আকাবির-কথন
Відкрити в Telegram
Показати більше
Країна не вказанаКатегорія не вказана
1 099
Підписники
Немає даних24 години
+227 днів
+2630 день
Архів дописів
1 099
ছেলেটির বয়স ২৩ বা ২৪ বছর হবে৷ আজ থেকে দু বছর আগে থেকে তার সাথে পরিচয়। ছদ্মনাম দিলাম ফারহান। বাহ্যিকভাবে তাকে দেখতে দীনদার মনে হবে। নামাজ পড়ে নিয়মিত। গায়ে পাঞ্জাবিও দেখেছি বহুবার। পড়াশোনাসহ বেশকিছু বিষয়ে আমাদের কথা হতো৷রিচ ফ্যামিলির ছেলে। যতবার দেখা হয়েছে, সে ভালো কোনো কফিশপে বসার অনুরোধ করত। পোশাকআশাকেও রুচির প্রমাণ আছে।
তার মূল সমস্যা কয়েকটা ছিল। এর ভেতর মানসিক অস্থিরতা, কোনো কাজে স্থির হতে না পারা, ঘুমে সমস্যা এবং ভুলে যাওয়ার প্রবণতা ছিল বেশি। শুধু তাই নয়, শরীরের গ্রোথও বয়স ও খাওয়াদাওয়া সাথে বাড়ছে না। যাই হোক, আমি তার সাথে আলাপের ফাঁকে ফাঁকে সমস্যা জেনে গল্পের মতো করে সমাধানের কথাও বলতাম। সে খুব মনোযোগী শ্রোতা। তবে কেন যেন আমার মনে হতো, সে আমার নিকট কিছু লুকাচ্ছে। কিন্তু সে যখন নিজে থেকেই বলছে না, তাই আমিও প্রেশার দিইনি কখনো।
তাকে দু বছর আগেই আমি চারজন আল্লাহওয়ালার নাম ও ঠিকানা বলেছিলাম। এ চারজনের ভেতর দুজনই নিকটবর্তী। কিন্তু আমার সাথে যাওয়া ছাড়া মনে হয় না সে নিজে কখনো সেই মজলিশগুলোতে গেছে। জিজ্ঞেস করলে অবশ্য মিথ্যে না বলে সত্যিই বলত। বেশির ভাগই সময় ও সুযোগের বাহানা দিয়ে পাশ কেটে যেত।
এ শুক্রবার বিকেলে তার সাথে আবার বসা। এবারও নিজে থেকে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। আমি আমার এলাকার দিকে আসতে বললাম। আসার পর লক্ষ করলাম, চোখ ভেজা ভেজা। চেহারা মলিন। আমি জিজ্ঞেস করলাম, আজ আমার হাতে সময় কম। চলো, চা খাই। হেঁটে হেঁটে হাসনাবাদের প্রিয় চায়ের দোকানে এলাম। চা অর্ডার দিতে যাব, এমন সময় সে বলল, ভাইয়া, চা খাব না। এখনই কিছু কথা বলতে চাই।
আমি ভাবলাম, সিম্পল কিছু হবে হয়তো। কিন্তু না, হালকা শীতের সন্ধ্যায় সে যা বলল, তাতে আমার শরীরে ঘাম ছেড়ে দিল। তবে মূলকথা বলার আগে সে কিছু কথা আগে শেয়ার করল, যা এতদিন সে বলেনি। ফারহান বলা শুরু করল :
* আমি পর্ন এডিক্টেড হয়ে গেছি৷ দৈনিক নির্দিষ্ট একটা সময় পর্ন না দেখলে আমার অস্থির লাগে।
* আমি ওয়াশরুমে বসে মাস্টারবেটে অভ্যস্ত হয়ে গেছি। অন্য কথাও গেলে আমার হয় না। এমনও হয়েছে আমি পেটের অসুখের কথা বলে ওয়াশরুমে কয়েকবার গিয়েছি।
* আমি মিথ্যে বলেছি। আমার গার্লফ্রেন্ড আছে৷ আসলে তার থেকে আলাদা হওয়ার ভয়েই আমি বলিনি। কিন্তু আমি আরও বড় ভুল করে ফেলেছি।
এ জায়গায় এসে ফারহান আর উপরে তাকাল না। আমি আঁচ করতে পেরে বললাম, যা হওয়ার হয়ে গেছে৷ বলো,
ভাইয়া, আমি আমার গার্লফ্রেন্ডের সাথে দৈহিক সম্পর্কে জড়িয়ে গেছি। তবে আমি তার কাছে অপমানিত হয়েছি। আমি এবার বুঝতে পেরেছি, আমি আসলে অসুস্থ। ওখান থেকে ফেরার পর মাথায় এলো, নিজেকে শেষ করে দিই; কিন্তু ওসব করার আগে হঠাৎ মনে হলো, আমার পেছনে আপনার যথেষ্ট শ্রম আছে। শেষবারের মতো হলেও আপনাকে জানানো উচিত।
আমি বললাম, আমার ইমারজেন্সি এখন চা খেতে হবে। তুমি যতক্ষণ আছো, কোনো কথা বলবা না। তুমি আসলেই কাপুরুষ। তবে কাপুরুষের একেবারে শেষ স্তরে এখনো যাওনি। আমাকে সময় দেও। তোমার চা খেতে হবে না৷ এ সময়টা তুমি টানা দরুদ শরিফ পড়তে থাকো।
ফারহানকে যা বলার ও নির্দেশনা দেওয়ার, তা দিয়েছি। যেহেতু মেয়েটাকে বলার মতো সুযোগ আমার হাতে নেই, তাই মেয়ের কথাগুলোও তাকে বলেছি।
আজ থেকে অনেক আগে মুফতি দিলাওয়ার হুসাইন সাহেবের এক বয়ানে শুনেছিলাম, স্মরণশক্তি কমে যাওয়া এবং সময়ের বরকত না পাওয়ার কয়েকটা কারণের ভেতর এ দুটিও রয়েছে।
ক. উলঙ্গ অবস্থায় গোসল করা।
খ. গোসলের করার সময় প্রস্রাব করা। (এটা পুকুরের ক্ষেত্রে এবং গোসলখানা—উভয় জায়গাতেই প্রযোজ্য।)
তরুণদের বর্তমান সময়টি খুবই ভয়াবহ। কোনো আল্লাহওয়ালার সোহবত ছাড়া টিকে থাকার মতো পরিবেশ আমাদের নেই। দীনি কমিউনিটিতে যুক্ত থাকা, বড় কাউকে মেনে চলা, আল্লাহওয়ালাদের সঙ্গে তায়াল্লুক রাখা, দাওয়াত ও তাবলিগের সঙ্গে যুক্ত থাকা—এগুলোর সাথে জুড়ে থাকা নিজের জন্য আবশ্যক করা উচিত। কেবল বই পড়লে এ জাতীয় সমস্যা থেকে বাঁচার সুযোগ নেই। বইয়ের সাথে সাথে দাওয়াহ ও হাকিম—দুজনেরই সংস্পর্শ জরুরি।
রাশেদ মুহাম্মাদ
সুফি তবে কাফি নয়
