uk
Feedback
আকাবির-কথন

আকাবির-কথন

Відкрити в Telegram

Показати більше
Країна не вказанаКатегорія не вказана
1 221
Підписники
+324 години
+297 днів
+4230 днів
Архів дописів
প্রতিবারের মতো আমাদের জীবন থেকে এবারও একটি রমাদান বিদায় নিল। আফসোস, আমরা অনেকেই হয়তো এবারও বলতে বাধ্য হব— . — নামাজটা ঠিকভাবে ধরা হলো না। — কুরআনটা শুদ্ধভাবে পড়া শেখা হলো না। — চোখের হেফাজত আর জবানের লাগামটা টেনে ধরা গেল না। — তওবা করে নতুন করে জীবনটা শুরুর যে সংকল্প ছিল, তা আর বাস্তবায়ন হলো না। . রমাদান শেষ মানেই কিন্তু সুযোগ শেষ হয়ে যাওয়া নয়। আমলের যে অভ্যাসটা এই এক মাসে গড়ে তোলার চেষ্টা করেছিলেন, তা যেন ঈদের খুশি আর উৎসবের ভিড়ে হারিয়ে না যায়। . আল্লাহ আমাদের বাকিটা বছরও ইবাদতের ওপর অবিচল থাকার তাওফিক দিন। © মহিউদ্দিন রূপম

photo content

আল্লাহর কোন একজন প্রিয় বান্দা সম্পর্কে শুনেছিলাম, মৃত্যুর কিছুক্ষন আগে তিনি খুব কষ্ট করে কুরআন তিলাওয়াত করছিলেন। একজন জিজ্ঞেস করলো, আপনার এত কষ্ট হচ্ছে, এ সময়টা একটু চুপ করে থাকলেও তো পারেন। তিনি জবাব দিলেন, সম্ভবত আর কিছুক্ষন পরই আমার আমলনামা বন্ধ হয়ে যাবে। এই সময়টুকুতে যদি একটা হরফও পড়তে পারি, অন্তত দশটা সাওয়াব আমার আমলনামাতে যোগ হবে... রাসুলের প্রিয় সাহাবি সালমান আল-ফারসি (রা) এর কাহিনী শুনেছিলাম, মৃত্যুর আগে যিনি তার অঢেল (?) দুনিয়াবি সম্পদের জন্য কাঁদছিলেন। রাসুলের সাথে ওয়াদা করেছিলেন, দুনিয়া কামাবেন না। কিন্তু এত সম্পদ আজ তার কাছে! অথচ মৃত্যুর পর দেখা গেল তার মালিকানায় একটি পাত্র, একটি থালা ও পানি রাখার কলস ছাড়া আর কিছুই ছিল না। এটাই তার কাছে বেশি মনে হচ্ছিল। -------- যে ব্যক্তির মনে এ কথা একবার ঢুকে যাবে, এ দুনিয়া তার বাড়ি নয়, জীবনটা তার এমনিতেই সাদাসিদে হয়ে যাবে। কোন কিছুর প্রতি খুব বেশি আকর্ষন থাকবে না, কিছু না পেলে তেমন কোন আফসোসও হবে না। যে জানবে, কবরে তাকে একাই থাকতে হবে। জবাবদিহিতার মুখে সে একাই পড়বে। কেউ এসে তাকে সাহস দিয়ে যাবে না। অভয় দেয়ার মত থাকবে না কেউ - দুনিয়ার জীবনে কে দূরে সরে গেল, কেই বা কাছে এলো, এসব নিয়ে তার খুব একটা মাথা ব্যাথা হবে না। আপন পর হবে, পর আপন হবে, পৃথিবীর এ স্বাভাবিক নীতিতে সে অভ্যস্ত হয়ে যাবে সহজেই। যে বিশ্বাস করবে, কিয়ামতের ভয়াবহ দিনে তাকে তার আমল নিয়ে প্রশ্ন করা হবে, কতটুকু নিখুঁত ছিল সেগুলো, দেখা হবে তা - অপরের দোষত্রুটি নিয়ে পড়ে থাকার সময় হবে না তার। নিজের উন্নতির ফিকির তার সবচেয়ে বেশি হবে, অপরের ভুলের তুলনায় নিজের দূর্বলতাগুলোই তার চোখে পড়বে বেশি। "বুদ্ধিমান হল ঐ ব্যক্তি যে নিজের হিসাব নিজে করে আর মৃত্যু পরবর্তী জীবনের জন্য কাজ করে। আর অক্ষম হল ঐ ব্যক্তি যে নিজের প্রবৃত্তির অনুসরণ করে ও আল্লাহর ব্যাপারে অনেক ধরনের আশা আকাংখা পোষণ করতে থাকে।" - সুনান তিরমিজী © Rizwanul Kabir

photo content

photo content

photo content

সালাফে সালিহীন তথা পুণ্যাত্মা পূর্বসূরিগণ নিজেদের প্রতিটি মিনিট কাজে লাগাতে সচেষ্ট থাকতেন। আমির ইবনে কায়স রহ. সম্পর্কে বর্ণিত আছে, জনৈক ব্যক্তি তাকে বলেছিল, আমার সাথে কিছুক্ষণ কথা বলুন। উত্তরে তিনি বলেছিলেন, 'সূর্যকে থামিয়ে দিতে পারলে তোমার সাথে কথা বলতে পারি।' (অর্থাৎ সূর্য আর সময় অনবরত চলছে। তাহলে কথা বলে কীভাবে সময় নষ্ট করতে পারি?) সাবিত বুনানী রহ.-এর ছেলে বলেন, আব্বাজানের ইন্তেকালের সময় আমি তালকীন করছিলাম। তখন তিনি বললেন, 'বেটা, আমাকে ছেড়ে দিয়ে এ সময়টা নিজের কাজে ব্যস্ত থাকো।' অনেক বুজুর্গকে লোকেরা মৃত্যুযন্ত্রণার সময়ও নামাজ পড়তে দেখে বিস্ময় প্রকাশ করত। তখন তারা বলতেন, এখন তো আমার আমলনামা বন্ধ হয়ে যাবে। (তাহলে নেকী বৃদ্ধি করব না কেন?) প্রকৃত বাস্তবতা হচ্ছে কারও যখন এটা বিশ্বাস হয়ে যাবে যে, মৃত্যুর মাধ্যমে তার আমল বন্ধ হয়ে যাবে, তখন সে অবশ্যই এমন কাজ করবে, যার সওয়াব মৃত্যুর পরও জারি থাকে। অনেক মুজাহাদা থাকার পরও সে এমনটা করবে। দুনিয়াতে মানুষের কাজে লাগে কোনো সুবিধাজনক সম্পদ থাকলে সেটা আল্লাহর রাস্তায় ওয়াকফ করে দেয়া যায়। মানুষের উপকারার্থে রাস্তার পাশে গাছ লাগানো এবং খাল খনন করা যেতে পারে। বাবার মৃত্যুর পর আল্লাহর স্মরণ করবে এমন সন্তান কামনা করে দুআ করা। তাহলে বাবা কবরে শুয়ে শুয়েও সওয়াব পাবেন। আলেম হলে দ্বীনী কিতাবাদি রচনার চেষ্টা করা। কেননা দ্বীনী কিতাবে আলেমের অবদান সন্তানের প্রতি বাবার অবদানের মতো। আর সাধারণ মানুষ হলে সওয়াবের কাজ শিখে শিখে আমল করার চেষ্টায় লেগে থাকা উচিত। বস্তুত এমন লোকেরা মৃত্যুর পরও অমর হয়ে থাকে। [প্রশান্ত অন্তর : ১৪৩]

একবার উমর ইবনুল খাত্তাব রাযি. তাঁর একজন গভর্নরের কাছে চিঠি লিখলেন। চিঠির শেষে তিনি উল্লেখ করলেন : বিপদে পতিত হওয়ার আগেই তুমি সুখে থাকতে থাকতে নিজের নফসের হিসাব নাও। কেননা যে ব্যক্তি বিপদে পতিত হওয়ার আগেই স্বাভাবিক অবস্থায় নিজের নফসের হিসাব নেয়, সে ঈর্ষণীয় স্থানে উপনীত হয়। আর যে ব্যক্তি নিজের জীবনকে খেল-তামাশায় কাটিয়ে দেয়, অসতর্ক ও গাফেল থাকে, কুপ্রবৃত্তির অনুসরণ করে নিজের জীবনকে পরিচালিত করে, পরিণামে সে ভীষণ লজ্জিত হয়। তাই তুমি উপদেশদাতার উপদেশ গ্রহণ করো। নিষেধ করলে নিষিদ্ধ কাজ থেকে বিরত থাকো। আর উপদেশের সময় তুমি হও সবচেয়ে সমঝদার ও অনুধাবনকারী ব্যক্তি। কেননা উপদেশের বাণীর প্রতি শ্রোতার চেয়ে বক্তার নিজে অধিক মুখাপেক্ষী হওয়া উচিত। [আত্মবিচার : ৩৮]

দুনিয়া আসলে একটি মুসাফিরখানা। সুতরাং মানুষদের এখানে এর স্বাদ-আনন্দ উপভোগের জন্য প্রতিযোগিতায় নামা উচিত নয়। সময়গুলো এর পেছনে ব্যয় করাও বুদ্ধিমানের কাজও নয়। এখানে মোটামুটি কাজ চলে যাওয়ার মতো হলেই যথেষ্ট—গভীর অনুসন্ধানের কোনো প্রয়োজন নেই। -ইবনুল জাওযি রহ. [হৃদয়ের দিনলিপি : ৩৩৪]

ইবনুল কাইয়িম রহ. বলেন, যে আল্লাহর যথাযথ পরিচয় লাভে ধন্য হয়েছে— - তার জীবন হবে নির্মলতা ও আত্মিক প্রশান্তিতে আচ্ছাদিত এবং পবিত্রতার চাদরে আবৃত। - তার একটি ব্যক্তিত্ব অর্জিত হবে এবং তার অন্তর থেকে সৃষ্টিকুলের ভয় দূর হয়ে যাবে। - রবের সাথে তার সম্পর্কে উন্নতি হবে, অপরদিকে মানুষের সাথে সম্পর্ক ক্রমশ হ্রাস পাবে। আপন প্রতিপালকের সামনেই সে শুধু লজ্জিত হবে এবং তাঁকেই বড় জ্ঞান করবে এবং সর্বদা অন্তরে জাগরূক রাখবে তাঁরই ধ্যান-খেয়াল। বস্তুত, সে আল্লাহকেই সত্যিকারার্থে ভালোবাসবে, তাঁর দিকেই প্রত্যাবর্তন করবে এবং তাঁকে নিয়েই সন্তুষ্ট থাকবে। সব বিষয় তাঁর সন্তুষ্টির ওপর ন্যস্ত করবে। [কীভাবে আল্লাহর প্রিয় হবো? : ১৩০]

আল্লাহ তাআলার পরিচয় লাভের উপায় হলো, তাফসীরসহ কুরআন পড়া। ব্যাখ্যাসহকারে আসমাউল হুসনা পড়া। আপনি কি দৈনিক একটা সময় নির্ধারণ করেছেন, যে সময়টাতে আপনার প্রতিপালকের নামগুলো থেকে কমপক্ষে একটি নামের যিকির করবেন, এ নাম নিয়ে চিন্তা-ফিকির করবেন? এ কথাও কি মেনে নেওয়া যায় যে, একজন মানুষ তার প্রতিপালকের ইবাদত করবে, অথচ সে তার প্রতিপালকের পরিচয়, বড়ত্ব-মহত্ত্ব সম্পর্কে জানে না। সে কিছুই জানে না তার রবের নামসমূহ ও গুণাবলি সম্পর্কেও। বান্দা যদি তার প্রতিপালক সম্পর্কে কিছু নাই জানে, তাহলে কীভাবে তার অন্তরে আপন প্রতিপালকের ভালোবাসা স্থান করে নেবে? কীভাবে প্রতিপালকের সম্মান ও ভয়, ভরসা ও বিশ্বাস, একনিষ্ঠতা ও সত্যতা নিজের অন্তরে ঠাঁই করে নেবে? যদি আপন রবের সম্পর্কে নাই বা জানে, তবে কী করে তার মনে রবের সাক্ষাতের আগ্রহ সৃষ্টি হবে? [পরকালের প্রস্তুতি : ৩১]

হযরত মাওলানা আশরাফ আলী থানভী রহমাতুল্লাহি আলাইহি বহু কিতাব রচনা করে গিয়েছেন। এক হাজারের মতো রচনা, কোনোটার কপিরাইট নাই। ঢাকা শহরে আলেমদের মধ্যে তিনজন ব্যক্তি সবচেয়ে বেশী সুপরিচিত। তারা হলেন : ১। হাফেয মাওলানা মুহাম্মাদুল্লাহ রহ. (হাফেজ্জী হুযুর) ২। মাওলানা আব্দুল ওয়াহহাব রহ. (পীরজী হুযুর) ৩। মাওলানা শামসুল হক ফরিদপুরী রহ (সদর সাহেব হুযুর) তিনজনই থানভী বাগানের ফুল। এক বোঁটায় তিন ফুল। একসঙ্গে এসেছেন থানাভবন থেকে। হযরত মাওলানা শাহ আবরারুল হক সাহেব রহমাতুল্লাহি আলাইহি (হরদুই হযরত) এই বাগানের ফুল। হযরত মাওলানা মুহাম্মাদ শফি রহমাতুল্লাহি আলাইহি এই বাগানের ফুল। হযরত মাওলানা আতাহার আলী রহমাতুল্লাহি আলাইহি বহুত বড় আল্লাহর অলী ছিলেন। তিনিও থানভী রহমাতুল্লাহি আলাইহির খলীফা। হাকীমুল উম্মত রহমাতুল্লাহি আলাইহির অনেকগুলো কিতাবের বাংলায় তরজমা হয়ে গেছে। এই অনুবাদগুলোর পেছনে তার শাগরেদদের বিরাট অবদান। এই কিতাবগুলো আমাদের সংগ্রহে থাকা উচিত। [প্রফেসর হযরতের মালফুযাত : ৯৬-৯৭]

photo content

photo content

বোনেরা এগুলোসহ মুসলিম নারীদের বীরত্বগাথা নিয়ে লেখা দুইটা বইও রাহনুমার ৬০% ছাড়ের অফারে নিতে পারেন।
বোনেরা এগুলোসহ মুসলিম নারীদের বীরত্বগাথা নিয়ে লেখা দুইটা বইও রাহনুমার ৬০% ছাড়ের অফারে নিতে পারেন।

উস্তাদে মুহতারামের ইন্তেকালের ছয় বছর হয়ে গেল! সময় থাকতে আমরা কারোরই কদর করতে পারি না, পারিওনি।
উস্তাদে মুহতারামের ইন্তেকালের ছয় বছর হয়ে গেল! সময় থাকতে আমরা কারোরই কদর করতে পারি না, পারিওনি।

photo content

photo content

photo content