uk
Feedback
আকাবির-কথন

আকাবির-কথন

Відкрити в Telegram

Показати більше
Країна не вказанаКатегорія не вказана
1 194
Підписники
+224 години
+77 днів
+2930 днів
Архів дописів
photo content
+8

ইসলাম কোনো গোষ্ঠীগত বা বংশীয় উত্তরাধিকার নয় যে, মুসলিম ঘরে জন্মগ্রহণ করলেই সে এমনিতেই মুসলমান হয়ে যাবে এবং মুসলমান হওয়ার জন্য তার কোনো কিছু করা লাগবে না। যেমন : শেখ বা সাইয়েদ বংশে জন্মগ্রহণ করলেই সন্তান এমনিতেই শেখ বা সাইয়েদ হয়ে যায়। শেখ বা সাইয়েদ হওয়ার জন্য তাকে কোনো কিছু করতে হয় না। কিন্তু ইসলাম এমন একটি ধর্মের নাম, এমন একটি জীবনবিধানের নাম, যা আল্লাহর নবী হযরত মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মহান আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে নিয়ে এসেছিলেন, যা কুরআনে কারীমে ও রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাদীসে বর্ণিত হয়েছে। অতএব, যে এই দ্বীন মেনে নিবে এবং সে অনুযায়ী নিজের জীবন পরিচালনা করবে, সে-ই মূলত মুসলমান। যারা এই দ্বীন সম্পর্কে ধারণা রাখে না এবং সে অনুযায়ী জীবন গঠন করে না, সে খাঁটি মুসলমান নয়। সুতরাং বুঝা গেল যে, খাঁটি মুসলমান হতে হলে দুটো বিষয় অত্যন্ত জরুরী— ১. আমরা দ্বীন ইসলাম সম্পর্কে জানবো, কমপক্ষে প্রয়োজনীয় মৌলিক বিষয়াবলীর জ্ঞান অর্জন করব। ২. এই দ্বীনকে আমরা মানব এবং সে অনুযায়ী জীবন পরিচালনার সিদ্ধান্ত নেব। —এরই নাম ইসলাম এবং মুসলমান হওয়ার অর্থই হলো এটা। [ইসলাম কী ও কেন? : ১৭; (প্রকাশনী থেকে দেওয়া বইয়ের নাম 'ইসলাম কি ও কেন?', পোস্টে কিছু শব্দের বানান এডিট করা হয়েছে)]

আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবীরা তাঁদের নবীর জীবনকে এত গভীরভাবে উপলব্ধি ও প্রত্যক্ষ করেছেন এবং নির্ভরযোগ্য সূত্রে আমাদের পর্যন্ত পৌঁছে দিয়েছেন যে, এর সাহায্যে আমরা আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যিন্দেগীর প্রতিটি মুহূর্তেরও তালিকা বানাতে পারব। হেরা গুহায় হযরত জিবরাঈল আলাইহিস সালাম-এর সাথে তাঁর কতক্ষণ কথা হয়েছিল এবং কী বিষয়ে কথা হয়েছিল? হেরা গুহার কোন স্থানে পা রেখে তিনি পাহাড় থেকে অবতরণ করেছিলেন? কোন পথে মক্কায় প্রবেশ করেছেন? ঘরে পৌঁছে হযরত খাদীজা রাযি.-এর সাথে তার কী কী কথা হয়েছিল? কতক্ষণ চাদর জড়িয়ে বিশ্রাম করেছিলেন? কোন রাস্তা দিয়ে ওয়ারাক্বা ইবনে নওফালের কাছে গিয়েছিলেন? সেখানে কতক্ষণ দেরি করেছিলেন এবং তার সাথে কী কী কথা বলেছিলেন? এভাবে ইন্তিকাল পর্যন্ত তার যিন্দেগীর প্রতিটি মুহূর্তের চার্ট তৈরি করা সম্ভব। -ইসহাক মূসা [বিশ্বনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, মাওলানা খালেদ সাইফুল্লাহ রহমানী হাফি.]

কীভাবে তাকওয়া অর্জন করা যায়? 'তাকওয়া' অর্থাৎ খোদাভীতি ও পরকাল চিন্তা অর্জন করার সবচেয়ে উত্তম ও কার্যকরী মাধ্যম হলো, আল্লাহ তাআলার নেক বান্দা ও সৎকর্মশীল কোনো আল্লাহওয়ালার সাহচর্য গ্রহণ করা। যিনি আল্লাহকে ভয় করেন, আর তার বিধি-বিধান মেনে চলেন। দ্বিতীয় মাধ্যম হলো, ভালো ভালো নির্ভরযোগ্য ধর্মীয় গ্রন্থাবলী পাঠ করা আর শোনা। তৃতীয় মাধ্যম হলো, নির্জনে বসে বসে নিজের মৃত্যুর কথা কল্পনা করা। মৃত্যুর পর মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে সৎকাজের পুরস্কার ও অসৎকাজের শাস্তির ধ্যান করা। নিজের জীবনের অবস্থা নিয়ে চিন্তা করবে, চিন্তা করবে যে কবরে আমার কী অবস্থা হবে? কিয়ামতের দিন যখন সব বান্দাকে পুনরোত্থিত করা হবে, তখন আমার কী অবস্থা হবে? যখন আমি আমার রবের সামনা-সামনি হবো আর আমার কৃতকর্মের দাস্তান আমার সামনে খুলে ধরা হবে, তখন আমি কী জবাব দেব? তখন কোথায় আমার মুখ লুকাবো? যে ব্যক্তি এসব পন্থা অবলম্বন করবে, ইনশাআল্লাহ সে অবশ্যই তাকওয়া অর্জন করে ধন্য হবে। [ইসলাম কি ও কেন? : ৬৩]

আদব মানে হলো আল্লাহ তাআলাকে সন্তুষ্ট করার জন্য অন্যদের সঙ্গে এমন আচরণ করা, যেন আমরা উপলব্ধি করি যে প্রতিটি কাজ ও কথার ওপর আল্লাহ তাআলার দৃষ্টি রয়েছে। আদব ছাড়া আমাদের দ্বীনের চর্চা অসম্পূর্ণ থেকে যায়। -শায়খ হুসাইন আবদুস সাত্তার [বই : অন্তরযাত্রা; প্রকাশিতব্য]

জীবন একটি পরীক্ষা। এখানে আল্লাহ পরীক্ষক, কুরআন ও সুন্নাহ হচ্ছে মূল্যায়নের মানদণ্ড, আর পূর্ববর্তী নেককারদের জীবন হলো সেই 'পুরোনো প্রশ্নপত্র', যেগুলো দেখে আমরা সঠিক উত্তরের ধারণা নিতে পারি। সুতরাং সামনে কী করব এই পরিকল্পনার পাশাপাশি পেছনে কোথায় ভুল করেছি সেটাও বোঝা জরুরি। তবেই শুদ্ধির পথে অগ্রসর হওয়া সম্ভব। [বই : ঝরে যাওয়ার আগে]

আবদুল্লাহ ইবনে মুবারক রাহিমাহুল্লাহ বলেছেন : 'আমি ৩০ বছর আদব শিখেছি এবং ২০ বছর জ্ঞান অর্জন করেছি।' আদবের প্রতি তাঁর এই অসাধারণ গুরুত্ব চিরস্মরণীয়। ধর্মীয় জ্ঞান অর্জন অত্যন্ত উপকারী; এ জন্য তিনি ২০ বছর সময় ব্যয় করেছেন। তবে আদব ছাড়া প্রকৃত জ্ঞান পরিপূর্ণ হয় না। তাই তিনি ৩০ বছর আদব শেখার জন্য সময় দিয়েছেন। তাঁর আরও একটি উক্তি হলো : 'আমাদের প্রচুর জ্ঞান অর্জনের তুলনায় সামান্য আখলাক শেখা অধিক প্রয়োজন।' [বই : অন্তরযাত্রা]

ইমাম আবু তায়্যিব আত-তাবারি রহ.। শতবর্ষ অতিক্রম করেও তাঁর দেহ, মন ও অনুভূতি অক্ষত ছিল। একবার তিনি এক সঙ্গীর সঙ্গে সমুদ্রযাত্রায় বের হন। পথে প্রচণ্ড ঝড়ে জাহাজ ডুবে যায়। সকলে আহত, ক্লান্ত ও অচেতন অবস্থায় জেগে উঠলেও আবু তায়্যিব আত তাবারি রহ. একমাত্র ব্যক্তি, যিনি সম্পূর্ণ অক্ষত ছিলেন এবং তরুণের মতো চলাফেরা করছিলেন। সবাই বিস্ময়ে জিজ্ঞেস করল, ‘আপনার এ শক্তি, এই সজীবতা কীভাবে রক্ষা পেল?’ তিনি শান্তভাবে উত্তর দিলেন, ‘এই অঙ্গ-প্রত্যঙ্গগুলো আমি আমার যৌবনে গুনাহ থেকে রক্ষা করেছিলাম, আর এখন বৃদ্ধ বয়সে আল্লাহ তা রক্ষা করছেন।’

photo content

photo content

photo content

অনেক ছাত্র-ছাত্রী আছে, যারা আন্তরিকভাবে অনলাইনে জ্ঞানার্জনের চেষ্টা করে। তারা ইউটিউব, ফেসবুক, টেলিগ্রাম কিংবা বিভিন্ন ওয়েবসাইটের মাধ্যমে পড়াশোনা করে, তথ্য সংগ্রহ করে, নিজেকে তৈরি করে। কিন্তু কী ঘটে বাস্তবে? এত এত উৎস, এত এত বিষয়! সে নিজেই আর বুঝতে পারে না কোনটা আগে পড়বে, কোনটা সত্যি দরকার। মেধা হয়ে যায় বিপর্যস্ত, মন হয়ে যায় বিক্ষিপ্ত। তারপর শুরু হয় অস্থিরতা, হতাশা, দুশ্চিন্তা। এর ফল হলো, আজ নয় কাল পড়ি। কাল এলে বলে, আজ অন্য কিছু আগে করি। এরপর হয়তো আর কিছুই শেষ করা হয় না। এভাবে চলতে থাকে এক চক্রাকার বিভ্রান্তি। যেখানে গভীর জ্ঞান জন্ম নেয় না, শুধু জমা হয় তথ্যের স্তূপ! তথ্য, কিন্তু উপলব্ধি নয়। জানাশোনা, কিন্তু জ্ঞান নয়। এই কারণেই আজ দরকার তথ্যসংযম। দরকার চিন্তা ও গ্রহণে সচেতনতা। নাহলে ভূরিভূরি তথ্যের পাহাড়ে চাপা পড়ে যাবে আমাদের মস্তিষ্ক, মন আর হৃদয়। কিন্তু আমরা বুঝতেই পারব না, আমরা আসলে কিছুই অর্জন করিনি। [ডোপামিন : ১১১]

একবার ইমাম আহমদ ইবনু হাম্বল রহ. এক অসুস্থ ব্যক্তিকে দেখতে গিয়েছিলেন। তিনি তাকে জিজ্ঞেস করলেন, তোমাকে কি কোনো চিকিৎসক দেখেছেন? অসুস্থ ব্যক্তি বলল, হ্যাঁ, আমি অমুক চিকিৎসকের কাছে গিয়েছিলাম। ইমাম আহমদ বললেন, তুমি অমুক চিকিৎসকের কাছে যাও, তিনি আগেরজনের চেয়ে বেশি দক্ষ। কথাটি বলার পরই তিনি থমকে গেলেন এবং বললেন, আস্তাগফিরুল্লাহ! মনে হচ্ছে, আমি প্রথম চিকিৎসকের দোষ তুলে ধরেছি, যা গিবতের মতো হয়ে গেছে। আস্তাগফিরুল্লাহ! আস্তাগফিরুল্লাহ! [মাউসুআ আদ-দীন আন-নাসীহা: ৫/৪৪] #খুতুবাত

https://www.facebook.com/share/p/1BeWVXgigU/ আল্লাহ এই ভাইটিকে সুস্থ করে দিন। আপনারা যে যেভাবে পারেন, হেল্প করে পাশে থাকতে পারেন।

পারতপক্ষে মানুষের থেকে কখনো কিছু নেওয়া উচিত না। সেটা হাদিয়া/গিফট হতে পারে, সাহায্য হতে পারে; কিংবা অন্যকিছু। যতদূর সম্ভব এটা এড়িয়ে চলা ভাল। ভবিষ্যতে নিজে নিরাপদে থাকা যায়। তারপরেও সমাজবদ্ধ হয়ে থাকার কারণে নানান প্রয়োজনেই আমাদেরকে আসলে অন্যের কাছে যেতে হয়। অন্যের সাহায্য/জিনিস নিতে হয়। এটা শতভাগ এড়ানো কারো পক্ষেই সম্ভব নয়। তবে এক্ষেত্রে আল্লাহর কাছে দুআ করা উচিত, যেন ছোটলোকি মন-মানসিকতার মানুষ থেকে তিনি দূরে রাখেন। এটা আমার কথা নয়, একটা লেখাতে এমনই এক ঘটনা পড়লাম। এক ব্যক্তি ইবনে আব্বাস রা.-কে বললেন, 'আল্লাহর কাছে দুআ করুন, যেন তিনি আমাকে মানুষের মুখাপেক্ষিতা থেকে মুক্ত করে দেন।' তখন ইবনে আব্বাস রা. বললেন, 'কোনো মানুষই অন্য মানুষের প্রয়োজন থেকে পুরোপুরি অমুখাপেক্ষী হতে পারে না। বরং আল্লাহর কাছে দুআ করো, যেন তিনি তোমাকে নীচ ও হীন চরিত্রের মানুষের মুখাপেক্ষিতা থেকে মুক্ত রাখেন।' (আন-নাওয়াদির ওয়াত-তুহাফ, পৃ. ৩২৮) © আবদুল্লাহ আল মাসউদ ভাই

ডায়েরিতে লেখা সেই কবে হারিয়ে গেছে। ইদানীং কলম-খাতাও চোখে দেখি না।
ডায়েরিতে লেখা সেই কবে হারিয়ে গেছে। ইদানীং কলম-খাতাও চোখে দেখি না।

photo content

প্রয়োজন পরিমাণে ইলম ও আমলই ওলী হওয়ার জন্য যথেষ্ট একবার দেওবন্দে একজন লোক হযরত থানবী (রহ.)-কে প্রশ্ন করল, আপনারা (আপনারা বলে তার উদ্দেশ্য ছিল, হযরত গাঙ্গুহী (রহ.), হযরত নানুতবী (রহ.)-সহ সকল আকাবীরে দেওবন্দ) বহুত বড় আলেম এবং ফাযেল। আর আপনারা সকলে গিয়ে হযরত হাজী ইমদাদুল্লাহ সাহেব (রহ.)-এর কাছে মুরীদ হয়েছেন। আমার এটা বুঝে আসে না যে, সেখানে এমন কী বস্তু ছিল, যার কারণে আপনাদের মতো বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ গিয়ে তার শিষ্যত্ব গ্রহণ করলেন। হযরত থানবী (রহ.) এর জবাবে বললেন : হাঁ, আমাদের দৃষ্টান্ত হলো এ রকম, যেমন কোনো ব্যক্তির সকল প্রকার মিষ্টির নাম এবং তালিকা ভালোভাবে মুখস্থ আছে কিন্তু সে তার একটাও খেয়ে দেখেনি। পক্ষান্তরে অপর এক ব্যক্তি এমন আছেন, যিনি সব ধরনের মিষ্টি খেয়েছেন, কিন্তু কোনো প্রকার মিষ্টির নাম তার মুখস্থ নেই। এখন যে ব্যক্তি মিষ্টি খেতে পারছেন, তার তো এমন প্রয়োজন নেই যে, সে সেই মিষ্টির নাম মুখস্থ করার জন্য অন্য কারো কাছে যাবে। কিন্তু যার শুধু নাম আর শব্দ মুখস্থ আছে, সে ঐ মিষ্টির স্বাদ গ্রহণকারী ব্যক্তির কাছে মুখাপেক্ষী, যাতে সে তার সংস্পর্শে থেকে মিষ্টি খেতে এবং তার স্বাদ গ্রহণ করতে পারে। [মাজালিসে হাকীমুল উম্মত : ২৭৯]

আমরা নিজেরা যদি বইপত্র পড়ে জ্ঞানার্জনে ব্রতী হই, কিন্তু পরিবারের সদস্যদের বই পড়ার অভ্যাস না গড়ি, তাহলে পরিবার হবে ৫ টনের ট্রাকের মতো। এমন ট্রাক, যার এক চাকা সাইকেলের, একটা রিকশার, একটা মোটর সাইকেলের, আরেকটা ট্রাক্টরের। স্বাভাবিকভাবেই এই গাড়ি সামগ্রিকভাবে তেমন আগাতে পারবে না। তাই পরিবারের প্রতিটি সদস্যকে বইপাঠে অভ্যস্ত করুন। একে একটা গুরুত্বপূর্ণ মিশন হিসাবে নিন। ছোট ছোট বই দিয়ে অভ্যস্ত করার চেষ্টা করুন। The Reading Nation

হেদায়েত পাওয়ার পর সেই নেক পথে অটল ও অবিচল থাকতে দুইটি জিনিসের গুরুত্ব খুব বেশি। এক. সঠিক ইলম। দুই. নেক সোহবত। - শাইখুল হাদীস ইউনুস জনপুরি রহ: