আকাবির-কথন
Відкрити в Telegram
Показати більше
Країна не вказанаКатегорія не вказана
1 099
Підписники
Немає даних24 години
+227 днів
+2630 день
Архів дописів
1 099
জীবনের চলার পথে কত বিচিত্র মানুষের সাথে আমাদের পরিচিতি হয়। কেউ আসে পাথরের ওপর দিয়ে গড়িয়ে চলা নদীর স্রোতের মতো করে, যা না রেখে যায় কোনো চিহ্ন, না ফোটায় কোনো ফুল, আর না ফলায় কোনো ফল।
আবার কেউ আসে অনাবাদি জমিনে বৃষ্টির প্রথম ফোঁটা হয়ে; যে ভূমি আগে ছিল রুক্ষ, নিঃসার, প্রাণহীন, সেখানেই এর ছোঁয়ায় জেগে ওঠে প্রাণের উন্মেষ, জন্ম নেয় সবুজ, ফুটে ওঠে অঙ্কুরের হাসি।
আবার কেউ আসে প্রলয়ংকারী উচ্ছ্বল বেপরোয়া বন্যার মতো হয়ে, সামনে যা পড়ে তা ভাসিয়ে নিয়ে যায় অনন্তে; সে ভাঙে, ধ্বংস করে, তবু তার উপস্থিতি অস্বীকার করা যায় না।
জীবনের যাত্রাপথে কত মানুষের সাথে দেখা হয়! যার সঙ্গেই দুটো কথা হয়, একটু পাশে বসা হয়, সেও কোনো না কোনো ছাপ আমার জীবনে রেখে যায়, খুব তুচ্ছ কিছু হলেও আমার থেকে নিয়ে যায়! হয় তো রেখে যায় ভালোবাসার মতো কোনো উষ্ণতা, নয়তো ঘৃণার মতো কোনো ঠান্ডা নীল দাগ! হয় তা বুদবুদের মতোই অস্থায়ী, নয়তো প্রস্তর-শিলার মতো স্থায়ী।
জীবনে অনেকের সান্নিধ্যে এসেছি। অনেক শিক্ষকের সামনে বসেছি, বহু আলোচকের আলোচনা শুনেছি, মসজিদে বহু ওয়াজের মজলিসে বসেছি, কত বন্ধুর সঙ্গে হাতে হাত ধরে হেঁটেছি তাদের প্রত্যেকেই কিছু না কিছু রেখে গেছে আমার হৃদয়ের অলিন্দে! কেউ রেখে গেছে আলো জ্বলা, মায়া ভরা গভীর ছাপ, যা দীর্ঘদিন পার হওয়ার পরও থেকে গেছে হৃদয়ের গভীরে! আবার কেউ রেখে গেছে আলো-আঁধারিতে ভরা মতো অতি ক্ষীণ ধূসর ছায়া, যা মিলিয়ে গেছে সময়ের সাথে সাথে। তবে আমি স্বীকার করি, কোনো সঙ্গ ও সান্নিধ্যই আমার এই ছোট্ট জীবনে প্রভাবহীন ছিল না।
[সমাজ জীবন : বোধ ও চৈতন্য, ৯৮]
1 099
আতা খোরাসানী রহ. বলেন, একবার রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একটি বৈঠকের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন, যেখান থেকে হাসির আওয়াজ আসছিল। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, 'তোমরা ওই জিনিসকে বেশি বেশি স্মরণ করো, যা স্বাদ বিনষ্ট করে দেয়।' সাহাবায়ে কেরাম জানতে চাইলেন, 'ইয়া রাসূলাল্লাহ, স্বাদ বিনষ্টকারী বস্তুটি কী?' রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উত্তর দিলেন, 'মৃত্যু।'
উমর ইবনে আবদুল আযীয রহ. প্রতি রাতে আলেমদের নিয়ে বৈঠক করতেন। সেখানে তারা মৃত্যু ও আখেরাতের কথা স্মরণ করতেন। তারা এমনভাবে আলোচনা করতেন, যেন সামনে কোনো জানাজা রাখা আছে।
ইবরাহীম তাইমী রহ. বলেছেন, 'দুটি জিনিস আমার সব ধরনের আনন্দ নিঃশেষ করে দিয়েছে। একটি হলো মৃত্যু আর অন্যটি কিয়ামতের দিন আল্লাহর সামনে দাঁড়ানোর ভয়।
ইমাম গাযালী রহ. বলেছেন, 'মৃত্যু অত্যন্ত ভয়াবহ হওয়া সত্ত্বেও মানুষ তা সম্পর্কে উদাসীন। একে তো ব্যস্ততার দোহাই দিয়ে মানুষ তা নিয়ে কোনো আলোচনাই করে না। আবার করলেও অন্য কিছু নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়ে। তাই কেবল মৌখিক আলোচনা যথেষ্ট নয়; বরং সবকিছু থেকে অবসর হয়ে মৃত্যুর কথা এমনভাবে ভাবতে হবে, যেন তা সামনেই উপস্থিত।
এর পদ্ধতি হচ্ছে, মৃত বন্ধু-বান্ধব, আত্মীয়স্বজন ও প্রিয়জনদের কীভাবে নিজ হাতে মাটি চাপা দিয়ে আসতে হয়েছে সেটা মনে করা। তাদের আকৃতি ও বড় বড় পদগুলো স্মরণ করে চিন্তা করা, মাটি কীভাবে তাদের সুন্দর আকৃতিগুলো বদলে দিয়েছে। তাদের দেহের সবগুলো অঙ্গপ্রত্যঙ্গ পৃথক করে ফেলে সেসব ছিন্নভিন্ন করে দিয়েছে। তাদের সন্তানেরা এতিম হয়ে গেছে। তাদের স্ত্রীরা হয়েছে বিধবা। বন্ধু-বান্ধব ও প্রিয়জনদের তারা কাঁদিয়েছে। শখের জিনিসপত্র কিছুই সাথে নিতে পারেনি। একসময় তারাও আড্ডার আসরে বসে হাসত, কিন্তু আজ তারা নিথর হয়ে পড়ে আছে! কেমন যৌবনের পাগলামি ছিল, কিন্তু আজ তাদের খবরও কেউ জানতে চায় না! আজ যে আমি এত আয়োজন করছি, কাল কী হবে তা তো কেউ জানে না।'
[প্রশান্ত অন্তর : ২৭৮-২৭৯]
1 099
স্ত্রী বৃদ্ধা হোক কিংবা যুবতি, তার মুখে দাঁত থাকুক বা না থাকুক, কোনো অবস্থাতেই তাকে তুচ্ছতাচ্ছিল্য করা যাবে না। বৃদ্ধার প্রতিও খেয়াল রাখতে হবে। কারণ সে তো তার স্বামীর সাথে সাথেই বৃদ্ধা হয়েছে। আগে স্বভাবজাত কারণে তাকে ভালোবাসতে, এখন আল্লাহর নির্দেশের কারণে তাকে মায়া করো। তার মাথা ব্যথা করলে ওষুধের ব্যবস্থা করতে হবে, সদয় আচরণ করতে হবে।
অনেকে ভাবে আমার মা-বাবা ভুল মহিলা বাছাই করেছে। আমার স্ত্রী যেমন সুন্দরী হওয়া দরকার ছিল তেমনটা হয়নি। মনে রাখতে হবে, আল্লাহ তাআলা যা নির্ধারণ করে রেখেছেন, তার বাইরে কিছু হয় না। যার ভাগ্যে আল্লাহ যেটা লিখে রেখেছেন, সেটা নিয়েই সন্তুষ্ট থাকা উচিত। দুনিয়ার অসুন্দর স্ত্রী জান্নাতে হুর থেকেও বেশি সুন্দর হয়ে যাবে।
[প্রশান্ত অন্তর : ২২৫]
