প্রসাদ খাওয়ার বিধান
আব্দুল্লাহ বিন বশির
আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো নামে উৎসর্গিত খাবার—প্রাণী জাতীয়, মিষ্টান্ন বা ফলমুল যাইহোক না কেন, এমনকি পানি হলেও; এসবকিছুই মুসলমানের জন্য খাওয়া বা ব্যবহার করা নাজায়েয ও হারাম। চাই এই উৎসর্গ মুশরিকরা দেবদেবির জন্য করুক বা কোনো মুর্খ মুসলিম ওলি-আউলিয়াদের নামে করুক।
বর্তমানে হিন্দু মুসলিমদের অগাদ মেলামেশায় ও মুসলিমদের মাঝে ‘ওয়ালা-বারা’-এর সঠিক চর্চা না থাকার কারণে এই স্পষ্ট মাসআলাটিও বহু মুসলিম জনসাধারণ একধরনের ভুলে বসে আছেন। সাথে বিভিন্ন অপপ্রচারেও অনেকে বিভ্রান্তির শিকার হয়। এখানে ধোঁকা দেওয়ার সূরত একেক রকম হয়ে থাকে। কাউকে বলা হয় প্রসাদ এটা তো পবিত্র জিনিস হারাম হবে কেন! কাউকে বলা হয়, প্রসাদ যেটা প্রাণী জাতীয় তা হারাম, তবে মিষ্টান্ন বা ফলমূল হারাম নয়। ইত্যাদী।
এই বিভ্রান্ত দূর করতে এই বিষয়ে সংক্ষিপ্ত কিছু কথা এখানে উল্লেখ করছি।
১. ‘প্রসাদ’ কাকে বলে
হিন্দুদের ধর্মীয় গ্রন্থ গীতায় প্রসাদের পরিচয়ে লেখা হয়েছে, “যে শুদ্ধ দ্রবাদি ভক্তিসহকারে ভগবানকে উতসর্গ করা হয়। তাহাই ভগবান উপহার হিসেবে গ্রহন করেন এবং তাহাই প্ৰসাদ রুপে জগৎ খ্যাত হয়। তুমি যাহা কিছুই করো, যাহা কিছু গ্রহন করো, যাহা কিছু পরিত্যাগ করো, যাহা হোম করো। সমস্ত কিছুই আমাতে সমর্পন পূর্বক করো। -শ্রীমদ্ভাগবত গীতা ৯/২৬-২৭
গীতার অন্য স্থানে বলা হয়, “আর যারা ভগবানকে দেয়া খাদ্য অর্থাৎ প্রসাদ গ্রহণ করে সে সমস্ত পাপ থেকে মুক্ত হন। - শ্রীমদ্ভাগবত গীতা ৩/১২-১৩
প্রাসাদের সংজ্ঞা থেকে দুটো বিষয় এখানে স্পষ্ট হচ্ছে। এক. প্রসাদ হলো অমুসলিমরা তাদের ভ্রান্ত প্রভুদের সম্মানের জন্য যে সমস্ত খাবার উৎসর্গ করে থাকে। দুই. প্রসাদের সাথে তাদের ধর্মীয় একটি বিধানও যুক্ত রয়েছে। এবং এই হিসেবে তা তাদের ধর্মের একটি প্রতীকীও বলা যায়।
২. প্রসাদের বিধান
প্রথমত, প্রসাদ অমুসলিমদের একটি ধর্মীয় প্রতীকীর অন্তর্ভুক্ত এবং ধর্মীয় একটি বিশেষ মূল্যবোধকে সামনে রেখেই তারা খাবারটি গ্রহণ করে, কোনো সাধারণ খাবার মনে করে খায় না। এটাকে ভগবানের উদ্দেশ্যে বিশেষ একটি বস্তু মনে করে, যার মূল উদ্দেশ্যই হয় তাদের মিথ্যা ভগবানের সম্মান। সূতরাং এই খাবারকে খাওয়ার অর্থই হলো অমুসলিমদের এই প্রতীকীকে বিশেষ সম্মান করা ও নিজের মাঝে ধারণ করা। যা স্পষ্টই হারাম। আল্লামা হিন্দি রহ. (মৃত্যু: ৭৮৬ হি.) লেখেন,
واتفق مشايخنا أن من رآى أمر الكفار حسنا فهو كافر.
আমাদের সকল ওলামায়ে কেরামের বক্তব্য হলো, কেউ যদি কাফেরের কোন বিষয়কে (শিয়ার) ভালো মনে করে, তাহলে সে কাফের হয়ে যাবে। -ফতোয়া তাতারখানিয়্যা-৭/৩৪৮ ; শরহু হামওয়ী -২/৮৮; আলবাহরুর রাইক ৫/১৩৩
দ্বিতীয়ত, অমুসলিমরা এই প্রসাদকে তাদের ভগবানের নামে উৎসর্গ করে থাকে/ শরীয়তের পরিভাষায় উৎসর্গকে বলা হয় ‘নজর’ যাকে আমরা মান্নত বলি। ইসলামের অকাট্ট বিধান হলো গাইরুল্লাহের নামে মান্নত করা হারাম। আর প্রসাদ চাই তা প্রাণী জাতীয় খাদ্য হোক বা মিষ্টান্ন অথবা ফলমূল তা গাইরুল্লাহের নামে মান্নতের অন্তর্ভুক্ত।
আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেন,
ﵟإِنَّمَا حَرَّمَ عَلَيۡكُمُ ٱلۡمَيۡتَةَ وَٱلدَّمَ وَلَحۡمَ ٱلۡخِنزِيرِ وَمَآ أُهِلَّ بِهِۦ لِغَيۡرِ ٱللَّهِۖ ﵞ
আল্লাহ তো তোমাদের জন্য হারাম করেছেন কেবল মৃত জন্তু, রক্ত, শূকরের গোশ্ত এবং ওই বস্তু যার উপর আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো নাম উচ্চারণ করা হয়েছে। -সূরা বাকারাহ : ১৭৩
অপর আয়াতে আল্লাহ বলেন,
ﵟحُرِّمَتۡ عَلَيۡكُمُ ٱلۡمَيۡتَةُ وَٱلدَّمُ وَلَحۡمُ ٱلۡخِنزِيرِ وَمَآ أُهِلَّ لِغَيۡرِ ٱللَّهِ بِهِۦﵞ
তোমাদের জন্য হারাম করা হয়েছে মৃত জন্তু, রক্ত শূকরের গোশ্ত ও সেই বস্তু যার উপর আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো নাম উচ্চারণ করা হয়েছে। -সূরা মায়েদা : ৩
আয়াতে আল্লাহ তায়ালা ব্যাপকভাবেই
এই আয়াতের ব্যাখ্যায় মুফতি শফী রহ. বলেন,
یہاں ایک چوتھی صورت اور ہے جس کا تعلق حیوانات کے علاوہ دوسری چیزوں سے ہے، مثلاً مٹھائی، کھانا وغیرہ جن کو غیراللہ کے نام پر نذر (منت) کے طور سے ہندو لوگ بتوں پر اور جاہل مسلمان بزرگوں کے مزارات پر چڑھاتے ہیں، حضرات فقہاء نے اس کو بھی اشتراکِ علت یعنی تقرب الی غیراللہ کی وجہ سے "ما اہل لغیر اللہ" کے حکم میں قرار دے کر حرام کہا ہے، اور اس کے کھانے پینے دوسروں کو کھلانے اور بیچنے خریدنے سب کو حرام کہا ہے" ۔
এখানে একটি চতুর্থ সূরত হলো, যা প্রাণী ছাড়া অন্যান্য বস্তুর সাথে সম্পৃক্ত। যেমন মিষ্টান্ন, খাবার জাতীয় বস্তু ইত্যাদী যেগুলো হিন্দুরা তাদের দেবতার সামনে এবং মুর্খ মানুষরা বিভিন্ন বুজুর্গের মাজারে মান্নত করে দান করে ফুকাহায়ে কেরাম এগুলোকেও ইল্লত এক হওয়ার কারণে হারাম বলেছেন। সুতরাং এমন বস্তু খাওয়া বা কাউকে খাওয়ানো, ক্রয়-বিক্রয় সব হারাম হবে। -মাআরিফুল কুরআন ১/৪২৪, যাকারিয়্যাহ বুক ডিপো
মুফতি খালেদ সাইফুল্লাহ রাহমানি সাহেব লেখেন,