আকাবির-কথন
前往频道在 Telegram
显示更多
未指定国家未指定类别
1 099
订阅者
无数据24 小时
+237 天
+2630 天
帖子存档
1 099
নিজেকে বদলে ফেলো সিরিজ। ৬০% ছাড়ে!
বইগুলো সম্পর্কে আমরা শুধু এতটুকুই বলতে চাই যে, এ বইগুলো সংগ্রহ করতে ও পড়তে আপনার যে অর্থ ও সময় ব্যয় হবে ইনশাআল্লাহ তা হবে আপনার জীবনের একটি সেরা ইনভেস্টমেন্ট।
এ সিরিজের ধারাবাহিকতায় রয়েছে ৫টি বই :
১। বদলে ফেলুন নিজেকে
২। আপনি নন অভ্যাসের দাস
৩। আমার একটি স্বপ্ন আছে
৪। প্রকাশ করুন আপনার পরিমার্জিত সংস্করণ
৫। হতাশা শব্দটি আপনার জন্য নয়
বইগুলো কয়েক কালারে মুদ্রিত। আকর্ষণীয় বক্স।
চারদিকে এখন শুধু খেলা আর খেলার আলোচনা। তবে এই উন্মাদনায় যারা 'উন্মাদ' হবেন না, পুরো বিশ্বকাপে একটি ম্যাচও দেখবেন না—এই অফার শুধুমাত্র তাদের জন্য!
©
1 099
তাওবা না করা এবং সে জন্য ক্ষমা না পাওয়ার একটি প্রতারণামূলক চিন্তা হলো—কৃত গোনাহের বিপরীতে কোনো শাস্তির ভাবনা মনের মধ্যে না রাখা। কিন্তু বিষয়টি তো এমন নয়। যেমন ইবনুল জালা তার নিজের ঘটনা বর্ণনা করে বলেন, আমি একদিন বাইরে দাঁড়িয়ে এক খ্রিষ্টান বালকের দিকে গভীরভাবে তাকিয়ে ছিলাম। এ সময় আমার শাইখ আমাকে এ অবস্থায় দেখে বললেন, এ কী করছ? অবশ্যই তুমি এর প্রতিফল দেখতে পাবে—দেরিতে হলেও।
এবং ঠিক তা-ই হলো, এর চল্লিশ বছর পর আমি কোরআন ভুলে গেলাম—যা আমার সম্পূর্ণ মুখস্থ ছিল।
জেনে রেখো, সবচেয়ে বড় ক্ষতি হলো, গোনাহের পরও নিরাপদ ও নির্ভাবনায় অবস্থান করা। কারণ, এখানে শাস্তি আসে বিলম্বে এবং ভয়াবহভাবে।
আর সবচেয়ে বড় শাস্তি হলো, মানুষ এ ব্যাপারে সচেতন না থাকা। হয়তো তার দ্বীন ছিনিয়ে নেওয়া হয়। তার অন্তর কালো হয়ে যায়। নিজের জন্য সে খারাপ পথ অবলম্বন করে। অথচ বাহ্যিকভাবে তার শরীর সুস্থ থাকে। জাগতিক উদ্দেশ্যগুলো পূরণ হয়। সম্পদ-সচ্ছলতায় জীবন ভরে ওঠে। কিন্তু এটা তো তাকে ঢিল প্রদান করা হচ্ছে—এটা তো প্রবল ঝড় ও বর্ষণের আগে সাময়িক স্থিরতা।
এ বিষয়ে একজন সরাসরি ভুক্তভোগী বলেন, আমি একবার এমন দিকে দৃষ্টিপাত করেছিলাম, যা আমার জন্য জায়েয ছিল না। এরপর আমি এর শাস্তির জন্য ভয়ে ভয়ে দিন কাটাতে লাগলাম। এরপর হঠাৎ এক দীর্ঘ সফরের জন্য বের হলাম। সফরে ভীষণ কষ্টে আপতিত হলাম। সৃষ্টির মধ্যে আমার সবচেয়ে প্রিয় একজনের মৃত্যু হলো। আমার অনেক মূল্যবান জিনিস বিনষ্ট হয়ে গেল। আমি বুঝছিলাম- এর সবই আমার সেই কুদৃষ্টির ফল।
আমি প্রভুর দরবারে প্রবলভাবে তাওবা করতে লাগলাম। একসময় হয়তো মাফ করা হলো এবং অবস্থা ভালো হয়ে উঠল। কিন্তু এরপর আবারও আমি একই ধরনের গোনাহে লিপ্ত হলাম—চোখের গোনাহ। এবার আমার অন্তর কালো হয়ে গেল। চোখের আদ্রতা ও কোমলতা চলে গেল। প্রথম যা হয়েছিল, তার চেয়ে অধিক পরিমাণে আমার থেকে দ্বীন উঠিয়ে নেওয়া হলো। মুহূর্তের অপরাধের কারণে যা প্রাপ্ত হলাম—তা প্রাপ্ত না হওয়া কতই না ভালো ছিল!
এরপর যখন সেই অপরাধের আনন্দ ও তার পরিমাণ এবং তার পরিবর্তে শাস্তি ও তার পরিমাণ নিয়ে চিন্তা করলাম- আমার অন্তর আচমকা চাবুকের আঘাতে চিৎকার করে উঠল! এটা তুমি কেন করলে?
[হৃদয়ের দিনলিপি : ৩১৪-৩১৫]
1 099
একবার ইমাম আবু হানিফা রহ.-কে জিজ্ঞাসা করা হলো, আপনি এত ফিকহ মুখস্থ রাখেন কীভাবে?
জবাবে তিনি বলেন, নির্বিঘ্ন মনোযোগের মাধ্যমে।
[হৃদয়ের দিনলিপি : ৩১১]
1 099
এক গুলিতে পাঁচ তালাক
ইমাম আসমায়ী গল্প করছেন, খলীফা হারুনুর রশীদ রহ.-এর সাথে। আজকের গল্প এক রগচটা বদমেজাজি আরবের।
- আমীরাল মুমিনীন এই লোক একসাথে পাঁচ নারীকে তালাক দিয়েছিল।
-এ কী করে সম্ভব? শরীয়ত মতে একজন একসাথে চার বিবি রাখতে পারে।
- জি, তার চারবিবিই ছিল। লোকটা ছিল জালেম প্রকৃতির। রুক্ষ্ণ স্বভাবের। স্ত্রীদের পান থেকে চুন খসলেই আর রক্ষে ছিল না। সেদিনও কোত্থেকে রেগে বোম হয়ে ভর দুপুরে ঘরে ফিরে দেখল দুই বিবির ঘরদুয়ারে বসে আকাশ ফাটিয়ে ঝগড়া করছে। লোকটা রাগে ফেটে পড়ল,
-এই তোদের ঝগড়া থামাবি?
এক ঝগুড়নি রাগের মাথায় ঝামটা দিয়ে বলে উঠল,
-ঝগড়া করব না তো কী করব?
বদমেজাজি জামাই সাথে সাথে বলে উঠল,
-যা তুই তালাক।
এটা দেখে দ্বিতীয় ঝগুড়নি থাকতে না পেরে বলে উঠল,
-এ কেমন অনাসৃষ্টি কাণ্ড, দোষ করলে বলে কয়ে সংশোধনের রাস্তা আছে, তা না করে সরাসরি তালাক, এ কেমন বিচার? এতবড় জুলুম খোদা সইবে না গো।
-তোর বড্ড বাড় বেড়েছে দেখছি, যা তুইও তালাক।
স্বামীর এহেন পাশবিক আচরণ দেখে, তৃতীয় বিবি বলে উঠল,
-আল্লাহ তোমার মুখ ঝলসে দিক। এ দুইজন কত ভাল ছিল। ঝগড়া করলেও সবসময় তোমার সেবাযত্নে একপায়ে খাড়া ছিল। ঘরের কাজেও বেশ পটু ছিল। তোমার সুবিধা অসুবিধার দিকে চৌকান্না ছিল। এমন দুটি ভালো মানুষকে এককথায় তালাক? মাথায় আকাশ ভেঙে পড়বে গো।
ক্রোধে অগ্নিশর্মা হয়ে লোকটা বলল
-যা তুইও তাদের পথ ধর।
চতুর্থ বিবি এতক্ষণ ধৈর্য ধরে থাকলেও আর পারল না। রীতিমতো বিস্ফোরিত হয়ে বলল,
-জানোয়ারও এর চেয়ে ভাল। প্রকৃত পুরুষ কখনো অবলা নারীকে তালাক দিয়ে শাসন করে না। তালাক হল কাপুরুষের হাতিয়ার।
-কী বললি? পাখা বেশ পাখা গজিয়েছে না? যা তুইও বিদেয় হ।
পাশের বাড়িতে তুমুল হট্ট গণ্ডগোল দেখে, প্রতিবেশি মহিলা দেখতে এসেছিল। এমন সৃষ্টিছাড়া কাণ্ড দেখে মহিলা বলে উঠল
-আল্লাহর কসম! তোমার চেয়ে নিকৃষ্ট আর কোনও আরব আছে বলে আমার জানা নেই।
বদমেজাজি মূর্তিমান মিস্টার তালাক ক্রোধে দিশেহারা হয়ে গেল। প্রতিবেশিনীকে কিছু করতে না পেরে দাঁত কিড়মিড় করে বলে উঠল,
-তোর স্বামী যদি অনুমোদন করে, তাহলে যা তুই ও তালাক।
বেগানা পুরুষের সাথে তর্ক জুড়তে যাওয়াতে প্রতিবেশি স্বামীও স্ত্রীর প্রতি রেগে কাঁই হয়ে ছিল। মি. তালাকের কথা শোনার সাথে সাথে ঘরের ভেতর থেকেই বলে উঠল
-অনুমোদন, অনুমোদন!
© আতীক উল্লাহ
1 099
সম্ভবত কোনো ভাই লেখক ইস্যুতে কথা বলতে চাচ্ছেন। ভাই হলে আপনার নাম্বার আবার দেবেন। বিশেষ করে টেলিগ্রাম নাম্বার। এখানে একটা নাম্বার বেশি আছে।
1 099
বিয়ের পর উনিশটি বছর কেটে গেছে। সন্তান হয়নি। সংসার ভেঙে গেছে। সেই কবে থেকে মানুষটা আল্লাহর ঘর যেয়ারতের জন্য রীতিমতো মরিয়া হয়ে দোয়া করে যাচ্ছিলেন। আগের স্বামী হজে নিয়ে যাওয়ার আশ্বাসও দিয়েছিলেন। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে, এবছর আল্লাহর ঘরে যাওয়ার সৌভাগ্য হয়ে যেত। অচমকা অপ্রত্যাশিতভাবে বিবাহ বিচ্ছেদ হয়ে যাওয়ার কারণে, হজে যাওয়ার দ্বারপ্রান্তে এসেও আশাপূরণ হল না।
মানুষটা কিছুটা ভেঙে পড়লেও পুরোপুরি আশাহত হলেন না। আগের চেয়েও বেশি করে দোয়া করতে থাকলেন। এক আত্মীয়ের মাধ্যমে একটা সম্বন্ধ এল। পাত্র বয়স্ক। বিবি মারা গেছেন। আবার বিয়ে করতে চান। বিয়ের পর বিবিকে নিয়ে হজে যাবেন। এ যে আকাশের চাঁদ! বিয়ে হয়ে গেল। বায়তুল্লাহর যেয়ারতও হল। হজের সফরেই সন্তানসম্ভবা হলেন। উনিশ বছর পর রাব্বে কারীমের দয়া ফুলেফলে সুশোভিত হয়ে কোলে ধরা দিল।
© আতীক উল্লাহ
1 099
আমরা শৈশবে আমাদের অনেক শিক্ষককে দেখতাম যে, তারা দীর্ঘ সময় নফল নামায পড়তেন। তাদের নফল আদায় দেখে আমরা সাথীরা পরস্পরে আলোচনা করতাম যে, 'দেখো, এই উস্তায কত লম্বা-চওড়া নফল পড়ছেন। তার মতো আমরাও পড়ব।'
আমরা শিশুদেরকে ডিসিপ্লিন মেনে চলতে বলি। অথচ আমাদের নিজেদেরই দেখা দরকার যে, আমরা কি আমাদের জুতো সোজা করে রাখি। মনে রাখতে হবে, আমরা চব্বিশ ঘণ্টা আমাদের শিশুদের সামনে আছি। তারা আমাদের অজ্ঞাতসারে আমাদের থেকে অনেক কিছু শিখছে। কেউ আপনার থেকে কথা বলার ঢং শিখছে। কেউ আপনার মাথার টুপি চয়েস করছে। অথচ আপনি ভাবছেন যে, আরে, আমি তো তার শুধু সাইন্সের টিচার। আমি তো স্রেফ উসুলে ফিকহের উস্তায। আসলে কি তাই?
-তাদরীবুল মুআল্লিমীন : ২৬
