শেষ করে দিতে। কিন্তু একসাথে সবাইকে ধরলে পালটা আঘাত সহ্য করা কঠিন হয়ে যাবে তাই তারা আমাদেরকে বিভিন্ন দল উপদলে বিভিক্ত করে রাখতে চায়। তারা চায় আমরা নিজেদের মধ্যে দলাদলিতে লিপ্ত থাকি তাহলে তাদের জন্য আমাদের শায়েস্তা করতে সহজ হবে। আমাদের বর্তমান অবস্থা হলো। আমার পছন্দের দল এবং মতের বাইরে ভিন্ন কোন মুসলিমের উপর নির্যাতন হলে আমি বিচলিত হইনা, ভাবি তাদেরকে শায়েস্তা করলে ভালোই হবে, তারা শেষ হয়ে গেলে আমার মতবাদ ছড়িয়ে দিতে পারবো খুব সহজেই। কিন্তু একটিবারের জন্যও চিন্তা করিনা এর পরই কিন্তু আমার পালা আসবে। আমাদের পরস্পরের মধ্যে বিভেদ তৈরি করে মূলত তারা আমাদের সম্মিলিত শক্তিকে বিক্ষিপ্ত করে দিয়েছে যার ফলে আমরা তাদের সহজ শিকারে পরিণত হয়েছি।
.
বর্তমানে এই অঞ্চলের মুসলিম এবং ইসলামপন্থীদের সবচেয়ে বড় শত্রু হলো ভারতের হিন্দুত্ববাদীরা। তাদের লক্ষ্য হলো পুরো উপমহাদেশে একজন মুসলিমের নাম নিশানাও বাকি রাখবেনা। সবাইকে শেষ করে হিন্দুরাষ্ট্র কায়েম করবে। যেখানে থাকবেনা কোন মসজিদ, থাকবেনা কোন মাদ্রাসা, থাকবে শুধু মন্দির,মঠ এবং শ্মশান। এই রাষ্ট্রে মুসলিমদের অবস্থা হবে দাস দাসীর চেয়েও করুণ। তাদের কোন অধিকার থাকবেনা। যখন খুশি মারবে যখন খুশি কাটবে। প্রতিউত্তরে কিছুই বলা যাবেনা।
.
এই কথাগুলো তারা এখন প্রকাশ্যেই বলছে, ভারতের বিভিন্ন জায়গায় এসব বিষয়ে সাধারণ হিন্দুদের কাউন্সিলিং করার জন্য বড় বড় সমাবেশ এবং র্যালির আয়োজন হচ্ছে। বাড়ি বাড়ি গিয়ে উগ্র হিন্দুরা এর পক্ষে জনমত তৈরি করছে এবং মুসলিমদের নিধন করার জন্য আয়োজন করছে সামরিক ট্রেনিংয়ের।
.
আমাদের দেশের অবস্থাও যে ভালো তা কিন্তু নয়। এদেশেও প্রশাসনের সর্বত্র হিন্দুত্ববাদীদের রাজত্ব দেখা যাচ্ছে। সর্বত্রই তাদের সরব উপস্থিতি। উপরস্থ কোন পদে নামধারী কোন মুসলিমের পদায়ন হলেও তাকে আগে দাদা বাবুদের কাছে আনুগত্যের শপথ নিতে হয়। এরপরই মিলে সেই পদ। সেই পদে গিয়ে কেউ যদি কোনভাবে ভারতীয় প্রভুদের অসন্তুষ্টিমূলক কোন কাজ করে ফেলে তাহলে তাকে কৌশলে সরিয়ে দেয়া হয় অথবা গুম করে ফেলা হয়। এটাই স্বাধীন বাংলাদেশের পরাধীনতার আসল চিত্র। এর থেকে যদি আমরা মুক্তি পেতে চাই তাহলে নিজেদের দলাদলি ভুলে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার বিকল্প নেই।
.
সামনে আলেম ওলামা এবং ইসলামপন্থীদের জন্য খুবই কঠিন দিন আসছে। গুজরাট, মুজাফফরনগর নেলি মুরাদাবাদের মত গণহত্যার প্রস্তুতি চলছে ভারত বাংলাদেশ জুড়ে। এর সামান্য কিছু নমুনা আমরা গত কয়েক বছরে দেশের বিভিন্ন জায়গায় দেখতে পেয়েছি। ভোলায় হিন্দু কতৃক নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের অবমাননার প্রতিবাদে মিছিল করায় প্রকাশ্যে গুলি চালিয়ে নবীপ্রেমিকদের হত্যা করা। কুমিল্লায় হিন্দু কতৃক কোরআন অবমাননার প্রতিবাদে মিছিল বের করায় চাদপুরের হাজীগঞ্জ সহ বিভিন্ন জায়গায় বহু মুসলিমের বুকে গুলি চালানো এবং ব্যাপক ধর পাকড় চালানো। ভারতের কসাই মোদির আগমনের বিরোধিতা করায় চট্টগ্রাম বাহ্মণবাড়িয়া সহ বিভিন্ন জায়গায় অনেক মুসলিমকে হত্যা করা।
.
7 922
ইতোমধ্যেই আপনারা এই বিভীষিকাময় ঘটনার খবর জেনে গিয়েছেন।
এবার চলুন, কিছু প্রশ্ন তুলি।উত্তর দেওয়া জরুরি না, শুধু একটু চিন্তার খোরাক জোগাতে চাই:
.
১) আপনাদের সেই ‘ক্যারিশমেটিক’, ‘বিকল্পহীন’ ইউনুস সরকার কি এই হত্যাকাণ্ডের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করবে? কিংবা ৫ আগস্টের পর থেকে দেশের নানা প্রান্তে ঘটে যাওয়া এমন সব নির্মম ঘটনার যেসব প্রামাণ্য দলিল হাতের হাতে ঘুরছে—ক'টার বিচার হয়েছে?
২) ‘ব্লগার হত্যা’ নিয়ে দেয়ালে দেয়ালে আঁকা গ্রাফিতির শিল্পীরা কি এবারও বিচারের দাবিতে কোণ গ্রাফিতি করবে? নাকি ইসলামবিদ্বেষী, শা'তিম ছাড়া আর কারো জীবন যেন মূল্যহীন?
৩) ‘কাউন্টার টে,র'রি,জম ইউনিট’ কি এসব দলীয় জ-ঙ্গি'দের বিরুদ্ধে কোনো অবস্থান নিয়েছে বা নেবে? নাকি দাড়ি-টুপি না পরলে, ইসলামের চেতনা না থাকলে তাদের চোখে সেটা সন্ত্রাস হয় না?
৪) শুধু বাংলাদেশে নয়, গোটা বিশ্বজুড়েই গণতন্ত্রের নামে সবচেয়ে বেশি হত্যাকাণ্ড ও পাশবিকতা সংঘটিত হয়েছে—তবু এটিকে কেন ‘জ,ঙ্গি-বাদ’ বলা হয় না? বরং যার বিরুদ্ধে গণতন্ত্রপন্থীরা ‘জ-ঙ্গি’ ট্যাগ দেয়, সেই-ই যেন স্বয়ং জ-ঙ্গি হয়ে যায়!
৫) কাওকে জ-ঙ্গি বলা না বলা, কোন কাজ সন্ত্রাস হওয়া না হওয়া আসলে কে নির্ধারণ করে? কার কথায় আপনারা কোন চিন্তা ব্যতীতই দাসত্ব করেন?
৬) এতো বর্বরতার ইতিহাস ও চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখানো প্রমাণ থাকার পরও যদি গণতন্ত্রপন্থীরা ‘গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থা’র কথা গর্ব করে বলে যেতে পারে, তবে খি,লা-ফ,তের ইনসাফ ও সুবিচারের গৌরবময় ইতিহাস থাকার পরও আপনি কেন খি-লা-ফ-তে,র কথা বলার সাহস পাননা? কিসের হীনমন্যতায় ভোগেন?
মনে রাখবেন,
যদি আপনি ন্যায়ের পক্ষে আওয়াজ না তুলেন, তবে আপনি অন্যায়ের পক্ষেই দাঁড়িয়ে আছেন।"
© শায়েখ তামিম আল আদনানীহাফিজাহুল্লাহ..
7 922
সে জাতি কতই না গাফেল, যারা না জানে নিজেদের বীরত্বের ইতিহাস, আর না রাখে নিজ কওমের গণহত্যার খবর!
আমাদের মুক্তির জন্য যেমন বর্তমান বিশ্বের খবর রাখতে হবে, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা করতে হবে, তেমনই প্রজন্মকে জানাতে হবে—তারা কোন বীজের ফসল! তাদের পূর্বপুরুষদের বীরত্বমাখা ত্যাগ ও গৌরবময় বিজয়ের ইতিহাস। দিতে হবে হকের পথে দৃঢ়তার সঙ্গে অটল থাকার সবক।
ক্রুসেডের ইতিহাস মুসলিমরা ভুলে গেলেও কাফিররা ভুলেনি || Shaikh Tamim Al Adnani
7 922
এই বক্তব্য শুনে এটি কি একজন মূখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য নাকি বখাটে গু*ণ্ডার বক্তব্য সেটি আপনি পার্থক্য করতে পারবেন না। মনে হবে এটি কোন গুণ্ডার প্রতিপক্ষকে দেওয়া হুমকিসূচক বক্তব্য।
আর বাস্তবেও তাই, ভ|র'তে গু*ণ্ডা রাজই চলছে। সেখানে মুসলিমদের তৃতীয় শ্রেণির নাগরিক বানিয়ে রাখা হয়েছে, তাদের সাথে পশুর ন্যায় আচরণ করা হয়। কোন কারণ ছাড়া তাদেরকে পিটিয়ে মেরে ফেলা হয়, তথ্য প্রমাণ ছাড়া শুধুমাত্র হি^ন্দুদের নালিশের ভিত্তিতে মুসলিমদের ঘর-বাড়ি বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। মসজিদ মাদ্রাসা বন্ধ করে দেওয়া হয়, অবৈধ বলে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়।
এই তো কিছুদিন আগে মিডিয়ায় রিপোর্ট হয়েছে, ভ|র'তে ৪৫ দিনে ২৩ টির বেশি মসজিদ মাদ্রাসা গুঁড়িয়ে দিয়েছে সেখানকার হি^ন্দুত্ববাদী স/ন্ত্র|সী সরকার।
মোট কথা এমন কোন জুলুম নেই যেটি ভ|র'তের মুসলিমদের উপর করা হচ্ছেনা। সেখানকার মুসলিমরা দাঁতে দাঁত চেপে জুলুম সহ্য করে যাচ্ছেন আর একজন মুক্তির ঝাণ্ডাবাহী বীর মু'জ|হি'দের অপেক্ষায় প্রহর গুনছেন।
-
আমরা কি পারিনা ভ|র'তের ভাইদের মুক্ত করার জন্য বজ্রকঠিন শপথ নিতে, পার্শ্ববর্তী আ'রা'কানের মজলুম ভাই বোনদের হারানো জমিন ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য এক পতাকাতলে ঐ'ক্যবদ্ধ হতে?
আমাদের সবাইকে এক হতে হবে, মজলুমদের মুক্ত করার জন্য এবং দ্বীন কায়েমের জন্য সর্বাত্মক প্র'স্তু'তি নিতে হবে। কিন্তু যদি অলসতা আর অবহেলা করি তাহলে আমাদেরকেই ভুগতে হবে।
© শায়েখ তামিম আল আদনানীহাফিজাহুল্লাহ..
7 922
পশ্চিমবঙ্গে ঈদ কোরবানীর পর আজানেও বাধা -
-
আমাদের পার্শ্ববর্তী পশ্চিমবঙ্গে ভাল নেই মুসলিমরা, প্রতিনিয়ত তাদেরকে কোনঠাসা করার জন্য গে'রু'য়া স/ন্ত্র|সী বাহিনী নতুন নতুন ষ'ড়যন্ত্র নিয়ে মাঠে নামছে। তাদের মুসলিম পরিচয় মুছে ফেলার জন্য যা করা দরকার সবই করছে।
নানান ধরণের ষড়ন্ত্র করছে। কয়দিন আগে প্রকাশ্যে ঈদের নামাজ ও গরু কোরবানী নিষিদ্ধ করার পর এবার আজানের উপর বিধি নিষেধ আরোপ করেছে। শব্দ দূষণের অজুহাতে মসজিদ থেকে মাইক খুলে নেওয়া হচ্ছে, রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় অসংখ্য মসজিদ থেকে মাইক খুলে নেওয়ার দৃশ্য প্রকাশ্যে এসেছে।
এই নিয়ে মুসলিম সমাজে ব্যাপক ক্ষো'ভ ও ঘৃ'ণার সৃষ্টি হয়েছে, কিন্তু কেউ ভয়ে মুখ খোলার এবং প্রতিবাদ করার সাহস করছেন না। কারণ মুখ খুললেই কথিত ‘গু*ণ্ডা দমন’ আইনে তাদেরকে হয়রানি করা হচ্ছে। এই তো কয়দিন আগে রাজ্যের মূখ্যমন্ত্রী মুসলিম প্রতিবাদীদের উদ্দেশ্য করে বলেছেঃ ‘গু*ণ্ডা দমন আইনে আমি এমন ব্যবস্থা নেব, যাতে একদিন নয় এই গুণ্ডাদের তিন পুরুষ মনে রাখে’
7 922
জাহিলিয়্যাতের সময়কার একটি প্রচলন আমরা সকলেই জানি—কন্যাশিশুকে জীবন্ত কবর দেওয়া।
আর আজ ২০২৬!
নবজাতক কন্যা হোক বা পুত্র; গর্ভে থাকুক বা জন্ম নিক—অ্যাবরশন, ডাস্টবিনে ফেলে কুকুরের খাদ্য বানানো, সুউচ্চ দালান থেকে ফেলে হত্যা করা—কিছুই যেন বাদ পড়ছে না।
ইসলামকে ভুলে যে ‘আধুনিক সমাজ’ গড়ে উঠেছে, তা যেন আইয়্যামে জাহিলিয়াতের সময়কার নির্মমতাকেও হার মানায়।
রাস্তায় নিক্ষিপ্ত আজ নবজাতকের লাশ! - এ পাশবিকতা জাহিলিয়্যাতের হত্যাযজ্ঞকেও হার মানায়
© শায়েখ তামিম আল আদনানীহাফিজাহুল্লাহ..
7 922
আ/ফ-গ|নিস্তানে হ|মল| চালিয়ে নিস্পাপ শি**শুহ#ত্যা : পাকিস্তানী বা-হি/নীর বর্বরতা ও নৃশংসতা
বুধবার গভীর রাতে ইসলামী রাষ্ট্র আফগানিস্তানে হা ম লা চালিয়ে ফুলের মত নিস্পাপ শি**শুদেরকে হ#ত্যা করেছে সেক্যুলার পাকিস্তানী আ&র্মি। ইসলামী রাষ্ট্র, ইসলামী শাসনব্যবস্থা এবং ইসলাম ও মুসলমানদের বিরুদ্ধে তাদের এ শত্রুতা নতুন নয়।
মা-র্কি"ন আগ্রাসনের বিশ বছরের পুরোটা সময়জুড়েই পাকিস্তানের সেক্যুলার আর্মি এবং সেক্যুলার সরকার আফগানিস্তানে ইসলামের বিজয়কে প্রতিহত করার উদ্দেশ্যে আ মে রি কাকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করে গেছে, কিন্তু আল্লাহ তায়ালার ইচ্ছায় তাদের মনিব আমেরিকা লাঞ্চিত ও পরাজিত হয়ে লেজ গুটিয়ে পালিয়েছে।
মনিব আ মে রি কা পলায়ন করার পরেও তাদের ভৃত্য পাকিস্তানী সেক্যুলাররা ইসলাম ও মুসলমানদের বিরুদ্ধে শত্রুতা অব্যাহত রেখেছে।
এভাবে অবলীলায় ফুলের মত নিস্পাপ শি**শুদেরকে যারা হ#ত্যা করে তাদেরকে ঘৃণা করা এবং প্রতিরোধ করা প্রতিটি মুমিনের ঈমানী দায়িত্ব। তবে অনেক অবুঝ মানুষ আছে, যারা পাকিস্তানি আ&র্মির যৌক্তিক সমালোচনাও সহ্য করতে পারেনা। তাদেরকে আমরা অনুরোধ করব, এই নিস্পাপ শি**শু ও অসহায় না~রীদের কথা ভাবুন-যাদেরকে পাকিস্তানী সে/ক্যুলাররা অবলীলায় হ#ত্যা করেছে।
এটাও মাথায় রাখা জরুরী যে, পাকিস্তানি সেক্যুলারদের বিরোধিতা করার অর্থ কোনোভাবেই ই/ন্ডি'য়াকে সমর্থন করা নয়। বরং পাক-ভারত উপমহাদেশে ই/ন্ডি'য়াই আমাদের সবচেয়ে বড় শত্রু। ই/ন্ডি'য়ার বিরুদ্ধে কাশ্মীরে সম্মানিত মু^জ|হিদগণ লড়াই অব্যাহত রেখেছেন।
এবং ক্রমাগত প্রস্তুতি গ্রহণের মাধ্যমে সক্ষমতা বৃদ্ধির চেষ্টা করে যাচ্ছেন। কিন্তু খোদ পাকিস্তানী সেক্যুলাররাই বারবার কাশ্মীর জি/হ|দকে ধ্বংস করার চেষ্টা করেছে, ই/ন্ডি'য়াকে সুরক্ষিত রেখে মাঝে মাঝে কেবল কাশ্মীর ইস্যু দিয়ে নিজস্ব রাজনৈতিক ফায়দা হাসিল করতে চেয়েছে। আল্লাহর রাস্তার মু^জ|হিদ, ইসলামপন্থী এবং ইসলামী শাসনব্যবস্থার বিরুদ্ধে পাকিস্তানী সেক্যুলাররাও ই/ন্ডি'য়ার মতই আচরণ করে। আফগানিস্তানে বর্বর আক্রমণ করার মাধ্যমে এ সত্যকে তারা আবারো প্রমাণ করেছে।
এ প্রসঙ্গে আমাদের আগের পোস্টে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বেশ কিছু তথ্য এসেছে। গুরুত্ব সহকারে সে পোস্টটি পড়তে, পোস্টটি নিয়ে আলোচনা পর্যালোচনা এবং শেয়ার করতে পাঠকবর্গের কাছে সবিশেষ অনুরোধ করছি।
আগের পোস্টের লিংক কমেন্টে দেওয়া আছে।
© শায়েখ তামিম আল আদনানীহাফিজাহুল্লাহ..
7 922
লেজকাটা শেয়ালগুলোকে থামান!!! || Shaikh Tamim Al Adnani
© শায়েখ তামিম আল আদনানীহাফিজাহুল্লাহ..
7 922
আসুন শোকরগোযার বান্দা হই-
প্রতিদিন প্রতিনিয়ত কতশত নেয়ামতের মধ্যে ডুবে আছি আমরা। জীবনের শুরু থেকে আজ পর্যন্ত কত নেয়ামত যে ভোগ করেছি তার কোন হিসেব নেই। কত নিপুণভাবে তিনি আমাদের সৃষ্টি করেছেন। কত প্রজ্ঞার সাথে আমাদের অঙ্গ প্রত্যঙ্গগুলো বানিয়েছেন।
শুধু সৃষ্টি করেই তিনি ছেড়ে দেননি, দুনিয়াতে বেঁচে থাকার জন্য যত কিছুর প্রয়োজন সব কিছুর ব্যাবস্থা করেছেন। শিশুকালে যখন আমি খাবার খেতে পারতামনা তখন তিনি আমার জন্য মায়ের বুকে দুধ পাঠিয়েছেন। সবার ভেতর আমার প্রতি মমতা ঢেলে দিয়েছেন, আমি একটু কান্না করলেই ছুটে আসতো সবাই।
তিনি চাইলে আমদেরকে অন্যন্য প্রাণীর ন্যায় বাকশক্তিহীন বানাতে পারতেন। কিন্তু না, তিনি দয়া করে বাকশক্তিসম্পন্ন বানিয়েছেন, যার মাধ্যমে মনের সব কথা প্রকাশ করতে পারি আমরা। শোনার জন্য দুটি কান দিয়েছেন, দেখার জন্য দুটি চোখ দিয়েছেন, হাঁটার জন্য দুটি পা দিয়েছেন, এগুলো ছাড়াও প্রয়োজনীয় আরো অনেক অঙ্গ আছে। সবই তিনি বিনামূল্যে দান করেছেন। এই অঙ্গগুলো এত দামী যে, কোটি টাকা খরচ করেও এরমত বা এর বিকল্প কিছু পাওয়া সম্ভব নয়। এসবের মূল্য সেই বোঝে যে একবার পাওয়ার পর হারিয়েছে।
শুধু তাই নয়, অক্সিজেনের মত দামী জিনিসটাও তিনি একেবারে বিনামূল্যে দান করেছেন। চন্দ্র সূর্য গাছ-পালা পশু পাখি ইত্যাদি সৃষ্টিকে আমাদের সেবায় নিয়োজিত করে দিয়েছেন। মোটকথা আমাদের যত কিছুর প্রয়োজন সব কিছুর ব্যাবস্থাই তিনি করেছেন। প্রতিনিয়ত আমরা এমন জানা অজানা অসংখ্য নেয়ামতের মধ্যে ডুবে আছি।
যদি গণনা করতে শুরু করি তাহলে গুনে শেষ করতে পারবোনা। যদি লিখতে বসি তাহলে কলম শেষ হয়ে যাবে তবু নেয়ামতের কথা লিখে শেষ করা যাবেনা। জীবন শেষ হয়ে যাবে তবু তার নেয়ামতেসমূহের বর্ণনা শেষ হবেনা। এই সম্পর্কে আল্লাহ তাআলা সূরা নাহলের ১৮ নাম্বার আয়াতে বলেছেন-
وَ اِنۡ تَعُدُّوۡا نِعۡمَة اللّٰهِ لَا تُحۡصُوۡهَا ؕ اِنَّ اللّٰهَ لَغَفُوۡرٌ رَّحِیۡمٌ
তোমরা আল্লাহর নি‘মাতসমূহকে গণনা করলে তার সংখ্যা নির্ণয় করতে পারবে না; আল্লাহ অবশ্যই বড়ই ক্ষমাশীল, বড়ই দয়ালু। -সুরা নাহল ১৮
অপর এক আয়াতে তিনি বলেন-
وَ لَوۡ اَنَّ مَا فِی الۡاَرۡضِ مِنۡ شَجَرَۃٍ اَقۡلَامٌ وَّ الۡبَحۡرُ یَمُدُّهٗ مِنۡۢ بَعۡدِهٖ سَبۡعَة اَبۡحُرٍ مَّا نَفِدَتۡ كَلِمٰتُ اللّٰهِ ؕ اِنَّ اللّٰهَ عَزِیۡزٌ حَكِیۡمٌ
দুনিয়ার সব গাছ যদি কলম হয় আর সমুদ্র (কালি হয়) আর তার সাথে আরো সাত সমুদ্র যুক্ত হয়, তবুও আল্লাহর (প্রশংসার) কথা (লেখা) শেষ হবে না। আল্লাহ মহাপরাক্রমশালী, মহাপ্রজ্ঞার অধিকারী। - সুরা লুকমান ২৭
এত এত নেয়ামত ভোগ করার পরও আমরা আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করিনা। দুঃখের বিষয় হল, শোকর যে করতে হবে এই অনুভূতিও নেই অনেকের মাঝে। তারা মনে করেন এসব নেয়ামত কেউ দয়া করে দেয়নি, বরং সে নিজেই এর হকদার।
আবার আমরা যারা এগুলোকে নেয়ামত মনে করি তারাও পরিপূর্ণরূপে শোকর আদায় করিনা, করতে পারিওনা। তবে পারিনা বলে বসে থাকা তো কোন মুমিনের শান হতে পারেনা। আল্লাহ তাআলার কাছে তাওফিক চাইতে হবে। দুঃখের বিষয় হল আমরা অনেক সময় তাওফিকও চাইনা।
রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুয়াজ রাদিয়াল্লাহু আনহুকে শোকর আদায়ের তাওফিক লাভের জন্য চমৎকার একটি দোয়া শিখিয়েছেন। সুনানে আবু দাউদে হাদীসটি বর্ণিত হয়েছে, হাদিসটি হলঃ
عَنْ مُعَاذِ بْنِ جَبَلٍ، أَنَّ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم أَخَذَ بِيَدِهِ وَقَالَ " يَا مُعَاذُ وَاللهِ إِنِّي لأُحِبُّكَ وَاللهِ إِنِّي لأُحِبُّكَ " . فَقَالَ " أُوصِيكَ يَا مُعَاذُ لَا تَدَعَنَّ فِي دُبُرِ كُلِّ صَلَاةٍ تَقُولُ : اللَّهُمَّ أَعِنِّي عَلَى ذِكْرِكَ وَشُكْرِكَ وَحُسْنِ عِبَادَتِكَ "
মুয়াজ ইবনে জাবাল রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত। একবার রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার হাত ধরে বললেন, হে মুয়াজ! আল্লাহর শপথ আমি অবশ্যই তোমাকে ভালবাসি, আল্লাহর শপথ! আমি অবশ্যই তোমাকে ভালবাসি। তিনি বললেন, হে মুয়াজ! আমি তোমাকে অসিয়ত করছি, তুমি প্রত্যেক নামাযের পর এই দোয়াটি পড়বে, কখনো ছাড়বেনা।
اللَّهُمَّ أَعِنِّي عَلَى ذِكْرِكَ وَشُكْرِكَ وَحُسْنِ عِبَادَتِكَ
অর্থঃ হে আল্লাহ! আমাকে আপনার জিকির করতে, আপনার শুকরিয়া আদায় করতে এবং উত্তমভাবে আপনার ইবাদাত করতে সাহায্য করুন। - আবূ দাউদ ১৫২২
ইনশাআল্লাহ আমরা পাঁচ ওয়াক্ত নামাযের পর দোয়াটি পড়ার চেষ্টা করবো। আল্লাহ তাআলা যেন আমাদের সবাইকে তাঁর শোকরগোযার বান্দা হিসেবে কবুল করেন।
© শায়েখ তামিম আল আদনানীহাফিজাহুল্লাহ..
7 922
আর বাস্তবেও তাই, ভা/র'তে গুণ্ডা রাজই চলছে। সেখানে মুসলিমদের তৃতীয় শ্রেণির নাগরিক বানিয়ে রাখা হয়েছে, তাদের সাথে পশুর ন্যায় আচরণ করা হয়। কোন কারণ ছাড়া তাদেরকে পিটিয়ে মেরে ফেলা হয়, তথ্য প্রমাণ ছাড়া শুধুমাত্র হিন্দুদের নালিশের ভিত্তিতে মুসলিমদের ঘর-বাড়ি বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। মসজিদ মাদ্রাসা বন্ধ করে দেওয়া হয়, অবৈধ বলে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়।
এই তো কিছুদিন আগে মিডিয়ায় রিপোর্ট হয়েছে, ভা/র'তে ৪৫ দিনে ২৩ টির বেশি মসজিদ মাদ্রাসা গুঁড়িয়ে দিয়েছে সেখানকার হিন্দুত্ববাদী সন্ত্রাসী সরকার।
মোট কথা এমন কোন জুলুম নেই যেটি ভা/র'তের মুসলিমদের উপর করা হচ্ছেনা। সেখানকার মুসলিমরা দাঁতে দাঁত চেপে জুলুম সহ্য করে যাচ্ছেন আর একজন মুক্তির ঝাণ্ডাবাহী বীর মুজাহিদের অপেক্ষায় প্রহর গুনছেন।
-
আমরা কি পারিনা ভা/র'তের ভাইদের মুক্ত করার জন্য বজ্রকঠিন শপথ নিতে, পার্শ্ববর্তী আরাকানের মজলুম ভাই বোনদের হারানো জমিন ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য এক পতাকাতলে ঐক্যবদ্ধ হতে?
আমাদের সবাইকে এক হতে হবে, মজলুমদের মুক্ত করার জন্য এবং দ্বীন কায়েমের জন্য সর্বাত্মক প্রস্তুতি নিতে হবে। কিন্তু যদি অলসতা আর অবহেলা করি তাহলে আমাদেরকেই ভুগতে হবে।
© শায়েখ তামিম আল আদনানীহাফিজাহুল্লাহ..
7 922
আমাদের পার্শ্ববর্তী পশ্চিমবঙ্গে ভাল নেই মুসলিমরা, প্রতিনিয়ত তাদেরকে কোনঠাসা করার জন্য গেরুয়া সন্ত্রাসী বাহিনী নতুন নতুন ষ/ড়য'ন্ত্র নিয়ে মাঠে নামছে। তাদের মুসলিম পরিচয় মুছে ফেলার জন্য নানান ধরণের ষ/ড়য'ন্ত্র করছে।
কয়দিন আগে প্রকাশ্যে ঈদের নামাজ ও গরু কোরবানী নিষিদ্ধ করার পর এবার আজানের উপর বিধি নিষেধ আরোপ করেছে। শব্দ দূষণের অজুহাতে মসজিদ থেকে মাইক খুলে নেওয়া হচ্ছে, রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় অসংখ্য মসজিদ থেকে মাইক খুলে নেওয়ার দৃশ্য প্রকাশ্যে এসেছে।
এই নিয়ে মুসলিম সমাজে ব্যাপক ক্ষোভ ও ঘৃণার সৃষ্টি হয়েছে, কিন্তু কেউ ভয়ে মুখ খোলার এবং প্রতিবাদ করার সাহস করছেন না। কারণ মুখ খুললেই কথিত 'গুণ্ডা দমন' আইনে তাদেরকে হয়রানি করা হচ্ছে। এই তো কয়দিন আগে রাজ্যের মূখ্যমন্ত্রী মুসলিম প্রতিবাদীদের উদ্দেশ্য করে বলেছেঃ
'গুণ্ডা দমন আইনে আমি এমন ব্যবস্থা নেব, যাতে একদিন নয় এই গুণ্ডাদের তিন পুরুষ মনে রাখে'
এই বক্তব্য শুনে এটি কি একজন মূখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য নাকি বখাটে গুণ্ডার বক্তব্য সেটি আপনি পার্থক্য করতে পারবেন না। মনে হবে এটি কোন গুণ্ডার প্রতিপক্ষকে দেওয়া হুমকিসূচক বক্তব্য।
7 922
পূর্ব-তুর্কিস্তান: মানবতার প্রবেশ যেখানে নিষিদ্ধ || Shaikh Tamim Al Adnani
© শায়েখ তামিম আল আদনানীহাফিজাহুল্লাহ..
